Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

নীতি-যুদ্ধ-রাজনীতি
নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

নৈতিক দৃষ্টিতে যে আচার-আচরণ এবং ব্যবহার ভুল বলে মনে হয়, সেই আচার-আচরণ এবং ব্যবহার রাজনৈতিকভাবে কখনও ঠিক হতে পারে না—এই সত্যটা সকলের আগে বুঝে নেওয়া ভালো। এই সত্য ভাবগত বুদ্ধিতে যতটা সহজ, কার্যত এটা ততটাই কঠিন। আজকে সমস্ত বিশ্বে যত বড় বড় রাজনৈতিক নেতা আছেন, তাঁদের সবাইকেই আমার যেন কেমন রাজা-রাজা মনে হয়। ঠিক সেই হুংকার, সেই হম্বিতম্বি, সেই ভয়ংকর ব্যক্তিত্ব, সেই উচ্চচূড় অভিযান-মঞ্চ—যেখান থেকে একটা আদেশ নেমে এলেও যেন মনে হয় তিনি বরদান করছেন, দৃষ্টিপাত-মাত্র করলেও যেন মনে হয় কৃপা করছেন, আর তিনি যদি আমার সঙ্গে একবার কথা বলেন তো সেটা যেন মনে আমার অপ্রাপ্য সম্পত্তির প্রায় সবটাই আমাকে দিয়ে দিলেন।
বস্তুত এইরকম বিশ্বমানের নেতাদের ক্রোধ হয়, তখন সেই ক্রোধ যদি নৈতিক দিক থেকে ভুল হয় তাহলে সেটাকে রাজনীতির আচ্ছন্নতায় যুদ্ধ কিংবা যুদ্ধ-পরিস্থিতির দিকে ঠেলে নিয়ে যাওয়াটা কিন্তু রাজনৈতিক ভুল বলেই গণ্য হবে। এমনকী এখানে দেশাত্মবোধের আবেশ তৈরি করাটাও অস্থানে প্রযুক্ত এক ব্যাপ্ত হৃদয়াবেগ, যা রাজনৈতিকভাবে প্রণোদিত বলে গণ্য হতে পারে—পুরাকালে আমাদের প্রাচীন রাজারা, বিশেষত ক্ষত্রিয় জাতিটাই তৈরি হয়েছিল এই মানসিকতায়, যেখানে রাজ্যরক্ষা, প্রজাপালনের মতো উদার ক্ষত্রিয়বৃত্তি অতিক্রান্ত হতো আগ্রাসনের প্রয়োজনে। শৈশবকাল থেকে ক্ষত্রিয়ের পরম পুরুষার্থ ছিল এটাই যে, সে রাষ্ট্রের জন্য বলিপ্রদত্ত, যুদ্ধে যদি তাঁর মৃত্যু হয় তবে স্বর্গের দ্বার সামনে আপনিই খুলে যাবে—স্বর্গদ্বারম্‌ অপাবৃতম্‌। রাষ্ট্রের জন্য একটা যুদ্ধ সামনে এসে জুটেছে মানে তার চেয়ে বড় সুখ আর হতে পারে না—সুখিনঃ ক্ষত্রিয়াঃ পার্থ লক্ষন্তে যুদ্ধমাদৃশম্‌।
শেষোক্ত কথাটা ভগবদ্‌গীতায় কৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন, যদিও এটা জানি যে, ভাই-বেরাদরদের দেখে অর্জুন যেভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তাতে অর্জুনকে প্রথমে চাঙ্গা করে তোলাটাই প্রথম প্রয়োজন ছিল কৃষ্ণের, নইলে যুদ্ধে নিয়োগ করে একটা militancy তৈরি করাটা ভগবদ্‌গীতার ভাবনা নয়। যাঁরা সেটা বলেন, তাঁরা ভগবদ্‌গীতা কিছু বোঝেনই না। কিন্তু আমরা কথাটা তুলেছিলাম অন্য কারণে এবং সেটা হল—আমাদের দেশে যেহেতু জাতিবিভাগ একটা বড় ব্যাপার সেখানে ক্ষত্রিয় জাতিটাকে তৈরি করা হয়েছিল militancy ভাবনা দিয়ে। ফলত, যুদ্ধ করার জন্য ক্ষত্রিয়ের বীরমানিতাকে পুষ্ট করা হতো রাজ্যরক্ষা প্রজাপালন এবং নতুন ভূমিখণ্ড যুক্ত করার মন্ত্রে। আমরা এটাকেই এখনকার যুদ্ধ-কামনার অনুকূলে দেশাত্মবোধ তথা জাতীয়তাবাদের ‘অ্যান্‌঩টিসিডেন্ট’ বলি।
