Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

বাদশাহ জালালউদ্দিন আকবর, মিয়াঁ তানসেনের গানে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে বললেন, আপনার মতো কলাকার হাজার বছরে একটিই জন্মায়, এরকম গান ভূভারতে আর কেউ গাইতেই পারে না বলে আমার বিশ্বাস। তানসেন সেটা শুনে বললেন, আলমপনা, আমার গুরুর স্বামী হরিদাস জীবিত থাকতে এমন কথা বলবেন না। তাঁর গানের পাশে আমার গান তো তুচ্ছ। আকবর বললেন, বটে! তাহলে তো তাঁর গান শুনতে হচ্ছে। অবিলম্বে তাঁকে জানাও আমি তাঁর গান শুনতে অতীব উৎসূক। দরবারে কবে তাঁর গান হবে একটা ইন্তেজাম করা হোক। তানসেন বললেন, জাঁহাপনা আপনি তো দীন দুনিয়ার মালিক। কিন্তু আপনার যিনি মালিক তাঁকে নিবেদন করেই আমার গুরু গান করেন। তিনি তো দরবারে আসবেন না। গান তো দূরের কথা। তাঁর গান শুনতে হলে তাঁর পর্ণকুটিরেই যেতে হবে। আকবর সেটা শুনে দ্বিরুক্তি না করে গিয়েছিলেন স্বামী হরিদাসের গান কুটিরের বাইরে দাঁড়িয়ে শুনতে। এরকম একটি মোগল পেন্টিংও আছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে আকবর আর তানসেন জোড়হস্তে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, আর স্বামী হরিদাস গান করছেন। আকবর নির্দেশ দিয়েছিলেন ওই গানের কথাগুলো বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে অন্য ভাষাতেও যেন শোনানোর ব্যবস্থা হয়। এই সংস্কৃতির আদানপ্রদানের সবথেকে বড় যে উদাহরণ পাওয়া যায় সেটি সঙ্গীতের দুনিয়ায়। প্রবাদপ্রতীম উচ্চাঙ্গসঙ্গীত শিল্পী ভাস্কর বুয়া কট্টর ব্রাহ্মণ সন্তান হয়েও উস্তাদের জন্য নিজে বাজার করে মাংস রান্না করে খাওয়াতেন। আবার খ্যাতনামা সঙ্গীতরচয়িতা কাবুলি পাঠান স্বপ্নে কৃষ্ণদর্শন পেয়েছিলেন। তারপর আফগানিস্তান থেকে মথুরায় এসে ‘রসখান’ নাম নিয়ে বহু ভজন রচনা করলেন।
ভারতের এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্সফোর্ডে বেড়াতে গিয়ে একবার নীরদ সি চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করে হিন্দুত্ব নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী হয়েছিলেন। নীরদ সি জানতে চেয়েছিলেন, মহাশয়ের কি সংস্কৃত ভাষা জানা আছে? সংস্কৃতে হিন্দুশাস্ত্রগুলো পাঠের অভ্যাস নিশ্চয়ই আছে? নেই শুনে, নীরদ সি বলেছিলেন, তাহলে অন্য আলোচনা হোক। অর্থাৎ যে ব্যক্তি সংস্কৃতই জানেন না, তাঁর সঙ্গে হিন্দুত্ব নিয়ে নীরদ সি কথা বলতে মোটেই উৎসাহী নন। অথচ নীরদ সি চৌধুরীকে সকলেই জানেন ইংরেজিপ্রিয় এক ভারতীয় ব্রিটিশ হিসেবেই। আদতে তিনি ছিলেন সংস্কৃতেও পারঙ্গম। ঠিক যেমন ছিলেন রামমোহন রায়, যেমন ছিলেন বিদ্যাসাগর। তাঁরা ইংরেজি ও সংস্কৃত দুটিতেই পটু ছিলেন।
