Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মোদিময় রাজনীতিতে
নয়া পাঠ ‘বাণপ্রস্থ কথা’
মৃণালকান্তি দাস

তাঁর বাড়িতে পা দিলেই চন্দনকাঠের একটা মূর্তিতে চোখ পড়বেই। তাতে অর্জুনকে বিশ্বরূপ দেখাচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণ। তার পিছনে মহাভারতের টুকরো নানা ছবি। শরশয্যায় শায়িত ভীষ্মও। বিজেপিতে আদবানিকে ভীষ্ম পিতামহের সঙ্গে তুলনা করা হয়। নিজের হাতে তৈরি দলে যেভাবে তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, তাকে কি তাঁকে আজ ভীষ্মের সেই শরশয্যার সঙ্গে তুলনা করা যায়? অথচ, এই অসম্মান অবশ্যই লৌহপুরুষের প্রাপ্য ছিল না। কিন্তু নিজেকে ওই পর্যায়ে নামিয়ে আনার দায় তাঁরই। তিনি কি জানতেন না, গোপন রক্তক্ষরণে বেলাশেষের পথ আকীর্ণ হয়ে ওঠে!
তবুও ইতিহাসের পাতা উল্টে বলতেই হয়, ১৯৮৪ লোকসভা ভোটের ২ থেকে বিজেপি–কে ১৯৮৯ সালে ৮০–এ তুলে এনেছিলেন প্রধানত তিনিই। যাঁরা এখন বিজেপির বড় নেতা, বড় মন্ত্রী, সকলেই তাঁর প্রশিক্ষণে সমৃদ্ধ। অটলবিহারী বাজপেয়ি বলতেন, অনুজপ্রতিম লালকৃষ্ণ ‘সংগঠনের প্রাণকেন্দ্র’। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে ক্ষমতায় আসার পিছনেও সেই আদবানির বিশাল অবদান। তাঁর অভিজ্ঞতা যেকোনও নির্বাচনে বিজেপির জন্য অমূল্য সম্পদ হতে পারে। আজও। বিজেপি ক্ষমতায় এলে কে হবেন প্রধানমন্ত্রী? লালকৃষ্ণ আদবানি বলেছিলেন, ‘কোনও প্রশ্নের অবকাশ নেই। আমাদের সিনিয়র নেতা বাজপেয়িজি। সংসদীয় রাজনীতিতে তুলনাহীন। মানুষের কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। তিনিই হবেন প্রধানমন্ত্রী।’ আদবানির বদলে ‘মডারেট’ বাজপেয়ি প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন অনেকেই। তখন বাজপেয়িই সর্বংসহা। আদবানি উগ্র হিন্দু নেতা। লৌহপুরুষ। আজ সেই আদবানিই নরমপন্থী। এনডিএ জমানায় বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য হলেও দু’জনের সম্পর্ক এতই নিবিড় ছিল যে, সরকার ও দলের মধ্যে একাধিক শক্তিকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি।
২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসেই সেই বাজপেয়ি, যোশিদের সঙ্গে আদবানিকেও ‘মার্গ দর্শক মণ্ডলী’–তে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। ক্ষমতা ও দায়িত্ব থেকে বহু যোজন দূরে। গত পাঁচ বছর সেই উপদেষ্টা মণ্ডলীর একটিও বৈঠক হয়নি। লালকৃষ্ণ আদবানির নীরবতা এতটাই গভীর ছিল যে, তাঁর দলের নিরঙ্কুশ আধিপত্যের গত পাঁচ বছরে সংসদের ভিতরে ‘সরকারি ভাবে’ তিনি মুখ ফুটে বলেছেন মাত্র ৩৬৫টি শব্দ। অথচ, সংসদের অধিবেশনের দিনগুলিতে ৯২ শতাংশ হাজিরার মালিক নবতিপর প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী। সংসদ ভবনের কোনও অনুষ্ঠানে যদি একজন সাংসদও উপস্থিত থাকেন, তাঁর নাম এল কে আদবানি। কষ্ট পেয়েছেন, কিন্তু প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা যে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড়।
