গল্পের পাতা
 

একমুঠো রোদ্দুর 

রম্যাণী গোস্বামী:  কার্শিয়াং শহর ছাড়িয়ে সিনগেল টি-এস্টেট। তারই মাঝে এই রিসর্ট। রিসর্ট থেকে অনেক নীচে তাকালে দেখা যায় সবুজের মাঝখানে তিরতির করে বয়ে চলেছে ক্ষীণকায়া পাহাড়ি নদী। রিসর্টের পাশেই একটা নাম না জানা ঝোরা। কুয়াশায় ভিজে আছে ঝোরার বুকে বড় বড় পাথরের গায়ে জমে থাকা পুরু শ্যাওলা স্তর। কনকনে শীত-ভোরের আকাশ আজ একদম পরিষ্কার ছিল। এখন আবছা মেঘ ছেয়ে গেছে চারপাশে। দু’দিন আগেই টাইগার হিলে বরফ পড়েছে। ঠান্ডাটা তাই এবার একটু বেশিই। রিসর্টের এদিকটা ফাঁকা ফাঁকা। দুটো মাঝারি সাইজের ফোর বেডেড ফ্যামিলি রুমের একটিতেও এখন কোনও বুকিং নেই। সুন্দরভাবে সাজানো মোজাইক করা ওপেন টেরাসের কোনায় কোনায় বাঁধানো সিমেন্টের টবে রঙ-বেরঙের পাহাড়ি ফুল উপচে পড়ছে। ছাদময় বড় বড় রঙিন ছাতার তলায় বেতের চেয়ার-টেবিল পেতে রাখা। তেমনই একটি বেতের চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে বসে আছে সমুদ্র। এই হোম স্টে কাম রেস্তোরাঁর মালিক সমুদ্র সান্যাল।
সমুদ্রের চোখে এখন মগ্নতা। দূরের পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে ধোঁয়াটে রঙের মেঘের ভেসে যাওয়া দেখছে ও। খুবই একঘেয়ে দৃশ্য। দেখার কিছুই নেই। মেঘ না থাকলে ওদিকে তাকালেই দেখা যেত পাহাড়ের গায়ে গাঢ় সবুজ চা গাছের মসৃণ গালিচা, চকচকে টিনের শেড। চা পাতার গন্ধে দিনভর মজে থাকে এলাকাটা। মাঝারি আয়তনের এই রিসর্টের ডাইনিং হল, ওপেন এয়ার ক্যাফেটেরিয়া, ওপেন ইটিং এরিয়া, প্রতিটি ঘরের জানালা আর ঘর লাগোয়া বারান্দা— সব জায়গা থেকেই চোখে পড়ে পাহাড়ের কোল ঘেঁষা কার্শিয়াং শহর এবং আকাশ পরিষ্কার থাকলে অবধারিতভাবেই কাঞ্চনজঙ্ঘা। কাঞ্চনজঙ্ঘার বুকে সূর্যের আলোর রং বদলানো দেখতে দেখতে উষ্ণ চায়ে ঠোঁট ডুবিয়ে দেওয়াটা সবচাইতে বেশি উপভোগ করেন এই হোম স্টেতে থাকতে আসা ভ্রমণপিপাসু মানুষ। কিন্তু আজ সকালের ধূসর মেঘের নিরন্তর ভেসে যাওয়ার মধ্যে তেমন ‘এক্সাইটিং’ কিছুই নেই।
