প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

আলিপুর জেলের অন্তরালে

আলিপুর সেন্ট্রাল জেল। কানাইলাল দত্ত, সত্যেন বসু, দীনেশ গুপ্ত... একের পর এক বিপ্লবীকে ফাঁসির দড়ি বরণ করতে হয়েছে এখানে। শত অত্যাচার সত্ত্বেও যেখানে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছেন লৌহকপাটের আড়ালে থাকা বিপ্লবীরা। ভয় না ধরিয়ে সঙ্গীর মৃত্যু সাহস জুগিয়েছে তঁাদের। সেলুলার জেল হেরিটেজের মর্যাদা পেলেও আলিপুর পায়নি। সেখানে আজও কুঠুরির কোণায় কোণায় শোনা যাবে বিপ্লবের বজ্রনির্ঘোষ।

শুভেন্দু মজুমদার: 
জেলের বাইরে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ। উদ্বেলিত জনতার কণ্ঠে মুহুর্মুহু ধ্বনি: জয় কানাই, বন্দেমাতরম্‌। ঩জেলের ভিতরে প্রশাসনের তরফে হাজির রয়েছেন খোদ কলকাতার পুলিশ কমিশনার হ্যালিডে সহ বেশ কিছু উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক। একটু আগেই কানাইয়ের ঝুলন্ত শরীরটা ফাঁসিমঞ্চ থেকে নামিয়ে এনেছে ডোম। নিয়মমাফিক ডাক্তারি পরীক্ষার পর ডেথ সার্টিফিকেট তৈরি। এবারে কানাইয়ের আত্মীয়-পরিজনদের হাতে বডি তুলে দেওয়ার পালা। চন্দননগর থেকে কানাইলালের দাদা ডাঃ আশুতোষ দত্ত, অকৃত্রিম সুহৃদ মতিলাল রায় এবং আরও কয়েকজন যুবক জেল-ফটকের ভিতরে এসে অপেক্ষা করছেন। তাঁদের হাতে দেশি লালপেড়ে ধুতি-চাদর, গোড়ের মালা, ধূপ-চন্দন, গীতা, গঙ্গাজলের মেটে-হাঁড়ি। তিরিক্ষে মেজাজে হ্যালিডে ডাঃ আশুতোষ দত্তকে বললেন, ‘আমরা মাত্র দু’জনকে জেলের ভিতরে ঢুকতে দেব। আপনারা কে কে যাবেন আগে ঠিক করুন।’ আশুবাবু মতিলাল রায়কে দেখিয়ে বললেন, ‘উনি এবং আমি যাব।’ ভিতরে গিয়ে কী দেখা গেল? মতিলাল লিখেছেন, ‘ধীরে ধীরে লৌহকবাট উন্মুক্ত হইল, আমরা ভিতরে প্রবেশ করিলাম। যন্ত্রপুত্তলিকার মতই শ্বেতাঙ্গ কর্ম্মচারীটির অনুসরণ করিতেছি। সহসা সেই ব্যক্তি অঙ্গুলি নির্দ্দেশ করিয়া একটি কামরা দেখাইয়া দিল। সেই অনতিপ্রশস্ত কক্ষের এক পার্শ্বে কাল কম্বলে আপাদমস্তক ঢাকা, কানাইলালের মৃতদেহ পতিত অবস্থায় রহিয়াছে।... একখানি নতুন বস্ত্রে কানাইয়ের সর্ব্বাঙ্গ আচ্ছাদিত করিয়া, আমরা জেলের বাহিরে আসিতে প্রস্তুত হইলাম। জেল প্রহরী আমাদের যে পথ দেখাইয়া দিল তাহা অতি অপ্রশস্ত, একদিকে সারি সারি পায়খানা, অন্যদিকে আদি গঙ্গার খাল, সরু পুলের উপর দিয়া অতিকষ্টে আমরা অগ্রসর হইতে লাগিলাম, সম্মুখে সমুদ্রতরঙ্গের মত নরমুণ্ড দৃষ্টিপথ আকর্ষণ করিল, সাগর গর্জনের মত ‘বন্দেমাতরম্‌’ শব্দে আমাদের কর্ণপটাহ ছিন্ন হইবার উপক্রম করিল— দেখিতে দেখিতে আমরা জনসমুদ্রে ডুবিয়া গেলাম।’
একটুও বাড়িয়ে বলেননি মতিলাল রায়। বীর কানাইলালের একচিমটে চিতাভস্মের জন্য কেওড়াতলা শ্মশানে সাধারণ মানুষের মধ্যে কাড়াকাড়ি পড়ে গিয়েছিল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে গোয়েন্দা পুলিশের ডিআইজি এফসি ড্যালি তাঁর গোপন রিপোর্টে যা লিখেছিলেন তাতে সরকারের উদ্বেগ বেড়েছিল বই কমেনি! ড্যালি লিখেছিলেন, ‘দাহকার্যের পরে কানাইলালের চিতাভস্ম কলকাতায় বিক্রি করা হয়েছিল। আধ ছটাক চিতাভস্মের জন্য কোনও কোনও অত্যুৎসাহী পাঁচ টাকা পর্যন্ত দিয়েছিলেন। চাহিদা অনুযায়ী ভস্মের জোগান দিতে হয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। কারণ কানাইলালের চিতাভস্ম বলে কলকাতায় যা বিক্রিবাট্টা হয়েছিল, তা বাস্তবে চিতাভস্মের প্রকৃত পরিমাণের চেয়ে অন্তত পঞ্চাশগুণ বেশি।’
