প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

 বৃষ্টিভেজা

শান্তনু দত্তগুপ্ত: সেই বটগাছ দিয়ে হয়েছিল তাঁর ছন্দে হাতেখড়ি। তারপর এসেছিল আমসত্ত্ব দুধে ফেলে তাতে কদলি দলার পালা। ওই বয়সেই কবিতায় প্রতিভা বিচ্ছুরণের খবর মাস্টারমশাই সাতকড়ি দত্তের কানে যেতেই তিনি ডেকে পাঠিয়েছিলেন রবিকে। আর উপহার দিয়েছিলেন দুটি ছত্র... ‘রবি করে জ্বালাতন আছিল সবাই/ বরষা ভরসা দিল আর ভয় নাই।’ বলেছিলেন, কাল এর সঙ্গে মিলিয়ে আর দু’ছত্র লিখে এনো তো দেখি! পরদিন রবি লিখে আনলেন, ‘মীনগণ হীন হয়ে ছিল সরোবরে/ এখন তাহারা সুখে জলক্রীড়া করে।’ বর্ষার প্রকৃতিকে কবিতার ছন্দে যে এত সহজে-সুন্দরে বাঁধা যায়, তা রবি ঠাকুরের আগে বাঙালিকে আর কেউ যে শেখাতেই পারেননি! তাই বাঙালির আশপাশে, ভিতরে বাহিরে কীভাবে যেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বর্ষার সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গিয়েছেন। বর্ণ পরিচয় হওয়া ইস্তক। বাঙালি সহজ পাঠ নিয়েছে ‘ঘন মেঘ বলে ঋ দিন বড়ো বিশ্রী’..., আবার কখনও ‘আষাঢ়ে বাদল নামে, নদী ভরো ভরো— মাতিয়া ছুটিয়া চলে ধারা তরতর।’
কাজেই বছরের প্রথম ঝমাঝমে খোকা যখন কোলে চেপে আবদার করে, ‘জানলাটা খুলে দেবে, বিষ্টি দেকব...’ তখন কোথায় একটা যেন এই রবি-কবিতাগুলি মনের মাঝে একাকার হয়ে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। খুব কম সময়ের জন্য হলেও। কারণ, বাস্তবের মাটিতে পা দেওয়া মাত্র যাবতীয় কাব্যি উধাও। রোজ সকালে কাগজ খুলে আগে পড়ে নেওয়া হাওয়া অফিসের খবরটা... আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, কেরলে বর্ষা ঢুকে গিয়েছে। আর দিন সাতেকের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করবে। ইতিমধ্যে ওড়িশা উপকূলে একটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ায় প্রাক বর্ষার বৃষ্টি এক-দু’দিনের মধ্যেই শুরু হয়ে যাবে...। এ কি পুজোর কাউন্ট ডাউনের থেকে কম কিছু? আষাঢ় মাসের দু’-তিন তারিখ হয়ে গেলেই হাওয়া অফিসকে পথে-ঘাটে-বাড়িতে গালমন্দ করা। এরা কোনও কাজের না। আর সুবিধায় কাছে টানা, বিপদে দূরে ঠেলায় বিশ্বরেকর্ড তো এই জাতির রয়েইছে। এই বাংলা যেমন তীব্র গরমে বৃষ্টির প্রার্থনায় প্রাণপাত করতে পারে, ঠিক তেমনই বর্ষা হুড়মুড়িয়ে এসে পড়লে বিরক্তির চরম সীমানা পর্যন্ত প্রদর্শনেও সে সক্ষম। সেই ভ্রু কোঁচকানোটা অবশ্যই অফিস যাত্রার তাড়ার বেলায়। যেখানে ছাতাকে হার মানিয়ে বৃষ্টির তোড় জুতো, মায় প্যান্টের নব্বই শতাংশ পর্যন্ত ভিজিয়ে দেয়। আর ছাতা গুটিয়ে অফিসে ঢুকতে ঢুকতে বাবু গজরাতে থাকেন... ‘ধুত্তোর, এবার এসির মধ্যে গোটাটা শুকোবে। ঠান্ডা লাগতে বাধ্য।’ আবার কাজের টেবিলের পাশের জানালা দিয়ে যখনই চোখটা বাইরে যাবে, কাজলকালো আকাশে বুঁদ হয়ে আনমনা হাতে ফোন বাজাবেন বাড়িতে... ‘শুনছ, আজ যদি খুব অসুবিধা না হয় রাতে একটু খিচুড়ি করবে? সঙ্গে ডিমভাজা! ওফ্‌ফ্‌, যা বৃষ্টিটা নেমেছে না! দুর্দান্ত হবে। কী বলো?’ বর্ষার বৃষ্টিতে মাটির সোঁদা গন্ধ গায়ে মেখে খিচুড়ি যে আমাদের চিরকালীন অ্যাফেকশন! এর মাদকতা যাকে কাৎ করে না, সে তো বাঙালিই নয়! তবে হ্যাঁ, ডিমভাজা যতই হোক না কেন, ইলিশমাছের জন্য মনটা কেমন একটু আনচান করবেই। যদি এক টুকরো ইলিশ হত, তাহলে মজাই আলাদা। আজ রাতে খিচুড়ির সঙ্গে এক পিস, আর কাল রবিবার... ইলিশের তেল, তারপরে বেগুন-কালো জিরে দিয়ে ঝোল। সরষের প্রিপারেশনটা বেশি রিচ হয়ে যাবে। না হলে ওটাও মন্দ হত না। দেখি অফিস ফেরতা যদি পাওয়া যায়! জামাই ষষ্ঠীর আশপাশে হাজার-বারোশো ছাড়িয়েছিল। সেদিন খোঁজ নিয়েছি। আটশো-সাড়ে আটশোর কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে দামটা। তবে মনমতো সাইজ আর মিলছে কোথায়? সেই তো সাড়ে পাঁচশো থেকে সাড়ে ছ’শো গ্রাম। তা যাই হোক না কেন, ইলিশ বলে কথা! পিসগুলো সব রাউন্ড করে কাটাতে হবে। পেটি-গাদা মিলিয়ে। ওফ্‌ফ্‌ কী খাওয়াটাই না হবে কাল!
বর্ষা মানেই ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি, পঞ্চাননতলার এক কোমর সমান জল। বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাসরাস্তা পর্যন্ত যাওয়ার জো নেই। অগত্যা রিকশ ভরসা। আর একবার কোমরজলে তিনচাকায় চেপে বসলে পকেটের চিন্তাভাবনা পকেটেই রেখে দিতে হয়। যাত-আয়াতে দেখা যায় ছোট ছোট ছেলেরা দুদ্দার করে নেমে পড়েছে পুকুর উপচে আসা মাছের খোঁজে। ওই যেখানে রাস্তার সঙ্গে পুকুরটা একাকার হয়ে গিয়েছে, তাদের লক্ষ্য যে সেখানেই। কখনও কই, কখনও চারাপোনা। খাওয়ার তাগিদ নয়, তাদের যে মাছ ধরাতেই আনন্দ। ঠিক যেন কেটে উড়ে যাওয়া ঘুড়ির পিছে ছুটে যাওয়ার মতো। যার হাতে সুতোটা আসবে, সে-ই রাজাধিরাজ। প্ল্যাস্টিকের প্যাকেট, মশারির ছেঁড়া অংশ নিয়ে যারা নেমে পড়েছে, তাদের যেমন বর্ষাসুখ, তেমনই দৃষ্টিসুখে চোখ জুড়িয়ে যাওয়া সংসারের ভারে কুঁজো হয়ে যাওয়া লোকগুলোর। কলেজ ফেরত কখনও ইচ্ছে করে জল পাড়িয়ে যাওয়া। সদ্য যুবতীর কয়েকবার লাফিয়ে নিয়ে বলা, ‘ইস্‌, কতদিন এমন ছপাৎ ছপাৎ করিনি...’। আর দিনের শেষে কাদা পায়ে বাড়ি ঢুকলেই মায়ের চিৎকার... ওরে, তোকে কতবার বলেছি জুতোটা খুলে ঢুকবি! এই ভরসন্ধ্যায় এখন গোটা ঘর আমায় মুছতে হবে। ভাল্‌ লা঩গে না। মায়ের বকুনিটাও যেন জোর বৃষ্টির মধ্যে খানিক মেঘ ডাকার শব্দের মতো। বর্ষার সঙ্গেই বেমালুম খাপ খেয়ে যায়। কলেজ ফেরত সদ্য ভাঙা আড্ডার আসরের আমেজটা মিলিয়ে যেতে যেতেও যায় না। এখন তো আড্ডা বলতে মণি স্কোয়্যার, সাউথ সিটির অলিন্দ। যেখানে বেশিরভাগকেই ভিজে চুপচুপে হয়ে আসতে হয় না। ডাক দিলেই ক্যাব হাজির বাড়ির দোরগোড়ায়। আর আগে ভিজে যাওয়াটাই যেন ছিল ফ্যাশন। বাসস্ট্যান্ডের শেডের নীচে, কিংবা লেকের ধারে কোনও একটা বড় গাছের তলায়। যেখানে ফাঁকফোঁকর দিয়ে জল পড়ে অল্পবিস্তর ভিজিয়ে দিলেও তা গা সওয়া। ভাঁড়ের চা যেখানে একমাত্র বিলাসিতা। কখনও সখনও জুটে যাওয়া আলুর চপ। আর নিরন্তর চলতে থাকা