প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

রাষ্ট্রপতি ভবনে 

প্রবালকুমার বসু: একটা উত্তেজনা ছিলই। দিল্লিতে রাইসিনা হিলস্‌-এর দূরের প্রাসাদোপম বাড়িটা, যেখান থেকে এক সময়ে শাসন করা হত অখণ্ডিত ভারতবর্ষ, যেখানে এখন সাংবিধানিক শীর্ষ ব্যক্তি ভারতের রাষ্ট্রপতির আবাস, আসলে কী আছে সেখানে? রাজার বাড়ির ভিতরে কী? কীভাবেই বা দিন কাটান রাষ্ট্রপতি? তাঁর কাজ কি শুধুই সরকারি নীতি নির্ধারণে ছাপ্পা লাগানো, নাকি আরও অধিক কিছু আছে? দিল্লিতে থাকা, যাতায়াতের সুবাদে ইন্ডিয়া গেটের আশপাশ দিয়ে যাওয়ার সময় যখনই দূর থেকে রাইসিনা হিলস্‌-এর এই বাড়িটা চোখে পড়েছে, এই প্রশ্নগুলোই উঠে এসেছে ভিতর থেকে।
হঠাৎ করে সেই সুযোগটাই এসে গেল। রাষ্ট্রপতির বাড়ি থেকে আমন্ত্রণ, তাঁর অতিথি হয়ে রাইসিনা এস্টেটে দু’সপ্তাহ থাকার। ২০১৩ সাল থেকে রাষ্ট্রপতি চালু করেছেন ‘রাইটার্স অ্যান্ড আর্টিস্টস ইন রেসিডেন্সি’ প্রোগ্রাম। গোটা ভারত থেকে দু’জন শিল্পী ও দু’জন লেখককে আমন্ত্রণ জানানো হয় দু’সপ্তাহ রাষ্ট্রপতির অতিথি হয়ে থাকার। সারা বছরে এরকম মাঝে মধ্যে আরও দু’-একজন লেখক শিল্পীকে আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রপতি। মূল উদ্দেশ্য, সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ভবনের দূরত্ব যতটা কমানো যায়। এই উপলক্ষে তৈরি হয়েছে ‘পিকক সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট’ বা ময়ূর আবাসন, রাষ্ট্রপতির অতিথিদের থাকার জন্য। প্রত্যেকের জন্য বরাদ্দ সুসজ্জিত এক একটা অ্যাপার্টমেন্ট। আমার সঙ্গে ছিলেন গুজরাতি ভাষার কবি অশোক চাড়দা, মহারাষ্ট্রের শিল্পী রাহুল কোকাতে আর লখনউ থেকে আগত শিল্পী ধীরজ বশিষ্ঠ।
সম্রাট পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে ভারতের রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে। তখনও দিল্লি বলতে এখন যেটা পুরানো দিল্লি, অর্থাৎ লাল কেল্লা, চাঁদনি চক, জামা মসজিদ এই অঞ্চলটাকেই বোঝাত। এখন আমরা যে দিল্লি শহর দেখি, যার নাম নতুন দিল্লি, সেটা তখন রুক্ষ প্রান্তর আর জঙ্গলে পরিপূর্ণ। আরাবল্লি পর্বতমালা ঘিরে রেখেছে তার একদিক। দিল্লিকে আধুনিক রাজধানী শহরের আদলে গড়ে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সে সময়ের প্রখ্যাত ব্রিটিশ স্থপতি এডউইন ল্যান্ডসার লুটিয়েনস-এর হাতে। লুটিয়েন সাহেব যে জায়গাটা বাছলেন, সেটা একটা উঁচু টিলা। আর তাকে বেষ্টন করে রাখা সমতল ভূমি, যার অধিকাংশই তখন আগাছায় ভরতি। টিলাটি রাইসিনা হিলস, আর তার উপরেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীশ্বরের জন্য প্রাসাদ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া। সেই সময়ে ব্রিটিশ সরকার অনুমোদন দেয় চার লক্ষ পাউন্ড। প্রথমে চার বছরের ভবনটির নির্মাণ শেষ হবে বলে মনে করা হলেও এটা বানাতে সময় লেগে যায় প্রায় সতেরো বছর। ১৯২৯ সালে প্রথম ভাইসরয় লর্ড আরউইন থাকতে শুরু করেন এখানে। আর এই প্রাসাদকে ঘিরে সমতল ভূমিতে গড়ে ওঠে আমাত্য পারিষদজনেদের আবাস, যে জায়গাটা এখন এমপি বা মন্ত্রীদের থাকার জন্য বরাদ্দ, সকলের কাছে লুটিয়েনের দিল্লি বলেই পরিচিত।
