Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

শেষ দফার ভোটে শান্তি বজায় রাখাই
আজ কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

শুভা দত্ত

দেখতে দেখতে সাত দফার লম্বা ভোটযুদ্ধ শেষ হয়ে এল। আজ সপ্তম, তথা শেষ দফা। তারপরই শুরু হয়ে যাবে লোকসভা মহাযুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য কাউন্টডাউন। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৩টির ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, যাদবপুর সমেত বাকি ন’টি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আজ। সঙ্গত কারণেই মহানগরী কলকাতা ও তার দুপাশের দুই পরগনায় উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। কারণ আজকে যে আসনগুলোতে যুদ্ধ হচ্ছে সেগুলো রয়েছে ওই তিন জেলাতেই। শুধু তাই নয়, আজকের এই মহারণে বিদায়ী লোকসভার তরুণ তৃণমূল সাংসদ তথা যুব তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমেত বেশ কয়েকজন তারকা প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে। সে জন্য, অভিষেকের কেন্দ্র ডায়মন্ডহারবার বা জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর যাদবপুর বা দুই প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র যথাক্রমে দমদম ও উত্তর কলকাতা নিয়ে জনমহলে বাড়তি উদ্দীপনা কৌতূহলের সঞ্চারও যে হয়েছে তাতে সন্দেহ নেই।
কারণ, লোকসভা ভোটযুদ্ধ শুরু হওয়া ইস্তক রাজ্যের রাজনৈতিক বাতাবরণে একটা গুঞ্জন চলছে যে, ওই কেন্দ্রগুলোতে বিরোধীদলের প্রার্থীরা এবার জোরদার লড়াই দেবে। যাদবপুরে সিপিএম প্রার্থী বিকাশ ভট্টাচার্য, দমদমে বিজেপি’র শমীক ভট্টাচার্য কি উত্তর কলকাতায় বিজেপি’র রাহুল সিনহা নাকি এবার ভালো ভোট টানবেন। তাতে নাকি ফলাফলে এধার-ওধারও হয়ে যেতে পারে! সম্ভাবনার এই গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই মমতা-বিরোধী শিবির ও তার পৃষ্ঠপোষক মহলে যে কিছু ‘আশা’র সঞ্চার হয়েছে তা নির্বাচনী সভার বক্তৃতা বক্তব্য থেকে ঠারেঠোরে নেতানেত্রীরা বুঝিয়েও দিচ্ছেন। তাঁদের ওই ‘আশা’র কথায় জনমহলের একাংশের ভোট জল্পনায় কৌতূহলের নতুন মাত্রাও যোগ হয়েছে তা তথ্যভিজ্ঞজনেরা অনেকেই স্বীকার করছেন। ফলে আজকের ভোট মহারণে ডায়মন্ডহারবার যাদবপুর দমদমের মতো নজরকাড়া কেন্দ্রগুলো নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনার বহর যে একটু বেশিই হবে, তা বলাই বাহুল্য। অবশ্য, সেটা এমন হাই-ভোল্টেজ ভোটযুদ্ধে একেবারে অপ্রত্যাশিতও কি? বিশেষ করে এবারের ভোটে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর প্রধান সেনাপতি অমিত শাহের এক নম্বর টার্গেট এই পশ্চিমবঙ্গ এবং জাতীয়স্তরে দিল্লির মসনদ দখলের যুদ্ধে গেরুয়াবাহিনীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াইয়ের ময়দান দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যে ৪২-এ ৪২ করার ডাক দিয়ে আসমুদ্র বাংলায় ঢেউ তুলে দিয়েছেন, তখন প্রতিটি আসন নিয়েই তো এমন গণকৌতূহল আগ্রহ উদ্দীপনা প্রত্যাশিত—তাই নয় কি? বাঙালি হিসেবে মা-মাটি-মানুষের নেত্রী মমতা শেষপর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর আসনে পৌঁছতে পারেন কি না তা নিয়েও তো আম-বাঙালির একটা উৎকণ্ঠা ক্রমশ প্রবল হচ্ছে। এবং হলফ করেই বলা যায়, এবার ফল ঘোষণার দিন বাঙালি গোটা দেশের ফলের চেয়ে বেশি আগ্রহ দেখাবে বাংলার ফলাফল নিয়ে—৪২-এ ৪২ কতদূর সফল হল তা দেখতেই সেদিন সকাল থেকে অধীর আগ্রহ আর প্রত্যাশা নিয়ে টিভি’র সামনে বসবেন তাঁরা।
