Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

লোকসভার ফলে পালাবদলের গন্ধ পেয়েই পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে শহরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিজেপি। তাই ঘরে ঘরে চায়ের আড্ডায় আদালতে অফিসে মাঠে ময়দানে লোকসভার ফল বেরনো ইস্তক একটা কী হয় কী হয় ভাব। একটাই আলোচনা ২০২১-এ কী হবে? আগ্রাসী একদল ক্ষমতা দখলের আশায় টগবগে উদ্দাম, আর অন্য শিবিরে হতাশা, উত্তেজনা আর ভয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে খোদ ভগবানের নামেও মেজাজ হারাচ্ছেন মাটি থেকে উঠে আসা তৃণমূল শাসক। ২৩ মে-র পর বাংলা অভিধানে একটা নতুন গালাগালি সংযুক্ত হয়েছে ‘জয় শ্রীরাম’। এতই মারাত্মক অবমাননাকর এই শব্দবন্ধ যে রাস্তায় নেমে চোখ কপালে তুলে পুলিসকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নিদান দিয়েছেন অগ্নিকন্যা। ভাইরাল হয়েছে সে ছবি। অথচ প্রতিবাদী গণআন্দোলনের মধ্যে দিয়ে বিক্ষোভ অবরোধের নানা কঠিন ধাপ পেরিয়েই তাঁর বিরোধী নেত্রী থেকে ‘সফল’ শাসকে উত্তরণ। আর আজ তাঁর আট বছরের শাসনকাল যেতে না-যেতেই সেই আন্দোলন, বিক্ষোভ, প্রতিবাদের মতো শব্দগুলো তাঁর কাছে রাজ্যে হিংসা ও অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা মাত্র! এ কোন উলটপুরাণ দেখছে বাংলা? অথচ আজকের শাসক তথা সেদিনের বিরোধী নেত্রীর উপস্থিতিতেই বিধানসভায় ঢুকে অন্যায় ভাঙচুর, দুর্গাপুর এক্সপ্রেস ওয়ে আটকে দিনের পর দিন ধর্না বিক্ষোভ, ধর্মতলার অনশন, সবই কি আজ বিস্মৃতপ্রায় অধ্যায়! এমন একটা ভাব যেন কিছুই হয়নি কিংবা সবই আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছিল সেদিন।
বাস্তবে পরিবর্তন ও তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উত্তাল আন্দোলন, রক্তক্ষয় বড় কম দেখেনি এই বাংলার মাটি। সত্তরের উত্তাল নকশাল আন্দোলন দেখেছে। বাহাত্তর থেকে সাতাত্তর সিদ্ধার্থশঙ্করের জমানার কলঙ্কিত শাসন ও জরুরি অবস্থার অন্যায় বাড়াবাড়ি দেখেছে। অবলীলায় আঠারো থেকে আটাশের মৃত্যুমিছিল দেখেছে। প্রাণ বাঁচাতে যুব সমাজের এ রাজ্য থেকে পালানোর সেই শুরু। তারপর সিপিএমের ৩৪ বছর ধরে একটানা কর্মসংস্থান ও শিল্পকে বিসর্জন দিয়ে আপাত শ্মশানের শান্তির আড়ালে ভোটলুটের জমজমাট কারবার দেখেছে। সংগঠন ও প্রশাসনের জোরে বামেদের ভোট পৌঁছে গিয়েছিল সে সময় ৫০ শতাংশে। কিন্তু সবকিছুকে পার্টিমুখী করতে গিয়ে আর গোটা ব্যবস্থাকে