গল্পের পাতা
 

তিথির সঙ্গে কিছুক্ষণ 

আশিস ঘোষ:  ঠিক সন্ধের শুরুতে তিথি এল। কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছি। কত বাস, মিনিবাস, ট্যাক্সি দাঁড়াল। লোকজন ওঠানামা করল। তিথি আর আসে না। ক্লান্ত বিরক্ত হয়ে চলে যাব কিনা ভাবছি, এমন সময় তিথি এল। ঠিক সন্ধের শুরুতে।
—দেখলে তো ঠিক এলাম।
—সে তো দেখতেই পাচ্ছি।
—রাগ করেছ?
উত্তর না দিয়ে চলতে শুরু করলাম। তিথি পাশে পাশেই হাঁটছে। ফুটপাথ ঘেঁষে একটা বাইক শব্দ ছড়িয়ে যেতেই মনে হল, কোথাও একটু বসলে ভালো হত। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পা ভারী। কিন্তু বসব কোথায়? এত বড় শহরে ইচ্ছেমতো বসার জায়গা পাওয়া যায় না। এ সময়ে কোনও ভালো রেস্তরাঁয় একটা চেয়ারও খালি থাকে না। শহরের বেশিরভাগ পার্ক এখন পাতাল রেলের দখলে। তা হলে? —এই, সিনেমায় যাবে? চলতে চলতে তিথি হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে। টিকিট?
পিঠে আলতো একটা খোঁচা দিয়ে তিথি বলল—টিকিট হলে পাওয়া যায়—
—অসম্ভব। ছ’টা প্রায় বাজতে চলল। এখন কোনও হলেই টিকিট পাবে না—
—ঠিক আছে। চেষ্টা করে দেখাই যাক না। তিথি রাস্তা ঘেঁষে দাঁড়ায়।
আমাদের উলটো দিকেই একটা সিনেমা হল। হলের সামনে প্রচুর ভিড়। হাউজের মাথায় সবে মাত্র আলো জ্বলে উঠেছে। ওদিকে চোখ রেখেই তিথি ফুটপাথ ছেড়ে রাস্তায় নামল। ভীষণ জেদি। কিছু একটা ঠিক করলে, যতক্ষণ না তা করতে পারছে, ছটফট করতে থাকবে। পারলে ভালো। না পারলে রাগটা পড়বে আমার ওপর। এগিয়ে ওর একটা হাত ধরলাম। ফিরে তাকাল তিথি। এই, কী হচ্ছে? মানে? মানে তোমার মুণ্ডু। হাত ছাড়িয়ে ও তাড়াতাড়ি ও পাশের ফুটপাথে উঠে গেল।
যা ভেবেছিলাম। হাউজ ফুল। নীল আলোয় লেখা ছোট শব্দ দুটো আমাদের দিকে চেয়ে মিটিমিটি হাসছে। দেখলে তো, বলেছিলাম না?
তিথি উত্তর দিল না। বারকয়েক এদিক-ওদিক চাইল। ওর মুখটা কেমন লাল হয়ে উঠেছে। জানি, এখন রাগটা পড়বে আমার ওপরেই। আজ সন্ধেটাই মাটি। আমাদের ঠিক চার ফুট দূরত্বে হাফ-প্যান্ট পরা একটা লোক দাঁড়িয়ে। চেহারা দেখলেই মনে হয় ব্ল্যাকে টিকিট বিক্রি করে। ওর কাছেই টিকিট চাইব কিনা ভাবছি, তিথি হঠাৎ এগিয়ে গেল। কী সব কথা হল ওদের মধ্যে। কত চাইবে কে জানে। বেশি টাকা দিয়ে এসব সিনেমা দেখার কোনও মানে হয়? বিরক্ত হয়ে তিথিকে ডাকতে যাব ও নিজেই এগিয়ে এল। তিরিশ টাকা বেশি চাইছে—
—খেপেছ? চল অন্য কোথাও যাই—
মাথা নাড়ে তিথি।—তাই চলো। এত বেশি দাম দেওয়ার কোনও মানে হয় না—
আর দাঁড়ালাম না। খানিকটা এগিয়ে ‘মাদ্রাজি কাফে’র সামনে দাঁড়ালাম। ব্যাগ খুলে কী যেন খুঁজছিল তিথি। রুমালে মুখটা মুছে নিল। এই কয়েক মিনিটের উত্তেজনায় কপালে নাকের ডগায় কয়েক ফোঁটা ঘাম জমেছিল। কাফেতেও বসার জায়গা নেই। একগাদা ভিড়। সবাই কথা বলছে। কারুর কথাই বোঝা যাচ্ছে না। সাদা পোশাকের একজন বেয়ারা এসে আমাদের দাঁড়াতে বলল। কাউন্টারের সামনে দাঁড়ালাম। কোনও টেবিল খালি হচ্ছে না। এভাবে আর কতক্ষণ দাঁড়ানো যায়। তিথির দিকে চাইতেই ও কেমন ছটফটিয়ে উঠল। চলো, বেরিয়ে যাই—
