প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

 বাঙালির রথযাত্রা

পুরীর জগন্নাথ দেবের দর্শনের প্রত্যাশা নিয়ে বাঙালির প্রজন্মের পর প্রজন্ম বড় হয়ে ওঠে। রামায়ণ-মহাভারতের আমলের এক বাহন, অর্থাৎ ওই রথের রশি ছুঁয়ে পুণ্যের ভাগীদার হতে চায়। সাহিত্যে যার সঙ্গে পরিচয় করান বঙ্কিমচন্দ্র। বাংলার ঘরে ঘরে রথযাত্রাকে উপলক্ষ করে কেউ ধরে রাখেন ঐতিহ্য, কেউ বা শুধুই দেব আরাধনার অঙ্গীকার।

হারাধন চৌধুরী: বাঙালি এক আমুদে জাতি। আনন্দের জন্য পরব খুঁজে নিতে বাঙালির জুড়ি মেলা ভার। বাঙালির কাছে দেবতারা কঠিন কঠোর কিছু নন। দেবতারাই হলেন সবচেয়ে আপন বা অতি প্রিয় কেউ, যাঁকে আঁকড়ে ধরে থাকতে না পারলে বাঙালির সব আনন্দ, সব সুখানুভূতি যেন মাটি হয়ে যায়। অতএব একজন না একজন দেবতাকে সামনে রেখেই পার্বণ সাজিয়ে নেয় তারা। সেই থেকেই ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’ কথাটি এসেছে। ‘তেরো’ কথাটি ‘বহু’ অর্থেই প্রযোজ্য হয়। সংস্কৃতি সম্পর্কে এমন যাদের উপলব্ধি, রথযাত্রার মতো একটি পার্বণ বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে তাদের মাতিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। রথযাত্রার মধ্যে মাটি বা ভূমির টানই খুঁজে পায় বাঙালি। রথযাত্রাই বাঙালির প্রথম সর্বজনীন উৎসব বললে অত্যুক্তি হবে না।
রথ কোনও দেবতা নয়, বাহন। এই যানটি অন্তত রামায়ণ, মহাভারতের যুগের। গীতার প্রচ্ছদে অর্জুনের ঘোড়ায় টানা রথে শ্রীকৃষ্ণ—এই ছবি দেখেই বড় হয় হিন্দুর সন্তান। পুরাণে দেখা যায়, সাত ঘোড়ায় টানা রথের আরোহী সূর্যদেব। তবে রথের উপর ভারতবাসী বা বাঙালির একচেটিয়া অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাওয়া ঠিক নয়। প্রাচীনকালে বহু দেশে দেবতা থেকে রাজা—সকলেরই ক্ষমতা ও আভিজাত্য প্রতিষ্ঠার একটি মাধ্যম হিসাবেই গণ্য হত রথ। গ্রিসেও রথের দৌড়ের উল্লেখ পাওয়া যায় প্রাচীন সাহিত্যে। খিস্ট্রীয় চতুর্থ শতকে পশ্চিম চীনের খোটান অঞ্চলে ভগবান বুদ্ধের মূর্তি রথে সাজিয়ে উৎসবে মেতে উঠত তাঁর ভক্তরা। চৈনিক পরিব্রাজক ফা হিয়েনের ভ্রমণ বৃত্তান্তে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। ভারতের পাটলিপুত্রেও বুদ্ধজয়ন্তীর দিন অনুরূপ রথযাত্রা হত। রথযাত্রা জৈনদেরও একটি জনপ্রিয় উৎসব। জৈনদের মতে, আসলে এই উৎসব নাকি তাদেরই। কালক্রমে সেটাই আপন করে নিয়েছে হিন্দুরা, ভগবান শ্রীজগন্নাথকে সামনে রেখে।
বাংলা সাহিত্য পাঠককে রথের মেলার সঙ্গে পরিচয় করে দিয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। বঙ্কিমচন্দ্রের কাহিনির ‘রাধারাণী’র সঙ্গে তার ‘আরাধ্য দেবতা’ রুক্মিণীকুমার ওরফে দেবেন্দ্রনারায়ণের প্রথম পরিচয় হয়েছিল মাহেশের রথের মেলায়। আমরা জানি, রাধারাণী আদপে ধনীর কন্যা। জ্ঞাতিহিংসার শিকার হয়ে তাদের পরিবারটির ভিখারি দশা হয়। অসুস্থ বিধবা মায়ের জন্য পথ্য কেনা জরুরি হয়ে পড়ে একদিন। সেদিন ছিল রথের মেলা। এগারো বছরের রাধারাণী বনফুল তুলে মালা গেঁথে শ্রীরামপুর থেকে একাই চলে গিয়েছিল মাহেশে রথের মেলায়। ভেবেছিল মেলায় মালা বেচে যা পাবে তা দিয়েই সে মায়ের জন্য পথ্য কিনে বাড়ি ফিরবে। কিন্তু, বিধি বাম! রথের টান অর্ধেক হয়েছে কী হয়নি! ধেয়ে এল প্রবল বৃষ্টি। দুর্যোগ আর থামে না! জমে ওঠার আগেই ভেঙে গেল মেলা। