গল্পের পাতা
 

তিথির সঙ্গে কিছুক্ষণ 

আশিস ঘোষ:  ঠিক সন্ধের শুরুতে তিথি এল। কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছি। কত বাস, মিনিবাস, ট্যাক্সি দাঁড়াল। লোকজন ওঠানামা করল। তিথি আর আসে না। ক্লান্ত বিরক্ত হয়ে চলে যাব কিনা ভাবছি, এমন সময় তিথি এল। ঠিক সন্ধের শুরুতে।
—দেখলে তো ঠিক এলাম।
—সে তো দেখতেই পাচ্ছি।
—রাগ করেছ?
উত্তর না দিয়ে চলতে শুরু করলাম। তিথি পাশে পাশেই হাঁটছে। ফুটপাথ ঘেঁষে একটা বাইক শব্দ ছড়িয়ে যেতেই মনে হল, কোথাও একটু বসলে ভালো হত। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পা ভারী। কিন্তু বসব কোথায়? এত বড় শহরে ইচ্ছেমতো বসার জায়গা পাওয়া যায় না। এ সময়ে কোনও ভালো রেস্তরাঁয় একটা চেয়ারও খালি থাকে না। শহরের বেশিরভাগ পার্ক এখন পাতাল রেলের দখলে। তা হলে? —এই, সিনেমায় যাবে? চলতে চলতে তিথি হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে। টিকিট?
পিঠে আলতো একটা খোঁচা দিয়ে তিথি বলল—টিকিট হলে পাওয়া যায়—
—অসম্ভব। ছ’টা প্রায় বাজতে চলল। এখন কোনও হলেই টিকিট পাবে না—
—ঠিক আছে। চেষ্টা করে দেখাই যাক না। তিথি রাস্তা ঘেঁষে দাঁড়ায়।
আমাদের উলটো দিকেই একটা সিনেমা হল। হলের সামনে প্রচুর ভিড়। হাউজের মাথায় সবে মাত্র আলো জ্বলে উঠেছে। ওদিকে চোখ রেখেই তিথি ফুটপাথ ছেড়ে রাস্তায় নামল। ভীষণ জেদি। কিছু একটা ঠিক করলে, যতক্ষণ না তা করতে পারছে, ছটফট করতে থাকবে। পারলে ভালো। না পারলে রাগটা পড়বে আমার ওপর। এগিয়ে ওর একটা হাত ধরলাম। ফিরে তাকাল তিথি। এই, কী হচ্ছে? মানে? মানে তোমার মুণ্ডু। হাত ছাড়িয়ে ও তাড়াতাড়ি ও পাশের ফুটপাথে উঠে গেল।
যা ভেবেছিলাম। হাউজ ফুল। নীল আলোয় লেখা ছোট শব্দ দুটো আমাদের দিকে চেয়ে মিটিমিটি হাসছে। দেখলে তো, বলেছিলাম না?
তিথি উত্তর দিল না। বারকয়েক এদিক-ওদিক চাইল। ওর মুখটা কেমন লাল হয়ে উঠেছে। জানি, এখন রাগটা পড়বে আমার ওপরেই। আজ সন্ধেটাই মাটি। আমাদের ঠিক চার ফুট দূরত্বে হাফ-প্যান্ট পরা একটা লোক দাঁড়িয়ে। চেহারা দেখলেই মনে হয় ব্ল্যাকে টিকিট বিক্রি করে। ওর কাছেই টিকিট চাইব কিনা ভাবছি, তিথি হঠাৎ এগিয়ে গেল। কী সব কথা হল ওদের মধ্যে। কত চাইবে কে জানে। বেশি টাকা দিয়ে এসব সিনেমা দেখার কোনও মানে হয়? বিরক্ত হয়ে তিথিকে ডাকতে যাব ও নিজেই এগিয়ে এল। তিরিশ টাকা বেশি চাইছে—
—খেপেছ? চল অন্য কোথাও যাই—
মাথা নাড়ে তিথি।—তাই চলো। এত বেশি দাম দেওয়ার কোনও মানে হয় না—
আর দাঁড়ালাম না। খানিকটা এগিয়ে ‘মাদ্রাজি কাফে’র সামনে দাঁড়ালাম। ব্যাগ খুলে কী যেন খুঁজছিল তিথি। রুমালে মুখটা মুছে নিল। এই কয়েক মিনিটের উত্তেজনায় কপালে নাকের ডগায় কয়েক ফোঁটা ঘাম জমেছিল। কাফেতেও বসার জায়গা নেই। একগাদা ভিড়। সবাই কথা বলছে। কারুর কথাই বোঝা যাচ্ছে না। সাদা পোশাকের একজন বেয়ারা এসে আমাদের দাঁড়াতে বলল। কাউন্টারের সামনে দাঁড়ালাম। কোনও টেবিল খালি হচ্ছে না। এভাবে আর কতক্ষণ দাঁড়ানো যায়। তিথির দিকে চাইতেই ও কেমন ছটফটিয়ে উঠল। চলো, বেরিয়ে যাই—