অর্থাৎ ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ। আর ধর্মীয় সম্প্রদায়গত বিদ্বেষ। এই দুটি ক্রমবর্ধমান। কারণ অত্যন্ত স্পষ্ট। দ্রুতহারে শিক্ষা, সংস্কৃতির চর্চা ও অনুশীলন কমে যাচ্ছে। তাহলে সামাজিক জীবনের দৈনন্দিন কী নিয়ে আবর্তিত হবে? সেই জায়গাটা নিয়েছে রাজনীতি আর ধর্মীয় বিদ্বেষ। তাই নিরন্তর আলোচনা, চর্চা আর মোবাইলে আলাপচারিতায় সবথেকে বেশি জায়গা করে নেয় এই দুটি বিষয়। অন্য বিষয় নিয়ে অনেকক্ষণ ধরে সময় অতিবাহিত করা কিংবা আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সমস্যা হল অন্য বিষয়ে চর্চাই নেই। বই পড়া, গান শোনা, আন্তর্জাতিক ইস্যু, বিশ্ব রাজনীতি কিছুরই চর্চা নেই। তাই আজকাল দেখা হলে কিংবা কোনও হাই হ্যালো শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তৃতীয় বা চতুর্থ বাক্য হিসেবে উঠে আসে রাজনীতি এবং তারপর তার হাত ধরেই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ।
ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ঐতিহ্য থেকে যে সমাজ দূরে সরে যায়, তার অবক্ষয় ত্বরান্বিত হয়। মূল্যবোধ প্রায় থাকেই না। সেক্ষেত্রে দেখা যায় অপসংস্কৃতিই মূলস্রোতের সংস্কৃতিতে পরিণত হচ্ছে। এবং স্বল্পজ্ঞান অথবা অল্পবিদ্যা সত্যিকারের ভয়ঙ্করীতে পর্যবসিত হয়। তাই আগে যেসব আচরণের জন্য সমাজ লজ্জাবোধ করত, এখন সেই আচরণকেই বুক বাজিয়ে সিংহভাগ শ্রেণী জাস্টিফাই করে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে আজকাল প্রকাশ্যে পাবলিক প্লেসে কিংবা সোশ্যাল মিডিয়াতে গোটা দুনিয়া দেখছে জেনেও অনায়াসে অশালীন শব্দ খুব দম্ভের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়। রুচিহীন ব্যবহার, তুমুল উচ্চকিতভাবেই গালিগালাজ করা হয় প্রকাশ্যেই তর্কে জয়ী হতে কিংবা অত্যন্ত স্বাভাবিক আলাপচারিতায়। যেন ওটা একটা স্মার্টনেস। ঠিক একইভাবে নেতানেত্রীদের মুখেও অহরহ শোনা যায় এরকমই অশালীন, রুচিহীন শব্দের প্রকাশ। কেন? কারণ একটি সমাজে ক্রমেই ঠিক সেরকম রাজনীতিই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, সেই সমাজটি আসলে যেমন। তাই এই যে কথায় কথায় যে কোনও অপসংস্কৃতি, অবক্ষয় কিংবা হিংসা আবহের জন্য কখনও সরকার,কখনও দল, কখনও পুলিস, কখনও নেতামন্ত্রীদের দোষ দেওয়া হয়, সেসবই হল নিজেদের আড়াল করার প্রয়াস। আসলে সমাজের সিংহভাগ ভিতরে ভিতরে ওরকমই হয়ে গিয়েছে। আর তাই এই নেতানেত্রীরা কিংবা এই রাজনীতি একটা বড় অংশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। আমরা নিজেরা চরম অসহিষ্ণু। কিন্তু সেই একই অসহিষ্ণুতার ছাপ নেতানেত্রীর মধ্যে দেখলে গর্জে উঠি। বুঝি না, আমাদের মনের ছাপটাই আসলে রাজনীতিতে পড়েছে।
আমাদের রাজ্যে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ এতটাই ভাবনার রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে যে, প্রতিটি হিংসাত্মক ঘটনায় দুটি জিনিস আগে সকলে সন্ধান করে। কোন দল ও কোন ধর্মের মানুষ আক্রমণকারী কিংবা আক্রান্ত। সন্দেশখালি, ক্যানিং, কোচবিহার, ডায়মন্ডহারবার যেখানেই রাজনৈতিক সংঘর্ষ হোক, প্রতিটি ঘটনাকে আজকাল সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার প্রবল চেষ্টা চলে। রাজনৈতিক দলগুলিও সম্প্রদায়গতভাবেই রাজনীতির ফায়দা তোলার চেষ্টা করে বলাই বাহুল্য। রাজনৈতিক বিদ্বেষ কেমন? অপছন্দের নেতানেত্রীকে যেকোনও ঘটনার জন্যই দায়ী করার প্রবণতা। ধর্ষণ হয়েছে? উনি দায়ী। দুর্ঘটনা