Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

অশান্তি ঠেকাতে পুলিসের একাংশের ভূমিকা অশান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে না তো?
শুভা দত্ত

রাজ্যের পরিস্থিতি যে আজ রীতিমতো অশান্ত হয়ে উঠেছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। মারদাঙ্গা বোমাবাজি ভাঙচুর খুনোখুনি, এমনকী পুলিসের গুলি কিছুই বাকি থাকছে না! আজ বলে নয়, এবার লোকসভা ভোটের ফল বেরনোর পর থেকেই রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তর থেকে দক্ষিণ, পুব থেকে পশ্চিম, বঙ্গের নানা জায়গায় উত্তাপ ছড়িয়েছে, রক্ত ঝরেছে এবং ঝরেই চলেছে। এর মধ্যেই এইসব অশান্তিতে বেশ কয়েকটি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। নিহতরা সকলেই যে রাজনৈতিক দলের কর্মী সমর্থক এমন নয়, সাধারণ লোকও ঘটনাচক্রে হাঙ্গামার বলি হয়েছেন। বিশেষ করে ভোটফল বেরনোর পর উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া কাঁকিনাড়া সমেত গোটা বারাকপুর-নৈহাটি শিল্পাঞ্চল জুড়ে অশান্তির যে আগুন জ্বলেছিল তার তাপ এখনও পুরোপুরি ঠান্ডা হয়নি। শাসক, বিরোধী—উভয় দলের শীর্ষ নেতৃত্বই ওইসব এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং উপদ্রুত এলাকায় গিয়ে মিটিং-বৈঠক করে এসেছেন, বিজেপির দিল্লি কলকাতার নেতারা এলাকায় গিয়ে সরজমিনে সবকিছু দেখে বুঝে এসেছেন, সেইমতো দলীয় নির্দেশও দিয়েছেন, কংগ্রেস-সিপিএম নেতৃত্বও উদ্যোগী হয়েছেন—তাও এলাকায় শান্তি ফেরেনি। এখনও এলাকায় বিজেপি-তৃণমূলের রাজনৈতিক দ্বেষ-বিদ্বেষে অশান্তির আগুনের হলকা ছুটছে মাঝেমধ্যেই। তার তাপ পৌঁছে যাচ্ছে দেশের সংসদে! তাতে পশ্চিমবঙ্গের যে খুব মুখ উজ্জ্বল হচ্ছে না তা বলাই বাহুল্য।
কিন্তু, তাই বলে তো আর ক্ষমতা দখলের রাজনৈতিক লড়াই থেমে থাকতে পারে না। লোকসভা ভোটে ১৮ আসন পাওয়ার পর সঙ্গত কারণেই বিজেপি পাখির চোখ করেছে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা। ২০২১ সালের ভোটে বিধানসভায় গরিষ্ঠ দল হিসেবে রাজ্যের ক্ষমতার মসনদ দখলের জন্য দিল্লি কলকাতা একাকার করে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষেরা। একদিকে তৃণমূলের দল ভাঙানো চলছে, পুরসভা পঞ্চায়েত থেকে বিধানসভা—সর্বস্তরে শাসক সদস্যদের দলে টানার চেষ্টা চালাচ্ছে পদ্মশিবিরের নেতৃবৃন্দ। তাতে বেশকিছু ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে সাফল্যও মিলেছে। বেশ কয়েকটি পুরসভা, পঞ্চায়েত থেকে একটি জেলাপরিষদ কার্যত দখলে চলে এসেছে বিজেপির। বিধানসভায় সদস্য সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিজেপির পরিষদীয় নেতারা বসার জন্য স্পিকারের কাছে বড় ঘরের দাবি জানিয়েছেন বলে খবর। টালিগঞ্জের স্টুডিও পাড়াতেও বিজেপির পদসঞ্চার শুরু হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি নানান অপ্রীতিকর ঘটনাকে শিখণ্ডী করে চলছে ক্ষমতাসীন তৃণমূল প্রশাসনকে বেকায়দায় ফেলে রাজনৈতিক মাইলেজ ও জনসমর্থন বাড়ানোর রাজনৈতিক প্রয়াস। চলতি অশান্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে কদিন আগে লালবাজার অভিযান চালিয়েছে বিজেপি ও তার সহযোগীরা। পুলিসের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, জলকামান অবরোধে মধ্য কলকাতা বেশ কিছুক্ষণের জন্য অচল হয়েছে, বিজেপির এক রাজ্য নেতা সেই ধস্তাধস্তিতে অসুস্থ হয়েছেন। কাঁচরাপাড়া ভাটপাড়া নিয়েও তাঁরা আন্দোলন প্রতিবাদে সরগরম করে তুলছেন শহর, শহরতলি। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে একটা রাজনৈতিক সংঘাত সংঘর্ষের আবহ ক্রমশ সাধারণ জনজীবনে চিন্তার ছায়া ফেলতে শুরু করেছে। আপ্রাণ চেষ্টা করেও মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর প্রশাসন পুলিস এই ছায়া পুরোপুরি মুছে ফেলতে পারছে না!
