Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ইমেজ বদল
সমৃদ্ধ দত্ত

কিছু কিছু ফলাফল বড় গোলমেলে হয়। এই যেমন এবার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন বহু আসনে এভাবে হেরে গেলেন সেটা নিয়ে বিস্তর ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, ময়নাতদন্ত চলছে। হওয়াই সঙ্গত। এইসব ব্যাখ্যা থেকে যেটা স্পষ্ট বোঝা গেল যে মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রত্যাখ্যান করেছে। মানুষ আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাইছে না। তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভই এই ফলাফলের কারণ। এটা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করার প্রশ্নই নেই। একদম ঠিক। বিজেপি খুব উল্লসিত। হওয়ারই কথা। এই বিপুল সাফল্য আশাতীত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মানুষ ভোট দেননি এই নিয়ে যতটা সময় ব্যয় করা হচ্ছে, তার থেকে তো বেশি চর্চা হওয়া উচিত উল্টোটা নিয়ে। অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও এত বিপুল পরিমাণ ভোট পেলেন কেন? বিজেপির উচিত এই মেগা সাফল্যে ভেসে না গিয়ে এই দিকটাও একটু ভাবা। মমতার বিরুদ্ধে মানুষের এই তীব্র ক্রোধ থাকা সত্ত্বেও এবারও এক নম্বর দল কেন তৃণমূল। কীভাবে সম্ভব? এটা বিজেপির কাছে ভাবনার বিষয় আগামী সাফল্যের জন্য। খুব সরল উত্তর অনেকেই দেবেন। রিগিং! বিজেপি ৩৯ শতাংশ। তৃণমূল ৪৩ শতাংশ। শুধুই রিগিং? যেসব কেন্দ্রে তৃণমূল জয়ী হয়েছে সেরকম অনেক এলাকা থেকে কিন্তু সারাদিন ধরে টিভি চ্যানেলে রিগিং এর খবর আসেনি। সুতরাং নেহাত রিগিং বলে মমতার ওইসব কেন্দ্রের জয়গুলিকে এড়িয়ে গেলে চ্যালেঞ্জার হিসেবে বিজেপি ভুল করবে। বিরোধীদের বক্তব্য, মমতাকে মানুষ পছন্দ করছে না। অথচ মমতার দল এবারও এক নম্বর স্থানে। ব্যাপারটা বেশ গোলমেলে। তার মানে তো এখনও মমতাপন্থী মানুষই সিংহভাগ। অন্তত পরিসংখ্যান তো সেরকমই বলে। তাঁরা কারা? তাঁরা কেন মমতাকে এখনও এই তীব্র বিরোধিতার সময়ও তাঁর দলকেই ভোট দিচ্ছেন? শুধুই রিগিং এবং মুসলিম ভোট বলে প্রশ্নটি পাশ কাটিয়ে গেলে সঠিক উত্তর পাওয়া যাবে না সম্ভবত। নিরপেক্ষ পর্যালোচনা দরকার। এই বিপুল মমতা বিরোধী ক্রোধের মধ্যেও যদি মমতা এক নম্বর স্থানেই থেকে যান, তাহলে তো আগামীদিনে তাঁকে পরিপূর্ণভাবে হারানো কঠিন হয়ে যাবে। কারণ অত্যন্ত স্বাভাবিক যে আগামীদিনে তিনি এই ফলাফল থেকে শিক্ষা নিয়ে অনেককিছুই আবার মেরামতি করার মরিয়া চেষ্টা করবেন। যদিও সেটা আদৌ কতটা সম্ভব তা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করছেন। সুতরাং ২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলার রাজনৈতিক দাবাখেলাটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
