Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ন্যানো, একটি স্বপ্নের অকাল মৃত্যু
মৃণালকান্তি দাস

ভক্সওয়াগেন বিটল। যে বছর ভারতে ন্যানোর আবির্ভাব, তার ঠিক ৭০ বছর আগে বাজারে এসেছিল এই ‘পিপলস কার’। গোটা জার্মানি জুড়ে শুধু রোড নেটওয়ার্ক বাড়ানোই নয়, দেশের মানুষকে সস্তায় গাড়ি চড়ানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন অ্যাডলফ হিটলার। কে না জানে, ভক্সওয়াগেন মানেই তো ‘জনতার গাড়ি’।
হিটলারের ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে ফার্দিনান্দ পোর্শের নেতৃত্বে উঠে পড়ে লেগেছিল একটি দল। পতঙ্গের শারীরিক গঠন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি নতুন গাড়ির নকশা তৈরি করেন তাঁরা। ১৯৩৮ সালে জন্ম হয় হিটলার ও পোর্শের মস্তিষ্কপ্রসূত গাড়ি ‘বিটল’-এর। পরবর্তী সময়ে বিটল কোনও একক প্ল্যাটফর্মে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে এবং সবচেয়ে বেশি পরিমাণে উৎপাদিত গাড়ির বিরল সুনাম অর্জন করে। ২০০৩ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে ওই মডেলের গাড়ি বিক্রির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ১৫ লক্ষেরও বেশি। সস্তার এই ছোট্ট গাড়ি দেখে একসময় অনেক দুঁদে শিল্পপতি এর টিকে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁরা বোধহয় কল্পনাও করতে পারেননি, আট দশক টিকে থাকবে ভক্সওয়াগেন বিটল। অথচ, এক দশক যেতে না যেতেই ভারতীয়দের স্বপ্নের একলাখি গাড়ি ন্যানো আজ ইতিহাসের দোরগোড়ায়। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ন্যানো তৈরি ও বিক্রি বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন খোদ টাটা মোটরসের যাত্রীবাহী গাড়ি বিভাগের প্রেসিডেন্ট মায়াঙ্ক পারিখ। শেষ পর্যন্ত তা ঘটলে বাজারে আসার এক দশক পরে দাঁড়ি পড়বে রতন টাটার স্বপ্নের ‘এক লক্ষ’ টাকার গাড়ি প্রকল্পে।
বৃষ্টিতে দু’চাকায় সওয়ার কাকভেজা এক পরিবারকে দেখেই না কি একলাখি গাড়ি তৈরির কথা ভেবেছিলেন টাটা গোষ্ঠীর প্রাক্তন কর্ণধার রতন টাটা। যাতে তা অনেক সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে আসে। ধুলোবালি, জলকাদা এড়িয়ে মধ্যবিত্ত ভারতীয় গাড়িতে চড়ে ঘুরবে। বিপদকে সঙ্গী করে চার সদস্যের পরিবারটাকে আর বাইকে চাপতে হবে না। মাত্র এক লাখ টাকাতেই মিটবে নিজের গাড়ির সাধ। রতন টাটা নিজে এই স্বপ্নে বিশ্বাস করতেন। ২০০৮ সালের আর্থিক মন্দার মধ্যে, সিঁদুরে মেঘ দেখা দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকেও এই স্বপ্ন দেখাতে চেয়েছিলেন।
জন্মলগ্ন থেকে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। রাজনৈতিক গোলমালে কারখানা সরাতে হয়েছে অন্য রাজ্যে। বাজারে আসার পরে ক্রমাগত কমেছে বিক্রিও। গত কয়েক বছরে প্রতিযোগিতার মুখে তেমন কল্কেও পায়নি এই গাড়ি। আর এবার নীরবতা পালনের সময়। এই লেখার জন্যে কলমের ডগা যখন কাগজ ছুঁয়ে এগতে চাইছে, তখন অন্তিম যাত্রার পথে পৃথিবীর সবচেয়ে সস্তার গাড়ি, ভারতীয়দের সাধের ন্যানো। আত্মপ্রকাশের এক দশক পূরণ করতে না করতেই।
