প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

খবর শেষ

আকাশবাণী... খবর পড়ছি...। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমল থেকে শুরু হওয়ার পর বঙ্গজীবনের অঙ্গ হিসাবে জড়িয়ে যাওয়া সেই অভ্যাস হাতছাড়া হয়েছে বহুযুগ আগেই। টিভি, ইন্টারনেট, ফেসবুকের জমানায় যা আজ প্রায় গতজন্মের স্মৃতি বলে মনে হয়। কিন্তু একটা সময় এই তো ছিল বাইরের জানালায় চোখ রাখার জন্য মানুষের একমাত্র দূরবীন! সেই ইভা নাগ, নীলিমা সান্যাল, দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্রেকডাউন, ভুল খবর...। সে এখন নস্টালজিয়া। আজ দিল্লির বেতার খবর যে সত্যিই শেষ!

 সমৃদ্ধ দত্ত: হঠাৎ একটা সাদা অ্যাম্বাসাডর গাড়ি ঢুকছে। এবং বেশ জোরেই। সামনে শুধু একটা মোটরসাইকেল। ততক্ষণে বাংলা ইউনিটের ডিউটি শেষ। সন্ধ্যা সাতটা পঁয়ত্রিশের খবর শেষ হয়ে গিয়েছে। টুকিটাকি কাজ তাও রয়ে যায়। সেগুলি সেরে সকলেই একসঙ্গে এবার বাড়ি ফেরা। ১৯৬২ সালের একটি সন্ধ্যা। অল ইন্ডিয়া রেডিওর দিল্লি সদর দপ্তরের মূল ভবনের প্রবেশপথে পোর্টিকোতে দাঁড়িয়ে আছেন বাংলা নিউজ ডিভিশনের কর্মীরা। স্টাফ কারের জন্য। সেই গাড়ি এলে সকলেই উঠে পড়বেন। প্রত্যেককে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে আসা হবে। বাংলা ইউনিটের ইভা নাগ, বিজন বোস, বিভূতি দাস একাই নন। অপেক্ষায় ছিলেন উড়িষ্যা আর অসমীয়া বিভাগের দুই কর্মীও। প্রত্যেকের মুখেই একটি অঘোষিত বিষাদ রয়েছে। প্রায় সক঩লেই যেন সামান্য অন্যমনস্ক। কথা বলছেন না। থমথমে একটা পরিবেশ গোটা দিল্লিতেই। এমনকী সারা দেশেই। কারণ আজ বিকালেই নর্থ ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার এরিয়ার দু’টি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল চীন দখল করে নিয়েছে। সেলা এবং বমডিলা। যুদ্ধে ভারত দাঁড়াতেই পারছে না। একপ্রকার রুদ্ধশ্বাস অবস্থা। কী হবে এরপর? যে কোনও যুদ্ধে সর্বাগ্রে সরকারি প্রচার মাধ্যম দখল অথবা ধ্বংস করে শত্রুপক্ষ। অর্থাৎ বেতারকেন্দ্র। সুতরাং আকাশবাণীর এই রিজিওনাল ঩নিউজ ডিভিশনের কর্মীরা যে চরম আতঙ্কগ্রস্ত হবেন, সেটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। গাড়ি আসছে না কেন? ইভা নাগ বিরক্ত। তাঁকে আগামীকাল সকালে আবার ডিউটিতে আসতে হবে। ভোর ৫টায় বেরনো। ৭টা ২৫-এ খবর পড়া। রাতে একটু আগে বাড়ি না পৌঁছালে চলবে কেন? ঠিক তখনই সেই সাদা অ্যাম্বাসাডর। কে গাড়িতে এই অসময়ে? মোটরসাইকেল আরোহী দিল্লি পুলিশের অফিসার। নেমেই বললেন, পিএম এসেছেন...! পিএম? মানে পন্ডিতজি? জওরলাল নেহরু? এরকম বিনা নোটিসে? তাও আবার কোনও হুটারের সাইরেন নেই, মাত্র একটি মোটরসাইকেল এসকর্ট নিয়ে? কিন্তু কেন? এসব প্রশ্ন হুড়মুড়িয়ে মনে এলেও প্রধানমন্ত্রীকে দরজা খুলে স্বাগত জানানোর কথা কারও মনেই আসছে না। কারণ সবথেকে বড় বিপর্যয় হল, আকাশবাণীর স্টেশন ডিরেক্টর অফিসে নেই। এমনকী অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরও গরহাজির। ডিউটি অফিসার এবং প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভরা ভয়ে প্রায় ছোটাছুটি করছেন। হাল ধরলেন অতএব বাংলা নিউজ ডিভিশন। পন্ডিতজি নেমে বললেন, আমি বেতার ভাষণ দেব! ব্যবস্থা করুন। কিন্তু সকলে চমকে উঠলেন। এ কোন নেহরু! প্রাণবন্ত সেই মানুষটি উধাও। যিনি আকাশবাণীতে এলে লিফট ব্যবহার করতেন না। সিঁড়িতে তরতর করে উঠে যেতেন। অনেক সময় তরুণের মতো কয়েকটি সিঁড়ি জাম্প করে। এটাই তাঁর চেনা ম্যানারিজম। সদা প্রসন্নতার আভাস থাকা চোখে আজ কালিমা। ক্লান্ত কণ্ঠস্বর। দ্রুত খবর পাঠানো হল। এসে গেলেন স্টেশন ডিরেক্টর। প্রধানমন্ত্রীর আচমকা বেতার ভাষণ মানে সব প্রোগ্রাম বাতিল করতে হবে। সে এক মহা সংকট। সেদিন ঘোষকের দায়িত্বে ছিলেন সীতাংশু ভাদুড়ি। জয়া ভাদুড়ির দাদা। তিনিই জরুবি ঘোষণাটি করলেন যে, প্রধানমন্ত্রী এখন বেতার ভাষণ দেবেন। ভিআইপি স্টুডিওর দিকে যেতে যেতে বারংবার প্রধানমন্ত্রী তাঁর দু’পাশে থাকা বাংলা বিভাগের কর্মীদের জিজ্ঞাসা করছেন, ‘অ্যাম আই লুকিং অল রাইট? ডু ইউ থিংক মাই ভয়েস ইজ ওকে?’ চেয়ারে বসে। দুই কনুই টেবিলে রেখে হাত থুতনিতে রেখে পন্ডিতজি যখন চীনের আক্রমণ এবং তৎপরবর্তী পরিস্থিতির কথা দেশবাসীকে জানাচ্ছেন, সত্যিই চোখে জল আনার মতো দৃশ্য। কারণ দৃশ্যত তাঁকে তখন পরাজিত সৈনিকের মতোই দেখাচ্ছে। দুই চোখ দিয়ে জল পড়ছিল। বারংবার কন্ঠ থেমে যাচ্ছে। বিপর্যয়ের কাহিনি শোনালেন চিরতরুণ সেই বৃদ্ধ। আকাশবাণীর কর্মীরা স্তব্ধ। কাঁদছিলেন ইভা নাগ।
