Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

বাদশাহ জালালউদ্দিন আকবর, মিয়াঁ তানসেনের গানে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে বললেন, আপনার মতো কলাকার হাজার বছরে একটিই জন্মায়, এরকম গান ভূভারতে আর কেউ গাইতেই পারে না বলে আমার বিশ্বাস। তানসেন সেটা শুনে বললেন, আলমপনা, আমার গুরুর স্বামী হরিদাস জীবিত থাকতে এমন কথা বলবেন না। তাঁর গানের পাশে আমার গান তো তুচ্ছ। আকবর বললেন, বটে! তাহলে তো তাঁর গান শুনতে হচ্ছে। অবিলম্বে তাঁকে জানাও আমি তাঁর গান শুনতে অতীব উৎসূক। দরবারে কবে তাঁর গান হবে একটা ইন্তেজাম করা হোক। তানসেন বললেন, জাঁহাপনা আপনি তো দীন দুনিয়ার মালিক। কিন্তু আপনার যিনি মালিক তাঁকে নিবেদন করেই আমার গুরু গান করেন। তিনি তো দরবারে আসবেন না। গান তো দূরের কথা। তাঁর গান শুনতে হলে তাঁর পর্ণকুটিরেই যেতে হবে। আকবর সেটা শুনে দ্বিরুক্তি না করে গিয়েছিলেন স্বামী হরিদাসের গান কুটিরের বাইরে দাঁড়িয়ে শুনতে। এরকম একটি মোগল পেন্টিংও আছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে আকবর আর তানসেন জোড়হস্তে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, আর স্বামী হরিদাস গান করছেন। আকবর নির্দেশ দিয়েছিলেন ওই গানের কথাগুলো বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে অন্য ভাষাতেও যেন শোনানোর ব্যবস্থা হয়। এই সংস্কৃতির আদানপ্রদানের সবথেকে বড় যে উদাহরণ পাওয়া যায় সেটি সঙ্গীতের দুনিয়ায়। প্রবাদপ্রতীম উচ্চাঙ্গসঙ্গীত শিল্পী ভাস্কর বুয়া কট্টর ব্রাহ্মণ সন্তান হয়েও উস্তাদের জন্য নিজে বাজার করে মাংস রান্না করে খাওয়াতেন। আবার খ্যাতনামা সঙ্গীতরচয়িতা কাবুলি পাঠান স্বপ্নে কৃষ্ণদর্শন পেয়েছিলেন। তারপর আফগানিস্তান থেকে মথুরায় এসে ‘রসখান’ নাম নিয়ে বহু ভজন রচনা করলেন।
ভারতের এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্সফোর্ডে বেড়াতে গিয়ে একবার নীরদ সি চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করে হিন্দুত্ব নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী হয়েছিলেন। নীরদ সি জানতে চেয়েছিলেন, মহাশয়ের কি সংস্কৃত ভাষা জানা আছে? সংস্কৃতে হিন্দুশাস্ত্রগুলো পাঠের অভ্যাস নিশ্চয়ই আছে? নেই শুনে, নীরদ সি বলেছিলেন, তাহলে অন্য আলোচনা হোক। অর্থাৎ যে ব্যক্তি সংস্কৃতই জানেন না, তাঁর সঙ্গে হিন্দুত্ব নিয়ে নীরদ সি কথা বলতে মোটেই উৎসাহী নন। অথচ নীরদ সি চৌধুরীকে সকলেই জানেন ইংরেজিপ্রিয় এক ভারতীয় ব্রিটিশ হিসেবেই। আদতে তিনি ছিলেন সংস্কৃতেও পারঙ্গম। ঠিক যেমন ছিলেন রামমোহন রায়, যেমন ছিলেন বিদ্যাসাগর। তাঁরা ইংরেজি ও সংস্কৃত দুটিতেই পটু ছিলেন।