আমেদাবাদ ছাড়িয়ে ৩৫ কিলোমিটার এগতেই সানন্দ-ভিরামগাঁ সড়কের বাঁ দিকে আজও জ্বলজ্বল করে সাইনবোর্ড। দিক নির্দেশের তির চিহ্ন দিয়ে লেখা ‘ন্যানো প্ল্যান্ট’। যে কারখানা আজও একটি স্বপ্নের অকাল মৃত্যুর ইতিহাস বয়ে বেড়াচ্ছে। টাটা মোটরসের শীর্ষকর্তা মায়াঙ্ক পারিখ জানিয়ে দিয়েছেন, জানুয়ারিতে নতুন নিরাপত্তা বিধি এসেছে। এপ্রিল ও অক্টোবরে আরও আসবে। ২০২০ সালের ১ এপ্রিল থেকে ভারত স্টেজ-৬ (বিএস-৬) দূষণ বিধি চালু হবে। সেগুলি মেনে সব গাড়িকে উন্নীত করার জন্য নতুন লগ্নি না-ও করতে পারে টাটা। ন্যানো তাদের মধ্যে অন্যতম। এর অর্থ একটাই, নিরঞ্জনের পথে রতন টাটার স্বপ্নের ন্যানোর ভবিষ্যৎ।
এক দশক আগের কথা। নয়াদিল্লির অটো এক্সপোতে জনসমক্ষে আনা হয়েছিল টাটা ন্যানো। স্টিল কালারের ছোট্ট গাড়িটায় সওয়ার স্বপ্নের কাণ্ডারী রতন টাটা নিজেই। টাটা গ্রুপের তৎকালীন চেয়ারম্যান। তাজ্জব বনে গিয়েছিল গোটা ভারত। সেদিন এক লক্ষ টাকায় বাজারে গাড়ি এনে অন্য সংস্থাগুলিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছিল ন্যানো। যে টাকায় সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ির কথা ভাবতে পারা যায় না সে টাকায় নতুন গাড়ি? পাল্লা দিয়ে বেড়েছিল উৎসাহ। টাটা মোটরস কর্তাদেরও অনুমান ছিল একলাখি ন্যানোর বার্ষিক বিক্রি সহজেই পৌঁছে যাবে ৫ লাখে। স্বপ্ন তো ছিল। কিন্তু স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার ভিতটাই ছিল নড়বড়ে।
শুরুতেই গোঁত্তা খায় সেই স্বপ্ন। এই সময়েই পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের শুরু। ন্যানো নিয়ে কত ঢক্কানিনাদ। কত আলোচনা। কত পর্যালোচনা। কত আলোড়ন। একটা গাড়ি কারখানাকে নিয়ে রাজনৈতিক বাদানুবাদ শেষ অবধি পরিণত হয়েছিল রাজ্য রাজনীতির পালাবদলে। বামেদের গদি উল্টে দিয়েছিল টাটার কারখানা নিয়ে গড়িমসি-টালবাহানা।
বাংলার সমাজের সব স্তরে তখন স্পষ্ট মেরুকরণ। গ্রামের কৃষিনির্ভর মানুষ বলছে, শিল্পের জন্য চাষের জমি দেব না। শহুরে শিক্ষিত চাকরি প্রার্থীর বক্তব্য, শিল্প না হলে চাকরি হবে কী করে? হোক না সামান্য ক’টা চাকরি। কিন্তু তার সঙ্গে যে অনুসারী শিল্প তৈরি হবে, তার থেকে নতুন চাকরি তো হবে। সঙ্গে বদলে যাবে গোটা এলাকার অর্থনীতি। তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের একটা সিদ্ধান্তে শান্ত সিঙ্গুর বদলে গিয়েছিল আন্দোলনের অগ্নিভূমিতে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ভরসায় ২০০৬-এর মে মাসে সিঙ্গুরে ন্যানো কারখানা তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন টাটা। শুরু হয়েছিল কৃষক আন্দোলনের অন্য আখ্যান। যাঁর নেতৃত্বে ছিলেন এক অগ্নিকন্যা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে দলের ‘শিল্পবিরোধী’ তকমা ঘোঁচাতে