Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মমতার নেতৃত্ব মানতে কংগ্রেসি অনীহা কি আখেরে মোদিজির সুবিধে করে দিল?
শুভা দত্ত

প্রবল তাপে পুড়ছে রাজ্য। আকশে মেঘের চিহ্নমাত্র নেই। ঘূর্ণিঝড় ফণীর হাত থেকে এ যাত্রায় রেহাই মিললেও কাঠফাটা রোদ আর মাথা ঘোরানো গরমের হাত থেকে রেহাই মিলছে না। বাঁকুড়া-পুরুলিয়ার মতো রুখু জেলাগুলো ইতিমধ্যেই চল্লিশ ছাড়িয়েছে, মহানগরী কলকাতাও বসে নেই। সেও প্রায় চল্লিশের ঘরে! রাজ্যের আট জেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি হয়েছে! ফলে গোটা রাজ্য জুড়েই হাঁসফাঁস জীবন, কাজকর্মের স্বাভাবিক ধারা বজায় রাখতে প্রকৃত অর্থেই মাথার ঘাম পায়ে ঝরছে মানুষের। তবে, এই চড়া গরমের মধ্যে নতুন লোকসভার জন্য লড়াই কিন্তু অব্যাহত এবং সে লড়াই এখন একেবারে তুঙ্গে। সেই লড়াইতে শামিল হতে ভোটপ্রার্থী, ভোটকর্মী থেকে ভোটদাতা সাধারণ মানুষ সকলেই নাজেহাল, ওষ্ঠাগত প্রাণ।
কিন্তু তাতে কী? ভোট বলে কথা, তায় রাজ্যটার নাম পশ্চিমবঙ্গ। রোদ গরমের সাধ্য কি এখানে ভোটের লড়াইতে বাদ সাধে! ঝরুক ঘাম, ঘুরুক মাথা, তেষ্টায় ছাতি ফেটে যাক, রোদের ঝলসানিতে ধাঁধিয়ে যাক চোখ—ভোটের লড়াই চলছে, চলবে। দেখতে দেখতে সাত দফা লড়াইয়ের পাঁচ দফা তো শেষ। আজ ষষ্ঠ দফা। রাজ্যের আরও কয়েকটি লোকসভা কেন্দ্রের ভাগ্য ঠিক হয়ে যাবে আজ। বাকি থাকবে কলকাতা সহ আর কয়েকটি আগামী রবিবারের জন্য—সেদিনই শেষ দফা। আর ঠিক তার তিন দিন পর ২৩ মে জানা যাবে আগামী পাঁচ বছর দিল্লি কার, কে চালাবেন দেশ। দেশের আমজনতা বেছে নিলেন কাকে—বিদায়ী শাসক মোদিজিকে, না কি বিরোধী শিবিরের কাউকে? ভোটের লড়াই যত শেষের দিকে আসছে এই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর নিয়ে গণকৌতূহল তত বাড়ছে। এবং সেটাই স্বাভাবিক। সত্যি বলতে কী, এই কৌতূহল যে কেবল দেশ-জনতাকেই মজিয়েছে এমন নয়, দেশ রাজনীতির অন্দর-বাহির থেকে রাজনৈতিক আলোচক, বিশ্লেষক সকলকেই আচ্ছন্ন করেছে। মোদিজি না রাহুল, রাহুল না মমতা—কে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী তা নিয়ে জল্পনা যথেষ্টই জমে উঠেছে। তার কারণ দেশ জুড়ে এবারের ভোটফল নিয়ে অঙ্কের যত ছড়াছড়িই হোক এখনও নিশ্চিত করে কেউই বলতে পারছেন না নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ শেষ অবধি কটা সিট পাবে। একটা কথা অবশ্য মোটের ওপর সকলেই বলছেন, এবার মোদিজির দল গতবারের চেয়ে বেশ কিছু আসন কম পাবে। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ওড়িশার মতো রাজ্যগুলির সঙ্গে দক্ষিণেও তাঁর দল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না—সম্ভাবনা নাকি এমনই। এই ঘাটতি মেটাতেই নাকি এবার পূর্ব ও উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলিতে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছে গেরুয়া শিবির। তার জন্যই নাকি পশ্চিমবঙ্গে নজিরবিহীন সংখ্যায় সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী! অবশ্য তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এ রাজ্যে জনমন কতটা ভিজবে, ভোটবাক্সে তাঁরা পদ্মদলকে কতটা সমর্থন জানাবে—তা নিয়ে সংশয় ফুরোচ্ছে না।
তবে, এক্ষেত্রেও সর্বস্তরেই একটা মত কমন—এবার বঙ্গে বিজেপি বাড়ছে। ২০১৪ সালে পাওয়া মাত্র দুটি আসন এবার চার ছটা বেড়ে গেলে আশ্চর্যের কিছু নেই। জনতা বলছে, বিশেষজ্ঞদের অনেকেও বলছেন এই সম্ভাবনার কথা। তবে, এই চলতি মতও শেষ বিচারে গ্রহণযোগ্য হবে কতটা তা নিয়েও ধন্দ আছে বহুজনার। মোজিদি যেভাবে সভায় সভায় জনতার নয়নের মণি মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে লক্ষ্য করে কড়া কড়া কথা বলছেন, কোলমাফিয়া, সিন্ডিকেট, নারদা-সারদা ইত্যাদি নিয়ে তোপ দাগছেন—তাতে তাঁর সভায় উপস্থিত জনতাই কতটা খুশি হচ্ছেন তা নিয়েও তথ্যভিজ্ঞদের অনেকের সন্দেহ আছে। কেননা, যাঁদের সামনে প্রধানমন্ত্রী এসব বলছেন তাঁরা পদ্মপার্টির সমর্থক হতে পারেন, সভাতেও যেতে পারেন কিন্তু তাঁরাও গত কয়েক বছর ধরে এ রাজ্যের ব্যাপক উন্নয়নের স্বাদ পেয়েছেন, উন্নয়নের সুবাদে জীবনযাত্রায় আধুনিক পৃথিবীর সুযোগ সুবিধার স্পর্শ পেয়েছেন—এবং এই অভাবনীয় উন্নয়নের কারিগর যে তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর একক ঐকান্তিক প্রয়াসেই যে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে সিপিএমের ফেলে যাওয়া রুগ্ন মৃতপ্রায় শিল্পহীন বাংলা আজ আলোয় উজ্জীবিত বিশ্ববাংলায় পরিণত হয়েছে, বিশ্বের দরবারে সেরার শিরোপা পাওয়া উন্নয়নের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে, শিল্পে বিনিয়োগে কর্মসংস্থানে শান্তি-সংহতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে দেশের মধ্যে অগ্রগণ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে—তাও জেনেছেন। এমন পরিস্থিতিতে এহেন মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে ক্রমাগত কটু কথার রাজনীতি কতটা তাঁরা গ্রহণ করবেন, কতটা তাতে প্রভাবিত হবেন—তা নিয়ে প্রশ্ন থাকে বইকি।
সত্যি বলতে কী, দেশের সামগ্রিক সম্ভাব্য ভোটফলের সঙ্গে বাংলার তফাৎটা হয়ে যাচ্ছে এখানেই। দিল্লির মসনদে মোদিজি ফিরছেন কি ফিরছেন না তা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে দ্বিধা সংশয়ের কোনও প্রশ্নই উঠছে না! বরং, মমতার দাবি মতো ৪২-এ ৪২ হয়ে যেতেও পারে—এমন একটা বিশ্বাস বাতাসে ইতস্তত ঘুরছে। সে হোক বা না হোক শেষ লোকসভায় মমতার তৃণমূলের পাওয়া ৩৪ আসনে যে হাত পড়ছে না বরং তাতে