Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তারপর থেকে সংবাদ মাধ্যমগুলি নিশ্চুপ, যেন খসড়া জাতীয় শিক্ষানীতিতে আর উল্লেখযোগ্য কোনও বিষয় নেই। কিন্তু শিক্ষার উপর (১) কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, (২) ভারতীয়ত্ব ও ভারতীয় ঐতিহ্যের নামে শিক্ষার গৈরিকীকরণের ষড়যন্ত্র, (৩) মৌলিক শিক্ষার পরিবর্তে কর্মমুখী শিক্ষার উপর গুরুত্ব, (৪) মূলধারার শিক্ষণ পদ্ধতির পরিবর্তে অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলন এবং সর্বোপরি (৫) শিক্ষাকে বেসরকারিকরণ প্রভৃতির ঝোঁক স্পষ্ট ৪৮০ পাতার বেশি এই নথির ছত্রে ছত্রে। সব থেকে বড় কথা, সুবিশাল এই নথির সুললিত ভাষা—যদি অন্তর্নিহিত অর্থ কেউ বোঝার চেষ্টা না করেন তাহলে বিভ্রান্ত হয়ে তিনি মনে করতে পারেন, কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমান ঘুণে ধরা শিক্ষা ব্যবস্থার মূলোৎপাটন করে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। কিছু কিছু শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক সংগঠনের মধ্যে এই বিভ্রান্তি প্রকট বলে মনে হয়েছে। যাই হোক, পরিবর্তন তো নিশ্চয়, কিন্তু তা কোন দিকে দেশকে নিয়ে চলেছে সেই আলোচনা করার উদ্দেশ্যে এই প্রতিবেদন।
যে-কোনও শিক্ষানীতি সংস্কারের আগে পূর্বশর্ত হল মতাদর্শ নির্বিশেষে সর্বস্তরের শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, পড়ুয়া এবং তাদের সংগঠনগুলির মতামত গ্রহণ করা। দপ্তরের পূর্বতন মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর এই খসড়া নীতির মুখবন্ধে দাবি করেছেন, ২০১৫ সাল থেকে তাঁর সরকার বহুদিক থেকে নানা ধরনের মানুষের মতামত সংগ্রহ করেছে এবং কস্তুরিরঙ্গনের নেতৃত্বে যে কমিটি এই খসড়া প্রস্তুত করেছে তারা ৭৪টি সংস্থা ও ২১৭ জন ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ করেছে। এই ৭৪টি সংস্থার বেশিরভাগই কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান বা দপ্তর, এমনকী প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও আছে। আর আছে নানা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও আছে কিন্তু তুলনায় তা খুবই নগণ্য। কিন্তু সারা দেশে এত ছাত্র সংগঠন থাকা সত্ত্বেও কমিটি কেবলমাত্র অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদকে বেছে নিয়েছে মতামত গ্রহণের জন্য—যা বিজেপির ছাত্র সংগঠন। শিক্ষক সংগঠন হিসেবে যাদের বেছে নিয়েছে সেগুলিও অদ্ভুত। একটি হল ‘ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল’, ১৯৬৯ সালে রাম নবমীর দিনে যার প্রতিষ্ঠা। সংগঠনটি এই আধুনিক শিক্ষার যুগেও গুরুকুল শিক্ষার জয়গান করে এবং ‘ভারতীয়ত্ব শিক্ষার’ নামে যে শিক্ষার তারা প্রচারক তা যে শিক্ষার ‘গৈরিকীকরণের’ জন্য নয় কষ্ট করে বই লিখে তা তাদের জানাতে হয়! বিজেপির সঙ্গে শিক্ষক সংগঠনটির সম্পর্কের রসায়ন কী তা সংঘ-পরিবারের রীতিনীতি সম্পর্কে যাঁরা ওয়াকিবহাল তাঁদের কাছে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। অপর যে শিক্ষক সংগঠনটির সঙ্গে ‘গভীরভাবে’ আলোচনা করেছেন বলে মন্ত্রী দাবি করেছেন তা হল ‘অল ইন্ডিয়া সেকেন্ডারি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন’—যার তেমন কোনও অস্তিত্ব ইন্টারনেটে পাওয়া শিক্ষক সংগঠনগুলোর জাতীয় বা বিশ্ব তালিকায় নেই। অন্য কোনও সর্বভারতীয় বা রাজ্য স্তরের শিক্ষক সংগঠন তাঁদের নজরে পড়েনি। উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত মূলস্রোতের কোনও সংগঠনের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন তাঁরা বোধ করেননি। যে ২১৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির মতামত তাঁরা নিয়েছেন তাঁদের বেশিরভাগ দিল্লি, মুম্বই বা বেঙ্গালুরুর, যাঁরা মূলত সরকারি পদ অলংকৃত করেন অথবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করেন। এই তালিকায় কলকাতার কোনও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ নেই। মতামত নেওয়ার ধরন ও পাত্র বাছাই থেকে পরিষ্কার শিক্ষানীতি প্রণয়নে তাঁদের কেমন ধরনের পরামর্শ চেয়েছিলেন।
একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শিক্ষা পরিচালনার মূল বৈশিষ্ট্য হল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাধিকার। যার অর্থ হল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সমস্ত স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মূল দায়িত্বে থাকবেন শিক্ষক-শিক্ষাবিদ-পড়ুয়া-গবেষকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কোর্ট-কাউন্সিল-সেনেট-সিন্ডিকেট-অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল প্রভৃতি বিধিবদ্ধ (স্ট্যাট্যুটরি) সংস্থা। শিক্ষার আর্থিক দায়িত্ব সরকারের উপর বর্তাবে, কিন্তু অর্থ মঞ্জুর করার অজুহাতে সরকার কখনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নাক গলাতে পারবে না। প্রকৃতপক্ষে শিক্ষা এমনই একটি বিশেষ বিষয় যেখানে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ব্যতিরেকে রাজনীতিবিদ বা অন্য কেউ, যাঁর অন্য বিষয়ে যত পারদর্শিতা থাকুক না কেন পঠন-পাঠন-পরীক্ষা-পাঠ্যবস্তু সম্পর্কিত বিষয়ে নীতি নির্ধারণে কোনও ভূমিকাই পালন করতে পারবেন না। এর অন্যথা হওয়ার অর্থই হল, শিক্ষার স্বাধিকারকে অস্বীকার করা। শিক্ষা পরিচালনার এটাই গণতান্ত্রিক ধারণা। শিক্ষায় উন্নত যেকোনও দেশ তার মান্যতা দিয়েছে।
প্রস্তাবিত জাতীয় শিক্ষানীতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার এই মৌলিক নীতিটিকেই অগ্রাহ্য করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পরিচালনার দায়িত্বে যে ‘গভর্নিং বোর্ড’ থাকবে তার সদস্যদের মনোনয়নের প্রস্তাবিত পদ্ধতিটি খুবই গোলমেলে। (১) ‘খুব যত্ন সহকারে মনোনীত ব্যক্তি’, (২) ‘অত্যন্ত দক্ষতা সম্পন্ন স্বনামধন্য ব্যক্তি’, (৩) ‘সমাজের খ্যাতনামা ব্যক্তি’—এঁরাই হবেন ‘গভর্নিং বোর্ডের’ মাননীয় সদস্য। এমন নামজাদা (!) ব্যক্তিদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার কী সম্পর্ক তা আমাদের জানা নেই। ফলত বিশ্ববিদ্যালয় সমেত সমস্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মনোনীত-রাজ চলবে—নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বমূলক প্রশাসনের কোন অস্তিত্ব থাকবে না। মনোনয়নের দায়িত্ব কাদের উপর বর্তাবে তা পরিষ্কার। কেন্দ্রীয় সরকারের বকলমে কেন্দ্রের শাসক দল তথা সংঘ-পরিবারের নিয়ন্ত্রণ যে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ভবিতব্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ছড়ি ঘোরানোর প্রচেষ্টার শেষ এখানেই নয়। গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকেই শাসক দলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে চাওয়া হয়েছে। পেশাগত শিক্ষা সমেত সামগ্রিকভাবে উচ্চশিক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি নতুন সংস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার নাম হবে ন্যাশানাল হায়ার এডুকেশন রেগুলেটরি অথরিটি (এনএইচইআরএ)। ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার জন্য অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল অফ টেকনিক্যাল এডুকেশন, আইন শিক্ষার জন্য বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া, ডাক্তারি শিক্ষার জন্য মেডিকেল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া ইত্যাদি গড়ে উঠেছিল ওই সমস্ত পেশাগত শিক্ষার মান নিয়মমাফিক করার উদ্দেশ্যে। বিধিবদ্ধ এই সংস্থাগুলি দীর্ঘ ঐতিহ্য সম্পন্ন। এই সমস্ত সংস্থাগুলিকে মিলিয়ে একটি নতুন সংস্থার তারা জন্ম দেবে। কিন্তু সমগ্র উচ্চশিক্ষার নিয়ন্ত্রণ থাকবে ‘এনএইচইআরএ’-র উপর। আর এই এনএইচইআরএ-র মাথার উপর থাকবে অপর একটি নয়া সংস্থা—নাম হবে রাষ্ট্রীয় শিক্ষা আয়োগ (আরএসএ) বা জাতীয় শিক্ষা কমিশন। এই নব গঠিত সংস্থার উপর