Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ডাক্তার নিগ্রহের বিরুদ্ধে এত স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন কেন ভারতের প্রতি কোণ থেকে 
সত্যপ্রিয় দে সরকার

 
ভারতে অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা শুরু হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। ইংরেজ সরকার তার ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে কখনও ৩০ কোটি ভারতীয়ের চিকিৎসার কথা ভাবেনি। ফোর্ট উইলিয়ামে যেমন প্রশাসন চালানোর জন্য কতিপয় করণিক তৈরির উদ্দেশ্যে ইংরেজি শিক্ষার প্রচলন হয়, তেমন এদেশের রাজকর্মচারী ও কর্মরত ইংরেজদের চিকিৎসা দেবার উদ্দেশ্যে কলকাতা ও তারপর মাদ্রাজ মেডিক্যাল কলেজ স্থাপিত হয়। স্বাধীনতার পরে প্রথম ভারতের সব নাগরিককে স্বাস্থ্যপরিষেবা দেবার উদ্দেশ্যে ত্রিস্তরীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রচলন হয়। স্বাধীনতার সময় ৩০ কোটি জনসংখ্যার ১৭ শতাংশ সাক্ষর ও ৯০ শতাংশ দারিদ্রসীমার নীচে ছিল এবং ৩ শতাংশ মানুষ অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার উপর বিশ্বাস করত। আজ ১২০ কোটি জনসংখ্যার আনুমানিক ৭০-৭৫ শতাংশ মানুষ অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার উপর বিশ্বাস করেন। রোজকার সচেতনতার ফলে এই অনুপাত আরও বাড়ছে। তার থেকেই একটা অনুমান করা যায় যে, অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসাব্যবস্থার উপর চাপ কী ভয়াবহ পরিমাণে বাড়ছে। ১৯৭৮-এ কাজাঘিস্তানের আলমা আটা শহরে ৬-১২ সেপ্টেম্বর বিশ্বের অধিকাংশ দেশ একযোগে ২০০০ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের মানুষকে ন্যূনতম স্বাস্থ্য পরিষেবা দেবার অঙ্গীকার করে ও তাদের জিডিপি’র ন্যূনতম ৩ শতাংশ বাজেট স্বাস্থ্যখাতে দেবার শপথ নেয়। ভারত তার অন্যতম। ১৯৭৮ থেকে ২০১৯ আজ পর্যন্ত কোনও সরকার এই অঙ্গীকার পালন করেনি। গত বছর সরকার পূর্বে ২.১ শতাংশ বা ২.৩ শতাংশ থেকে এই বাজেট কমিয়ে ১.৯ শতাংশ করে দিয়েছে। তাই কেউ ন্যূনতম কথা না-রাখার ফলে রোজ প্রত্যাশা ও চাহিদার তুলনায় দেশের অ্যালোপ্যাথি স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও রুগ্ন হয়ে পড়েছে। এই রাজ্যে ১৯৭৭ থেকে ধীরে ধীরে নীরবে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার কেন্দ্র থেকে জীবনদায়ী ও আবশ্যিক ওষুধের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া চলেছে। এ মুহূর্তে আনুমানিক ৩ লক্ষ ন্যূনতম ইন্ডোর বেড প্রয়োজন। ৩ লক্ষ ৫০ হাজার হলে তা প্রায় সব বেশি অসুস্থকে জায়গা দিতে পারে, সেখানে সরকারি ব্যবস্থায় ৭৫ হাজার মতো ও সব বেসরকারি ব্যবস্থা মিলিয়ে ৪৫ হাজার মতো শয্যা আছে। এর মধ্যে ৪৫ হাজার বেসরকারি শয্যা আর্থিক কারণে গরিব মানুষের ক্ষমতার বাইরে।
১ লক্ষ ৮০ হাজার কম শয্যা নিয়ে রোজ এ রাজ্যের চিকিৎসকদের বাধ্য করা হয় স্বাস্থ্যপরিষেবা চালাতে। বহির্বিভাগের চিকিৎসকের সংখ্যা প্রয়োজনের ১/৬। সেবিকা, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী মিলিয়ে আজ পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ শূন্যস্থান রয়েছে। এই সংখ্যা হিসেবেও গরমিল আছে। ধরুন, কাঁথি হাসপাতালে ১০০টি শয্যা আছে, কিন্তু অতি অসুস্থ রোগী নিয়ে মাটিতে, বারান্দায়, গেটের পাশে আরও ১২৫ জন গড়ে ভর্তি থাকে, কিন্তু এই অতিরিক্ত রোগীদের সংখ্যা ইচ্ছাকৃতভাবে ধরা হয় না, কারণ তাতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মীর হিসেব দ্বিগুণ হয়ে পড়বে। এসব তথ্য প্রতিটি