কিন্তু, তার আগে সকলেই জানতে চাইছেন—আজ কী হবে! কেমন যাবে ভোটের শেষ পর্বের দিনটা? প্রথম ছয় দফা একেবারেই ঘটনাশূন্য হয়েছে—এমন বলছেন না কেউই। এই বঙ্গের ভোটে এবারের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল ও বিজেপি’র কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সামান্য কিছু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রাণহানির মতো দুর্ভাগ্যজনক দু-একটি ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গের ভোট ময়দানের পরিসর পরিধির বিশালত্ব ও যুদ্ধের তীব্রতার বিচারে সে সবকে সামান্যই বলতে হবে। এবং সেজন্যই হয়তো নির্বাচন কমিশনের কর্তারাও গত ছয় দফার নির্বাচনকে মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে অপ্রীতিকর ঘটনাগুলোকে নিতান্ত ‘বিচ্ছিন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সত্যি বলতে কী, এবার প্রথম থেকেই বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিসের যৌথ উদ্যোগে নিরাপত্তার বলয় যথেষ্ট আঁটোসাঁটো থাকায় বুথের ভিতরে-বাইরে সার্বিকভাবে শান্তি বজায় ছিল, মানুষ শান্তিতেই ভোট দিয়েছেন। অবশ্য, কিছু ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগও যে ওঠেনি তা নয়—তবে তা নিয়েও বড় কোনও হাঙ্গামা হয়নি। ফলে, সপ্তম দফা নিয়ে প্রথম দিকে মানুষের মধ্যে একটা নিশ্চিতিই কাজ করছিল—সকলেই ভাবছিলেন শহর মহানগরের ভোটে এবার হাঙ্গামা হুজ্জোত হবে না। মমতার পুলিস প্রশাসন এবং ভোট কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমবেত চেষ্টায় ভোটটা শান্তিতেই হবে।
কিন্তু গত কয়েক দিনের কিছু ঘটনা মানুষের সেই বিশ্বাস যেন খানিকটা টলিয়ে দিয়েছে। চলতি ভোটযুদ্ধের শুরু থেকে প্রচারের শেষ অব্দি মুখ্যমন্ত্রী মমতা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বা পদ্মদলের সভাপতি অমিত শাহের বাগ্‌-যুদ্ধ যাঁরা উপভোগ করছিলেন, যুদ্ধের তাপ পোহাতে পোহাতে তার ফলাফল নিয়ে তর্কবিতর্ক তরজায় মেতে ছিলেন বিদ্যাসাগরেরে মূর্তি ভাঙার ধাক্কায় উত্তাল বাংলার দিকে চেয়ে তাঁদের অনেকেই এখন রীতিমতো চিন্তায়। বিদ্যাসাগর কলেজে ঢুকে ওই মূর্তি কে ভাঙল তা নিয়ে বিতর্ক যত চড়ছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা নিয়ে টীকাটিপ্পনী, ক্ষোভক্রোধের ঝলকানি যত ছড়াচ্ছে তত যেন সপ্তম দফার লড়াই নিয়ে জনমনে আশঙ্কা বাড়ছে! তার ওপর রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব ও কলকাতার প্রাক্তন কমিশনার রাজীব কুমারের মতো পুলিস কর্তাকে আচমকা সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি শান্ত করতে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীনভাবে ভোট প্রচারের সুযোগ একদিন কমিয়ে দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে তার প্রভাবে সাধারণ জনজীবনের আশঙ্কা আরও যেন ঘনীভূত হয়েছে! অবশ্য, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের কোনও বক্তব্য নেই। আইনের পরিধির মধ্যে থেকেই তাঁরা নিশ্চয়ই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে, আইনজীবী মহলের কেউ কেউ ভোট প্রচারের সময় কমিয়ে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতাও কমিশনের সিদ্ধান্তে যে যথেষ্ট অসন্তুষ্ট সেটা নির্বাচন কমিশনের মর্যাদা ও গুরুত্ব স্বীকার করে নিয়েও বুঝিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা, ভোটপ্রচারের দিন কমানো ইত্যাদি নিয়ে রাজ্য রাজনীতির যুযুধান মহলগুলির মধ্যে উত্তেজনা যে বাড়ছে তা বলাই বাহুল্য।
