Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

নতুন বন্ধুর খোঁজে কংগ্রেস ও বিজেপি
শুভা দত্ত

শেষ পর্বের ভোটগ্রহণও হয়ে গেল। ফল বেরতে বাকি আর ক’টা মাত্র দিন। এখন রাজনীতিকদের মধ্যে জোর শলাপরামর্শ চলছে। নানারকম জোটের কথা হাওয়ায় ভাসছে। কংগ্রেস ধরেই নিচ্ছে, কোনও দল গরিষ্ঠতা পাবে না। যেদিন ভোটের ফল বেরবে, সেদিনই সোনিয়া গান্ধী দিল্লিতে বিরোধী দলগুলির মিটিং ডেকেছেন। তাঁর হয়ে কমলনাথ ও আরও কয়েকজন প্রবীণ নেতা এনডিএ বহির্ভূত দলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। আগামী বৃহস্পতিবার বিরোধী নেতাদের অনেকেই কংগ্রেসের ডাকা বৈঠকে হাজির হতে পারেন।
সোনিয়াকে বিদেশিনী আখ্যা দিয়ে যিনি একদা কংগ্রেস ছেড়ে গিয়েছিলেন, সেই শারদ পাওয়ার সম্ভবত সেদিনের মিটিংয়ে থাকছেন। বহুকাল ধরে যিনি বিজেপি’র শরিক ছিলেন, সেই চন্দ্রবাবু নাইডুও আসতে পারেন। তিনি তো নিজেই এবার বিজেপি বিরোধী জোট গঠনের জন্য জোর উদ্যোগ নিয়েছেন। কংগ্রেস হাইকম্যান্ড আর যে নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তাঁদের মধ্যে আছেন ডিএমকে-র এম কে স্ট্যালিন, বিজেডির নবীন পট্টনায়েক, ওয়াইএসআর কংগ্রেসের জগন রেড্ডি, তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির কে চন্দ্রশেখর রাও। এছাড়া উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী ও অখিলেশ সিং যাদবকেও কংগ্রেস জোটে পেতে ইচ্ছুক। ভোটের আগে মায়াবতী ও অখিলেশ অবশ্য মহাগঠবন্ধনে কংগ্রেসকে ঠাঁই দেননি। কিন্তু রাহুল গান্ধী সে জন্য মনে অভিমান পুষে রাখতে নারাজ।
এবারের ভোটে প্রচারপর্বে সোনিয়া ছিলেন লো প্রোফাইলে। তাঁকে জনসভায় বা রোড শো-য় দেখা যায়নি। কিন্তু ভোটের পরে তিনিই সবচেয়ে সক্রিয় হবেন মনে হচ্ছে।
কংগ্রেস যখন জোট গড়ার জন্য এত তৎপর, বিজেপি কি চুপ করে বসে থাকতে পারে?
গেরুয়া ব্রিগেডের নেতারা খুব জোর গলায় বলে বেড়াচ্ছেন, গরিষ্ঠতা পাচ্ছেনই। এমন কথাও বলছেন, গতবারের চেয়ে বেশি আসন পাবেন। কেউ বলছেন ৩০০ আসন পাবেন। অন্যদিকে আবার অমিত শাহ শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে বললেন, নতুন কোনও দল যদি এনডিএ-তে যোগ দিতে চায়, তাকে স্বাগত জানাতে তিনি তৈরি। এর আগে কৈলাস বিজয়বর্গীও একবার বলেছিলেন, রাজনীতিতে স্থায়ী শত্রু বলে কিছু হয় না। এই ধরনের মন্তব্যের একটাই মানে হয়, ভোটের আগে যারা শত্রু, ভোট ফুরলে তাদের কেউ বন্ধুও হতে পারে। বিজেপি চায় এনডিএ-তে আরও দল যুক্ত হোক। কেন চায়? তাহলে কি মোদিরাও কংগ্রেসের মতো মনে করছেন, ত্রিশঙ্কু সংসদ হওয়ার সম্ভাবনা আছে?
উত্তরপ্রদেশে বিজেপি ইতিমধ্যে নতুন বন্ধু খুঁজতে শুরু করেছে। যে রাজ্যটি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক এমপিকে নির্বাচিত করে, সেখানে এবার গেরুয়া পার্টির অবস্থা ভালো নয়। শোনা যাচ্ছে, তারা উত্তরপ্রদেশে গতবারের চেয়ে ২০টি আসন কম পেতে পারে। পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে বুঝে বিজেপি নেতারা নাকি যোগাযোগ রাখছেন অজিত সিংয়ের রাষ্ট্রীয় লোকদলের সঙ্গে। অজিত সিং অবশ্য বিএসপি আর এসপির মহাগঠবন্ধনের শরিক। অখিলেশ আর মায়াবতী তাঁকে মোটে তিনটি আসন দিয়েছেন। তিনি চেয়েছিলেন আরও বেশি। প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাই তিনি ক্ষুব্ধ। বিজেপির আশা, প্রয়োজনে অজিত সিং তাদের পাশে দাঁড়াবেন। উত্তরপ্রদেশে জাঠদের মধ্যে তাঁর ভালো প্রভাব আছে।
অনেকের ধারণা, এনডিএ যদি সব মিলিয়ে গরিষ্ঠতা না-পায়, বিজেপি নেতারা চন্দ্রশেখর রাও, জগন রেড্ডি বা নবীন পট্টনায়েককেও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাতে পারেন। এমনকী ডিএমকে’র স্ট্যালিনকেও জোটে টানার চেষ্টা হতে পারে।
