গল্পের পাতা
 

একমুঠো রোদ্দুর 

রম্যাণী গোস্বামী:  কার্শিয়াং শহর ছাড়িয়ে সিনগেল টি-এস্টেট। তারই মাঝে এই রিসর্ট। রিসর্ট থেকে অনেক নীচে তাকালে দেখা যায় সবুজের মাঝখানে তিরতির করে বয়ে চলেছে ক্ষীণকায়া পাহাড়ি নদী। রিসর্টের পাশেই একটা নাম না জানা ঝোরা। কুয়াশায় ভিজে আছে ঝোরার বুকে বড় বড় পাথরের গায়ে জমে থাকা পুরু শ্যাওলা স্তর। কনকনে শীত-ভোরের আকাশ আজ একদম পরিষ্কার ছিল। এখন আবছা মেঘ ছেয়ে গেছে চারপাশে। দু’দিন আগেই টাইগার হিলে বরফ পড়েছে। ঠান্ডাটা তাই এবার একটু বেশিই। রিসর্টের এদিকটা ফাঁকা ফাঁকা। দুটো মাঝারি সাইজের ফোর বেডেড ফ্যামিলি রুমের একটিতেও এখন কোনও বুকিং নেই। সুন্দরভাবে সাজানো মোজাইক করা ওপেন টেরাসের কোনায় কোনায় বাঁধানো সিমেন্টের টবে রঙ-বেরঙের পাহাড়ি ফুল উপচে পড়ছে। ছাদময় বড় বড় রঙিন ছাতার তলায় বেতের চেয়ার-টেবিল পেতে রাখা। তেমনই একটি বেতের চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে বসে আছে সমুদ্র। এই হোম স্টে কাম রেস্তোরাঁর মালিক সমুদ্র সান্যাল।
সমুদ্রের চোখে এখন মগ্নতা। দূরের পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে ধোঁয়াটে রঙের মেঘের ভেসে যাওয়া দেখছে ও। খুবই একঘেয়ে দৃশ্য। দেখার কিছুই নেই। মেঘ না থাকলে ওদিকে তাকালেই দেখা যেত পাহাড়ের গায়ে গাঢ় সবুজ চা গাছের মসৃণ গালিচা, চকচকে টিনের শেড। চা পাতার গন্ধে দিনভর মজে থাকে এলাকাটা। মাঝারি আয়তনের এই রিসর্টের ডাইনিং হল, ওপেন এয়ার ক্যাফেটেরিয়া, ওপেন ইটিং এরিয়া, প্রতিটি ঘরের জানালা আর ঘর লাগোয়া বারান্দা— সব জায়গা থেকেই চোখে পড়ে পাহাড়ের কোল ঘেঁষা কার্শিয়াং শহর এবং আকাশ পরিষ্কার থাকলে অবধারিতভাবেই কাঞ্চনজঙ্ঘা। কাঞ্চনজঙ্ঘার বুকে সূর্যের আলোর রং বদলানো দেখতে দেখতে উষ্ণ চায়ে ঠোঁট ডুবিয়ে দেওয়াটা সবচাইতে বেশি উপভোগ করেন এই হোম স্টেতে থাকতে আসা ভ্রমণপিপাসু মানুষ। কিন্তু আজ সকালের ধূসর মেঘের নিরন্তর ভেসে যাওয়ার মধ্যে তেমন ‘এক্সাইটিং’ কিছুই নেই।
