Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

বাদশাহ জালালউদ্দিন আকবর, মিয়াঁ তানসেনের গানে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে বললেন, আপনার মতো কলাকার হাজার বছরে একটিই জন্মায়, এরকম গান ভূভারতে আর কেউ গাইতেই পারে না বলে আমার বিশ্বাস। তানসেন সেটা শুনে বললেন, আলমপনা, আমার গুরুর স্বামী হরিদাস জীবিত থাকতে এমন কথা বলবেন না। তাঁর গানের পাশে আমার গান তো তুচ্ছ। আকবর বললেন, বটে! তাহলে তো তাঁর গান শুনতে হচ্ছে। অবিলম্বে তাঁকে জানাও আমি তাঁর গান শুনতে অতীব উৎসূক। দরবারে কবে তাঁর গান হবে একটা ইন্তেজাম করা হোক। তানসেন বললেন, জাঁহাপনা আপনি তো দীন দুনিয়ার মালিক। কিন্তু আপনার যিনি মালিক তাঁকে নিবেদন করেই আমার গুরু গান করেন। তিনি তো দরবারে আসবেন না। গান তো দূরের কথা। তাঁর গান শুনতে হলে তাঁর পর্ণকুটিরেই যেতে হবে। আকবর সেটা শুনে দ্বিরুক্তি না করে গিয়েছিলেন স্বামী হরিদাসের গান কুটিরের বাইরে দাঁড়িয়ে শুনতে। এরকম একটি মোগল পেন্টিংও আছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে আকবর আর তানসেন জোড়হস্তে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, আর স্বামী হরিদাস গান করছেন। আকবর নির্দেশ দিয়েছিলেন ওই গানের কথাগুলো বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে অন্য ভাষাতেও যেন শোনানোর ব্যবস্থা হয়। এই সংস্কৃতির আদানপ্রদানের সবথেকে বড় যে উদাহরণ পাওয়া যায় সেটি সঙ্গীতের দুনিয়ায়। প্রবাদপ্রতীম উচ্চাঙ্গসঙ্গীত শিল্পী ভাস্কর বুয়া কট্টর ব্রাহ্মণ সন্তান হয়েও উস্তাদের জন্য নিজে বাজার করে মাংস রান্না করে খাওয়াতেন। আবার খ্যাতনামা সঙ্গীতরচয়িতা কাবুলি পাঠান স্বপ্নে কৃষ্ণদর্শন পেয়েছিলেন। তারপর আফগানিস্তান থেকে মথুরায় এসে ‘রসখান’ নাম নিয়ে বহু ভজন রচনা করলেন।
ভারতের এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্সফোর্ডে বেড়াতে গিয়ে একবার নীরদ সি চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করে হিন্দুত্ব নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী হয়েছিলেন। নীরদ সি জানতে চেয়েছিলেন, মহাশয়ের কি সংস্কৃত ভাষা জানা আছে? সংস্কৃতে হিন্দুশাস্ত্রগুলো পাঠের অভ্যাস নিশ্চয়ই আছে? নেই শুনে, নীরদ সি বলেছিলেন, তাহলে অন্য আলোচনা হোক। অর্থাৎ যে ব্যক্তি সংস্কৃতই জানেন না, তাঁর সঙ্গে হিন্দুত্ব নিয়ে নীরদ সি কথা বলতে মোটেই উৎসাহী নন। অথচ নীরদ সি চৌধুরীকে সকলেই জানেন ইংরেজিপ্রিয় এক ভারতীয় ব্রিটিশ হিসেবেই। আদতে তিনি ছিলেন সংস্কৃতেও পারঙ্গম। ঠিক যেমন ছিলেন রামমোহন রায়, যেমন ছিলেন বিদ্যাসাগর। তাঁরা ইংরেজি ও সংস্কৃত দুটিতেই পটু ছিলেন।