অর্থাৎ ভোটের ফল বেরনোর আগেই নতুন নতুন বন্ধুর খোঁজে নেমে পড়েছে দেশের দুই প্রধান দল বিজেপি ও কংগ্রেস। কার কতজন বন্ধু প্রয়োজন হবে, নির্ভর করবে ভোটের ফলের ওপরে।
ভোটে কেমন ফল হতে পারে?
এই নিয়ে নানা সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে।
একটি সম্ভাবনা হল, বিজেপি একা ২৫০ বা তার চেয়ে কিছু বেশি আসন পাবে। তাহলে আর নতুন বন্ধু প্রয়োজন হবে না। এনডিএ-তে এখন যে ক’জন শরিক আছে, তাদের নিয়েই বিজেপি সরকার গড়ে ফেলতে পারবে। ধরে নিতে হবে, মোদি বালাকোটে বিমান আক্রমণ চালিয়ে দেশবাসীকে খুশি করতে পেরেছেন। কৃষকদের দুর্দশা, বেকারত্ব, নোটবন্দি, জিএসটি-র ফলে দুর্ভোগ, এসব নিয়ে ভোটাররা মাথা ঘামাননি।
সেক্ষেত্রে মোদি ফের প্রধানমন্ত্রী হবেন। শোনা যাচ্ছে, অমিত শাহ মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে পারেন। সম্ভবত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদটি তাঁকে দেওয়া হবে। আরএসএস তাই চায়। কিন্তু মন্ত্রী হলে অমিত শাহ কি বিজেপির সভাপতির দায়িত্ব সামলাতে পারবেন? অবশ্য তিনি যদি ওই পদে থাকতে চান, তাহলে সঙ্ঘের আপত্তি নেই। কিন্তু তাঁর বদলে অপর কে সভাপতি হতে পারেন, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে বিজেপির অন্দরে।
বিজেপি যদি ২২০ থেকে ২৩০-এর বেশি আসন না পায়, তখন কী হবে?
এনডিএ-র শরিকরা একবাক্যে বলবে, মোদির ভুলভাল সিদ্ধান্তের জন্যই ভোটার বিমুখ হয়েছে, সুতরাং তাঁকে আর প্রধানমন্ত্রী করার দরকার নেই।
আরএসএস অবশ্য তাঁকে সরাতে চাইবে না। এই অবস্থায় অমিত শাহরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন যাতে আরও কয়েকটি দলকে তাঁদের সমর্থনে পাওয়া যায়।
বিজেপি যদি ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে আসন পায়?
তাহলে নিশ্চিতভাবেই মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা জলাঞ্জলি যাবে। যতই নতুন বন্ধু আসুক, দিল্লিতে সরকার গড়া কিছুতেই সম্ভব হবে না। বিজেপিকে বসতে হবে বিরোধী আসনে।
কংগ্রেসের দিক থেকে কী কী সম্ভাবনা আছে?
সম্ভাবনা এক: কংগ্রেস একাই ১৫০-এর বেশি আসন পেল। তার মানে ছত্তিশগড়, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকের মতো যেসব রাজ্যে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি, সেখানে ভালো ফল করতে হবে রাহুল গান্ধীর দলকে। ধরে নিতে হবে, কংগ্রেস সভাপতি এতদিনে পরিণত রাজনীতিক হয়ে উঠেছেন। বিজেপি বিরোধী কোয়ালিশনে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
সেক্ষেত্রে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন?
এই ব্যাপারটা নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি আছে। বিরোধী শিবিরের অনেকেই প্রধানমন্ত্রী হতে চান। কংগ্রেস অবশ্য আগেই বলে রেখেছে, প্রয়োজন হলে তারা প্রধানমন্ত্রীর পদটি অন্য দলকে দিতে রাজি। কিন্তু অন্যান্য দলও সেই উদারতা দেখাবে কি না বলা শক্ত।
সম্ভাবনা দুই: কংগ্রেস ১১০ থেকে ১৩০-এর মধ্যে আসন পেল।
তাহলেও দেশের প্রাচীনতম দলটির আসন সংখ্যা হবে অবিজেপি দলগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি। তারা তখনও বিজেপি বিরোধী কোয়ালিশনে নেতৃত্ব দেওয়ার দাবি জানাবে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস, মায়াবতীর বিএসপি বা অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি রাহুলের নেতৃত্ব মানতে চাইবে কি না বলা শক্ত। যদিও ডিএমকে, আরজেডি বা ন্যাশনাল কনফারেন্সের মতো দল তখনও কংগ্রেসের পাশে দাঁড়াবে। বামপন্থীরাও হয়তো রাহুলকে সমর্থন করবে।
সম্ভাবনা তিন: কংগ্রেস ৭৫ থেকে ১০০টা আসন পেল।
