Bartaman Patrika
গল্পের পাতা
 

দাদা, কেমন আছ?
 অমর মিত্র

দাদা, কেমন আছ?
কে বলছ? বীরেন জিজ্ঞেস করে।
দাদা, আমি অনুপ।
কোন অনুপ?
গলার স্বরে বুঝতে পারছ না, বেলঘরিয়ার অনুপ।
ও, মিত্রা সিনেমার অনুপ? বীরেন চিনতে পারে।
সিনেমা কতদিন আগে ছেড়েছি, তুমি এখন কোথায়?
আমি রূপলেখায়, বইয়ের কাজ।
বইয়ের কাজ ভালো? অনুপ জিজ্ঞেস করে।
ভালো তো, তুই এখন কোথায়?
অনুপ বলল, হল বন্ধ হওয়ার অনেক আগে বরিশাল ক্লথ স্টোরে ঢুকেছিলাম।
কাপড়ের কাজ জানিস?
জানতাম, আমি আগে তো বেলঘরিয়ায় ওই কাজই করতাম, বাজার আগুন লেগে পুড়ে গেলে আমাকে মিত্রা সিনেমায় ঢুকিয়ে দিয়েছিল কাউন্সিলারের ভাই।
হুঁ, আজ কি ছুটি?
পয়লা বৈশাখের চাপ গেল পরশু, কদিন একটু হাল্কা, তুমি?
বীরেন বলল, আমার এখন অফ সিজিন শুরু বলতে পারিস, যা চাপ সব শীতকালে, লাস্ট বইমেলা গেল গড়বেতায়।
অনুপ বলে, আমাদের আবার আরম্ভ হবে, কাপড়ের দোকানে অফ সিজিন নেই বলা যায়, ক’দিন বাদে ঈদের বাজার লাগবে, ঈদ যেতে যেতে পুজোর বাজার।
মিত্রা বন্ধ হওয়ার আগে ছেড়েছিলি? বীরেন জিজ্ঞেস করে।
হুঁ, বুঝতে পারছিলাম নতুন মালিক হল রাখবে না।
তুই বইয়ের লাইনে আসবি?
বুঝতে পারছি না, এখানে কাজ করাবে কিন্তু বেতন দিতে হাত খোলে না, খাটনি খুব।
বীরেন জিজ্ঞেস করল, চাপের সময় এক্সট্রা পাস?
পয়লা বৈশাখে টাকা দেয় না, শাড়ি কিংবা পাঞ্জাবি, হাজার টাকার ভিতরে যা হয়, শুধু পুজোয় দেয়।
চুপ করে থাকে বীরেন। কী কথা বলবে বুঝে উঠতে পারছে না। অনুপের সঙ্গে তার কাজ হয়েছিল মিত্রা সিনেমায়। সে কম দিন হল না। অনুপ লাইটম্যান। বীরেন কাউন্টারে। খুব কম মাইনে। তার পোষায়নি। পাড়ার একজনের হাত ধরে ক’দিন বাদেই কলেজ স্ট্রিট পাড়ায় শ্রীমা পাবলিশার্সে ঢুকল, এখন রূপলেখায়। বইয়ের কাজ খুব কঠিন না, কিন্তু সব কাজেরই একটা ধরণ আছে। খবর রাখতে হয় বেশি। রূপলেখার সব বইয়ের খোঁজ না রাখলে সে মেলায় মেলায় ঘুরবে কী করে? শীতের সময় ঘুরতে হয় জেলায় জেলায়। বইমেলায়। আবার কোন বইয়ের বিষয় কী, তাও জানতে হয়। জানলে খরিদ্দারকে বলা যায়। বইয়ে বীরেনের আগ্রহ অনেক দিনের। লাইব্রেরি থেকে বই এনে পড়াও ছিল তার অভ্যেস। সুতরাং কাজটা বেশ মনে ধরেছে। তবে বেতন কম। ছোট সংসার, চলে যায়। মেয়ের বিয়ে হয়েছে শ্রীমার কর্মচারীর সঙ্গে। তাই তার রূপলেখায় আসা। এক জায়গায় শ্বশুর-জামাই থাকা ঠিক না।
অনুপ বলল, বীরেনদা, বলাইয়ের খবর জানো?
জানি। বীরেন স্তিমিত স্বরে বলল।
কোম্পানি ওকে ছাড়িয়ে দিয়েছে?
ও যায়নি অনেকদিন, কাজ থাকে কী করে? বীরেন বলল।