বদ্ধপরিকর বাম নেতারা তখন বলছেন, কারখানা হবেই। একলাখি গাড়ি কারখানা। বহুফসলি জমিতেই হবে। কেউ রুখতে পারবে না। এমনিতেই সরকারি কোষাগার ফাঁকা। রাজ্যের অর্থনৈতিক হাল ফেরাতে দরকার বড় শিল্প। সঙ্গে আছে ব্রিটিশ আমলের কৃষক-বিরোধী জমি অধিগ্রহণ আইন আর বিধানসভা ভোটে বিপুল জয়ের আত্মবিশ্বাস। অন্যদিকে সিঙ্গুরের অনিচ্ছুক কৃষকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, গায়ের জোরে বহুফসলি জমি অধিগ্রহণ তাঁরা মানবেন না। সিঙ্গুরের প্রতিবাদের মন বুঝতে দেরি করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অনিচ্ছুক কৃষকদের। ধেয়ে এসেছিল সরকারের পুলিসবাহিনী। পিঠে হাড় গুঁড়িয়ে দেওয়া লাঠির বাড়ি। কাঁদানে গ্যাস। সিঙ্গুরের লড়াইয়ের বার্তা কলকাতা-সহ গোটা দেশ, বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুরের বিডিও অফিস থেকে তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দিয়েছিল প্রশাসন। ফিরে এসে মেয়ো রোডে অবস্থানে তিনি। আড়াই মাস পর জোর করে জমি নেওয়ার প্রতিবাদে ধর্মতলায় তাঁর ২৬ দিনের অনশন সিঙ্গুরের আন্দোলনে এঁকে দিয়েছিল ল্যান্ডমার্ক। কৃষি বনাম শিল্পের রাজ্য জুড়ে তরজায় থেমে রইলেন না টাটাও। সিঙ্গুরে জমি দিতে ইচ্ছুক চাষিদের মধ্যে থেকেই বেছে নিলেন তরুণদের। জোর কদমে শুরু হয়ে গেল তাঁদের প্রশিক্ষণ। স্বপ্ন একটাই। টাটার কারখানায় চাকরি
হবে তাঁদের।
২০০৭-এর গোড়ায় কারখানা তৈরির কাজ শুরু করল টাটা। কলকাতা হাইকোর্ট রায় দিল, সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণে ভুল করেনি বাম সরকার। সোনার ফসল ফলানো মাটি আগলে রাখতে আরও কঠিন লড়াই। সেদিন অকুতোভয় আটপৌরে গ্রামবাসীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের সাহস হারাতে দেননি মমতা। সিঙ্গুরের সানাপাড়ায় ধর্নায় বসলেন মমতা। ১৫ দিনের ধর্নায় অবরুদ্ধ দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে। কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হল টাটারা। রাজভবনে তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধীর মধ্যস্থতায় বুদ্ধদেব-মমতা মুখোমুখি হলেও ভেস্তে গেল আলোচনা। এরপর আরও আড়াই বছর ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট সরকার। যদিও, অনেকেই মনে করেন সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামই ছিল তাদের ওয়াটারলু। বাকিটা ইতিহাস।
জমিরক্ষার আন্দোলন দানা পাকতেই ঢুকে পড়লেন জাতীয় রাজনীতির নেতারাও। পশ্চিমবঙ্গে সমস্যা? গুজরাতে এসো। সানন্দে এক টাকায় জমি দিচ্ছি। নিজের শিল্প বান্ধব ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করতে এমনই বলেছিলেন তৎকালীন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলা ছেড়ে আসায় ‘‌উপহার’ হিসেবে টাটা গোষ্ঠীকে কারখানা গড়ার জন্য বিনামূল্যে কলানা, খোডা এবং বল গ্রামের ১১০০ একর জমি দিয়েছিলেন মোদি। তারজন্য রাতারাতি ‘‌সানন্দ রিসার্চ সেন্টার ফর এগ্রিকালচার'‌-‌কে আনন্দ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত করে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। কারখানা গড়ার সময়েই পশ্চিমবঙ্গের মতো এখানেও জমির মালিকদের অনেকে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু ওই জমি একশ বছর আগের চুক্তি অনুযায়ী সরকারের হাতে ছিল। ফলে জমির মালিকানা রাজ্যের। তাই কৃষকের আর্জি আদালতে ধোপে টেকেনি।
সিঙ্গুর থেকে গুজরাতের সানন্দে কারখানা সরানো-সহ নানা কারণে গাড়ির দাম আর এক লক্ষ টাকায় ধরে রাখতে পারেনি সংস্থা। কিন্তু টাটা মোটরস তথা রতন টাটা কিছুতেই প্রতিশ্রুতিভঙ্গ করতে চাননি। তাই জোর করেই এক লাখ টাকার কাছাকাছি মূল্যেই বাজারে আসে ন্যানো। আর স্বপ্ন ভাঙার বোধহয় সেটাই শুরু। বড় শহরে না হোক, ছোট টাউন কিংবা মফস্‌সলে তুলনামূলক ভালো বিক্রির সম্ভাবনা থাকলেও সংস্থার ডিলারশিপ নেটওয়ার্ক ভালো না হওয়ায় সেই সম্ভাবনাও ধাক্কা খায়। খোদ রতন টাটাও স্বীকার করেন, গাড়িটির বিপণন কৌশলের ব্যর্থতার কথা। তাঁর মতে, ন্যানো-কে ‘সস্তা’র বদলে ‘সাধ্যের মধ্যে থাকা’ গাড়ি হিসেবে তুলে ধরা উচিত ছিল। সস্তার গাড়ি হিসেবে পরিচিতির জন্য বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। টাটার মতে, ‘মানুষ সস্তার গাড়িতে নিজেদের দেখতে চায়নি। আর সেটাই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল।’ গোটা প্রকল্পটি নিয়ে রতন টাটাকে বিঁধে প্রশ্ন তুলেছিলেন টাটা গোষ্ঠীর বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান সাইরাস মিস্ত্রিও। টাটা গোষ্ঠী থেকে বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান সাইরাস মিস্ত্রির অভিযোগ ছিল, প্রকল্পটি নিয়ে টাটার আবেগ এবং ওই গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরির সংস্থায় তাঁর অংশীদারির জন্যই ন্যানোর উৎপাদন বন্ধ করা যায়নি। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল টাটা মোটরস।
বছর পাঁচেকের মধ্যে যখন বার কয়েক গাড়িটির নতুন মডেল আনা হয়, ততদিনে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গিয়েছে। একটা সময়ে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা গাড়িটির জনপ্রিয়তা তখন তলানিতে। ২০১৮-র জুনে মাত্র একটা টাটা ন্যানো উৎপাদন হয়। বিক্রি হয় তিনটে(আগের উৎপাদন নিয়ে)। ২০১৭-র জুন থেকে রপ্তানির সংখ্যাটা এক ধাক্কায় নেমে আসে ২৭৫ থেকে শূন্যতে। বোঝাই যাচ্ছিল, চিরনিদ্রায় যাওয়ার সময় হয়ে এল টাটা ন্যানোর।
আর ভক্সওয়াগেন বিটল? ২০১৮ সালের প্রথম ৮ মাসেই বিটল বিক্রি হয় ১১ হাজার ১১৫ ইউনিট। তবুও জার্মান সংস্থাটি ঘোষণা করেছে, তারাও ২০১৯ সালে আইকনিক বিটল গাড়ির উৎপাদন চিরতরে বন্ধ করে দেবে। ইতিহাসের পাতায় প্রায় একইসঙ্গে ঠাঁই হবে দুই সস্তার গাড়ির। ভাবতেই কেমন লাগে, বিটলের বয়স ৬০ আর ন্যানোর মাত্র ১০!
08th  February, 2019
বাংলার দুর্ভাগ্য
সমৃদ্ধ দত্ত