বিজেপির ইমেজটি বেশ গোলমেলে। বিজেপির জনপ্রিয়তা ক্রমেই আকাশ স্পর্শ করছে। হু হু করে ভোট বাড়ছে। দলে দলে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে অন্য দলের নেতানেত্রী, বিধায়ক, কাউন্সিলর। দল তৈরি হওয়ার ৩৯ বছরেও বিজেপির কাছে এই সাফল্য আসেনি। বিজেপির এই বিপুল সাফল্যের কারিগর হিসেবে মোদি ম্যাজিক ছাড়া সংগঠনগতভাবে কাকে প্রতিভাত করা হচ্ছে? মুকুল রায়কে। কে মুকুল রায়? একদা কংগ্রেসি, পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম স্ট্র্যাটেজিস্ট। অর্থাৎ ৩৯ বছরে বিজেপি বাংলায় নিজেদের কোনও স্ট্র্যাটেজিস্ট ও রাজনৈতিক রণকৌশলে নিপুণ নেতা তৈরি করতে পারেনি। সেই অভাব পূরণ করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের এক প্রাক্তন নেতা। একদিকে স্ট্র্যাটেজিস্ট মুকুল রায়। আবার দলের প্রভাব ও উপস্থিতি এক ধাক্কায় একটা গোটা মহকুমায় প্রবলভাবে বেড়ে গেল কার বদান্যতায়? অর্জুন সিং। তিনি আসার আগে পর্যন্ত ওই মহকুমাজুড়ে বিজেপির এই রমরমা ছিল না। অর্থাৎ এক্ষেত্রেও তৃণমূল থেকে আসা এক নেতাই গোটা চিত্রটা বদলে দিলেন। সাফল্য তাঁর। উপরের দিকে যখন এই চিত্র, তখন নিচুতলায় ঠিক কেমন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে? ভোটের পর রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল করে ফেলছে বিজেপি ঝান্ডাহাতে নিচুতলার কর্মীরা। এবং সেই পার্টি অফিস দখল, আগুন দেওয়ার ধরণটা দেখেই স্পষ্ট একেবারেই সিপিএমের মার্কামারা ছাপ। অর্থাৎ বিজেপির হয়ে সামনের সারিতে যারা সন্ত্রাসে নেমেছে তারা আসলে প্রাক্তন সিপিএম বাহিনী। এসব তারা বাম আমলে বহু করেছে। আবার এতদিন পর বিজেপির জয়ের দৌলতে প্রিয় কাজ পেয়ে তারা খুব উৎসাহ পেয়েছে। তাহলে কী দাঁড়াচ্ছে। বিজেপিকে মানুষ ঢেলে ভোট দিয়েছে কোনও নেতানেত্রীর কথা না ভেবেই। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভে। কিন্তু তারপরই দেখা যাচ্ছে সেই তৃণমূলের বিধায়ক, কাউন্সিলার, নেতারাই বিজেপিতে যোগ দিয়ে চলেছেন। অর্থাৎ বিজেপির উপরতলার অংশটির দখল নিচ্ছেন তৃণমূল থেকে আসা নেতারা। আর নিচুতলায় রাজত্ব করতে গেরুয়া ঝান্ডা হাতে সুযোগ নিচ্ছে সিপিএমের শক্তিশালী বাহিনী। এই যে দল থেকে যোগদান করানো হচ্ছে এর অন্যতম বার্তা হল বিজেপি স্বীকার করে নিচ্ছে তাদের কাছে সংঘ পরিবারের আদর্শে গড়ে ওঠা প্রভাবশালী নেতা নেই যাঁকে বিধায়ক, কাউন্সিলার, এমপি করা যায়। এর বিপক্ষে অবশ্যই যুক্তি আছে। সেটি হল তৃণমূল তো ঠিক এই রাজনীতিটাই করেছে। তারাও তো অন্য দলকে ভেঙে এনে দলে নিয়েছে। একদম ঠিক। কিন্তু তার মানে তো আবার তৃণমূলের থেকেই রাজনৈতিক শিক্ষায় প্রশিক্ষিত হতে হচ্ছে বিজেপিকে। তারা তৃণমূলের থেকে পৃথক হলেন কীভাবে? আজ বিজেপি যদি তৃণমূলের দেখানো পথেই হাঁটে, তাহলে তো স্বীকার করে নেওয়া হল যে তৃণমূল এসব ঠিক করেছিল। ভুল করেনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শেষ দফায় রাজ্যে প্রচারে এসে যখন বলছেন তৃণমূলের ৪০ জন বিধায়ক আমাদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে এক তীব্র উল্লাস ছড়িয়েছিল। এবার বিজেপি কর্মীদের ভাবার সময় এসেছে যদি প্রধানমন্ত্রীর সেই কথা সত্যিও হয় এবং আগামীদিনে তৃণমূলের দলে দলে বিধায়ক বিজেপিতে চলেও আসেন, তার মানে আগামীদিনে তৃণমূল বিধায়করাই বিজেপি বিধায়ক হবেন। কাউন্সিলাররাই কাউন্সিলার হবেন। বিজেপি নেতাদের একাংশ বলছেন, এসব সংশয় অমূলক। কারণ আগে তৃণমূলকে দুর্বল করতে হবে। অর্থাৎ এটা একটা কৌশল। সিংহভাগ বিধায়কদের বিজেপিতে নিয়ে এসে অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে বিধানসভায় হারিয়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতাচ্যুত করা। সময়সীমার আগেই ভোট। বিজেপির অঙ্ক সেই ভোটে জিতে এসে সরকার গঠন করবে পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু ততদিন পর্যন্ত দলের একনিষ্ঠ কর্মীদের কাছে দলীয় নীতি আদর্শের ইমেজ রক্ষাই সবথেকে বড় কাজ এটা মাথায় রাখতে হবে।