কাউন্টার। ব্যাস। আর কী চাই? কিংবা বহু প্রতীক্ষিত কোনও একটা সন্ধ্যায় পৌঁছে বৃষ্টির দেমাক একটু কমতে না কমতেই দু’জনে বেরিয়ে পড়া। শুধুই হেঁটে যাওয়া। বর্ষা ছাড়া এই নির্ভেজাল তৃপ্তি আর কে-ই বা দেবে? তা সে যতই বর্ষার বদল হোক না কেন। শৈশব-কৈশোরের বর্ষা যেন যৌবন পার করে আর দেখা যায় না। কবিগুরুও তেমনই বোধহয় অনুভব করেছিলেন। তাই কলম ধরেছিলেন, ‘ছেলেবেলায় যেমন বর্ষা দেখতাম, তেমন ঘনিয়ে বর্ষাও এখন হয় না। বর্ষার তেমন সমারোহ নেই যেন, বর্ষা এখন যেন ইকনমিতে মন দিয়েছে—নমোনমো করে জল ছিটিয়ে চলে যায়—কেবল খানিকটা কাদা, খানিকটা ছাঁট, খানিকটা অসুবিধে মাত্র—একখানা ছেঁড়া ছাতা ও চীনে বাজারের জুতোয় বর্ষা কাটানো যায়...’। রবি ঠাকুর কি ভবিষ্যৎ মানব প্রজন্মেরও মন পড়তে জানতেন? নাকি বর্ষার কিপ্টেমোটা তিনি হাত গুনে বের করে ফেলেছিলেন? উত্তর জানা নেই। তবে একটা জিনিস বড্ড সত্যি, ফিরে দেখতে আমরা সকলেই ভালোবাসি। মনের গতিপথ যে বোঝা ভার! তাও সেই গতির বিপরীতে যাওয়া আসা করি। রোজ দিনের বেলায় যা অবিশ্বাস করি, রোজ রাত্রে তাই বিশ্বাস করি। বিশ্বাস যে স্বাধীন! যেদিকে খুশি যেতে পারে। ঠিক বর্ষার মতো। যখন খুশি নামতে পারে। আবার থামতেও পারে। সেই রবি ঠাকুর যখন ফিরে দেখেছিলেন তাঁর ছেলেবেলার বর্ষাকে, তাঁর লেখায় এসেছিল, ‘বর্ষার দিন আমাদের দীর্ঘ বারান্দায় আমরা ছুটে বেড়াতেম—বাতাসে দুমদাম করে দরজা পড়ত, প্রকাণ্ড তেঁতুলগাছ তার সমস্ত অন্ধকার নিয়ে নড়ত, উঠোনে একহাঁটু জল দাঁড়াত, ছাতের উপরকার চারটে টিনের নল থেকে স্থূল জলধারা উঠোনের জলের উপর প্রচণ্ড শব্দে পড়ত ও ফেনিয়ে উঠত, চারটে জলধারাকে দিক্‌হস্তীর শুঁড় বলে মনে হত। তখন আমাদের পুকুরের ধারের কেয়াগাছে ফুল ফুটত (এখন সে গাছ আর নেই)। বৃষ্টিতে ক্রমে পুকুরের ঘাটে এক-এক সিঁড়ি যখন অদৃশ্য হয়ে যেত ও অবশেষে পুকুর ভেসে গিয়ে বাগানে জল দাঁড়াত—বাগানের মাঝে মাঝে বেলফুলের গাছের ঝাঁকড়া মাথাগুলো জলের উপর জেগে থাকত এবং পুকুরের বড়ো বড়ো মাছ পালিয়ে এসে বাগানের জলমগ্ন গাছের মধ্যে খেলিয়ে বেড়াত, তখন হাঁটুর কাপড় তুলে কল্পনায় বাগানময় জলে দাপাদাপি করে বেড়াতেম। বর্ষার দিনে ইস্কুলের কথা মনে হলে প্রাণ কী অন্ধকারই হয়ে যেত...’। সত্যিই তো, বর্ষায় আবার স্কুল কী! বর্ষার নাগাড়ে বৃষ্টি মানেই তো রেনি ডে। সকাল সকাল ঘুম ভেঙে যদি আকাশকালো মেঘের দেখা মেলে, তাহলে প্রথম প্রার্থনা থাকত, ঠাকুর তেড়ে বৃষ্টি দাও। স্কুলটা ছুটি হয়ে যাবে। কখনও কখনও স্কুলে পৌঁছেও ছাত্রাভাবে ছুটির বার্তা আসত। সেও এক অন্য মজা। বৃষ্টি মাথায়, কাদা মাঠেই নেমে পড়া বল নিয়ে। কোথাও পা আটকে যাওয়া, কখনও গোলমুখী বল থমকে যাওয়া, আবার কোনও সময় সড়াৎ করে পিছলে পপাত ধরণীতলে। যে কোনওদিন ফুটবলে পা দেয়নি, তারো মন উসখুশ করত। বর্ষা ডাক দিত, নেমে পড়ো ভায়া, অপেক্ষা কীসের! আর সব শেষে ভিজে ভিজে বাড়ি ফেরা। জামা-প্যান্ট না শুকোলে আরও ভালো। পরদিনও ছুটি। এ যেন বর্ষা এলেই মনে পড়া বিভূতিভূষণ। অপু-দুর্গার মতো আম কুড়োতে যাওয়ার সুযোগ নেই তো কী! এখনও যেন ‘মুষলধারে বৃষ্টিপতনের হুস্‌-স্‌-স্‌-স্‌ একটানা শব্দ’ আর ‘ক্কড়-ক্কড়-কড়াৎ’ শব্দে বাজ পড়লে মন বলে ওঠে ‘নেবুর পাতায় করম্‌চা/ হে বিষ্টি ধরে যা—’।