মূল রাষ্ট্রপতি ভবনে রয়েছে ৩৪০টি কক্ষ। এর একদিকে রাষ্ট্রপতির সেক্রেটারিয়েট ও অফিস। বিপরীতে একদম অন্য প্রান্তে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব আবাস। রাষ্ট্রপতি ভবনের পিছনে রয়েছে আকর্ষণীয় বাগান, যা মুঘল গার্ডেনস নামেই পরিচিত। এখানে গোলাপ বাগানে প্রায় দুশো পঞ্চাশ রকমের গোলাপ। আর তাছাড়া অন্যান্য নানা ধরনের ফুল তো রয়েইছে। আমরা যে সময়টা ছিলাম, মার্চ মাসের শুরু অর্থাৎ বসন্ত সমাগত। ফুলময় হয়ে রয়েছে মুঘল গার্ডেনস। ওই সময়টা বছরে একমাস সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সোমবার বন্ধ।
দু’পাশে ফুলের কেয়ারি করা বীথি, এই সবক’টা রাস্তারই নামকরণ হয়েছে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিদের নামে। কোনওটা প্রতিভা পাতিল বীথি আবার কোনওটা বা জাকির হোসেন বীথি। হাঁটতে বেরতাম রোজ সকালে। এমনই এক সকালে হদিশ মিলল প্রণব মুখোপাধ্যায় বীথির। অদ্ভূত লাগল। একটা আলাদা অনুভূতিও হল। এখনকার রাষ্ট্রপতির নামে... আমাদের বাঙালি সাংবিধানিক প্রধানের নামে। এও যে এক আলাদা পাওনা।
প্রথম দিনই আমাদের বিশেষ একটা পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছিল। সব সময় সঙ্গে রাখার জন্য। ওই আইডি কার্ড না থাকলে এস্টেটের কোথাও স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরা করার সুযোগ ছিল না আমাদের। এর মধ্যেও অতি সুরক্ষিত বেষ্টনীর মধ্যে কিছু জায়গা রয়েছে, যা কার্ড থাকলেও যাওয়া যায় না। তার জন্য বিশেষ অনুমতি লাগে। রাষ্ট্রপতির দপ্তর ও ভবন পরিচালনার দায়িত্ব দুই সমান্তরাল শাখার হাতে। অফিস বা প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলায় প্রশাসনিক দপ্তর আর সিকিউরিটির দায়িত্বে সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ অফিসার। প্রশাসনিক দপ্তরের প্রধান একজন আইএএস অফিসার। রাষ্ট্রপতি ভবন এস্টেটের প্রশাসনিক দায়িত্ব তাঁর উপর, এছাড়াও রাষ্ট্রপতির সমস্ত মিটিং, সফরসূচি, তাঁর বয়ান তৈরি এইসব দায়িত্বও তাঁর। আমাদের দেখভালের দায়িত্বও পড়েছিল ওনার উপরেই। এছাড়াও এই দুই সমান্তরাল শাখার শীর্ষে রয়েছেন সেক্রেটারি। এই পদে কে থাকবেন, তা রাষ্ট্রপতি সরাসরি নিযুক্ত করেন। তিনি তাঁর পছন্দমতো যে কাউকে নিযুক্ত করতে পারেন। আগে রাষ্ট্রপতিরা অনেকেই পছন্দমতো আইএএস অফিসারদেরও নিয়োগ করেছেন। কে এস নারায়ণন রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সেক্রেটারি নিয়োগ করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধীকে, যিনি নিজেও ছিলেন একজন আইএএস।
এছাড়া প্রশাসনিক বা সামরিক দপ্তর দুটোতেই রয়েছেন এডিসি। রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছে অবধি শুনে আসছি এডিসি’র কথা। কিন্তু এনারা যে কে বা এই এডিসি কেনই বা বলা হয়, বুঝতে পারছিলাম না। কয়েকদিন পর বুঝলাম এই পদমর্যাদার যাঁরা, তাঁরা সকলেই বেশ দীর্ঘদেহী সুপুরুষ ও সুদর্শনও। এঁদেরই একজনকে জিজ্ঞেস করে জানলাম এডিসি রহস্য।
শব্দটি মূলত ফরাসি থেকে নেওয়া। সম্রাট নেপোলিয়ন যখন একের পর এক রাজ্য জয়ের নেশায় অশ্বপৃষ্ঠে সৈন্যবাহিনী নিয়ে অতিক্রম করে চলেছেন একের পর এক দেশ, আর দিনান্তে বিশ্রামের জন্য তাঁবু ফেলছেন সুবিধামতো কোনও জায়গায়, সেই সময় তাঁর পার্শ্বচরেরা যখন বিধ্বস্ত ও ক্লান্তিতে অবসন্ন, সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় সকলেই ঢলে পড়ে ঘুমে, সেই সময় বিশ্বস্ত কিছু অনুচরকে তবু জেগে থাকতে হয়। যদি সম্রাটের কোনও প্রয়োজন পড়ে। অর্থাৎ সম্রাটের সারাক্ষণের সহযোগী, ইংরেজিতে এড দি চেয়ার। সংক্ষিপ্ত এডিসি। পৃথিবী জুড়ে দেশ পরিচালনায় এরা এখনও রয়েই গিয়েছে।