—কোথায় যাবে? যেখানে হোক। এখানে তো বসার জায়গা নেই। বলতে বলতে ও দরজার দিকে পা বাড়াল। চারদিকে চোখ বুলিয়ে আর একবার বসার জায়গা খুঁজে, আমাকেও এগুতে হল। বাইরে এসে বললাম, —দূর, আজকের সন্ধেটাই মাটি-যদি অত দেরি না করতে—
কী যেন বলল তিথি। শোনা গেল না। রাস্তার ভিড় আগের চাইতেও বেড়েছে। ফুটপাথেও ঠিকমতো হাঁটার উপায় নেই। এখানে-ওখানে গর্ত। হকারদের দোকান। রাস্তা দিয়েও হাঁটা যায় না। পর পর সব গাড়ি। একটু অসতর্ক হলেই—এত লোক যে কেন রাস্তায় বেরয়। রাস্তায় হাঁটা যায় না। শুধু লোক লোক আর লোক। এই শহর নিয়ে আমরা এত হইচই করি। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয়, এখান থেকে পালাতে পারলে বাঁচা যেত। ওকে নিয়ে হয়েছে বিপদ। একা হলে যেভাবে হোক সময় কাটাতাম। কিন্তু ওকে নিয়ে এখন যাই কোথায়? কী যে করি। এমনিতে আমাদের দেখা সাক্ষাৎ খুব একটা হয় না। ও থাকে উত্তরে। আমি দক্ষিণে। ওর চাকরি মফস্‌স঩লের একটা স্কুলে। আমার ডালহৌসিতে। যে যার মতো থাকি। সপ্তাহ মাস চলে যায়। চিঠিতেই যা যোগাযোগ। মাঝেমধ্যে ও কলকাতায় এলে, এভাবেই আমাদের দেখা হয়।...
হাঁটতে হাঁটতে আমরা কালীঘাটের গঙ্গার কাছে এসে পড়লাম। প্রায় সাতটা বাজে। এ সময়ে এদিকটা বেশ ফাঁকাই থাকে। নীচে গঙ্গার রোগাটে জলধারা। এটাই নাকি আদি গঙ্গা। এখন ভাটার টান। জল প্রায় নেই বললেই হয়। কেমন একটা চাপা দুর্গন্ধ আসছে নীচ থেকে। এ সময়ে এদিকে লোকজন খুব একটা আসে না। সিঁড়ির শুরুতে পান্ডার দোকানে বসে দু’চারজন গুলতানি করছে। আমাদের দেখে ওরা কথা বন্ধ করল। সবক’টা চোখ যেন আমাদের দিকেই। ওদের হাবভাবে মনে হচ্ছে, আমাদের দেখে ওরা বেশ অবাকই হয়েছে। কয়েক ধাপ নেমে আমরা একটা সিঁড়িতে বসতেই, ওরা আবার কথা শুরু করল। মাঝে মাঝে নীচের দিকে চাইছে। ওদের আলোচনার বিষয় বোধহয় আমরাই। যেখানে বসেছি, একটু নেমে বাঁদিকে সিঁড়ির পাশেই একটা বটগাছ। কিছু ডালপালা সমেত ঝুঁকে পড়েছে নীচের তিরতিরে জলে আলো ছায়ার খেলা। —খুব তো জমিয়ে বসলে, বাড়ি ফিরবে না? তিথি উত্তর দেয় না। হাতের ব্যাগটা কোলে রেখে, শাড়ির পাড় টেনে টেনে সমান করতে করতে বলে, —ইস, কতদিন এমন নিরিবিলিতে বসিনি!
বললাম,—আমাদের এই শহরে তো নিরিবিলি জায়গা নেই, তোমাদের ওখানে? থাকলেই বা, গল্প করার লোক কোথায়? দু’একটা ইটের টুকরো জলের দিকে ছুঁড়ে দেয় তিথি, আর কোনও কথা বলে না। কিছুক্ষণ দু’জনেই চুপচাপ বসে থাকি। ও হয়তো চাইছে, আমি কিছু বলি। কিন্তু কীভাবে কী বলব বুঝতে পারছি না। কেমন যেন অস্বস্তি হচ্ছে। পকেটে হাত দিয়ে সিগারেট খুঁজি। না, একটাও নেই। অগত্যা, রুমালে মুখটা বার কয়েক মুছে নিলাম। পান্ডাদের দোকান থেকে এখন আর কোনও শব্দ আসছে না। কালীঘাটের মন্দিরে সন্ধ্যা-আরতির শব্দ। এপার-ওপার করার জন্য দু’টো নৌকা বাঁধা। কেউ পারাপার করছে না। ভাটার টানে কীসের যেন একটা কঙ্কাল ভেসে এসেছে। একটা কুকুর পাশ দিয়ে ছুটে নেমে গেল। হাওয়ায় ভ্যাপসা গন্ধ ভেসে আসতেই মনে হল, এবার উঠতে হবে।