সরকার ১৯৪৭ সাল থেকে জানে, কেউ সৎভাবে এই সম্পূর্ণ পরিকাঠামোগত নৈরাজ্যের কথা স্বীকার করে না। প্রতি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিছু আঞ্চলিক শক্তিশালী মানুষ, সর্বোচ্চ অপরাধী দলের নেতা, শাসক ও বিরোধী দলের নেতা, তাদের স্তাবক ও পরিবারকে প্রথমে চিকিৎসা দিতে হয়, নিয়ম ভেঙে ওষুধ, শয্যা, পরীক্ষা, চিকিৎসা করে দিতে হয়, তার বিনিময়ে ৬ দিন থাকার কথা কর্মীরা ২-৩ দিন, কখনও একদিনও থেকে কর্মস্থল থেকে দূরে তাঁর কাজ করতে পারেন, অলিখিত এই ব্যবস্থা মূলত ৭০-এর দশকের শুরু থেকে হয়ে চলেছে। এক-একটি জেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৮০-র দশক থেকে দেখেছি এক-একজন অপরাধীকে এক-একটি ওয়ার্ড ইজারা দিয়ে দিতে। এরা ঠিক করত কে ভর্তি হবে, কে বেডে, কে মাটিতে থাকবে, কে বেশি প্রোটিনের খাবার খাবে। নিশ্চয় প্রতিটি নির্দেশ আসত রোগীর মরিয়া পরিবারের থেকে নেওয়া পয়সার বিনিময়ে। এর বিনিময়ে এদের মদ্যপ অপরাধী দল কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা দিত। পুলিস কখনও কিছু করেনি, আজও কিছু করে না। এই সব ‘ইজারাদার’রা আবার শাসকদলকে বিভিন্ন ভোটের দিন ভোট জোগাড়ে সাহায্য করত। কোনও দল এই নিয়ম ভাঙেনি, শুধু লাল থেকে নীল হয়ে গেরুয়ার পথে অপরাধীরা শাসকের কোলে পরিপুষ্ট হয়েছে। এই ধরনের পরিকাঠামোহীন ব্যবস্থার খেসারত দিয়ে চলছে দু’শ্রেণীর মানুষ, সব স্বাস্থ্যকর্মী ও সব রোগী, যাঁরা আর্থিক কারণে বাধ্য হয়ে সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে আসেন। আনুমানিক শুধু পশ্চিমবঙ্গে প্রতিদিন শতাধিক রোগীর মৃত্যু হয় যা পরিকাঠামো ন্যূনতম থাকলে হতো না। সেই সময় যখন সরকারি মতে সব কেন্দ্র কাজ করছে পুরোদমে। এই যে কৌশলী হত্যা, এর খতিয়ান কেউ নেয় না। প্রতি বছর বহু হাজার। আজ যাঁরা তথাকথিত বিনা চিকিৎসায় মানুষের মৃত্যুসংবাদ নিয়ে ব্যবসা বা ভোট বাড়ানোর খেলা খেলছেন, ওই সঠিক চিকিৎসাহীনতার মৃত্যু নিয়ে তাঁরা কেন নিশ্চুপ? পাঁচজনের দৃশ্যত বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর বিপরীতে কৌশলে, লক্ষ গরিবের পরিকাঠামোর অভাবে মৃত্যু, কোনটা দেশের জন্য প্রয়োজনীয়? প্রয়োজন তিন শতাংশের বেশি সহায়তা, জিডিপি’র বাজেটে জমে থাকা অব্যবস্থাকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়া। Break even অর্থনীতির অঙ্কে কেন সরকার সব ওষুধ তৈরির দায় নেবে না, ওষুধের দাম মানুষের ধরাছোঁয়ার মধ্যে রাখার জন্য? কেন আরও আরও সঠিক সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হবে না? আজও ভারতে সরকারি মেডিক্যাল কলেজে বছরে ১২ হাজার টাকা পড়ার খরচ; খাওয়া, থাকা, বইয়ের খরচ আলাদা। গড়ে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে খরচ ১-১.৫ কোটি টাকা শুধু পড়ার খরচ। তাই আয়ুষ্মান ভারতের নামে সব দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দিয়ে কী করে স্থায়ীভাবে গরিব নাগরিকের চিকিৎসা হতে পারে? তারপর ওই সামান্য টাকার অংশও শাসকদল ও আমলাদের দিয়ে তবে অনেক পরে ওই টাকা পাওয়া যাবে। ঠিক যেমন সাইকেল বা ঘরপিছু টাকা নেওয়ার লোক ঠিক সময়ে ঘরে পৌঁছে যায়। দেশের প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং কলেজ তৈরি না-হলে স্বাস্থ্যপরিষেবার বিকেন্দ্রীকরণ অসম্ভব। বিভিন্ন অতি সুদক্ষ চিকিৎসা কেন্দ্রের দামি যন্ত্রের কেনাতে সব আমলা ও শাসক দলের সংশ্লিষ্ট নেতারা উদগ্রীব হয়ে থাকেন, কারণ তার দামের ভাগের অংশ ঠিক জায়গায় পৌঁছে যায়, অথচ তারপর বছরের পর বছর সেই যন্ত্র খোলা হয় না, ব্যবহার হয় না। সামান্য খরাপ হলে চিরদিনের জন্য আর ব্যবহার হয় না। যে সামান্য টাকা দিয়ে বার্ষিক যন্ত্রের দেখাশোনার পদ্ধতি প্রস্তুতকারক সংস্থা ব্যবস্থা করে তার সুযোগও ইচ্ছে করে ব্যবহার করা হয় না, যাতে পরিষেবা দিতে না হয়। এর উদাহরণ এত বেশি যে এ ঘটনা না-ঘটাই ব্যতিক্রম।
