Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মোদিময় রাজনীতিতে
নয়া পাঠ ‘বাণপ্রস্থ কথা’
মৃণালকান্তি দাস

তাঁর বাড়িতে পা দিলেই চন্দনকাঠের একটা মূর্তিতে চোখ পড়বেই। তাতে অর্জুনকে বিশ্বরূপ দেখাচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণ। তার পিছনে মহাভারতের টুকরো নানা ছবি। শরশয্যায় শায়িত ভীষ্মও। বিজেপিতে আদবানিকে ভীষ্ম পিতামহের সঙ্গে তুলনা করা হয়। নিজের হাতে তৈরি দলে যেভাবে তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, তাকে কি তাঁকে আজ ভীষ্মের সেই শরশয্যার সঙ্গে তুলনা করা যায়? অথচ, এই অসম্মান অবশ্যই লৌহপুরুষের প্রাপ্য ছিল না। কিন্তু নিজেকে ওই পর্যায়ে নামিয়ে আনার দায় তাঁরই। তিনি কি জানতেন না, গোপন রক্তক্ষরণে বেলাশেষের পথ আকীর্ণ হয়ে ওঠে!
তবুও ইতিহাসের পাতা উল্টে বলতেই হয়, ১৯৮৪ লোকসভা ভোটের ২ থেকে বিজেপি–কে ১৯৮৯ সালে ৮০–এ তুলে এনেছিলেন প্রধানত তিনিই। যাঁরা এখন বিজেপির বড় নেতা, বড় মন্ত্রী, সকলেই তাঁর প্রশিক্ষণে সমৃদ্ধ। অটলবিহারী বাজপেয়ি বলতেন, অনুজপ্রতিম লালকৃষ্ণ ‘সংগঠনের প্রাণকেন্দ্র’। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে ক্ষমতায় আসার পিছনেও সেই আদবানির বিশাল অবদান। তাঁর অভিজ্ঞতা যেকোনও নির্বাচনে বিজেপির জন্য অমূল্য সম্পদ হতে পারে। আজও। বিজেপি ক্ষমতায় এলে কে হবেন প্রধানমন্ত্রী? লালকৃষ্ণ আদবানি বলেছিলেন, ‘কোনও প্রশ্নের অবকাশ নেই। আমাদের সিনিয়র নেতা বাজপেয়িজি। সংসদীয় রাজনীতিতে তুলনাহীন। মানুষের কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। তিনিই হবেন প্রধানমন্ত্রী।’ আদবানির বদলে ‘মডারেট’ বাজপেয়ি প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন অনেকেই। তখন বাজপেয়িই সর্বংসহা। আদবানি উগ্র হিন্দু নেতা। লৌহপুরুষ। আজ সেই আদবানিই নরমপন্থী। এনডিএ জমানায় বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য হলেও দু’জনের সম্পর্ক এতই নিবিড় ছিল যে, সরকার ও দলের মধ্যে একাধিক শক্তিকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি।
২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসেই সেই বাজপেয়ি, যোশিদের সঙ্গে আদবানিকেও ‘মার্গ দর্শক মণ্ডলী’–তে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। ক্ষমতা ও দায়িত্ব থেকে বহু যোজন দূরে। গত পাঁচ বছর সেই উপদেষ্টা মণ্ডলীর একটিও বৈঠক হয়নি। লালকৃষ্ণ আদবানির নীরবতা এতটাই গভীর ছিল যে, তাঁর দলের নিরঙ্কুশ আধিপত্যের গত পাঁচ বছরে সংসদের ভিতরে ‘সরকারি ভাবে’ তিনি মুখ ফুটে বলেছেন মাত্র ৩৬৫টি শব্দ। অথচ, সংসদের অধিবেশনের দিনগুলিতে ৯২ শতাংশ হাজিরার মালিক নবতিপর প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী। সংসদ ভবনের কোনও অনুষ্ঠানে যদি একজন সাংসদও উপস্থিত থাকেন, তাঁর নাম এল কে আদবানি। কষ্ট পেয়েছেন, কিন্তু প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা যে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড়।