বিশ্বাসঘাতক নরেন গোঁসাইকে আলিপুর জেলের (অধুনা যা আলিপুর সেন্ট্রাল জেল) ভিতরে খুন করেছিলেন কানাইলাল দত্ত ও সত্যেন্দ্রনাথ বসু। বিচারে তাঁদের দু’জনেরই ফাঁসির সাজা হয়েছিল। কিছু আইনি জটিলতার কারণে কানাইয়ের ফাঁসির দিনকয়েক পরে সত্যেনকে ফাঁসি দেওয়া হয়। কিন্তু শহিদ কানাইলালকে নিয়ে মানুষের মাত্রাছাড়া উন্মাদনা সরকারের চোখ খুলে দিয়েছিল। আর নয়! আর কোনও বিপ্লবীর ফাঁসির পরে তাঁর মৃতদেহ নিকটাত্মীয়দের হাতে ছাড়া যাবে না। মৃতদেহ নিয়ে কোনও শোভাযাত্রা করা চলবে না। জেলের চার-দেওয়ালের ভেতরেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হবে। জনৈক এ সি রায় বিপ্লবী হেমচন্দ্র কানুনগোকে একটা চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘‘সত্যেন্দ্রের মাতা আমার কুণ্ডু লেনস্থিত বাসায় আসিয়া বলিলেন যে, সত্যেন্দ্রর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা জ্ঞানবাবু কঠিন জ্বরে শয্যাগত। সত্যেন্দ্রর সৎকারের জন্য আর কাহাকেও পাওয়া যাইতেছে না। অতএব আমাকে ঐ গুরুভার স্কন্ধে লইতে হইবে।... আমি ভীষণ লালমুখো, অতীব গম্ভীর, স্বল্পভাষী আলিপুরের ম্যাজিস্ট্রেট বোম্‌পা঩সের নিকট উপস্থিত হইলাম। তিনি কয়েকটি শর্তে দাহ করিবার অনুমতি দিলেন। ইহা বোধহয় প্রাণদণ্ডের পূর্ব-দিবস। প্রথম শর্ত—জেলের বাহিরে দাহ নিষেধ। দ্বিতীয় শর্ত—কোনও আড়ম্বর ও আন্দোলন নিষেধ। তৃতীয় শর্ত—কোনও স্মৃতিচিহ্ন লইয়া যাওয়া নিষেধ। চতুর্থ শর্ত—জেলের মধ্যে কর্তৃপক্ষের সম্মুখে দাহ করিতে হইবে। পঞ্চম শর্ত—লোকসংখ্যা ১৪/১৫ জনের অধিক হইবে না।’’
সুতরাং কলকাতার বুকে কোনও বিপ্লবীর ফাঁসির পর তাঁর শবদেহ সৎকারের প্রকাশ্য সমারোহের প্রথম এবং শেষ দৃষ্টান্ত হয়ে রইলেন কানাইলাল দত্ত।
কারাগারের লৌহকপাটের অন্তরালে স্বাধীনতার বেদিমূলে ফাঁসির মঞ্চে প্রাণ দিয়েছিলেন অনেকগুলি তরতাজা বাঙালি যুবক। কতগুলি? সে হিসাবটাও কি আমরা ঠিকঠাক রেখেছি? পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে বা কারা দপ্তরের তরফে কি কোনও সঠিক হিসাব রাখা হয়েছে? মনে তো হয় না। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের অঙ্গ হিসাবে ১৯৯৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে এবং মহাজাতি সদন কর্তৃপক্ষের দৌলতে যে একটিমাত্র গ্রন্থ ‘মৃত্যুঞ্জয়ী’ প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে ফাঁসিতে প্রাণ দিয়েছেন এমন মাত্র পঁচিশ জন বাঙালি বিপ্লবীর নাম পাওয়া যায়। অথচ প্রকৃত সংখ্যাটি এর চেয়ে ঢের বেশি। হিসাব কষে দেখা গিয়েছে, সারা দেশে ফাঁসিতে প্রাণদানকারী বাঙালি বিপ্লবীর মোট সংখ্যাটা হল ৪১ জন। এর মধ্যে বাংলার বাইরে ফাঁসি হয়েছে ১৭ জনের। আর সারা বাংলার মধ্যে (পূর্ব ও পশ্চিম মিলিয়ে) সবচেয়ে বেশি ফাঁসি হয়েছে কলকাতায়। কতজনের? মোট ১০ জনের। এবং এদের সবার ফাঁসি হয়েছে আজকের আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে।
* * *
কানাইলাল দত্ত ও সত্যেন্দ্রনাথ বসুর পরে কলকাতায় আবারও এক বিপ্লবীর ফাঁসি! এবারে চারুচন্দ্র বসু। কানাই কিংবা সত্যেনের মতন সে অতটা পরিচিত নয়। কানাইলাল ও সত্যেন ছিলেন মানিকতলা বোমার মামলার সঙ্গে যুক্ত আসামি। শ্রীঅরবিন্দ থেকে শুরু করে বারীন ঘোষ, উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে হেমচন্দ্র কানুনগো, এমনকী অবিনাশচন্দ্র ভট্টাচার্য—প্রত্যেকের স্মৃতিচারণার সঙ্গে এই দু’টি নাম যুক্ত। কিন্তু চারুর যখন ফাঁসি হল এঁরা সকলেই তখন (অরবিন্দ বাদে) সাগরপারের অন্ধকারায় বন্দি। সেলুলার জেলে বসে এঁরা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি যে মানিকতলা বোমার মামলার সরকারি আইনজীবী আশুতোষ বিশ্বাসকে খুন হতে হবে এক অপরিচিত যুবকের হাতে! যে যুবকটির আবার ডান-হাতটাই নাকি পঙ্গু! আলিপুর জেলের ভিতরে বসে সেই যুবক তাঁর নিকটাত্মীয়দের তিনখানি চিঠি