—কোথায় যাবে? যেখানে হোক। এখানে তো বসার জায়গা নেই। বলতে বলতে ও দরজার দিকে পা বাড়াল। চারদিকে চোখ বুলিয়ে আর একবার বসার জায়গা খুঁজে, আমাকেও এগুতে হল। বাইরে এসে বললাম, —দূর, আজকের সন্ধেটাই মাটি-যদি অত দেরি না করতে—
কী যেন বলল তিথি। শোনা গেল না। রাস্তার ভিড় আগের চাইতেও বেড়েছে। ফুটপাথেও ঠিকমতো হাঁটার উপায় নেই। এখানে-ওখানে গর্ত। হকারদের দোকান। রাস্তা দিয়েও হাঁটা যায় না। পর পর সব গাড়ি। একটু অসতর্ক হলেই—এত লোক যে কেন রাস্তায় বেরয়। রাস্তায় হাঁটা যায় না। শুধু লোক লোক আর লোক। এই শহর নিয়ে আমরা এত হইচই করি। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয়, এখান থেকে পালাতে পারলে বাঁচা যেত। ওকে নিয়ে হয়েছে বিপদ। একা হলে যেভাবে হোক সময় কাটাতাম। কিন্তু ওকে নিয়ে এখন যাই কোথায়? কী যে করি। এমনিতে আমাদের দেখা সাক্ষাৎ খুব একটা হয় না। ও থাকে উত্তরে। আমি দক্ষিণে। ওর চাকরি মফস্‌স঩লের একটা স্কুলে। আমার ডালহৌসিতে। যে যার মতো থাকি। সপ্তাহ মাস চলে যায়। চিঠিতেই যা যোগাযোগ। মাঝেমধ্যে ও কলকাতায় এলে, এভাবেই আমাদের দেখা হয়।...
হাঁটতে হাঁটতে আমরা কালীঘাটের গঙ্গার কাছে এসে পড়লাম। প্রায় সাতটা বাজে। এ সময়ে এদিকটা বেশ ফাঁকাই থাকে। নীচে গঙ্গার রোগাটে জলধারা। এটাই নাকি আদি গঙ্গা। এখন ভাটার টান। জল প্রায় নেই বললেই হয়। কেমন একটা চাপা দুর্গন্ধ আসছে নীচ থেকে। এ সময়ে এদিকে লোকজন খুব একটা আসে না। সিঁড়ির শুরুতে পান্ডার দোকানে বসে দু’চারজন গুলতানি করছে। আমাদের দেখে ওরা কথা বন্ধ করল। সবক’টা চোখ যেন আমাদের দিকেই। ওদের হাবভাবে মনে হচ্ছে, আমাদের দেখে ওরা বেশ অবাকই হয়েছে। কয়েক ধাপ নেমে আমরা একটা সিঁড়িতে বসতেই, ওরা আবার কথা শুরু করল। মাঝে মাঝে নীচের দিকে চাইছে। ওদের আলোচনার বিষয় বোধহয় আমরাই। যেখানে বসেছি, একটু নেমে বাঁদিকে সিঁড়ির পাশেই একটা বটগাছ। কিছু ডালপালা সমেত ঝুঁকে পড়েছে নীচের তিরতিরে জলে আলো ছায়ার খেলা। —খুব তো জমিয়ে বসলে, বাড়ি ফিরবে না? তিথি উত্তর দেয় না। হাতের ব্যাগটা কোলে রেখে, শাড়ির পাড় টেনে টেনে সমান করতে করতে বলে, —ইস, কতদিন এমন নিরিবিলিতে বসিনি!
বললাম,—আমাদের এই শহরে তো নিরিবিলি জায়গা নেই, তোমাদের ওখানে? থাকলেই বা, গল্প করার লোক কোথায়? দু’একটা ইটের টুকরো জলের দিকে ছুঁড়ে দেয় তিথি, আর কোনও কথা বলে না। কিছুক্ষণ দু’জনেই চুপচাপ বসে থাকি। ও হয়তো চাইছে, আমি কিছু বলি। কিন্তু কীভাবে কী বলব বুঝতে পারছি না। কেমন যেন অস্বস্তি হচ্ছে। পকেটে হাত দিয়ে সিগারেট খুঁজি। না, একটাও নেই। অগত্যা, রুমালে মুখটা বার কয়েক মুছে নিলাম। পান্ডাদের দোকান থেকে এখন আর কোনও শব্দ আসছে না। কালীঘাটের মন্দিরে সন্ধ্যা-আরতির শব্দ। এপার-ওপার করার জন্য দু’টো নৌকা বাঁধা। কেউ পারাপার করছে না। ভাটার টানে কীসের যেন একটা কঙ্কাল ভেসে এসেছে। একটা কুকুর পাশ দিয়ে ছুটে নেমে গেল। হাওয়ায় ভ্যাপসা গন্ধ ভেসে আসতেই মনে হল, এবার উঠতে হবে।
