Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

অবিজেপি ভোটে বাজিমাত
বিজেপির, এবং তারপর...
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আলোড়ন! নিঃসন্দেহে একটা জবরদস্ত আলোড়ন উঠেছে। লোকসভা ভোটফল প্রকাশ হওয়া ইস্তক সেই আলোড়নের দাপটে রাজ্য-রাজনীতি থেকে সাধারণের অন্দরমহল জল্পনা-কল্পনা, বিবাদ-বিতর্ক, আশা-আশঙ্কায় যাকে বলে রীতিমতো সরগরম! পথেঘাটে আকাশে বাতাসে যেখানে সেখানে ছিটকে উঠছে উৎকণ্ঠা নানান জিজ্ঞাসা। আর সেই শতসহস্র জিজ্ঞাসার মধ্যে ঘুরে ফিরে একটাই সবচেয়ে বড় হয়ে ঘুরে ফিরে আসছে—সবুজ ঘাসফুলের একচ্ছত্র রাজ্যে কীভাবে গেরুয়া রথ এতদূর এল, মমতার সর্বব্যাপ্ত প্রভাব প্রতিপত্তির দেশে কী করে ফুটল এত পদ্ম! ফুটল কেন? এবং তার সঙ্গেই উঠে আসছে সংশয় সন্দেহ—তবে কি এবার ইভিএমে সত্যিই কোনও ছুমন্তরের খেলা ছিল, নাকি গদ্দারি করেছে নিজেদের লোক! নাকি গোটাটাই বাম-কংয়ের লীলা! হিসেব কষতে কষতে দিনরাত কাবার হয়ে যাচ্ছে—কিন্তু কেউই যেন শত শতাংশ নিশ্চিত হতে পারছেন না! কী ঝকমারি!
এদিকে ভোট মিটতেই আঠারোর বাদ্যি বাজিয়ে কার্যত দখল যুদ্ধে নেমে পড়েছে বিজেপি। একদিকে গেরুয়া ঢেউ আছড়ে পড়ছে রাজ্যের নানা প্রান্তে। তৃণমূলের সবুজ পার্টি অফিস রাতারাতি রং পাল্টে গেরুয়া ধারণ করছে, রং পাল্টানো নিয়ে ধস্তাধস্তি মারামারি রক্তারক্তি হচ্ছে, মন্ত্রীর সামনে আঙুল উঁচিয়ে চলছে প্রতিবাদ, গো-ব্যাক স্লোগান, পুরসভার চেয়ারম্যানের টেবিল চাপড়ে ফেটে পড়ছে জমানো ক্ষোভ, ব্যারাকপুর কাঁচরাপাড়া ভাটপাড়ায় গেরুয়া দাপটে সন্ত্রাসের তাপ ঝলসাচ্ছে, শাসক তৃণমূলের হাত ছাড়িয়ে গোটা পুরসভা চলে যাচ্ছে গেরুয়া কব্জায় এবং আরও কত কীই না হচ্ছে! সংশ্লিষ্ট এলাকায় এতদিনের প্রবল প্রতাপ তৃণমূলকেও মাঝেমধ্যে কেমন যেন একটু অসহায় অস্থির দেখাচ্ছে! অন্যদিকে, ভোটফলে অভূতপূর্ব সাফল্যের পর পদ্মদলে ‘চাণক্য’ শিরোপা পাওয়া মুকুল রায়ের কার্যক্রম নিয়েও যেন একটা কী হয় কী হয় ভাব ছড়িয়েছে। রাজ্য রাজনীতির মহলে তো বটেই সাধারণ মানুষের মধ্যেও ‘এর পর কে, কোনও রথী না কোনও মহারথী’—নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। তার ওপর মুকুল রায় অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের তরফে দফায় দফায় যে সব চেতাবনি উড়ে আসছে—তৃণমূলের মন্ত্রী বিধায়ক কাউন্সিলার নেতা উপনেতা ছোটনেতাদের গেরুয়া ধারণের যে লম্বা অপেক্ষা-লিস্টের কথা বলা হচ্ছে এবং সর্বোপরি রাজ্য বিধানসভা ভোট এগিয়ে এনে পদ্মশাসন কায়েমের যে সম্ভাবনা গণপরিসরে ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাতে রাজ্যের রাজনৈতিক প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সর্বস্তরেই কৌতূহল উত্তেজনা উদ্বেগ যে ক্রমবর্ধমান তাতে কিছুমাত্র সন্দেহ নেই।
মানতেই হবে, এসবের সম্মিলিত চাপে যথেষ্ট অস্বস্তিতে শাসক তৃণমূলও। আর তাতে আশ্চর্যেরও কিছু নেই। বলতে কী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে এমন রাজনৈতিক আলোড়ন, শাসকের সঙ্গে এমন জোরালো টক্কর তো এককথায় সত্যিই নজিরবিহীন। মুকুল রায়ের দলভাঙানোর কৌশলও একদিক থেকে শাসকদলকে বেশ অসুবিধেয় ফেলছে। অর্জুন সিং কি তাঁর মতো কয়েকজন দল ছাড়লে এত বড় একটা দল বিশেষত যার সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো জননেত্রী—তার বিশেষ কিছু যায় আসে না। বাস্তবিকই তাই। কিন্তু, বিজেপির ১৮ প্রাপ্তি