এত বড় একটা সাইক্লোনে একটি রাজ্যের বৃহৎ অংশ একপ্রকার বিধ্বস্ত হয়ে গেল, অথচ গোটা দেশের কোনও দোলাচল নেই? প্রথমদিন ট্যুইটারে সমবেদনা জানিয়েই সকলে যে যার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেল? কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে রাজ্যটাকে পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর কোনও দৃপ্ত সহায়তা প্রতিজ্ঞাও তো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশদ

ভাবুন, সুন্দরবন নেই আর উম-পুন
বয়ে গিয়েছে কলকাতার উপর দিয়ে!
হারাধন চৌধুরী

ভাঙা যায়নি অনুন্নয়নের ট্র্যাডিশন। সামান্য উন্নয়নেও তীব্র বৈষম্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। পরিণামে কোটি কোটি মানুষ কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন শত শত মাইল দূরে—চরম অনিশ্চয়তা আর বিপদকে সঙ্গী করে। অন্যদিকে, সঙ্কীর্ণ রাজনীতির বোড়ে হয়ে উঠেছেন দেশবাসীর প্রায় সকলে।
বিশদ

28th  May, 2020
‘আত্মসম্মান’ খ্যাত এক ভাঁড়ের রসিকতা
সন্দীপন বিশ্বাস 

অন্য দেশের রাজাদের মতো হবুরও আছে বিদূষক। অনেক বিদূষক তাঁর। তাঁদের তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তাঁরা সেই সব রাজ্যের প্রপালক। তাঁদের কাজ হল মহারাজ হবুর মুৎসুদ্দি করা। আর নানা ধরনের মন্তব্য করে অঙ্গরাজ্যের জনগণকে আনন্দ বিতরণ করা।  বিশদ

27th  May, 2020
মানবিকতার উপর
বিশ্বাসটা যেন রাখতে পারি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

একটা ঝড়... যা পথে বসিয়েছিল সরযূ মণ্ডলকে। জানতেও পারেননি, কোথায় উড়ে গিয়ে পড়েছিল তাঁর ছাদটা। কিন্তু সে দুঃখ ছাপিয়ে গিয়েছিল এক অন্য আতঙ্ক... নির্জলা মরতে হবে না তো? জলেই তার বসত, অথচ সে জল মুখে দেওয়া যায় না... তেষ্টা মেটে না।   বিশদ

26th  May, 2020
ব্যয় করো, ঋণ করো, টাকার জোগান বাড়াও 

পি চিদম্বরম: প্রধানমন্ত্রী গত ১২ মে ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, গত সপ্তাহে আমি সেটার বিশ্লেষণ করেছিলাম। বিগত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী পাঁচ দফায় বিস্তারিতভাবে যে ঘোষণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা পরে সেসব কাটাছেঁড়া করেছেন।   বিশদ

25th  May, 2020
মহামারীর সঙ্গে মহাপ্রলয়,
তবু বাংলা জিতবেই
হিমাংশু সিংহ

ইতিহাসের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলা। আমাদের বঙ্গভূমি। দেশভাগ, মন্বন্তর, বন্যা, মহামারী কিছুই আমাদের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। ভেঙে গিয়েও আবার ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমরা। নতুন ভোরের স্বপ্নে শুরু হয়েছে ফের পথ চলা।
বিশদ

24th  May, 2020
আত্মকেন্দ্রিক হোন,
কিন্তু স্বার্থপর নয়
তন্ময় মল্লিক

 করোনাকে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে। হু-এর এই ঘোষণার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। চীন, জাপান, আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, ইজরায়েল যাই দাবি করুক না কেন, বাস্তবটা হল, করোনা ভ্যাকসিন নাগালের ধারেকাছে নেই।
বিশদ