কী আর বলি, উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললাম—তোমার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে চল্লিশের কাছে পৌঁছে—তার পরেও তো কয়েক বছর কেটে গেল—উঠে দাঁড়ায় তিথি। সিঁড়ি দিয়ে আমরা ওপরে উঠতে না উঠতেই, এদিকের দোকানের আলো নিভে গেল। আবছা অন্ধকারে কে যেন নিচে নেমে যাচ্ছে। বললাম ওকে, আসলে কী জানো, কেমন যেন ভয় করে। আর পাঁচজনের মতো পেরে উঠব কি না জানি না—
একবার মুখ তুলে আমার দিকে চেয়ে, মাথা নীচু করে হাঁটতে থাকে তিথি। কতদিন আর এভাবে চলবে?
রাস্তার দু’দিকের সব আলো এখন জ্বলছে। সোজা এগিয়ে গেলে কালীঘাটের মন্দির। সন্ধ্যা-আরতি শেষ হওয়ায়, ওদিক থেকে আর কোনও শব্দ আসছে না। বাঁদিকের রাস্তাটা কালীঘাট ব্রিজের দিকে গেছে। আমরা সামনের দিকে এগুতে থাকি। —কী জানো, আমাদের সম্পর্কটা কেমন যেন নিরুত্তাপ হয়ে পড়েছে—
তিথি একবার শুধু চাইল আমার দিকে। খুব আস্তে নিঃশ্বাস ফেলল। পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে মনে হল, আমাদের এমন কিছু করা উচিত, যাতে সব কিছু তোলপাড় হয়ে যায়। উলটে-পালটে যায়। হঠাৎ মনে হল কথাটা। আজকাল মাঝে মাঝেই এইরকম মনে হয়। কিছুই করতে পারি না। তিথি আড়চোখে আমাকে দেখে নিয়ে বলল, কী করতে চাও, শুনি? উত্তরে শুধু হাত নাড়লাম। বলার কিছুই নেই। কী যে করতে চাই, তা আমি কী জানি?
তিথি আর কিছুই বলছে না। অন্যমনস্কভাবে হাতের ব্যাগটা ঘোরাচ্ছে। ভেতরে ভেতরে আমি কেমন অস্থির হয়ে পড়ছি। রাস্তায় বেশ ভিড়। দু’পাশের দোকানে আলো ঝলমল করছে। রিকশা-ট্যাক্সি-প্রাইভেট। চারদিকে শব্দ, আলো আর ভিড়ে খুব জোরে একবার চিৎকার করে উঠতে ইচ্ছে হচ্ছে। চলতে চলতেই ওর একটা হাত ধরে বললাম—কিছু বলবে না? —কী বলব! হাত ছাড়িয়ে নেয় তিথি। পর মুহূর্তেই কেমন যেন ক্লান্ত বিষণ্ণ মনে হল।
আমরা বাস রাস্তায় এসে পড়লাম। সামনেই বাস স্টপ। শেডের নীচে কেউ দাঁড়িয়ে নেই। আমরা যেতেই আর একজন এসে দাঁড়াল। এবার চলে যাবে তিথি। আমাকেও তো ফিরতে হবে। কাল থেকে আবার একরকম। বাড়ি, অফিস, আড্ডা। বাস মিনিবাস ভিড়। কারণে-অকারণে রাস্তায় হাঁটা। কীভাবে যে দিনগুলি যায়! মাঝে মাঝে ওর চিঠি এলে, বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে ওঠে। ইচ্ছে হয় চিৎকার করে সবাইকে বলি। ছুটে গিয়ে রাস্তার সব গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিই। উঁচু একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে সবাইকে শুনিয়ে ওর চিঠিটা পড়তে থাকি। কিন্তু তা হয় না। হতে পারে না। আজকের এই সময়টুকু যদি—
লাল মিনিবাসটা এসে দাঁড়াতেই, তিথি আমার দিকে চেয়ে হেসে হাত নাড়ল। চলি—
মিনিটা ওকে নিয়ে চলতে শুরু করতেই, একটু এগিয়ে গিয়ে বললাম,—আবার কবে আসবে? হেসে মাথা নাড়ে তিথি। গাড়িটা ওকে নিয়ে সামনের দিকে ছুটে যায়।
অলংকরণ : ইন্দ্রনীল ঘোষ
14th  May, 2017
হিমগিরি রাজরানি দুগ্গা মা আমার 