নতুন করে দু-একটা যোগ হতে পারে এমনই মত দিচ্ছেন অনেক বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, কংগ্রেস, সিপিএমের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতায় ভাটা এবং মা-মাটি-মানুষের প্রতি মমতার ঐকান্তিক দায়বদ্ধতা এবং নজিরবিহীন উন্নয়ন এই ভাবনার প্রেক্ষাপট রচনা করেছে। ক্ষমতায় এসে ইস্তক একনিষ্ঠভাবে মমতা তাঁর দায়বদ্ধতা যেমন অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন, তেমনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রতিশ্রুত উন্নয়নের সফল বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন এবং ঘটিয়ে চলেছেন। ফলে এই রাজ্যের মানুষের কাছে তাঁর ভাবমূর্তি আজ কার্যত অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁকে ছোঁবে কে?
শুধু রাজ্যে কেন, দেশের বাদবাকি অংশেও তাঁর এই লড়াকু উন্নয়নকামী গরিব সাধারণের প্রতি দায়বদ্ধ ভাবমূর্তির প্রভাব যথেষ্ট। দেশের রাজনৈতিক শিবিরগুলি সেটা বেশ ভালোই জানে। গোটা ভারতে তাঁর মতো জনপ্রিয় প্রভাবশালী নেত্রী ক’জন আছেন বলুন তো? নরেন্দ্র মোদির মতো জবরদস্ত প্রতিপক্ষকে ভোটযুদ্ধে ধরাশায়ী করতে তাঁর সমকক্ষই বা ক’জন? কিন্তু, এবারের লোকসভা ভোটে তাঁর এই অনন্য ক্ষমতাশক্তিকে পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারল না মোদি-বিরোধী শিবির। ফেডারেল ফ্রন্টই হোক বা ইউনাইটেড ইন্ডিয়া—মমতাকে প্রধান নেত্রী প্রজেক্ট করে কংগ্রেসকে নিয়ে জাতীয় স্তরে একটা জোরদার মোদি-বিরোধী শক্তি গড়ে উঠতেই পারত। সেরকম একটা সূচনাও হয়েছিল। যতদূর মনে পড়ছে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীও প্রথমটায় এমন একটা ফ্রন্ট তৈরি নিয়ে বিশেষ আশাবাদী ছিলেন। সেই শিবিরের অন্যতম প্রধান নেত্রী যে মমতা সেটাও বোঝা যাচ্ছিল আর সেজন্যই বিরোধী জোটের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবেও তাঁর নামটাই বেশি করে ভেসে উঠছিল। আর তাই দেখে প্রথম বাঙালি প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন উড়তে শুরু করেছিল পশ্চিমবঙ্গের বাতাসে।
কিন্তু জাতীয় স্তরে জোট হবে, তাতে কংগ্রেস থাকবে, অথচ নেতৃত্বের রাশ থাকবে অন্য দলের হাতে—এটা ভারতের রাজনৈতিক জলবায়ু এখনও মনে হয় ঠিক হজম করে উঠতে পারে না! কংগ্রেস জোটে থাকলে যেন ঐতিহাসিক সূত্রেই যাবতীয় রাশ কংগ্রেসের হাতেই দিতে হবে! তাই, জোটের গল্পে প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গ একটু ঘন হওয়ার মুখেই রাহুলজি ঘোষণা করে দিলেন—যা হবে রেজাল্ট দেখেই হবে। ব্যাস! ধাক্কা। ক্যাপ্টেনবিহীন জাহাজের দশায় পড়ল জোট। তবু, মমতার নেতৃত্বে চন্দ্রবাবুরা মোদি-বিরোধী শক্তিগুলিকে এককাট্টা করার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন, আজও