Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ইয়ং ইন্ডিয়া
সমৃদ্ধ দত্ত

প্রায় বছর দশেক হয়ে গেল এই পিতাপুত্রের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। যা ক্রমেই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠতায় পর্যবসিত। রাউলাট বিলের প্রতিবাদ করে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সভা করে বেড়াচ্ছিলেন। সেই সময় একটি সভা হয়েছিল এলাহাবাদে। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে বলা হয়েছিল স্থানীয় একজন আইনজীবীর বাড়িতে থাকতে। সেই আইনজীবী কংগ্রেসের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। তাঁর নাম মতিলাল নেহরু। তবে তাঁর পাশাপাশি কেমব্রিজ থেকে সায়েন্স এবং পরে আইনের ডিগ্রি নিয়ে আসা পুত্রকেও মোহনদাসের খুব ভালো লেগেছিল। ঝকঝকে যুবক এবং বুদ্ধিমান। জওহরলাল। গান্ধীর ভক্ত হয়ে সত্যাগ্রহে নাম লেখাতে উৎসুক হয়। সেই থেকে ঘনিষ্ঠতা। তাঁরাও তাঁকে এতটাই বিশ্বাস করেন যে পারিবারিক সমস্যার কথাও গান্ধীজিকে না বললে চলে না। এই তো মতিলাল নেহরুর কন্যা স্বরূপ রানি এক সাংবাদিকের প্রেমে পড়ে তাঁকেই বিয়ে করার জন্য জেদ ধরেছেন। যুবকটি মুসলিম। তাই মতিলাল রাজি নয়। গান্ধীজিকে বললেনও সেকথা। গান্ধীজি ডেকে স্বরূপরানিকে বোঝালেন। গান্ধীজির কথা অমান্য করলেন না সেই কন্যা। তিনি পিছিয়ে এলেন। এবং মহারাষ্ট্রের এক হিন্দু পাত্রকে বিবাহ করলেন। বিয়ের দিন যে শাড়ি তিনি পরলেন, সেটি কস্তুরবা গান্ধী নিজে হাতে তৈরি করেন সবরমতী আশ্রমে বসে। এমনই সম্পর্ক পরিবারটির সঙ্গে।
১৯২৮ সাল থেকেই গান্ধীজি বুঝতে পারছিলেন সময় বদলাচ্ছে। এখনই কংগ্রেসকে আরও বেশি করে শক্তিশালী ও জনপ্রিয় করতে হবে। ব্রিটিশদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে আরও তীব্র আন্দোলন দরকার। আর যে কোনও রাজনৈতিক আন্দোলন নির্ভর করে সেই আন্দোলনে কত বেশি সংখ্যক যুব সম্প্রদায় যুক্ত হচ্ছেন। তাই কংগ্রেসের মধ্যে দ্রুত যুব রক্তের সঞ্চার হওয়া জরুরি। বেঙ্গলে চিত্তরঞ্জন দাশ অকস্মাৎ চলে যাওয়ার পর তাঁর ভাবশিষ্য সুভাষ চন্দ্র বসু আছেন। তরুণ, মেধাবী, সুদর্শন, সুবক্তা, শিক্ষিত ও সুসংগঠক। আর কী চাই! তাই বেঙ্গলে কংগ্রেসের যে কোনও মুভমেন্ট সর্বদাই দারুণ কার্যকরী। দিল্লিতে জওহর। কংগ্রেসের যুব সম্প্রদায় চাইছিল ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাসের পরিবর্তে এখনই পূর্ণ স্বরাজের দাবি তোলা হোক। ১২ বছর আগেই রাশিয়ায় বলশেভিক বিপ্লব হয়েছে। তাই আরও বাড়ছে সেই প্রভাব। জওহর আর সুভাষ দু’জনেই তো বেশ বামপন্থী। আবার যুব সম্প্রদায় আকৃষ্ট হচ্ছে চরমপন্থার দিকে। তাঁদের যদি কংগ্রেসের নীতিনির্ধারণ থেকে দূরে রাখা হয় তাঁরা যে ধীরে ধীরে চলে যেতেই পারে কমিউনিস্ট পার্টিতে কিংবা হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক আর্মি নামক একটি সংগঠনে। যাঁরা সম্প্রতি লাহোরে পুলিস অফিসার সন্ডার্সকে হত্যা করেছে আর দিল্লি অ্যাসেম্বলিতে বোমা ছুঁড়েছে। তাই জওহরললালকে কংগ্রেস সভাপতি করা হল। কংগ্রেসে এল সেই প্রথম এক যুব স্রোত। নেহরু ও সুভাষচন্দ্র প্রধানত এই দুই গ্ল্যামারাস নেতা কংগ্রেসের যুবসম্প্রদায়কে আচ্ছন্ন করে রাখলেন। যদিও ওই ঘটনার আর মাত্র কয়েকবছর পর সুভাষের জনপ্রিয়তা ছাপিয়ে যাবে অনেক বেশি।