অর্থাৎ ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ। আর ধর্মীয় সম্প্রদায়গত বিদ্বেষ। এই দুটি ক্রমবর্ধমান। কারণ অত্যন্ত স্পষ্ট। দ্রুতহারে শিক্ষা, সংস্কৃতির চর্চা ও অনুশীলন কমে যাচ্ছে। তাহলে সামাজিক জীবনের দৈনন্দিন কী নিয়ে আবর্তিত হবে? সেই জায়গাটা নিয়েছে রাজনীতি আর ধর্মীয় বিদ্বেষ। তাই নিরন্তর আলোচনা, চর্চা আর মোবাইলে আলাপচারিতায় সবথেকে বেশি জায়গা করে নেয় এই দুটি বিষয়। অন্য বিষয় নিয়ে অনেকক্ষণ ধরে সময় অতিবাহিত করা কিংবা আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সমস্যা হল অন্য বিষয়ে চর্চাই নেই। বই পড়া, গান শোনা, আন্তর্জাতিক ইস্যু, বিশ্ব রাজনীতি কিছুরই চর্চা নেই। তাই আজকাল দেখা হলে কিংবা কোনও হাই হ্যালো শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তৃতীয় বা চতুর্থ বাক্য হিসেবে উঠে আসে রাজনীতি এবং তারপর তার হাত ধরেই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ।
ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ঐতিহ্য থেকে যে সমাজ দূরে সরে যায়, তার অবক্ষয় ত্বরান্বিত হয়। মূল্যবোধ প্রায় থাকেই না। সেক্ষেত্রে দেখা যায় অপসংস্কৃতিই মূলস্রোতের সংস্কৃতিতে পরিণত হচ্ছে। এবং স্বল্পজ্ঞান অথবা অল্পবিদ্যা সত্যিকারের ভয়ঙ্করীতে পর্যবসিত হয়। তাই আগে যেসব আচরণের জন্য সমাজ লজ্জাবোধ করত, এখন সেই আচরণকেই বুক বাজিয়ে সিংহভাগ শ্রেণী জাস্টিফাই করে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে আজকাল প্রকাশ্যে পাবলিক প্লেসে কিংবা সোশ্যাল মিডিয়াতে গোটা দুনিয়া দেখছে জেনেও অনায়াসে অশালীন শব্দ খুব দম্ভের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়। রুচিহীন ব্যবহার, তুমুল উচ্চকিতভাবেই গালিগালাজ করা হয় প্রকাশ্যেই তর্কে জয়ী হতে কিংবা অত্যন্ত স্বাভাবিক আলাপচারিতায়। যেন ওটা একটা স্মার্টনেস। ঠিক একইভাবে নেতানেত্রীদের মুখেও অহরহ শোনা যায় এরকমই অশালীন, রুচিহীন শব্দের প্রকাশ। কেন? কারণ একটি সমাজে ক্রমেই ঠিক সেরকম রাজনীতিই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, সেই সমাজটি আসলে যেমন। তাই এই যে কথায় কথায় যে কোনও অপসংস্কৃতি, অবক্ষয় কিংবা হিংসা আবহের জন্য কখনও সরকার,কখনও দল, কখনও পুলিস, কখনও নেতামন্ত্রীদের দোষ দেওয়া হয়, সেসবই হল নিজেদের আড়াল করার প্রয়াস। আসলে সমাজের সিংহভাগ ভিতরে ভিতরে ওরকমই হয়ে গিয়েছে। আর তাই এই নেতানেত্রীরা কিংবা এই রাজনীতি একটা বড় অংশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। আমরা নিজেরা চরম অসহিষ্ণু। কিন্তু সেই একই অসহিষ্ণুতার ছাপ নেতানেত্রীর মধ্যে দেখলে গর্জে উঠি। বুঝি না, আমাদের মনের ছাপটাই আসলে রাজনীতিতে পড়েছে।
আমাদের রাজ্যে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ এতটাই ভাবনার রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে যে, প্রতিটি হিংসাত্মক ঘটনায় দুটি জিনিস আগে সকলে সন্ধান করে। কোন দল ও কোন ধর্মের মানুষ আক্রমণকারী কিংবা আক্রান্ত। সন্দেশখালি, ক্যানিং, কোচবিহার, ডায়মন্ডহারবার যেখানেই রাজনৈতিক সংঘর্ষ হোক, প্রতিটি ঘটনাকে আজকাল সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার প্রবল চেষ্টা চলে। রাজনৈতিক দলগুলিও সম্প্রদায়গতভাবেই রাজনীতির ফায়দা তোলার চেষ্টা করে বলাই বাহুল্য। রাজনৈতিক বিদ্বেষ কেমন? অপছন্দের নেতানেত্রীকে যেকোনও ঘটনার জন্যই দায়ী করার প্রবণতা। ধর্ষণ হয়েছে? উনি দায়ী। দুর্ঘটনা হয়েছে? উনি