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত্রির অন্ধকারও নেমে এল। একে সে একা কিশোরী, তায় হারিয়েছে পথ। রাস্তাও যা—তা কাদাময়, পিছল। অতএব বনফুলের মালাখানি বুকে চেপে ধরে ভিজে কাপড়ে কাঁদতে কাঁদতেই সে দিশাহীনভাবে হাঁটতে থাকে। এমন সময় যেন ভগবান জগন্নাথের কৃপাতেই তার হাত ধরেন রাজা দেবেন্দ্রনারায়ণ—জনৈক রুক্মিণীকুমার রায়ের পরিচয়ে। রুক্মিণীকুমারই সেই দুঃসময়ে কিশোরীকে হাত ধরে পথ চিনিয়ে তার বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, অচেনা অজানা যুবক রুক্মিণীকুমার সেদিন বড় হৃদয়েরও সাক্ষ্য রেখে গিয়েছিলেন। অন্ধকারে রাধারাণী তাঁর পরিত্রাতার মুখটি পর্যন্ত দেখার সুযোগ পাননি। ব্যাপারটা একইরকম ঘটেছিল রুক্মিণীকুমারের বেলাতেও। তবু, বিধাতার লিখনে যেন সেদিনই সারা হয়ে গিয়েছিল তাঁদের মন দেয়া-নেয়ার পর্বটি। তার পর কেটে গিয়েছে আটটি বছর। ইতিমধ্যে বিলাতে প্রিভি কাউন্সিলের রায় রাধারাণীদের পক্ষে গিয়েছে। আবার তার মা-ও মারা গিয়েছেন। তার ফলে রাতারাতি বিপুল পৈতৃক ধন সম্পত্তির একমাত্র উত্তরাধিকারিণী হয়ে গিয়েছে রাধারাণী। এমনই সময়ে নাটকীয়ভাবে রাধারাণীর জীবনে প্রত্যাবর্তন ঘটে আসল রাজা দেবেন্দ্রনারায়ণের—একদিন অন্ধকারে হাতধরা ইস্তক রাধারাণী যাঁকে তার আরাধ্য দেবতা মেনে এসেছিল। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ কাহিনিটি মাহেশের রথের মেলাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে অতি সুন্দরভাবে।
রথযাত্রা প্রসঙ্গে প্রথমেই পুরুষোত্তম শ্রীজগন্নাথ এবং শ্রীক্ষেত্র পুরীর কথা মনে আসে। জায়গাটি উৎকল দেশে হলেও পুরীর সঙ্গে বঙ্গদেশ ও বাঙালির সম্পর্ক বহুকালের। আর সেটা সম্ভব হয়েছিল পাঁচ শতাধিক বছর আগের বঙ্গসন্তান মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের জন্য। তিনি কার্যত ‘নীলাচল নবদ্বীপ যেন দুই ঘর’ করে ফেলেছিলেন। বঙ্গদেশে তখন হোসেন শাহের আর উৎকলে মহারাজা প্রতাপরুদ্রের শাসন। তাঁদের মধ্যে যুদ্ধ-বিবাদ লেগেই থাকত। ফলে বঙ্গদেশের সীমান্ত অতিক্রম করে উৎকলে প্রবেশ করাটাই ছিল চ্যালেঞ্জ। এরপর ভাবা দরকার, সেকালে যানবাহন বলে কিছু ছিল না। ছিল না সব ঋতুতে চলাচলের উপযোগী রাস্তাঘাট। দুর্গম পথে ছিল দস্যু, ঠগ প্রভৃতিরও ভয়ংকর দৌরাত্ম্য। প্রাণভয় উপেক্ষা করে সুদীর্ঘ দুর্গম পথ অতিক্রম করার একমাত্র ভরসা ছিল নিজের নিজের পায়ের জোর। হেঁটে বঙ্গদেশের যে-কোনও প্রান্ত থেকে পুরী পৌঁছাতে মাসাধিক কাল কেটে যেত। বৃন্দাবনে গমনের আর্তি হারিয়ে মহাপ্রভু এক সময় নীলাচল অভিযান করার জন্যই ব্যাকুল হলেন। সে সম্পর্কে শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুর তাঁর শ্রীচৈতন্য ভাগবতে লিখলেন—‘‘চলিলেন প্রভু নীলাচল নিজপুরে।’’ কালে কালে সমগ্র হিন্দু বাঙালি জাতি এভাবেই অনুসরণ করল তাঁকে। পুরীই পরিণত হল সব বাঙালির নিজপুরে। পুরীই হয়ে উঠল তাদের কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ তীর্থক্ষেত্র। বলার অপেক্ষা রাখে না যে—পুরীতে গিয়ে ‘জয় জগন্নাথ’ বলে রথের রশিতে একটিবার টান দিতে পারলে তারা অনুভব করে যে, এতদিনে জনম সার্থক হয়েছে তাদের।