১৯৫৩ সালে জনসংঘ শুরু করল সত্যাগ্রহ। জম্মু ও কাশ্মীরের ইস্যুতে। গোটা অভিযানটি পরিচালনা করলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। প্রধানত পার্লামেন্ট হাউস থেকে। কিন্তু সেই অফিস ছেড়ে তাঁকে গোটা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেতে হয়। আর তাছাড়া এরকম একটি সত্যাগ্রহ আন্দোলন চালাতে হলে দরকার বেশি করে ইয়ং মুখ। সেরকম যোগ্য ছেলেমেয়ে কোথায়? অনেক খুঁজে একটি ২৯ বছরের যুবক পাওয়া গেল। ফাইল দিয়ে, সংবাদপত্রের ক্লিপিংস দিয়ে, বিভিন্ন ইতিহাস গ্রন্থের রেফারেন্স নিয়ে সাহায্য করবে সে। একবার জম্মুতে গিয়ে শ্যামাপ্রসাদ যখন আর ফিরলেন না, শ্রীনগরের জেলে তাঁর রহস্যময় মৃত্যু হল, তখন এই যুবক আরও বেশি জায়গা করে নিলেন জনসংঘে। তাঁর নাম অটলবিহারী বাজপেয়ি। দলে বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন আরও এক যুবক। যিনি সংগঠন দারুণ ভালোভাবে পরিচালনা করতে দক্ষ। তিনি দীনদয়াল উপাধ্যায়। ক্রমেই এই দু’জন কংগ্রেসের প্রতিপক্ষ হিসেবে রীতিমতো প্রবল শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হলেন। যুবশক্তিই জনসংঘকে দিয়েছিল নতুন এক রাজনীতির স্বাক্ষর রাখার বৈশিষ্ট্য।
১৯৫৭ সাল। লোকসভা ভোটে কংগ্রেস জয়ী হল বটে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেন কংগ্রেস বিরোধী মনোভাব অনেক বেশি করে আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। এমনকী সেই আগের মতো তুমুল জনপ্রিয়তাও যেন নেই জওহরলাল নেহরুর। তাঁকে ইদানীং কেমন ক্লান্তও দেখায়। বেশি বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছেন দ্রুত। এরকম হলে বিপদ। কারণ জনমোহিনী শক্তি একমাত্র তাঁরই আছে। তাঁকে সামনে রেখেই সেই কবে থেকে এই দলটি একের পর এক বড় প্রাচীর পেরিয়ে যাচ্ছে। এর আগে আর একজনই তো ছিলেন সংগঠনকে চাঙ্গা করার জন্য। সেই সর্দার প্যাটেল আচমকা চলে গেলেন অপ্রত্যাশিতভাবে। স্বাধীনতার পর ভারতকে সম্মানজনকভাবে শক্তিশালী করেছেন এই সেরা রাজনৈতিক জুটি। সর্দার প্যাটেল-পণ্ডিত নেহরু। সুতরাং এখনই দরকার কোনও নতুন মুখ। কংগ্রেসকে সাধারণ মানুষের মধ্যে টিকিয়ে রাখতে সর্বাগ্রে দরকার যুবক যুবতীদের আকর্ষণ করা। অথচ ইদানীং দেখা যাচ্ছে যুবসম্প্রদায় ক্রমেই ক্ষুব্ধ হচ্ছে। তাই বদল চাই। ১৯৫৯ সালে কিছুতেই স্থির করা যাচ্ছিল না কাকে করা যায় কংগ্রেসের সভাপতি। সবেমাত্র সভাপতি পদের মেয়াদ সমাপ্ত হয়েছে ইউ এন ধেবরের। তিনি গুজরাতের মানুষ। একটা মৃদু চাপ আছে দক্ষিণ ভারত থেকে। কিন্তু কাকে? সি সুব্রহ্মনিয়ামকে? না। রাজি হচ্ছেন না কামরাজ। তাহলে? ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে আচমকা একটি অপ্রত্যাশিত নাম উঠে এল। ২ ফেব্রুয়ারি তিনিই হলেন নতুন কংগ্রেস সভাপতি। মাত্র ৪২ বছর বয়সের এক যুবতী। ইন্দিরা গান্ধী। পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে তাঁর নেতৃত্বে কংগ্রেসে যুবশক্তির একটি বিকাশ ঘটবে।