কী আর বলি, উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললাম—তোমার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে চল্লিশের কাছে পৌঁছে—তার পরেও তো কয়েক বছর কেটে গেল—উঠে দাঁড়ায় তিথি। সিঁড়ি দিয়ে আমরা ওপরে উঠতে না উঠতেই, এদিকের দোকানের আলো নিভে গেল। আবছা অন্ধকারে কে যেন নিচে নেমে যাচ্ছে। বললাম ওকে, আসলে কী জানো, কেমন যেন ভয় করে। আর পাঁচজনের মতো পেরে উঠব কি না জানি না—
একবার মুখ তুলে আমার দিকে চেয়ে, মাথা নীচু করে হাঁটতে থাকে তিথি। কতদিন আর এভাবে চলবে?
রাস্তার দু’দিকের সব আলো এখন জ্বলছে। সোজা এগিয়ে গেলে কালীঘাটের মন্দির। সন্ধ্যা-আরতি শেষ হওয়ায়, ওদিক থেকে আর কোনও শব্দ আসছে না। বাঁদিকের রাস্তাটা কালীঘাট ব্রিজের দিকে গেছে। আমরা সামনের দিকে এগুতে থাকি। —কী জানো, আমাদের সম্পর্কটা কেমন যেন নিরুত্তাপ হয়ে পড়েছে—
তিথি একবার শুধু চাইল আমার দিকে। খুব আস্তে নিঃশ্বাস ফেলল। পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে মনে হল, আমাদের এমন কিছু করা উচিত, যাতে সব কিছু তোলপাড় হয়ে যায়। উলটে-পালটে যায়। হঠাৎ মনে হল কথাটা। আজকাল মাঝে মাঝেই এইরকম মনে হয়। কিছুই করতে পারি না। তিথি আড়চোখে আমাকে দেখে নিয়ে বলল, কী করতে চাও, শুনি? উত্তরে শুধু হাত নাড়লাম। বলার কিছুই নেই। কী যে করতে চাই, তা আমি কী জানি?
তিথি আর কিছুই বলছে না। অন্যমনস্কভাবে হাতের ব্যাগটা ঘোরাচ্ছে। ভেতরে ভেতরে আমি কেমন অস্থির হয়ে পড়ছি। রাস্তায় বেশ ভিড়। দু’পাশের দোকানে আলো ঝলমল করছে। রিকশা-ট্যাক্সি-প্রাইভেট। চারদিকে শব্দ, আলো আর ভিড়ে খুব জোরে একবার চিৎকার করে উঠতে ইচ্ছে হচ্ছে। চলতে চলতেই ওর একটা হাত ধরে বললাম—কিছু বলবে না? —কী বলব! হাত ছাড়িয়ে নেয় তিথি। পর মুহূর্তেই কেমন যেন ক্লান্ত বিষণ্ণ মনে হল।
আমরা বাস রাস্তায় এসে পড়লাম। সামনেই বাস স্টপ। শেডের নীচে কেউ দাঁড়িয়ে নেই। আমরা যেতেই আর একজন এসে দাঁড়াল। এবার চলে যাবে তিথি। আমাকেও তো ফিরতে হবে। কাল থেকে আবার একরকম। বাড়ি, অফিস, আড্ডা। বাস মিনিবাস ভিড়। কারণে-অকারণে রাস্তায় হাঁটা। কীভাবে যে দিনগুলি যায়! মাঝে মাঝে ওর চিঠি এলে, বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে ওঠে। ইচ্ছে হয় চিৎকার করে সবাইকে বলি। ছুটে গিয়ে রাস্তার সব গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিই। উঁচু একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে সবাইকে শুনিয়ে ওর চিঠিটা পড়তে থাকি। কিন্তু তা হয় না। হতে পারে না। আজকের এই সময়টুকু যদি—
লাল মিনিবাসটা এসে দাঁড়াতেই, তিথি আমার দিকে চেয়ে হেসে হাত নাড়ল। চলি—
মিনিটা ওকে নিয়ে চলতে শুরু করতেই, একটু এগিয়ে গিয়ে বললাম,—আবার কবে আসবে? হেসে মাথা নাড়ে তিথি। গাড়িটা ওকে নিয়ে সামনের দিকে ছুটে যায়।
অলংকরণ : ইন্দ্রনীল ঘোষ
14th  May, 2017
লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন 

