Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তারপর থেকে সংবাদ মাধ্যমগুলি নিশ্চুপ, যেন খসড়া জাতীয় শিক্ষানীতিতে আর উল্লেখযোগ্য কোনও বিষয় নেই। কিন্তু শিক্ষার উপর (১) কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, (২) ভারতীয়ত্ব ও ভারতীয় ঐতিহ্যের নামে শিক্ষার গৈরিকীকরণের ষড়যন্ত্র, (৩) মৌলিক শিক্ষার পরিবর্তে কর্মমুখী শিক্ষার উপর গুরুত্ব, (৪) মূলধারার শিক্ষণ পদ্ধতির পরিবর্তে অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলন এবং সর্বোপরি (৫) শিক্ষাকে বেসরকারিকরণ প্রভৃতির ঝোঁক স্পষ্ট ৪৮০ পাতার বেশি এই নথির ছত্রে ছত্রে। সব থেকে বড় কথা, সুবিশাল এই নথির সুললিত ভাষা—যদি অন্তর্নিহিত অর্থ কেউ বোঝার চেষ্টা না করেন তাহলে বিভ্রান্ত হয়ে তিনি মনে করতে পারেন, কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমান ঘুণে ধরা শিক্ষা ব্যবস্থার মূলোৎপাটন করে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। কিছু কিছু শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক সংগঠনের মধ্যে এই বিভ্রান্তি প্রকট বলে মনে হয়েছে। যাই হোক, পরিবর্তন তো নিশ্চয়, কিন্তু তা কোন দিকে দেশকে নিয়ে চলেছে সেই আলোচনা করার উদ্দেশ্যে এই প্রতিবেদন।
যে-কোনও শিক্ষানীতি সংস্কারের আগে পূর্বশর্ত হল মতাদর্শ নির্বিশেষে সর্বস্তরের শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, পড়ুয়া এবং তাদের সংগঠনগুলির মতামত গ্রহণ করা। দপ্তরের পূর্বতন মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর এই খসড়া নীতির মুখবন্ধে দাবি করেছেন, ২০১৫ সাল থেকে তাঁর সরকার বহুদিক থেকে নানা ধরনের মানুষের মতামত সংগ্রহ করেছে এবং কস্তুরিরঙ্গনের নেতৃত্বে যে কমিটি এই খসড়া প্রস্তুত করেছে তারা ৭৪টি সংস্থা ও ২১৭ জন ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ করেছে। এই ৭৪টি সংস্থার বেশিরভাগই কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান বা দপ্তর, এমনকী প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও আছে। আর আছে নানা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও আছে কিন্তু তুলনায় তা খুবই নগণ্য। কিন্তু সারা দেশে এত ছাত্র সংগঠন থাকা সত্ত্বেও কমিটি কেবলমাত্র অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদকে বেছে নিয়েছে মতামত গ্রহণের জন্য—যা বিজেপির ছাত্র সংগঠন। শিক্ষক সংগঠন হিসেবে যাদের বেছে নিয়েছে সেগুলিও অদ্ভুত। একটি হল ‘ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল’, ১৯৬৯ সালে রাম নবমীর দিনে যার প্রতিষ্ঠা। সংগঠনটি এই আধুনিক শিক্ষার যুগেও গুরুকুল শিক্ষার জয়গান করে এবং ‘ভারতীয়ত্ব শিক্ষার’ নামে যে শিক্ষার তারা প্রচারক তা যে শিক্ষার ‘গৈরিকীকরণের’ জন্য নয় কষ্ট করে বই লিখে তা তাদের জানাতে হয়! বিজেপির সঙ্গে শিক্ষক সংগঠনটির সম্পর্কের রসায়ন কী তা সংঘ-পরিবারের রীতিনীতি সম্পর্কে যাঁরা