Bartaman Patrika
গল্পের পাতা
 

প্রাণেশদার শান্তিনিকেতন
আশিস ঘোষ 

স্টাফরুমে বসেছিলাম। ঘরের টিউব লাইট খারাপ থাকায় আবছা অন্ধকার। একটু আগেই এক পশলা বৃষ্টি হয়েছে। একটু যেন শীত শীত ভাব। অশোক কথা বলছিল। আমাদের কয়েকজনের অফ পিরিয়ড। কোনও তাড়া নেই। আড্ডা বেশ জমে উঠেছে। এমন সময় খবর এল, প্রাণেশবাবু আর নেই। আজ সকালেই মারা গিয়েছেন।
অশোক কথা থামিয়ে উঠে দাঁড়াল। লম্বা বেঞ্চিতে দেবু আড়াআড়িভাবে বসেছিল। সোজা হয়ে বসল। হঠাৎ এমন একটা খবরে সবাই হকচকিয়ে গেলাম। হেডমাস্টারমশাই ছুটে এলেন। যাঁরা ক্লাসে ছিলেন, স্টাফরুমে এসে জড়ো হল। বাইরের লনে ছেলেদের নিয়ে মিটিং করতে হবে। ছুটির ঘণ্টা পড়ল। সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়লাম।
সেই প্রাণেশবাবু। প্রাণেশদা। লম্বা ফর্সা চেহারা। সব সময় ধুতি-পাঞ্জাবি পরতেন। এক সময়ে শান্তিনিকেতনে পড়াশোনা করেছেন। রামকিঙ্কর বেইজের নাকি ছাত্র ছিলেন। সুযোগ পেলেই শান্তিনিকেতনের গল্প শোনাতেন। মাঝে মাঝে বলতেন মানিকবাবু অর্থাৎ সত্যজিৎ রায় নাকি ওঁর সহপাঠী ছিলেন। সত্যি-মিথ্যে জানি না, শুনতে শুনতে সব আমাদের মুখস্থ। প্রায়ই বলতেন সুযোগ পেলেই শান্তিনিকেতনে চলে যাবেন। আমরা মজা করে বলতাম, আর কবে যাবে দাদা? চুল তো সব সাদা হয়ে গেল।
প্রাণেশদা গম্ভীর হয়ে যেতেন। কিন্তু রাগতেন না। বলতেন, শান্তিনিকেতনে যাওয়ার কোনও বয়স নেই। যে কোনও বয়সেই যাওয়া যায়।
প্রাণেশদার আর শান্তিনিকেতনে যাওয়া হল না। এখন শোকসভা হচ্ছে। ছেলেরা সব লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে। এক-একজন প্রাণেশবাবু সম্পর্কে বলে যাচ্ছেন। আমরা যারা পুরনো, প্রাণেশদাকে দীর্ঘদিন ধরে দেখেছি, মিশেছি, আমাদের চাইতে যারা নতুন, প্রাণেশদার সঙ্গে যাদের পরিচয় বা মেলামেশা ততটা ছিল না, তারাই যেন বেশি কথা বলতে চাইছে। দেবু আমার পাশেই ছিল। কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিসিয়ে বলল— এভাবে আর কতক্ষণ চলবে? কিন্তু কে বলবে সে কথা? সমীরের দিকে চাইলাম। চোখাচোখি হতেই হাতের ইশারা করলাম। গরমে প্রাইমারির একটা বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। উঁচু ক্লাসের ছেলেরা ওকে ধরাধরি করে অফিস ঘরের দিকে নিয়ে গেল। সমীর হেডমাস্টারমশাইকে কী যেন বলল। উনি আমাদের দিকে চাইলেন একবার। তারপর ছেলেদের দিকে। বাঁ হাত তুলে ঘড়ি দেখলেন। এবার