অর্থাৎ ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ। আর ধর্মীয় সম্প্রদায়গত বিদ্বেষ। এই দুটি ক্রমবর্ধমান। কারণ অত্যন্ত স্পষ্ট। দ্রুতহারে শিক্ষা, সংস্কৃতির চর্চা ও অনুশীলন কমে যাচ্ছে। তাহলে সামাজিক জীবনের দৈনন্দিন কী নিয়ে আবর্তিত হবে? সেই জায়গাটা নিয়েছে রাজনীতি আর ধর্মীয় বিদ্বেষ। তাই নিরন্তর আলোচনা, চর্চা আর মোবাইলে আলাপচারিতায় সবথেকে বেশি জায়গা করে নেয় এই দুটি বিষয়। অন্য বিষয় নিয়ে অনেকক্ষণ ধরে সময় অতিবাহিত করা কিংবা আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সমস্যা হল অন্য বিষয়ে চর্চাই নেই। বই পড়া, গান শোনা, আন্তর্জাতিক ইস্যু, বিশ্ব রাজনীতি কিছুরই চর্চা নেই। তাই আজকাল দেখা হলে কিংবা কোনও হাই হ্যালো শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তৃতীয় বা চতুর্থ বাক্য হিসেবে উঠে আসে রাজনীতি এবং তারপর তার হাত ধরেই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ।
ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ঐতিহ্য থেকে যে সমাজ দূরে সরে যায়, তার অবক্ষয় ত্বরান্বিত হয়। মূল্যবোধ প্রায় থাকেই না। সেক্ষেত্রে দেখা যায় অপসংস্কৃতিই মূলস্রোতের সংস্কৃতিতে পরিণত হচ্ছে। এবং স্বল্পজ্ঞান অথবা অল্পবিদ্যা সত্যিকারের ভয়ঙ্করীতে পর্যবসিত হয়। তাই আগে যেসব আচরণের জন্য সমাজ লজ্জাবোধ করত, এখন সেই আচরণকেই বুক বাজিয়ে সিংহভাগ শ্রেণী জাস্টিফাই করে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে আজকাল প্রকাশ্যে পাবলিক প্লেসে কিংবা সোশ্যাল মিডিয়াতে গোটা দুনিয়া দেখছে জেনেও অনায়াসে অশালীন শব্দ খুব দম্ভের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়। রুচিহীন ব্যবহার, তুমুল উচ্চকিতভাবেই গালিগালাজ করা হয় প্রকাশ্যেই তর্কে জয়ী হতে কিংবা অত্যন্ত স্বাভাবিক আলাপচারিতায়। যেন ওটা একটা স্মার্টনেস। ঠিক একইভাবে নেতানেত্রীদের মুখেও অহরহ শোনা যায় এরকমই অশালীন, রুচিহীন শব্দের প্রকাশ। কেন? কারণ একটি সমাজে ক্রমেই ঠিক সেরকম রাজনীতিই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, সেই সমাজটি আসলে যেমন। তাই এই যে কথায় কথায় যে কোনও অপসংস্কৃতি, অবক্ষয় কিংবা হিংসা আবহের জন্য কখনও সরকার,কখনও দল, কখনও পুলিস, কখনও নেতামন্ত্রীদের দোষ দেওয়া হয়, সেসবই হল নিজেদের আড়াল করার প্রয়াস। আসলে সমাজের সিংহভাগ ভিতরে ভিতরে ওরকমই হয়ে গিয়েছে। আর তাই এই নেতানেত্রীরা কিংবা এই রাজনীতি একটা বড় অংশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। আমরা নিজেরা চরম অসহিষ্ণু। কিন্তু সেই একই অসহিষ্ণুতার ছাপ নেতানেত্রীর মধ্যে দেখলে গর্জে উঠি। বুঝি না, আমাদের মনের ছাপটাই আসলে রাজনীতিতে পড়েছে।
আমাদের রাজ্যে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ এতটাই ভাবনার রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে যে, প্রতিটি হিংসাত্মক ঘটনায় দুটি জিনিস আগে সকলে সন্ধান করে। কোন দল ও কোন ধর্মের মানুষ আক্রমণকারী কিংবা আক্রান্ত। সন্দেশখালি, ক্যানিং, কোচবিহার, ডায়মন্ডহারবার যেখানেই রাজনৈতিক সংঘর্ষ হোক, প্রতিটি ঘটনাকে আজকাল সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার প্রবল চেষ্টা চলে। রাজনৈতিক দলগুলিও সম্প্রদায়গতভাবেই রাজনীতির ফায়দা তোলার চেষ্টা করে বলাই বাহুল্য। রাজনৈতিক বিদ্বেষ কেমন? অপছন্দের নেতানেত্রীকে যেকোনও ঘটনার জন্যই দায়ী করার প্রবণতা। ধর্ষণ হয়েছে? উনি