১৯৬৫ সালের পাকিস্তানের সেবারজেট বিমান যখন রাতে দিল্লির মাথায় চলে এল, তখন টেবিলের তলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারাচ্ছন্ন বিল্ডিংয়ে লুকিয়ে থেকেছেন ইভা নাগ। স্টুডিও ছাড়েননি। আর স্টুডিওতে বুলেটিনের কাগজ হাতে সম্পূর্ণ একা স্পিকারের সামনে ঠায় বসে ছিলেন ডি বি। অর্থাৎ দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়। এতটাই অকুতোভয় এবং কর্তব্যনিষ্ঠ ছিলেন তাঁরা।
আকাশবাণী... খবর পড়ছি...। সন্ধ্যার এই ঘোষণাটি ছিল বাংলার মানুষের কাছে যেন ঘড়ির অ্যালার্ম! বোঝা যেত ৭টা ৩৫ বাজল। বাঙালির সেই আলোআঁধারি মধ্যবিত্ত সন্ধ্যাগুলোয় ইভা নাগ, নীলিমা সান্যাল, প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, অনিল চট্টোপাধ্যায়, রমা মুখোপাধ্যায়দের খবর পড়া কণ্ঠস্বরের সঙ্গে মিশে যেত পাড়ায় পাড়ায় গানের রেওয়াজ... মোর বীণা ওঠে কোন সুরে বাজি... মিশে যেত জানালা থেকে ভেসে আসা দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধের প্রাণপণ মুখস্থ প্রয়াস... মিশে যেত বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মীর পাঁচালি দোল পূর্ণিমা নিশি নির্মল আকাশ/ধীরে ধীরে বহিতেছে মলয় বাতাস...। সেই সব সন্ধ্যায় দিল্লির আকাশবাণী থেকে বাবা জেঠু আর কাকুদের জন্য খবর আসত, মোরারজি দেশাই পদত্যাগ করেছেন। আর কিশোর ও তরুণদের আনন্দ বাড়িয়ে কলকাতার আকাশবাণী থেকে দেবদুলালবাবু খবর দিতেন, ইস্ট বেঙ্গল উয়াড়িকে অথবা মোহন বাগান সালকিয়া ফ্রেন্ডসকে দুই শূন্য গোলে হারিয়ে দিয়েছে। সেই রবিবারগুলোয় রেডিওর ভাগাভাগি ছিল অবশ্যাম্ভাবী। দুপুরের খবরের জন্য রেডিওর দখল নিতেন বাবারা। দিদিরা শিখে নিতেন পূর্বা দাম কিংবা সুমিত্রা সেনরা কীভাবে উচ্চারণ করেন সখী ভালোবাসা করে কয়...। পাড়াজুড়ে পাঁঠার মাংসের গন্ধ মহোৎসবের সেইসব রবিবারের নিঝুম দুপুরে তারপর আবেগের দখল নিতেন অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃপ্তি মিত্র, জগন্নাথ বসু, শাঁওলি মিত্র, শুক্লা বন্দ্যোপাধ্যায়, গৌতম চক্রবর্তী, সৌমিত্র বসুদের অবিস্মরণীয় নাটকের জীবন্ত চরিত্র হয়ে। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতো। আবার আসতেন ঘরে ঘরে আকাশবাণী দিল্লির সেলেব্রেটি সংবাদ পাঠকরা। সেইসব রবিবার শেষ হয়ে যেত ছায়াছবির গানের শেষ নিবেদনটি দিয়ে... কী আশায় বাঁধি খেলাঘর..। সেই বাংলায় মানুষের সঙ্গে রেডিও জেগে উঠত। মানুষের সঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়ত। এই নিদ্রা আর জাগরেণের অনুষঙ্গ ছিল একটি সিগনেচার টিউন। বাঙালি জীবনের প্রথম ব্রেকিং নিউজের সূত্রধর ছিল, আকাশবাণী... খবর পড়ছি... বাক্যগুলি। ২০১৭ সালের ৮ জুলাই থেকে সেই ইতিহাসটি বন্ধ হয়ে গেল। দিল্লির খবর শেষ হল। চিরতরে।
রেডিও সংবাদের বৈপ্লবিক ভাবনাচিন্তা শুরু হয় আদতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে। মিত্রশক্তি বনাম অক্ষশক্তির লড়াইয়ের সবথেকে বড় অস্ত্র হয়ে দাঁড়ায় প্রোপাগান্ডা। আর জাতীয় বেতার ব্যবস্থার প্রধান হাতিয়ার হল নিউজ। তাই প্রথম আঞ্চলিক যে খবর পড়া শুরু হল, সেটি পুশতু। কারণ উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে ব্রিটিশদের প্রভাব বাড়ানো দরকার ছিল। মূলত এভাবে ১৯৪৩ সালের আশপাশে একে একে চালু হতে শুরু করে দেয় আঞ্চলিক ভাষার বিভাগ। কারণ শুধু ইংরেজি আর হিন্দুস্তানি ভাষা (তখন হিন্দি বলা হত না) দিয়ে প্রতিপক্ষের প্রচারকে মোকাবিলা করা যাবে না। মিত্রশক্তি যে প্রবল পরাক্রমে জিতে চলেছে, এই প্রচার দেশজুড়ে করতে হলে চাই আঞ্চলিক ভাষার নিউজ। তাই শুরু হল বাংলায় সংবাদ পাঠ। দিল্লির বাংলা নিউজ বিভাগকে জনপ্রিয়তার শিখরে নিয়ে যাওয়ার প্রধান পথিকৃৎ হলেন রাজেন সেন এবং বিজন বোস। প্রথমে কোনও নির্দিষ্ট সাংবাদিকদের পাঠানো সংবাদ লিখে বুলেটিন তৈরির মতো পরিকাঠামো ছিল না। তাহলে কী করা হত? সংবাদপত্রের