Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

চাকরি ও পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রত্যাশিত দিশা দেখাতে পারল না নির্মলা সীতারামনেরও বাজেট
দেবনারায়ণ সরকার

লোকসভা নির্বাচনের আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান বছরের (২০১৯-২০) অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করা হয়েছিল। নির্বাচনে বিপুল জয়ের পরে বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন দ্বিতীয় মোদি সরকারের বর্তমান অর্থবর্ষের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করলেন। এই বাজেটে আয় ও ব্যয় অন্তর্বর্তী বাজেটে যা ধরা হয়েছিল সেটাই অপরিবর্তিত রইল। শুধুমাত্র রাজকোষ ঘাটতি দেশের জিডিপির ৩.৪ শতাংশের পরিবর্তে কমিয়ে ৩.৩ শতাংশ ধরা হল। কিন্তু খটকা থেকেই গেল। সম্প্রতি প্রকাশিত সিএজি রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, বর্তমান অর্থবর্ষের প্রথম দু’মাসে (এপ্রিল ও মে) রাজকোষ ঘাটতির অর্ধেকের বেশি (৫২ শতাংশ) খরচ হয়ে গিয়েছে। তাই স্বাভাবিক প্রশ্ন এই, আগামী দশমাসে রাজকোষ ঘাটতির অনুপাত অপরিবর্তিত থাকবে কি? তথ্য থেকে দেখা গিয়েছে, গত অর্থবর্ষে রাজকোষ ঘাটতি ধরা হয়েছিল জিডিপির ৩.৪ শতাংশ। কিন্তু বাজেটবহির্ভূত ঋণ থেকে প্রায় ১.৪০ লক্ষ কোটি টাকা সরকারি ব্যয় হয়েছিল। এটি ধরলে গত বছরেই রাজকোষ ঘাটতির অনুপাত দাঁড়াবে জিডিপির প্রায় ৪.১ শতাংশ। ফলে, বর্তমান অর্থবর্ষেও নির্মলা সীতারামনের পক্ষে একই পদ্ধতি অবলম্বন করা ছাড়া গত্যন্তর নেই।
এবার আসা যাক রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে। বর্তমান অর্থবর্ষে কর রাজস্ব থেকে ধরা হয়েছে ঋণবিহীন মোট আয়ের ৮২ শতাংশ। এই আয়ও সম্পূর্ণ আদায় হওয়া দুরূহ ব্যাপার। গত অর্থবর্ষেই সংশোধিত বাজেট হিসেবে আয়কর বাবদ রাজস্ব ধরা হয়েছিল ১১.৮৯ লক্ষ কোটি টাকা। আজকের বাজেটে অর্থমন্ত্রী জানালেন ৫২ হাজার কোটি টাকা আদায় কম হয়েছে—আদায়ের পরিমাণ ১১.৩৭ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রীর হিসেব অনুযায়ী, গত চার বছরে প্রত্যক্ষ কর বাবদ আয় গড়ে বছরে ১.২৫ লক্ষ কোটি বেড়েছে। অথচ, গত বছর সংশোধিত বাজেটে অতিরিক্ত বৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ২ লক্ষ কোটি টাকা। প্রকৃত আদায় ১.৪৭ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু, গত বছরের প্রকৃত আদায় থেকে ধরলে প্রত্যক্ষ কর থেকে অতিরিক্ত ২.৩০ লক্ষ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। যেহেতু রাজস্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তেমন পরিবর্তন এই বাজেটে লক্ষ করা যায়নি তাই এই অতিরিক্ত আদায় অনেকটাই কম হবে। পরোক্ষ করের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে, প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা আদায় কম হয়েছে। তাই, গত বছরের প্রকৃত আদায় থেকে ধরলে এবছর অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর রাজস্ব আদায় করতে হবে, যদি বর্তমান বাজেটের লক্ষ্য পূরণ করতে হয়। গত বছর কার্যত অতিরিক্ত ২ লক্ষ কোটি টাকার সামান্য বেশি আদায় হয়েছে মাত্র। বর্তমান অর্থবর্ষের প্রথম