Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ভোট
শুভা দত্ত

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে দু’টি দফার ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যে সমাপ্ত। এই নির্বাচনে সাত দফায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৯০ কোটি মানুষ। এক্ষেত্রে একটি প্রাসঙ্গিক তথ্য হল, এখন দেশে ৫৬ কোটি মানুষ ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। তাদের সিংহভাগ তরুণ-তরুণী। তারা নিয়মিত ফেসবুক, ট্যুইটার আর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খবর দেওয়া নেওয়া করে।
গত কয়েক মাস ধরে প্রতিটি রাজনৈতিক দল ওই মাধ্যমগুলিতে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে। ফেসবুক, ট্যুইটার আর হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শত শত প্রচারমূলক অডিও এবং ভিডিও ক্লিপ।
রাজনীতিকদের হিসেব সহজ। যে বিপুল সংখ্যক মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে, তাদের পাঁচ থেকে ১০ শতাংশকেও যদি প্রভাবিত করা যায়, তাহলেই কেল্লা ফতে। এই ভেবে সবকটি দল সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বসে আছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রণী বিজেপি। তারপরেই আছে কংগ্রেস। বাকিরাও চেষ্টা করছে যে যার সাধ্যমতো। এই প্রথমবার ফেসবুক, ট্যুইটার কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভারতীয় রাজনীতিতে।
এখনও পর্যন্ত ট্যুইটারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফলোয়ারের সংখ্যা ৪ কোটি ৬০ লক্ষ। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যতীত সোশ্যাল মিডিয়ায় এত বেশি অনুগামী আর কোনও রাষ্ট্রপ্রধানের নেই। কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী ট্যুইটারে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন ২০১৫ সালে। তাঁর ফলোয়ার ৯০ লক্ষ।
অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ার এই বাড়বাড়ন্তের মধ্যে সিঁদুরে মেঘ লক্ষ করেছেন। কেননা একে ব্যবহার করে মুহূর্তে লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া যায়। অসাধু কোনও রাজনীতিক খুব সহজে গুজব, কুৎসা ও মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দিতে পারেন জনগণের মাঝে। তাতে সাধারণ মানুষের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হতে পারে।
ভোটের মরশুমে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে এমন বিতর্ক নতুন নয়। ২০১৬ সালে আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়ও অভিযোগ উঠেছিল, রাশিয়ানরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের হয়ে প্রচার চালাচ্ছে।
প্রশ্ন হল, সোশ্যাল মিডিয়া সত্যিই কি ভোটে বিঘ্ন ঘটাতে এসেছে? এর জবাব পেতে গেলে আগে বুঝতে হবে দুটি বিষয়। প্রথমত, অন্য সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার তফাৎ কোথায়? দ্বিতীয়ত, গত কয়েক দশকে কীভাবে বদলে গিয়েছে আমাদের সংবাদ মাধ্যম?
আগেকার দিনে দেশ-বিদেশের খবর পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম ছিল সংবাদপত্র। ভোরবেলায় হকাররা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিত ধূসর নিউজপ্রিন্টে ছাপা খবরের কাগজ। তাতে নানা ঘটনা, দুর্ঘটনা ও দেশ নেতাদের বাণী যেমন ছাপা হতো, তেমনি থাকত বরেণ্য সাংবাদিকদের কলাম। তাঁরা তুলে ধরতেন সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা। কখনও বা তীক্ষ্ণ সমালোচনায় বিদ্ধ করতেন শাসককে।
সাতের দশকের মাঝামাঝি ঘরে এল টিভি। দূরদর্শনেও রোজ কয়েকবার খবর পড়া হতো। কিন্তু সে তো সরকার নিয়ন্ত্রিত চ্যানেল। যে কোনও বিষয়ে সরকারি বক্তব্যের বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা নেই তার। ফলে খবরে তেমন তেজও নেই। মানুষের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি দূরদর্শনের খবর।