আর এখানেই পুলিসের একাংশের ভূমিকা ও সক্রিয়তার ধরন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে! এনআরএসে ডাক্তার নিগ্রহই হোক কি ভাটপাড়া কাঁচরাপাড়া—পুলিস যে যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি, বরং অনেক ক্ষেত্রে একেবারে নিষ্ক্রিয় নীরব থেকেছে—এমন অভিযোগও উঠেছে! এনআরএসে আন্দোলনরত ডাক্তারদের অনেকে সে সময় অভিযোগ করেছেন, বহিরাগতরা যখন ট্রাকে করে হামলা চালাতে এসেছিল তখন পুলিস তাদের ঠেকাতে নাকি কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি। নিলে জুনিয়র ডাক্তার পরিবহকে অমন মারাত্মক আহত হতে হতো না। হাসপাতালের হাজার হাজার মরণাপন্ন রোগীকে অত দিন অত কষ্টও স্বীকার করতে হতো না। ভাটপাড়া কাঁচরাপাড়া সমেত বারাকপুর-নৈহাটি শিল্পাঞ্চলের অশান্তির ক্ষেত্রেও সেই এক কথা—এলাকায় পুলিসের অভাব ছিল না। কিন্তু, কার্যকালে তাদের একাংশের ভূমিকা সন্তুষ্ট করতে পারেনি যুযুধান রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রী থেকে সাধারণ মানুষ কাউকেই! অভিযোগ এমনই। কিন্তু কেন? রাজ্য পুলিসের বড় কর্তারা এলাকা সফর করে আসার পরও নাকি পরিস্থিতিতে খুব একটা রকমফের হয়নি! এটা আশ্চর্যের নয়! বিশেষ করে খোদ মুখ্যমন্ত্রী যখন বলছেন, যে কোনও মূল্যে হাঙ্গামা সন্ত্রাস থামান, কে কোন দলের কী গোত্রের তা না দেখে গুন্ডা বদমাস বহিরাগতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করুন— তখনও পুলিসের একাংশের এই আচরণ কি সন্দেহ জাগায় না?
শুধু কি তাই? গত কয়েক দিনে তো দেখা গেল অবস্থা সামাল দিতে না পেরে পুলিসের হাতিয়ার থেকে গুলিও চলে যাচ্ছে! তাতে হতাহতও হচ্ছে! কী মর্মান্তিক! এ আবার কী! এসব চলতে থাকলে বিরোধীরা তো বলবেই, সিপিএম আমলের শেষদিকে নন্দীগ্রাম সিঙ্গুর নেতাইয়ের মতো জায়গায় যে ‘ট্রিগার হ্যাপি’ পুলিস দেখা দিয়েছিল তাদের উত্তরসূরিরা এখন রাজ্যের কোথাও কোথাও দেখা দিচ্ছে! বৃহস্পতিবার গুড়াপে বিজেপি সমর্থকের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাতে পুলিসের বিরুদ্ধে আঙুল তো উঠেছে! সাম্প্রতিকে এর আগেও পুলিসের গুলি চলেছে অন্যত্র। পুলিসের কারও কারও এমন উগ্র ভূমিকায় বিশিষ্টজনেরা যে বিশেষ উদ্বিগ্ন এবং সাধারণ মানুষজনের মধ্যে যে যথেষ্ট উদ্বেগ ছড়িয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আসলে রাজ্যের সাধারণ জনতা তো এমন পরিস্থিতিতে অভ্যস্ত নন। তাঁদের তাই এখন একটাই প্রশ্ন, হিংসা হানাহানি ঠেকাতে পুলিস লাঠি চালাক, গ্যাস ছুঁড়ুক, জলকামান ব্যবহার করুক কিন্তু গুলি কেন? অনেকেই এও বলছেন, পুলিসের গুলিচালনা একটা অত্যন্ত স্পর্শকাতর ব্যাপার। জনমনে তার একটা আলাদা এবং গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সিপিএমের সর্বনাশ করে ছেড়েছিল পুলিসের এই গুলি। আবার তার পুনরাবৃত্তি কেন? এতে তো বিরোধীরা, বিশেষত বিজেপি তাঁদের শাসকবিরোধী আন্দোলনে বাড়তি রসদ পেয়ে যাচ্ছে! সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে উদ্বেগ উত্তেজনা বাড়ছে। এহেন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এমন সংশয় জড়িত প্রশ্নও উঠছে যে, অশান্তি ঠেকাতে পুলিসের একাংশের এই অপ্রত্যাশিত ভূমিকা অশান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে না তো?
