প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

বন্দেমাতরম 
রজত চক্রবর্তী

 জানলা খুললেই সামনে গঙ্গা বয়ে চলেছে। এক রাশ ভিজে বাতাস যেন হাত বুলিয়ে দিল ক্লান্ত চোখে-মুখে। জানালার সামনে পড়ার টেবিল-চেয়ার। বসলেন চেয়ারে। হুগলির কালেক্টার। ধকল যাচ্ছে বেশ। তাকিয়ে থাকলেন জানালা দিয়ে। প্রবাহিত গঙ্গা। তার দু’পাশে সবুজ শস্য। সুফলা। শ্যামলিমা। মা। আমার দেশ। কলম তুলে নিলেন। সাদা পাতায় লেখা হয়ে চলেছে। প্রবাহিত হচ্ছে নদীর মতো। বেগবতী শব্দমালা—বন্দেমাতরম। ১৮৭৬ সাল বঙ্কিমচন্দ্র লিখলেন বন্দেমাতরম গান। বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের যদুনাথ ভট্টাচার্য (১৮৪০-১৮৮০) ধ্রুপদ সংগীতে প্রথম সারির প্রণম্য। গান শিখিয়েছেন বঙ্কিমচন্দ্রকে। আবার ঠাকুরবাড়ির অনেকে তাঁর কাছে তালিম নিলেও রবীন্দ্রনাথ ছিলেন নিষ্ঠাবান ছাত্র। তিনিই সুর দিলেন সেই গানে। চুঁচুড়ার জোড়াঘাটের সেই ঐতিহাসিক বাড়িতেই লেখা ও সুর দেওয়া হল দেশকে মাতা হিসাবে গ্রহণ করে তার বন্দনা সংগীত। ১৮৮১ সালে বঙ্কিমচন্দ্র যখন ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাস লিখলেন, তখন এই গানটি সেখানে যুক্ত করলেন। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে এই গানের গুরুত্ব আজ আর আলোচনার প্রয়োজন নেই। এই ঘটনার কুড়ি বছর পেরিয়ে গিয়েছে। ১৯০২ সালে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর আঁকলেন ‘বঙ্গমাতা’। ১৯০৫ সালে সিস্টার নিবেদিতার প্রেরণা ও সক্রিয় উৎসাহে সেই ‘বঙ্গমাতা’ ছবিটির নাম পরিবর্তন হয়ে হল ‘ভারতমাতা’। এবং বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে এই ‘ভারতমাতা’র ছবিটিকে পতাকায় ব্যবহার করা হয়েছিল নিবেদিতার ইচ্ছায়। নিবেদিতা তখন সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন নিজেকে এবং আশপাশকেও। অরবিন্দ ঘোষ আর যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়দের নিয়ে গোপন আলোচনায় বসছেন নিজের বোসপাড়া লেনের বাড়িতে। ভারতকে স্বাধীন করতে হবে। অরবিন্দ বরোদার চাকরি ছেড়ে চলে এসেছেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রস্তুতি পর্বের এই কাজে প্রথম যে বাঙালি মেয়েটি এগিয়ে এসেছিলেন, তিনি সরলা দেবী। স্বর্ণকুমারী দেবীর মেয়ে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাগনি। ১৯০২ সালে তৈরি হল অনুশীলন সমিতি। সরলা দেবী ২৬ নম্বর বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে তৈরি করলেন ব্যায়ামের আখড়া... যতীন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে। স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য বলবান তরুণ দলের প্রয়োজন। অরবিন্দ ঘোষ বরোদা থেকে শিখে এসেছেন যুদ্ধবিদ্যা। ১৯০৫ সালের পর সরলা দেবীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ তেমন দেখা যায়নি... এটা ঘটনা, কিন্তু বিপ্লবী গুপ্তসমিতি গঠনের ভিত্তিপ্রস্তর এই দুই মহিয়সী মহিলাই স্থাপন করেছিলেন। সিস্টার নিবেদিতা, আর সরলা দেবী। জগদীশচন্দ্র বোস ও আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের ল্যাবরেটরিতে নিবেদিতা তাঁর ছেলেদের পাঠাতেন বোমা প্রস্তুতির রসায়ন শেখার জন্য।
আশ্চর্য্য হলেও সত্যি, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে যে বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামী বীরদের নাম আমরা সাধারণভাবে পাই, সে তুলনায় বীরাঙ্গনাদের নাম কম উচ্চারিত হয়। আজও। এই বীরদের সংগ্রামে এগিয়ে দিতে যে বীরাঙ্গনারা পরদার আড়ালে কাজ করে গিয়েছেন, তাঁদের অনেক নাম আজও অজানা। অনেক মা-মাসি-কাকিমা-বৌদিরা এই বীর নায়কদের আশ্রয় দিয়েছেন নিজের পরিবারের বিপদকে অগ্রাহ্য করে। লুকিয়ে রেখেছেন অস্ত্র। সংবাদ আদান-প্রদান করেছেন গোপনে। গ্রেপ্তার হয়েছেন। নির্মম অত্যাচার সহ্য করেছেন নীরবে। তাঁরা ঢাকা পড়ে গিয়েছেন ইতিহাসের উজ্জ্বলতার আড়ালে। গ্রামের সরল বউ বিপ্লবীদের নানা পরিচয়ে আশ্রয় দিচ্ছেন, আর শিলনোড়ায় বোমার মশলা পিষছেন। তাঁর মশলা পেষাইয়ের দক্ষতা এত প্রচার হয়েছিল যে, বিভিন্ন জায়গা থেকে মশলা তাঁর বাড়ি পৌঁছে যেত। তিনি চন্দননগরের মতিলাল রায়ের স্ত্রী রাধারানি দেবী। আর একজন বাল্যবিধবা ননীবালা দেবী। বিপ্লবী অমর চট্টোপাধ্যায়ের পিসিমা। সমস্ত বিপ্লবীর পিসিমা। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিপ্লবীদের মা, পিসিমা এমনকী বউ পরিচয় দিয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়ে গোপন আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতেন। ১৯১৫ সালে জেলবন্দির স্ত্রী সেজে জেলের ভিতর থেকে খবর আনতেন... কোথায় আছে লুকানো অস্ত্র। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সন্দেহ করছিল। পেশোয়ারে ধরা পরলেন উত্তরপাড়ার ননীবালা। অকথ্য অত্যাচার করা হল। তাঁর গোপনাঙ্গে লঙ্কাবাটা দিয়ে দেওয়া হত। তবু সেই মা কোনও গোপন তথ্য প্রকাশ করেননি। বিপ্লবী সন্তানদের রক্ষা করার জন্য সব যন্ত্রণা সহ্য করা ননীবালা দেবী ছিলেন প্রথম স্টেট প্রিজনার। আজ সেই মায়েদের বন্দনা করারই তো দিন!
দুকড়িবালা দেবী। লুট করা মসার পিস্তল লুকিয়ে রেখেছিলেন নিজের কাছে। গ্রাম্য বধূ। এক বছরের শিশু কোলে। পুলিশ ধরল। তৃতীয় শ্রেণির কয়েদি। সশ্রম কারাদণ্ড (১৯১৭-১৯১৮)। জেল থেকে বাবাকে কাঁচা হাতে চিঠি লিখছেন... আমি ভালো আছি, আমার জন্য ভেবো না। শুধু ছেলেটাকে দেখো, ও যেন কান্নাকাটি না করে। কোথা থেকে পেয়েছিলেন এই আত্মদানের জোর... গ্রামের এই মা! এই সময়েই, ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ পুলিশ গ্রেপ্তার করল সিন্ধুবালা দেবীকে। ব্রিটিশ পুলিশরা তখনই বুঝতে পারল যে, গ্রামের এই নিরীহ পর্দানসিন গ্রাম্যবধূদের ভিতর সংগ্রামের বীজমন্ত্র... বন্দেমাতরম পৌঁছে গিয়েছে। আগেই তার প্রমাণ মিলেছিল উত্তর কলকাতায়। ১৯০৭ সালে পুলিশ যখন স্বদেশিদের ধরপাকড় শুরু করেছে, আর তল্লাশি চালাচ্ছে, তখন বধূরা ছাদ ও বারান্দা থেকে ইটবৃষ্টি করেছিল পুলিশের উপর। মহিলাদের প্রথম ব্রিটিশের প্রতি আক্রমণ। আর নিরাশ্রয় ক্ষুদিরামকে পরম মমতায় আশ্রয় দিয়েছিলেন উত্তর কলকাতারই এক গৃহবধূ। বিপ্লবী রামশরণ দাসের স্ত্রী সত্যবতী দেবী। বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর স্ত্রী সেজে একই বাড়িতে রাসবিহারীকে আশ্রয় দিয়েছিলেন দিনের পর দিন। মাষ্টারদাদের যে গ্রাম্য বৃদ্ধা আশ্রয় দিয়েছিলেন, মাষ্টারদা ও প্রীতিলতাকে পালাতে সাহায্য করেছিলেন পুলিশের গুলিবর্ষণের সামনে... সেই সাবিত্রী দেবী জেলজীবনের পর পথে দাঁড়িয়েছিলেন একা। সেই পরদানশিন সময়ে, সেই জাত-পাত, ছোঁয়াছুঁয়ি, জলচলের সময়ে এইসব মায়েরা সংস্কারের ঊর্ধ্বে উঠে বিপ্লবী সন্তানদের আশ্রয় দেওয়া, গোপন খবর পৌঁছে দেওয়া ও অস্ত্র লুকিয়ে রাখার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলি অমল হাসিমুখে করতেন। কতজনের মায়েরা আজও থেকে গিয়েছেন আড়ালে। তখনও তাঁরা সরাসরি রাজনীতির ময়দানে আসেননি।
মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখা গেল ১৯২৮ সালে। কলকাতা কংগ্রেসে। সুভাষচন্দ্র বসুর ডাকে মহিলারা বেরিয়ে এলেন সর্বসমক্ষে। বিপ্লবী বীণা দাস ও কল্পনা দাস, দুই বোন বেথুন কলেজে খুললেন ‘ছাত্রী সংঘ’। এই ছাত্রী সংঘের সাথে বিপ্লবী দীনেশ মজুমদারের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল। প্যারেড, কুচকাওয়াজ, লাঠি-ছোরা চালানো... মহিলারা এইসব শিখছিলেন বিভিন্ন ক্লাবে। তখনও পর্যন্ত বোমা-পিস্তল নিয়ে লড়াইতে নামেননি ভারতের নারীশক্তি। ১৯৩১ সালের ১৪ ডিসেম্বর। ভারতবর্ষ চমকে উঠল দুই কিশোরীর বীরত্বে।
