Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

এবার ভোটে যে-কথা কেউ বলেনি
শুভা দত্ত

ভোটপর্ব শেষ হয়ে এল। সামনের রবিবারেই ভোটগ্রহণ শেষ। প্রচারও শেষ হল। বৈশাখের দহন জ্বালা যত বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনীতির উত্তাপ। মারদাঙ্গা, ভাঙচুর, ব্যক্তিগত আক্রমণ, সবই চলছে। এবার একটা বড় ইস্যু দেশের সুরক্ষা। তার সঙ্গে দুর্নীতি, বেকারত্ব, চাষিদের দুর্দশা এসবও আছে। কিন্তু একটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলেনি। বিষয়টি হল বায়ুদূষণ।
বিজেপি, কংগ্রেস ও অন্যান্য ছোটখাট দলের নির্বাচনী ইস্তাহারে কিন্তু দূষণ নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে। বিজেপি’র ইস্তাহারে লিখেছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মোট ১০২টি শহরের দূষণের মাত্রা ৩৫ শতাংশ কমিয়ে আনা হবে। কংগ্রেস স্বীকার করেছে, দূষণ একটা উদ্বেগজনক বিষয়। ক্ষমতায় এলে বড় শহরগুলির বায়ু থেকে বিষ কমানোর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আম আদমি পার্টিও এই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই প্রথমবার ভোটের ইস্তাহারে দূষণের কথা স্থান পেল। কিন্তু ওই পর্যন্তই। ব্যাপারটা কাগজে-কলমেই আছে। রাজনৈতিক দলের ইস্তাহার আর ক’জন পড়ে। দলের সব সমর্থকও পড়ে কি না সন্দেহ। বেশিরভাগ লোক নেতাদের ভাষণ শুনে সংশ্লিষ্ট দলের কর্মসূচি সম্পর্কে ধারণা করে নেয়। যতদূর জানি, এখনও পর্যন্ত কোনও নেতা ভাষণে বলেননি, ক্ষমতায় এলে চেষ্টা করবেন যাতে মানুষ নির্মল হাওয়ায় শ্বাস নিতে পারে। হাওয়ায় যতই বিষ মিশুক, আমাদের দেশে তা এখনও জোরালো ইস্যু নয়।
ভারতে বায়ুদূষণের সমস্যা কিন্তু খুবই গুরুতর। ওয়ার্ল্ড হেল্‌থ অর্গানাইজেশনের হিসাব মতো, সারা বিশ্বে যে ২০টি শহরের বায়ু সবচেয়ে বেশি দূষিত, তার মধ্যে আছে ভারতের ১৬টি। হাওয়ায় এত দূষণ আছে বলে কমে যাচ্ছে মানুষের গড়পড়তা আয়ু। ২০১৭ সালে বায়ুদূষণজনিত রোগে মারা গিয়েছিলেন প্রায় ১২ লক্ষ ভারতীয়।
বায়ুদূষণের প্রধান কারণ মোটরগাড়ির ধোঁয়া। দ্রুত নগরায়ণ, নির্বিচারে গাছ কাটা, জলাশয় ভরাট করা, এসবের ফলেও বাতাসে বিষ মেশে।
এদেশে যে শহরগুলির হাওয়া সবচেয়ে বেশি দূষিত সেই তালিকায় আছে কয়েকটি ভিআইপি কেন্দ্র। তার অন্যতম কানপুর। ২০১৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রিপোর্ট দিয়েছিল, কানপুর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর। এখানকার হাওয়ায় যে পরিমাণ বিষ আছে, আর কোনও শহরে অত নেই।
এক সময় কানপুরে দাঁড়াতেন মুরলী মনোহর যোশি। এবার সেখানে বিজেপির তরফে প্রার্থী সত্যদেব পাচৌরি। বিপক্ষে কংগ্রেসের শ্রীপ্রকাশ জয়সোয়াল। সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী রাম কুমার। ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। ভোটারের সংখ্যা ১৬ লক্ষের কিছু বেশি।
মার্চে নির্বাচনের দিন ঘোষণার কিছুদিন আগে শহরে সভা করে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এপ্রিলে সভা করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী এবং রাজ্যের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ সিং যাদব ও মায়াবতীও জনসভা করেছেন। কিন্তু কারও ভাষণে শহরের বায়ু পরিশুদ্ধ করার কথা শোনা যায়নি।
রাজনীতিকরা কি কানপুরের বায়ুদূষণের খবর রাখেন না? নিশ্চয় রাখেন। তাঁদের কাছে সম্ভবত জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায় না। কিংবা হয়তো অন্য কোনও বাধ্যবাধকতা ছিল। বায়ুদূষণ রোধ করতে হলে দূষণ সৃষ্টিকারী শিল্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাহলে আবার সেই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু লোকের বেকার হয়ে পড়ার সম্ভাবনা। সব দিক ভেবে নেতারা চুপ থাকাই বাঞ্ছনীয় মনে করেছেন।