ওয়াকিবহাল তাঁদের কাছে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। অপর যে শিক্ষক সংগঠনটির সঙ্গে ‘গভীরভাবে’ আলোচনা করেছেন বলে মন্ত্রী দাবি করেছেন তা হল ‘অল ইন্ডিয়া সেকেন্ডারি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন’—যার তেমন কোনও অস্তিত্ব ইন্টারনেটে পাওয়া শিক্ষক সংগঠনগুলোর জাতীয় বা বিশ্ব তালিকায় নেই। অন্য কোনও সর্বভারতীয় বা রাজ্য স্তরের শিক্ষক সংগঠন তাঁদের নজরে পড়েনি। উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত মূলস্রোতের কোনও সংগঠনের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন তাঁরা বোধ করেননি। যে ২১৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির মতামত তাঁরা নিয়েছেন তাঁদের বেশিরভাগ দিল্লি, মুম্বই বা বেঙ্গালুরুর, যাঁরা মূলত সরকারি পদ অলংকৃত করেন অথবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করেন। এই তালিকায় কলকাতার কোনও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ নেই। মতামত নেওয়ার ধরন ও পাত্র বাছাই থেকে পরিষ্কার শিক্ষানীতি প্রণয়নে তাঁদের কেমন ধরনের পরামর্শ চেয়েছিলেন।
একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শিক্ষা পরিচালনার মূল বৈশিষ্ট্য হল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাধিকার। যার অর্থ হল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সমস্ত স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মূল দায়িত্বে থাকবেন শিক্ষক-শিক্ষাবিদ-পড়ুয়া-গবেষকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কোর্ট-কাউন্সিল-সেনেট-সিন্ডিকেট-অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল প্রভৃতি বিধিবদ্ধ (স্ট্যাট্যুটরি) সংস্থা। শিক্ষার আর্থিক দায়িত্ব সরকারের উপর বর্তাবে, কিন্তু অর্থ মঞ্জুর করার অজুহাতে সরকার কখনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নাক গলাতে পারবে না। প্রকৃতপক্ষে শিক্ষা এমনই একটি বিশেষ বিষয় যেখানে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ব্যতিরেকে রাজনীতিবিদ বা অন্য কেউ, যাঁর অন্য বিষয়ে যত পারদর্শিতা থাকুক না কেন পঠন-পাঠন-পরীক্ষা-পাঠ্যবস্তু সম্পর্কিত বিষয়ে নীতি নির্ধারণে কোনও ভূমিকাই পালন করতে পারবেন না। এর অন্যথা হওয়ার অর্থই হল, শিক্ষার স্বাধিকারকে অস্বীকার করা। শিক্ষা পরিচালনার এটাই গণতান্ত্রিক ধারণা। শিক্ষায় উন্নত যেকোনও দেশ তার মান্যতা দিয়েছে।
প্রস্তাবিত জাতীয় শিক্ষানীতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার এই মৌলিক নীতিটিকেই অগ্রাহ্য করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পরিচালনার দায়িত্বে যে ‘গভর্নিং বোর্ড’ থাকবে তার সদস্যদের মনোনয়নের প্রস্তাবিত পদ্ধতিটি খুবই গোলমেলে। (১) ‘খুব যত্ন সহকারে মনোনীত ব্যক্তি’, (২) ‘অত্যন্ত দক্ষতা সম্পন্ন স্বনামধন্য ব্যক্তি’, (৩) ‘সমাজের খ্যাতনামা ব্যক্তি’—এঁরাই হবেন ‘গভর্নিং বোর্ডের’ মাননীয় সদস্য। এমন নামজাদা (!) ব্যক্তিদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার কী সম্পর্ক তা আমাদের জানা নেই। ফলত বিশ্ববিদ্যালয় সমেত সমস্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মনোনীত-রাজ চলবে—নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বমূলক প্রশাসনের কোন অস্তিত্ব থাকবে না। মনোনয়নের দায়িত্ব কাদের উপর বর্তাবে তা পরিষ্কার। কেন্দ্রীয় সরকারের বকলমে কেন্দ্রের শাসক দল তথা সংঘ-পরিবারের নিয়ন্ত্রণ যে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ভবিতব্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ছড়ি ঘোরানোর প্রচেষ্টার শেষ এখানেই নয়। গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকেই শাসক দলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে চাওয়া হয়েছে। পেশাগত শিক্ষা সমেত সামগ্রিকভাবে উচ্চশিক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি নতুন সংস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার নাম হবে ন্যাশানাল হায়ার এডুকেশন রেগুলেটরি অথরিটি (এনএইচইআরএ)। ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার জন্য অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল অফ টেকনিক্যাল এডুকেশন, আইন শিক্ষার জন্য বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া, ডাক্তারি শিক্ষার জন্য মেডিকেল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া ইত্যাদি গড়ে উঠেছিল ওই সমস্ত পেশাগত শিক্ষার মান নিয়মমাফিক করার উদ্দেশ্যে। বিধিবদ্ধ এই সংস্থাগুলি দীর্ঘ ঐতিহ্য সম্পন্ন। এই সমস্ত সংস্থাগুলিকে মিলিয়ে একটি নতুন সংস্থার তারা জন্ম দেবে। কিন্তু সমগ্র উচ্চশিক্ষার নিয়ন্ত্রণ থাকবে ‘এনএইচইআরএ’-র উপর। আর এই এনএইচইআরএ-র মাথার উপর থাকবে অপর একটি নয়া সংস্থা—নাম হবে রাষ্ট্রীয় শিক্ষা আয়োগ (আরএসএ) বা জাতীয় শিক্ষা কমিশন। এই নব গঠিত সংস্থার উপর বিদ্যালয় শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা তথা সমগ্র শিক্ষার ভার অর্পিত হবে। আরএসএ-র চেয়ারপার্সন হবেন প্রধানমন্ত্রী নিজে, ভাইস-চেয়ারপার্সন হবেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। (উল্লেখ্য, বর্তমান কেন্দ্রীয় ‘মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক’টি পরিবর্তিত হয়ে হবে ‘শিক্ষা মন্ত্রক’)। যাই হোক, ‘আরএসএ’-র মোট ২০-৩০ জন সদস্যের মধ্যে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, ক্যাবিনেট সচিব, নানা দপ্তরের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, পালা করে কিছু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ‘সযত্ন মনোনীত’ কয়েকজন শিক্ষাবিদও থাকবেন শিক্ষা নিয়ন্ত্রক ওই সর্বোচ্চ সংস্থায়। অর্থাৎ দেশের সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থাটি নিয়ন্ত্রণ করবেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। এমনকী উচ্চশিক্ষায় রাজ্য সরকারগুলোর কথা বলার কোনও জায়গা থাকবে না। যদিও সংবিধান অনুযায়ী শিক্ষা যুগ্ম তালিকা ভুক্ত এবং উচ্চশিক্ষার মূল আর্থিক দায়িত্ব রাজ্য সরকারগুলিই বহন করে, কেন্দ্রীয় সরকারের অবদান যৎ সামান্য। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সরকার তথা শাসক দলের হাতে কুক্ষিগত করার এমন সুপরিকল্পিত ও নগ্ন প্রয়াস এর আগে লক্ষিত হয়নি। অদ্ভুত ব্যাপার হল, শাসক দলের নিশ্ছিদ্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এমন অপ-ব্যবস্থাকে তাঁরা শিক্ষার স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসেবে দেখাতে চাইছেন। এমন নির্লজ্জ রসিকতার নজির আর আছে কি না জানা নেই।
কিন্তু কেন তাঁরা শিক্ষার উপর এই অবাধ নিয়ন্ত্রণ চাইছেন? এর উত্তর পাওয়া যাবে আরএসএস ও সংঘ-পরিবার পুষ্ট বিজেপি সরকারের বিজ্ঞান ও শিক্ষা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গিটি যা গত পাঁচ বছরে বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, মহাভারতের যুগে নিশ্চয় ইন্টারনেট ছিল, নয়তো ধৃতরাষ্ট্র কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের লাইভ-স্ট্রিমিং পেলেন কীভাবে? বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেছেন, আইনস্টাইন কী এমন নতুন কথা বলেছেন, এর থেকে ভালো তত্ত্ব বেদেই আছে। বিজ্ঞান কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে এক আরএসএস অনুগামী বললেন বেদের যুগে এরোপ্লেন ছিল। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ডারউইন তত্ত্ব ভুল, কারণ কেউ কোনও বাঁদরকে মানুষ হতে দেখেনি। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বিধান দিয়েছেন, ভারতে প্ল্যাস্টিক সার্জারি অবশ্যই ছিল, নয়তো গণেশের ধড়ে হাতির মাথাটা বসানো হল কী করে? এইসব বিজ্ঞান বিরোধী হাস্যকর কথাবার্তা বলে তাঁরা দেশকে কেবল বিশ্বের দরবারে হেয় করছেন তাই নয়, জ্ঞান-বিজ্ঞান-অঙ্কশাস্ত্রের জগতে ভারতের প্রকৃত অবদানকে ভুলিয়ে দিচ্ছেন। আর এসব তাঁরা করছেন ভারতীয়ত্ব, ভারতীয় ঐতিহ্যের নাম করে।
নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার। পাঠ্যবস্তুকে এমনভাবে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা কাজ করছে যাতে কিশোর মনে সংঘ-পরিবার সুলভ অবৈজ্ঞানিক চিন্তন প্রক্রিয়ার ছাপ পড়ে। তাঁদের লক্ষ্যবস্তু কেবল পড়ুয়ারাই নয়—শিক্ষকরাও, যাঁরা পড়ুয়াদের ছাঁচে ঢালার কারিগর হবেন। তাই শিক্ষানীতিতে শিক্ষণ-শিক্ষার উপর নজিরবিহীন জোর। শিক্ষাকে কুক্ষিগত না করতে পারলে এই কাজগুলো করা সম্ভব হবে না। তাই প্রস্তাবিত নীতির ছত্রে ছত্রে শিক্ষার উপর নিশ্ছিদ্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা। দেশের শিক্ষাক্ষেত্রটি আজ সমূহ বিপদের সম্মুখীন।
 লেখক আবুটা ও ওয়েবকুটার সহ-সভাপতি
(মতামত ব্যক্তিগত)
15th  July, 2019
দূরসম্পর্কের নিকটাত্মীয়
মেরুনীল দাশগুপ্ত