মূল ভবনে ঢুকতে গেলে সব কিছু জমা দিয়ে ঢুকতে হয়। হাই সিকিউরিটি। মোবাইল ফোন, ব্যাগ কিছুই সঙ্গে রাখা যাবে না। সিকিউরিটির বহর দেখে মাঝে মাঝে তার অর্থ বোঝা দুষ্কর হয়ে ওঠে। একদিন সকালের দিকে মূল ভবনে এসে দেখলাম সাজ সাজ রব, রাষ্ট্রপতি বেরবেন। তাঁর গাড়ি মজুত, কনভয়ের গাড়িও। ঢোকার মুখে দাঁড়িয়ে পড়লাম, ভাবলাম ভালোই হল, রাষ্ট্রপতি বেরনোর সময়ের প্রোটোকলটা দেখে যাব। বেশ কয়েকদিন আছি, ভবনের সিকিউরিটিরা আমাদের চিনে গিয়েছেন। ঢোকার সময় অতটা কড়াকড়ি করেন না। কিন্তু দাঁড়াতেই সিকিউরিটির ভারপ্রাপ্ত একজন মোটা গোঁফওয়ালা অফিসার এসে বললেন, পিছন ফিরে দাঁড়ান। রাষ্ট্রপতি এক্ষুনি বেরবেন। বুঝতে পারিনি, জিজ্ঞাসা করলাম রাষ্ট্রপতির যাত্রাপথের দিক থেকে পিছন করে দাঁড়াব—এ তো অসৌজন্যমূলক। বলতে বলতে আমাদের প্রায় জোর করেই পিছন দিক ফিরে দাঁড় করিয়ে দিল ওরা, সঙ্গে সঙ্গে নিজেরাও পিছন দিক করে দাঁড়িয়ে গেল। শুনতে পেলাম এক বিশাল কনভয় হুশ করে বের হয়ে গেল, ঘাড়টা ঘোরাতে পারলাম না।
জানতে চাইলাম এ কেমন সুরক্ষা, যা ভারতীয় সংস্কৃতির বিরোধী! দেখলে কি খুব অমঙ্গল হত? আর সিকিউরিটিই বা কেন পিছন ফিরে দাঁড়ালেন। জানলাম, যখন ব্রিটিশ আমলে ভাইসরয় যেতেন, যাতে পিছন থেকে কেউ এসে আক্রমণ না করে তার জন্য পিছন ফিরে দাঁড়ানোর প্রথা। মনে মনে নিজেকেই প্রশ্ন করলাম, এখন তো সব জায়গাতেই ক্যামেরা লাগানো। আর তাছাড়া আমাদের এভাবে দাঁড়াতে হবে কেন?
এতদিন পর্যন্ত ছবিতে বা দূরদর্শনে দেখেছি, দরবার হলে দাঁড়িয়ে মনে হল এই সেই জায়গা, যেখানে রাষ্ট্রপতি ভবনের নানান অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। বাইরে থেকে ভবনের উপর যে জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা যায়, সরাসরি তার নীচটাই দরবার হল। তার উলটোদিকে দরজা এমনিতে বন্ধ থাকে, কোনও অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র খোলা হয়। রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনে ফোরকোর্ট দিয়ে তখন অভ্যাগতরা ঢোকেন। দরজা খুলে দিলে একেবারে সরাসরি ইন্ডিয়া গেট। দরবার হলে ৩৭০টি বেতের চেয়ার এবং সবগুলিই লুটিয়েন সাহেবের আমলে। এখানে কোনও অনুষ্ঠান থাকলে নিজের বাসস্থান থেকে, একশো-দেড়শো সিট, প্রোটোকল মেনে সিপাহি পরিমণ্ডলিত হয়ে রাষ্ট্রপতি হেঁটেই আসেন। এক সময় এই দরবার হলে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হত। স্বাধীন ভারতের প্রথম ভাইসরয় রাজাগোপালাচারি ও প্রথম প্রধানমন্ত্রী এই দরবার হলেই শপথ নেন। এখান থেকে একটু এগলেই অশোক হল। ভাইসরয়ের আমলে এই হলটা ছিল বল রুম। কাঠের মেঝে। এখন অবশ্য পারসিয়ান কার্পেটে ঢাকা। এর আর একটা বিশেষত্ব, গোটা সিলিংটাই পারসিয়ান পেন্টিংয়ে মোড়া, এই এত বছর পরেও অক্ষত। এছাড়া রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত মিটিং ঘর, অতিথি আপ্যায়ন ঘর তো আছেই। মূল ভবনে একটা ডাইনিং হলও আছে যেখানে ১০৫ জন বসতে পারেন। আগে রাষ্ট্রপতিরা কাউকে আপ্যায়ন করলে এখানেই নৈশভোজ দিতেন। নৈশভোজের সময় সংগীত বাজে আর সবুজ, হলুদ, লাল তিনটে আলো জ্বলে নিবে নিয়ন্ত্রণ করে কোন খাবার কখন পরিবেশন করা হবে, আবার কখন সরিয়ে নেওয়া হবে। নৈশভোজের সময় এই সংগীত পরিবেশনের দায়িত্ব বরাবরই নৌবাহিনীর।