প্রশ্নটি নিতান্ত অমূলক বলা যাবে কি? যাবে না। তার কারণ, সাম্প্রতিকে এনআরএস, ভাটপাড়া ইত্যাদি কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে সংশ্লিষ্ট পুলিসের একাংশ তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন তো করেইনি, উল্টে এমন সব আচরণ করেছে যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল এবং উত্তেজক করে তুলেছে! কেবল আমরা নয়, তথ্যভিজ্ঞরাও বলছেন এমন কথা। আমরা বলছি না যে সব পুলিস এমন করছেন। কিন্তু কয়েকজনের জন্য বদনাম হচ্ছে গোটা পুলিস বাহিনীর, পুলিসের উপর লোকের বিরূপতা বাড়ছে। তার চেয়েও বড় কথা পুলিসমন্ত্রী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতার অস্বস্তি বাড়ছে! বিজেপি কংগ্রেস সিপিএমের মতো বিরোধীরা মুখ্যমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে স্ব-স্ব রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। এবং ওইসব পুলিসের জন্য জনমনেও যে কাঁটার খোঁচা বাড়ছে তাতেই বা সন্দেহ কী? ইতিমধ্যেই রাজ্যের পুলিস প্রশাসনে কিছু রদবদল করেছেন মমতা। তাতে হয়তো পুলিসের কাজকর্মে কিছু উন্নতি হয়েছে বা হবে। কিন্তু, মাদক বিরোধী অনুষ্ঠানে যে পুলিস অফিসার আকণ্ঠ পান করে অংশ নেওয়ার দুঃসাহস দেখায় বা চোখের সামনে মারদাঙ্গা খুনোখুনি হতে দেখেও যে পুলিস উদাসীন দর্শকের ভূমিকা নেয় বা যে পুলিস হাইওয়েতে লরি-গাড়ি থামিয়ে যানজট বাধিয়ে তোলা আদায় করে বা যে পুলিস অকারণে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করে নির্বিকার চিত্তে— শুধু বদলিতে তাদের চিত্তশুদ্ধি হবে, তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে সৎ স্বচ্ছ স্বাভাবিক জনদরদি হয়ে পড়বে এমনটা ভাবা বোধহয় একটু বেশিই হয়ে যায়, তাই না? কিন্তু উপায় কী? রদবদল করেই এদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়—এমনটাই বলছেন কর্তারা।
এখন কথা হল—লোকসভার ভোটফল প্রকাশের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে যে মেজাজি রাজনীতি শুরু হয়েছে, তৃণমূল বিজেপির মধ্যে সমানে সমানে রাজনৈতিক লড়াইয়ের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে (এবং যার জন্য মাঝেমধ্যেই রাজ্যের নানা এলাকা গরম হয়ে উঠছে, রক্ত ঝরছে) তার সুর যে আগামী দিনে আরও চড়া হবে তা বলাই বাহুল্য। এ রাজ্যে আগামী বছরের পুরভোট বা তার পরবর্তী বিধানসভার নির্বাচন কতটা শান্তিতে হবে তা নিয়ে তাই এখন থেকেই রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞদের অনেকে বিশেষ চিন্তিত। সাধারণের মহলেও তা নিয়ে একটা চাপা উদ্বেগ লক্ষ করা যাচ্ছে। ভোট পরবর্তী উত্তপ্ত পরিস্থিতি সন্ত্রাসের চোখরাঙানি, বিবদমান রাজনৈতিক শিবিরগুলির হুমকি প্রতিহুমকি নিঃসন্দেহে সেই উদ্বেগে শঙ্কার বাড়তি ইন্ধন জোগাচ্ছে। এমন অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বা জনজীবনকে রাজনৈতিক সংঘাতের তাপোত্তাপ থেকে বাঁচাতে অন্যতম ভরসা পুলিস।
পুলিসি দক্ষতা এবং সময়ানুগ সক্রিয়তা বজায় থাকলে অনায়াসে অনেক কিছুই সহজে মিটে যায় বা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রাণও বাঁচে। কিন্তু, মার ঠেকাতে গিয়ে যদি পুলিসই প্রাণঘাতী মারমুখী হয়ে ওঠে তবে তো বিপদ। সেই বিপদের আভাস মিলেছে। যতদূর খবর, বিপদ যাতে বাড়তে না পারে তার
জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিচ্ছে মমতা সরকার।
সেই ব্যবস্থায় শেষপর্যন্ত কতটা কাজ হয় এখন
সেটাই দেখার।
30th  June, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