বিদ্যালয় শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা তথা সমগ্র শিক্ষার ভার অর্পিত হবে। আরএসএ-র চেয়ারপার্সন হবেন প্রধানমন্ত্রী নিজে, ভাইস-চেয়ারপার্সন হবেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। (উল্লেখ্য, বর্তমান কেন্দ্রীয় ‘মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক’টি পরিবর্তিত হয়ে হবে ‘শিক্ষা মন্ত্রক’)। যাই হোক, ‘আরএসএ’-র মোট ২০-৩০ জন সদস্যের মধ্যে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, ক্যাবিনেট সচিব, নানা দপ্তরের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, পালা করে কিছু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ‘সযত্ন মনোনীত’ কয়েকজন শিক্ষাবিদও থাকবেন শিক্ষা নিয়ন্ত্রক ওই সর্বোচ্চ সংস্থায়। অর্থাৎ দেশের সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থাটি নিয়ন্ত্রণ করবেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। এমনকী উচ্চশিক্ষায় রাজ্য সরকারগুলোর কথা বলার কোনও জায়গা থাকবে না। যদিও সংবিধান অনুযায়ী শিক্ষা যুগ্ম তালিকা ভুক্ত এবং উচ্চশিক্ষার মূল আর্থিক দায়িত্ব রাজ্য সরকারগুলিই বহন করে, কেন্দ্রীয় সরকারের অবদান যৎ সামান্য। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সরকার তথা শাসক দলের হাতে কুক্ষিগত করার এমন সুপরিকল্পিত ও নগ্ন প্রয়াস এর আগে লক্ষিত হয়নি। অদ্ভুত ব্যাপার হল, শাসক দলের নিশ্ছিদ্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এমন অপ-ব্যবস্থাকে তাঁরা শিক্ষার স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসেবে দেখাতে চাইছেন। এমন নির্লজ্জ রসিকতার নজির আর আছে কি না জানা নেই।
কিন্তু কেন তাঁরা শিক্ষার উপর এই অবাধ নিয়ন্ত্রণ চাইছেন? এর উত্তর পাওয়া যাবে আরএসএস ও সংঘ-পরিবার পুষ্ট বিজেপি সরকারের বিজ্ঞান ও শিক্ষা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গিটি যা গত পাঁচ বছরে বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, মহাভারতের যুগে নিশ্চয় ইন্টারনেট ছিল, নয়তো ধৃতরাষ্ট্র কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের লাইভ-স্ট্রিমিং পেলেন কীভাবে? বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেছেন, আইনস্টাইন কী এমন নতুন কথা বলেছেন, এর থেকে ভালো তত্ত্ব বেদেই আছে। বিজ্ঞান কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে এক আরএসএস অনুগামী বললেন বেদের যুগে এরোপ্লেন ছিল। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ডারউইন তত্ত্ব ভুল, কারণ কেউ কোনও বাঁদরকে মানুষ হতে দেখেনি। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বিধান দিয়েছেন, ভারতে প্ল্যাস্টিক সার্জারি অবশ্যই ছিল, নয়তো গণেশের ধড়ে হাতির মাথাটা বসানো হল কী করে? এইসব বিজ্ঞান বিরোধী হাস্যকর কথাবার্তা বলে তাঁরা দেশকে কেবল বিশ্বের দরবারে হেয় করছেন তাই নয়, জ্ঞান-বিজ্ঞান-অঙ্কশাস্ত্রের জগতে ভারতের প্রকৃত অবদানকে ভুলিয়ে দিচ্ছেন। আর এসব তাঁরা করছেন ভারতীয়ত্ব, ভারতীয় ঐতিহ্যের নাম করে।
নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার। পাঠ্যবস্তুকে এমনভাবে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা কাজ করছে যাতে কিশোর মনে সংঘ-পরিবার সুলভ অবৈজ্ঞানিক চিন্তন প্রক্রিয়ার ছাপ পড়ে। তাঁদের লক্ষ্যবস্তু কেবল পড়ুয়ারাই নয়—শিক্ষকরাও, যাঁরা পড়ুয়াদের ছাঁচে ঢালার কারিগর হবেন। তাই শিক্ষানীতিতে শিক্ষণ-শিক্ষার উপর নজিরবিহীন জোর। শিক্ষাকে কুক্ষিগত না করতে পারলে এই কাজগুলো করা সম্ভব হবে না। তাই প্রস্তাবিত নীতির ছত্রে ছত্রে শিক্ষার উপর নিশ্ছিদ্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা। দেশের শিক্ষাক্ষেত্রটি আজ সমূহ বিপদের সম্মুখীন।
 লেখক আবুটা ও ওয়েবকুটার সহ-সভাপতি
(মতামত ব্যক্তিগত)
15th  July, 2019
এনকাউন্টার, আইন এবং ন্যায়বিচার
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