লিখেছিল। খুবই মামুলি চিঠি। এই তিনটি চিঠির মধ্যে দু’টি নিজের দুই দাদাকে এবং একটি লেখা তাঁর শ্যালক ছত্রধারী ঘোষকে। ছত্রধারীকে লেখা চিঠি বড় মর্মস্পর্শী। তাতে সে কী লিখছে? সে লিখছে, ‘‘অভাগা জীবনের এই শেষ পত্র। আর নয়দিন পরে আমার অস্তিত্ব জগৎ হইতে লোপ পাইবে। তাহাতে আমি বিন্দুমাত্র দুঃখিত নই। কেবলমাত্র একটির জন্য দুঃখিত। একটি অভাগিনীর তের বৎসর বয়স্কা বালিকাকে দীনহীন অবস্থায় এই সংসার সমুদ্রে ভাসাইলাম। কিন্তু আশান্বিত প্রাণে আজ তাহাকে আপনাদের কাছে অর্পণ করিলাম। তাহার প্রতি যেন আপনাদের দৃষ্টি থাকে।’’ নিজের দাদার কাছে লেখা চিঠিতে তাঁর মনের শেষ বাসনার কথা রয়েছে। সেই বাসনাটি খুবই ব্যক্তিগত। যাওয়ার আগে শুধু একটিবারের জন্য আলিপুর জেলে সে অভাগিনী কিরণময়ীর সঙ্গে ক্ষণিকের তরে হলেও দেখা করতে চায়। তাঁর সেই শেষ আশা পূরণ হয়েছিল কি?
চারুর ফাঁসির পর এক বছরও কাটেনি—আবারও ফাঁসি হল সেদিনের আলিপুর জেলে। এবারে বীরেন্দ্রনাথ দত্তগুপ্ত নামে ঢাকার মুন্সিগঞ্জের এক যুবকের। কলকাতা হাইকোর্টের ভেতরে সে খুন করেছিল মানিকতলা বোমার মামলার তদন্তকারী গোয়েন্দা অফিসার শামসুল আলমকে। বাঘাযতীনের বড় স্নেহের পাত্র ছিল সে। তাঁর মৃত্যুর তিন বছর বাদে বাঘাযতীনের ছোটছেলের জন্ম হল। যতীন তাঁর নাম রেখেছিল বীরেন্দ্রনাথ!
বীরেন্দ্রনাথের ফাঁসির ১৪ বছর পরে ফাঁসি হল গোপীনাথ সাহার। ওই আলিপুর জেলেই। গোপীনাথের ফাঁসির পর কলকাতার ছাত্র-যুবরা যখন তাঁর মৃতদেহ সৎকারের দাবি তুলে জেলগেটের বাইরে পিকেটিং শুরু করল, তখন তাতে নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে এলেন সুভাষচন্দ্র। কিন্তু তাতেও চিঁড়ে ভিজল না। উদ্ধত ব্রিটিশ সরকারের নির্দেশে কারা কর্তৃপক্ষ জেলের ভিতরেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করল। বিপ্লবী ভূপেন্দ্রকুমার দত্ত জেলের ওয়ার্ডারদের সঙ্গে কথা বলে জানতে চেয়েছিলেন ফাঁসির আগে গোপীনাথের মনের অবস্থা কেমন ছিল? তাঁর প্রশ্নের উত্তরে একজন ইউরোপীয় ওয়ার্ডার তাঁকে বলেছিল, ‘হি ওয়াজ এ মা-আ-আ-ন (He was a man)।’ এরপর ভূপেন্দ্রকুমার লিখছেন, ‘ফাঁসির জন্য ডাকতে গেছে, দেখে গোপী ঘুমুচ্ছে। এক কথাতেই উঠে সঙ্গে চলল। কী সে পা ফেলার ভঙ্গি। বুক ফুলিয়ে ফাঁসির কাঠে দাঁড়াল, নিজেই যেন সাহায্য করতে চায় ফাঁসির রশিটা গলায় বাঁধতে। কিন্তু ওর হাত দুটো তখন পিছনে বাঁধা। দেওয়ালের কাছে লোক গেলে ওই ওয়ার্ডাররাই দেখিয়ে দেয়, গোপীনাথের শবদেহ এখানে দাহ করা হয়েছিল। ওদের কাছেও ওটা যেন তীর্থক্ষেত্র।’
গোপীনাথের পর অনন্তহরি মিত্র আর প্রমোদরঞ্জন চৌধুরি। প্রথমজনের বাড়ি নদীয়ার শান্তিপুরের বাঘআঁচড়া গ্রামে, দ্বিতীয়জনের সুদূর চট্টগ্রামের কেলিশহরে। দক্ষিণেশ্বর বোমার মামলায় অনন্তহরির দশ বছরের আর প্রমোদের পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছিল। সেই সাজা চলতে চলতেই বিপ্লবীরা জেলের ভিতরে গোয়েন্দা অফিসার ভূপেন চট্টোপাধ্যায়কে খুন করার ষড়যন্ত্র করে। ভূপেন নিয়মিত জেলে আসত বিপ্লবীদের কারও কারও সঙ্গে একটু বেশি মাখামাখি ও মেলামেশা করে গোপন খবর সংগ্রহের আশায়। সুযোগের সন্ধানে ছিল বিপ্লবীরা। একদিন সুযোগ পেয়ে তাকে পিটিয়ে খুন করল বিপ্লবীরা। এই খুনের দায়ে অনন্তহরি আর প্রমোদের একসঙ্গে ফাঁসি হয়েছিল। আলিপুর জেলে বন্দি এক প্রত্যক্ষদর্শী সহবিপ্লবীর সাক্ষ্যে রয়েছে তাঁদের ফাঁসির বিবরণ—‘ক্রমে ফাঁসির দিন এগিয়ে এল। আমরা দরখাস্ত করলাম, অন্য জেলে ফাঁসির ব্যবস্থা হোক। দরখাস্ত মঞ্জুর হল না।... তখন আমরা পরামর্শ করে স্থির করলাম, সরকার যখন মনে করেছে, আমাদের সামনে ওদের ফাঁসি দিয়ে আমাদের ভয় দেখাবে, তখন আমরা এই বর্বরতার জবাব দেব এইখানে থেকেই। আমরা জয়ধ্বনি করব, পুষ্পবৃষ্টি করব, দেখাব, আমরা ফাঁসি দেখে আরও সাহসই সঞ্চয় করেছি, তাঁদের বর্বরতা ব্যর্থ হয়েছে।...
