প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

 অমরনাথের পথে-প্রান্তরে

দুর্গম অতিক্রম করে, জঙ্গি হামলা-মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে এগিয়ে চলা একবার দর্শনের আশায়। বালতাল হোক বা পহেলগাঁও, যাত্রাপথ যাই হোক না কেন, প্রকৃতি সেখানেই অপার সৌন্দর্য উজাড় করে রেখেছে। বিন্দু বিন্দু জল জমে আকার নিয়েছে শিবলিঙ্গের। আর তাকে ঘিরেই সম্প্রীতির এক অদ্ভূত মিলন উৎসব। সে যে অমরনাথ।


মৃন্ময় চন্দ:
 অমরনাথ আবার খবরের শিরোনামে। ১০ জুলাইয়ের জঙ্গি হামলায় আশঙ্কার কালো মেঘ আচমকাই ছড়িয়ে গেল অমরনাথ যাত্রাপথের আকাশে। সে পথ কত নিরাপদ, সে প্রশ্ন কিন্তু তারপরও পিনাকপাণির অমোঘ আহ্বানে সাড়া দেওয়া পুণ্যার্থীদের মনে জাগেনি। শঙ্কা ছিল একটাই, যাত্রা বন্ধ হয়ে যাবে না তো? না হয়নি। হতে দেয়নি মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে ‘পথেই হবে পথ চেনার’ দৃঢ় সংকল্পে বলীয়ান মানব মননই। দুর্গম গিরি লঙ্ঘন করে, বয়সকে ক্রীতদাস বানিয়ে বছরের পর বছর মানুষ এগিয়ে গিয়েছে অমরনাথ দর্শনের উদ্দেশে। সাম্প্রতিক অতীতে তেমনই এক তালিকায় নাম জুড়ে দেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। সঙ্গী দুই অসমবয়সি ভ্রমণপিপাসু। অমরনাথ কেবল দুর্গম-দুরধিগম্যই নয়, পথের অপরিসীম অপার্থিব সৌন্দর্যে প্রতিনিয়তই ঈশ্বরের অমলিন স্পর্শ যেন রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনুভূত হয়। মনে হয় সোমেশ্বর যেন স্বয়ং অদৃশ্যে হাতছানি দিয়ে ডাকছেন! ‘অনির্বাণ তার বীণা, শোনে শুধু অনন্তকাল আর অনন্ত আকাশ। সেই অদৃশ্য পথের তিলক ললাটে পরিয়েই তো তিনি আমাদের ঘরছাড়া করে এনেছেন।’ মাস-বর্ষ-মহাযুগ-মন্বন্তর পার হয়ে যায়, আমাদের মর্মর জীবন-স্বপ্ন শেওলা ছাতার দলে ভরে আসে কিন্তু শিব-শিবানীর প্রপঞ্চের হদিশ তখনও মেলে না। চলে, এগিয়েই চলে।
রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে হাওড়া থেকে হিমগিরি এক্সপ্রেসে আমাদের যাত্রা শুরু। বৃষ্টি-বিহীন নিদাঘ দিন। পাটনা পার হতে ঘুম ভাঙল। চড়চড়ে রোদ। বিকেল ৪টে নাগাদ পাঠানকোট ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে সাময়িক বিরতি। নির্জন স্টেশনে শুধুই সেনার নজরকাড়া ঘরকন্না। কত সেনা চলেছে সমরে! ভুলতে বসেছিলাম, এবার আমাদের যাবতীয় গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত হতে চলেছে সেনার তত্ত্বাবধানে। মনটা গুমরে উঠল। স্বাধীন গণতান্ত্রিক ভারতের নাগরিক আমরা। চলেছি ভারতের আর একটি রাজ্যে। তাও পদে পদে আশঙ্কা-অবিশ্বাস-সন্দেহ। মানুষ নয়, পরিচয়পত্রই মুখ্য। দেখতে দেখতে কাঠুয়া, তারপরেই জম্মু-তাওয়াই। আমাদের গন্তব্য। অবতরণ ক্ষেত্র। ঘড়ির কাঁটায় প্রায় ৬টা। মুঠোফোন মৃত। কারণ জম্মুতে প্রিপেড অচল-অক্ষম। রাতের আস্তানা খোঁজার সঙ্গে সঙ্গে অনুসন্ধান চলল নতুন সিম কার্ডের। মিলেও গেল অচিরে, বিনামূল্যে। অমরনাথ যাত্রীদের পরিচয়পত্র (পরচি) সব মুশকিল আসানের চাবিকাঠি। কিন্তু তখন কে-ই বা জানত গোটা সফরে সেই মোবাইল থাকবে অকর্মণ্য। পরিচয়পত্রের ইতিহাসটাও একটু ঝালিয়ে নেওয়া ভালো। সরকারি নির্দেশনামায় কলকাতার সবকটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও কিছু জেলা হাসপাতালের সুপার ১৩ থেকে ৭৫ বছরের নাগরিককে পরিপূর্ণ শারীরিক সক্ষমতার আনুপঙ্খিক পরীক্ষা শেষে দিতেই পারেন ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট।’ ফিটনেস সার্টিফিকেট নিয়ে নির্দিষ্ট ব্যাংকে গিয়ে ‘অমরনাথ যাত্রার ফি’ জমা দিতে হবে। এবছর যার মূল্য ১৫০ টাকা। পূরণ করতে হবে নাতিবৃহৎ একটি ফরম। থাকবে রঙিন ছবি। জুড়তে হবে ফিটনেস সার্টিফিকেট। কোন পথে কবে যাত্রী যেতে চান তার বিস্তারিত বিবরণ নথিভুক্ত করতে হবে। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী বালতাল বা পহেলগাঁও থেকে কঠোর নিরাপত্তায় যাত্রা শুরু করতে পারবেন। আপনার পছন্দের দিনের কোটা পূর্ণ হয়ে গিয়ে থাকলে অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তী দিনের। যত সহজে গোটা ঘটনাটা লিপিবদ্ধ হল, তার রূপায়ণে কিন্তু আমাদের জুতোর শুকতলা ক্ষয়ে গিয়েছিল।
জম্মুতে পৌঁছে
সূর্য পাটে বসেছে। সন্ধ্যা ৬টা। বেশ গরম, সবাই ক্লান্ত-ঘর্মাক্ত-অভুক্ত। স্টেশন থেকে বেরলেই অজস্র হোটেল, লজ। বিভিন্ন মাপ ও মানের। সর্বত্রই ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই। অনেক অনুরোধ উপরোধ ও কর্মক্ষেত্রের রাশভারী বদান্যতার সৌজন্যে অধম ত্রিমূর্তির জুটল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি ঘর। হর-পার্বতী লজে। যদিও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র অচল। কাছেই অজস্র ভোজনালয়, খাবার মানে কলকাতার ফুটপাথ অগ্রগণ্য। পরের দিন পহেলগাঁও যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হল। পহেলগাঁ-এ আমরা থাকব বশিরভাইয়ের ছবিসদৃশ গৃহে। অনেক দিনের পরিচয়। কাছাকাছি একটি ফোনবুথ মিলে যাওয়ায় বশিরভাইয়ের সঙ্গে কথা হল। পহেলগাঁ থেকে একটি টাভেরা গাড়ি এসেছে জম্মুতে, ফিরতি পথে সেটিই আমাদের তুলে নেবে। চালক আমিরভাইয়ের অনুরোধ—আমরা যেন প্রস্তুতি সেরে ৬টার মধ্যে বেরতে পারি। ৬টার আগেই প্রস্তুত আমরা। ভোর থেকে শুরু হল তুমুল বৃষ্টি। হঠাৎই একটি অটোর দৈব-প্রেরিত আগমন। আমির-ভাই পাঠিয়েছেন। ঝপাঝপ চড়ে বসলাম অটোতে। ১০ মিনিটে অটো আমাদের পৌঁছে দিল আমিরভাইয়ের মসৃণ ঝাঁ-চকচকে শকটে। সকালের বৃষ্টির মনখারাপ সাতরঙা সূর্যের প্রজাপতি রামধনুতে মিশে উড্ডীন পাশের সুউচ্চ পাহাড়ের স্বপ্নিল বাঁকে। সূর্যের আলো আর পাইন-ফার-দেবদারু-চিনার-আখরোট-বার্চ-হাতাবের পলাতকা ছায়ারা হুটোপুটি করছে উইন্ড-স্ক্রিনে। এখানে মেঘেরা সব গাভীর মতো চরে।
পহেলগাঁ-এর পথে
মৃদুভাষী আমিরভাই আমাদের গাইড; শ্রীনগরে বন্‌ধ চলেছে। অবরুদ্ধ নগরী। দায়ী নাকি সিআরপি। অনর্গল ভাষণে প্রগলভ আমিরভাই। কাশ্মীরিদের যাবতীয় সমস্যার মূলে নাকি রাষ্ট্র ও তার লালচোখ সেনাবাহিনী। সহানুভূতি ঝরে পড়ছে আফজল গুরুর প্রতি। নির্বাক শ্রোতা আমরা। দেখতে দেখতে সরে গেল পাটনি টপ; আসলে নাকি পত্নী টপ। বেশ ঠান্ডা। খিদেও পেয়েছে। কাছেই মিলবে ভাণ্ডারা, আমিরভাইয়ের আশ্বাস। দইবড়া, পাপড়ি চাট থেকে এলাহি দ্বিপ্রাহরিক ভোজন। সব মুফতে। শর্ত একটাই। খাবার নষ্ট করা চলবে না। ভাণ্ডারার পাশেই প্রাথমিক সেবাকেন্দ্র। বাঙালি ডাক্তারনি। মহাকালের অমোঘ আকর্ষণ এড়াতে না পেরে প্রতিবারেই আসেন, সেবা করেন অগণিত অমরনাথগামী পুণ্যার্থীর। কিন্তু তাঁর কখনও অমরনাথ দর্শন হয়ে ওঠেনি। শতসহস্র অমরনাথ তো তাঁকে প্রত্যহ দর্শন দেন! কিছু জরুরি ওষুধ ও একগোছা ব্যান্ড-এড নিয়ে আবারও যাত্রা শুরু। প্রবেশ জহর টানেলে। টোল লাগবে। ঝুড়ি ভরতি লাল টুকটুকে আপেলেরা মিটিমিটি হেসে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। ৭ হাজার ১৯৮ ফিট উচ্চতায়, ২.