তখন ধরে নিতে হবে কংগ্রেসের হাল খারাপ। গতবছর তাদের কয়েকটি রাজ্যে ভালো ফল হয়েছিল বটে কিন্তু তা থেকে জাতীয় রাজনীতির গতিপ্রকৃতি আন্দাজ করা যায়নি। বিজেপি হারানো জমি ফিরে পেয়েছে। রাহুল গান্ধী এখনও মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতা নন। রাফায়েল কেলেঙ্কারি নিয়ে প্রচারে ভোটাররা কান দেননি। সুতরাং রাহুলকে আরও পাঁচটি বছর সংসদে বিরোধী বেঞ্চে বসে অপেক্ষা করতে হবে।
এমনও হতে পারে, তখন কংগ্রেস হাইকম্যান্ড রাহুলের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে নবাগত প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে। দলকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার জন্য ইন্দিরা গান্ধীর নাতনির ওপরেই বেশি ভরসা রাখবে।
২০১৯ সালে ভারতের ভোটদাতারা ঠিক কী মতপ্রকাশ করেছেন, তা জানার জন্য বৃহস্পতিবার অবধি অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। আপাতত যতরকম সম্ভাবনার কথা ভাবা গিয়েছে, তার বাইরে অন্য কিছুও হতে পারে।
ভারতের ভোট রাজসূয় যজ্ঞের মতোই বৃহৎ। ভোটারের সংখ্যা ৯০ কোটি। গোটা ইউরোপ মহাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ায় যত লোক বাস করে, এদেশে ভোটারের সংখ্যা তার চেয়ে বেশি। ২০১৪ সালে ভোটের পর নির্বাচন কমিশন হিসাব দিয়েছিল, মোট ৪৬৪টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। প্রার্থী হয়েছেন মোট ৮২৫০ জন। ২০১৯ সালে প্রার্থীর সংখ্যা নিশ্চয় বেড়েছে। এইরকম একটা বিশাল ভোট প্রক্রিয়ার শেষে কী ফলাফল হতে পারে, আগে থেকে অনুমান করা দুঃসাধ্য কাজ। সে জন্য এক্সিট পোল প্রায়ই এদেশে ব্যর্থ হয়। এক্সিট পোলে দেখা যায় একরকম, ভোটের ফলাফল হয় সম্পূর্ণ আলাদা।
একটা ব্যাপার এর মধ্যেই স্পষ্ট। যে-ই ক্ষমতায় আসুক, তাকে খুব কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। গত পাঁচ বছরে কৃষকদের আয় বিশেষ বাড়েনি। তাঁরা চাইবেন নতুন সরকার কিছু সুরাহা করুক। দেশে বেকারত্ব গত কয়েক দশকের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। নোটবন্দিতে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ওইসব শিল্পেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কাজ করেন। তাঁদের অনেকে কাজ হারিয়েছেন। নতুন সরকার এলে কর্মহীনরা চাইবেন প্রচুর চাকরির সুযোগ তৈরি হোক।
আরও সমস্যা আছে। দেশের রপ্তানি কমছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিতে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। মোট জাতীয় উৎপাদনের বৃদ্ধির হারও বিশেষ আশাপ্রদ নয়। মাত্র ৬.৮ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জিডিপি বৃদ্ধির হারকে সাত শতাংশের উপরে নিয়ে যেতেই হবে। নইলে উন্নয়নের গতি হয়ে পড়বে মন্থর।
এতগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করা খুব শক্ত কাজ।
আর একটা কথা বলার আছে। ভোটের ফলাফল যা-ই হোক, যেন শান্তি বজায় থাকে। গত এক মাসে রাজ্যের নানা জায়গায় মারপিট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, এমনকী প্রাণহানিও ঘটেছে।
তার ওপর কিছুদিন আগে কলকাতায় অমিত শাহের রোড শো-কে কেন্দ্র করে যা ঘটে গেল, তা রীতিমতো লজ্জার। বাংলার নবজাগরণের যিনি পুরোধা পুরুষ, সেই বিদ্যাসাগরের মূর্তিতে হাত দিতে সাহস পেল দুষ্কৃতীরা। সেই সাতের দশকের পরে এমন কলঙ্কিত দিন রাজ্যে আর আসেনি।
পশ্চিমবঙ্গে অতীতেও রাজনৈতিক হানাহানিতে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেই ট্রাডিশন থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতেই হবে।
20th  May, 2019
সোনিয়ার দলে অন্ধকার যুগ, মহারাষ্ট্র-হরিয়ানায় অ্যাডভান্টেজ মোদি বাহিনীই
শান্তনু দত্তগুপ্ত