সে জন্য অনেকেই মনে করছেন, শেষ দফার ভোটে শান্তি বজায় রাখাই আজ কমিশনের সামনে সবচয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে। কারণ, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়ে পরিস্থিতি এখনও যথেষ্ট উত্তপ্ত। এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে আসমুদ্রহিমাচল রাজ্যে, সমাজের সর্বস্তরে। সেই উত্তাপের আঁচ ভোটযুদ্ধের ময়দানে পৌঁছবে না এমন গ্যারান্টি কোথায়? এই আঁচ আজকের শেষ দফার ভোটে যাতে বাড়তি উত্তেজনা ছড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য প্রশাসন নিশ্চয়ই করবে আশা রাখি। তবে যেহেতু নির্বাচন চলাকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, গুন্ডা তাণ্ডব রোখা, ভোটবাক্স ও ভোটারের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা ইত্যাদির দায় পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের, সে জন্য রাজ্যের মানুষ আজ শান্তির জন্য মূলত চেয়ে থাকবেন কমিশনের সক্রিয়তার দিকে। একদিক থেকে কমিশনের কাছে এও এক পরীক্ষা। ভোটদাতা সাধারণের বিচারে এই পরীক্ষায় কমিশন কতটা উত্তীর্ণ হয় সেটাও দেখার। লক্ষণীয়, ভোট গণনা অব্দি ইভিএমের সুরক্ষা নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই অনেকবার সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁর সন্দেহ, ভোটের পর স্ট্রংরুমে রাখা ইভিএমে কারচুপি হতে পারে। এই সংশয় নিঃসন্দেহে কমিশনের কর্তাদের চাপ কিছুটা হলেও বাড়াচ্ছে। এরপর নিশ্চয়ই রাজ্যের বিভিন্ন স্ট্রংরুমে রাখা ইভিএমগুলোর জন্য নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও কঠিন জোরালো হবে।
সে না হয় হল। কিন্তু আসল প্রশ্ন—আজ কলকাতা মহানগরী থেকে বারাসত বসিরহাট মথুরাপুরের মতো মফস্‌সল কি গ্রামবাংলায় ভোটযুদ্ধের হাল কী দাঁড়াবে? যুদ্ধটা রাজনৈতিক আবেগ উত্তেজনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সংঘাত সংঘর্ষের চূড়ান্ত অপ্রীতিকর রক্তক্ষয়ী পথ ধরবে? খুব নিশ্চিত করে শনিবার অব্দি কেউই বলতে পারেননি। তবে, মমতা প্রশাসন ও কমিশনের ওপর মানুষ এখনও যথেষ্ট আস্থাশীল। তাঁদের বিশ্বাস, এই দুইয়ের যৌথ উদ্যোগে বিগত ছয় দফার মতো আজও শান্তিতেই শেষ
হবে এবারের লোকসভা মহারণের অন্তিম দফা। উত্তেজনার ইন্ধন জোগানো নেতানেত্রী বা গণ্ডগোল পাকানোর ‘বহিরাগত’ পাণ্ডারা বিশেষ সুবিধে করতে পারবে না। এরমধ্যেই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে পুলিস বহিরাগতদের বিরুদ্ধে যা ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে, বেহিসেবি কাঁচা টাকা ধরতে যে সক্রিয়তা দেখিয়েছে তাতে মানুষের ওই বিশ্বাস আরও জোরদার হয়েছে। শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে মানুষ যাতে আজকের ভোটের উৎসবে শামিল হতে পারেন
তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে মমতা প্রশাসনও কোথাও কোনও খামতি রাখেনি—খবর তেমনি। এরপর ভোটদেবতার মর্জি। দিনের শেষে তাঁর
প্রসন্ন আশীর্বাদ কতটুকু মিলল, ভোটযুদ্ধের
ময়দানে শেষপর্যন্ত কতটা বজায় থাকল শান্তির বাতাবরণ, চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় কতটা সাফল্য পেল কমিশন—সব বলবে সময়। আমরা
অপেক্ষায় রইলাম। 
19th  May, 2019
পশ্চিমবঙ্গের ভোট বিশ্লেষণ
শুভময় মৈত্র

