প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

রিকশ থেকে টোটো

রজত চক্রবর্তী: শিউচরণ বসে আছে। চেক-কাটা লুঙ্গি, গায়ে গেঞ্জি, আর কাঁধে গামছা। কাঁচা-পাকা চুল। পাকানো দড়ির মতো লিকলিকে কালো চেহারা দেখে কেউ বুঝতেই পারবে না, বয়স সত্তরের উপর। বিকাল সাড়ে ৪টে বাজতে আর দেরি নেই। ঘোষবাড়ির ছায়া প্রলম্বিত হয়ে দত্ত বাড়ির রোয়াক পেরিয়ে খড়খড়ি দেওয়া একতলার জানালার উপর পড়েছে। তার উপর দোকানের সাইনবোর্ড, সাইবার কাফে। আগে এই গলিতে বসে বসেই শিউচরণ ছায়া দেখে বলে দিতে পারত সময়। এক্কেবারে কাঁটায় কাঁটায় মিলে যেত। আজকাল এই পুরানো গলিতে পুরানো বাড়িগুলো ভেঙেচুরে নতুন হচ্ছে... ফ্ল্যাট, দোকান। আর তার সঙ্গেই হারিয়ে যাচ্ছে রোদ্দুরের আলোছায়ার তীক্ষ্ণ গল্পগুলো। শিউচরণেরও সময়ের তালগোল পাকিয়ে যায় ইদানীং। আজ বৃহস্পতিবার। বিকাল ৫টায় ঘোষবাবুর প্রথম পক্ষের বড় ছেলে, রামরতনের বউ বীণাপাণি যাবেন নিমতলার ঘাটে। মন্দিরে। প্রতি হপ্তার নিয়ম। বয়স ৮০ তো হবেই! এখনও দুধে আলতা গায়ের রং। রামরতনের বিয়ের কথাও শিউচরণের মনে আছে। শিউচরণ ছাপরা থেকে বউ নিয়ে এই পাড়ায় এল, আর তার সাতদিন পর রামরতনের বিয়ে হল। গামছা দিয়ে মুখটা মুছে নিল শিউচরণ। তাকাল বারান্দার দিকে। এমাথা-সেমাথা বারান্দা এখন চার টুকরো। টানা বারান্দার লোহার কারুকাজ করা রেলিংয়ের উপর কাঠের হাতল, একটু একটু করে চলে যেতে যেতে এখন ছ’ফুটে দাঁড়িয়েছে। বারান্দা থেকে উঁকি মেরে দেখে নিলেন গিন্নিমা – ‘এসেছ?’
সেও যে ছিল এমনই একটা সকাল। রামরতনের মা, মানে ঘোষবাবুর প্রথম পক্ষ বেশ জাঁদরেল গিন্নি। শিউচরণ তখন বালক। বিশাল ঘোষবাড়িতে ঢুকলেই বুক ঢিপঢিপ। সে বছর মোটর গাড়ি এসেছে। তখন লাল ট্যাক্সি চলত। সে’দিন বড়কত্তাকে নিয়ে বাড়ি ফিরছে শিউচরণ। ঠন ঠন আঙুলে বাঁধা ঘণ্টি তালে তাল মারছে হাতলে। বাবুর ধুতির কানাত লুটিয়ে আছে ঝুড়ি ঝুড়ি বাজারের উপর। বৈঠকখানা বাজার থেকে বাজার করেছেন বিস্তর। মুটেরা এসে রিকশ বোঝাই করে দিয়ে গিয়েছে। বাবুর সাদা ঘামে ফতুয়া গায়ে লেপ্টে আছে। বাড়ির কাছাকাছি এসেছে কি আসেনি! ওই তো বারান্দায় বড়গিন্নি! সূর্যের আলো তার বড় নথে ঝিলিক মারছে। মুখ ঢাকা ঘোমটায়। শিউচরণ উপরের দিকে তাকিয়ে রিকশ টানছে জোরে। বারান্দার নীচে পৌঁছে গিয়েছে প্রায়। এইবার শিউচরণ সোজা হয়ে দাঁড়াবে। তারপর ধীরে ধীরে রিকশর হাতলটা নামিয়ে রাখবে রাস্তায়। হঠাত্ ট্যাক্সির বিকট হর্ন একদম পাশে। চমকে উঠে শিউচরণ রিকশ ছেড়ে এক লাফে রাস্তার ধারে চলে গেল। রিকশর হাতল সটান ঊর্ধ্বমুখী। ঘোষবাবু ও তাঁর ঝাঁকা ঝাঁকা বাজার সমেত গেলেন উলটে। বারান্দা থেকে দ্রুত ঘোমটা চলে গেল ভেতরে। রাস্তা জুড়ে গড়াতে লাগলো আলু-পটল-বেগুন থেকে শুরু করে কাতলা মাছ ও পুঁটি। বেসনের ঠোঙা কত্তার মাথায়। শোরগোলের মাঝে তাঁর আর্ত চিত্কার...।
এমন ঘটনা তখন প্রায়ই হত। এই তো সেদিন, হাতিবাগান থেকে ‘থেটার’ দেখে ফিরছেন কত্তা-গিন্নি রিকশ ভরতি করে। হ্যাঁচ্চো...। রিকশ যিনি টানছিলেন, তাঁর মোক্ষম হাঁচি। ব্যাস! হ্যান্ডেল গেল ফসকে। যাত্রীযুগলের বুক খালি করে উলটাতে বদ্ধপরিকর রিকশর হাতল হাঁচি সামলে একলাফে ধরে নিলেন বাহক। তারপরের দৃশ্যটা হল, বাহক ঝুলছেন টিকটিকির মতো, আর কত্তা-গিন্নির প্রায় ত্রিশঙ্কু দশা। ভার বেশি যে! কিছুতেই মাটি পাচ্ছে না রিকশবাহকের পা। চিত্কার-চেঁচামেচিতে লোকজন এসে আকাশ থেকে টেনে নামালেন রিকশটিকে। অতীত দুর্যোগ ভুলে আবার আপন গতিতে ঠুং ঠুং টানা রিকশর অলস দুলকি চালে চলা। কত বছর হয়ে গেল! শিউচরণ আজও ওই গতি, ওই ছন্দ, ওই স্মৃতি আঁকড়েই পড়ে আছে...। আর তার সঙ্গী? সাবেক কলকাতার ঐতিহ্য!
শিউচরণের বাপ-ঠাকুরদা কলকাতায় এসেছিল সে এক ধর্মঘটের দিন। তখন অবশ্য হরতাল, ধর্মঘট, স্ট্রাইক এ সব কথার জন্মই হয়নি। কলকাতায় প্রথম শ্রমিকদের প্রতিবাদ। ১৮২৭ সাল। তখন পালকির সময়। হঠাত্ একদিন পালকি বাহকেরা পালকি নামিয়ে রাখল কাঁধ থেকে। সবাই একসঙ্গে। সারা কলকাতায় তখন সাকুল্যে ১১ হাজার কয়েকশো বেহারা। কলকাতার রাস্তায় বেহারাদের সেই ছন্দের বুলি থামল নিমেষে। অদ্ভুত ছন্দে তারা পালকিতে সওয়ারি নিয়ে চলত...। আসলে প্রায় সব বেহারাই ছিলেন ওড়িয়া। তাঁরা দল বেঁধে যেখানে থাকতেন, সেখানে সেখানে কর্পোরেশন একটা করে ‘Palanquin Stand’ করে দিল। কলকাতায় তখন যানচলাচলের একমাত্র উপায়কে নিয়মে আনতে চাইছে সরকার। পুলিশকর্তা এক ‘ফতোয়া’ জারি