জাস্টিস ইজ ডান। নীচে একটা স্মাইলি... প্ল্যাকার্ডে লেখা বলতে শুধু এটাই। কোনও কায়দা নেই। নেই রাজনীতির রং। নেহাতই সাদা কাগজে মোরাদাবাদের স্কুলের ছাত্রীদের হাতে লেখা কাগজগুলো বলছে, এবার হয়তো আমরা নিরাপদ হব।
বিশদ

10th  December, 2019
আর ক’জন ধর্ষিতা হলে রামরাজ্য পাব
সন্দীপন বিশ্বাস 

রাত অনেক হল। মেয়েটি এখনো বাড়ি ফেরেনি। কোথাও আটকে গিয়েছে। অনেক লড়াই করে, পুরুষের সঙ্গে পাশাপাশি ঘাম ঝরিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়। বাড়িতে বাবা-মা অস্থির হয়ে ওঠেন।  বিশদ

09th  December, 2019
অর্থনীতিবিদদের ছাড়াই অর্থনীতি
পি চিদম্বরম

প্রত্যেকেই অর্থনীতিবিদ। যে গৃহবধূ পরিবার সামলানোর বাজেট তৈরি করেন, তাঁকে থেকে শুরু করে একজন ডেয়ারি মালিক যিনি দুধ বিক্রির জন্য গোদোহন করেন এবং একজন ছোট উদ্যোগী যিনি বড় নির্মাণ ব্যবসায়ীর জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি করেন, সকলেই এই গোত্রে পড়েন।  বিশদ