সুব্রত মুখোপাধ্যায়:  ‘তোমার বাপের কাঁধে— নগেন্দ্রের ঘাড়ে
তুঙ্গ শৃঙ্গোপরে সিংহ— দেখ গিরিবালে।
সিমলা পাহাড়ে ধ্বজা, উড়ায় করিয়া মজা,
পিতৃসহ বন্দী আছ, হর্ষ্যাক্ষের জালে।
তুমি যারে কৃপা কর, সেই হয় ভাগ্যধর—
সিংহের চরণ দিয়ে কতই বাড়ালে।
জনমি ব্রাহ্মণ কুলে, শতদল পদ্ম তুলে
আমি পূজে পাদপদ্ম পড়িনু আড়ালে!
রুটি মাখন খাব মা গো। আলোচাল ছাড়ালে!’
বিশদ

24th  September, 2017
খোলস 

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়:  থাকার মধ্যে গঙ্গার ধারে এই ছোট্ট দোতলা বাড়িটা ছাড়া আমার আর কিছুই নেই। যাদের নিয়ে একদিন একটি খেলাঘর শুরু হয়েছিল, তারা সব বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একে একে সরে পড়েছে। এ দেয়ালে একটা ছবি, ও দেয়ালে একটা ছবি। হাসি হাসি মুখ। ছবিতে সকলকেই হাসতে হয়।
বিশদ