দায়ী। দুর্ঘটনা হয়েছে? উনি দায়ী। সন্ত্রাস হয়েছে? উনি দায়ী। ডাক্তার, উকিল, সরকারি কর্মী, শিক্ষকদের আন্দোলন চলছে? উনি দায়ী। চাকরি নেই? উনি দায়ী। চাকরি চলে গেল? উনি দায়ী। গণপিটুনি? উনি দায়ী। আর একইভাবে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের প্রবণতাটিই এরকমই। যে কোনও ঘটনা, দুর্ঘটনা, অপরাধ হলে তো বটেই, সবথেকে বিপজ্জনক হল কোনও ঘটনা না ঘটলেও সাম্প্রদায়িক প্ররোচনা ছড়ানোর জন্য উস্কানিমূলক মিথ্যা গুজব ছড়ানো হয়। এবং কোনও এক সম্প্রদায়কে দাগিয়ে দেওয়া হয়।
এই যে বিদ্বেষের বীজ এবং সেটা যাতে অন্যদের মধ্যেও আরও বেশি করে ছড়িয়ে পড়ে সেটা মনেপ্রাণে চাওয়া, এর শেষতম লক্ষ্যটি কি? ধরা যাক বিদ্বেষের কারণে লাগাতার দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করা হয়। নানাবিধ সত্যি, অর্ধসত্য, মিথ্যা মিশিয়ে। এভাবে কখনও বসিরহাট, কখনও ভাটপাড়া, কখনও ডায়মন্ডহারবারে বিচ্ছিন্নভাবে এলাকাগতভাবে মাঝেমধ্যেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়। আবার এরকম অনেক দাঙ্গার খবর ছড়ানো হয় যার কোনও সোর্স নেই। একমাত্র সোর্স হোয়াটস অ্যাপ আর ফেসবুকে ফরওয়ার্ড করা মেসেজ। লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিগত বেশ কয়েকবছর ধরে এভাবে সারাক্ষণ পশ্চিমবঙ্গ নানাভাবে অশান্ত হয়েই থাকছে। রাজনৈতিক সংঘর্ষ দিকে দিকে। দাঙ্গা। মিছিল। মিছিলে মিছিলে সংঘাত। যে কোনও একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দেখা যাচ্ছে তুলকালাম হচ্ছে। এভাবেই একদিন এরকম ছোট ছোট লিটমাস টেস্টের পর যদি বিদ্বেষের সম্প্রসারণের ফলে গোটা রাজ্যেই দাঙ্গা শুরু হয়? গৃহযুদ্ধ। গোটা রাজ্যে যদি আগুন জ্বলে তখন প্রত্যেকটি মানুষের ঘরেই সেই আগুন ঢুকে যাবে। যে সম্প্রদায়ের মানুষই হোক প্রত্যেকের স্থান হবে শুধুমাত্র নিজের ঘরে আতঙ্কে বসে থাকা। অথবা ঘর থেকে পালিয়ে গিয়ে কিংবা বাস্তচ্যূত হয়ে কোনও এক সরকারি আশ্রয় শিবির। কিংবা মন্দির কিংবা মসজিদে আশ্রয়। এসব বেদনাময় ভয়ঙ্কর চিত্র অতীতে বহুবার ভারত ও বাংলা দেখেছে। তাই ছবির মতো বিবরণ দেওয়া যায় যে দাঙ্গা হলে কী হতে পারে। চাকরি, ব্যবসা, জীবিকা, ছেলেমেয়ের স্কুল কলেজ সব বন্ধ হয়ে যাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য। দাঙ্গাকারী সর্বদাই হয় সুবিধাবাদী কিছু অপরাধী আর লুম্পেনরা। স্রেফ টাকা পয়সা লুণ্ঠন, মহিলাদের ওপর অত্যাচার আর নির্বিচারে হত্যা। এটাই যে কোনও দাঙ্গার শেষ কথা। দাঙ্গা করে কাউকে টাইট দেওয়া যায়নি আজ পর্যন্ত। কারণ দাঙ্গা মানেই হল সব পক্ষের মানুষের মৃত্যু আর সম্পত্তিহানি। আর সবথেকে বড় কথা শান্তিপূর্ণ এক সুস্থ জীবনযাপন ধ্বংস হয়ে যাওয়া। তাই আমাদের এখন ভাবতে হবে হঠাৎ করে চারদিকে এরকম মাত্রাহীন অশান্তি কেন? কেন গোটা দেশের তাবৎ ন্যাশনাল মিডিয়ায় আমাদের রাজ্যকে লাগাতার হিংসাশ্রয়ী, আইনশৃঙ্খলা না থাকা একটা রাজ্য হিসেবে প্রতিভাত করা হচ্ছে? এরকম কেনই বা ঘটছে অবিরত?