গান্ধীনগরে গত আঠাশ বছর সংসদ সদস্য ছিলেন আদবানি। এবার তাঁকে সরিয়ে প্রার্থী করা হয়েছে অমিত শাহকে। কারণ বয়স? হ্যাঁ, ৯১। কিন্তু এখনও সচল। তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন উনপঞ্চাশ বছর। কখনও লোকসভার, কখনও রাজ্যসভার। এবার তিনি আর সাংসদ থাকছেন না। সংসদ থেকে রাজনৈতিক সন্ন্যাসের পথে লালকৃষ্ণ আদবানি। বিজেপিতে আদবানি যুগের অবসান। উত্থান অমিত শাহের। বিজেপিতে যে প্রশ্নটা উঠেছে তা হল, মোদি কি এবার তাঁর উত্তরাধিকারী হিসেবে অমিত শাহকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন? যদি আবার বিজেপি সরকার হয় এবং যদি অমিত শাহ জিতে আসেন এবং মন্ত্রী হন, তা হলে তিনিই হবেন সরকারের দু-নম্বর ব্যক্তি। অটলবিহারী বাজপেয়ির যেমন ছিলেন লালকৃষ্ণ আদবানি, তেমন মোদির রাজত্বে দলে তো দু’নম্বর পদে অমিতের উত্থান। তাহলে মোদি কি তাঁর উত্তরাধিকারের নিরুচ্চার ঘোষণাটাও সেরে রাখলেন? জানা গিয়েছে, বাদ দেওয়ার আগে মোদি–শাহরা একবারও কথা বলেননি আদবানির সঙ্গে। বরং চাপ দেওয়া হয়েছে, তিনি অবসর ঘোষণা করুন!‌ আদবানি নীরব। এতটা অপমান প্রাপ্য ছিল তাঁর?
প্রার্থী না হতে পেরে নীরব আদবানি শুধু ৫৩৫ শব্দের একটা ব্লগ লিখলেন। যার শিরোনাম: নেশন ফার্স্ট, পার্টি নেক্সট, সেল্ফ লাস্ট। দেশ আগে, দল পরে, শেষে নিজে। নিশানা অব্যর্থ। জানিয়ে দিয়েছিলেন, প্রথমে ভারতীয় জনসঙ্ঘ, পরে ভারতীয় জনতা পার্টিতে তিনি বা অটলবিহারী বাজপেয়িরা চিরকাল নিজেকে পিছনে রেখে দল এবং দলের উপরে দেশকে স্থান দেওয়ার অনুশীলনই করে এসেছেন। সেটাই করে যাবেন বাকি জীবন। অথচ, মোদি-শাহের আমলে দল ছাপিয়ে নেতাই বড় হয়ে উঠেছেন। প্রার্থী নন আর, প্রচারেও নেই। এক রকম অন্তরালে ঠেলে দিতে চাওয়া হয়েছিল যাঁকে, সেই তিনিই যে ভোটের মুখে এমন ‘মেঘনাদ’ হবেন, বোধহয় ভাবতেও পারেনি টিম মোদি। আদবানির কথা ভেবে দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। মোদির নাম না-করে মমতার কটাক্ষ, ‘যখন প্রয়োজন ছিল, তখন আদবানি ছিলেন প্রকৃত মেন্টর (মাগদর্শক)। যখন তাঁর প্রয়োজন ফুরিয়ে গিয়েছে, যখন তুমি খুব বড় হয়ে গিয়েছে, তখন তুমি অতীতকেই ভুলে গেলে। কিন্তু ওল্ড ইজ অলওয়েজ গোল্ড। প্রত্যেকেই একদিন বুড়ো হবে। একদিন সবাইকে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। এটাই বাস্তব।’
আদবানিকে আবার প্রার্থী না-করার সিদ্ধান্ত নিয়ে খুব বেশি অবাক হওয়ার কোনও কারণ নেই। রাজনীতিতেও একটা সময় অবসর নিতেই হয়। তিনি দেশের উপ-প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সামলেছেন। তার আগে জনতা সরকারের আমলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন। লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিরোধী নেতার দায়িত্ব সামলেছেন। একসময় রাজ্যসভার নেতাও ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে দলের সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। বর্তমান নেতৃত্বের অধিকাংশই তাঁর নিজের হাতে তৈরি। প্রধানমন্ত্রী মোদি থেকে শুরু করে সুষমা স্বরাজ, অরুণ জেটলি, বেঙ্কাইয়া নাইডু, সদ্যপ্রয়াত অনন্ত কুমার-দের গুরু হলেন আদবানি। কিন্তু তাঁর এই প্রস্থানটা একেবারেই সাদামাটা। বিজেপি নেতাদের একাংশের মতে, যিনি দলটাকে নিজের হাতে তৈরি করে শক্তিশালী করেছিলেন, তাঁর বিদায়টা সম্মানজনক হতে পারত। এতটা উপেক্ষার কোনও প্রয়োজন ছিল না। আর একটু মর্যাদা তাঁর প্রাপ্য ছিল। আর এত নেতার ছেলে-মেয়েকে প্রার্থী করা হচ্ছে, সেখানে আদবানির ছেলে বা মেয়েকেও প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়াই যেত।
আজ হয়তো ২০০২ সালের ১১ এপ্রিলের কথা আদবানির নিশ্চয়ই মনে পড়ে যাচ্ছে বারবার। সেদিন তিনি প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়িকে বাধ্য করেছিলেন, গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে মোদিকে সরানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে। দু’জনেই ছিলেন একই বিমানের যাত্রী। গুজরাতের দাঙ্গা (যা তখনও থেমে যায়নি) মোকাবিলায় ব্যর্থতার জন্য মহা খাপ্পা বাজপেয়ি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরে যেতে বলবেন মোদিকে। কিন্তু সেদিনের বিমানযাত্রায় আদবানি ও তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী বাজপেয়িকে চাপ দিয়ে কার্যত বাধ্য করেছিলেন সিদ্ধান্ত বদলাতে। দলের কথা ভেবে আদবানি সেদিন কাজটা না করলে মোদির ভাগ্যের চাকা হয়তো অন্য পথেই ঘুরে যেত। গ্রহের ফেরে সেই মোদিই আদবানির শেষ স্বপ্ন পূরণের পথে সবচেয়ে বড় দেওয়াল হয়ে উঠেছিলেন। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই নরেন্দ্র মোদি বনাম লালকৃষ্ণ আদবানির লড়াই চরমে উঠেছিল। গোয়ায় জাতীয় যে কর্মসমিতির বৈঠকে নরেন্দ্র মোদিকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হয়েছিল, সেই বৈঠক বয়কট করেছিলেন আদবানি। বৈঠকে সুষমা প্রায় মিনিট পঁয়তাল্লিশ পরে পৌঁছেছিলেন। আদবানি তো ক্ষোভে বিজেপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক সংস্থা পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠক থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। পরে পার্লামেন্টারি বোর্ড সেই ইস্তফা খারিজ করে। সে সময় মুরলি মনোহর যোশি, শান্তা কুমার, যশবন্ত সিনহারা এই প্রস্তাবের বিরোধী ছিলেন। পাঁচ বছর পর এসে দেখা যাচ্ছে, তাঁরা আর কেউ প্রার্থী নন। ভোটের ময়দান থেকে তাঁদের সরে যেতে হয়েছে। মোদি বিরোধী হলেই টিকিট নেই বিজেপিতে। আর বিজেপি‌র বিজ্ঞাপন:‌‌ ‘‌মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়।’‌
বিজেপির মার্গদর্শক মণ্ডলের সদস্য পঁচাশি বছর বয়সি মুরলি মনোহর যোশি কিন্তু আদবানির মতো নীরবে মেনে নেননি। হাটে হাঁড়ি ভেঙে কানপুরের ভোটদাতাদের উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘আমার প্রিয় কানপুরের ভোটদাতারা, বিজেপির সংগঠন সচিব রামলাল আমায় বলেছেন, আমি যেন কানপুর বা অন্য কোথাও প্রার্থী না হই।’ মোদি-শাহর নির্দেশ ছিল, যোশিকেই ঘোষণা করতে হবে যে, তিনি আর প্রার্থী হতে চান না। কিন্তু যোশি একেবারে সরাসরি কানপুরের ভোটারদের জানিয়েছেন, দল তাঁকে জানিয়েছে, তিনি যেন কানপুর বা অন্য কোনও কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী না হন। একইভাবে শান্তা কুমার, করিয়া মুন্ডা, কলরাজ মিশ্রদের বলা হয়েছিল, তাঁরা যেন নিজেরা ভোটে না-লড়ার কথা ঘোষণা করেন। আদবানি সেই ঘোষণা করেননি। কিন্তু প্রতিবাদের রাস্তাতেও যাননি। বাকিরা নির্দেশ মেনেছেন। হুকুম দেবনারায়ণ যাদবের ছেলেকে প্রার্থী করা হয়েছে। তাই তাঁর কোনও ক্ষোভ নেই। ভুবন চন্দ খান্ডুরির ছেলে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে তাঁর জেতা আসন থেকে লড়ছেন। তাই তিনিও জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ভোটে আর লড়বেন না।