এক মিনিট নীরবতা। সবাই বোধহয় এই অপেক্ষাতেই ছিল। সোজা হয়ে দাঁড়াল। প্রয়াত আত্মার শান্তি কামনায় গোটা স্কুল বাড়িটা নিঝুম। পেছন দিকে আমগাছের পাতা শিরশিরিয়ে কাঁপছে। একটা কাক টেলিফোনের তারে বসে অনেকক্ষণ ধরে ডেকে যাচ্ছে। গেটের দিকে দমকা হাওয়ায় খানিকটা ধুলো উড়ল। নীরবতা শেষ হতেই, ছেলেরা লাইন করে আস্তে আস্তে চলে গেল। আমরাও আবার স্টাফরুমের দিকে গেলাম।
আমাদের এই স্কুল বাড়িটা অনেক দিনের পুরনো। কোনও এক সাহেবের বাগানবাড়ি ছিল। পুরু দেওয়ালের অনেক জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়েছে। স্টাফরুমের কড়িবরগার একটা জায়গা বেশ ঝুলে আছে। এই পুরনো বাড়ির নীচেটা ফাঁকা। সেটা নাকি গুমঘর ছিল। আমরা কিন্তু এই ঘরেই বেশ আছি। রাজনীতি, সাহিত্য, হাসি-ঠাট্টা সব কিছুই চলে। অফ-পিরিয়ডে বেঞ্চিতে টান টান হয়ে শুয়ে থাকি।
কথা হচ্ছিল শ্মশানে যাওয়া নিয়ে। কিন্তু সেখানে যেতে হলে তো স্কুলের তরফে অন্তত একটা ফুলের মালা চাই। কে আনবে? বিশেষ কাউকে উদ্দেশ্য না করেই প্রশ্নটি করলাম। সবাই চুপ। আসলে বাইরে এখন দারুণ রোদ। কে বলবে কিছুক্ষণ আগেই বৃষ্টি হয়েছিল। গরমে এখন কেউ বেরতে চাইছে না। আমিও একটু গড়িমসি করছি। আজ সন্ধ্যায় বিন্দুকে নিয়ে নন্দনে একটা সিনেমা দেখার কথা। হলের সামনেই ও দাঁড়াবে। এখন এই রোদে বেরিয়ে শরীর খারাপ করতে চাই না। সবার মুখের দিকে চাইলাম। দরজায় দাঁড়িয়ে যতীন আমাদের দিকেই চেয়েছিল। ছেলেটার বয়স কম। কিন্তু অন্যদের মতো নয়। সব কিছুতেই বেশ উৎসাহ। ওকেই বললাম, যাবে তুমি? যতীন রাজি হল। ভুবন চা নিয়ে এল। চা-বিস্কুট খেতে খেতে আবার প্রাণেশবাবুর কথা শুরু হল। পাশের ঘরের লম্বা টেবিলে পুরনো হারমোনিয়ামটা রাখা আছে। পেছনের দেওয়াল ঘেঁষে রবি ঠাকুরের আবক্ষ মূর্তি। ওই প্লাস্টার মূর্তিটা প্রাণেশদারই তৈরি। পাশের দরজা দিয়ে চাইলেই চোখ পড়ছে। চায়ে চমুক দিতে দিতে অশোক বলল— ওই হারমোনিয়াম আর মূর্তিটা দেখলেই প্রাণেশদাকে মনে পড়ে। জর্দা পান চিবুতে চিবুতে দেবু কী যেন বলতে যাচ্ছিল। বাইরে থেকে হঠাৎ একঝলক গরম হাওয়া এল। সমীর কাছাকাছি বসেছিল। আমার দিকে চেয়ে চাপা গলায় বলে উঠল— দশ-বারো বছর এই স্কুলে আছি, এর মধ্যেই চারজনকে যেতে দেখলাম। ওর কথা শেষ হতে না হতেই দপ করে আলো জ্বলে উঠল। চারদিকের মুখগুলো এবার স্পষ্ট। ব্যাগ গোছাতে গোছাতে অশোক হঠাৎ উঠে দাঁড়াল। চলি, খুব জরুরি একটা কাজ আছে। ও দরজার দিকে পা বাড়াতে যাবে, দেবু বলে বসল— কাল ছুটি থাকবে কিনা জেনে যাবি না?