আসলে সমুদ্র এসব কিছুই দেখছে না। কাকভোরে ওর ঘুম ভেঙে গেছে অভ্যাস মতোই। কিন্তু ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে সারা গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো যে অনুভূতি, তারপরই গলার কাছে একটা সুস্পষ্ট কষ্টের জন্ম— এগুলো নতুন। একই সঙ্গে তীব্র আনন্দের শিহরন জেগে ওঠা আবার এক গভীর অতল বিষাদে ডুবে যাওয়া, এই দু’য়ে মিলে আজ ওর সকালটা বেশ অন্যরকম।
সমুদ্র এমনই তন্ময় হয়েছিল যে টেরই পায়নি কখন যেন রোশন এসে দাঁড়িয়েছে ওর সামনে। রোশন রেগমি ছেত্রী। এই রিসর্ট কাম রেস্তোরাঁর হেড কুক। এমন নিঃশব্দে চলাফেরা করে ছেলেটা যে সাড়াই পাওয়া যায় না। ওর দিকে তাকাতেই সমুদ্রের হাতে একটা লম্বা লিস্ট ধরিয়ে দিল রোশন। আজকের সম্ভাব্য মেনু তালিকা। স্টার্টার টু ডেজার্ট, সবেতেই যথারীতিই অভিনবত্বের ছোঁয়া। সমুদ্র আলগা চোখ বুলিয়ে নিয়ে একটা হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়তেই ছেলেটা ফের লঘু পায়ে চলে গেল কিচেনের দিকে। সমুদ্র চুপ করে দেখছিল সেই চলে যাওয়া। এই একটা লোকের জন্যই দাঁড়িয়ে আছে ওর ব্যাবসাটা। ওর খোঁজ না পেলে হয়তো সমুদ্রকে আবার ফিরে যেতে হত কলকাতায়।
কলকাতার কথা মনে পড়তেই ক্যামেরায় দ্রুত শাটার নেমে আসার মতো সমুদ্রর চোখে পরপর ফুটে উঠল ভিড়ে ঠাসা বাস, ময়দান, ট্রাম লাইন, গড়িয়ার ছোট্ট ফ্ল্যাটের চিলতে বারান্দাটা। বাইপাসের যানজট, মেট্রো রেলের ভোঁ এসব ছাপিয়েও ঢাকুরিয়া লেকের ধারের রাধাচূড়া গাছটা ভেসে এল মনে। তারপর এল ইলা, ফোকাসে ওর তীক্ষ্ণ নাক, থুতনির কাটা দাগ, পিছনে আবছা হয়ে যাওয়া রঙিন বসন্ত বিকেল। সদ্য স্নান সেরে বেডরুমে আসার পর ওর গায়ের নিজস্ব মেয়েলি গন্ধটা মুহূর্তের জন্য নাকে এসে ধাক্কা দিল। তারপরই পোড়া ডিজেলের, ঠাসা ভিড়ের মধ্যে লোকজনের গায়ের ঘামের, নোংরা আর আবর্জনার তীব্র কটু গন্ধে মাথাটা গুলিয়ে উঠল সমুদ্রর। মুখ হাঁ করে শ্বাস নিতে নিতে ফুসফুসে ও ভরে নিল ঠান্ডা ভেজা কলুষতাহীন বাতাস। দু’হাতের তালু দিয়ে ঘষে নিল গোটা মুখ।
ইলার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর থেকে ও আর একদিনও কলকাতায় যায়নি। ষোলোটা বছর! ভাবা যায়? অবিশ্বাস্য!