‘ফাঁসির আগের রাত্রে সারারাত বন্দেমাতরম্‌ ধ্বনি এবং স্বদেশী গান চলল। ওরাও বন্দেমাতরম্‌ ধ্বনি করে মাঝে মাঝে সাড়া দিয়ে চলল। আমরা ফুল সংগ্রহ করে তোড়া বেঁধে রেখেছি। ভোরবেলা ওদের স্নান করিয়ে নতুন পোশাক পরানো হয়েছে। এদিকে ফাঁসির মঞ্চের উপর লোহার বিম বসিয়ে দড়ি খাটানো হয়েছে—এক ইঞ্চি মোটা ম্যানিলা, রোপ, ডগায় একটা ফাঁস। পাশাপাশি দুটো দড়ি ঝুলছে। কিছু সশস্ত্র পুলিশ নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট এসেছেন। আমরা দোতলার বারান্দার সামনে জানালায় জানলায় ভিড় করে দাঁড়িয়েছি।...
‘ওদের ওখান থেকে সমবেত কণ্ঠে আকাশ কাঁপিয়ে বন্দেমাতরম্‌ ধ্বনি উঠল। আমরা সাড়া দিলুম। দেখতে দেখতে বন্দেমাতরম্‌ ধ্বনি এগিয়ে এল নিকটে। তার পরের দৃশ্য অপূর্ব, অভাবনীয়। পিছনদিকে হাতকড়া-লাগানো দুই জোয়ান দৌড়ে এসে লাফ দিয়ে মঞ্চে উঠে পাশাপাশি দুই গহ্বরের ঢাকনির উপর বুক ফুলিয়ে দাঁড়াল—মুখে মুহুর্মুহু বন্দেমাতরম্‌ ধ্বনি। আমরাও প্রতিধ্বনি করে চলেছি এবং জানলা থেকে পুষ্পবৃষ্টি করছি।...
‘দেখতে দেখতে জহ্লাদ এগিয়ে এসে ওদের মাথা-মুখ ঢেকে গলা পর্যন্ত টুপি পরিয়ে তার উপর দড়ির ফাঁস এঁটে দিল। সুপারিন্টেন্ডেন্ট মালেয়া রুমাল নেড়ে ইশারায় আদেশ দিয়ে চোখে রুমাল চাপা দিয়ে চলে গেলেন। জহ্লাদ একটা হাতল টেনে দিল, গহ্বরের ঢাকনি দুটো নেমে গেল। ওদের দেহ দুটো ঝপ করে গহ্বরের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল। দড়ি দুটো টান হয়ে ঝুলতে লাগল।...
‘সব শেষ হয়ে গেল। আমরাও যেন অবসন্ন হয়ে শয্যাগ্রহণ করলাম। বিরাট উত্তেজনার পর নেমে এল যেন এক রিক্ত নিস্তব্ধতা। নীরব কান্না ছিল সকলেরই চোখে। শুধু চট্টগ্রামের নির্মল সেন কেঁদেছিল মেঝেয় লুটোপুটি করে। প্রমোদ ছিল তার ছোট ভাইটির মতন।’
* * *
আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে পাশাপাশি সেলে বন্দি দুই যুবক। দু’জনই ফাঁসির আসামি। প্রথমজন চট্টগ্রামের যুবক, মেধাবী ছাত্র এবং মাস্টারদার একনিষ্ঠ ভক্ত। দ্বিতীয়জনের বাড়ি ঢাকায়; বেঙ্গল ভলান্টিয়ারস্‌ অর্থাৎ বিভি নামক গুপ্ত সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। দু’জনে দুটি আলাদা বিপ্লবী গোষ্ঠীর সদস্য হলে কী হবে একে অপরের অনুরক্ত। দ্বিতীয়জন ভাবছে আর তো মাত্র কটা দিন, তারপরই পাশের সেল ফাঁকা হয়ে যাবে! প্রথমজনেরও ভাবনা দ্বিতীয়জনের অনুরূপ। চিরদিনের মতো বিদায় নেবে তার বিপ্লবী-বন্ধু। অথচ পাশের সেলের তার ওই বন্ধুর এ জীবনে কত কী-ই না করার ছিল! তাঁর কণ্ঠে বিদ্যুৎ-ঝলকের মতো ঝলকে উঠল রবীন্দ্রনাথের কবিতা। বন্ধুর উদ্দেশে উদাত্ত কণ্ঠে সে তখন আবৃত্তি শুরু করল—
‘যে ফুল না ফুটিতে ঝরেছে ধরণীতে,
যে নদী মরুপথে হারাল ধারা।
জানি হে, জানি তাও হয়নি হারা।’
যার উদ্দেশে এ আবৃত্তি সে তখন তার সেল থেকে জবাব দিল রবীন্দ্রনাথের ভাষাতেই—
‘যাবার দিনে এই কথাটি
বলে যেন যাই—
যা দেখেছি, যা পেয়েছি,
তুলনা তার নাই।’
প্রথমজনের নাম রামকৃষ্ণ বিশ্বাস। মাস্টারদার নির্দেশে চাঁদপুর স্টেশনে পুলিশের আইজি ক্রেগকে খুন করতে গিয়ে যিনি ভুলক্রমে পুলিশ ইনসপেক্টর তারিণী মুখার্জিকে খুন করে ফেলেছিলেন। দ্বিতীয়জন বিনয়-বাদল-দীনেশ খ্যাত ত্রয়ী বিপ্লবীর অন্যতম এবং ঐতিহাসিক রাইটার্স অভিযানের একমাত্র জীবিত সদস্য দীনেশ গুপ্ত। দীনেশের ফাঁসি হল ৭ জুলাই, ১৯৩১। আর রামকৃষ্ণের ফাঁসি হল মাত্র ২৮ দিন পরে, অর্থাৎ ৪ আগস্ট, ১৯৩১। স্থান: আলিপুর সেন্ট্রাল জেল।
