Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভোট গণনার সেকাল
একাল ও নতুন চ্যালেঞ্জ
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারতবাসী তথা বিশ্ববাসী। বিগত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপানউতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে। কে বা কারা জিতবে, কে বা কারা হারবে—সে বিষয়টি যেমন গণনার সঙ্গে যুক্ত আছে তেমনি ইভিএম-এর সঙ্গে ভিভিপ্যাট যুক্ত হওয়া এবং প্রতি বিধানসভা ক্ষেত্রে পাঁচটি করে নমুনা ভিভিপ্যাট গণনা অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় গণনা প্রক্রিয়ায় এসেছে নতুন চ্যালেঞ্জ।
পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৫১-১৯৫২ সালে। ওই নির্বাচনে মানুষ ব্যালট পেপারে সংসদের প্রতিনিধি নির্বাচনে তাঁদের মতামত জানিয়েছিলেন। নির্বাচন পরিচালনার অনভিজ্ঞতার কারণে সেবার ভোট গণনা তিনদিন পর্যন্ত গড়িয়েছিল। ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৯৯ সালের আগে পর্যন্ত ব্যালট পেপারের মাধ্যমেই ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভোটপর্ব মিটে যাওয়ার পর ভোট গণনা ছিল নির্বাচন কমিশনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে প্রথম নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে দ্রুত ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে একদিকে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে লাগল, অন্যদিকে ভোটদানের হার বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিরাট সংখ্যক ব্যালট পেপার গণনা করে ফল প্রকাশ করা নির্বাচন কমিশনের কাছে আক্ষরিক অর্থেই চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল।
১৯৫২-এর নির্বাচনে যেখানে মাত্র ১৭ কোটি ভোটার ছিলেন সেখানে এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৯০ কোটি। প্রথম নির্বাচনে যেখানে কেবল ৪৪.৮৭ শতাংশ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন সেখানে এবারে ভোটদানের হার গড়ে ৬৪ শতাংশের মতো। ৮০-র দশকের পর ভোটার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যালট পেপার গণনাকে কেন্দ্র করে বিস্তর সমস্যা উঠে এসেছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল—
(ক) প্রার্থীর প্রতীকে সঠিক স্থানে ছাপ না পড়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক, (খ) ব্যালট পেপার নষ্ট করে দেওয়া বিশেষ করে ছিঁড়ে দেওয়া, জল দিয়ে নষ্ট করার মতো অভিযোগ, (গ) প্রার্থী পিছু যে ব্যালট পেপারের বান্ডিল গণনা কেন্দ্রে বাঁধা হতো, তাতে জালিয়াতি করার মতো অভিযোগ উঠত। পাশাপাশি একটি লোকসভা নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল জানতে দু’দিন থেকে তিনদিন সময় পর্যন্ত লেগে যেত। এই দীর্ঘ গণনা প্রক্রিয়ায় ভোট কর্মীরা যেমন ক্লান্ত হয়ে পড়তেন তেমনি ভোটপ্রার্থী ও তাঁর এজেন্টরাও এক সময় ক্লান্ত হয়ে বহু ক্ষেত্রেই গণনা থেকে উঠে আসতে বাধ্য হতেন, নতুবা প্রার্থীর