— গুডমর্নিং স্যার। দু’হাতে ব্রেকফাস্টের ট্রেটা গোল বেতের টেবিলে নামিয়ে রেখে মৃদু হেসে বলল লতিকাদি। হালকা লেমনগ্রাসের সুগন্ধ ভেসে আসছে ফিনফিনে সাদা চায়ের কাপ থেকে। রোস্টেড পেপারস অন টোস্ট আর নরম তুলতুলে এগ পোচ। এটা সমুদ্রর ফেভারিট। সমুদ্র টরাস। খেতে ও খাওয়াতে ভালোবাসে। কলকাতা থেকে এখানে এসে একটা ছোটমতো ক্যাফেটেরিয়া খুলেছিল। লতিকাদিদি স্থানীয় মহিলা। উনি মোমো বানাতেন। সমুদ্র কফিটা নিজের হাতেই তৈরি করত ভারী যত্নে। তবুও দার্জিলিং-এর পথে হুস করে চলে যাওয়া গাড়িগুলো কয়েকটা মাত্রই এসে দাঁড়াত এই অরগানিক টি এস্টেটের ধারে। ধীরে ধীরে কোনও জাদুমন্ত্রবলে তৈরি হল রেস্তোরাঁ তারপর এই রিসর্ট। রিসর্টের পিছন দিকটায় রয়েছে ওদের নিজস্ব অরগানিক ভেজিটেবল গার্ডেন। লেমনগ্রাস, পুদিনা, পেঁয়াজকলি, লেটুস, ফুলকপি এমন আরও কত সবজির টাটকা মায়াবী স্বাদে ভরে উঠল ডিশ। ভিড় বাড়তে লাগল। অথচ জমিটা উত্তরাধিকার সূত্রেই পাওয়া। এতদিন কী অবহেলায় না পড়েছিল চা বাগানের নির্জনতা মাখা এই অদ্ভুত শান্ত সমাহিত পরিবেশে। ইলার সঙ্গে সেপারেশনের পর কলকাতায় ভালো লাগছিল না আর। দুম করে অ্যাড এজেন্সির চাকরিটা ছেড়ে ফ্ল্যাট তালাবন্ধ করে কেয়ারটেকারের হাতে চাবির সঙ্গে এখানকার ঠিকানাটাও গুঁজে দিয়ে এসেছিল। মনের কোনায় ক্ষীণ আশা ছিল কোথাও। ইলা কি একবারও আসবে না?
ইলা আসেনি। আজ এতদিন পরে লিলি এসেছে সেই ঠিকানায়। ইলার মেয়ে লিলি।
আজ আর রোদ উঠবে না মনে হচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়া ধোঁয়া মেঘ পাক খেতে খেতে কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠে আসছে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে ঘেঁষে। চারপাশের সেই একঘেয়ে ধোঁয়াটে ক্যানভাসে হঠাৎ রঙের চঞ্চলতা জেগে উঠল। ব্লু জিন্সের সঙ্গে পার্পল লং কোট, গলায় ব্লু মাফলার পরা ছটফটে তরুণীটি এদিক-ওদিক তাকাতে তাকাতে এই টেবিলের দিকেই এগিয়ে আসছে ক্রমশ। সমুদ্র টের পেল সে যেন তলিয়ে যাচ্ছে গভীর স্মৃতিভারে। আহ্‌, কতদিন পর... অবিকল ইলার মুখটা কেটে বসানো। শরীরের ভেতরের কাঁপুনিটা সামলানোর চেষ্টা করছিল সমুদ্র। ভেতরের উথালপাতালকে যতটা সম্ভব শান্ত রেখে ওকে ইশারায় দেখিয়ে দিল সামনের চেয়ারটা।