আমরা রাইসিনা প্রাসাদে পৌঁছানোর দু’-একদিন আগেই আমাদের মেইল করে দেওয়া হয়েছে শিডিউল। অর্থাৎ দু’সপ্তাহের নির্ঘণ্ট। কবে কোথায় কখন কার সঙ্গে মিটিং। দেখলাম রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নির্ধারিত সাক্ষাৎ রয়েছে পাঁচবার। এছাড়া বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন। রাইসিনায় থাকাকালীন পড়েছিল হোলি উৎসব। দেখলাম সূচিতে উল্লিখিত রয়েছে তাও।
নির্ধারিত সাক্ষাৎগুলির প্রথমটি ছিল আলাপপর্ব। রাইসিনা এস্টেটের মধ্যেই প্রণববাবুর আগ্রহে তৈরি হয়েছে রাষ্ট্রপতি ভবন কালচারাল সেন্টার, সংক্ষেপে আরবিসিসি। এইখানেই আলাপপর্ব। মনে মনে ভেবে রেখেছিলাম সঙ্গের কাউকে বলব আলাপের সময় ছবি তুলে দিতে। কিন্তু আরবিসিসি-তে ঢুকতেই কড়া সিকিউরিটি। ফোন জমা দিয়ে ঢুকতে হবে। এটাই নিয়ম। রাষ্ট্রপতি যে অনুষ্ঠানে থাকবেন, সেখানে অভ্যাগতদের সঙ্গে ফোন রাখাও নিষেধ। ছবির ব্যবস্থা অবশ্য হয়েছিল। সরকারি ফটোগ্রাফারই তাঁর ক্যামেরায় ধরে নিয়েছিলেন প্রতিটি মুহূর্ত।
দ্বিতীয়বার দেখাও নির্ধারিত শিডিউল মেনে, কালচারাল সেন্টারে। আমাদের বইয়ের প্রদর্শনী ও শিল্পীদের ছবির প্রদর্শনীর উদ্বোধন করলেন রাষ্ট্রপতি। সঙ্গে ছিলেন প্রকাশ জাভরেকর, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। কিছু বই আমরা নিয়ে গিয়েছিলাম। সেগুলো সাজানো ছিল। রাষ্ট্রপতি প্রতিকটা বই নিয়ে পাতা উলটে দেখছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই বাংলায় কথা বলছিলাম। হঠাৎ খেয়াল হল প্রকাশ জাভরেকর আছেন তো! উনি কথোপকথন কিছুই বুঝছেন না, হাসি হাসি মুখ করে তাকিয়ে আছেন। আমার নিজেরই লজ্জা হল। রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিই খেয়াল করিনি। প্রকাশজি কিন্তু উদার, আমি হিন্দি বলার চেষ্টা করতেই হেসে বললেন, ঠিক হ্যায়, হাম সমাঝতে হ্যায়।
কোনও রাষ্ট্রপতি বিদেশে গেলে, অথবা কোনও রাষ্ট্রনেতা এদেশে এলে নানান উপহারসামগ্রী আসে রাষ্ট্রপতির জন্য। তার অধিকাংশই অযত্নে স্তূপীকৃত হয়ে পড়ে থাকত। প্রণববাবুর আমলে সেইসব উপহারসামগ্রী, তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও পরিচিতি দিয়ে তৈরি হয়েছে রাষ্ট্রপতি সংগ্রহশালা, যেখানে বাইরের লোকও টিকিট কেটে আসতে পারেন। টিকিট কেবল অনলাইনেই কাটা যায়।
আমাদের প্রত্যেক দিনই কিছু না কিছু দেখার থাকত। একদিন গেলাম ঘোড়াশালে। ১০২টি ঘোড়া সেখানে। রাষ্ট্রপতির ঘোড়াশালে ঘোড়া হওয়ার জন্যও যোগ্যতা লাগে। সাড়ে পাঁচ ফুটের উপর উঁচু হতে হয়। কিছু কিছু ঘোড়া আছে একটু কম উচ্চতার, পাগুলো বলিষ্ঠ আর খাটো। যিনি দায়িত্বে ছিলেন বললেন, এগুলি বগ্‌঩গি ঘোড়া। মানে গাড়ি টানার কাজে লাগে। কিছু ঘোড়া ছয় ফুটের উপর উঁচু, এগুলি পোলো খেলার ঘোড়া। একটি ঘোড়া শুয়েছিল, ভাবলাম হয়তো অসুস্থ। ছোটবেলা থেকে একটা মিথ শুনে আসছি ঘোড়া দাঁড়িয়ে ঘুমোয় আর কেবল মরণকালে শোয়। ঘোড়ার বিশারদ জানালেন এটা মিথই। ঘোড়া শুয়েও ঘুমোয়। জানতে চাইলাম এত ঘোড়া, এদের ভূমিকা কী? জানলাম বেশিরভাগ ভূমিকাটাই আনুষ্ঠানিক। সেই ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসছে।