জানার কী আছে? একজন শিক্ষক মারা গিয়েছেন, ছুটি তো থাকবেই। এটুকু সম্মান তাঁর নিশ্চয়ই প্রাপ্য।
—কিন্তু নোটিস দেওয়া হবে না?
—আরে, রাখ তোর নোটিস।
সত্যিই তো, একটা নোটিস দেওয়া উচিত ছিল। স্টাফরুমে বসে আড্ডা দিচ্ছি। প্রাণেশবাবুর কথা বলছি। অথচ কারুর মনেও হল না, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটা শোক প্রস্তাব লেখা উচিত।
ইতিমধ্যেই হেডমাস্টারমশাইয়ের কাছে খবরটা পৌঁছেছিল। ভদ্রলোক হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলেন।— কী ব্যাপার? প্রথমে দেবুর গলাই শোনা গেল। — অনেকেই তো বেরিয়ে যাচ্ছে। কালকের ছুটির নোটিসটা?
ভদ্রলোক একটু যেন থমকে গেলেন।— আজকেই হাফডে হল। কাল আবার ছুটি কেন?
মুহূর্তে সবাই চুপসে গেলাম। একজন আর একজনের দিকে তাকাচ্ছি। সংস্কৃতের রমাপতি টেবিল চাপড়ে গর্জে উঠল।
—এটা কী বলছেন? আমাদের একজন প্রয়াত শিক্ষকের সম্মানে পুরো ছুটি থাকবে না? চারদিকে একবার চোখ ঘুরিয়ে হেডমাস্টারমশাই আমাদের মুখগুলো দেখার চেষ্টা করলেন। —আপনারা যদি বলেন তো ছুটি দিতেই হবে। সামনেই ছেলেদের পরীক্ষা। এভাবে ছুটি দেওয়াটা— ভদ্রলোকের কথা শেষ হতে না হতেই চিৎকার, পাল্টা চিৎকার শুরু হয়ে গেল। সবাই বলছে। কারুর কথাই বোঝা যাচ্ছে না। হেডমাস্টারমশাই কী যেন বোঝাতে চাইছেন। কেউ শুনছে না। অশোক হঠাৎ পাশের ঘর থেকে হারমোনিয়ামটা এ ঘরের টেবিলে এনে এলোপাতাড়ি ‘রিড’ টিপতে শুরু করল। বিশ্রী যান্ত্রিক শব্দ। মানুষ আর যন্ত্রের মিলিত শব্দে কড়িবরগার কিছুটা অংশ বোধহয় এবার খসে পড়বে। দেবু হঠাৎ উঠে দাঁড়াতেই ধাক্কা লেগে হারমোনিয়ামটা আর একটু হলেই নীচে পড়ে যেত।
হেডমাস্টারমাশাই বিড় বিড় করতে করতে চলে গেলেন। কোনও কথা না বলে অশোকও বেরিয়ে গেল। কিছুক্ষণ আগে বৃষ্টি হলেও বাইরে এখন আবার দারুণ রোদ। সবাই চুপচাপ বসে। একটু পরেই দেবু টিউশন করতে চলে গেল। সমীর বিড়বিড় করে কী যেন বলছিল। ফুলের মালা আর মোড়ক নিয়ে যতীন কখন যে দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে, খেয়াল করিনি। এবার ভেতরে এসে হারমোনিয়ামের সামনে রেখে মুখ মুছতে শুরু করল। ঘরে আমরা এখন চারজন। আমি, সমীর, নীলকমলবাবু আর যতীন। দেওয়ালের ক্যালেন্ডার মাঝে মাঝে বাইরের হাওয়ায় দুলছে। সামনের টিনের শেডে পেছনের বস্তি থেকে হঠাৎ একটা রবারের বল এসে পড়ল। বলটা লাফাতে লাফাতে এ ঘরের চৌকাঠে এসে লাগল। গড়িয়ে বাথরুমের দিকে গেল। আমরা চুপচাপ বসে। ফুলের মৃদু গন্ধে কেমন যেন নেশায় ধরছে।