আসলে সমুদ্র এসব কিছুই দেখছে না। কাকভোরে ওর ঘুম ভেঙে গেছে অভ্যাস মতোই। কিন্তু ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে সারা গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো যে অনুভূতি, তারপরই গলার কাছে একটা সুস্পষ্ট কষ্টের জন্ম— এগুলো নতুন। একই সঙ্গে তীব্র আনন্দের শিহরন জেগে ওঠা আবার এক গভীর অতল বিষাদে ডুবে যাওয়া, এই দু’য়ে মিলে আজ ওর সকালটা বেশ অন্যরকম।
সমুদ্র এমনই তন্ময় হয়েছিল যে টেরই পায়নি কখন যেন রোশন এসে দাঁড়িয়েছে ওর সামনে। রোশন রেগমি ছেত্রী। এই রিসর্ট কাম রেস্তোরাঁর হেড কুক। এমন নিঃশব্দে চলাফেরা করে ছেলেটা যে সাড়াই পাওয়া যায় না। ওর দিকে তাকাতেই সমুদ্রের হাতে একটা লম্বা লিস্ট ধরিয়ে দিল রোশন। আজকের সম্ভাব্য মেনু তালিকা। স্টার্টার টু ডেজার্ট, সবেতেই যথারীতিই অভিনবত্বের ছোঁয়া। সমুদ্র আলগা চোখ বুলিয়ে নিয়ে একটা হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়তেই ছেলেটা ফের লঘু পায়ে চলে গেল কিচেনের দিকে। সমুদ্র চুপ করে দেখছিল সেই চলে যাওয়া। এই একটা লোকের জন্যই দাঁড়িয়ে আছে ওর ব্যাবসাটা। ওর খোঁজ না পেলে হয়তো সমুদ্রকে আবার ফিরে যেতে হত কলকাতায়।
কলকাতার কথা মনে পড়তেই ক্যামেরায় দ্রুত শাটার নেমে আসার মতো সমুদ্রর চোখে পরপর ফুটে উঠল ভিড়ে ঠাসা বাস, ময়দান, ট্রাম লাইন, গড়িয়ার ছোট্ট ফ্ল্যাটের চিলতে বারান্দাটা। বাইপাসের যানজট, মেট্রো রেলের ভোঁ এসব ছাপিয়েও ঢাকুরিয়া লেকের ধারের রাধাচূড়া গাছটা ভেসে এল মনে। তারপর এল ইলা, ফোকাসে ওর তীক্ষ্ণ নাক, থুতনির কাটা দাগ, পিছনে আবছা হয়ে যাওয়া রঙিন বসন্ত বিকেল। সদ্য স্নান সেরে বেডরুমে আসার পর ওর গায়ের নিজস্ব মেয়েলি গন্ধটা মুহূর্তের জন্য নাকে এসে ধাক্কা দিল। তারপরই পোড়া ডিজেলের, ঠাসা ভিড়ের মধ্যে লোকজনের গায়ের ঘামের, নোংরা আর আবর্জনার তীব্র কটু গন্ধে মাথাটা গুলিয়ে উঠল সমুদ্রর। মুখ হাঁ করে শ্বাস নিতে নিতে ফুসফুসে ও ভরে নিল ঠান্ডা ভেজা কলুষতাহীন বাতাস। দু’হাতের তালু দিয়ে ঘষে নিল গোটা মুখ।
ইলার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর থেকে ও আর একদিনও কলকাতায় যায়নি। ষোলোটা বছর! ভাবা যায়? অবিশ্বাস্য!