দায়ী। সন্ত্রাস হয়েছে? উনি দায়ী। ডাক্তার, উকিল, সরকারি কর্মী, শিক্ষকদের আন্দোলন চলছে? উনি দায়ী। চাকরি নেই? উনি দায়ী। চাকরি চলে গেল? উনি দায়ী। গণপিটুনি? উনি দায়ী। আর একইভাবে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের প্রবণতাটিই এরকমই। যে কোনও ঘটনা, দুর্ঘটনা, অপরাধ হলে তো বটেই, সবথেকে বিপজ্জনক হল কোনও ঘটনা না ঘটলেও সাম্প্রদায়িক প্ররোচনা ছড়ানোর জন্য উস্কানিমূলক মিথ্যা গুজব ছড়ানো হয়। এবং কোনও এক সম্প্রদায়কে দাগিয়ে দেওয়া হয়।
এই যে বিদ্বেষের বীজ এবং সেটা যাতে অন্যদের মধ্যেও আরও বেশি করে ছড়িয়ে পড়ে সেটা মনেপ্রাণে চাওয়া, এর শেষতম লক্ষ্যটি কি? ধরা যাক বিদ্বেষের কারণে লাগাতার দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করা হয়। নানাবিধ সত্যি, অর্ধসত্য, মিথ্যা মিশিয়ে। এভাবে কখনও বসিরহাট, কখনও ভাটপাড়া, কখনও ডায়মন্ডহারবারে বিচ্ছিন্নভাবে এলাকাগতভাবে মাঝেমধ্যেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়। আবার এরকম অনেক দাঙ্গার খবর ছড়ানো হয় যার কোনও সোর্স নেই। একমাত্র সোর্স হোয়াটস অ্যাপ আর ফেসবুকে ফরওয়ার্ড করা মেসেজ। লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিগত বেশ কয়েকবছর ধরে এভাবে সারাক্ষণ পশ্চিমবঙ্গ নানাভাবে অশান্ত হয়েই থাকছে। রাজনৈতিক সংঘর্ষ দিকে দিকে। দাঙ্গা। মিছিল। মিছিলে মিছিলে সংঘাত। যে কোনও একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দেখা যাচ্ছে তুলকালাম হচ্ছে। এভাবেই একদিন এরকম ছোট ছোট লিটমাস টেস্টের পর যদি বিদ্বেষের সম্প্রসারণের ফলে গোটা রাজ্যেই দাঙ্গা শুরু হয়? গৃহযুদ্ধ। গোটা রাজ্যে যদি আগুন জ্বলে তখন প্রত্যেকটি মানুষের ঘরেই সেই আগুন ঢুকে যাবে। যে সম্প্রদায়ের মানুষই হোক প্রত্যেকের স্থান হবে শুধুমাত্র নিজের ঘরে আতঙ্কে বসে থাকা। অথবা ঘর থেকে পালিয়ে গিয়ে কিংবা বাস্তচ্যূত হয়ে কোনও এক সরকারি আশ্রয় শিবির। কিংবা মন্দির কিংবা মসজিদে আশ্রয়। এসব বেদনাময় ভয়ঙ্কর চিত্র অতীতে বহুবার ভারত ও বাংলা দেখেছে। তাই ছবির মতো বিবরণ দেওয়া যায় যে দাঙ্গা হলে কী হতে পারে। চাকরি, ব্যবসা, জীবিকা, ছেলেমেয়ের স্কুল কলেজ সব বন্ধ হয়ে যাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য। দাঙ্গাকারী সর্বদাই হয় সুবিধাবাদী কিছু অপরাধী আর লুম্পেনরা। স্রেফ টাকা পয়সা লুণ্ঠন, মহিলাদের ওপর অত্যাচার আর নির্বিচারে হত্যা। এটাই যে কোনও দাঙ্গার শেষ কথা। দাঙ্গা করে কাউকে টাইট দেওয়া যায়নি আজ পর্যন্ত। কারণ দাঙ্গা মানেই হল সব পক্ষের মানুষের মৃত্যু আর সম্পত্তিহানি। আর সবথেকে বড় কথা শান্তিপূর্ণ এক সুস্থ জীবনযাপন ধ্বংস হয়ে যাওয়া। তাই আমাদের এখন ভাবতে হবে হঠাৎ করে চারদিকে এরকম মাত্রাহীন অশান্তি কেন? কেন গোটা দেশের তাবৎ ন্যাশনাল মিডিয়ায় আমাদের রাজ্যকে লাগাতার হিংসাশ্রয়ী, আইনশৃঙ্খলা না থাকা একটা রাজ্য হিসেবে প্রতিভাত করা হচ্ছে? এরকম কেনই বা ঘটছে অবিরত?