গান্ধীনগরে গত আঠাশ বছর সংসদ সদস্য ছিলেন আদবানি। এবার তাঁকে সরিয়ে প্রার্থী করা হয়েছে অমিত শাহকে। কারণ বয়স? হ্যাঁ, ৯১। কিন্তু এখনও সচল। তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন উনপঞ্চাশ বছর। কখনও লোকসভার, কখনও রাজ্যসভার। এবার তিনি আর সাংসদ থাকছেন না। সংসদ থেকে রাজনৈতিক সন্ন্যাসের পথে লালকৃষ্ণ আদবানি। বিজেপিতে আদবানি যুগের অবসান। উত্থান অমিত শাহের। বিজেপিতে যে প্রশ্নটা উঠেছে তা হল, মোদি কি এবার তাঁর উত্তরাধিকারী হিসেবে অমিত শাহকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন? যদি আবার বিজেপি সরকার হয় এবং যদি অমিত শাহ জিতে আসেন এবং মন্ত্রী হন, তা হলে তিনিই হবেন সরকারের দু-নম্বর ব্যক্তি। অটলবিহারী বাজপেয়ির যেমন ছিলেন লালকৃষ্ণ আদবানি, তেমন মোদির রাজত্বে দলে তো দু’নম্বর পদে অমিতের উত্থান। তাহলে মোদি কি তাঁর উত্তরাধিকারের নিরুচ্চার ঘোষণাটাও সেরে রাখলেন? জানা গিয়েছে, বাদ দেওয়ার আগে মোদি–শাহরা একবারও কথা বলেননি আদবানির সঙ্গে। বরং চাপ দেওয়া হয়েছে, তিনি অবসর ঘোষণা করুন!‌ আদবানি নীরব। এতটা অপমান প্রাপ্য ছিল তাঁর?
প্রার্থী না হতে পেরে নীরব আদবানি শুধু ৫৩৫ শব্দের একটা ব্লগ লিখলেন। যার শিরোনাম: নেশন ফার্স্ট, পার্টি নেক্সট, সেল্ফ লাস্ট। দেশ আগে, দল পরে, শেষে নিজে। নিশানা অব্যর্থ। জানিয়ে দিয়েছিলেন, প্রথমে ভারতীয় জনসঙ্ঘ, পরে ভারতীয় জনতা পার্টিতে তিনি বা অটলবিহারী বাজপেয়িরা চিরকাল নিজেকে পিছনে রেখে দল এবং দলের উপরে দেশকে স্থান দেওয়ার অনুশীলনই করে এসেছেন। সেটাই করে যাবেন বাকি জীবন। অথচ, মোদি-শাহের আমলে দল ছাপিয়ে নেতাই বড় হয়ে উঠেছেন। প্রার্থী নন আর, প্রচারেও নেই। এক রকম অন্তরালে ঠেলে দিতে চাওয়া হয়েছিল যাঁকে, সেই তিনিই যে ভোটের মুখে এমন ‘মেঘনাদ’ হবেন, বোধহয় ভাবতেও পারেনি টিম মোদি। আদবানির কথা ভেবে দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। মোদির নাম না-করে মমতার কটাক্ষ, ‘যখন প্রয়োজন ছিল, তখন আদবানি ছিলেন প্রকৃত মেন্টর (মাগদর্শক)। যখন তাঁর প্রয়োজন ফুরিয়ে গিয়েছে, যখন তুমি খুব বড় হয়ে গিয়েছে, তখন তুমি অতীতকেই ভুলে গেলে। কিন্তু ওল্ড ইজ অলওয়েজ গোল্ড। প্রত্যেকেই একদিন বুড়ো হবে। একদিন সবাইকে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। এটাই বাস্তব।’
আদবানিকে আবার প্রার্থী না-করার সিদ্ধান্ত নিয়ে খুব বেশি অবাক হওয়ার কোনও কারণ নেই। রাজনীতিতেও একটা সময় অবসর নিতেই হয়। তিনি দেশের উপ-প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সামলেছেন। তার আগে জনতা সরকারের আমলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন। লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিরোধী নেতার দায়িত্ব সামলেছেন। একসময় রাজ্যসভার নেতাও ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে দলের সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। বর্তমান নেতৃত্বের অধিকাংশই তাঁর নিজের হাতে তৈরি। প্রধানমন্ত্রী মোদি থেকে শুরু করে সুষমা স্বরাজ, অরুণ জেটলি, বেঙ্কাইয়া নাইডু, সদ্যপ্রয়াত অনন্ত কুমার-দের গুরু হলেন আদবানি। কিন্তু তাঁর এই প্রস্থানটা একেবারেই সাদামাটা। বিজেপি নেতাদের একাংশের মতে, যিনি দলটাকে নিজের হাতে তৈরি করে শক্তিশালী করেছিলেন, তাঁর বিদায়টা সম্মানজনক হতে পারত। এতটা উপেক্ষার কোনও প্রয়োজন ছিল না। আর একটু মর্যাদা তাঁর প্রাপ্য ছিল। আর এত নেতার ছেলে-মেয়েকে প্রার্থী করা হচ্ছে, সেখানে আদবানির ছেলে বা মেয়েকেও প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়াই যেত।