— গুডমর্নিং স্যার। দু’হাতে ব্রেকফাস্টের ট্রেটা গোল বেতের টেবিলে নামিয়ে রেখে মৃদু হেসে বলল লতিকাদি। হালকা লেমনগ্রাসের সুগন্ধ ভেসে আসছে ফিনফিনে সাদা চায়ের কাপ থেকে। রোস্টেড পেপারস অন টোস্ট আর নরম তুলতুলে এগ পোচ। এটা সমুদ্রর ফেভারিট। সমুদ্র টরাস। খেতে ও খাওয়াতে ভালোবাসে। কলকাতা থেকে এখানে এসে একটা ছোটমতো ক্যাফেটেরিয়া খুলেছিল। লতিকাদিদি স্থানীয় মহিলা। উনি মোমো বানাতেন। সমুদ্র কফিটা নিজের হাতেই তৈরি করত ভারী যত্নে। তবুও দার্জিলিং-এর পথে হুস করে চলে যাওয়া গাড়িগুলো কয়েকটা মাত্রই এসে দাঁড়াত এই অরগানিক টি এস্টেটের ধারে। ধীরে ধীরে কোনও জাদুমন্ত্রবলে তৈরি হল রেস্তোরাঁ তারপর এই রিসর্ট। রিসর্টের পিছন দিকটায় রয়েছে ওদের নিজস্ব অরগানিক ভেজিটেবল গার্ডেন। লেমনগ্রাস, পুদিনা, পেঁয়াজকলি, লেটুস, ফুলকপি এমন আরও কত সবজির টাটকা মায়াবী স্বাদে ভরে উঠল ডিশ। ভিড় বাড়তে লাগল। অথচ জমিটা উত্তরাধিকার সূত্রেই পাওয়া। এতদিন কী অবহেলায় না পড়েছিল চা বাগানের নির্জনতা মাখা এই অদ্ভুত শান্ত সমাহিত পরিবেশে। ইলার সঙ্গে সেপারেশনের পর কলকাতায় ভালো লাগছিল না আর। দুম করে অ্যাড এজেন্সির চাকরিটা ছেড়ে ফ্ল্যাট তালাবন্ধ করে কেয়ারটেকারের হাতে চাবির সঙ্গে এখানকার ঠিকানাটাও গুঁজে দিয়ে এসেছিল। মনের কোনায় ক্ষীণ আশা ছিল কোথাও। ইলা কি একবারও আসবে না?
ইলা আসেনি। আজ এতদিন পরে লিলি এসেছে সেই ঠিকানায়। ইলার মেয়ে লিলি।
আজ আর রোদ উঠবে না মনে হচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়া ধোঁয়া মেঘ পাক খেতে খেতে কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠে আসছে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে ঘেঁষে। চারপাশের সেই একঘেয়ে ধোঁয়াটে ক্যানভাসে হঠাৎ রঙের চঞ্চলতা জেগে উঠল। ব্লু জিন্সের সঙ্গে পার্পল লং কোট, গলায় ব্লু মাফলার পরা ছটফটে তরুণীটি এদিক-ওদিক তাকাতে তাকাতে এই টেবিলের দিকেই এগিয়ে আসছে ক্রমশ। সমুদ্র টের পেল সে যেন তলিয়ে যাচ্ছে গভীর স্মৃতিভারে। আহ্‌, কতদিন পর... অবিকল ইলার মুখটা কেটে বসানো। শরীরের ভেতরের কাঁপুনিটা সামলানোর চেষ্টা করছিল সমুদ্র। ভেতরের উথালপাতালকে যতটা সম্ভব শান্ত রেখে ওকে ইশারায় দেখিয়ে দিল সামনের চেয়ারটা।