সিল্কের চাদরটা ভালো করে জড়িয়ে নিল গায়ে। আয়নায় একবার দেখে নিল নিজেকে। ঘুরেফিরে। বুকের মাঝখানে হাত দিয়ে দেখল ঠিকঠাকই আছে যন্ত্রটা। ঠান্ডা। শাড়ির কুঁচিটা একবার ঠিক করল। আজ জিরো আওয়ারের ক্লাস আছে বলে তাড়াতাড়ি স্কুলে বেরনোর প্রস্তুতি। এরকমই বাড়িতে বলা আছে। ক্লাস এইটের ছাত্রী। সকাল সাড়ে ন’টা। এমনিতে স্কুলের বাস আসে নিয়ে যেতে। কিন্তু আজ আগেই বেরতে হবে। বেরিয়ে পড়ল সে। বন্ধু শান্তি ঘোষও বাড়ির দরজা পেরিয়ে রাস্তায়। শাড়ি আর সিল্কের চাদর। গল্প করতে করতে চলেছে দু’জন। ছ’-সাত মাসের বড় শান্তি। ন্যাশনাল গার্লস স্কুলের সামনে ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিপ্লবী সতীশ রায়। দুই কিশোরী চেপে বসল। চলতে শুরু করল গাড়ি। সুনীতি চৌধুরি, আর শান্তি ঘোষ। দু’জনেরই ব্লাউজের ভিতরে লুকানো আছে পটাসিয়াম সায়ানাইডের ছোট্ট শিশি, আর ঠান্ডা ছোট্ট দু’টি ‘মেশিন’। ৪৫০ বোরের পিস্তল শান্তির কাছে, ৩২০ বোরের সুনীতির। মনীদা, মানে মনীন্দ্রলাল চৌধুরি পিস্তল পৌঁছে দিয়েছিলেন শান্তিকে। তারপর শান্তি থেকে সুনীতি। ঘোড়ার গাড়ি এগচ্ছে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বাংলোর দিকে। কুমিল্লার কুখ্যাত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিঃ স্টিভেনস। অখিলচন্দ্র নন্দী তাঁর ‘বিপ্লবীর স্মৃতিচারণ’-এ লিখছেন—‘গায়ে সিল্কের চাদর, জামার ভেতরে আগ্নেয়াস্ত্র, একটু পরেই বিরাট একটি বপুর সামনে দাঁড়াতে হবে ঐ ছোট্ট দুটি মেয়েকে। কিন্তু একটুও ভয় নেই তাদের, বেশ গল্প করছে ও হাসছে। যেন সেজেগুজে পিকনিকে যাচ্ছে। আমাকে দেখে হাসতে লাগল, ভাবখানা এই—একটু পরেই বিজয় পতাকা উড়িয়ে দেবো’।
ঘোড়ার গাড়ি এসে থামল কালেক্টরেটের সামনে। সুনীতির বাবা, উমাচরণ চৌধুরি কালেক্টার অফিসেই চাকরি করতেন। সুনীতির তাই ঢুকতে কোনও সংকোচ ও অসুবিধা হল না। সঙ্গে শান্তি। দুই কিশোরী। বেণী দুলিয়ে সোজা কালেক্টারের দরজার সামনে। হাতে একটা দরখাস্ত—মেয়েদের সাঁতার শেখার ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি সংক্রান্ত। সুনীতির স্মৃতিচারণ—‘বিনা বাধায় বারান্দা পর্যন্ত পৌঁছে গেলাম। এবারে এক আর্দালীর সাক্ষাৎ মিললো। ইন্টারভিউ স্লিপ নিয়ে ভেতরে গেল সে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বেরিয়ে এল বাঙালী এসডিও(নাম ছিল, নেপাল সেন) সহ স্বয়ং শ্বেতকায় মিঃ স্টিভেন্স। আমাদের হাতে দরখাস্ত ছিল, দেখল ভালো করে।... সাহেব আমাদের দরখাস্তের উপর রেফারেন্স লিখতে ভেতরে চলে গেল। এতটা সময় নষ্ট করা উচিৎ হয়নি। এর মধ্যেই তো কাজ শেষ করবার কথা। প্রমাদ গুনলাম- কী হবে যদি আর না আসে? যদি আর্দালীর হাতেই পাঠিয়ে দেয় দরখাস্তটা—তাহলে সব পরিকল্পনা তো ভেস্তে গেল। না। আমাদের সকল চিন্তা দূর করে আমাদের সামনে উপস্থিত হলো দু’জনেই... যদিও আমাদের লক্ষ্য একজন। লক্ষ্য সম্পর্কে আমরা ততক্ষণে সজাগ সতর্ক। লক্ষ্যভেদে একান্ত প্রস্তুত। এবার আর মুহূর্ত বিলম্ব হল না। রিভলবার ব্লাউজের ভেতর থেকে বের করে চাদরে ঢাকা হাতে নিয়ে একেবারে উদ্যত। সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আর কথা নয়, ছুটল বুলেট। সাহেব দুজনও ছুটল ঘরের ভেতরের দিকে, আর আমাদের পেছন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ল আমাদের পিঠের উপর বেয়ারা-আর্দালীর দল, মায় বাগানের মালিরাও বাদ গেল না”। সুনীতির হাতের তালু এতো ছোট ছিলো যে, তর্জনি পিস্তলের ট্রিগার পর্যন্ত পৌঁছাত না, তাই সে মধ্যমা দিয়ে গুলি চালানো প্র্যাকটিস করেছিল। অব্যর্থ লক্ষ্য। কিল-চড়-লাথি-ঘুসি চলল দু’টি কিশোরীর উপর। তারপর গরুর দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলা হল। না... মহিলা পুলিশ ছিল না তখন। দুই ফুলের মতো কিশোরীকে বেঁধে ফেলে রেখেছে বারান্দায়। সমস্ত কাগজে উঠেছিল প্রতিবাদের ঝড় এই প্রকাশ্য অত্যাচারের বিরুদ্ধে। আর মেয়ে দু’টি? ভাবছে সফল না বিফল? ভারি পরদার তলা দিয়ে কোনওরকমে দেখার চেষ্টা করছে ঘরের ভিতরে। শান্তি নেমে এল চোখ জুড়ে। অত্যাচারী শাসক ঘরে শুয়ে আছে। সাদা চাদরে ঢাকা। তাহলে আমরাও পেরেছি স্বাধীনতার লড়াইয়ে কিছুটা ভূমিকা পালন করতে। কার্য সফল। সারা গায়ে ব্যথা। কালশিটে। জমাট রক্ত। অনেক কষ্টে একে অপরের দিকে তাকাল। শান্তি আর সুনীতি। দু’জনের চোখে তৃপ্তি। চোখে অন্ধকার নেমে এল।