এসব অতীত স্মৃতিচারণের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে একটা বিষয় অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে টের পাওয়া যাচ্ছে। সেটি হল ভারত এখন ইয়ং ইণ্ডিয়ার প্রত্যাশী। দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নীচে। এই দেশের ধ্রুবপদ যতটা নীতি আর মূল্যবোধ, তার তুলনায় বেশি বীজমন্ত্র হল ডাউনলোড আর গুগল নামক আধুনিক দুটি প্রণোদনা। ২০১৯ সাল হতে চলেছে ভারতীয় রাজনীতির নতুন একটি ট্রান্সফরমেশনের বছর। আগামীদিনে এই পরিবর্তনকে সঙ্গে নিয়েই এগবে নয়া ভারত। সেটি হল রাজ্যে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিসরে নতুন একঝাঁক ফ্রেশ যুব মুখের আগমন । স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যেসব দলের কাছে কমবয়সি যোগ্য এবং গ্রহণযোগ্য, জেনারেশন নেক্সট রেডি আছে, সেইসব দলই আগামীদিনে দৌড়ে টিকে থাকবে। নেহাত নীতি, আদর্শ, ইজম অথবা অ্যাজেন্ডা দিয়ে আর নতুন প্রজন্মকে কাছে টানা যায় না। তাদের মন জয় করতে হলে সর্বাগ্রে তাদের মন বুঝতে হবে! তাদের মতো করে ভাবতে হবে। অভিজ্ঞতার একটি মূল্য আছে। কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু শুধুই অভিজ্ঞতা দিয়ে চরিত্র নতুন যুগের চরিত্র অন্বেষণ তথা নয়া সমাজের পোস্ট মর্টেম করা সম্ভব নয়। তার জন্য নিজেকেও হতে হবে ওই সমাজেরই একজন। এই কারণেই আমরা লক্ষ্য করছি হঠাৎ গত দু’বছরে একসঙ্গে বহু যুব সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উঠে আসছেন। ৪৯ বছরের রাহুল ছিলেনই, তাঁর সঙ্গে আবার যুক্ত হলেন ৪৭ বছরের প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। শুধু তাঁরাই নয়। কংগ্রেসের বাড়তি সুবিধা হল জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, শচীন পাইলট, দীপেন্দর সিং হুদা, গৌরব গগৈ, সুস্মিতা দেবদের মতো একঝাঁক নতুন প্রজন্মের ইয়ুথ ব্রিগেড দলে ক্রমেই বড়সড় জায়গা করে নিচ্ছেন। শচীন পাইলট আর সিন্ধিয়া সম্প্রতি তাঁদের রাজ্যে দলকে জিতিয়ে এনেছেন প্রায় একক ক্যারিশমায়।
বিহারে লালুপ্রসাদ যাদবের জেলযাত্রা একটি নতুন নেতার জন্ম দিয়েছে। তাঁর পুত্র তেজস্বী যাদব। শুধুই পিতার আলোয় আলোকিত? বোধহয় না। কারণ পুত্রের নেতৃত্বে লালুপ্রসাদের দল জোকিহাট বিধানসভা ও আরারিয়া লোকসভা আসনের উপনির্বাচনের হারিয়ে দিয়েছে মহাশক্তিধর বিজেপি জোটকে। এখন আর নীতীশ কুমারের প্রতিপক্ষ লালুপ্রসাদ যাদব নন। মাত্র ৩০ বছর বয়সি তেজস্বী প্রধান চ্যালেঞ্জার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার। উত্তরপ্রদেশে অস্ত গিয়েছে মুলায়ম সিং যাদবের প্রবল প্রতিপত্তি। তাঁকে সামনে রেখে মুলায়ম পুত্র অখিলেশ যাদবের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন কাকা শিবপাল যাদব। কিন্তু সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে বিস্ফারিত নেত্রে তিনি দেখলেন, যে দলকে তিনি ও দাদা মুলায়ম এত বছর ধরে একটি শক্তিশালী ভিতের উপর দাঁড় করিয়েছেন, সেই ওবিসি, যাদব, মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের সমাজবাদী পার্টি আজ সম্পূর্ণ অখিলেশ যাদবের দখলে। গুজরাতে শুধুমাত্র প্যাটেলদের সংরক্ষণের দাবি তুলেই হার্দিক প্যাটেল এক প্রথম সারির যুবনেতায় পর্যবসিত। তাঁকে মহাজোটের মহামঞ্চে ডাকা হয়। কারণ তাঁর প্রভাব বিপুল। সেই রাজ্যেই দুই যুবক জিগনেস মেহানি এবং অল্পেশ ঠাকোর আচমকা একটি করে বৃহৎ ভোটব্যাঙ্কের নেতা হয়ে গিয়েছেন। স্রেফ আজকের যুবক-যুবতী তাঁদের নিজেদের সঙ্গে রিলেট করতে পারছে বলে। তেলেঙ্গানায় কে চন্দ্রশেখর রাও এককভাবে জেতালেন এই সাম্প্রতিক বিপুল জয়? একেবারেই নয়। তাঁর দলের সর্ববৃহৎ ক্যাম্পেনার তথা ক্যারিশমাটিক নেতা এখন কে টি রামা রাও। তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর পুত্র। এই ঝকঝকে ৪২ বছরের যুবক যেখানেই প্রচার করেছেন এবার তেলেঙ্গানার সমাবেশগুলি ভেসে গিয়েছে জনসমুদ্রে।