23rd  May, 2020
করোনা প্যাকেজের অশ্বডিম্ব!
মৃণালকান্তি দাস

 প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটির বিলাসবহুল বিমানের খবরটাই গিলে খেয়ে নিয়েছে করোনা সঙ্কট! খবরটা কী? এতদিন বোয়িং ৭৪৭ বিমানে বিদেশ সফরে যেতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খুব শীঘ্রই এর জায়গা নিতে আসছে বোয়িং ৭৭৭।
বিশদ

22nd  May, 2020
সুযোগের সদ্ব্যবহারে
কতটা প্রস্তুত ভারত
হারাধন চৌধুরী

 জলে কুমির ডাঙায় বাঘের এমন জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত স্মরণকালের মধ্যে আমরা দেখিনি। শুধু বাংলা বা ভারত নয়, সারা পৃথিবীর জন্যই এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। রোগ সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে সবাই ঘরের নিরাপদ কোণ বেছে নিলাম।
বিশদ

21st  May, 2020
আত্মনির্ভরতার স্টিকার
মারা ‘খুড়োর কল’
সন্দীপন বিশ্বাস

সুকুমার রায়ের ‘খুড়োর কল’ কবিতার সঙ্গে বাঙালির দীর্ঘদিনের পরিচয়। চণ্ডীদাসের খুড়োর সেই আজব কল ছিল একটা ভাঁওতা। ভালো ভালো খাবারের লোভ দেখিয়ে মানুষকে তা ছুটিয়ে মারত। মরীচিকার মতো অবাস্তব এবং বিরাট একটা ধাপ্পা ছিল ওই খুড়োর কল।
বিশদ

20th  May, 2020
গালভরা প্যাকেজ,
দেশ বাঁচবে তো?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 ঊষা জগদালে। মহারাষ্ট্রের বিদ জেলায় বাড়ি তাঁর। রোজ সকালে যখন পরিবারকে ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে ছেড়ে দরজার বাইরে পা রাখেন, তখনও ঠিকঠাক জানেন না, কোন বিদ্যুতের খুঁটিতে তাঁকে উঠতে হবে। তবে জানেন, কাজের চৌহদ্দির মধ্যে কোথাও সমস্যা হলে তাঁরই ডাক পড়বে।
বিশদ

19th  May, 2020
২০ লক্ষ কোটি টাকার রহস্য কাহিনী
পি চিদম্বরম

চলতি অর্থবর্ষে ৩০ লক্ষ ৪২ হাজার ২৩০ কোটি টাকা খরচ করার পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ২০২০-২১-এর বাজেট পেশ করেছিল। ৭ লক্ষ ৯৬ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে রাজস্বের দিকের ঘাটতি মেটাবে সরকার।
বিশদ

18th  May, 2020
একনজরে
নয়াদিল্লি, ২৮ মে (পিটিআই): ভিসার শর্ত অমান্য করে করোনার দাপটের মধ্যে নিজামুদ্দিনের ধর্মীয় সমাবেশে যোগদানের জন্য ২৯৪ জন বিদেশির বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিস নতুন করে আরও ১৫টি চার্জশিট জমা দেবে। ...

  নয়াদিল্লি, ২৮ মে: কর্মীরা করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়ায় তামিলনাড়ুতে উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ করল মোবাইল প্রস্তুতকারী সংস্থা নোকিয়া। তামিলনাড়ুর শ্রীপেরুম্বুদুরের ওই প্ল্যান্টে গত সপ্তাহ থেকেই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ...

অলকাভ নিয়োগী, বর্ধমান: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে যখন গোটা রাজ্য আতঙ্কিত, তখন ‘মড়ার উপর খাড়ার ঘা’য়ের মতো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে দিয়ে গিয়েছে সুপার সাইক্লোন উম-পুন। ...