বাঙালির রাজনৈতিক অবস্থান বেশ গোলমেলে। মমতা বিরোধীদের সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তাঁরা স্বীকার করেন, না না, কাজ হয়নি এটা বলব না। কাজ হয়েছে। প্রচুর কাজ হয়েছে। তাহলে মমতার বিরোধী কেন তাঁরা। কারণ তৃণমূলের দাদাগিরি, সিণ্ডিকেট, দুর্নীতি। এসবও তো ঠিক। জেলা, মহকুমা, পাড়ায় পাড়ায় এই ক্ষোভ বিদ্যমান। রাজনৈতিক দল তো বিরোধিতা করবেই, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে সবথেকে বেশি ক্ষোভ শিক্ষা নিয়ে আর চাকরি প্রার্থীদের। তারই বিপুল প্রতিফলন হয়েছে। কিন্তু এগুলোই কি একমাত্র কারণ? বিজেপিকে ধন্যবাদ যে বিজেপি এবার ভোটে প্রমাণ করিয়ে দিয়েছে এসব মোটেই মমতা বিরোধিতার একমাত্র কারণ নয়। সবথেকে বেশি যেটি কারণ, সেটি এবার জানা যাচ্ছে ভোটের পর সমীক্ষায়। অর্থাৎ পোস্ট পোল সার্ভে। লোকনীতি-সি এস ডি এস সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে এবার ভোট হয়েছে সম্পূর্ণ ধর্মীয় মেরুকরণে (দ্য হিন্দু- লোকনীতি-সি এস ডি এস সার্ভে, ২৮ মে, ২০১৯)। সেখানে দেখা যাচ্ছে বাংলায় ৫৭ শতাংশ হিন্দু ভোটার ভোট দিয়েছেন বিজেপিকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাত্র ৩২ শতাংশ হিন্দুর ভোট পেয়েছেন। উল্টোদিকে মমতা পেয়েছেন মুসলিমদের মধ্যে ৭০ শতাংশ ভোট। বিজেপি পেয়েছে ৪ শতাংশ। সামগ্রিক আপার কাস্ট অর্থাৎ উচ্চবর্ণের ভোটও বিজেপি পেয়েছে ৫৭ শতাংশ। মমতা পেয়েছেন ৩১ শতাংশ। অর্থাৎ মমতা মুসলিমকে তোষণ করেন এই প্রচারই মমতা বিরোধী বাঙালি সবথেকে বেশি গ্রহণ করেছেন। ওসব বিকাশ, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা হল ছদ্মকারণ। মুখ্য কারণ মুসলিমভীতি অথবা দ্বেষ। তাই বিজেপি এবার বাঙালি জাতিকে নতুন করে আবিষ্কার করার কৃতিত্বের অধিকারী। নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ অত্যন্ত সঠিকভাবে অনুধাবন করেছেন যে রবীন্দ্রজয়ন্তী, নেতাজি জন্মদিনে প্রভাত ফেরি, কল্পতরু উৎসবে দক্ষিণেশ্বর যাওয়া, বইমেলার ভিড়, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে নেহরু যুব কেন্দ্রে সেমিনার এসব সংস্কৃতি সংস্কৃতি খেলার পাশাপাশি বাঙালির বৃহৎ অংশের অন্যতম জোরদার আইডেন্টিটি হিসেবে প্রোথিত হয়েছে হিন্দুত্ব। অর্থাৎ এবারের ভোট একদিকে যেমন হয়েছে প্রো মমতা বনাম অ্যান্টি মমতা অ্যাজেণ্ডায়, ঠিক তেমনই হয়েছে প্রো হিন্দুত্ব বনাম সেকুলার মনোভাবের। সেকুলার মনোভাবাপন্নদের হিন্দুত্ববাদীরা আবার প্রো মুসলিম তকমা দিয়ে থাকেন। সেকুলারদের নিয়ে বিদ্রুপ করা হয়। সেকুলার শব্দটি সংবিধানে রয়েছে। অর্থাৎ সংবিধানকে বিদ্রুপ করা হয়। তা হোক। এদিকে সিপিএমকে আদ্যন্ত একটি মমতা বিরোধী পার্টিতে পরিণত করেছেন স্বয়ং মমতা সেকথা পুরোদস্তুর প্রমাণ হল। কারণ সিপিএমের বিরাট অংশের সমর্থকদের কাছে সমাজতন্ত্র নয়, মেহনতী মানুষের হয়ে আন্দোলন নয়, সর্বহারার