Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভারতের রাজনীতিতে ‘গেম মেকার’
মৃণালকান্তি দাস

মেধাবী হলেই যে পড়ুয়ার জন্য মোটা বেতনের চাকরি নিশ্চিত, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। শুধু প্রতিভা থাকলে আর পরিশ্রমী হলেই হবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঠিকঠাক ‘গাইড’ না পাওয়ায় পড়ুয়ারা আজ আর সরকারি চাকরির লক্ষ্যভেদ করতে পারেন না। পড়ুয়াকে কিছু কায়দাকানুন শিখতে হয়। এরজন্য নিয়ম করে যেতে হয় কোচিং সেন্টারেও। অনেক ছাত্রছাত্রী তো স্কুল-কলেজে না গিয়ে কোচিংয়ে কোচিংয়ে ছুটে বেড়ান। কোচিংশিল্প এমন স্তরে পৌঁছেছে যে এর উপকারিতা এখন আর কেউ অস্বীকার করতে পারেন না। কোচিং সেন্টারগুলিও এখন এই পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা করেছে। বিহারের ছেলে প্রশান্ত কিশোর এ রকমই এক বিশেষ প্যাকেজের কোচিং সেন্টার খুলেছিলেন। তবে রাজনীতিবিদদের জন্য। নাম দিয়েছিলেন ‘ইন্ডিয়া পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’। গুজরাত, বিহার, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ— কোথায় নেই তাঁর ছাত্র। প্রধানমন্ত্রী মোদি, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, কংগ্রেস প্রধান রাহুল গান্ধী, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমেরেন্দ্র সিং আর হালের চমক অন্ধ্রের জগমোহন রেড্ডি—সবাই তাঁর ছাত্র। এক কথায় প্রশান্ত কিশোর এখন ভারতের ভোটগুরু। রাজনীতির ময়দানে ‘গেম মেকার’ হিসেবেই তাঁর উত্থান।
আফ্রিকায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের দায়িত্ব ছেড়ে ২০১১ সালে দেশে ফিরে এসেছিলেন। তারপর নির্বাচন কৌশলী হিসেবে কোচিং সেন্টার খুলে মিডিয়ায় প্রচার শুরু। রত্ন চিনতে ভুল করেননি মোদি। দ্রুত তাঁকে ডেকে পাঠান। তারপরেই তরুণ পেশাদারদের দল তৈরি করে গুজরাতে সুশাসনের প্রচার শুরু করেন। সেই দলের বেশিরভাগই আইআইটি-আইআইএমের স্নাতক। প্রশান্ত মোদিকে শেখান কীভাবে বিরোধীদের মোকাবিলা করতে হয়। কীভাবে হাসিমুখে না রেগে জবাব দিতে হয় অস্বস্তিকর প্রশ্নের। একেবারে ওয়ান টু ওয়ান কোচিং। মোদি ছিলেন খুবই সিরিয়াস অনুগত ছাত্র। ফলও পান হাতে হাতে। ২০১২-তে নরেন্দ্র মোদি যখন তৃতীয়বারের জন্য গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হন, সেই সময়েই লাইমলাইটে আসেন প্রশান্ত। রাজনৈতিক মহলে শোনা যায়, সেই বছর গুজরাতের ক্ষমতায় মোদিকে নিয়ে আসার পিছনে কাণ্ডারী ছিলেন প্রশান্ত কিশোরই। এরপরে প্রশান্তের সেই দল নিয়েই জাতীয় স্তরে প্রচারের কাজ শুরু করে দেন নরেন্দ্র মোদি। ‘চায়ে পে চর্চা’র সাড়া জাগানো প্রচারের ডিজাইন করেছিলেন প্রশান্তের দলের সদস্যরাই। ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোরকে সঙ্গে রাখেন মোদি, তবে তাঁর ছায়াসঙ্গীদের বলে দেন প্রশান্ত কিশোর কীভাবে কাজ করেন তার ফটোকপি করে রাখতে। প্রশান্ত যা যা বলেন, তা ছবিসহ অক্ষরে অক্ষরে টুকে রাখতে। বলে দেন, প্রশান্ত কিশোর না থাকলে যেন আমরা তাঁর অভাব অনুভব না করি। অমিত শাহ তাঁর দলবল নিয়ে সেই কাজটা করেন পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তার ফল হাতেনাতে পান মোদি। ঠিক এরপরেই মোদির হাত ছেড়ে দেন প্রশান্ত। বিজেপির এক সূত্রের খবর, প্রশান্ত নিজের আলাদা একটা দপ্তর খুলতে চেয়েছিলেন। এবং তা অনেকটা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মতোই। কিন্তু তাঁর সেই পরিকল্পনাকে বাতিল করে দিয়েছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