কেন তেরোজন অর্থনীতিবিদ অখুশি হবেন?
পি চিদম্বরম

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অরবিন্দ সুব্রামনিয়ন পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকনমিক সার্ভে ২০১৪-১৫) পেশ করে বলেছিলেন, ‘‘ভারত একটা সুন্দর জায়গায় (সুইট স্পট) পৌঁছে গিয়েছে—জাতির ইতিহাসে এটা বিরল—এইভাবে শেষমেশ দুই সংখ্যার মধ্যমেয়াদি বৃদ্ধির কৌশলে ভর করে এগনো যাবে।’’
বিশদ

08th  July, 2019
জলের জন্য হাহাকার আমাদের কি একটুও ভাবাচ্ছে!
শুভা দত্ত

আমাদের এখনও তেমন অসুবিধে হচ্ছে না। কারণ, কলকাতা মহানগরীতে এখনও পানীয় হোক কি সাধারণ কাজকর্ম সারার জলের অভাব ঘটেনি। ঘটেনি কারণ আমাদের জল জোগান যে মা গঙ্গা, তিনি এখনও বহমান এবং তাঁর বুকের ঘোলা জলে এখনও নিয়ম করে বান ডাকে, জোয়ার-ভাটা খেলে।
বিশদ

07th  July, 2019
এক বাস্তববাদী রাজনীতিকের নাম শ্যামাপ্রসাদ
হারাধন চৌধুরী

 নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় সরকার নিয়ে বিজেপি তিন দফায় ভারত শাসনের দায়িত্ব পেল। কংগ্রেসকে বাদ দিলে ভারতের আর কোনও রাজনৈতিক দল এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি। ২০১৯-এর লোকসভার ভোটে বিজেপি ক্ষমতা অনেকখানি বাড়িয়ে নিয়েছে। ২০১৪-র থেকে বেশি ভোট পেয়েছে এবং তিনশোর বেশি আসন দখল করেছে।
বিশদ