—চলুন এবার যাওয়া যাক— একটু নড়েচড়ে বসে সমীর। গালে হাত দিয়ে যতীন একপাশে দাঁড়িয়ে। নীলকমলবাবু হারমোনিয়ামে একটা হাত রেখে চুপচাপ বসে। এই তো গত বছর রবীন্দ্রজয়ন্তীতে ওই হারমোনিয়ামটা বাজিয়ে প্রাণেশদা গান গেয়েছিলেন। গানের শেষে হারমোনিয়ামের রিড টিপতে টিপতে বলেছিলেন— আমি চলে গেলে এই হারমোনিয়াম আর রবি ঠাকুরের মূর্তি আমাকে মনে করিয়ে দেবে। সেই প্রাণেশদা। সুযোগ পেলেই শান্তিনিকেতনের গল্প জুড়ে দিতেন। কাদের কাছে গান শিখেছেন। ছবি আঁকা বা মূর্তির কাজ কীভাবে করতেন। সেখানকার ছাতিমতলা। শুনতে শুনতে সব আমাদের মুখস্থ। প্রায়ই বলতেন— একটা চাকরি বা কোনও সুযোগ পেলেই শান্তিনিকেতনে চলে যাবেন। খুব নাকি ইচ্ছে হয় পুরনো দিনের স্মৃতি জড়ানো জায়গাগুলো দেখতে। কথা বলতে বলতে কেমন যেন অন্যমনস্ক হয়ে যেতেন। নাম না বললেও একজন মহিলার কথাও প্রায়ই বলতেন। এক ক্লাসে একসঙ্গেই পড়াশোনা করেছেন। তিনি নাকি এখনও শান্তিনিকেতনেই আছেন। মজা করে বলতাম— তিনি কি তোমার বান্ধবী? প্রাণেশদা উত্তর দিতেন না।
এই তো সেদিন। স্কুলের টিফিনের সময় স্টাফরুমে সবাই চা খেতে খেতে আড্ডা দিচ্ছি। কয়েকদিন পরেই বাইশে শ্রাবণ। স্বাভাবিকভাবেই শান্তিনিকেতনের কথা উঠেছিল। প্রাণেশবাবু পাশের ঘরে ছিলেন। এ ঘরে এসে বললেন— একবার বাইশে শ্রাবণে শান্তিনিকেতনে যাব। কত গান, উৎসব হতো— প্রাণেশদা আরও কী যেন বলতে যাচ্ছিলেন। দেবু হঠাৎ বলে বসল— সেখানে যাবে- যাবে বলতে বলতে তো তোমার মাথার চুল পেকে আয়ু শেষ হয়ে এল—
দেবুর কথায় প্রাণেশদা চমকে উঠেছিলেন— এসব কী বলছ?
—বলব না তো কী? শান্তিনিকেতনের কথা শুনতে শুনতে কানে তো পোকা ধরে গেছে।
দেবুর কথায় প্রাণেশদার মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল।
—দেখো আমার শিকড় রয়েছে সেখানে। এ যে কী টান বুঝবেন না।
—বোঝার দরকার নেই। যাবে তো যাও না। সবসময় ভ্যানর-ভ্যানর ভালো লাগে না—যত্ত সব!
প্রাণেশদা বিড়বিড় করে কী যেন বললেন। হাত-পা কাঁপছিল। কোনওদিন এরকম দেখিনি। স্টাফরুম থেকে আস্তে আস্তে বেরিয়ে গেলেন। এরপর তিন দিন আর স্কুলে আসেননি। সেই প্রাণেশদা। চোখ বুজলেই যেন স্পষ্ট দেখতে পাই, পাশের ঘরে পায়চারি করছেন।