আজ হয়তো ২০০২ সালের ১১ এপ্রিলের কথা আদবানির নিশ্চয়ই মনে পড়ে যাচ্ছে বারবার। সেদিন তিনি প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়িকে বাধ্য করেছিলেন, গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে মোদিকে সরানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে। দু’জনেই ছিলেন একই বিমানের যাত্রী। গুজরাতের দাঙ্গা (যা তখনও থেমে যায়নি) মোকাবিলায় ব্যর্থতার জন্য মহা খাপ্পা বাজপেয়ি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরে যেতে বলবেন মোদিকে। কিন্তু সেদিনের বিমানযাত্রায় আদবানি ও তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী বাজপেয়িকে চাপ দিয়ে কার্যত বাধ্য করেছিলেন সিদ্ধান্ত বদলাতে। দলের কথা ভেবে আদবানি সেদিন কাজটা না করলে মোদির ভাগ্যের চাকা হয়তো অন্য পথেই ঘুরে যেত। গ্রহের ফেরে সেই মোদিই আদবানির শেষ স্বপ্ন পূরণের পথে সবচেয়ে বড় দেওয়াল হয়ে উঠেছিলেন। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই নরেন্দ্র মোদি বনাম লালকৃষ্ণ আদবানির লড়াই চরমে উঠেছিল। গোয়ায় জাতীয় যে কর্মসমিতির বৈঠকে নরেন্দ্র মোদিকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হয়েছিল, সেই বৈঠক বয়কট করেছিলেন আদবানি। বৈঠকে সুষমা প্রায় মিনিট পঁয়তাল্লিশ পরে পৌঁছেছিলেন। আদবানি তো ক্ষোভে বিজেপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক সংস্থা পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠক থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। পরে পার্লামেন্টারি বোর্ড সেই ইস্তফা খারিজ করে। সে সময় মুরলি মনোহর যোশি, শান্তা কুমার, যশবন্ত সিনহারা এই প্রস্তাবের বিরোধী ছিলেন। পাঁচ বছর পর এসে দেখা যাচ্ছে, তাঁরা আর কেউ প্রার্থী নন। ভোটের ময়দান থেকে তাঁদের সরে যেতে হয়েছে। মোদি বিরোধী হলেই টিকিট নেই বিজেপিতে। আর বিজেপি‌র বিজ্ঞাপন:‌‌ ‘‌মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়।’‌
বিজেপির মার্গদর্শক মণ্ডলের সদস্য পঁচাশি বছর বয়সি মুরলি মনোহর যোশি কিন্তু আদবানির মতো নীরবে মেনে নেননি। হাটে হাঁড়ি ভেঙে কানপুরের ভোটদাতাদের উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘আমার প্রিয় কানপুরের ভোটদাতারা, বিজেপির সংগঠন সচিব রামলাল আমায় বলেছেন, আমি যেন কানপুর বা অন্য কোথাও প্রার্থী না হই।’ মোদি-শাহর নির্দেশ ছিল, যোশিকেই ঘোষণা করতে হবে যে, তিনি আর প্রার্থী হতে চান না। কিন্তু যোশি একেবারে সরাসরি কানপুরের ভোটারদের জানিয়েছেন, দল তাঁকে জানিয়েছে, তিনি যেন কানপুর বা অন্য কোনও কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী না হন। একইভাবে শান্তা কুমার, করিয়া মুন্ডা, কলরাজ মিশ্রদের বলা হয়েছিল, তাঁরা যেন নিজেরা ভোটে না-লড়ার কথা ঘোষণা করেন। আদবানি সেই ঘোষণা করেননি। কিন্তু প্রতিবাদের রাস্তাতেও যাননি। বাকিরা নির্দেশ মেনেছেন। হুকুম দেবনারায়ণ যাদবের ছেলেকে প্রার্থী করা হয়েছে। তাই তাঁর কোনও ক্ষোভ নেই। ভুবন চন্দ খান্ডুরির ছেলে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে তাঁর জেতা আসন থেকে লড়ছেন। তাই তিনিও জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ভোটে আর লড়বেন না।
