প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

খবর শেষ

আকাশবাণী... খবর পড়ছি...। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমল থেকে শুরু হওয়ার পর বঙ্গজীবনের অঙ্গ হিসাবে জড়িয়ে যাওয়া সেই অভ্যাস হাতছাড়া হয়েছে বহুযুগ আগেই। টিভি, ইন্টারনেট, ফেসবুকের জমানায় যা আজ প্রায় গতজন্মের স্মৃতি বলে মনে হয়। কিন্তু একটা সময় এই তো ছিল বাইরের জানালায় চোখ রাখার জন্য মানুষের একমাত্র দূরবীন! সেই ইভা নাগ, নীলিমা সান্যাল, দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্রেকডাউন, ভুল খবর...। সে এখন নস্টালজিয়া। আজ দিল্লির বেতার খবর যে সত্যিই শেষ!

 সমৃদ্ধ দত্ত: হঠাৎ একটা সাদা অ্যাম্বাসাডর গাড়ি ঢুকছে। এবং বেশ জোরেই। সামনে শুধু একটা মোটরসাইকেল। ততক্ষণে বাংলা ইউনিটের ডিউটি শেষ। সন্ধ্যা সাতটা পঁয়ত্রিশের খবর শেষ হয়ে গিয়েছে। টুকিটাকি কাজ তাও রয়ে যায়। সেগুলি সেরে সকলেই একসঙ্গে এবার বাড়ি ফেরা। ১৯৬২ সালের একটি সন্ধ্যা। অল ইন্ডিয়া রেডিওর দিল্লি সদর দপ্তরের মূল ভবনের প্রবেশপথে পোর্টিকোতে দাঁড়িয়ে আছেন বাংলা নিউজ ডিভিশনের কর্মীরা। স্টাফ কারের জন্য। সেই গাড়ি এলে সকলেই উঠে পড়বেন। প্রত্যেককে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে আসা হবে। বাংলা ইউনিটের ইভা নাগ, বিজন বোস, বিভূতি দাস একাই নন। অপেক্ষায় ছিলেন উড়িষ্যা আর অসমীয়া বিভাগের দুই কর্মীও। প্রত্যেকের মুখেই একটি অঘোষিত বিষাদ রয়েছে। প্রায় সক঩লেই যেন সামান্য অন্যমনস্ক। কথা বলছেন না। থমথমে একটা পরিবেশ গোটা দিল্লিতেই। এমনকী সারা দেশেই। কারণ আজ বিকালেই নর্থ ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার এরিয়ার দু’টি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল চীন দখল করে নিয়েছে। সেলা এবং বমডিলা। যুদ্ধে ভারত দাঁড়াতেই পারছে না। একপ্রকার রুদ্ধশ্বাস অবস্থা। কী হবে এরপর? যে কোনও যুদ্ধে সর্বাগ্রে সরকারি প্রচার মাধ্যম দখল অথবা ধ্বংস করে শত্রুপক্ষ। অর্থাৎ বেতারকেন্দ্র। সুতরাং আকাশবাণীর এই রিজিওনাল ঩নিউজ ডিভিশনের কর্মীরা যে চরম আতঙ্কগ্রস্ত হবেন, সেটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। গাড়ি আসছে না কেন? ইভা নাগ বিরক্ত। তাঁকে আগামীকাল সকালে আবার ডিউটিতে আসতে হবে। ভোর ৫টায় বেরনো। ৭টা ২৫-এ খবর পড়া। রাতে একটু আগে বাড়ি না পৌঁছালে চলবে কেন? ঠিক তখনই সেই সাদা অ্যাম্বাসাডর। কে গাড়িতে এই অসময়ে? মোটরসাইকেল আরোহী দিল্লি পুলিশের অফিসার। নেমেই বললেন, পিএম এসেছেন...! পিএম? মানে পন্ডিতজি? জওরলাল নেহরু? এরকম বিনা নোটিসে? তাও আবার কোনও হুটারের সাইরেন নেই, মাত্র একটি মোটরসাইকেল এসকর্ট নিয়ে? কিন্তু কেন? এসব প্রশ্ন হুড়মুড়িয়ে মনে এলেও প্রধানমন্ত্রীকে দরজা খুলে স্বাগত জানানোর কথা কারও মনেই আসছে না। কারণ সবথেকে বড় বিপর্যয় হল, আকাশবাণীর স্টেশন ডিরেক্টর অফিসে নেই। এমনকী অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরও গরহাজির। ডিউটি অফিসার এবং প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভরা ভয়ে প্রায় ছোটাছুটি করছেন। হাল ধরলেন অতএব বাংলা নিউজ ডিভিশন। পন্ডিতজি নেমে বললেন, আমি বেতার ভাষণ দেব! ব্যবস্থা করুন। কিন্তু সকলে চমকে উঠলেন। এ কোন নেহরু! প্রাণবন্ত সেই মানুষটি উধাও। যিনি আকাশবাণীতে এলে লিফট ব্যবহার করতেন না। সিঁড়িতে তরতর করে উঠে যেতেন। অনেক সময় তরুণের মতো কয়েকটি সিঁড়ি জাম্প করে। এটাই তাঁর চেনা ম্যানারিজম। সদা প্রসন্নতার আভাস থাকা চোখে আজ কালিমা। ক্লান্ত কণ্ঠস্বর। দ্রুত খবর পাঠানো হল। এসে গেলেন স্টেশন ডিরেক্টর। প্রধানমন্ত্রীর আচমকা বেতার ভাষণ মানে সব প্রোগ্রাম বাতিল করতে হবে। সে এক মহা সংকট। সেদিন ঘোষকের দায়িত্বে ছিলেন সীতাংশু ভাদুড়ি। জয়া ভাদুড়ির দাদা। তিনিই জরুবি ঘোষণাটি করলেন যে, প্রধানমন্ত্রী এখন বেতার ভাষণ দেবেন। ভিআইপি স্টুডিওর দিকে যেতে যেতে বারংবার প্রধানমন্ত্রী তাঁর দু’পাশে থাকা বাংলা বিভাগের কর্মীদের জিজ্ঞাসা করছেন, ‘অ্যাম আই লুকিং অল রাইট? ডু ইউ থিংক মাই ভয়েস ইজ ওকে?’ চেয়ারে বসে। দুই কনুই টেবিলে রেখে হাত থুতনিতে রেখে পন্ডিতজি যখন চীনের আক্রমণ এবং তৎপরবর্তী পরিস্থিতির কথা দেশবাসীকে জানাচ্ছেন, সত্যিই চোখে জল আনার মতো দৃশ্য। কারণ দৃশ্যত তাঁকে তখন পরাজিত সৈনিকের মতোই দেখাচ্ছে। দুই চোখ দিয়ে জল পড়ছিল। বারংবার কন্ঠ থেমে যাচ্ছে। বিপর্যয়ের কাহিনি শোনালেন চিরতরুণ সেই বৃদ্ধ। আকাশবাণীর কর্মীরা স্তব্ধ। কাঁদছিলেন ইভা নাগ।