আরও এক দীনেশের ফাঁসির রক্তে আলিপুর সেন্ট্রাল জেলের মাটি ভিজে আছে। ইনি দীনেশচন্দ্র মজুমদার। বাড়ি ছিল চব্বিশ পরগনার বসিরহাটের এক গ্রামে। টেগার্টকে খুনের চেষ্টায় দীনেশের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল। মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেল ভেঙে দীনেশ পালিয়ে এসেছিল চন্দননগরে। সেখানেও পুলিশের তাড়া। চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার মঁসিয়ে ক্যঁ একদিন নিয়ে তাকে ধাওয়া করলেন। দীনেশ গুলি চালাল। মারা গেলেন মঁসিয়ে ক্যঁ। দীনেশ আবার আত্মগোপন করল কলকাতায়। অতপর একদিন ভোররাতে পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ গুলির লড়াই চালিয়ে অবশেষে রণক্লান্ত দীনেশ ধরা দিলেন। ফাঁসির সাজা হল তাঁর। আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে।
* * *
স্বাধীনতার পর সাত সাতটা দশক কেটে গেল। আলিপুর সেন্ট্রাল জেল আজও ইতিহাসের মূক সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তার মনে পড়ে সেই সব আগুন-ঝরা দিনগুলির কথা, যখন বন্দেমাতরম্‌ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠত তার ভেতরের প্রাঙ্গণটা। ওই তো অরবিন্দের কক্ষ যেখানে তিনি দিব্য জীবনের প্রেরণা লাভ করেছিলেন। ওই তো সেই লাল বাড়ি যেখানে একদিন বন্দিজীবন যাপন করেছেন স্বামী বিবেকানন্দের অনুজ ভূপেন দত্ত, বারীন ঘোষ, উল্লাসকর দত্ত, হেমচন্দ্র কানুনগো, অবিনাশ ভট্টাচার্য প্রমুখ বিপ্লবী। ওই তো সেই ঘরখানি যেখানে একদিন রাত কাটাতে হয়েছে বাঘাযতীনকে! ওই তো সেই ওয়ার্ড যেখানে একদিন সুভাষচন্দ্রকে পর্যন্ত অকথ্য অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে! কত বিপ্লবী, কত স্বদেশপ্রেমিক, কত স্বাধীনতা-সংগ্রামী তার কোলে ঠাঁই পেয়েছে। দেশবন্ধু থেকে সুভাষচন্দ্র—কে নেই সেখানে বলতে পারেন? আলিপুর সেন্ট্রাল জেল মনে মনে গর্ব অনুভব করতে থাকে। আবার কখনও কখনও শোকে-দুঃখে, লজ্জায়-অপমানে সে যেন দিশাহারা হয়ে যায়! কীসের শোক, কীসের জন্য তার দুঃখ? আলিপুর জেল মনে মনে ভাবে, কী অকৃতজ্ঞ এই রাজ্যের মানুষ! আজও কেন তাকে জাতীয় স্মারকের সেই মর্যাদা দেওয়া হল না, যা পেয়েছে আন্দামানের সেলুলার জেল? সেলুলার জেল কি দাবি করতে পারবে যে, তার ভিতরে ফাঁসিতে প্রাণ দিতে হয়েছে দশ জন বিপ্লবীকে? সেলুলার জেল কি দাবি করতে পারবে যে, সেখানে বন্দি অবস্থায় নিশিযাপন করতে হয়েছে অরবিন্দ, বিপিন পাল, বাঘাযাতীন, দেশবন্ধু এবং সুভাষের মতন দেশবরেণ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীদের? মহান বিপ্লবী ও ভারতের সেরা স্বাধীনতা-সংগ্রামীদের যে জেলে দিনের পর দিন বন্দিদশায় কাটাতে হয়েছে সেই আলিপুর সেন্ট্রাল জেলকে কেন স্বাধীনতার সত্তর বছর পরেও জাতীয় স্মারকের মর্যাদা দেওয়া হল না বলতে পারেন? বলতে পারেন কেন সেখানে গড়ে তোলা হল না ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন নিয়ে কোনও চিত্রশালা? কেন সেখানে আলো ও শব্দের ঝংকারে ফুটিয়ে তোলা হল না স্বাধীনতার আখ্যান? কেন আজও স্বাধীনতা-তীর্থ আলিপুর সেন্ট্রাল জেলের লৌহকপাট সাধারণ মানুষের জন্য অবারিত হল না?
(লেখক: চন্দননগর কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রাক্তন অধ্যাপক)
ঋণস্বীকার:
১) কানাইলাল— মতিলাল রায়।
২) Terrorism in Bengal— A.K. Samanta, Vol-I.
৩) বাংলায় বিপ্লব প্রচেষ্টা—
হেমচন্দ্র কানুনগো।
৪) বিপ্লবের পদচিহ্ন—
ভূপেন্দ্রকুমার দত্ত।
৫) বিপ্লবের সন্ধানে—
নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
৬) সবার অলক্ষ্যে—
ভূপেন্দ্রকিশোর রক্ষিত-রায়।
৭) অগ্নিযুগের ফাঁসি—
শুভেন্দু মজুমদার।