সারা শহরে ছড়িয়ে পড়ল দুই কিশোরীর কথা। বেলা একটায় পিছমোড়া করে চাপানো হলো প্রিজন ভ্যানে। রাস্তার দু’পাশে জনসমাগম। দুই কিশোরী চিৎকার করে উঠলো—বন্দেমাতরম। সে শব্দ ছড়িয়ে পড়ল ক্ষুদিরাম-প্রফুল্ল-কানাইলালের বাংলায়, মাষ্টারদার বাংলায়, অরবিন্দ-বাঘাযতীন-রাসবিহারীর বাংলায়। ক্লাস এইট, আর ক্লাস সেভেন, দুই কিশোরী, সদ্য ফোটা ফুলের মতো কোমল, কিন্তু ভিতরে তাদের বজ্রের কাঠিন্য। অকথ্য অত্যাচারের চিহ্ন সারা গায়ে। তল্লাশির নামে খুলে নেওয়া হয়েছিল তাদের পরনের শাড়ি। সে নিয়ে বিস্তর লেখালেখি কাগজে কাগজে। কিছুই জানে না দু’জন। জানে না তাদের জন্য কোন মারাত্মক শাস্তি অপেক্ষা করে আছে। জানতেও চায় না। তারা জানে শুধু, শুধুমাত্র দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে তাদের জন্য যে আদেশ এসেছিল, তা সফল করতে পেরেছে। ছড়িয়ে পড়ল বাংলার ঘরে ঘরে দুই বীরাঙ্গনার কথা। দুই কিশোরীর ছবিসহ প্যামফ্লেট বিলি হতে লাগল হাজারে হাজারে। স্বাধীনতার ডাক। সংগ্রামের ডাক। সে আবেগের উন্মাদনায় একটা কাজ সংগঠিত করে ফেলা এক কথা, কিন্তু উন্মাদনার রেশ কেটে যাওয়ার পর জেলের কুঠুরির অন্ধকারে, দৈহিক ও মানসিক অত্যাচারের মুখোমুখি হওয়া আর এক। এই সময় প্রমাণিত হয় মানসিক দৃঢ়তা, যা উৎসারিত হয় আদর্শের প্রতি অবিচল আস্থা থেকে। বারো দিন কুমিল্লা জেলে রেখে পর্যুদস্ত পুলিশ পাঠিয়ে দিল তাদের কলকাতায়। ২৭শে ডিসেম্বর, ১৯৩১।
কলকাতায় ওদের বিচারের জন্য গঠন করা হল বিশেষ আদালত। কলকাতায় আলিপুর সেন্ট্রাল জেল। গোপন তথ্য বের করার জন্য আরও ভয়ংকর অত্যাচার কুখ্যাত পুলিশ অফিসারদের। বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, নগ্ন দেহে বরফের উপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুইয়ে রাখা, নখের ডগায় পিন ঢুকিয়ে দেওয়া, এইসব অত্যাচারের কথা শুনেছিল। এবার মুখোমুখি হওয়ার পালা। চাঁদপুর থেকে গোয়ালন্দ, স্টিমারে আসছে তারা... কড়া পুলিশ পাহারায়। কী করছিল কিশোরী দু’জন! প্রিয় দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে বলে চোখ জলে ভরে যাচ্ছিল! না। স্টিমারে দু’জনে একে অপরের আঙুলগুলো নিজের হাতের ভিতর শক্ত করে ধরেছিল। তারপর আঙুলের ডগায় পিন ফুটিয়ে দিচ্ছিল সজোরে। সহ্যশক্তি বাড়াচ্ছিল দু’জনে এইভাবে। আর প্রতিজ্ঞা করছিল। শত অত্যাচারে কোনও তথ্য ফাঁস করব না। মৃত্যু এলেও নয়। ক্লাস এইটের শান্তি, আর সেভেনের সুনীতি। শান্তি দাস(ঘোষ) জন্মেছিলেন ২২শে নভেম্বর, ১৯১৬। সুনীতি চৌধুরি(ঘোষ) জন্মেছিলেন ২২শে মে, ১৯১৭। জন্মের শতবর্ষ পেরিয়ে গেল তাদের। অনাদরে। অবহেলায়।
১৮ জানুয়ারি, ১৯৩২ থেকে মামলা চলেছিল ২৮ জানুয়ারি, ১৯৩২ পর্যন্ত। চূড়ান্ত রায় ঘোষণার দিন, অর্থাৎ ২৮ জানুয়ারি সকাল ৮টায় দু’জনকে নিয়ে যাওয়া হল হাইকোর্টে। সাড়ে ৯টায় বিচারক এলেন। রায় পড়তে লাগল ঘণ্টা দেড়েক। দণ্ডাদেশ ঘোষিত হলো অবশেষে—‘যাবজ্জীবন কারাবাস’। দু’জনের মুখের হাসিটুকু মিলিয়ে গেল। দু’জনেই চেয়েছিলেন ফাঁসি। জীবন বলি দিয়ে জীবনকে জাগানোর শপথ। শান্তি দাস তাঁর স্মৃতিচারণে লিখছেন... ‘ফাঁসির আদেশের প্রতীক্ষা করছিলাম। তাই যাবজ্জীবন কারাবাসের দণ্ডাদেশে হতাশ হলাম। চরম মুক্তির পূর্ব মুহূর্তে এ যেন চিরজীবনের বন্ধনের ব্যবস্থা’।