06th  July, 2019
চাকরি ও পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রত্যাশিত দিশা দেখাতে পারল না নির্মলা সীতারামনেরও বাজেট
দেবনারায়ণ সরকার

 লোকসভা নির্বাচনের আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান বছরের (২০১৯-২০) অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করা হয়েছিল। নির্বাচনে বিপুল জয়ের পরে বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন দ্বিতীয় মোদি সরকারের বর্তমান অর্থবর্ষের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করলেন। এই বাজেটে আয় ও ব্যয় অন্তর্বর্তী বাজেটে যা ধরা হয়েছিল সেটাই অপরিবর্তিত রইল।
বিশদ

06th  July, 2019
চীনা ঋণের ‘নাগপাশ’
মৃণালকান্তি দাস

বৈদেশিক ঋণের পাহাড় কীভাবে একটা দ্রুত বিকাশশীল অর্থনীতির চাকাকে স্তব্ধ করে দিতে পারে, শ্রীলঙ্কা তার ক্ল্যাসিক দৃষ্টান্ত। হামবানতোতা বন্দরকে ৯৯ বছরের লিজে চীনের কাছে হস্তান্তরে বাধ্য হওয়ার পর সেই ধারণাই আরও জোরালো হয়েছে। শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিবিদ উমেশ মোরামুদালি লিখেছেন, শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক ঋণের চেহারা আসলে যা ভাবা হচ্ছে, তার চেয়েও অনেক বেশি সাঙ্ঘাতিক। চীনের ঋণ একা দায়ী নয়। হামবানতোতা বন্দর নির্মাণের জন্য চীনের এক্সিম ব্যাঙ্ক থেকে শ্রীলঙ্কা যে ঋণ নিয়েছিল তার জন্য প্রতিবছর যে টাকা শোধ করতে হচ্ছে, সেটা শ্রীলঙ্কার মোট বার্ষিক ঋণ পরিশোধের ৫ শতাংশও নয়। অন্যভাবে বললে, হামবানতোতা আসলে হিমশৈলের চূড়ামাত্র।
বিশদ

05th  July, 2019
জি-টোয়েন্টির মঞ্চে ভারতের সফল কূটনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ 

বাস্তবিকই তাই। দ্বিতীয়বার জিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর বিপুল জনসমর্থনকে ভারতের বহির্বাণিজ্য ও কূটনৈতিক নেটওয়ার্ককে মজবুত করার কাজে নিযুক্ত করেছেন। ইতিমধ্যে তাঁর দ্বিতীয়বার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিমস্টেকের অন্তর্গত সকল সদস্য রাষ্ট্র ও সাংহাই কোয়াপারেশন অর্গানাইজেশনের এখনকার সভাপতি কিরঘীজ রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি মোক্ষম চাল দিয়েছেন। 
বিশদ

04th  July, 2019
অ্যাঞ্জি, আয়লান ও মানবিকতার হত্যা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 আরও একটা ছবি...। মর্মান্তিক বললেও কম। আর সেটাই গোটা দুনিয়ার চোখে আঙুল দিয়ে ফের দেখিয়ে দিল, মানবিকতার থেকে অর্থনীতির গুরুত্ব আজ অনেক বেশি। কালো টি-শার্ট, কালো শর্টস পরা শরীরটা মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে কাদায়। আগাছার মধ্যে। টি-শার্টটা একটু উঠে। তার ফাঁক থেকে দেখা যাচ্ছে ছোট্ট আর একটা শরীর। ২৩ মাসের অ্যাঞ্জির।
বিশদ