১৯৬৫ সালের পাকিস্তানের সেবারজেট বিমান যখন রাতে দিল্লির মাথায় চলে এল, তখন টেবিলের তলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারাচ্ছন্ন বিল্ডিংয়ে লুকিয়ে থেকেছেন ইভা নাগ। স্টুডিও ছাড়েননি। আর স্টুডিওতে বুলেটিনের কাগজ হাতে সম্পূর্ণ একা স্পিকারের সামনে ঠায় বসে ছিলেন ডি বি। অর্থাৎ দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়। এতটাই অকুতোভয় এবং কর্তব্যনিষ্ঠ ছিলেন তাঁরা।
আকাশবাণী... খবর পড়ছি...। সন্ধ্যার এই ঘোষণাটি ছিল বাংলার মানুষের কাছে যেন ঘড়ির অ্যালার্ম! বোঝা যেত ৭টা ৩৫ বাজল। বাঙালির সেই আলোআঁধারি মধ্যবিত্ত সন্ধ্যাগুলোয় ইভা নাগ, নীলিমা সান্যাল, প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, অনিল চট্টোপাধ্যায়, রমা মুখোপাধ্যায়দের খবর পড়া কণ্ঠস্বরের সঙ্গে মিশে যেত পাড়ায় পাড়ায় গানের রেওয়াজ... মোর বীণা ওঠে কোন সুরে বাজি... মিশে যেত জানালা থেকে ভেসে আসা দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধের প্রাণপণ মুখস্থ প্রয়াস... মিশে যেত বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মীর পাঁচালি দোল পূর্ণিমা নিশি নির্মল আকাশ/ধীরে ধীরে বহিতেছে মলয় বাতাস...। সেই সব সন্ধ্যায় দিল্লির আকাশবাণী থেকে বাবা জেঠু আর কাকুদের জন্য খবর আসত, মোরারজি দেশাই পদত্যাগ করেছেন। আর কিশোর ও তরুণদের আনন্দ বাড়িয়ে কলকাতার আকাশবাণী থেকে দেবদুলালবাবু খবর দিতেন, ইস্ট বেঙ্গল উয়াড়িকে অথবা মোহন বাগান সালকিয়া ফ্রেন্ডসকে দুই শূন্য গোলে হারিয়ে দিয়েছে। সেই রবিবারগুলোয় রেডিওর ভাগাভাগি ছিল অবশ্যাম্ভাবী। দুপুরের খবরের জন্য রেডিওর দখল নিতেন বাবারা। দিদিরা শিখে নিতেন পূর্বা দাম কিংবা সুমিত্রা সেনরা কীভাবে উচ্চারণ করেন সখী ভালোবাসা করে কয়...। পাড়াজুড়ে পাঁঠার মাংসের গন্ধ মহোৎসবের সেইসব রবিবারের নিঝুম দুপুরে তারপর আবেগের দখল নিতেন অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃপ্তি মিত্র, জগন্নাথ বসু, শাঁওলি মিত্র, শুক্লা বন্দ্যোপাধ্যায়, গৌতম চক্রবর্তী, সৌমিত্র বসুদের অবিস্মরণীয় নাটকের জীবন্ত চরিত্র হয়ে। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতো। আবার আসতেন ঘরে ঘরে আকাশবাণী দিল্লির সেলেব্রেটি সংবাদ পাঠকরা। সেইসব রবিবার শেষ হয়ে যেত ছায়াছবির গানের শেষ নিবেদনটি দিয়ে... কী আশায় বাঁধি খেলাঘর..। সেই বাংলায় মানুষের সঙ্গে রেডিও জেগে উঠত। মানুষের সঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়ত। এই নিদ্রা আর জাগরেণের অনুষঙ্গ ছিল একটি সিগনেচার টিউন। বাঙালি জীবনের প্রথম ব্রেকিং নিউজের সূত্রধর ছিল, আকাশবাণী... খবর পড়ছি... বাক্যগুলি। ২০১৭ সালের ৮ জুলাই থেকে সেই ইতিহাসটি বন্ধ হয়ে গেল। দিল্লির খবর শেষ হল। চিরতরে।
রেডিও সংবাদের বৈপ্লবিক ভাবনাচিন্তা শুরু হয় আদতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে। মিত্রশক্তি বনাম অক্ষশক্তির লড়াইয়ের সবথেকে বড় অস্ত্র হয়ে দাঁড়ায় প্রোপাগান্ডা। আর জাতীয় বেতার ব্যবস্থার প্রধান হাতিয়ার হল নিউজ। তাই প্রথম আঞ্চলিক যে খবর পড়া শুরু হল, সেটি পুশতু। কারণ উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে ব্রিটিশদের প্রভাব বাড়ানো দরকার ছিল। মূলত এভাবে ১৯৪৩ সালের আশপাশে একে একে চালু হতে শুরু করে দেয় আঞ্চলিক ভাষার বিভাগ। কারণ শুধু ইংরেজি আর হিন্দুস্তানি ভাষা (তখন হিন্দি বলা হত না) দিয়ে প্রতিপক্ষের প্রচারকে মোকাবিলা করা যাবে না। মিত্রশক্তি যে প্রবল পরাক্রমে জিতে চলেছে, এই প্রচার দেশজুড়ে করতে হলে চাই আঞ্চলিক ভাষার নিউজ। তাই শুরু হল বাংলায় সংবাদ পাঠ। দিল্লির বাংলা নিউজ বিভাগকে জনপ্রিয়তার শিখরে নিয়ে যাওয়ার প্রধান পথিকৃৎ হলেন রাজেন সেন এবং বিজন বোস। প্রথমে কোনও নির্দিষ্ট সাংবাদিকদের পাঠানো সংবাদ লিখে বুলেটিন তৈরির মতো পরিকাঠামো ছিল না। তাহলে কী করা হত? সংবাদপত্রের