৮৫ কিমি দীর্ঘ বানিহাল ও কাজিগুন্দের সংযোগকারী ভারতের দীর্ঘতম টানেল। দুটো লেনে দিনে ৭ হাজার গাড়ি চলে। বিকাল ৫টা নাগাদ পহেলগাঁ-এর পুলিশ চেকপোস্টে পৌঁছে আমিরভাই আমাদের কাছে বিদায় নিলেন। মেটাল ডিটেক্টর, এক্স-রেতে যাবতীয় অনুসন্ধান পর্ব সুসম্পন্ন হওয়ার পর আমরা হেঁটেই বশিরভাইয়ের গৃহে পৌঁছলাম। গরম ধূমায়িত চা সহযোগে আপ্যায়নের কোনও খামতি নেই। তিনটি সুসজ্জিত ঘর আমাদের জন্য বরাদ্দ। আমরা এসেছি NH144A ধরে। ২৭৯ কিমি রাস্তা। নির্ধারিত সময় ৭ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট। কিঞ্চিৎ বেশিই লেগেছে আমাদের। NH44 ধরে এলে সময় লাগত ৫ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট। অনন্তনাগ জেলার সদর শহর পহেলগাঁও, লিডার নদীর উপত্যকায় ৮ হাজার ৯৯০ ফিট উচ্চতায় অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোড়া, 34.01°N 75.19°E অক্ষাংশে বিস্তৃত। অনন্তনাগ থেকে দূরত্ব ৪৫ কিমি।
ব্যাগপত্র রেখে, চান সেরে আমরা সান্ধ্যভ্রমণে বেরলাম। খরস্রোতা লিডার নদী, ব্যবস্থা রয়েছে র‌্যাফটিংয়ের। রয়েছে গলফ কোর্স। রাত ৮টা পর্যন্ত বিরাজমান রৌদ্রালোকিত দিন। পাহাড়ের মাথায় খেলা করছে সূর্য, নীচের উপত্যকা ও পাইন বনে ঘন সবুজ অন্ধকার। পহেলগাঁও থেকে চন্দনওয়াড়ির দূরত্ব ১৬ কিমি। কালই প্রাতে আরম্ভ হইবে মহারণ। প্রস্তুতি তারই। বশিরভাই একটি গাড়ি ঠিক করে দিলেন চন্দনওয়াড়ি যাওয়ার জন্য। নিশ্চিন্ত। রাতের খাওয়া সেরে কম্বলের আরামে সুখনিদ্রা। বিভিন্ন মানের নিরামিষ ও আমিষ হোটেল প্রচুর। রয়েছে মাগনার ভাণ্ডারাও। ক্যামেরা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরিধানের সামান্য শীতবস্ত্র ছাড়া আমাদের রুকস্যাকে রইল না আর কিছুই। বাকি সব রয়ে গেল বশিরভাইয়ের জিম্মায়। বশিরভাই আমাদের প্রত্যাবর্তনের পর পাঠিয়ে দেবেন বিল্টুদার ডাল লেক গেট নং ২-তে সুলতান হোটেলে।
যাত্রাপথের অ-আ-ক-খ
চন্দনওয়াড়ি (৯ হাজার ৬০০ ফিট), ৩ কিমি দূরে পিসু টপ, জোজি বাল-নাগা কোটি পেরিয়ে ৯ কিমি দূরবর্তী শেষনাগ (১১ হাজার ৭৩০ ফিট), আমাদের প্রথম দিনের যাত্রা স্থগিত। অজস্র ছোট, বড়, মাঝারি ঝোরা; হঠাৎ জমে যাওয়া বরফের চাঁদোয়া পেরিয়ে মন্ত্রমুগ্ধের মতো শেষনাগে পৌঁছলাম। পথের কষ্ট জুড়িয়ে দিয়েছে প্রকৃতির অকৃপণ ঔদার্য। চন্দনওয়াড়ি থেকেই মিলেছে অঢেল কোল্ড-ড্রিংকের টেট্রা-প্যাক, সুস্বাদু লজেন্স-চকোলেট, চাট-ফুচকা- পরোটা-ধোসা-ইডলি-চাউমিন-দইবড়া-চা-কফি-দুধসহ আরও নানা সুখাদ্য। অতি যত্নে ভাণ্ডারার সেবাইতরা অন্ন তুলে দিচ্ছেন স্বয়ং অমৃতের পুত্র-কন্যাদের। শেষনাগে সম্পূর্ণ সামরিক আতিথ্যে পরচির পরিচয় খুঁটিয়ে যাচাইয়ের পর আমাদের আশ্রয় মিলল একটি প্রশস্ত তাঁবুতে। বাইরে উত্তুঙ্গু বরফাবৃত পাহাড়শীর্ষে তখন চোখ-ধাঁধানো হীরকছটা। পুরাণে কথিত সাতটি মাথার (পাহাড়) সমন্বয়ে শেষনাগ অতন্দ্র প্রহরী বরফগলা নীল জলের হ্রদটির। প্রেম-প্রতিহিংসার লাবণ্যে উজ্জ্বল ঝুপসি মেঘেরা মাঝেমধ্যেই গা ভিজিয়ে শুনিয়ে যাচ্ছে নানা অমর প্রেমকাহিনি। পরিচয় হল সুভদ্র বাঙালি সামরিক বাহিনীর কর্তাদের সঙ্গে। অত্যাধুনিক রণসাজে বিনিদ্র তারা। তাদের আতিথ্যে সুস্বাদু চা ও ভাণ্ডারার উৎকৃষ্ট রাতের গরমাগরম খাবার মিলে গেল তাঁবুতেই।