আমাদের সচেতনতার অভাব আর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিদ্বেষকে কাজে লাগিয়ে আমাদের শর্তহীনভাবে অলক্ষ্যে ভাড়া করে নেয় রাজনৈতিক দল। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক দলের হয়ে বিনা পয়সার আর্মি হিসেবে কাজ করি। আমাদের পছন্দের দলের হয়ে তাদের অ্যাজেণ্ডা প্রচার করি, শেয়ার করি, ফেক নিউজ ফরওয়ার্ড করি। লাভ হয় রাজনীতির। এ রাজ্যকে আইনশৃঙ্খলাহীন প্রমাণ করে আমাদের ব্যক্তিগত লাভ কী হবে? বরং আমাদের উচিত সর্বদাই চেষ্টা করা যাতে আইনশৃঙ্খলার অযথা সন্দেহজনকভাবে অবনতি না হয়। লক্ষ্য রাখতে হয়। নজরদারি করতে হয়। নিজেদের স্বার্থে। কারণ এ হল আমাদের জন্মভূমি। রাজনীতি, সরকার, শাসক, বিরোধীদের ভবিষ্যৎ ভোটের হাতে ছেড়ে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত। আজ নয় কাল তো বিধানসভার ভোট হবেই। তখনই দেখা যাবে মানুষ কাকে ভোট দেয়। যাকে অপছন্দ তাকে হারিয়ে দেবে মানুষ। গণতন্ত্রের এটাই নিয়ম। তার আগে এই যে নিরন্তর অবিরত অস্থিরতা, অরাজকতা আর নৈরাজ্য চলছে এটায় নিশ্চিতভাবে রাজনৈতিক দলগুলির লাভক্ষতি হতে পারে। আমাদের কিন্তু বিন্দুমাত্র লাভ নেই। কারণ আমি যে দলেরই হই ট্রেন অবরোধের সময় আমিও আটকে যাই। ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে আমারও কাজের ক্ষতি হয়। দাঙ্গা হলে যে অটোয় আগুন লাগানো হবে সেই অটোতে আমার ছেলেমেয়েও থাকতে পারে। তাই অনেক বোকা হয়েছি। এবার না হয় একটু স্বার্থপর হয়ে নিজের স্বার্থ দেখি। সবার আগে নিজেরা নিশ্চিত করি যাতে আমাদের এইসব পারস্পরিক ঘৃণা আর বিদ্বেষের সুযোগে অন্য কেউ আগুন না জ্বালায়। মনে রাখতে হবে ’৭৬-এর মন্বন্তরে বাংলাকেই ভুগতে হয়েছে, ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ বাংলাতেই হয়েছে। দেশভাগে ক্ষতবিক্ষত হয়েছি আমরাই। গুজরাত, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ কিংবা দক্ষিণ ভারতের গায়ে এসবের একটুও আঁচ লাগেনি। শুধু বারংবার জখম হয়েছে এই বাঙালি জাতি। দাঙ্গায় বারংবার ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছে এই বাংলাই। কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক বঞ্চনার লাগাতার শিকার বরাবর বাংলা। সুতরাং আবার বাংলা অশান্ত হবে, আর বাকি ভারত মজা দেখবে এটা কি কাম্য? সমাজের প্রতি অবশ্যই উদাসীন থাকবো না আমরা। সচেতন নাগরিক থাকবো। সরকারের সবরকম অনাচার, অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ করাই উচিত। আবার বিরোধীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আন্দোলনেরও নিন্দা করা উচিত। সবই করা দরকার নাগরিক হিসেবে। শুধু সতর্ক থাকতে হয় যে আমাদের কেউ ইউজ করছে না তো? যে দলই হোক তারা নিজেদের ফায়দার জন্য আমাদের কাজে লাগাচ্ছে না তো? আমাদের সারাদিন উত্তেজিত রাখতে মাঝেমধ্যেই কিছু না কিছু ঘটনার মাধ্যমে শুধুই উস্কানি দেওয়া হচ্ছে না তো! ঠিক যেমন ইলেকট্রনিকস গ্যাজেটস, মোবাইলে মাঝেমধ্যেই রিচার্জ করা হয়! আমরা আসলে কিছু অচেনা মানুষের কাছে সেরকমই নিছক দম দেওয়া যন্ত্র নই তো?
14th  June, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
বিজেপির অহঙ্কারের পতন
হিমাংশু সিংহ