কাটিং, সরকারের বিবৃতি থেকে টুকরো করে নিয়ে কাগজে লিখে কোনওমতে একটি নিউজ বুলেটিন পড়া হতো। বিজন বোস ছিলেন এককথায় সব্যসাচী। নিজেই নিউজ ঩লিখছেন। খবর আনছেন। খবর পড়ছেন। ধীরে ধীরে আকাশবাণীর বাংলা ইউনিটের আয়তন ও জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করলে একে একে যোগ দিলেন বিভূতি দাশ, অসিত দাশ (এঁরা ছিলেন দুই ভাই), সমর ঘোষ, নীরদ মুখোপাধ্যায়। এবং তারপর মহিলা সেলেব্রিটিদের আগমন হল বাংলা সংবাদ জগতে। যোগ দিলেন ইভা নাগ, গায়ত্রী মুখোপাধ্যায় এবং নীলিমা সান্যাল। নীলিমা সান্যাল ছিলেন কলকাতা বেতার কেন্দ্রের ঘোষিকা এবং নাটকের শিল্পী। কিছুদিনের মধ্যেই দিল্লির আকাশবাণী বাংলা বিভাগে এসে গেলেন দুই মহারথী। তাঁদের নাম দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সত্যেন মিত্র। আজকের প্রজন্ম এই নামের তালিকাটি দেখে ঠিক ঠাহর করতে পারবেন যে, এঁরা প্রত্যেকে বাঙালি জনমনে কী অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলেন। ওই যে একটু আগে সেলেব্রিটি শব্দটি ব্যবহার করলাম, ওটা মোটেই অতিশয়োক্তি নয়। একটু লঘু শোনালেও বলতে বাধ্য হচ্ছি এই সংবাদ পাঠক ও পাঠিকাদের নিছক কণ্ঠস্বর শুনেই প্রেমে পড়েছিলেন হাজার হাজার বাঙালি যুবক ও যুবতী। প্রমাণ দিত অসংখ্য চিঠি। তখন তো আর ফেসবুক অথবা মোবাইলের যুগ নয়। চিঠিই ভরসা। উত্তম কুমার-সুচিত্রা সেনদের মতোই হাজার হাজার ফ্যান মেল আসত এই দূরবর্তী দ্বীপভূমির রহস্যময় কণ্ঠস্বরগুলির কাছে। যা নিয়ে রীতিমতো হাসাহাসিও করতেন তাঁরা নিজেদের মধ্যে। পরবর্তীকালে যোগ দিয়েছিলেন সুব্রত নাগ, তপজা নন্দী, মনোজ গুপ্ত, কৃষ্ণধন রায়, আদিত্য সেন, আনন্দ রায়, মমতা চৌধুরির মতো আরও অনেকেই। খুব অল্প সময়ের জন্য এসেছিলেন তরুণ চক্রবর্তীও। আসলে বাংলা নিউজ ইউনিটের নিউজ রিডাররাই ছিলেন সবথেকে জনপ্রিয়। কিন্তু অবশ্যই বাকিদের অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রেডিও মানেই টিমওয়ার্ক। যেখানে সময়ের একেবারে দাসানুদাস হতেই হবে।
প্রথমেই বুঝে নিতে হবে সংবাদ পাঠের নেপথ্যটি ঠিক কী। সারাদিনে তিনটি বুলেটিন। সকাল, দুপুর এবং সন্ধ্যা। শুরুর দিনগুলি থেকে দীর্ঘকাল ধরে খবর ছিল ১৫ মিনিটের। পরে সেটি কমে আসে ১০ মিনিটের সময়সীমায়। দিল্লি যেহেতু সদর দপ্তর। অতএব গোটা দেশের সব প্রধান ভাষার জন্য নিউজ বিভাগ। অথচ এতগুলি তো আর স্টুডিও নেই! তাহলে উপায়? সব রাজ্যের আঞ্চলিক সংবাদ পাঠ একসঙ্গে হতো না। যেমন বাংলা ইউনিটের সঙ্গে ছিল কাশ্মীর ডিভিশন। ৩৭ নং স্টুডিও। স্টুডিও মানে একটি ছোট্ট ঘর। টেবিল। স্পিকার। ঠিক সামনেই ঘড়ি। গ্রিনউইচের সঙ্গে মেলানো। আর হাতের কাছে একটি বস্তু। যার নাম ফেডার। সেটি ছাড়া নিউজ রিডার কিন্তু সম্পূর্ণ অসহায়। কারণ ফেডারের মধ্যেই আছে স্পিকারে কণ্ঠস্বর যাওয়ার চাবিকাঠি। ফেডার অফ করে দেওয়া মানে আর কথা বললেও সেটি সম্প্রচারিত হবে না। কেন দরকার হয় ফেডার? কারণ যিনি খবর পাঠ করছেন, তাঁর তো যে কোনও সময় হাঁচি বা কাশি আসতে পারে! তখন কী খবর পড়তে পড়তে হেঁচে ফেলবেন? নাকি খকখক করে কাশবেন? সেটা তো চরম অস্বস্তিকর। অতএব তখন বাঁচায় এই ফেডার। চট করে অফ করে দেওয়া যায়। নিয়ম হল একজন সংবাদ পাঠ করবেন, আর অন্য কেউ পাশেই দাঁড়িয়ে থাকবেন। তাঁর নাম স্ট্যান্ডবাই। কারণ নিউজ রিডারের কখন সমস্যা হয় অথবা কোনও আচমকা সংবাদ চলে এল, সেটিকে পড়তেই হবে, অথচ লিখিত বুলেটিনে হয়তো সেটি নেই। তাহলে উপায়? তখন ওই স্ট্যান্ডবাই কর্মী সেই খবরটি পেয়েই চট করে সেখানেই অনুবাদ করে দেবেন। আর পরমুহূর্তে সংবাদ যিনি পড়ছেন তিনি বলবেন, এইমাত্র খবর পাওয়া গেল...। একে বলা হয় ফ্ল্যাশ। সোজা কথায় আজকের ব্রেকিং নিউজ।
প্রত্যেক নিউজ বিভাগের কাজ ছিল আগে সিএনও থেকে আসা ইংরেজিতে লেখা সংবাদগুলিকে বাংলায় অনুবাদ করে নিতে হয়। এভাবেই একটি খবর শেষ হয়ে গেল ঠিক ১০ মিনিটের মাথায় কন্ট্রোল রুম থেকে আলো জ্বলে ওঠে। ক্লোজিং অ্যানাউন্সমেন্ট। তাহলে কি হাতে লেখা কাগজে সেই সংবাদের জন্য যা যা লিখে আনা হয়েছিল, সবই ওই নির্দিষ্ট ১০ মিনিটে পড়া হয়ে যেত? না। সেটি সর্বদা সম্ভব হত না। রয়ে যেত কিছু সংবাদ। সেগুলিকে পরিভাষায় বলা হয় ক্রাউডেড ওভার (সিও)। অর্থাৎ বাকি রয়ে গেল। সেগুলির ভবিতব্য হল পরবর্তী নিউজে ধরিয়ে দেওয়া। আকাশবাণী আজ মনে রেখেছে যে, সবথেকে দ্রুত সংবাদ পাঠ করতেন নীলিমা সান্যাল। তাঁর সংবাদ পাঠ মানেই হল সেদিন একসঙ্গে অনেক সংবাদ ধরিয়ে দেওয়া যাবে। আর ছিলেন অসম্ভব স্মার্ট।