02nd  July, 2019
রাজ্য মেধাতালিকা ও প্রান্তিক সুন্দরবন
সুব্রত চট্টোপাধ্যায়

 অনেকেই বলাবলি করেন: রাজ্যের মেধাতালিকায় কোথায় আর সুন্দরবন। কথাটা ঠিক নয়। ক্ষেত্রসমীক্ষা বলছে—মেধাতালিকায় সে-মাথায় দার্জিলিং তো এ-মাথায় সুন্দরবন। সদ্য বের হল জয়েন্টের মেধাতালিকা। পঞ্চম স্থানে অর্ক দাস। অর্কের শিকড় আসলে সুন্দরবন সন্নিহিত অঞ্চলে। খোদ সুন্দরবনের জ্ঞানপীঠ বিদ্যায়তনে ওর প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণ।
বিশদ

01st  July, 2019
এক জাতি, এক নির্বাচন, অনেক ভীতি
পি চিদম্বরম

 প্রধানমন্ত্রীকে আপনার বাহবা দিতে হবে যে সাধারণ মানুষের চিত্তবিক্ষেপ ঘটিয়ে দেওয়ার মতো ইস্যুগুলো তিনি খাড়া করে দিতে পারেন। তিনি এই বিষয়ে বাজি ধরেন যে বিরোধীরা বহু কণ্ঠে প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং সেগুলি সবসময় অকাট্য বা যুক্তিনির্ভর হবে না।
বিশদ

01st  July, 2019
কাটমানি ও শুদ্ধিকরণ
তন্ময় মল্লিক

এক ফোঁটা গোচোনা যেভাবে গোটা বালতির দুধ নষ্ট করে দেয়, তেমনই তৃণমূলের মাতব্বরদের কাটমানি খেয়ে ফুলে ফেঁপে ঢোল হয়ে ওঠা মুখ্যমন্ত্রীর সমস্ত ভালো কাজে কেরোসিন ঢেলে দিয়েছে। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাটমানির মূলেই কুঠারাঘাত করেছেন। তাঁর এই ‘শুদ্ধিকরণ’ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে ২০২১ সালটা হবে ইতিহাস সৃষ্টির বছর। রচিত হবে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ের ইতিহাস।
বিশদ

30th  June, 2019
রাজ্য মেধাতালিকা ও প্রান্তিক সুন্দরবন
সুব্রত চট্টোপাধ্যায়

অনেকেই বলাবলি করেন: রাজ্যের মেধাতালিকায় কোথায় আর সুন্দরবন। কথাটা ঠিক নয়। ক্ষেত্রসমীক্ষা বলছে—মেধাতালিকায় সে-মাথায় দার্জিলিং তো এ-মাথায় সুন্দরবন। সদ্য বের হল জয়েন্টের মেধাতালিকা। পঞ্চম স্থানে অর্ক দাস। অর্কের শিকড় আসলে সুন্দরবন সন্নিহিত অঞ্চলে। খোদ সুন্দরবনের জ্ঞানপীঠ বিদ্যায়তনে ওর প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণ।
বিশদ

29th  June, 2019
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পাত্রের বাড়ির দাবিমতো বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে না পারায় বিয়ের সাড়ে ৪ মাসের মধ্যে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠল তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম আতিফা খাতুন (১৬)। ...

 ম্যাঞ্চেস্টার, ১০ জুলাই: জেমস নিসামের বল যুজবেন্দ্র চাহালের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক টম লাথামের দস্তানায় জমা পড়তেই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন বুকে টেনে নিলেন মার্টিন গাপটিলকে। ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

 অভিজিৎ চৌধুরী  মালদহ, বিএনএ: গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগাতার নানান অশান্তি এবং অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার উপাচার্যকে ডেকে পাঠালেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী। আগামী ১৪ই জুলাই কলকাতায় উপাচার্যকে বৈঠকে থাকার জন্য বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