ও এই দলবদলুদের উদাহরণ করে মমতা বিরোধীরা যে বোঝাতে শুরু করেছেন, এ হল তৃণমূলরাজের ওপর রাজ্যবাসীর অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ! তাঁরা এবার বিকল্প চাইছেন। এমন বোঝানোতে যাঁরা বুঝবেন তাঁদের রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা যেতেই পারে। কেননা, লোকসভা ভোট এবং রাজ্য বিধানসভা ভোট যে প্রকৃতিগতভাবে আলাদা এবং দুই ক্ষেত্রে একই ভোটদাতার মানসিক বিচারবুদ্ধিও যে একভাবে কাজ করে না—সেটা অতীতে কিন্তু প্রমাণিত। ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা-আবেগ ভোটে কংগ্রেসের রেকর্ড আসনে জয়ের পর অনেক বোদ্ধাই ভেবেছিলেন ১৯৮৭ সালের বিধানসভা ভোটে সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামেদের হটিয়ে ফের একবার কংগ্রেস ঘুরে দাঁড়াবে, ১৯৭২ সালের কলঙ্ক মুছে পশ্চিমবঙ্গে আবার কংগ্রেস-রাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। হয়নি। ১৯৮৪ লোকসভা ভোটে পূর্ববর্তী লোকসভার ১২ আসন ও প্রায় ৫ শতাংশ ভোট খুইয়ে মাত্র ২৬ আসন এবং ৪৭.৬ পাওয়া সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামেরা ২৫১ আসন ও ৫৩ শতাংশ ভোটের বিপুল ক্ষমতা নিয়ে ফিরে এসেছিল ১৯৮৭-র বিধানসভায়! তবে, এই বোঝানোর ভবিষ্যৎ ফলটিকে সন্দেহ করতেই হয়! এবং এক্ষেত্রে আমার মনে হয়, বরং সন্দেহ করে ভুল করা ভালো, সন্দেহ না করে ভুল করা মারাত্মক— এই তত্ত্ব মানাটাই বিধেয়। কেননা, মহাপুরুষেরা বলেছেন, মানুষের মন, বিচলিত হইতে কতক্ষণ!
আর এবার এ রাজ্যের লোকসভা ভোটে বিজেপির অভূতপূর্ব সাফল্যের পিছনে এই বিচলিত মন মানুষের ভূমিকা কতটা গুরুতর তা তো পরিসংখ্যানেই প্রমাণিত। বিগত লোকসভার চেয়ে যে ২২ শতাংশ ভোট বেশি পেয়ে বিজেপি আজ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রাঙ্গণে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে তার মধ্যে কটা তাঁদের নিজস্ব ভোট মানে গেরুয়া শিবিরের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ, কমিটেড? বুকে হাত দিয়ে কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায় থেকে শুরু করে দিলীপ ঘোষ কেউই খুব জোর দিয়ে বলতে পারবেন না। বরং, সাধারণ ধারণা দাঁড়িয়েছে এই যে মূলত সিপিএমের বামমনস্ক ভোট (সিপিএমের ভোট কমেছে ২২ শতাংশ) এবং সঙ্গে কংগ্রেসের হতাশ ভোট (ভোট কমেছে ৪.৫ শতাংশ) আর তৃণমূলের সামান্য কিছু বিভ্রান্ত ভোট (তৃণমূলের ভোট ৬ শতাংশ বেড়েছে জেনেও) মিলেমিশেই ওই ২২ শতাংশের বিকাশ। অর্থাৎ, অবিজেপি ভোটে বাজিমাত করেছে বিজেপি। কিন্তু, তারপর? তারপরই শুরু হয়ে গেছে তোলপাড়। বারাকপুর, নৈহাটি, কাঁচরাপাড়া থেকে কোচবিহার জঙ্গলমহলের নানা জেলা মায় কলকাতা ও তার সন্নিহিত এলাকায় শাসক তৃণমূলের সঙ্গে সমানে সমানে শক্তি প্রদর্শনে নেমে পড়েছে গেরুয়াবাহিনী। আমাদের রাজ্যে অবশ্য, ভোট পরবর্তী এই সন্ত্রাস একটা রীতি রেওয়াজের মতো।
কিন্তু সমস্যা হল, যে নির্বাচনটা গেল সেটা দেশের সরকার গড়ার নির্বাচন এবং সেখানে যাবতীয় হিসেবপত্তর উল্টে দিয়ে প্রায় নজিরবিহীন জয় পেয়েছে বিজেপি এবং মোদিজির নেতৃত্বে দেশে একটা জবরদস্ত সরকার কায়েম করেছে। সেই সরকারে পশ্চিমবঙ্গের ১৮ আসনের অভাবিত সাফল্যও নিশ্চয়ই আলাদা সমীহ পাবে। আপাতত দু’জন মন্ত্রী ভবিষ্যতে বেড়ে যেতেও পারে সংখ্যায়। কিন্তু, এ রাজ্যে বিজেপির মূল লক্ষ্য তো বিধানসভা। নিয়ম মোতাবেক ২০২১ সালে বিধানসভার ক্ষমতা