ইন্দিরা গান্ধীর সবথেকে বড় গুণ হল, তিনি অসামান্য প্রশাসক ছিলেন। কারণ সুপ্রশাসকের সবথেকে বড় বৈশিষ্ট্য হল মোটিভেট করতে পারা। তাঁর সেই অনুপ্রেরণা দেওয়ার ক্ষমতাটি ঈশ্বরদত্ত। ১৯৭১ সালের বাংলা বিভাগের কাছে এক প্রকৃত যুদ্ধক্ষেত্র জয় করার অভিজ্ঞতা। মিটিং ডেকেছেন ইন্দিরা গান্ধী। বলছেন, ‘শুনুন,আমাদের আর্মি লড়াই করবে ময়দানে। আর আপনারা লড়াই করবেন এই অল ইন্ডিয়া রেডিওর চৌহদ্দিতে। আপনাদের লড়াইটা কোনও অংশে কম নয়। আমি প্রচণ্ড এক ঝুঁকি নিয়েছি। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র গঠিত হলে মানবতার জয় হবে। আর পাকিস্তান শিক্ষা পাবে। সবথেকে বড় কথা ভারতকে সমীহ করবে গোটা বিশ্ব। তাই প্রচারকে নিয়ে যেতে হবে তুঙ্গে। সব আপনাদের বাংলার হাতে। কারণ গোটা পূর্ব পাকিস্তান আপনাদের কথাই শুনতে উদগ্রীব। আপনারাই আজ ভারত তাঁদের কাছে।’ ব্যাস! এই একটি ভাষণেই দিল্লি ও কলকাতার বাংলা বিভাগ রীতিমতো যুদ্ধে নেমে পড়ল। তৈরি হয়ে গেল একটি বহির্বিভাগ পরিষেবা। শুধুই বাংলাদেশি সার্ভিস। সাতটি বুলেটিন, সংবাদ পরিক্রমা, সংস্কৃতির প্রচার সবই। রমা মুখোপাধ্যায় প্রধানত ওই বিভাগটির সংবাদ পরিক্রমা বা বুলেটিনগুলি লেখার দায়িত্বে ছিলেন। সংবাদ পাঠও করতেন তিনিই। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের রেডিও অফিস ছিল একটি অঘোষিত ওয়ার রুম। এখানে সেই জেনারেল মানেকশ পাকিস্তানকে রীতিমতো হুমকি দিয়ে ঘোষণা করেছিলেন, ‘এখনও বলছি আত্মসমর্পণ করুন... এরপর আমাদের কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করবেন না...।’ বস্তুত সেই আবেদনে কাজ না হলে ভারতীয় সেনা লাহোর দখলের পরিকল্পনা করে ফেলেছিল। কিন্তু পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করে। টানা ৫ বছর চলেছিল সেই বিশেষ বাংলা বিভাগটি। তারপর বন্ধ হয়ে গেল।
সবথেকে মারাত্মক অপরাধের নাম কী? ব্রেকডাউন। অর্থাৎ যে কোনও কারণে রেডিওর নির্ধারিত অনুষ্ঠানটি প্রচার করা সম্ভব না হওয়া এবং তার পরিবর্তে বাধ্য হয়ে রেডিওর সিগনেচার টিউনটি বাজানো। সবথেকে মজাদার দিলদিরয়া মানুষটির নাম ছিল প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। সবথেকে বড় কথা, কোনও টেনশন নামের বস্তু ছিল না। ইভা নাগ, নীলিমা সান্যালরা তখন রীতিমতো সেলেব্রিটি। তাঁরাও অত্যন্ত সতর্ক ও ভুলভ্রান্তির আশঙ্কা নিয়েই খবর পড়তেন। প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সে সবের বালাই ছিল না। একবার তো তাঁর নিউজ পড়ার কথা। খবর শুরুর সংকেত দেওয়া হয়েছে। সকলেই জানে খবর চলছে। কিন্তু আচমকা দড়াম করে স্টুডিওর দরজা খুলে প্রশান্তবাবু দৌড়ে নিউজ রুমে। টেবিলে থাকা কিছু কাগজ হাতে নিয়ে আবার ছুট। কী ব্যাপার? ততক্ষণে বাইরে হট্টগোল। কন্ট্রোল ইঞ্জিনিয়ার মাথায় হাত দিয়ে বলছেন, ১২ নং স্টুডিও থেকে কোনও আওয়াজ নেই। পিওন হন্তদন্ত হয়ে বললেন, সাব স্টুডিওমে নেহি হ্যায়! বলে কী? দ্রুত স্টুডিওয় গিয়ে দেখা গেল প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বিঘ্নচিত্তে খবর পড়ে চলেছেন। কোনও টেনশনের লেশমাত্র নেই। পরে ক্লোজিং অ্যানাউন্সমেন্টের পর জানা গেল দু’মিনিট ব্রেকডাউন। সিগনেচার টিউন বাজাতে হয়েছে। কেন? প্রশান্তবাবু বললেন, মালয়ালি ইউনিটের গোবিন্দের সঙ্গে গল্প করতে করতে বুলেটিনটা নিতে ভুলে গিয়েছিলাম। ম্যানেজ করে দিয়েছি। সেটা তিনি পারতেনও। সকলেরই প্রিয়পাত্র ছিলেন। এবং শ্রোতাদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এক কণ্ঠস্বর। যে কোনও সমস্যার উৎপত্তি হলে তিনি ছিলেন মুশকিল আসান। অর্থাৎ কেউ আচমকা আসেনি। প্রশান্তবাবু অনায়াসে সেই খবরে চোখ বুলিয়ে পড়ে দেবেন।