 এ লেখা যখন আপনারা পড়ছেন, ততক্ষণে বুথফেরত সমীক্ষা আপনাদের হাতে। কিন্তু সমীক্ষা মানেই যে সেটা মিলবে এমনটা নয়। তার কারণ দুটো। এক হল সমস্ত সমীক্ষারই সফল হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। ঘুরিয়ে বললে সম্ভাবনা থাকে ব্যর্থ হওয়ারও।
বিশদ

ভোট ও বুথ-ফেরত সমীক্ষার হাল-হকিকত
অতনু বিশ্বাস

ছ’সপ্তাহ-ব্যাপী লোকসভা নির্বাচন। সাত দফায়। তারও প্রায় পাঁচ সপ্তাহ আগে থেকে প্রচার, ইত্যাদি। আর এখন এক ক্লান্তিকর সময়কালের পরিসমাপ্তিতে অপেক্ষ্যমান জনগণ। কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মত অনভিপ্রেত ঘটনার অভিঘাতে বিমূঢ়, রাজনৈতিক চাপান-উতোর আর হানাহানিতে দীর্ণ, এবং সুদীর্ঘ ভোটপর্বের শেষে গোটা ভারতবর্ষ এখন তাকিয়ে আছে বৃহস্পতিবারের দিকে।
বিশদ

অবশেষে সমাপ্ত, তিক্ততাসহ
পি চিদম্বরম

বিজেপি প্রচারের গোড়ায় ‘গিয়ার’ বদলে নিয়েছিল। ‘আচ্ছে দিন’-এর কথা ভুলক্রমেও উচ্চারিত হয়নি। ২০১৪ সালের প্রতিশ্রুতিগুলি বিজেপির জন্য এক বিড়ম্বনায় পরিণত হয়েছিল। নরেন্দ্র মোদি ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’, পুলওয়ামা-বালাকোট এবং জাতীয়তাবাদের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’ হল স্রেফ একটা ক্রস-বর্ডার অ্যাকশন বা সীমান্ত টপকে হানা—যা দিয়ে পাকিস্তানকে কোনোরকমে নিরস্ত করা যায়নি।
বিশদ

20th  May, 2019
নতুন বন্ধুর খোঁজে কংগ্রেস ও বিজেপি
শুভা দত্ত

বিজেপি যদি ২২০ থেকে ২৩০-এর বেশি আসন না পায়, তখন কী হবে? এনডিএ-র শরিকরা একবাক্যে বলবে, মোদির ভুলভাল সিদ্ধান্তের জন্যই ভোটার বিমুখ হয়েছে, সুতরাং তাঁকে আর প্রধানমন্ত্রী করার দরকার নেই। আরএসএস অবশ্য তাঁকে সরাতে চাইবে না। এই অবস্থায় অমিত শাহরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন যাতে আরও কয়েকটি দলকে তাঁদের সমর্থনে পাওয়া যায়। বিজেপি যদি ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে আসন পায়? তাহলে নিশ্চিতভাবেই মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা জলাঞ্জলি যাবে। যতই নতুন বন্ধু আসুক, দিল্লিতে সরকার গড়া কিছুতেই সম্ভব হবে না। বিজেপিকে বসতে হবে বিরোধী আসনে।
বিশদ

20th  May, 2019
ভোট কেন দেশের
নামে হল না?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সামনে একটি প্লাইউডের কাটআউট। মাঝখানটা জানালার মতো কেটে জায়গা করা। সেলফি জোন বা সেলফি পয়েন্ট। অবশ্য সেটা নামেই। নিজে ছবি তুললে ইমপ্যাক্ট পড়বে না। বরং বিষয়টা এমন, ভোট দিয়ে বেরিয়ে ভোটার সেখানে দাঁড়াবেন... উল্টোদিক থেকে কেউ ছবি তুলবে।
বিশদ