এই পরিপ্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকদের অসহায়তা ও হতাশার কথা ভাবতে হবে। মেডিকেল কলেজের শুরু হয় শাসক দলের ছাত্র নেতা (অধিকাংশই ছাত্র হিসেবে কলেজের আবর্জনা) হুংকারের মাঝে। হস্টেলের ঘর পাওয়া, খাওয়ার ব্যবস্থা, পড়ার খুঁটিনাটি এরা নিয়ন্ত্রণ করে। এই নেতারা কেউ নির্বাচিত নয়। ১৯৮৬ থেকে ২০১০ পর্যন্ত ধরুন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে কোনও নির্বাচন হয়নি তৎকালীন শাসকদলের ছাত্র ফড়েরা ছাত্র সংসদ চালিয়েছে, ২০১২ থেকে একই ঘটনা নতুন শাসকদলের দালাল ও স্তাবক ছাত্রদের হাতে, শুধু পতাকার বদল। লাইব্রেরি, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে শিক্ষা, নিত্যনতুন শিক্ষাদানের পদ্ধতির প্রয়োগ কিছু নিয়েই এরা আন্দোলন করেন না, শুধুমাত্র বার্ষিক সংসদের উৎসব ও তার থেকে অর্থ আত্মসাৎ করার কাজ হল এদের একমাত্র লক্ষ্য। এমনকী পরীক্ষাও অনেকসময় নিরপেক্ষ হয় না। অভিযোগ, ৩৪ বছর এক শাসকদলের ও ৮ বছর নতুন শাসকদলের কোনও কোনও ছাত্র নেতাকে যেনতেন প্রকারে পাশ করিয়ে দেওয়া হয়, কখনও সিসিটিভি সরিয়ে কখনও প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দিয়ে। এই নীতির! পরিবেশে বেড়ে ওঠে ভবিষ্যতের সেবক চিকিৎসকরা। এরপর শুরু হয় জীবনের জুনিয়র ডাক্তার নামে ইন্টার্ন, হাউস স্টাফ ও পিজিটির জীবন। গড়ে ২০০-২৫০ রোগী, আক্রমণাত্মক, অচেতন, সঠিকভাবে নিজের সমস্যা বলতে অপারগ ও একরাশ অবিশ্বাস নিয়ে আসা যাদের ন্যূনতম সময়ে দেখতে হবে, রোগ নির্ণয় করতে হবে, চিকিৎসা দিতে হবে। এরা উচ্চ চিকিৎসা বা ভুল চিকিৎসা সংশোধনে সিঙ্গাপুর বা হংকং যেতে অপারগ।
এইসব অবস্থার মধ্যে এনআরএস-এ ৮৫ বছরের বৃদ্ধ হয়তো মৃতপ্রায় হয়ে এলেন, এসে মহাপ্রয়াণে গেলেন সন্ধ্যাবেলায়। দুঃখ আবেগ সব মিটে গেল। মধ্যরাতে হঠাৎ ২০০ জন সশস্ত্র মানুষ এল আবেগপ্রবণ (!) হয়ে। পুলিস তাদের যত্ন করে ঢুকতে দিল, পথ দেখাল। তারা মৃত রোগীর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত নন এমন কর্তব্যর চিকিৎসকদের আক্রমণ করল, একজনের খুলি ভেঙে ভেতরে ঢুকিয়ে সহর্ষে ফিরে গেল। প্রতিবাদের পরে তাদের মাত্র ৫ জনকে ধরা হল, ২০০ জনকে দেখা গেলেও ধরা হল না। এমনভাবে কথা বলা হল যে, তারা যেন দেশ বাঁচাতে কার্গিলে যুদ্ধ করতে এসেছিল। এর প্রতিবাদে সারা দেশ, সারা পৃথিবী একসূত্রে বাঁধা হয়ে গেল। ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি ছেড়ে পরিকাঠামোতে সঠিক টাকা দিতে হবে। রোগীদের জানাতে হবে আমাদের কী কী সীমাবদ্ধতা, গাফিলতি আছে, তারপর পরস্পরের সাহায্যে যতটা সম্ভব সঠিক পরিষেবা দিতে হবে। দেশের নীতি-নির্ধারক ও রাজনৈতিক দলের দেউলিয়াপনার ফলে বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যপরিষেবার ব্যাপারে স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং ২০০ জনকে হত্যার চেষ্টার আইন অনুসারে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে ভোট ব্যাঙ্কের বিপজ্জনক খেলা ভুলে। আশা রাখি পশ্চিমবঙ্গের এনআরএসে প্রতিবাদ সারা দেশের পরিকাঠামোর সমস্যা সবার সামনে আনার ও এর প্রতিকারে সব রাজনৈতিক দল একে যথাযথ গুরুত্ব দেবে।
 লেখক: ভারতীয় অন্ত্রশল্য চিকিৎসক সংস্থার সহ-সভাপতি
 