 অঙ্কন ও গ্রাফিক্স: সোমনাথ পাল
 সহযোগিতায়: উজ্জ্বল দাস
30th  July, 2017
বন্দেমাতরম 
রজত চক্রবর্তী

জাতীয় পতাকাটা আজও হাতে ধরে হেঁটে চলেছেন মাতঙ্গিনী হাজরা। উচ্চশির। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, প্রফুল্লনলিনী ব্রহ্ম, কল্পনা দত্ত... নারীশক্তির এক অদম্য জাগরণ দেখেছিল পরাধীন ভারত। মায়েরা, বোনেরা পথে নেমে-না নেমে অংশ নিয়েছিলেন বিপ্লবে। তবু এমনই দুই সংগ্রামী শান্তি ঘোষ, সুনীতি চৌধুরির জন্মশতবর্ষ চলে গেল নীরবে...।
বিশদ

13th  August, 2017
 কৃপণ সমাচার!

 কৃপণ কত প্রকার ও কী কী? এমন রচনা ছেলেবেলায় লিখতে না হলেও এ ব্যাপারে জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার ঝুলি প্রায় সবারই পূর্ণ। কেউ কেউ আবার কৃপণ শব্দটির বদলে হিসাবি বা মিতব্যয়ী ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করেন। যদিও তাতে কৃপণদের নিয়ে সমাচারে কোনও দিন, কোনও যুগেই ঘাটতি হয় না।
বিশদ

06th  August, 2017
 অমরনাথের পথে-প্রান্তরে

 দুর্গম অতিক্রম করে, জঙ্গি হামলা-মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে এগিয়ে চলা একবার দর্শনের আশায়। বালতাল হোক বা পহেলগাঁও, যাত্রাপথ যাই হোক না কেন, প্রকৃতি সেখানেই অপার সৌন্দর্য উজাড় করে রেখেছে। বিন্দু বিন্দু জল জমে আকার নিয়েছে শিবলিঙ্গের। আর তাকে ঘিরেই সম্প্রীতির এক অদ্ভূত মিলন উৎসব। সে যে অমরনাথ। বিশদ

23rd  July, 2017
খবর শেষ

 আকাশবাণী... খবর পড়ছি...। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমল থেকে শুরু হওয়ার পর বঙ্গজীবনের অঙ্গ হিসাবে জড়িয়ে যাওয়া সেই অভ্যাস হাতছাড়া হয়েছে বহুযুগ আগেই। টিভি, ইন্টারনেট, ফেসবুকের জমানায় যা আজ প্রায় গতজন্মের স্মৃতি বলে মনে হয়। কিন্তু একটা সময় এই তো ছিল বাইরের জানালায় চোখ রাখার জন্য মানুষের একমাত্র দূরবীন! সেই ইভা নাগ, নীলিমা সান্যাল, দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্রেকডাউন, ভুল খবর...। সে এখন নস্টালজিয়া। আজ দিল্লির বেতার খবর যে সত্যিই শেষ!
বিশদ

16th  July, 2017
 বৃষ্টিভেজা

 গ্রীষ্মকালীন এই বঙ্গে বর্ষার আগমন যেন ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার মতো। আকাশকে মুখ ভার করে ঝরে পড়তে দেখলেই মন আনচান করে খিচুড়ি, ইলিশ মাছের জন্য। ঘণ্টাখানেকের বর্ষণে তিলোত্তমা এক হাঁটু জল উপহার দিলেও তা ঠেলে বাড়ি ফেরাই আলাদা আনন্দ। আর গুনগুন করে ওঠা বিশ্বকবির সৃষ্টি। মনে পড়ে যাওয়া অপু-দুর্গার বৃষ্টি ভেজা। কিংবা স্কুলের সেই রেনি ডে। এ ঋতু তাই যে আলাদা আলাদা অনুভূতির এক সম্পৃক্ত দ্রবণ। বিশদ