বিজেপির সঙ্গে বিরোধের কথা জানার পরে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে নীতীশ কুমার প্রশান্তের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২০১৫ সালের মার্চে নীতীশের জন্য নির্বাচনী কৌশল তৈরির দায়িত্ব পান প্রশান্ত। জেডিইউয়ের সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বে থাকা নেতারা ক্ষুব্ধ হন। কেউ কেউ দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদির প্রচারের অন্ধ অনুকরণ করছেন প্রশান্ত! প্রথমে ‘পর্চা পে চর্চা’ বা ‘ঘর ঘর দস্তক’ প্রচার করে তৃণমূল স্তরের খবর তুলে আনেন। নীতীশ কুমারের জন্য এলাকাভিত্তিক প্রাধান্য দিয়ে বক্তৃতা তৈরি করে দিয়েছেন। যাতে প্রতিটি মানুষের মনে হয়, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের কথাই ভাবছেন। নীতীশের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের জয়ের পথ তৈরিতে সেটা অনেকটাই সাহায্য করেছিল বলে মেনে নেন জেডিইউ নেতারাই। ২০১৫-র বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের রথ থামিয়ে দিয়েছিল জেডিইউ, আরজেডি এবং কংগ্রেসের জোট। সূত্রের খবর, বিহারের মন্ত্রিসভা গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন প্রশান্ত। তাঁকে সেই মন্ত্রিসভাতেও রাখা হয়েছিল। কিন্তু কোনও দপ্তর দেওয়া হয়নি। এরপর থেকে নাকি দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। জেডিইউ-এর এক সূত্রের দাবি, প্রশান্ত একসঙ্গে একাধিক দপ্তর সামলানোর পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতৃত্বের বিরোধিতায় নাকি সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
এরপরে পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে নামেন প্রশান্ত কিশোর। উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে সফল হননি। তিনি ডাক পান পাঞ্জাব থেকে। পাঞ্জাবের কংগ্রেসপ্রধান অমরেন্দ্র সিং তাঁকে বিহার থেকে নিয়ে যান নির্বাচনী উপদেষ্টা হিসেবে। কোচিং সেন্টার নিয়ে চলে যান প্রশান্ত। তাঁর রণনীতিতে বিপুল জয় পান ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিংহের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস। দেশজুড়ে মোদির দাপট এবং পাঞ্জাবে প্রবল প্রতিপক্ষ বিজেপি এবং আম আদমি পার্টিকে রুখে দিয়েছিলেন প্রশান্ত। ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১১৭টি আসনের মধ্যে ৭৭টিতে জিতে নেয় কংগ্রেস। অনেক অনেক বছর পর পাঞ্জাবে কংগ্রেস ফের ক্ষমতার মুখ দেখে। এই সময় উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনী রাজনৈতিক কৌশলেরও দায়িত্বে ছিলেন প্রশান্ত। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস নেতারা তাঁর কথা শুনতে রাজি ছিলেন না। প্রিয়াঙ্কাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রজেক্ট করে প্রচার কৌশল তৈরি করতে চেয়েছিলেন প্রশান্ত। তা শুনে রাজ্যের এক কংগ্রেস নেতা নাকি বলেছিলেন, ‘প্রশান্ত কিশোরকে দলের কৌশল নির্ধারণ এবং প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের সংগঠন এবং টিকিট বণ্টনের দায়িত্ব তাঁর নয়।’ কেউ কেউ এ কথাও বলেছিলেন যে, প্রশান্তের কাছ থেকে তাঁকে যদি রাজনীতি শিখতে হয়, তাহলে তিনি রাজনীতিই ছেড়ে দেবেন। এককথায় মোদি এবং নীতীশের সঙ্গে কাজের সময় প্রশান্ত যে স্বাধীনতা পেয়েছিলেন, উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসে সেই সুযোগ পাননি। কংগ্রেসও উত্তরপ্রদেশে আর ফিরতে পারেনি। এটাই ছিল প্রশান্ত কিশোরের প্রথম ব্যর্থতা। এর পর বেশ কিছু সময়ের জন্য আড়ালে চলে যান প্রশান্ত। তবে বসে থাকেননি। এরপর ডাক পেয়েছেন দক্ষিণের রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুতে। একের পর এক মাস্টারস্ট্রোকে সেখানেও কাজে সফল হয়েছেন।
মনে রাখবেন, বিজেপির সঙ্গে মিলেমিশে নির্বাচন আবার বিজেপি ছেড়ে লালুকে নিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়— সবই প্রশান্তের পরামর্শে আর কৌশলে। সময় নষ্ট করেননি নীতীশ কুমার। প্রশান্তকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে দেন। নীতীশ কুমারের হাত ধরে বিহারের রাজনীতিতে যোগ দেন নির্বাচনী-কৌশলকার। পরে এক সাক্ষাৎকারে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার স্বীকার করেছেন, প্রশান্ত কিশোরকে জেডিইউতে নিতে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ তাঁকে দু’বার টেলিফোনে অনুরোধ করেছিলেন। ২০১৮-র অক্টোবরে দলের সহ সভাপতি হিসেবে কাজ শুরু করেন প্রশান্ত। পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি। আরএসএস প্রভাবিত ছাত্র সংগঠন এবিভিপিকে দীর্ঘদিন পরে পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে হারিয়ে ছাত্র সংসদ সভাপতি পদে জেডিইউকে জেতান। এই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে জেতে জেডিইউ। লোকসভা নির্বাচনের বছরে দলের সঙ্গে যুবকদের জুড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন তিনি। আর নীতীশ কুমার বলছেন, ‘আমি বলছি শুনুন, প্রশান্তই ভবিষ্যৎ।’ বিহারের মাটি তাঁর হাতের তালুর মতো চেনা। এই বিহারেই ১৯৭৭ সালে জন্ম। পড়াশোনা বক্সার জেলায়।