আগামীদিনে চন্দ্রবাবু নাইডু নয়। অন্ধ্রপ্রদেশের নতুন তারকা হয়ে উঠে আসছেন জগনমোহন রেড্ডি। তাঁর দল ওয়াই সি কংগ্রেসকে এখন থেকেই পাশে পেতে চাইছে বিজেপি। কারণ তাঁর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা। উত্তরপ্রদেশে দলিত আইকন কে? এক ও একমাত্র মায়াবতী? ভুল। এতদিন তিনি একা ছিলেন। কিন্তু এবার আগমন হয়েছে নতুন চরিত্র। ইংরেজি জানা স্মার্ট যুবক চন্দ্রশেখর আজাদ রাবণ। ওই রাবণ নামটি তিনি যোগ করেছেন নামের সঙ্গে। নিজের গ্রামের বাইরে একটি বোর্ড বসিয়েছিলেন চন্দ্রশেখর। সেখানে লেখা ছিল ‘গ্রেট চামার অফ ধাড়কুলি ওয়েলকামস ইউ’। অর্থাৎ চামার সম্প্রদায় নিজেরা মোটেই লজ্জিত নয় অনগ্রসর জাতি হিসেবে। বরং দৃপ্তভাবে ঘোষণা করছে তাঁরা, যে তাঁদের ওই গ্রাম চামার সম্প্রদায়ের। এই দলিত গর্বের আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা থেকে তাঁর খ্যাতির শুরু। চন্দ্রশেখর আজাদ রাবণের নতুন দলের নাম ভীম আর্মি। উত্তরপ্রদেশে তাঁর প্রভাব প্রবলভাবে বাড়ছে। নতুন প্রজন্মের নতুন দলিত নেতা হিসেবে। সুতরাং মায়াবতীর একক দলিত সাম্রাজ্য টলমল করছে।
যে কোনও কুশলী রাজনৈতিক নেতা এই সূক্ষ্ম যুগ পরিবর্তনটি স্পষ্ট বুঝতে পারছেন। তাঁরা প্রস্তুতও হচ্ছেন পরোক্ষে। যাঁরা মাটির রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের মিশিয়ে দিয়ে এতবছর ধরে জনতার পালস নিখুঁতভাবে ধরে অবিশ্বাস্য সাফল্য পাচ্ছেন তাঁরা তো সবার আগে টের পেয়েছেন। প্রমাণ? হাতের কাছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্রমোত্থান। যা সম্পূর্ণ প্ল্যানমাফিক করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র বুদ্ধিদীপ্ত এক রাজনীতিক। তিনি তাঁর দলের সফটওয়্যারকে আউটডেটেড হতে দিতে রাজি নয়। তাই অভিষেকের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে আকর্ষণ করার সূক্ষ্ম প্রয়াস।
নরেন্দ্র মোদি বিজেপির সম্পদ। নরেন্দ্র মোদি বিজেপির শক্তি। কিন্তু অত্যন্ত গোপনে নতুন যুগটি বিজেপির কাছে এই বার্তাও দিচ্ছে যে, নরেন্দ্র মোদির ওই উজ্জ্বল আলো আটকে রেখেছে নতুন প্রজন্মের ঝকঝকে যুব-নেতা-নেত্রীর পথ। তাই বিজেপিতে এখনও এক এবং একশো নম্বর স্থানেও সেই নরেন্দ্র মোদির ক্যারিশমাই ভরসা। অনেক যুব রাজনীতিক আছেন বটে। কিন্তু সেই উচ্চতায় কেউই উঠতে পারেননি এখনও। অথচ একদা বিজেপির সবথেকে তীব্র গতির উত্থান হয়েছিল এই তরুণ শক্তির জন্যই। আশির দশক থেকেই লালকৃষ্ণ আদবানি ও অটলবিহারী বাজপেয়ির আড়ালে বেড়ে উঠেছিলেন অরুণ জেটলি, বেঙ্কাইয়া নাইডু, সুষমা স্বরাজ, প্রমোদ মহাজন, উমা ভারতী, গোবিন্দচারিয়া এবং নরেন্দ্র মোদি। তরুণ তুর্কির দল। আজ তাই বিজেপি সকলকে ছাপিয়ে গিয়েছে প্রভাবে। আজও যে কোনও যুবকের থেকেও মমতা ও মোদির প্রাণশক্তি নিশ্চয় অনেক বেশি। কিন্তু রিজার্ভ বেঞ্চ স্ট্রং না হলে খেলা কিংবা রাজনীতি, চ্যাম্পিয়ন টাইটেল দীর্ঘকাল বজায় রাখা অনিশ্চিত হয়ে যায়। মোদিকে সাহায্য করার জন্য বিজেপিকে যুবশক্তি আনতেই হবে।
নতুন ভারতের তীব্র স্পিডের চালিকাশক্তির নাম হতে চলেছে—ইয়ং ইন্ডিয়া!
01st  February, 2019
আর ক’জন ধর্ষিতা হলে রামরাজ্য পাব
সন্দীপন বিশ্বাস 