একনায়কতন্ত্র নয়, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ব্রিগেড চলো স্লোগান নয়, আমরা আবার ক্ষমতায় ফিরব নয়, এসবকে ছাপিয়ে একমাত্র মনের মন্ত্র ছিল মমতাকে হারাও! তাই সিপিএম সমর্থকরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। যদিও সকলে নয়। এখনও সিপিএমে নিবেদিত প্রাণ ভোট আছে। যতই হাসাহাসি করা হোক, ওই সাড়ে ৫ শতাংশ সিপিএম ভোট, যা এখনও তাদের কাছে আছে, সেটা কিন্তু অবশ্যই উপেক্ষণীয় নয়। এবং একমাত্র আরএসএস জানে যে ওই সাড়ে ৫ শতাংশ বেশ বিপজ্জনক। বিজেপির আগামীদিনের প্রচারের প্রধান গ্রহণযোগ্য প্রতিপাদ্য হতে চলেছে কেন্দ্রে মোদি সরকার এবং রাজ্যেও যদি বিজেপি সরকার হয় তাহলে এই প্রথম বাংলায় সত্যিকারের উন্নয়নের জোয়ার আসবে। সুতরাং মোদির বাংলার বিকাশযাত্রার প্রতিশ্রুতি ও বাঙালির হিন্দুত্ববাদের যোগফলকে সঙ্গে নিয়েই বিজেপি এগতে চাইবে পরবর্তী লক্ষ্যপূরণে।
প্রশ্ন হল, তাহলে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন ব্যর্থ নেত্রী? ১৯৮৪ সালে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন তিনি যা অবিশ্বাস্য! একটানা সাতবার এমপি। দু’বার রেলমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় সরকারে যুবকল্যাণ, ক্রীড়া, কয়লা, শিশু ও নারীকল্যাণ মন্ত্রী। একাই কংগ্রেসকে শূন্য করে দিয়ে বেরিয়ে এসে মাত্র ২০ বছরের মধ্যে সর্ববৃহৎ দলে পরিণত হয়েছেন। সিপিএমের ৩৪ বছরের শাসনকে একাই ধ্বংস করেছেন। ২০১১, ২০১৪, ২০১৬, ২০১৯...একের পর এক নির্বাচনে এখনও তিনিই সর্ববৃহৎ দল। এই কেরিয়ার আর কার আছে? সুতরাং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফিনিশ, এখনই একথা বলা বোধহয় একটু প্রিম্যাচিওর হয়ে যাবে। তিনি বহুবার খাদের কিনারা থেকে ফিরেছেন।
২০১৯ সালের ভোট সবথেকে বেশি যেটা দেখিয়েছে সেটা ইমেজবদল। বাংলার রাজনীতি ক্রমেই ইমেজ বদল করছে। বাঙালি দৃপ্ত ভঙ্গিতে লিবারাল-সেকুলার ইমেজ ছেড়ে এই প্রথম সরবে হিন্দুত্বে পর্যবসিত হয়েছে। বিজেপি ক্রমেই সংঘ কাঠামোর ইমেজ বদলে তৃণমূল তৃণমূল দেখতে হয়ে যাচ্ছে। বামপন্থা ইমেজ বদলে রামপন্থায় প্রবেশ করেছে। উন্নয়নের পক্ষে বিপক্ষে ভোট আজকাল হয় না। স্রেফ প্রোপাগাণ্ডা আর ইমেজে হয়। সত্যি অথবা মিথ্যা, ভোটে জেতার প্রধান মন্ত্র এখন ইমেজ বিল্ডিং ও প্রচারযন্ত্র! বিভিন্ন কার্যকলাপ, মন্তব্য, আচরণ ও সিদ্ধান্তে মমতা ও তাঁর দলের সম্পর্কে যে সামগ্রিক একটা বিরূপ ইমেজ তৈরি হয়েছে সেটাই তাঁর পরাজয়ের প্রধান কারণ। দেখা যাচ্ছে কাজকে হারিয়ে দিয়েছে ইমেজ। সুতরাং ঘুরে দাঁড়াতে হলে তাঁকে সেই ইমেজ ভাঙতে হবে। যা ভোটে জেতার থেকেও অনেক শক্ত! অতএব ভোটের লড়াই নয়, মমতার এবার আসল চ্যালেঞ্জ ইমেজবদলের! তিনি কি পারবেন ফিরে আসতে? আমরা বলার কে? আমরা অতি সহজেই জাজমেন্ট দিয়ে ফেলি। আমরা এই আমজনতা সামান্য নিজেদের পারিবারিক, সাংসারিক, পেশাগত সমস্যাই বছরের পর বছর মেটাতে পারি না। অথচ প্রতিনিয়ত কঠিন রাজনৈতিক সমস্যাগুলির সমাধান করি চোখের নিমেষে তর্কে,আড্ডায়, সোশ্যাল মিডিয়ায়। আমরা নেতানেত্রীদের নিয়ে সিরিয়াস আলোচনা করি, গলা ফাটাই। কিন্তু তাঁরা আমাদের সিরিয়াসলি নেন কি?
31st  May, 2019
বাংলার দুর্ভাগ্য
সমৃদ্ধ দত্ত