লিলিও যেন একটু নার্ভাস। দু’হাত কোলের উপর রেখে বসেছে জড়সড় হয়ে। আনত চোখ। সমুদ্র তাকিয়ে দেখল একবার। মায়ের চাইতেও বেশি সুন্দরী হয়েছে মেয়ে। বরং সেই উগ্রতার বদল এক আশ্চর্য কোমলতা। লিলি চেয়ারে বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই লতিকাদি ট্রেতে চা আর ব্রেকফাস্ট এনে সাজিয়ে রেখে গেছে টেবিলে। প্লেটের খাবারগুলো খুঁটছিল মেয়েটা আপন মনে।
— এতটা জার্নি করে এসেছ, খেয়ে নাও। গলা খাকরানি দিয়ে বলল সমুদ্র। কচি মুখখানা দেখে তুই বলার ইচ্ছে হচ্ছে খুব। কিন্তু মনকে শাসন করল ও প্রাণপণে।
— আমি ফ্লাইটে ব্রেকফাস্ট করেছি তো। ধনুকের মতো ভুরু বাঁকিয়ে বলল লিলি।
এই রে! এও কি ওর মায়ের মতোই খ্যাপাটে? হেসে ফেলল সমুদ্র। বলল, আরে, চাটা তো খাও। এ হল চায়ের দেশ। দেখো, কত আরাম পাবে ঠান্ডায়।
একটু ইতস্তত করে চায়ের কাপে ঠোঁট ছোঁয়াল লিলি। তারপরই একটু বিস্ময় আর অনেকটা খুশি চলকে পড়ল ওর মুখে। গরম চায়ের উষ্ণ আমেজে চোখ বুজে এল। জোরে শ্বাস টেনে বলল লিলি, আহ্‌! তারপর বাহারি স্টিলের চামচে সামান্য চিনি তুলে নিয়ে চায়ে মেশাতে আরম্ভ করল ও।
চায়ের কাপে টুংটাং আওয়াজ জলতরঙ্গের মতো কানে ভেসে এল সমুদ্রর। হঠাৎই মনটা ভালো লাগছে ভীষণ। খুশিয়াল গলায় বলল ও, তাও তো আমাদের টি বুটিকটায় এখনও যাওনি তুমি। টি ব্লেন্ডার ছেলেটি নিমেষের মধ্যে প্রায় পঞ্চাশ রকমের চা বানিয়ে দেবে তোমায়। হরেকরকম স্বাদের চা। দারচিনি-কমলা-গোলমরিচ-আপেল— যে ফ্লেভারে চাও। এখন রেস্ট নাও। বিকেলে নিয়ে যাব তোমায়।
—বিকেল অবধি তো থাকব না আমি। রাতের ফ্লাইটেই কলকাতায় ফিরে যাব। আমাকে বাগডোগরা যাওয়ার জন্য একটা ক্যাব অ্যারেঞ্জ করে দেবে প্লিজ?
একটা ধাক্কা খেয়ে চুপ করে গেল সমুদ্র। হতাশ লাগছে। কঠিন অদৃশ্য এক বর্ম জড়িয়ে নিয়েছে লিলি ওর সমগ্র সত্তায়। এইটুকু বয়স থেকে সে শুধুই কদর্য ঝগড়া দেখেছে বাবা মায়ের। দোষ তো ওর নয়। বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যেদিন কথা কাটাকাটি চলছিল ইলার সঙ্গে, রাগে চাদর বালিশ তোলপাড় করছিল ইলা। ছুঁড়ে ছুঁড়ে মেঝেতে ফেলছিল সব। সমুদ্রও কম যায়নি। নেশার ঘোরে ইতরের মতো গায়ে হাত তুলেছে ওর। অশ্লীল গালাগালি করেছে। আড়াই বছরের মেয়েটা ভয়ে ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে এসব দেখতে দেখতে বিছানা ভাসিয়ে ফেলেছে। ইলা যেদিন মেয়ে নিয়ে চলে যায় তখন লিলি পাঁচ বছরের একরত্তি একটা মেয়ে। তবুও ওর চোখের পরিণত চাহনি ভুলতে পারেনি সমুদ্র আজও। আজ কী-ই বা দিতে পারে ও এই মেয়েকে? কতকগুলো শুকনো অর্থহীন কাগজের মূল্য কি ওর হারিয়ে যাওয়া শৈশবের চাইতেও