ভয়ে সিঁটিয়ে যাওয়া অপুকে আগলে রাখার জন্য তখন না হয় দুর্গার আঁচল ছিল। আর এখন রক্ষাকবচ বলতে শুধু ছাতা। তা সে দাস-দত্ত হোক, কিংবা অখ্যাতনামা কোনও কালো কাপড়, প্ল্যাস্টিক হাতল। বর্ষার আগমনি গাওয়া হয়ে গেলে প্রত্যেকের সমান কদর। অটোরিকশর আনমনা যাত্রীর হাত থেকে হঠাৎ ছাতাটি রাস্তায় পড়ে গেলে তাই মন ডেকে ওঠে আগন্তুকেরও… রাস্তা থেকেই হাঁক পাড়েন, ‘ও দিদি, আপনার ছাতা...’। সম্বিত ফিরে ওই মহিলা শুধু কেন, সহযাত্রীরাও পড়িমড়ি করে অটো থেকে নেমে ছোটেন ছাতা কুড়োতে। পুনরুদ্ধারের পর বিজয়ীর বাণী, ‘যাক বাবা, বর্ষায় ছাতাটা তো পেয়ে গেলেন। ওটা বাসের নীচে গেলে এই বৃষ্টিতে একসা হতে হত।’ ছাতা নিয়ে পরের দরদ এমনই যে হয়। ভুলো মন অবশ্য তা মেনেও মানে না। তাই কখনও অফিসের ডেস্কে, কখনও বা বাসের সিটে ছাতা পড়ে থাকে অসহায়ের মতো। দু’ফোঁটা মাথায় পড়ার পর যখন খেয়াল হয়, ততক্ষণে অন্য কেউ আপন মনে করে সেই ছাতাটির সদ্ব্যবহার করতে শুরু করে দিয়েছেন। তাই তো নিজের উপর রাগ করে কত মানুষ ছাতাই নিতে চান না। জিজ্ঞেস করলে বলেন, ‘ছাতা নিয়ে বেরলেই হারিয়ে ফেলি যে! তাই হারানোর থেকে ভেজা ভালো।’ এমন বাঙালি এই বঙ্গভূমিতে খুঁজে পাওয়া ভার, যিনি একবারও ছাতা ফেলে আসেননি।
তবে ছাতা হারানো ততটা নয়, মেজাজটি বেজায় চিড়বিড় তখনই করে ওঠে, যখন আকাশ মহাশয় মুখ ভার করে বসে থাকেন, আর গুমোট দরদরিয়ে ঘাম ঝরার মধ্যে বিষফোঁড়া রূপে দেখা দেয় লোডশেডিং। ঘরে বসে দরদর করে ঘেমে যাওয়া ছাড়া আর কোনও কাজ নেই। যতক্ষণ না দূরে কোথাও দু’-এক পশলা বৃষ্টি হলে তার ঠান্ডা হাওয়াটা খোলা জানালা বেয়ে ঢুকে পড়ে। আর তার পিছে পিছে আসা বৃষ্টি। তোপসের তাও একটা মনবদলের খোরাক ছিল। ফেলুদা এবং তার মক্কেলরা। এবং অবশ্যই সিধুজ্যাঠা। তাই তো সত্যজিৎ রায় অমন একটা বর্ণনা দিতে পারেন... ‘এই বৃষ্টির মধ্যেই কে জানি এসে আমাদের কলিং বেলটায় পর পর তিনবার সজোরে চাপ দিয়েছে। দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলতেই বৃষ্টির ছাঁটের সঙ্গে হুমড়ি দিয়ে ঘরে ঢুকলেন সিধুজ্যাঠা, আর তাঁর হাতের ছাতাটা ঝপাৎ করে বন্ধ করতেই আরও খানিকটা জল চারপাশে ছিটিয়ে পড়ল। কী দুর্যোগ কী দুর্যোগ একটু চা বল তোমার ওই ভালো চা...’।
সিধুজ্যাঠা এক নিঃশ্বাসে অর্ডার প্লেস করতেই পারেন। বাড়িতে অবশ্য অনুরোধ উপরোধই ভরসা। উপায়টাই বা কী? বৃষ্টির আবহে চায়ের সঙ্গত না হলে যে অনেকেরই চলে না! আর সঙ্গে তেলেভাজা-মুড়ি। ভূতের গল্পও সঙ্গে বেশ জমে।