প্রশ্ন উঠেছিল, সরাসরি রাজনীতিতে নেমে পড়ায় কি প্রশান্ত কিশোরের কোচিং সেন্টার বন্ধ হতে চলেছে? ভুল ভাঙিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে অন্য এক খেলা দেখিয়েছেন প্রশান্ত। সারা দেশ যখন মোদি মোদি করছে, তখন অন্ধ্রপ্রদেশে অন্য ভাও। জগনমোহনের উত্যুঙ্গ সাফল্যের অন্তরালে চাণক্যের ভূমিকায় সেই প্রশান্ত কিশোরই। এরজন্য হয়তো মনে মনে নীতীশ কুমারকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন জগন। কারণ, লোকসভা ভোটের হাওয়া উঠতেই জেডিইউতে প্রশান্তের সঙ্গে শুরু হয়েছিল টানাপোড়েন। নীতীশের দল জেডিইউ বিজেপি তথা এনডিএ জোটে শামিল হওয়া নিয়ে দু’জনের মধ্যে মতবিরোধ কার্যত চরমে উঠেছিল। জোটে শামিল করে বিজেপি যে ধীরে ধীরে জেডিইউকেই গ্রাস করতে চাইছে, এমন মতবাদ নীতীশকে বোঝাতে চেয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর। কিন্তু নীতীশ এই মতের সঙ্গে সহমত ছিলেন না। তার জেরে শেষ পর্যন্ত প্রশান্ত কিশোরকেই সরে যেতে হয়। এই সুযোগটাই নিয়েছিলেন অন্ধ্রের জগনমোহন।
প্রশান্তের বুথভিত্তিক সংগঠন তৈরি আর জুতসই স্লোগান দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়ার কৌশল হাতে হাতে ফল দিয়েছে। তাঁর প্রশিক্ষণেই অন্ধ্রের ওয়াইএসআর কংগ্রেসের প্রধান জগনমোহন রেড্ডি রাজ্যের ১৭৫টি বিধানসভা আসনের ১৫২টি আসনেই জয় পেয়েছেন। ২৫টি লোকসভা আসনের সব ক’টি তাঁর দখলে। ওয়াইএসআর জগন রেড্ডির সাফল্য নজর কেড়েছে গোটা দেশের। জগন-ঢেউয়ে ভেসে গিয়েছেন জাতীয় রাজনীতিতে উদিত হতে চাওয়া চন্দ্রবাবু নাইডু। গোটা অন্ধ্রপ্রদেশে কার্যত ধুয়ে মুছে সাফ তেলুগু দেশম পার্টি। দেশে নতুন শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি। মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে অন্ধ্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াইএস রাজশেখর রেড্ডির ছেলে জগনমোহন রেড্ডি।
শুধু অন্ধ্রের এই জয়ই নয়, সংসদেও এখন তৃতীয় বৃহত্তম দল (বিজেপি এবং কংগ্রেসের পরেই) জগনমোহনের ওয়াইএসআরসিপি। এই বিপুল জয়ের পরই প্রশান্ত কিশোর ধন্যবাদ জানিয়ে ট্যুইট করেছেন, ‘এই জয়ের জন্য অন্ধ্র এবং ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন বা আই-পিএসির (প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা) সহকর্মীদের ধন্যবাদ। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন ও আন্তরিক শুভেচ্ছা।’ শুনলে অবাক হবেন, অন্ধ্রপ্রদেশে এবার ১৫ মাসের পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছিলেন প্রশান্ত-জগন। তাঁদের মূল কৌশল ছিল সরাসরি মানুষ বা ভোটারদের সঙ্গে কথা বলা। প্রচারের স্লোগান ছিল ‘রাভালি জগন, কাভালি জগন’ (আমরা জগনকে চাই, জগনকে জিততেই হবে)। চন্দ্রবাবুকে আর বিশ্বাস নয়, এই দাবিও ছিল প্রচারের সুরে তালে। তাঁর নির্বাচনী থিম সং সংক্রামিত হয় দাবানলের মতো। পেজ ভিউয়ার ছিল ২.২৫ কোটি। আসলে, প্রশান্ত কিশোরের ক্ষুরধার রাজনৈতিক মস্তিষ্ককে পুরোদমে কাজে লাগান জগন। আর তাতেই বাজিমাত।
রাজনীতির রণকুশলী হিসেবে বিজেপি, কংগ্রেস, জেডিইউ, এসপি-র মতো বেশ কয়েকটি দলের হয়ে কাজ করেছেন প্রশান্ত। ফলে কোন রাজনৈতিক দলের বা রাজনীতিকের শক্তি বা দুর্বলতা কোথায় সবই তাঁর নখদর্পণে! দেশের মূল দলগুলি এবং তাদের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কাজ করার সুবাদে তাঁদের শক্তি, খামতি— কোনও কিছুই তাঁর অজানা নয়। বিজেপির শক্তিশালী-আধুনিক ‘ব্যাক অফিস’-এর ভাবনা এই প্রশান্তেরই। এখনও যাঁরা প্রশান্ত কিশোরদের ক্ষুরধার রাজনৈতিক মস্তিষ্ককে পাত্তা দেবেন না, তাঁদের চন্দ্রবাবুর মতোই ভরাডুবি নিশ্চিত!
07th  June, 2019
এবার মহালয়ার ৩৫ দিন পর
দুর্গাপুজো কেন, কী বলছে শাস্ত্র?
জয়ন্ত কুশারী
 