বেশি? ইলা ডিভোর্সের পরও মেয়ের কাস্টডি ছাড়েনি। নিজে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিল আর মেয়েকে পাঠিয়ে দিয়েছিল হস্টেলের কড়া অনুশাসনের মধ্যে। কলকাতায় না গেলেও লোকমুখে সব খবরই পেয়েছিল সমুদ্র। সেই ক্ষতি কি পূরণ করা সম্ভব আজ নিজের সমস্ত প্রপার্টি ওর নামে লিখে দিয়ে? বড্ড হতাশ লাগছে। বড্ড হতাশ। এমন কিছুই তো নেই সমুদ্রর কাছে যার বিনিময়ে ও নিজের একমাত্র সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে পারে। অসহায়ভাবে চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়াল সমুদ্র। খড়কুটো আঁকড়ে ধরার মতো করে বলল, ভেবেছিলাম আমার যা কিছু আছে সেসব দেখিয়ে বুঝিয়ে দেব তোমায়, তুমি ছাড়া কেই বা আছে আমার। কিন্তু ইফ ইউ আর নট ইন্টারেস্টেড, আমি জোর করব না। আমার অনুরোধ রেখে আজ এখানে এসেছ, সেজন্য আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ। কথাগুলো বলেই নিজের অ্যাপার্টমেন্টের দিকে রওনা হল সমুদ্র। শরীরটা কেমন যেন ভারী লাগছে। বুকে চাপ চাপ ব্যথা। বলি বলি করেও বলতে পারল না যা, তা হল, মাই ডেজ আর নাম্বারড। দুটো অ্যাটাক হয়ে গেছে। এখন শুধু অপেক্ষা।
— বাপি ওটা কী? কী ওখানে?
মেয়ের তীক্ষ্ণ স্বরে চমকে ফিরে তাকাল সমুদ্র। দ্রুত পায়ে ছুটে এল মেয়ের কাছে। ঝলকে ঝলকে রক্তপ্রবাহ ছুটে আসছে তার শরীরের অভ্যন্তরের শিরা-উপশিরা বেয়ে। আহ্‌, কতদিন পর সেই চেনা ডাক। সন্তানের মুখে এই ডাক শোনার কী অবর্ণনীয় সুখ!
— কী হয়েছে? কী হয়েছে রে? উদ্বিগ্ন গলায় জিজ্ঞেস করল সমুদ্র।
লিলি এক হাতের আঙুল দিয়ে খামচে ধরল সমুদ্রর হাত আর তারপর ঩নিস্পন্দ হয়ে তাকিয়ে থাকল দূরের পাহাড়ের দিকে। জোরে জোরে শ্বাস-প্রশ্বাসে ওঠা-নামা করছে ওর বুক। উত্তেজনায় লালচে দেখাচ্ছে মুখাবয়ব। আচমকা মেঘ কেটে গিয়ে পাহাড়ের গায়ের কিছুটা জুড়ে রোদে ঝলমল করছে গাঢ় সবুজের বুকে কার্শিয়াং শহর আর তার মাথায় মুকুটের মতো ঝকঝক করছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। এত বছর পরও সমুদ্রর কাছে পুরানো হয়নি যে দৃশ্য তা জীবনে প্রথমবার লিলিকে দেখা দিয়ে ওকে চূড়ান্ত বিস্ময়ে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
সমুদ্রর চোখ দিয়ে জল পড়ছিল নিঃশব্দে। মনে মনে বলছিল ও, এই নে মা, কিছুই তো পারিনি দিতে। চলে যাওয়ার আগে একমুঠো রোদ্দুর উপহার দিলাম তোকে।
অলংকরণ: সুব্রত মাজী
23rd  April, 2017
 কালাপাহাড়

