গল্পের পাতা
 

একমুঠো রোদ্দুর 

রম্যাণী গোস্বামী:  কার্শিয়াং শহর ছাড়িয়ে সিনগেল টি-এস্টেট। তারই মাঝে এই রিসর্ট। রিসর্ট থেকে অনেক নীচে তাকালে দেখা যায় সবুজের মাঝখানে তিরতির করে বয়ে চলেছে ক্ষীণকায়া পাহাড়ি নদী। রিসর্টের পাশেই একটা নাম না জানা ঝোরা। কুয়াশায় ভিজে আছে ঝোরার বুকে বড় বড় পাথরের গায়ে জমে থাকা পুরু শ্যাওলা স্তর। কনকনে শীত-ভোরের আকাশ আজ একদম পরিষ্কার ছিল। এখন আবছা মেঘ ছেয়ে গেছে চারপাশে। দু’দিন আগেই টাইগার হিলে বরফ পড়েছে। ঠান্ডাটা তাই এবার একটু বেশিই। রিসর্টের এদিকটা ফাঁকা ফাঁকা। দুটো মাঝারি সাইজের ফোর বেডেড ফ্যামিলি রুমের একটিতেও এখন কোনও বুকিং নেই। সুন্দরভাবে সাজানো মোজাইক করা ওপেন টেরাসের কোনায় কোনায় বাঁধানো সিমেন্টের টবে রঙ-বেরঙের পাহাড়ি ফুল উপচে পড়ছে। ছাদময় বড় বড় রঙিন ছাতার তলায় বেতের চেয়ার-টেবিল পেতে রাখা। তেমনই একটি বেতের চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে বসে আছে সমুদ্র। এই হোম স্টে কাম রেস্তোরাঁর মালিক সমুদ্র সান্যাল।
সমুদ্রের চোখে এখন মগ্নতা। দূরের পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে ধোঁয়াটে রঙের মেঘের ভেসে যাওয়া দেখছে ও। খুবই একঘেয়ে দৃশ্য। দেখার কিছুই নেই। মেঘ না থাকলে ওদিকে তাকালেই দেখা যেত পাহাড়ের গায়ে গাঢ় সবুজ চা গাছের মসৃণ গালিচা, চকচকে টিনের শেড। চা পাতার গন্ধে দিনভর মজে থাকে এলাকাটা। মাঝারি আয়তনের এই রিসর্টের ডাইনিং হল, ওপেন এয়ার ক্যাফেটেরিয়া, ওপেন ইটিং এরিয়া, প্রতিটি ঘরের জানালা আর ঘর লাগোয়া বারান্দা— সব জায়গা থেকেই চোখে পড়ে পাহাড়ের কোল ঘেঁষা কার্শিয়াং শহর এবং আকাশ পরিষ্কার থাকলে অবধারিতভাবেই কাঞ্চনজঙ্ঘা। কাঞ্চনজঙ্ঘার বুকে সূর্যের আলোর রং বদলানো দেখতে দেখতে উষ্ণ চায়ে ঠোঁট ডুবিয়ে দেওয়াটা সবচাইতে বেশি উপভোগ করেন এই হোম স্টেতে থাকতে আসা ভ্রমণপিপাসু মানুষ। কিন্তু আজ সকালের ধূসর মেঘের নিরন্তর ভেসে যাওয়ার মধ্যে তেমন ‘এক্সাইটিং’ কিছুই নেই।