আসলে বর্ষা হল এমন এক ঋতু, যা আসা মাত্র মনের অগোচরে থাকা যাবতীয় রোম্যান্টিকতাগুলো কীভাবে যেন গুটি গুটি পায়ে কচ্ছপের মতো বেরিয়ে আসে। ওই শক্ত খোলসটা ছাড়িয়ে। বৃষ্টির আওয়াজের সঙ্গে যেখানে সহজেই চাপা পড়ে যায় সর্বপ্রকার ঝঞ্ঝাট, পিএনপিসি, ব্যালান্স শিট মেলানোর টেনশন। বর্ষা যে উদার হতে শেখায়, প্রেম করতে শেখায়, আবার মন খারাপ করতেও শেখায়। বেসুর-অসুরও নিজের অজান্তে গেয়ে ওঠে ‘এল বরষা যে সহসা মনে তায়...’। রেডিওতেও লাগাতার বর্ষার সুর। বাজারের অদূরে সেলুনটা থেকে ভেসে আসে ‘রিমঝিম গিরে সাওয়ন’, আর বাজারের থলে ভরতে ভরতে বাবু গুনগুন করে ওঠেন। সুর মেলায় প্রকৃতিও। জগন্নাথ দেবের সঙ্গী হয়ে এই বঙ্গে এসে পৌঁছানোটাই তো বর্ষণমুখর আগমনি সুর... ‘বর্ষণগীত হল মুখরিত মেঘমন্দ্রিত ছন্দে/ কদম্ববন গভীর মগন আনন্দঘন গন্ধে’। আর এ তো চিরকালীন... আগেপিছে গরম যতই হোক না কেন, রথযাত্রা বৃষ্টির মুখ দেখবেই। হঠাৎ হালকা হয়ে যাওয়া আকাশ আর তখনই ভেজা মাটিতে গড়িয়ে যায় রথের চাকা। মেলায় পেশাদার দোকানিদের পাশে জায়গা করে নেওয়া পাড়ার উঠতি ছেলেদের পাঁপড়ভাজার আমেজ। জানান দেয়, ‘দহনশয়নে তপ্ত ধরণী পড়েছিল পিপাসার্তা/ পাঠালে তাহারে ইন্দ্রলোকের অমৃতবারির বার্তা।’
এই অঝোর ধারার শুভ সূচনার গায়ে গায়েই এসে পড়ে খুশির ইদ। মেঘের ফাঁকে চাঁদ খোঁজার পালা। খবরের কাগজের দপ্তরে ফোন করে জিজ্ঞেস করা, ‘দাদা, কাল ইদ হচ্ছে তো?’ মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকা চাঁদের খোঁজে আকাশপানে তাকিয়ে থাকা। সেই চাঁদ দেখতে পাওয়া মানে তো পিপাসা মেটানোরই শামিল! এরপর অপেক্ষা আর ক’দিন। তারপরই জন্মাষ্টমী। ভাদ্র মাসে কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি। বসুদেব যখন দেবকীর কোল থেকে সদ্যোজাতকে নিয়ে গোকুলের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন, সেও যে ছিল এক প্রবল বর্ষণের রাত। প্রায় এক মানুষ জল ঠেলে পিতা রেখে এসেছিলেন শ্রীকৃষ্ণকে। যশোদার কাছে। আর ওই দুর্দম বৃষ্টিতে সদ্যোজাতের ছাতা হয়ে গিয়েছিলেন বাসুকি। এমন ঋতু তো বাঙালির মনের খুব কাছের হবেই! এ যে উৎসবের বর্ষণ। রথের রশিতে টান লাগতেই মায়ের মূর্তি গড়ার সূচনা হয়ে গেল যে! একতাল মাটি, একটা কাঠামোর পুজো করে শুভ সূচনা জানান দিল, আর খুব বেশি দিন নয়। সঙ্গে সঙ্গে ক্যালেন্ডার উলটে দেখে নেওয়া..., ছুটির তালিকা, ট্রেনের টিকিট, ভিড় বেড়ে যাওয়ার আগে কেনাকাটা খানিক এগিয়ে রাখাও। হলই বা বৃষ্টি। ওই জল মাথায় নিয়েই দোকানে ঢুঁ মারা। আর ধারদেনা করে চাষের জমিতে লাঙল দেওয়া কৃষকের মনের আকাশে একটুকরো শান্তির মেঘ... যাক, ফসলটা এবার ভালো হবে।
দেশের সব রাজ্য থেকে কীভাবে যেন এই বাংলার বর্ষা আলাদা হয়ে যায়। রূপে, গুণে, প্রলয়ে, অনুভূতিতে... ‘নব-অঙ্কুর-জয়পতাকায় ধরাতল সমাকীর্ণ/ ছিন্ন হয়েছে বন্ধন বন্দীর... হে গম্ভীর।’ সত্যিই তো, আরও একটা কারণে বর্ষার সঙ্গে যে আম বাঙালির আত্মিক যোগ... ২২শে শ্রাবণও যে কারও নেই। এ শুধুই বাংলার মাটির, বাতাসের নিজস্ব। বর্ষার অঝোর ধারায়।
 গ্রাফিক্স: সোমনাথ পাল
 সহযোগিতায়: স্বাগত মুখোপাধ্যায়
09th  July, 2017
ইন্দিরা ১০০
প্রণব মুখোপাধ্যায়