সে চেষ্টা অব্যাহত। ২১ মে দিল্লিতে মমতাকে মধ্যমণি করে বিরোধীদের বৈঠক তারই প্রমাণ। কিন্তু, এই বৈঠক নিয়ে রাহুল-কংগ্রেস কতটা আন্তরিক তা বুঝতে ২১ অবধি অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ইউপিতে অখিলেশ-মায়াবতী জোট হওয়ায় মোদিজি এবং তাঁর দলের কপালে গাঢ় ভাঁজ দেখেও কেন জোট নিয়ে কংগ্রেসের এখনও এত দোলাচল বোঝা দায়!
প্রশ্ন তো উঠছে, মমতার নেতৃত্ব মানতে কংগ্রেসি অনীহাই কি এর কারণ? এর পর যদি কেউ বলেন, মমতার নেতৃত্ব মানতে কংগ্রেসি অনীহাই আখেরে মোদিজির সুবিধে করে দিল—দোষ দেওয়া যাবে! ভাবুন তো সারা দেশে যদি মোদি-বিরোধী শক্তিগুলো জননেত্রী মমতার নেতৃত্বে মমতার তত্ত্ব মেনে শক্তি ক্ষমতা অনুযায়ী একের বিরুদ্ধে এক লড়তে নামত—মোজিদির বিরুদ্ধে বিরোধীদের লড়াইটা কত পোক্ত হতো! ভুললে চলবে শেষ লোকসভায় অর্থাৎ ২০১৪ সালের ভোটে বিজেপি ২৮২ আসন পেয়ে রেকর্ড করেছিল ঠিকই কিন্তু ভোট পেয়েছিল মাত্র ৩১ শতাংশ! স্বাধীনতা উত্তর ভারতে এত কম ভোট পেয়ে এমন গরিষ্ঠ সরকার গঠিত হয়নি আগে—এটাও তো রেকর্ড!
অথচ, সেবার ছিল উত্তাল মোদি-হাওয়া! তাতেই ৩১ শতাংশ। আর এবার নোটবন্দি ইত্যাদির কারণে হাওয়া কেমন তা আলাদা করে বলার দরকার নেই আশা করি। কিন্তু, মোদিজির বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে লড়ার মানুষটি কই! গোটা দেশে একমাত্র একজন—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু, জোটবদ্ধ অভিযানের অভাবে তাঁর লড়াইয়ের ক্ষেত্র তো পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক পরিসরেই সীমাবদ্ধ হয়ে রইল। অন্যদিকে, বালাকোট, দ্বিতীয় সার্জিকাল স্ট্রাইক, অভিনন্দন ভর্তমান উদ্ধার, আধুনিকতম ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উদ্বোধন এবং কাশ্মীরে সেনা কনভয়ে জঙ্গি হামলার পর প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতি ভারতের তরফে কড়া হুঁশিয়ারি, পরমাণু অস্ত্র নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য ইত্যাদির পর দেশ জুড়ে গেরুয়া পালে নতুন করে যে বাতাস লাগেনি, জনমনের একাংশে ৫৬ ইঞ্চির প্রতি রাজনৈতিক ভাবাবেগ যে একেবারেই চাগাড় দেয়নি—এমনটাও কি জোর দিয়ে বলা
যাচ্ছে? বলা গেলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক
বিশেষজ্ঞদের একাংশ থেকে শুরু করে এ তাবৎ প্রকাশিত বেশ কয়েকটি জনমত সমীক্ষা টেনেটুনে হলেও মোদিজিকেই পাশ মার্ক দিচ্ছেন কেন, কিছু আসন কম হলেও দ্বিতীয়বারের জন্য মোদিজিকেই দিল্লির মসনদে দেখছেন কীভাবে! লোকসভা ভোটযুদ্ধে মমতার নেতৃত্বে মোদি-বিরোধী দলগুলো এককাট্টা হয়ে নামলে কি এত সহজে এমন সম্ভাবনার কথা ভাবা যেত?
12th  May, 2019
ক্ষমা করো সুভাষ
জয়ন্ত চৌধুরী

