Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তারপর থেকে সংবাদ মাধ্যমগুলি নিশ্চুপ, যেন খসড়া জাতীয় শিক্ষানীতিতে আর উল্লেখযোগ্য কোনও বিষয় নেই। কিন্তু শিক্ষার উপর (১) কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, (২) ভারতীয়ত্ব ও ভারতীয় ঐতিহ্যের নামে শিক্ষার গৈরিকীকরণের ষড়যন্ত্র, (৩) মৌলিক শিক্ষার পরিবর্তে কর্মমুখী শিক্ষার উপর গুরুত্ব, (৪) মূলধারার শিক্ষণ পদ্ধতির পরিবর্তে অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলন এবং সর্বোপরি (৫) শিক্ষাকে বেসরকারিকরণ প্রভৃতির ঝোঁক স্পষ্ট ৪৮০ পাতার বেশি এই নথির ছত্রে ছত্রে। সব থেকে বড় কথা, সুবিশাল এই নথির সুললিত ভাষা—যদি অন্তর্নিহিত অর্থ কেউ বোঝার চেষ্টা না করেন তাহলে বিভ্রান্ত হয়ে তিনি মনে করতে পারেন, কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমান ঘুণে ধরা শিক্ষা ব্যবস্থার মূলোৎপাটন করে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। কিছু কিছু শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক সংগঠনের মধ্যে এই বিভ্রান্তি প্রকট বলে মনে হয়েছে। যাই হোক, পরিবর্তন তো নিশ্চয়, কিন্তু তা কোন দিকে দেশকে নিয়ে চলেছে সেই আলোচনা করার উদ্দেশ্যে এই প্রতিবেদন।
যে-কোনও শিক্ষানীতি সংস্কারের আগে পূর্বশর্ত হল মতাদর্শ নির্বিশেষে সর্বস্তরের শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, পড়ুয়া এবং তাদের সংগঠনগুলির মতামত গ্রহণ করা। দপ্তরের পূর্বতন মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর এই খসড়া নীতির মুখবন্ধে দাবি করেছেন, ২০১৫ সাল থেকে তাঁর সরকার বহুদিক থেকে নানা ধরনের মানুষের মতামত সংগ্রহ করেছে এবং কস্তুরিরঙ্গনের নেতৃত্বে যে কমিটি এই খসড়া প্রস্তুত করেছে তারা ৭৪টি সংস্থা ও ২১৭ জন ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ করেছে। এই ৭৪টি সংস্থার বেশিরভাগই কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান বা দপ্তর, এমনকী প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও আছে। আর আছে নানা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও আছে কিন্তু তুলনায় তা খুবই নগণ্য। কিন্তু সারা দেশে এত ছাত্র সংগঠন থাকা সত্ত্বেও কমিটি কেবলমাত্র অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদকে বেছে নিয়েছে মতামত গ্রহণের জন্য—যা বিজেপির ছাত্র সংগঠন। শিক্ষক সংগঠন হিসেবে যাদের বেছে নিয়েছে সেগুলিও অদ্ভুত। একটি হল ‘ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল’, ১৯৬৯ সালে রাম নবমীর দিনে যার প্রতিষ্ঠা। সংগঠনটি এই আধুনিক শিক্ষার যুগেও গুরুকুল শিক্ষার জয়গান করে এবং ‘ভারতীয়ত্ব শিক্ষার’ নামে যে শিক্ষার তারা প্রচারক তা যে শিক্ষার ‘গৈরিকীকরণের’ জন্য নয় কষ্ট করে বই লিখে তা তাদের জানাতে হয়! বিজেপির সঙ্গে শিক্ষক সংগঠনটির সম্পর্কের রসায়ন কী তা সংঘ-পরিবারের রীতিনীতি সম্পর্কে যাঁরা ওয়াকিবহাল তাঁদের কাছে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। অপর যে শিক্ষক সংগঠনটির সঙ্গে ‘গভীরভাবে’ আলোচনা করেছেন বলে মন্ত্রী দাবি করেছেন তা হল ‘অল ইন্ডিয়া সেকেন্ডারি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন’—যার তেমন কোনও অস্তিত্ব ইন্টারনেটে পাওয়া শিক্ষক সংগঠনগুলোর জাতীয় বা বিশ্ব তালিকায় নেই। অন্য কোনও সর্বভারতীয় বা রাজ্য স্তরের শিক্ষক সংগঠন তাঁদের নজরে পড়েনি। উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত মূলস্রোতের কোনও সংগঠনের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন তাঁরা বোধ করেননি। যে ২১৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির মতামত তাঁরা নিয়েছেন তাঁদের বেশিরভাগ দিল্লি, মুম্বই বা বেঙ্গালুরুর, যাঁরা মূলত সরকারি পদ অলংকৃত করেন অথবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করেন। এই তালিকায় কলকাতার কোনও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ নেই। মতামত নেওয়ার ধরন ও পাত্র বাছাই থেকে পরিষ্কার শিক্ষানীতি প্রণয়নে তাঁদের কেমন ধরনের পরামর্শ চেয়েছিলেন।
একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শিক্ষা পরিচালনার মূল বৈশিষ্ট্য হল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাধিকার। যার অর্থ হল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সমস্ত স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মূল দায়িত্বে থাকবেন শিক্ষক-শিক্ষাবিদ-পড়ুয়া-গবেষকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কোর্ট-কাউন্সিল-সেনেট-সিন্ডিকেট-অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল প্রভৃতি বিধিবদ্ধ (স্ট্যাট্যুটরি) সংস্থা। শিক্ষার আর্থিক দায়িত্ব সরকারের উপর বর্তাবে, কিন্তু অর্থ মঞ্জুর করার অজুহাতে সরকার কখনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নাক গলাতে পারবে না। প্রকৃতপক্ষে শিক্ষা এমনই একটি বিশেষ বিষয় যেখানে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ব্যতিরেকে রাজনীতিবিদ বা অন্য কেউ, যাঁর অন্য বিষয়ে যত পারদর্শিতা থাকুক না কেন পঠন-পাঠন-পরীক্ষা-পাঠ্যবস্তু সম্পর্কিত বিষয়ে নীতি নির্ধারণে কোনও ভূমিকাই পালন করতে পারবেন না। এর অন্যথা হওয়ার অর্থই হল, শিক্ষার স্বাধিকারকে অস্বীকার করা। শিক্ষা পরিচালনার এটাই গণতান্ত্রিক ধারণা। শিক্ষায় উন্নত যেকোনও দেশ তার মান্যতা দিয়েছে।
প্রস্তাবিত জাতীয় শিক্ষানীতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার এই মৌলিক নীতিটিকেই অগ্রাহ্য করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পরিচালনার দায়িত্বে যে ‘গভর্নিং বোর্ড’ থাকবে তার সদস্যদের মনোনয়নের প্রস্তাবিত পদ্ধতিটি খুবই গোলমেলে। (১) ‘খুব যত্ন সহকারে মনোনীত ব্যক্তি’, (২) ‘অত্যন্ত দক্ষতা সম্পন্ন স্বনামধন্য ব্যক্তি’, (৩) ‘সমাজের খ্যাতনামা ব্যক্তি’— এঁরাই হবেন ‘গভর্নিং বোর্ডের’ মাননীয় সদস্য। এমন নামজাদা (!) ব্যক্তিদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার কী সম্পর্ক তা আমাদের জানা নেই। ফলত বিশ্ববিদ্যালয় সমেত সমস্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মনোনীত-রাজ চলবে—নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বমূলক প্রশাসনের কোন অস্তিত্ব থাকবে না। মনোনয়নের দায়িত্ব কাদের উপর বর্তাবে তা পরিষ্কার। কেন্দ্রীয় সরকারের বকলমে কেন্দ্রের শাসক দল তথা সংঘ-পরিবারের নিয়ন্ত্রণ যে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ভবিতব্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ছড়ি ঘোরানোর প্রচেষ্টার শেষ এখানেই নয়। গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকেই শাসক দলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে চাওয়া হয়েছে। পেশাগত শিক্ষা সমেত সামগ্রিকভাবে উচ্চশিক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি নতুন সংস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার নাম হবে ন্যাশানাল হায়ার এডুকেশন রেগুলেটরি অথরিটি (এনএইচইআরএ)। ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার জন্য অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল অফ টেকনিক্যাল এডুকেশন, আইন শিক্ষার জন্য বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া, ডাক্তারি শিক্ষার জন্য মেডিকেল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া ইত্যাদি গড়ে উঠেছিল ওই সমস্ত পেশাগত শিক্ষার মান নিয়মমাফিক করার উদ্দেশ্যে। বিধিবদ্ধ এই সংস্থাগুলি দীর্ঘ ঐতিহ্য সম্পন্ন। এই সমস্ত সংস্থাগুলিকে মিলিয়ে একটি নতুন সংস্থার তারা জন্ম দেবে। কিন্তু সমগ্র উচ্চশিক্ষার নিয়ন্ত্রণ থাকবে ‘এনএইচইআরএ’-র উপর। আর এই এনএইচইআরএ-র মাথার উপর থাকবে অপর একটি নয়া সংস্থা—নাম হবে রাষ্ট্রীয় শিক্ষা আয়োগ (আরএসএ) বা জাতীয় শিক্ষা কমিশন। এই নব গঠিত সংস্থার উপর বিদ্যালয় শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা তথা সমগ্র শিক্ষার ভার অর্পিত হবে। আরএসএ-র চেয়ারপার্সন হবেন প্রধানমন্ত্রী নিজে, ভাইস-চেয়ারপার্সন হবেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। (উল্লেখ্য, বর্তমান কেন্দ্রীয় ‘মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক’টি পরিবর্তিত হয়ে হবে ‘শিক্ষা মন্ত্রক’)। যাই হোক, ‘আরএসএ’-র মোট ২০-৩০ জন সদস্যের মধ্যে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, ক্যাবিনেট সচিব, নানা দপ্তরের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, পালা করে কিছু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ‘সযত্ন মনোনীত’ কয়েকজন শিক্ষাবিদও থাকবেন শিক্ষা নিয়ন্ত্রক ওই সর্বোচ্চ সংস্থায়। অর্থাৎ দেশের সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থাটি নিয়ন্ত্রণ করবেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। এমনকী উচ্চশিক্ষায় রাজ্য সরকারগুলোর কথা বলার কোনও জায়গা থাকবে না। যদিও সংবিধান অনুযায়ী শিক্ষা যুগ্ম তালিকা ভুক্ত এবং উচ্চশিক্ষার মূল আর্থিক দায়িত্ব রাজ্য সরকারগুলিই বহন করে, কেন্দ্রীয় সরকারের অবদান যৎ সামান্য। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সরকার তথা শাসক দলের হাতে কুক্ষিগত করার এমন সুপরিকল্পিত ও নগ্ন প্রয়াস এর আগে লক্ষিত হয়নি। অদ্ভুত ব্যাপার হল, শাসক দলের নিশ্ছিদ্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এমন অপ-ব্যবস্থাকে তাঁরা শিক্ষার স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসেবে দেখাতে চাইছেন। এমন নির্লজ্জ রসিকতার নজির আর আছে কি না জানা নেই।
কিন্তু কেন তাঁরা শিক্ষার উপর এই অবাধ নিয়ন্ত্রণ চাইছেন? এর উত্তর পাওয়া যাবে আরএসএস ও সংঘ-পরিবার পুষ্ট বিজেপি সরকারের বিজ্ঞান ও শিক্ষা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গিটি যা গত পাঁচ বছরে বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, মহাভারতের যুগে নিশ্চয় ইন্টারনেট ছিল, নয়তো ধৃতরাষ্ট্র কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের লাইভ-স্ট্রিমিং পেলেন কীভাবে? বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেছেন, আইনস্টাইন কী এমন নতুন কথা বলেছেন, এর থেকে ভালো তত্ত্ব বেদেই আছে। বিজ্ঞান কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে এক আরএসএস অনুগামী বললেন বেদের যুগে এরোপ্লেন ছিল। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ডারউইন তত্ত্ব ভুল, কারণ কেউ কোনও বাঁদরকে মানুষ হতে দেখেনি। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বিধান দিয়েছেন, ভারতে প্ল্যাস্টিক সার্জারি অবশ্যই ছিল, নয়তো গণেশের ধড়ে হাতির মাথাটা বসানো হল কী করে? এইসব বিজ্ঞান বিরোধী হাস্যকর কথাবার্তা বলে তাঁরা দেশকে কেবল বিশ্বের দরবারে হেয় করছেন তাই নয়, জ্ঞান-বিজ্ঞান-অঙ্কশাস্ত্রের জগতে ভারতের প্রকৃত অবদানকে ভুলিয়ে দিচ্ছেন। আর এসব কিছু তাঁরা করছেন ভারতীয়ত্ব, ভারতীয় ঐতিহ্যের নাম করে।
নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আর এস এস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার। পাঠ্যবস্তুকে এমনভাবে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা কাজ করছে যাতে কিশোর মনে সংঘ-পরিবার সুলভ অবৈজ্ঞানিক চিন্তন প্রক্রিয়ার ছাপ পড়ে। তাঁদের লক্ষ্যবস্তু কেবল পড়ুয়ারাই নয়—শিক্ষকরাও, যাঁরা পড়ুয়াদের ছাঁচে ঢালার কারিগর হবেন। তাই শিক্ষানীতিতে শিক্ষণ-শিক্ষার উপর নজিরবিহীন জোর। শিক্ষাকে কুক্ষিগত না করতে পারলে এই কাজগুলো করা সম্ভব হবে না। তাই প্রস্তাবিত নীতির ছত্রে ছত্রে শিক্ষার উপর নিশ্ছিদ্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা। দেশের শিক্ষাক্ষেত্রটি আজ সমূহ বিপদের সম্মুখীন।
 লেখক আবুটা ও ওয়েবকুটার সহ-সভাপতি (মতামত ব্যক্তিগত)
11th  July, 2019
‘আত্মসম্মান’ খ্যাত এক ভাঁড়ের রসিকতা
সন্দীপন বিশ্বাস 