18th  May, 2019
এবার ভোটে যে-কথা কেউ বলেনি
শুভা দত্ত

 ভোটপর্ব শেষ হয়ে এল। সামনের রবিবারেই ভোটগ্রহণ শেষ। প্রচারও শেষ হল। বৈশাখের দহন জ্বালা যত বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনীতির উত্তাপ। মারদাঙ্গা, ভাঙচুর, ব্যক্তিগত আক্রমণ, সবই চলছে। এবার একটা বড় ইস্যু দেশের সুরক্ষা। তার সঙ্গে দুর্নীতি, বেকারত্ব, চাষিদের দুর্দশা এসবও আছে। কিন্তু একটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলেনি। বিষয়টি হল বায়ুদূষণ। বিশদ

17th  May, 2019
বিদ্যাসাগর ও স্বাজাত্যবোধ
সমৃদ্ধ দত্ত

 শুধু রেগে গেলে চলবে কেন? একটু বুঝতেও তো হবে। মূর্তি ভাঙা তো একটা কার্য। প্রতিটি কার্যের পিছনে একটি কারণও থাকে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মধ্যে অনেক অবদমিত অপ্রাপ্তি ও দীর্ঘকালের ক্ষোভ রয়েছে। সেই ক্ষোভের আবেগকে উড়িয়ে দিলে তো হবে না। একটু সহানুভূতির সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হবে।
বিশদ

17th  May, 2019
ভোট গণনার সেকাল
একাল ও নতুন চ্যালেঞ্জ
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারতবাসী তথা বিশ্ববাসী। বিগত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপানউতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে।
বিশদ

16th  May, 2019
সবার উপরে ভোট সত্য
হারাধন চৌধুরী 

সিকি শতক আগের কথা। কর্মসূত্রে মেদিনীপুর শহরে থাকি। গ্রীষ্মের সকাল। ভোটের দিন। ভোটের খবর নিতে বেরনোর আগে চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দেব। পঞ্চুরচকে চায়ের দোকানে এসেছি। এক ফেরিওয়ালার সঙ্গে দেখা।  
বিশদ

14th  May, 2019
অর্থনীতি ‘ডেঞ্জার জোন’-এ প্রবেশ করেছে
পি চিদম্বরম

 ২০১৪-র নির্বাচনে পাল্লা দিতে নেমে নরেন্দ্র মোদি অর্থনীতি বিষয়ে একটি হঠকারী মন্তব্য করে বসেছিলেন। প্রতিক্রিয়ায় আমি বলেছিলাম, ‘‘মোদিজির অর্থনৈতিক জ্ঞানটা একটি ডাক টিকিটের পিছনেই লিখে ফেলা যেতে পারে।’’ আমার মন্তব্যটি নির্দোষ ছিল, কিন্তু আমার বিশ্বাস, ওই মন্তব্যের কারণে মোদিজি আমাকে ক্ষমা করেননি!
বিশদ

13th  May, 2019
মমতার নেতৃত্ব মানতে কংগ্রেসি অনীহা কি আখেরে মোদিজির সুবিধে করে দিল?
শুভা দত্ত

প্রবল তাপে পুড়ছে রাজ্য। আকশে মেঘের চিহ্নমাত্র নেই। ঘূর্ণিঝড় ফণীর হাত থেকে এ যাত্রায় রেহাই মিললেও কাঠফাটা রোদ আর মাথা ঘোরানো গরমের হাত থেকে রেহাই মিলছে না। বাঁকুড়া-পুরুলিয়ার মতো রুখু জেলাগুলো ইতিমধ্যেই চল্লিশ ছাড়িয়েছে, মহানগরী কলকাতাও বসে নেই। সেও প্রায় চল্লিশের ঘরে!
বিশদ

12th  May, 2019
তাহলে, হাওয়া
এবার কোন দিকে?
মোশারফ হোসেন

দেখতে দেখতে মোট সাত দফা ভোটগ্রহণের পাঁচটি দফাই সম্পূর্ণ হয়ে গেল। গোটা দেশে। আমাদের রাজ্যেও। বাকি দুটি দফায় মাত্র ১১৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। যদিও ওইসব কেন্দ্রের ভোট বেশ কয়েকটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক গুরুত্বের বিচারে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
বিশদ

11th  May, 2019
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছেলের হাতে খুন হলেন মা। রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে হরিদেবপুর থানার করুণাময়ীতে। মৃতার নাম অপু সরকার (৪৪)। ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে তাঁকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। পরে গুণধর ছেলে নিজেই এসে থানায় আত্মসমর্পণ করে। পুলিস জানিয়েছে, ওই ...