তীর্থং কুর্বন্তি তীর্থানি। তীর্থের মাহাত্ম্য সাধারণ নরনারীর কাছে তুলে ধরার জন্যই মহাপুরুষরা তীর্থভ্রমণ করেন। অপর যুগশ্রেষ্ঠ পুরুষ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দেওঘর, কাশী, বৃন্দাবন, প্রয়াগ প্রভৃতি তীর্থে গিয়েছেন। কিন্তু, উল্লেখযোগ্য তীর্থগুলির মধ্যে গয়া ও পুরী দর্শনে কোনওদিনই যাওয়া হয়নি তাঁর। ঠাকুরের তিরোধানের দু’বছর বাদে ১৮৮৮ সালে মা সারদা দেবী শ্রীক্ষেত্র পুরী গিয়েছিলেন। কলকাতা থেকে বড় জাহাজে তাঁকে চাঁদবালি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। তার পর সেখান থেকে স্টিমারে নিয়ে যাওয়া হয় কটক। কটক থেকে মা পুরী পৌঁছান গোরুর গাড়ি চেপে। সে-বার মায়ের সঙ্গ পেয়েছিলেন শরৎ ও রাখাল মহারাজ, যোগানন্দ স্বামী প্রমুখ। ঠাকুর কখনও পুরীতে জগন্নাথ দর্শন করেননি বলে মা ঠাকুরের একখানি ছবি কাপড়ের ভিতরে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। রামকৃষ্ণদেবের ওই ছবিখানিই পুরীতে জগন্নাথ দর্শন করেন। জগন্নাথ দর্শনের পর মা বলেছিলেন, ‘‘জগন্নাথকে দেখলুম যেন পুরুষসিংহ, রত্নবেদীতে বসে রয়েছেন, আর আমি দাসী হয়ে তাঁর সেবা করছি।’’
অন্যদিকে, বলরাম বসু দীর্ঘকাল ওড়িশায় ছিলেন। সম্ভবত সেই সুবাদে প্রভু জগন্নাথের প্রতি তাঁর বিশেষ টান ছিল। তাই বাবার ডাকে কলকাতায় ফিরে বাড়িতে জগন্নাথ বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলরামবাবু। বলরাম মন্দিরে রথযাত্রাও করেছেন তিনি। ঠাকুর পুরী যাননি ঠিকই, তবে রথযাত্রার সময় পুরীর লীলাই করেছেন বলরাম মন্দিরে। ঠাকুর রামকৃষ্ণের লীলাস্থল হিসাবে দক্ষিণেশ্বর যদি দেওয়ান-ই-খাস হয়ে থাকে তবে বাগবাজারে বলরাম মন্দিরটি ছিল তাঁর দেওয়ান-ই-আম। দক্ষিণেশ্বরে সবার কাছে পৌঁছাতে পারছিলেন না বলেই বোধহয় ঠাকুর এগিয়ে এসেছিলেন বলরাম মন্দিরে। ঠাকুর বাইরে কোথাও অন্ন গ্রহণ করতেন না। ব্যতিক্রম ছিল বলরাম মন্দির। ঠাকুর বলতেন, ‘‘বলরামের অন্ন শুদ্ধ অন্ন। এখানে জগন্নাথের ভোগ হয়।’’ জগন্নাথের অন্ন প্রসাদকে ঠাকুর ব্রহ্মের স্বরূপ বলে মনে করতেন।
ঠাকুর নিজ চর্মচক্ষে জগন্নাথ দর্শন করেছেন, রথের রশি ধরে টেনেছেন আরও একটি জায়গায়—এই মাহেশে। সেখানে তিনি গিয়েছেন একাধিকবার। শ্রীশ্রীলাটু মহারাজের স্মৃতিকথায় উল্লেখ পাওয়া যায় যে, ঠাকুর একবার উলটো রথের দিন মাহেশে গিয়েছিলেন। দক্ষিণেশ্বরে গিরীন্দ্রবাবুকে পেয়ে ঠাকুরই সেখানে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন—‘‘দ্যাখ গো! আজ মাহেশের রথযাত্রা দেখতে ইচ্ছে হচ্চে।’’ একটি নৌকা ভাড়া করে ঠাকুরকে মাহেশের রথ দেখতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ঠাকুরের সঙ্গী হয়েছিলেন লাটু মহারাজ।
মাহেশের রথযাত্রাই বঙ্গদেশের সবচেয়ে বড় রথ উৎসব। মাহেশে জগন্নাথ দেবের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন পরম ভাগবত ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী। ধ্রুবানন্দ একবার পুরীতে গিয়ে ভগবান জগন্নাথকে নিজের হাতে অন্ন রেঁধে খাওয়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, পুরীর মন্দিরের কিছু পাণ্ডার আপত্তিতে তাঁর বাসনা অপূর্ণ রয়ে যায়। এতে ধ্রুবানন্দের খুব দুঃখ হয়। কথিত আছে—দুঃখিত হন স্বয়ং ভগবানও। সেদিন রাতেই তিনি পরম ভক্ত ধ্রুবানন্দকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে বলেন, ‘‘তুমি গঙ্গার তীরে মাহেশে যাও। তুমি সেখানেই আমাকে দেখতে পাবে এবং তোমার মনের মতো করে সেবা কোরো আমায়।’’ সেইমতো ধ্রুবানন্দ হুগলিতে শ্রীরামপুর থেকে দু’মাইল দূরে আকনা মাহেশে যান। সেখানে গঙ্গার জলে শ্রীজগন্নাথ দেবের দারুমূর্তি ভাসতে দেখে তাঁর আনন্দ আর ধরে না। কাছেই জঙ্গল পরিষ্কার করে শ্রীজগন্নাথের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন ধ্রুবানন্দ। মাহেশে শুরু হয় প্রভুর সে বা এবং পুরীধামের অনুকরণে শ্রীজগন্নাথ দেবের নানাবিধ লীলাপর্ব অনুষ্ঠান। দিকে দিকে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে বঙ্গদেশের জগন্নাথধাম হিসাবে মাহেশের নাম। ‘শ্রীশ্রীগৌড়ীয় বৈষ্ণব-জীবন’-এর গ্রন্থকার শ্রীহরিদাস দাসের মতো কারও কারও মতে, বঙ্গদেশের মধ্যে প্রথম মাহেশেই জগন্নাথ দেবের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত হয়।
রথকে বাঙালি কতটা আপন করে নিয়েছে তা বোঝাতে দীনেশচন্দ্র সেন লিখেছেন, ‘‘কাষ্ঠ গৃহের চূড়ান্ত শোভা বাংলার রথগুলোতে প্রদর্শিত হইত।’’ মাহেশের ছোঁয়া লেগেছিল দুই বঙ্গের আরও নানা স্থানে। যেমন হুগলির গুপ্তবৃন্দাবন গুপ্তিপাড়ার জাঁকজমকপূর্ণ বারোয়ারি রথযাত্রার কথা ছড়িয়ে পড়েছে চারশো বছর আগে থেকে। বৃন্দাবনচন্দ্রের এই রথযাত্রা উপলক্ষে বিশাল মেলা বসে এবং উলটো রথের আগের দিন ভাণ্ডার লুট উৎসব হয়। ১৮৪৫ সালে এই মেলায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়েছিল। মেলায় যাওয়ার পথে যাত্রীবোঝাই একটি নৌকাডুবির ফলে সেবার ৫৫ জন মারা যায়! গুপ্তিপাড়ার রথের গা নানা রকমের কাঠের পুতুলে সাজানো থাকত। যেমন চামরধারিণী, নর্তকী, কলসি কাঁখে রমণী, কৌপীনধারী সাধু থেকে হ্যাট মাথায় সাহেব প্রভৃতি। বাংলা যে ইংরেজের বড় উপনিবেশ, তার প্রভাব ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছিল এইভাবেই এখানকার ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান, উৎসবগুলিতে।
গ্রামবাংলার রাজা জমিদারদের মধ্যেও নিজ নিজ উদ্যোগে রথের উৎসব করার ঝোঁক দেখা যায়। এইভাবেই আমরা পেয়েছি কৃষ্ণনগর, মহিষাদল, বর্ধমান, চন্দ্রকোণা, বিষ্ণুপুর, সাদেকবাগ, বাওয়ালি, আন্দুল-মৌড়ি, গোবরডাঙা, কল্যাণচক, দশঘরায় এবং উত্তরবঙ্গের কোচবিহারসহ নানা স্থানের প্রাচীন রথের মেলা বা উৎসব। ১৬৫০ সালে হুগলির দশঘরায় ন’চূড়া, তেরোচূড়া ও একুশচূড়া রথ পরিক্রমার খবর পাওয়া যায়। পূর্ববঙ্গে নড়াইল এবং ঢাকার বেনিয়াজুড়ি ও ধামরাইও একসময় রথযাত্রার জন্য বিখ্যাত ছিল। নড়াইলের জমিদারদের রথের গায়ে মিথুন মূর্তি নিয়ে একবার ছি ছি পড়ে গিয়েছিল। সেকালের সংবাদপত্রও এর নিন্দা করতে ছাড়েনি। তাই ‘বাবুরা’ পরের বছর রথের পুনর্নির্মাণ করেন এবং পুরানো অশ্লীল মূর্তিগুলিকে বিদায় দেন। অশ্লীল মূর্তির জায়গা নেয় কিছু হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি। পিছিয়ে ছিল না কলকাতাও। বড়িশার সাবর্ণ চৌধুরি, ছাতুবাবু, চাঁপাতলায় জয়নারায়ণ চন্দ্র, বউবাজারে ধর, চোরবাগানে মল্লিক, জোড়াবাগারে ঘোষ প্রভৃতি ধনাঢ্য পরিবার ইংরেজ আমলে রথের আয়োজন করে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছিল। নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের পরিবারও রথের উৎসব করত। ১৮৬২ সালে বঙ্কিমচন্দ্রের বড়দা শ্যামাচরণ চট্টোপাধ্যায় এই রথযাত্রার সূচনা করেন। সেকালে এই উৎসব উপলক্ষে গৃহদেবতা শ্রীশ্রীরাধাবল্লভ জিউকে বিচিত্র সাজে সাজানো হত। সেখানে আয়োজন হত পুরাণের কাহিনিনির্ভর নানারকম পালাগানের। উৎসবের ক’দিন ওই বাড়িতেই থাকতেন বঙ্কিমচন্দ্র, সঞ্জীবচন্দ্র, শ্যামাচরণ, পূর্ণচন্দ্র প্রভৃতি বিখ্যাত ভাইগণ।