বারিদবরণ ঘোষ: ‘লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন’—প্রবাদটি জানেন না এমন হিসেবি বাঙালি কেউ আছেন কি না জানি না। কিন্তু সব বাছাধনের মুখটি চুন হয়ে যাবে, যদি জিগ্যেস করা হয়। এই গৌরী সেন মানুষটি কে বটে, তাঁর এতো টাকা হলই বা কী করে, আর লাগলেই তিনি টাকা দিয়ে থাকতেন কী করে! কিংবদন্তির যা পরিণতি—এঁর বেলাতেও তাঁর ব্যতিক্রম ঘটার কারণ নেই।
বিশদ

12th  November, 2017
কিছু পথ কিছু কথা ক ল কা তা 

তরুণ চক্রবর্তী: চিত্তহারী চৌরঙ্গি যে অতীতদিনে শ্বাপদসংকুল অরণ্যভূমি ছিল আজ তা মানস চক্ষে দেখতে চাইলেও কেমন ধাক্কা লাগে। শ্রদ্ধেয় প্রাণতোষ ঘটক তাঁর ‘কলকাতার পথঘাট’-এ লিখেছেন, ‘ইংরেজি ১৭৫৭ অব্দে শোনা যায়, চৌরঙ্গি অঞ্চলের জঙ্গল কাটানো হয়, এবং ঠিক ওই বছরেই গড়ের মাঠের ওদিকে কেল্লা তৈরির কার্যারম্ভ হয়। চৌরঙ্গীর জঙ্গল কাটায় সবচেয়ে অধিক অখুশি হন স্বয়ং ওয়ারেন হেস্টিংস।  
বিশদ

12th  November, 2017
সুধা কি হারিয়ে গেল? 

আশিস ঘোষ: বিছানায় বসেই বাইরের দিকে চেয়ে ছিল নিলয়। সুধা পাশ ফিরে শুয়ে। দুপুর গড়িয়ে প্রায় বিকেল হয়ে এল। খোলা জানলা দিয়ে রাস্তার ওপাশে কৃষ্ণচূড়া গাছটা চোখে পড়ছে। মাথায় হালকা রোদ। কী একটা পাখি তখন থেকে ডেকেই যাচ্ছে। আজকাল দিন ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। বিকেল হতে না হতেই ক্রমশ ছায়া নামতে থাকে। এখন আশ্বিনের শেষ। একটু যেন ঠান্ডাও পড়ছে। 
বিশদ

