Bartaman Patrika
গল্পের পাতা
 

দাদা, কেমন আছ?
 অমর মিত্র

দাদা, কেমন আছ?
কে বলছ? বীরেন জিজ্ঞেস করে।
দাদা, আমি অনুপ।
কোন অনুপ?
গলার স্বরে বুঝতে পারছ না, বেলঘরিয়ার অনুপ।
ও, মিত্রা সিনেমার অনুপ? বীরেন চিনতে পারে।
সিনেমা কতদিন আগে ছেড়েছি, তুমি এখন কোথায়?
আমি রূপলেখায়, বইয়ের কাজ।
বইয়ের কাজ ভালো? অনুপ জিজ্ঞেস করে।
ভালো তো, তুই এখন কোথায়?
অনুপ বলল, হল বন্ধ হওয়ার অনেক আগে বরিশাল ক্লথ স্টোরে ঢুকেছিলাম।
কাপড়ের কাজ জানিস?
জানতাম, আমি আগে তো বেলঘরিয়ায় ওই কাজই করতাম, বাজার আগুন লেগে পুড়ে গেলে আমাকে মিত্রা সিনেমায় ঢুকিয়ে দিয়েছিল কাউন্সিলারের ভাই।
হুঁ, আজ কি ছুটি?
পয়লা বৈশাখের চাপ গেল পরশু, কদিন একটু হাল্কা, তুমি?
বীরেন বলল, আমার এখন অফ সিজিন শুরু বলতে পারিস, যা চাপ সব শীতকালে, লাস্ট বইমেলা গেল গড়বেতায়।
অনুপ বলে, আমাদের আবার আরম্ভ হবে, কাপড়ের দোকানে অফ সিজিন নেই বলা যায়, ক’দিন বাদে ঈদের বাজার লাগবে, ঈদ যেতে যেতে পুজোর বাজার।
মিত্রা বন্ধ হওয়ার আগে ছেড়েছিলি? বীরেন জিজ্ঞেস করে।
হুঁ, বুঝতে পারছিলাম নতুন মালিক হল রাখবে না।
তুই বইয়ের লাইনে আসবি?
বুঝতে পারছি না, এখানে কাজ করাবে কিন্তু বেতন দিতে হাত খোলে না, খাটনি খুব।
বীরেন জিজ্ঞেস করল, চাপের সময় এক্সট্রা পাস?
পয়লা বৈশাখে টাকা দেয় না, শাড়ি কিংবা পাঞ্জাবি, হাজার টাকার ভিতরে যা হয়, শুধু পুজোয় দেয়।
চুপ করে থাকে বীরেন। কী কথা বলবে বুঝে উঠতে পারছে না। অনুপের সঙ্গে তার কাজ হয়েছিল মিত্রা সিনেমায়। সে কম দিন হল না। অনুপ লাইটম্যান। বীরেন কাউন্টারে। খুব কম মাইনে। তার পোষায়নি। পাড়ার একজনের হাত ধরে ক’দিন বাদেই কলেজ স্ট্রিট পাড়ায় শ্রীমা পাবলিশার্সে ঢুকল, এখন রূপলেখায়। বইয়ের কাজ খুব কঠিন না, কিন্তু সব কাজেরই একটা ধরণ আছে। খবর রাখতে হয় বেশি। রূপলেখার সব বইয়ের খোঁজ না রাখলে সে মেলায় মেলায় ঘুরবে কী করে? শীতের সময় ঘুরতে হয় জেলায় জেলায়। বইমেলায়। আবার কোন বইয়ের বিষয় কী, তাও জানতে হয়। জানলে খরিদ্দারকে বলা যায়। বইয়ে বীরেনের আগ্রহ অনেক দিনের। লাইব্রেরি থেকে বই এনে পড়াও ছিল তার অভ্যেস। সুতরাং কাজটা বেশ মনে ধরেছে। তবে বেতন কম। ছোট সংসার, চলে যায়। মেয়ের বিয়ে হয়েছে শ্রীমার কর্মচারীর সঙ্গে। তাই তার রূপলেখায় আসা। এক জায়গায় শ্বশুর-জামাই থাকা ঠিক না।
অনুপ বলল, বীরেনদা, বলাইয়ের খবর জানো?
জানি। বীরেন স্তিমিত স্বরে বলল।
কোম্পানি ওকে ছাড়িয়ে দিয়েছে?
ও যায়নি অনেকদিন, কাজ থাকে কী করে? বীরেন বলল।