24th  September, 2017
বর্গি এল দেশে
বারিদবরণ ঘোষ

 ছেলে ঘুমল পাড়া জুড়াল, বর্গি এল দেশে/টিকটিকিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে? এই ছড়াটা পড়বামাত্র পাঠকদের মধ্যে একটা হইচই পড়ে যাবে। সবাই একসঙ্গে গলা চড়িয়ে প্রতিবাদ করবেন—আজ্ঞে মশায়, ‘টিকটিকি’ নয়, ধান খেয়েছিল বুলবুলিতে! আচ্ছা মশায়, টিকটিকিতে ধান যদি না খায়, তবে কি বুলবুলি পাখিদের ধান খেতে দেখেছেন কেউ? বিশদ

17th  September, 2017
কিছু পথ কিছু কথা ক ল কা তা
তরুণ চক্রবর্তী

 এ শহরে আজও এমন গলি আছে অনেক যেগুলির অঙ্গ থেকে প্রাচীন নামগুলি মুছে যায়নি। সরকারিভাবে নতুন নাম দেওয়া হলেও লোকমুখে আজও থেকে গিয়েছে পুরনো নামগুলি। এমনই একটি গলিপথ বউবাজার স্ট্রিটের উত্তর দিক থেকে শুরু হয়ে ‘দ’-এর মতো বেঁকে প্রেমচাঁদ বড়াল স্ট্রিটে গিয়ে পড়েছে। এটির নাম নবীনচাঁদ বড়ালের নামে রাখা হলেও ‘হাড়কাটা গলি’ নামেই সবাই চিনবে। কলকাতা পুরসভার ১৮০৬ সালের নথিতে এ পথের উল্লেখ আছে।
বিশদ

17th  September, 2017
হিউ ম্যান
শুচিস্মিতা দেব

মিনতির কলকাতার জীবন মোটামুটি স্বচ্ছন্দ। শরীর ষাটের ঘরেও বেশ সুস্থ। প্রেশার, সুগারকে ডজ করে এগচ্ছে। পাল পাল বন্ধুবান্ধব, আড্ডা, গান, বইপড়া, কবিতা পাঠ। এছাড়া কলকাতায় সস্তায় সিনেমা, নাটক দেখার যথেষ্ট সুবিধা। তার উপরে আছে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে সত্যনারায়ণ পুজো, জন্মদিন আরও কত কী!  বিশদ

17th  September, 2017
অভয়কে রজনীর হাতে সমর্পণ করলেন লোকনাথজি

অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় : আস্তে আস্তে অন্ধকার কাটছে, আর একটু বাদেই সূচনা হবে নতুন এক দিনের। ঘরের দরজা খুলে আশ্রম প্রাঙ্গনে এসে দাঁড়ালেন অভয় ব্রহ্মচারী। লোকনাথবাবার ঘরের দরজা তখনও বন্ধ। পাখিদের কল-কাকলিতে বারদির আকাশ-বাতাস মুখরিত। আজ যেন একটু চিন্তিত লাগছে অভয়চরণকে।
বিশদ

10th  September, 2017
ভা লো মা নু ষ - ম ন্দ মা নু ষ
ভীরু মানুষের ঘরবাড়ি

অমর মিত্র : ঘরবাড়ি মানুষ একবারই করে। একবার করে যা শেখে তা সমস্ত জীবনে ভুলতে পারে না। একবার শিখে পরেরবার করতে গিয়ে তা যে ব্যবহার করবে, সে উপায় নেই। এই বিদ্যা অন্যকে দিয়েও লাভ হয় না। নিজে নিজে শিখতে হয়। রামেশ্বর এখন কেমন আছে আমি জানি না। বাড়ি তৈরি করে দখল হয়ে যাওয়ার ভয়ে না পেরে বেচে দিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে সেই যে সেই শহরতলি থেকে চলে এলাম আর যাইনি।
বিশদ