সন্ধে প্রায় ছ’টা নাগাদ বিন্দু এল। কথা মতো নন্দনের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। বিন্দু এল উল্টো দিক দিয়ে। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে?
কই না তো— ওকে আর বললাম না যে, প্রায় চল্লিশ মিনিট দাঁড়িয়ে। স্কুল থেকে শ্মশানে গিয়েছিলাম। সেখান থেকেই সোজা এখানে। হাতের ব্যাগ দিয়ে খোঁচা দেয় বিন্দু। এখনও তো মিনিট কুড়ি বাকি। চলো চা খেয়ে আসি। যেতে যেতে বিন্দুকে বললাম— আমাদের এক সহকর্মী আজ মারা গেলেন। শ্মশানে গিয়েছিলাম।
—সে কী! চলতে চলতে আমার দিকে তাকায় বিন্দু। গম্ভীর হয়ে যায়।
এদিকে আলো কম। শুকনো পাতা ছড়িয়ে। পাশের বাঁধানো পুকুর রেলিং ঘেরা। গাছের পাতায় আলোর আভাস। সিমেন্ট বাঁধানো জায়গায় পাশাপাশি বসলাম। আমার হাত ধরে বিন্দু বলল— কী ব্যাপার, কথা বলছ না?
—কী বলব? মেজাজটাই তো ভালো নেই— হাত ছাড়িয়ে বললাম— আজ আর সিনেমা দেখতে ইচ্ছে করছে না—
ও-পাশের রাস্তা কাঁপিয়ে একটা ভারী গাড়ি চলে গেল। হাত তুলে ঘড়ি দেখে বিন্দু। কিছু না বলেই মুখ নিচু করে। ওকে এখন কী করে বলি, এখানে বসে থাকতেই ইচ্ছে করছে না। কীসের যেন গন্ধ পাচ্ছি। এটা কী শ্মশানের গন্ধ? শ্মশানের একটা গন্ধ থাকে। সেখানে গেলেই পাওয়া যায়। এইরকম একটা গন্ধ যেন নাকে লেগে আছে। এই গন্ধটাই প্রাণেশদাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। কাল বাদে পরশু তো আবার স্কুল। ছেলেরা আসবে। ক্লাস চলবে। স্টাফরুমে আমাদের আড্ডাও হবে। হারমোনিয়ামটা পাশের ঘরের টেবিলে পড়ে থাকবে। বিন্দুকে এসব বলব? কিছু মনে করবে না তো?—
অনেকক্ষণ বসে থাকারও ক্লান্তি আছে। এক সময় বিন্দুকে বললাম— চল, এবার ওঠা যাক—
বিন্দু মুখ নিচু করে বসেছিল। বলামাত্রই উঠে দাঁড়াল। আমাদের সিনেমা দেখার কথা ছিল। কিন্তু সেই গন্ধটা নাকে এসে সব কেমন গোলমাল করে দিল। সিনেমা দেখার মেজাজটাই আর নেই। বিন্দু উসখুস করছে। কী গো, যাবে না?
উত্তর দিলাম না। দ্বিতীয়বার বলতেই, পকেট থেকে টিকিট দুটো বের করে বললাম— একদম ভালো লাগছে না। তুমি দেখে এস। আমি এখানেই অপেক্ষা করছি।
বিন্দু মুখ তুলে তাকাল। মুঠোয় ধরা টিকিট দেখল। তারপর মুখ গোঁজ করে গেটের দিকে হাঁটা শুরু করল। একটু পরেই রাস্তা পেরিয়ে আমরা পিজি হাসপাতালের সামনের রাস্তা ধরলাম। হাসপাতালের গেটে একটা ট্যাক্সি ঘিরে কয়েক জনের জটলা। ফাঁকা আর একটা ট্যাক্সি ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে ময়দানের দিকে ছুটে গেল। বিন্দুকে বললাম— এবার তো যেতে হয়—
—কোথায় যাবে?
—কেন বাড়িতে।
—সাততাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবে? সিনেমাও তো দেখা হল না— বিন্দু ঘড়ি দেখল। আমার দিকে তাকাল। সামনের স্টপে একটা মিনি দাঁড়িয়ে। কেউ নামছে না, উঠছেও না। কন্ডাক্টর— ‘হাওড়া-হাওড়া’ বলে সমানে চিৎকার করছে। মিনিটার সামনে গিয়ে বিন্দু হঠাৎ থমকে দাঁড়াল।— যাই এবার?
কী বলব ভাবছি, বিন্দু মিনিটায় উঠে পড়ল। গাড়িটাও চলতে শুরু করল। মুহূর্তে অনেকটা পথ এগিয়ে গেল। আমাদের মাঝখানের দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে।
প্রাণেশদার সঙ্গেও আমাদের দূরত্ব এখন অনেকটাই। এই কালো পিচের রাস্তার মতোই তা ক্রমশ দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে। বিন্দুকে নিয়ে মিনিটা আর পাঁচটা গাড়ির ভিড়ে হারিয়ে গেছে। ওদিকে চেয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম। তারপর কোনওদিকে না তাকিয়ে, দু’দিক দিয়ে ছুটে আসা গাড়িগুলোকে অগ্রাহ্য করেই রাস্তা পেরলাম।  
16th  June, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধূলোয়
মরুতীর্থের দেবী, পর্ব ২০
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