এজেন্টদের ক্লান্তির সুযোগ নিয়ে ভোটের ফলকে প্রভাবিত করার ঘটনা বারবার লক্ষ করা গেছে। দু-তিনদিন ধরে ব্যালট পেপার গণনা পর্বে গণনা কেন্দ্রেই ব্যালট পেপার ছিনতাই থেকে শুরু করে ব্যালট পেপার নষ্ট করবার ঘটনা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের মুখে শোনা যেত। গণনা কেন্দ্রে নিরাপত্তা বিধান করাও ছিল নির্বাচন কমিশনের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ গণনা পর্বে এগিয়ে থাকা প্রার্থীর প্রভাব সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকত, উঠত পরাজিত প্রার্থী এবং তাঁর এজেন্টদের উপর হামলা, ভয় দেখানোর মতো অভিযোগ।
১৯৫২-১৯৮৯ পর্যন্ত ব্যালট পেপার গণনা পর্বে মানুষ মূলত রেডিও সংবাদের মাধ্যমে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের ফল জানত। ১৯৭৭ সাল থেকে কলকাতা দূরদর্শন ঘণ্টায় ঘণ্টায় নির্বাচনী সংবাদ পরিবেশন শুরু করে। সেই সময় ইডেনের ক্রিকেট খেলায় যেভাবে কাঠের বোর্ড ব্যবহার করে স্কোর দর্শকদের জানানো হতো, তেমনি দূরদর্শনের বোর্ডের নম্বর পরিবর্তন করে বিভিন্ন দলের ফলাফল দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হতো।
টি এন সেশন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হওয়ার পর একের পর এক নির্বাচনী সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেন। সংস্কারের অঙ্গ হিসেবে তিনি ব্যালট পেপারের পরিবর্তে ১৯৯৯ সালে ইভিএম মেশিন অন্তর্ভুক্ত করেন। ইভিএম মেশিন অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে চলে আসা ব্যালট পেপার গণনার ক্লান্তিকর কর্মযজ্ঞের পরিসমাপ্তি ঘটে। ভোট গণনায় শুরু হয় নতুন এক যুগের। এক একটি লোকসভা বা বিধানসভা কেন্দ্রের ফলাফল মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নাগরিকদের জানানো সম্ভব হয় ইভিএম-এ ভোটগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায়। তবে সেই সঙ্গে বুথ ভিত্তিক ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার দরুন নতুন করে সমস্যাও উঠে আসে। কোন দল কোন বুথে হেরেছে বা জিতেছে তার উপর ভিত্তি করে নতুন করে তৈরি হয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা জাতিগত দ্বন্দ্ব। ১৯৮৯ সালের নির্বাচন থেকে সারা দেশে ভোটগণনাকে লাইভ টেলিভিশন সম্প্রসারণ করে দূরদর্শন। ওই পর্যায়ে ব্যালট পেপারের মাধ্যমেই ভোট হয়েছিল এবং ব্যালট পেপার মিশ্রিত করে গণনা প্রক্রিয়া চলে। ফলে গণনার সময় আরও বেড়ে গিয়েছিল। প্রায় তিন দিন ধরে দূরদর্শনের লাইভ সম্প্রসারণের মাঝে দর্শকদের মনোরঞ্জন-এর জন্য সিনেমা প্রদর্শন করা হয়েছিল। এ প্রজন্মের ভোটাররা অবগত না হলেও পঞ্চাশোর্ধ্ব সমস্ত ভোটারদের কাছে ১৯৮৯ সালের দীর্ঘ গণনাপর্বে দূরদর্শনে লাইভ সম্প্রসারণ এবং সিনেমা দেখার স্মৃতি অটুট হয়ে রয়েছে।