এই ব্রেকডাউনকে পরাজিত করা নিয়ে রমা মুখোপাধ্যায়ের একটি মজার কাহিনি আছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী বেতারে ভাষণ দিলেন। প্রথম ভাষণ। রাত আটটায়। ১৯৮৫ সালের ৩ জানুয়ারি। ততক্ষণে তো দিল্লি থেকে প্রচারিত বাংলা সংবাদ শেষ। কারণ ৭টা ৪৫ হল শেষ সংবাদ। অতএব রাজীব গান্ধীর ভাষণের সংবাদের মুখ্য অংশগুলি পরদিন সকালের বুলেটিনে পড়া হবে। রমা মুখোপাধ্যায় দিল্লির কনকনে ঠান্ডায় ঘুমাচ্ছেন। তাঁর ডিউটি নেই। হঠাৎ ভোর ৬টা ১০ মিনিটে ডোরবেলের আওয়াজ। কী ব্যাপার? আকাশবাণীর ড্রাইভার। আপনাকে যেতে হবে। রমাদেবী বিস্মিত। বললেন, ‘আমার ডিউটি নেই। আমি কেন যাব। আজ তো ইভাদির ডিউটি!’ ড্রাইভারের জবাব, সে কিছু জানে না। তাঁকে বলা হয়েছে রমাদিকে তুলে আনতে। সর্বনাশ। তার মানে ইভাদি আসেননি? যেখানে নিউজ রুমে ঢুকতেই হবে সাড়ে ৫টায়, সেখানে তখনই বাজে সওয়া ৬টা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রমাদেবী তৈরি হয়ে নামলেন। আর শীতের অন্ধকার কুয়াশাঘেরা দিল্লিতে ঝড়ের মতো গাড়ি ছুটছে। ৬টা ৫০-এ আকাশবাণী। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বলে কথা। এ তো আর যেমন তেমন করে পড়লেই হবে না! চরম টেনশনে বাংলা বিভাগ। দেখা গেল কাশ্মীরি নিউজের কর্মীরাও রাস্তায় নেমে এসেছেন। টেনশন তাঁদেরও। কারণ বাংলার পরই তো তাঁদের বুলেটিন। বাংলার নিউজ যদি দেরি করিয়ে দেয়, তাদের নিউজও দেরি হয়ে যাবে। আর প্রতিটি ক্ষেত্রেই কৈফিয়ৎ দিতে হবে। যার কালান্তক নাম মেমো ইস্যু হওয়া। কিন্তু ঠান্ডা মাথায় রমাদেবী মাত্র ১০ থেকে মিনিটের মধ্যে গোটা বুলেটিন ডিকটেশন দিয়ে একটি নবাগতা মেয়েকে লিখতে বললেন। এবং নির্দিষ্ট সময়ে পড়া শেষ হল। জানা গেল, ইভা নাগ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে আসতে পারেননি। কোনওমতে সেদিন ব্রেকডাউন বাঁচানো গেল।
আর ভুল খবর? সে এক মহা হাঙ্গামার কাহিনি। ১৯৭৯ সালের মার্চ। বাজেট অধিবেশন চলছে। প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই হন্তদন্ত হয়ে লোকসভায় ঢুকে একটি চিরকুট লিখে দিলেন স্পিকার কে এস হেগড়েকে। সেটি পড়ে কয়েক মুহূর্ত স্তব্ধ স্পিকার। মোরারজির দিকে তাকিয়ে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী মাথা নিচু, বিমর্ষ। গোটা সভাকে বিষণ্ণ করে স্পিকার জানালেন, লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণের জীবনাবসান হয়েছে। প্রথামাফিক নীরবতা পালন হল। সভা মুলতুবি হয়ে গেল। রাজ্যসভাতেও তাই। দুপুর ১টা ১০ বাজে। স্বাভাবিকভাবেই যাকে বলে চূড়ান্ত ফ্ল্যাশ নিউজ। অতএব অল ইন্ডিয়া রেডিও প্রচার করে দিল। সব স্কুল ছুটি। পতাকা অর্ধনমিত। মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে বম্বের যশলোক হাসপাতাল থেকে জানা গেল, জয়প্রকাশ নারায়ণ দিব্যি জীবিত। তবে অবশ্যই আশঙ্কাজনক। ব্যাস! বাংলা ইউনিটের নিউজ রিডার অনিল চট্টোপাধ্যায় ভাবছেন চাকরিটি গেল বোধহয় ভুল খবরের জন্য। কিন্তু সংবাদ বিভাগের দোষ কী? স্বয়ং সংসদে ঘোষণা করা হয়েছে যখন? কিন্তু সেই ভুল খবরের পরিণামে সরকারের উচ্চপদে বহু রদবদল তো হলই। মোরারজি দেশাই ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। এবং আকাশবাণীর সব দায় নিলেন ডিরেক্টর অব নিউজ কে জি যোগলেকর। তাঁকেও শাস্তি পেতে হয়েছিল। যদিও আকাশবাণীর কী অপরাধ, তা বোঝা যায়নি।
সেই মধ্যবিত্ত উইকএন্ডগুলির বিনোদনের সূত্রপাত হত শুক্রবাত সন্ধ্যায়। আকাশবাণীর খবর দিয়ে। ছদ্ম প্রতিযোগিতা হত ভাইবোনদের মধ্যে আজ কে খবর পড়বেন, সেই ভবিষ্যৎবাণী নিয়ে। সেইসব শুক্রবারের গম্ভীর বাবারা যখন নীলিমা সান্যাল ইভা নাগেরা দিল্লি থেকে পাঠানো ইন্দিরা গান্ধীর চিকমাগালুর থেকে আবার জিতে আসার খবর শুনছেন, তখন মায়েরা এসে দাঁড়াতেন ভাড়াবাড়ির বারান্দায়। কামিনী ফুলের গন্ধ থাকত ভেজা বাতাসে। গ্রিলে হাত রেখে মায়েরা ভাবতেন কবে নিজেদের বাড়ি হবে, আর একটু বড় রান্নাঘর...। সমীক্ষা আর স্থানীয় সংবাদের পর মায়েরা ফিরতেন আনমনে ঘরে। বসতেন বাবাদের সামনে। লসাগু গসাগু অর্ধেক করে আসা ছেলেমেয়েরা উঠে বসতো খাটে। আর তারপর ঘোষণা হত আজকের নাটক, চন্দ্রগুপ্ত...।
এসব খণ্ডদৃশ্য কবে ঘটেছিল? আজকের বাঙালি বিনোদনের পূর্বজন্মে। যে পূর্বজন্মে খবরের ঠিক মাঝখানে বলা হত ‘খবর শুনছেন আকাশবাণী থেকে। ’ আর বলা হবে না। এবার সত্যিই খবর শেষ!
 গ্রাফিক্স: সোমনাথ পাল
 সহযোগিতায়: উজ্জ্বল দাস
16th  July, 2017
ইন্দিরা ১০০
প্রণব মুখোপাধ্যায়