হয়েছে? উনি দায়ী। সন্ত্রাস হয়েছে? উনি দায়ী। ডাক্তার, উকিল, সরকারি কর্মী, শিক্ষকদের আন্দোলন চলছে? উনি দায়ী। চাকরি নেই? উনি দায়ী। চাকরি চলে গেল? উনি দায়ী। গণপিটুনি? উনি দায়ী। আর একইভাবে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের প্রবণতাটিই এরকমই। যে কোনও ঘটনা, দুর্ঘটনা, অপরাধ হলে তো বটেই, সবথেকে বিপজ্জনক হল কোনও ঘটনা না ঘটলেও সাম্প্রদায়িক প্ররোচনা ছড়ানোর জন্য উস্কানিমূলক মিথ্যা গুজব ছড়ানো হয়। এবং কোনও এক সম্প্রদায়কে দাগিয়ে দেওয়া হয়।
এই যে বিদ্বেষের বীজ এবং সেটা যাতে অন্যদের মধ্যেও আরও বেশি করে ছড়িয়ে পড়ে সেটা মনেপ্রাণে চাওয়া, এর শেষতম লক্ষ্যটি কি? ধরা যাক বিদ্বেষের কারণে লাগাতার দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করা হয়। নানাবিধ সত্যি, অর্ধসত্য, মিথ্যা মিশিয়ে। এভাবে কখনও বসিরহাট, কখনও ভাটপাড়া, কখনও ডায়মন্ডহারবারে বিচ্ছিন্নভাবে এলাকাগতভাবে মাঝেমধ্যেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়। আবার এরকম অনেক দাঙ্গার খবর ছড়ানো হয় যার কোনও সোর্স নেই। একমাত্র সোর্স হোয়াটস অ্যাপ আর ফেসবুকে ফরওয়ার্ড করা মেসেজ। লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিগত বেশ কয়েকবছর ধরে এভাবে সারাক্ষণ পশ্চিমবঙ্গ নানাভাবে অশান্ত হয়েই থাকছে। রাজনৈতিক সংঘর্ষ দিকে দিকে। দাঙ্গা। মিছিল। মিছিলে মিছিলে সংঘাত। যে কোনও একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দেখা যাচ্ছে তুলকালাম হচ্ছে। এভাবেই একদিন এরকম ছোট ছোট লিটমাস টেস্টের পর যদি বিদ্বেষের সম্প্রসারণের ফলে গোটা রাজ্যেই দাঙ্গা শুরু হয়? গৃহযুদ্ধ। গোটা রাজ্যে যদি আগুন জ্বলে তখন প্রত্যেকটি মানুষের ঘরেই সেই আগুন ঢুকে যাবে। যে সম্প্রদায়ের মানুষই হোক প্রত্যেকের স্থান হবে শুধুমাত্র নিজের ঘরে আতঙ্কে বসে থাকা। অথবা ঘর থেকে পালিয়ে গিয়ে কিংবা বাস্তচ্যূত হয়ে কোনও এক সরকারি আশ্রয় শিবির। কিংবা মন্দির কিংবা মসজিদে আশ্রয়। এসব বেদনাময় ভয়ঙ্কর চিত্র অতীতে বহুবার ভারত ও বাংলা দেখেছে। তাই ছবির মতো বিবরণ দেওয়া যায় যে দাঙ্গা হলে কী হতে পারে। চাকরি, ব্যবসা, জীবিকা, ছেলেমেয়ের স্কুল কলেজ সব বন্ধ হয়ে যাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য। দাঙ্গাকারী সর্বদাই হয় সুবিধাবাদী কিছু অপরাধী আর লুম্পেনরা। স্রেফ টাকা পয়সা লুণ্ঠন, মহিলাদের ওপর অত্যাচার আর নির্বিচারে হত্যা। এটাই যে কোনও দাঙ্গার শেষ কথা। দাঙ্গা করে কাউকে টাইট দেওয়া যায়নি আজ পর্যন্ত। কারণ দাঙ্গা মানেই হল সব পক্ষের মানুষের মৃত্যু আর সম্পত্তিহানি। আর সবথেকে বড় কথা শান্তিপূর্ণ এক সুস্থ জীবনযাপন ধ্বংস হয়ে যাওয়া। তাই আমাদের এখন ভাবতে হবে হঠাৎ করে চারদিকে এরকম মাত্রাহীন অশান্তি কেন? কেন গোটা দেশের তাবৎ ন্যাশনাল মিডিয়ায় আমাদের রাজ্যকে লাগাতার হিংসাশ্রয়ী, আইনশৃঙ্খলা না থাকা একটা রাজ্য হিসেবে প্রতিভাত করা হচ্ছে? এরকম কেনই বা ঘটছে অবিরত?
