Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ডাক্তার নিগ্রহের বিরুদ্ধে এত স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন কেন ভারতের প্রতি কোণ থেকে 
সত্যপ্রিয় দে সরকার

 
ভারতে অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা শুরু হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। ইংরেজ সরকার তার ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে কখনও ৩০ কোটি ভারতীয়ের চিকিৎসার কথা ভাবেনি। ফোর্ট উইলিয়ামে যেমন প্রশাসন চালানোর জন্য কতিপয় করণিক তৈরির উদ্দেশ্যে ইংরেজি শিক্ষার প্রচলন হয়, তেমন এদেশের রাজকর্মচারী ও কর্মরত ইংরেজদের চিকিৎসা দেবার উদ্দেশ্যে কলকাতা ও তারপর মাদ্রাজ মেডিক্যাল কলেজ স্থাপিত হয়। স্বাধীনতার পরে প্রথম ভারতের সব নাগরিককে স্বাস্থ্যপরিষেবা দেবার উদ্দেশ্যে ত্রিস্তরীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রচলন হয়। স্বাধীনতার সময় ৩০ কোটি জনসংখ্যার ১৭ শতাংশ সাক্ষর ও ৯০ শতাংশ দারিদ্রসীমার নীচে ছিল এবং ৩ শতাংশ মানুষ অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার উপর বিশ্বাস করত। আজ ১২০ কোটি জনসংখ্যার আনুমানিক ৭০-৭৫ শতাংশ মানুষ অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার উপর বিশ্বাস করেন। রোজকার সচেতনতার ফলে এই অনুপাত আরও বাড়ছে। তার থেকেই একটা অনুমান করা যায় যে, অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসাব্যবস্থার উপর চাপ কী ভয়াবহ পরিমাণে বাড়ছে। ১৯৭৮-এ কাজাঘিস্তানের আলমা আটা শহরে ৬-১২ সেপ্টেম্বর বিশ্বের অধিকাংশ দেশ একযোগে ২০০০ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের মানুষকে ন্যূনতম স্বাস্থ্য পরিষেবা দেবার অঙ্গীকার করে ও তাদের জিডিপি’র ন্যূনতম ৩ শতাংশ বাজেট স্বাস্থ্যখাতে দেবার শপথ নেয়। ভারত তার অন্যতম। ১৯৭৮ থেকে ২০১৯ আজ পর্যন্ত কোনও সরকার এই অঙ্গীকার পালন করেনি। গত বছর সরকার পূর্বে ২.১ শতাংশ বা ২.৩ শতাংশ থেকে এই বাজেট কমিয়ে ১.৯ শতাংশ করে দিয়েছে। তাই কেউ ন্যূনতম কথা না-রাখার ফলে রোজ প্রত্যাশা ও চাহিদার তুলনায় দেশের অ্যালোপ্যাথি স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও রুগ্ন হয়ে পড়েছে। এই রাজ্যে ১৯৭৭ থেকে ধীরে ধীরে নীরবে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার কেন্দ্র থেকে জীবনদায়ী ও আবশ্যিক ওষুধের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া চলেছে। এ মুহূর্তে আনুমানিক ৩ লক্ষ ন্যূনতম ইন্ডোর বেড প্রয়োজন। ৩ লক্ষ ৫০ হাজার হলে তা প্রায় সব বেশি অসুস্থকে জায়গা দিতে পারে, সেখানে সরকারি ব্যবস্থায় ৭৫ হাজার মতো ও সব বেসরকারি ব্যবস্থা মিলিয়ে ৪৫ হাজার মতো শয্যা আছে। এর মধ্যে ৪৫ হাজার বেসরকারি শয্যা আর্থিক কারণে গরিব মানুষের ক্ষমতার বাইরে।