দখলের যুদ্ধ হওয়ার কথা। মাঝে আছে কলকাতা সমেত রাজ্যের পুরসভাগুলোর নির্বাচন। ভোটে ভোটে সময়ের ব্যবধান রাজনৈতিক প্রস্তুতির দিক থেকে দেখলে খুব বেশি নেই। এমন পরিস্থিতিতে নবজাগ্রত বিজেপি এ রাজ্যে যে চড়া সুরে তাদের রাজনীতির তার বেঁধেছে তা ওই অবিজেপি ভোটের প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হচ্ছে তো? বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে নৈহাটি, কাঁচরাপাড়ায় বা রাজ্যের অন্যত্র গেরুয়া নিশান ওড়ার পরে পরিস্থিতির যে অগ্নিগর্ভ রক্তঝরা সন্ত্রস্ত রূপ দেখা যাচ্ছে, তা নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের বলিষ্ঠ সূচক হিসেবে চিহ্নিত হতেই পারে কিন্তু বাংলার শান্তিপ্রিয় মানুষজনের কাছে নতুন দলের সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা পাঠাচ্ছে তো!? মনিরুল ইসলামের মতো বিতর্কিত তৃণমূলীকে দলে নেওয়ার পর হাওড়ার বিজেপি প্রার্থী রন্তিদেব সেনগুপ্ত প্রতিবাদে মুখর হয়েছিলেন। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও অসন্তোষ আড়াল করেননি। ফলে, মনিরুল ইসলামের পদ্মসফর শেষপর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হল না। এতে বীরভূমের সাধারণ মানুষের কাছে একটা ভালো বার্তা হয়তো গেল। কিন্তু, সেইসঙ্গে রাজ্য বিজেপিতে মুকুল রায় বিজয়বর্গীয়দের সঙ্গে দিলীপ-রন্তিদেবদের দলীয় লাইনগত বোঝাপড়ার ঘাটতিটাও কি উঠে এল না? প্রশ্নটা কিন্তু তুলছেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের আরও বক্তব্য, মনিরুলের সাম্প্রতিকে তেমন কোনও সক্রিয়তাই তো ছিল না, যা ছিল সব অতীতে ছিল। কিন্তু বর্তমানে বারাকপুর নৈহাটি ভাটপাড়ায় যা চলছে তা তো ভয়ঙ্কর! সে ব্যাপারে বিজেপি নেতৃত্ব নীরব কেন!? তাহলে কি বিজেপিতেও আসন জেতাটাই সব! পরবর্তীতে সেই জয়ের জোরে যা ইচ্ছে করা যায়!
অবিজেপি ভোটকে বিজেপিতে স্থায়ী করে আগামী বিধানসভা যুদ্ধে কিছু করে দেখাতে হলে কিন্তু এই প্রশ্নের জবাব অবিলম্বে খুঁজে দিতে হবে আম জনতাকে। কেননা, বিজেপির সবচেয়ে বেশি সমর্থন মিলেছে বাম-মনস্কদের কাছ থেকে। সাধ করে তাঁরা বিজেপির বাক্স ভরাননি। ২০১৪ সালে বামেদের বাক্স ভরিয়েও (৩০ শতাংশ প্রায়) মাত্র ০২! সেই হতাশা আর চলতি সরকারের কাজকর্মে অসন্তোষ মিলেমিশে তাদের টেনেছে পদ্মে। অবিজেপি সেই ভোটকে পরের নির্বাচনগুলোতে পাশে পেতে হলে বিজেপির কর্মকাণ্ডে সংযম শান্তি ফেরাতেই হবে। মনিরুলের মতো কে দলে এল গেল তাতে মানুষ ভাবিত নয়। ভাবিত তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে। সেখানে যদি সন্ত্রাসের বাতাবরণ দীর্ঘস্থায়ী হয় আর তার জন্য অভিযোগের অধিকাংশ তির বিজেপির দিকে ধায় তাহলে ওই অবিজেপি মানুষজনের গেরুয়া বিশ্বাস শেষঅবধি কতদূর বজায় থাকবে তা নিয়ে রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞজনেরাও নিশ্চিত নন। এমন পরিস্থিতিতে বলতে কী, ওই বিপুল অবিজেপি ভোট ধরে রাখাটাই রাজ্যে বিজেপির কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ভোট এগিয়ে এনে সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে চাইছেন পদ্ম নেতৃত্বের একাংশ। অন্তত খবর তেমনই। কিন্তু প্রশ্ন হল, কেবল
ভোট এগিয়ে এনে কি ওই চ্যালেঞ্জ জেতা যাবে?
06th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
মোদিজি কি ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পারবেন?
পি চিদম্বরম