ইভিএম চলে আসার পর ২০০৯ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো ইভিএম নিয়ে সন্তুষ্টই ছিল। এরপর থেকেই শুরু হয় ইভিএম মেশিনকে নিয়ে সন্দেহ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফ থেকে ইভিএম মেশিনকে বিকৃত করে ভোটের ফল প্রভাবিত করার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। কোনও কোনও দল দাবি জানাতে শুরু করে ইভিএম-এ ভোট গ্রহণের পরিবর্তে পুরনো ব্যালট পেপার ফেরত আনতে। বিশেষ করে ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর অধিকাংশ অ-বিজেপি দলগুলি দাবি তোলে ইভিএম-এর পরিবর্তে ব্যালট পেপার দিয়ে ভোট করানোর বিষয়ে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন পুরনো ব্যালট পেপারে ফিরে যেতে নারাজ। এই অবস্থায় সমাধান সূত্র হিসেবে ইভিএম-এর সঙ্গে ভিভিপ্যাট যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভিভিপ্যাট যুক্ত হওয়ায় ভোটার যাকে ভোট দিয়েছেন, সেখানে ভোট পড়েছে কি না ভোটার সরাসরি তা চাক্ষুষ করতে পারেন। ভিভিপ্যাটে যে পাত্র থাকে ভোটদানের পর প্রদত্ত ভোটের একটি ছোট্ট স্লিপ সেখানে জমা হয়। বিরোধীদের দাবি ছিল ভিভিপ্যাটের সমস্ত স্লিপ ইভিএমের পাশাপাশি গণনা করে দেখতে হবে। এই দাবিতে প্রথমে দিল্লি হাইকোর্ট এবং পরবর্তী পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট লোকসভার অন্তর্গত প্রতিটি বিধানসভায় অন্তত পাঁচটি ভিভিপ্যাট নমুনা হিসাবে গণনা করে ভোটের ফলের সঙ্গে যাচাই করে দেখবার কথা বলেছিল। আর তার ফলেই তৈরি হয়েছে এবারের নির্বাচনে গণনাকে কেন্দ্র করে নতুন চ্যালেঞ্জ। ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমনি ভিভিপ্যাটের স্লিপ গণনাকে কেন্দ্র করে উঠে আসতে পারে নানা বিতর্ক।
বিগত দুই দশক যেমন করে ভোটের ফল গণনার মধ্য বেলাতে আমরা পেয়ে অভ্যস্ত ছিলাম এবার কিন্তু সরকারিভাবে চূড়ান্ত ভোটের ফল জানতে কোথাও মধ্যরাত কোথাও বা পরের দিন চলে যাওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে। সকাল ৮টায় গণনার শুরুতেই পোস্টাল ব্যালট দিয়ে গণনা শুরু হয়। পোস্টাল ব্যালট এর মধ্যে আবার সার্ভিস ব্যালট পেপারে যাঁরা ভোট দেন তাঁদের ব্যালটের বৈধতা বিচার করে গণনা করা সময়-সাধ্য কাজ। মূলত ভারতীয় সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনীতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত ভোটাররা সার্ভিস ব্যালট পেপারে ভোট দেন। ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন পর্বেই কর্মরত ব্যক্তিকে জানিয়ে দিতে হয় তিনি সার্ভিস ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটদান করবেন। সেই অনুযায়ী তিনি যে এলাকায় কর্মরত সেই ইউনিট অফিসে অন লাইন-এ ব্যালট পেপার পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যা নিজস্ব পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে খুলতে হয়। কমিশনের পাঠানো QR Code খামে যুক্ত করে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের নির্বাচন আধিকারিকের কাছে পাঠানো হয়। সঙ্গে ডিক্লারেশন ফর্ম ১৩ (ক) পাঠানো বাধ্যতামূলক। গণনা পর্বে QR Code যাচাই করে ব্যালট পেপার বৈধ ঘোষণা করে গণনা করতে যথেষ্ট সময় লাগার কথা। পাশাপাশি ভোটে কর্মরত ভোট কর্মীদের ব্যালট পেপার গণনাও চলবে। এই পর্বের কাজ শুরু হবার পর ইভিএম গণনা পর্ব আরম্ভ হওয়ার কথা। লোকসভার অন্তর্গত প্রতিটি বিধানসভার জন্য ন্যূনতম ১৪টি টেবিলে গণনা হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। অর্থাৎ কোনও বিধানসভায় ২৮০টি বুথ থাকলে ২০ রাউন্ড-এ ইভিএম মেশিনের ভোট গণনা সম্পূর্ণ হওয়ার কথা।