বিরোধী-শূন্য করার নেশায় কখন মানুষই ব্রাত্য হতে হতে দূরে সরে গিয়েছে বাম নেতারা তার আঁচটুকুও পাননি। কোনও শাসকই বোধহয় ক্ষমতার নেশায় যখন বুঁদ হয়ে যান তখন ওই আঁচটা পান না। পাওয়ার কথাও নয়। তাই সব শাসকই প্রতিবাদ দেখলেই পুলিসকে ব্যবহার করে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দমন-পীড়নের কঠিন রাস্তায় নেমে পড়েন। মানুষের মনটা পরখ করে দেখার চেষ্টা করেন না কেউ। আর এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস থেকেই বাম নেতারা মানুষকে, মানুষের ভোটকে চিরদিনের জন্য তাদের কেনা ভেবেছিলেন। বাস্তবে যা কখনও সম্ভব নয়। আর বামেদের সেই অতিরিক্ত আত্মসন্তুষ্টি আর দৌরাত্ম্যের জেরেই ২০১১-র বহুকাঙ্ক্ষিত ঐতিহাসিক পরিবর্তন এল। উল্টে গেল সাড়ে তিন দশকের রাজ্যপাট। এসবই যেন অবলীলায় ঘটে গিয়েছে এই বাংলায়।
চাকরি নেই, শিল্প নেই। তাতে কী হয়েছে, রাজনীতি, দলাদলি, হানাহানি তো আছে চুটিয়ে! সঙ্গে দোসর খেলা মেলা উৎসব। গত সাত বছরে ঘটা করে বহু কোটি টাকা খরচে ঢালাও খানাপিনার ব্যবস্থা করে শিল্প সম্মেলন বড় কম হয়নি। কিন্তু বড় উৎপাদনমুখী শিল্প কী এসেছে। কোনও বড় কারখানা যেখানে দশ, পনেরো হাজার লোক কাজ পেতে পারে তা কি হয়েছে? হয়নি। ফলে এরাজ্যের শত শত বেকারের ভাগ্য ফেরারও আশাও প্রায় নেই। সেদিকে নজর দেওয়ার ফুরসতটুকুও কারোর নেই। মরলে তো মরবে গরিব দিনআনা দিনখাওয়া পরিবারগুলো। নেতানেত্রীদের, তাঁদের ছেলেমেয়েদের তো আর পেটের দায় নেই! আছে তোলা আর সিন্ডিকেটের পয়সায় নিত্যনতুন সম্পত্তি আর দামি গাড়ি কেনার বিষম রকমারি আহ্লাদ। কালো কাচ তুলে মা মাটি মানুষের বুকের উপর দিয়েই ধুলো উড়িয়ে ছোটে ঝাঁ চকচকে সাদা স্করপিও কিংবা আরও দামি রং-বেরঙের গাড়ি। ধুলোমাখা মাটির মানুষ প্রমাদ গোনে আর বলে ওই দ্যাখ, নেতার ব্যাটা, ভাইপো কিংবা ভাগ্নে যাচ্ছে। আহা কত উন্নয়ন! আর দু’পকেটে ডিগ্রি নিয়ে এরাজ্যের অসহায় ছেলেমেয়েরা ছুটছে ভিন রাজ্যে, ভিন দেশে একটা চাকরির আশায়। মেস করে কোনও মতে দূর দূরান্তরে একটা ছোট্ট ঘরে থাকছে চার পাঁচজন মিলে। দু’বেলা পরিমিত খাবার জুটছে কি জুটছে না, সে খোঁজ কে রাখে। আর সংকীর্ণ রাজনীতি ও ইগোর বলি সিঙ্গুর আজও শ্মশান হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ধারে। নন্দীগ্রামও তথৈবচ। রাজ্যজুড়েই যেন না-হওয়া আর বন্ধ-হওয়া শিল্প কারখানার কঙ্কাল ছড়িয়ে! তবু টনক নড়ে না কারও। আমি, আমি করেই সবাই বুঁদ। আমার