ঢাকা: বাংলাদেশ থেকে প্রায় ছয় মাস আগে ইউরোপ যাত্রা করেন সিলেটের বিলাল। তিনজনের সঙ্গে নানা দেশ ঘুরে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি যাওয়ার পর আরও ৮০ বাংলাদেশির ...

 নয়াদিল্লি, ২০ মে (পিটিআই): ভোট পরবর্তী এক্সিট পোল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। যদিও গেরুয়া শিবির রীতিমতো উচ্ছ্বসিত। সপ্তম দফার নির্বাচনের পর এক্সিট পোলে ইঙ্গিত মিলেছে, দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরছেন মোদি সরকার। শুধু ফিরছে না। ...

 সংবাদদাতা, কুমারগ্রাম: ইস্ট ইন্ডিয়ানিনজা স্পোর্টস মিটে অংশ নিয়ে অন্যান্য রাজ্যগুলির খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিযোগিতার আসরে নেমে আলিপুরদুয়ার জেলার১৬ জন প্রতিযোগী সোনার পদক, ১০জন প্রতিযোগী রুপার পদক এবং ৪জন প্রতিযোগী ব্রোঞ্জ পদক জিতে নিয়েছে।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

যারা বিদ্যার্থী তাদের মানসিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে। নানা বিষয়ে খুঁতখুঁতে ভাব জাগবে। গোপন প্রেম থাকলে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৩৫: কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর জন্ম
১৯২১: নোবেলজয়ী সোভিয়েত বিজ্ঞানী আন্দ্রে শাখারভের জন্ম
১৯৯১: ভারতের ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৬৫ টাকা ৭০.৩৪ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৮৮ টাকা ৯০.১১ টাকা
ইউরো ৭৬.০৬ টাকা ৭৮.৯৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,০৬৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৪২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৮৭৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৬,১৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৬,২৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২১ মে ২০১৯, মঙ্গলবার, তৃতীয়া ৫১/৪৭ রাত্রি ১/৪১। মূলা ৫৬/২৩ রাত্রি ৩/৩১। সূ উ ৪/৫৮/১২, অ ৬/৮/০, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৭ মধ্যে পুনঃ ৯/২২ গতে ১১/৫৯ মধ্যে পুনঃ ৩/২৯ গতে ৪/২২ মধ্যে। রাত্রি ৬/৫১ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ২/৫ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৭ গতে ৮/১৬ মধ্যে পুনঃ ১/১২ গতে ২/৫১ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩০ গতে ৮/৫০ মধ্যে।
৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২১ মে ২০১৯, মঙ্গলবার, তৃতীয়া ৫২/৪৪/৩৭ রাত্রি ২/৩/৪০। মূলানক্ষত্র ৫৮/১১/৫৫ শেষরাত্রি ৪/১৪/৩৫, সূ উ ৪/৫৭/৪৯, অ ৬/১০/৫, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৬ মধ্যে ও ৯/২২ গতে ১২/২ মধ্যে ও ৩/৩৬ গতে ৪/৩০ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৫৮ মধ্যে ও ১১/৫৮ গতে ২/৪ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৬/৫১ গতে ৮/১৫/৫৩ মধ্যে, কালবেলা ১/১২/৫৯ গতে ২/৫২/১ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩১/৩ গতে ৮/৫২/১ মধ্যে।
১৫ রমজান
এই মুহূর্তে
মাধ্যমিকের প্রথম সৌগতকে সাহায্যের আশ্বাস পার্থর
আজ মাধ্যমিকের ফল ঘোষণার পর প্রথম স্থানাধিকারী সৌগত দাসকে ফোন ...বিশদ

04:54:19 PM

১২৮১০ হাওড়া-মুম্বই (সিএসএমটি) মেল আজ রাত ৮টার বদলে রাত ৯:১৫ মিনিটে হাওড়া স্টেশন থেকে ছাড়বে 

03:53:16 PM

মাধ্যমিকে অকৃতকার্য হওয়ায় পূঃ বর্ধমানের গোপালপুরে আত্মঘাতী ছাত্রী  

03:34:10 PM

খড়্গপুরের আইটিআইয়ের কাছে যুবককে গুলি করে খুন

03:31:00 PM

সোপিয়ানে সেনা-জঙ্গি গুলির লড়াই 

03:21:02 PM

৫০০ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

03:05:01 PM