এরপরেই শুরু হবে নির্বাচন কমিশনের নতুন চ্যালেঞ্জ ভিভিপ্যাটের গণনা। ভিভিপ্যাটের নমুনা চয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন ওই কেন্দ্রের নির্বাচন আধিকারিক। বিধানসভা পিছু পাঁচটি ভিভিপ্যাট এক সঙ্গে গণনা হবে না। একটির পর আরেকটি ভিভিপ্যাটের গণনার জন্য চূড়ান্ত ফল প্রকাশে এবার অতিরিক্ত সাত-আট ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মহল। ভিভিপ্যাট গণনার জন্য আলাদা কাউন্টার গড়ে তোলা হচ্ছে। স্লিপগুলো যাতে স্পষ্ট করে দেখা যায় তার জন্য স্বচ্ছ ধারক রাখা হবে এবং ভিভিপ্যাট গণনার কাউন্টারটি বাইরে থেকে বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা যাতে প্রত্যক্ষ করতে পারে সেই সুযোগও থাকছে। কিন্তু একটা আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে, ইভিএমের কাউন্টিং শেষ হতেই জানা যাবে (অন্তত আন অফিসিয়ালি) কোন প্রার্থী জয়ী হলেন বা কোন প্রার্থী হারলেন। এই অবস্থাতে ইভিএম গণনার পর দীর্ঘ সময় ধরে ভিভিপ্যাটে স্লিপ গণনাতে কিছু কিছু বিষয়ের আশঙ্কা থেকেই যায়। যেমন—
(ক) ভিভিপ্যাটের স্লিপ এতই ছোট মুখে পুরে দিয়ে নষ্ট করে দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না,
(খ) ইভিএম-এ পরাজিত প্রার্থীর তরফ থেকে ভিভিপ্যাট গণনার সময় অতিরিক্ত বাধাদান-এর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে আমাদের মতো তীব্র রাজনৈতিক লড়াই-এর রাজ্যে তো নয়ই, (গ) সংশ্লিষ্ট বুথের ইভিএম-এ প্রাপ্ত ভোট এবং নমুনা ভিভিপ্যাটের প্রাপ্ত ভোটের মধ্যে যদি সামান্যতম পার্থক্যও দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে গণনা প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তবে ভিভিপ্যাটের গণনায় পাওয়া ফলাফল কেবলমাত্র ওই সংশ্লিষ্ট বুথের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য বলে ধরা হবে। এবং ভিভিপ্যাটের গণনা থেকে পাওয়া তথ্যই চূড়ান্ত ফল বলে ওই সংশ্লিষ্ট বুথের ক্ষেত্রে গণ্য হবে। অর্থাৎ ভিভিপ্যাটের গণনায় অসঙ্গতি ধরা পড়লেও সমগ্র ফলাফলের উপর কিন্তু কোনও প্রভাব পড়বে না।
নির্বাচন কমিশনের কাছে ভিভিপ্যাট গণনাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পরবর্তী পর্যায়ে বিরোধীদের দাবি মতো যদি পঞ্চাশ শতাংশ বুথে ভিভিপ্যাট গণনার দাবি মেনে নেওয়া হয়, তবে আমাদের পুরানো ব্যালট পেপার গণনার যুগেই ফিরে যেতে হবে।
 লেখক রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক
16th  May, 2019
আম আদমির বাজেট প্রত্যাশা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

