চারুপমা

বন্ধুত্বের শহরে

গতকালই মুক্তি পেয়েছে বিক্রম চট্টোপাধ্যায় এবং শোলাঙ্কি রায়ের ছবি ‘শহরের উষ্ণতম দিনে’। তার আগে চতুষ্পর্ণীর জন্য শ্যুট এবং অন্যরকম আড্ডায় দুই তারকা। শুনলেন অন্বেষা দত্ত।

ছবিতে আপনাদের লুকটা কেমন লেগেছে?
শোলাঙ্কি: খুব ইন্টারেস্টিং। আমার চুল যেমন বরাবর ছোট। ‘ইচ্ছেনদী’ করার সময় পিঠ পর্যন্ত লম্বা চুল ছিল অবশ্য। তবে আমাদের পেশার দাবি মেনে চুলের উপর এত অত্যাচার চলে, সঙ্গে কলকাতার গরম— সব মিলিয়ে সামলাতে না পেরে চুল কেটেই ফেলেছিলাম। সাধারণত দর্শক শাড়ি এবং লম্বা চুলেই আমাকে দেখতে অভ্যস্ত। এই ছবিতেও লম্বা চুল আছে কিন্তু সেটা কার্লস। আমার কাছে সেটাও ভীষণ আনন্দের। আমার মায়ের চুল স্ট্রেট, আমার নিজেরও তাই। মাকে বলি, তোমার মতো আমারও স্ট্রেট চুল কেন হল? কার্লি হতে পারত! তা সেই দুঃখটা এই ছবিতে মিটে গিয়েছে। প্রথম যখন লুক নিয়ে সুজয়দার (সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়) সঙ্গে কথা বলি, তখনই জানতে পারি আমাকে কার্লস দেওয়া হবে। শুনেই খুব খুশি হয়েছিলাম। এর সঙ্গে রয়েছে নাকে নোলক! যেভাবে সাজতে আমি পছন্দ করি, অনেকটা সেভাবেই সাজানো হয়েছে। তাই দারুণ লাগছে। 
বিক্রম: দুটো আলাদা টাইমলাইন আছে ছবিতে। একটায় ঋতবান আর অনিন্দিতা কলেজে পড়ে, আর অন্যটা পাঁচ-ছ’বছর পরে যখন ঋতবান আবার শহরে ফিরে আসে। দুটো আলাদা বয়সের ঋতবান। এসময়ের চরিত্রটি পরিণত। অন্যটি অনেক তরুণ। দুটো বয়সকেই বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তোলার চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই বুঝে হেয়ারস্টাইল, দাড়ি ইত্যাদি রাখা। পরিচালককে ধন্যবাদ কারণ দুটো চরিত্রায়নের মাঝে আমাকে ১৫ দিনের বিরতি দেওয়া হয়েছিল। সেই বিরতিটা কাজে লেগেছে বলেই আমার বিশ্বাস। স্ক্রিনে ছাত্রাবস্থা দেখানোর জন্য একটা স্পেশাল ডায়েটও লাগত। 

কলকাতা শহর নিয়ে আপনাদের মনের আবেগ কতটা?
শোলাঙ্কি: কলকাতা আমার কাছে বাড়ির মতো। ক্লান্তি শেষে ফিরে আসার জায়গা।
বিক্রম: কলকাতা আমার কাছেও বাড়ি, পরিবার। বাড়ির জন্য যেমন মন কাঁদে, কলকাতাও তাই। শহরটা অনেকটা মায়ের মতো। বেশিদিন যার থেকে দূরে থাকলে কষ্ট হয়, ফিরে এলে স্বস্তি লাগে। রাগও হয়। কখনও মনে হয়েছে ছেড়ে চলে যাব এই শহর। কিন্তু না, ফিরে ফিরে আসতেই হয়। হৃদয়ে রাখি কলকাতাকে। এ শহরের দেওয়া সব স্নেহ মনে পড়ে যায় শহর থেকে দূরে গেলেই। 

আরামের পোশাক বললে কী কী থাকবে তালিকায়?
শোলাঙ্কি: আমি খুব ট্রেন্ডি নই। নিজের পছন্দমাফিক পরি। ঢোলা পায়জামা, জিনস, টপ, শর্টস সবই ভালো লাগে।
বিক্রম: এমনিতে জামাকাপড় নিয়ে বেশি ভাবতে পারি না। আরামের পোশাকেই স্মার্ট দেখানো যায়। তাই যেটায় আমি স্বচ্ছন্দ, সেটা ক্যারি করতে অসুবিধে হয় না।