সারা বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত শহরগুলির মধ্যে আছে বারাণসী। খোদ প্রধানমন্ত্রী সেখানকার প্রার্থী। এই নিয়ে পর পর দু’বার সেই প্রাচীন শহর থেকে ভোটে লড়ছেন। তিনি ও তাঁর দলের অন্যান্য মন্ত্রী নির্মল গঙ্গার কথা বলেন। কিন্তু বারাণসীর বাতাসকে দূষণমুক্ত করার কথা একবারও বলেননি।
উত্তরপ্রদেশের আর একটা হাই প্রোফাইল কেন্দ্রের নাম লখনউ। এখানে প্রার্থী বিজেপি’র রাজনাথ সিং। বিপরীতে সমাজবাদী পার্টির হয়ে দাঁড়িয়েছেন পুনম সিনহা। তিনি অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা’র স্ত্রী। শত্রুঘ্ন নিজে কংগ্রেসের প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও লখনউতে এসে প্রচার করে গিয়েছেন স্ত্রী’র হয়ে।
উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টির আর বহুজন সমাজ পার্টির ‘মহাগঠবন্ধনে’ কংগ্রেসের ঠাঁই হয়নি। অনেকে প্রশ্ন করেছেন, অভিনেতা নিজে কংগ্রেস প্রার্থী হয়ে কেমন করে সমাজবাদী পার্টির হয়ে প্রচার করতে পারেন? তার জবাবও দিয়েছেন শত্রুঘ্ন। এইরকম চাপান-উতোর অনেক হয়েছে। তার মাঝে কেউ ভুলেও শহরের বায়ুদূষণের কথা তোলেনি। যদিও বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ২০টি শহরের তালিকায় লখনউয়ের নাম আছে। আর আছে এলাহাবাদের নাম। সেও খুব নামী কেন্দ্র। একসময় এখানে প্রার্থী হতেন লালবাহাদুর শাস্ত্রী। আর এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ভিপি সিং-ও এই কেন্দ্র থেকে দাঁড়াতেন। মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন জীবনে একবারই ভোটে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরও কেন্দ্র ছিল এলাহাবাদ।
তথ্য বলছে, দেশের বেশিরভাগ দূষিত শহর উত্তর ভারতে অবস্থিত। প্রতি বছর শীতে সেখানকার আকাশ ঢেকে যায় ধোঁয়াশায়। তার মধ্যে নিঃশ্বাস নেওয়াই হয়ে ওঠে কষ্টকর। আমাদের কেন্দ্রীয় সরকারের এয়ার কোয়ালিটি ফোরকাস্টিং অ্যান্ড রিসার্চ নামে একটি সংস্থা আছে। তারা বলছে, আগামী দিনে দূষণের মাত্রা আরও বাড়বে।
উত্তর ভারতের অন্যতম শহর দিল্লি। চিকিৎসকরা রাজধানীর বাসিন্দাদের পরামর্শ দেন, শীতে প্রবল বায়ুদূষণের মধ্যে বেশি শারীরিক পরিশ্রম করবেন না। ঘরের জানলা বন্ধ রাখুন। বাইরে বেরলে মাস্ক পরুন।
গত রবিবার দিল্লিতে ভোট হয়ে গেল। সেখানে আসনের সংখ্যা সাত। গতবারে সাতটিই পেয়েছিল বিজেপি। এবার অনেকে চেষ্টা করেছিলেন যাতে বিজেপি বিরোধী ভোট ভাগ না হয়। তবুও আম আদমি পার্টি আর কংগ্রেসের জোট হল না। অতএব ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তাতে সুবিধা বিজেপি’র।
শেষ অবধি যেই জিতুক, দিল্লির হাওয়া নির্মল হওয়া মুশকিল। প্রতিবেশী রাজ্য পাঞ্জাব ও হরিয়ানার চাষিরা প্রতি বছর অক্টোবর-নভেম্বর মাসে শস্যখেতে ফসলের অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে দেন। সেই ধোঁয়ায় ঢেকে যায় রাজধানী ও তার আশপাশের অঞ্চল।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বায়ুদূষণজনিত কারণে প্রতি বছর শহরে হাজার হাজার মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২০১৫ সালে শুধু কানপুরেই অসুস্থ হয়েছিলেন ৪০ হাজার জন। দু’বছরের মধ্যে সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার। আগামী দিনে আরও বাড়লে আশ্চর্যের কিছু নেই।
শহরের অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তাঁদের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। গলায় জ্বালা করে। মাঝে মাঝেই কাশি হয়। কিন্তু সর্দিকাশির জন্য চিকিৎসকরা সাধারণত যে ওষুধ দেন, তা এক্ষেত্রে কাজ করে না। যাঁরা রাস্তাঘাটে কাজ করেন, যেমন ট্রাফিক কনস্টেবল, গাড়ির চালক, ক্লিনার, রাস্তার ধারে দোকানের কর্মী অথবা যে গরিবরা ফুটপাতে বাস করেন, তাঁদেরই বায়ুদূষণে অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