একদিন ছিল স্কুল পরিদর্শন। রাষ্ট্রপতি ভবন এস্টেটে। বাইরের ছেলে-মেয়েরাও পড়তে আসতে পারে, যেহেতু এটা ভালো স্কুল বলেই বিবেচিত। প্রধান শিক্ষিকা আমাদের ঘুরে ঘুরে স্কুলবাড়ি, ক্লাসঘর দেখাচ্ছিলেন। একটি ঘরের সামনে এসে বললেন, এখানে বছরে কয়েকদিন রাষ্ট্রপতি ক্লাস নিতে আসেন। কালাম সাহেব যখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন, উনি না জানিয়েই হুটহাট চলে আসতেন। প্রণববাবু অবশ্য আগে থেকেই খবর দিয়ে আসেন। জানতে চাইলাম রাষ্ট্রপতির ক্লাসে ছাত্র হবার সুযোগ পেতে যোগ্যতা কী লাগে? সবাইকে তো আর সুযোগ দেওয়া যায় না। অ্যাবসেন্ট হওয়া চলবে না, কোনও টিচারের থেকে নালিশ আসা চলবে না, পাশ নম্বর পেতেই হবে, তবে রাষ্ট্রপতির ছাত্র হওয়া যাবে। ভাবলাম এরকম মাপকাঠি ও লক্ষ্য থাকলে সেই স্কুল তো আপনা থেকেই ডিসিপ্লিনড হবে।
দিল্লি থেকে খুব দূরে নয়, হরিয়ানার গুরগাঁও পার করে পাঁচটা গ্রাম দত্তক নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। উদ্দেশ্য, এই গ্রামগুলোকে মডেল গ্রাম হিসাবে গড়ে তোলা, যাতে পরবর্তী সময়ে আশপাশের গ্রামগুলিও এদেরকে অনুসরণ করতে পারে। এইসব গ্রামগুলিতে হর্টিকালচার, সেলাই, সোলার সিস্টেম অপারেশন শেখানো ছাড়াও দেখলাম মেয়েরা নিজেরাই স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি করছে, আর বিক্রিও করছে। অশিক্ষার ট্যাবুগুলো ভেঙে দিচ্ছে আস্তে আস্তে। এইসব প্রত্যন্ত গ্রামে ডাক্তার নেই, খোলা হয়েছে ই (E) মেডিকেল শপ। আগে ডাক্তারের প্রয়োজনে গ্রামবাসীকে যেতে হত শহরে। বাসে করে শহরে যাতায়াত পুরো দিনের ঝক্কি। খরচ তো আছেই। ই-শপে একটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। আর রয়েছে কম্পিউটার ও বিশাল মনিটর। রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সঙ্গে প্রতি মাসের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্দিষ্ট করা থাকে। রোগীকে স্কাইপে সেই ডাক্তারদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়। ডাক্তারের নির্দেশ মতো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছেলে বা মেয়েটি প্রেশার ইত্যাদি দেখে। পুরো বিষয়টা যেন সামনা-সামনি ঘটছে। গ্রামের লোকেরা পেয়ে যাচ্ছে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সুপরামর্শ। এইসব দেখাশোনার জন্য রাষ্ট্রপতি ভবনের একজন অফিসারকে পোস্টিং ও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওই গ্রামে।
এমনই রাষ্ট্রপতি আমাদের। গর্বের বাঙালি। যাঁর সঙ্গে একবার কথা বলতে শুরু করলে তা বদলে যায় আড্ডায়। যিনি আমার মতো একজন কবিতা লেখকের বই হাতে নিয়েই পড়তে শুরু করতে পারেন। আবার সময়জ্ঞান হারিয়ে মেতে উঠতে পারেন সাহিত্য আলোচনায়।
শেষদিন আমাদের এক নাতিদীর্ঘ বক্তৃতা দিয়েছিলেন তিনি। ওনার কথা শুনতে শুনতে মনে হচ্ছিল, শুধু রাষ্ট্রপতি নন, রাষ্ট্রপতির বাইরেও একজন, গত প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে যিনি ভারতবর্ষের অন্যতম রূপকার, তিনি প্রণব মুখোপাধ্যায় প্রায় সমগ্র বিশ্ব সাহিত্যের নিমগ্ন পাঠ, যাঁকে করেছে এক বিরল মননশীল ব্যক্তিত্ব। তাঁর বক্তব্যে কোনও রাজনীতির কথা ছিল না, কোনও অতীতচারণ ছিল না, ছিল তাঁর বিশ্বসাহিত্য পাঠ অভিজ্ঞতার ব্যাখ্যা, আর তাঁর উপলব্ধি সাহিত্যপাঠ কীভাবে জীবনকে, সমসময়কে সমৃদ্ধতর করে তোলে। ফিরে আসার পরও তাই মনে পড়ে ওই ভারতীয় সংবিধানের শীর্ষতম ওই চত্বরটাকে। একজন বাঙালিকে।
 গ্রাফিক্স: সোমনাথ পাল
 সহযোগিতায়: স্বাগত মুখোপাধ্যায়  
11th  June, 2017
ইন্দিরা ১০০
প্রণব মুখোপাধ্যায়