আমাদের সচেতনতার অভাব আর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিদ্বেষকে কাজে লাগিয়ে আমাদের শর্তহীনভাবে অলক্ষ্যে ভাড়া করে নেয় রাজনৈতিক দল। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক দলের হয়ে বিনা পয়সার আর্মি হিসেবে কাজ করি। আমাদের পছন্দের দলের হয়ে তাদের অ্যাজেণ্ডা প্রচার করি, শেয়ার করি, ফেক নিউজ ফরওয়ার্ড করি। লাভ হয় রাজনীতির। এ রাজ্যকে আইনশৃঙ্খলাহীন প্রমাণ করে আমাদের ব্যক্তিগত লাভ কী হবে? বরং আমাদের উচিত সর্বদাই চেষ্টা করা যাতে আইনশৃঙ্খলার অযথা সন্দেহজনকভাবে অবনতি না হয়। লক্ষ্য রাখতে হয়। নজরদারি করতে হয়। নিজেদের স্বার্থে। কারণ এ হল আমাদের জন্মভূমি। রাজনীতি, সরকার, শাসক, বিরোধীদের ভবিষ্যৎ ভোটের হাতে ছেড়ে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত। আজ নয় কাল তো বিধানসভার ভোট হবেই। তখনই দেখা যাবে মানুষ কাকে ভোট দেয়। যাকে অপছন্দ তাকে হারিয়ে দেবে মানুষ। গণতন্ত্রের এটাই নিয়ম। তার আগে এই যে নিরন্তর অবিরত অস্থিরতা, অরাজকতা আর নৈরাজ্য চলছে এটায় নিশ্চিতভাবে রাজনৈতিক দলগুলির লাভক্ষতি হতে পারে। আমাদের কিন্তু বিন্দুমাত্র লাভ নেই। কারণ আমি যে দলেরই হই ট্রেন অবরোধের সময় আমিও আটকে যাই। ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে আমারও কাজের ক্ষতি হয়। দাঙ্গা হলে যে অটোয় আগুন লাগানো হবে সেই অটোতে আমার ছেলেমেয়েও থাকতে পারে। তাই অনেক বোকা হয়েছি। এবার না হয় একটু স্বার্থপর হয়ে নিজের স্বার্থ দেখি। সবার আগে নিজেরা নিশ্চিত করি যাতে আমাদের এইসব পারস্পরিক ঘৃণা আর বিদ্বেষের সুযোগে অন্য কেউ আগুন না জ্বালায়। মনে রাখতে হবে ’৭৬-এর মন্বন্তরে বাংলাকেই ভুগতে হয়েছে, ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ বাংলাতেই হয়েছে। দেশভাগে ক্ষতবিক্ষত হয়েছি আমরাই। গুজরাত, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ কিংবা দক্ষিণ ভারতের গায়ে এসবের একটুও আঁচ লাগেনি। শুধু বারংবার জখম হয়েছে এই বাঙালি জাতি। দাঙ্গায় বারংবার ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছে এই বাংলাই। কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক বঞ্চনার লাগাতার শিকার বরাবর বাংলা। সুতরাং আবার বাংলা অশান্ত হবে, আর বাকি ভারত মজা দেখবে এটা কি কাম্য? সমাজের প্রতি অবশ্যই উদাসীন থাকবো না আমরা। সচেতন নাগরিক থাকবো। সরকারের সবরকম অনাচার, অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ করাই উচিত। আবার বিরোধীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আন্দোলনেরও নিন্দা করা উচিত। সবই করা দরকার নাগরিক হিসেবে। শুধু সতর্ক থাকতে হয় যে আমাদের কেউ ইউজ করছে না তো? যে দলই হোক তারা নিজেদের ফায়দার জন্য আমাদের কাজে লাগাচ্ছে না তো? আমাদের সারাদিন উত্তেজিত রাখতে মাঝেমধ্যেই কিছু না কিছু ঘটনার মাধ্যমে শুধুই উস্কানি দেওয়া হচ্ছে না তো! ঠিক যেমন ইলেকট্রনিকস গ্যাজেটস, মোবাইলে মাঝেমধ্যেই রিচার্জ করা হয়! আমরা আসলে কিছু অচেনা মানুষের কাছে সেরকমই নিছক দম দেওয়া যন্ত্র নই তো?
14th  June, 2019
রাম রাজনীতির উত্তরাধিকার
হিমাংশু সিংহ