সর্বভারতীয় স্তরে বেসরকারি অডিও ভিস্যুয়াল মিডিয়ার জয়যাত্রা শুরু আটের দশকে। কলকাতার দূরদর্শনে স্লট ভাড়া করে বেসরকারি অডিও ভিস্যুয়াল খবর এসে পড়ল নয়ের দশকের শেষাশেষি। সে একেবারে হইহই ব্যাপার। লোকে এতদিন কাগজে খবর পড়ত, এবার খবর দেখছে।
একুশ শতকের প্রথম ১০ বছরে ফুলেফেঁপে উঠল অডিও ভিস্যুয়াল। ২৪ ঘণ্টা ধরে খবর দেখাতে লাগল কয়েকটি চ্যানেল। এরই মধ্যে নিঃশব্দে হাজির হল সোশ্যাল মিডিয়া। প্রথম প্রথম মানুষ খুব ব্যক্তিগত খবর লেনদেন করত তার মাধ্যমে। তাতে অনেক পুরনো বন্ধুর সঙ্গে ফের যোগাযোগ হতে লাগল। তখনকার দিনে ডেস্কটপ কম্পিউটারে অথবা ল্যাপটপে খোলা যেত ফেসবুক, ট্যুইটার।
তারপর স্মার্টফোন সস্তা হয়ে গেল। মোবাইলে ইন্টারনেটও পাওয়া যেতে লাগল নামমাত্র খরচে। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলে গেল সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা। সোশ্যাল মিডিয়া এখন মোবাইলের পর্দায়। অফিসে কাজের ফাঁকে কিংবা বাসে ও ট্রেনে একটু সুযোগ পেলেই বাটন টিপে দেখে নেওয়া যায় কে কী পোস্ট করেছে।
ক্রমে ফেসবুক, ট্যুইটার ও হোয়াটসঅ্যাপ হয়ে উঠল বৃহত্তর জগতের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম। নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক খবরাখবর চালাচালি হতে লাগল তার মাধ্যমে। জনমত গঠন করা, প্রতিবাদ সংগঠিত করার অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠল সোশ্যাল মিডিয়া।
কিন্তু তার একটা বিপদের দিক তো আছেই।
সংবাদপত্রে বা টিভি চ্যানেলে একটা ছাঁকনি থাকে। সেখানে যে কোনও খবর আসা মাত্রই প্রকাশিত বা সম্প্রচারিত হতে পারে না। সম্পাদকরা আগে খতিয়ে দেখেন, খবরের বিশ্বাসযোগ্যতা কতদূর। তারপর ভেবে দেখেন, খবরটি মানুষের মধ্যে গেলে অশান্তি বা দাঙ্গাহাঙ্গামা সৃষ্টি হবে না তো! এর যে ব্যতিক্রম হয় না তা নয়। কিন্তু একটা দূর পর্যন্ত দায়িত্ববোধ আশা করাই যায় খবরের কাগজ কিংবা টিভি চ্যানেলের কাছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ছাঁকনিটাই নেই। তার মাধ্যমে যে কোনও গুজবকে খবর নাম দিয়ে হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় খুব সহজে। ভোটের আগে এমন ‘ফেক নিউজ’ ছড়ানোর উদাহরণ আছে বিস্তর।
ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে চল্লিশ জনের বেশি সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হন। তার দু’সপ্তাহ বাদে ফেসবুকে একটি অডিও ক্লিপ ছড়াতে থাকে। যাতে নাকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ও এক মহিলার কণ্ঠস্বর শোনা গিয়েছে। তাঁরা আলোচনা করছেন, ভোটের আগে পুলওয়ামাকাণ্ডকে ছুতো করে একটা যুদ্ধ বাধাতেই হবে। একদিনের মাথায় ফেসবুক জাল অডিও ক্লিপটি চিহ্নিত করে। তাকে ফেসবুকের পাতা থেকে মুছেও ফেলা হয়। কিন্তু তার মধ্যে ২৫ লক্ষ মানুষ ওই অডিও শুনে ফেলেছেন। শেয়ারও করেছেন দেড় লক্ষ মানুষ।
পুলওয়ামার ঘটনার জের চলেছে বেশ কয়েকদিন ধরে। জঙ্গিহানার কিছুদিন পরে পাকিস্তানের বালাকোটে জয়েশ-ই-মহম্মদের প্রশিক্ষণ শিবিরে বোমা ফেলে আসে ভারতের বায়ু সেনা। পাকিস্তানের বিমান ভারতের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ঢুকতে চেষ্টা করে। সেই বিমানগুলি তাড়াতে গিয়ে পাকিস্তানে ঢুকে পড়েন ভারতের মিগ-২১ বিমানের চালক অভিনন্দন ভর্তমান। তাঁর প্লেন পাকিস্তানের গোলায় ধ্বংস হয়। তিনি বন্দি হন। আবার চাপের মুখে তাঁকে ছেড়েও দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান।
সীমান্তে এইরকম উত্তেজনার সময় যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্বেষমূলক প্রচার চালানো হয়েছে, তার তুলনা নেই। প্রায় প্রত্যেকের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রোজ অন্তত কয়েকশো করে ভুলভাল খবর ও ভিডিও ক্লিপ ঢুকেছে।
ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়ানো খবর কি সত্যিই বিশ্বাস করে সাধারণ মানুষ?
এই প্রশ্নের জবাব পেতে কিছুদিন আগে সমীক্ষা করেছিল দুটি সংস্থা। একটির নাম সোশ্যাল মিডিয়া ম্যাটারস, অপরটি দিল্লি ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স পলিসিস অ্যান্ড পলিটিক্স। সমীক্ষার নাম, ডু নট বি এ ফুল।
সমীক্ষকরা যাঁদের প্রশ্ন করেছিলেন, তাঁদের ৯৬ শতাংশ উত্তর দিয়েছেন, তাঁরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মিথ্যা খবর পেয়ে থাকেন। ৫৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে এবারের লোকসভা নির্বাচন নিয়ে ভুয়ো খবর এসেছে।
৬২ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, ভুয়ো খবর ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে। ৪১ শতাংশ জানিয়েছেন, হোয়াটসঅ্যাপের খবরে তাঁদের বিশ্বাস নেই।
হোয়াটসঅ্যাপের খবরে বিশ্বাস আছে, এমন মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। তাদের দিয়েই কোনও অশুভ শক্তি ঘটিয়ে দিতে পারে নানা অনর্থ। গত কয়েক বছরে দেশের নানা প্রান্তে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন বহু নিরীহ মানুষ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, গণপিটুনির আগে গুজব ছড়ানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করা হয়েছিল।
নির্বাচন কমিশন ভোটের আগে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধিদের ডেকে ভালো করে সমঝে দিয়েছে, আদর্শ আচরণবিধি মেনে চলতে হবে তাদেরও। ফেসবুক ও ট্যুইটার জানিয়ে দিয়েছে, জাল খবরের বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতে কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, ভুয়ো খবর চিহ্নিত করতে তারা কাজে লাগাবে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স।
এইসব পদ্ধতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজবের রমরমা ঠেকানো যাবে কি না সন্দেহ। কেননা, এক্ষেত্রে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অনেকের কাছে, খবর ছড়িয়ে দেওয়া যায়। কেউ ভুয়ো খবর, উস্কানিমূলক অডিও, ভিডিও ক্লিপ ছড়াচ্ছে বলে টের পাওয়ার আগেই তা হাজার হাজার মানুষের মোবাইলে পৌঁছে যেতে পারে।
এক্ষেত্রে উপায়?
মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে আর কোনও উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়া এমনই এক মাধ্যম, যাকে আইন করে পুরোপুরি ঠেকানো যায় না। মানুষ যদি ফেক নিউজ প্রত্যাখ্যান করে, তবেই তা ছড়ানো বন্ধ হবে।
গণমাধ্যমের সামনে নানা বিপদ আগেও এসেছে। স্বৈরাচারী শাসক কঠোর সেন্সর ব্যবস্থা চালু করে সরকারের সমালোচনা ছাপা বন্ধ করতে চেয়েছে। অপছন্দের সংবাদপত্রের দপ্তরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। সাংবাদিকরা বহু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আর একরকমের বিপদ ঘনিয়ে আসছে। মানুষে মানুষে বিদ্বেষ প্রচার করা যাঁদের কাজ, তাঁরা ওই প্ল্যাটফর্মগুলি কাজে লাগাচ্ছে ব্যাপকভাবে। সামাজিক স্থিতিশীলতা, সহিষ্ণুতার বাতাবরণ নষ্ট করার জন্য চেষ্টা চলছে ক্রমাগত।
অতীতে নানা বিপদের মোকাবিলা করে জয়ী হয়েছে মানুষের শুভবুদ্ধি। গণতন্ত্র, সহনশীলতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন চরিত্র রক্ষা পেয়েছে।
ভারতীয় নাগরিকদের গণতান্ত্রিক চেতনা এই বিদ্বেষ প্রচারকেও পরাস্ত করতে পারবে কি?
এই প্রশ্নের জবাব মিলবে ২৩ মে। যাঁরা মানুষে মানুষে ঘৃণা প্রচারে সবচেয়ে সক্রিয় ছিল, তাঁরা ভোটে সুবিধা করতে পারল কি না দেখতে হবে। যদি না পারে, তাহলে আমরা ধরে নেব, সোশ্যাল মিডিয়াকে খারাপ কাজে লাগানোর চেষ্টা অনেকাংশে ব্যর্থ।
23rd  April, 2019
একটু সময় দিন,
পাশে দাঁড়ান
হিমাংশু সিংহ