আপনি (শোলাঙ্কিকে) বলছিলেন শাড়ি খুব সহজে পরতে পারেন। কীভাবে শাড়ি স্বচ্ছন্দ-পোশাক হল?
শোলাঙ্কি: ছোটবেলা থেকে মাকে দেখতাম। মা চাকরি করেননি কখনও, কিন্তু হাজার রকম কাজে ডুবে থাকেন। থিয়েটার, ফোটোগ্রাফি, পড়ানো...। মাকে দেখতাম হাজার কাজের মধ্যেও খুব দ্রুত সুন্দর করে শা঩ড়ি পরে নিচ্ছেন। সেটা দেখেই ঝোঁকটা তৈরি হয়। শাড়ি পরতে খুব ইচ্ছেও হতো। ছোটবেলায় মা মোটেই পরতে দিতেন না। ঠাম্মা দিতেন। ওঁর কাছে এই আবদারগুলো করা যেত। মা ভাবতেন, শাড়ি নষ্ট করে ফেলব। তাই ঠাম্মার শাড়ি পরে গামছা দিয়ে চুল বানিয়ে ক্লাসে পড়াতাম। যেমনটা ছোটবেলায় সবাই খেলে! কখনও টিচার, কখনও ডান্সার। তখন থেকেই  একরকম রোল-প্লে শুরু আমার। তারপর সেটাই পেশা হয়ে গেল! বড় হয়ে বুঝলাম যে শাড়ির মতো সুন্দর পোশাক আর কিছুই নয়। তবে আগে ছিল উপলক্ষ্য মেনে পরা। অভিনেত্রী হওয়ার পরে রোজই শাড়ি পরা। গত দশ বছর তাই চলছে, দিনে অন্তত চারবার করে শাড়ি পরি। এতেই সড়গড় হয়ে গেছি। ‘কাদম্বিনী’ করার সময় দু’রকমভাবে শাড়ি পরতে হতো। আটপৌরে এবং আধুনিক স্টাইলে। তখন দিনে ১৭-১৮টি সিন থাকত। অন্তত ১০-১২ বার শাড়ি পরতে হতো। খুব দ্রুত পরতে পরতে এখন তো জলভাত। তবে রোজ পরলেও ভালোলাগা কাটেনি।  

মেকআপ-এ (শোলাঙ্কিকে) কতটা গুরুত্ব দেন?
শোলাঙ্কি: বয়স যখন কম ছিল, খুব সাজুনি ছিলাম। মায়ের অনেক লিপস্টিক, মেকআপের জিনিস নষ্টও করেছি। সাজতে ভীষণই ভালোবাসতাম। এরপর পেশাগত কারণে যখন সকাল সাতটাতেও মেকআপ করতে হল, তখন আর মেকআপে মন রইল না। আর এতে স্কিনও খারাপ হয়। এখন চেষ্টা করি যতটা কম মেকআপে চালিয়ে দেওয়া যায়। মানে যতটুকু না করলে নয়, ততটুকু। একেবারেই লাইট। কাজল পরতে অবশ্য বরাবরই ভালো লাগে। আর বেরনোর আগে ময়েশ্চারাইচার, সানস্ক্রিন। একটু ব্লাশ অন। ওয়েস্টার্ন পোশাক পরলে চোখে শুধু মাস্কারা। আর ভারতীয় পোশাকে কাজল। সঙ্গে লিপস্টিক। 