ওর তো বড় অসুখ। অনুপ বলল।
তুই কি গিয়েছিলি?
ও থাকে না তো বাগমারিতে। বলল অনুপ।
দেশে ফিরে গেছে।
দেশ তো গড়বেতা।
হ্যাঁ, আমার কাছে এসেছিল। বীরেন কথা বানাতে থাকে।
রূপলেখায় ?
না, বীরেন বলল, গড়বেতা বইমেলায়।
ফোন নম্বর আছে?
বীরেন বলল, আমার ডায়েরিতে লেখা আছে, ডায়েরি বাড়িতে। ও কি কাজের জন্য এসেছিল ?
না, তা আসেনি।
বীরেন গড়বেতা গিয়েছিল মেলা করতে। সেখানেই দেখা। কলকাতা ছেড়ে বলাই দেশে ফিরে গেছে। কবরেজি চিকিৎসা করছে। ব্যথা নেই এখন। তবে কঙ্কালসার চেহারা। দেখেই বোঝা যায় যে কোনও দিন মরে যাবে। বীরেন এসব বলল না। বলল, কাজ দেশেই করছে। বীরেন ওর ভাইয়ের সঙ্গে গণগণির ডাঙা দেখতে গিয়েছিল। শিলাবতী নদীর ধারে লাল মাটির ভাঙন দেখে মনে হয়েছিল বড় বিস্ফোরণ হয়ে গেছে ওখানে। বলাইয়ের রোগটার সঙ্গে খুব মিল। বলাইয়ের ভাই কানাই খুব সার্ভিস দিয়েছিল তাকে। কানাই তার খিদমত খেটেছে ক’দিন। যদি একটা কাজ পায়। বইয়ের কাজ। তার দাদা করত ঢালাই কারখানার কাজ। অসুখটা ওখান থেকে এসেছে মনে হয়।
ভালো আছে? জিজ্ঞেস করে অনুপ।
আছে, দেশে ওদের অনেক সম্পত্তি, আমাকে গণগণির ডাঙায় নিয়ে গেল, নেমতন্ন করল।
তাহলে কেন কলকাতায় কাজ করতে এসেছিল?
এমনি, গাঁয়ে কেউ থাকতে চায়, কলকাতায় আসতে চায় সকলে। বীরেন বলল।
অনুপ বলল, আমাদের হাসনাবাদে কিছু নেই, আমার হাসনাবাদ ফিরে যাওয়া হবে না।
বীরেন বলল, একদিন আয়, এখন দুপুরে চাপ নেই, ফোনে এত কথা হয় না।
যাব বীরেনদা, বলছি অসীমের খোঁজ জান ?
অসীম মিদ্দে?
হ্যাঁ, মিদ্দে অসীম।
বীরেন ভাবল বলে, মিদ্দে অসীম বেঁচে নেই। আচমকা বুক চেপে বসে পড়েছিল এই বিধান সরণিতে। সঙ্গে ছিল ঢাউস বইয়ের ব্যাগ। খুব ভার। হার্ট অ্যাটাক। সময় দেয়নি। আড়াই-তিন মাইল দূরে বসেও তা জানে না অনুপ। খবর যায়নি। বীরেন বলল, শুনেছি আরামবাগ চলে গেছে।
দেশের বাড়ি?
আরামবাগে দেশের বাড়ি কি না জানে না বীরেন। মনে হল, তাই বলে দিল। অসীমের হার্ট ভালো ছিল না। ভার নিতে কষ্ট হতো। দম বন্ধ হয়ে আসত। সেই কথা জিজ্ঞেস করল অনুপ, ভালো আছে কি না। হ্যাঁ, ভালো আছে, এক সাধুর দেওয়া শিকড়-বাকড়ে ভালো হয়ে গিয়েছিল। আরামবাগে বইয়ের দোকান করেছে। স্কুল বই ছাড়া, গল্পের বইও রাখে। নিজেই বই ছাপবে বলছে। প্রকাশক হয়ে যাবে। শুনে অনুপ বলল, ও পারবে ঠিক, কলকাতায় আসে?
আসে, এলেই রূপলেখায় আসে।
ফোন নম্বর আছে? অনুপ জিজ্ঞেস করল।
বীরেন সেই একই কথা বলল। নম্বর ডায়েরিতে। ডায়েরি বাড়িতে। অনুপ চুপ করে থাকে। বীরেন বলল, রাখি, আমার বইয়ের অর্ডার সাপ্লাই করতে যেতে হবে।