রামমন্দির নির্মাণ শেষ হলে এদেশের গেরুয়া রাজনীতির সবচেয়ে মোক্ষম অস্ত্রটাও কিন্তু রাতারাতি ভোঁতা হতে বাধ্য। যে স্বপ্নকে লালন করে তিন দশক দিনরাত পথচলা, তার প্রাপ্তি যেমন মধুর, তেমনই সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন, এর পর কী? বিশদ

দল বদলের জেরে কুশীলবরাই হয়ে যান পুতুল
তন্ময় মল্লিক

রাজনীতিতে দল বদল খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে, যাঁরা দল বদলান, তাঁরা ‘ঘরের ছেলে’র মর্যাদা হারান। গায়ে লেগে যায় ‘সুবিধাবাদী’ তকমা। পরিস্থিতি বলছে, তাতে রাজনীতির কুশীলবরা‌ই হয়ে যান হাতের পুতুল। বিশদ

08th  August, 2020
রামমন্দিরের পর হিন্দুত্ববাদী
রাজনীতি কোন পথে?
সমৃদ্ধ দত্ত

নরেন্দ্র মোদি কি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই উচ্চারণ করেছেন একাধিকবার ‘জয় সিয়ারাম’ ধ্বনি? উগ্র হিন্দুত্ব থেকে এবার কি অন্য নতুন এক সমন্বয়ের হিন্দুত্বে ফিরতে চান তিনি? সনাতন ভারতবর্ষ আশা করবে, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকে তিনি আগামীদিনে চালিত করবেন সহিষ্ণুতা, বহুত্ববাদ আর ঐক্যের পথে।
বিশদ