আসলে সমুদ্র এসব কিছুই দেখছে না। কাকভোরে ওর ঘুম ভেঙে গেছে অভ্যাস মতোই। কিন্তু ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে সারা গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো যে অনুভূতি, তারপরই গলার কাছে একটা সুস্পষ্ট কষ্টের জন্ম— এগুলো নতুন। একই সঙ্গে তীব্র আনন্দের শিহরন জেগে ওঠা আবার এক গভীর অতল বিষাদে ডুবে যাওয়া, এই দু’য়ে মিলে আজ ওর সকালটা বেশ অন্যরকম।
সমুদ্র এমনই তন্ময় হয়েছিল যে টেরই পায়নি কখন যেন রোশন এসে দাঁড়িয়েছে ওর সামনে। রোশন রেগমি ছেত্রী। এই রিসর্ট কাম রেস্তোরাঁর হেড কুক। এমন নিঃশব্দে চলাফেরা করে ছেলেটা যে সাড়াই পাওয়া যায় না। ওর দিকে তাকাতেই সমুদ্রের হাতে একটা লম্বা লিস্ট ধরিয়ে দিল রোশন। আজকের সম্ভাব্য মেনু তালিকা। স্টার্টার টু ডেজার্ট, সবেতেই যথারীতিই অভিনবত্বের ছোঁয়া। সমুদ্র আলগা চোখ বুলিয়ে নিয়ে একটা হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়তেই ছেলেটা ফের লঘু পায়ে চলে গেল কিচেনের দিকে। সমুদ্র চুপ করে দেখছিল সেই চলে যাওয়া। এই একটা লোকের জন্যই দাঁড়িয়ে আছে ওর ব্যাবসাটা। ওর খোঁজ না পেলে হয়তো সমুদ্রকে আবার ফিরে যেতে হত কলকাতায়।
কলকাতার কথা মনে পড়তেই ক্যামেরায় দ্রুত শাটার নেমে আসার মতো সমুদ্রর চোখে পরপর ফুটে উঠল ভিড়ে ঠাসা বাস, ময়দান, ট্রাম লাইন, গড়িয়ার ছোট্ট ফ্ল্যাটের চিলতে বারান্দাটা। বাইপাসের যানজট, মেট্রো রেলের ভোঁ এসব ছাপিয়েও ঢাকুরিয়া লেকের ধারের রাধাচূড়া গাছটা ভেসে এল মনে। তারপর এল ইলা, ফোকাসে ওর তীক্ষ্ণ নাক, থুতনির কাটা দাগ, পিছনে আবছা হয়ে যাওয়া রঙিন বসন্ত বিকেল। সদ্য স্নান সেরে বেডরুমে আসার পর ওর গায়ের নিজস্ব মেয়েলি গন্ধটা মুহূর্তের জন্য নাকে এসে ধাক্কা দিল। তারপরই পোড়া ডিজেলের, ঠাসা ভিড়ের মধ্যে লোকজনের গায়ের ঘামের, নোংরা আর আবর্জনার তীব্র কটু গন্ধে মাথাটা গুলিয়ে উঠল সমুদ্রর। মুখ হাঁ করে শ্বাস নিতে নিতে ফুসফুসে ও ভরে নিল ঠান্ডা ভেজা কলুষতাহীন বাতাস। দু’হাতের তালু দিয়ে ঘষে নিল গোটা মুখ।
ইলার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর থেকে ও আর একদিনও কলকাতায় যায়নি। ষোলোটা বছর! ভাবা যায়? অবিশ্বাস্য!