মহাভারতের কালে একটা রাজনৈতিক সমাজবোধ তৈরি হয়ে গিয়েছিল বলে যুদ্ধ পরিহার করার চেষ্টাটা তুঙ্গে গিয়ে পৌঁছেছিল। কুরুক্ষেত্রে একটা বিরাট যুদ্ধ হয়েছিল বটে, কিন্তু সে যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য মহাবীর কৌরবদের বিপ্রতীপে মহাবীর পাণ্ডবদের প্রতিবাদ ছিল শৈশবকাল থেকে প্রায় প্রৌঢ় বয়স পর্যন্ত তাঁদের সহ্য করার ক্ষমতার মধ্যে। উদ্যোগ পর্বে যুদ্ধ না করার চেষ্টা আর ফলবতী হয়নি। কৌরব পক্ষের প্ররোচনা এবং war-mongering এতটাই চরমে ওঠে যে, যুদ্ধটা তখন ধর্মযুদ্ধ হয়ে ওঠে। ঘটনা এইরকম দাঁড়ায় যে মহারাজ ধৃতরাষ্ট্র পর্যন্ত বারবার তখন বলতে থাকেন যে যুদ্ধ করে কোনও লাভ নেই, কেননা যুদ্ধে যেহেতু স্বপক্ষ এবং পরপক্ষ দুই পক্ষেরই অনন্ত ক্ষয়ক্ষতি হয়, তাই যুদ্ধে জয় এবং পরাজয় দুইই সমান।
কিন্তু, ধৃতরাষ্ট্র এত জ্ঞানের কথা জানালেও তিনি কিন্তু পাণ্ডবদের প্রাপ্য রাজ্যাংশ ফিরিয়ে দেওয়ার নামও করেননি। অর্থাৎ তিনি প্রবঞ্চনা করেই যাবেন আর যুদ্ধবাজ দুর্যোধনকে বাঁচানোর জন্য যুদ্ধের ব্যাপারে ‘না’ বলছেন—এই প্রবঞ্চনাটাও যখন পরিষ্কার হয়ে গেল তখন কিন্তু যুধিষ্ঠিরের মতো ধর্মবুদ্ধি মানুষও সমস্ত ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেন। বস্তুত এটাও একপ্রকার প্ররোচনা, যেখানে প্রতিপক্ষের কাছে প্রত্যাঘাত করাটা ভয়ংকরভাবে সত্য হয়ে ওঠে। কৌরব দুর্যোধন যেখানে যুদ্ধ ছাড়া কিছুই বুঝতে চাইছেন না, সেখানে যুধিষ্ঠিরের শান্তিচেষ্টাগুলিকেও তিনি দুর্বলতা বলে ব্যাখ্যা করছেন। বস্তুত দুর্যোধনের এই নীতিহীন যুদ্ধকামিতাই কিন্তু সেকালের ক্ষত্রিয়-জাতির মানস তৈরি করেছিল এবং সেই নীতিহীনতাকেই যখন কৌরব দুর্যোধন স্বঘোষিত ক্ষত্রিয়-জাতি গর্বকে দেশগর্বে পরিণত করে ধৃতরাষ্ট্রকে বলেন—বর্তমান সমস্ত পৃথিবী আমাদের হাতে—অসম্মৎ সংস্থা চ পৃথিবী—যত সব রাজারা সব আমার জন্য এসেছেন, তাঁরা সব আমার সুখেই সুখী, আমার দুঃখেই দুঃখী। আমার জন্য তাঁরা আগুনে ঝাঁপ দিতে পারেন, সমুদ্রেও প্রবেশ করতে পারেন।
এই যে দুর্যোধন সমস্ত ক্ষত্রিয় রাজাদের মধ্যে যুদ্ধের উন্মাদনা তৈরি করেছেন, ক্ষত্রিয়ের গৌরব এবং রাষ্ট্রের জন্য যুদ্ধের যে প্রবৃত্তি তিনি তৈরি করেছেন—এইখানেই রাজনীতি ধর্ম এবং নৈতিকতাকে আক্রান্ত করে। উল্টো দিকটায় দেখুন, কৃষ্ণ যুধিষ্ঠিরের সম্বন্ধে বলেছিলেন—ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির অধর্মভাবে দেবতাদের সমৃদ্ধ রাজ্যও আকাঙ্ক্ষা করেন না, নৈতিকতার প্রয়োজনে একটা