মুক্তিপথের অগ্রদূত তিনি। অখণ্ড ভারত সাধনার নিভৃত পথিক সুভাষচন্দ্রের বৈপ্লবিক অভিঘাত বাধ্য করেছিল দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পটভূমি রচনা করতে। দেশি বিদেশি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের লেখনীতে আজাদ হিন্দের অসামান্য আত্মত্যাগ স্বীকৃত হয়েছে। সর্বাধিনায়কের হঠাৎ হারিয়ে যাবার বেদনা তাঁর জন্মদিনেই বড় বেশি স্পর্শ করে যায়।  
বিশদ

স্বামীজি, বিশ্বকবি ও নেতাজির খিচুড়ি-বিলাস
বিকাশ মুখোপাধ্যায়

মঙ্গলকাব্য থেকে কাহিনীটা এভাবে শুরু করা যেতে পারে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মা দুর্গা নন্দিকে তলব করেছেন, যাও ডাব পেড়ে নিয়ে এসো।
নন্দির তখনও গতরাতের গাঁজার খোঁয়ার ভাঙেনি। কোনওরকমে জড়ানো স্বরে বলল, ‘এত্তো সকালে মা?’  বিশদ

‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

20th  January, 2020
মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

19th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ: পুতুলনাচের ইতিকথা
জিষ্ণু বসু

নাচায় পুতুল যথা দক্ষ বাজিকরে/ নাচাও তেমনি তুমি অর্বাচীন নরে। —কবি নবীনচন্দ্র সেনের এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি আজ ভীষণ প্রাসঙ্গিক মনে হয়। গত মাসাধিক কাল সামান্য কিছু অতি বুদ্ধিমান আমাদের মতো অর্বাচীনদের পুতুলের মতো নাচাচ্ছেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রচার মাধ্যমও অতি যত্নসহকারে তা পরিবেশন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে 
হারাধন চৌধুরী

বাঙালি বেড়াতে ভালোবাসে। বেড়ানোর সুযোগটা পাশপোর্ট ভিসা নিয়ে বিদেশে হলে তো কথাই নেই। কিন্তু গন্তব্য যদি বাংলাদেশ, আর দাবি করা হয় বিদেশ-ভ্রমণের, তবে অনেকেই মুখ টিপে হাসবেন। কারণ, বাংলাদেশকে ‘বিদেশ’ ভাবার মানসিকতা আমাদের গড়ে ওঠেনি। 
বিশদ

17th  January, 2020
হৃদয়জুড়ে মানবসেবা
মৃণালকান্তি দাস

সমকাল তাঁকে যথেষ্ট লজ্জা দিয়েছিল! নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশ-বিভুঁইয়ে কপর্দকহীন এক সন্ন্যাসীকে নিগৃহীত করতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন ব্রাহ্মসমাজের প্রতিনিধি প্রতাপচন্দ্র মজুমদার।  স্বামীজির বিজয়কীর্তিকে ধূলিসাৎ করতে নিজের ‘ইউনিটি অ্যান্ড দি মিনিস্টার’ পত্রিকায় স্বামীজিকে ‘নবহিন্দু বাবু নরেন্দ্রনাথ দত্ত’ সম্বোধন করে বলা হয় যে, তিনি নাকি যুবাবয়সে ব্রাহ্মসমাজে আসেন  শুধুমাত্র  ‘নববৃন্দাবন’ থিয়েটারে অভিনয়ের জন্য।  
বিশদ

17th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে।  
বিশদ

16th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে
হারাধন চৌধুরী

সিএএ, এনআরসি প্রভৃতি ভারতের মানুষ গ্রহণ করবেন কি করবেন না, তা নিশ্চিত করে বলার সময় এখনও হয়নি। তবে, এটুকু বলা যেতে পারে—এই ইস্যুতে ব্যাহত হচ্ছে আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলি। অর্থনৈতিকভাবে আমরা দ্রুত পিছিয়ে পড়ছি। পাশাপাশি এই অধ্যায় বহির্ভারতে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। আমাদের এমন কিছু করা উচিত হবে না যার দ্বারা অন্তত বাংলাদেশে মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উদ্বাহু নৃত্য করে পাকিস্তানের মৌলবাদী শক্তি। 
বিশদ

16th  January, 2020
একনজরে
সংবাদদাতা, রায়গঞ্জ: গাঁদা ফুল চাষ করে আয়ের মুখ দেখছেন রায়গঞ্জ ব্লকের বিরঘই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার চাষিরা। বর্তমানে অন্যান্য খাদ্যশস্য চাষ করার পাশাপাশি এই ফুল চাষেও ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ হলে ভারতে তার বিরাট প্রভাব পড়বে। আফগানিস্তান, ইরাকে আমেরিকার যুদ্ধের সময় যতটা হয়নি, তার চেয়ে অনেক বেশি হবে। ইরান ভারতের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ দেশ। ইরান থেকে ভারত তেল পায়। ভারতের চা সেখানে রপ্তানি হয়। ...