— গুডমর্নিং স্যার। দু’হাতে ব্রেকফাস্টের ট্রেটা গোল বেতের টেবিলে নামিয়ে রেখে মৃদু হেসে বলল লতিকাদি। হালকা লেমনগ্রাসের সুগন্ধ ভেসে আসছে ফিনফিনে সাদা চায়ের কাপ থেকে। রোস্টেড পেপারস অন টোস্ট আর নরম তুলতুলে এগ পোচ। এটা সমুদ্রর ফেভারিট। সমুদ্র টরাস। খেতে ও খাওয়াতে ভালোবাসে। কলকাতা থেকে এখানে এসে একটা ছোটমতো ক্যাফেটেরিয়া খুলেছিল। লতিকাদিদি স্থানীয় মহিলা। উনি মোমো বানাতেন। সমুদ্র কফিটা নিজের হাতেই তৈরি করত ভারী যত্নে। তবুও দার্জিলিং-এর পথে হুস করে চলে যাওয়া গাড়িগুলো কয়েকটা মাত্রই এসে দাঁড়াত এই অরগানিক টি এস্টেটের ধারে। ধীরে ধীরে কোনও জাদুমন্ত্রবলে তৈরি হল রেস্তোরাঁ তারপর এই রিসর্ট। রিসর্টের পিছন দিকটায় রয়েছে ওদের নিজস্ব অরগানিক ভেজিটেবল গার্ডেন। লেমনগ্রাস, পুদিনা, পেঁয়াজকলি, লেটুস, ফুলকপি এমন আরও কত সবজির টাটকা মায়াবী স্বাদে ভরে উঠল ডিশ। ভিড় বাড়তে লাগল। অথচ জমিটা উত্তরাধিকার সূত্রেই পাওয়া। এতদিন কী অবহেলায় না পড়েছিল চা বাগানের নির্জনতা মাখা এই অদ্ভুত শান্ত সমাহিত পরিবেশে। ইলার সঙ্গে সেপারেশনের পর কলকাতায় ভালো লাগছিল না আর। দুম করে অ্যাড এজেন্সির চাকরিটা ছেড়ে ফ্ল্যাট তালাবন্ধ করে কেয়ারটেকারের হাতে চাবির সঙ্গে এখানকার ঠিকানাটাও গুঁজে দিয়ে এসেছিল। মনের কোনায় ক্ষীণ আশা ছিল কোথাও। ইলা কি একবারও আসবে না?
ইলা আসেনি। আজ এতদিন পরে লিলি এসেছে সেই ঠিকানায়। ইলার মেয়ে লিলি।
আজ আর রোদ উঠবে না মনে হচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়া ধোঁয়া মেঘ পাক খেতে খেতে কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠে আসছে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে ঘেঁষে। চারপাশের সেই একঘেয়ে ধোঁয়াটে ক্যানভাসে হঠাৎ রঙের চঞ্চলতা জেগে উঠল। ব্লু জিন্সের সঙ্গে পার্পল লং কোট, গলায় ব্লু মাফলার পরা ছটফটে তরুণীটি এদিক-ওদিক তাকাতে তাকাতে এই টেবিলের দিকেই এগিয়ে আসছে ক্রমশ। সমুদ্র টের পেল সে যেন তলিয়ে যাচ্ছে গভীর স্মৃতিভারে। আহ্‌, কতদিন পর... অবিকল ইলার মুখটা কেটে বসানো। শরীরের ভেতরের কাঁপুনিটা সামলানোর চেষ্টা করছিল সমুদ্র। ভেতরের উথালপাতালকে যতটা সম্ভব শান্ত রেখে ওকে ইশারায় দেখিয়ে দিল সামনের চেয়ারটা।