ঘনঘন মেকআপে ত্বকের ক্ষতি হয়, তার জন্য ঘরোয়া কোনও রূপচর্চা? ডায়েট, ওয়ার্কআউটই বা কতটা করেন?  
শোলাঙ্কি: ডাক্তারের পরামর্শ মেনে কিছু ন্যাচারাল সাপ্লিমেন্টস ও ভিটামিন খাই। তিরিশ পেরিয়ে গেছি। তিরিশ পেরনোর পরে ডাক্তারের মত নিয়ে সব মহিলার এগুলো খাওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। আমাদের যা লাইফস্টাইল, আবহাওয়া, খাদ্যাভ্যাস সেগুলোর জন্যই এটা দরকার। তাছাড়া ৩০ পেরিয়ে নানা হরমোনাল চেঞ্জও আসে। ক্যালশিয়াম আর তৈরি হয় না। সারাদিনের খাবারে সুষম পুষ্টি হয় না। তাই বাইরে থেকে একটু যোগ করতেই হয়। আমাদের আগের প্রজন্মের ক্ষেত্রে সময়টা এত চ্যালেঞ্জিং ছিল না। জিনগতভাবে আমার ত্বক ভালো। তবে ক্লেনজিং মিস করি না একদম। আগে এত মানতাম না। এখন সেটা নৈব নৈব চ। ত্বক পরিষ্কার করে সিরাম, আই ক্রিম আর ময়েশ্চারাইজার মেখে শুতে যাওয়া, এইটুকু করি। প্রচুর জল খাওয়া, মরশুমি ফল খাওয়া, এগুলোও রুটিন মেনে করি। জাঙ্ক ফুড একেবারে খাই না। সহ্য হয় না। খুব ডায়েট না করলেও চলে যায়। সঙ্গে শুধু বেসিক ওয়ার্কআউট। সুস্থ থাকতে একটা বেসিক লাইফস্টাইল মানতেই হবে। 
বিক্রম: বাবাকে দেখতাম কাজ থেকে ফিরে রাতে চেনা সাবান দিয়ে মুখ ধুতেন। আর সপ্তাহে দু’দিন শ্যাম্পু। আজ সময় বদলেছে। আমি অভিনয় করি। মেকআপ বলুন, সূর্যের তাপ বলুন সবরকম এক্সপোজার এই পেশায় অনেকটাই বেশি। তাই বাড়ি ফিরে ফেস ওয়াশ বা মেকআপ রিমুভার ব্যবহার করতেই হয়। এরপরে টোনার আর ময়েশ্চারাইজার। এটুকু করা প্রয়োজন। তবে তাও ভুলে যাই মাঝেমধ্যে। হেয়ারকেয়ারে শুধু নিয়মিত শ্যাম্পু আর কন্ডিশনার। এছাড়া চরিত্রের প্রয়োজনে আমি ভয়ঙ্কর রকম ডায়েট করতে পারি। এমনিতে বেশিরভাগ সময় স্বাস্থ্যকর খাওয়ার চেষ্টাই করি। কাজ শেষ হয়ে গেলে দু’তিন সপ্তাহ হয়তো আবার সব খেলাম। কারণ আমরা বাঙালি। খেতে ভালোবাসি। খাবার ছেড়ে দীর্ঘদিন থাকা মুশকিল। ওয়ার্ক আউট সপ্তাহে তিন-চার দিন করার চেষ্টা করি। স্ক্রিনে দেখানোর জন্য এইটুকু লাগে। 

পোশাক নিয়ে কখনও কোনও সমস্যায় পড়েছেন?
শোলাঙ্কি: একটা জিনিস পরব ভেবেছি, হয়তো সেটা এসেই পৌঁছল না। বা ওটায় কোনও গন্ডগোল বেরিয়ে গেল। পরীক্ষামূলকভাবে কিছু পরতে গেলেও অনেক ভেবেচিন্তেই সেটা হাতে নিই। কারণ পোশাকের ব্যাপারে আমি ভীষণ পার্টিকুলার। যা পছন্দ করি না, তা পরবই না। কিন্তু অভিনয়ের কারণে অনেক কিছুই পরতে হয়, তাতেও খুব সমস্যায় পরেছি এমন নয়। আজকাল একটু আধটু এক্সপেরিমেন্ট করি। যেমন ইদানীং কো-অর্ড সেট পরছি।  
বিক্রম: ইচ্ছের বিরুদ্ধে পোশাক আমি কখনওই পরি না। চরিত্রের প্রয়োজনে হয়তো অনেক কিছু পরতে হয়, সেটা চরিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্যই। 
মডেল: শোলাঙ্কি রায় ও বিক্রম চট্টোপাধ্যায় 
মেকআপ ও হেয়ার: অভিজিৎ পাল 
স্টাইলিং: দেবযানী ঘোষ
ঢাকাই জামদানি শাড়ি ও ধুতি, পাঞ্জাবি: সাঁঝরূপ বুটিক, 
যোগাযোগ: ৯০৫১৪১৪৯৬০
ছবি: সুদীপ্ত চন্দ
গ্রাফিক্স: সোমনাথ পাল
 
শার্ট ও লং ড্রেস: বহুরূপী শান্তিনিকেতন, যোগাযোগ: ৯৩৩০৩৭৪৬৪৭, জুতো: শ্রীলেদার্স, যোগাযোগ: ৮৪২০৯৭৬০৬৫
12Months ago
কলকাতা
রাজ্য
দেশ
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

গৃহ পরিবেশে হঠাৎ আসা চাপ থেকে মানসিক অস্থিরতা। ব্যবসা ভালো চলবে। অনুকূল আয় ভাগ্য।...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার ৮২.৭৬ টাকা৮৪.৫০ টাকা
পাউন্ড১০৭.০০ টাকা ১১০.৫২ টাকা
ইউরো৮৯.৮৮ টাকা৯৩.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
দিন পঞ্জিকা