তিনমাসে জিএসটি আদায় অনুমিত হিসেবের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। তাই, এবছর অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ কোটি কর থেকে আদায় করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে হয়। অথচ, অন্যদিকে অতিরিক্ত খরচের বহর আগের থেকে অনেক বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষক সম্মাননিধি প্রকল্প ছাড়াও অসংগঠিত ক্ষেত্রের বিভিন্ন পেনশন প্রকল্পের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। এমনকী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে ১০০ লক্ষ কোটি টাকা কীভাবে আসবে তারও কার্যকরী কোনও সূত্র এই বাজেট থেকে পাওয়া যায়নি। ফলে, এই বাজেটে অর্থনীতির উন্নয়নসহ সামাজিক উন্নয়নমূলক ব্যয়ের সঙ্কুলান কীভাবে হবে তার রূপরেখা এই বাজেটে নেই। আসলে প্রকৃত রাজস্ব ঘাটতি অনুমিত বাজেট থেকে আরও অনেক বেশি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
এই বাজেটে যে পরিকল্পনাগুলি সরকার কার্যত গ্রহণ করেছে কার্যত তার সিংহভাগই দুই থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি। ২০২৪ অর্থবর্ষের মধ্যে ভারতকে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে এই বাজেটে। বর্তমানে ভারতীয় অর্থনীতির বহর প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু কীভাবে এটা সম্ভব তার রূপরেখা এখানে নেই। আর্থিক সমৃদ্ধির হার একবারে তলানিতে। একই অবস্থা চাহিদা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে। ৪৫ বছরের মধ্যে বেকারত্ব সর্বোচ্চ। বিশেষ করে বেসরকারি বিনিয়োগ গত ১৫ বছরে সর্বনিম্ন। উৎপাদন ও বিক্রয়ের নিশ্চয়তা না-থাকায় বেসরকারি বিনিয়োগের চাকা কার্যত ঘুরছে না বলা যায়। এমতাবস্থায় কিছু কিছু পদক্ষেপ অবশ্য এই বাজেটে গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন কর্পোটের ক্ষেত্রে প্রায় সমস্ত কর্পোরেট ট্যাক্স ২৫ শতাংশে আনা হয়েছে। আড়াইশো কোটি টাকা কার্যকরী মূলধন বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের ক্ষেত্রে কোনও শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট ট্যাক্স ছিল ২৫ শতাংশ। কার্যকরী মূলধনের এই সীমা বাড়িয়ে ৪০০ কোটি টাকা করা হল। অর্থমন্ত্রীর মতে, এই সীমার মধ্যে ৯৯.৩ শতাংশ সংস্থাই অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। মাত্র ০.৭ শতাংশ কোম্পানির কর্পোরেট ট্যাক্সের ২৫ শতাংশের বেশি। এর ফলে সরকার মনে করছে, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে। বাস্তবে কতখানি বাড়বে সেটা সময়ই বলবে। এই বাজেটের বিলগ্নিকরণের ১.০৫ লক্ষ কোটি আদায় ধরা হয়েছে। অন্তর্বর্তী ধরা হয়েছিল ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে, যে-পদ্ধতিতে বিলগ্নিকরণের নীতিমালা ধার্য করা হয়েছে তাতে নবরত্ন সংস্থাগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে বিস্তর সংশয় থাকছে।