পরের দিন ওয়ারবাল-মহাগুনাস টপ (১৪ হাজার ৫০০ ফিট)—পাবিবাল হয়ে ১০.৬ কিমি দূরত্ব উজিয়ে যাত্রা পঞ্চতরণীতে। সকাল ৮টা বাজে। অনুমতি মিলছে না পঞ্চতরণীর সামরিক ঘাঁটি থেকে। আবহাওয়া খারাপ। সামরিক কর্তার তাঁবুতেই চলছে আড্ডা, ঘনঘন চা পান। অতঃপর সবুজ সংকেত। যাত্রা শুরু। সামরিক বাহিনীর বন্ধুরাই দরাদরি করে ঠিক করে দিলেন পিট্টু (মালবাহক)। পঞ্চতরণীর সামরিক আস্তানায় পৌঁছে গেল আমাদের আগমনের খবরও। প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আমরা, কলকাতায় ফিরেই ফোন ও অমরনাথ যাত্রা শেষে সামরিক বাহিনীর বন্ধুরা যদি বাড়ি ফেরেন অক্ষত শরীরে, তাহলে তাদের বাড়িতে একবার আতিথ্যগ্রহণ করতেই হবে। পঞ্চতরণীর গোটা রাস্তাটাও অসংখ্য ঝোরা-ঝরনা-নদী-শ্রাবস্তীর কারুকাজ করা বরফের পাহাড়ে উদ্বৃত্ত। শিবের জটাজাল থেকে ভৈরব পাহাড়ের পাদদেশে পাঁচটি নদীর মিলনক্ষেত্র হল পঞ্চতরণী। মহাগুনাস টপ অতিক্রম করলেই পৌষপুত্রী। পৃথিবীর যাবতীয় নিরামিষ আহার্যের সর্বোৎকৃষ্ট আয়োজন। ড্রাই ফ্রুটসের চাট থেকে ফুটন্ত পেল্লায় গাওয়া ঘিয়ের গোলাপ-জামুন, রোস্টেড পটেটো থেকে ভেজ পোলাও-বিরিয়ানি, রাবড়ি-ছানার পায়েস থেকে ধোঁয়া ওঠা সুগন্ধি চা-কফি-ঠান্ডা পানীয়-খেজুর-কাজু-কিশমিশ- লজেন্স-চকোলেট। যত খুশি খান, নিয়ে যান। পৌষপুত্রী ছাড়ার পর ফিসফিসে বৃষ্টি, উতরাই, অবশেষে পঞ্চতরণী (১২ হাজার ৭২৯ ফিট)। সহাস্য অভিবাদন সামরিক বাহিনীর জওয়ানদের। শেষনাগ থেকেই অগ্রিম বার্তা পৌঁছেছে। আবারও তাঁবুতে রাত্রিযাপন। গরম জল মিলল, স্নানের চেষ্টা করা হল। তাতে দেহ পবিত্র হল বটে কিন্তু নির্মল হল না। পঞ্চতরণীর হেলিপ্যাড থেকে উড়ছে রংবেরঙের হেলিকপ্টার। আধঘণ্টায় অমরনাথজিকে দর্শন করে ফিরে আসা সম্ভব। সেনাবাহিনীর বন্ধুরা সতর্ক করলেন: রাতে একটু সজাগ থাকবেন। তাঁবু থেকে জিনিসপত্রের চক্ষুদান হতেই পারে। মাঝরাতে তাঁবুর জানলার পাশে অশরীরী ছায়ামূর্তি, অস্ফুট ঘোঁতঘোঁত আওয়াজ। ক্লান্ত-শ্রান্ত সতীর্থের আর্ত চিৎকার—চোর, চোর। পার্শ্বস্থ তাঁবু থেকেও ইতিউতি প্রণিপাত। অবশেষে দেখা গেল মায়াবী চাঁদের আলোয় একটি ঘোটকী দিনান্তের অমানুষিক পরিশ্রম শেষে অনিমিখে ঘাস চিবুচ্ছেন। ভোর ৪টেয় অ্যালার্ম-ধ্বনিতে তন্দ্রা টুটল। বাইরে অভিবাদন জানাচ্ছে নক্ষত্রখচিত আকাশ। তড়িঘড়ি প্রস্তুতি সেরে আবারও পিট্টু, মালপত্রের বাহক তিনি। পথপ্রদর্শকও তিনি।
কর্দমাক্ত পথ। পুরু সোলের জুতো ভেদ করে কেন শ্রীচরণে এত ঠান্ডা লাগছে। হঠাৎই পদস্খলন। হাতে ভীষণ ঠান্ডা লাগছে। সর্বক্ষণের ছায়া-সঙ্গী চন্দনওয়াড়ি থেকে কেনা আখরোট কাঠের লাঠি দিয়ে কাদা সরাতেই মালুম হল আমরা হাঁটছি পাণিতরণী নদীর জমা বরফের উপর দিয়ে। তাই মাঝেমধ্যেই পা পিছলে চিৎপটাং। উঠে এলাম পাশের সংকীর্ণ গিরিপথে। ঘোড়াকে হাতের ইশারায় পাশ কাটিয়ে ঘণ্টা দুয়েকের চড়াই-উতরাই ভেঙে পৌঁছালাম অমরাবতী-পাণিতরণীর সঙ্গমে। পবিত্র অমরনাথ গুহা আর ২ কিমি। বরফপথ অতিক্রমণে পৌঁছে গেলাম অমরনাথ গুম্ফার দোরগোড়ায়। নিশ্চল স্থাণুবৎ। এত কষ্ট, তিতিক্ষা, পদে পদে মৃত্যুভয়, অনিদ্রা, টেনশন আজ সার্থক। চোখের সামনে পরতে পরতে উন্মোচিত হচ্ছে যেন মহাকালের মৃন্ময় থেকে চিন্ময় মূর্তি। কবিগুরুই তার সঠিক বর্ণনা করতে পারেন— ‘‘প্রভাত আসে তাঁহার কাছে আলোক ভিক্ষা নিতে,/ সে আলো তার লুটায় ধরণিতে। তিনি যখন সন্ধ্যা-কাছে দাঁড়ান ঊর্ধ্ব করে, তখন স্তরে স্তরে/ ফুটে ওঠে অন্ধকারের আপন প্রাণের ধন--/’’ ...এবার ফেরার পালা। ফিরব আমরা বারারি (৪ কিমি)- ডোমেল (৮ কিমি) হয়ে বালতাল।