লিলিও যেন একটু নার্ভাস। দু’হাত কোলের উপর রেখে বসেছে জড়সড় হয়ে। আনত চোখ। সমুদ্র তাকিয়ে দেখল একবার। মায়ের চাইতেও বেশি সুন্দরী হয়েছে মেয়ে। বরং সেই উগ্রতার বদল এক আশ্চর্য কোমলতা। লিলি চেয়ারে বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই লতিকাদি ট্রেতে চা আর ব্রেকফাস্ট এনে সাজিয়ে রেখে গেছে টেবিলে। প্লেটের খাবারগুলো খুঁটছিল মেয়েটা আপন মনে।
— এতটা জার্নি করে এসেছ, খেয়ে নাও। গলা খাকরানি দিয়ে বলল সমুদ্র। কচি মুখখানা দেখে তুই বলার ইচ্ছে হচ্ছে খুব। কিন্তু মনকে শাসন করল ও প্রাণপণে।
— আমি ফ্লাইটে ব্রেকফাস্ট করেছি তো। ধনুকের মতো ভুরু বাঁকিয়ে বলল লিলি।
এই রে! এও কি ওর মায়ের মতোই খ্যাপাটে? হেসে ফেলল সমুদ্র। বলল, আরে, চাটা তো খাও। এ হল চায়ের দেশ। দেখো, কত আরাম পাবে ঠান্ডায়।
একটু ইতস্তত করে চায়ের কাপে ঠোঁট ছোঁয়াল লিলি। তারপরই একটু বিস্ময় আর অনেকটা খুশি চলকে পড়ল ওর মুখে। গরম চায়ের উষ্ণ আমেজে চোখ বুজে এল। জোরে শ্বাস টেনে বলল লিলি, আহ্‌! তারপর বাহারি স্টিলের চামচে সামান্য চিনি তুলে নিয়ে চায়ে মেশাতে আরম্ভ করল ও।
চায়ের কাপে টুংটাং আওয়াজ জলতরঙ্গের মতো কানে ভেসে এল সমুদ্রর। হঠাৎই মনটা ভালো লাগছে ভীষণ। খুশিয়াল গলায় বলল ও, তাও তো আমাদের টি বুটিকটায় এখনও যাওনি তুমি। টি ব্লেন্ডার ছেলেটি নিমেষের মধ্যে প্রায় পঞ্চাশ রকমের চা বানিয়ে দেবে তোমায়। হরেকরকম স্বাদের চা। দারচিনি-কমলা-গোলমরিচ-আপেল— যে ফ্লেভারে চাও। এখন রেস্ট নাও। বিকেলে নিয়ে যাব তোমায়।
—বিকেল অবধি তো থাকব না আমি। রাতের ফ্লাইটেই কলকাতায় ফিরে যাব। আমাকে বাগডোগরা যাওয়ার জন্য একটা ক্যাব অ্যারেঞ্জ করে দেবে প্লিজ?
একটা ধাক্কা খেয়ে চুপ করে গেল সমুদ্র। হতাশ লাগছে। কঠিন অদৃশ্য এক বর্ম জড়িয়ে নিয়েছে লিলি ওর সমগ্র সত্তায়। এইটুকু বয়স থেকে সে শুধুই কদর্য ঝগড়া দেখেছে বাবা মায়ের। দোষ তো ওর নয়। বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যেদিন কথা কাটাকাটি চলছিল ইলার সঙ্গে, রাগে চাদর বালিশ তোলপাড় করছিল ইলা। ছুঁড়ে ছুঁড়ে মেঝেতে ফেলছিল সব। সমুদ্রও কম যায়নি। নেশার ঘোরে ইতরের মতো গায়ে হাত তুলেছে ওর। অশ্লীল গালাগালি করেছে। আড়াই বছরের মেয়েটা ভয়ে ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে এসব দেখতে দেখতে বিছানা ভাসিয়ে ফেলেছে। ইলা যেদিন মেয়ে নিয়ে চলে যায় তখন লিলি পাঁচ বছরের একরত্তি একটা মেয়ে। তবুও ওর চোখের পরিণত চাহনি ভুলতে পারেনি সমুদ্র আজও। আজ কী-ই বা দিতে পারে ও এই মেয়েকে? কতকগুলো শুকনো অর্থহীন কাগজের মূল্য কি ওর হারিয়ে যাওয়া শৈশবের চাইতেও বেশি? ইলা