ওর তো বড় অসুখ। অনুপ বলল।
তুই কি গিয়েছিলি?
ও থাকে না তো বাগমারিতে। বলল অনুপ।
দেশে ফিরে গেছে।
দেশ তো গড়বেতা।
হ্যাঁ, আমার কাছে এসেছিল। বীরেন কথা বানাতে থাকে।
রূপলেখায় ?
না, বীরেন বলল, গড়বেতা বইমেলায়।
ফোন নম্বর আছে?
বীরেন বলল, আমার ডায়েরিতে লেখা আছে, ডায়েরি বাড়িতে। ও কি কাজের জন্য এসেছিল ?
না, তা আসেনি।
বীরেন গড়বেতা গিয়েছিল মেলা করতে। সেখানেই দেখা। কলকাতা ছেড়ে বলাই দেশে ফিরে গেছে। কবরেজি চিকিৎসা করছে। ব্যথা নেই এখন। তবে কঙ্কালসার চেহারা। দেখেই বোঝা যায় যে কোনও দিন মরে যাবে। বীরেন এসব বলল না। বলল, কাজ দেশেই করছে। বীরেন ওর ভাইয়ের সঙ্গে গণগণির ডাঙা দেখতে গিয়েছিল। শিলাবতী নদীর ধারে লাল মাটির ভাঙন দেখে মনে হয়েছিল বড় বিস্ফোরণ হয়ে গেছে ওখানে। বলাইয়ের রোগটার সঙ্গে খুব মিল। বলাইয়ের ভাই কানাই খুব সার্ভিস দিয়েছিল তাকে। কানাই তার খিদমত খেটেছে ক’দিন। যদি একটা কাজ পায়। বইয়ের কাজ। তার দাদা করত ঢালাই কারখানার কাজ। অসুখটা ওখান থেকে এসেছে মনে হয়।
ভালো আছে? জিজ্ঞেস করে অনুপ।
আছে, দেশে ওদের অনেক সম্পত্তি, আমাকে গণগণির ডাঙায় নিয়ে গেল, নেমতন্ন করল।
তাহলে কেন কলকাতায় কাজ করতে এসেছিল?
এমনি, গাঁয়ে কেউ থাকতে চায়, কলকাতায় আসতে চায় সকলে। বীরেন বলল।
অনুপ বলল, আমাদের হাসনাবাদে কিছু নেই, আমার হাসনাবাদ ফিরে যাওয়া হবে না।
বীরেন বলল, একদিন আয়, এখন দুপুরে চাপ নেই, ফোনে এত কথা হয় না।
যাব বীরেনদা, বলছি অসীমের খোঁজ জান ?
অসীম মিদ্দে?
হ্যাঁ, মিদ্দে অসীম।
বীরেন ভাবল বলে, মিদ্দে অসীম বেঁচে নেই। আচমকা বুক চেপে বসে পড়েছিল এই বিধান সরণিতে। সঙ্গে ছিল ঢাউস বইয়ের ব্যাগ। খুব ভার। হার্ট অ্যাটাক। সময় দেয়নি। আড়াই-তিন মাইল দূরে বসেও তা জানে না অনুপ। খবর যায়নি। বীরেন বলল, শুনেছি আরামবাগ চলে গেছে।
দেশের বাড়ি?
আরামবাগে দেশের বাড়ি কি না জানে না বীরেন। মনে হল, তাই বলে দিল। অসীমের হার্ট ভালো ছিল না। ভার নিতে কষ্ট হতো। দম বন্ধ হয়ে আসত। সেই কথা জিজ্ঞেস করল অনুপ, ভালো আছে কি না। হ্যাঁ, ভালো আছে, এক সাধুর দেওয়া শিকড়-বাকড়ে ভালো হয়ে গিয়েছিল। আরামবাগে বইয়ের দোকান করেছে। স্কুল বই ছাড়া, গল্পের বইও রাখে। নিজেই বই ছাপবে বলছে। প্রকাশক হয়ে যাবে। শুনে অনুপ বলল, ও পারবে ঠিক, কলকাতায় আসে?
আসে, এলেই রূপলেখায় আসে।
ফোন নম্বর আছে? অনুপ জিজ্ঞেস করল।
বীরেন সেই একই কথা বলল। নম্বর ডায়েরিতে। ডায়েরি বাড়িতে। অনুপ চুপ করে থাকে। বীরেন বলল, রাখি, আমার বইয়ের অর্ডার সাপ্লাই করতে যেতে হবে।