গ্রামে থেকেও তিনি গ্রাম শাসনের দায়িত্ব নেবেন, তাও ঠিক আছে—‘অধর্ম যুক্তং ন চ কাময়েত রাজ্যং সুরান নপি ধর্মরাজঃ’। সত্যি বলতে কী, যুদ্ধ যাতে না লাগে সেজন্য যুধিষ্ঠির সন্ধির শর্ত কমিয়ে এনে নিজের পৈতৃক রাজ্য এবং তাঁর পূর্ব রাজত্ব ইন্দ্রপ্রস্থের অধিকার পর্যন্ত ছেড়ে দিয়ে পাঁচখানি গ্রামমাত্র চেয়েছিলেন দুর্ধোধনের কাছে। দুর্যোধন সেটা তো দেনইনি, বরঞ্চ তাঁর প্রাপ্য দাবি কমিয়ে আনার ঘটনাকে, অথবা যুদ্ধ পরিহার করার শান্তি প্রবৃত্তিকে দুর্যোধন পরিহাস করে বলেছেন—যুধিষ্ঠির কেমন ভয় পেয়েছে দেখেছ? আমি এবং আমার সৈন্যবাহিনী দেখে এতটাই ভয় পেয়েছে ব্যাটা, যে, এখন আর তার পূর্ব রাজ্য ইন্দ্রপ্রস্থ-পুরীর দাবি থেকে সরে এসে পাঁচখানি গ্রাম ভিক্ষা চাইছে—
যুধিষ্ঠিরঃ পুরং হিত্বা পঞ্চ গ্রামান্‌ চ যাচতে।/ ভীত হি মামকাৎ সৈন্যাৎ প্রভাবাচ্চৈব মে বিভো।।
আপন ক্ষমতার বলে বলীয়ান অহংকারী দুর্যোধনের মতো মানুষ যুদ্ধ-বিরোধী শান্তিকামী যুধিষ্ঠিরের মতো মানুষকে দুর্বল এবং ভীতু ভাবতে থাকেন। অথচ দুর্যোধনের এই ভাবনাটা জানা সত্ত্বেও যুধিষ্ঠির কিন্তু কিছুতেই দুর্যোধনের মতো যুদ্ধবাজ হয়ে উঠতে পারেননি। বিশেষত, রাজ্যভ্রষ্ট অবস্থায় নীতিপ্রবৃত্ত রাজনীতিকে দেশাত্মবোধে পরিণত করার সুযোগই তাঁর ছিল না। অন্যদিকে, যুদ্ধ জয় করার পরেও স্বজন-নিধনের ফলে যেহেতু প্রকৃত জয় সম্পন্ন হয় না, তাই যুদ্ধ ব্যাপারটাকেই যুধিষ্ঠির আমিষখণ্ড লাভের জন্য দুই পক্ষের কুকুর-লড়াই বলে মনে করেন যুধিষ্ঠির।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ যখন শেষ হয়ে গিয়েছে, যুধিষ্ঠির শত শত যুবকের জননীদের হাহাকার শুনেছেন এবং তাঁর সম্পূর্ণ ধিক্কার তৈরি হয়েছে ক্ষত্রিয় আচারের উপর—যাঁরা অকারণে যুদ্ধের আগ্রহ এবং আড়ম্বর তৈরি করেন। যুধিষ্ঠির বলেছেন—এই যুদ্ধ করে আমাদের কোনও অভিলাষ পূর্ণ হয়নি—আমি অভিমন্যুর মায়ের সামনে দাঁড়ার কী করে? আমি দ্রৌপদীর সামনে মুখ দেখাব কী করে? পাঞ্চালরা সব কোথায় গিয়েছেন? আমার অভিলাষ তাই পূর্ণ হয়নি স্বজন-বিহনে। আবার দুর্যোধনের অভিলাষও পূর্ণ হয়নি এতটুকুও—কাজেই এই যুদ্ধে আমরাও জয়ী হইনি, দুর্যোধনও জয়ী হননি—ন সাকামা বয়ং তে চ ন চাস্মাভির্ন তৈর্জিতম্‌। যুধিষ্ঠির মনের দুঃখে অর্জুনকে বলেছেন—এর থেকে আমি যদি দ্বারকায় গিয়ে ভিক্ষে করতাম, তাহলে এই জ্ঞাতিবধ আমাকে দেখতে হতো না। কৌরবদের কোনও প্রয়োজন তো মিটলই না মাঝখান দিয়ে আমরা নিজেরাই হত্যা করলাম বা করালাম। এটা কী ধর্ম হল, না নীতি হল—আত্মানমাত্মানা হত্বা কিং ধর্ম ফলমাপ্নুমঃ।