প্রতাপ আর প্রভাব প্রতিপত্তি দেখাতেই সবাই মত্ত, অন্যকিছু ভাবার সময়ই নেই। না-হলে সিন্ডিকেট, তোলাবাজি, পরের মেরে খাওয়ার বিরুদ্ধে কালীঘাটের টালির চালায় ডাকা কোর কমিটির বৈঠকে বারবার যুদ্ধ ঘোষণা করতে দেখা গিয়েছে। কাগজে হেডলাইন হয়েছে। কিন্তু সবই কথার কথা। গত আট বছরে সিন্ডিকেট শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে গোটা রাজ্যটাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধেছে। আর বৈঠক ডাকলে যাঁরা কালীঘাটের ঘর আলো করে বসে থাকেন তাঁরাই সিন্ডিকেটের বড় বড় চাঁই, আশ্রয়দাতা। রক্ষকই যেখানে ভক্ষক সেখানে মানুষ সুবিচার পাবে কোথায়। আর তোলাবাজি আর সিন্ডিকেটের টাকার আসল শাঁসটা কোথায় কার পকেটে যায় তা কী কারও অজানা!
কিন্তু, এসব কিছুই যে সংসদীয় রাজনীতিতে চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের। এরাজ্যের পরিণাম আরও চিত্তাকর্ষক। ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে ৪২ আসনের মধ্যে ১৮টি আসন জিতে শাসক নেত্রীর ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলার জায়গায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শাসক পেয়েছে ২২ আসন। ব্যবধান কমছে। এটাকে সন্ধিক্ষণ বলব না তো বলব কাকে! স্লোগান উঠেছে ‘উনিশে হাফ, একুশে সাফ’। ভয়ঙ্কর আস্ফালন সন্দেহ নেই। তবে প্রতিপক্ষকেও সংযত হতে হবে। শান্তিশৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে বজায় রেখে, চিরাচরিত পরম্পরাকে সম্মান দিয়েই যা করার করতে হবে। না-হলে শুধু দল ভাঙিয়ে আর আস্ফালন করে বাংলার মানুষের সামগ্রিক আস্থা অর্জন করা যাবে না। তবে বাতাসের গতিপ্রকৃতি কিন্তু দ্রুত বদলাচ্ছে। আর তার জেরেই পালাবদলের ইঙ্গিতবাহী লোকসভা ভোটের ফলের দু’সপ্তাহ যেতে না-যেতেই রাজ্যটা যেন ক্রমেই বারুদের স্তূপে পরিণত হচ্ছে। হানাহানি, রক্তারক্তি বাড়ছে। একদল ক্ষমতা দখলের জন্য, গণতন্ত্রের ফের প্রতিষ্ঠার জন্য উদগ্রীব আর একদল ক্ষমতা ধরে রেখে বিরোধী-শূন্য রাজ্যটাকে বছরের পর বছর শাসন করার ছাড়পত্র পেতে মরিয়া।
সংঘাত সংঘর্ষ তাই অবশ্যম্ভাবী। ২০২১-এর বিধানসভা ভোট পর্যন্ত তাই আরও উত্তাল হবে রাজ্য। যার অনিবার্য পরিণতি সন্দেশখালি। যার অনিবার্য পরিণতি উত্তরবঙ্গের একাধিক ঘটনা। প্রতিরোধ হচ্ছে। মুখ বুজে গ্রামবাংলা আর কারও নির্দেশ মানতে রাজি নয়। পঞ্চায়েত ভোটে ৩৪ শতাংশ আসনে বিপক্ষরা প্রার্থী পর্যন্ত দিতে পারেনি। সবটাই হয়েছে