10th  September, 2017
রাধারানির গল্পকাঁথা

কাঞ্চনকুন্তলা মুখোপাধ্যায় : ‘রাধারানি নামে একটি বালিকা’—গল্পের একটা ছেঁড়াপাতা যেন বাঁশপাতার মতো সুদেষ্ণার চোখের সামনে দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। গুরুসদয় মিউজিয়ামের করিডর পেরিয়ে সবুজ লনে পড়তেই হালকা হাওয়ায় চোখের সামনে উড়ে চলেছিল সেই বাঁশের পাতা।
বিশদ

10th  September, 2017
লীলাবতী লীলাকাহিনি
বারিদবরণ ঘোষ

 লীলাবতীর নাম আমাদের অনেকেরই শোনা। কিন্তু তা পেতে শুতে হয়, না গায়ে দিতে হয়—সেই ব্যাপারটা সম্ভবত ততখানি স্পষ্ট নয়। লীলাবতী বিখ্যাত হিন্দু গণিতজ্ঞ এবং জ্যোতির্বিদ—একথা আমরা অনেকেই জানি।
বিশদ

03rd  September, 2017
কিছু পথ কিছু কথা ক ল কা তা
তরুণ চক্রবর্তী

 পলাশির যুদ্ধের পরবর্তীকালে যেসব অঞ্চল ইংরেজ কোম্পানির জমিদারির আওতায় আসে তার মধ্যে একটি হল হোগলকুড়িয়া। মারাঠাখাল দিয়ে ঘেরা যে ভূভাগকে শহর কলকাতার সীমানা করা হয়েছিল তার মধ্যেই ছিল এই মৌজাটি। বর্তমানে যে অঞ্চলে সাহিত্য পরিষদ স্ট্রিট, সেকালে ওই জায়গাটিতে ছিল হোগলার বন। সেখানকার একটি রাস্তার নামও হয়েছিল হোগলকুড়িয়া গলি।
বিশদ

03rd  September, 2017
জামাইয়ের সাইকেল
বিপুল মজুমদার

 জামাইষষ্ঠীতে লজ্‌ঝড়ে মার্কা এক সাইকেল নিয়ে জামাইকে বাড়িতে ঢুকতে দেখে দোতলার ব্যালকনিতে বসা দু’জনেরই চক্ষু চড়কগাছ। প্রথম আর্তনাদটা ছিটকে বের হল কাকাশ্বশুর অজিত চ্যাটার্জির মুখ থেকে। পাশে বসা দাদা অভ্রনীলকে বললেন, ‘মাই গড। এরকম একটা সাইকেল ওঙ্কার জোগাড় করল কোথা থেকে! এ যে জাদুঘরে রাখার মতো জিনিস!’
বিশদ

03rd  September, 2017
একনজরে
 হরিহর ঘোষাল, বারাকপুর, বিএনএ: কামারহাটি পুরসভায় রেশন কার্ড নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের কার্ড প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিলি করা না হলেও একজন রেশন ডিলারের কাছে ভূরি ভূরি কার্ড জমা পড়েছে। ...

বার্লিন, ২৫ সেপ্টেম্বর: বুথ ফেরত সমীক্ষায় পাওয়া আভাসই শেষমেশ সত্য হল। চতুর্থবার জার্মানির চ্যান্সেলর নির্বাচিত হলেন অ্যাঞ্জেলা মার্কেলই। ৩২.৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে মার্কেলের দল। আর ...

 বাংলা নিউজ এজেন্সি: মহাপঞ্চমীতে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও আরামবাগে বহু পুজোর উদ্বোধন হয়ে গেল। এদিন বিকাল থেকেই জেলার মণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের ঢল নামতে শুরু করে। তবে, এদিনও কয়েকটি পুজোর প্যান্ডেলে শিল্পীদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারতে দেখা যায়। ...