অনুপের মনে হয় চাকরিটা ছেড়ে দেয়। বরিশাল ক্লথ স্টোরে ঢুকেছিল। তা এখন হয়ে গেছে জয়পুর ক্লথ স্টোর। হাত বদল হয়ে মালিক এখন গগন শর্মা। শর্মা বলেছে, অনুপের না পোষালে ছেড়ে দিতে পারে। তার কোনও ছুটি নেই। সাতদিন আসতে হবে। তবে সানডে বেলা তিনটে থেকে। সপ্তাহে এক বেলা করে ছুটি। শর্মা তুই-তোকারি করে। খুব চাপে রাখে। টার্গেট দিয়ে দেয়। ফুলফিল করতেই হবে। না পারলে ছেড়ে দে। একজনের কাজ গেছে এর ভিতরে। অনুপ পরের দিন রূপলেখায় ফোন করতে বীরেন বলল, ব্যস্ত আছি, পরে করিস।
তুমি রোববার ফ্রি আছ ?
রোববার চন্দননগর যাব।
অনুপ বলল, আমার জন্য একটা কাজ দেখো বীরেনদা।
বীরেন বলল, তুই কি আরামবাগ যেতে পারবি?
সে তো অনেক দূর, আমি থাকি গড়িয়া। অনুপ বলল।
তাহলে হয়তো একটা ব্যবস্থা হতো।
তোমার রূপলেখায় হবে না ?
বীরেন বলল, আমি চেষ্টা করছি নিজের ব্যবসা করতে, আয় এক সঙ্গে ব্যবসা করি।
ব্যবসা করব, কীসের ব্যবসা? অনুপ জিজ্ঞেস করে।
বইয়ের, তুই আয়, প্ল্যান করি।
দুদিন বাদে এল অনুপ। সত্যিই এল। বলল, গগন শর্মা তার চাকরি খেয়ে নেবে এবার। বলছে রোববার সকালে সোদপুরে ডিউটি দিতে। সেখানেও ক্লথ স্টোর আছে। সকালে খোলা, বিকেলে বন্ধ। শ্যামবাজারে বিকেলে খোলা সকালে বন্ধ। সম্ভব না। খাটিয়ে মেরে দেবে। অনুপের চোখমুখ বসে গেছে। বীরেনের রূপলেখায় এখন কদিন ঝিমুনি চলছে। মালিক দোকানেই থাকে। মালিক তারই মতো কর্মচারী ছিল। বই নিয়ে অসম, ত্রিপুরা, দিল্লি, কানপুর ঘুরে বেড়াত। বই বেচেই ফিরত। ঘুরতে ঘুরতে বইয়ের বাজার বুঝে গিয়েছিল। তারপর নিজেই রূপলেখা গড়ে তুলে বই ছাপছে। বীরেন বলল, সে ওই রকম কিছু করতে চায়।
হবে বলছ ?
হবে। বলল বীরেন, আমি বই লিখব।
তুমি লিখবে, লেখা বললেই কি লেখা যায়?
বীরেন বলল, সে বহুদিন ধরে লেখে। তার পাণ্ডুলিপি তৈরি। রূপলেখা ছাপতে চায়। সে রাজি নয়। নিজেই বের করতে চায়। লাভ নিজের কাছেই রাখতে চায়। অনুপ চুপ করে থাকে। বুঝতে পারে না কী বলবে? বীরেন কুণ্ডুর লেখা কেন লোকে পড়বে? বড় লেখকের লেখা ছাপলে তবে হতে পারে। তার মনের কথা যেন পড়ে নিয়েছে বীরেন, বলল, বই বেচার দায়িত্ব তার। সে জানে কীভাবে বেচতে হয় বই। দরকারে সে রবীন্দ্রনাথের নামে ছেপে দেবে তার লেখা।
বইয়ের নাম হবে যোগাযোগ। রবি ঠাকুরেরও যোগাযোগ আছে। তারপর টাকা উঠে গেলে সেই বই নিজের নামে। এমন হয় নাকি? হয়, একজনের লেখা শ্রীমা পাবলিশার্স ছেপেছিল, কুড়িটা গল্প। তার ভিতরে একটি বাদে সব গল্পই অন্য লেখকের। নাম বদল করে নিজের নামে ছেপেছিল লেখক। ধরা পড়ার আগে হাজার বই বিক্রি করে দিয়েছিল। এমন তো হয়। অনুপ বলল, বড় লেখকের বই ছাপলে কী হয়?