কাটিং, সরকারের বিবৃতি থেকে টুকরো করে নিয়ে কাগজে লিখে কোনওমতে একটি নিউজ বুলেটিন পড়া হতো। বিজন বোস ছিলেন এককথায় সব্যসাচী। নিজেই নিউজ ঩লিখছেন। খবর আনছেন। খবর পড়ছেন। ধীরে ধীরে আকাশবাণীর বাংলা ইউনিটের আয়তন ও জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করলে একে একে যোগ দিলেন বিভূতি দাশ, অসিত দাশ (এঁরা ছিলেন দুই ভাই), সমর ঘোষ, নীরদ মুখোপাধ্যায়। এবং তারপর মহিলা সেলেব্রিটিদের আগমন হল বাংলা সংবাদ জগতে। যোগ দিলেন ইভা নাগ, গায়ত্রী মুখোপাধ্যায় এবং নীলিমা সান্যাল। নীলিমা সান্যাল ছিলেন কলকাতা বেতার কেন্দ্রের ঘোষিকা এবং নাটকের শিল্পী। কিছুদিনের মধ্যেই দিল্লির আকাশবাণী বাংলা বিভাগে এসে গেলেন দুই মহারথী। তাঁদের নাম দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সত্যেন মিত্র। আজকের প্রজন্ম এই নামের তালিকাটি দেখে ঠিক ঠাহর করতে পারবেন যে, এঁরা প্রত্যেকে বাঙালি জনমনে কী অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলেন। ওই যে একটু আগে সেলেব্রিটি শব্দটি ব্যবহার করলাম, ওটা মোটেই অতিশয়োক্তি নয়। একটু লঘু শোনালেও বলতে বাধ্য হচ্ছি এই সংবাদ পাঠক ও পাঠিকাদের নিছক কণ্ঠস্বর শুনেই প্রেমে পড়েছিলেন হাজার হাজার বাঙালি যুবক ও যুবতী। প্রমাণ দিত অসংখ্য চিঠি। তখন তো আর ফেসবুক অথবা মোবাইলের যুগ নয়। চিঠিই ভরসা। উত্তম কুমার-সুচিত্রা সেনদের মতোই হাজার হাজার ফ্যান মেল আসত এই দূরবর্তী দ্বীপভূমির রহস্যময় কণ্ঠস্বরগুলির কাছে। যা নিয়ে রীতিমতো হাসাহাসিও করতেন তাঁরা নিজেদের মধ্যে। পরবর্তীকালে যোগ দিয়েছিলেন সুব্রত নাগ, তপজা নন্দী, মনোজ গুপ্ত, কৃষ্ণধন রায়, আদিত্য সেন, আনন্দ রায়, মমতা চৌধুরির মতো আরও অনেকেই। খুব অল্প সময়ের জন্য এসেছিলেন তরুণ চক্রবর্তীও। আসলে বাংলা নিউজ ইউনিটের নিউজ রিডাররাই ছিলেন সবথেকে জনপ্রিয়। কিন্তু অবশ্যই বাকিদের অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রেডিও মানেই টিমওয়ার্ক। যেখানে সময়ের একেবারে দাসানুদাস হতেই হবে।
প্রথমেই বুঝে নিতে হবে সংবাদ পাঠের নেপথ্যটি ঠিক কী। সারাদিনে তিনটি বুলেটিন। সকাল, দুপুর এবং সন্ধ্যা। শুরুর দিনগুলি থেকে দীর্ঘকাল ধরে খবর ছিল ১৫ মিনিটের। পরে সেটি কমে আসে ১০ মিনিটের সময়সীমায়। দিল্লি যেহেতু সদর দপ্তর। অতএব গোটা দেশের সব প্রধান ভাষার জন্য নিউজ বিভাগ। অথচ এতগুলি তো আর স্টুডিও নেই! তাহলে উপায়? সব রাজ্যের আঞ্চলিক সংবাদ পাঠ একসঙ্গে হতো না। যেমন বাংলা ইউনিটের সঙ্গে ছিল কাশ্মীর ডিভিশন। ৩৭ নং স্টুডিও। স্টুডিও মানে একটি ছোট্ট ঘর। টেবিল। স্পিকার। ঠিক সামনেই ঘড়ি। গ্রিনউইচের সঙ্গে মেলানো। আর হাতের কাছে একটি বস্তু। যার নাম ফেডার। সেটি ছাড়া নিউজ রিডার কিন্তু সম্পূর্ণ অসহায়। কারণ ফেডারের মধ্যেই আছে স্পিকারে কণ্ঠস্বর যাওয়ার চাবিকাঠি। ফেডার অফ করে দেওয়া মানে আর কথা বললেও সেটি সম্প্রচারিত হবে না। কেন দরকার হয় ফেডার? কারণ যিনি খবর পাঠ করছেন, তাঁর তো যে কোনও সময় হাঁচি বা কাশি আসতে পারে! তখন কী খবর পড়তে পড়তে হেঁচে ফেলবেন? নাকি খকখক করে কাশবেন? সেটা তো চরম অস্বস্তিকর। অতএব তখন বাঁচায় এই ফেডার। চট করে অফ করে দেওয়া যায়। নিয়ম হল একজন সংবাদ পাঠ করবেন, আর অন্য কেউ পাশেই দাঁড়িয়ে থাকবেন। তাঁর নাম স্ট্যান্ডবাই। কারণ নিউজ রিডারের কখন সমস্যা হয় অথবা কোনও আচমকা সংবাদ চলে এল, সেটিকে পড়তেই হবে, অথচ লিখিত বুলেটিনে হয়তো সেটি নেই। তাহলে উপায়? তখন ওই স্ট্যান্ডবাই কর্মী সেই খবরটি পেয়েই চট করে সেখানেই অনুবাদ করে দেবেন। আর পরমুহূর্তে সংবাদ যিনি পড়ছেন তিনি বলবেন, এইমাত্র খবর পাওয়া গেল...। একে বলা হয় ফ্ল্যাশ। সোজা কথায় আজকের ব্রেকিং নিউজ।
প্রত্যেক নিউজ বিভাগের কাজ ছিল আগে সিএনও থেকে আসা ইংরেজিতে লেখা সংবাদগুলিকে বাংলায় অনুবাদ করে নিতে হয়। এভাবেই একটি খবর শেষ হয়ে গেল ঠিক ১০ মিনিটের মাথায় কন্ট্রোল রুম থেকে আলো জ্বলে ওঠে। ক্লোজিং অ্যানাউন্সমেন্ট। তাহলে কি হাতে লেখা কাগজে সেই সংবাদের জন্য যা যা লিখে আনা হয়েছিল, সবই ওই নির্দিষ্ট ১০ মিনিটে পড়া হয়ে যেত? না। সেটি সর্বদা সম্ভব হত না। রয়ে যেত কিছু সংবাদ। সেগুলিকে পরিভাষায় বলা হয় ক্রাউডেড ওভার (সিও)। অর্থাৎ বাকি রয়ে গেল। সেগুলির ভবিতব্য হল পরবর্তী নিউজে ধরিয়ে দেওয়া। আকাশবাণী আজ মনে রেখেছে যে, সবথেকে দ্রুত সংবাদ পাঠ করতেন নীলিমা সান্যাল। তাঁর সংবাদ পাঠ মানেই হল সেদিন একসঙ্গে অনেক সংবাদ ধরিয়ে দেওয়া যাবে। আর ছিলেন অসম্ভব স্মার্ট।