অনুপের মনে হয় চাকরিটা ছেড়ে দেয়। বরিশাল ক্লথ স্টোরে ঢুকেছিল। তা এখন হয়ে গেছে জয়পুর ক্লথ স্টোর। হাত বদল হয়ে মালিক এখন গগন শর্মা। শর্মা বলেছে, অনুপের না পোষালে ছেড়ে দিতে পারে। তার কোনও ছুটি নেই। সাতদিন আসতে হবে। তবে সানডে বেলা তিনটে থেকে। সপ্তাহে এক বেলা করে ছুটি। শর্মা তুই-তোকারি করে। খুব চাপে রাখে। টার্গেট দিয়ে দেয়। ফুলফিল করতেই হবে। না পারলে ছেড়ে দে। একজনের কাজ গেছে এর ভিতরে। অনুপ পরের দিন রূপলেখায় ফোন করতে বীরেন বলল, ব্যস্ত আছি, পরে করিস।
তুমি রোববার ফ্রি আছ ?
রোববার চন্দননগর যাব।
অনুপ বলল, আমার জন্য একটা কাজ দেখো বীরেনদা।
বীরেন বলল, তুই কি আরামবাগ যেতে পারবি?
সে তো অনেক দূর, আমি থাকি গড়িয়া। অনুপ বলল।
তাহলে হয়তো একটা ব্যবস্থা হতো।
তোমার রূপলেখায় হবে না ?
বীরেন বলল, আমি চেষ্টা করছি নিজের ব্যবসা করতে, আয় এক সঙ্গে ব্যবসা করি।
ব্যবসা করব, কীসের ব্যবসা? অনুপ জিজ্ঞেস করে।
বইয়ের, তুই আয়, প্ল্যান করি।
দুদিন বাদে এল অনুপ। সত্যিই এল। বলল, গগন শর্মা তার চাকরি খেয়ে নেবে এবার। বলছে রোববার সকালে সোদপুরে ডিউটি দিতে। সেখানেও ক্লথ স্টোর আছে। সকালে খোলা, বিকেলে বন্ধ। শ্যামবাজারে বিকেলে খোলা সকালে বন্ধ। সম্ভব না। খাটিয়ে মেরে দেবে। অনুপের চোখমুখ বসে গেছে। বীরেনের রূপলেখায় এখন কদিন ঝিমুনি চলছে। মালিক দোকানেই থাকে। মালিক তারই মতো কর্মচারী ছিল। বই নিয়ে অসম, ত্রিপুরা, দিল্লি, কানপুর ঘুরে বেড়াত। বই বেচেই ফিরত। ঘুরতে ঘুরতে বইয়ের বাজার বুঝে গিয়েছিল। তারপর নিজেই রূপলেখা গড়ে তুলে বই ছাপছে। বীরেন বলল, সে ওই রকম কিছু করতে চায়।
হবে বলছ ?
হবে। বলল বীরেন, আমি বই লিখব।
তুমি লিখবে, লেখা বললেই কি লেখা যায়?
বীরেন বলল, সে বহুদিন ধরে লেখে। তার পাণ্ডুলিপি তৈরি। রূপলেখা ছাপতে চায়। সে রাজি নয়। নিজেই বের করতে চায়। লাভ নিজের কাছেই রাখতে চায়। অনুপ চুপ করে থাকে। বুঝতে পারে না কী বলবে? বীরেন কুণ্ডুর লেখা কেন লোকে পড়বে? বড় লেখকের লেখা ছাপলে তবে হতে পারে। তার মনের কথা যেন পড়ে নিয়েছে বীরেন, বলল, বই বেচার দায়িত্ব তার। সে জানে কীভাবে বেচতে হয় বই। দরকারে সে রবীন্দ্রনাথের নামে ছেপে দেবে তার লেখা।
বইয়ের নাম হবে যোগাযোগ। রবি ঠাকুরেরও যোগাযোগ আছে। তারপর টাকা উঠে গেলে সেই বই নিজের নামে। এমন হয় নাকি? হয়, একজনের লেখা শ্রীমা পাবলিশার্স ছেপেছিল, কুড়িটা গল্প। তার ভিতরে একটি বাদে সব গল্পই অন্য লেখকের। নাম বদল করে নিজের নামে ছেপেছিল লেখক। ধরা পড়ার আগে হাজার বই বিক্রি করে দিয়েছিল। এমন তো হয়। অনুপ বলল, বড় লেখকের বই ছাপলে কী হয়?