ডিভোর্সের পরও মেয়ের কাস্টডি ছাড়েনি। নিজে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিল আর মেয়েকে পাঠিয়ে দিয়েছিল হস্টেলের কড়া অনুশাসনের মধ্যে। কলকাতায় না গেলেও লোকমুখে সব খবরই পেয়েছিল সমুদ্র। সেই ক্ষতি কি পূরণ করা সম্ভব আজ নিজের সমস্ত প্রপার্টি ওর নামে লিখে দিয়ে? বড্ড হতাশ লাগছে। বড্ড হতাশ। এমন কিছুই তো নেই সমুদ্রর কাছে যার বিনিময়ে ও নিজের একমাত্র সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে পারে। অসহায়ভাবে চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়াল সমুদ্র। খড়কুটো আঁকড়ে ধরার মতো করে বলল, ভেবেছিলাম আমার যা কিছু আছে সেসব দেখিয়ে বুঝিয়ে দেব তোমায়, তুমি ছাড়া কেই বা আছে আমার। কিন্তু ইফ ইউ আর নট ইন্টারেস্টেড, আমি জোর করব না। আমার অনুরোধ রেখে আজ এখানে এসেছ, সেজন্য আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ। কথাগুলো বলেই নিজের অ্যাপার্টমেন্টের দিকে রওনা হল সমুদ্র। শরীরটা কেমন যেন ভারী লাগছে। বুকে চাপ চাপ ব্যথা। বলি বলি করেও বলতে পারল না যা, তা হল, মাই ডেজ আর নাম্বারড। দুটো অ্যাটাক হয়ে গেছে। এখন শুধু অপেক্ষা।
— বাপি ওটা কী? কী ওখানে?
মেয়ের তীক্ষ্ণ স্বরে চমকে ফিরে তাকাল সমুদ্র। দ্রুত পায়ে ছুটে এল মেয়ের কাছে। ঝলকে ঝলকে রক্তপ্রবাহ ছুটে আসছে তার শরীরের অভ্যন্তরের শিরা-উপশিরা বেয়ে। আহ্‌, কতদিন পর সেই চেনা ডাক। সন্তানের মুখে এই ডাক শোনার কী অবর্ণনীয় সুখ!
— কী হয়েছে? কী হয়েছে রে? উদ্বিগ্ন গলায় জিজ্ঞেস করল সমুদ্র।
লিলি এক হাতের আঙুল দিয়ে খামচে ধরল সমুদ্রর হাত আর তারপর ঩নিস্পন্দ হয়ে তাকিয়ে থাকল দূরের পাহাড়ের দিকে। জোরে জোরে শ্বাস-প্রশ্বাসে ওঠা-নামা করছে ওর বুক। উত্তেজনায় লালচে দেখাচ্ছে মুখাবয়ব। আচমকা মেঘ কেটে গিয়ে পাহাড়ের গায়ের কিছুটা জুড়ে রোদে ঝলমল করছে গাঢ় সবুজের বুকে কার্শিয়াং শহর আর তার মাথায় মুকুটের মতো ঝকঝক করছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। এত বছর পরও সমুদ্রর কাছে পুরানো হয়নি যে দৃশ্য তা জীবনে প্রথমবার লিলিকে দেখা দিয়ে ওকে চূড়ান্ত বিস্ময়ে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
সমুদ্রর চোখ দিয়ে জল পড়ছিল নিঃশব্দে। মনে মনে বলছিল ও, এই নে মা, কিছুই তো পারিনি দিতে। চলে যাওয়ার আগে একমুঠো রোদ্দুর উপহার দিলাম তোকে।
অলংকরণ: সুব্রত মাজী
23rd  April, 2017
বুঝিবে ফাজিল অঙ্ক শুভঙ্কর ভনে 