অন্য দেশের রাজাদের মতো হবুরও আছে বিদূষক। অনেক বিদূষক তাঁর। তাঁদের তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তাঁরা সেই সব রাজ্যের প্রপালক। তাঁদের কাজ হল মহারাজ হবুর মুৎসুদ্দি করা। আর নানা ধরনের মন্তব্য করে অঙ্গরাজ্যের জনগণকে আনন্দ বিতরণ করা।  বিশদ

মানবিকতার উপর
বিশ্বাসটা যেন রাখতে পারি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

একটা ঝড়... যা পথে বসিয়েছিল সরযূ মণ্ডলকে। জানতেও পারেননি, কোথায় উড়ে গিয়ে পড়েছিল তাঁর ছাদটা। কিন্তু সে দুঃখ ছাপিয়ে গিয়েছিল এক অন্য আতঙ্ক... নির্জলা মরতে হবে না তো? জলেই তার বসত, অথচ সে জল মুখে দেওয়া যায় না... তেষ্টা মেটে না।   বিশদ

26th  May, 2020
ব্যয় করো, ঋণ করো, টাকার জোগান বাড়াও 

পি চিদম্বরম: প্রধানমন্ত্রী গত ১২ মে ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, গত সপ্তাহে আমি সেটার বিশ্লেষণ করেছিলাম। বিগত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী পাঁচ দফায় বিস্তারিতভাবে যে ঘোষণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা পরে সেসব কাটাছেঁড়া করেছেন।   বিশদ

25th  May, 2020
মহামারীর সঙ্গে মহাপ্রলয়,
তবু বাংলা জিতবেই
হিমাংশু সিংহ

ইতিহাসের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলা। আমাদের বঙ্গভূমি। দেশভাগ, মন্বন্তর, বন্যা, মহামারী কিছুই আমাদের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। ভেঙে গিয়েও আবার ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমরা। নতুন ভোরের স্বপ্নে শুরু হয়েছে ফের পথ চলা।
বিশদ

24th  May, 2020
আত্মকেন্দ্রিক হোন,
কিন্তু স্বার্থপর নয়
তন্ময় মল্লিক

 করোনাকে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে। হু-এর এই ঘোষণার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। চীন, জাপান, আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, ইজরায়েল যাই দাবি করুক না কেন, বাস্তবটা হল, করোনা ভ্যাকসিন নাগালের ধারেকাছে নেই।
বিশদ

23rd  May, 2020
করোনা প্যাকেজের অশ্বডিম্ব!
মৃণালকান্তি দাস

 প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটির বিলাসবহুল বিমানের খবরটাই গিলে খেয়ে নিয়েছে করোনা সঙ্কট! খবরটা কী? এতদিন বোয়িং ৭৪৭ বিমানে বিদেশ সফরে যেতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খুব শীঘ্রই এর জায়গা নিতে আসছে বোয়িং ৭৭৭।
বিশদ