দিন পনেরো আগে কাগজে একটা সচিত্র খবর দেখে পড়ে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। হয়তো আমার মতো আরও অনেক সংবাদ-পাঠকেরও এমন দশা হয়েছিল। হতেই পারে। কারণ, খবরটা কেবল অভিনব ছিল না, ছিল যাকে বলে অবিশ্বাস্য, অভাবনীয়! 
বিশদ

১২৫ বছরে স্বামী প্রণবানন্দজি মহারাজ 
অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়

স্বামী প্রণবানন্দজি অবিভক্ত ভারতবর্ষের পূর্ববঙ্গের ফরিদপুর জেলার মাদারিপুর মহকুমার অন্তর্গত বাজিতপুর গ্রামে ১৩০২ বঙ্গাব্দের ১৬ মাঘ (১৮৯৬ সালের ২৯ জানুয়ারি) পূর্ণিমা তিথিতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম বিষ্ণুচরণ দাস (ভুঁইয়া) ও মাতা সারদা দেবী। 
বিশদ

29th  January, 2020
আম আদমির বাজেট প্রত্যাশা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

কর্পোরেট কর ২৫ শতাংশ, আর ব্যক্তিগত আয়কর ৩০ শতাংশ... এটা তো হতে পারে না! কাজেই আসন্ন বাজেটে ব্যক্তিগত আয়করের দিক থেকে সাধারণ চাকরিজীবীরা লাভবান হতে পারেন। তাও বিষয়টা সম্ভাবনা আকারেই আছে। তার কারণ, লোকসভা নির্বাচন সদ্য শেষ হয়েছে। আগামী চার বছর তো মোদি সরকার নিশ্চিন্ত! এখনই আয়করে বড় ছাড়ের মতো ঘোষণা করে দিলে ভোটের আগে কী হবে?এই প্রশ্ন আপাতত শনিবার পর্যন্ত সিন্দুকে তোলা থাক।
বিশদ

28th  January, 2020
সবচেয়ে ভালোর জন্য আশা করে সবচেয়ে খারাপের জন্য প্রস্তুতি
পি চিদম্বরম

আর একটি বছর শুরু হল, আর একটি বাজেট পেশের অপেক্ষা, এবং এটি ভারতীয় অর্থনীতির আর একটি গুরুতর বছর। ২০১৬-১৭ সাল থেকে প্রতিটি বছর আমাদের জন্য অনেক বিস্ময় এবং ব্যথা নিয়ে এসেছে। ২০১৬-১৭ গিয়েছে সর্বনাশা নোটবন্দির বছর। ত্রুটিপূর্ণ জিএসটি এবং সেটা তড়িঘড়ি রূপায়ণের বছর গিয়েছে ২০১৭-১৮।  বিশদ

26th  January, 2020
সংবিধান ও গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হলে ভারতের আত্মাও বিপন্ন হতে বাধ্য
হিমাংশু সিংহ

১৫ আগস্ট যদি দেশের জন্মদিন হয়, তাহলে ২৬ জানুয়ারি হচ্ছে কোন মতাদর্শ ও আইন মেনে কীসের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে, তার লিখিত বয়ান চূড়ান্ত করার বর্ণাঢ্য উদযাপনের শুভ মুহূর্ত। নবজাতক শিশু স্কুলে ভর্তি হলে একটা নির্দিষ্ট নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে ধীরে ধীরে পরিণত হয়। 
বিশদ

26th  January, 2020
১৬০০ কোটি টাকায় কী হতে পারে?
মৃণালকান্তি দাস

শুধুমাত্র অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া করতে গিয়েই সরকার খরচ করে ফেলেছে ১৬০০ কোটি টাকা! এত টাকা কীভাবে খরচ হল সেটা খতিয়ে দেখতে দাবি উঠেছে সিবিআই তদন্তের। শুধু তাই-ই নয়, এই এনআরসি করতে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, এই অভিযোগ তুলেছেন অসমের বিজেপি নেতা তথা অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেই দুর্নীতির কথা ধরা পড়েছে ক্যাগের প্রতিবেদনেও। এনআরসির মুখ্য সমন্বয়কারী প্রতীক হাজেলাকে মধ্যপ্রদেশে বদলি করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মুখ লুকোনোর জায়গা পাচ্ছে না বিজেপি।
বিশদ

25th  January, 2020
মুখ হয়ে ওঠার নিরন্তর প্রয়াস
তন্ময় মল্লিক

কথায় আছে, মুখ হচ্ছে মনের আয়না। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। তাই অনেকেরই ধারণা, সাফল্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই হল মুখ। রাজনীতিতেও সেই মুখের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে রাজনীতিতে সৌন্দর্য অপেক্ষা অধিকতর প্রাধান্য পেয়ে থাকে মুখের কথা, ভাষাও।  
বিশদ

25th  January, 2020
নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনার অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

 আজকাল একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে দুটি শব্দ খুব অপছন্দের। সেকুলার এবং ইন্টেলেকচুয়াল। ওই লোকটিকে আমার পছন্দ নয়, কারণ লোকটি সেকুলার। ওই মানুষটি আসলে সুবিধাবাদী এবং খারাপ, কারণ তিনি ইন্টেলেকচুয়াল। সমাজের এই অংশের উচ্চকিত তর্জন গর্জন হাসি ঠাট্টা কটাক্ষ শুনলে মনে হবে, সেকুলার হওয়া বোধহয় সাংঘাতিক অপরাধ। বিশদ