১ লক্ষ ৮০ হাজার কম শয্যা নিয়ে রোজ এ রাজ্যের চিকিৎসকদের বাধ্য করা হয় স্বাস্থ্যপরিষেবা চালাতে। বহির্বিভাগের চিকিৎসকের সংখ্যা প্রয়োজনের ১/৬। সেবিকা, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী মিলিয়ে আজ পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ শূন্যস্থান রয়েছে। এই সংখ্যা হিসেবেও গরমিল আছে। ধরুন, কাঁথি হাসপাতালে ১০০টি শয্যা আছে, কিন্তু অতি অসুস্থ রোগী নিয়ে মাটিতে, বারান্দায়, গেটের পাশে আরও ১২৫ জন গড়ে ভর্তি থাকে, কিন্তু এই অতিরিক্ত রোগীদের সংখ্যা ইচ্ছাকৃতভাবে ধরা হয় না, কারণ তাতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মীর হিসেব দ্বিগুণ হয়ে পড়বে। এসব তথ্য প্রতিটি সরকার ১৯৪৭ সাল থেকে জানে, কেউ সৎভাবে এই সম্পূর্ণ পরিকাঠামোগত নৈরাজ্যের কথা স্বীকার করে না। প্রতি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিছু আঞ্চলিক শক্তিশালী মানুষ, সর্বোচ্চ অপরাধী দলের নেতা, শাসক ও বিরোধী দলের নেতা, তাদের স্তাবক ও পরিবারকে প্রথমে চিকিৎসা দিতে হয়, নিয়ম ভেঙে ওষুধ, শয্যা, পরীক্ষা, চিকিৎসা করে দিতে হয়, তার বিনিময়ে ৬ দিন থাকার কথা কর্মীরা ২-৩ দিন, কখনও একদিনও থেকে কর্মস্থল থেকে দূরে তাঁর কাজ করতে পারেন, অলিখিত এই ব্যবস্থা মূলত ৭০-এর দশকের শুরু থেকে হয়ে চলেছে। এক-একটি জেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৮০-র দশক থেকে দেখেছি এক-একজন অপরাধীকে এক-একটি ওয়ার্ড ইজারা দিয়ে দিতে। এরা ঠিক করত কে ভর্তি হবে, কে বেডে, কে মাটিতে থাকবে, কে বেশি প্রোটিনের খাবার খাবে। নিশ্চয় প্রতিটি নির্দেশ আসত রোগীর মরিয়া পরিবারের থেকে নেওয়া পয়সার বিনিময়ে। এর বিনিময়ে এদের মদ্যপ অপরাধী দল কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা দিত। পুলিস কখনও কিছু করেনি, আজও কিছু করে না। এই সব ‘ইজারাদার’রা আবার শাসকদলকে বিভিন্ন ভোটের দিন ভোট জোগাড়ে সাহায্য করত। কোনও দল এই নিয়ম ভাঙেনি, শুধু লাল থেকে নীল হয়ে গেরুয়ার পথে অপরাধীরা শাসকের কোলে পরিপুষ্ট হয়েছে। এই ধরনের পরিকাঠামোহীন ব্যবস্থার খেসারত দিয়ে চলছে দু’শ্রেণীর মানুষ, সব স্বাস্থ্যকর্মী ও সব রোগী, যাঁরা আর্থিক কারণে বাধ্য হয়ে সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে আসেন। আনুমানিক শুধু পশ্চিমবঙ্গে প্রতিদিন শতাধিক রোগীর মৃত্যু হয় যা পরিকাঠামো ন্যূনতম থাকলে হতো না। সেই সময় যখন সরকারি মতে সব কেন্দ্র কাজ করছে পুরোদমে। এই যে কৌশলী হত্যা, এর খতিয়ান কেউ নেয় না। প্রতি বছর বহু হাজার। আজ যাঁরা তথাকথিত বিনা চিকিৎসায় মানুষের মৃত্যুসংবাদ নিয়ে ব্যবসা বা ভোট বাড়ানোর খেলা খেলছেন, ওই সঠিক চিকিৎসাহীনতার মৃত্যু নিয়ে তাঁরা কেন নিশ্চুপ? পাঁচজনের দৃশ্যত বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর বিপরীতে কৌশলে, লক্ষ গরিবের পরিকাঠামোর অভাবে মৃত্যু, কোনটা দেশের জন্য প্রয়োজনীয়? প্রয়োজন তিন শতাংশের বেশি সহায়তা, জিডিপি’র বাজেটে জমে থাকা অব্যবস্থাকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়া। Break even অর্থনীতির অঙ্কে কেন সরকার সব ওষুধ তৈরির দায় নেবে না, ওষুধের দাম মানুষের ধরাছোঁয়ার মধ্যে রাখার জন্য? কেন আরও আরও সঠিক সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হবে না? আজও ভারতে সরকারি মেডিক্যাল কলেজে বছরে ১২ হাজার টাকা পড়ার খরচ; খাওয়া, থাকা, বইয়ের খরচ আলাদা। গড়ে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে খরচ ১-১.৫ কোটি টাকা শুধু পড়ার খরচ। তাই আয়ুষ্মান ভারতের নামে সব দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দিয়ে কী করে স্থায়ীভাবে গরিব নাগরিকের চিকিৎসা হতে পারে? তারপর ওই সামান্য টাকার অংশও শাসকদল ও আমলাদের দিয়ে তবে অনেক পরে ওই টাকা পাওয়া যাবে। ঠিক যেমন সাইকেল বা ঘরপিছু টাকা নেওয়ার লোক ঠিক সময়ে ঘরে পৌঁছে যায়। দেশের প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং কলেজ তৈরি না-হলে স্বাস্থ্যপরিষেবার বিকেন্দ্রীকরণ অসম্ভব। বিভিন্ন অতি সুদক্ষ চিকিৎসা কেন্দ্রের দামি যন্ত্রের কেনাতে সব আমলা ও শাসক দলের সংশ্লিষ্ট নেতারা উদগ্রীব হয়ে থাকেন, কারণ তার দামের ভাগের অংশ ঠিক জায়গায় পৌঁছে যায়, অথচ তারপর বছরের পর বছর সেই যন্ত্র খোলা হয় না, ব্যবহার হয় না। সামান্য খরাপ হলে চিরদিনের জন্য আর ব্যবহার হয় না। যে সামান্য টাকা দিয়ে বার্ষিক যন্ত্রের দেখাশোনার পদ্ধতি প্রস্তুতকারক সংস্থা ব্যবস্থা করে তার সুযোগও ইচ্ছে করে ব্যবহার করা হয় না, যাতে পরিষেবা দিতে না হয়। এর উদাহরণ এত বেশি যে এ ঘটনা না-ঘটাই ব্যতিক্রম।
এই পরিপ্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকদের অসহায়তা ও হতাশার কথা ভাবতে হবে। মেডিকেল কলেজের শুরু হয় শাসক দলের ছাত্র নেতা (অধিকাংশই ছাত্র হিসেবে কলেজের আবর্জনা) হুংকারের মাঝে। হস্টেলের ঘর পাওয়া, খাওয়ার ব্যবস্থা, পড়ার খুঁটিনাটি এরা নিয়ন্ত্রণ করে। এই নেতারা কেউ নির্বাচিত নয়। ১৯৮৬ থেকে ২০১০ পর্যন্ত ধরুন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে কোনও নির্বাচন হয়নি তৎকালীন শাসকদলের ছাত্র ফড়েরা ছাত্র সংসদ চালিয়েছে, ২০১২ থেকে একই