ইন্দিরা গান্ধীর সবথেকে বড় গুণ হল, তিনি অসামান্য প্রশাসক ছিলেন। কারণ সুপ্রশাসকের সবথেকে বড় বৈশিষ্ট্য হল মোটিভেট করতে পারা। তাঁর সেই অনুপ্রেরণা দেওয়ার ক্ষমতাটি ঈশ্বরদত্ত। ১৯৭১ সালের বাংলা বিভাগের কাছে এক প্রকৃত যুদ্ধক্ষেত্র জয় করার অভিজ্ঞতা। মিটিং ডেকেছেন ইন্দিরা গান্ধী। বলছেন, ‘শুনুন,আমাদের আর্মি লড়াই করবে ময়দানে। আর আপনারা লড়াই করবেন এই অল ইন্ডিয়া রেডিওর চৌহদ্দিতে। আপনাদের লড়াইটা কোনও অংশে কম নয়। আমি প্রচণ্ড এক ঝুঁকি নিয়েছি। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র গঠিত হলে মানবতার জয় হবে। আর পাকিস্তান শিক্ষা পাবে। সবথেকে বড় কথা ভারতকে সমীহ করবে গোটা বিশ্ব। তাই প্রচারকে নিয়ে যেতে হবে তুঙ্গে। সব আপনাদের বাংলার হাতে। কারণ গোটা পূর্ব পাকিস্তান আপনাদের কথাই শুনতে উদগ্রীব। আপনারাই আজ ভারত তাঁদের কাছে।’ ব্যাস! এই একটি ভাষণেই দিল্লি ও কলকাতার বাংলা বিভাগ রীতিমতো যুদ্ধে নেমে পড়ল। তৈরি হয়ে গেল একটি বহির্বিভাগ পরিষেবা। শুধুই বাংলাদেশি সার্ভিস। সাতটি বুলেটিন, সংবাদ পরিক্রমা, সংস্কৃতির প্রচার সবই। রমা মুখোপাধ্যায় প্রধানত ওই বিভাগটির সংবাদ পরিক্রমা বা বুলেটিনগুলি লেখার দায়িত্বে ছিলেন। সংবাদ পাঠও করতেন তিনিই। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের রেডিও অফিস ছিল একটি অঘোষিত ওয়ার রুম। এখানে সেই জেনারেল মানেকশ পাকিস্তানকে রীতিমতো হুমকি দিয়ে ঘোষণা করেছিলেন, ‘এখনও বলছি আত্মসমর্পণ করুন... এরপর আমাদের কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করবেন না...।’ বস্তুত সেই আবেদনে কাজ না হলে ভারতীয় সেনা লাহোর দখলের পরিকল্পনা করে ফেলেছিল। কিন্তু পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করে। টানা ৫ বছর চলেছিল সেই বিশেষ বাংলা বিভাগটি। তারপর বন্ধ হয়ে গেল।
সবথেকে মারাত্মক অপরাধের নাম কী? ব্রেকডাউন। অর্থাৎ যে কোনও কারণে রেডিওর নির্ধারিত অনুষ্ঠানটি প্রচার করা সম্ভব না হওয়া এবং তার পরিবর্তে বাধ্য হয়ে রেডিওর সিগনেচার টিউনটি বাজানো। সবথেকে মজাদার দিলদিরয়া মানুষটির নাম ছিল প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। সবথেকে বড় কথা, কোনও টেনশন নামের বস্তু ছিল না। ইভা নাগ, নীলিমা সান্যালরা তখন রীতিমতো সেলেব্রিটি। তাঁরাও অত্যন্ত সতর্ক ও ভুলভ্রান্তির আশঙ্কা নিয়েই খবর পড়তেন। প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সে সবের বালাই ছিল না। একবার তো তাঁর নিউজ পড়ার কথা। খবর শুরুর সংকেত দেওয়া হয়েছে। সকলেই জানে খবর চলছে। কিন্তু আচমকা দড়াম করে স্টুডিওর দরজা খুলে প্রশান্তবাবু দৌড়ে নিউজ রুমে। টেবিলে থাকা কিছু কাগজ হাতে নিয়ে আবার ছুট। কী ব্যাপার? ততক্ষণে বাইরে হট্টগোল। কন্ট্রোল ইঞ্জিনিয়ার মাথায় হাত দিয়ে বলছেন, ১২ নং স্টুডিও থেকে কোনও আওয়াজ নেই। পিওন হন্তদন্ত হয়ে বললেন, সাব স্টুডিওমে নেহি হ্যায়! বলে কী? দ্রুত স্টুডিওয় গিয়ে দেখা গেল প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বিঘ্নচিত্তে খবর পড়ে চলেছেন। কোনও টেনশনের লেশমাত্র নেই। পরে ক্লোজিং অ্যানাউন্সমেন্টের পর জানা গেল দু’মিনিট ব্রেকডাউন। সিগনেচার টিউন বাজাতে হয়েছে। কেন? প্রশান্তবাবু বললেন, মালয়ালি ইউনিটের গোবিন্দের সঙ্গে গল্প করতে করতে বুলেটিনটা নিতে ভুলে গিয়েছিলাম। ম্যানেজ করে দিয়েছি। সেটা তিনি পারতেনও। সকলেরই প্রিয়পাত্র ছিলেন। এবং শ্রোতাদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এক কণ্ঠস্বর। যে কোনও সমস্যার উৎপত্তি হলে তিনি ছিলেন মুশকিল আসান। অর্থাৎ কেউ আচমকা আসেনি। প্রশান্তবাবু অনায়াসে সেই খবরে চোখ বুলিয়ে পড়ে দেবেন।