ছাপাই যায়। বীরেন বলল, কিন্তু নিজেদের বই ছাপাই ভালো, সবটাই আমাদের, বড় লেখকের বই পেতে টাকা খরচ করতে হবে, রয়্যালটি দিতে হবে।
অনুপ কী বলবে বুঝে উঠতে পারে না। সে বইয়ের কাজ জানে না। কাপড়ের কাজ, ভাঁজ খোলা আর বন্ধ করা খুব ভালো পারে। আর গুণমান বিচার করতে পারে। সে বলল, বই না, আমরা কাপড়ের ব্যবসা করতে পারি, ফুলিয়া, ধনেখালি থেকে কাপড় কিনে...
তাকে থামিয়ে দেয় বীরেন, বলল, বেচবি কীভাবে, ফেরি করে বেড়াবি, তুই কর গে যা।
অনুপ চলে গেল। অনুপ কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না। বীরেন চায় হাজার পনেরো। ব্যবসা শুরু হয়ে যাবে। একসঙ্গে পাঁচখানি বই ধরবে। অনুপের বউ বলল, তোমার টাকায় নিজের বই ছেপে নেবে বীরেনদা, তুমি যেখানে করছ, কর।
একবেলাও ছুটি নেই। অনুপ ক্ষুব্ধ হয়ে বলল।
অনুপের বউ তন্দ্রা বলল, ছুটি কারও নেই, ব্যবসা করলে আরও নেই, শনি রবি সোম মঙ্গল সব এক।
তখন অনুপ বলল, তার ছুটি ভালো লাগে। ছুটির দিনে ঘুমতে ভালো লাগে। ছুটির দিনে গঙ্গার ধারে বেড়াতে যেতে ভালো লাগে। সে বলল, আমি পারব না, আমার ছুটি চাই।
কেন?
আমার ছুটির দিনে শুয়ে পা দোলাতে ভালো লাগে, গগন শর্মার চাকরি যায় যাক।
তন্দ্রা একটা কাজ করে। প্রাইমারি ইস্কুলের ডি-গ্রুপ কর্মচারী। বেতন পায় তার চেয়ে বেশি। আর তন্দ্রার ছুটি আছে। অনুপ পরের দিন আবার বীরেনকে ফোন করল। বীরেন বলল, তার বই সে প্রেসে পাঠাবে, অনুপ জিজ্ঞেস করল, তুমি কখন লেখ বীরেনদা ?
কেন রাত জেগে, লেখকরা তেমনিই লেখে।
সারারাত?
রাত দুটো-আড়াইটে। বীরেন কথা বানাতে ওস্তাদ।
তখন সব মনে আসে? অনুপ জিজ্ঞেস করে।
কী মনে আসবে?
যে গল্প লেখ? অনুপ বলল।
হ্যাঁ, সকলে আমার চেনা লোক তো। বীরেন বলল।
আমি যদি রাত জাগি?
কী করবি রাত জেগে? বীরেন জিজ্ঞেস করে।
অনুপ বলল, লিখব।
তুই কি লেখক যে লিখবি? বিরক্তির সঙ্গে বলল বীরেন।
তুমি যে লেখ তাও তো জানতাম না।
বীরেন বলল, তখন আমি লিখতাম গোপনে।
অনুপ বলল, আমিও লিখতাম গোপনে, অসীমও লিখত গোপনে, অসীমের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়েছে বীরেনদা, অসীম বলেছে আমার বই ছাপবে, থিম শুনেছে, ঐতিহাসিক...
বীরেন চুপ করে গেল। বুক ধক ধক করতে লাগল। অনুপ কি তাহলে সত্যিই পারবে নিজের কথা আর স্বপ্নের একটা আকাশ এঁকে দিতে? বীরেন বলল, অসীমকে নিয়ে আমার কাছে আসিস, মনে থাকবে তো?
অলংকরণ : সুব্রত মাজী 
09th  June, 2019
এ ফেরা অন্য ফেরা
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