আসলে এভাবেই বাজপেয়ি-আদবানির অনুগতদের এক এক করে এই পাঁচ বছরে মোদি-শাহ জুটি ছেঁটে ফেলেছে। যশবন্ত সিনহা, শত্রুঘ্ন সিনহা, অরুণ শৈরীরা আগেই বাদ গিয়েছেন। হাওয়া বুঝে উমা ভারতী তো কবেই হারিয়ে গিয়েছেন। হাওয়া বোঝার সেই ক্ষমতা আছে সুষমা স্বরাজেরও। স্বাস্থ্যের দোহাই দিয়ে বিদিশার এমপি অনেক দিন আগেই তাই জানিয়ে দিয়েছিলেন, অনেক হয়েছে, আর ভোট নয়। দলের উপেক্ষার পর পঁচাত্তরে পা দেওয়া লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজনকেও জানাতে বাধ্য করা হয়েছে, তিনি আর ভোটে লড়বেন না। অথচ, মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর থেকে আট বারের সাংসদ এটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি এবারও লড়তে চেয়েছিলেন। ফলে পঁচাত্তর পেরিয়ে যাওয়া নেতাদের ব্যাপারে বিজেপির নীতিও স্পষ্ট হয়েছে। মোদির রাজনীতিতে এ এক নয়া পাঠ তো বটেই। এবার নির্বাচনে প্রবীণদের মনোনয়ন না দিয়ে একপ্রকার বাণপ্রস্থেই ঠেলে দেওয়া হয়েছে। চিরতরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে সংসদে তাঁদের আনাগোনা। জল্পনা উঠেছে দল গড়লেন যাঁরা তাঁদেরকেই অলিখিত ‘বৃদ্ধাশ্রমে’ পাঠিয়ে ঠিক কী বার্তা দিতে চাইলেন মোদি? আদৌ কি এই সিদ্ধান্ত সঠিক? নাকি সময়ের দাবি?
বিজেপির একাংশের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে যেতে পারতেন ৩০ পৃথ্বীরাজ রোডে তাঁর একসময়কার রাজনৈতিক গুরুর বাড়ি। লোককল্যাণ রোডে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি নিবাস থেকে দূরত্ব এক কিলোমিটারও নয়। কিন্তু সেই রাস্তায় মোদি হাঁটলেন না। পাঠালেন সঙ্ঘের নেতা রামলালকে। আদবানিকে তিনি বললেন, দল চায় ভোটে না দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা তিনি নিজেই যেন দুনিয়াসুদ্ধ সবাইকে জানিয়ে দেন। অপমানিত আদবানি চুপ করে রামলালের কথা শুনেছিলেন। একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। রাজনীতি নিষ্ঠুর সবারই জানা। কিন্তু অনুশাসিত বলে গর্ব করা বিজেপির কাছে রাজনীতি যে এতখানি হৃদয়হীন, আদবানিদের অপসারণের মধ্য দিয়ে তা আজ স্পষ্ট।
আদবানি হয়তো দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তিটা টানতে চাইছিলেন প্রধানমন্ত্রী পদে বসে। শিষ্য মোদির তাঁকে ডিঙিয়ে এগিয়ে যাওয়াটা তাঁর জন্য বাড়া ভাতে ছাই পড়ার মতো। একদিন হয়তো ৬৮ বয়সের এই নরেন্দ্র মোদিও কোনও উগ্র নেতার কাছে মিইয়ে যাবেন। আজকের আদবানির মতো তিনিই সেদিন হবেন নরমপন্থী। তিনিও মাগদর্শনে আচ্ছন্ন হবেন। কে না জানে, ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসের চাকা ঘুরছে অনবরত। তা বিলকুল জানে নাগপুরও!
10th  May, 2019
অর্থনীতিই নয়, ভয়াবহ বিপর্যয় বিদেশনীতিরও
হিমাংশু সিংহ