অন্যদিকে, বঙ্গদেশে অন্যরকম একাধিক রথযাত্রা অনুষ্ঠানেরও খবর পাওয়া যায়। যেমন আশ্বিন-কার্তিকে বিজয়া দশমীর দিন মহিষাদলের রামবাগে অনুষ্ঠিত হয় রাবণ রথের মেলা। ঘাটালের খাজানপুরে রথ আকার-প্রকারে বেশ বৃহৎ। আষাঢ়ে রথযাত্রা হলেও এখানে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার ঠাঁই হয় না। পরিবর্তে রথে থাকেন কষ্টি পাথরের রাধাবল্লভী ও পিতলের রাধা। এই মেলা উপলক্ষে কাঁঠাল খাওয়ার ব্যতিক্রমী এক ধুম পড়ে যায়। হাওড়ার মানসিংহপুরে আষাঢ়ের পরিবর্তে বৈশাখে বুদ্ধপূর্ণিমায় রথযাত্রা হয়। কথিত আছে সম্রাট আকবরের প্রধান সেনাপতি মানসিংহ হলদিঘাট যুদ্ধে যাওয়ার পথে অন্ধকার নেমে এলে তাঁরা এই গ্রামে সৈন্যশিবির স্থাপন করেন। সেই থেকেই গ্রামটি মানসিংহপুর নামে পরিচিতি পায়। ২৪টি গ্রাম নিয়ে বালিয়া পরগনার একমাত্র আরাধ্য দেবতা রাধাকান্ত জিউকে সন্তুষ্ট করতে তেরো চূড়া ও কুড়ি চাকার রথ নির্মাণ করা হয়। প্রবীণদের মুখে শোনা যায়, অতীতে এই উপলক্ষে লাঠিয়ালরা আসত। লাঠি, ছুরি, বল্লম, তরোয়াল নিয়ে ক্রীড়া প্রদর্শনীতে যোগ দিয়ে সকলকে চমৎকৃত করত তারা। এছাড়া চৈতী পূর্ণিমায় বলরামের রথযাত্রা হয় হাওড়ায় আমতা থানার সালিয়াড়া গ্রামে। নবম দিনে হয় উলটো রথও। আরও অতীতে এখানে রথযাত্রা হত বৈশাখে।
উল্লেখযোগ্য আর একটি ঘটনা এইরকম—দুশো বছরের বেশিকাল হল হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর থানার পাঁচারুল গ্রামের কোনও বাসিন্দা নাকি পুরীর জগন্নাথ দর্শনে যাননি! ওই প্রাচীনকালে প্রিয়নাথ গলয়া নামে ওই গ্রামের এক বাসিন্দা সপরিবারে পুরীর জগন্নাথ দর্শনে বেরিয়ে ছিলেন। কিন্তু, তাঁর আর যাওয়া হয়নি। কথিত আছে যে, পথেই প্রভু জগন্নাথ প্রিয়নাথকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে বলেছিলেন, ‘‘তুমি গাঁয়ে ফিরে যাও এবং সেখানেই আমার বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করো।’’ প্রিয়নাথ সেইমতো গ্রামেরই পঞ্চবটীতলায় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ প্রতিষ্ঠাসহ পুজোপার্বণ আরম্ভ করেন। প্রিয়নাথের উত্তরপুরুষরা সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। প্রিয়নাথের প্রতি জগন্নাথের নির্দেশের কথা মাথায় রেখেই নাকি সেখানকার কেউ পুরীতে গিয়ে জগন্নাথ দর্শনের ইচ্ছা করেন না।
ইতিহাস থেমে থাকে না। নীরবে এগিয়ে চলে সমকালকে সঙ্গী করে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই সূত্রেই আমরা পেয়েছি ইসকনের রথযাত্রা। ইসকনের রথের ব্যাপ্তি মায়াপুর থেকে প্রাচ্য প্রতীচ্যের নানা প্রান্ত। আজ থেকে ৫০ বছর আগে ১৯৬৭ সালের ৯ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোয় ইসকনের রথযাত্রার সূচনা হয়। কলকাতায় এই রথের এবার ৪৬তম বর্ষ। কলকাতার আজকের উল্লেখযোগ্য রথ বলতে ইসকনের রথকেই বোঝায়। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ বিশ্বাস করতেন ইসকনের রথযাত্রাই একদিন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ রথযাত্রায় পরিণত হবে। বাঙালির রথযাত্রা জয়যাত্রার সূচক হয়ে হয়তো সেদিকেই এগচ্ছে।
 
