দেশ

কোনও সমীক্ষা ছাড়াই হঠাৎ চার কোটি চাকরির দাবি, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মোদি-প্রশস্তি!

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: যতটা প্রচার করা হচ্ছে, মোটেই অত বেকারত্ব নেই দেশে! এমনটাই মনে করে নরেন্দ্র মোদি সরকার। আর সেই দাবিকে ইন্ধন দিতে হঠাৎ আসরে রিজার্ভ ব্যাঙ্কও (আরবিআই)। মোদি জমানায় কর্মসংস্থানের ‘উজ্জ্বল’ সরকারি পরিসংখ্যান তুলে ধরে তারা প্রকাশ করেছে নয়া রিপোর্ট। তাতে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, কৃষি, পরিষেবা, উৎপাদন অথবা নির্মাণ—সবক্ষেত্র মিলিয়ে মাত্র এক বছরের মধ্যে চার কোটিরও বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে! এই প্রথম এমন পরিসংখ্যান দিয়ে রিপোর্ট পেশ করল আরবিআই। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের আচমকা এই মোদি-প্রশস্তিতে অবাক বিরোধী থেকে অর্থনীতিবিদরা।
সদ্য শেষ হওয়া লোকসভা ভোটে সব ইস্যুকে ছাপিয়ে গিয়েছিল বেকারত্ব ও মূল্যবৃদ্ধি। সেটাই যে বিজেপি তথা মোদির ভাবমূর্তিতে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে, এব্যাপারে নিশ্চিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘও। এমনকী দেশি-বিদেশি, একঝাঁক আর্থিক সংস্থার সাম্প্রতিক সমীক্ষায় ভারতের বেকারত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েও সেকথা মানতে নারাজ কেন্দ্রের এনডিএ সরকারের শীর্ষমহল। উল্টে প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে সেই সমীক্ষাগুলি নিয়ে। তার আঁচ যেমন পড়েছে শ্রমমন্ত্রকের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে, তেমনই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই আচমকা প্রকাশ করা রিপোর্টেও। তাতে সাফ বলা হয়েছে, বিগত অর্থবর্ষে ৪ কোটি ৭০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের জন্ম হয়েছে। কৃষি, খনি, উৎপাদন শিল্প, বিদ্যুৎ, গ্যাস সরবরাহ, নির্মাণ, পরিষেবা—একঝাঁক সেক্টর জুড়ে কর্মসংস্থানের এই জোয়ার দেখা গিয়েছে। সরকারের হাতে থাকা বিভিন্ন পরিসংখ্যানের বিশ্লেষণ করেই এই রিপোর্ট তৈরি করেছে আরবিআই।
অথচ দু’দিন আগেই মার্কিন আর্থিক সংস্থা সিটিগ্রুপের সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, ভারত ৭ শতাংশের বেশি আর্থিক বৃদ্ধিহার বজায় রাখলেও পর্যাপ্ত ও প্রয়োজনীয় হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে না। বেকারত্বের সমস্যার সমাধানে এখনই বছরে অন্তত এক থেকে দেড় কোটি কর্মসংস্থান হওয়া দরকার। কিন্তু বর্তমান জিডিপি বৃদ্ধিহারে তা ৮০-৯০ লক্ষ ছাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় নেই। এই সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে যে পরিমাণ কর্মসংস্থান হচ্ছে, তার ৪৬ শতাংশই কৃষিক্ষেত্রে। জিডিপি বৃদ্ধিহারের উপর এই অসংগঠিত ক্ষেত্রের প্রভাব অত্যন্ত কম। এখন সংগঠিত ক্ষেত্রে (ফর্মাল সেক্টর) বেশি বেশি কর্মসংস্থান প্রয়োজন। অথচ হচ্ছে উল্টো। আর একটি আর্থিক সংস্থা ব্লুমবার্গের সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ফর্মাল সেক্টরেই সবথেকে কম কর্মসংস্থানের হার। কোভিডকালের পর থেকে এই ক্ষেত্রে যে পরিমাণ কর্মসংস্থান হচ্ছে, সেটা ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। আবার সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকনমির সমীক্ষা বলেছে, চলতি বছর জুন মাসে দেশে বেকারত্বের হার বেড়ে হয়েছে ৯.২ শতাংশ। গত মে মাসে তা ছিল ৭ শতাংশ। সব সমীক্ষায় গ্রামীণ অর্থনীতির ধাক্কা খাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিগত কয়েকমাস ধরে গ্রামে বেকারত্বের প্রবণতা শহরের তুলনায় লাগাতার বেশি হারে বাড়ছে। এমনটা এই প্রথম।
যদিও সিটিগ্রুপের রিপোর্টকে ভিত্তিহীন বলে তোপ দেগেছে শ্রমমন্ত্রক। বলা হয়েছে, সিটিগ্রুপ সব তথ্য ও পরিসংখ্যানের বিশ্লেষণ করেনি। ২০১৮ সাল থেকে এপর্যন্ত ৮ কোটির বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে ভারতে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অথবা শ্রমমন্ত্রক এভাবে মরিয়া হয়ে বেকারত্বের অভিযোগকে উড়িয়ে দেওয়ায় সন্দেহ বাড়ছে আর্থিক মহলে। সিএমআইই রিপোর্টে স্পষ্ট যে, বিগত ছ’মাস ধরে প্রতিনিয়িত বেকারত্ব বাড়ছে দেশে। সঙ্গে আরও দ্রুত হারে ঊর্ধ্বমুখী মূল্যবৃদ্ধি। অথচ সরকারের একটাই রা— ‘সব ঝুট হ্যায়!’ 
14d ago
কলকাতা
রাজ্য
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

চল্লিশের ঊর্ধ্ব বয়সিরা সতর্ক হন, রোগ বৃদ্ধি হতে পারে। অর্থ ও কর্ম যোগ শুভ। পরিশ্রম...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার৮৩.১৭ টাকা৮৪.২৬ টাকা
পাউন্ড১০৬.৯৩ টাকা১০৯.৬০ টাকা
ইউরো৯০.০০ টাকা৯২.৪৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
দিন পঞ্জিকা