 নরেন্দ্র মোদি এবার যে জনাদেশ পেয়েছেন তা অনস্বীকার্যভাবে বিপুল। যদিও, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে একটি পার্টি ৩০৩-এর বেশি আসন জেতার একাধিক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ৩৫৩ এবং ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী ৪১৫ পেয়েছিলেন।
বিশদ

10th  June, 2019
 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

 কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
বিশদ

09th  June, 2019
ইচ্ছে-ডানায় নাচের তালে
অতনু বিশ্বাস

এ বছরের সিবিএসই পরীক্ষার ফল বেরতে দেখা গেল, প্রথম হয়েছে দু’টি মেয়ে। একসঙ্গে। ৫০০-র মধ্যে তারা পেয়েছে ৪৯৯ করে। দু’জনেই আবার আর্টসের ছাত্রী। না, পরীক্ষায় আজকাল এত এত নম্বর উঠছে, কিংবা আর্টস বিষয় নিয়েও প্রচুর নম্বর তুলে বোর্ডের পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক করা যায় আজকাল—এগুলোর কোনওটাই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।
বিশদ

08th  June, 2019
ভারতের রাজনীতিতে ‘গেম মেকার’
মৃণালকান্তি দাস

মেধাবী হলেই যে পড়ুয়ার জন্য মোটা বেতনের চাকরি নিশ্চিত, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। শুধু প্রতিভা থাকলে আর পরিশ্রমী হলেই হবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঠিকঠাক ‘গাইড’ না পাওয়ায় পড়ুয়ারা আজ আর সরকারি চাকরির লক্ষ্যভেদ করতে পারেন না।
বিশদ

07th  June, 2019
কর্ণাটক পুরনির্বাচন: আবার উল্টালো ভোটফল
শুভময় মৈত্র 

নির্বাচনে ভোটফল নিয়ে কখন যে কী ঘটছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না মোটেই। মানুষ অবশ্যই মত বদলাবেন। সে স্বাধীনতা তাঁদের আছে। সে জন্যেই তো ভোটফল বদলায়। নাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনও অর্থই থাকে না।  
বিশদ

