অমৃতকথা

লিঙ্গবৈষম্য ও সুস্থায়ী উন্নয়ন

এই গ্রহের প্রধান সমস্যার নাম বৈষম্য। বৈষম্য একরকম নয়—নানা ক্ষেত্রে এবং নানাভাবে বহুরকম। তার মধ্যে লিঙ্গ, ধর্ম, জাতি, ভাষা, অঞ্চল, অর্থ ইত্যাদি ভিত্তিক বৈষম্য উল্লেখযোগ্য। এগুলির একটিকেও ছোট বা তুচ্ছ ভাবার সুযোগ নেই। একটি বৈষম্য অন্যগুলির জন্য ইন্ধন হিসেবে কাজ করে। আর তার মাধ্যমে যে ভয়ানক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় সেটাই একটি সমাজ ও দেশের অগ্রগতির অনেক সম্ভাবনা রুখে দিতে যথেষ্ট। স্বাধীন ভারত পঁচাত্তর বছরেও যে কাঙ্ক্ষিত উচ্চতা স্পর্শ করতে ব্যর্থ হয়েছে তার পিছনে বিবিধ বৈষম্যকেই দায়ী করা যায়। কোনও কোনও সমাজকে বস্তুত জাহান্নামেও পাঠিয়েছে এই ভয়াবহ ব্যাধি। আফগানিস্তান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা প্রভৃতি নিকট প্রতিবেশী দেশের ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকেও এই প্রসঙ্গে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করা দরকার। এই নিবন্ধে আলোচনার জন্য বেছে নেওয়া হল লিঙ্গবৈষম্যকে। বিষয়টির প্রতি দৃষ্টিপাত করলে পরিষ্কার হয় যে নিজ নিজ গৃহ বা পরিবারই হল বৈষম্যের আঁতুড়ঘর। পৃথিবীর বেশিরভাগ পরিবারের কাছে পুত্রসন্তানের প্রতি পক্ষপাতিত্ব প্রবল। কোটি কোটি কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হয় এবং বেড়ে ওঠে পরিবারের উপেক্ষাকে মেনে নিয়ে। তাই প্রথমেই তারা পিছিয়ে পড়ে পুষ্টি ও শিক্ষালাভের ক্ষেত্রে। দেশে দেশে কঠোর আইন তৈরি হয়েছে ঠিকই, তবু কর্মক্ষেত্রেও পুরুষ কর্মীদের সমান মর্যাদা পাচ্ছেন না মহিলারা। বহু নিয়োগ সংস্থা মহিলা শ্রমিক-কর্মীদের পুরুষের থেকে কম বেতনে খাটিয়ে নেয়। যুক্তিগ্রাহ্য কারণ ছাড়াই, বহু পেশায় মহিলাদের প্রবেশাধিকার আজও স্বীকৃত নয়।
সবার অধিকার অর্জনের পথে সহায় হতে পারে আইনসভা, এগজিকিউটিভ, বিচারবিভাগ ও মিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানগুলি। খেয়াল করে দেখুন, এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক শক্তি হিসেবে প্রত্যক্ষ এবং/অথবা পরোক্ষভাবে রাজনীতিই কাজ করে। তাই রাজনীতিতে মহিলাদের উপযুক্ত সংখ্যায় অংশগ্রহণের দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ভাগ্য এই যে—ভারতসহ উপমহাদেশ এবং চীন, আফগানিস্তান, মায়ানমার প্রভৃতি নিকট প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিও এই প্রশ্নে সামান্য পাশ নম্বরও পাওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠেনি। ইন্দিরা গান্ধী, সিরিমাভো বন্দরনায়েকে, শেখ হাসিনা, বেনজির ভুট্টো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়ললিতা, মায়াবতী, রাবড়ি যাদব, দ্রৌপদী মুর্মু প্রমুখের নাম বিবেচনায় রেখেও এই মন্তব্য করতে হচ্ছে। শিক্ষার অধিকার এবং ভোটাধিকার অর্জন করতে সারা পৃথিবীর মেয়েদের অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। তার বিনিময়ে তাঁরা