এবার মহালয়ার ৩৫ দিন পর দুর্গাপুজো কেন, কী বলছে শাস্ত্র?
‘মা বুঝি চইলাছে কোয়ারেন্টিনে...’ বরেণ্য লোকগীতি শিল্পী অমর পাল জীবিত থাকলে বুঝি এমনটাই গাইতেন। যদিও তিনি গেয়েছিলেন, ‘মা বুঝি কৈলাসে চইলাছে...’ 
মহালয়া থেকে সপ্তমী, দিন পঁয়ত্রিশের এই ব্যবধান পাল্টে দিল এমন একটি গানের লাইন। আসলে মানুষের মুখে মুখে এখন যে ফিরছে এই কথাটি। 
বিশদ

কেন্দ্রের কথার খেলাপ, রাজ্যগুলোর অর্থাভাব
পি চিদম্বরম

কর ব্যবস্থার ক্ষেত্রে পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) একটা ভয়ানক লড়াই হয়ে উঠেছে। যে অর্থনীতিতে পূর্বাহ্নেই দ্রুত পতনের সূচনা হয়েছিল, সেটা যখন মহামারীতে আরও বিধ্বস্ত হল তখন কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বিরাট বিচক্ষণতার পরিচয় দেওয়া উচিত ছিল। 
বিশদ