যুধিষ্ঠির কিন্তু এটাই বলতে চাইছেন যে নৈতিক দৃষ্টিতে যেটা ভুল সেটা কখনও রাজনৈতিকভাবে সঠিক হতে পারে না এবং এই রাজনৈতিক ভুলের জন্য তিনি একমাত্র দায়ী করছেন ক্ষত্রিয় আচারকে, ক্ষত্রিয়ের যুদ্ধ-বিষয়ক মানসিকতাকে। বলছেন—ধিক্কার দিই আমাদের এই ক্ষত্রিয় আচারকে, ধিক্কার দিই আমাদের বল এবং পৌরুষকে, ধিক্কার দিই সেই সমুদ্যত ক্রোধকে—যাতে আজ আমরা এক ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আছি—ধিগস্তু ক্ষাত্রমাচারং ধিগস্তু বল-পৌরুষম্‌।
ক্ষত্রিয় আচারের দোষটা কেন? এইজন্য যে ক্ষত্রিয়ের বলাব্ধতাই যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে এবং ক্ষত্রিয়ের এই মহিমান্বিত গৌরবই কিন্তু বহুল মানুষকে এক আত্মা- রোপিত দেশাত্মবোধে প্রণোদিত করে। দুর্যোধন শান্তির বার্তা বয়ে-আনা অলৌকিক বুদ্ধিসম্পন্ন কৃষ্ণকেই কথা শুনিয়ে বলেছিলেন—কারও নরম-গরম কোনও কথা বা কোনও কাজে আমরা ভয় পেয়ে দেবরাজ ইন্দ্রের কাছেও মাথা নোয়াতে পারি না। আর কৃষ্ণ! তোমার তো ক্ষত্রিয়ধর্ম বলে কিছু নেই। আমরা আমাদের স্বধর্ম ক্ষত্রিয়ধর্ম অনুসারে চলি। তাতে যদি অকালে মরেও যাই তাহলে স্বর্গের পথ খোলা। আমরা শত্রুর কাছে অবনত হই না, যুদ্ধে মরলে আমরা যে বীরশয্যা লাভ করি বাণ-বিছানো ভূমিতে—যজ্জয়ীমহি সংগ্রামে শরতল্পগতা বয়ম্‌।
ক্ষত্রিয়বৃত্তির মধ্যে এই যে ‘মিলিটারিজম’-এর প্রচার, যেটা দেশগর্বের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে দুর্যোধন বলেন—এই যে এত শত মহাবীরেরা, এঁরা আমার জন্য জীবন দিয়েই রেখেছেন—অন্যেচ বহবঃ শূরা মদর্থে ত্যক্তজীবিতাঃ—এইসব জীবন-পণ করা ক্ষত্রিয় বীরদের কথা শুনলেই মনে হবে যেন এঁদের মতো মহান কেউ হতে পারে না, শত্রুবধের জন্য এঁরা প্রাণ পর্যন্ত দিতে প্রস্তুত। কিন্তু বাস্তবে এঁদের এই বলোদ্দৃপ্ত প্রচারই রাজাদের অহংকারী করে তুলত—যে অহংকারের কথা শুনলে মনে হবে যেন রাজ্যরক্ষার মতো মহদ্‌ বিষয়, প্রজাকল্যাণের মতো বিরাট কিছু সম্পন্ন করার জন্যই তাঁদের এই অহংকার এবং বলখ্যাপন। কিন্তু মহদাশয়তার জন্য হলেও এই বস্তুটা যেহেতু বলখ্যাপন এবং অহংকার, অতএব সেটা কখনওই নৈতিকতা এবং ধর্মের উপাদান হয়ে ওঠে না। হয়তো এই কারণেই মহাভারতে ব্রহ্মদত্ত-পূজনী সংবাদে পক্ষিণী পূজনী বলেছিল—সমস্ত মানুষের অপকারী ক্ষত্রিয়দের কখনও বিশ্বাস কোরো না—কেননা এরা সবসময় অপকার করেও ঠান্ডা মাথায় অনর্থক মধুর কথা বলে প্রলেপ দেবার চেষ্টা করে—আমাদের ভাষায় এটাই অনৈতিকতার ওপর রাজনৈতিক প্রলেপ—
ক্ষত্রিয়েষু ন বিশ্বাসঃ কার্য্যঃ সর্বাপকারিষু।/ অপকৃত্যাপি সততং সান্ত্বয়ন্তি নিরর্থকম্‌।।
ছবি: সংশ্লিষ্ট সংস্থার সৌজন্যে
05th  March, 2019
সন্ত্রাসবাদীদের চক্রব্যূহে ফেঁসে
রয়েছেন ইমরান খান
মৃণালকান্তি দাস