একতরফা। গ্রামের মানুষের দাঁত ও চোয়াল চাপা প্রতিশোধই প্রতিফলিত হয়েছে গত ২৩ মে লোকসভা ভোটের ফলাফলে। সেই পরিণাম বেরনো ইস্তক এবং বিজেপির গোটা উত্তরবঙ্গ, বর্ধমান, মেদিনীপুর, হুগলি ও নদীয়ায় আশাতীত ফল করার পর একটা কথাই বারংবার শোনা যাচ্ছে যে বামেদের ভোটটা বিজেপিতে যাওয়ার জন্যই নাকি বিজেপি প্রায় রাজ্যের অর্ধেক লোকসভা আসন জিতে নিয়েছে। এসবই আসলে সিপিএমের নিজের নাক কেটে পরের যাত্রাভঙ্গ করার চক্রান্ত। যারা একথা বলছে, তারা একবারও ভেবে দেখছে না, সংসদীয় গণতন্ত্রে ভোট ও ভোটার কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। তাই এই ভোটটা বামেদের কেনা, একথা বলা চরম মূর্খামি ছাড়া আর কিছুই নয়। যদি ৪৯-৫০ শতাংশ ভোট এখনও বামেদের অটুট থাকত তাহলে কি ২০১১-র পরিবর্তন রূপ পেত, না আজ তৃণমূলের এত রমরমা হতো। কিছুতেই হতো না।
নদীর মতো ভোটেরও একূল ভাঙে আর ওকূল গড়ে। এরাজ্যে কংগ্রেস ও সিপিএম সম্মিলিতভাবেও এই মুহূর্তে প্রবল পরাক্রান্ত তৃণমূলের মোকাবিলা করতে পারবে না, একথা মানুষ জানে। তাই সমস্ত তৃণমূল-বিরোধী শক্তি আগামী দু’বছর আরও বেশি করে গেরুয়া ছাতার তলায় আশ্রয় নেবে, এর মধ্যে কোনও অতিশয়োক্তি নেই। এটাই বাস্তব। এবং, এই যুবসমাজের কাছে সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক বা দুনিয়ার মজদুর এক হওয়ার স্লোগান আজ পুরোপুরি ব্রাত্য। তৃণমূলকে শিক্ষা দিতে তাই বাম-কংগ্রেস কর্মীরাও বেশি বেশি করে আগামী দিনে নরেন্দ্র মোদির ‘দিদি আপকা জায়গির খতম হোনে বালা’ শব্দবন্ধেই ভরসা রাখবে। তাই সিপিএমের ভোট সাত শতাংশ থেকে আগামী বিধানসভায় দু’শতাংশে নেমে গেলেও আশ্চর্যের কিছু থাকবে না, আর কংগ্রেসের এক শতাংশেরও নীচে। শেষ প্রহরে মমতা ম্যাজিক বড় কিছু ওলটপালট না-করে দেখালে এ যাত্রায় লড়াই কিন্তু খুবই কঠিন। তার চেয়েও কঠিন এই উত্তাল সময়ে রাজ্যটাকে শান্ত রাখা। যেহেতু তিনি এই বাংলার অবিসংবাদিত জননেত্রী তাই বিজেপি ভুল চাল দিলে এবং অতি উৎসাহে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির মতো হঠকারী পথ নিলে কিন্তু ফল উল্টো হতে পারে। নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বার বার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ফের ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন লড়াই। ফল কী হবে তার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।
11th  June, 2019
সতর্ক প্রহরী
পি চিদম্বরম