অর্থনীতিই নয়, ভয়াবহ বিপর্যয় বিদেশনীতিরও
হিমাংশু সিংহ

২০১৪ থেকে ২০২০। মাঝে মাত্র ৬ বছর। দুর্বল না হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী শক্তিশালী একনায়ক হলে রাষ্ট্রের বিপদ কী কী? এই ক’বছরেই তার মোক্ষম উত্তর পেয়ে গিয়েছে দেশ। এমনকী পরিস্থিতি আজ এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে, এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সরকারি অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদির সঙ্গে নরেন্দ্রনাথ দত্তের তুলনা টানছেন বুক ফুলিয়ে।  
বিশদ

20th  September, 2020
কুকথায় হাততালি জুটলেও
দূরে সরে যায় মানুষ 
তন্ময় মল্লিক

রুটি সেঁকার জন্য তাওয়া গরম করতে হয়। আবার সেই তাওয়া বেশি তেতে গেলে রুটি যায় পুড়ে। তখন খাবারের থালার বদলে রুটির জায়গা হয় ডাস্টবিনে। রাজনীতিতেও তেমনটাই। কর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য নেতারা গরম গরম ভাষণ দেন। কিন্তু তা মাত্রা ছাড়ালে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়।  
বিশদ

19th  September, 2020
বাংলার সমাজ ও
রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণ
সমৃদ্ধ দত্ত

সেদিন বিকেলে তাঁকে ভেন্টিলেটরে নিয়ে যাওয়া হবে। কারণ, প্রবল শ্বাসকষ্ট। অক্সিজেন দিলেও কাজ হচ্ছে না তেমন। এইমস ডাক্তাররা বুঝলেন পরিস্থিতি ভালো নয়। অনেকদিন হয়ে গেল কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন।   বিশদ

18th  September, 2020
‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর
রূপকার নরেন্দ্র মোদি
যোগী আদিত্যনাথ

রাজা কালস্য কারণম্‌। মহাভারতের ‘শান্তিপর্ব’-এ যুধিষ্ঠিরকে উপদেশ দিতে গিয়ে পিতামহ ভীষ্ম এই কালজয়ী কথাটি বলেছিলেন। কথাটি পিতামহ নিজের লোকদের বলেছিলেন বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এর ভিতরে এই ভারতের সবার জন্যই একটি জোরালো বার্তা তিনি রেখে গিয়েছেন।  বিশদ

17th  September, 2020
কাজ দাও, মুলতুবি রাখো
গ্রেট গেরুয়া সার্কাস
হারাধন চৌধুরী

দু’দশক যাবৎ ভারতীয় মিডিয়ায় সার্কাসের এলিজি বা শোকগাথা লেখা হচ্ছে। বেশিরভাগ লেখা ভারী হয়ে উঠছে জোকারদের জন্য সহমর্মিতায়। জোকারের জীবন কঠিন। কেউ শখ করে জোকার হয় না। কারও কারও জীবনখাতায় এই ভবিতব্যই লেখা থাকে।  বিশদ

17th  September, 2020
 কোনও প্রশ্ন নয়, নো কোয়েশ্চেনস!
সন্দীপন বিশ্বাস

 মোদি, অমিত শাহ তথা বিজেপি নেমে পড়েছে বিহার জয়ে। সেখানে অবশ্য নীতীশের হাত ধরে বিজেপিকে ভোট বৈতরণী পার হতে হবে। সেখানে রাজপুত ভোট আর ক্ষত্রিয় ভোট নিজেদের বাক্সে আনতে বিজেপিকে খেলতে হল দু’টি খেলা। একজনকে ডাইনি বানানো হল, অন্যজনকে দেবী বানানো হল।
বিশদ