২০১৩ সালে মার্কিন বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছিলেন পাকিস্তানি তালিবান কম্যান্ডার ওয়ালি-উর-রেহমান। প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিলেন ইমরান খান। সেদিন ট্যুইট করে বলেছিলেন, ‘ড্রোন হামলায় শান্তিকামী নেতা ওয়ালি-উর-রেহমানকে হত্যার মাধ্যমে প্রতিশোধ, যুদ্ধ ও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হল যোদ্ধাদের। একদমই মানতে পারছি না।’
বিশদ

অথ শ্রীমহাভারত কথা
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

আবার এক মহাভারত যুদ্ধ সমাগত। রণবাদ্য বাজিয়ে যুদ্ধের দিনক্ষণ ঘোষিত হয়েছে, আকাশে-বাতাসে সেই যুদ্ধের বার্তা ভাসছে, প্রস্তুতি চলছে নানা স্তরে, সর্বত্র সাজ সাজ রব উঠে গেছে। বাদী, সম্বাদী, বিবাদী সব দলই নানা উপায়ে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে। সাম, দান, দণ্ড, ভেদাদি প্রতিটি উপায়ই সমাজের নানা স্তরে নানাভাবে পরীক্ষিত হচ্ছে।
বিশদ

14th  March, 2019
ভোটজয়ে যুদ্ধের ভাবাবেগের একাল সেকাল
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 পুলওয়ামার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রত্যাঘাত এবং পাকিস্তানের এফ-১৬ বিমানের আক্রমণ প্রতিহত করা, কোনও শর্ত ছাড়াই উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে পাকিস্তানের খপ্পর থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মুক্ত করে এনে ভারত যে শৌর্যের প্রদর্শন করেছে তা বিরাট গর্বের।
বিশদ