12th  November, 2017
আমেরিকায় এক ইংরেজ মহিলাকে দর্শন দিলেন লোকনাথজি 

অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়:  পর্ব-২৭
ডাঃ নিশিকান্ত বসু সেইসময় আমেরিকায়। চাকরি করেন ডাঃ লিন্ডলার স্যানিটোরিয়ামে। চিকিৎসক হিসেবে তখন তাঁর বেশ নামডাক ।
একদিন ওই স্যানিটোরিয়ামে চিকিৎসার জন্য ভরতি হলেন বছর তিরিশের এক ইংরেজ মহিলা। পেটে বিশাল এক টিউমার নিয়ে। সেই টিউমারের চিকিৎসার জন্য তিনি এখানে এসেছেন। বিশদ

05th  November, 2017
ভা লো মা নু ষ - ম ন্দ মা নু ষ 

অমর মিত্র:  পর্ব-২৯
কৈলাসের বাড়ি ছিল গয়া জেলায়। বিহারে। আমার ঠাকুমা হেমনলিনী কৈলাসকে খুব ভালোবাসতেন। কৈলাসের একটি দোকান। লম্বায় ফুট বারো, চওড়ায় ফুট পাঁচ। চিঁড়ে, মুড়ি, মুড়কি, বাদাম, ছোলা সেদ্ধ, ছোলা ভাজা, এবং ভেজানো ছোলা পাতি লেবুর আচার,চানাচুর, নিমকি...বয়েমের পর বয়েম সাজানো থাকত তাকে। বিশদ

05th  November, 2017
মনের ক্যানভাসে

রঞ্জনকুমার মণ্ডল: অতীন স্যারের বাড়ি থেকে বেরিয়ে কিছুটা হাঁটার পর পর্ণা পেছন ফিরে তাকাল রাস্তার ধারের কৃষ্ণচূড়া গাছটার দিকে। যা ভেবেছিল ঠিক তা-ই। কৃষ্ণচূড়া গাছের একদিকে নিজেকে কিছুটা আড়াল করে দাঁড়িয়ে রয়েছে অভ্র। গত দিন পনেরো এই একই রুটিন অভ্রর। কোন ঩টিউটরের কাছে পর্ণা কখন পড়তে যায় তা নিশ্চিতভাবে জেনে নিয়েছে ছেলেটা। সব জায়গাতেই বিশেষ একটা স্পট বেছে নিয়ে দাঁড়াচ্ছে। বেশ খেয়াল করেছে পর্ণা।
বিশদ

05th  November, 2017
 মিয়াঁ তানসেন
বারিদবরণ ঘোষ

 হঠাৎ করে কোথাও কালোয়াতি গান বা গানের সুরের আলাপ শুনতে পেলে পেট থেকে একটা মন্তব্য সোডার মতো ভসভসিয়ে ওঠে—আহারে— যেন আমার তানসেন গাইছেন! তানসেন মোটামুটি একটা শোনা নাম আর তিনি নাকি আকবরের নবরত্ন সভার সেরা সম্পদ ছিলেন। দারুণ গাইতেন নাকি! এর ছবিও আমরা দেখেছি, কিন্তু বিশ্বাস করা যাবে কিনা বলতে পারি না।
বিশদ

29th  October, 2017
 কিছু পথ কিছু কথা ক ল কা তা
তরুণ চক্রবর্তী

 রবীন্দ্রনাথ একবার দুপুরে নিমন্ত্রণে এসেছিলেন বিশ্বকোষ লেনে। ঘরদোর সাফ করার ভার ছিল ছোটদের উপর। সকাল থেকে বালতি বালতি জল খরচ হয়। কবি এসে ষোড়শ ব্যঞ্জনের কয়েকটা মাত্র স্পর্শ করলেন— তখন মনে হয়েছিল আমরা বাঙালির কত অপচয় করি।’ এই বিশ্বকোষ লেন থেকে বাংলা ১৩২৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় ক্ষত্রিয় সমিতির মুখপত্র ‘ক্ষত্রিয়’ পত্রিকাটি।
বিশদ

29th  October, 2017
পলাতকা
ভগীরথ মিশ্র

 ওইরাতে শোভাবাজার স্টেশনে নেমে, প্রায় দৌড়তে দৌড়তে বাড়ি পৌঁছেছিল মৈত্রেয়ী। তৎক্ষণাৎ নিজের ঘরে গিয়ে অ্যাটাচড টয়লেটে ঢুকে পড়েছিল সে। মুখে, চোখে, ঘাড়ে, গলায় অনেকক্ষণ ধরে জলের ছিটে দিয়েছিল। সেদিন অল্পস্বল্প স্বাভাবিক হতেও বেশ সময় লেগেছিল মৈত্রেয়ীর। তবে ভয়ে আর উত্তেজনায় বাকি রাতটা ঘুমোতে পারেনি।
বিশদ