লিলিও যেন একটু নার্ভাস। দু’হাত কোলের উপর রেখে বসেছে জড়সড় হয়ে। আনত চোখ। সমুদ্র তাকিয়ে দেখল একবার। মায়ের চাইতেও বেশি সুন্দরী হয়েছে মেয়ে। বরং সেই উগ্রতার বদল এক আশ্চর্য কোমলতা। লিলি চেয়ারে বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই লতিকাদি ট্রেতে চা আর ব্রেকফাস্ট এনে সাজিয়ে রেখে গেছে টেবিলে। প্লেটের খাবারগুলো খুঁটছিল মেয়েটা আপন মনে।
— এতটা জার্নি করে এসেছ, খেয়ে নাও। গলা খাকরানি দিয়ে বলল সমুদ্র। কচি মুখখানা দেখে তুই বলার ইচ্ছে হচ্ছে খুব। কিন্তু মনকে শাসন করল ও প্রাণপণে।
— আমি ফ্লাইটে ব্রেকফাস্ট করেছি তো। ধনুকের মতো ভুরু বাঁকিয়ে বলল লিলি।
এই রে! এও কি ওর মায়ের মতোই খ্যাপাটে? হেসে ফেলল সমুদ্র। বলল, আরে, চাটা তো খাও। এ হল চায়ের দেশ। দেখো, কত আরাম পাবে ঠান্ডায়।
একটু ইতস্তত করে চায়ের কাপে ঠোঁট ছোঁয়াল লিলি। তারপরই একটু বিস্ময় আর অনেকটা খুশি চলকে পড়ল ওর মুখে। গরম চায়ের উষ্ণ আমেজে চোখ বুজে এল। জোরে শ্বাস টেনে বলল লিলি, আহ্‌! তারপর বাহারি স্টিলের চামচে সামান্য চিনি তুলে নিয়ে চায়ে মেশাতে আরম্ভ করল ও।
চায়ের কাপে টুংটাং আওয়াজ জলতরঙ্গের মতো কানে ভেসে এল সমুদ্রর। হঠাৎই মনটা ভালো লাগছে ভীষণ। খুশিয়াল গলায় বলল ও, তাও তো আমাদের টি বুটিকটায় এখনও যাওনি তুমি। টি ব্লেন্ডার ছেলেটি নিমেষের মধ্যে প্রায় পঞ্চাশ রকমের চা বানিয়ে দেবে তোমায়। হরেকরকম স্বাদের চা। দারচিনি-কমলা-গোলমরিচ-আপেল— যে ফ্লেভারে চাও। এখন রেস্ট নাও। বিকেলে নিয়ে যাব তোমায়।
—বিকেল অবধি তো থাকব না আমি। রাতের ফ্লাইটেই কলকাতায় ফিরে যাব। আমাকে বাগডোগরা যাওয়ার জন্য একটা ক্যাব অ্যারেঞ্জ করে দেবে প্লিজ?
একটা ধাক্কা খেয়ে চুপ করে গেল সমুদ্র। হতাশ লাগছে। কঠিন অদৃশ্য এক বর্ম জড়িয়ে নিয়েছে লিলি ওর সমগ্র সত্তায়। এইটুকু বয়স থেকে সে শুধুই কদর্য ঝগড়া দেখেছে বাবা মায়ের। দোষ তো ওর নয়। বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যেদিন কথা কাটাকাটি চলছিল ইলার সঙ্গে, রাগে চাদর বালিশ তোলপাড় করছিল ইলা। ছুঁড়ে ছুঁড়ে মেঝেতে ফেলছিল সব। সমুদ্রও কম যায়নি। নেশার ঘোরে ইতরের মতো গায়ে হাত তুলেছে ওর। অশ্লীল গালাগালি করেছে। আড়াই বছরের মেয়েটা ভয়ে ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে এসব দেখতে দেখতে বিছানা ভাসিয়ে ফেলেছে। ইলা যেদিন মেয়ে নিয়ে চলে যায় তখন লিলি পাঁচ বছরের একরত্তি একটা মেয়ে। তবুও ওর চোখের পরিণত চাহনি ভুলতে পারেনি সমুদ্র আজও। আজ কী-ই বা দিতে পারে ও এই মেয়েকে? কতকগুলো শুকনো অর্থহীন কাগজের মূল্য কি ওর হারিয়ে যাওয়া শৈশবের চাইতেও বেশি? ইলা