আসলে এভাবেই বাজপেয়ি-আদবানির অনুগতদের এক এক করে এই পাঁচ বছরে মোদি-শাহ জুটি ছেঁটে ফেলেছে। যশবন্ত সিনহা, শত্রুঘ্ন সিনহা, অরুণ শৈরীরা আগেই বাদ গিয়েছেন। হাওয়া বুঝে উমা ভারতী তো কবেই হারিয়ে গিয়েছেন। হাওয়া বোঝার সেই ক্ষমতা আছে সুষমা স্বরাজেরও। স্বাস্থ্যের দোহাই দিয়ে বিদিশার এমপি অনেক দিন আগেই তাই জানিয়ে দিয়েছিলেন, অনেক হয়েছে, আর ভোট নয়। দলের উপেক্ষার পর পঁচাত্তরে পা দেওয়া লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজনকেও জানাতে বাধ্য করা হয়েছে, তিনি আর ভোটে লড়বেন না। অথচ, মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর থেকে আট বারের সাংসদ এটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি এবারও লড়তে চেয়েছিলেন। ফলে পঁচাত্তর পেরিয়ে যাওয়া নেতাদের ব্যাপারে বিজেপির নীতিও স্পষ্ট হয়েছে। মোদির রাজনীতিতে এ এক নয়া পাঠ তো বটেই। এবার নির্বাচনে প্রবীণদের মনোনয়ন না দিয়ে একপ্রকার বাণপ্রস্থেই ঠেলে দেওয়া হয়েছে। চিরতরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে সংসদে তাঁদের আনাগোনা। জল্পনা উঠেছে দল গড়লেন যাঁরা তাঁদেরকেই অলিখিত ‘বৃদ্ধাশ্রমে’ পাঠিয়ে ঠিক কী বার্তা দিতে চাইলেন মোদি? আদৌ কি এই সিদ্ধান্ত সঠিক? নাকি সময়ের দাবি?
বিজেপির একাংশের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে যেতে পারতেন ৩০ পৃথ্বীরাজ রোডে তাঁর একসময়কার রাজনৈতিক গুরুর বাড়ি। লোককল্যাণ রোডে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি নিবাস থেকে দূরত্ব এক কিলোমিটারও নয়। কিন্তু সেই রাস্তায় মোদি হাঁটলেন না। পাঠালেন সঙ্ঘের নেতা রামলালকে। আদবানিকে তিনি বললেন, দল চায় ভোটে না দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা তিনি নিজেই যেন দুনিয়াসুদ্ধ সবাইকে জানিয়ে দেন। অপমানিত আদবানি চুপ করে রামলালের কথা শুনেছিলেন। একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। রাজনীতি নিষ্ঠুর সবারই জানা। কিন্তু অনুশাসিত বলে গর্ব করা বিজেপির কাছে রাজনীতি যে এতখানি হৃদয়হীন, আদবানিদের অপসারণের মধ্য দিয়ে তা আজ স্পষ্ট।
আদবানি হয়তো দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তিটা টানতে চাইছিলেন প্রধানমন্ত্রী পদে বসে। শিষ্য মোদির তাঁকে ডিঙিয়ে এগিয়ে যাওয়াটা তাঁর জন্য বাড়া ভাতে ছাই পড়ার মতো। একদিন হয়তো ৬৮ বয়সের এই নরেন্দ্র মোদিও কোনও উগ্র নেতার কাছে মিইয়ে যাবেন। আজকের আদবানির মতো তিনিই সেদিন হবেন নরমপন্থী। তিনিও মাগদর্শনে আচ্ছন্ন হবেন। কে না জানে, ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসের চাকা ঘুরছে অনবরত। তা বিলকুল জানে নাগপুরও!
10th  May, 2019
নদীবাঁধ রক্ষাই সুন্দরবনের অস্তিত্বের প্রধান শর্ত
কান্তি গাঙ্গুলী