ঐতিহাসিক এক সময়ের সন্ধিক্ষণে আজকের দিনে জন্মেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। ১০০ বছর আগে। প্রায় একই সময়ে ‘বলশেভিক’ আন্দোলনে কেঁপে উঠেছিল সারা পৃথিবী। ভারতও ঠিক ওই বছরই মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ণ উদ্যমে লড়াইয়ের জন্য তৈরি হয়। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের উদ্যোগে স্বাধীনতা সংগ্রামে ওতপ্রোতভাবে অংশ নিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধীর ঠাকুরদা এবং বাবা। সেই পরিবারেরই মেয়ে হয়ে জন্মান ইন্দিরা গান্ধী।
বিশদ

19th  November, 2017
শোনপুর মেলা
মৃন্ময় চন্দ

খ্রিস্টপূর্ব ৩৪০ থেকে ২৯৭। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য এসেছেন শোনপুরের মেলায়। সৈন্যবাহিনীর জন্য হাতি কিনবেন। পদব্রজে নাকি এসেছেন ফা-হিয়েন ও হিউয়েন সাং! এসেছেন গন্ধর্ব প্রধান হু হু ও পাণ্ডস্যের রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন। অভিসম্পাত-গ্রস্ত গজ-গ্রহ রূপী তাদের মরণপণ যুদ্ধে শোনপুরের হরিহরক্ষেত্রে আগমন ঘটেছে হরি এবং হরের। কালক্রমে শোনপুর মেলা হয়ে উঠেছে দেবক্ষেত্র। অতুলনীয়, ব্যতিক্রমী শোনপুর মেলার আছে কেবলই দারিদ্রের ঐশ্বর্য। সাধারণ মানুষ এই মেলার প্রতিভূ। এ মেলায় তাই সবাই রাজা। সকলে স্বাগত!
বিশদ

12th  November, 2017
’৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ৭৫ বছর 

অমর মিত্র: ক্রিপস মিশন ব্যর্থ হয়েছিল। সেখানে পূর্ণ স্বরাজের বার্তা ছিল না বলে। আর কংগ্রেস চেয়েছিল, গান্ধীজি চেয়েছিলেন স্বাধীন ভারত। যে কারণে ৭৫ বছর আগে শুরু হয় ইংরেজ ভারত ছাড়ো আন্দোলন। সেই গান্ধীজিরই নেতৃত্বে।  
বিশদ

05th  November, 2017
জগদ্ধাত্রী
নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

 জগদ্ধাত্রী ঠাকুরের রূপ-কল্পনা এবং পুজোবিধি থেকেই বোঝা যায় যে, জগদ্ধাত্রী পুজোর সৃষ্টিই হয়েছে দুর্গাপুজোর পরিপূরণী সমব্যথার কারণে। তবে হ্যাঁ, বিশেষত্ব একটা আছে এবং সেই বিশেষত্ব তাঁর নামেই লুকানো আছে।
বিশদ

29th  October, 2017
সাম্প্রতিক বাংলা থিয়েটার: কিছু কথা
ব্রাত্য বসু

থিয়েটারের অর্থনীতি আসলে দু’রকম। প্রথমটি হল দলের অর্থনীতি। দ্বিতীয়টি হল দলের সদস্যদের ব্যক্তিগত অর্থনীতি। দলের অর্থনীতি প্রধানত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। প্রথমত, সরকারি গ্রান্ট তথা অনুদান।
বিশদ

22nd  October, 2017
চিরদুঃখী অতুলপ্রসাদ সেন
প্রণব কুমার মিত্র

লখনউয়ের বিখ্যাত ব্যারিস্টার এ পি সেন সাহেব বা অতুলপ্রসাদ সেন কোর্টের পর গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির সদর দরজা পেরিয়ে সুন্দর সবুজ লনের এককোণে দেখলেন দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আর সেই আগুনে এক এক করে দামি দামি স্যুট, জামাকাপড় পোড়াচ্ছেন তাঁরই সহধর্মিণী হেমকুসুম। কয়েকদিন দু’জনের অশান্তি চলছিল।
বিশদ

22nd  October, 2017
আতশবাজির ইতিকথা
বারিদবরণ ঘোষ

আকাশের গায়ে বারুদের গন্ধটা কালীপুজোর মরশুমে খুব চেনা। তা সে কাঠকয়লার সঙ্গে সোরা মেশানো হলদে আলো হোক কিংবা বুড়িমার চকোলেট। আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহকারীদের হাত ধরে আতশবাজির সৃষ্টি। যা আজও আনন্দ দিয়ে চলেছে মানবমননকে। বিশদ

15th  October, 2017
বিজয়া স ম্মি ল নী 

‘মা’কে তাড়ানোর কোনও তাড়া যে তখন ছিল না! ছিল না মোবাইলে মজে শারদ মাধুর্যকেই উপেক্ষা করার বাতিক। রক্তের সম্পর্কের থেকে খুব কম যেতেন না পাড়ার দাদারা। সে যেন একটাই পরিবার। আর সেই পরিবারের সবে মিলে বিজয়া সম্মিলনী। কখনও মঞ্চে হাজির শ্যামলদা, কখনও বা মানবেন্দ্র। তাঁরাও যে কাছেরই মানুষ! নিছক ‘সাংসকিতিক সন্ধা’ নয়, বিসর্জনের বিষণ্ণতাকে সাক্ষী করে শারদ বাতাস যেন তখন বলত, শুভ বিজয়া। 
বিশদ