এই ব্রেকডাউনকে পরাজিত করা নিয়ে রমা মুখোপাধ্যায়ের একটি মজার কাহিনি আছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী বেতারে ভাষণ দিলেন। প্রথম ভাষণ। রাত আটটায়। ১৯৮৫ সালের ৩ জানুয়ারি। ততক্ষণে তো দিল্লি থেকে প্রচারিত বাংলা সংবাদ শেষ। কারণ ৭টা ৪৫ হল শেষ সংবাদ। অতএব রাজীব গান্ধীর ভাষণের সংবাদের মুখ্য অংশগুলি পরদিন সকালের বুলেটিনে পড়া হবে। রমা মুখোপাধ্যায় দিল্লির কনকনে ঠান্ডায় ঘুমাচ্ছেন। তাঁর ডিউটি নেই। হঠাৎ ভোর ৬টা ১০ মিনিটে ডোরবেলের আওয়াজ। কী ব্যাপার? আকাশবাণীর ড্রাইভার। আপনাকে যেতে হবে। রমাদেবী বিস্মিত। বললেন, ‘আমার ডিউটি নেই। আমি কেন যাব। আজ তো ইভাদির ডিউটি!’ ড্রাইভারের জবাব, সে কিছু জানে না। তাঁকে বলা হয়েছে রমাদিকে তুলে আনতে। সর্বনাশ। তার মানে ইভাদি আসেননি? যেখানে নিউজ রুমে ঢুকতেই হবে সাড়ে ৫টায়, সেখানে তখনই বাজে সওয়া ৬টা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রমাদেবী তৈরি হয়ে নামলেন। আর শীতের অন্ধকার কুয়াশাঘেরা দিল্লিতে ঝড়ের মতো গাড়ি ছুটছে। ৬টা ৫০-এ আকাশবাণী। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বলে কথা। এ তো আর যেমন তেমন করে পড়লেই হবে না! চরম টেনশনে বাংলা বিভাগ। দেখা গেল কাশ্মীরি নিউজের কর্মীরাও রাস্তায় নেমে এসেছেন। টেনশন তাঁদেরও। কারণ বাংলার পরই তো তাঁদের বুলেটিন। বাংলার নিউজ যদি দেরি করিয়ে দেয়, তাদের নিউজও দেরি হয়ে যাবে। আর প্রতিটি ক্ষেত্রেই কৈফিয়ৎ দিতে হবে। যার কালান্তক নাম মেমো ইস্যু হওয়া। কিন্তু ঠান্ডা মাথায় রমাদেবী মাত্র ১০ থেকে মিনিটের মধ্যে গোটা বুলেটিন ডিকটেশন দিয়ে একটি নবাগতা মেয়েকে লিখতে বললেন। এবং নির্দিষ্ট সময়ে পড়া শেষ হল। জানা গেল, ইভা নাগ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে আসতে পারেননি। কোনওমতে সেদিন ব্রেকডাউন বাঁচানো গেল।
আর ভুল খবর? সে এক মহা হাঙ্গামার কাহিনি। ১৯৭৯ সালের মার্চ। বাজেট অধিবেশন চলছে। প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই হন্তদন্ত হয়ে লোকসভায় ঢুকে একটি চিরকুট লিখে দিলেন স্পিকার কে এস হেগড়েকে। সেটি পড়ে কয়েক মুহূর্ত স্তব্ধ স্পিকার। মোরারজির দিকে তাকিয়ে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী মাথা নিচু, বিমর্ষ। গোটা সভাকে বিষণ্ণ করে স্পিকার জানালেন, লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণের জীবনাবসান হয়েছে। প্রথামাফিক নীরবতা পালন হল। সভা মুলতুবি হয়ে গেল। রাজ্যসভাতেও তাই। দুপুর ১টা ১০ বাজে। স্বাভাবিকভাবেই যাকে বলে চূড়ান্ত ফ্ল্যাশ নিউজ। অতএব অল ইন্ডিয়া রেডিও প্রচার করে দিল। সব স্কুল ছুটি। পতাকা অর্ধনমিত। মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে বম্বের যশলোক হাসপাতাল থেকে জানা গেল, জয়প্রকাশ নারায়ণ দিব্যি জীবিত। তবে অবশ্যই আশঙ্কাজনক। ব্যাস! বাংলা ইউনিটের নিউজ রিডার অনিল চট্টোপাধ্যায় ভাবছেন চাকরিটি গেল বোধহয় ভুল খবরের জন্য। কিন্তু সংবাদ বিভাগের দোষ কী? স্বয়ং সংসদে ঘোষণা করা হয়েছে যখন? কিন্তু সেই ভুল খবরের পরিণামে সরকারের উচ্চপদে বহু রদবদল তো হলই। মোরারজি দেশাই ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। এবং আকাশবাণীর সব দায় নিলেন ডিরেক্টর অব নিউজ কে জি যোগলেকর। তাঁকেও শাস্তি পেতে হয়েছিল। যদিও আকাশবাণীর কী অপরাধ, তা বোঝা যায়নি।
সেই মধ্যবিত্ত উইকএন্ডগুলির বিনোদনের সূত্রপাত হত শুক্রবাত সন্ধ্যায়। আকাশবাণীর খবর দিয়ে। ছদ্ম প্রতিযোগিতা হত ভাইবোনদের মধ্যে আজ কে খবর পড়বেন, সেই ভবিষ্যৎবাণী নিয়ে। সেইসব শুক্রবারের গম্ভীর বাবারা যখন নীলিমা সান্যাল ইভা নাগেরা দিল্লি থেকে পাঠানো ইন্দিরা গান্ধীর চিকমাগালুর থেকে আবার জিতে আসার খবর শুনছেন, তখন মায়েরা এসে দাঁড়াতেন ভাড়াবাড়ির বারান্দায়। কামিনী ফুলের গন্ধ থাকত ভেজা বাতাসে। গ্রিলে হাত রেখে মায়েরা ভাবতেন কবে নিজেদের বাড়ি হবে, আর একটু বড় রান্নাঘর...। সমীক্ষা আর স্থানীয় সংবাদের পর মায়েরা ফিরতেন আনমনে ঘরে। বসতেন বাবাদের সামনে। লসাগু গসাগু অর্ধেক করে আসা ছেলেমেয়েরা উঠে বসতো খাটে। আর তারপর ঘোষণা হত আজকের নাটক, চন্দ্রগুপ্ত...।
এসব খণ্ডদৃশ্য কবে ঘটেছিল? আজকের বাঙালি বিনোদনের পূর্বজন্মে। যে পূর্বজন্মে খবরের ঠিক মাঝখানে বলা হত ‘খবর শুনছেন আকাশবাণী থেকে। ’ আর বলা হবে না। এবার সত্যিই খবর শেষ!
 গ্রাফিক্স: সোমনাথ পাল
 সহযোগিতায়: উজ্জ্বল দাস
16th  July, 2017
বন্দেমাতরম 
রজত চক্রবর্তী