ডিভোর্সের পরও মেয়ের কাস্টডি ছাড়েনি। নিজে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিল আর মেয়েকে পাঠিয়ে দিয়েছিল হস্টেলের কড়া অনুশাসনের মধ্যে। কলকাতায় না গেলেও লোকমুখে সব খবরই পেয়েছিল সমুদ্র। সেই ক্ষতি কি পূরণ করা সম্ভব আজ নিজের সমস্ত প্রপার্টি ওর নামে লিখে দিয়ে? বড্ড হতাশ লাগছে। বড্ড হতাশ। এমন কিছুই তো নেই সমুদ্রর কাছে যার বিনিময়ে ও নিজের একমাত্র সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে পারে। অসহায়ভাবে চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়াল সমুদ্র। খড়কুটো আঁকড়ে ধরার মতো করে বলল, ভেবেছিলাম আমার যা কিছু আছে সেসব দেখিয়ে বুঝিয়ে দেব তোমায়, তুমি ছাড়া কেই বা আছে আমার। কিন্তু ইফ ইউ আর নট ইন্টারেস্টেড, আমি জোর করব না। আমার অনুরোধ রেখে আজ এখানে এসেছ, সেজন্য আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ। কথাগুলো বলেই নিজের অ্যাপার্টমেন্টের দিকে রওনা হল সমুদ্র। শরীরটা কেমন যেন ভারী লাগছে। বুকে চাপ চাপ ব্যথা। বলি বলি করেও বলতে পারল না যা, তা হল, মাই ডেজ আর নাম্বারড। দুটো অ্যাটাক হয়ে গেছে। এখন শুধু অপেক্ষা।
— বাপি ওটা কী? কী ওখানে?
মেয়ের তীক্ষ্ণ স্বরে চমকে ফিরে তাকাল সমুদ্র। দ্রুত পায়ে ছুটে এল মেয়ের কাছে। ঝলকে ঝলকে রক্তপ্রবাহ ছুটে আসছে তার শরীরের অভ্যন্তরের শিরা-উপশিরা বেয়ে। আহ্‌, কতদিন পর সেই চেনা ডাক। সন্তানের মুখে এই ডাক শোনার কী অবর্ণনীয় সুখ!
— কী হয়েছে? কী হয়েছে রে? উদ্বিগ্ন গলায় জিজ্ঞেস করল সমুদ্র।
লিলি এক হাতের আঙুল দিয়ে খামচে ধরল সমুদ্রর হাত আর তারপর ঩নিস্পন্দ হয়ে তাকিয়ে থাকল দূরের পাহাড়ের দিকে। জোরে জোরে শ্বাস-প্রশ্বাসে ওঠা-নামা করছে ওর বুক। উত্তেজনায় লালচে দেখাচ্ছে মুখাবয়ব। আচমকা মেঘ কেটে গিয়ে পাহাড়ের গায়ের কিছুটা জুড়ে রোদে ঝলমল করছে গাঢ় সবুজের বুকে কার্শিয়াং শহর আর তার মাথায় মুকুটের মতো ঝকঝক করছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। এত বছর পরও সমুদ্রর কাছে পুরানো হয়নি যে দৃশ্য তা জীবনে প্রথমবার লিলিকে দেখা দিয়ে ওকে চূড়ান্ত বিস্ময়ে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
সমুদ্রর চোখ দিয়ে জল পড়ছিল নিঃশব্দে। মনে মনে বলছিল ও, এই নে মা, কিছুই তো পারিনি দিতে। চলে যাওয়ার আগে একমুঠো রোদ্দুর উপহার দিলাম তোকে।
অলংকরণ: সুব্রত মাজী
23rd  April, 2017
কবির পুরস্কার
চন্দন চক্রবর্তী