08th  October, 2017
সাত বাড়ি আর এক বারোয়ারি 

প্রফুল্ল রায়: তখনও দেশভাগ হয়নি। অখণ্ড বঙ্গের পূর্ব বাংলায় ঢাকা ডিস্ট্রিক্টের একটা বিশাল গ্রামে ছিল আমাদের আদি বাড়ি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম আমরা সেখানে কাটিয়েছি। পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ এবং শত জলধারায় বহমান আরও নদ-নদী, খাল-বিল, শস্যক্ষেত্র। অজস্র পাখপাখালি, আম জাম হিজল আর সুপারি বনের সারি, সব মিলিয়ে পূর্ববাংলা ছিল এক আশ্চর্য স্বপ্নের দেশ।
বিশদ

24th  September, 2017
অকাল বোধন 

নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি: ‘অকাল’ শব্দটির মধ্যে একটা অদ্ভুত এবং প্রায় বিপরীত ব্যঞ্জনা আছে। যেমন একটি কৈশোরগন্ধি যুবক ছেলেকে যদি বলি ‘অকালপক্ব’, তাহলে অবধারিতভাবে কথাটির মানে দাঁড়াবে যে, ছেলেটির যা বয়স এবং তদনুযায়ী যা তার বিদ্যাবুদ্ধি হওয়া উচিত কিংবা বয়স অনুযায়ী তার যা কথাবার্তার ধরন তৈরি হওয়া উচিত, তার চাইতে বেশি বয়সের বহু-অভিজ্ঞ মানুষের মতো সে কথা বলছে, বা তেমন ভাবসাব দেখাচ্ছে।
বিশদ

24th  September, 2017
বিশ্বকর্মা
সন্দীপন বিশ্বাস

তিনি দেবশিল্পী। দেবকুলের সকল কর্মের সাধক। রাবণের স্বর্ণলঙ্কা, শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকাপুরী, কিংবা হস্তিনাপুর—তঁার শিল্পছেঁায়ায় সব স্থাপত্যই পৌরাণিক উপাখ্যানে অমরত্ব লাভ করেছে। কখনও তিনি তৈরি করছেন হরধনু, কখনও বজ্র। যার সাহায্যে দুষ্টের দমন করেছেন দেবগণ।
বিশদ

17th  September, 2017
শিকাগো বিজয় ১২৫
তাপস বসু

১২৫ বছর আগে এক তরুণ সন্ন্যাসী সীমিত ক্ষমতা নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন সাগরপারে। শিকাগোর এক ধর্ম সম্মেলনে যদি পেশ করা যায় বৈদিক দর্শনের বিস্তারকে। শত বাধা পেরিয়ে মঞ্চে দঁাড়িয়ে আমেরিকার মানুষকে এক লহমায় করে ফেলেছিলেন ‘ভ্রাতা ও ভগিনী’। আজ ফিরে দেখা সেই স্বামী বিবেকানন্দকে। যঁার শিক্ষা আজও সমাজের ভিত্তিপ্রস্তর।
বিশদ

10th  September, 2017
 সেইসব শিক্ষক
কল্যাণ বসু

যখন আমরা ভাবি সব জেনে গিয়েছি, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকে আমাদের শেখা বন্ধ হয়ে যায়... বলেছিলেন সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ। যাঁর জন্মদিন পালিত হয় শিক্ষক দিবস হিসাবে। স্বনামধন্য বহু ব্যক্তির শিক্ষকরাও যে ছিলেন এমনই! কেউ প্রচারের আলোয় এসেছেন, কেউ আসেননি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। সবারই এমন মহান শিক্ষকদের সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল।
বিশদ

03rd  September, 2017
দুশো বছরের বাংলা কাগজ

 দিগদর্শন, বাঙ্গাল গেজেট ও সমাচার দর্পণের লেখনিতে ভর করে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার দ্বিশতবর্ষ পূর্ণ হচ্ছে। বাংলা খবরের কাগজ কখনও হয়ে উঠেছে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শক্তিকে নাস্তানাবুদ করার হাতিয়ার, কখনও অন্তর্জলি যাত্রার মতো সামাজিক রোগের মারণ ওষুধ, আবার কখনও পরিবর্তনের ঝড়। গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য, দাদাঠাকুরদের সাহসী কলমের সে ভার বহন করে এসেছেন সন্তোষকুমার ঘোষ, গৌরকিশোর ঘোষ এবং বরুণ সেনগুপ্তরা। ২০০ বছর পরও তাই বাংলা সংবাদপত্র একইরকম নবীন।
বিশদ

27th  August, 2017
একনজরে
কাবুল, ১৯ নভেম্বর (এপি): আফগানিস্তানের পশ্চিমে ফারা প্রদেশে পুলিশের একাধিক চেক পোস্টে হানা দিল তালিবান জঙ্গিরা। তালিবানের হানায় মৃত্যু হয়েছে ৬ জন পুলিশকর্মীর। শনিবার বিকালের ঘটনা। প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র নাসের মেহরি বলেন, জঙ্গিদের আটজনের একটি দল ওই হামলা চালিয়েছে। এই ...