প্রাচীন ইতিহাসে টলেমি ও মেগাস্থিনিসের বিবরণে গঙ্গারিডি বলে যে ভূখণ্ডের উল্লেখ পাওয়া যায়, আজকের সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন নিম্নগাঙ্গেয় উপত্যকা সম্ভবত সেই ভূখণ্ডই। কলকাতার এন্টালি অঞ্চলটির নামকরণের পিছনে হেঁতাল গাছের প্রভূত উপস্থিতির কারণও হয়তো বিদ্যমান।  
বিশদ

গোল্লায় যাবে শিল্প-সংস্কৃতি
ব্রাত্য বসু 

বাংলা ও তার সংস্কৃতি বাঁচাতে গেলে বহিরাগত এই বিজেপি রাজনীতিকে ঠেকাতেই হবে। বিজেপি কখনও বাংলায় এসে রবীন্দ্রনাথের জন্মস্থান বদলে দিচ্ছে, কখনও বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে তছনছ করছে, কখনও চৈতন্যদেবের মৃত্যুর অন্তত দুশো বছর পরে তাঁকে কাটোয়ায় জীবিত করে তুলছে, কখনও আবার বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষণে ঔপন্যাসিক না লিখে বলছে ‘উপনিবেশিক’। 
বিশদ

মোদির সব প্রতিশ্রুতি যেন গল্পদাদুর আসর
সন্দীপন বিশ্বাস 

হঠাৎই জহর রায়ের একটি কৌতুক নকশা মনে পড়ল। এক ভদ্রলোক একটি ঘর ভাড়া নিতে গিয়েছেন। ঘর দেখে পছন্দও হয়েছে। দু’টি ঘর, রান্নাঘর, সঙ্গে আলাদা বাথরুম। কিন্তু ভাড়া শুনে ভদ্রলোকের মাথার চুল খাড়া হয়ে গেল। ভাড়া ৫০০ টাকা।  
বিশদ

03rd  March, 2021
৮ দফার পর নিশ্চয়ই রিগিংয়ের
অভিযোগ উঠবে না!
শান্তনু দত্তগুপ্ত

সেশন সাহেব, বড্ড মিস করছি আপনাকে। আপনি বলতেন, ‘গণতন্ত্র হল এমন একটা ব্যবস্থা, যেখানে আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে বলবৎ থাকবে।’ সব মানুষের জন্য। সব রাজনৈতিক দলের জন্য। আপনি প্রমাণ করেছেন, এটা ছেলে ভুলানো গল্প নয়।  
বিশদ

02nd  March, 2021
আদালতগুলি স্বাধীনতার ঘণ্টাধ্বনি দিচ্ছে
পি চিদম্বরম

ঠিক যখন আমরা আশা ছেড়ে দিচ্ছি, তখনই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে ব্যক্তি স্বাধীনতার বর্মটা হারিয়ে যায়নি। আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কিত স্বাক্ষর হয়েছিল ১৭৭৬-এর ৪ জুলাই। 
বিশদ

01st  March, 2021
কে প্রধান শত্রু, আজ ব্রিগেডে
পরিষ্কার করুক সিপিএম 
হিমাংশু সিংহ

প্রয়াত সলিল চৌধুরী আজ বেঁচে থাকলে ‘টুম্পা সোনা’ শুনে কী বলতেন জানি না। তবে তাঁর ‘ও আলোর পথযাত্রী’ কিংবা ‘ঢেউ উঠছে কারা টুটছে’ যে এত তাড়াতাড়ি ব্রাত্য হয়ে যাবে কে ভেবেছিল! অভাবে স্বভাব নষ্ট আর দুর্দিনে চরিত্র। তাই আর ঘোমটার তলায় খ্যামটা নাচ নয়। 
বিশদ

28th  February, 2021
মমতাকে ঠেকাতে শেষে ‘রামধনু’ জোট
তন্ময় মল্লিক

‘এই বাংলা যতটা আব্বাস সিদ্দিকির ততটাই দিলীপ ঘোষের। দক্ষিণ ভারত থেকে এসেছেন ওয়াইসি, তাঁরও ততটাই অধিকার।’এখানে শেষ হলে মনে হতো, এটি কোনও ধর্মনিরপেক্ষ মানুষের বক্তব্য। উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়েছে এর পরের কথায়, ‘ওয়াইসি এসে এখানে মিম তৈরি করলে দিদিমণির টেনশন হচ্ছে কেন? 
বিশদ