সবকিছুর একটা সীমা আছে। সেই সীমা অতিক্রম করলে অহঙ্কার আর দম্ভের পতন অনিবার্য। সভ্যতার ইতিহাস বারবার এই শিক্ষাই দিয়ে এসেছে। আজও দিচ্ছে। তবু ক্ষমতার চূড়ায় বসে অধিকাংশ শাসক ও তার সাঙ্গপাঙ্গ এই আপ্তবাক্যটা প্রায়শই ভুলে যায়।  বিশদ

01st  December, 2019
উপনির্বাচনের ফল ও বঙ্গ রাজনীতির অভিমুখ
তন্ময় মল্লিক

জনতা জনার্দন। ফের প্রমাণ হয়ে গেল। মাত্র মাস ছয়েক আগে লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসন দখল করে গেরুয়া শিবির মনে করেছিল, গোটা রাজ্যটাকেই তারা দখল করে নিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায় শুধু সময়ের অপেক্ষা। সেই বঙ্গেই তিন বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে একেবারে উল্টো হওয়া বইয়ে দিল মানুষ।
বিশদ

30th  November, 2019
ওভার কনফিডেন্স
সমৃদ্ধ দত্ত

নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের সব থেকে প্রিয় হবি হল পরিবর্তন। তাঁরা স্থিতাবস্থায় বিশ্বাস করেন না। তাঁরা বদলের বন্দনাকারী। পরিবর্তন কি খারাপ জিনিস? মোটেই নয়। বরং পরিবর্তনই তো সভ্যতার স্থাণু হয়ে না থেকে এগিয়ে চলার প্রতীক।   বিশদ

29th  November, 2019
একনজরে
 দোহা, ৭ ডিসেম্বর (এএফপি): আফগানিস্তানে শান্তি ফেরাতে তালিবানদের সঙ্গে ফের আলোচনা শুরু করল আমেরিকা। শনিবার, কাতারে দু’পক্ষের মধ্যে এক দফা আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। মাস তিনেক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাত্ করেই তালিবানদের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করে দিয়েছিলেন। ...

 বিএনএ, চুঁচুড়া: পুরসভার ওয়ার্ডের কাজের জন্যে বরাদ্দ হয়েছিল ২৮ জন শ্রমিক। কিন্তু, বাস্তবে অনুসন্ধান করে পাওয়া গেল ৪ জন! খোদ পুরসভার চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এই পরিস্থিতি ...

 উন্নাও ও নয়াদিল্লি, ৭ ডিসেম্বর (পিটিআই): শুক্রবার রাতে দিল্লির হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে উন্নাওয়ের নির্যাতিতার। শনিবার উন্নাওয়ে নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। উত্তরপ্রদেশে একের পর এক বর্বরোচিত ঘটনার প্রেক্ষিতে তোপ দাগলেন রাজ্যের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। ...