মধ্যবিত্ত এবং আম জনতা এই বাজেট থেকে কতখানি উপকৃত হচ্ছেন? চাকরিজীবীদের কর ছাড়ের ক্ষেত্রে এদিনের বাজেটে নতুন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অন্তর্বর্তী বাজেটে করছাড়ের ক্ষেত্রে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত (৫৭ এ ধারা) যে-ছাড় দেওয়া হয়েছিল সেটা বর্তমান পূর্ণাঙ্গ বাজেটেও অপরিবর্তিত থাকছে। অর্থাৎ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনো করছাড়ের সুযোগ এই বাজেটে নেই। তবে, উচ্চ আয়ের ক্ষেত্রে সারচার্জ কিছুটা বাড়াোন হয়েছে। ২ থেকে ৫ কোটি টাকা ব্যক্তিগত আয়কর দাতার ক্ষেত্রে সারচার্জ ২ থেকে বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। ৫ কোটি টাকা উপরে সারচার্জ করা হয়েছে ৭ শতাংশ। কার্যত এটুকু বাড়িয়ে বর্তমান বাজেটে প্রত্যক্ষ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা কার্যত দুরূহ।
ছোট ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র দোকানদারদের ক্ষেত্রে যে-পেনশন স্কিম ঘোষণা করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, যাদের মূলধন দেড় কোটি টাকার কম তাঁরাই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। এই প্রকল্পে ৩ কোটি পরিবার অন্তর্ভুক্ত হবে। এমএসএমই-র ক্ষেত্রে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণে ২ শতাংশ সুদ ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই বাজেটে মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও স্বনির্ভতার ক্ষেত্রে কয়েকটি পদক্ষে নেওয়া হয়েছে। দেশের প্রত্যেকটি জেলায় সেলফ হেল্প গ্রুপ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এবং, এই ক্ষেত্রে প্রত্যেক মহিলারই জনধন অ্যাকাউন্ট থাকবে। প্রতিটি সেলফ হেল্প গ্রুপের প্রতিটি সদস্য এই অ্যাকাউন্ট থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ওভারড্রাফট নিতে পারবেন। শুধু তাই নয়, প্রতিটি সেলফ হেল্প গ্রুপের সর্বোচ্চ একজন ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ওভার ড্রাফট নিতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনায় ২০২১-২২ অর্থবর্ষের মধ্যে ১.৯৫ কোটি নতুন বাড়ি তৈরি করা হবে। ২০২২-এর মধ্যে প্রত্যেক পরিবারই উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় আসবে। এই সময়ের মধ্যে ক্লিন কুকিং ফেসিলিটি সম্পূর্ণ করা হবে। এই অর্থবর্ষের ভিতরে সমস্ত গ্রামীণ বাড়িতে শৌচাগার এবং বিদ্যুৎ সংযোগের চাহিদা সম্পূর্ণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনার অধীনে ফেজ থ্রি প্রকল্পে ১.২৫ লক্ষ কিমি সড়ক আধুনিকীকরণ করা হবে। এজন্য ৫ বছরে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০,২৫০ কোটি টাকা।
এই বাজেটে অর্থমন্ত্রী ‘জনশক্তি মন্ত্রণালয়’ নামে একটি নতুন মন্ত্রকের কথা শোনান। ‘হর ঘর জল’ প্রকল্পের অধীনে জল ও জল সংরক্ষণ ও জল সরবাহের সম্মিলিত পদক্ষেপ করা হবে। ২০২৪ অর্থবর্ষের সমস্ত গ্রামীণ বাড়িতে পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি রেখেছে এদিনের বাজেট। প্রত্যেক গ্রামকে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট বা কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অধীনে আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী শহর আবাস যোজনায় আগামী ৫ বছরের জন্য বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে প্রায় ৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। স্টার্ট