সুকান্ত বেরা: সকালটা যদি হয় মহম্মদ সামির, তাহলে বিকেলের নায়ক অবশ্যই শিখর ধাওয়ান। তবুও রবিবাসরীয় ইডেনে ভারতীয় ক্রিকেটারদের সাফল্যের পাশাপাশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল দিলরুবান ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিজ্ঞানে এবছর নতুন পাঠ্যক্রম চালু হয়েছে আইসিএসই স্কুলগুলিতে। কিন্তু সেখানে নতুন বিষয়গুলি শিক্ষকরা কীভাবে পড়াবেন, তার জন্য প্রশিক্ষণ বা কর্মশালার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সময়ের মধ্যে তা হয়ে ওঠেনি। তাই প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই কাজ সেরে ফেলতে চাইছে কাউন্সিল। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি, ১৯ নভেম্বর: দেরিতে হলেও শেষমেশ ঘুম ভাঙল দিল্লির আম আদমি পার্টির (আপ) সরকারের। দূষণ ইস্যুতে বারবার জাতীয় পরিবেশ আদালত (এনজিটি) এবং সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত গ্রিন বডি ইপিসিএ’র কাছ থেকে ধমক খেয়ে অবশেষে আজ দিল্লি সরকার ঘোষণা করল, ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রেম-প্রণয়ে নতুনত্ব থাকবে। নতুন বন্ধু লাভ, ভ্রমণ ও মানসিক প্রফুল্লতা বজায় থাকবে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৫০- মহীশূরের শাসক টিপু সুলতানের জন্ম।
১৯১০- রুশ সাহিত্যিক লিও তলস্তয়ের মৃত্যু।
১৯১৭- কলকাতায় প্রতিষ্ঠা হল বোস রিসার্চ ইনস্টিটিউট।
১৯৫৫- নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের পক্ষে টেস্টে প্রথম দ্বিশতরান করলেন উমরিগড় (২২৩)।  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.০০ টাকা ৬৫.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৩২ টাকা ৮৭.১৯ টাকা
ইউরো ৭৫.২০ টাকা ৭৭.৮৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
18th  November, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,১৯৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৬৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
19th  November, 2017

দিন পঞ্জিকা

৪ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৯/৩৬, নক্ষত্র-জ্যেষ্ঠা রাত্রি ১২/৪৮, সূ উ ৫/৫৬/২৫, অ ৪/৪৮/৪, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৭/২৩ মধ্যে পুনঃ ৮/৫০ গতে ১১/০ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/২৬ গতে ১০/৬ মধ্যে পুনঃ ২/২৭ গতে ৩/১৯ মধ্যে, বারবেলা ঘ ৭/১৮ গতে ৮/৪০ মধ্যে পুনঃ ২/৫ গতে ৩/২৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৪ গতে ১১/২২ মধ্যে।
৩ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৭/৪২/২৮, জ্যেষ্ঠানক্ষত্র ১১/৫৫/৩৬, সূ উ ৫/৫৬/৫৮, অ ৪/৪৬/৫৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/২৩/৩৮, ৮/৫০/১৮-১১/০/১৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৪/৫৮-১০/৫৫/১৮, ২/২৫/৩৭-৩/১৮/১৮, বারবেলা ২/৪/২৮-৩/২৬/৪৩, কালবেলা ৭/১৮/১৩-৮/৩৯/২৮, কালরাত্রি ৯/৪৩/১৩-১১/২১/৫৮। 
৩০ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বারুইপুর স্টেশনে অবরোধ উঠল, শিয়ালদহ বিভাগের প্রতিটি শাখায় ৮টা ৩৪ মিনিট থেকে ফের শুরু ট্রেন চলাচল

09:07:41 PM

রেল অবরোধ ঘিরে ধুন্ধুমার বারুইপুর স্টেশন

 বেআইনি উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে রেল অবরোধকে কেন্দ্র করে ...বিশদ

08:40:29 PM

লুধিয়ানায় প্লাস্টিক কারখানায় আগুন, মৃত ৩
লুধিয়ানায় একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ...বিশদ

08:13:00 PM

ফের দালাল চক্রের অভিযোগ এসএসকেএম হাসপাতালে

 ফের দালাল চক্রের অভিযোগ উঠল এসএসকেএম হাসপাতালে। টাকা নিতে গিয়ে ...বিশদ

07:10:02 PM

 বিহারের গোপালগঞ্জে হাইটেনশন লাইনের বিদ্যুৎস্পৃশ্য হয়ে মৃত ৫, গুরুতর আহত ৩

06:22:00 PM