ঐতিহাসিক এক সময়ের সন্ধিক্ষণে আজকের দিনে জন্মেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। ১০০ বছর আগে। প্রায় একই সময়ে ‘বলশেভিক’ আন্দোলনে কেঁপে উঠেছিল সারা পৃথিবী। ভারতও ঠিক ওই বছরই মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ণ উদ্যমে লড়াইয়ের জন্য তৈরি হয়। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের উদ্যোগে স্বাধীনতা সংগ্রামে ওতপ্রোতভাবে অংশ নিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধীর ঠাকুরদা এবং বাবা। সেই পরিবারেরই মেয়ে হয়ে জন্মান ইন্দিরা গান্ধী।
বিশদ

19th  November, 2017
শোনপুর মেলা
মৃন্ময় চন্দ

খ্রিস্টপূর্ব ৩৪০ থেকে ২৯৭। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য এসেছেন শোনপুরের মেলায়। সৈন্যবাহিনীর জন্য হাতি কিনবেন। পদব্রজে নাকি এসেছেন ফা-হিয়েন ও হিউয়েন সাং! এসেছেন গন্ধর্ব প্রধান হু হু ও পাণ্ডস্যের রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন। অভিসম্পাত-গ্রস্ত গজ-গ্রহ রূপী তাদের মরণপণ যুদ্ধে শোনপুরের হরিহরক্ষেত্রে আগমন ঘটেছে হরি এবং হরের। কালক্রমে শোনপুর মেলা হয়ে উঠেছে দেবক্ষেত্র। অতুলনীয়, ব্যতিক্রমী শোনপুর মেলার আছে কেবলই দারিদ্রের ঐশ্বর্য। সাধারণ মানুষ এই মেলার প্রতিভূ। এ মেলায় তাই সবাই রাজা। সকলে স্বাগত!
বিশদ

12th  November, 2017
’৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ৭৫ বছর 

অমর মিত্র: ক্রিপস মিশন ব্যর্থ হয়েছিল। সেখানে পূর্ণ স্বরাজের বার্তা ছিল না বলে। আর কংগ্রেস চেয়েছিল, গান্ধীজি চেয়েছিলেন স্বাধীন ভারত। যে কারণে ৭৫ বছর আগে শুরু হয় ইংরেজ ভারত ছাড়ো আন্দোলন। সেই গান্ধীজিরই নেতৃত্বে।  
বিশদ

05th  November, 2017
জগদ্ধাত্রী
নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

 জগদ্ধাত্রী ঠাকুরের রূপ-কল্পনা এবং পুজোবিধি থেকেই বোঝা যায় যে, জগদ্ধাত্রী পুজোর সৃষ্টিই হয়েছে দুর্গাপুজোর পরিপূরণী সমব্যথার কারণে। তবে হ্যাঁ, বিশেষত্ব একটা আছে এবং সেই বিশেষত্ব তাঁর নামেই লুকানো আছে।
বিশদ

29th  October, 2017
সাম্প্রতিক বাংলা থিয়েটার: কিছু কথা
ব্রাত্য বসু

থিয়েটারের অর্থনীতি আসলে দু’রকম। প্রথমটি হল দলের অর্থনীতি। দ্বিতীয়টি হল দলের সদস্যদের ব্যক্তিগত অর্থনীতি। দলের অর্থনীতি প্রধানত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। প্রথমত, সরকারি গ্রান্ট তথা অনুদান।
বিশদ

22nd  October, 2017
চিরদুঃখী অতুলপ্রসাদ সেন
প্রণব কুমার মিত্র

লখনউয়ের বিখ্যাত ব্যারিস্টার এ পি সেন সাহেব বা অতুলপ্রসাদ সেন কোর্টের পর গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির সদর দরজা পেরিয়ে সুন্দর সবুজ লনের এককোণে দেখলেন দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আর সেই আগুনে এক এক করে দামি দামি স্যুট, জামাকাপড় পোড়াচ্ছেন তাঁরই সহধর্মিণী হেমকুসুম। কয়েকদিন দু’জনের অশান্তি চলছিল।
বিশদ

22nd  October, 2017
আতশবাজির ইতিকথা
বারিদবরণ ঘোষ

আকাশের গায়ে বারুদের গন্ধটা কালীপুজোর মরশুমে খুব চেনা। তা সে কাঠকয়লার সঙ্গে সোরা মেশানো হলদে আলো হোক কিংবা বুড়িমার চকোলেট। আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহকারীদের হাত ধরে আতশবাজির সৃষ্টি। যা আজও আনন্দ দিয়ে চলেছে মানবমননকে। বিশদ