 রাঁচি, ২২ জানুয়ারি (পিটিআই): ঝাড়খণ্ডে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল পাথালগড়ি আন্দোলন। মঙ্গলবার রাতে পাথালগড়ি সমর্থকদের হাতে খুন হলেন সাতজন গ্রামবাসী। তাঁদের মধ্যে একজন পঞ্চায়েতের সদস্যও রয়েছেন। পশ্চিম সিংভূম জেলার বুরুগুলিকেরা গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীরা শুভ ফল লাভ করবে। মাঝে মাঝে হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় ক্ষতি হতে পারে। নতুন ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৯৪- সাহিত্যিক জ্যোতির্ময়ীদেবীর জন্ম
১৮৯৭- মহাবিপ্লবী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্ম
১৯০৯ - কবি নবীনচন্দ্র সেনের মৃত্যু
১৯২৬- শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বাল থ্যাকারের জন্ম
১৯৩৪- সাংবাদিক তথা ‘বর্তমান’ এর প্রাণপুরুষ বরুণ সেনগুপ্তর জন্ম
১৯৭৬- গায়ক পল রোবসনের মৃত্যু
১৯৮৪ – নেদারল্যান্ডের ফুটবল খেলোয়াড় আর্ইয়েন রবেনের জন্ম
১৯৮৯ - স্পেনীয় চিত্রকর সালভাদর দালির মৃত্যু
২০০২ - পাকিস্তানের করাচীতে সাংবাদিক ড্যানিয়েল পার্ল অপহৃত হন এবং পরবর্তীকালে নিহত হন।





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৩৫ টাকা ৭২.০৫ টাকা
পাউন্ড ৯১.২১ টাকা ৯৪.৪৯ টাকা
ইউরো ৭৭.৪২ টাকা ৮০.৪১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৫৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৫০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৮ মাঘ ১৪২৬, ২৩ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার, চতুর্দশী ৪৯/৪৮ রাত্রি ২/১৮। পূর্বাষা‌ঢ়া ৪৭/২৫ রাত্রি ১/২১। সূ উ ৬/২২/৩১, অ ৫/১৪/৭, অমৃতযোগ রাত্রী ১/৭ গতে ৩/৪৪ মধ্যে। বারবেলা ২/৩১ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/৪৮ গতে ১/২৭ মধ্যে। 
৮ মাঘ ১৪২৬, ২৩ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার, চতুর্দশী ৪৯/১৬/২৩ রাত্রী ২/৮/২৩। পূর্বাষাঢ়া ৪৭/৫৬/৪৫ রাত্রি ১/৩৬/৩২। সূ উ ৬/২৫/৫০, অ ৫/১২/৩২, অমৃতযোগ দিবা ১/৭ গতে ৩/৪২ মধ্যে। কালবেলা ২/৩০/৫২ গতে ৩/৫১/৪২ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৪৯/১১ গতে ১/২৮/২১ মধ্যে। 
২৭ জমাদিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
কলকাতার একটি হোটেল থেকে বাঘের চামড়াসহ গ্রেপ্তার ৩

06:28:27 PM

উত্তরপ্রদেশের সর্দারপুরে যান্ত্রিক গোলযোগের জন্য সড়কে ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং এয়ারক্র্যাফ্টের 

04:08:00 PM

২৭১ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

04:05:17 PM

আইলিগে মোহন বাগান ৩-০ গোলে হারাল নেরোকা এফসিকে 

04:04:09 PM

লাভপুর কাণ্ডে মুকুল রায়কে ডেকে পাঠাল সিউড়ি থানার পুলিস 
লাভপুর খুন কাণ্ডে আজ মুকুল রায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠাল ...বিশদ

04:04:00 PM

নাদনঘাটে এক হোটেল কর্মীর পচাগলা দেহ উদ্ধার 
পূর্ব বর্ধমানের নাদনঘাট থানার এস টি কে কে রোড সংলগ্ন ...বিশদ

03:58:49 PM