‘কি হল! সকালবেলাতেই বিছানায় বসে কবিতার জাবর কাটছ!’ দুখিরাম তখন কবিতার ডায়েরিটা খুলে সবে বসেছে। গতকাল রাতে একটু বৈশাখী ঝড়, টুপুর টুপুর বৃষ্টি হয়েছে। সকালের মেঘেও নরম খবর। দুখিরামের স্ত্রী সতী রকম সকম দেখে কথাটা বলে দাঁড়ায়। গলায় শ্লেষ এনে বলে!
বিশদ

22nd  October, 2017
ফুটবল ঘিরে জেগে উঠেছে এক বুক স্বপ্ন

কলকাতা এমনই এক জা‌য়গা যেখানে ভারত বা কলকাতার কোনও দলের খেলা থাকলে দর্শকের ভিড়ে মাঠ উপচে পড়ে, কিন্তু বিদেশি খেলায় উৎসাহ থাকে অনেকটাই স্তিমিত। এবারে কিন্তু তার উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। লিখেছেন সুকুমার সমাজপতি। বিশদ

15th  October, 2017
বনানীগড়ের ঝগড়ামহল
রতনতনু ঘাটী

সে রাজ্যের নাম বনানীগড়। সে এক ভারী মজার রাজ্য। তার দক্ষিণ দিকে একটা মস্ত উঁচু পাহাড়। উত্তর দিকে ধু ধু মরুভূমি। পুব দিকে বিরাট সাগর। আর পশ্চিম দিকে দিগন্তের পর দিগন্তে মিশে যাওয়া আকাশ। রাজা না থাকলে কি আর রাজ্য হয় নাকি? তাই সে রাজ্যেরও একজন রাজাআছেন। তাঁর নাম পক্ষীকেতু। সেই রাজার রানিও আছেন একজন। তাঁর নাম কুসুমকান্তা।
বিশদ

15th  October, 2017
লোকনাথজির কৃপায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন নিশিকান্ত বসু 

অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়
পর্ব-২৬
ডাক্তার নিশিকান্ত বসু, বিএসএমডি। পিতা রজনীকান্ত বসু। মাতা রাজকুমারী বসু। অধুনা বাংলাদেশের বারদীর বড় জমিদার স্বর্গীয় কালীকিশোর নাগ মহাশয়ের কনিষ্ঠা কন্যা ছিলেন রাজকুমারী দেবী। বিশদ

08th  October, 2017
ভা লো মা নু ষ - ম ন্দ মা নু ষ: পর্ব-২৮
ভুবন ভরা জালিয়াত 

অমর মিত্র: টাকার জন্য, জমির জন্য, সম্পত্তির জন্য মানুষ কী না পারে? আমাদের দেশটি ভাগই হয়েছিল স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানা এবং শাসন ক্ষমতা অধিকারের জন্য। সম্পত্তি এখানে ক্ষমতা। দেশ শাসন করবে কে? কোন দল? ক্ষমতাই সমস্ত কিছু করায়ত্ত করার মূল।
বিশদ

08th  October, 2017
আগন্তুক 

পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়: হাঁসফাঁস করা গরম। একটু স্বস্তির জন্য ট্রেনের ভিতর থেকে দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়ে ছিল অলোকনাথ। বারাসত স্টেশনে ট্রেনটা থামতেই দু-দ্দাড় করে উঠে এল ১০-১২ জন যুবক। বিশদ

08th  October, 2017
অন্নদাসুন্দরী
দীপান্বিতা মিত্র

 পুরানো দিনের বাড়ি, লম্বা লম্বা বারান্দা পেরিয়ে যে ঘরটার সামনে আমাকে দাঁড় করানো হল সেটি হল ‘দিদির ঘর’। তখনও জানতাম না, কে এই দিদি। ঘোমটার ফাঁক দিয়ে দেখলাম প্রকাণ্ড একটা পালঙ্কের উপর দুধ সাদা থান পরে এক মহিলা বসে আছেন, যার চারপাশ দিয়ে যেন জ্যোতি বের হচ্ছে। বেশ ফর্সা, দোহারা চেহারা, মাথার চুল খাটো করে কাটা, দুটি প্রকাণ্ড চোখ নিয়ে আমার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন, আমি ধীর পায়ে ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে প্রণাম করলাম। ওই পরিচয়ের শুরু.... তারপর আজ ষোলো বছর ধরে তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করার ক্ষমতা আমার হয়নি। বিশদ

27th  September, 2017
পিতা পুত্র
শান্তনু বসু

 জেনেতুন্নেসা বেগমের করুণ আর্তনাদ শেলের মতো এসে বিঁধছে বিজয় সিংয়ের অন্তরে, অপরাধবোধ যেন কুরে কুরে খাচ্ছে তাঁকে। নবাবের মৃত্যুর সব দায়ই যেন তাঁর। অথচ তিনি তো যুদ্ধ করছিলেন অন্যদিকে। নিষেধ না শুনে সামনে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিলেন সরফরাজ খাঁ। ভুল কৌশলে নিজের বিপদ নবাব নিজেই ডেকে এনেছিলেন। একথা যে বিজয় সিং জানেন না তা নয়। তবুও অপরাধবোধ, আত্মধিক্কার। অন্নদাতা প্রভুকে রক্ষা করতে পারেননি বিজয় সিং।
বিশদ