উচ্চতা ৪ ফুট ৬ ইঞ্চি, গায়ের রং আধাফর্সা, রোগা-পাতলা চেহারা। পরনে অতিসাধারণ শাড়ি-ব্লাউজ, কিন্তু পরিষ্কার। ঈষৎ গম্ভীর থাকে কাজের সময়। ঠিক সময়ে ঘরে ঢোকে, দ্রুত নিজের কাজটি সেরে বেরিয়ে যায় অন্য বাড়ির উদ্দেশে। কামাই প্রায় করেই না।
বিশদ

পুণ্য ভূমির পুণ্য ধূলোয়
বহুচরা দেবী
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

গুজরাত প্রদেশে আর এক তীর্থে আছেন বহুচরা দেবী। দিল্লি অথবা আমেদাবাদ থেকে মাহেসানায় নেমে এই তীর্থে যেতে হয়। স্থানীয়রা এই দেবীকে বলেন বেচরাজি। কিন্তু কেন ইনি বেচরাজি? প্রবাদ, বহুকাল আগে এক চাষি চাষ করতে করতে এখানকার দেবী দুর্গা বা অম্বিকাকে খেতের মধ্যে কুড়িয়ে পান।
বিশদ

ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়

 পাত্রীর ডাকনাম ফুলি, ভালোনাম ভবতারিণী। বিয়ের পর স্বামী রবীন্দ্রনাথ স্ত্রীর আর একটি ডাক নাম পদ্মের সঙ্গে মিলিয়ে রাখলেন মৃণালিনী। শুরু হল তাঁদের দাম্পত্য জীবন। বিশদ

ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়  

২৩

অপমৃত্যু নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিজস্ব একটা মতামত ছিল। পরিণত বয়সে তিনি এ সম্পর্কে তাঁর মতামত মংপুতে থাকাকালীন মৈত্রেয়ী দেবীর কাছে ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন,‘অপমৃত্যু সম্বন্ধে একটা কথা কি মনে হয় জানো, হঠাৎ যে বন্ধন ছিন্ন হয়, হয়তো তা সুসমঞ্জসভাবে ছিন্ন হয় না।  
বিশদ

11th  August, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধূলোয়
আরাসূরীর অম্বাজি, পর্ব-২৩
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়  

গিরনারের অম্বাজির পর আরাসূরীর অম্বাজিকেও দর্শন করে আসা যাক এবার। রাজস্থানের অর্বুদ শিখরে ৫২ সতীপীঠের অন্তর্গত দেবী অম্বাজি আছেন। অম্বাজিতে আমি আগেও গিয়েছি।  
বিশদ

11th  August, 2019
যে মেঘ গাভীর মতো চরে
সুতপা বসু 

বেডরুমের লাগোয়া বারান্দায় তখন সিদ্ধার্থ আর বারিষ বৃষ্টির ছাট নিয়ে খেলছে। সিদ্ধার্থ বললো,‘ওই ছড়াটা বল, মনে আছে?’ বারিষ বুঝল তার বাবাই কোন ছড়ার কথা বলছে। সে লাফাতে লাফাতে সুর করে বলল, ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এল বান...’ 
বিশদ