04th  June, 2019
বাংলায় রামবোকামির মরশুম
হারাধন চৌধুরী 

আমার মামার বাড়ি ভারত-বাংলাদেশের একটি সীমান্ত গ্রামে। বলা বাহুল্য, আমার মায়ের জন্ম দেশভাগের অনেক আগে। স্বভাবতই তাঁর স্মৃতির অনেকখানি জুড়ে ছিল অখণ্ড ভারতীয় গ্রামদেশ ও তার সংস্কৃতি। ১৯৪৭-এ মায়ের শৈশবের গ্রামের উপর দিয়েই ভাগ হয়ে গিয়ে ভারতের ভূগোল এবং ইতিহাস খুলেছিল এক নতুন অধ্যায়। 
বিশদ

04th  June, 2019
বিভাজনের ঘোলা জলে হারিয়ে যাচ্ছে বিকাশ
সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

এক জার্মান দার্শনিক হিটলারের আমলে আমাদের সচেতন করেছিলেন এই বলে—তোমরা সবাই ছোট মানুষ (লিটল ম্যান) তোমাদের কোনও প্রশ্নের অধিকার আছে কি? বৃহৎ রাষ্ট্রযন্ত্রে তোমাদের অস্তিত্বটা কোথায়! তা কী অনুধাবন করতে পেরেছ? নাটবল্টুদের কোনও প্রশ্ন থাকা উচিত নয়।
বিশদ

03rd  June, 2019
সবকা বিকাশ কীভাবে হতে পারে
পি চিদম্বরম

 বিপুল জনসমর্থন সবসময় আশীর্বাদ হয় না, একটি দুর্বলতর বিরোধী শাসনকার্যকে আরও দুঃসহ করে তোলে এবং উপর্যুপরি দু’দফায় ক্ষমতালাভ শাসকের অজুহাত খাড়া করার সুযোগ কেড়ে নেয়। আমি নিশ্চিত যে মানুষের বিরাট প্রত্যাশা আর তাঁর মন্ত্রিসভার উপর কতখানি বোঝা চাপল সেই কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি খুব ভালো করেই জানেন।
বিশদ

03rd  June, 2019
ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যে এত হিংসা কেন!
শুভা দত্ত

ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। এ ওকে মারছে, সে তাকে মারছে, পার্টি অফিস দখল করে নিচ্ছে, না হয় ভেঙেচুরে তছনছ করে দিচ্ছে, দল বেঁধে বাড়িতে বাড়িতে চড়াও হয়ে হুমকি দিচ্ছে, আসবাবপত্র, টাকাকড়ি, গয়নাগাটি লুটে নিয়ে যাচ্ছে, ভীতসন্ত্রস্ত মানুষ ঘরসংসার ফেলে আত্মরক্ষার তাগিদে অন্যত্র পালাতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার কোথাও কোথাও তো রক্ত ঝরছে, খুনখারাপির ঘটনাও ঘটে যাচ্ছে!
বিশদ

02nd  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় ইনিংস: ভারতের
বিদেশ নীতি নিয়ে প্রয়োজনীয় ভাবনা
গৌরীশংকর নাগ

 অবশেষে মাসাধিক কালব্যাপী প্রতীক্ষার অবসান। নির্বাচন অতিক্রান্ত ও ফল ঘোষণার পর মোদির দ্বিতীয় ইনিংসে চমকের প্রত্যাশায় জল্পনা তুঙ্গে। আর সেই ভাবনা থেকেই আশা-আশঙ্কার দোলাচলে ভারতীয় বিদেশনীতি সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে যে কথাটি এসে পড়ে তা হল পপুলিজম থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
বিশদ

01st  June, 2019
ইমেজ বদল
সমৃদ্ধ দত্ত

কিছু কিছু ফলাফল বড় গোলমেলে হয়। এই যেমন এবার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন বহু আসনে এভাবে হেরে গেলেন সেটা নিয়ে বিস্তর ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, ময়নাতদন্ত চলছে। হওয়াই সঙ্গত। এইসব ব্যাখ্যা থেকে যেটা স্পষ্ট বোঝা গেল যে মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রত্যাখ্যান করেছে। মানুষ আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাইছে না।
বিশদ

31st  May, 2019
একনজরে
  নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রয়াত হয়েছেন শীলা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারপার্সন এমেরিটাস শীলা গৌতম। গত ৮ জুন তিনি পরলোক গমন করেন। ১৯৭১ সালে তিনি শীলা ফোম তৈরি করেন, যা ক্রমশ সফল ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ রাজনীতিক। ...

 দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি, ১১ জুন: রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসা এবং আইনশৃঙ্খলার ক্রমাবনতির অভিযোগ তুলে এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দেবে বিজেপির সংসদীয় প্রতিনিধি দল। ...

  নয়াদিল্লি, ১১ জুন (পিটিআই): নিজের কেন্দ্রে ‘জল সঙ্কট’ নিয়ে সরব বিজেপি এমপি মীনাক্ষী লেখি। মঙ্গলবার দিল্লির জল বোর্ডের বাইরে রীতিমতো ধর্নায় বসেন তিনি। যদিও দিল্লি সরকারের আওতায় থাকা জল বোর্ডের দাবি, ক্ষমতা অনুযায়ী জল সরবরাহ করা হচ্ছে। বিজেপি মানুষকে ...

সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: জলপাইগুড়ি কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা মৎস্য চাষিদের তেলাপিয়া মাছের চাষ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু কেন বিজ্ঞানীরা এই মাছের চাষ থেকে চাষিদের বিরত থাকতে বলছেন?  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

কর্মপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে শুভ। যোগাযোগ রক্ষা করে চললে কর্মলাভের সম্ভাবনা। ব্যবসা শুরু করলে ভালোই হবে। উচ্চতর ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব শিশু শ্রমিক বিরোধী দিবস,
১৯২৯- লেখিকা অ্যান ফ্রাঙ্কের জন্ম,
১৯৫৭- পাকিস্তানের ক্রিকেটার জাভেদ মিঁয়াদাদের জন্ম,
২০০৩- মার্কিন অভিনেতা গ্রেগরি পেকের মৃত্যু 





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৬৯ টাকা ৭০.৩৮ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৫৮ টাকা ৮৯.৮০ টাকা
ইউরো ৭৭.২১ টাকা ৮০.১৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,৯১৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,২৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩১,৭০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৬,৬৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৬,৭৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১২ জুন ২০১৯, বুধবার, দশমী ৩৩/৫০ সন্ধ্যা ৬/২৭। হস্তা ১৭/১৯ দিবা ১১/৫১। সূ উ ৪/৫৫/২০, অ ৬/১৭/৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৫ গতে ১১/১০ মধ্যে পুনঃ ১/৪৯ গতে ৫/২৩ মধ্যে। রাত্রি ৯/৫০ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৭ গতে ১/১২ মধ্যে, বারবেলা ৮/১৬ গতে ৯/৫৬ মধ্যে পুনঃ ১১/৩৬ গতে ১/১৬ মধ্যে, কালরাত্রি ২/১৬ গতে ৩/৩৬ মধ্যে। 
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১২ জুন ২০১৯, বুধবার, দশমী ৩৫/৫৪/৩৯ রাত্রি ৭/১৭/২৫। হস্তানক্ষত্র ২০/৪৩/৩৩ দিবা ১/১২/৫৮, সূ উ ৪/৫৫/৩৩, অ ৬/১৮/৫১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৮ গতে ১১/১৩ মধ্যে ও ১/৫৪ গতে ৫/২৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/৫৪ মধ্যে ও ১২/১ গতে ১/২৫ মধ্যে, বারবেলা ১১/৩৭/১২ গতে ১/১৭/৩৭ মধ্যে, কালবেলা ৮/১৬/২২ গতে ৯/৫৬/৪৭ মধ্যে, কালরাত্রি ২/১৬/২৩ গতে ৩/৩৫/৫৭ মধ্যে। 
৮ শওয়াল 
এই মুহূর্তে
বিশ্বকাপ: ৪১ রানে পাকিস্তানকে হারাল অস্ট্রেলিয়া 

10:35:44 PM

বিশ্বকাপ: পাকিস্তান ২৩০/৭(৪০ ওভার)(টার্গেট ৩০৮) 

10:03:16 PM

 বিশ্বকাপ: পাকিস্তান ১৬০/৬(৩০ ওভার)(টার্গেট ৩০৮)

09:20:41 PM

বিশ্বকাপ: পাকিস্তান ১১০/২(২০ ওভার)(টার্গেট ৩০৮)

08:34:26 PM

বিশ্বকাপ: পাকিস্তান ৫১/১(১০ ওভার)(টার্গেট ৩০৮)

07:52:25 PM

বিশ্বকাপ: পাকিস্তানকে ৩০৮ রানের টার্গেট দিল অস্ট্রেলিয়া 

06:45:03 PM