আমরা একটি সিরিজ শুরু করছি— ‘কিংবদন্তির নায়ক-নায়িকা’। আমরা কথা প্রসঙ্গে এমন সব পুরুষ মহিলার নাম কথা প্রসঙ্গে নিয়ে থাকি, যাঁরা খুব যেন পরিচিত, কিন্তু তাঁদের সম্পর্কে এমন কিছুই জানি না। তাঁদের ঘিরে নানান গল্পগুজব গড়ে উঠেছে। বিশদ

28th  May, 2017
বাংলা নাটক 

স্বপ্নময় চক্রবর্তী:  কলকাতায় একটা যাত্রাপাড়া আছে, ওখানে বিভিন্ন যাত্রা কোম্পানিগুলির অফিস, ওখান থেকেই বুকিং হয়। রিহার্সাল কোথায় হয় জানি না। রবীন্দ্র সরণির নতুন বাজার থেকে আহেরিটোলার মোড় পর্যন্ত ৩০০-৩৫০ মিটার দূরত্বের মধ্যে এখনও কমপক্ষে ৩০-৩৫টি যাত্রাদলের গদি রয়েছে।
বিশদ

28th  May, 2017
মারুবেহাগ
 

ভাস্কর গুপ্ত:   ১  সাড়ে সাতটা বেজেছে। টিভি’টা বন্ধ করে বারান্দায় এসে দাঁড়ায় সুনীপা। তিনতলার এই দু’কামরার ছোট্ট ফ্ল্যাটের বারান্দাটাও সেই মাপে। তবুও এই বারান্দাটা খুব পছন্দের সুনীপার।
বিশদ

28th  May, 2017
গুরুর নির্দেশে শবসাধনায় বসলেন তারানাথ 

অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়:  হাতে আর খুব বেশি সময় নেই। আর মাত্র কয়েক ঘন্টা। তারপরই শুরু হবে এক নতুন জীবন। তারাপীঠে আসার পর থেকে তারানাথও খুব প্রয়োজন ছাড়া গুরুর কাছ ছাড়া হচ্ছেন না এবং বামদেবও চাইছেন শিষ্য তাঁর আশেপাশেই থাকুন।
বিশদ

21st  May, 2017
ভা লো মা নু ষ - ম ন্দ মা নু ষ 
সাতক্ষীরের দীপ্তিময় মল্লিক

 অমর মিত্র: দীপ্তিময়, দীপ্তি মল্লিকের বয়স ৭৫-এর মতো। তিনি পিতৃপুরুষের ভিটে ছাড়েননি। দীপ্তি মল্লিকের সঙ্গে আমার দেখা বাংলাদেশের সাতক্ষীরেয় আমার পিতৃপুরুষের ফেলে আসা ভিটে দেখতে গিয়ে। তিনি শিক্ষক ছিলেন। একটি কন্যা এবং এক পুত্র।
বিশদ

21st  May, 2017
সন্ধ্যাতারা 

পাপিয়া ভট্টাচার্য:  সেন্ট্রালের সামনে ওকে নামিয়ে দিয়ানা বলল, ‘সরি বনি, আমি আর ওয়েট করব না। তুমি ঠিকঠাক চলে যেও। ফোন করব। সরি এগেইন।’
গ্যাসচালিত ধোঁয়াহীন বাইকটা ঝড়ের বেগে বেরিয়ে যাবার পর খেয়াল হল তার, ইস, আবারও সেই একই ভুল।
বিশদ

21st  May, 2017
তিথির সঙ্গে কিছুক্ষণ 

আশিস ঘোষ:  ঠিক সন্ধের শুরুতে তিথি এল। কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছি। কত বাস, মিনিবাস, ট্যাক্সি দাঁড়াল। লোকজন ওঠানামা করল। তিথি আর আসে না। ক্লান্ত বিরক্ত হয়ে চলে যাব কিনা ভাবছি, এমন সময় তিথি এল। ঠিক সন্ধের শুরুতে। বিশদ

14th  May, 2017
গানের ভিতর দিয়ে 

স্বপ্নময় চক্রবর্তী:  বাঙালির মনন বাংলা গানকে বলেছে তুমি নব নব রূপে এসো প্রাণে। বাংলা গান এসেছে নবনব রূপে। কিন্তু কানে এসেছে প্রাণে নয়। সেই কবিওয়ালাদের গান থেকে রামপ্রসাদ-নিধুবাবু হয়ে সলিল চৌধুরি হয়ে আজকের ব্যান্ডের গান পর্যন্ত নব নব রূপেই এসেছে।
বিশদ