যতদূর মনে পড়ে সময়টা ১৯৯৬। সর্বভারতীয় একটি ইংরেজি দৈনিকে মোহিত সেনের নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়বস্তু তোলপাড় ফেলে দেওয়ার মতো। তাঁর বিশ্লেষণ, সোনিয়া গান্ধীর সক্রিয় রাজনীতিতে এসে কংগ্রেসের হাল ধরা উচিত। এই প্রসঙ্গে তিনি কংগ্রেসের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্টের কথা উল্লেখ করেছেন। অ্যানি বেসান্ত। বিশদ

15th  October, 2019
শেখ হাসিনার দিল্লি সফর: ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়
গৌরীশংকর নাগ 

দুঁদে কূটনীতিক মুচকুন্দ দুবের মতে, সামঞ্জস্যের প্রত্যাশা না করেও যদি এক্ষেত্রে ভারতকে তার স্বার্থ সামান্য বিসর্জন দিতেও হয় তাও ভেবে দেখা যেতে পারে। কারণ বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ স্থিরতা ভারতের সুরক্ষা তথা শক্তিকেই সুনিশ্চিত করবে। সুতরাং ভারতের উচিত অর্থনৈতিক বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যথাসম্ভব তালমিল রেখে কাজ করা।
বিশদ

14th  October, 2019
বদলে যাচ্ছে পুজো
শুভময় মৈত্র

পুজো এখন এক লক্ষ কোটি টাকা কিংবা তার থেকেও বেশি অঙ্কের ব্যবসা। এমনটা সব ধর্মেই হয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যে বিভিন্ন সময় উৎসব করেন তারও একটা বাজার আছে। রোজার সময় সন্ধেবেলা জিভে জল আনা খাবারের গন্ধ বিনা পয়সায় শোঁকা যেতেই পারে, কিন্তু কিনে খেতে গেলে পয়সা লাগবেই। ফলে ব্যবসা সেখানে অবধারিত। 
বিশদ