আপের ক্ষেত্রেও বিনিয়োগ প্রসারিত করার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদের আয়কর রিটার্নের ক্ষেত্রে ই ভেরিফিকেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে কোনও স্ত্রুটির ব্যবস্থা থাকছে না। এদের ক্ষেত্রে মূলধনী লাভ জনিত কর জমার সময়সীমা ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এদের ক্ষেত্রে আরও বেশকিছু সুবিধা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। ডিজিটাল পেমেন্টকে আরও উৎসাহিত করার জন্য যেসব ইনসেনটিভ ঘোষণা করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত কোনও বাণিজ্যিক ডিসকাউন্ট চার্জ করা হবে না। এছাড়া যদি কেউ ১ কোটি টাকার বেশি নগদে ব্যাঙ্ক থেকে তোলেন তবে সেক্ষেত্রে উৎসমূলে ২ শতাংশ লেভি (টিডিএস) ধার্য করা হয়েছে। এটাকে নগদ লেনেদেনে নিরুৎসাহ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
কতকগুলি ক্ষেত্রে নতুন কর আরোপ করা হয়েছে অথবা করবৃদ্ধি করা হয়েছে। যেমন সোনা এবং অন্যান্য দামি পণ্য আমদানির উপর কর বাড়ানো হয়েছে। ছিল ১০ শতাংশ সেটা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১২ শতাংশ। আমদানিকৃত বইয়ের ৫ শতাংশ কর ধার্য করা হয়েছে। কতকগুলি দ্রব্য যেমন পিভিসি, টাইলস, সিন্থেটিক রাবার, ডিজিটাল ক্যামেরার ক্ষেত্রে কর বাড়ছে। পেট্রলের উপর কর (কেন্দ্রীয় শুল্ক) বাড়ানো হয়েছে লিটার প্রতি ১ টাকা। বাড়ানো হয়েছে রোড সেসও।
গত ৫ বছরে মোদি সরকার বছরে ২ কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিলেও ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষের ন্যাশনাল স্যাম্পেল সার্ভে রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ৪৫ বছরের ভিতর বেকারত্ব ছিল সর্বোচ্চ। তাই এই বাজেটে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এই সদর্থক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ আশা করেছিল ভারতবাসী। কিন্তু নির্মলা সীতারামন শেষমেশ আমাদের হতাশ করলেন। একদিকে যেমন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে (এমএসএমই) কর্মসংস্থানের দিশা যেমন এই বাজেটে নেই, তেমনি সরকারি পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে বর্তমান বছরের জন্য কার্যকরী রূপরেখাও এই বাজেটে নেই। গত ৫ বছরে দেখা গিয়েছে, রাজকোষ ঘাটতি যেখানে ডিজিপির ৩ শতাংশের অনেক বেশি সেক্ষেত্রে মূলধনী ব্যয় এর অর্ধেকেরও কম।
বর্তমান বাজেটেও যেখানে মূলধনী ব্যয় জিডিপর ১.৬ শতাংশ ধরা হয়েছিল বাজেটে সামাজিক এবং অন্যান্য ব্যয় মেটাতে গিয়ে এই ব্যয় হ্রাসের সম্ভাবনা প্রবল। তাছাড়া আগামী ৫ বছরে ১০০ লক্ষ কোটি টাকা পরিকাঠামো উন্নয়নের সংস্থান কী হবে
তার জবাবও এই বাজেট দেয়নি। ফলে, বর্তমান বছরে একদিকে রাজস্ব আয় যথেষ্ট কমার আশঙ্কা
রয়েছে এবং অন্যদিকে কর্মসংস্থানসহ পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনে ব্যয়ের সংস্থানও এই
বাজেটে কার্যত নেই।
 লেখক প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির প্রাক্তন অধ্যাপক
06th  July, 2019
‘বর্তমান’কে স্নেহের আঁচলে ঢেকে রেখেছিলেন আমাদের সবার শুভাদি
হিমাংশু সিংহ