অমরনাথের অমরত্ব
অমরনাথ গুহার উচ্চতা ১৩০ ফিট। গুহার ছাদ থেকে বিন্দু বিন্দু জল পড়ে সেই জল জমে লিঙ্গের রূপ পায়। জমা বরফ বা ‘আইস স্ট্যালাগমাইট’ আয়তনে বাড়তে বাড়তে গুহার ছাদ স্পর্শ করে। পাশেই স্পষ্ট এলানো চুলের পার্বতী ও নাদুসনুদুস গণেশ। বরফের নিপুণ ভাস্কর্য। প্রথম অমরনাথ গুহার আবিষ্কারক নাকি ভৃগু মুনি। রাজতরঙ্গিনীতে উল্লেখ রয়েছে অমরনাথের। ভিনসেন্ট স্মিথের বইতেও অমরনাথের উল্লেখ পাওয়া যায়। গুরুপূর্ণিমা থেকে শ্রাবণী পূর্ণিমা পর্যন্ত অমরনাথ যাত্রা চলে। পুরাণে কথিত পার্বতী মহেশ্বরের কাছে আকুল হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন—কেন পার্বতীকেই বারেবারে পৃথিবীতে আসতে হয়, মহাদেবকে নয়? প্রথমে সৃষ্টিরহস্য উন্মোচন না করতে চাইলেও নিরুপায় মহাকালেশ্বর ‘স্বোহুহম’ বৃত্তান্ত উন্মোচনে অন্বেষণ করছিলেন অতীব নির্জন ও দুর্গম কোনও এক অপার্থিব স্থানের। কাকপক্ষীতেও যাতে টের না পায় গূঢ় সৃষ্টিরহস্য। অমরনাথ, সুপ্রীতার চেতনায় সেই আদর্শ স্থান। গোপনীয়তা বজায় রাখতে প্রিয় বাহন নন্দীকে নটরাজ পরিত্যাগ করলেন পহেলগাঁওয়ে, কপালের চন্দ্রমাকে ত্যাগ করলেন চন্দনওয়াড়িতে, সাপেদের স্থান হল শেষনাগের জলে, প্রিয় পুত্র গণেশকে ভুলিয়েভালিয়ে রেখে এলেন মহাগুনাস পর্বতে আর ক্ষিতি-অপ-তেজ-মরুৎ-ব্যোমের ঠাঁই হল পঞ্চতরণীতে। তারপর সৃষ্টিরহস্য ব্যাখ্যায় পার্বতীকে নিয়ে প্রবেশ করলেন অমরনাথ গুহায়। সমাধিস্থ হলেন সেখানে। রুদ্ররূপে ‘কালাগ্নি’ প্রজ্বলন করে চতুর্পার্শ্বস্থ জড়-অজর যাবতীয় পার্থিব বস্তুকে পুড়িয়ে খাক করে দিলেন। নিষ্কণ্টক হয়ে পার্বতীকে সৃষ্টিরহস্যের অমরকথা শোনাতে উপবিষ্ট হলেন। এত সাবধানতা সত্ত্বেও তার অজিনের নীচে সুপ্ত ছিল একজোড়া পায়রা বা শুক-সারির ডিম। তাই দুর্গম-দুরধিগম্য-ভয়ানক প্রতিকূল পরিবেশেও প্রতি বছর অমরনাথ গুহায় দেখা মেলে পায়রাদের, এবছর এমনকী আগমন ঘটেছে একজোড়া শুক-সারিরও।
অমরবাণী ত্র্যম্বকেশ্বর শুনিয়েছিলেন? শ্রী অরবিন্দের কেনোপনিষদের অনূদিত ভাষ্যে: যে সত্যবস্তু আমাদের জানতে হবে, অন্বেষণ করতে হবে তা মন প্রাণ ইন্দ্রিয় বাক্য বা তাদের বিষয় বা অভিব্যক্তি এসবের কিছুই নয়। সত্যজ্ঞান সেই তৎস্বরূপকে জানা, যিনি আমাদের জন্য এইসব যন্ত্র গড়েছেন কিন্তু যিনি নিজে সেই তাদের ব্যবহারের প্রয়োজন থেকে মুক্ত। প্রকৃত অধিকার, প্রকৃত ভোগ হয় তাঁরই, যিনি আমাদের কামনার এইসব বিষ সৃষ্টি করেছেন বটে কিন্তু নিজে কোনও বিষয়ের অনুসরণ বা বাসনা করেন না, যিনি সব বস্তু নিয়েই তাঁর অমর সত্তার আনন্দে নিত্য পরিতৃপ্ত।
অমরনাথ যাত্রায় গাড়ির চালক থেকে পিট্টু থেকে ডুলি—বাহক থেকে তাঁবু বা ঘোড়ার মালিক—সকলেই ইমানদার মুসলিম। অমরনাথজির প্রসাদি নৈবেদ্যর পশরা সাজিয়ে বসেছেন মুসলিম বিক্রেতারা। অনির্বাণ মুসলিম স্পর্শে অমরনাথজির পূত-পবিত্র প্রসাদ অমরত্ব লাভ করছে। এত বিপুল বৈভবা সম্প্রীতির মিলন-মেলা সারা বিশ্বে আর একটিও নেই। দু’-চারটে উটকো জঙ্গির সাধ্য কি শতাব্দী-প্রাচীন সৌভ্রাতৃত্ব-সম্প্রীতির অমলিন ঐতিহ্যের সেই অমরাবতীতে সিঁধ কাটার?
 ছবি: লেখক
23rd  July, 2017
বন্দেমাতরম 
রজত চক্রবর্তী