12th  October, 2019
সাচ্চা ক্যাপিটালিস্ট হওয়ার পাঠ শেখাচ্ছে সত্তর বছরের গণচীন
মৃণালকান্তি দাস

এখন সাধারণ পোশাক পরা মাও বা টায়ারের চপ্পল পায়ে হো চি মিনরা আর সমাজতান্ত্রিক নেতৃত্বে নেই। এখন স্যুট টাই পরা বিলাসী সাহেবরা নেতৃত্বে। কমিউনিস্ট নাম ধারণ করে আছে শুধু রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে দলীয় একনায়কতন্ত্র অব্যাহত রাখার গরজে। ব্রিটিশরা যেমন বলে থাকেন আওয়ার কিং ইজ ডেড, লং লিভ আওয়ার কিং। ঠিক তেমনই। আগে ধনতন্ত্র পরে সমাজতন্ত্র। তার জন্য জানলা খুললে কিছু মাছি-মশা আসবে। কথাটা বলেছিলেন দেং নিজেই। অবশ্য এই মাছি-মশা নিয়ে তাঁদের কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। কী করে সাচ্চা ক্যাপিটালিস্ট হতে হয় সেটাও শেখাচ্ছে চীন! 
বিশদ

11th  October, 2019
এক কাপ চায়ে 
অতনু বিশ্বাস

এক কাপ চা, কত গল্প বলে সকাল, বিকেল, সন্ধে বেলা...।
এ গানের লিরিকের মতোই চা নিয়ে এবং চায়ের টেবিলে গল্পেরও কোনও শেষ নেই। এক কাপ চায়ে আমেজ আছে নিশ্চয়ই। দার্শনিক কিংবা কবি এক কাপ চায়ে খুঁজে পেতে পারে জীবনের জয়ধ্বনি, অবরুদ্ধ আবেগ, অনাবিল অনুভূতি, মুক্তির আনন্দ কিংবা উল্লাস। এমনকী গণতন্ত্রও।  
বিশদ

10th  October, 2019
জল সঙ্কট নিরসনে: শারদীয়া দুর্গোৎসবের বার্তা
জয়ন্ত কুশারী
 

শারদীয়া দুর্গোৎসব বাঙালির প্রধান উৎসব। বাঙালি দুর্গোৎসবকে কলিযুগের অশ্বমেধযজ্ঞ বলে মনে করেন। দেবীপুরাণের পুজো প্রকরণেও এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে—অশ্বমেধমবাপ্নোতি ভক্তিনা সুরসত্তমঃ, মহানবম্যাং পূজেয়ং সর্বকামপ্রদায়িকা।
বিশদ

05th  October, 2019
‘দিদিকে বলো’ কোনও ম্যাজিক নয়
তন্ময় মল্লিক
 

প্রশান্ত কিশোরের ‘দিদিকে বলো’ দাওয়াই তৃণমূল কংগ্রেসকে কতটা বেনিফিট দেবে, তা জানা যাবে ২০২১ সালে। কিন্তু বঙ্গ রাজনীতিতে ‘পিকে’ যে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বিধায়কদের দলীয় কর্মীর বাড়িতে নিশিযাপন, মানুষের মুখোমুখি হওয়ার টোটকায় অনেক বিধায়ক মাটিতে আছাড় খাচ্ছেন। কৃতকর্মের জবাবদিহি করতে না পারলেই অভিমান সীমা অতিক্রম করছে।  
বিশদ

05th  October, 2019
বাঙালির গল্প সম্প্রীতির গল্প
সুব্রত চট্টোপাধ্যায়

এই লেখায় হিন্দু-মুসলমান—শব্দ দুটি ব্যবহারের কোনও দরকারই পড়ল না। শব্দ দুটির মধ্যে বাঙালি-সত্তার ভাঙনের একটা গন্ধ। তাই ‘বাঙালি’ শব্দটি দিয়েই দিব্যি কাজ চলে যায়। উৎসব সমাসন্ন। তাই আবেগে ভেসে গিয়ে কথাটি বলছি এমন নয়, যা সত্যি তা-ই বলছি।  
বিশদ