জাতীয় পতাকাটা আজও হাতে ধরে হেঁটে চলেছেন মাতঙ্গিনী হাজরা। উচ্চশির। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, প্রফুল্লনলিনী ব্রহ্ম, কল্পনা দত্ত... নারীশক্তির এক অদম্য জাগরণ দেখেছিল পরাধীন ভারত। মায়েরা, বোনেরা পথে নেমে-না নেমে অংশ নিয়েছিলেন বিপ্লবে। তবু এমনই দুই সংগ্রামী শান্তি ঘোষ, সুনীতি চৌধুরির জন্মশতবর্ষ চলে গেল নীরবে...।
বিশদ

13th  August, 2017
 কৃপণ সমাচার!

 কৃপণ কত প্রকার ও কী কী? এমন রচনা ছেলেবেলায় লিখতে না হলেও এ ব্যাপারে জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার ঝুলি প্রায় সবারই পূর্ণ। কেউ কেউ আবার কৃপণ শব্দটির বদলে হিসাবি বা মিতব্যয়ী ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করেন। যদিও তাতে কৃপণদের নিয়ে সমাচারে কোনও দিন, কোনও যুগেই ঘাটতি হয় না।
বিশদ

06th  August, 2017
আলিপুর জেলের অন্তরালে

 আলিপুর সেন্ট্রাল জেল। কানাইলাল দত্ত, সত্যেন বসু, দীনেশ গুপ্ত... একের পর এক বিপ্লবীকে ফাঁসির দড়ি বরণ করতে হয়েছে এখানে। শত অত্যাচার সত্ত্বেও যেখানে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছেন লৌহকপাটের আড়ালে থাকা বিপ্লবীরা। ভয় না ধরিয়ে সঙ্গীর মৃত্যু সাহস জুগিয়েছে তঁাদের। সেলুলার জেল হেরিটেজের মর্যাদা পেলেও আলিপুর পায়নি। সেখানে আজও কুঠুরির কোণায় কোণায় শোনা যাবে বিপ্লবের বজ্রনির্ঘোষ।
বিশদ

30th  July, 2017
 অমরনাথের পথে-প্রান্তরে

 দুর্গম অতিক্রম করে, জঙ্গি হামলা-মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে এগিয়ে চলা একবার দর্শনের আশায়। বালতাল হোক বা পহেলগাঁও, যাত্রাপথ যাই হোক না কেন, প্রকৃতি সেখানেই অপার সৌন্দর্য উজাড় করে রেখেছে। বিন্দু বিন্দু জল জমে আকার নিয়েছে শিবলিঙ্গের। আর তাকে ঘিরেই সম্প্রীতির এক অদ্ভূত মিলন উৎসব। সে যে অমরনাথ। বিশদ