ছাপাই যায়। বীরেন বলল, কিন্তু নিজেদের বই ছাপাই ভালো, সবটাই আমাদের, বড় লেখকের বই পেতে টাকা খরচ করতে হবে, রয়্যালটি দিতে হবে।
অনুপ কী বলবে বুঝে উঠতে পারে না। সে বইয়ের কাজ জানে না। কাপড়ের কাজ, ভাঁজ খোলা আর বন্ধ করা খুব ভালো পারে। আর গুণমান বিচার করতে পারে। সে বলল, বই না, আমরা কাপড়ের ব্যবসা করতে পারি, ফুলিয়া, ধনেখালি থেকে কাপড় কিনে...
তাকে থামিয়ে দেয় বীরেন, বলল, বেচবি কীভাবে, ফেরি করে বেড়াবি, তুই কর গে যা।
অনুপ চলে গেল। অনুপ কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না। বীরেন চায় হাজার পনেরো। ব্যবসা শুরু হয়ে যাবে। একসঙ্গে পাঁচখানি বই ধরবে। অনুপের বউ বলল, তোমার টাকায় নিজের বই ছেপে নেবে বীরেনদা, তুমি যেখানে করছ, কর।
একবেলাও ছুটি নেই। অনুপ ক্ষুব্ধ হয়ে বলল।
অনুপের বউ তন্দ্রা বলল, ছুটি কারও নেই, ব্যবসা করলে আরও নেই, শনি রবি সোম মঙ্গল সব এক।
তখন অনুপ বলল, তার ছুটি ভালো লাগে। ছুটির দিনে ঘুমতে ভালো লাগে। ছুটির দিনে গঙ্গার ধারে বেড়াতে যেতে ভালো লাগে। সে বলল, আমি পারব না, আমার ছুটি চাই।
কেন?
আমার ছুটির দিনে শুয়ে পা দোলাতে ভালো লাগে, গগন শর্মার চাকরি যায় যাক।
তন্দ্রা একটা কাজ করে। প্রাইমারি ইস্কুলের ডি-গ্রুপ কর্মচারী। বেতন পায় তার চেয়ে বেশি। আর তন্দ্রার ছুটি আছে। অনুপ পরের দিন আবার বীরেনকে ফোন করল। বীরেন বলল, তার বই সে প্রেসে পাঠাবে, অনুপ জিজ্ঞেস করল, তুমি কখন লেখ বীরেনদা ?
কেন রাত জেগে, লেখকরা তেমনিই লেখে।
সারারাত?
রাত দুটো-আড়াইটে। বীরেন কথা বানাতে ওস্তাদ।
তখন সব মনে আসে? অনুপ জিজ্ঞেস করে।
কী মনে আসবে?
যে গল্প লেখ? অনুপ বলল।
হ্যাঁ, সকলে আমার চেনা লোক তো। বীরেন বলল।
আমি যদি রাত জাগি?
কী করবি রাত জেগে? বীরেন জিজ্ঞেস করে।
অনুপ বলল, লিখব।
তুই কি লেখক যে লিখবি? বিরক্তির সঙ্গে বলল বীরেন।
তুমি যে লেখ তাও তো জানতাম না।
বীরেন বলল, তখন আমি লিখতাম গোপনে।
অনুপ বলল, আমিও লিখতাম গোপনে, অসীমও লিখত গোপনে, অসীমের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়েছে বীরেনদা, অসীম বলেছে আমার বই ছাপবে, থিম শুনেছে, ঐতিহাসিক...
বীরেন চুপ করে গেল। বুক ধক ধক করতে লাগল। অনুপ কি তাহলে সত্যিই পারবে নিজের কথা আর স্বপ্নের একটা আকাশ এঁকে দিতে? বীরেন বলল, অসীমকে নিয়ে আমার কাছে আসিস, মনে থাকবে তো?
অলংকরণ : সুব্রত মাজী 
09th  June, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধুলোয়
সিদ্ধপীঠ জলপা, পর্ব-১৬
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