09th  July, 2017
চিকিৎসা রঙ্গ 

কল্যাণ বসু: ‘পাসকরা ডাক্তার নই, কিন্তু তাতে কি? বাড়ি বসিয়া বই পড়িয়া কি আর ডাক্তারী শেখা যায় না? আজ সাত আট বছর তো ডাক্তারী করিতেছি, অভিজ্ঞতা বলিয়া একটা জিনিসও তো আছে! পাসকরা ডাক্তারের হাতে কি আর রোগী মরে না?’ এইটুকু পড়ে কী মালুম হচ্ছে?
বিশদ

02nd  July, 2017
 বাঙালির রথযাত্রা

হারাধন চৌধুরী: বাঙালি এক আমুদে জাতি। আনন্দের জন্য পরব খুঁজে নিতে বাঙালির জুড়ি মেলা ভার। বাঙালির কাছে দেবতারা কঠিন কঠোর কিছু নন। দেবতারাই হলেন সবচেয়ে আপন বা অতি প্রিয় কেউ, যাঁকে আঁকড়ে ধরে থাকতে না পারলে বাঙালির সব আনন্দ, সব সুখানুভূতি যেন মাটি হয়ে যায়। অতএব একজন না একজন দেবতাকে সামনে রেখেই পার্বণ সাজিয়ে নেয় তারা। সেই থেকেই ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’ কথাটি এসেছে। ‘তেরো’ কথাটি ‘বহু’ অর্থেই প্রযোজ্য হয়। সংস্কৃতি সম্পর্কে এমন যাদের উপলব্ধি, রথযাত্রার মতো একটি পার্বণ বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে তাদের মাতিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। রথযাত্রার মধ্যে মাটি বা ভূমির টানই খুঁজে পায় বাঙালি। বিশদ

25th  June, 2017
দেশভাগের ৭০

সমৃদ্ধ দত্ত: ৭০ বছর আগে কয়েকজন দেশি-বিদেশি প্রতিনিধি ঠিক করে ফেলেছিল ভারতকে ভাগ হতেই হবে। ৭০ বছর আগে এমনই একটা জুন মাসে অবিভক্ত বঙ্গ বিধানসভার শেষ অধিবেশনে বাংলা আর বাঙালির নতুন পথ চলার সূচনা। চিরবিচ্ছেদের বেদনা নিয়ে। সেই ২০ জুন।
লর্ড মাউন্টব্যাটেন নিজের ইমেজ সম্পর্কে এতটাই সচেতন ছিলেন যে, ১৯৪৭ সালের ২২ মার্চ ভারতের ভাইসরয় পদে এসেই সরকারি এবং প্রেস ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি নির্দেশ জারি করে দেন।
বিশদ

18th  June, 2017
রাষ্ট্রপতি ভবনে 

প্রবালকুমার বসু: রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁরই অতিথি হয়ে কাটিয়ে আসা দু’সপ্তাহ। রাজধানীর যানজট, দূষণের বাইরে হঠাৎ এসে পড়া যেন এক অন্য জগতে। মুঘল গার্ডেনসে ফুলের মাঝে কেটে যাওয়া সময়, কিংবা প্রতিটা পাথরে নতুন করে খুঁজে পাওয়া ইতিহাস।
বিশদ

11th  June, 2017
ভূস্বর্গ ভয়ংকর

আজাদ কাশ্মীর। এই অবস্থানেই অনড় ছিলেন মহারাজা হরি সিং। পাকিস্তানের একের পর এক ষড়যন্ত্রে নেহরুর সাহায্য নিতে তিনি বাধ্য হয়েছিলেন। কাশ্মীর জুড়েছিল ভারতের মানচিত্রে। কিন্তু পিছন থেকে ছুরি মারে আমেরিকা, ব্রিটেন। এবং পাকিস্তান। যে ইন্ধন বজায় রেখেছে ইসলামাবাদ। ফল? অশান্ত ভূস্বর্গ...।
বিশদ

04th  June, 2017
খাতা দেখা 

বসন্ত কড়া নাড়লেই বুঝতে হবে মা-উমা খুব দূরে নেই। অর্থাৎ মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক। ভাবা যায়, একটা রাজ্যে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ লক্ষের বেশি? আর এই দুই পরীক্ষা শেষ হতেই রাজ্যের আনাচে কানাচে হাজার হাজার স্কুল টিচারের গৃহকোণে শুরু হয়ে যায় কুটির শিল্প—খাতা দেখা।
বিশদ

28th  May, 2017



একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সম্প্রতি দুর্গাপুর পুরসভা নির্বাচনে নিরাপত্তার প্রশাসনিক আশ্বাস সত্ত্বেও ব্যাপক হাঙ্গামা হয়েছে। ভোট লুট হয়েছে। পুলিশ মার খেয়েছে। নির্বাচন কমিশন ভোট চলাকালীন অভিযোগ জানানোর রাস্তা বন্ধ রেখেছিল। ...

 বেঙ্গালুরু, ১৬ আগস্ট (পিটিআই): তামিলনাড়ুতে ‘আম্মা ক্যান্টিন’ ব্যাপক জনপ্রিয় পাওয়ার পরে এবার কর্ণাটক সরকার চালু করল ‘ইন্দিরা ক্যান্টিন’। বুধবার বেঙ্গালুরুতে কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী এই ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত পাঁচ বছরে বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৮৫ পয়সা বেড়েছে বলে বিধানসভায় বিবৃতি দিলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বুধবার বিধানসভায় প্রথমে বিদ্যুতের দাম ...