24th  January, 2020
বাজেটের কোনও অঙ্কই মিলছে না, আসন্ন বাজেটে বৃদ্ধিতে গতি ফিরবে কীভাবে?
দেবনারায়ণ সরকার

বস্তুত, বর্তমান অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির চিত্র যথেষ্ট বিবর্ণ। সমৃদ্ধির হার ক্রমশ কমে ৫ শতাংশে নামার ইঙ্গিত, যা ১১ বছরে সর্বনিম্ন। মুদ্রাস্ফীতি গত ৩ বছরে সর্বাধিক। শিল্পে সমৃদ্ধির হার ৮ বছরে সর্বনিম্ন। পরিকাঠামো শিল্পে বৃদ্ধির হার ১৪ বছরে সর্বনিম্ন। বিদ্যুতের চাহিদা ১২ বছরে সর্বনিম্ন। বেসরকারি লগ্নি ১৬ বছরে সর্বনিম্ন। চাহিদা কমায় বাজারে ব্যাঙ্ক লগ্নি কমেছে, যা গত ৫৮ বছরে সর্বনিম্ন। রপ্তানিও যথেষ্ট ধাক্কা খাওয়ার ইঙ্গিত বর্তমান বছরে। এর উপর ভারতে বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরে সর্বনিম্ন।
বিশদ

24th  January, 2020
ক্ষমা করো সুভাষ
জয়ন্ত চৌধুরী

মুক্তিপথের অগ্রদূত তিনি। অখণ্ড ভারত সাধনার নিভৃত পথিক সুভাষচন্দ্রের বৈপ্লবিক অভিঘাত বাধ্য করেছিল দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পটভূমি রচনা করতে। দেশি বিদেশি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের লেখনীতে আজাদ হিন্দের অসামান্য আত্মত্যাগ স্বীকৃত হয়েছে। সর্বাধিনায়কের হঠাৎ হারিয়ে যাবার বেদনা তাঁর জন্মদিনেই বড় বেশি স্পর্শ করে যায়।  
বিশদ

23rd  January, 2020
স্বামীজি, বিশ্বকবি ও নেতাজির খিচুড়ি-বিলাস
বিকাশ মুখোপাধ্যায়

মঙ্গলকাব্য থেকে কাহিনীটা এভাবে শুরু করা যেতে পারে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মা দুর্গা নন্দিকে তলব করেছেন, যাও ডাব পেড়ে নিয়ে এসো।
নন্দির তখনও গতরাতের গাঁজার খোঁয়ার ভাঙেনি। কোনওরকমে জড়ানো স্বরে বলল, ‘এত্তো সকালে মা?’  বিশদ

23rd  January, 2020
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
একনজরে
সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: সরস্বতীপুজোতেও থিমের চমক। আর সেই থিমের পুজো দেখতে পড়ুয়া ও তাদের অভিভাবকদের পাশাপাশি গঙ্গারামপুর শহরের দুই স্কুলে ভিড় করলেন সাধারণ শহরবাসীও। বুধবার বেলা গড়াতে না গড়াতেই গঙ্গারামপুরের জাহাঙ্গীরপুর হাই স্কুল ও বেলবাড়ি হাই স্কুলে ভিড় বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের।  ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চাষের কাজে এবার সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ দেওয়া হবে মৎস্যচাষিদের। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। খুব শীঘ্রই এবিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হবে। সম্প্রতি সল্টলেকে মৎস্য চাষ সংক্রান্ত এক জাতীয় পর্যায়ের আলোচনাসভায় এমনটাই জানালেন পঞ্চায়েত এবং সমবায় দপ্তরের ...