 মৈহরপীঠ দর্শনের পর সে রাতটা মৈহরেই কাটালাম। পরদিন সকাল সাড়ে সাতটার ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই কাটনিতে। মধ্য রেলওয়ের কাটনি একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশন। এ যাত্রায় আমি ঘরমুখো হব বলেই কাটনিতে এলাম। কেন না এখানে ট্রেন একটু বেশিক্ষণ দাঁড়ায় তাই।
বিশদ

23rd  June, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
১৬
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়

 গিরীন্দ্রনাথ সরকার। সাহিত্যিক হিসেবে তেমন খ্যাতি অর্জন করতে না পারলেও, তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভূপর্যটক। পৃথিবীর প্রায় সব দেশই তাঁর ঘোরা ছিল। বহুকাল তিনি সরকারি কন্ট্রাক্টর হিসেবে ব্রহ্মদেশে কাজ করেছিলেন। আর এইসময়ই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের।
বিশদ

23rd  June, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় 

১৫
নিস্তব্ধ নির্জন ঘর, দেবতা বিশ্রাম করছেন খাটে। ঘরের এককোণে চুপ করে বসে আছেন মতিলাল। প্রদীপটা তখনও মিটমিট করে জ্বলছে। সময় যেন আর কাটতেই চাইছে না। মাঝে একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন মতো হয়ে পড়েছিলেন মতিলাল। সেই রেশ কাটাতে তিনি ঘরের ভেতর পায়চারি করতে শুরু করলেন।  
বিশদ

16th  June, 2019
পুন্য ভূমির পুন্য ধুলোয়
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় 

মৈহর পীঠ, পর্ব-১৫
মৈহর হল মধ্যপ্রদেশের সাতনা জেলা তহশিলের এক প্রসিদ্ধ দেবীস্থান। একান্ন পীঠের অন্তর্গত পীঠ না হলেও উপপীঠ। এখানে সতীর দেহাংশ নয় কণ্ঠহার পড়েছিল। এই পুণ্যভূমিতেই ত্রিকূট পর্বতের চূড়ায়। সতীমাঈ কি হার। তাই থেকেই মাঈহার, মৈহার ও বর্তমানে মৈহর।  
বিশদ

16th  June, 2019
প্রাণেশদার শান্তিনিকেতন
আশিস ঘোষ 

স্টাফরুমে বসেছিলাম। ঘরের টিউব লাইট খারাপ থাকায় আবছা অন্ধকার। একটু আগেই এক পশলা বৃষ্টি হয়েছে। একটু যেন শীত শীত ভাব। অশোক কথা বলছিল। আমাদের কয়েকজনের অফ পিরিয়ড। কোনও তাড়া নেই। আড্ডা বেশ জমে উঠেছে। এমন সময় খবর এল, প্রাণেশবাবু আর নেই। 
বিশদ

16th  June, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় 

১৪

কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পিতা মতিলাল চট্টোপাধ্যায়। ভাগ্যদেবী কোনওদিনই এই মানুষটির প্রতি বিন্দুমাত্র সদয় ছিলেন না। চিরকালই তিনি তাঁর কৃপা-করুণা লাভে বঞ্চিত থেকেছেন। ফলস্বরূপ তাঁর পরিবার পরিজনকে যথেষ্ট সঙ্কটের মধ্যেই দিন কাটাতে হতো।  
বিশদ

09th  June, 2019
পুন্য ভূমির পুন্য ধুলোয়
দেবী ত্রিপুরমালিনী
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় 

পর্ব-১৪

এবার বলি দেবী ত্রিপুরমালিনীর কথা। পীঠ নির্ণয় তন্ত্রে আছে ‘ভীষণা ভৈরবস্তত্র দেবী ত্রিপুরমালিনী’। পাঞ্জাব প্রদেশে এই সতীপীঠ জলন্ধর পীঠ নামে খ্যাত। কিন্তু এই পীঠ সম্বন্ধে নানারকম বিভ্রান্তিকর তথ্য পাওয়ার কারণে এর সঠিক অবস্থান কিছুতেই নির্ণয় করতে পারিনি।  বিশদ

09th  June, 2019
পুন্য ভূমির
পুন্য ধুলোয়
কালকার কালিকা দেবী
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