এত বড় একটা সাইক্লোনে একটি রাজ্যের বৃহৎ অংশ একপ্রকার বিধ্বস্ত হয়ে গেল, অথচ গোটা দেশের কোনও দোলাচল নেই? প্রথমদিন ট্যুইটারে সমবেদনা জানিয়েই সকলে যে যার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেল? কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে রাজ্যটাকে পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর কোনও দৃপ্ত সহায়তা প্রতিজ্ঞাও তো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশদ

ভাবুন, সুন্দরবন নেই আর উম-পুন
বয়ে গিয়েছে কলকাতার উপর দিয়ে!
হারাধন চৌধুরী

ভাঙা যায়নি অনুন্নয়নের ট্র্যাডিশন। সামান্য উন্নয়নেও তীব্র বৈষম্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। পরিণামে কোটি কোটি মানুষ কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন শত শত মাইল দূরে—চরম অনিশ্চয়তা আর বিপদকে সঙ্গী করে। অন্যদিকে, সঙ্কীর্ণ রাজনীতির বোড়ে হয়ে উঠেছেন দেশবাসীর প্রায় সকলে।
বিশদ

28th  May, 2020
‘আত্মসম্মান’ খ্যাত এক ভাঁড়ের রসিকতা
সন্দীপন বিশ্বাস 

অন্য দেশের রাজাদের মতো হবুরও আছে বিদূষক। অনেক বিদূষক তাঁর। তাঁদের তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তাঁরা সেই সব রাজ্যের প্রপালক। তাঁদের কাজ হল মহারাজ হবুর মুৎসুদ্দি করা। আর নানা ধরনের মন্তব্য করে অঙ্গরাজ্যের জনগণকে আনন্দ বিতরণ করা।  বিশদ

27th  May, 2020
মানবিকতার উপর
বিশ্বাসটা যেন রাখতে পারি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

একটা ঝড়... যা পথে বসিয়েছিল সরযূ মণ্ডলকে। জানতেও পারেননি, কোথায় উড়ে গিয়ে পড়েছিল তাঁর ছাদটা। কিন্তু সে দুঃখ ছাপিয়ে গিয়েছিল এক অন্য আতঙ্ক... নির্জলা মরতে হবে না তো? জলেই তার বসত, অথচ সে জল মুখে দেওয়া যায় না... তেষ্টা মেটে না।   বিশদ