29th  October, 2017
কবির পুরস্কার
চন্দন চক্রবর্তী

‘কি হল! সকালবেলাতেই বিছানায় বসে কবিতার জাবর কাটছ!’ দুখিরাম তখন কবিতার ডায়েরিটা খুলে সবে বসেছে। গতকাল রাতে একটু বৈশাখী ঝড়, টুপুর টুপুর বৃষ্টি হয়েছে। সকালের মেঘেও নরম খবর। দুখিরামের স্ত্রী সতী রকম সকম দেখে কথাটা বলে দাঁড়ায়। গলায় শ্লেষ এনে বলে!
বিশদ

22nd  October, 2017
ফুটবল ঘিরে জেগে উঠেছে এক বুক স্বপ্ন

কলকাতা এমনই এক জা‌য়গা যেখানে ভারত বা কলকাতার কোনও দলের খেলা থাকলে দর্শকের ভিড়ে মাঠ উপচে পড়ে, কিন্তু বিদেশি খেলায় উৎসাহ থাকে অনেকটাই স্তিমিত। এবারে কিন্তু তার উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। লিখেছেন সুকুমার সমাজপতি। বিশদ

15th  October, 2017
বনানীগড়ের ঝগড়ামহল
রতনতনু ঘাটী

সে রাজ্যের নাম বনানীগড়। সে এক ভারী মজার রাজ্য। তার দক্ষিণ দিকে একটা মস্ত উঁচু পাহাড়। উত্তর দিকে ধু ধু মরুভূমি। পুব দিকে বিরাট সাগর। আর পশ্চিম দিকে দিগন্তের পর দিগন্তে মিশে যাওয়া আকাশ। রাজা না থাকলে কি আর রাজ্য হয় নাকি? তাই সে রাজ্যেরও একজন রাজাআছেন। তাঁর নাম পক্ষীকেতু। সেই রাজার রানিও আছেন একজন। তাঁর নাম কুসুমকান্তা।
বিশদ

15th  October, 2017
লোকনাথজির কৃপায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন নিশিকান্ত বসু 

অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়
পর্ব-২৬
ডাক্তার নিশিকান্ত বসু, বিএসএমডি। পিতা রজনীকান্ত বসু। মাতা রাজকুমারী বসু। অধুনা বাংলাদেশের বারদীর বড় জমিদার স্বর্গীয় কালীকিশোর নাগ মহাশয়ের কনিষ্ঠা কন্যা ছিলেন রাজকুমারী দেবী। বিশদ

08th  October, 2017
ভা লো মা নু ষ - ম ন্দ মা নু ষ: পর্ব-২৮
ভুবন ভরা জালিয়াত 

অমর মিত্র: টাকার জন্য, জমির জন্য, সম্পত্তির জন্য মানুষ কী না পারে? আমাদের দেশটি ভাগই হয়েছিল স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানা এবং শাসন ক্ষমতা অধিকারের জন্য। সম্পত্তি এখানে ক্ষমতা। দেশ শাসন করবে কে? কোন দল? ক্ষমতাই সমস্ত কিছু করায়ত্ত করার মূল।
বিশদ

08th  October, 2017
একনজরে
নয়াদিল্লি, ১৭ নভেম্বর: দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চীন ও পাকিস্তান তাদের সম্পর্ককে হিমালয়ের চেয়ে উঁচু, সাগরের চেয়েও গভীর এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি বলে গর্বের ...

 সংবাদদাতা, মালবাজার: বেঙ্গল ওলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের একটি প্রতিনিধি দল শুক্রবার জলপাইগুড়ির বিশ্ববাংলা ক্রীড়াঙ্গন পরিদর্শন করে। অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি বিশ্ববাংলা ক্রীড়াঙ্গনের মাঠ এবং ইনডোর স্টেডিয়ামটি ঘুরে দেখে। ...

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ছ’দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর পুকুরের জল থেকে এক বৃদ্ধর মৃতদেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল মাড়গ্রামের নামুবাজারপাড়ায়। শনিবার সকালে মাড়গ্রাম থানার পিছনের একটি পুকুরে ওই বৃদ্ধের মৃতদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা।  ...