১৯৩৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। খাওয়া তখনও শেষ হয়নি, জমাদারনি তাড়া লাগাল, শীগগির তৈরি হয়ে নিন, গান্ধীজি এসে পড়বেন এক্ষুনি। খেয়ে ঘরে ঢুকতে না ঢুকতেই দরজায় টুক টুক শব্দ। গান্ধী-টুপি পরা ফরসা, লম্বা সুদর্শন এক ভদ্রলোক এবং তাঁর পিছনে গান্ধীজি। ব্রিটিশ কর্তারা বাংলার বন্দিদের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দিয়েছে গান্ধীজিকে। দু’জনেই দয়াভিক্ষার বিরোধী, দু’জনেই সশস্ত্র সংগ্রামে বিশ্বাসী। বিতর্ক ছিল আলোচনায়। বাপুজি ছিলেন অচঞ্চল। শান্তি দাসের কথায়—“বিদায় নেবার আগে গান্ধীজি প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেন, ‘তোমাদের মুক্তি আমি অর্জন করবই। তোমাদের প্রতিষ্ঠিত করব স্বাভাবিক জীবনযাত্রার মধ্যে’। মুক্তির জন্য সময় লাগল আরও কিছুটা। ২৪ এপ্রিল, ১৯৩৯। শান্তি-সুনীতির কারাগার জীবন শেষ হল।
শুরু হল আর এক নতুন দীর্ঘ লড়াই। জেল থেকে যখন বেরলেন, দু’জনের বয়স শান্তির ২৩, আর সুনীতির ২২। ম্যাট্রিক, আইএসসি, এমবি (বর্তমানে এমবিবিএস) একে একে দুরন্ত রেজাল্ট করে ডাক্তার হলেন সুনীতি। কোন অবস্থায়! যখন তাঁর বাবার পেনশন বন্ধ পুলিশি অত্যাচারে, দুই দাদা গ্রেপ্তার, আর ছোটভাই শুধু দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোগানোর জন্য ফেরিওয়ালা হয়ে ঘুরে ঘুরে যক্ষ্মায় মারা গিয়েছেন। সেই নিরন্ন অবস্থা থেকে অন্য এক লড়াইয়ে জয়ী হলেন। ডাঃ সুনীতি চৌধুরি। আজীবন দুঃস্থ গরিবদের সেবা করে গেলেন। লড়াই করলেন গণতন্ত্রের পক্ষে। শান্তি ঘোষ বেঙ্গলি উইমেনস কলেজ থেকে পাশ করলেন। যোগ দিলেন কমিউনিস্ট পার্টিতে। ১৯৪১ সালে নেতাজির সাথে তাঁর দীর্ঘ কথা হল। ১৯৪২ সালে যোগ দিলেন কংগ্রেসে... দেশ গড়ার কাজে। বিয়ে করলেন অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন দাশকে, সংসারী হলেন। ১৯৫২ থেকে ’৬২ এবং ১৯৬৭ থেকে ’৬৮, তিনি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য। ১৯৬২-’৬৪ ছিলেন লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির মেম্বার।
এগুলি সংক্ষেপে উল্লেখ করার কারণ একটাই, জীবনকে যাপনযোগ্য করার লড়াই থেকে এক মুহূর্ত সরে না আসার উদাহরণ রাখার জন্য। স্বাধীনতার পর সুনীতি চন্দননগর হাসপাতালে যোগ দিলেন ডাক্তার হিসাবে। লেডি ডাক্তার প্রান্তিক মানুষদের ‘মা’ মারা গেলেন ১২ জানুয়ারি, ১৯৮৮ সালে। শান্তি ঘোষ জীবন শেষ করলেন এক বছর পর ১৯৮৯ সালে।
বিপ্লবী শান্তি ঘোষের জন্মশতবর্ষ উচ্চারণহীনভাবে চলে গেল ২০১৬ সালে। এবছর ভারতের স্বাধীনতার ৭০তম বর্ষে সুনীতি চৌধুরির জন্মশতবর্ষ। তাঁদের মৃত্যুপণ সেই শব্দবন্ধটি আজ একবার উচ্চারণ করি— বন্দেমাতরম। সেই দুই কিশোরী, যাঁদের আত্মদানের মশাল হাতে তুলে নিয়েছিলেন অগুনতি মহিলা। বীণা দাস (১৯১১-১৯৮৬), কলকাতা ইউনিভার্সিটির কনভোকেশনে বাংলার গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনের দিকে তাক করে ছুঁড়লেন পাঁচটা বুলেট। লক্ষ্যভ্রষ্ট। মর্মান্তিক কারাজীবন। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার (১৯১১-১৯৩২), সেই বেথুন কলেজের ছাত্রী। ২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৩২ চট্টগ্রামের ইউরোপিয়ান ক্লাবের সরাসরি গোলাগুলি। ব্রিটিশদের হাতে ধরা পড়ার আগেই পটাশিয়াম সায়ানাইডে মৃত্যুবরণ। প্রফুল্লনলিনী ব্রহ্ম, কল্পনা দত্ত, কমলা দাশগুপ্ত, শান্তিসুধা ঘোষ, বিমলপ্রতিভা দেবী... এরকম অসংখ্য অগ্নিকন্যারা মাতঙ্গিনী হয়ে উঠলেন বাংলায়। আর সেই বৃদ্ধা মাতঙ্গিনী হাজরা আজও জাতীয় পতাকাটা কাঁধে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। চারপাশ থেকে বুলেটের সহস্র আঘাত। রক্তাক্ত তিনি... অচঞ্চল। তিনি মা। আজ তাঁদের বন্দনা করার সময়। বন্দনা করি মা তোমায়...।
 উৎসর্গ: ভারতী সেন (বিপ্লবী সুনীতি চৌধুরির কন্যা), সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিপ্লবীদের স্মৃতিচারণগুলি বিশেষ করে সুনীতি চৌধুরি, শান্তি ঘোষ, অখিল নন্দী ও বীণা ভৌমিক (দাস), কমলা দাশগুপ্ত।