ঐতিহাসিক এক সময়ের সন্ধিক্ষণে আজকের দিনে জন্মেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। ১০০ বছর আগে। প্রায় একই সময়ে ‘বলশেভিক’ আন্দোলনে কেঁপে উঠেছিল সারা পৃথিবী। ভারতও ঠিক ওই বছরই মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ণ উদ্যমে লড়াইয়ের জন্য তৈরি হয়। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের উদ্যোগে স্বাধীনতা সংগ্রামে ওতপ্রোতভাবে অংশ নিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধীর ঠাকুরদা এবং বাবা। সেই পরিবারেরই মেয়ে হয়ে জন্মান ইন্দিরা গান্ধী।
বিশদ

19th  November, 2017
শোনপুর মেলা
মৃন্ময় চন্দ

খ্রিস্টপূর্ব ৩৪০ থেকে ২৯৭। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য এসেছেন শোনপুরের মেলায়। সৈন্যবাহিনীর জন্য হাতি কিনবেন। পদব্রজে নাকি এসেছেন ফা-হিয়েন ও হিউয়েন সাং! এসেছেন গন্ধর্ব প্রধান হু হু ও পাণ্ডস্যের রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন। অভিসম্পাত-গ্রস্ত গজ-গ্রহ রূপী তাদের মরণপণ যুদ্ধে শোনপুরের হরিহরক্ষেত্রে আগমন ঘটেছে হরি এবং হরের। কালক্রমে শোনপুর মেলা হয়ে উঠেছে দেবক্ষেত্র। অতুলনীয়, ব্যতিক্রমী শোনপুর মেলার আছে কেবলই দারিদ্রের ঐশ্বর্য। সাধারণ মানুষ এই মেলার প্রতিভূ। এ মেলায় তাই সবাই রাজা। সকলে স্বাগত!
বিশদ

12th  November, 2017
’৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ৭৫ বছর 

অমর মিত্র: ক্রিপস মিশন ব্যর্থ হয়েছিল। সেখানে পূর্ণ স্বরাজের বার্তা ছিল না বলে। আর কংগ্রেস চেয়েছিল, গান্ধীজি চেয়েছিলেন স্বাধীন ভারত। যে কারণে ৭৫ বছর আগে শুরু হয় ইংরেজ ভারত ছাড়ো আন্দোলন। সেই গান্ধীজিরই নেতৃত্বে।  
বিশদ

05th  November, 2017
জগদ্ধাত্রী
নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

 জগদ্ধাত্রী ঠাকুরের রূপ-কল্পনা এবং পুজোবিধি থেকেই বোঝা যায় যে, জগদ্ধাত্রী পুজোর সৃষ্টিই হয়েছে দুর্গাপুজোর পরিপূরণী সমব্যথার কারণে। তবে হ্যাঁ, বিশেষত্ব একটা আছে এবং সেই বিশেষত্ব তাঁর নামেই লুকানো আছে।
বিশদ