দিল্লিতে প্রতি বছর ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হয় ২২ লক্ষ শিশু। তাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। পরবর্তীকালে ডায়াবেটিস, মৃগী, এমনকী ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকে।
আমাদের কল্লোলিনী কলকাতার অবস্থা কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির চেয়ে এই শহরের অবস্থা বিশেষ ভালো নয়। হাওড়া স্টেশন, শিয়ালদহ, বড়বাজার কিংবা মৌলালির মতো জায়গায় দূষণের মাত্রা ভয়াবহ। দিনের ব্যস্ত সময়ে গাড়ির ধোঁয়ায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
অনেকে বলছেন, গত দুই দশকে উদারনীতির হাওয়ায় দেশে যে শিল্পায়ন হয়েছে, তার অবশ্যম্ভাবী ফল, বায়ুদূষণ বৃদ্ধি। দূষণ রোধে বেশি কড়াকড়ি করলে শিল্পায়ন ব্যাহত হবে।
কথাটা সর্বাংশে সত্য নয়।
সদিচ্ছা থাকলে শিল্পায়নের পাশাপাশি বাতাসকেও যে অনেকাংশে নির্মল করে তোলা যায়, তা প্রমাণ করেছে চীন। সেদেশে আগে প্রতি বছরে ১১ লক্ষ মানুষ দূষণজনিত নানা রোগে মারা যেতেন। ২০১৪ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির বার্ষিক কংগ্রেসে প্রধানমন্ত্রী লি কেচিয়াং বলেন, আমরা দূষণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছি। কারখানার ধোঁয়ায় আমাদের আকাশ হয়ে উঠেছে ধূসর। আমরা আকাশের নীলিমা ফিরিয়ে দেব।
চীনের সরকার মূলত দুটি বিষয়ের ওপরে জোর দেয়। প্রথমত ইস্পাতের উৎপাদন কমিয়ে আনা। দ্বিতীয়ত কয়লার ব্যবহার কমানো। শক্তির বিকল্প উৎস হিসাবে বায়ু ও সূর্যালোক থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়। এতে চীনের দূষণ যে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, সেকথা মানতে বাধ্য হয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। চীন দূষণের মাত্রা আরও কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা চায়, ২০২২ সালের মধ্যে দেশের বাতাসের মান আমেরিকা এবং ইউরোপের উন্নত দেশগুলির সমতুল হয়ে উঠুক।
চীন যা পারে, আমরা পারি না কেন? তার কারণ, সদিচ্ছার অভাব। মানুষের সচেতনতা না থাকাও একটা কারণ, মানুষ যদি দূষণ নিয়ে বিশেষ মাথা না ঘামায়, ভোটে রাজনীতিকরা তাকে ইস্যু করবে কেন?
দূষণের মতো আরও একটা বিষয় আছে যা নিয়ে ভোটের বাজারে কেউ একটি কথাও বলেনি। প্রতি বছর দেশে পথ দুর্ঘটনায় মারা যায় এক লক্ষেরও বেশি মানুষ। আহত হয় তিন-চার লক্ষ। ২০১৫ সালে ভারত পথ দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত এক আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সই করেছিল। তাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অ্যাক্সিডেন্ট কমিয়ে আনার কথা বলা আছে। দুর্ঘটনা রোধে তার পরে কয়েকটি ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তেমন ফল পাওয়া যায়নি।
যুবকরাই পথ দুর্ঘটনার শিকার হয় সবচেয়ে বেশি। তথ্য বলছে, অ্যাক্সিডেন্টে মৃতদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৫-এর মধ্যে। অনেকে মদ্যপান করে গাড়ি চালায়। বাইক চালানোর সময় হেলমেট পরে না। দীর্ঘসময় ধরে গাড়ি চালাতে চালাতে অনেক ড্রাইভার ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। রাস্তায় প্রায়ই দুটি বাসের মধ্যে রেষারেষি হয়।
দূষণের কথা তবু তো কয়েকটি দলের ইস্তাহারে স্থান পেয়েছে, পথ দুর্ঘটনার কথা তাও পায়নি। আজ পর্যন্ত কোনও দল ইস্তাহারেও লেখেনি, ক্ষমতায় এলে দুর্ঘটনায় জীবনহানি কমানোর ব্যবস্থা করবে।
17th  May, 2019
বাংলার দুর্ভাগ্য
সমৃদ্ধ দত্ত