আমাদের সচেতনতার অভাব আর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিদ্বেষকে কাজে লাগিয়ে আমাদের শর্তহীনভাবে অলক্ষ্যে ভাড়া করে নেয় রাজনৈতিক দল। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক দলের হয়ে বিনা পয়সার আর্মি হিসেবে কাজ করি। আমাদের পছন্দের দলের হয়ে তাদের অ্যাজেণ্ডা প্রচার করি, শেয়ার করি, ফেক নিউজ ফরওয়ার্ড করি। লাভ হয় রাজনীতির। এ রাজ্যকে আইনশৃঙ্খলাহীন প্রমাণ করে আমাদের ব্যক্তিগত লাভ কী হবে? বরং আমাদের উচিত সর্বদাই চেষ্টা করা যাতে আইনশৃঙ্খলার অযথা সন্দেহজনকভাবে অবনতি না হয়। লক্ষ্য রাখতে হয়। নজরদারি করতে হয়। নিজেদের স্বার্থে। কারণ এ হল আমাদের জন্মভূমি। রাজনীতি, সরকার, শাসক, বিরোধীদের ভবিষ্যৎ ভোটের হাতে ছেড়ে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত। আজ নয় কাল তো বিধানসভার ভোট হবেই। তখনই দেখা যাবে মানুষ কাকে ভোট দেয়। যাকে অপছন্দ তাকে হারিয়ে দেবে মানুষ। গণতন্ত্রের এটাই নিয়ম। তার আগে এই যে নিরন্তর অবিরত অস্থিরতা, অরাজকতা আর নৈরাজ্য চলছে এটায় নিশ্চিতভাবে রাজনৈতিক দলগুলির লাভক্ষতি হতে পারে। আমাদের কিন্তু বিন্দুমাত্র লাভ নেই। কারণ আমি যে দলেরই হই ট্রেন অবরোধের সময় আমিও আটকে যাই। ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে আমারও কাজের ক্ষতি হয়। দাঙ্গা হলে যে অটোয় আগুন লাগানো হবে সেই অটোতে আমার ছেলেমেয়েও থাকতে পারে। তাই অনেক বোকা হয়েছি। এবার না হয় একটু স্বার্থপর হয়ে নিজের স্বার্থ দেখি। সবার আগে নিজেরা নিশ্চিত করি যাতে আমাদের এইসব পারস্পরিক ঘৃণা আর বিদ্বেষের সুযোগে অন্য কেউ আগুন না জ্বালায়। মনে রাখতে হবে ’৭৬-এর মন্বন্তরে বাংলাকেই ভুগতে হয়েছে, ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ বাংলাতেই হয়েছে। দেশভাগে ক্ষতবিক্ষত হয়েছি আমরাই। গুজরাত, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ কিংবা দক্ষিণ ভারতের গায়ে এসবের একটুও আঁচ লাগেনি। শুধু বারংবার জখম হয়েছে এই বাঙালি জাতি। দাঙ্গায় বারংবার ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছে এই বাংলাই। কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক বঞ্চনার লাগাতার শিকার বরাবর বাংলা। সুতরাং আবার বাংলা অশান্ত হবে, আর বাকি ভারত মজা দেখবে এটা কি কাম্য? সমাজের প্রতি অবশ্যই উদাসীন থাকবো না আমরা। সচেতন নাগরিক থাকবো। সরকারের সবরকম অনাচার, অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ করাই উচিত। আবার বিরোধীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আন্দোলনেরও নিন্দা করা উচিত। সবই করা দরকার নাগরিক হিসেবে। শুধু সতর্ক থাকতে হয় যে আমাদের কেউ ইউজ করছে না তো? যে দলই হোক তারা নিজেদের ফায়দার জন্য আমাদের কাজে লাগাচ্ছে না তো? আমাদের সারাদিন উত্তেজিত রাখতে মাঝেমধ্যেই কিছু না কিছু ঘটনার মাধ্যমে শুধুই উস্কানি দেওয়া হচ্ছে না তো! ঠিক যেমন ইলেকট্রনিকস গ্যাজেটস, মোবাইলে মাঝেমধ্যেই রিচার্জ করা হয়! আমরা আসলে কিছু অচেনা মানুষের কাছে সেরকমই নিছক দম দেওয়া যন্ত্র নই তো?
14th  June, 2019
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