27th  February, 2021
বাংলা নয়, আগে যোগী-রাজ্য নিয়ে কথা বলুন
মৃণালকান্তি দাস

‘ঠোক দিয়ে যায়েঙ্গে’! এটাই নাকি উত্তরপ্রদেশ থুড়ি উত্তমপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মন্ত্র। যোগী নিজের রাজ্যকে ‘উত্তমপ্রদেশ’ বলতেই ভালোবাসেন। তিনি স্বপ্ন ফেরি করেন, এই রাজ্য নাকি সবেতেই ‘উত্তম’। কেমন সেই রাজ্য? 
বিশদ

26th  February, 2021
কর্পোরেট তোষণের ফলেই তেল অগ্নিমূল্য
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় 

সরকার যদি নিজেই দাম বাড়ায়, তাহলে পেট্রল ডিজেলের দাম কমবে কী করে? জ্বালানির দাম নিত্য বাড়ছে। স্বাধীন ভারতে এটা রেকর্ড যে পরপর নয়দিন দাম বাড়ল। গত দেড় মাসে ২১ বার দাম বাড়ল পেট্রল ও ডিজেলের, এবং একমাসের মধ্যে দু’বার গ্যাসের 
বিশদ

25th  February, 2021
ঘরের মেয়েই সেরা বাজি
হারাধন চৌধুরী 

নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, জগৎপ্রকাশ নাড্ডা প্রমুখ যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব খারিজ করার দাবি করেন, তখন ছোটবেলায় পড়া একটি কথা মাথায় খুব ঘুর ঘুর করে। একবার মাঘোৎসবে চুঁচুড়ায় রবীন্দ্রনাথ তাঁর পিতার সামনে ‘নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে, রয়েছ নয়নে নয়নে’ গানটি গেয়েছিলেন। 
বিশদ

24th  February, 2021
পেট্রল-ডিজেল-গ্যাস এবং পরিবর্তনের ডাক
শান্তনু দত্তগুপ্ত

পরিবর্তন সব সময় ভালো হবেই, এমনটা কিন্তু নয়। ধূর্জটিবাবু বলতেন, ‘আমাদের রামায়ণ-মহাভারতই দেখুন না। বলছে ইতিহাস, কিন্তু আসলে আজগুবি গপ্পোর ডিপো। রাবণের দশটা মাথা, হনুমান ল্যাজে আগুন দিয়ে লঙ্কা পুড়োচ্ছে, ভীমের অ্যাপিটাইট, ঘটোৎকচ, হিড়িম্বা, পুষ্পক রথ, কুম্ভকর্ণ—এগুলোর চেয়ে বেশি ননসেন্স আর কী আছে?’  
বিশদ

23rd  February, 2021
সংখ্যা মিথ্যে বলে না 
পি চিদম্বরম

১২ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভায় এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি লোকসভায়, অর্থমন্ত্রী শ্রীমতী নির্মলা সীতারামন যে বাজেট ভাষণ দিয়েছিলেন সেটি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপ্রবণ। লোকসভায় তিনি আক্রমণাত্মক না-হয়ে এক ডজন বার আমার আগের দিনের বক্তব্যের উল্লেখ করেন, যেটা আমার কাছে সংসদীয় বিতর্কের চাপানউতোর বলে মনে হয়েছে। 
বিশদ

22nd  February, 2021
একনজরে
মঙ্গলবার রাতে আগ্নেয়াস্ত্র সমেত তিন দুষ্কৃতীকে মোথাবাড়ি থানার পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম শেখ আয়েশ, শেখ এজাবুল এবং আজিজুর রহমান। ...

রক্ষকই ভক্ষক। আশ্রয়কেন্দ্রেও নিরাপদ নন মহিলারা। মহারাষ্ট্রে সরকার পরিচালিত একটি হস্টেলের কিশোরীদের নগ্ন করিয়ে জোর করে নাচ করানোর অভিযোগ উঠল পুলিসের বিরুদ্ধে। এই বর্বরোচিত কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।   ...

ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ) আয়োজিত উত্তরবঙ্গ কাপের খেলার তৃতীয় দিনে বাগসরাই ইউনাইটেড সাঁওতাল অ্যাসোসিয়েশন ২-০ গোলে পরাজিত করল দার্জিলিংয়ের হিমালয়ান স্পোর্টিং ক্লাবকে। ...