14th  May, 2017
ইতিহাসের আলোছায়ায় 
টোডার মল

বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায়: টোডার মল ছিলেন আকবর বাদশার প্রথম রেভিনিউ মিনিস্টার এবং দক্ষ ভূমি ও ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থার যথার্থ রূপকার। তাঁর জন্ম হয়েছিল লাহোরে। অতি সাধারণ পরিবারে জন্ম। বাদশার কাজে তিনি যোগ দেন পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া। বিশদ

14th  May, 2017
জ্বলন্ত চিতায় তারামাকে দর্শন করলেন তারানাথ  

পর্ব-১৬
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়:  মাসটা কার্তিক। বেশ ঠাণ্ডাও পড়েছে। প্রায় বাহাত্তর ঘন্টা ট্রেন- সফর করে বীরভূমের মল্লারপুর স্টেশনে এসে নামলেন ব্রহ্মচারী প্রমথেশ। রামপুরহাটের আগের স্টেশনটিই মল্লারপুর। বিশদ

07th  May, 2017



একনজরে
সিওল, ২৯ মে: তিন সপ্তাহের মধ্যে ফের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া। জাপানের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলে আছড়ে পড়েছে। স্কাড মিসাইলটি ৪৫০ কিলোমিটার আকাশপথ ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফরেনসিক রিপোর্ট তৈরির শ্লথতা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে বিস্তর। আর সেকারণেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত ফরেনসিক রিপোর্ট তৈরির জন্য এক বছর আগে পুলিশকে দেওয়া হয়েছিল চারটি গাড়ি। এই গাড়িগুলি ফরেনসিক রিপোর্ট তৈরির উপযোগী যাবতীয় পরিকাঠামোয় সজ্জিত। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতার নেতাজিনগরে তোলাবাজির অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতের নাম সুশান্ত মাহাত। অভিযোগ, সে নেতাজিনগর থানার ৮বি, নাকতলা রোডে গত ২৬ মে সকাল ১১টা নাগাদ একটি বহুতলে কাজ চলার সময় কলকাতা পুরসভার স্বীকৃত ‘প্লাম্বার’ নিলয় ...

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়িতে এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৭৫ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা অন্য বছরগুলির তুলনায় অনেকটাই বেশি বলে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের উত্তরবঙ্গ আঞ্চলিক কার্যলয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যাবসাসূত্রে উপার্জন বৃদ্ধি। বিদ্যায় মানসিক চঞ্চলতা বাধার কারণ হতে পারে। গুরুজনদের শরীর স্বাস্থ্য ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৪৪: ইংরেজ লেখক আলেক্সজান্ডার পোপের মৃত্যু
১৭৭৮: ফ্রান্সের লেখক এবং দার্শনিক ভলতেয়ারের মৃত্যু
১৯১২: বিমান আবিষ্কারক উইলবার রাইটের মৃত্যু
১৯১৯: জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নাইট’ উপাধি ত্যাগ
১৯৪৫: অভিনেতা ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫০: অভিনেতা পরেশ রাওয়ালের জন্ম
২০১৩: চিত্র পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের মৃত্যু




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৭০ টাকা ৬৫.৩৮ টাকা
পাউন্ড ৮১.৩৮ টাকা ৮৪.১৮ টাকা
ইউরো ৭০.৮৭ টাকা ৭৩.২৩ টাকা
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,৩৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৮৪০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,২৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৩০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৪০০ টাকা