কালকার কালিকা দেবী দর্শনে কোনও দুর্গম পন্থার পথিক হতে হবে না। কলকাতা থেকে কালকায় যাওয়ার একমাত্র ট্রেন দিল্লি কালকা মেল। এছাড়াও আম্বালা ক্যান্ট থেকে কালকাগামী বাসে কালকায় আসা যায়। তবে নয়নাদেবীর যাত্রীদের উচিত ফেরার পথে চণ্ডীগড়ে এসে কালকায় যাওয়া। চণ্ডীগড় থেকে কালকার দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার।
বিশদ

26th  May, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়

 দীনবন্ধু মিত্র সেইসময় কর্মসূত্রে যশোরে বসবাস করেন। তাঁর বাড়ির খুব কাছেই এক কুলীন বৃদ্ধের বাড়ি। সদ্য সেই বৃদ্ধের তরুণী স্ত্রী কয়েকদিনের জ্বরে ভুগে গত হয়েছেন। তাঁদের একটি আট ন-বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। স্ত্রী রোগ শয্যায় শুয়ে বৃদ্ধ স্বামীর দুটি হাত ধরে অনুরোধ করে বলেছিলেন, তুমি খুকির মুখ চেয়ে আর বিয়ে করো না।
বিশদ

26th  May, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধুলোয়
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়  

নয়নাদেবী, পর্ব-১২

শিবালিক পর্বতমালার উত্তমশৃঙ্গে রমণীয় পরিবেশে নয়নাদেবীর অধিষ্ঠান। নয়নাদেবীতে সতীর দুটি নয়নই পতিত হয়েছিল। কিন্তু কোথায় সেই স্থান? সচরাচর কোনও যাত্রীরও যাতায়াত নেই সেখানে।  
বিশদ

19th  May, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়  

১২
অভাব অনটন তাঁর পরিবারের নিত্য সঙ্গী তবু পিতা কালাচাঁদ মিত্র আদর করে পুত্রের নাম রাখলেন গন্ধর্বনারায়ণ।১৮৩০ সালে নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে জন্ম হল বাংলার এই অন্যতম কৃতী সন্তানের।  
বিশদ

19th  May, 2019
ব্যাডমিন্টন
মণিদীপ রায় 

সাড়ে আটটার লোকালটা যদি টাইমে আসে তাহলে নির্ঘাত মিস। কোনদিনই অবশ্য আসে না, এটুকুই যা ভরসা। প্লেটে একখানা আস্ত পরোটা, হাতে মেরেকেটে আর পাঁচটা মিনিট। অপর্ণা চায়ের কাপটা আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘এতো দামি গাড়িটা কিনলে বসিয়ে রাখার জন্যে?’ অপর্ণা বেছে বেছে ঠিক এই সময়টাই বের করে তার দাবি দাওয়া পেশ করার জন্য। 
বিশদ

19th  May, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় 

১১

‘নিশীথ রাক্ষসীর কাহিনী’— সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অসমাপ্ত এক কাহিনী। এই লেখাটি তিনি শেষ করে যেতে পারেননি। লেখাটি শুরু করে বেশ কিছুটা এগবার পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।  
বিশদ

12th  May, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধুলোয়
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় 

চিন্তাপূর্ণী দেবী, পর্ব-১১

গাড়োয়াল হিমালয় ও সংলগ্ন হিমাচল প্রদেশে চিন্তাপূর্ণী দেবীর মান্যতা খুব। কেননা ইনিও নয় দেবীর এক অন্যতমা মহাদেবী। জ্বালামুখী ও কাংড়ার খুব কাছেই চিন্তাপূর্ণী দেবীর স্থান। নগরকোট কাংড়া থেকে চিন্তাপূর্ণীর দূরত্ব ৫০ কিমির মতো।  
বিশদ

12th  May, 2019
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইস্ট-ওয়েস্ট পথে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চালানোর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ‘কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি’ (সিআরএস)-র কাছে আবেদনের করল ‘কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড’ (কেএমআরসিএল)। সংস্থা সূত্রের খবর, কয়েকদিন আগে সিআরএসের কাছে এই আবেদন করা হয়েছে।  ...