জাতীয় পতাকাটা আজও হাতে ধরে হেঁটে চলেছেন মাতঙ্গিনী হাজরা। উচ্চশির। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, প্রফুল্লনলিনী ব্রহ্ম, কল্পনা দত্ত... নারীশক্তির এক অদম্য জাগরণ দেখেছিল পরাধীন ভারত। মায়েরা, বোনেরা পথে নেমে-না নেমে অংশ নিয়েছিলেন বিপ্লবে। তবু এমনই দুই সংগ্রামী শান্তি ঘোষ, সুনীতি চৌধুরির জন্মশতবর্ষ চলে গেল নীরবে...।
বিশদ

13th  August, 2017
 কৃপণ সমাচার!

 কৃপণ কত প্রকার ও কী কী? এমন রচনা ছেলেবেলায় লিখতে না হলেও এ ব্যাপারে জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার ঝুলি প্রায় সবারই পূর্ণ। কেউ কেউ আবার কৃপণ শব্দটির বদলে হিসাবি বা মিতব্যয়ী ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করেন। যদিও তাতে কৃপণদের নিয়ে সমাচারে কোনও দিন, কোনও যুগেই ঘাটতি হয় না।
বিশদ

06th  August, 2017
আলিপুর জেলের অন্তরালে

 আলিপুর সেন্ট্রাল জেল। কানাইলাল দত্ত, সত্যেন বসু, দীনেশ গুপ্ত... একের পর এক বিপ্লবীকে ফাঁসির দড়ি বরণ করতে হয়েছে এখানে। শত অত্যাচার সত্ত্বেও যেখানে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছেন লৌহকপাটের আড়ালে থাকা বিপ্লবীরা। ভয় না ধরিয়ে সঙ্গীর মৃত্যু সাহস জুগিয়েছে তঁাদের। সেলুলার জেল হেরিটেজের মর্যাদা পেলেও আলিপুর পায়নি। সেখানে আজও কুঠুরির কোণায় কোণায় শোনা যাবে বিপ্লবের বজ্রনির্ঘোষ।
বিশদ

30th  July, 2017
খবর শেষ

 আকাশবাণী... খবর পড়ছি...। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমল থেকে শুরু হওয়ার পর বঙ্গজীবনের অঙ্গ হিসাবে জড়িয়ে যাওয়া সেই অভ্যাস হাতছাড়া হয়েছে বহুযুগ আগেই। টিভি, ইন্টারনেট, ফেসবুকের জমানায় যা আজ প্রায় গতজন্মের স্মৃতি বলে মনে হয়। কিন্তু একটা সময় এই তো ছিল বাইরের জানালায় চোখ রাখার জন্য মানুষের একমাত্র দূরবীন! সেই ইভা নাগ, নীলিমা সান্যাল, দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্রেকডাউন, ভুল খবর...। সে এখন নস্টালজিয়া। আজ দিল্লির বেতার খবর যে সত্যিই শেষ!
বিশদ

16th  July, 2017
 বৃষ্টিভেজা

 গ্রীষ্মকালীন এই বঙ্গে বর্ষার আগমন যেন ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার মতো। আকাশকে মুখ ভার করে ঝরে পড়তে দেখলেই মন আনচান করে খিচুড়ি, ইলিশ মাছের জন্য। ঘণ্টাখানেকের বর্ষণে তিলোত্তমা এক হাঁটু জল উপহার দিলেও তা ঠেলে বাড়ি ফেরাই আলাদা আনন্দ। আর গুনগুন করে ওঠা বিশ্বকবির সৃষ্টি। মনে পড়ে যাওয়া অপু-দুর্গার বৃষ্টি ভেজা। কিংবা স্কুলের সেই রেনি ডে। এ ঋতু তাই যে আলাদা আলাদা অনুভূতির এক সম্পৃক্ত দ্রবণ। বিশদ