07th  August, 2020
ক্রীড়া ও বিনোদন অর্থনীতি:
কী ভাবছে সরকার?
হারাধন চৌধুরী

 ১০০ বছর ধরে মাঠ কাঁপাচ্ছে যে দল, সেই লাল-হলুদ ঝড়ের নাম ইস্টবেঙ্গল। এই স্লোগানের সঙ্গে বাঙালি বহু পরিচিত। গত ১ আগস্ট, ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষ পূর্ণ হল। যে-কোনও ক্ষেত্রে সেঞ্চুরির গরিমা কতটা সবাই জানেন। ক্রীড়ামোদী বাঙালি মূলত দুই শিবিরে বিভক্ত—ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান।
বিশদ

06th  August, 2020
সবুজ হচ্ছে জঙ্গলমহলের প্রকৃতি ও মানুষ
সন্দীপন বিশ্বাস

জঙ্গলমহল হাসছে। এই কথাটা একসময় বহু ব্যবহৃত শব্দবন্ধের মতো হয়ে গিয়েছিল। তারপর সেটা নিয়ে বিরোধীদের বিদ্রুপ করা শুরু হল। কিন্তু এটা ঠিক, ২০১১ সালের আগে যে জঙ্গলমহলের চোখে জল ছিল, তা আর ফিরে আসেনি।
বিশদ

05th  August, 2020
 সমাজ ব্যর্থ হলে অসহায় মানুষের
পাশে দাঁড়াবার রাজনীতিই কাম্য
শুভময় মৈত্র

কোভিডাক্রান্ত ফুসফুসে সাহস জোগাতে সরকারের সহযোগিতায় দলমত নির্বিশেষে আরও কিছুটা উদ্যোগ জরুরি। দ্রুততার সঙ্গে সে কাজ না-হলে আম জনতা বিপদে পড়বে। সমাজ অকৃতকার্য হলে অ্যাম্বুলেন্সে উঠতে না-পেরে অসুস্থের মৃত্যু রুখতে হবে নিঃসহায়ের রাজনীতিকেই।
বিশদ

05th  August, 2020
নয়া নীতিতে শিক্ষা
আমাদের ‘বাহন’ হবে তো?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

নরেন্দ্র মোদি সরকার নয়া শিক্ষানীতি ঘোষণা করার পর দিকে দিকে কেমন একটা হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। বিষয়ে নতুনত্ব আছে। আর তা অস্বীকার করার জায়গা নেই। সরকারি স্কুলে প্লে-গ্রুপ ও কিন্ডারগার্টেন, ১০+২ এর ধারণা পিছনে ফেলে ফুটবলের মতো ৫+৩+৩+৪ ছকে স্কুলশিক্ষাকে সাজানো এবং সায়েন্স, আর্টস, কমার্স উঠে যাওয়া... নড়েচড়ে বসার মতো পরিস্থিতি বটে।
বিশদ

04th  August, 2020
রাজ্য-রাজনীতির বর্ণময় চরিত্র
সোমেন মিত্রের কিছু স্মরণীয় মুহূর্ত 
প্রবীর ঘোষাল

২০০০ সালের মার্চ মাস। রাজ্য কংগ্রেস রাজনীতিতে ঘোর সঙ্কট। দু’বছর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করে ঝড় তুলে দিয়েছেন। দু’-দু’টি লোকসভা নির্বাচনে জোড়াফুলের সাফল্য গোটা দেশকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এই সময় এল পশ্চিমঙ্গে রাজ্যসভা নির্বাচন।  
বিশদ

03rd  August, 2020
করুণ কাহিনীতে কোনও ‘সমাপ্ত’ হয় না 
পি চিদম্বরম

গত বছরের ৫ আগস্ট ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা হয়। তারপর থেকে লিখিত আদেশ ছাড়াই জম্মু ও কাশ্মীরের অনেক ব্যক্তিকে ‘গৃহবন্দি’ করা হয়েছে। এরকমই একজন গৃহবন্দি রাজনৈতিক নেতা বলেন যে, ‘জম্মু ও কাশ্মীর একটা বিরাট বন্দিশালা’। 
বিশদ