ঘটনা নতুন শাসকদলের দালাল ও স্তাবক ছাত্রদের হাতে, শুধু পতাকার বদল। লাইব্রেরি, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে শিক্ষা, নিত্যনতুন শিক্ষাদানের পদ্ধতির প্রয়োগ কিছু নিয়েই এরা আন্দোলন করেন না, শুধুমাত্র বার্ষিক সংসদের উৎসব ও তার থেকে অর্থ আত্মসাৎ করার কাজ হল এদের একমাত্র লক্ষ্য। এমনকী পরীক্ষাও অনেকসময় নিরপেক্ষ হয় না। অভিযোগ, ৩৪ বছর এক শাসকদলের ও ৮ বছর নতুন শাসকদলের কোনও কোনও ছাত্র নেতাকে যেনতেন প্রকারে পাশ করিয়ে দেওয়া হয়, কখনও সিসিটিভি সরিয়ে কখনও প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দিয়ে। এই নীতির! পরিবেশে বেড়ে ওঠে ভবিষ্যতের সেবক চিকিৎসকরা। এরপর শুরু হয় জীবনের জুনিয়র ডাক্তার নামে ইন্টার্ন, হাউস স্টাফ ও পিজিটির জীবন। গড়ে ২০০-২৫০ রোগী, আক্রমণাত্মক, অচেতন, সঠিকভাবে নিজের সমস্যা বলতে অপারগ ও একরাশ অবিশ্বাস নিয়ে আসা যাদের ন্যূনতম সময়ে দেখতে হবে, রোগ নির্ণয় করতে হবে, চিকিৎসা দিতে হবে। এরা উচ্চ চিকিৎসা বা ভুল চিকিৎসা সংশোধনে সিঙ্গাপুর বা হংকং যেতে অপারগ।
এইসব অবস্থার মধ্যে এনআরএস-এ ৮৫ বছরের বৃদ্ধ হয়তো মৃতপ্রায় হয়ে এলেন, এসে মহাপ্রয়াণে গেলেন সন্ধ্যাবেলায়। দুঃখ আবেগ সব মিটে গেল। মধ্যরাতে হঠাৎ ২০০ জন সশস্ত্র মানুষ এল আবেগপ্রবণ (!) হয়ে। পুলিস তাদের যত্ন করে ঢুকতে দিল, পথ দেখাল। তারা মৃত রোগীর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত নন এমন কর্তব্যর চিকিৎসকদের আক্রমণ করল, একজনের খুলি ভেঙে ভেতরে ঢুকিয়ে সহর্ষে ফিরে গেল। প্রতিবাদের পরে তাদের মাত্র ৫ জনকে ধরা হল, ২০০ জনকে দেখা গেলেও ধরা হল না। এমনভাবে কথা বলা হল যে, তারা যেন দেশ বাঁচাতে কার্গিলে যুদ্ধ করতে এসেছিল। এর প্রতিবাদে সারা দেশ, সারা পৃথিবী একসূত্রে বাঁধা হয়ে গেল। ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি ছেড়ে পরিকাঠামোতে সঠিক টাকা দিতে হবে। রোগীদের জানাতে হবে আমাদের কী কী সীমাবদ্ধতা, গাফিলতি আছে, তারপর পরস্পরের সাহায্যে যতটা সম্ভব সঠিক পরিষেবা দিতে হবে। দেশের নীতি-নির্ধারক ও রাজনৈতিক দলের দেউলিয়াপনার ফলে বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যপরিষেবার ব্যাপারে স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং ২০০ জনকে হত্যার চেষ্টার আইন অনুসারে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে ভোট ব্যাঙ্কের বিপজ্জনক খেলা ভুলে। আশা রাখি পশ্চিমবঙ্গের এনআরএসে প্রতিবাদ সারা দেশের পরিকাঠামোর সমস্যা সবার সামনে আনার ও এর প্রতিকারে সব রাজনৈতিক দল একে যথাযথ গুরুত্ব দেবে।
 লেখক: ভারতীয় অন্ত্রশল্য চিকিৎসক সংস্থার সহ-সভাপতি
 