বামফ্রন্ট সরকার ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় আসার পরের বছরই ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলা। ভেসে গিয়েছিল একের পর এক জেলা, দক্ষিণবঙ্গের বড় বড় শহর। কলকাতাও রেহাই পায়নি সেই বিপর্যয়ের হাত থেকে।
বিশদ

বিশ্বাসযোগ্যতা ও বলিষ্ঠ
পদক্ষেপের এক বছর
রাজনাথ সিং

যে কোনও দেশের ইতিহাসে পাহাড়প্রমাণ পরিবর্তন দেখার সুযোগ খুব কমই আসে। ২০১৪ সালে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এরকমই একটি বিরাট পরিবর্তন এসেছিল। দেশের মানুষ দুর্বল এবং দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনের হাত থেকে রেহাই পেতে চেয়েছিলেন।
বিশদ

30th  May, 2020
বন্দি যখন শিশুমন
তন্ময় মল্লিক

 ‘উফ, আর পারা যাচ্ছে না। কবে যে মুক্তি পাব?’ ‘কতদিন বাজার যাইনি। এইভাবে দমবন্ধ অবস্থায় থাকা যায়?’ ‘দিনরাত গাধার খাটুনি খাটছি। তার উপর তোদের জ্বালাতন। এবার ঠাস ঠাস করে চড়িয়ে দেব।’ লকডাউনের গৃহবন্দি জীবনে এমন সংলাপ আজ প্রায় ঘরে ঘরে।
বিশদ

30th  May, 2020
বাংলার দুর্ভাগ্য
সমৃদ্ধ দত্ত

এত বড় একটা সাইক্লোনে একটি রাজ্যের বৃহৎ অংশ একপ্রকার বিধ্বস্ত হয়ে গেল, অথচ গোটা দেশের কোনও দোলাচল নেই? প্রথমদিন ট্যুইটারে সমবেদনা জানিয়েই সকলে যে যার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেল? কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে রাজ্যটাকে পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর কোনও দৃপ্ত সহায়তা প্রতিজ্ঞাও তো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশদ

29th  May, 2020
ভাবুন, সুন্দরবন নেই আর উম-পুন
বয়ে গিয়েছে কলকাতার উপর দিয়ে!
হারাধন চৌধুরী

ভাঙা যায়নি অনুন্নয়নের ট্র্যাডিশন। সামান্য উন্নয়নেও তীব্র বৈষম্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। পরিণামে কোটি কোটি মানুষ কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন শত শত মাইল দূরে—চরম অনিশ্চয়তা আর বিপদকে সঙ্গী করে। অন্যদিকে, সঙ্কীর্ণ রাজনীতির বোড়ে হয়ে উঠেছেন দেশবাসীর প্রায় সকলে।
বিশদ