দিন পঞ্জিকা

 ১৬ জ্যৈষ্ঠ, ৩০ মে, মঙ্গলবার, পঞ্চমী দিবা ৮/৪৭, পুষ্যানক্ষত্র দিবা ১১/৫৭, সূ উ ৪/৫৫/৪৯, অ ৬/১২/১৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৪ পুনঃ ৯/২১-১২/০ পুনঃ ৩/৩১-৪/২৫, বারবেলা ৬/৩৬-৮/১৫ পুনঃ ১/১৩-২/৫৩, কালরাত্রি ৭/৩২-৮/৫৩।
১৫ জ্যৈষ্ঠ, ৩০ মে, মঙ্গলবার, পঞ্চমী ২/১৯/৫, পুষ্যানক্ষত্র অপরাহ্ণ ৫/২৮/৪৩, সূ উ ৪/৫৪/৪৫, অ ৬/১২/৩৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৪/১৯, ৯/২০/৪২-১২/০/১৬, ৩/৩৩/২-৪/২৬/১৩ রাত্রি ৬/৫৫/২৫, ১১/৫৫/৫-২/৩/৩১, বারবেলা ৬/৩৪/২৯-৮/১৪/১৩, কালবেলা ১/১৩/২৪-২/৫৩/৮, কালরাত্রি ৭/৩২/৫২-৮/৫৩/৮।
৩ রমজান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
চিকিৎসক হতে চায় উচ্চ মাধ্যমিকে তৃতীয় বাঁকুড়া জেলা স্কুলের সুরজিৎ লোহার 

10:54:51 AM

উচ্চ মাধ্যমিকে তৃতীয় (৯৭.৮%) শুভম সিংহ ও সুরজিৎ লোহার (বাঁকুড়া জেলা স্কুল) 

10:49:32 AM

উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম অর্চিষ্মাণ পানিগ্রাহি ( হুগলি কলেজিয়েট স্কুল) 

10:45:00 AM

উচ্চ মাধ্যমিকে দ্বিতীয় (৯৮.৪%) ময়াঙ্ক চট্টোপাধ্যায় (মাহেশ শ্রীরামকৃষ্ণ বিদ্যাভবন), উপমন্যু চক্রবর্তী (নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন) 

10:39:06 AM

সাফল্যের নিরিখে শীর্ষে পূর্ব মেদিনীপুর 

10:15:00 AM

সংসদের ওয়েবসাইটে এবার জেলাওয়াড়ি সেরাদের নাম ও স্কুলের নাম প্রকাশিত হবে 

10:13:00 AM






বিশেষ নিবন্ধ
এবারই প্রথম নয়, ’৯৯-এ কারগিল যুদ্ধেও পাক সেনারা নৃশংসতার নজির রেখেছিল
সীমান্তরক্ষায় অনেকদিন কাটানো পোড়খাওয়া এক ক্যাপ্টেন একদিন দার্শনিকের ঢঙে বললেন, আমরা এটুকুই বুঝি—যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন মানে ...
 লালবাজার অভিযান: মমতার চালে বিজেপি মাত!
শুভা দত্ত: সিপিএমের নবান্ন অভিযানের ধাঁচে লালবাজার অভিযান করে রাজ্যবাসীকে চমকে দিতে চেয়েছিল রাজ্য বিজেপি। ...
 হুট বলতে ফুট কাটার অসুখ
 সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: আমার এক বন্ধু প্রায়ই ভারী অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলে। যেমন, জ্বর-জ্বালা, বুক ধড়ফড়ানি, ...
নদী তুমি কার
বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়: ১৯৪৭ সালে দ্বিখণ্ডিত স্বাধীনতা কেবলমাত্র মানুষকে ভাগ করেনি, প্রাকৃতিক সম্পদেও ভাঙনের সাতকাহন সূচিত ...
চীন, পাকিস্তান বেজিংয়ে ফাঁকা মাঠ পেয়ে গেল ভারতের কূটনৈতিক ভুলের কারণে
কুমারেশ চক্রবর্তী: মাত্র কিছু দিন আগে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা আইসিসি’র এক ভোটে ৯-১ ভোটে ...