26th  May, 2020
ব্যয় করো, ঋণ করো, টাকার জোগান বাড়াও 

পি চিদম্বরম: প্রধানমন্ত্রী গত ১২ মে ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, গত সপ্তাহে আমি সেটার বিশ্লেষণ করেছিলাম। বিগত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী পাঁচ দফায় বিস্তারিতভাবে যে ঘোষণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা পরে সেসব কাটাছেঁড়া করেছেন।   বিশদ

25th  May, 2020
মহামারীর সঙ্গে মহাপ্রলয়,
তবু বাংলা জিতবেই
হিমাংশু সিংহ

ইতিহাসের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলা। আমাদের বঙ্গভূমি। দেশভাগ, মন্বন্তর, বন্যা, মহামারী কিছুই আমাদের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। ভেঙে গিয়েও আবার ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমরা। নতুন ভোরের স্বপ্নে শুরু হয়েছে ফের পথ চলা।
বিশদ

24th  May, 2020
আত্মকেন্দ্রিক হোন,
কিন্তু স্বার্থপর নয়
তন্ময় মল্লিক

 করোনাকে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে। হু-এর এই ঘোষণার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। চীন, জাপান, আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, ইজরায়েল যাই দাবি করুক না কেন, বাস্তবটা হল, করোনা ভ্যাকসিন নাগালের ধারেকাছে নেই।
বিশদ

23rd  May, 2020
করোনা প্যাকেজের অশ্বডিম্ব!
মৃণালকান্তি দাস

 প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটির বিলাসবহুল বিমানের খবরটাই গিলে খেয়ে নিয়েছে করোনা সঙ্কট! খবরটা কী? এতদিন বোয়িং ৭৪৭ বিমানে বিদেশ সফরে যেতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খুব শীঘ্রই এর জায়গা নিতে আসছে বোয়িং ৭৭৭।
বিশদ

22nd  May, 2020
সুযোগের সদ্ব্যবহারে
কতটা প্রস্তুত ভারত
হারাধন চৌধুরী

 জলে কুমির ডাঙায় বাঘের এমন জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত স্মরণকালের মধ্যে আমরা দেখিনি। শুধু বাংলা বা ভারত নয়, সারা পৃথিবীর জন্যই এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। রোগ সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে সবাই ঘরের নিরাপদ কোণ বেছে নিলাম।
বিশদ

21st  May, 2020
আত্মনির্ভরতার স্টিকার
মারা ‘খুড়োর কল’
সন্দীপন বিশ্বাস

সুকুমার রায়ের ‘খুড়োর কল’ কবিতার সঙ্গে বাঙালির দীর্ঘদিনের পরিচয়। চণ্ডীদাসের খুড়োর সেই আজব কল ছিল একটা ভাঁওতা। ভালো ভালো খাবারের লোভ দেখিয়ে মানুষকে তা ছুটিয়ে মারত। মরীচিকার মতো অবাস্তব এবং বিরাট একটা ধাপ্পা ছিল ওই খুড়োর কল।
বিশদ

20th  May, 2020
গালভরা প্যাকেজ,
দেশ বাঁচবে তো?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 ঊষা জগদালে। মহারাষ্ট্রের বিদ জেলায় বাড়ি তাঁর। রোজ সকালে যখন পরিবারকে ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে ছেড়ে দরজার বাইরে পা রাখেন, তখনও ঠিকঠাক জানেন না, কোন বিদ্যুতের খুঁটিতে তাঁকে উঠতে হবে। তবে জানেন, কাজের চৌহদ্দির মধ্যে কোথাও সমস্যা হলে তাঁরই ডাক পড়বে।
বিশদ

19th  May, 2020
২০ লক্ষ কোটি টাকার রহস্য কাহিনী
পি চিদম্বরম

চলতি অর্থবর্ষে ৩০ লক্ষ ৪২ হাজার ২৩০ কোটি টাকা খরচ করার পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ২০২০-২১-এর বাজেট পেশ করেছিল। ৭ লক্ষ ৯৬ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে রাজস্বের দিকের ঘাটতি মেটাবে সরকার।
বিশদ

18th  May, 2020
একনজরে
 কোচি, ২৮ মে: দেশের নামী ক্রীড়াবিদদের সন্তানরা ক্রীড়াবিদ হয়েছেন, এমন উদাহরণ রয়েছে প্রচুর। কিন্তু ‘ট্র্যাক কুইন’ পিটি ঊষার পুত্র ভিগনেশ উজ্জ্বলও হতে পারতেন অ্যাথলিট। কিন্তু ...

  নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সরকারি হিসেবে সুন্দরবনের ৩ হাজার ৯৯১ কিলোমিটার জঙ্গল কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ বাদাবন ধ্বংস করে ...

সংবাদদাতা, দিনহাটা: করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে এবার আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর উদ্যোগ নিল কোচবিহার জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। জুন মাসের মধ্যেই ১৫-২০টি বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হবে।   ...

  নয়াদিল্লি, ২৮ মে: কর্মীরা করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়ায় তামিলনাড়ুতে উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ করল মোবাইল প্রস্তুতকারী সংস্থা নোকিয়া। তামিলনাড়ুর শ্রীপেরুম্বুদুরের ওই প্ল্যান্টে গত সপ্তাহ থেকেই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যায় সাফল্যও হতাশা দুই বর্তমান। নতুন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠবে। কর্মপ্রার্থীদের শুভ যোগ আছে। কর্মক্ষেত্রের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৬৫—প্রবাসী, মডার্ন রিভিউয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম।
১৯৫৩—প্রথম এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করলেন তেনজিং নোরগে এবং এডমন্ড হিলারি
১৯৫৪—অভিনেতা পঙ্কজ কাপুরের জন্ম।
১৯৭২—অভিনেতা পৃথ্বীরাজ কাপুরের মৃত্যু।
১৯৭৭—ভাষাবিদ সুনীতি চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু।
১৯৮৭—ভারতের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী চৌধুরি চরণ সিংয়ের মৃত্যু।



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৫.০১ টাকা ৭৬.৭৩ টাকা
পাউন্ড ৯১.৩২ টাকা ৯৪.৫৭ টাকা
ইউরো ৮১.৯৯ টাকা ৮৫.০৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ মে ২০২০, শুক্রবার, সপ্তমী ৪২/২৯ রাত্রি ৯/৫৬। অশ্লেষানক্ষত্র ৫/৫ দিবা ৬/৫৮। সূর্যোদয় ৪/৫৬/৬, সূর্যাস্ত ৬/১১/৫৫। অমৃতযোগ দিবা ১২/০ গতে ২/৩৯ মধ্যে। রাত্রি ৮/২১ মধ্যে পুনঃ ১২/৩৮ গতে ২/৪৭ মধ্যে পুনঃ ৩/৩০ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৮/১৫ গতে ১১/৩৪ মধ্যে। কালরাত্রি ৮/৫২ গতে ১০/১৩ মধ্যে।
১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ মে ২০২০, শুক্রবার, সপ্তমী রাত্রি ৭/৩। মঘানক্ষত্র রাত্রি ৩/৩৬। সূর্যোদয় ৪/৫৬, সূর্যাস্ত ৬/১৪। অমৃতযোগ দিবা ১২/৪ গতে ২/৪৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/২৭ মধ্যে ও ১২/৪০ গতে ২/৪৮ মধ্যে ও ৩/৩০ গতে ৪/৫৬ মধ্যে। বারবেলা ৮/১৫ গতে ১১/৩৫ মধ্যে। কালরাত্রি ৮/৫৪ গতে ১০/১৪ মধ্যে।
৫ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
১৬ জুন খুলছে দক্ষিণেশ্বর মন্দির 

09:55:50 PM

নিয়ামতপুরে অস্ত্র কারখানার হদিশ 

09:38:06 PM

১ জুন খুলছে না বেলুড় মঠ 
করোনা সংক্রমণের হার বাড়তে থাকায় ১ জুন থেকে খুলছে না ...বিশদ

09:23:02 PM

দিল্লিতে ভূমিকম্প অনুভূত, রিখটার স্কেলে মাত্রা ৪.৬

09:16:00 PM

রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক মুখ্যসচিবের 
রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি, উম-পুন পরবর্তী অবস্থা ও পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যু ...বিশদ

08:55:00 PM

তামিলনাড়ুতে করোনায় আক্রান্ত আরও ৮৭৪, রাজ্যে মোট আক্রান্ত ২০,২৪৬ 

07:55:48 PM