সংবাদদাতা, লালবাগ: লালগোলা ব্লকের বিলবোরা কোপরা গ্রাম পঞ্চায়েতের চিন্তামণি এবং বয়রা গ্রামে পদ্মা নদীর পাড় মেরামতির কাজ শুরুর আগে শনিবার সকালে নারকেল ফাটিয়ে পুজো দিলেন রাজ্যের শ্রম দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা জঙ্গিপুরের তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেন।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

শরীর-স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন। কর্মক্ষেত্রে উন্নতির সম্ভাবনা। গুপ্ত শত্রুতার মোকাবিলায় সতর্কতা প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষায় বিলম্বিত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩৫- অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর জন্ম
১৯৭১- ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় করাচি বন্দরে হানা দিল ভারতীয় নৌবাহিনী
১৯৭৪- গণভোটের মাধ্যমে গ্রিসে রাজতন্ত্রের অবসান
১৯৮০- নিউইয়র্কে এক মানসিক প্রতিবন্ধী ভক্তের হাতে খুন হলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ পপ গায়ক জন লেনন
১৯৯১- রাশিয়া, বেলারুশ এবং ইউক্রেনের রাষ্ট্রনেতারা সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে দেওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেন এবং স্বাধীন রাষ্ট্রগুলিকে নিয়ে কমনওয়েলথ গঠন করলেন
২০০৯- বাগদাদে বোমা হামলায় নিহত ১২৭ এবং আহত ৪৪৮ জন





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪৯ টাকা ৭২.১৯ টাকা
পাউন্ড ৯২.২০ টাকা ৯৫.৫৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৭৫ টাকা ৮০.৭৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
07th  December, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮, ৩৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ৪২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৯৬৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩, ৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩, ৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার, একাদশী ৫/৫৩ দিবা ৮/৩০। অশ্বিনী ৫৩/২৫ রাত্রি ৩/৩০। সূ উ ৬/৮/১৩, অ ৪/৪৮/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫১ গতে ৮/৫৮ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৯ মধ্যে পুনঃ ২/৪০ গতে ২/৪০ মধ্যে। রাত্রি ৭/২৮ গতে ৯/১৫ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ১/৪২ মধ্যে পুনঃ ২/৩৫ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ১০/৮ গতে ১২/৪৮ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৮ গতে ২/৪৮ মধ্যে।
২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার, একাদশী ৩/১৫/৫২ দিবা ৭/২৭/৫৯। অশ্বিনী ৫৩/১০/৩০ রাত্রি ৩/২৫/৫০, সূ উ ৬/৯/৩৮, অ ৪/৪৮/৪৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/১ গতে ৯/৮ মধ্যে ও ১১/৫৬ গতে ২/৪৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩৩ গতে ৯/২১ মধ্যে ও ১২/২ গতে ১/৫০ মধ্যে ও ২/৪৮ গতে ৬/১০ মধ্যে, কালবেলা ১১/২৯/১৪ গতে ১২/৪৯/৮ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৯/২০ গতে ২/৪৯/২৭ মধ্যে।
১০ রবিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
উঃ দিনাজপুরের গোয়ালপোখরে কৌটো বোমা ফেটে জখম ২ 
উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর এলাকার মান্নাবস্তিতে কৌটো বোমা ফেটে জখম হলেন ...বিশদ

02:31:00 PM

অগ্নিকাণ্ডে জখমদের দেখতে হাসপাতালে গেলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল 

02:26:41 PM

ইটাহারে আদিবাসী বৃদ্ধার জমি দখলের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে 
ইটাহারের গ্রামে এক আদিবাসী বৃদ্ধার জমি দখলের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের ...বিশদ

02:10:00 PM

উলুবেড়িয়ায় কারখানা থেকে দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস হওয়ায় অসুস্থ এলাকাবাসীরা, ক্ষোভ 
তেলের কারখানা থেকে দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস বের হওয়ার প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ ...বিশদ

02:09:22 PM

ভদোদরায় নাবালিকা ধর্ষণকাণ্ডে ২জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিস 

01:28:41 PM

অসমের ডিব্রুগড়ে লাইনচ্যুত মালগাড়ির ৭টি কামরা

12:03:49 PM