ব্যারিস্টার ভি জি রো মাদ্রাজ হাইকোর্টের আইনজীবী ছিলেন। তিনি ছিলেন বাম-মনস্ক উদার। সমস্ত ধরনের বিজ্ঞানের ব্যবহারিক জ্ঞান, রাজনৈতিক শিক্ষা এবং শিল্প, সাহিত্য, নাটক প্রভৃতিকে জনপ্রিয় করে তুলতে তিনি পিপলস এডুকেশন সোসাইটি গড়েছিলেন।
বিশদ

একটু সময় দিন,
পাশে দাঁড়ান
হিমাংশু সিংহ

বামফ্রন্ট সরকার ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় আসার পরের বছরই ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলা। ভেসে গিয়েছিল একের পর এক জেলা, দক্ষিণবঙ্গের বড় বড় শহর। কলকাতাও রেহাই পায়নি সেই বিপর্যয়ের হাত থেকে।
বিশদ

31st  May, 2020
বিশ্বাসযোগ্যতা ও বলিষ্ঠ
পদক্ষেপের এক বছর
রাজনাথ সিং

যে কোনও দেশের ইতিহাসে পাহাড়প্রমাণ পরিবর্তন দেখার সুযোগ খুব কমই আসে। ২০১৪ সালে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এরকমই একটি বিরাট পরিবর্তন এসেছিল। দেশের মানুষ দুর্বল এবং দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনের হাত থেকে রেহাই পেতে চেয়েছিলেন।
বিশদ

30th  May, 2020
বন্দি যখন শিশুমন
তন্ময় মল্লিক

 ‘উফ, আর পারা যাচ্ছে না। কবে যে মুক্তি পাব?’ ‘কতদিন বাজার যাইনি। এইভাবে দমবন্ধ অবস্থায় থাকা যায়?’ ‘দিনরাত গাধার খাটুনি খাটছি। তার উপর তোদের জ্বালাতন। এবার ঠাস ঠাস করে চড়িয়ে দেব।’ লকডাউনের গৃহবন্দি জীবনে এমন সংলাপ আজ প্রায় ঘরে ঘরে।
বিশদ

30th  May, 2020
বাংলার দুর্ভাগ্য
সমৃদ্ধ দত্ত

এত বড় একটা সাইক্লোনে একটি রাজ্যের বৃহৎ অংশ একপ্রকার বিধ্বস্ত হয়ে গেল, অথচ গোটা দেশের কোনও দোলাচল নেই? প্রথমদিন ট্যুইটারে সমবেদনা জানিয়েই সকলে যে যার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেল? কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে রাজ্যটাকে পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর কোনও দৃপ্ত সহায়তা প্রতিজ্ঞাও তো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশদ

29th  May, 2020
ভাবুন, সুন্দরবন নেই আর উম-পুন
বয়ে গিয়েছে কলকাতার উপর দিয়ে!
হারাধন চৌধুরী

ভাঙা যায়নি অনুন্নয়নের ট্র্যাডিশন। সামান্য উন্নয়নেও তীব্র বৈষম্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। পরিণামে কোটি কোটি মানুষ কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন শত শত মাইল দূরে—চরম অনিশ্চয়তা আর বিপদকে সঙ্গী করে। অন্যদিকে, সঙ্কীর্ণ রাজনীতির বোড়ে হয়ে উঠেছেন দেশবাসীর প্রায় সকলে।
বিশদ

28th  May, 2020
‘আত্মসম্মান’ খ্যাত এক ভাঁড়ের রসিকতা
সন্দীপন বিশ্বাস 

অন্য দেশের রাজাদের মতো হবুরও আছে বিদূষক। অনেক বিদূষক তাঁর। তাঁদের তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তাঁরা সেই সব রাজ্যের প্রপালক। তাঁদের কাজ হল মহারাজ হবুর মুৎসুদ্দি করা। আর নানা ধরনের মন্তব্য করে অঙ্গরাজ্যের জনগণকে আনন্দ বিতরণ করা।  বিশদ

27th  May, 2020
মানবিকতার উপর
বিশ্বাসটা যেন রাখতে পারি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

একটা ঝড়... যা পথে বসিয়েছিল সরযূ মণ্ডলকে। জানতেও পারেননি, কোথায় উড়ে গিয়ে পড়েছিল তাঁর ছাদটা। কিন্তু সে দুঃখ ছাপিয়ে গিয়েছিল এক অন্য আতঙ্ক... নির্জলা মরতে হবে না তো? জলেই তার বসত, অথচ সে জল মুখে দেওয়া যায় না... তেষ্টা মেটে না।   বিশদ

26th  May, 2020
ব্যয় করো, ঋণ করো, টাকার জোগান বাড়াও 

পি চিদম্বরম: প্রধানমন্ত্রী গত ১২ মে ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, গত সপ্তাহে আমি সেটার বিশ্লেষণ করেছিলাম। বিগত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী পাঁচ দফায় বিস্তারিতভাবে যে ঘোষণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা পরে সেসব কাটাছেঁড়া করেছেন।   বিশদ