ছবি: অতূণ বন্দ্যোপাধ্যায়
গ্রাফিক্স: সোমনাথ পাল
25th  June, 2017
ইন্দিরা ১০০
প্রণব মুখোপাধ্যায়

ঐতিহাসিক এক সময়ের সন্ধিক্ষণে আজকের দিনে জন্মেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। ১০০ বছর আগে। প্রায় একই সময়ে ‘বলশেভিক’ আন্দোলনে কেঁপে উঠেছিল সারা পৃথিবী। ভারতও ঠিক ওই বছরই মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ণ উদ্যমে লড়াইয়ের জন্য তৈরি হয়। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের উদ্যোগে স্বাধীনতা সংগ্রামে ওতপ্রোতভাবে অংশ নিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধীর ঠাকুরদা এবং বাবা। সেই পরিবারেরই মেয়ে হয়ে জন্মান ইন্দিরা গান্ধী।
বিশদ

19th  November, 2017
শোনপুর মেলা
মৃন্ময় চন্দ

খ্রিস্টপূর্ব ৩৪০ থেকে ২৯৭। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য এসেছেন শোনপুরের মেলায়। সৈন্যবাহিনীর জন্য হাতি কিনবেন। পদব্রজে নাকি এসেছেন ফা-হিয়েন ও হিউয়েন সাং! এসেছেন গন্ধর্ব প্রধান হু হু ও পাণ্ডস্যের রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন। অভিসম্পাত-গ্রস্ত গজ-গ্রহ রূপী তাদের মরণপণ যুদ্ধে শোনপুরের হরিহরক্ষেত্রে আগমন ঘটেছে হরি এবং হরের। কালক্রমে শোনপুর মেলা হয়ে উঠেছে দেবক্ষেত্র। অতুলনীয়, ব্যতিক্রমী শোনপুর মেলার আছে কেবলই দারিদ্রের ঐশ্বর্য। সাধারণ মানুষ এই মেলার প্রতিভূ। এ মেলায় তাই সবাই রাজা। সকলে স্বাগত!
বিশদ

12th  November, 2017
’৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ৭৫ বছর 

অমর মিত্র: ক্রিপস মিশন ব্যর্থ হয়েছিল। সেখানে পূর্ণ স্বরাজের বার্তা ছিল না বলে। আর কংগ্রেস চেয়েছিল, গান্ধীজি চেয়েছিলেন স্বাধীন ভারত। যে কারণে ৭৫ বছর আগে শুরু হয় ইংরেজ ভারত ছাড়ো আন্দোলন। সেই গান্ধীজিরই নেতৃত্বে।  
বিশদ

05th  November, 2017
জগদ্ধাত্রী
নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

 জগদ্ধাত্রী ঠাকুরের রূপ-কল্পনা এবং পুজোবিধি থেকেই বোঝা যায় যে, জগদ্ধাত্রী পুজোর সৃষ্টিই হয়েছে দুর্গাপুজোর পরিপূরণী সমব্যথার কারণে। তবে হ্যাঁ, বিশেষত্ব একটা আছে এবং সেই বিশেষত্ব তাঁর নামেই লুকানো আছে।
বিশদ

29th  October, 2017
সাম্প্রতিক বাংলা থিয়েটার: কিছু কথা
ব্রাত্য বসু

থিয়েটারের অর্থনীতি আসলে দু’রকম। প্রথমটি হল দলের অর্থনীতি। দ্বিতীয়টি হল দলের সদস্যদের ব্যক্তিগত অর্থনীতি। দলের অর্থনীতি প্রধানত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। প্রথমত, সরকারি গ্রান্ট তথা অনুদান।
বিশদ

22nd  October, 2017
চিরদুঃখী অতুলপ্রসাদ সেন
প্রণব কুমার মিত্র

লখনউয়ের বিখ্যাত ব্যারিস্টার এ পি সেন সাহেব বা অতুলপ্রসাদ সেন কোর্টের পর গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির সদর দরজা পেরিয়ে সুন্দর সবুজ লনের এককোণে দেখলেন দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আর সেই আগুনে এক এক করে দামি দামি স্যুট, জামাকাপড় পোড়াচ্ছেন তাঁরই সহধর্মিণী হেমকুসুম। কয়েকদিন দু’জনের অশান্তি চলছিল।
বিশদ

22nd  October, 2017
আতশবাজির ইতিকথা
বারিদবরণ ঘোষ

আকাশের গায়ে বারুদের গন্ধটা কালীপুজোর মরশুমে খুব চেনা। তা সে কাঠকয়লার সঙ্গে সোরা মেশানো হলদে আলো হোক কিংবা বুড়িমার চকোলেট। আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহকারীদের হাত ধরে আতশবাজির সৃষ্টি। যা আজও আনন্দ দিয়ে চলেছে মানবমননকে। বিশদ