27th  September, 2017
দুর্গাদুপুর
বাণীব্রত চক্রবর্তী

 গৌতমের মোবাইল বেজে উঠল। অরণি ফোন করছে, ‘কী হল! এত দেরি করছিস কেন! শুভায়ু দুটোর মধ্যে চলে এসেছে।’ গৌতম বলল, ‘কী করব! বাস পাচ্ছি না।’ গৌতমের পকেটে কেবল সাঁইতিরিশ টাকা আছে। অরণি বলল, ‘ট্যাক্সিতে চলে আয়। আমি ভাড়া দিয়ে দেব।’ গৌতম ফোনটা কেটে দিল এবং সঙ্গে সঙ্গে ফোনের সুইচ অফ করে দিল। বিশদ

27th  September, 2017
আগমনি
সায়ন্তনী বসু চৌধুরী

 অনেকক্ষণ থেকে মোবাইলটা বেজে চলেছে। একটানা ঘ্যানর ঘ্যানর শব্দ। বিরক্ত হয়ে মহুয়া ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। এই এক জিনিস হয়েছে। দু’ দণ্ড একলা থাকতে দেয় না কাউকে। যখনই একটু নিভৃতে নিজের সঙ্গে আলাপ চলে ওমনি বেজে উঠে সব তালগোল পাকিয়ে দেয়। সাত ইঞ্চির চওড়া স্ক্রিনে মায়ের নম্বরটা ফুটে উঠছে। মহুয়ার মুখে এক আকাশ কালো মেঘ এসে জমা হল। দু’তিনবার ঢোঁক গিলে গলাটা যতদূর সম্ভব স্বাভাবিক করে ও কলটা রিসিভ করল,
—‘হ্যাঁ মা, বলো বলো।’
বিশদ

27th  September, 2017
ঝাড়খিলি
পাপিয়া ভট্টাচার্য

 দালানের অন্য দিকে প্রবল চেঁচামেচি হচ্ছে। ‘বলু গো, কুমোরদের বলু! নারায়ণকে তুলে নিয়ে পালিয়েছে।’ হাঁপাতে হাঁপাতে খবর দিল শেফালি। সে এতক্ষণ শাঁখ বাজাচ্ছিল দালানে। ‘শাঁখ রাখতে গিয়েই তো দেখলুম, মশারি তুলে শ্রীধরকে নিয়ে ছুটল। আবার বলছে সন্ধ্যে থেকে রোজ ঘুম! এত ঘুম কিসের, এ্যাঁ? চলো আমার সঙ্গে বেড়িয়ে আসবে।’
বিশদ

27th  September, 2017
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কতটা ভয়ানক হতে পারে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট জানিয়ে দিল সে কথা। এক বিবৃতিতে হু জানাল, অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করায় যৌনরোগ গনোরিয়ার চিকিৎসা এখন খুবই কঠিন, কিছু ক্ষেত্রে অসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ...