16th  September, 2020
 সত্যিটা দেখলাম না... দেখানো হল না
শান্তনু দত্তগুপ্ত

এতকিছুর পরও আমেরিকার অর্থনীতি ধাক্কা খেল না। ট্রাম্প বুঝেছিলেন, ব্যবসাটা তিনি জানেন। করোনা ভাইরাসকে নয়। কাজেই শক্তিশালী অর্থনীতিকে বসিয়ে দেওয়ার মানে হয় না। করোনা আজ না হয় কাল কমবে। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে বছর লেগে যাবে। বিশদ

15th  September, 2020
ফেসবুক দিয়ে ঘৃণা-বিদ্বেষ
ছড়ালে কার লাভ হয়?

২০১৯। সাধারণ নির্বাচনের আগে একটি কাগজের হেডলাইন ছিল ‘গুগল কি ভারতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে?’ খবরটা বেরনোমাত্রই ‘গুগল’ অস্বীকার করেছিল। কিন্তু অন্যকিছু সংস্থা টের পায়, গুগলে যেভাবে প্রার্থীদের সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে সেই তথ্য একটু সংশ্লেষণ করলে দ্বিধান্বিত ভোটারদের সহজেই প্রভাবিত করা সম্ভব।
বিশদ

15th  September, 2020
দমনমূলক ফেডারালিজম চলছে
পি চিদম্বরম

এটা পরিষ্কার যে মোদি সরকার এবার তার বিপুল গরিষ্ঠতাকে ব্যবহার করবে। রাজ্যগুলির মতামতের কোনও তোয়াক্কা করবে না। ইচ্ছেমতো সংশোধনী পাশ করিয়ে নেবে। ফেডারালজিমকে আরেকটি ধাক্কা দেবে। ‘এক জাতি, এক সবকিছু’ পরিণামে ‘এক জাতি’কে ধ্বংস করে ছাড়বে।
বিশদ

14th  September, 2020
নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে
স্কুলশিক্ষার সর্বনাশ হবে
প্রদীপকুমার দত্ত

 সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নত করে শিক্ষাকে সব মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা বরাদ্দের কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এই শিক্ষানীতিতে নেই। বরং এই শিক্ষানীতি শিক্ষার বেসরকারিকরণের পথকেই প্রশস্ত করবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য আরও বাড়বে।
বিশদ

14th  September, 2020
একনজরে
সংবাদদাতা, বালুরঘাট: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় দলীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সঙ্গে নিতে হবে বিপ্লব মিত্রকে। কলকাতায় বৈঠকে রাজ্য নেতৃত্বের তরফ থেকে জেলা নেতৃত্বকে এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।  ...

লন্ডন: করোনা রুখতে কঠোর জরিমানার পথে হাঁটতে চলেছে ব্রিটেন। সেল্ফ আইসোলেশনে না থাকলে করোনা আক্রান্তকে ১০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হবে বলে শনিবার ঘোষণা করেছে বরিস জনসন সরকার।  ...

জীবানন্দ বসু, কলকাতা: রাজ্যের চটকল শ্রমিকদের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের প্রতি এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বিশেষ নজর দিতে চলেছে। শ্রমিকদের চাকরির স্থায়িত্ব এই শিল্পের অন্যতম এবং বহু পুরনো সমস্যা হওয়ায় আপাতত তার সমাধানকেই পাখির চোখ করেছে শ্রমদপ্তর।   ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সিইএসসির অফিসার বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করল জোড়াসাঁকো থানার পুলিস। ধৃতের নাম মোহাম্মদ সুলেমান। বাড়ি তিলজলা এলাকায়। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে সিইএসসির জাল রসিদ।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