25th  May, 2020
মহামারীর সঙ্গে মহাপ্রলয়,
তবু বাংলা জিতবেই
হিমাংশু সিংহ

ইতিহাসের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলা। আমাদের বঙ্গভূমি। দেশভাগ, মন্বন্তর, বন্যা, মহামারী কিছুই আমাদের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। ভেঙে গিয়েও আবার ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমরা। নতুন ভোরের স্বপ্নে শুরু হয়েছে ফের পথ চলা।
বিশদ

24th  May, 2020
আত্মকেন্দ্রিক হোন,
কিন্তু স্বার্থপর নয়
তন্ময় মল্লিক

 করোনাকে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে। হু-এর এই ঘোষণার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। চীন, জাপান, আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, ইজরায়েল যাই দাবি করুক না কেন, বাস্তবটা হল, করোনা ভ্যাকসিন নাগালের ধারেকাছে নেই।
বিশদ

23rd  May, 2020
করোনা প্যাকেজের অশ্বডিম্ব!
মৃণালকান্তি দাস

 প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটির বিলাসবহুল বিমানের খবরটাই গিলে খেয়ে নিয়েছে করোনা সঙ্কট! খবরটা কী? এতদিন বোয়িং ৭৪৭ বিমানে বিদেশ সফরে যেতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খুব শীঘ্রই এর জায়গা নিতে আসছে বোয়িং ৭৭৭।
বিশদ

22nd  May, 2020
একনজরে
 সুখেন্দু পাল, বহরমপুর: সালাউদ্দিন পর্দার আড়ালে যেতেই রাজ্যে জেএমবির সংগঠন বিস্তারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল আব্দুল করিম। সামশেরগঞ্জে বসে সে বাংলাদেশেও জেএমবির সংগঠন মনিটরিং ...

জুরিখ, ৩১ মে: করোনা ভাইরাসের ওষুধ, ভ্যাকসিন ও পরীক্ষা করার কিট পাওয়া নিয়ে যাতে বৈষম্য তৈরি না হয়, তার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে একযোগে আর্জি জানাল ৩৭টি দেশ। মারণ এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন বাজারে চলে এলে তার পেটেন্ট নিয়ে লড়াই ...

চেন্নাই, ৩১ মে (পিটিআই): কেন্দ্রীয় সরকার ৩০ জুন পর্যন্ত শুধুমাত্র কন্টেইনমেন্ট জোনে লকডাউন চালানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা সত্ত্বেও মহারাষ্ট্র সরকার গত নির্দেশিকা বদলের কোনও ঘোষণা করেনি। ...

মৃণালকান্তি দাস, কলকাতা: চার্লস মিলারের গল্পটা জানেন তো? স্কটল্যান্ডে পড়াশোনা শেষে চার্লস ব্রাজিলে ফিরেছিলেনএকটি ফুটবল হাতে নিয়ে। সবাই জানতে চেয়েছিল, ‘ওই গোল জিনিসটা কী?’ উত্তর ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কোনও সুখবর আসতে পারে। কর্মক্ষেত্রে পদন্নোতির সূচনা। গুপ্ত শত্রু থেকে সাবধান। নতুন কোনও প্রকল্পের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস
১৮৭৪ - ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি বিলুপ্ত হয়।
১৯২৬- আমেরিকার মডেল, অভিনেত্রী ও গায়িকা মেরিলিন মনরোর জন্ম
১৯২৯- অভিনেত্রী নার্গিসের জন্ম
১৯৩৪ - কবি, নাট্যকার ও চিত্রনাট্যকার মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৬৪- সঙ্গীত পরিচালক ইসমাইল দরবারের জন্ম
১৯৬৮- মার্কিন লেখিকা ও সমাজকর্মী হেলেন কেলারের মৃত্যু
১৯৭০- অভিনেতা আর মাধবনের জন্ম
১৯৮৫ - ভারতীয় ক্রিকেটার দিনেশ কার্তিকের জন্ম।
১৯৯৬-ভারতের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীব রেড্ডির মৃত্যু
২০০১- নেপাল রাজপরিবারে হত্যাকাণ্ড। যুবরাজ দীপেন্দ্র গুলি করে হত্যা করে বাবা, মা, নেপালের রাজা বীরেন্দ্র এবং রানি ঐশ্বর্যসহ পরিবারের একাধিক সদস্যকে।
২০০২ - দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক হানসি ক্রোনিয়ের মৃত্যু,
২০০৯- রিও ডি জেনেইরো থেকে প্যারিস আসার পথে অতলান্তিক মহাসাগরে ভেঙে পড়ল এয়ার ফ্রান্সের এয়ারবাস এ ৪৪৭। মৃত ২২৮ আরোহী।