অরূপ ভট্টাচার্য, চুঁচুড়া, বিএনএ: দুর্ঘটনার কারণে চন্দননগর পুরসভার মেয়র রাম চক্রবর্তী অসুস্থ। তাই তিনি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব সামলাবেন ডেপুটি মেয়র সংঘমিত্রা ঘোষ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলকাতায় জেলার পর্যবেক্ষক অরূপ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে কাউন্সিলারদের বৈঠক থেকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুধু তাই ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর বিদ্যায় সফলতা আসবে। সরকারি ক্ষেত্রে কর্মলাভের সম্ভাবনা। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে, প্রেম-প্রণয়ে মানসিক অস্থিরতা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭২৭: অম্বরের মহারাজা দ্বিতীগ জয়সিং জয়পুর শহর প্রতিষ্ঠা করলেন
১৯০১: পরিচালক ও অভিনেতা ভি শান্তারামের জন্ম
১৯৭৩: ভারতের জাতীয় পশু হল বাঘ
১৯৭৮: পরিচালক ও অভিনেতা ধীরেন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.০০ টাকা ৬৫.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৩২ টাকা ৮৭.১৯ টাকা
ইউরো ৭৫.২০ টাকা ৭৭.৮৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,৯৬০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৪২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,৮৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২ অগ্রহায়ণ, ১৮ নভেম্বর, শনিবার, অমাবস্যা সন্ধ্যা ঘ ৫/১২, নক্ষত্র-বিশাখা রাত্রি ৭/২৪, সূ উ ৫/৫৫/৫, অ ৪/৪৮/৩১, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৩৭ মধ্যে পুনঃ ৭/২১ গতে ৯/৩২ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৩ গতে ২/৩৮ মধ্যে পুনঃ ৩/২২ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ঘ ১২/৪০ গতে ২/২৪ মধ্যে, বারবেলা ঘ ৭/১৬ মধ্যে পুনঃ ১২/৪৩ গতে ২/৫ মধ্যে পুনঃ ৩/২৭ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ঘ ৬/২৭ মধ্যে পুনঃ ৪/১৭ গতে উদয়াবধি।
১ অগ্রহায়ণ, ১৮ নভেম্বর, শনিবার, অমাবস্যা অপরাহ্ন ৪/৮/১১, বিশাখানক্ষত্র রাত্রি ৭/১৬/৪০, সূ উ ৫/৫৫/২৬, অ ৪/৪৭/৩৯, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৩৮/৫৫ মধ্যে ও ৭/২২/২৪-৯/৩২/৫০ মধ্যে ও ১১/৪৩/১৭-২/৩৭/১২ মধ্যে ও ৩/২০/৪১-৪/৪৭/৩৯ মধ্যে। রাত্রি ঘ ১২/৪৩/২১-২/২৫/২৩ মধ্যে, বারবেলা ১২/৪৩/৪-২/৪/৩৬, কালবেলা ৭/১৬/৫৮ মধ্যে, ৩/২৬/৭-৪/৪৭/৩৯, কালরাত্রি ২/২৬/৭ মধ্যে, ৪/১৭/৪৪-৫/৫৬/১২ মধ্যে।
২৮ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
 আইএসএল: এটিকে ০, কেরল ব্লাস্টার্স ০

 আজ কোচিতে আইএসএলের উদ্বোধনী ম্যাচ গোলশূন্যয় শেষ করল এটিকে ও ...বিশদ

17-11-2017 - 10:04:41 PM

আইএসএল: এটিকে ০, কেরল ব্লাস্টার্স ০ (প্রথমার্ধ পর্যন্ত) 

17-11-2017 - 08:56:14 PM

ব্রিটেনে মাঝ আকাশে বিমান ও হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ
মাঝ আকাশে বিমান ও হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষ। এদিন ...বিশদ

17-11-2017 - 08:22:00 PM

কোচিতে আইএসএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলছে 

17-11-2017 - 07:54:43 PM

ট্রেনের সময়সূচি বদল
ডাউন ট্রেন দেরিতে আসার কারণে

১৩০০৯ ...বিশদ

17-11-2017 - 05:06:00 PM