২০১৪ থেকে ২০২০। মাঝে মাত্র ৬ বছর। দুর্বল না হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী শক্তিশালী একনায়ক হলে রাষ্ট্রের বিপদ কী কী? এই ক’বছরেই তার মোক্ষম উত্তর পেয়ে গিয়েছে দেশ। এমনকী পরিস্থিতি আজ এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে, এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সরকারি অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদির সঙ্গে নরেন্দ্রনাথ দত্তের তুলনা টানছেন বুক ফুলিয়ে।  
বিশদ

কুকথায় হাততালি জুটলেও
দূরে সরে যায় মানুষ 
তন্ময় মল্লিক

রুটি সেঁকার জন্য তাওয়া গরম করতে হয়। আবার সেই তাওয়া বেশি তেতে গেলে রুটি যায় পুড়ে। তখন খাবারের থালার বদলে রুটির জায়গা হয় ডাস্টবিনে। রাজনীতিতেও তেমনটাই। কর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য নেতারা গরম গরম ভাষণ দেন। কিন্তু তা মাত্রা ছাড়ালে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়।  
বিশদ

19th  September, 2020
বাংলার সমাজ ও
রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণ
সমৃদ্ধ দত্ত

সেদিন বিকেলে তাঁকে ভেন্টিলেটরে নিয়ে যাওয়া হবে। কারণ, প্রবল শ্বাসকষ্ট। অক্সিজেন দিলেও কাজ হচ্ছে না তেমন। এইমস ডাক্তাররা বুঝলেন পরিস্থিতি ভালো নয়। অনেকদিন হয়ে গেল কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন।   বিশদ

18th  September, 2020
‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর
রূপকার নরেন্দ্র মোদি
যোগী আদিত্যনাথ

রাজা কালস্য কারণম্‌। মহাভারতের ‘শান্তিপর্ব’-এ যুধিষ্ঠিরকে উপদেশ দিতে গিয়ে পিতামহ ভীষ্ম এই কালজয়ী কথাটি বলেছিলেন। কথাটি পিতামহ নিজের লোকদের বলেছিলেন বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এর ভিতরে এই ভারতের সবার জন্যই একটি জোরালো বার্তা তিনি রেখে গিয়েছেন।  বিশদ

17th  September, 2020
কাজ দাও, মুলতুবি রাখো
গ্রেট গেরুয়া সার্কাস
হারাধন চৌধুরী

দু’দশক যাবৎ ভারতীয় মিডিয়ায় সার্কাসের এলিজি বা শোকগাথা লেখা হচ্ছে। বেশিরভাগ লেখা ভারী হয়ে উঠছে জোকারদের জন্য সহমর্মিতায়। জোকারের জীবন কঠিন। কেউ শখ করে জোকার হয় না। কারও কারও জীবনখাতায় এই ভবিতব্যই লেখা থাকে।  বিশদ

17th  September, 2020
 কোনও প্রশ্ন নয়, নো কোয়েশ্চেনস!
সন্দীপন বিশ্বাস

 মোদি, অমিত শাহ তথা বিজেপি নেমে পড়েছে বিহার জয়ে। সেখানে অবশ্য নীতীশের হাত ধরে বিজেপিকে ভোট বৈতরণী পার হতে হবে। সেখানে রাজপুত ভোট আর ক্ষত্রিয় ভোট নিজেদের বাক্সে আনতে বিজেপিকে খেলতে হল দু’টি খেলা। একজনকে ডাইনি বানানো হল, অন্যজনকে দেবী বানানো হল।
বিশদ

16th  September, 2020
 সত্যিটা দেখলাম না... দেখানো হল না
শান্তনু দত্তগুপ্ত

এতকিছুর পরও আমেরিকার অর্থনীতি ধাক্কা খেল না। ট্রাম্প বুঝেছিলেন, ব্যবসাটা তিনি জানেন। করোনা ভাইরাসকে নয়। কাজেই শক্তিশালী অর্থনীতিকে বসিয়ে দেওয়ার মানে হয় না। করোনা আজ না হয় কাল কমবে। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে বছর লেগে যাবে। বিশদ

15th  September, 2020
ফেসবুক দিয়ে ঘৃণা-বিদ্বেষ
ছড়ালে কার লাভ হয়?