09th  July, 2017
চিকিৎসা রঙ্গ 

কল্যাণ বসু: ‘পাসকরা ডাক্তার নই, কিন্তু তাতে কি? বাড়ি বসিয়া বই পড়িয়া কি আর ডাক্তারী শেখা যায় না? আজ সাত আট বছর তো ডাক্তারী করিতেছি, অভিজ্ঞতা বলিয়া একটা জিনিসও তো আছে! পাসকরা ডাক্তারের হাতে কি আর রোগী মরে না?’ এইটুকু পড়ে কী মালুম হচ্ছে?
বিশদ

02nd  July, 2017
 বাঙালির রথযাত্রা

হারাধন চৌধুরী: বাঙালি এক আমুদে জাতি। আনন্দের জন্য পরব খুঁজে নিতে বাঙালির জুড়ি মেলা ভার। বাঙালির কাছে দেবতারা কঠিন কঠোর কিছু নন। দেবতারাই হলেন সবচেয়ে আপন বা অতি প্রিয় কেউ, যাঁকে আঁকড়ে ধরে থাকতে না পারলে বাঙালির সব আনন্দ, সব সুখানুভূতি যেন মাটি হয়ে যায়। অতএব একজন না একজন দেবতাকে সামনে রেখেই পার্বণ সাজিয়ে নেয় তারা। সেই থেকেই ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’ কথাটি এসেছে। ‘তেরো’ কথাটি ‘বহু’ অর্থেই প্রযোজ্য হয়। সংস্কৃতি সম্পর্কে এমন যাদের উপলব্ধি, রথযাত্রার মতো একটি পার্বণ বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে তাদের মাতিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। রথযাত্রার মধ্যে মাটি বা ভূমির টানই খুঁজে পায় বাঙালি। বিশদ

25th  June, 2017
দেশভাগের ৭০

সমৃদ্ধ দত্ত: ৭০ বছর আগে কয়েকজন দেশি-বিদেশি প্রতিনিধি ঠিক করে ফেলেছিল ভারতকে ভাগ হতেই হবে। ৭০ বছর আগে এমনই একটা জুন মাসে অবিভক্ত বঙ্গ বিধানসভার শেষ অধিবেশনে বাংলা আর বাঙালির নতুন পথ চলার সূচনা। চিরবিচ্ছেদের বেদনা নিয়ে। সেই ২০ জুন।
লর্ড মাউন্টব্যাটেন নিজের ইমেজ সম্পর্কে এতটাই সচেতন ছিলেন যে, ১৯৪৭ সালের ২২ মার্চ ভারতের ভাইসরয় পদে এসেই সরকারি এবং প্রেস ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি নির্দেশ জারি করে দেন।
বিশদ

18th  June, 2017
রাষ্ট্রপতি ভবনে 

প্রবালকুমার বসু: রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁরই অতিথি হয়ে কাটিয়ে আসা দু’সপ্তাহ। রাজধানীর যানজট, দূষণের বাইরে হঠাৎ এসে পড়া যেন এক অন্য জগতে। মুঘল গার্ডেনসে ফুলের মাঝে কেটে যাওয়া সময়, কিংবা প্রতিটা পাথরে নতুন করে খুঁজে পাওয়া ইতিহাস।
বিশদ

11th  June, 2017
ভূস্বর্গ ভয়ংকর

আজাদ কাশ্মীর। এই অবস্থানেই অনড় ছিলেন মহারাজা হরি সিং। পাকিস্তানের একের পর এক ষড়যন্ত্রে নেহরুর সাহায্য নিতে তিনি বাধ্য হয়েছিলেন। কাশ্মীর জুড়েছিল ভারতের মানচিত্রে। কিন্তু পিছন থেকে ছুরি মারে আমেরিকা, ব্রিটেন। এবং পাকিস্তান। যে ইন্ধন বজায় রেখেছে ইসলামাবাদ। ফল? অশান্ত ভূস্বর্গ...।
বিশদ

04th  June, 2017
খাতা দেখা 

বসন্ত কড়া নাড়লেই বুঝতে হবে মা-উমা খুব দূরে নেই। অর্থাৎ মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক। ভাবা যায়, একটা রাজ্যে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ লক্ষের বেশি? আর এই দুই পরীক্ষা শেষ হতেই রাজ্যের আনাচে কানাচে হাজার হাজার স্কুল টিচারের গৃহকোণে শুরু হয়ে যায় কুটির শিল্প—খাতা দেখা।
বিশদ

28th  May, 2017



একনজরে
 ওয়াশিংটন, ১৬ এপ্রিল: এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থ দানের কথা ঘোষণা করলেন মাইক্রোসফট করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। নিজের মোট সম্পদের ৫ শতাংশ দান করলেন ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সম্প্রতি দুর্গাপুর পুরসভা নির্বাচনে নিরাপত্তার প্রশাসনিক আশ্বাস সত্ত্বেও ব্যাপক হাঙ্গামা হয়েছে। ভোট লুট হয়েছে। পুলিশ মার খেয়েছে। নির্বাচন কমিশন ভোট চলাকালীন অভিযোগ জানানোর রাস্তা বন্ধ রেখেছিল। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত পাঁচ বছরে বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৮৫ পয়সা বেড়েছে বলে বিধানসভায় বিবৃতি দিলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বুধবার বিধানসভায় প্রথমে বিদ্যুতের দাম ...

 বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বিষ্ণুপুরের সারদা গার্ডেনে সুদীপ্ত সেনের কয়েকশো বিঘা বেনামি সম্পত্তি হাতানোর সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে মুখ খোলার জেরে আক্রান্ত হয়েছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক অফিসার। কলেজ পড়ুয়া তাঁর ছেলেকেও মারধর করা হয়েছে। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

সঠিক বন্ধু নির্বাচন আবশ্যক। কর্মরতদের ক্ষেত্রে শুভ। বদলির কোনও সম্ভাবনা এই মুহূর্তে নেই। শেয়ার বা ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩২: ব্রিটিশ সাহিত্যিক ভি এস নাইপলের জন্ম
১৯৮৮: দুর্ঘটনায় মৃত পাক প্রেসিডেন্ট মহম্মদ জিয়া-উল-হক
২০০৮: ওলিম্পিকসে আটটি সোনা জিতে রেকর্ড মার্কিন সাঁতারু মাইকেল ফেল্পসের


ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৪৫ টাকা ৬৫.১৩ টাকা
পাউন্ড ৮১.৩৭ টাকা ৮৪.১৮ টাকা
ইউরো ৭৪.০৮ টাকা ৭৬.৬৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,১৭০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৬৭৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,০৯০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩২ শ্রাবণ, ১৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার, দশমী দিবা ১২/৪৩, মৃগশিরানক্ষত্র রাত্রি ১০/৫৯, সূ উ ৫/১৭/৫১, অ ৬/৩/৩৯, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৮-৩/৩, বারবেলা ২/৫২-অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৪১-১/৫।
 ৩১ শ্রাবণ, ১৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার, দশমী ১০/৫৫/৫২, মৃগশিরানক্ষত্র রাত্রি ১০/২৩/৫৭, সূ উ ৫/১৫/৩৩, অ ৬/৫/২৫, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৭/৩০-৩/১/৩১, বারবেলা ৪/২৯/১১-৬/৫/২৫, কালবেলা ২/৫২/৫৭-৪/২৯/১১, কালরাত্রি ১১/৪০/২৯-১/৪/১৫।
২৪ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
  খানাকুলে বৃষ্টির জমা জল নামতেই উদ্ধার কঙ্কাল, চাঞ্চল্য
আরামবাগের খানাকুলের সবলসিংহপুর এলাকায় বৃষ্টির জমা জল নামতেই এক অপরিচিত মহিলার কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

05:44:00 PM

এবার চড়াম চড়াম করে জয়ঢাক বাজবে পঞ্চায়েতেও: অনুব্রত

 আজ নলহাটিতে ১নং ওয়ার্ড ও ৮ নং ওয়ার্ডে তৃণমূলের পরাজয়ের পর, হারের কারণ অনুসন্ধান করতে এসে অনুব্রত মন্ডল মৎসমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা ও পরিকল্পনা তদারকি ও পরিসংখ্যান দপ্তরের মন্ত্রী আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ আরও দুই তৃণমূল নেতার দায়িত্ব পালনে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ওঁদের উপর পুরো দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়াটা ভুল হয়েছলি, ওঁদের এতটা বিশ্বাস করাটাও ভুল হয়েছিল। এবার থেকে সব বিষয়টা তিনি নি঩জেই দেখবেন বলেও জানান। পাশাপাশি এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে পঞ্চায়েত দখলের ডাকও দেন অনুব্রতবাবু। তিনি বলেন, এবার পঞ্চায়েতও চড়াম চড়াম করে জয়ঢাক বাজবে।

05:20:10 PM

এই জয় মানুষের জয়: মুখ্যমন্ত্রীর

 মানুষের জয়, যারা তৃতীয় ও চতুর্থ হওয়ার জন্য লম্ফ-ঝম্ফ করেছিল, আমি দেখলাম তারা ০.১% ভোট পেয়েছে। মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আজ ৭ পুরসভা জয়ের পর এভাবেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

05:13:08 PM

উত্তরবঙ্গে দুর্গতদের উদ্ধারে ন্যায্যমূল্যে বিমান সংখ্যা বাড়ানোর আর্জি কেন্দ্রকে

 যেহেতু উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, সেই সুযোগে বেশিরভাগ বিমান সংস্থা তাদের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিব কেন্দ্রকে এই দুর্যোগের সময় দুর্গতদের উদ্ধারে ন্যায্য মূল্যে বিমানের সংখ্যা বাড়াতে অনুরোধ জানিয়েছে।

05:06:00 PM

মদন তামাং হত্যা মামালা: গুরুংকে অব্যহতি

 মদন তামাং হত্যা মামলায় বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে কোনও তথ্য প্রমানাদি না মেলায় তাঁকে এই মামলা থেকে অব্যহতি দিল বিশেষ আদালত

05:02:00 PM

 দুর্গাপুরে পুরভোটে তৃণমূল ৭৬.২৬%, বামফ্রন্ট ১২.৩%, বিজেপি ৭.৮৯%, কংগ্রেস ২.৫৩% এবং নির্দল ০.৯% ভোট পেয়েছে

04:39:00 PM