এত বড় একটা সাইক্লোনে একটি রাজ্যের বৃহৎ অংশ একপ্রকার বিধ্বস্ত হয়ে গেল, অথচ গোটা দেশের কোনও দোলাচল নেই? প্রথমদিন ট্যুইটারে সমবেদনা জানিয়েই সকলে যে যার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেল? কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে রাজ্যটাকে পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর কোনও দৃপ্ত সহায়তা প্রতিজ্ঞাও তো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশদ

ভাবুন, সুন্দরবন নেই আর উম-পুন
বয়ে গিয়েছে কলকাতার উপর দিয়ে!
হারাধন চৌধুরী

ভাঙা যায়নি অনুন্নয়নের ট্র্যাডিশন। সামান্য উন্নয়নেও তীব্র বৈষম্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। পরিণামে কোটি কোটি মানুষ কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন শত শত মাইল দূরে—চরম অনিশ্চয়তা আর বিপদকে সঙ্গী করে। অন্যদিকে, সঙ্কীর্ণ রাজনীতির বোড়ে হয়ে উঠেছেন দেশবাসীর প্রায় সকলে।
বিশদ

28th  May, 2020
‘আত্মসম্মান’ খ্যাত এক ভাঁড়ের রসিকতা
সন্দীপন বিশ্বাস 

অন্য দেশের রাজাদের মতো হবুরও আছে বিদূষক। অনেক বিদূষক তাঁর। তাঁদের তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তাঁরা সেই সব রাজ্যের প্রপালক। তাঁদের কাজ হল মহারাজ হবুর মুৎসুদ্দি করা। আর নানা ধরনের মন্তব্য করে অঙ্গরাজ্যের জনগণকে আনন্দ বিতরণ করা।  বিশদ

27th  May, 2020
মানবিকতার উপর
বিশ্বাসটা যেন রাখতে পারি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

একটা ঝড়... যা পথে বসিয়েছিল সরযূ মণ্ডলকে। জানতেও পারেননি, কোথায় উড়ে গিয়ে পড়েছিল তাঁর ছাদটা। কিন্তু সে দুঃখ ছাপিয়ে গিয়েছিল এক অন্য আতঙ্ক... নির্জলা মরতে হবে না তো? জলেই তার বসত, অথচ সে জল মুখে দেওয়া যায় না... তেষ্টা মেটে না।   বিশদ