 বারিদবরণ ঘোষ: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর গল্পে একটি বিধ্বংসী মোষের নাম দিয়েছিলেন কালাপাহাড়। কে জানে কেন এমন নামকরণ! মোষ সে কালো, সে ভেঙেচুরে ফেলে—তাতে কালো হতে পারে। কিন্তু কালা তো বধির—যে কানে শুনতে পায় না।
বিশদ

কিছু পথ কিছু কথা কলকাতা

 তরুণ চক্রবর্তী: রাজপুতানার ইতিহাসে আমরা পড়েছি ‘ধাত্রী পান্নার কাহিনি।’ নিজের সন্তানের প্রাণের বিনিময়েও প্রভুর পুত্রকে রক্ষা করে ত্যাগ ও কর্তব্য পরায়ণতার অনন্যা সাধারণ নজির গড়েছিলেন তিনি। আমাদের শাস্ত্রেও ধাত্রী বা ধাই-মাকে মাতৃসদৃশা জ্ঞানে উচ্চাসন দেওয়া হয়েছে।
বিশদ

 নির্জন অবভাসে

 কমলেশ রায়: আজ ফুলবেলা। রোজই সকলে ফুল পায় না। সপ্তাহে এই একটি দিন, রোববারের সকালে পাওয়া যায়। বাকি ক’টা দিন চরাচরের কোন দিক থেকে ওঠে ঘর-হলুদ রোদ। আর রাতে জুঁই-জ্যোৎস্নার বেহিসেবি ফিনকি দেওয়া, কখনও ঘন, কখনও কুয়াশার মতো আরও ঘনতর। লুকোচুরি খেলতে খেলতে এই পাহাড়ি টিবি স্যানাটোরিয়ামের ওপর দিয়ে পেরিয়ে যায়, রোগীরা কোনও খবর রাখে না। আসলে খবর রাখার জন্যে যে ঘরোয়া মানসিকতা, সেটাও কবে ফুরিয়ে গেছে। বিশদ

সেই যুবক

কলকাতা থেকে দূরে রজতপুরের পলিক্লিনিকে বসতে প্রথমটাই আপত্তি করেছিলেন সাইকিয়াট্রিস্ট ডঃ মৈনাক গুহ। বন্ধু শংকর বলেছিলেন, ‘ওখানে চেম্বার করো। একেবারে সোনার খনি। তোমার কপাল খুলে যাবে।’
বিশদ

16th  July, 2017
 ঠগবাজের দোকানে লাল বাতি

 বাড়ি ছিল তালুকদারদের। সেই বাড়ির ছেলে স্বপন আমার বাল্যকালের বন্ধু। স্বপনের বাবা মরে গেলে সে মায়ের সঙ্গে চলে যায় মামার বাড়ি। তারপর আর দেখা হয়নি। নাকি হয়েছিল একবার। স্বপন এসেছিল বাড়িতে তাদের অংশ দাবি করতে। সে ছিল ভয়ানক সময়। স্বপনের কাকা যোগেন স্বপনকে ভয় দেখিয়েছিল নকশাল বলে পুলিশের হাতে তুলে দেবে। ১৯৭১-’৭২-এর কথা বলছি। স্বপন দাবি ত্যাগ করে চলে গিয়েছিল। বিশদ

16th  July, 2017
 তারাখ্যাপা, মাতাজি ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র

 ১৮৩৫ সাল। প্রসিদ্ধ রায় বেল্‌হর দুর্গ। এই দুর্গের কোনও এক কক্ষে মাতাজি গঙ্গাবাঈ প্রথম পৃথিবীর আলো দেখেন। দাক্ষিণাত্যের আর্কট প্রদেশের রাজা যোগীরাজের বংশের রাজকন্যা ছিলেন মাতাজি। রাজপরিবারে জন্ম হওয়া সত্ত্বেও ছোট থেকেই ভোগবিলাসের প্রতি তাঁর বিন্দুমাত্র আকর্ষণ ছিল না। রাজকন্যা হওয়ার ফলে তাঁকে রাজবংশের নানাবিধ নিয়মকানুন মেনেই চলতে হত। তা সত্ত্বেও তিনি বিদ্যাচর্চার পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চাও করতেন। সংস্কৃত ভাষার ওপর তাঁর দখল ছিল অপরিসীম। চিরকুমারী থাকার সংকল্প নিয়ে তিনি পঞ্চাগ্নিব্রতও পালন করেছিলেন।
বিশদ