15th  October, 2017
বিজয়া স ম্মি ল নী 

‘মা’কে তাড়ানোর কোনও তাড়া যে তখন ছিল না! ছিল না মোবাইলে মজে শারদ মাধুর্যকেই উপেক্ষা করার বাতিক। রক্তের সম্পর্কের থেকে খুব কম যেতেন না পাড়ার দাদারা। সে যেন একটাই পরিবার। আর সেই পরিবারের সবে মিলে বিজয়া সম্মিলনী। কখনও মঞ্চে হাজির শ্যামলদা, কখনও বা মানবেন্দ্র। তাঁরাও যে কাছেরই মানুষ! নিছক ‘সাংসকিতিক সন্ধা’ নয়, বিসর্জনের বিষণ্ণতাকে সাক্ষী করে শারদ বাতাস যেন তখন বলত, শুভ বিজয়া। 
বিশদ

08th  October, 2017
সাত বাড়ি আর এক বারোয়ারি 

প্রফুল্ল রায়: তখনও দেশভাগ হয়নি। অখণ্ড বঙ্গের পূর্ব বাংলায় ঢাকা ডিস্ট্রিক্টের একটা বিশাল গ্রামে ছিল আমাদের আদি বাড়ি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম আমরা সেখানে কাটিয়েছি। পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ এবং শত জলধারায় বহমান আরও নদ-নদী, খাল-বিল, শস্যক্ষেত্র। অজস্র পাখপাখালি, আম জাম হিজল আর সুপারি বনের সারি, সব মিলিয়ে পূর্ববাংলা ছিল এক আশ্চর্য স্বপ্নের দেশ।
বিশদ

24th  September, 2017
অকাল বোধন 

নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি: ‘অকাল’ শব্দটির মধ্যে একটা অদ্ভুত এবং প্রায় বিপরীত ব্যঞ্জনা আছে। যেমন একটি কৈশোরগন্ধি যুবক ছেলেকে যদি বলি ‘অকালপক্ব’, তাহলে অবধারিতভাবে কথাটির মানে দাঁড়াবে যে, ছেলেটির যা বয়স এবং তদনুযায়ী যা তার বিদ্যাবুদ্ধি হওয়া উচিত কিংবা বয়স অনুযায়ী তার যা কথাবার্তার ধরন তৈরি হওয়া উচিত, তার চাইতে বেশি বয়সের বহু-অভিজ্ঞ মানুষের মতো সে কথা বলছে, বা তেমন ভাবসাব দেখাচ্ছে।
বিশদ

24th  September, 2017
বিশ্বকর্মা
সন্দীপন বিশ্বাস

তিনি দেবশিল্পী। দেবকুলের সকল কর্মের সাধক। রাবণের স্বর্ণলঙ্কা, শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকাপুরী, কিংবা হস্তিনাপুর—তঁার শিল্পছেঁায়ায় সব স্থাপত্যই পৌরাণিক উপাখ্যানে অমরত্ব লাভ করেছে। কখনও তিনি তৈরি করছেন হরধনু, কখনও বজ্র। যার সাহায্যে দুষ্টের দমন করেছেন দেবগণ।
বিশদ

17th  September, 2017
শিকাগো বিজয় ১২৫
তাপস বসু

১২৫ বছর আগে এক তরুণ সন্ন্যাসী সীমিত ক্ষমতা নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন সাগরপারে। শিকাগোর এক ধর্ম সম্মেলনে যদি পেশ করা যায় বৈদিক দর্শনের বিস্তারকে। শত বাধা পেরিয়ে মঞ্চে দঁাড়িয়ে আমেরিকার মানুষকে এক লহমায় করে ফেলেছিলেন ‘ভ্রাতা ও ভগিনী’। আজ ফিরে দেখা সেই স্বামী বিবেকানন্দকে। যঁার শিক্ষা আজও সমাজের ভিত্তিপ্রস্তর।
বিশদ

10th  September, 2017
 সেইসব শিক্ষক
কল্যাণ বসু

যখন আমরা ভাবি সব জেনে গিয়েছি, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকে আমাদের শেখা বন্ধ হয়ে যায়... বলেছিলেন সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ। যাঁর জন্মদিন পালিত হয় শিক্ষক দিবস হিসাবে। স্বনামধন্য বহু ব্যক্তির শিক্ষকরাও যে ছিলেন এমনই! কেউ প্রচারের আলোয় এসেছেন, কেউ আসেননি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। সবারই এমন মহান শিক্ষকদের সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল।
বিশদ

03rd  September, 2017
দুশো বছরের বাংলা কাগজ

 দিগদর্শন, বাঙ্গাল গেজেট ও সমাচার দর্পণের লেখনিতে ভর করে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার দ্বিশতবর্ষ পূর্ণ হচ্ছে। বাংলা খবরের কাগজ কখনও হয়ে উঠেছে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শক্তিকে নাস্তানাবুদ করার হাতিয়ার, কখনও অন্তর্জলি যাত্রার মতো সামাজিক রোগের মারণ ওষুধ, আবার কখনও পরিবর্তনের ঝড়। গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য, দাদাঠাকুরদের সাহসী কলমের সে ভার বহন করে এসেছেন সন্তোষকুমার ঘোষ, গৌরকিশোর ঘোষ এবং বরুণ সেনগুপ্তরা। ২০০ বছর পরও তাই বাংলা সংবাদপত্র একইরকম নবীন।
বিশদ

27th  August, 2017
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডিমের দাম আকাশছোঁয়া। কমার নামগন্ধ নেই। সাত থেকে সাড়ে সাত টাকায় শহর ও শহরতলির বাজারে বিক্রি হচ্ছে পোলট্রির ডিম। এমন অবস্থায় রাজ্য ...