সম্পত্তিজনিত মামলা-মোকদ্দমায় জটিলতা বৃদ্ধি। শরীর-স্বাস্থ্য দুর্বল হতে পারে। বিদ্যাশিক্ষায় বাধাবিঘ্ন। হঠাকারী সিদ্ধান্তের জন্য আপশোস বাড়তে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস
১৮৬৬: ব্রিটিশ সাংবাদিক, ঐতিহাসিক ও লেখক এইচ জি ওয়েলসের জন্ম
১৯৩৪: জাপানের হনসুতে টাইফুনের তাণ্ডব, মৃত ৩ হাজার ৩৬ জন
১৯৪৭: মার্কিন লেখক স্টিফেন কিংয়ের জন্ম
১৯৭৯: ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার ক্রিস গেইলের জন্ম
১৯৮০: অভিনেত্রী করিনা কাপুর খানের জন্ম
১৯৮১: অভিনেত্রী রিমি সেনের জন্ম
১৯৯৩: সংবিধানকে অস্বীকার করে রাশিয়ায় সাংবিধানিক সংকট তৈরি করলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন
২০০৭: রিজওয়ানুর রহমানের মৃত্যু
২০১৩: কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে ওয়েস্ট গেট শপিং মলে জঙ্গি হামলা, নিহত কমপক্ষে ৬৭



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭২.৮৯ টাকা ৭৪.৬০ টাকা
পাউন্ড ৯৩.৫৫ টাকা ৯৬.৯১ টাকা
ইউরো ৮৫.১০ টাকা ৮৮.২১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
19th  September, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৫২,৩৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৯,৭০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৫০,৪৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৬,৭৪০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৬,৮৪০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
20th  September, 2020

দিন পঞ্জিকা

৫ আশ্বিন ১৪২৭, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, পঞ্চমী ৪৫/৩৬ রাত্রি ১১/৪৩। বিশাখানক্ষত্র ৩৮/২১ রাত্রি ৮/৪৯। সূর্যোদয় ৫/২৮/৩৬, সূর্যাস্ত ৫/৩০/৫৪। অমৃতযোগ দিবা
৭/৪ মধ্যে পুনঃ ৮/৪১ গতে ১১/৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/৫৫ গতে ১১/৬ মধ্যে পুনঃ ২/১৭ গতে ৩/৫ মধ্যে। বারবেলা ৬/৫৯ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ২/৩০ গতে ৪/০ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/০ গতে ১১/৩০ মধ্যে।  
৪ আশ্বিন ১৪২৭, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, চতুর্থী দিবা ৭/৩৭ পরে পঞ্চমী শেষরাত্রি ৫/১৭। বিশাখানক্ষত্র রাত্রি ৩/১। সূর্যোদয় ৫/২৮, সূর্যাস্ত ৫/৩৩। অমৃতযোগ দিবা ৭/৭ মধ্যে ও ৮/৪১ গতে ১১/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪২ গতে ১০/৫৯ মধ্যে ও ২/১৭ গতে ৩/৬ মধ্যে। কালবেলা ৬/৫৯ গতে ৮/২৯ মধ্যে ও ২/৩২ গতে ৪/২ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১ গতে ১১/৩১ মধ্যে।  
মোসলেম: ৩ শফর। 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
৮ সাংসদকে সাসপেন্ডের তীব্র প্রতিবাদ মমতার 
কৃষি বিল নিয়ে প্রতিবাদে মুখর হওয়ায় ডেরেক ও’ব্রায়ান, দোলা সেন ...বিশদ

12:26:02 PM

অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীকে খুনের অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে 
অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিল কিশোরী। তাই নিয়ে বচসা চলাকালীন কাঠের আঘাতে ...বিশদ

12:08:51 PM

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হাঁসখালি থানার এক এসআইয়ের  
রাজ্যে আরও এক পুলিস কর্মীর প্রাণ নিল করোনা। মৃত্যু হল ...বিশদ

12:04:17 PM

আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা রোড বাজারে অভিযান পুলিসের 

11:56:00 AM

গর্ভের সন্তান ছেলে কি না জানতে স্ত্রীর পেট কাটল যুবক, গ্রেপ্তার 
পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার আরও এক ঘৃণ্য নজির সৃষ্টি করল উত্তরপ্রদেশের বুদানের ...বিশদ

10:40:05 AM

আরও ২ জঙ্গির খোঁজ পেল এনআইএ
ধৃত আল-কায়েদা জঙ্গিদের জেরা করে মুর্শিদাবাদে আরও ২ জঙ্গির খোঁজ ...বিশদ

10:34:45 AM