21st  June, 2019
সবচেয়ে ভালোর জন্য আশা করে সবচেয়ে খারাপের জন্য প্রস্তুতি
পি চিদম্বরম

আর একটি বছর শুরু হল, আর একটি বাজেট পেশের অপেক্ষা, এবং এটি ভারতীয় অর্থনীতির আর একটি গুরুতর বছর। ২০১৬-১৭ সাল থেকে প্রতিটি বছর আমাদের জন্য অনেক বিস্ময় এবং ব্যথা নিয়ে এসেছে। ২০১৬-১৭ গিয়েছে সর্বনাশা নোটবন্দির বছর। ত্রুটিপূর্ণ জিএসটি এবং সেটা তড়িঘড়ি রূপায়ণের বছর গিয়েছে ২০১৭-১৮।  বিশদ

সংবিধান ও গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হলে ভারতের আত্মাও বিপন্ন হতে বাধ্য
হিমাংশু সিংহ

১৫ আগস্ট যদি দেশের জন্মদিন হয়, তাহলে ২৬ জানুয়ারি হচ্ছে কোন মতাদর্শ ও আইন মেনে কীসের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে, তার লিখিত বয়ান চূড়ান্ত করার বর্ণাঢ্য উদযাপনের শুভ মুহূর্ত। নবজাতক শিশু স্কুলে ভর্তি হলে একটা নির্দিষ্ট নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে ধীরে ধীরে পরিণত হয়। 
বিশদ

১৬০০ কোটি টাকায় কী হতে পারে?
মৃণালকান্তি দাস

শুধুমাত্র অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া করতে গিয়েই সরকার খরচ করে ফেলেছে ১৬০০ কোটি টাকা! এত টাকা কীভাবে খরচ হল সেটা খতিয়ে দেখতে দাবি উঠেছে সিবিআই তদন্তের। শুধু তাই-ই নয়, এই এনআরসি করতে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, এই অভিযোগ তুলেছেন অসমের বিজেপি নেতা তথা অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেই দুর্নীতির কথা ধরা পড়েছে ক্যাগের প্রতিবেদনেও। এনআরসির মুখ্য সমন্বয়কারী প্রতীক হাজেলাকে মধ্যপ্রদেশে বদলি করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মুখ লুকোনোর জায়গা পাচ্ছে না বিজেপি।
বিশদ

25th  January, 2020
মুখ হয়ে ওঠার নিরন্তর প্রয়াস
তন্ময় মল্লিক

কথায় আছে, মুখ হচ্ছে মনের আয়না। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। তাই অনেকেরই ধারণা, সাফল্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই হল মুখ। রাজনীতিতেও সেই মুখের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে রাজনীতিতে সৌন্দর্য অপেক্ষা অধিকতর প্রাধান্য পেয়ে থাকে মুখের কথা, ভাষাও।  
বিশদ

25th  January, 2020
নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনার অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

 আজকাল একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে দুটি শব্দ খুব অপছন্দের। সেকুলার এবং ইন্টেলেকচুয়াল। ওই লোকটিকে আমার পছন্দ নয়, কারণ লোকটি সেকুলার। ওই মানুষটি আসলে সুবিধাবাদী এবং খারাপ, কারণ তিনি ইন্টেলেকচুয়াল। সমাজের এই অংশের উচ্চকিত তর্জন গর্জন হাসি ঠাট্টা কটাক্ষ শুনলে মনে হবে, সেকুলার হওয়া বোধহয় সাংঘাতিক অপরাধ। বিশদ

24th  January, 2020
বাজেটের কোনও অঙ্কই মিলছে না, আসন্ন বাজেটে বৃদ্ধিতে গতি ফিরবে কীভাবে?
দেবনারায়ণ সরকার

বস্তুত, বর্তমান অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির চিত্র যথেষ্ট বিবর্ণ। সমৃদ্ধির হার ক্রমশ কমে ৫ শতাংশে নামার ইঙ্গিত, যা ১১ বছরে সর্বনিম্ন। মুদ্রাস্ফীতি গত ৩ বছরে সর্বাধিক। শিল্পে সমৃদ্ধির হার ৮ বছরে সর্বনিম্ন। পরিকাঠামো শিল্পে বৃদ্ধির হার ১৪ বছরে সর্বনিম্ন। বিদ্যুতের চাহিদা ১২ বছরে সর্বনিম্ন। বেসরকারি লগ্নি ১৬ বছরে সর্বনিম্ন। চাহিদা কমায় বাজারে ব্যাঙ্ক লগ্নি কমেছে, যা গত ৫৮ বছরে সর্বনিম্ন। রপ্তানিও যথেষ্ট ধাক্কা খাওয়ার ইঙ্গিত বর্তমান বছরে। এর উপর ভারতে বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরে সর্বনিম্ন।
বিশদ