12th  March, 2019
গোঁফ দিয়ে যায় চেনা?
অতনু বিশ্বাস

 উইং কম্যান্ডার অভিনন্দনের অকুতোভয় সাহসিকতা আর কর্তব্যনিষ্ঠায় মোহিত ভারতবাসী। তারা খুঁজতে চায় সেই রসায়নের গূঢ় তত্ত্ব। সুকুমারী দুনিয়ার হেড অফিসের বড়বাবু তো সেই কবেই বলেছেন, গোঁফ দিয়েই নাকি চেনা যায় আমাদের সব্বাইকে। তবু, ছেলেবেলা থেকে এনিয়ে সন্দেহ আমার পুরোদস্তুর।
বিশদ

12th  March, 2019
যুদ্ধ বনাম শান্তি এবং বাঙালি মগজের অবস্থান
 

শুভময় মৈত্র: সকালবেলা দুধের ডিপোয় গভীর আলোচনা। পলিথিনবন্দি দুশো গ্রাম দই আর পাঁচশো মিলিলিটার গুঁড়ো গোলা দুধ কিনতে গিয়ে মহা বিপদে পড়তে হল। একটু আধটু লিখি সেকথা যাঁরা জানেন তাঁরা ঘিরে ধরে বললেন যে যুদ্ধ নিয়ে লিখুন যত খুশি, তবে নিজের মাথা বিক্রি করে নয়। অর্থাৎ বক্তব্য খুব পরিষ্কার। যুদ্ধের পক্ষে বা বিপক্ষে যাই লিখুন না কেন, সেটার পিছনে যেন নিজের ধান্দা না থাকে।   বিশদ

11th  March, 2019
জাতীয়তা-বিরোধী সংবাদপত্র! 

পি চিদম্বরম: রাফাল বিতর্ক থামবে না! পুলওয়ামায় জঙ্গিহামলা এবং অতঃপর ভারতীয় বায়ুসেনার প্রত‌্যাঘাতের কারণে বিতর্কটা যদি যবনিকার আড়ালে চলে গিয়ে থাকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই সেটাকে মঞ্চের মাঝখানে এনে ফেলেছেন প্ররোচনামূলক মন্তব‌্য করে—‘‘আমাদের যদি রাফাল যুদ্ধবিমান থাকত ...।’’  বিশদ

11th  March, 2019
মমতার নামে কুৎসা করে
বাংলার ভোট জেতা যাবে?
শুভা দত্ত

 কুৎসা ছাড়া কী? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশপ্রেমিক নন! তিনি সেনার মর্যাদা গৌরব বোঝেন না! তিনি পাকিস্তানের হয়ে কথা বলছেন! এসব কুৎসা ছাড়া কী? আমাদের রাজ্যে তো বটেই, গোটা দেশেও কি কেউ এক মুহূর্তের জন্য বিশ্বাস করবে এইসব? এমনকী মমতার অন্ধ বিরোধীরাও কি এমন কথা মানবে?! অসম্ভব।
বিশদ

10th  March, 2019
মিথ্যা‌ই সত্য
সমৃদ্ধ দত্ত

 এই যে কোনও আধুনিক সভ্যতার উপকরণ নির্মাণেই আমরা পশ্চিমি দেশের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছি না এটাই কি শেষ কথা? ভারত কি সত্যিই কোনও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং-এই এক নম্বর নয়? এটা ভুল ধারণা। আমরা এক নম্বর স্থান পেয়েছি একটি আন্তর্জাতিক ইস্যুতে। সেটি হল ফেক নিউজ।
বিশদ

08th  March, 2019
ভোটবাজার: ইস্যুগুলো সব গেল কোথায়!
মেরুনীল দাশগুপ্ত

ইমরান খান বুদ্ধিমান। দুনিয়া কাঁপানো এই ক্রিকেটার আজকের হাই-টেক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কতটা দর তার হিসেব না নিয়েও বলা যায়—তিনি বুদ্ধিমান এবং অবশ্যই বিচক্ষণ। তিনি জানেন, লড়াইয়ের ময়দানে কখনও-সখনও কৌশলগত কারণে এক-পা এগনোর জন্য দু-পা পিছিয়েও আসতে হয়, আসতে হতে পারে।  বিশদ