 আমার বারো বছর বয়সের সময় বাবা-মায়ের সঙ্গে তীর্থযাত্রায় গিয়ে দ্বারকা থেকে ফেরার পথে ভাটিয়া স্টেশনে নেমে সমুদ্রের খাড়ি পার হতে হয়েছিল। ওখান থেকে গন্তব্য ছিল সুদামাপুরী (পোরবন্দর)। পথে যেতে যেতে এক জায়গায় বাসযাত্রীরা সবাই নেমে পড়লেন এক জাগ্রতা দেবীকে দর্শন করবার জন্য।
বিশদ

ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়

 একদিন মিউগেন্স সাহেবকে বললাম, আমি বাড়িতে মাঝে মাঝে মিডিয়াম হয়ে ‘স্পিরিটের’ সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু খুব ভালো পারছি বলে মনে হচ্ছে না। মিউগেন্স সাহেবের গম্ভীর মুখের দিকে তাকিয়ে আবার বললাম, — অথচ বিলেতের কাগজে পড়েছি, এফিসিয়েন্ট মিডিয়ামের সাহায্যে তারা একান্ত আপনজনের স্পিরিট নিয়ে আসছে....
বিশদ

এমনি বরষা ছিল সেদিন
ছন্দা বিশ্বাস

দশ দিন হতে চলল অর্ণব ঠাকুরপোকে পাওয়া যাচ্ছে না। অনিকেতের ছেলেবেলার বন্ধু অর্ণব। আমার বিয়ের পরে বেশ কয়েকবার আমাদের বাড়িতে এসেছে। তারপর বহুদিন আর দেখা হয়নি। মাঝখানে হঠাৎ একদিন এসেছিল আমাদের বাড়িতে। সেও বেশ কিছুদিন হতে চলল। অনিকেত শুনলাম থানায় একটা মিসিং ডায়েরি করেছে।
বিশদ

14th  July, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধূলোয় 
গিরিতীর্থ হিংলাজ, পর্ব-১৯

 এবার গিরিতীর্থ হিংলাজে যাওয়া যাক। ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে গুজরাত প্রদেশে হিংলাজ মাতার মন্দির আছে। তবে সে সবের সন্ধান আমার জানা নেই। দৈবকৃপায় আমি যে দুটি স্থানে গিয়ে পড়েছিলাম তারই বর্ণনা দেব। বিশদ

14th  July, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়

 প্যারীচাঁদ মিত্র সেইসময় কলিকাতার বেঙ্গল লাইব্রেরির (বর্তমানে জাতীয় গ্রন্থাগার) সম্পাদক ছিলেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি পরলোক চর্চা নিয়ে অতিশয় মেতে উঠলেন। লাইব্রেরির সংগ্রহশালায় থাকা পরলোকতত্ত্ব সম্বন্ধীয় বিভিন্ন পুস্তক ও প্রবন্ধাদি পাঠ করতে শুরু করলেন। বিশদ

14th  July, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই

অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়: জোড়াবাগান থানার বিপরীতে নিমতলার বিখ্যাত মিত্র বাড়ির এই দুপুরের সময়টা বউদের বড়ই ব্যস্ততার মধ্যে কাটে। এই বাড়ির প্রখ্যাত, রাশভারী শ্বশুরমশাই পুজো সেরে এখনই খেতে বসবেন।   বিশদ

07th  July, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধুলোয়
অমরকণ্টক  পর্ব-১৮

ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়: বিন্ধ্যপর্বতের যে অংশটির নাম মেকল বা মৈকল, তীর্থভূমি নর্মদার সেই স্থানই অমরকণ্টক। শুধু তীর্থভূমি নয়, অমরকণ্টক হল সৌন্দর্যের খনি। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ণনাতীত।  বিশদ

07th  July, 2019
শাল-পিয়ালের চুপকথা 

সুপর্ণা সেনগুপ্ত: পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল বাগমুণ্ডি। আকাশ যেখানে গল্প করে মেঘের সঙ্গে। ঘন জঙ্গল, পাহাড় আর ঝর্ণা ঘেরা ছোট ছোট গ্রাম, আঁকা থাকে নীল আকাশের ক্যানভাসে। বর্ষায় সেখানে নদীর জল ছাপিয়ে যায়।   বিশদ

07th  July, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধুলোয় 

ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়: মধ্যপ্রদেশের গুণা জেলায় সুন্দরী চান্দেরিতে এক বনময় পর্বতের গুহায় দেবী জাগেশ্বরীর অধিষ্ঠান। ইনি শুধু দেবী নন, মহাদেবী। মাত্র ২০০ মিটার উঁচু এই দুর্গ শহরের আকর্ষণ ঐতিহাসিক গুরুত্ব, দেবী মহিমা ও লোভনীয় চান্দেরি শাড়ির জন্য।  বিশদ

30th  June, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই 

অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়: ঋষি এবং তাঁর স্ত্রী খুব ভালো মিডিয়াম— এই কথাটা শুনে শরৎচন্দ্র হাসতে হাসতে ভাইয়ের কাছে জানতে চাইলেন, তুমি কী করে জানলে তাঁরা খুব ভালো মিডিয়াম?
গিরীন্দ্রনাথ বললেন, আমি এবং আমার বন্ধু রায়সাহেব হরিসাধন মুখোপাধ্যায় তাঁদের সঙ্গে প্ল্যানচেটে বসেছিলাম। বিশদ

30th  June, 2019
মোম জোছনা 

সঞ্জয় রায়: ‘হেই, হ্যাট্‌-হ্যাট্‌-হ্যাট্‌, যাঃ যাঃ-যাঃ। উঃ, দ্যাকো দিকিনি উঠোনটা খালি খালি নোংরা করে। অ্যাই, যাঃ-যাঃ-যাঃ।’ কুসুম সক্কালবেলায় হাঁসের দলটাকে উঠোন থেকে তাড়াচ্ছিল। দীননাথ দাওয়ায় বসে কুসুমের ছলকে পড়া যৌবনটাকে জরিপ করছিল।  বিশদ

30th  June, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধুলোয়
সিদ্ধপীঠ জলপা, পর্ব-১৬
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

 মৈহরপীঠ দর্শনের পর সে রাতটা মৈহরেই কাটালাম। পরদিন সকাল সাড়ে সাতটার ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই কাটনিতে। মধ্য রেলওয়ের কাটনি একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশন। এ যাত্রায় আমি ঘরমুখো হব বলেই কাটনিতে এলাম। কেন না এখানে ট্রেন একটু বেশিক্ষণ দাঁড়ায় তাই।
বিশদ

23rd  June, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
১৬
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়

 গিরীন্দ্রনাথ সরকার। সাহিত্যিক হিসেবে তেমন খ্যাতি অর্জন করতে না পারলেও, তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভূপর্যটক। পৃথিবীর প্রায় সব দেশই তাঁর ঘোরা ছিল। বহুকাল তিনি সরকারি কন্ট্রাক্টর হিসেবে ব্রহ্মদেশে কাজ করেছিলেন। আর এইসময়ই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের।
বিশদ

23rd  June, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় 

১৫
নিস্তব্ধ নির্জন ঘর, দেবতা বিশ্রাম করছেন খাটে। ঘরের এককোণে চুপ করে বসে আছেন মতিলাল। প্রদীপটা তখনও মিটমিট করে জ্বলছে। সময় যেন আর কাটতেই চাইছে না। মাঝে একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন মতো হয়ে পড়েছিলেন মতিলাল। সেই রেশ কাটাতে তিনি ঘরের ভেতর পায়চারি করতে শুরু করলেন।  
বিশদ

16th  June, 2019
একনজরে
 ওয়াশিংটন, ২০ জুলাই (পিটিআই): আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মুম্বই হামলার মূলচক্রী হাফিজ সইদকে গ্রেপ্তার করেছে পাকিস্তান। এরপরেও পাকিস্তানের উপর থেকে সন্দেহ যাচ্ছে না আমেরিকার। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রবীণ এক কর্তাব্যক্তি শুক্রবার জানিয়েছেন, আগেও হাফিজকে গ্রেপ্তার করেছিল ইসলামাবাদ। ...