23rd  July, 2017
 বৃষ্টিভেজা

 গ্রীষ্মকালীন এই বঙ্গে বর্ষার আগমন যেন ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার মতো। আকাশকে মুখ ভার করে ঝরে পড়তে দেখলেই মন আনচান করে খিচুড়ি, ইলিশ মাছের জন্য। ঘণ্টাখানেকের বর্ষণে তিলোত্তমা এক হাঁটু জল উপহার দিলেও তা ঠেলে বাড়ি ফেরাই আলাদা আনন্দ। আর গুনগুন করে ওঠা বিশ্বকবির সৃষ্টি। মনে পড়ে যাওয়া অপু-দুর্গার বৃষ্টি ভেজা। কিংবা স্কুলের সেই রেনি ডে। এ ঋতু তাই যে আলাদা আলাদা অনুভূতির এক সম্পৃক্ত দ্রবণ। বিশদ

09th  July, 2017
চিকিৎসা রঙ্গ 

কল্যাণ বসু: ‘পাসকরা ডাক্তার নই, কিন্তু তাতে কি? বাড়ি বসিয়া বই পড়িয়া কি আর ডাক্তারী শেখা যায় না? আজ সাত আট বছর তো ডাক্তারী করিতেছি, অভিজ্ঞতা বলিয়া একটা জিনিসও তো আছে! পাসকরা ডাক্তারের হাতে কি আর রোগী মরে না?’ এইটুকু পড়ে কী মালুম হচ্ছে?
বিশদ

02nd  July, 2017
 বাঙালির রথযাত্রা

হারাধন চৌধুরী: বাঙালি এক আমুদে জাতি। আনন্দের জন্য পরব খুঁজে নিতে বাঙালির জুড়ি মেলা ভার। বাঙালির কাছে দেবতারা কঠিন কঠোর কিছু নন। দেবতারাই হলেন সবচেয়ে আপন বা অতি প্রিয় কেউ, যাঁকে আঁকড়ে ধরে থাকতে না পারলে বাঙালির সব আনন্দ, সব সুখানুভূতি যেন মাটি হয়ে যায়। অতএব একজন না একজন দেবতাকে সামনে রেখেই পার্বণ সাজিয়ে নেয় তারা। সেই থেকেই ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’ কথাটি এসেছে। ‘তেরো’ কথাটি ‘বহু’ অর্থেই প্রযোজ্য হয়। সংস্কৃতি সম্পর্কে এমন যাদের উপলব্ধি, রথযাত্রার মতো একটি পার্বণ বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে তাদের মাতিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। রথযাত্রার মধ্যে মাটি বা ভূমির টানই খুঁজে পায় বাঙালি। বিশদ

25th  June, 2017
দেশভাগের ৭০

সমৃদ্ধ দত্ত: ৭০ বছর আগে কয়েকজন দেশি-বিদেশি প্রতিনিধি ঠিক করে ফেলেছিল ভারতকে ভাগ হতেই হবে। ৭০ বছর আগে এমনই একটা জুন মাসে অবিভক্ত বঙ্গ বিধানসভার শেষ অধিবেশনে বাংলা আর বাঙালির নতুন পথ চলার সূচনা। চিরবিচ্ছেদের বেদনা নিয়ে। সেই ২০ জুন।
লর্ড মাউন্টব্যাটেন নিজের ইমেজ সম্পর্কে এতটাই সচেতন ছিলেন যে, ১৯৪৭ সালের ২২ মার্চ ভারতের ভাইসরয় পদে এসেই সরকারি এবং প্রেস ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি নির্দেশ জারি করে দেন।
বিশদ

18th  June, 2017
রাষ্ট্রপতি ভবনে 

প্রবালকুমার বসু: রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁরই অতিথি হয়ে কাটিয়ে আসা দু’সপ্তাহ। রাজধানীর যানজট, দূষণের বাইরে হঠাৎ এসে পড়া যেন এক অন্য জগতে। মুঘল গার্ডেনসে ফুলের মাঝে কেটে যাওয়া সময়, কিংবা প্রতিটা পাথরে নতুন করে খুঁজে পাওয়া ইতিহাস।
বিশদ

11th  June, 2017
ভূস্বর্গ ভয়ংকর

আজাদ কাশ্মীর। এই অবস্থানেই অনড় ছিলেন মহারাজা হরি সিং। পাকিস্তানের একের পর এক ষড়যন্ত্রে নেহরুর সাহায্য নিতে তিনি বাধ্য হয়েছিলেন। কাশ্মীর জুড়েছিল ভারতের মানচিত্রে। কিন্তু পিছন থেকে ছুরি মারে আমেরিকা, ব্রিটেন। এবং পাকিস্তান। যে ইন্ধন বজায় রেখেছে ইসলামাবাদ। ফল? অশান্ত ভূস্বর্গ...।
বিশদ

04th  June, 2017
খাতা দেখা 

বসন্ত কড়া নাড়লেই বুঝতে হবে মা-উমা খুব দূরে নেই। অর্থাৎ মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক। ভাবা যায়, একটা রাজ্যে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ লক্ষের বেশি? আর এই দুই পরীক্ষা শেষ হতেই রাজ্যের আনাচে কানাচে হাজার হাজার স্কুল টিচারের গৃহকোণে শুরু হয়ে যায় কুটির শিল্প—খাতা দেখা।
বিশদ

28th  May, 2017



একনজরে
 ওয়াশিংটন, ১৬ এপ্রিল: চলতি বছরসহ আগামী ২০১৮ সালে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই সময়ে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৩ শতাংশের আশপাশে থাকবে বলে ধারণা ...

