দেশ

ধুঁকছে দেশের অর্থনীতি, নিম্নমুখী ক্রয়ক্ষমতা, ব্যাঙ্ক-সঞ্চয় 

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: সরকারি পরিসংখ্যান থেকে বেসরকারি সমীক্ষা। অন্ধকারে ডুবে থাকা দেশের অর্থনীতিই বাজেটের আগে নয়া এনডিএ সরকারের সবচেয়ে বড় সঙ্কট। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রকের প্রকাশ করা বার্ষিক সমীক্ষায় বেআব্রু হয়ে পড়েছে কর্মসংস্থান থেকে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা। সংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি থমকে গিয়েছে। এমনকী অসংগঠিত ক্ষেত্রও লকডাউনের আগের অবস্থায় ফিরছে না। গত বছরের রিপোর্ট অনুযায়ী, উৎপাদন সেক্টরের উপর নির্ভরশীল অসংগঠিত ক্ষেত্রের অবস্থা উদ্বেগজনক। আবার ফর্মাল সেক্টরেও কর্মসংস্থান নিম্নমুখী। এখানেই শেষ নয়। বেসরকারি একাধিক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, গত এক বছরে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। সবথেকে দুশ্চিন্তার বিষয়, গ্রামীণ ক্রয়ক্ষমতা ধুঁকছে। ভারতের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তিই হল গ্রামীণ অর্থনীতি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বিগত আর্থিক বছরে সার বিক্রি, ট্রাক্টর বিক্রি, কৃষিক্ষেত্রে লগ্নি এবং কৃষিজাত তথা ক্ষুদ্র শিল্পপণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি কমে গিয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এই চারটি মানদণ্ডই গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম মাপকাঠি। পেশাগত ক্ষেত্রে ক্রয়ক্ষমতা যেমন কমছে, তেমনই নিম্নমুখী ভোগ্যপণ্য ঩বিক্রির হার। অর্থাৎ ছবিটা স্পষ্ট—উদ্বৃত্ত অর্থ গ্রামের মানুষের কাছে নেই। তাই ভোগ্যপণ্য থেকে মুখ ফেরাচ্ছে গ্রামীণ ভারত। উৎপাদন সেক্টরের অসংগঠিত সংস্থার কর্মহীনতা গত ৭ বছরে বেড়ে হয়েছে ৫৫ লক্ষ। মতিলাল অসওয়াল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের আর্থিক সমীক্ষায় বলা হচ্ছে, গ্রামীণ ভারতের ক্রয়হার বিগত আর্থিক বছরে প্রতিটি ত্রৈমাসিকেই লাগাতার কমেছে। সর্বশেষ ত্রৈমাসিকে ক্রয়ক্ষমতার হার যা দাঁড়িয়েছে, তা বিগত ৩৩ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এক বছরে কমেছে ৩ শতাংশ।  
আর এফডিআই? কমেছে সাড়ে ৩ শতাংশ। অথচ গত পাঁচ বছর ধরে একের পর এক সেক্টরে ১০০ শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশি লগ্নির দরজা খোলা হয়েছে ‘ডিরেক্ট রুটে’। অর্থাৎ লাইসেন্স অথবা অনুমোদন লাগবে না। বিদেশি লগ্নি কমে যাওয়ার নির্দিষ্ট কারণই খুঁজে পাচ্ছে না অর্থমন্ত্রক কিংবা রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে এফডিআই, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সরকারি ও বেসরকারি শিল্পোৎপাদনের পণ্য রপ্তানি ৩ শতাংশ কমেছে গত অর্থবর্ষে। রপ্তানি বাণিজ্য ৪৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে নেমে যাওয়ার পিছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, চর্মশিল্প, বস্ত্র, গয়না ও ক্রীড়া পণ্যকে। গয়না শিল্পে ধাক্কা সবথেকে বেশি। রপ্তানি কমেছে ১৪ শতাংশ। গত আর্থিক বছরের মার্চ পর্যন্ত ব্যাঙ্কে সাধারণ মানুষের টাকা সঞ্চয় করার প্রবণতা বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। সেভিংস এবং কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডিপোজিট একপ্রকার তলানিতে। ফিক্সড ডিপোজিটেও চরম সঙ্কট। কারণ একটাই। যে পরিমাণ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, সেই অনুপাতে সুদের হার আম জনতার অ্যাকাউন্টে ঢোকে না। বাধ্য হয়ে মানুষ তাই ঝুঁকছে মিউচুয়াল ফান্ডে। বেসরকারি ব্যাঙ্কের থেকেও সরকারি ব্যাঙ্কের উপর মানুষ বেশি বীতশ্রদ্ধ। যে মধ্যবিত্ত একসময় ব্যাঙ্ক ও স্বল্প সঞ্চয়কেই তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নিয়ে নিশ্চিন্ত থেকেছে, আজ তারা ব্যাঙ্ক ও পোস্ট অফিস ছেড়ে ছুটছে মিউচুয়াল ফান্ডে। অ্যাসোসিয়েশন অব মিউচুয়াল ফান্ডস ইন ইন্ডিয়া মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে রিপোর্ট। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ৬০ লক্ষ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে ভারতের মিউচুয়াল ফান্ড সম্পদের পরিমাণ। ডিসেম্বর মাসে এই পরিসংখ্যান ছিল ৫০ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৬ মাসে ১০ লক্ষ কোটি টাকা বেড়েছে। এমতাবস্থায় বাজেটের অভিমুখ কী হবে? গ্রাম থেকে শহর, গরিব থেকে মধ্যবিত্ত, সকল শ্রেণিকে উৎসাহিত করার জাদুদণ্ড আছে কি? 
11d ago
কলকাতা
রাজ্য
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

বিকল্প উপার্জনের নতুন পথের সন্ধান লাভ। কর্মে উন্নতি ও আয় বৃদ্ধি। মনে অস্থিরতা।...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার৮৩.২৩ টাকা৮৪.৩২ টাকা
পাউন্ড১০৬.৮৮ টাকা১০৯.৫৬ টাকা
ইউরো৯০.০২ টাকা৯২.৪৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
21st     July,   2024
দিন পঞ্জিকা