03rd  August, 2020
৫ আগস্ট ও নরেন্দ্র
মোদির ভোট অঙ্ক
হিমাংশু সিংহ 

২৯ বছর আগে ছবিটা তুলেছিলেন মহেন্দ্র ত্রিপাঠি। করোনা আবহে সেই ছবিই গোটা দেশে আজ হঠাৎ ভাইরাল। মহেন্দ্র পেশায় শখের ফটোগ্রাফার। ছোট্ট একটা স্টুডিও আছে অযোধ্যার প্রস্তাবিত রামমন্দির চত্বরের কাছেই।   বিশদ

02nd  August, 2020
ভাবনা বদলালেই সহজ
হবে করোনা মোকাবিলা
তন্ময় মল্লিক 

‘আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ, চুনি উঠল রাঙা হয়ে। আমি চোখ মেললুম আকাশে, জ্বলে উঠল আলো পুবে-পশ্চিমে।’—রবীন্দ্রনাথ। ‘শিক্ষা আনে চেতনা, চেতনা আনে বিপ্লব, বিপ্লব আনে মুক্তি।’—লেনিন।   বিশদ

01st  August, 2020
বন্ধু চীনই এখন
আমেরিকার বড় শত্রু
মৃণালকান্তি দাস 

পঞ্চাশ বছরের ‘সম্পর্ক’ মাত্র চার বছরে উল্টে গিয়েছে! এই সেদিনও চীন-আমেরিকা নিজেদের বলত ‘কৌশলগত বন্ধু’। ১৯৭১ সালে বেজিং সফরে গিয়ে ধুরন্ধর মার্কিন বিদেশসচিব হেনরি কিসিঞ্জার সেই ‘বন্ধুত্বে’র চারা লাগিয়ে এসেছিলেন।   বিশদ

31st  July, 2020
একনজরে
 কেরলের ইদুক্কিতে ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ২৪। শুক্রবার সকালে প্রবল বর্ষণের জেরে ইদুক্কি জেলায় একটি চা বাগানে ধস নামে, যার ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে যায় ২০টি বাড়ি। ...

 কয়লার গুণগত মান বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক স্তরের উপদেষ্টা সংস্থা নিয়োগ করতে চলেছে কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড। ...

আসানসোল বিসি কলেজের ফাঁকা জায়গায় একাধিক বিল্ডিং গড়ে তোলা হচ্ছে। যদিও এর জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।  ...

 দাম্পত্য অশান্তির জেরে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করলেন স্ত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে বিষ্ণুপুর থানার বগাখালি এলাকায়। মৃতার নাম রেণুকা সর্দার (৫৩)। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ছোটখাট আঘাত লাগার সম্ভাবনা। নিকট আত্মীয় থেকে মানসিক কষ্ট পাওয়ার সম্ভাবনা। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা বেশি ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

নাগাসাকি দিবস
বিশ্ব আদিবাসী দিবস

১৭৭৬: ইতালির রসায়নবিদ আমাদিও অ্যাভোগাদ্রোর জন্ম
১৯৩১: ব্রাজিলের ফুটবলার তথা কোচ মারিও জাগালোর জন্ম
১৯৪৫: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের নাগাসাকি শহরে আমেরিকার ফেলা পরমাণু ৩৯ হাজার মানুষের মৃত্যু
১৯৭০ – বিপ্লবী ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তীর মৃত্যু
১৯৭৪: ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারির কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিকসনের পদত্যাগ
২০০৮: গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে পুরুষদের ৪০০ মিটার ফ্রিস্টাইল সাঁতার প্রতিযোগিতা শুরু হয়।