15th  October, 2017
বিজয়া স ম্মি ল নী 

‘মা’কে তাড়ানোর কোনও তাড়া যে তখন ছিল না! ছিল না মোবাইলে মজে শারদ মাধুর্যকেই উপেক্ষা করার বাতিক। রক্তের সম্পর্কের থেকে খুব কম যেতেন না পাড়ার দাদারা। সে যেন একটাই পরিবার। আর সেই পরিবারের সবে মিলে বিজয়া সম্মিলনী। কখনও মঞ্চে হাজির শ্যামলদা, কখনও বা মানবেন্দ্র। তাঁরাও যে কাছেরই মানুষ! নিছক ‘সাংসকিতিক সন্ধা’ নয়, বিসর্জনের বিষণ্ণতাকে সাক্ষী করে শারদ বাতাস যেন তখন বলত, শুভ বিজয়া। 
বিশদ

08th  October, 2017
সাত বাড়ি আর এক বারোয়ারি 

প্রফুল্ল রায়: তখনও দেশভাগ হয়নি। অখণ্ড বঙ্গের পূর্ব বাংলায় ঢাকা ডিস্ট্রিক্টের একটা বিশাল গ্রামে ছিল আমাদের আদি বাড়ি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম আমরা সেখানে কাটিয়েছি। পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ এবং শত জলধারায় বহমান আরও নদ-নদী, খাল-বিল, শস্যক্ষেত্র। অজস্র পাখপাখালি, আম জাম হিজল আর সুপারি বনের সারি, সব মিলিয়ে পূর্ববাংলা ছিল এক আশ্চর্য স্বপ্নের দেশ।
বিশদ

24th  September, 2017
অকাল বোধন 

নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি: ‘অকাল’ শব্দটির মধ্যে একটা অদ্ভুত এবং প্রায় বিপরীত ব্যঞ্জনা আছে। যেমন একটি কৈশোরগন্ধি যুবক ছেলেকে যদি বলি ‘অকালপক্ব’, তাহলে অবধারিতভাবে কথাটির মানে দাঁড়াবে যে, ছেলেটির যা বয়স এবং তদনুযায়ী যা তার বিদ্যাবুদ্ধি হওয়া উচিত কিংবা বয়স অনুযায়ী তার যা কথাবার্তার ধরন তৈরি হওয়া উচিত, তার চাইতে বেশি বয়সের বহু-অভিজ্ঞ মানুষের মতো সে কথা বলছে, বা তেমন ভাবসাব দেখাচ্ছে।
বিশদ

24th  September, 2017
বিশ্বকর্মা
সন্দীপন বিশ্বাস

তিনি দেবশিল্পী। দেবকুলের সকল কর্মের সাধক। রাবণের স্বর্ণলঙ্কা, শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকাপুরী, কিংবা হস্তিনাপুর—তঁার শিল্পছেঁায়ায় সব স্থাপত্যই পৌরাণিক উপাখ্যানে অমরত্ব লাভ করেছে। কখনও তিনি তৈরি করছেন হরধনু, কখনও বজ্র। যার সাহায্যে দুষ্টের দমন করেছেন দেবগণ।
বিশদ

17th  September, 2017
শিকাগো বিজয় ১২৫
তাপস বসু

১২৫ বছর আগে এক তরুণ সন্ন্যাসী সীমিত ক্ষমতা নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন সাগরপারে। শিকাগোর এক ধর্ম সম্মেলনে যদি পেশ করা যায় বৈদিক দর্শনের বিস্তারকে। শত বাধা পেরিয়ে মঞ্চে দঁাড়িয়ে আমেরিকার মানুষকে এক লহমায় করে ফেলেছিলেন ‘ভ্রাতা ও ভগিনী’। আজ ফিরে দেখা সেই স্বামী বিবেকানন্দকে। যঁার শিক্ষা আজও সমাজের ভিত্তিপ্রস্তর।
বিশদ

10th  September, 2017
 সেইসব শিক্ষক
কল্যাণ বসু

যখন আমরা ভাবি সব জেনে গিয়েছি, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকে আমাদের শেখা বন্ধ হয়ে যায়... বলেছিলেন সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ। যাঁর জন্মদিন পালিত হয় শিক্ষক দিবস হিসাবে। স্বনামধন্য বহু ব্যক্তির শিক্ষকরাও যে ছিলেন এমনই! কেউ প্রচারের আলোয় এসেছেন, কেউ আসেননি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। সবারই এমন মহান শিক্ষকদের সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল।
বিশদ

03rd  September, 2017
দুশো বছরের বাংলা কাগজ

 দিগদর্শন, বাঙ্গাল গেজেট ও সমাচার দর্পণের লেখনিতে ভর করে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার দ্বিশতবর্ষ পূর্ণ হচ্ছে। বাংলা খবরের কাগজ কখনও হয়ে উঠেছে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শক্তিকে নাস্তানাবুদ করার হাতিয়ার, কখনও অন্তর্জলি যাত্রার মতো সামাজিক রোগের মারণ ওষুধ, আবার কখনও পরিবর্তনের ঝড়। গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য, দাদাঠাকুরদের সাহসী কলমের সে ভার বহন করে এসেছেন সন্তোষকুমার ঘোষ, গৌরকিশোর ঘোষ এবং বরুণ সেনগুপ্তরা। ২০০ বছর পরও তাই বাংলা সংবাদপত্র একইরকম নবীন।
বিশদ

27th  August, 2017
একনজরে
সুকান্ত বেরা: সকালটা যদি হয় মহম্মদ সামির, তাহলে বিকেলের নায়ক অবশ্যই শিখর ধাওয়ান। তবুও রবিবাসরীয় ইডেনে ভারতীয় ক্রিকেটারদের সাফল্যের পাশাপাশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল দিলরুবান ...