বিএনএ, কোচবিহার: লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর কোচবিহারে একের পর এক পঞ্চায়েত তৃণমূলের হাতছাড়া হচ্ছে। দলের এই ভাঙন ঠেকাতে কার্যত ব্যর্থ হচ্ছেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। বিগত দিনে শাসক দলের বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনৈতিক দলের জনপ্রতিনিধিদের দল ভাঙানোর অভিযোগ উঠেছিল।   ...

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: শনিবার রাতে পাড়া থানার পুলিস ঝাপড়া গ্রামে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের মৃতদেহ উদ্ধার করে। তাঁর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিস জনিয়েছে, মৃতের নাম বাণেশ্বর কুমার সাহাবাবু(৮২)।   ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভারত সরকার এবং জাপানের যৌথ উদ্যোগে বেঙ্গালুরুতে গত বছর গড়ে ওঠে জাপান-ইন্ডিয়া স্টার্ট আপ হাব। সেখানে সাফল্য পাওয়ার পাশাপাশি ওই হাব রাজ্যের অন্যত্র নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে যাতে এমন হাব তৈরি করা যায়, তার ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে। সরকারি বা আধাসরকারি ক্ষেত্রে কর্ম পাবার সুযোগ আছে। ব্যর্থ প্রেমে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৮৩- অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থ বিজ্ঞানী ভিক্টর ফ্রান্সিস হেসের জন্ম
১৯০৮- প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডের মৃত্যু
১৯৫০- বাংলাদেশি কবি তথা মুক্তিযোদ্ধা আবিদ আনোয়ারের জন্ম
১৯৮৭- আর্জেন্তিনার ফুটবলার লায়োনেল মেসির জন্ম
 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৯৫ টাকা ৭০.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৭.১২ টাকা ৯০.৩১ টাকা
ইউরো ৭৭.৪০ টাকা ৮০.৩৫ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
22nd  June, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৪,৫৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩২,৭৮০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৩,২৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,৯৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,০৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
23rd  June, 2019

দিন পঞ্জিকা

৯ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ২৪ জুন ২০১৯, সোমবার, সপ্তমী ৫৩/৯ রাত্রি ২/১৩। পূর্বভাদ্রপদ ৫৫/১১ রাত্রি ৩/২। সূ উ ৪/৫৭/১৩, অ ৬/২০/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৮/৩১ গতে ১০/১৮ মধ্যে। রাত্রি ৯/১০ গতে ১২/০ মধ্যে পুনঃ ১/২৫ গতে ২/৫০ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৭ গতে ৮/১৮ মধ্যে পুনঃ ২/৫৯ গতে ৪/৪০ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/১৯ গতে ১১/৩৯ মধ্যে। 
৮ আষাঢ় ১৪২৬, ২৪ জুন ২০১৯, সোমবার, সপ্তমী ৪৬/৭/৫৫ রাত্রি ১১/২৩/২৬। পূর্বভাদ্রপদনক্ষত্র ৫০/২৩/৩২ রাত্রি ১/৫/২১, সূ উ ৪/৫৫/৫৬, অ ৬/২৩/৪১, অমৃতযোগ দিবা ৮/৩৫ গতে ১০/২৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/১৩ গতে ১২/৩ মধ্যে ও ১/২৮ গতে ২/৫৪ মধ্যে, বারবেলা ৩/১/৪৫ গতে ৪/৪২/৩৩ মধ্যে, কালবেলা ৬/৩৪/৫৪ গতে ৮/১৭/৫২ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/২০/৪৭ গতে ১১/৩৯/৪৯ মধ্যে।
 
মোসলেম: ২০ শওয়াল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিশ্বকাপ: আফগানিস্তানকে ২৬৩ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ 

06:55:20 PM

বিশ্বকাপ: বাংলাদেশ ১৯৩/৪ (৪০ ওভার) 

06:10:23 PM

দেউলিয়া বরিস বেকার, নিলামে উঠল ট্রফি 
কিংবদন্তি জার্মান লন টেনিস প্লেয়ার বরিস বেকার দেউলিয়া। না, মোটেই ...বিশদ

06:01:43 PM

বিশ্বকাপ: বাংলাদেশ ১৪৩/৩ (৩০ ওভার) 

05:22:32 PM

বিজেপিতে যোগ দিলেন আরও দুই তৃণমূল নেতা 
বিজেপিতে যোগ দিলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা প্রবীণ ...বিশদ

05:16:00 PM

বিশ্বকাপ: বাংলাদেশ ১০৩/২ (২০ ওভার) 

04:41:32 PM