 গ্রাফিক্স: সোমনাথ পাল
 সহযোগিতায়: উজ্জ্বল দাস
13th  August, 2017
ইন্দিরা ১০০
প্রণব মুখোপাধ্যায়

ঐতিহাসিক এক সময়ের সন্ধিক্ষণে আজকের দিনে জন্মেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। ১০০ বছর আগে। প্রায় একই সময়ে ‘বলশেভিক’ আন্দোলনে কেঁপে উঠেছিল সারা পৃথিবী। ভারতও ঠিক ওই বছরই মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ণ উদ্যমে লড়াইয়ের জন্য তৈরি হয়। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের উদ্যোগে স্বাধীনতা সংগ্রামে ওতপ্রোতভাবে অংশ নিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধীর ঠাকুরদা এবং বাবা। সেই পরিবারেরই মেয়ে হয়ে জন্মান ইন্দিরা গান্ধী।
বিশদ

19th  November, 2017
শোনপুর মেলা
মৃন্ময় চন্দ

খ্রিস্টপূর্ব ৩৪০ থেকে ২৯৭। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য এসেছেন শোনপুরের মেলায়। সৈন্যবাহিনীর জন্য হাতি কিনবেন। পদব্রজে নাকি এসেছেন ফা-হিয়েন ও হিউয়েন সাং! এসেছেন গন্ধর্ব প্রধান হু হু ও পাণ্ডস্যের রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন। অভিসম্পাত-গ্রস্ত গজ-গ্রহ রূপী তাদের মরণপণ যুদ্ধে শোনপুরের হরিহরক্ষেত্রে আগমন ঘটেছে হরি এবং হরের। কালক্রমে শোনপুর মেলা হয়ে উঠেছে দেবক্ষেত্র। অতুলনীয়, ব্যতিক্রমী শোনপুর মেলার আছে কেবলই দারিদ্রের ঐশ্বর্য। সাধারণ মানুষ এই মেলার প্রতিভূ। এ মেলায় তাই সবাই রাজা। সকলে স্বাগত!
বিশদ

12th  November, 2017
’৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ৭৫ বছর 

অমর মিত্র: ক্রিপস মিশন ব্যর্থ হয়েছিল। সেখানে পূর্ণ স্বরাজের বার্তা ছিল না বলে। আর কংগ্রেস চেয়েছিল, গান্ধীজি চেয়েছিলেন স্বাধীন ভারত। যে কারণে ৭৫ বছর আগে শুরু হয় ইংরেজ ভারত ছাড়ো আন্দোলন। সেই গান্ধীজিরই নেতৃত্বে।  
বিশদ

05th  November, 2017
জগদ্ধাত্রী
নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

 জগদ্ধাত্রী ঠাকুরের রূপ-কল্পনা এবং পুজোবিধি থেকেই বোঝা যায় যে, জগদ্ধাত্রী পুজোর সৃষ্টিই হয়েছে দুর্গাপুজোর পরিপূরণী সমব্যথার কারণে। তবে হ্যাঁ, বিশেষত্ব একটা আছে এবং সেই বিশেষত্ব তাঁর নামেই লুকানো আছে।
বিশদ

29th  October, 2017
সাম্প্রতিক বাংলা থিয়েটার: কিছু কথা
ব্রাত্য বসু

থিয়েটারের অর্থনীতি আসলে দু’রকম। প্রথমটি হল দলের অর্থনীতি। দ্বিতীয়টি হল দলের সদস্যদের ব্যক্তিগত অর্থনীতি। দলের অর্থনীতি প্রধানত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। প্রথমত, সরকারি গ্রান্ট তথা অনুদান।
বিশদ

22nd  October, 2017
চিরদুঃখী অতুলপ্রসাদ সেন
প্রণব কুমার মিত্র

লখনউয়ের বিখ্যাত ব্যারিস্টার এ পি সেন সাহেব বা অতুলপ্রসাদ সেন কোর্টের পর গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির সদর দরজা পেরিয়ে সুন্দর সবুজ লনের এককোণে দেখলেন দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আর সেই আগুনে এক এক করে দামি দামি স্যুট, জামাকাপড় পোড়াচ্ছেন তাঁরই সহধর্মিণী হেমকুসুম। কয়েকদিন দু’জনের অশান্তি চলছিল।
বিশদ