16th  July, 2017
সভাঘরে

 সভাঘরে কবিতা পাঠের আগে বক্তৃতা পর্ব চলছে। সভাপতির আসনে সাহিত্যিক অনিমেষ নাথ। অকস্মাৎ পাখির ডাক। সভাপতির চলভাষ থেকে। মিনিট পাঁচেক আগে ঘোষক উপস্থিত সকলকে এই বাক বিনিময় যন্ত্রটি নির্বাক করে রাখার অনুরোধ জানালে সভাপতিমশাই নিজেও জোরালো সায় দিয়েছিলেন খানিক বক্তৃতাসহ। একটু অপ্রস্তুত হয়ে ফোন ধরে চাপা গলায় বললেন, ‘বল’।
বিশদ

09th  July, 2017
কিছু পথ কিছু কথা-কলকাতা
পর্ব-৩

 যে এলাকার পথের কথায় আসছি সেখানকার নামের পেছনেও ঘটনার কিছু ঘনঘটা আছে। নেমেছি যখন পথে এবং বিশেষ করে গলিঘুঁজির যতটা যা পারি তত্ত্বতালাশ করতে, তখন এটুকু প্রথমে বলে নিতেই হচ্ছে। সেকালের সুতানুটি গ্রাম আজকের শোভাবাজার বলে যাকে আমরা জানি, তার নাম হয়েছিল সভাবাজার এবং তারও আগে ওই গাঁয়ের নাম ছিল রাসপল্লি।
বিশদ

09th  July, 2017
 চিতোর রানি পদ্মিনী

  পদ্মা, পদ্মাবতী, পদুমাবৎ, পদ্মিনী— যে নামেই তাঁকে ডাকি— তিনি সাড়া দেবেন। সাড়া দেবেন ইতিহাসে এবং কিংবদন্তিতে। কট্টর ঐতিহাসিক বলবেন— পদ্মিনী একটা গল্পের নায়িকা, ইতিহাসের এর অস্তিত্ব নেই। কিংবদন্তি প্রতিবাদ জানাবে— যাঁর সৌন্দর্যের কাছে একটা পদ্মফুল হার মানে, তিনি গল্প হয়ে যাবেন। আলাউদ্দিন কি তবে মিছিমিছিই চিতোর দুর্গ দখল করেছিলেন।
বিশদ

09th  July, 2017
তারানাথের রোষে কপাল পুড়ল ম্যাজিষ্ট্রেটের 

অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়: শাসকদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিলেন বড়মার জ্যেষ্ঠ সন্তান বামদেবের প্রিয় শিষ্য তারানাথ বা তারাখ্যাপা। এই প্রসঙ্গে ডাক্তার অভয়পদ চট্টোপাধ্যায় লিখছেন, ‘ তন্ত্রসাধকগণ ধরিত্রী বা বসুন্ধরাকে আপন ইষ্ট মাতৃকাস্বরূপেই দেখে থাকেন। বিশদ

02nd  July, 2017
ভা লো মা নু ষ - ম ন্দ মা নু ষ
কন্ধ উপজাতি-গঞ্জের চিকিৎসক
 

অমর মিত্র: ক’দিন আগেই সুখ্যাত এক বেসরকারি হাসপাতালে ধরা পড়েছে জাল ডাক্তার। নামের পাশে এমবিবিএস। আমি যে ডাক্তারবাবুর কথা বলছি, তিনিও ডাক্তার। আধুনিক চিকিৎসাবঞ্চিত আদিবাসী গ্রামে চিকিৎসা করেন। না তাঁর নামের পাশে ভুয়ো ডিগ্রি নেই। কেতাও নেই। বলি তাঁর কথা।
বিশদ

02nd  July, 2017



একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২১ জুলাই শহিদ দিবসের সমাবেশে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মন্তব্য নিয়ে ওঠা বিতর্কের ঝড় রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে এবার জাতীয় স্তরে উঠে এল। নরেন্দ্র মোদির ব্যর্থতা তথা বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির অপশাসন নিয়ে শুক্রবার ধর্মতলার ঐতিহাসিক সমাবেশমঞ্চ থেকে ...