21st  June, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
বিজেপির অহঙ্কারের পতন
হিমাংশু সিংহ

সবকিছুর একটা সীমা আছে। সেই সীমা অতিক্রম করলে অহঙ্কার আর দম্ভের পতন অনিবার্য। সভ্যতার ইতিহাস বারবার এই শিক্ষাই দিয়ে এসেছে। আজও দিচ্ছে। তবু ক্ষমতার চূড়ায় বসে অধিকাংশ শাসক ও তার সাঙ্গপাঙ্গ এই আপ্তবাক্যটা প্রায়শই ভুলে যায়।  বিশদ

01st  December, 2019
উপনির্বাচনের ফল ও বঙ্গ রাজনীতির অভিমুখ
তন্ময় মল্লিক

জনতা জনার্দন। ফের প্রমাণ হয়ে গেল। মাত্র মাস ছয়েক আগে লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসন দখল করে গেরুয়া শিবির মনে করেছিল, গোটা রাজ্যটাকেই তারা দখল করে নিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায় শুধু সময়ের অপেক্ষা। সেই বঙ্গেই তিন বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে একেবারে উল্টো হওয়া বইয়ে দিল মানুষ।
বিশদ

30th  November, 2019
ওভার কনফিডেন্স
সমৃদ্ধ দত্ত

নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের সব থেকে প্রিয় হবি হল পরিবর্তন। তাঁরা স্থিতাবস্থায় বিশ্বাস করেন না। তাঁরা বদলের বন্দনাকারী। পরিবর্তন কি খারাপ জিনিস? মোটেই নয়। বরং পরিবর্তনই তো সভ্যতার স্থাণু হয়ে না থেকে এগিয়ে চলার প্রতীক।   বিশদ

29th  November, 2019
একনজরে
 বিএনএ, চুঁচুড়া: পুরসভার ওয়ার্ডের কাজের জন্যে বরাদ্দ হয়েছিল ২৮ জন শ্রমিক। কিন্তু, বাস্তবে অনুসন্ধান করে পাওয়া গেল ৪ জন! খোদ পুরসভার চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এই পরিস্থিতি ...

সংবাদদাতা, ইসলামপুর: শনিবার দুপুরে চাকুলিয়া থানার শিকারপুরে পাটবোঝাই একটি চলন্ত ট্রাক্টরে হঠাৎ আগুন লেগে প্রায় তিন লক্ষ টাকার পাট ভস্মীভূত হয়। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চাকুলিয়া হাট থেকে এক ব্যবসায়ী পাট কিনে ট্রাক্টরে চাপিয়ে নিয়ে বিহারের কিষাণগঞ্জে ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় শর্তে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস চালানোর জন্য দ্বিতীয়বার টেন্ডার ডেকেও তেমন সাড়া মিলল না। রাজ্যের নানা জায়গায় চালাতে ১৫০টি ইলেকট্রিক বাসের জন্য ...