22nd  October, 2017
আতশবাজির ইতিকথা
বারিদবরণ ঘোষ

আকাশের গায়ে বারুদের গন্ধটা কালীপুজোর মরশুমে খুব চেনা। তা সে কাঠকয়লার সঙ্গে সোরা মেশানো হলদে আলো হোক কিংবা বুড়িমার চকোলেট। আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহকারীদের হাত ধরে আতশবাজির সৃষ্টি। যা আজও আনন্দ দিয়ে চলেছে মানবমননকে। বিশদ

15th  October, 2017
বিজয়া স ম্মি ল নী 

‘মা’কে তাড়ানোর কোনও তাড়া যে তখন ছিল না! ছিল না মোবাইলে মজে শারদ মাধুর্যকেই উপেক্ষা করার বাতিক। রক্তের সম্পর্কের থেকে খুব কম যেতেন না পাড়ার দাদারা। সে যেন একটাই পরিবার। আর সেই পরিবারের সবে মিলে বিজয়া সম্মিলনী। কখনও মঞ্চে হাজির শ্যামলদা, কখনও বা মানবেন্দ্র। তাঁরাও যে কাছেরই মানুষ! নিছক ‘সাংসকিতিক সন্ধা’ নয়, বিসর্জনের বিষণ্ণতাকে সাক্ষী করে শারদ বাতাস যেন তখন বলত, শুভ বিজয়া। 
বিশদ

08th  October, 2017
সাত বাড়ি আর এক বারোয়ারি 

প্রফুল্ল রায়: তখনও দেশভাগ হয়নি। অখণ্ড বঙ্গের পূর্ব বাংলায় ঢাকা ডিস্ট্রিক্টের একটা বিশাল গ্রামে ছিল আমাদের আদি বাড়ি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম আমরা সেখানে কাটিয়েছি। পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ এবং শত জলধারায় বহমান আরও নদ-নদী, খাল-বিল, শস্যক্ষেত্র। অজস্র পাখপাখালি, আম জাম হিজল আর সুপারি বনের সারি, সব মিলিয়ে পূর্ববাংলা ছিল এক আশ্চর্য স্বপ্নের দেশ।
বিশদ

24th  September, 2017
অকাল বোধন 

নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি: ‘অকাল’ শব্দটির মধ্যে একটা অদ্ভুত এবং প্রায় বিপরীত ব্যঞ্জনা আছে। যেমন একটি কৈশোরগন্ধি যুবক ছেলেকে যদি বলি ‘অকালপক্ব’, তাহলে অবধারিতভাবে কথাটির মানে দাঁড়াবে যে, ছেলেটির যা বয়স এবং তদনুযায়ী যা তার বিদ্যাবুদ্ধি হওয়া উচিত কিংবা বয়স অনুযায়ী তার যা কথাবার্তার ধরন তৈরি হওয়া উচিত, তার চাইতে বেশি বয়সের বহু-অভিজ্ঞ মানুষের মতো সে কথা বলছে, বা তেমন ভাবসাব দেখাচ্ছে।
বিশদ

24th  September, 2017
বিশ্বকর্মা
সন্দীপন বিশ্বাস

তিনি দেবশিল্পী। দেবকুলের সকল কর্মের সাধক। রাবণের স্বর্ণলঙ্কা, শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকাপুরী, কিংবা হস্তিনাপুর—তঁার শিল্পছেঁায়ায় সব স্থাপত্যই পৌরাণিক উপাখ্যানে অমরত্ব লাভ করেছে। কখনও তিনি তৈরি করছেন হরধনু, কখনও বজ্র। যার সাহায্যে দুষ্টের দমন করেছেন দেবগণ।
বিশদ

17th  September, 2017
শিকাগো বিজয় ১২৫
তাপস বসু

১২৫ বছর আগে এক তরুণ সন্ন্যাসী সীমিত ক্ষমতা নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন সাগরপারে। শিকাগোর এক ধর্ম সম্মেলনে যদি পেশ করা যায় বৈদিক দর্শনের বিস্তারকে। শত বাধা পেরিয়ে মঞ্চে দঁাড়িয়ে আমেরিকার মানুষকে এক লহমায় করে ফেলেছিলেন ‘ভ্রাতা ও ভগিনী’। আজ ফিরে দেখা সেই স্বামী বিবেকানন্দকে। যঁার শিক্ষা আজও সমাজের ভিত্তিপ্রস্তর।
বিশদ

10th  September, 2017
 সেইসব শিক্ষক
কল্যাণ বসু

যখন আমরা ভাবি সব জেনে গিয়েছি, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকে আমাদের শেখা বন্ধ হয়ে যায়... বলেছিলেন সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ। যাঁর জন্মদিন পালিত হয় শিক্ষক দিবস হিসাবে। স্বনামধন্য বহু ব্যক্তির শিক্ষকরাও যে ছিলেন এমনই! কেউ প্রচারের আলোয় এসেছেন, কেউ আসেননি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। সবারই এমন মহান শিক্ষকদের সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল।
বিশদ