22nd  May, 2020
সুযোগের সদ্ব্যবহারে
কতটা প্রস্তুত ভারত
হারাধন চৌধুরী

 জলে কুমির ডাঙায় বাঘের এমন জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত স্মরণকালের মধ্যে আমরা দেখিনি। শুধু বাংলা বা ভারত নয়, সারা পৃথিবীর জন্যই এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। রোগ সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে সবাই ঘরের নিরাপদ কোণ বেছে নিলাম।
বিশদ

21st  May, 2020
আত্মনির্ভরতার স্টিকার
মারা ‘খুড়োর কল’
সন্দীপন বিশ্বাস

সুকুমার রায়ের ‘খুড়োর কল’ কবিতার সঙ্গে বাঙালির দীর্ঘদিনের পরিচয়। চণ্ডীদাসের খুড়োর সেই আজব কল ছিল একটা ভাঁওতা। ভালো ভালো খাবারের লোভ দেখিয়ে মানুষকে তা ছুটিয়ে মারত। মরীচিকার মতো অবাস্তব এবং বিরাট একটা ধাপ্পা ছিল ওই খুড়োর কল।
বিশদ

20th  May, 2020
গালভরা প্যাকেজ,
দেশ বাঁচবে তো?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 ঊষা জগদালে। মহারাষ্ট্রের বিদ জেলায় বাড়ি তাঁর। রোজ সকালে যখন পরিবারকে ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে ছেড়ে দরজার বাইরে পা রাখেন, তখনও ঠিকঠাক জানেন না, কোন বিদ্যুতের খুঁটিতে তাঁকে উঠতে হবে। তবে জানেন, কাজের চৌহদ্দির মধ্যে কোথাও সমস্যা হলে তাঁরই ডাক পড়বে।
বিশদ

19th  May, 2020
২০ লক্ষ কোটি টাকার রহস্য কাহিনী
পি চিদম্বরম

চলতি অর্থবর্ষে ৩০ লক্ষ ৪২ হাজার ২৩০ কোটি টাকা খরচ করার পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ২০২০-২১-এর বাজেট পেশ করেছিল। ৭ লক্ষ ৯৬ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে রাজস্বের দিকের ঘাটতি মেটাবে সরকার।
বিশদ

18th  May, 2020
ছুটি শব্দটাই আজ অর্থহীন, মনের অসুখ ডেকে আনছে লকডাউন, প্রবীণদের সঙ্কট আরও তীব্র
হিমাংশু সিংহ

যে বাঙালি ছুটি পাগল, সেও দু’মাস ঘরে থেকে আজ যে-কোনও মূল্যে কাজে যোগ দিতে মরিয়া। লকডাউন যে কাজের সঙ্গে ছুটির রসায়নটাকেও এভাবে রাতারাতি বদলে দেবে, কারও কল্পনাতেও ছিল না। রবিবারের আলাদা কোনও গুরুত্ব নেই। লোকে বার ভুলে সবদিনকেই আজ শুধু লকডাউন বলে চিহ্নিত করছে। চার দেওয়ালের শৃঙ্খল আর ভালো লাগছে না কারও।
বিশদ

17th  May, 2020
এমনটা তো হওয়ার ছিল না
তন্ময় মল্লিক

 একটু বেশি রোজগারের আশায় ঘর ছেড়েছিলেন মালদহের রাজেশ মাহাত। গিয়েছিলেন ওড়িশায়। কিন্তু, ঘর তৈরির কাজে হাত দেওয়ার আগেই লকডাউন। রাজেশের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল। বুঝেছিলেন, সেখানে থাকলে না খেয়ে মরতে হবে।
বিশদ

16th  May, 2020
একনজরে
সংবাদদাতা, গাজোল: লকডাউনের মধ্যে অনেক দিন আগেই বেকারির দোকানগুলিতে অত্যাশবশ্যা কীয় পণ্য হিসাবে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে শুধুমাত্র পাউরুটি ও বিস্কুট বিক্রি করার অনুমতি মিলেছে।   ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘুষের মামলায় অভিযুক্ত এক সরকারি কর্মীর জামিনের আবেদন বাতিল করে দিল আদালত। জেল হেফাজত থেকে অভিযুক্তকে মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে হাজির করা হয়।   ...