২০১৯। সাধারণ নির্বাচনের আগে একটি কাগজের হেডলাইন ছিল ‘গুগল কি ভারতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে?’ খবরটা বেরনোমাত্রই ‘গুগল’ অস্বীকার করেছিল। কিন্তু অন্যকিছু সংস্থা টের পায়, গুগলে যেভাবে প্রার্থীদের সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে সেই তথ্য একটু সংশ্লেষণ করলে দ্বিধান্বিত ভোটারদের সহজেই প্রভাবিত করা সম্ভব।
বিশদ

15th  September, 2020
দমনমূলক ফেডারালিজম চলছে
পি চিদম্বরম

এটা পরিষ্কার যে মোদি সরকার এবার তার বিপুল গরিষ্ঠতাকে ব্যবহার করবে। রাজ্যগুলির মতামতের কোনও তোয়াক্কা করবে না। ইচ্ছেমতো সংশোধনী পাশ করিয়ে নেবে। ফেডারালজিমকে আরেকটি ধাক্কা দেবে। ‘এক জাতি, এক সবকিছু’ পরিণামে ‘এক জাতি’কে ধ্বংস করে ছাড়বে।
বিশদ

14th  September, 2020
নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে
স্কুলশিক্ষার সর্বনাশ হবে
প্রদীপকুমার দত্ত

 সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নত করে শিক্ষাকে সব মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা বরাদ্দের কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এই শিক্ষানীতিতে নেই। বরং এই শিক্ষানীতি শিক্ষার বেসরকারিকরণের পথকেই প্রশস্ত করবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য আরও বাড়বে।
বিশদ

14th  September, 2020
সন্তোষকুমার ঘোষ: অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, প্রচণ্ড
ক্ষমতাবান সাহিত্যিক ও যুগান্তকারী সাংবাদিক
বরুণ সেনগুপ্ত

খবরের কাগজ সাধারণ মানুষের জন্য। তাই সাধারণ মানুষ যেসব খবরে আগ্রহী সেইগুলিই বেশি করে লেখা উচিত। অথবা যেমন, খবরের কাগজে যা লেখার তা সোজাসুজি লেখা উচিত। ‘এটাও হয় ওটাও হয়’ গোছের ব্যাপার নয়। এই জিনিসগুলি হাতেকলমে শিখেছি সন্তোষকুমার ঘোষের কাছে।
বিশদ

13th  September, 2020
সিবিআইয়ের বন্দিদশা কাটবে কবে?
হিমাংশু সিংহ

 সুশান্তের মৃত্যু হয় ১৪ জুন। আর আজ ১৩ সেপ্টেম্বর। তাঁর আকস্মিক চলে যাওয়ার পর ঠিক তিন মাস অতিক্রান্ত। প্রতিভাবান অভিনেতার মৃত্যু রহস্যের তদন্তে কোথাকার জল কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তার তল খুঁজে পাচ্ছেন না তুখোড় সিবিআই গোয়েন্দারাও। কিংবা বলা ভালো, সত্যি তল খোঁজার চেষ্টা হচ্ছে কি?
বিশদ

13th  September, 2020
একনজরে
সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: কালচিনির ডিমা চা বাগানের বিচ লাইন থেকে শনিবার সকালে বনকর্মীরা একটি অজগর উদ্ধার করেন। এদিন সকালে বাগানের জমিতে প্রায় আট ফুট লম্বা অজগরটিকে দেখে শ্রমিকরা বনদপ্তরের নিমাতি রেঞ্জে খবর দেয়।   ...

জেনিভা: করোনার জেরে স্থগিত হল ২০২০ সালের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ। শুক্রবার ফিফার সভাপতি গিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার করে এবছরের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর অনুষ্ঠিত হবে ...

সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: পঞ্চায়েতের উন্নয়নমূলক কাজেরও এবার পরীক্ষা হবে ‘গবেষণাগারে’! এমনই পরিকল্পনা নিল পঞ্চায়েত দপ্তর। লক্ষ্য মূলত দু’টি। এক, অসাধু ঠিকাদার কিংবা নির্মাণকারী সংস্থার ফাঁকিবাজি রুখে কাজের গুণগতমান বজায় রাখা।   ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: জেলা প্রশাসনের আবেদনের দু’মাস পরেও পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজ দেওয়া নিয়ে কোনওরকম সাড়াই পাওয়া গেল না। স্কিলড লেবার বা দক্ষ শ্রমিকদের একটা বড় অংশই ভিনরাজ্যে কাজের খোঁজে ফিরে গেলেন। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বেফাঁস মন্তব্যে বন্ধুর সঙ্গে মনোমালিন্য। সম্পত্তি নিয়ে ভ্রাতৃবিরোধ। সৃষ্টিশীল কাজে আনন্দ। কর্মসূত্রে দূর ভ্রমণের সুযোগ।প্রতিকার: ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪৮: চিত্রপরিচালক মহেশ ভাটের জন্ম
২০০৪: চিত্রপরিচালক সলিল দত্তের মৃত্যু 



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭২.৮৯ টাকা ৭৪.৬০ টাকা
পাউন্ড ৯৩.৫৫ টাকা ৯৬.৯১ টাকা
ইউরো ৮৫.১০ টাকা ৮৮.২১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
19th  September, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৫২,৩৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৯,৭০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৫০,৪৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৬,৭৪০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৬,৮৪০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ আশ্বিন ১৪২৭, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, তৃতীয়া ০/২৮ প্রাতঃ ৫/৩৯ পরে চতুর্থী ৫২/২৮ রাত্রি ২/২৮। স্বাতীনক্ষত্র ৪৩/২৯ রাত্রি ১০/৫২। সূর্যোদয় ৫/২৮/১৮, সূর্যাস্ত ৫/৩১/৫৪। অমৃতযোগ দিবা ৬/১৬ গতে ৮/৪১ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৪ গতে ৩/৭ মধ্যে। রাত্রি ৭/৫৫ গতে ৯/৩০ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৪ গতে ১/২৯ মধ্যে পুনঃ ২/১৭ গতে উদয়াবধি। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৩/৫৫ গতে ৪/৪৩ মধ্যে। বারবেলা ১০/০ গতে ১/১ মধ্যে। কালরাত্রি ১২/৫৯ গতে ২/২৯ মধ্যে।  
৩ আশ্বিন ১৪২৭, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, তৃতীয়া দিবা ১০/২। চিত্রানক্ষত্র দিবা ৬/১৫ পরে স্বাতীনক্ষত্র শেষরাত্রি ৪/৩৫। সূর্যোদয় ৫/২৮, সূর্যাস্ত ৫/৩৪। অমৃতযোগ দিবা ৬/২০ গতে ৮/৪১ মধ্যে ও ১১/৪৭ গতে ২/৫৪ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪২ গতে ৯/২১ মধ্যে ও ১১/৪৯ গতে ১/২৭ মধ্যে ও ২/১৭ গতে ৫/২৮ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৩/৪১ গতে ৪/২৮ মধ্যে। বারবেলা ১০/০ গতে ১/২ মধ্যে। কালরাত্রি ১২/৫১ গতে ২/২৯ মধ্যে।  
মোসলেম: ২ শফর। 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আইপিএল: টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত পাঞ্জাবের 

07:13:06 PM

১২, ১৩ ও ১৪ অক্টোবর রাজ্যে ট্রাক ধর্মঘট 

05:37:00 PM

করোনা: কোন কোন দেশ বেশি আক্রান্ত?  
করোনায় আক্রান্তের বিচারে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আমেরিকা। এদেশে করোনায় আক্রান্ত ...বিশদ

04:45:13 PM

উত্তরপ্রদেশে করোনায় আক্রান্ত আরও ৫,৮০৯ জন, মৃত ৯৪ 

04:32:47 PM

নৈহাটি কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারিত অর্জুন সিং 
ভাটপাড়ার নৈহাটি কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারিত হলেন বিজেপি ...বিশদ

04:19:31 PM

ভাঙড়ে হেরোইন সহ ধৃত দেগঙ্গার ২ কুখ্যাত দুষ্কৃতী 

03:22:00 PM