07th  March, 2019
শামিমার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া
কি আদৌ ব্রিটেনের সংস্কৃতির অঙ্গ!
রূপাঞ্জনা দত্ত

‘আমার মাত্র একটিই নাগরিকত্ব আছে। সেটাও যদি কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে আমার আর কিছু থাকবে না। ব্রিটেনে যদি আমাকে শিশু সন্তানসহ ফিরতে দেওয়া হয়, তাহলে জেলে যেতেও রাজি।’ শামিমা বেগমের এই মম্তব্যই ব্রিটেনজুড়ে ঝড় তুলেছে অভিবাসী আইন নিয়ে।  বিশদ

07th  March, 2019
যুদ্ধের চাপা দামামা
পি চিদম্বরম

একটি জাতি হিসেবে, বাইরের দিকের নিরাপত্তা (এক্সটার্নাল সিকিউরিটি) এবং অভ‌্যন্তরীণ নিরাপত্তার (ইনটার্নাল সিকিউরিটি) মধ‌্যে স্বাতন্ত্র্যরচনায় আমরা যত্নবান। কোনও কারণে প্রথমটিকে ‘জাতীয়’ (ন‌্যাশনাল) আলখাল্লা পরার অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে কিন্তু পরেরটির ক্ষেত্রে নস‌্যাৎ করা হচ্ছে সেই বিশেষ সুবিধাটি।
বিশদ

04th  March, 2019
ভারত-পাক যুদ্ধ পরিস্থিতি আসন্ন ভোটযুদ্ধে মোদিজিকে কি এগিয়ে দিল?
শুভা দত্ত

 এখনও শেষ হয়নি। চলছে। পুলওয়ামার ন্যক্কারজনক জঙ্গি হামলার পর থেকে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তার রেশ এখনও যথেষ্টই রয়েছে। রয়েছে প্রবল উত্তেজনাও। শুক্রবারও মেন্ধার আখনুর উরি নৌশেরা প্রভৃতি সেক্টরে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে পাক রেঞ্জাররা দফায় দফায় গোলাগুলি চালিয়েছে এবং তার যোগ্য জবাব দিয়েছে ভারতীয় সেনা। অন্যদিকে এদিনই জঙ্গি সন্ত্রাসে ফের রক্তাক্ত হয়েছে ভূস্বর্গের মাটি—নিহত হয়েছেন সেনা আধা-সেনা ও পুলিস মিলিয়ে পাঁচজন! গুরুতর আহত নিরাপত্তাবাহিনীর চার রক্ষী।
বিশদ

03rd  March, 2019
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের জুট মিলগুলির শ্রমিকদের নতুন বেতন চুক্তি বুধবার বেশি রাতে শ্রম দপ্তরে স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে সিটু সহ সাতটি শ্রমিক সংগঠন জানিয়েছে, আজ শুক্রবার জুট মিলগুলিতে প্রতীকী ধর্মঘট থেকে তারা সরে আসছে না। ...

 পাটনা, ১৪ মার্চ (পিটিআই): তাঁর বিজেপি ত্যাগ সম্ভবত সময়ের অপেক্ষা। তার আগে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তুলোধোনা করলেন শত্রুঘ্ন সিনহা। পাটনা সাহিব কেন্দ্রের এই এমপির ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: আগামী লোকসভা ভোটে হাওড়া জেলার ১৩ হাজার ৫৮২ জন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তাঁদের মধ্যে ১৪১৯ জন দৃষ্টিহীন, ২৩০৬ ...

  সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: শিলিগুড়ি মহকুমার নকশালবাড়ি ব্লকের প্রায় লক্ষাধিক বাসিন্দা আজও ডিজিটাল রেশন কার্ড পাননি। তিন বছর আগে তাঁরা খাদ্য দপ্তরে এই কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু সেই কার্ড না পাওয়ায় লোকসভা ভোটের আগে বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

বিদ্যায় অধিক পরিশ্রম করতে হবে। ব্যবসায় যুক্ত ব্যক্তির পক্ষে দিনটি শুভ। প্রেম-প্রীতিতে আগ্রহ বাড়বে। নতুন ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৫৬৪ – জিজিয়া কর তুলে দেন মুঘল সম্রাট আকবর
১৮৯২ – লিভারপুল ফুটবল ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৭২ - ভারতীয় সাক্ষ্য আইন প্রবর্তন।
১৯০৪ - স্বনামধন্য বাঙালি কবি ও লেখক অন্নদাশঙ্কর রায়ের জন্ম
১৯৩৪: রাজনীতিক কাঁসিরামের জন্ম
১৯৩৭ - পৃথিবীর প্রথম ব্লাডব্যাংক চালু হয় শিকাগোতে
১৯৩৯ - বাঙালি ভ্রমণ কাহিনী, রম্যরচনা ও উপন্যাস লেখক জলধর সেনের মৃত্যু
১৯৭৬: অভিনেতা অভয় দেওলের জন্ম
১৯৭৭: অভিনেতা যিশু সেনগুপ্তের জন্ম
১৯৮৩: সঙ্গীতশিল্পী হানি সিংয়ের জন্ম
১৯৮৫ – প্রথম ইন্টারনেট ডোমেইন নাম নিবন্ধিত হয়। (symbolics.com)





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৭০ টাকা ৭০.৩৯ টাকা
পাউন্ড ৯০.৬৮ টাকা ৯৩.৯৭ টাকা
ইউরো ৭৭.২৯ টাকা ৮০.২৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,৫২০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৮৫৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩১,৩২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩০ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৫ মার্চ ২০১৯, শুক্রবার, নবমী ৪৯/৪৭ রাত্রি ১/৪৫। আর্দ্রা ৫৪/৪৫ রাত্রি ৩/৪৪। সূ উ ৫/৪৯/৫৫, অ ৫/৪১/৫৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/২৩ মধ্যে পুনঃ ৮/১২ গতে ১০/৩৪ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৬ গতে ২/৩২ মধ্যে পুনঃ ৪/৭ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৭/১৯ গতে ৮/৫৬ মধ্যে পুনঃ ৩/২২ গতে ৪/১১ মধ্যে, বারবেলা ৮/৪৮ গতে ১১/৪৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৪৩ গতে ১০/১৫ মধ্যে।
৩০ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৫ মার্চ ২০১৯, শুক্রবার, নবমী রাত্রি ৯/০/৫০। আর্দ্রানক্ষত্র রাত্রি ১১/৩২/৪৫, সূ উ ৫/৫০/২৮, অ ৫/৪০/৪৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/২৫/১১ মধ্যে ও ৮/১২/৩২ থেকে ১০/৩৪/৩৬ মধ্যে ও ১২/৫৬/৫১ থেকে ২/৩১/২৪ মধ্যে ও ৪/৬/৬ থেকে ৫/৪০/৪৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/১৮/৬ থেকে ৮/৫৫/২৩ মধ্যে ও ৩/২৪/৩২ থেকে ৪/১৩/১১ মধ্যে, বারবেলা ৮/৪৩/৩ থেকে ১০/১৬/৫১ মধ্যে, কালবেলা ১০/১৬/৫১ থেকে ১১/৪৫/৩৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৪৩/১৪ থেকে ১০/১৪/২৬ মধ্যে।
 ৭ রজব
এই মুহূর্তে
দাসপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নয়ানজুলিতে বাস 
টোটোকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নয়ানজুলিতে পড়ে গেল কনেযাত্রীবোঝাই বাস। ...বিশদ

07:55:31 PM

২৫টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল বামেরা 
১৭টি আসন ছেড়ে ২৫টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল বামফ্রন্ট। ...বিশদ

06:51:12 PM

আজ সন্ধ্যায় দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা 
আজ সন্ধ্যায় দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে ...বিশদ

05:01:43 PM

২৬৯ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স

04:02:07 PM

নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ 

02:22:06 PM

মাদারিহাটে গাড়িতে ধাক্কা মারল ট্রাক, জখম ১০ 

01:36:00 PM