রাত অনেক হল। মেয়েটি এখনো বাড়ি ফেরেনি। কোথাও আটকে গিয়েছে। অনেক লড়াই করে, পুরুষের সঙ্গে পাশাপাশি ঘাম ঝরিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়। বাড়িতে বাবা-মা অস্থির হয়ে ওঠেন।  বিশদ

অর্থনীতিবিদদের ছাড়াই অর্থনীতি
পি চিদম্বরম

প্রত্যেকেই অর্থনীতিবিদ। যে গৃহবধূ পরিবার সামলানোর বাজেট তৈরি করেন, তাঁকে থেকে শুরু করে একজন ডেয়ারি মালিক যিনি দুধ বিক্রির জন্য গোদোহন করেন এবং একজন ছোট উদ্যোগী যিনি বড় নির্মাণ ব্যবসায়ীর জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি করেন, সকলেই এই গোত্রে পড়েন।  বিশদ

বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

08th  December, 2019
বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

08th  December, 2019
কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
বিজেপির অহঙ্কারের পতন
হিমাংশু সিংহ

সবকিছুর একটা সীমা আছে। সেই সীমা অতিক্রম করলে অহঙ্কার আর দম্ভের পতন অনিবার্য। সভ্যতার ইতিহাস বারবার এই শিক্ষাই দিয়ে এসেছে। আজও দিচ্ছে। তবু ক্ষমতার চূড়ায় বসে অধিকাংশ শাসক ও তার সাঙ্গপাঙ্গ এই আপ্তবাক্যটা প্রায়শই ভুলে যায়।  বিশদ

01st  December, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ : যে আমবাগান থেকে দিন তিনেক আগে উদ্ধার করা হয়েছে দগ্ধ মহিলার দেহ, তার এক প্রান্তে রয়েছে আড়াপুর জোত টিপাজানি আহ্লাদমণি ঘোষ ...