20th  January, 2020
মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

19th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ: পুতুলনাচের ইতিকথা
জিষ্ণু বসু

নাচায় পুতুল যথা দক্ষ বাজিকরে/ নাচাও তেমনি তুমি অর্বাচীন নরে। —কবি নবীনচন্দ্র সেনের এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি আজ ভীষণ প্রাসঙ্গিক মনে হয়। গত মাসাধিক কাল সামান্য কিছু অতি বুদ্ধিমান আমাদের মতো অর্বাচীনদের পুতুলের মতো নাচাচ্ছেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রচার মাধ্যমও অতি যত্নসহকারে তা পরিবেশন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে 
হারাধন চৌধুরী

বাঙালি বেড়াতে ভালোবাসে। বেড়ানোর সুযোগটা পাশপোর্ট ভিসা নিয়ে বিদেশে হলে তো কথাই নেই। কিন্তু গন্তব্য যদি বাংলাদেশ, আর দাবি করা হয় বিদেশ-ভ্রমণের, তবে অনেকেই মুখ টিপে হাসবেন। কারণ, বাংলাদেশকে ‘বিদেশ’ ভাবার মানসিকতা আমাদের গড়ে ওঠেনি। 
বিশদ

17th  January, 2020
হৃদয়জুড়ে মানবসেবা
মৃণালকান্তি দাস

সমকাল তাঁকে যথেষ্ট লজ্জা দিয়েছিল! নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশ-বিভুঁইয়ে কপর্দকহীন এক সন্ন্যাসীকে নিগৃহীত করতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন ব্রাহ্মসমাজের প্রতিনিধি প্রতাপচন্দ্র মজুমদার।  স্বামীজির বিজয়কীর্তিকে ধূলিসাৎ করতে নিজের ‘ইউনিটি অ্যান্ড দি মিনিস্টার’ পত্রিকায় স্বামীজিকে ‘নবহিন্দু বাবু নরেন্দ্রনাথ দত্ত’ সম্বোধন করে বলা হয় যে, তিনি নাকি যুবাবয়সে ব্রাহ্মসমাজে আসেন  শুধুমাত্র  ‘নববৃন্দাবন’ থিয়েটারে অভিনয়ের জন্য।  
বিশদ