 দোহা, ৭ ডিসেম্বর (এএফপি): আফগানিস্তানে শান্তি ফেরাতে তালিবানদের সঙ্গে ফের আলোচনা শুরু করল আমেরিকা। শনিবার, কাতারে দু’পক্ষের মধ্যে এক দফা আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। মাস তিনেক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাত্ করেই তালিবানদের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করে দিয়েছিলেন। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

শরীর-স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন। কর্মক্ষেত্রে উন্নতির সম্ভাবনা। গুপ্ত শত্রুতার মোকাবিলায় সতর্কতা প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষায় বিলম্বিত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩৫- অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর জন্ম
১৯৭১- ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় করাচি বন্দরে হানা দিল ভারতীয় নৌবাহিনী
১৯৭৪- গণভোটের মাধ্যমে গ্রিসে রাজতন্ত্রের অবসান
১৯৮০- নিউইয়র্কে এক মানসিক প্রতিবন্ধী ভক্তের হাতে খুন হলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ পপ গায়ক জন লেনন
১৯৯১- রাশিয়া, বেলারুশ এবং ইউক্রেনের রাষ্ট্রনেতারা সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে দেওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেন এবং স্বাধীন রাষ্ট্রগুলিকে নিয়ে কমনওয়েলথ গঠন করলেন
২০০৯- বাগদাদে বোমা হামলায় নিহত ১২৭ এবং আহত ৪৪৮ জন





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪৯ টাকা ৭২.১৯ টাকা
পাউন্ড ৯২.২০ টাকা ৯৫.৫৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৭৫ টাকা ৮০.৭৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
07th  December, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮, ৩৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ৪২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৯৬৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩, ৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩, ৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার, একাদশী ৫/৫৩ দিবা ৮/৩০। অশ্বিনী ৫৩/২৫ রাত্রি ৩/৩০। সূ উ ৬/৮/১৩, অ ৪/৪৮/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫১ গতে ৮/৫৮ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৯ মধ্যে পুনঃ ২/৪০ গতে ২/৪০ মধ্যে। রাত্রি ৭/২৮ গতে ৯/১৫ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ১/৪২ মধ্যে পুনঃ ২/৩৫ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ১০/৮ গতে ১২/৪৮ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৮ গতে ২/৪৮ মধ্যে।
২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার, একাদশী ৩/১৫/৫২ দিবা ৭/২৭/৫৯। অশ্বিনী ৫৩/১০/৩০ রাত্রি ৩/২৫/৫০, সূ উ ৬/৯/৩৮, অ ৪/৪৮/৪৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/১ গতে ৯/৮ মধ্যে ও ১১/৫৬ গতে ২/৪৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩৩ গতে ৯/২১ মধ্যে ও ১২/২ গতে ১/৫০ মধ্যে ও ২/৪৮ গতে ৬/১০ মধ্যে, কালবেলা ১১/২৯/১৪ গতে ১২/৪৯/৮ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৯/২০ গতে ২/৪৯/২৭ মধ্যে।
১০ রবিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
উঃ দিনাজপুরের গোয়ালপোখরে কৌটো বোমা ফেটে জখম ২ 
উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর এলাকার মান্নাবস্তিতে কৌটো বোমা ফেটে জখম হলেন ...বিশদ

02:31:00 PM

অগ্নিকাণ্ডে জখমদের দেখতে হাসপাতালে গেলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল 

02:26:41 PM

ইটাহারে আদিবাসী বৃদ্ধার জমি দখলের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে 
ইটাহারের গ্রামে এক আদিবাসী বৃদ্ধার জমি দখলের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের ...বিশদ

02:10:00 PM

উলুবেড়িয়ায় কারখানা থেকে দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস হওয়ায় অসুস্থ এলাকাবাসীরা, ক্ষোভ 
তেলের কারখানা থেকে দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস বের হওয়ার প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ ...বিশদ

02:09:22 PM

ভদোদরায় নাবালিকা ধর্ষণকাণ্ডে ২জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিস 

01:28:41 PM

অসমের ডিব্রুগড়ে লাইনচ্যুত মালগাড়ির ৭টি কামরা

12:03:49 PM