বিএনএ, সিউড়ি ও সংবাদদাতা, শান্তিনিকেতন: লাভপুরে একই পরিবারের তিন ভাইয়ের হত্যা মামলায় নতুন করে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দিল পুলিস। নতুন করে চার্জশিটে নাম জুড়ল বিজেপি নেতা মনিরুল ইসলামের।  ...

বিএনএ, চুঁচুড়া: খো খো প্রতিযোগিতায় দেশকে জিতিয়ে ঘরে ফিরলেন চুঁচুড়ার সোনার মেয়ে ঈশিতা। ঈশিতা বিশ্বাস সাউথ এশিয়ান গেমসের সোনাজয়ী ভারতীয় খো খো দলের সদস্য ছিলেন। ...

নয়াদিল্লি, ৮ ডিসেম্বর: চলতি বছরের নভেম্বর মাসে গাড়ির উৎপাদন ৪.৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি করল মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া (এমএসআই)। বাজারে চাহিদা না থাকায় টানা ন’মাস ধরে গাড়ির উৎপাদন কমিয়ে এনেছিল সংস্থাটি। মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া তরফে জানানো হয়েছে, নভেম্বর মাসে ১ লক্ষ ৪১ ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

মাঝে মধ্যে মানসিক উদ্বেগের জন্য শিক্ষায় অমনোযোগী হয়ে পড়বে। গবেষণায় আগ্রহ বাড়বে। কর্মপ্রার্থীদের নানা সুযো ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৪৮৩: অন্ধকবি সুরদাসের জন্ম
১৮৯৮: বেলুড় মঠ প্রতিষ্ঠিত হল
১৬০৮: ইংরেজ কবি জন মিলটনের জন্ম
১৯৪৬: কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর জন্ম
১৯৪৬: অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহার জন্ম
২০১১: আমরি হাসপাতালে আগুন 





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪৯ টাকা ৭২.১৯ টাকা
পাউন্ড ৯২.২০ টাকা ৯৫.৫৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৭৫ টাকা ৮০.৭৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
07th  December, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮, ৩৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ৪২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৯৬৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩, ৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩, ৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
08th  December, 2019

দিন পঞ্জিকা

২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার, দ্বাদশী ৯/২৩ দিবা ৯/৫৪। ভরণী ৫৭/৯ শেষ রাত্রি ৫/০। সূ উ ৬/৮/৫৩, অ ৪/৪৮/২৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৩ মধ্যে পুনঃ ৮/৫৮ গতে ১১/৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/২৮ গতে ১১/২ মধ্যে পুনঃ ২/৩৫ গতে ৩/৩০ মধ্যে, বারবেলা ৭/২৭ গতে ৮/৪৮ মধ্যে পুনঃ ২/৮ গতে ৩/২৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৮ গতে ১১/২৮ মধ্যে। 
২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার, দ্বাদশী ৭/১০/১১ দিবা ৯/২/২২। ভরণী ৫৭/৩১/১০ শেষরাত্রি ৫/১০/২৬, সূ উ ৬/১০/১৮, অ ৪/৪৯/১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৯ মধ্যে ও ৯/৪ গতে ১১/১১ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩১ গতে ১১/৫ মধ্যে ও ২/৪০ গতে ৩/৩৪ মধ্যে, কালবেলা ৭/৩০/৮ গতে ৮/৪৯/৫৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৯/৩০ গতে ১১/২৯/৪০ মধ্যে।
১১ রবিয়স সানি 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে জেএনইউ পড়ুয়াদের মিছিলে লাঠিচার্জ করল পুলিস 

04:29:13 PM

ডোপিংয়ের অভিযোগে ওলিম্পিক থেকে চার বছরের জন্য নির্বাসিত রাশিয়া 

04:12:10 PM

কর্ণাটক বিধানসভা উপনির্বাচনে কংগ্রেসের হার, পরিষদীয় দলনেতার পদ থেকে পদত্যাগ সিদ্দারামাইয়ার

03:56:19 PM

৪২ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

03:50:07 PM

পানিপথ: জয়পুরে সিনেমা হলে ভাঙচুর 
হিন্দি ছবি পানিপথে মহারাজ সূরজমলের চরিত্র বিকৃত করা হয়েছে, এই ...বিশদ

03:32:17 PM

মালদহে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ভাঙচুর 
আধার কার্ডের জন্য রাত থেকে লাইন দিয়েছিলেন আবেদনকারীরা। সকাল ১০টার ...বিশদ

01:57:25 PM