সংবাদদাতা, রানাঘাট: উম-পুনের তাণ্ডবে উড়ে গিয়েছে মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই। দুশ্চিন্তায় ঘুম উড়েছে শান্তিপুর ব্লকের বহু পরিবারের। অনেকের অভিযোগ, ত্রাণের সামান্য ত্রিপলও তাঁরা পাননি।  ...

রাষ্ট্রসঙ্ঘ, ২৬ মে (পিটিআই): রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে আরও বেশি করে মহিলাদের নিয়োগ করা উচিত। কঙ্গো থেকে এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন ইন্ডিয়ান ফিমেল এনগেজমেন্ট টিমের (এফ‌ইটি বা ফেট) কমান্ডার ক্যাপ্টেন প্রীতি শর্মা।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

সম্পত্তি রক্ষায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন। আত্মসমীক্ষার প্রয়োজনিয়তা রয়েছে। দাম্পত্যে মধুরতা বৃদ্ধি। প্রতিদ্বন্দ্বীকে হটিয়ে প্রেম ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৬৪: স্বাধীনতা সংগ্রামী ও ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মৃত্যু
১৯৬২: ভারতীয় ক্রিকেটার রবি শাস্ত্রীর জন্ম
১৯৭৭: শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটার মাহেলা জয়বর্ধনের জন্ম



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৩.৭৮ টাকা ৭৭.৫০ টাকা
পাউন্ড ৯০.০২ টাকা ৯৪.৮৪ টাকা
ইউরো ৮০.৪৬ টাকা ৮৪.৭৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৭ মে ২০২০, বুধবার, পঞ্চমী ৪৯/০ রাত্রি ১২/৩২। পুনর্বসু নক্ষত্র ৬/১৯ দিবা ৭/২৮। সূর্যোদয় ৪/৫৬/২৯, সূর্যাস্ত ৬/১১/১। অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৫ গতে ১১/৭ মধ্যে পুনঃ ১/৪৬ গতে ৫/১৭ মধ্যে। রাত্রি ৯/৪৫ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ১/২১ মধ্যে। বারবেলা ৮/১৫ গতে ৯/৫৪ মধ্যে পুনঃ ১১/৩৪ গতে ১/১৩ মধ্যে। কালরাত্রি ২/১৫ গতে ৩/৩৬ মধ্যে। 
১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৭ মে ২০২০, বুধবার, পঞ্চমী রাত্রি ১০/২১। পুনর্ব্বসুনক্ষত্র দিবা ৬/২। সূর্যোদয় ৪/৫৬, সূর্যাস্ত ৬/১৩। অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৫ গতে ১১/১০ মধ্যে ও ১/৫০ গতে ৫/২৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/৫০ মধ্যে ও ১১/৫৮ গতে ১/২৪ মধ্যে। কালবেলা ৮/১৫ গতে ৯/৫৫ মধ্যে ও ১১/৩৫ গতে ১/১৪ মধ্যে। কালরাত্রি ২/১৫ গতে ৩/৩৬ মধ্যে। 
৩ শওয়াল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
 কলকাতার উপর দিয়ে ঝড় বইল ঘণ্টায় ৯৬ কিমি বেগে

07:45:15 PM

বাংলায় করোনায় আক্রান্ত আরও ১৮৩ 
রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৮৩ জনের শরীরে মিলল করোনা ...বিশদ

07:08:26 PM

অসমে নতুন করে আক্রান্ত আরও ৬০
অসমে নতুন করে আরও ৬০ জন করোনায় আক্রান্ত হলেন। ...বিশদ

06:56:31 PM

একদিনে তামিলনাড়ুতে করোনা আক্রান্ত ৮১৭
একদিনে তামিলনাড়ুতে ৮১৭ জনের শরীরে মিলেছে করোনার জীবাণু। মৃত্যু হয়েছে ...বিশদ

06:50:51 PM

শুরু হল বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়-বৃষ্টি 
কলকাতা সহ জেলাগুলিতে শুরু হয়েছে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টি। যদিও আবহাওয়া ...বিশদ

06:43:33 PM

উম-পুন: যাঁদের বাড়ি ভেঙে পড়েছে তাঁদের ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 

06:08:55 PM