কর্পোরেট কর ২৫ শতাংশ, আর ব্যক্তিগত আয়কর ৩০ শতাংশ... এটা তো হতে পারে না! কাজেই আসন্ন বাজেটে ব্যক্তিগত আয়করের দিক থেকে সাধারণ চাকরিজীবীরা লাভবান হতে পারেন। তাও বিষয়টা সম্ভাবনা আকারেই আছে। তার কারণ, লোকসভা নির্বাচন সদ্য শেষ হয়েছে। আগামী চার বছর তো মোদি সরকার নিশ্চিন্ত! এখনই আয়করে বড় ছাড়ের মতো ঘোষণা করে দিলে ভোটের আগে কী হবে?এই প্রশ্ন আপাতত শনিবার পর্যন্ত সিন্দুকে তোলা থাক।
বিশদ

সবচেয়ে ভালোর জন্য আশা করে সবচেয়ে খারাপের জন্য প্রস্তুতি
পি চিদম্বরম

আর একটি বছর শুরু হল, আর একটি বাজেট পেশের অপেক্ষা, এবং এটি ভারতীয় অর্থনীতির আর একটি গুরুতর বছর। ২০১৬-১৭ সাল থেকে প্রতিটি বছর আমাদের জন্য অনেক বিস্ময় এবং ব্যথা নিয়ে এসেছে। ২০১৬-১৭ গিয়েছে সর্বনাশা নোটবন্দির বছর। ত্রুটিপূর্ণ জিএসটি এবং সেটা তড়িঘড়ি রূপায়ণের বছর গিয়েছে ২০১৭-১৮।  বিশদ

26th  January, 2020
সংবিধান ও গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হলে ভারতের আত্মাও বিপন্ন হতে বাধ্য
হিমাংশু সিংহ

১৫ আগস্ট যদি দেশের জন্মদিন হয়, তাহলে ২৬ জানুয়ারি হচ্ছে কোন মতাদর্শ ও আইন মেনে কীসের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে, তার লিখিত বয়ান চূড়ান্ত করার বর্ণাঢ্য উদযাপনের শুভ মুহূর্ত। নবজাতক শিশু স্কুলে ভর্তি হলে একটা নির্দিষ্ট নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে ধীরে ধীরে পরিণত হয়। 
বিশদ

26th  January, 2020
১৬০০ কোটি টাকায় কী হতে পারে?
মৃণালকান্তি দাস

শুধুমাত্র অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া করতে গিয়েই সরকার খরচ করে ফেলেছে ১৬০০ কোটি টাকা! এত টাকা কীভাবে খরচ হল সেটা খতিয়ে দেখতে দাবি উঠেছে সিবিআই তদন্তের। শুধু তাই-ই নয়, এই এনআরসি করতে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, এই অভিযোগ তুলেছেন অসমের বিজেপি নেতা তথা অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেই দুর্নীতির কথা ধরা পড়েছে ক্যাগের প্রতিবেদনেও। এনআরসির মুখ্য সমন্বয়কারী প্রতীক হাজেলাকে মধ্যপ্রদেশে বদলি করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মুখ লুকোনোর জায়গা পাচ্ছে না বিজেপি।
বিশদ

25th  January, 2020
মুখ হয়ে ওঠার নিরন্তর প্রয়াস
তন্ময় মল্লিক

কথায় আছে, মুখ হচ্ছে মনের আয়না। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। তাই অনেকেরই ধারণা, সাফল্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই হল মুখ। রাজনীতিতেও সেই মুখের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে রাজনীতিতে সৌন্দর্য অপেক্ষা অধিকতর প্রাধান্য পেয়ে থাকে মুখের কথা, ভাষাও।  
বিশদ

25th  January, 2020
নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনার অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

 আজকাল একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে দুটি শব্দ খুব অপছন্দের। সেকুলার এবং ইন্টেলেকচুয়াল। ওই লোকটিকে আমার পছন্দ নয়, কারণ লোকটি সেকুলার। ওই মানুষটি আসলে সুবিধাবাদী এবং খারাপ, কারণ তিনি ইন্টেলেকচুয়াল। সমাজের এই অংশের উচ্চকিত তর্জন গর্জন হাসি ঠাট্টা কটাক্ষ শুনলে মনে হবে, সেকুলার হওয়া বোধহয় সাংঘাতিক অপরাধ। বিশদ

24th  January, 2020
বাজেটের কোনও অঙ্কই মিলছে না, আসন্ন বাজেটে বৃদ্ধিতে গতি ফিরবে কীভাবে?
দেবনারায়ণ সরকার