আপনারা কেমন আছেন? ভোট দিতে কোনও অসুবিধা হবে বলে মনে হচ্ছে কি? যদি কোনও অসুবিধা মনে হয়, তাহলে আমাদের সেকথা নির্ভয়ে বলতে পারেন। এছাড়াও যদি কোনও সমস্যা হয়, তাহলে আমাদের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ করবেন।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

নিকট বন্ধু দ্বারা বিশ্বাসঘাতকতা। গুরুজনের স্বাস্থ্যহানি। মামলা-মোকদ্দমায় পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে থাকবে। দাম্পত্য জীবনে ভুল বোঝাবুঝিতে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৫১: জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠা
১৮৫২: রুশ লেখক নিকোলাই গোগোলের মৃত্যু
১৮৫৬: কবি তরু দত্তের জন্ম
১৯১৮: প্রথম ধরা পড়ে স্প্যানিশ ফ্লু, এরপর দুনিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এই রোগ
১৯২৫: নাট্যকার ও লেখক জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু
১৯৮০: টেনিস খেলোয়াড় রোহন বোপান্নার জন্ম
১৯৮০: জিম্বাবোয়ের জাতীয়তাবাদী নেতা রবার্ট মুগাবের নির্বাচনে জয়, মুগাবে দেশের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রধানমন্ত্রী
২০০১: হিন্টেজ রিবেইরোর দুর্যোগ, পর্তুগালের উত্তরপ্রান্তে এক সেতু ভেঙে ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছিল
২০০৯: মানবতা ধ্বংসকারী এবং যুদ্ধ উন্মাদ সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর হাসান আল-বাসিরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্ট  



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭২.২৪ টাকা ৭৩.৯৫ টাকা
পাউন্ড ১০০.১৬ টাকা ১০৩.৬৮ টাকা
ইউরো ৮৬.৭২ টাকা ৮৯.৯২ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪৫, ৮০০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৩, ৪৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৪, ১০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৮, ৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৮, ৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২০ ফাল্গুন ১৪২৭, বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ ২০২১। ষষ্ঠী ৪০/০ রাত্রি ৯/৫৯। বিশাখা নক্ষত্র ৪৪/৫৫ রাত্রি ১১/৫৭। সূর্যোদয় ৫/৫৯/২৫, সূর্যাস্ত ৫/৩৭/১৯। অমৃতযোগ রাত্রি ১/১২ গতে ৩/৩১ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৭/৩৩ মধ্যে পুনঃ ১০/৩৯ গতে ১২/৫৮ মধ্যে বারবেলা ২/৪২ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/৪৮ গতে ১/২১ মধ্যে। 
১৯ ফাল্গুন ১৪২৭, বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ ২০২১। ষষ্ঠী রাত্রি ১/৫৯। বিশাখা নক্ষত্র রাত্রি ৩/৫৪। সূর্যোদয় ৬/৩, সূর্যাস্ত ৫/৩৭। অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৫৫ গতে ৩/১৯ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৭/২৯ মধ্যে ও ১০/৩১ গতে ১২/৫৬ মধ্যে। কালবেলা ২/৪৩ গতে ৫/৩৭ মধ্যে। কালরাত্রি ১১/৪৯ গতে ১/২৩ মধ্যে। 
১৯ রজব। 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
৬৭৩ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স

11:02:45 AM

স্থগিত হয়ে গেল স্বয়ংসিদ্ধা মেলা
 নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় স্থগিত রাখা হল স্বয়ংসিদ্ধা মেলা। মে ...বিশদ

10:55:20 AM

পাটুলিতে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার ১
গতকাল রাতে পাটুলিতে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার এক দুষ্কৃতী। ধৃত যুবকের ...বিশদ

10:49:32 AM

উত্তরপ্রদেশে মেয়ের মুণ্ডচ্ছেদ করে আত্মসমর্পণ বাবার
নিজের মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি বাবা। ক্রুদ্ধ হয়ে ...বিশদ

10:34:45 AM

হাওড়া-আমতা শাখায় ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত
আমতা-হাওড়া রেল লাইনে বড়গাছিয়া থেকে আমতার মধ্যে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা ...বিশদ

10:17:40 AM

দেশে একদিনে করোনা আক্রান্ত ১৭,৪০৭
গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৭,৪০৭ জন।  এই ...বিশদ

10:16:00 AM