  নয়াদিল্লি, ২০ জুলাই: বিশ্বকাপের সময় ভারতীয় ক্রিকেটাররা মাত্র ১৫ দিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাকার সুযোগ পাবেন। এটাই ছিল বিসিসিআইয়ের নিয়ম। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, ...

 ভোপাল, ২০ জুলাই (পিটিআই): ভেজাল দুধের বড়সড় চক্রের পর্দা ফাঁস করল মধ্যপ্রদেশ পুলিস। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে শনিবার এই চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিস। ...

সংবাদাতা, রায়দিঘি: রাজ্যে বর্ষা ঢুকে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দেখা নেই। তাই বৃষ্টি যাতে দ্রুত আসে, সেই কারণে ধুমধাম করে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে ভালো ফল হবে। ব্যবসায় যুক্ত হলে খুব একটা ভালো হবে না। প্রেমপ্রীতিতে বাধাবিঘ্ন। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২০: মা সারদার মৃত্যু
১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু 

20th  July, 2019
ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৭৭ টাকা ৮৭.৯২ টাকা
ইউরো ৭৬.১০ টাকা ৭৯.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
20th  July, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৫২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৭০৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,২১০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৫৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৬৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ২১ জুলাই ২০১৯, রবিবার, চতুর্থী ১৬/২২ দিবা ১১/৪০। শতভিষা ৫/৪৫ দিবা ৭/২৫। সূ উ ৫/৬/৫২, অ ৬/১৮/১৬, অমৃতযোগ প্রাতঃ ৫/৫৯ গতে ৯/৩১ মধ্যে। রাত্রি ৭/৪৫ গতে ৯/১১ মধ্যে, বারবেলা ১০/৪ গতে ১/২২ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৩ গতে ২/২৪ মধ্যে।
৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ২১ জুলাই ২০১৯, রবিবার, চতুর্থী ৯/২৬/৩১ দিবা ৮/৫২/১৬। শতভিষানক্ষত্র ২/০/৪৮ প্রাতঃ ৫/৫৩/৫৯, সূ উ ৫/৫/৪০, অ ৬/২১/৪৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪ গতে ৯/৩২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪১ গতে ৯/৮ মধ্যে, বারবেলা ১০/৪/১৩ গতে ১১/৪৩/৪৪ মধ্যে, কালবেলা ১১/৪৩/৪৪ গতে ১/২৩/১৪ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৪/১২ গতে ২/২৪/৪২ মধ্যে।
১৭ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
  ইস্ট বেঙ্গলে জুনিয়র বিশ্বকাপার
ইস্ট বেঙ্গলের অনুশীলনে যোগ দিলেন যুব ভারতীয় দলের স্ট্রাইকার অভিজিৎ ...বিশদ

09:28:53 AM

প্রয়াত দিল্লির প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি মঙ্গেরাম গর্গ 

09:25:00 AM

তেলেঙ্গানার নালগোন্ডায় জামাইবাবুর গলা কেটে খুন করল শ্যালক 

09:22:00 AM

হায়দরাবাদের জুলজিক্যাল পার্কে একটি সিংহের মৃত্যু 

09:20:00 AM

‘সি সি’ না নিলে মিলবে না ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন
পুরসভার দেওয়া ‘কমপ্লিশন সার্টিফিকেট’ বা সিসি না দেখে ফ্ল্যাট কিনবেন ...বিশদ

09:19:10 AM

মণিপুরে মহাবলি মন্দির সংলগ্ন নদীতে তলিয়ে গেল ২ শিশু 

09:19:00 AM