24th  January, 2020
ক্ষমা করো সুভাষ
জয়ন্ত চৌধুরী

মুক্তিপথের অগ্রদূত তিনি। অখণ্ড ভারত সাধনার নিভৃত পথিক সুভাষচন্দ্রের বৈপ্লবিক অভিঘাত বাধ্য করেছিল দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পটভূমি রচনা করতে। দেশি বিদেশি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের লেখনীতে আজাদ হিন্দের অসামান্য আত্মত্যাগ স্বীকৃত হয়েছে। সর্বাধিনায়কের হঠাৎ হারিয়ে যাবার বেদনা তাঁর জন্মদিনেই বড় বেশি স্পর্শ করে যায়।  
বিশদ

23rd  January, 2020
স্বামীজি, বিশ্বকবি ও নেতাজির খিচুড়ি-বিলাস
বিকাশ মুখোপাধ্যায়

মঙ্গলকাব্য থেকে কাহিনীটা এভাবে শুরু করা যেতে পারে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মা দুর্গা নন্দিকে তলব করেছেন, যাও ডাব পেড়ে নিয়ে এসো।
নন্দির তখনও গতরাতের গাঁজার খোঁয়ার ভাঙেনি। কোনওরকমে জড়ানো স্বরে বলল, ‘এত্তো সকালে মা?’  বিশদ

23rd  January, 2020
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

20th  January, 2020
মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

19th  January, 2020
একনজরে
সংবাদদাতা, বর্ধমান: টেস্ট ক্রিকেটের আকর্ষণ ফিরিয়ে আনার জন্য উদ্যোগ আইসিসিকেই নিতে হবে। তা চারদিনের হোক বা পাঁচদিনের টেস্ট হোক। মানুষ টেস্টে ফল দেখতে চায়। নিস্ফলা ড্র দেখতে মানুষ মাঠে আসবে না। ফলটাই হল আসল। সেই জন্য চারদিন হোক বা পাঁচদিনের ...

সংবাদদাতা, কাঁথি: এসপি১২৫, বিএস-VI এবং অ্যাকটিভা বিএস-VI নামে নতুন বাইক ও স্কুটির মডেল বাজারে নিয়ে এল হোন্ডা। ২৩ জানুয়ারি কাঁথি প্রভাত কুমার কলেজ ফুটবল গ্রাউন্ডে পিএমপি হোন্ডা ও প্রশান্ত হোন্ডার যৌথ উদ্যোগে ‘অ্যাডভান্সড ফেস্ট’ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এই দুটি মডেলের ...

 নয়াদিল্লি, ২৫ জানুয়ারি (পিটিআই): বিনিয়োগ, বাণিজ্য, তেল, গ্যাস, সাইবার সুরক্ষা এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ব্রাজিলের সঙ্গে ১৫টি চুক্তি করল ভারত। শনিবার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জায়ের মেসিয়াস বলসোনারোর ...

সংবাদদাতা, ইংলিশবাজার: সারা দেশের সঙ্গে আজ শনিবার মালদহ জেলায় পালিত হল জাতীয় ভোটার দিবস। নতুন ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করার জন্য ২৫ জানুয়ারি জাতীয় ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কোনও কিছুতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভাববেন। শত্রুতার অবসান হবে। গুরুজনদের কথা মানা দরকার। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সুফল ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