29th  October, 2017
সাম্প্রতিক বাংলা থিয়েটার: কিছু কথা
ব্রাত্য বসু

থিয়েটারের অর্থনীতি আসলে দু’রকম। প্রথমটি হল দলের অর্থনীতি। দ্বিতীয়টি হল দলের সদস্যদের ব্যক্তিগত অর্থনীতি। দলের অর্থনীতি প্রধানত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। প্রথমত, সরকারি গ্রান্ট তথা অনুদান।
বিশদ

22nd  October, 2017
চিরদুঃখী অতুলপ্রসাদ সেন
প্রণব কুমার মিত্র

লখনউয়ের বিখ্যাত ব্যারিস্টার এ পি সেন সাহেব বা অতুলপ্রসাদ সেন কোর্টের পর গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির সদর দরজা পেরিয়ে সুন্দর সবুজ লনের এককোণে দেখলেন দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আর সেই আগুনে এক এক করে দামি দামি স্যুট, জামাকাপড় পোড়াচ্ছেন তাঁরই সহধর্মিণী হেমকুসুম। কয়েকদিন দু’জনের অশান্তি চলছিল।
বিশদ

22nd  October, 2017
আতশবাজির ইতিকথা
বারিদবরণ ঘোষ

আকাশের গায়ে বারুদের গন্ধটা কালীপুজোর মরশুমে খুব চেনা। তা সে কাঠকয়লার সঙ্গে সোরা মেশানো হলদে আলো হোক কিংবা বুড়িমার চকোলেট। আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহকারীদের হাত ধরে আতশবাজির সৃষ্টি। যা আজও আনন্দ দিয়ে চলেছে মানবমননকে। বিশদ

15th  October, 2017
বিজয়া স ম্মি ল নী 

‘মা’কে তাড়ানোর কোনও তাড়া যে তখন ছিল না! ছিল না মোবাইলে মজে শারদ মাধুর্যকেই উপেক্ষা করার বাতিক। রক্তের সম্পর্কের থেকে খুব কম যেতেন না পাড়ার দাদারা। সে যেন একটাই পরিবার। আর সেই পরিবারের সবে মিলে বিজয়া সম্মিলনী। কখনও মঞ্চে হাজির শ্যামলদা, কখনও বা মানবেন্দ্র। তাঁরাও যে কাছেরই মানুষ! নিছক ‘সাংসকিতিক সন্ধা’ নয়, বিসর্জনের বিষণ্ণতাকে সাক্ষী করে শারদ বাতাস যেন তখন বলত, শুভ বিজয়া। 
বিশদ

08th  October, 2017
সাত বাড়ি আর এক বারোয়ারি 

প্রফুল্ল রায়: তখনও দেশভাগ হয়নি। অখণ্ড বঙ্গের পূর্ব বাংলায় ঢাকা ডিস্ট্রিক্টের একটা বিশাল গ্রামে ছিল আমাদের আদি বাড়ি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম আমরা সেখানে কাটিয়েছি। পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ এবং শত জলধারায় বহমান আরও নদ-নদী, খাল-বিল, শস্যক্ষেত্র। অজস্র পাখপাখালি, আম জাম হিজল আর সুপারি বনের সারি, সব মিলিয়ে পূর্ববাংলা ছিল এক আশ্চর্য স্বপ্নের দেশ।
বিশদ

24th  September, 2017
অকাল বোধন 

নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি: ‘অকাল’ শব্দটির মধ্যে একটা অদ্ভুত এবং প্রায় বিপরীত ব্যঞ্জনা আছে। যেমন একটি কৈশোরগন্ধি যুবক ছেলেকে যদি বলি ‘অকালপক্ব’, তাহলে অবধারিতভাবে কথাটির মানে দাঁড়াবে যে, ছেলেটির যা বয়স এবং তদনুযায়ী যা তার বিদ্যাবুদ্ধি হওয়া উচিত কিংবা বয়স অনুযায়ী তার যা কথাবার্তার ধরন তৈরি হওয়া উচিত, তার চাইতে বেশি বয়সের বহু-অভিজ্ঞ মানুষের মতো সে কথা বলছে, বা তেমন ভাবসাব দেখাচ্ছে।
বিশদ

24th  September, 2017
বিশ্বকর্মা
সন্দীপন বিশ্বাস

তিনি দেবশিল্পী। দেবকুলের সকল কর্মের সাধক। রাবণের স্বর্ণলঙ্কা, শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকাপুরী, কিংবা হস্তিনাপুর—তঁার শিল্পছেঁায়ায় সব স্থাপত্যই পৌরাণিক উপাখ্যানে অমরত্ব লাভ করেছে। কখনও তিনি তৈরি করছেন হরধনু, কখনও বজ্র। যার সাহায্যে দুষ্টের দমন করেছেন দেবগণ।
বিশদ

17th  September, 2017
শিকাগো বিজয় ১২৫
তাপস বসু

১২৫ বছর আগে এক তরুণ সন্ন্যাসী সীমিত ক্ষমতা নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন সাগরপারে। শিকাগোর এক ধর্ম সম্মেলনে যদি পেশ করা যায় বৈদিক দর্শনের বিস্তারকে। শত বাধা পেরিয়ে মঞ্চে দঁাড়িয়ে আমেরিকার মানুষকে এক লহমায় করে ফেলেছিলেন ‘ভ্রাতা ও ভগিনী’। আজ ফিরে দেখা সেই স্বামী বিবেকানন্দকে। যঁার শিক্ষা আজও সমাজের ভিত্তিপ্রস্তর।
বিশদ

10th  September, 2017
 সেইসব শিক্ষক
কল্যাণ বসু

যখন আমরা ভাবি সব জেনে গিয়েছি, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকে আমাদের শেখা বন্ধ হয়ে যায়... বলেছিলেন সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ। যাঁর জন্মদিন পালিত হয় শিক্ষক দিবস হিসাবে। স্বনামধন্য বহু ব্যক্তির শিক্ষকরাও যে ছিলেন এমনই! কেউ প্রচারের আলোয় এসেছেন, কেউ আসেননি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। সবারই এমন মহান শিক্ষকদের সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল।
বিশদ