09th  December, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

08th  December, 2019
বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

08th  December, 2019
কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
একনজরে
বিএনএ, রায়গঞ্জ: কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে বিপর্যয়ের পর উত্তর দিনাজপুরে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে সাংগঠনিক দুর্বলতা, দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব, লোকসভা নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের সমর্থন কয়েক মাসের মধ্যে অনেকটা হারিয়ে ফেলায় কার্যত দিশেহারা গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্ব।  ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া হতে দেরি হওয়ার অভিযোগে বুধবার বিকেলে ফুলেশ্বরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভাঙচুর চালাল রোগীর আত্মীয়রা। এই ঘটনাকে ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ধানের নাড়া পোড়ানো নিষিদ্ধ করল রাজ্য সরকার। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ধান কাটার পর নাড়া তুলে ফেলতে হবে, পুড়িয়ে দেওয়া যাবে না। ধানের নাড়া পোড়ানোর জন্যই দূষণ মারাত্মক আকার নিচ্ছে। ...

 রাষ্ট্রসঙ্ঘ, ১১ ডিসেম্বর (পিটিআই): রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রধান অ্যান্তোনিও গুতেইরেস চান, কোনও দেশের সরকারই যেন বিভেদমূলক আইন কার্যকর না করে। তবে, ভারতের লোকসভায় পাশ হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সম্পর্কে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

আত্মবিশ্বাস এত বৃদ্ধি পাবে যে, কোনও কাজই কঠিন মনে হবে না। সঞ্চয় বেশ ভালো হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯১১: রদ হল বঙ্গভঙ্গ
১৯১১: নতুন রাজ্য হল বিহার ও ওড়িশা
১৯১১: কলকাতা থেকে রাজধানী স্থানান্তরিত হল দিল্লিতে
১৯৫০: অভিনেতা রজনীকান্তের জন্ম
১৯৫৭: পূর্ব রেলে ইএমইউ ট্রেনযাত্রা চালু
২০০৫: পরিচালক রামানন্দ সাগরের মূত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.০৪ টাকা ৭১.৭৪ টাকা
পাউন্ড ৯১.৪৭ টাকা ৯৪.৮০ টাকা
ইউরো ৭৭.১৫ টাকা ৮০.১৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৭৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৩১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩,৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পূর্ণিমা ১১/১৯ দিবা ১০/৪২। রোহিণী ০/২৮ দিবা ৬/২২। সূ উ ৬/১০/৪৫, অ ৪/৪৯/১৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৫ মধ্যে পুনঃ ১/১৬ গতে ২/৪১ মধ্যে। রাত্রি ৫/৪২ গতে ৯/১৬ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৬ গতে ৩/৩০ মধ্যে পুনঃ ৪/২৪ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/১০ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/২৯ গতে ১/৯ মধ্যে।
২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পূর্ণিমা ১১/৫৬/৫১ দিবা ১০/৫৯/৫। রোহিণী ২/৩৮/১৪ দিবা ৭/১৫/৩৯, সূ উ ৬/১২/২১, অ ৪/৪৯/৪১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৭ মধ্যে ও ১/২৩ গতে ২/৪৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৮ গতে ৯/২৩ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ৩/৩৯ মধ্যে ও ৪/৩৩ গতে ৬/১৩ মধ্যে, কালবেলা ২/১০/২১ গতে ৩/৩০/১ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩১/১ গতে ১/১১/২১ মধ্যে।
১৪ রবিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
অযোধ্যা মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

04:54:33 PM

সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে গ্রেপ্তার যুব কং কর্মীরা 
ই-মলের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হল যুব কং কর্মীদের। আজ, ...বিশদ

04:43:00 PM

সেক্টর ফাইভে ভুয়ো ডেটিং সাইট খুলে প্রতারণা, মুম্বইতে গ্রেপ্তার ৩ অভিযুক্ত 

04:26:00 PM

১৬৯ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

04:01:36 PM

 অনশন উঠল পার্শ্বশিক্ষকদের
 অবশেষে উঠল পার্শ্বশিক্ষকদের অনশন। টানা ৩২ দিন ধরে আন্দোলন, যার ...বিশদ

04:00:00 PM

ক্যাব ইস্যুতে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে ব্যাপক বিক্ষোভ এলাকাবাসীদের 

03:34:21 PM