04th  October, 2019
বাঙালির দ্বিচারিতা
সমৃদ্ধ দত্ত

মহাত্মা গান্ধীর সবথেকে বড় শক্তি হল, যারা তাঁকে মন থেকে অপছন্দ করে কিংবা তাঁর সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থানকে আদর্শগতভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করে না, তারা নিজেরা কিন্তু আন্দোলনে নেমে অজান্তে সেই গান্ধীকেই অনুসরণ করে।  
বিশদ

04th  October, 2019
নয়ন ভুলানো এলে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

এবার সব কিছুর পরও কোথায় যেন একটা কিন্তুর কাঁটা ফুটছে, ফুটেই চলেছে! ফলে, জমজমাট পুজোর মজার আবহটা যেন এখনও ঠিক জমাট বাঁধতেই পারছে না। কী সেই কাঁটা? এনআরসি? বাজারদর? কাজ হারানো? মাসের পর মাস বেতনবিহীনতা, অভাব? দেশ জুড়ে হাজার হাজার লাখ লাখের কাজ হারানোর আতঙ্ক? —তালিকা শেষ হবার নয়। ক’দিন আগে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ রাজ্যের পুজো উদ্বোধনে এসে ফের একবার এনআরসি লাগু করার সন্দেশ দিয়ে গেলেন। উদ্বাস্তু নয় অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধেই যে খড়্গহস্ত হবে এনআরসি সেটা অমিতজিরা বোঝানোর পরও বঙ্গজনের আতঙ্ক যে কাটছে না!  
বিশদ

03rd  October, 2019
মহাত্মা গান্ধীর জীবনদর্শন অনুসরণীয়
মোহন ভাগবত

ভারতের আধুনিক ইতিহাস তথা স্বাধীন ভারতের উত্থানের কাহিনীতে যেসব মহান ব্যক্তির নাম চিরকালের জন্য লেখা হয়ে আছে, যা সেই সনাতন কাল থেকে চলে আসা ভারতের ঐতিহাসিক গাথার এক একটি অধ্যায় হয়ে যাবে, পূজ্য মহাত্মা গান্ধীর নাম তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ভারতবর্ষ আধ্যাত্মিক দেশ এবং আধ্যাত্মিকতার ভিত্তিতেই তার উত্থান হবে।  
বিশদ

02nd  October, 2019
দুর্গাপুজোর আঙিনায় ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ
চৈতন্যময় নন্দ 

বঙ্গাব্দ ১২৭৭। রানি রাসমণি নেই। পরিবারের কর্তা জামাতা মথুরমোহন বিশ্বাস। ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণদেব এসেছেন জানবাজারে দুর্গাপুজো উপলক্ষে। ঠাকুরের উপস্থিতিতে সেই বাড়ি তখন আনন্দস্রোতে প্রবাহিত হয়ে আনন্দধামে পরিণত।   বিশদ

01st  October, 2019
একনজরে
বিএনএ, সিউড়ি: বিজেপি নেতা ধ্রুব সাহা ও অতনু চট্টোপাধ্যায়কে ফের সিউড়ি আদালতে তোলা হল। পুরনো মামলায় তাঁরা মাসখানেক ধরে সংশোধনাগারেই ছিলেন। এদিন তাঁদের ফের সিউড়ি আদালতে তোলা হয়।  ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃদ্ধাকে বিমার টাকা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৪০ লক্ষ টাকা প্রতারণা করার অভিযোগে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করল বিধাননগর সাইবার থানার পুলিস। সোমবার সন্ধ্যায় সেক্টর ফাইভের ডিএন ব্লকের একটি অফিস থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ...

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: মঙ্গলবার দুপুরে সূতি থানার সাজুরমোড়ে একটি বেসরকারি স্কুলের উদ্বোধনে আসেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা হায়দরাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহম্মদ আজহারউদ্দিন। আজাহার বলেন, ওঁর যথেষ্ট যোগ্যতা রয়েছে। আশা করি সৌরভ ভারতীয় ক্রিকেটকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন।  ...