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.৭৯ টাকা ৭৬.৫১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৭৩ টাকা ৯৫.০৩ টাকা
ইউরো ৮২.৪৬ টাকা ৮৫.৫০ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
31st  May, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১ জুন ২০২০, সোমবার, দশমী ২৫/৫ দিবা ২/৫৮। হস্তা নক্ষত্র ৫০/১৮ রাত্রি ১/৩। সূর্যোদয় ৪/৫৫/৩৬, সূর্যাস্ত ৬/১২/৫৫। অমৃতযোগ দিবা ৮/২৮ গতে ১০/১৪ মধ্যে। রাত্রি ৯/৫ গতে ১১/৫৫ মধ্যে পুনঃ ১/২১ গতে ২/৪৭ মধ্যে। বারবেলা ৬/৩৬ গতে ৮/১৫ মধ্যে পুনঃ ২/৫৩ গতে ৪/৩৩ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১৩ গতে ১১/৩৪ মধ্যে।
১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১ জুন ২০২০, সোমবার, দশমী দিবা ১২/১৪। হস্তানক্ষত্র রাত্রি ১১/১। সূর্যোদয় ৪/৫৬, সূর্যাস্ত ৬/১৫। অমৃতযোগ দিবা ৮/৩০ গতে ১০/১৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/৮ গতে ১১/৫৮ মধ্যে ও ১/২২ গতে ২/৫০ মধ্যে। কালবেলা ৬/৩৬ গতে ৮/১৬ মধ্যে ও ২/৫৫ গতে ৪/৩৫ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১৫ গতে ১১/৩৫ মধ্যে।
৮ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
উত্তর প্রদেশে করোনা আক্রান্ত আরও ২৯৬, মৃত ৫ 
উত্তর প্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ২৯৬ জন। ...বিশদ

09:21:40 PM

মুম্বইয়ে করোনা আক্রান্ত আরও ১৪১৩, মৃত ৪০ 
মুম্বইয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১৪১৩ জন। মৃত ...বিশদ

09:12:55 PM

গুজরাটে করোনা আক্রান্ত আরও ৪২৩, মৃত ২৫ 
গুজরাটে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪২৩ জন করোনা আক্রান্ত ...বিশদ

08:55:01 PM

বন্ধ কামাক্ষ্যা মন্দির, হচ্ছে না অম্বুবাচী মেলাও 
আগামী ৩০ জুন অবধি বন্ধ থাকছে কামাক্ষ্যা মন্দির। এজন্য এবছর ...বিশদ

08:46:05 PM

দিল্লিতে করোনা রোগীর আত্মহত্যা 
দিল্লির বাটরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধ আত্মঘাতী। ৬৩ বছর ...বিশদ

08:33:43 PM

দিল্লিতে আরও ৯৯০ জন করোনা আক্রান্ত 
দিল্লিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯৯০ জন করোনা আক্রান্ত ...বিশদ

08:22:23 PM