সাধারণতন্ত্র দিবস
১৮৪১: আনুষ্ঠানিকভাবে হংকং দখল করল ব্রিটিশরা
১৯৩০: পরাধীন ভারতে এই দিনটিকে ‘পূর্ণ স্বরাজ দিবস’ বা ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসাবে ঘোষণা করল জাতীয় কংগ্রেস
১৯৫০: লাগু হল ভারতের সংবিধান। রাষ্ট্রপতি পদে রাজেন্দ্র প্রসাদ দায়িত্ব গ্রহণ করে সূচনা করলেন গণতন্ত্রের।
১৯৫৪: রাজনীতিবিদ মানবেন্দ্রনাথ রায়ের মৃত্যু
১৯৬৫- হিন্দিকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিল কেন্দ্র
১৯৯২: পরমাণু অস্ত্রের মাধ্যমে আমেরিকার বিভিন্ন শহরকে নিশানা করা থেকে রাশিয়া বিরত হবে বলে জানালেন বরিস ইয়েলৎসেন
২০০১: গুজরাতের ভুজে বিধ্বংসী ভূমিকম্পে মৃত্যু হল প্রায় ২০ হাজার মানুষের
২০০৪: আফগানিস্তানের নয়া সংবিধানে স্বাক্ষর করলেন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৫১ টাকা ৭২.২১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৯৮ টাকা ৯৫.৩২ টাকা
ইউরো ৭৭.৩৮ টাকা ৮০.৩৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
25th  January, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৯৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৮৮৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,৪৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৭,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৭,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১১ মাঘ ১৪২৬, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার, (মাঘ শুক্লপক্ষ) দ্বিতীয়া ৫৯/৪৫ শেষ রাত্রি ৬/১৬। ধনিষ্ঠা অহোরাত্র। সূ উ ৬/২১/৫৩, অ ৫/১৬/১৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/৫ গতে ১০/০ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ গতে ৮/৪৬ মধ্যে। বারবেলা ১০/২৭ গতে ১/১০ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৭ গতে ৩/৬ মধ্যে। 
১১ মাঘ ১৪২৬, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার, দ্বিতীয়া ৫৬/১৭/৫২ শেষরাত্রি ৪/৫৬/৫। ধনিষ্ঠা ৫৮/৫৪/২৯ শেষরাত্রি ৫/৫৮/৪৪। সূ উ ৬/২৪/৫৬, অ ৫/১৪/৫৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/১ গতে ৯/৫৯ মধ্যে ও রাত্রি ৭/৮ গতে ৮/৫১ মধ্যে। কালবেলা ১১/৪৯/৫৬ গতে ১/১১/১১ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৮/৪১ গতে ৩/৭/২৬ মধ্যে।
৩০ জমাদিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
পদ্মভূষণ পাচ্ছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনহর পারিক্কর, ব্যবসায়ী আনন্দ মহিন্দ্রা ও ভেনু শ্রীনিবাসন, ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পিভি সিন্ধু, নাগাল্যান্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এস সি জমির এবং জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুজাফ্ফর হোসেন বেগ 

25-01-2020 - 09:18:00 PM

পদ্মবিভূষণ পাচ্ছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি, স্বরাজ, জর্জ ফার্ণান্ডেজ, বক্সার মেরি কম, মরিশাসের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অনিরুদ্ধ জগন্নাথ 

25-01-2020 - 09:13:00 PM

 পদ্মশ্রী পাচ্ছেন কঙ্গনা রানউত, একতা কাপুর, আদনান সামি এবং করণ জোহর

25-01-2020 - 09:07:04 PM

ম্যাচ চলাকালীন অশ্লীল ভাষা ব্যবহার, ম্যাচ ফি কাটা হল বেন স্টোকসের
জোহানেসবার্গ টেস্ট চলাকালীন অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের অপরাধে ইংল্যান্ডের খেলোয়ার বেন ...বিশদ

25-01-2020 - 08:05:00 PM

ম্যাচ চলাকালীন অশ্লীল ভাষা ব্যবহার, ম্যাচ ফি কাটা হল বেন স্টোকসের
আজ সিএএ, এনআরসি ইস্যু নিয়ে দলীয় বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ...বিশদ

25-01-2020 - 06:32:00 PM

আলিপুরদুয়ারে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ সহ গ্রেপ্তার ২ 

25-01-2020 - 03:32:34 PM