03rd  September, 2017
দুশো বছরের বাংলা কাগজ

 দিগদর্শন, বাঙ্গাল গেজেট ও সমাচার দর্পণের লেখনিতে ভর করে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার দ্বিশতবর্ষ পূর্ণ হচ্ছে। বাংলা খবরের কাগজ কখনও হয়ে উঠেছে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শক্তিকে নাস্তানাবুদ করার হাতিয়ার, কখনও অন্তর্জলি যাত্রার মতো সামাজিক রোগের মারণ ওষুধ, আবার কখনও পরিবর্তনের ঝড়। গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য, দাদাঠাকুরদের সাহসী কলমের সে ভার বহন করে এসেছেন সন্তোষকুমার ঘোষ, গৌরকিশোর ঘোষ এবং বরুণ সেনগুপ্তরা। ২০০ বছর পরও তাই বাংলা সংবাদপত্র একইরকম নবীন।
বিশদ

27th  August, 2017
একনজরে
বিএনএ, শিলিগুড়ি: শনিবার গভীর রাতে ভক্তিনগর থানার সেভক রোডের একটি গুদামে দুষ্কৃতী হামলায় এক নিরাপত্তা রক্ষী খুন হন। পুলিস জানিয়েছে, নিহত নিরাপত্তারক্ষীর নাম রঘুনাথ রায়(৬২)। অভিযুক্তের খোঁজে পুলিস তল্লাশি শুরু করেছে।  ...

সুকান্ত বেরা: সকালটা যদি হয় মহম্মদ সামির, তাহলে বিকেলের নায়ক অবশ্যই শিখর ধাওয়ান। তবুও রবিবাসরীয় ইডেনে ভারতীয় ক্রিকেটারদের সাফল্যের পাশাপাশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল দিলরুবান ...

বিএনএ, চুঁচুড়া: রবিবার শেষদিনে কার্তিক ঠাকুর দেখার জন্য সকাল থেকেই বাঁশবেড়িয়ার মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় জমালেন দর্শনার্থীরা। বেলা যত গড়িয়েছে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের ...

সংবাদদাতা, কান্দি: কান্দি মহকুমা এলাকায় অযত্নে শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে সবুজমালা প্রকল্পের বহু মূল্যবান গাছ। বছরখানেক আগে কান্দি মহকুমা এলাকার বিভিন্ন রাস্তার দু’পাশে ওই গাছগুলি লাগানো হয়েছিল। কিন্তু বছর পেরনোর আগেই অর্ধেক গাছ শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে যত্নের অভাবে। গাছের চারদিকের ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রেম-প্রণয়ে নতুনত্ব থাকবে। নতুন বন্ধু লাভ, ভ্রমণ ও মানসিক প্রফুল্লতা বজায় থাকবে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৫০- মহীশূরের শাসক টিপু সুলতানের জন্ম।
১৯১০- রুশ সাহিত্যিক লিও তলস্তয়ের মৃত্যু।
১৯১৭- কলকাতায় প্রতিষ্ঠা হল বোস রিসার্চ ইনস্টিটিউট।
১৯৫৫- নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের পক্ষে টেস্টে প্রথম দ্বিশতরান করলেন উমরিগড় (২২৩)।  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.০০ টাকা ৬৫.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৩২ টাকা ৮৭.১৯ টাকা
ইউরো ৭৫.২০ টাকা ৭৭.৮৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
18th  November, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,১৯৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৬৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
19th  November, 2017

দিন পঞ্জিকা

৪ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৯/৩৬, নক্ষত্র-জ্যেষ্ঠা রাত্রি ১২/৪৮, সূ উ ৫/৫৬/২৫, অ ৪/৪৮/৪, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৭/২৩ মধ্যে পুনঃ ৮/৫০ গতে ১১/০ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/২৬ গতে ১০/৬ মধ্যে পুনঃ ২/২৭ গতে ৩/১৯ মধ্যে, বারবেলা ঘ ৭/১৮ গতে ৮/৪০ মধ্যে পুনঃ ২/৫ গতে ৩/২৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৪ গতে ১১/২২ মধ্যে।
৩ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৭/৪২/২৮, জ্যেষ্ঠানক্ষত্র ১১/৫৫/৩৬, সূ উ ৫/৫৬/৫৮, অ ৪/৪৬/৫৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/২৩/৩৮, ৮/৫০/১৮-১১/০/১৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৪/৫৮-১০/৫৫/১৮, ২/২৫/৩৭-৩/১৮/১৮, বারবেলা ২/৪/২৮-৩/২৬/৪৩, কালবেলা ৭/১৮/১৩-৮/৩৯/২৮, কালরাত্রি ৯/৪৩/১৩-১১/২১/৫৮। 
৩০ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বারুইপুর স্টেশনে অবরোধ উঠল, শিয়ালদহ বিভাগের প্রতিটি শাখায় ৮টা ৩৪ মিনিট থেকে ফের শুরু ট্রেন চলাচল

09:07:41 PM

রেল অবরোধ ঘিরে ধুন্ধুমার বারুইপুর স্টেশন

 বেআইনি উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে রেল অবরোধকে কেন্দ্র করে ...বিশদ

08:40:29 PM

লুধিয়ানায় প্লাস্টিক কারখানায় আগুন, মৃত ৩
লুধিয়ানায় একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ...বিশদ

08:13:00 PM

ফের দালাল চক্রের অভিযোগ এসএসকেএম হাসপাতালে

 ফের দালাল চক্রের অভিযোগ উঠল এসএসকেএম হাসপাতালে। টাকা নিতে গিয়ে ...বিশদ

07:10:02 PM

 বিহারের গোপালগঞ্জে হাইটেনশন লাইনের বিদ্যুৎস্পৃশ্য হয়ে মৃত ৫, গুরুতর আহত ৩

06:22:00 PM