বস্তুত, বর্তমান অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির চিত্র যথেষ্ট বিবর্ণ। সমৃদ্ধির হার ক্রমশ কমে ৫ শতাংশে নামার ইঙ্গিত, যা ১১ বছরে সর্বনিম্ন। মুদ্রাস্ফীতি গত ৩ বছরে সর্বাধিক। শিল্পে সমৃদ্ধির হার ৮ বছরে সর্বনিম্ন। পরিকাঠামো শিল্পে বৃদ্ধির হার ১৪ বছরে সর্বনিম্ন। বিদ্যুতের চাহিদা ১২ বছরে সর্বনিম্ন। বেসরকারি লগ্নি ১৬ বছরে সর্বনিম্ন। চাহিদা কমায় বাজারে ব্যাঙ্ক লগ্নি কমেছে, যা গত ৫৮ বছরে সর্বনিম্ন। রপ্তানিও যথেষ্ট ধাক্কা খাওয়ার ইঙ্গিত বর্তমান বছরে। এর উপর ভারতে বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরে সর্বনিম্ন।
বিশদ

24th  January, 2020
ক্ষমা করো সুভাষ
জয়ন্ত চৌধুরী

মুক্তিপথের অগ্রদূত তিনি। অখণ্ড ভারত সাধনার নিভৃত পথিক সুভাষচন্দ্রের বৈপ্লবিক অভিঘাত বাধ্য করেছিল দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পটভূমি রচনা করতে। দেশি বিদেশি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের লেখনীতে আজাদ হিন্দের অসামান্য আত্মত্যাগ স্বীকৃত হয়েছে। সর্বাধিনায়কের হঠাৎ হারিয়ে যাবার বেদনা তাঁর জন্মদিনেই বড় বেশি স্পর্শ করে যায়।  
বিশদ

23rd  January, 2020
স্বামীজি, বিশ্বকবি ও নেতাজির খিচুড়ি-বিলাস
বিকাশ মুখোপাধ্যায়

মঙ্গলকাব্য থেকে কাহিনীটা এভাবে শুরু করা যেতে পারে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মা দুর্গা নন্দিকে তলব করেছেন, যাও ডাব পেড়ে নিয়ে এসো।
নন্দির তখনও গতরাতের গাঁজার খোঁয়ার ভাঙেনি। কোনওরকমে জড়ানো স্বরে বলল, ‘এত্তো সকালে মা?’  বিশদ

23rd  January, 2020
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

20th  January, 2020
একনজরে
লুজিওবেলজানা, ২৭ জানুয়ারি (এএফপি): পদত্যাগের কথা ঘোষণা করলেন স্লোভানিয়ার প্রধানমন্ত্রী মারযান সারেক। সোমবার তিনি নতুন করে নির্বাচনের ডাক দেন। ২০১৮ সালে স্লোভানিয়ার প্রধানমন্ত্রী হন সারেক। ...

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট প্রশ্নে ফ্রন্টের বড় শরিক সিপিএমের সঙ্গে আর কোনও তিক্ততা নয়। তাই আসন্ন আলিপুরদুয়ার পুরভোটে বামফ্রন্টের সঙ্গে কংগ্রেস থাকলেও শরিক আরএসপি’র কোনও অসুবিধা নেই।   ...

বিএনএ, বহরমপুর: এবার প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে তিনজন করে পিওসি (পয়েন্ট অব কন্ট্রাক্ট) নিয়োগ করবে টিম পিকে। প্রতিটি জেলা থেকে বিধায়ক এবং ব্লক সভাপতিদের কাছ থেকে বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক তিনজনের নাম চেয়ে পাঠানো হয়েছিল। সেইমতো জেলা থেকে নাম পাঠানো হয়েছে।   ...