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: অতিবর্ষণের জেরে আলিপুরদুয়ারের চারটি ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার আমন ও সবজি খেত জলের তলায় চলে যাওয়ায় কমপক্ষে ৪০ হাজার চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত কৃষি দপ্তর ক্ষয়ক্ষতির যে হিসাব নবান্নে পাঠিয়েছে তাতে জেলার ছ’টি ব্লকের মধ্যে ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ার-১ ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

সঠিক বন্ধু নির্বাচন আবশ্যক। কর্মরতদের ক্ষেত্রে শুভ। বদলির কোনও সম্ভাবনা এই মুহূর্তে নেই। শেয়ার বা ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩২: ব্রিটিশ সাহিত্যিক ভি এস নাইপলের জন্ম
১৯৮৮: দুর্ঘটনায় মৃত পাক প্রেসিডেন্ট মহম্মদ জিয়া-উল-হক
২০০৮: ওলিম্পিকসে আটটি সোনা জিতে রেকর্ড মার্কিন সাঁতারু মাইকেল ফেল্পসের


ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৪৫ টাকা ৬৫.১৩ টাকা
পাউন্ড ৮১.৩৭ টাকা ৮৪.১৮ টাকা
ইউরো ৭৪.০৮ টাকা ৭৬.৬৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,১৭০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৬৭৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,০৯০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩২ শ্রাবণ, ১৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার, দশমী দিবা ১২/৪৩, মৃগশিরানক্ষত্র রাত্রি ১০/৫৯, সূ উ ৫/১৭/৫১, অ ৬/৩/৩৯, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৮-৩/৩, বারবেলা ২/৫২-অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৪১-১/৫।
 ৩১ শ্রাবণ, ১৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার, দশমী ১০/৫৫/৫২, মৃগশিরানক্ষত্র রাত্রি ১০/২৩/৫৭, সূ উ ৫/১৫/৩৩, অ ৬/৫/২৫, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৭/৩০-৩/১/৩১, বারবেলা ৪/২৯/১১-৬/৫/২৫, কালবেলা ২/৫২/৫৭-৪/২৯/১১, কালরাত্রি ১১/৪০/২৯-১/৪/১৫।
২৪ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
  খানাকুলে বৃষ্টির জমা জল নামতেই উদ্ধার কঙ্কাল, চাঞ্চল্য
আরামবাগের খানাকুলের সবলসিংহপুর এলাকায় বৃষ্টির জমা জল নামতেই এক অপরিচিত মহিলার কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

05:44:00 PM

এবার চড়াম চড়াম করে জয়ঢাক বাজবে পঞ্চায়েতেও: অনুব্রত

 আজ নলহাটিতে ১নং ওয়ার্ড ও ৮ নং ওয়ার্ডে তৃণমূলের পরাজয়ের পর, হারের কারণ অনুসন্ধান করতে এসে অনুব্রত মন্ডল মৎসমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা ও পরিকল্পনা তদারকি ও পরিসংখ্যান দপ্তরের মন্ত্রী আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ আরও দুই তৃণমূল নেতার দায়িত্ব পালনে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ওঁদের উপর পুরো দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়াটা ভুল হয়েছলি, ওঁদের এতটা বিশ্বাস করাটাও ভুল হয়েছিল। এবার থেকে সব বিষয়টা তিনি নি঩জেই দেখবেন বলেও জানান। পাশাপাশি এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে পঞ্চায়েত দখলের ডাকও দেন অনুব্রতবাবু। তিনি বলেন, এবার পঞ্চায়েতও চড়াম চড়াম করে জয়ঢাক বাজবে।

05:20:10 PM

এই জয় মানুষের জয়: মুখ্যমন্ত্রীর

 মানুষের জয়, যারা তৃতীয় ও চতুর্থ হওয়ার জন্য লম্ফ-ঝম্ফ করেছিল, আমি দেখলাম তারা ০.১% ভোট পেয়েছে। মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আজ ৭ পুরসভা জয়ের পর এভাবেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

05:13:08 PM

উত্তরবঙ্গে দুর্গতদের উদ্ধারে ন্যায্যমূল্যে বিমান সংখ্যা বাড়ানোর আর্জি কেন্দ্রকে

 যেহেতু উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, সেই সুযোগে বেশিরভাগ বিমান সংস্থা তাদের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিব কেন্দ্রকে এই দুর্যোগের সময় দুর্গতদের উদ্ধারে ন্যায্য মূল্যে বিমানের সংখ্যা বাড়াতে অনুরোধ জানিয়েছে।

05:06:00 PM

মদন তামাং হত্যা মামালা: গুরুংকে অব্যহতি

 মদন তামাং হত্যা মামলায় বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে কোনও তথ্য প্রমানাদি না মেলায় তাঁকে এই মামলা থেকে অব্যহতি দিল বিশেষ আদালত

05:02:00 PM

 দুর্গাপুরে পুরভোটে তৃণমূল ৭৬.২৬%, বামফ্রন্ট ১২.৩%, বিজেপি ৭.৮৯%, কংগ্রেস ২.৫৩% এবং নির্দল ০.৯% ভোট পেয়েছে

04:39:00 PM