28th  May, 2020
‘আত্মসম্মান’ খ্যাত এক ভাঁড়ের রসিকতা
সন্দীপন বিশ্বাস 

অন্য দেশের রাজাদের মতো হবুরও আছে বিদূষক। অনেক বিদূষক তাঁর। তাঁদের তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তাঁরা সেই সব রাজ্যের প্রপালক। তাঁদের কাজ হল মহারাজ হবুর মুৎসুদ্দি করা। আর নানা ধরনের মন্তব্য করে অঙ্গরাজ্যের জনগণকে আনন্দ বিতরণ করা।  বিশদ

27th  May, 2020
মানবিকতার উপর
বিশ্বাসটা যেন রাখতে পারি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

একটা ঝড়... যা পথে বসিয়েছিল সরযূ মণ্ডলকে। জানতেও পারেননি, কোথায় উড়ে গিয়ে পড়েছিল তাঁর ছাদটা। কিন্তু সে দুঃখ ছাপিয়ে গিয়েছিল এক অন্য আতঙ্ক... নির্জলা মরতে হবে না তো? জলেই তার বসত, অথচ সে জল মুখে দেওয়া যায় না... তেষ্টা মেটে না।   বিশদ

26th  May, 2020
ব্যয় করো, ঋণ করো, টাকার জোগান বাড়াও 

পি চিদম্বরম: প্রধানমন্ত্রী গত ১২ মে ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, গত সপ্তাহে আমি সেটার বিশ্লেষণ করেছিলাম। বিগত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী পাঁচ দফায় বিস্তারিতভাবে যে ঘোষণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা পরে সেসব কাটাছেঁড়া করেছেন।   বিশদ

25th  May, 2020
মহামারীর সঙ্গে মহাপ্রলয়,
তবু বাংলা জিতবেই
হিমাংশু সিংহ

ইতিহাসের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলা। আমাদের বঙ্গভূমি। দেশভাগ, মন্বন্তর, বন্যা, মহামারী কিছুই আমাদের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। ভেঙে গিয়েও আবার ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমরা। নতুন ভোরের স্বপ্নে শুরু হয়েছে ফের পথ চলা।
বিশদ

24th  May, 2020
আত্মকেন্দ্রিক হোন,
কিন্তু স্বার্থপর নয়
তন্ময় মল্লিক

 করোনাকে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে। হু-এর এই ঘোষণার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। চীন, জাপান, আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, ইজরায়েল যাই দাবি করুক না কেন, বাস্তবটা হল, করোনা ভ্যাকসিন নাগালের ধারেকাছে নেই।
বিশদ

23rd  May, 2020
করোনা প্যাকেজের অশ্বডিম্ব!
মৃণালকান্তি দাস

 প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটির বিলাসবহুল বিমানের খবরটাই গিলে খেয়ে নিয়েছে করোনা সঙ্কট! খবরটা কী? এতদিন বোয়িং ৭৪৭ বিমানে বিদেশ সফরে যেতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খুব শীঘ্রই এর জায়গা নিতে আসছে বোয়িং ৭৭৭।
বিশদ

22nd  May, 2020
সুযোগের সদ্ব্যবহারে
কতটা প্রস্তুত ভারত
হারাধন চৌধুরী

 জলে কুমির ডাঙায় বাঘের এমন জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত স্মরণকালের মধ্যে আমরা দেখিনি। শুধু বাংলা বা ভারত নয়, সারা পৃথিবীর জন্যই এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। রোগ সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে সবাই ঘরের নিরাপদ কোণ বেছে নিলাম।
বিশদ

21st  May, 2020
একনজরে
নয়াদিল্লি, ৩০ মে: গতবছর বিশ্বকাপ সেমি-ফাইনালে ভারতীয় দলের বিদায়ের পরেই মহেন্দ্র সিং ধোনির অবসর নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। আইপিএলে কামব্যাক করার থাকলেও তা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায় করোনার জন্য।  ...

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ারে করোনা সংক্রমণ ঝড়ের গতিতে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, এবার মাদারিহাট ব্লকের পাঁচ জনের ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ট্রুন্যাট মেশিনে করা সোয়াব টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ বলে সন্দেহ ...

  নয়াদিল্লি, ৩০ মে: ইসলাম ভীতি ও বিদ্বেষের অজুহাতে ভারতকে কলঙ্কিত করতে মরিয়া পাকিস্তান। আর সেই লক্ষ্যে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারত বিরোধী দল পাকানোর তালে ছিল ইসলামাবাদ। ...

  নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা পুলিসের চতুর্থ ব্যাটেলিয়ানে বিক্ষোভের ঘটনায় পাঁচজনকে সাসপেন্ড করা হল। সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

স্বাস্থ্য বেশ ভালোই থাকবে। আর্থিক দিকটিও ভালো। সঞ্চয় খুব ভালো না হলেও উপার্জন ভালো হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস
১৬১১: মুঘল সম্রাজ্ঞী নুরজাহানের জন্ম
১৮৫৮ - ওয়েস্টমিনিস্টার জুড়ে প্রথম ধ্বনিত হয়েছিল বিগ বেনের শব্দ
১৯২৬-ক্রিকেটার প্রবীর সেনের জন্ম
১৯২৮-ক্রিকেটার পঙ্কজ রায়ের জন্ম
১৯৩০- মার্কিন অভিনেতা ক্লিন্ট ইস্টউডের জন্ম
১৯৯৪: তবলা বাদক সামতা প্রসাদের মৃত্যু



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.৭৯ টাকা ৭৬.৫১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৭৩ টাকা ৯৫.০৩ টাকা
ইউরো ৮২.৪৬ টাকা ৮৫.৫০ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৩১ মে ২০২০, রবিবার, নবমী ৩১/৪৪ অপরাহ্ন ৫/৩৭। উত্তরফল্গুনী নক্ষত্র ৫৫/১৩ রাত্রি ৩/১। সূর্যোদয় ৪/৫৫/৪৫, সূর্যাস্ত ৬/১২/৩০। অমৃতযোগ দিবা ৬/৪১ গতে ৯/২১ মধ্যে পুনঃ ১২/০ গতে ২/৩৯ মধ্যে। রাত্রি ৭/৩৮ মধ্যে পুনঃ ১০/২৯ গতে ১২/৩৮ মধ্যে। বারবেলা ৯/৫৫ গতে ১/১৩ মধ্যে। কালরাত্রি ১২/৫৪ গতে ২/১৫ মধ্যে।
১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৩১ মে ২০২০, রবিবার, নবমী দিবা ২/৪০। উত্তরফল্গুনী নক্ষত্র রাত্রি ১২/৪০। সূর্যোদয় ৪/৫৬, সূর্যাস্ত ৬/১৪। অমৃতযোগ দিবা ৬/৪২ গতে ৯/২২ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ২/৪৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪৪ মধ্যে ও ১০/৩৪ গতে ১২/৪০ মধ্যে। বারবেলা ৯/৫৫ গতে ১/১৫ মধ্যে। কালরাত্রি ১২/৫৫ গতে ২/১৬ মধ্যে।
৭ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
৩০ জুন পর্যন্ত বন্ধ রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলি 

30-05-2020 - 10:53:49 PM

মহারাষ্ট্রে করোনা পজিটিভ আরও ২,৯৪০ জন, মৃত ৯৯, রাজ্যে মোট আক্রান্ত ৬৫,১৬৮ 

30-05-2020 - 08:40:00 PM

গুজরাতে আজ করোনা পজিটিভ আরও ৪১২ জন, রাজ্যে মোট আক্রান্ত ১৬,৩৫৬

30-05-2020 - 08:24:47 PM

শর্ত সাপেক্ষে সিনেমা, সিরিয়ালের শ্যুটিংয়ে ছাড় দিল রাজ্য 
কেন্দ্র কন্টেইনমেন্ট জোনে ৩০ জুন পর্যন্ত লকডাউন বাড়িয়ে বাকি অংশে ...বিশদ

30-05-2020 - 08:06:44 PM

বিসিসিআই খেলরত্ন ও অর্জুনের জন্য কার কার নাম মনোনিত করল
খেলরত্নের জন্য রহিত শর্মার নাম এবং শিখর ধাওয়ান, ইশান্ত শর্মা ...বিশদ

30-05-2020 - 07:26:27 PM

৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ল লকডাউন 
পঞ্চম দফার লকডাউনের ঘোষণা করে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। শনিবার এই ...বিশদ

30-05-2020 - 07:01:00 PM