04th  August, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় 

২২

শ্যামলাল গঙ্গোপাধ্যায়। জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের বাজার সরকার। মাসিক বেতন কুড়ি টাকা। ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে তাঁর কেমন লতায়-পাতায় আত্মীয়তা ছিল বলেও শোনা যায়।  
বিশদ

04th  August, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধূলোয়
গিরনারের অম্বাজি পর্ব-২২
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় 

মরুভূমি ত্যাগ করে এবার যাওয়া যাক রৈবতক পর্বতে। এখানে বিরাজ করছেন অম্বাজি। সারা ভারতে, বিশেষ করে হিন্দিবলয়ে দেবী দুর্গা অম্বাজি নামেই প্রসিদ্ধ। অম্বিকা থেকে অম্বা, অম্বে, অম্বাজি।  
বিশদ

04th  August, 2019

দারোগা চমকিতচরণ
 
রতনতনু ঘাটী


দরকার পড়লে দারোগাবাবুকে চোর খুঁজতেও বেরতে হয়। কিন্তু আজ তিন দিন হল উদ্ভুট্টিডিহি থানা এলাকায় এক আজব কাণ্ড ঘটেছে। বড় দারোগা চমকিতচরণ দত্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এই থানা এলাকার দাগি চোরদের ধরে ধরে এনে থানায় পুরবেন।
বিশদ

28th  July, 2019
পুণ্যভূমির পুণ্য ধুলোয়
মরুতীর্থ ও ওশিয়াঁ
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

করাচি শহর থেকে ৩০০ কিমি দূরে লাসাবেলার বিস্তীর্ণ ও ভয়াবহ মরুভূমির বুকে হিঙ্গুলা নদীর তীরে যেমন হিংলাজ মাতার গুহা মন্দির, তেমনই রাজস্থানের থর মরুভূমির বুকে যোধপুর থেকে ৬৫ কিমি দূরে হল ওশিয়াঁ মাতার রম্য মন্দির। মরুভূমির বুকে মহাতীর্থ। মরুতীর্থ ওশিয়াঁ।
বিশদ

28th  July, 2019
 ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়

 ঘরে উপস্থিত সবাই বুঝতে পারলেন নিত্যরঞ্জন ঘোষের শরীরে কোনও অতৃপ্ত, ক্রুদ্ধ আত্মা ভর করেছেন। সেজবাতির আলোটা একটু বাড়িয়ে দিয়ে ডাক্তার রাজকৃষ্ণ মিত্র বললেন, হ্যাঁ, আমরা আপনার সম্পর্কে সবকিছু জানতে চাই। আপনি কে? আপনার নাম কী?
বিশদ

28th  July, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধূলোয়
মরুতীর্থের দেবী, পর্ব ২০
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

 আমার বারো বছর বয়সের সময় বাবা-মায়ের সঙ্গে তীর্থযাত্রায় গিয়ে দ্বারকা থেকে ফেরার পথে ভাটিয়া স্টেশনে নেমে সমুদ্রের খাড়ি পার হতে হয়েছিল। ওখান থেকে গন্তব্য ছিল সুদামাপুরী (পোরবন্দর)। পথে যেতে যেতে এক জায়গায় বাসযাত্রীরা সবাই নেমে পড়লেন এক জাগ্রতা দেবীকে দর্শন করবার জন্য।
বিশদ

21st  July, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়

 একদিন মিউগেন্স সাহেবকে বললাম, আমি বাড়িতে মাঝে মাঝে মিডিয়াম হয়ে ‘স্পিরিটের’ সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু খুব ভালো পারছি বলে মনে হচ্ছে না। মিউগেন্স সাহেবের গম্ভীর মুখের দিকে তাকিয়ে আবার বললাম, — অথচ বিলেতের কাগজে পড়েছি, এফিসিয়েন্ট মিডিয়ামের সাহায্যে তারা একান্ত আপনজনের স্পিরিট নিয়ে আসছে....
বিশদ

21st  July, 2019
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আর উপায় নেই। সুপ্রিম কোর্ট এবার রাজ্য সরকারের ‘রিভিউ পিটিশন’ খারিজ করে দেওয়ায় ২০০৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী প্রায় ১২০০ প্রার্থীকে প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিয়োগ করতে হবে রাজ্য সরকারকে। ...