সিনসিনাটি, ১৬ আগস্ট: ভারতীয় টেনিস কাপ দল থেকে বাদ পড়ার পর ৪৪ বছর বয়সী লিয়েন্ডার পেজের দুঃসময় আর কাটছে না। সিনসিনাটি ওপেনে ডাবলসে প্রথম রাউন্ড থেকেই লিয়েন্ডার পেজ ও তাঁর জার্মান পার্টনার আলেকজান্ডার জেরেভ বিদায় নিলেন ফেলিসিয়ানো ও মার্ক লোপেজের ...

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: অতিবর্ষণের জেরে আলিপুরদুয়ারের চারটি ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার আমন ও সবজি খেত জলের তলায় চলে যাওয়ায় কমপক্ষে ৪০ হাজার চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত কৃষি দপ্তর ক্ষয়ক্ষতির যে হিসাব নবান্নে পাঠিয়েছে তাতে জেলার ছ’টি ব্লকের মধ্যে ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ার-১ ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সম্প্রতি দুর্গাপুর পুরসভা নির্বাচনে নিরাপত্তার প্রশাসনিক আশ্বাস সত্ত্বেও ব্যাপক হাঙ্গামা হয়েছে। ভোট লুট হয়েছে। পুলিশ মার খেয়েছে। নির্বাচন কমিশন ভোট চলাকালীন অভিযোগ জানানোর রাস্তা বন্ধ রেখেছিল। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

সঠিক বন্ধু নির্বাচন আবশ্যক। কর্মরতদের ক্ষেত্রে শুভ। বদলির কোনও সম্ভাবনা এই মুহূর্তে নেই। শেয়ার বা ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩২: ব্রিটিশ সাহিত্যিক ভি এস নাইপলের জন্ম
১৯৮৮: দুর্ঘটনায় মৃত পাক প্রেসিডেন্ট মহম্মদ জিয়া-উল-হক
২০০৮: ওলিম্পিকসে আটটি সোনা জিতে রেকর্ড মার্কিন সাঁতারু মাইকেল ফেল্পসের


ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৪৫ টাকা ৬৫.১৩ টাকা
পাউন্ড ৮১.৩৭ টাকা ৮৪.১৮ টাকা
ইউরো ৭৪.০৮ টাকা ৭৬.৬৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,১৭০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৬৭৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,০৯০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩২ শ্রাবণ, ১৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার, দশমী দিবা ১২/৪৩, মৃগশিরানক্ষত্র রাত্রি ১০/৫৯, সূ উ ৫/১৭/৫১, অ ৬/৩/৩৯, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৮-৩/৩, বারবেলা ২/৫২-অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৪১-১/৫।
 ৩১ শ্রাবণ, ১৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার, দশমী ১০/৫৫/৫২, মৃগশিরানক্ষত্র রাত্রি ১০/২৩/৫৭, সূ উ ৫/১৫/৩৩, অ ৬/৫/২৫, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৭/৩০-৩/১/৩১, বারবেলা ৪/২৯/১১-৬/৫/২৫, কালবেলা ২/৫২/৫৭-৪/২৯/১১, কালরাত্রি ১১/৪০/২৯-১/৪/১৫।
২৪ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
  খানাকুলে বৃষ্টির জমা জল নামতেই উদ্ধার কঙ্কাল, চাঞ্চল্য
আরামবাগের খানাকুলের সবলসিংহপুর এলাকায় বৃষ্টির জমা জল নামতেই এক অপরিচিত মহিলার কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

05:44:00 PM

এবার চড়াম চড়াম করে জয়ঢাক বাজবে পঞ্চায়েতেও: অনুব্রত

 আজ নলহাটিতে ১নং ওয়ার্ড ও ৮ নং ওয়ার্ডে তৃণমূলের পরাজয়ের পর, হারের কারণ অনুসন্ধান করতে এসে অনুব্রত মন্ডল মৎসমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা ও পরিকল্পনা তদারকি ও পরিসংখ্যান দপ্তরের মন্ত্রী আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ আরও দুই তৃণমূল নেতার দায়িত্ব পালনে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ওঁদের উপর পুরো দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়াটা ভুল হয়েছলি, ওঁদের এতটা বিশ্বাস করাটাও ভুল হয়েছিল। এবার থেকে সব বিষয়টা তিনি নি঩জেই দেখবেন বলেও জানান। পাশাপাশি এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে পঞ্চায়েত দখলের ডাকও দেন অনুব্রতবাবু। তিনি বলেন, এবার পঞ্চায়েতও চড়াম চড়াম করে জয়ঢাক বাজবে।

05:20:10 PM

এই জয় মানুষের জয়: মুখ্যমন্ত্রীর

 মানুষের জয়, যারা তৃতীয় ও চতুর্থ হওয়ার জন্য লম্ফ-ঝম্ফ করেছিল, আমি দেখলাম তারা ০.১% ভোট পেয়েছে। মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আজ ৭ পুরসভা জয়ের পর এভাবেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

05:13:08 PM

উত্তরবঙ্গে দুর্গতদের উদ্ধারে ন্যায্যমূল্যে বিমান সংখ্যা বাড়ানোর আর্জি কেন্দ্রকে

 যেহেতু উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, সেই সুযোগে বেশিরভাগ বিমান সংস্থা তাদের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিব কেন্দ্রকে এই দুর্যোগের সময় দুর্গতদের উদ্ধারে ন্যায্য মূল্যে বিমানের সংখ্যা বাড়াতে অনুরোধ জানিয়েছে।

05:06:00 PM

মদন তামাং হত্যা মামালা: গুরুংকে অব্যহতি

 মদন তামাং হত্যা মামলায় বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে কোনও তথ্য প্রমানাদি না মেলায় তাঁকে এই মামলা থেকে অব্যহতি দিল বিশেষ আদালত

05:02:00 PM

 দুর্গাপুরে পুরভোটে তৃণমূল ৭৬.২৬%, বামফ্রন্ট ১২.৩%, বিজেপি ৭.৮৯%, কংগ্রেস ২.৫৩% এবং নির্দল ০.৯% ভোট পেয়েছে

04:39:00 PM