বিএনএ, রায়গঞ্জ: ডেঙ্গু আক্রান্ত এক রোগীকে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কোনও চিকিৎসক মঙ্গলবার রেফার করার কথা মৌখিকভাবে পরিবারের লোকদের বলায় উত্তেজনা ছড়ায়। যদিও শেষপর্যন্ত ওই রোগীকে কোথাও রেফার করা হয়নি। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যায় ভালো ফল হবে। কর্মপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে সুযোগ আসবে। কোনও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। ব্যবসায় যুক্ত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব খাদ্য দিবস
১৯০৫: বঙ্গভঙ্গ হয়
১৯২৩: দি ওয়াল্ট ডিজনি সংস্থা প্রতিষ্ঠা হয়
১৯২৭: নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান সাহিত্যিক, চিত্রকর, ভাস্কর এবং নাট্যকার গুন্টার গ্রাসের জন্ম
১৯৪৮: অভিনেত্রী হেমা মালিনীর জন্ম
১৯৫১: রাওয়ালপিন্ডিতে খুন হন পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খান
১৯৬৪: প্রথম পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটাল চীন





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪৬ টাকা ৭২.১৬ টাকা
পাউন্ড ৮৮.৩২ টাকা ৯১.৬১ টাকা
ইউরো ৭৭.১৯ টাকা ৮০.১৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৯,১৭০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৭,১৬৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৭২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, দ্বিতীয়া ০/২১ প্রাতঃ ৫/৪৫। ভরণী ২১/৫১ দিবা ২/২১। সূ উ ৫/৩৬/৫৪, অ ৫/৭/৫৮, অমৃতযোগ দিবা ৬/২৩ মধ্যে পুনঃ ৭/৯ গতে ৭/৫৫ মধ্যে পুনঃ ১০/১৩ গতে ১২/৩২ মধ্যে। রাত্রি ৫/৫৯ গতে ৬/৪৯ মধ্যে পুনঃ ৮/২৯ গতে ৩/৭ মধ্যে, বারবেলা ৮/৩০ গতে ৯/৫৬ মধ্যে পুনঃ ১১/২৩ গতে ১২/৪৯ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩০ গতে ৪/৪ মধ্যে।
২৮ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, তৃতীয়া ৫৯/১০/৩৯ শেষরাত্রি ৫/১৭/৩৫। ভরণী ২১/৩৭/১৬ দিবা ২/১৬/১৩, সূ উ ৫/৩৭/১৯, অ ৫/৯/১৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩০ মধ্যে ও ৭/১৫ গতে ৭/৫৯ মধ্যে ও ১০/১৩ গতে ১২/২৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৭ গতে ৬/৪৮ মধ্যে ও ৮/২১ গতে ৩/১১ মধ্যে, বারবেলা ১১/২৩/১৯ গতে ১২/৪৯/৪৯ মধ্যে, কালবেলা ৮/৩০/১৯ গতে ৯/৫৬/৪৯ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩০/১৯ গতে ৪/৩/৪৯ মধ্যে।
১৬ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
অনন্তনাগে পুলিস-জঙ্গি গুলির লড়াই 

10:32:03 AM

শহরে ট্রাফিকের হাল
আজ, বুধবার সকালে শহরের রাস্তাঘাটে যান চলাচল মোটের উপর স্বাভাবিক। ...বিশদ

10:25:27 AM

ওড়িশার মালকানগিরিতে ১৫০ কেজি নিষিদ্ধ মাদক সহ গ্রেপ্তার ২ 

10:20:00 AM

  বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করা নিয়ে মায়াবতীর কড়া সমালোচনায় সরব বিজেপি
সঠিক সময়ে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছিলেন মায়াবতী। মহারাষ্ট্রে নির্বাচনী ...বিশদ

09:57:06 AM

আলিপুরের সৌজন্য ভবনে আজ মন্ত্রিসভার বৈঠক
আজ, বুধবার রাজ্য সরকারের অতিথিশালা আলিপুরের ‘সৌজন্য ভবন’-এ রাজ্য মন্ত্রিসভার ...বিশদ

09:56:13 AM

সংখ্যালঘু মেধাবী পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ কোচিং রাজ্যের
প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির প্রস্তুতিতে মেধাবী সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ...বিশদ

09:43:20 AM