03rd  September, 2017
দুশো বছরের বাংলা কাগজ

 দিগদর্শন, বাঙ্গাল গেজেট ও সমাচার দর্পণের লেখনিতে ভর করে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার দ্বিশতবর্ষ পূর্ণ হচ্ছে। বাংলা খবরের কাগজ কখনও হয়ে উঠেছে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শক্তিকে নাস্তানাবুদ করার হাতিয়ার, কখনও অন্তর্জলি যাত্রার মতো সামাজিক রোগের মারণ ওষুধ, আবার কখনও পরিবর্তনের ঝড়। গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য, দাদাঠাকুরদের সাহসী কলমের সে ভার বহন করে এসেছেন সন্তোষকুমার ঘোষ, গৌরকিশোর ঘোষ এবং বরুণ সেনগুপ্তরা। ২০০ বছর পরও তাই বাংলা সংবাদপত্র একইরকম নবীন।
বিশদ

27th  August, 2017
একনজরে
সুকান্ত বেরা: সকালটা যদি হয় মহম্মদ সামির, তাহলে বিকেলের নায়ক অবশ্যই শিখর ধাওয়ান। তবুও রবিবাসরীয় ইডেনে ভারতীয় ক্রিকেটারদের সাফল্যের পাশাপাশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল দিলরুবান ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি, ১৯ নভেম্বর: দেরিতে হলেও শেষমেশ ঘুম ভাঙল দিল্লির আম আদমি পার্টির (আপ) সরকারের। দূষণ ইস্যুতে বারবার জাতীয় পরিবেশ আদালত (এনজিটি) এবং সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত গ্রিন বডি ইপিসিএ’র কাছ থেকে ধমক খেয়ে অবশেষে আজ দিল্লি সরকার ঘোষণা করল, ...

সংবাদদাতা, কান্দি: কান্দি মহকুমা এলাকায় অযত্নে শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে সবুজমালা প্রকল্পের বহু মূল্যবান গাছ। বছরখানেক আগে কান্দি মহকুমা এলাকার বিভিন্ন রাস্তার দু’পাশে ওই গাছগুলি লাগানো হয়েছিল। কিন্তু বছর পেরনোর আগেই অর্ধেক গাছ শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে যত্নের অভাবে। গাছের চারদিকের ...

কাবুল, ১৯ নভেম্বর (এপি): আফগানিস্তানের পশ্চিমে ফারা প্রদেশে পুলিশের একাধিক চেক পোস্টে হানা দিল তালিবান জঙ্গিরা। তালিবানের হানায় মৃত্যু হয়েছে ৬ জন পুলিশকর্মীর। শনিবার বিকালের ঘটনা। প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র নাসের মেহরি বলেন, জঙ্গিদের আটজনের একটি দল ওই হামলা চালিয়েছে। এই ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রেম-প্রণয়ে নতুনত্ব থাকবে। নতুন বন্ধু লাভ, ভ্রমণ ও মানসিক প্রফুল্লতা বজায় থাকবে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৫০- মহীশূরের শাসক টিপু সুলতানের জন্ম।
১৯১০- রুশ সাহিত্যিক লিও তলস্তয়ের মৃত্যু।
১৯১৭- কলকাতায় প্রতিষ্ঠা হল বোস রিসার্চ ইনস্টিটিউট।
১৯৫৫- নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের পক্ষে টেস্টে প্রথম দ্বিশতরান করলেন উমরিগড় (২২৩)।  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.০০ টাকা ৬৫.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৩২ টাকা ৮৭.১৯ টাকা
ইউরো ৭৫.২০ টাকা ৭৭.৮৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
18th  November, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,১৯৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৬৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
19th  November, 2017

দিন পঞ্জিকা

৪ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৯/৩৬, নক্ষত্র-জ্যেষ্ঠা রাত্রি ১২/৪৮, সূ উ ৫/৫৬/২৫, অ ৪/৪৮/৪, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৭/২৩ মধ্যে পুনঃ ৮/৫০ গতে ১১/০ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/২৬ গতে ১০/৬ মধ্যে পুনঃ ২/২৭ গতে ৩/১৯ মধ্যে, বারবেলা ঘ ৭/১৮ গতে ৮/৪০ মধ্যে পুনঃ ২/৫ গতে ৩/২৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৪ গতে ১১/২২ মধ্যে।
৩ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৭/৪২/২৮, জ্যেষ্ঠানক্ষত্র ১১/৫৫/৩৬, সূ উ ৫/৫৬/৫৮, অ ৪/৪৬/৫৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/২৩/৩৮, ৮/৫০/১৮-১১/০/১৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৪/৫৮-১০/৫৫/১৮, ২/২৫/৩৭-৩/১৮/১৮, বারবেলা ২/৪/২৮-৩/২৬/৪৩, কালবেলা ৭/১৮/১৩-৮/৩৯/২৮, কালরাত্রি ৯/৪৩/১৩-১১/২১/৫৮। 
৩০ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বারুইপুর স্টেশনে অবরোধ উঠল, শিয়ালদহ বিভাগের প্রতিটি শাখায় ৮টা ৩৪ মিনিট থেকে ফের শুরু ট্রেন চলাচল

09:07:41 PM

রেল অবরোধ ঘিরে ধুন্ধুমার বারুইপুর স্টেশন

 বেআইনি উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে রেল অবরোধকে কেন্দ্র করে ...বিশদ

08:40:29 PM

লুধিয়ানায় প্লাস্টিক কারখানায় আগুন, মৃত ৩
লুধিয়ানায় একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ...বিশদ

08:13:00 PM

ফের দালাল চক্রের অভিযোগ এসএসকেএম হাসপাতালে

 ফের দালাল চক্রের অভিযোগ উঠল এসএসকেএম হাসপাতালে। টাকা নিতে গিয়ে ...বিশদ

07:10:02 PM

 বিহারের গোপালগঞ্জে হাইটেনশন লাইনের বিদ্যুৎস্পৃশ্য হয়ে মৃত ৫, গুরুতর আহত ৩

06:22:00 PM