মূলত ভোটারই হয়েছেন, কোথাও কোথাও তাঁরা ভোটব্যাঙ্কও বটে। কিন্তু রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থান এবং সরকারগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ ও ভূমিকা গ্রহণের প্রশ্নে নারীকে এখনও বহু যোজন দূরে রেখে দেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্রের বাকি স্তম্ভগুলিতে মহিলাদের এখনও যে দূরবিন দিয়ে খুঁজতে হয়, তার পিছনে ভীষণভাবে সক্রিয় বৈষম্যে ভরা এই সংস্কৃতি। 
নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রসঙ্ঘ সবার আগে লিঙ্গ অনুপাত (সেক্স রেশিও) উন্নত করার উপর জোর দিয়েছিল। অর্থাৎ প্রতি হাজার পুরুষের জন্য নারীর সংখ্যায় সমতা আনার গুরুত্ব দিয়েছে তারা। গত কয়েক দশক যাবৎ এই সমতার অভাব অনুভব করেছে সারা পৃথিবী। তার মধ্যে ভারতসহ উপমহাদেশের কথা আলাদাভাবে উল্লেখের দাবি রাখে। তবে বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক প্রচার এবং কিছু সরকারি পদক্ষেপের কারণে, ভারতে ২০১১ সালের জনগণনায় সামান্য উন্নতি লক্ষ করা গিয়েছে। ২০০১ সালে প্রতি হাজার পুরুষে মহিলার সংখ্যা ছিল ৯৩৩। সেটা ২০১১ সালে ৯৪৩-এ উন্নীত হয়। ২০২১-এর সেন্সাস এখনও শেষ হয়নি। ফলে এই মুহূর্তের বাস্তব ছবিটা অজানা। কিন্তু অঞ্চল বিশেষে এখনও যে ব্যাপক ঘাটতি রয়ে গিয়েছে তা পরিষ্কার করে দিয়েছে সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু তথ্য: খোদ কলকাতা মহানগরে শিশুকন্যার জন্মহার নিম্নমুখী। নিকটবর্তী চারটি জেলাও প্রবেশ করেছে ওই ব্যূহে। বিশেষজ্ঞরা এজন্য অন্যায়ভাবে করানো গর্ভপাতকে দায়ী করছেন। জিনগত পরীক্ষার প্রয়োজনকে ঢাল করে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ণয় করে নিচ্ছে অনেক পরিবার। তারপর নির্বিচারে চলছে কন্যাভ্রূণ হত্যার মতো ভয়াবহ ঘটনা। এই পাপাচার রুখতে প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়া দরকার। দরকার সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি। এই বোধ জাগা জরুরি যে কন্যাসন্তান ও পুত্রসন্তানের মধ্যে বাস্তবে কোনও তফাত নেই। ঠিকমতো মানুষ করে তুলতে পারলে দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। পরিবার থেকে দেশ এবং এই পৃথিবী—সবার জন্যই বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম প্রতিটি কন্যা। লিঙ্গবৈষম্য এখনই দূর করতে না পারলে বিশ্বব্যাপী সুস্থায়ী উন্নয়নের (সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট) উদ্যোগ স্লোগানের ঊর্ধ্বে উঠতে পারবে না। 
18Months ago
কলকাতা
রাজ্য
দেশ
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

গৃহ পরিবেশে হঠাৎ আসা চাপ থেকে মানসিক অস্থিরতা। ব্যবসা ভালো চলবে। অনুকূল আয় ভাগ্য।...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার ৮২.৭৬ টাকা৮৪.৫০ টাকা
পাউন্ড১০৭.০০ টাকা ১১০.৫২ টাকা
ইউরো৮৯.৮৮ টাকা৯৩.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
দিন পঞ্জিকা