কাবুল, ১৯ নভেম্বর (এপি): আফগানিস্তানের পশ্চিমে ফারা প্রদেশে পুলিশের একাধিক চেক পোস্টে হানা দিল তালিবান জঙ্গিরা। তালিবানের হানায় মৃত্যু হয়েছে ৬ জন পুলিশকর্মীর। শনিবার বিকালের ঘটনা। প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র নাসের মেহরি বলেন, জঙ্গিদের আটজনের একটি দল ওই হামলা চালিয়েছে। এই ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডিমের দাম আকাশছোঁয়া। কমার নামগন্ধ নেই। সাত থেকে সাড়ে সাত টাকায় শহর ও শহরতলির বাজারে বিক্রি হচ্ছে পোলট্রির ডিম। এমন অবস্থায় রাজ্য ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিজ্ঞানে এবছর নতুন পাঠ্যক্রম চালু হয়েছে আইসিএসই স্কুলগুলিতে। কিন্তু সেখানে নতুন বিষয়গুলি শিক্ষকরা কীভাবে পড়াবেন, তার জন্য প্রশিক্ষণ বা কর্মশালার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সময়ের মধ্যে তা হয়ে ওঠেনি। তাই প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই কাজ সেরে ফেলতে চাইছে কাউন্সিল। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রেম-প্রণয়ে নতুনত্ব থাকবে। নতুন বন্ধু লাভ, ভ্রমণ ও মানসিক প্রফুল্লতা বজায় থাকবে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৫০- মহীশূরের শাসক টিপু সুলতানের জন্ম।
১৯১০- রুশ সাহিত্যিক লিও তলস্তয়ের মৃত্যু।
১৯১৭- কলকাতায় প্রতিষ্ঠা হল বোস রিসার্চ ইনস্টিটিউট।
১৯৫৫- নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের পক্ষে টেস্টে প্রথম দ্বিশতরান করলেন উমরিগড় (২২৩)।  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.০০ টাকা ৬৫.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৩২ টাকা ৮৭.১৯ টাকা
ইউরো ৭৫.২০ টাকা ৭৭.৮৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
18th  November, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,১৯৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৬৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
19th  November, 2017

দিন পঞ্জিকা

৪ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৯/৩৬, নক্ষত্র-জ্যেষ্ঠা রাত্রি ১২/৪৮, সূ উ ৫/৫৬/২৫, অ ৪/৪৮/৪, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৭/২৩ মধ্যে পুনঃ ৮/৫০ গতে ১১/০ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/২৬ গতে ১০/৬ মধ্যে পুনঃ ২/২৭ গতে ৩/১৯ মধ্যে, বারবেলা ঘ ৭/১৮ গতে ৮/৪০ মধ্যে পুনঃ ২/৫ গতে ৩/২৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৪ গতে ১১/২২ মধ্যে।
৩ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৭/৪২/২৮, জ্যেষ্ঠানক্ষত্র ১১/৫৫/৩৬, সূ উ ৫/৫৬/৫৮, অ ৪/৪৬/৫৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/২৩/৩৮, ৮/৫০/১৮-১১/০/১৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৪/৫৮-১০/৫৫/১৮, ২/২৫/৩৭-৩/১৮/১৮, বারবেলা ২/৪/২৮-৩/২৬/৪৩, কালবেলা ৭/১৮/১৩-৮/৩৯/২৮, কালরাত্রি ৯/৪৩/১৩-১১/২১/৫৮। 
৩০ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বারুইপুর স্টেশনে অবরোধ উঠল, শিয়ালদহ বিভাগের প্রতিটি শাখায় ৮টা ৩৪ মিনিট থেকে ফের শুরু ট্রেন চলাচল

09:07:41 PM

রেল অবরোধ ঘিরে ধুন্ধুমার বারুইপুর স্টেশন

 বেআইনি উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে রেল অবরোধকে কেন্দ্র করে ...বিশদ

08:40:29 PM

লুধিয়ানায় প্লাস্টিক কারখানায় আগুন, মৃত ৩
লুধিয়ানায় একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ...বিশদ

08:13:00 PM

ফের দালাল চক্রের অভিযোগ এসএসকেএম হাসপাতালে

 ফের দালাল চক্রের অভিযোগ উঠল এসএসকেএম হাসপাতালে। টাকা নিতে গিয়ে ...বিশদ

07:10:02 PM

 বিহারের গোপালগঞ্জে হাইটেনশন লাইনের বিদ্যুৎস্পৃশ্য হয়ে মৃত ৫, গুরুতর আহত ৩

06:22:00 PM