গোয়ালিয়র, ২৭ জানুয়ারি (পিটিআই): মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র সেন্ট্রাল জেলে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করল এক বন্দি। নাম নরোত্তম রাওয়াত। গত ২৩ জানুয়ারি থেকে জেলে ছিল সে। রবিবার রাতে জেল চত্বরের একটি গাছ থেকে নরোত্তমের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শিক্ষার জন্য দূরে কোথাও যেতে পারেন। প্রেম-প্রণয়ে নতুন যোগাযোগ হবে। বিবাহের কথাবার্তাও পাকা হতে পারে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৫৫৬:দ্বিতীয় মোঘল সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যু
১৮৬৫: স্বাধীনতা সংগ্রামী পাঞ্জাব কেশরী লালা লাজপত রাইয়ের জন্ম
১৮৯৮: ভারতের মাটিতে পা রাখলেন ভগিনী নিবেদিতা
১৯২৫: বিজ্ঞানী রাজা রামান্নার জন্ম
১৯৩০: গায়ক যশরাজের জন্ম
১৯৩৭: গায়িকা সুমন কল্যাণপুরের জন্ম





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৬৪ টাকা ৭২.৩৪ টাকা
পাউন্ড ৯১.৭৩ টাকা ৯৫.০২ টাকা
ইউরো ৭৭.৩৫ টাকা ৮০.৩৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৩২০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,২০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,৭৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৭,৪৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৭,৫৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১৩ মাঘ ১৪২৬, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার, (মাঘ শুক্লপক্ষ) তৃতীয়া ৫/৩ দিবা ৮/২২। শতভিষা ৭/৩৪ দিবা ৯/২৩। সূ উ ৬/২১/২১, অ ৫/১৭/৩৫, অমৃতযোগ দিবা ৮/৩২ গতে ১০/৪৩ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৪ গতে ২/২২ মধ্যে পুনঃ ৩/৫ গতে ৪/৩৩ মধ্যে। রাত্রি ৬/৯ মধ্যে পুনঃ ৮/৪৬ গতে ১১/২২ মধ্যে পুনঃ ২/০ গতে ৩/৪৪ মধ্যে। বারবেলা ৭/৪৩ গতে ৯/৫ মধ্যে পুনঃ ১/১২ গতে ২/৩৪ মধ্যে। কালরাত্রি ৬/৫৬ গতে ৮/৩৪ মধ্যে।
১৩ মাঘ ১৪২৬, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার, তৃতীয়া ০/৪৫/৪৫ প্রাতঃ ৬/৪২/৩৩। শতভিষা ৪/৩৯/৩৪ দিবা ৮/১৬/৫। সূ উ ৬/২৪/১৫, অ ৫/১৬/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৮/৩১ গতে ১০/৪৩ মধ্যে ও ও ১২/৫৬ গতে ২/২৫ মধ্যে ও ৩/৯ গতে ৪/৩৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/১৩ মধ্যে ও ৮/৪৯ গতে ১১/২৫ মধ্যে। কালবেলা ১/১১/৫৩ গতে ২/৩৩/২৫ মধ্যে। কালরাত্রি ৬/৫৪/৫৬ গতে ৮/৩৩/২৫ মধ্যে।
২ জমাদিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
এই প্রথম বারুইপুর আদালতে ফাঁসির নির্দেশ
এই প্রথম ফাঁসির নির্দেশ দিল বারুইপুর আদালত। আজ এই আদালতে ...বিশদ

01:56:36 PM

 শিক্ষকদের জন্য সুখবর মমতার
শিক্ষকদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা রাজ্যের। ট্যু ইট করে সেই ...বিশদ

01:51:21 PM

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে ফিরেই গেলেন রাজ্যপাল 
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে ফিরে গেলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার। ...বিশদ

01:42:00 PM

 ফের বিক্ষোভের মুখে রাজ্যপাল
ফের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হল রাজ্যপাল জগদীপ ধনকারকে। আজ, মঙ্গলবার ...বিশদ

01:11:00 PM

 আদনান সামিকে পদ্মশ্রী: কেন্দ্রকে তোপ এনসিপির, পাল্টা বিজেপিও
পাক বংশোদ্ভূত গায়ক আদনান সামিকে পদ্মশ্রী পুরস্কার দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রকে ...বিশদ

12:13:56 PM

কালনায় নৌকাডুবি
কালনা ফেরিঘাটে একটি চাল বোঝাই নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটল। ...বিশদ

12:07:00 PM