রাতুল ঘোষ, ২২ অক্টোবর: প্রায় দেওয়ালে কোণ ঠেকে যাওয়া অবস্থা থেকে খাদের কিনারায় ঝুলন্ত ব্রাজিল রবিবার রাতে শেষ ২০ মিনিটের সাম্বা-ম্যাজিকে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো চাঙা করতে জেলা পরিষদ উদ্যোগী হল। ঠিক হয়েছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে রোগী পরিষেবাকে আরও সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ছোটখাট যন্ত্রপাতি, অপারেশন থিয়েটার সংস্কার, লো-ভোল্টেজ ও লোডশেডিং ঠেকাতে গ্রিন জেনারেটর দেওয়া হবে। এজন্য পুরো টাকা দেবে জেলা ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফিফা অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ এখন শেষ লগ্নে। অন্যান্য যেসব রাজ্যে বিশ্বকাপের খেলা হয়েছে, তার তুলনায় কলকাতায় উন্মাদনা ছিল অনেক বেশি। তার মধ্যে বাংলার ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ছোটখাট সমস্যার কারণে কর্মপ্রার্থীদের কর্মলাভে বিলম্ব হতে পারে। ব্যাবসা শুরু করা যেতে পার। মাঝে মাঝে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৫৪: কবি জীবনানন্দ দাশের মৃত্যু
১৯৮৮: অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়ার জন্ম
২০০৮: চিত্রশিল্পী পরিতোষ সেনের মৃত্যু
২০০৮: চন্দ্রায়ন-১-এর সূচনা

22nd  October, 2017
ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.২০ টাকা ৬৫.৮৮ টাকা
পাউন্ড ৮৩.৭৮ টাকা ৮৬.৬৩ টাকা
ইউরো ৭৫.৬০ টাকা ৭৮.২৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
21st  October, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,৯১০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৩৭৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,৮০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৬ কার্তিক, ২৩ অক্টোবর, সোমবার, চতুর্থী অহোরাত্র, নক্ষত্র-অনুরাধা, সূ উ ৫/৪০/১২, অ ৫/১/৫৬, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৭/১১ মধ্যে পুনঃ ৮/৪২ গতে ১০/৫৮ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/৩৫ গতে ১০/৫৬ মধ্যে পুনঃ ২/১৮ গতে ৩/৯ মধ্যে, বারবেলা ঘ ৭/৫ গতে ৮/৩০ মধ্যে পুনঃ ২/১২ গতে ৩/৩৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৭ গতে ১১/২১ মধ্যে।
৫ কার্তিক, ২৩ অক্টোবর, সোমবার, চতুর্থী রাত্রি ৫/০/৩৮, অনুরাধানক্ষত্র, সূ উ ৫/৪০/৮, অ ৫/১/৩৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/১০/৫৯, ৮/৪১/৫১-১০/৫৮/৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩৩/১৭-১০/৫৫/৩৬, ২/১৭/৫৪-৩/৮/২৮, বারবেলা ২/১১/১২-৩/৩৬/২৩, কালবেলা ৭/৫/১৯-৮/৩০/২৯, কালরাত্রি ৯/৪৬/১-১১/২০/৫০। 
২ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
  ভারতের নিকোবর আইল্যান্ডে ভূমিকম্প
নিকোবর আইল্যান্ডে আজ সন্ধ্যায় ভূমিকম্প অনুভুত হয়। রিখটার স্কেলে যার ...বিশদ

08:25:00 PM

বাগুইআটিতে গ্রেপ্তার হাইকোর্টের আইনজীবী
সিগন্যাল ভেঙে এগিয়ে যাওয়া একটি গাড়ি ধরায় এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে ...বিশদ

07:26:00 PM

অনুর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল গুয়াহাটির পরিবর্তে কলকাতায়

২৫ অক্টোবরের অনুর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড-ব্রাজিল সেমিফাইনাল ম্যাচটি গুয়াহাটির পরিবর্তে ...বিশদ

05:40:00 PM

দক্ষিণেশ্বরের রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের উদ্যোগে বাগবাজারে ভগিনী নিবেদিতার সার্ধশত জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে ১৬ নং বোস পাড়া লেনের নিবেদিতার বাড়ি উদ্বোধন করলেন মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

04:51:00 PM

অমিতাভ মালিকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তভার সিআইডির হাতে দিল রাজ্য সরকার 

04:30:10 PM

ডেবরায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে গোষ্ঠী সংঘর্ষের অভিযোগ, জখম ১০ 
তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা। ঘটনায় ...বিশদ

04:09:02 PM

পর্ণশ্রীতে আত্মঘাতী মহিলা 
পর্ণশ্রীতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক মহিলা। ...বিশদ

02:33:00 PM