২০০৮ সালের ১৯ জুন ‘বর্তমান’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা প্রাণপুরুষ বরুণ সেনগুপ্ত আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। এক লহমায় মনে হয়েছিল, যেন মাথার উপর থেকে বিশাল ছাদটা সরে গেল। বরুণবাবু ছিলেন পোড় খাওয়া অকুতোভয় এক বলিষ্ঠ সাংবাদিক, যিনি সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে নিজের জীবনও বাজি রাখার অসামান্য ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।  
বিশদ

22nd  October, 2019
পশ্চাতে টানিছে সে
রঞ্জন সেন 

অপুষ্টি, অস্বাস্থ্য আর দারিদ্র্যে ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের বৃদ্ধি। পাঁচ বছরের নীচে বয়স, দেশের প্রতি তিনজন শিশুর একজনের শরীর স্বাস্থ্যের এমনই হাল। বাড়ের বয়সেই আটকে গেছে এদের বৃদ্ধি। এমন শিশুরা জীবনের রাস্তায় কতটা এগতে পারবে বা আদৌ পারবে কিনা তা বলা সত্যিই খুব কঠিন।  বিশদ

21st  October, 2019
তিন নোবেলজয়ী বাঙালির প্রেসিডেন্সি
শুভময় মৈত্র

রবীন্দ্রনাথ খুব তাড়াতাড়ি স্কুল থেকে পালিয়েছিলেন। বাকিদের ক্ষেত্রে তেমনটা নয়। অমর্ত্য সেন ঢাকায় সেন্ট গ্রেগরি স্কুলে পড়া শুরু করেছিলেন। তারপর ১৯৪১-এ ভর্তি হন শান্তিনিকেতনের পাঠভবনে।   বিশদ

21st  October, 2019
পুলিস ও আমরা
তন্ময় মল্লিক

 বহু বছর আগের কথা। এক আত্মীয়ের মালবাহী গাড়ির কেবিনে বসে কলকাতার দিকে যাচ্ছিলাম। গাড়িতে কাপড় ছিল। ড্রাইভার বড় রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিসের হাতে টাকা দিচ্ছিলেন। টাকা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ড্রাইভার বললেন, ‘টাকা না দিলে ঝামেলা করবে।
বিশদ

19th  October, 2019
পশ্চাতে টানিছে সে
রঞ্জন সেন

 অপুষ্টি, অস্বাস্থ্য আর দারিদ্র্যে ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের বৃদ্ধি। পাঁচ বছরের নীচে বয়স, দেশের প্রতি তিনজন শিশুর একজনের শরীর স্বাস্থ্যের এমনই হাল। বাড়ের বয়সেই আটকে গেছে এদের বৃদ্ধি। এমন শিশুরা জীবনের রাস্তায় কতটা এগতে পারবে বা আদৌ পারবে কিনা তা বলা সত্যিই খুব কঠিন। বিশদ

19th  October, 2019
রাজনৈতিক জুটি, অন্য সমীকরণ
সমৃদ্ধ দত্ত

গান্ধীজিকে রক্ষা করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সেই দায় এড়াতে পারে না। পুলিস এবং আর্মিও ব্যর্থ। অসংখ্য চিঠি আছড়ে পড়ছে গভর্নর জেনারেল মাউন্টব্যাটেনের অফিসে। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর দপ্তরে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসে।
বিশদ

18th  October, 2019
মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার ভোট: বিধ্বস্ত বিরোধী
বনাম দোর্দণ্ডপ্রতাপ মোদি-অমিত শাহ জুটি
বিশ্বনাথ চক্রবতী

 ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পর চার মাসের মধ্যে মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার বিধানসভা নির্বাচনের সম্মুখীন মোদি-অমিত শাহ জুটি। এই দুই রাজ্যে পাঁচ বছর শাসন করবার পরও মোদিই বিজেপির প্রধান ভরসার স্থল। বিশদ

17th  October, 2019
আফ্রিকায় ‘আবিম্যানিয়া’
মৃণালকান্তি দাস

 ইথিওপিয়ার মানুষ আজ মনে করেন, আবি আহমেদ আলি আর কেউ নন, স্বয়ং ভগবানের দূত! তাদের রক্ষাকর্তা! বিশদ

17th  October, 2019
সোনিয়ার দলে অন্ধকার যুগ, মহারাষ্ট্র-হরিয়ানায় অ্যাডভান্টেজ মোদি বাহিনীই
শান্তনু দত্তগুপ্ত

যতদূর মনে পড়ে সময়টা ১৯৯৬। সর্বভারতীয় একটি ইংরেজি দৈনিকে মোহিত সেনের নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়বস্তু তোলপাড় ফেলে দেওয়ার মতো। তাঁর বিশ্লেষণ, সোনিয়া গান্ধীর সক্রিয় রাজনীতিতে এসে কংগ্রেসের হাল ধরা উচিত। এই প্রসঙ্গে তিনি কংগ্রেসের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্টের কথা উল্লেখ করেছেন। অ্যানি বেসান্ত। বিশদ

15th  October, 2019
শেখ হাসিনার দিল্লি সফর: ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়
গৌরীশংকর নাগ 