সংবাদদাতা, বসিরহাট: ভ্যাপসা গুমোট গরমের শেষে একটানা বৃষ্টির স্বস্তি এখন অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বসিরহাট পুরসভা এলাকায়। বেশিরভাগ ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি জলের তলায়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শুধু হাওড়া শহর সংলগ্ন এলাকায় নয়, হাওড়া জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় এবার শিল্প স্থাপনে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার। তার জন্য উদয়নারায়ণপুরের কান্দুয়ায় ৪০০ একর জমি বাছা হয়েছে। তার মধ্যে ১৭০ একর জমি কেনাও হয়ে গিয়েছে। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গোটা বিশ্বেই মধ্যবিত্ত শ্রেণী বাড়ছে দ্রুত। নতুন প্রজন্ম অর্থ উপার্জন করছে বলেই এই শ্রেণীর বাড়বাড়ন্ত। সরকারেরও উচিত তাদের কাজের সুযোগ করে দেওয়া। সেই কারণেই সরকার যতটা পেনশন খাতে খরচ করে, তার চেয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত শিক্ষা খাতে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

হঠাৎ জেদ বা রাগের বশে কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়া শ্রেয়। প্রেম-প্রীতির যোগ বর্তমান। প্রীতির বন্ধন ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯০০: রাজনীতিক বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিতের জন্ম
১৯৩৬: গীতিকার ও পরিচালক গুলজারের জন্ম
১৯৫৮: ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করলেন প্রথম এশীয় ব্রজেন দাস
১৯৮০: সঙ্গীতশিল্পী দেবব্রত বিশ্বাসের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৫৯ টাকা ৭২.২৯ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৮১ টাকা ৮৭.৯৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৮৩ টাকা ৮০.৭৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
17th  August, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,২৮৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ আগস্ট ২০১৯, রবিবার, তৃতীয়া ৪৯/৪৯ রাত্রি ১/১৪। পূর্বভাদ্রপদ ২৯/২ অপঃ ৪/৫৫। সূ উ ৫/১৮/২, অ ৬/৩/১৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৯ গতে ৯/৩৩ মধ্যে। রাত্রি ৭/৩২ গতে ৯/২ মধ্যে, বারবেলা ১০/৫ গতে ১/১৬ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৫ গতে ২/৩০ মধ্যে।
৩২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৮ আগস্ট ২০১৯, রবিবার, তৃতীয়া ৪৩/৯/৬ রাত্রি ১০/৩২/৩৬। পূর্বভাদ্রপদনক্ষত্র ২৬/১/৪১ দিবা ৩/৪১/৩৮, সূ উ ৫/১৬/৫৮, অ ৬/৫/৪৬, অমৃতযোগ দিবা ৬/১২ গতে ৯/৩১ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২২ গতে ৮/৫৪ মধ্যে, বারবেলা ১০/৫/১৬ গতে ১১/৪১/২২ মধ্যে, কালবেলা ১১/৪১/২২ গতে ১/১৭/২৮ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৫/১৬ গতে ২/২৯/১০ মধ্যে।
 ১৬ জেলহজ্জ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
নেতাজিনগরে ২টি অটোর সংঘর্ষ, জখম মহিলা 

08:31:00 PM

বেনিয়াপুকুরে তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার 

06:21:00 PM

পানিহাটিতে গঙ্গায় ডুবে যাওয়া যুবকের দেহ উদ্ধার 

05:49:00 PM

পানিহাটিতে গঙ্গায় ডুবে যাওয়া যুবকের দেহ উদ্ধার 

05:46:00 PM

তপসিয়ায় বহুতলে আগুন, দমকলের ১টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে 

05:43:00 PM

শেক্সপিয়র সরণীর ঘটনায় ধৃতের পুলিস হেফাজত 
শেক্সপিয়র সরণীর ঘটনায় ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ধৃতের পুলিস হেফাজত। ...বিশদ

04:09:25 PM