 নয়াদিল্লি, ২৫ সেপ্টেম্বর: স্টেট ব্যাংকের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া ছ’হাজার কোটি টাকার বেশিটাই কাগুজে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন কিংফিশার কর্তা বিজয় মালিয়া। তদন্তে নেমে এমনই তথ্য পেয়েছে সিবিআই ও ইডি। খুব তাড়াতাড়ি এই তথ্য সম্বলিত চার্জশিট দেবে ওই দুই ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

গুপ্ত শত্রুতা বৃদ্ধি। কর্মে উন্নতি। ব্যবসায় অতিরিক্ত সতর্কতার প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষায় সাফল্য। শরীর-স্বাস্থ্য ভালো যাবে।প্রতিকার: বট ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮২০: মনীষী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্ম
১৯২৩: অভিনেতা দেব আনন্দের জন্ম
১৯৩২: ভারতের চতুর্দশ প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের জন্ম
১৯৭৭: নৃত্যশিল্পী উদয়শংকরের মৃত্যু
১৯৮৯: সঙ্গীতশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.০১ টাকা ৬৫.৬৯ টাকা
পাউন্ড ৮৬.২৫ টাকা ৮৯.১৭ টাকা
ইউরো ৭৬.০১ টাকা ৭৮.৬৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,২৫৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৭০৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,১৩৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৯ আশ্বিন, ২৬ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী, নক্ষত্র-অনুরাধা দং ৩/৫১ দিবা ঘ ৭/৩, সূ উ ৫/৩০/২, অ ৫/২৬/১২, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/১৭ মধ্যে পুনঃ ৭/৫ গতে ১১/৪ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/৪৯ গতে ৮/৩৯ মধ্যে পুনঃ ৯/২৭ গতে ১১/৫২ মধ্যে পুনঃ ১/২৯ গতে ৩/৬ মধ্যে পুনঃ ৪/৪১ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৬/৫৯ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৮ গতে ২/২৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৫৯ গতে ৮/২৮ মধ্যে।
৯ আশ্বিন, ২৬ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী, অনুরাধানক্ষত্র ৭/৯/৪, সূ উ ৫/২৮/৩৬, অ ৫/২৭/১৩, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৬/৩০, ৭/৪/২৫-১১/৩/৫৭, রাত্রি ৭/৫১/৩০-৮/৩৯/৩৫, ৯/২৭/৪১-১১/৫১/৫৭, ১/২৮/৮-৩/৪/১৯, ৪/৪০/৩০-৫/২৮/৫৬, বারবেলা ৬/৫৭/২৬-৮/২৮/১৫, কালবেলা ১২/৫৭/৪৪-২/২৭/৩৪, কালরাত্রি ৬/৫৭/২৩-৮/২৭/৩৪।
 ৫ মহরম

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ভিড়ের জেরে আজও বাড়ানো হল রাতের শেষ মেট্রোর সময় 
ষষ্ঠীর রাতে কলকাতা শহরে জনজোয়ারের জেরে এদিনও রাতের ...বিশদ

09:42:56 PM

সল্টলেকের ইসি ব্লকের কাছে অটো উলটে চালক-সহ জখম ৪

02:37:00 PM

বড়সড় রেল দুর্ঘটনায় হাত থেকে রক্ষা, একই লাইনে চলে এল ৩টি ট্রেন
বড়সড় রেল দুর্ঘটনায় হাত থেকে রক্ষা। এলাহাবাদের কাছে ...বিশদ

01:44:46 PM

গাজিয়াবাদে ব্যবসায়ীকে খুন, মৃতের নাম রাজেন্দ্র আগরওয়াল (৭৫)

01:24:00 PM

আজ দিল্লি আদালতে দুপুর ২টো নাগাদ হানিপ্রীতের আগাম জামিনের শুনানি

01:19:00 PM

দার্জিলিংয়ে খুলল অধিকাংশ দোকানপাট

01:08:00 PM

ঝাড়গ্রামে ২টি বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি
সোমবার রাতে ঝাড়গ্রাম শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বামদা এলাকায় চুরির ...বিশদ

01:01:00 PM