বিএনএ, শিলিগুড়ি: শনিবার গভীর রাতে ভক্তিনগর থানার সেভক রোডের একটি গুদামে দুষ্কৃতী হামলায় এক নিরাপত্তা রক্ষী খুন হন। পুলিস জানিয়েছে, নিহত নিরাপত্তারক্ষীর নাম রঘুনাথ রায়(৬২)। অভিযুক্তের খোঁজে পুলিস তল্লাশি শুরু করেছে।  ...

সুকান্ত বেরা: সকালটা যদি হয় মহম্মদ সামির, তাহলে বিকেলের নায়ক অবশ্যই শিখর ধাওয়ান। তবুও রবিবাসরীয় ইডেনে ভারতীয় ক্রিকেটারদের সাফল্যের পাশাপাশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল দিলরুবান ...

বিএনএ, চুঁচুড়া: রবিবার শেষদিনে কার্তিক ঠাকুর দেখার জন্য সকাল থেকেই বাঁশবেড়িয়ার মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় জমালেন দর্শনার্থীরা। বেলা যত গড়িয়েছে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রেম-প্রণয়ে নতুনত্ব থাকবে। নতুন বন্ধু লাভ, ভ্রমণ ও মানসিক প্রফুল্লতা বজায় থাকবে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৫০- মহীশূরের শাসক টিপু সুলতানের জন্ম।
১৯১০- রুশ সাহিত্যিক লিও তলস্তয়ের মৃত্যু।
১৯১৭- কলকাতায় প্রতিষ্ঠা হল বোস রিসার্চ ইনস্টিটিউট।
১৯৫৫- নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের পক্ষে টেস্টে প্রথম দ্বিশতরান করলেন উমরিগড় (২২৩)।  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.০০ টাকা ৬৫.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৩২ টাকা ৮৭.১৯ টাকা
ইউরো ৭৫.২০ টাকা ৭৭.৮৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
18th  November, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,১৯৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৬৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
19th  November, 2017

দিন পঞ্জিকা

৪ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৯/৩৬, নক্ষত্র-জ্যেষ্ঠা রাত্রি ১২/৪৮, সূ উ ৫/৫৬/২৫, অ ৪/৪৮/৪, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৭/২৩ মধ্যে পুনঃ ৮/৫০ গতে ১১/০ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/২৬ গতে ১০/৬ মধ্যে পুনঃ ২/২৭ গতে ৩/১৯ মধ্যে, বারবেলা ঘ ৭/১৮ গতে ৮/৪০ মধ্যে পুনঃ ২/৫ গতে ৩/২৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৪ গতে ১১/২২ মধ্যে।
৩ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৭/৪২/২৮, জ্যেষ্ঠানক্ষত্র ১১/৫৫/৩৬, সূ উ ৫/৫৬/৫৮, অ ৪/৪৬/৫৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/২৩/৩৮, ৮/৫০/১৮-১১/০/১৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৪/৫৮-১০/৫৫/১৮, ২/২৫/৩৭-৩/১৮/১৮, বারবেলা ২/৪/২৮-৩/২৬/৪৩, কালবেলা ৭/১৮/১৩-৮/৩৯/২৮, কালরাত্রি ৯/৪৩/১৩-১১/২১/৫৮। 
৩০ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বারুইপুর স্টেশনে অবরোধ উঠল, শিয়ালদহ বিভাগের প্রতিটি শাখায় ৮টা ৩৪ মিনিট থেকে ফের শুরু ট্রেন চলাচল

09:07:41 PM

রেল অবরোধ ঘিরে ধুন্ধুমার বারুইপুর স্টেশন

 বেআইনি উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে রেল অবরোধকে কেন্দ্র করে ...বিশদ

08:40:29 PM

লুধিয়ানায় প্লাস্টিক কারখানায় আগুন, মৃত ৩
লুধিয়ানায় একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ...বিশদ

08:13:00 PM

ফের দালাল চক্রের অভিযোগ এসএসকেএম হাসপাতালে

 ফের দালাল চক্রের অভিযোগ উঠল এসএসকেএম হাসপাতালে। টাকা নিতে গিয়ে ...বিশদ

07:10:02 PM

 বিহারের গোপালগঞ্জে হাইটেনশন লাইনের বিদ্যুৎস্পৃশ্য হয়ে মৃত ৫, গুরুতর আহত ৩

06:22:00 PM