26th  May, 2020
ব্যয় করো, ঋণ করো, টাকার জোগান বাড়াও 

পি চিদম্বরম: প্রধানমন্ত্রী গত ১২ মে ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, গত সপ্তাহে আমি সেটার বিশ্লেষণ করেছিলাম। বিগত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী পাঁচ দফায় বিস্তারিতভাবে যে ঘোষণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা পরে সেসব কাটাছেঁড়া করেছেন।   বিশদ

25th  May, 2020
মহামারীর সঙ্গে মহাপ্রলয়,
তবু বাংলা জিতবেই
হিমাংশু সিংহ

ইতিহাসের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলা। আমাদের বঙ্গভূমি। দেশভাগ, মন্বন্তর, বন্যা, মহামারী কিছুই আমাদের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। ভেঙে গিয়েও আবার ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমরা। নতুন ভোরের স্বপ্নে শুরু হয়েছে ফের পথ চলা।
বিশদ

24th  May, 2020
আত্মকেন্দ্রিক হোন,
কিন্তু স্বার্থপর নয়
তন্ময় মল্লিক

 করোনাকে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে। হু-এর এই ঘোষণার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। চীন, জাপান, আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, ইজরায়েল যাই দাবি করুক না কেন, বাস্তবটা হল, করোনা ভ্যাকসিন নাগালের ধারেকাছে নেই।
বিশদ

23rd  May, 2020
করোনা প্যাকেজের অশ্বডিম্ব!
মৃণালকান্তি দাস

 প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটির বিলাসবহুল বিমানের খবরটাই গিলে খেয়ে নিয়েছে করোনা সঙ্কট! খবরটা কী? এতদিন বোয়িং ৭৪৭ বিমানে বিদেশ সফরে যেতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খুব শীঘ্রই এর জায়গা নিতে আসছে বোয়িং ৭৭৭।
বিশদ

22nd  May, 2020
সুযোগের সদ্ব্যবহারে
কতটা প্রস্তুত ভারত
হারাধন চৌধুরী

 জলে কুমির ডাঙায় বাঘের এমন জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত স্মরণকালের মধ্যে আমরা দেখিনি। শুধু বাংলা বা ভারত নয়, সারা পৃথিবীর জন্যই এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। রোগ সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে সবাই ঘরের নিরাপদ কোণ বেছে নিলাম।
বিশদ

21st  May, 2020
আত্মনির্ভরতার স্টিকার
মারা ‘খুড়োর কল’
সন্দীপন বিশ্বাস

সুকুমার রায়ের ‘খুড়োর কল’ কবিতার সঙ্গে বাঙালির দীর্ঘদিনের পরিচয়। চণ্ডীদাসের খুড়োর সেই আজব কল ছিল একটা ভাঁওতা। ভালো ভালো খাবারের লোভ দেখিয়ে মানুষকে তা ছুটিয়ে মারত। মরীচিকার মতো অবাস্তব এবং বিরাট একটা ধাপ্পা ছিল ওই খুড়োর কল।
বিশদ

20th  May, 2020
গালভরা প্যাকেজ,
দেশ বাঁচবে তো?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 ঊষা জগদালে। মহারাষ্ট্রের বিদ জেলায় বাড়ি তাঁর। রোজ সকালে যখন পরিবারকে ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে ছেড়ে দরজার বাইরে পা রাখেন, তখনও ঠিকঠাক জানেন না, কোন বিদ্যুতের খুঁটিতে তাঁকে উঠতে হবে। তবে জানেন, কাজের চৌহদ্দির মধ্যে কোথাও সমস্যা হলে তাঁরই ডাক পড়বে।
বিশদ

19th  May, 2020
২০ লক্ষ কোটি টাকার রহস্য কাহিনী
পি চিদম্বরম

চলতি অর্থবর্ষে ৩০ লক্ষ ৪২ হাজার ২৩০ কোটি টাকা খরচ করার পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ২০২০-২১-এর বাজেট পেশ করেছিল। ৭ লক্ষ ৯৬ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে রাজস্বের দিকের ঘাটতি মেটাবে সরকার।
বিশদ

18th  May, 2020
একনজরে
অলকাভ নিয়োগী, বর্ধমান: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে যখন গোটা রাজ্য আতঙ্কিত, তখন ‘মড়ার উপর খাড়ার ঘা’য়ের মতো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে দিয়ে গিয়েছে সুপার সাইক্লোন উম-পুন। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যুর নিরিখে দেশের মধ্যে শীর্ষে থাকা মহারাষ্ট্র সহ পাঁচ রাজ্য থেকে ২০ হাজারের বেশি পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে বৃহস্পতিবার ফিরল ১৬টি স্পেশাল ট্রেন। এর মধ্যে ন’টি ট্রেনে চেপে ১০ হাজারের বেশি পরিযায়ী শ্রমিক ফিরলেন মহারাষ্ট্র ...

  নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সরকারি হিসেবে সুন্দরবনের ৩ হাজার ৯৯১ কিলোমিটার জঙ্গল কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ বাদাবন ধ্বংস করে ...

সংবাদদাতা, দিনহাটা: করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে এবার আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর উদ্যোগ নিল কোচবিহার জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। জুন মাসের মধ্যেই ১৫-২০টি বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হবে।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যায় সাফল্যও হতাশা দুই বর্তমান। নতুন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠবে। কর্মপ্রার্থীদের শুভ যোগ আছে। কর্মক্ষেত্রের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৬৫—প্রবাসী, মডার্ন রিভিউয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম।
১৯৫৩—প্রথম এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করলেন তেনজিং নোরগে এবং এডমন্ড হিলারি
১৯৫৪—অভিনেতা পঙ্কজ কাপুরের জন্ম।
১৯৭২—অভিনেতা পৃথ্বীরাজ কাপুরের মৃত্যু।
১৯৭৭—ভাষাবিদ সুনীতি চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু।
১৯৮৭—ভারতের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী চৌধুরি চরণ সিংয়ের মৃত্যু।



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৫.০১ টাকা ৭৬.৭৩ টাকা
পাউন্ড ৯১.৩২ টাকা ৯৪.৫৭ টাকা
ইউরো ৮১.৯৯ টাকা ৮৫.০৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ মে ২০২০, শুক্রবার, সপ্তমী ৪২/২৯ রাত্রি ৯/৫৬। অশ্লেষানক্ষত্র ৫/৫ দিবা ৬/৫৮। সূর্যোদয় ৪/৫৬/৬, সূর্যাস্ত ৬/১১/৫৫। অমৃতযোগ দিবা ১২/০ গতে ২/৩৯ মধ্যে। রাত্রি ৮/২১ মধ্যে পুনঃ ১২/৩৮ গতে ২/৪৭ মধ্যে পুনঃ ৩/৩০ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৮/১৫ গতে ১১/৩৪ মধ্যে। কালরাত্রি ৮/৫২ গতে ১০/১৩ মধ্যে।
১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ মে ২০২০, শুক্রবার, সপ্তমী রাত্রি ৭/৩। মঘানক্ষত্র রাত্রি ৩/৩৬। সূর্যোদয় ৪/৫৬, সূর্যাস্ত ৬/১৪। অমৃতযোগ দিবা ১২/৪ গতে ২/৪৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/২৭ মধ্যে ও ১২/৪০ গতে ২/৪৮ মধ্যে ও ৩/৩০ গতে ৪/৫৬ মধ্যে। বারবেলা ৮/১৫ গতে ১১/৩৫ মধ্যে। কালরাত্রি ৮/৫৪ গতে ১০/১৪ মধ্যে।
৫ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
১৬ জুন খুলছে দক্ষিণেশ্বর মন্দির 

09:55:50 PM

নিয়ামতপুরে অস্ত্র কারখানার হদিশ 

09:38:06 PM

১ জুন খুলছে না বেলুড় মঠ 
করোনা সংক্রমণের হার বাড়তে থাকায় ১ জুন থেকে খুলছে না ...বিশদ

09:23:02 PM

দিল্লিতে ভূমিকম্প অনুভূত, রিখটার স্কেলে মাত্রা ৪.৬

09:16:00 PM

রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক মুখ্যসচিবের 
রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি, উম-পুন পরবর্তী অবস্থা ও পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যু ...বিশদ

08:55:00 PM

তামিলনাড়ুতে করোনায় আক্রান্ত আরও ৮৭৪, রাজ্যে মোট আক্রান্ত ২০,২৪৬ 

07:55:48 PM