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৩.১৬ টাকা ৭৬.৮৮ টাকা
পাউন্ড ৯৫.৮৩ টাকা ১০০.৯৯ টাকা
ইউরো ৮৬.৪৮ টাকা ৯১.১৫ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
08th  August, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৫৬,৯৬০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৫৪,০৪০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৫৪,৮৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৭৫,০৩০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৭৫,১৩০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
08th  August, 2020

দিন পঞ্জিকা

২৪ শ্রাবণ ১৪২৭, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২০, যষ্ঠী অহোরাত্র। রেবতীনক্ষত্র ৩৪/৩৮ রাত্রি ৭/৬। সূর্যোদয় ৫/১৪/৫৮, সূর্যাস্ত ৬/৯/১২। অমৃতযোগ প্রাতঃ ৬/৬ গতে ৯/৩২ মধ্যে। রাত্রি ৭/৩৮ গতে ৯/৬ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ ৬/৬ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৮ গতে ১/৫০ মধ্যে। রাত্রি ৬/৫৪ গতে ৭/৩৮ মধ্যে পুনঃ ১২/৪ গতে ৩/২ মধ্যে। অমৃতযোগ প্রাতঃ ৬/৬ গতে ৯/৩২ মধ্যে। রাত্রি ৭/৩৮ গতে ৯/৬ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ প্রাতঃ ৬/৬ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৮ গতে ১/৫০ মধ্যে। রাত্রি ৬/৫৪ গতে ৭/৩৮ মধ্যে পুনঃ ১২/৪ গতে ৩/২ মধ্যে। বারবেলা ১০/৫ গতে ১/১৯ মধ্যে। কালরাত্রি ১/৫ গতে ২/২৮ মধ্যে।
২৪ শ্রাবণ ১৪২৭, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২০, যষ্ঠী শেষরাত্রি ৪/৩৩। রেবতীনক্ষত্র সন্ধ্যা ৬/২৪। সূর্যোদয় ৫/১৪, সূর্যাস্ত ৬/১২। অমৃতযোগ দিবা ৬/১০ গতে ৯/৩২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৮ গতে ৮/৫৯ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৬/১০ মধ্যে ও ১২/৫৪ গতে ১/৪৪ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৪২ গতে ৭/২৮ মধ্যে ও ১১/১ গতে ৩/৩ মধ্যে। বারবেলা ১০/৬ গতে ১/২০ মধ্যে। কালরাত্রি ১/৬ গতে ২/২৯ মধ্যে।
 ১৮ জেলহজ্জ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
রাজ্যে করোনায় মৃত্যু ২ হাজার ছাড়াল
রাজ্যে করোনায় মৃত্যু ২ হাজার ছাড়াল। এ পর্যন্ত মোট ২০০৫ ...বিশদ

08-08-2020 - 09:06:41 PM

কাজিরাঙ্গায় শিকারির গুলিতে মৃত গণ্ডার 
অসমের কাজিরাঙ্গা অভয়ারণ্যে আজ সকালে একটি মৃত গণ্ডার উদ্ধার করা ...বিশদ

08-08-2020 - 04:35:00 PM

গুজরাতে রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ আগুন 
 গুজরাতের একটি রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ আগুন লাগল। আজ শনিবার ঘটনাটি ...বিশদ

08-08-2020 - 03:59:00 PM

কেরলে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের ২৩ জন যাত্রী হাসপাতাল থেকে মুক্ত 
কেরলে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের ২৩ জন যাত্রীকে সুস্থ অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ...বিশদ

08-08-2020 - 03:45:00 PM

কেরলের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের আর্থিক সাহায্য ঘোষণা কেন্দ্রের
কেরলের কোঝিকোড়ে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের আর্থিক সাহায্য ঘোষণা ...বিশদ

08-08-2020 - 02:09:37 PM

করোনা: কোন কোন দেশ বেশি আক্রান্ত? 
করোনায় আক্রান্তের বিচারে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আমেরিকা। এদেশে করোনায় আক্রান্ত ...বিশদ

08-08-2020 - 01:33:00 PM