17th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে।  
বিশদ

16th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে
হারাধন চৌধুরী

সিএএ, এনআরসি প্রভৃতি ভারতের মানুষ গ্রহণ করবেন কি করবেন না, তা নিশ্চিত করে বলার সময় এখনও হয়নি। তবে, এটুকু বলা যেতে পারে—এই ইস্যুতে ব্যাহত হচ্ছে আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলি। অর্থনৈতিকভাবে আমরা দ্রুত পিছিয়ে পড়ছি। পাশাপাশি এই অধ্যায় বহির্ভারতে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। আমাদের এমন কিছু করা উচিত হবে না যার দ্বারা অন্তত বাংলাদেশে মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উদ্বাহু নৃত্য করে পাকিস্তানের মৌলবাদী শক্তি। 
বিশদ

16th  January, 2020
রাজনীতির রঙের বাইরে
শান্তনু দত্তগুপ্ত

যে পড়ুয়ারা আজ পথে নেমেছে, তারা তো শিক্ষিত! এঁটেল মাটির তালের মতো। যুক্তি দিয়ে বোঝালে তারা অবাধ্য হয় না। তা না করে নয়াদিল্লি বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে পাল্টা ধোলাই দেওয়ার রাস্তা নিয়েছিল পুলিস। আর বলা হয়েছে, মানতে না পারলে পাকিস্তানে চলে যাও। এটাই কি ভারতের মতো গণতন্ত্রের থেকে পাওনা? যুব সমাজ কিন্তু মানছে না। মানবেও না। দিন নেই, রাত নেই তারা কখনও ক্যাম্পাসে ধর্নায় বসছে, কখনও রাজপথে। তাদের লড়াই আজ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন আগ্রাসী কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে।
বিশদ

14th  January, 2020
হবু-গবুর রাজ্যে তৈরি হচ্ছে ভক্ততন্ত্র তালিকা
সন্দীপন বিশ্বাস

সকালবেলা মন্ত্রী গবু হন্তদন্ত হয়ে হবুরাজার ঘরে ঢুকে গিয়ে দেখেন রাজামশাই কম্পিউটারের সামনে বসে ‘কমান্ডো এনকাউন্টার শ্যুটিং গেম’ খেলছেন। মহারাজা পুরোপুরি বাহ্যজ্ঞান লুপ্ত হয়ে কম্পিউটারের ভিতর যেন ঢুকে পড়েছেন। গেমটা খুব মজার এবং কঠিন। বন্দুক নিয়ে একজন কমান্ডার ঢুকে পড়েছে শত্রুদের ঘাঁটিতে। 
বিশদ

13th  January, 2020
একনজরে
 বিএনএ, বারাকপুর: বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে আরও একটি জুট মিল বন্ধ হয়ে গেল। মঙ্গলবার সকালে টিটাগড়ের এম্পায়ার জুট মিল কর্তৃপক্ষ সাসপেনশন অব ওয়ার্কের নোটিস ঝুলিয়ে দেয়। এতে কাজ হারালেন প্রায় দুই হাজার শ্রমিক। মিল বন্ধের প্রতিবাদে এদিন বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকরা। ...

 রাষ্ট্রসঙ্ঘ, ২১ জানুয়ারি (পিটিআই): শুধু ভারত নয়, বেকারত্ব বাড়ছে গোটা বিশ্বেই। এদেশে বেকারত্বের হার বৃদ্ধির অভিযোগকে মান্যতা দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু বিশ্বে বেকারদের সংখ্যা যে ...

 নয়াদিল্লি, ২১ জানুয়ারি (পিটিআই): শিরোমণি অকালি দল সরে গেলেও দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধেছে জেডিইউ। সোমবারই সেই ঘোষণা হয়েছে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন, এনআরসি ...

 সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: ‘দলের লোকেরা দাদাকে মেরেছে, শিবু ফোন করে দাদাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পনা করে খুন করেছে।’ মঙ্গলবার সকালে এই দাবি করলেন বাগনানের বাইনানের তৃণমূলের ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মরতদের সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা ও ব্যবহারে সংযত থাকা দরকার। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৬৬৬: মুঘল সম্রাট শাহজাহানের মৃত্যু
১৯০০ - টেলিপ্রিন্টার ও মাইক্রোফেনের উদ্ভাবক ডেভিট এ্যাডওয়ার্ড হিউজ।
১৯০১: রানি ভিক্টোরিয়ার মৃত্যু
১৯২৭ - প্রথমবারের মতো বেতারে ফুটবল খেলার ধারাবিবরণী প্রচার।
১৯৭২: অভিনেত্রী নম্রতা শিরোদকরের জন্ম





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৩৬ টাকা ৭২.০৬ টাকা
পাউন্ড ৯০.৯৮ টাকা ৯৪.২৫ টাকা
ইউরো ৭৭.৫৪ টাকা ৮০.৪৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৫৩০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৪৫৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,০৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৬৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৭৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৭ মাঘ ১৪২৬, ২২ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার, ত্রয়োদশী ৪৮/৩৬ রাত্রি ১/৪৯। মূলা ৪৪/৫৩ রাত্রি ১২/২০। সূ উ ৬/২২/৩৮, অ ৫/১৩/২৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৯ মধ্যে পুনঃ ১০/০ গতে ১১/২৬ মধ্যে পুনঃ ৩/২ গতে ৪/২৮ মধ্যে। রাত্রি ৬/৫ গতে ৮/৪৩ মধ্যে পুনঃ ২/০ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৯/৫ গতে ১০/২৬ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৭ গতে ১/৯ মধ্যে। কালরাত্রি ৩/৬ গতে ৪/৪৪ মধ্যে।
৭ মাঘ ১৪২৬, ২২ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার, ত্রয়োদশী ৮৯/২৭/৪৪ রাত্রী ২/১৩/৯। মূলা ৪৬/৪২/৪৪ রাত্রি ১/৭/৯। সূ উ ৬/২৬/৩, অ ৫/১১/৩৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৭ মধ্যে ও ১০/০ গতে ৪/৩৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/১৫ গতে ৮/৫০ মধ্যে ও ২/০ গতে ৬/২৬ মধ্যে। কালবেলা ৯/৭/২৭ গতে ১০/২৮/৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৩/৭/২৭ গতে ৪/৪৬/৪৫ মধ্যে।
 ২৬ জমাদিয়ল আউয়ল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
  হাসপাতালে কবি শঙ্খ ঘোষ
বিশিষ্ট কবি শঙ্খ ঘোষ অসুস্থ। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে মুকুন্দপুরে ইএম ...বিশদ

21-01-2020 - 06:39:05 PM

  হাসপাতালে পিকে ব্যানার্জি
হাসপাতালে ভর্তি হলেন কিংবদন্তী ফুটবলার প্রদীপ কুমার ব্যানার্জি। আজ ...বিশদ

21-01-2020 - 05:01:50 PM


এনআরসি-র প্রতিবাদে পথে নামল এনআরএস মেডিক্যাল হাসপাতালের পড়ুয়ারা ...বিশদ

21-01-2020 - 05:00:00 PM

ইস্ট বেঙ্গল কোচের পদত্যাগ
টানা তিনটি ম্যাচে হারের পর পদত্যাগ করলেন ইস্ট বেঙ্গল কোচ ...বিশদ

21-01-2020 - 04:35:48 PM

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানোর অভিযোগে অপর্ণা সেনকে আইনি নোটিস  
সোশ্যাল মিডিয়ায় সিএএ সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানোর অভিযোগে অভিনেত্রী তথা ...বিশদ

21-01-2020 - 04:20:42 PM

২০৫ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

21-01-2020 - 04:04:33 PM