 কাবুল, ২৯ জানুয়ারি (পিটিআই): আফগানিস্তানে ফের পুলিসের উপর হামলা চালাল তালিবান। উত্তর আফগানিস্তানের বাগলান প্রদেশের খাজা আলান জেলায় একটি পুলিস ফাঁড়ি লক্ষ্য করে হামলা হয়। মঙ্গলবারের ওই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন পুলিসকর্মী। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের ক্ষেত্রে শুভ ফল। উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে মধ্যম ফল আশা করা যায়। কর্মপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে কোনও শুভ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
১৯০৩- ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরির উদ্বোধন করলেন লর্ড কার্জন
১৯৩৩ - জার্মানীর চ্যান্সেল হন এডলফ হিটলার
১৯৪৮- নাথুরাম গডসের গুলিতে নিহত মহাত্মা গান্ধী
১৯৪৮- ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরির নামকরণ হল ন্যাশনাল লাইব্রেরি
১৯৮২ - ৪০০ লাইন দীর্ঘ ১ম কম্পিউটার ভাইরাস কোড এল্ক ক্লোনার লিখেন রিচার্ড স্ক্রেন্টা। এটি এ্যাপল কম্পিউটারের বুট প্রোগ্রাম ধ্বংস করে দেয়।
১৯৯৪ - পিটার লেকো সর্বকনিষ্ঠ গ্রাণ্ডমাস্টারের মর্যাদা পান।





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪২ টাকা ৭২.১২ টাকা
পাউন্ড ৯১.১৬ টাকা ৯৪.৪৪ টাকা
ইউরো ৭৭.০৪ টাকা ৭৯.৯৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,১৪০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,০৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,৬১৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৭,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
29th  January, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৫ মাঘ ১৪২৬, ৩০ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার, (মাঘ শুক্লপক্ষ) পঞ্চমী ১৭/২৭ দিবা ১/২০। উত্তরভাদ্রপদ ২২/৯ দিবা ৩/১২। সূ উ ৬/২০/৪৫, অ ৫/১৮/৫৭, অমৃতযোগ রাত্রি ১/৮ গতে ৩/৪৪ মধ্যে। বারবেলা ২/৩৪ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/৫০ গতে ১/২৮ মধ্যে। 
১৫ মাঘ ১৪২৬, ৩০ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার, পঞ্চমী ১১/২১/৪ দিবা ১০/৫৫/৫৮। উত্তরভাদ্রপদ ১৭/৩১/৪৫ দিবা ১/২৪/১৪। সূ উ ৬/২৩/৩২, অ ৫/১৭/৫৭, অমৃতযোগ রাত্রি ১/৮ গতে ৩/৪ মধ্যে। কালবেলা ২/৩৪/২১ গতে ৩/৫৯/৯ মধ্যে। কালরাত্রি ১১/৫০/৪৪ গতে ১/২৮/৫৬ মধ্যে। 
৪ জমাদিয়স সানি  

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
তৃতীয় টি ২০: সুপার ওভারে নিউজিল্যান্ডকে হারাল ভারত 

29-01-2020 - 04:26:47 PM

২৩২ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

29-01-2020 - 04:20:36 PM

তৃতীয় টি ২০: সুপার ওভারে ভারতকে ১৮ রানের টার্গেট দিল নিউজিল্যান্ড

29-01-2020 - 04:16:55 PM

তৃতীয় টি ২০: ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ টাই, এবার সুপার ওভার

29-01-2020 - 04:04:00 PM

খোঁজ মিলল বেআইনি ক্যাসিনোর, গ্রেপ্তার ৮
 

ভারত-ভুটান আন্তর্জাতিক সীমান্তের জয়গাঁ শহরে একটি বেআইনি ক্যাসিনোর হদিশ। ওই ...বিশদ

29-01-2020 - 04:00:25 PM

তৃতীয় টি ২০: নিউজিল্যান্ড ৯১/৩ (১২ ওভার) 

29-01-2020 - 03:24:14 PM