দুঁদে কূটনীতিক মুচকুন্দ দুবের মতে, সামঞ্জস্যের প্রত্যাশা না করেও যদি এক্ষেত্রে ভারতকে তার স্বার্থ সামান্য বিসর্জন দিতেও হয় তাও ভেবে দেখা যেতে পারে। কারণ বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ স্থিরতা ভারতের সুরক্ষা তথা শক্তিকেই সুনিশ্চিত করবে। সুতরাং ভারতের উচিত অর্থনৈতিক বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যথাসম্ভব তালমিল রেখে কাজ করা।
বিশদ

14th  October, 2019
বদলে যাচ্ছে পুজো
শুভময় মৈত্র

পুজো এখন এক লক্ষ কোটি টাকা কিংবা তার থেকেও বেশি অঙ্কের ব্যবসা। এমনটা সব ধর্মেই হয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যে বিভিন্ন সময় উৎসব করেন তারও একটা বাজার আছে। রোজার সময় সন্ধেবেলা জিভে জল আনা খাবারের গন্ধ বিনা পয়সায় শোঁকা যেতেই পারে, কিন্তু কিনে খেতে গেলে পয়সা লাগবেই। ফলে ব্যবসা সেখানে অবধারিত। 
বিশদ

12th  October, 2019
সাচ্চা ক্যাপিটালিস্ট হওয়ার পাঠ শেখাচ্ছে সত্তর বছরের গণচীন
মৃণালকান্তি দাস

এখন সাধারণ পোশাক পরা মাও বা টায়ারের চপ্পল পায়ে হো চি মিনরা আর সমাজতান্ত্রিক নেতৃত্বে নেই। এখন স্যুট টাই পরা বিলাসী সাহেবরা নেতৃত্বে। কমিউনিস্ট নাম ধারণ করে আছে শুধু রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে দলীয় একনায়কতন্ত্র অব্যাহত রাখার গরজে। ব্রিটিশরা যেমন বলে থাকেন আওয়ার কিং ইজ ডেড, লং লিভ আওয়ার কিং। ঠিক তেমনই। আগে ধনতন্ত্র পরে সমাজতন্ত্র। তার জন্য জানলা খুললে কিছু মাছি-মশা আসবে। কথাটা বলেছিলেন দেং নিজেই। অবশ্য এই মাছি-মশা নিয়ে তাঁদের কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। কী করে সাচ্চা ক্যাপিটালিস্ট হতে হয় সেটাও শেখাচ্ছে চীন! 
বিশদ

11th  October, 2019
একনজরে
প্রাগ, ২২ অক্টোবর: মরশুমের প্রারম্ভিক পর্বে যথেষ্ট নড়বড়ে ছিল বার্সেলোনা। কিন্তু সময় এগনোর সঙ্গেসঙ্গে চেনা ছন্দ খুঁজে পেয়েছে আর্নেস্তো ভালভার্দের দল। চোট সারিয়ে মেসি দলে ফেরার পর বাকিদের মনোবল স্বাভাবিকভাবেই তুঙ্গে। গত পাঁচটি ম্যাচে জয় পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় থেকে ...

বিএনএ, বাঁকুড়া: ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরতে দিল্লি যাচ্ছে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। এরজন্য ২৪ অক্টোবর জেলা প্রশাসনের একটি টিম দিল্লির উদ্দেশে রওনা হবে।  ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতায় ফের চালু হল ‘সোনি সেন্টার’। গোলপার্কে গড়িয়াহাট রোডের উপর ওই শো-রুমটি এক হাজার বর্গফুটেরও বেশি জায়গা জুড়ে খোলা হয়েছে, যেখানে সোনির ...

সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: মাথাভাঙা শহরের রাজ আমলের মদন মোহন বাড়ির দিঘিরপাড় দখল করার অভিযোগ উঠছে পুরসভার বিরুদ্ধে। কোচবিহারের মদন মোহন বাড়ির দেবোত্তর ট্রাস্টের অধীনে থাকা এই দিঘিটি রয়েছে পুরসভার অতিথি নিবাসের পাশেই।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যবসাসূত্রে উপার্জন বৃদ্ধি। বিদ্যায় মানসিক চঞ্চলতা বাধার কারণ হতে পারে। গুরুজনদের শরীর-স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭০৭— ব্রিটেনের প্রথম পার্লামেন্টে অধিবেশন শুরু হল
১৯১৭—অক্টোবর বিপ্লবের ডাক দিলেন লেনিন
১৯২৯—নিউ ইয়র্ক শেয়ার বাজারে মহামন্দার সূচনা
১৯৪৪—দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: হাঙ্গেরি প্রবেশ করল সোভিয়েতের লাল ফৌজ
২০০২—মস্কোর থিয়েটারে হানা দিয়ে প্রায় ৭০০ দর্শককে পণবন্দি করল চেচেন জঙ্গিরা
২০১২—সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যু  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.১২ টাকা ৭১.৮২ টাকা
পাউন্ড ৯০.৪৫ টাকা ৯৩.৭৬ টাকা
ইউরো ৭৭.৬৬ টাকা ৮০.৬২ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৮৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৮৫৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৪১০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,৮৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫,৯৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৫ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, দশমী ৪৮/৪৩ রাত্রি ১/৯। অশ্লেষা ২৩/৫২ দিবা ৩/১৩। সূ উ ৫/৩৯/৫৭, অ ৫/২/১৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/২৫ মধ্যে পুনঃ ৭/১১ গতে ৭/৫৬ মধ্যে পুনঃ ১০/১৩ গতে ১১/২৯ মধ্যে। রাত্রি ৫/৫৪ গতে ৬/৪৪ মধ্যে পুনঃ ৮/২৪ গতে ৩/৯ মধ্যে, বারবেলা ৮/৩০ গতে ৯/৫৬ মধ্যে পুনঃ ১১/২১ গতে ১২/৪৭ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩১ গতে ৪/৬ মধ্যে। 
৫ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, দশমী ৩৮/৩৫/৩১ রাত্রি ৯/৬/৫৪। অশ্লেষা ১৬/২৮/৪০ দিবা ১২/১৬/১০, সূ উ ৫/৪০/৪২, অ ৫/৩/৩২, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৩ মধ্যে ও ৭/১৮ গতে ৮/২ মধ্যে ও ১০/১৪ গতে ১২/২৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৩ গতে ৬/৩৫ মধ্যে ও ৮/১৯ গতে ৩/১৪ মধ্যে, বারবেলা ১১/২২/২ গতে ১২/৪৭/২২ মধ্যে, কালবেলা ৮/৩১/২২ গতে ৯/৫৬/২২ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩১/২২ গতে ৪/৬/২ মধ্যে। 
২৩ শফর 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
১৫ জানুয়ারির মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে বিধি, সুপ্রিম কোর্টে জানাল কেন্দ্র 
সোশ্যাল মিডিয়াতে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য, ফেক নিউজ, ট্রোলিং ও দেশ বিরোধী ...বিশদ

22-10-2019 - 06:43:00 PM

কংগ্রেস ছাড়লেন নভজ্যোত সিং সিধুর স্ত্রী নভজ্যোত কাউর

22-10-2019 - 04:15:00 PM

শব্দবাজির দৌরাত্ম্য রুখতে কাটোয়ায় ট্রেনে তল্লাশি আরপিএফের 
দীপাবলিতে শব্দবাজির দৌরাত্ম্য রুখতে কাটোয়া স্টেশনে একাধিক লোকাল এবং এক্সপ্রেস ...বিশদ

22-10-2019 - 03:48:03 PM

ফের সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন পাকিস্তানের, বালাকোট সেক্টর সীমান্তে গোলাগুলি 

22-10-2019 - 03:33:23 PM

ইন্দাসে এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ, জখম ২ 

22-10-2019 - 03:24:00 PM

রায়গঞ্জে একটি বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি 
রায়গঞ্জ শহরের হালদারপাড়াতে একটি বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ...বিশদ

22-10-2019 - 02:36:00 PM