আবেগের বশে কোনও কাজ না করাই ভালো। দাম্পত্য জীবনে বনিবনার অভাবে সংসারে অশান্তি বাড়বে। কর্মে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
১৮২৩ সালের এই দিনে ভারতের তৈরি প্রথম জাহাজ ডায়না কলকাতা বন্দর থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।
১৮৮৯ সালের এই দিনে অবিভক্ত ভারতের কলকাতায় প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হয়।
১৯২১: মঙ্গোলিয়ায় গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করল লাল ফৌজ
১৯৩০ সালের এই দিনে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ডন ব্রাডম্যান এক দিনে ৩০৯ রান করার রেকর্ড করেন, পরে টেস্ট ম্যাচে তা ৩৩৪ রানের সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছিল।
১৯৫৬: সাহিত্যিক অমিতাভ ঘোষের জন্ম
১৯৬২: প্রথম ট্রান্সআতলান্তিক স্যাটেলাইট টেলিভিশনের সম্প্রচার শুরু হল
১৯৬৭: সাহিত্যিক ঝুম্পা লাহিড়ির জন্ম
১৯৭২: বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম খেলা ববি ফিশার ও বরিস স্পাসকির মধ্যে শুরু হল
১৯৭৯: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মহাকাশ স্টেশন স্কাইল্যাব পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। সেটিকে ভারত মহাসাগরে ফেলে ধ্বংস করা হয়।
২০০৬: মুম্বইয়ে ধারাবাহিক বিস্ফোরণে ২০৯জনের মৃত্যু
২০১২: আবিষ্কার হল প্লুটোর পঞ্চম উপগ্রহ এস/২০১২ পি ১



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৮৩ টাকা ৬৯.৫২ টাকা
পাউন্ড ৮৩.৯৪ টাকা ৮৭.০৭ টাকা
ইউরো ৭৫.৪৬ টাকা ৭৮.৩৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৪,৭৬৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩২,৯৮৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৩,৪৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,০৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,১৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৬ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ১১ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার, দশমী ৫০/০ রাত্রি ১/৩। স্বাতী ২৭/১১ দিবা ৩/৫৫। সূ উ ৫/২/৪৯, অ ৬/২১/১, অমৃতযোগ দিবা ৩/৪১ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৭/৪ গতে ৯/১২ মধ্যে পুনঃ ১২/৩ গতে ২/১২ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৮ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৩/১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৪২ গতে ১/২ মধ্যে।
২৫ আষাঢ় ১৪২৬, ১১ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার, নবমী ০/১৫/১৭ প্রাতঃ ৫/৮/৪৭ পরে দশমী ৫৬/১২/২১ রাত্রি ৩/৩১/৪০। স্বাতীনক্ষত্র ৩৫/৩৮/১৯ রাত্রি ৭/১৮/৪, সূ উ ৫/২/৪৪, অ ৬/২৩/১০, অমৃতযোগ দিবা ৩/৪২ গতে ৬/২৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪ গতে ৯/১৩ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ২/১২ মধ্যে ও ৩/৩৭ গতে ৫/৩ মধ্যে, বারবেলা ৪/৪৩/৬ গতে ৬/২৩/১০ মধ্যে, কালবেলা ৩/৩/৩ গতে ৪/৪৩/৬ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৪২/৫৭ গতে ১/২/৫৪ মধ্যে।
৭ জেল্কদ
এই মুহূর্তে
 বিশ্বকাপ: অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে ইংল্যান্ড

09:49:59 PM

 বিশ্বকাপ: ইংল্যান্ড ২১০/২ (৩০ ওভার)

09:41:16 PM

 বিশ্বকাপ: ইংল্যান্ড ১৪৭/২ (২০ ওভার)

08:55:51 PM

বিশ্বকাপ: ইংল্যান্ড ৫০/০ (১০ ওভার)

08:00:01 PM

 মুচিপাড়া ডাকাতি: একজন কনস্টেবল পলাতক

06:46:00 PM

 বিশ্বকাপ: ইংল্যান্ডকে ২২৪ রানের টার্গেট দিল অস্ট্রেলিয়া

06:44:41 PM