 কোচি, ২৮ মে: দেশের নামী ক্রীড়াবিদদের সন্তানরা ক্রীড়াবিদ হয়েছেন, এমন উদাহরণ রয়েছে প্রচুর। কিন্তু ‘ট্র্যাক কুইন’ পিটি ঊষার পুত্র ভিগনেশ উজ্জ্বলও হতে পারতেন অ্যাথলিট। কিন্তু ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যায় সাফল্যও হতাশা দুই বর্তমান। নতুন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠবে। কর্মপ্রার্থীদের শুভ যোগ আছে। কর্মক্ষেত্রের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৬৫—প্রবাসী, মডার্ন রিভিউয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম।
১৯৫৩—প্রথম এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করলেন তেনজিং নোরগে এবং এডমন্ড হিলারি
১৯৫৪—অভিনেতা পঙ্কজ কাপুরের জন্ম।
১৯৭২—অভিনেতা পৃথ্বীরাজ কাপুরের মৃত্যু।
১৯৭৭—ভাষাবিদ সুনীতি চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু।
১৯৮৭—ভারতের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী চৌধুরি চরণ সিংয়ের মৃত্যু।



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৫.০১ টাকা ৭৬.৭৩ টাকা
পাউন্ড ৯১.৩২ টাকা ৯৪.৫৭ টাকা
ইউরো ৮১.৯৯ টাকা ৮৫.০৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ মে ২০২০, শুক্রবার, সপ্তমী ৪২/২৯ রাত্রি ৯/৫৬। অশ্লেষানক্ষত্র ৫/৫ দিবা ৬/৫৮। সূর্যোদয় ৪/৫৬/৬, সূর্যাস্ত ৬/১১/৫৫। অমৃতযোগ দিবা ১২/০ গতে ২/৩৯ মধ্যে। রাত্রি ৮/২১ মধ্যে পুনঃ ১২/৩৮ গতে ২/৪৭ মধ্যে পুনঃ ৩/৩০ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৮/১৫ গতে ১১/৩৪ মধ্যে। কালরাত্রি ৮/৫২ গতে ১০/১৩ মধ্যে।
১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ মে ২০২০, শুক্রবার, সপ্তমী রাত্রি ৭/৩। মঘানক্ষত্র রাত্রি ৩/৩৬। সূর্যোদয় ৪/৫৬, সূর্যাস্ত ৬/১৪। অমৃতযোগ দিবা ১২/৪ গতে ২/৪৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/২৭ মধ্যে ও ১২/৪০ গতে ২/৪৮ মধ্যে ও ৩/৩০ গতে ৪/৫৬ মধ্যে। বারবেলা ৮/১৫ গতে ১১/৩৫ মধ্যে। কালরাত্রি ৮/৫৪ গতে ১০/১৪ মধ্যে।
৫ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
শ্রমিক স্পেশাল: নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি রেলমন্ত্রকের
শ্রমিক স্পেশাল নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করল রেল। বিজ্ঞপ্তিতে বলা ...বিশদ

11:43:49 AM

 ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে পড়ুয়াদের আনা হবে: পার্থ
একদিনে সব পড়ুয়া নয়। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে তাদের স্কুলে আনা হবে। স্কুল ...বিশদ

10:13:36 AM

কেরলে আরও এক করোনা রোগীর মৃত্যু
কেরলে মৃত্যু হল আরও এক বৃদ্ধ করোনা রোগীর। বয়স ...বিশদ

10:11:20 AM

প্রয়াত বিশ্বের প্রবীণতম ব্যক্তি
প্রয়াত বিশ্বের প্রবীণতম ব্যক্তি বব ওয়েটন। বয়স হয়েছিল ১১২ বছর। ...বিশদ

10:07:43 AM

 এবার বাড়তে পারে চায়ের দাম
 দেশের বাজারে চায়ের দাম কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা ...বিশদ

09:39:29 AM

দক্ষিণ দমদমে মিউটেশন ফি বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা 
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লকডাউনের জেরে আয় কমায় এবার বিল্ডিং প্ল্যান ...বিশদ

09:30:00 AM