বিএনএ, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ পুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন স্থানে গত ৯ জুলাই আদিবাসী নাবালিকাদের ধর্ষণ এবং ঘটনার প্রতিবাদে ১৪ জুলাই শহরে আদিবাসীদের তাণ্ডবের পর শনিবার রায়গঞ্জে এসে বৈঠক করলেন আদিবাসী উন্নয়নমন্ত্রী জেমস কুজুর। এদিন কর্ণজোড়ায় সার্কিট হাউসে এই বৈঠক হয়েছে। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের শহরে তোলাবাজির অভিযোগ। পাঁচ লক্ষ টাকা তোলা চেয়ে হুমকি দেওয়ায় কলকাতার বেনিয়াপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক প্রোমোটার। মহম্মদ ওমর ফারুখ নামে ওই প্রোমোটারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। লালবাজার সূত্রে এই ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইষ্টার্ন কোলফিল্ডের সালানপুর এলাকায় থাকা কর্মী আবাসন থেকে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে অন্তত ১০০ বেআইনি দখলদারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। বস্তুত, এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বহু আবাসনেই তারপরেও প্রচুর বেআইনি দখলদার রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যাবসা সূত্রে উপার্জন বৃদ্ধি। বিদ্যায় মানসিক চঞ্চলতা বাধার কারণ হতে পারে। গুরুজনদের শরীর স্বাস্থ্য নিয়ে ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

 ১৮৫৬- স্বাধীনতা সংগ্রামী বাল গঙ্গাধর তিলকের জন্ম
 ১৮৯৫ – চিত্রশিল্পী মুকুল দের জন্ম
 ২০০৪- অভিনেতা মেহমুদের মৃত্যু
 ২০১২- আই এন এ’ যোদ্ধা লক্ষ্মী সায়গলের মৃত্যু



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৫৫ টাকা ৬৬.২৩ টাকা
পাউন্ড ৮১.৯৮ টাকা ৮৪.৯৬ টাকা
ইউরো ৭৩.৫৬ টাকা ৭৬.১৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
22nd  July, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,০৭০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৫৮০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৭,৯৯৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

 ৭ শ্রাবণ, ২৩ জুলাই, রবিবার, অমাবস্যা দিবা ৩/১৬, পুনর্বসুনক্ষত্র দিবা ৯/৫৩, সূ উ ৫/৭/৫৭, অ ৬/১৮/৫, অমৃতযোগ প্রাতঃ ৬/১-৯/৩১ রাত্রি ৭/৪৫-৯/১১, বারবেলা ১০/৪-১/২২, কালরাত্রি ১/৪-২/২৬।
৬ শ্রাবণ, ২৩ জুলাই, রবিবার, অমাবস্যা ৩/৫২/৫৯, পুনর্বসুনক্ষত্র ১১/৫/৩৬, সূ উ ৫/৪/৫০, অ ৬/২০/৬, অমৃতযোগ দিবা ৫/৫৭/৫১-৯/২৯/৫৫, বারবেলা ১০/৩/৩-১১/৪২/২৮, কালবেলা ১১/৪২/২৮-১/২১/৫২, কালরাত্রি ১/৩/৪-২/২৩/৩৯।
 ২৮ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ভারতের জয়ের জন্য ২ ওভারে ১১ রান প্রয়োজন 

10:06:00 PM

ভারতের জয়ের জন্য ৬ ওভারে ৩১ রান প্রয়োজন 

09:47:31 PM

ভারত ১৪৫/৩ (৩৫ ওভার) 

09:08:03 PM

ভারত ১২০/২ (৩০ ওভার) 

08:45:54 PM

ভারত ৬৯/২ (২০ ওভারে)

08:10:29 PM

ভারত ৪৩/২ (১২ ওভারে)

07:41:49 PM