দক্ষিণবঙ্গ

ভাগীরথীর পাড়ে ঝুলছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, ভাঙনের আতঙ্কে রাত জাগছে কেতুগ্রাম

সংবাদদাতা, কাটোয়া: বর্ষার আগেই কেতুগ্রামের নতুনগ্রামে বাবলা ও ভাগীরথীর ভাঙনে সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে পড়েছেন বাসিন্দারা। বাবলা নদী গিলছে চাষের জমি। আর ভাগীরথী ভিটে মাটি ছাড়া করছে বাসিন্দাদের। ভাগীরথীতে ঝুলছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। যেকোনও মুহূর্তে নদীগর্ভে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়তে পারে কেন্দ্রটি। আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন বাসিন্দারা। নদীপাড়ের বাড়ি ঘরের অর্ধেক ঝুলছে। নতুন করে ভাঙনের আতঙ্কে ঘুম উড়েছে গ্রামের নতুনগ্রামের বাসিন্দাদের। 
কেতুগ্রাম-২ ব্লকের মৌগ্রাম অঞ্চলের নতুনগ্রামটি পূর্ব বর্ধমান জেলার হলেও মূল ভূখণ্ড জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী চারিদিক দিয়ে দুই নদী ঘিরে রেখেছে গ্রামটিকে। বাবলা ও ভাগীরথী নদীর নতুনগ্রামের কাছে মিলন ঘটেছে। ফলে নদীপাড়ে এখন ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। 
গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বাবলা নদীর ধারে বিঘার পর বিঘা চাষের জমি একটু একটু করে ভেঙে যাচ্ছে। মাঠের ফসল নষ্ট হচ্ছে ভাঙনের জেরে। কখন কার জমির অংশ ঝুপ করে বাবলার জলে পড়ে, সেই আতঙ্কেই দিন কাটছে বাসিন্দাদের। একই চিত্র ভাগীরথীতেও। ভাগীরথীতে বহু মানুষ তাঁদের বাড়ি হারিয়েছেন। এখনও বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাগীরথীতে ঝুলছে। নতুনগ্রামের বাসিন্দা ইয়াসমিন বিবি বলেন, স্বামী ভিন রাজ্যে কাজে গিয়েছে। ছেলেপুলে নিয়ে নদীর ধারে খুব ভয়ে ভয়ে থাকি। রাতে ঘুম আসে না। যেকোনও মুহূর্তে আমরা নদীতে তলিয়ে যেতে পারি। গ্রামের বাসিন্দা আবু তালেব শেখ বলেন, ভাগীরথীতে আমার দশ কাঠা জমি চলে গিয়েছে। এখন নদীতেই মাছ ধরে সংসার চালাই। পাথর দিয়ে না কাজ করলে বাবলা আর ভাগীরথীকে রোখা যাবে না। গ্রামের আরেক বাসিন্দা লতিব শেখ বলেন, বাবলা নদীতে আমাদেরও অনেক জমি চলে গিয়েছে। আমরা প্রশাসনকে বার বার জানিয়েও কোনও ফল পাইনি। 
নতুনগ্রামে তিনটি বুথে ভোটার রয়েছে প্রায় তিন হাজার। আর গ্রামে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ বসবাস করেন। এরমধ্যে তিনশো পরিবার দুই নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সারাদিন নদীপাড়ে কান পাতলেই ঝুপঝাপ করে পাড়ের মাটি ধসে যাওয়ার শব্দ শোনা যাচ্ছে। বাড়িগুলি বিপজ্জনকভাবে নদীতে ঝুলছে। গ্রামের ১১১ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পাকা ভবনের একাংশ বিপজ্জনকভাবে নদীতে ঝুলছে। যেকোনও মুহূর্তে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটির চিহ্ন শেষ হতে বসেছে। সেচদপ্তরের কোনও হেলদোল নেই বলে ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা। নতুনগ্রামে ভাগীরথীর জল পাড়ে ধাক্কা খাচ্ছে। ফলে নরম মাটি অবিরত ধসে পড়ছে। গ্রামের বাসিন্দারা আরও বলেন, গ্রামে বাবলা নদী ভাগীরথীতে এসে মিশেছে। ফলে ভাঙনটা বেশিই হচ্ছে। একসময় গ্রামে বহু পরিবার বাস করত। এখন অর্ধেকে এসে ঠেকেছে। আমাদের পৈতৃক ভিটে ছেড়ে যেতে মন চায় না। তাছাড়া গ্রামের বেশির ভাগ বাসিন্দা কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। আর্থিকভাবে দুর্বল তাঁরা। তাই অন্তত কিছু বালির বস্তা দিয়ে যদি কিছুটা ভাঙন রোধ করা যায়, তাহলে গ্রামটা বাঁচবে। 
মৌগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পার্থপ্রতিম চট্টোপাধ্যায় বলেন,  কয়েক বছর ধরে বাবলা নদী ভাগীরথীতে ওই এলাকায় এসে মিশেছে। ফলে নদীর ধার প্রায়ই ভেঙে যাচ্ছে। ভাঙনে নতুনগ্রামের বহু ঘর বাড়ি ভেঙে যাচ্ছে। একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ঝুলছে। আমাদের বিধায়ক বিধানসভায় বিষয়টি সরকারের নজরে এনেছেন। কিছু কাজ আগে ওই এলাকায় হয়েছিল। কিন্তু আবার নদীতে ভাঙন হচ্ছে। মানুষজন আতঙ্কে রয়েছেন। আবার আমরা প্রশাসনকে জানাব।
1Month ago
কলকাতা
রাজ্য
দেশ
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

বিকল্প উপার্জনের নতুন পথের সন্ধান লাভ। কর্মে উন্নতি ও আয় বৃদ্ধি। মনে অস্থিরতা।...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার৮৩.২৩ টাকা৮৪.৩২ টাকা
পাউন্ড১০৬.৮৮ টাকা১০৯.৫৬ টাকা
ইউরো৯০.০২ টাকা৯২.৪৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
21st     July,   2024
দিন পঞ্জিকা