করলেন, সব বেহারাকে লাইসেন্স করাতে হবে। নির্দিষ্ট ভাড়াও তাদের বেঁধে দেওয়া হয়ছে ওই ‘ফতোয়া’য়। ব্যাস, সবাই জোট বেঁধে ময়দানে। দল বেঁধে পুলিশের অফিসে। কিছুটা সুরাহা হল। ঠিক হল, লাইসেন্স করা যাবে বিনা পয়সায়। আবার মিটিং। সুপ্রিম কোর্টের (এখনকার হাইকোর্ট) সামনের জমিতে। ইংলিশম্যান পত্রিকা লিখল—“ They resorted to the meadow before Supreme Court and raised loud clamours”। এবার জাতের লড়াই। তাঁরা পালকিবাহক ‘শেলদা ইস্টিশান’-এর কুলি নন! সুতরাং ওই নম্বর লেখা চাকতি অঙ্গে ধারণ করবেন না। গররাজি ওই বেঁধে দেওয়া ভাড়াতেও। নানারকম পত্র-পত্রিকায় হরেক লেখালেখি। কিছুতেই কিছু হল না। ধর্মঘট জারি থাকল। আর ওদিকে হাওড়ার সাঁকো ধরে লোটা-কম্বল মাথায় নিয়ে গঙ্গা পেরিয়ে আসতে লাগলেন হিন্দুস্থানি বেহারারা। শিউচরণের বাপ-ঠাকুরদা সেই থেকেই হরিঘোষ স্ট্রিটের এই গলিতেই আস্তানা করেছেন।
আর ও’দিকে চৌরঙ্গিতে থাকেন মিঃ ব্রাউনলোক। তিনদিন আপিস যেতে না পেরে বসে পড়লেন কাঠ-ছেনি-হাতুড়ি-বাটালি নিয়ে। পালকির নীচে চারটে চাকা জুড়লেন। সামনের হাতলে জুতলেন ঘোড়া। চললেন আপিস। কলকাতার রাস্তায় প্রথম চাকা লাগানো গাড়ি, ‘ব্রাউন বেরি’। সে চাকা গড়াতে গড়াতে কত তার রূপ-রং-কেতা ও নামের পরিবর্তনে কতরকমই না গাড়ি চলল..। কলকাতাও গড়িয়েছে তারই সঙ্গে। সময়ের চাকায় সওয়ার হয়ে। ফুরিয়েছে স্মৃতি। ধূসর হয়েছে ঐতিহ্য। কিন্তু টানা রিকশর রোমান্টিকতা আজকের জেট যুগেও টিকে আছে গৃহপ্রবেশের দরজার মাথায় সিঁদুর-টিপের মতো।
ঢালু পাদানিতে কসরত করে বসে পড়লেই হল। ঠুং ঠুং আওয়াজের সাথে সাথে ঢকর-ঢকর দুলুনি নিয়ে যাবে এক আত্মভোলা যাত্রাপথে। চারদিকে চিত্কার চেঁচামেচি, বাস-মোটর-ট্যাক্সির রাগত হর্নের মধ্য দিয়ে নিঃস্তরঙ্গ আপন ছন্দে যেন ভেসে যাওয়া... অলিগলির ভিতর দিয়ে... এক মায়াযানে। এক দুলুনি-নেশায় আচ্ছন্ন রিকশযাত্রী। ট্যাক্সিই হোক বা নিজস্ব মোটর... এ সওয়ারির মধ্যে এক ধরনের দ্রুততার ও ক্ষিপ্রতার চাতুরি থাকে। রিকশযাত্রীর তার দরকার নেই। তিনি যেন জেলখানায় ঘড়ি জমা দিয়ে এসে সময়-ছেঁড়া পাখির মতো ধীরেসুস্থে পাদানিতে পা রেখেছেন। তারপরই আকাশের দিকে তাকিয়ে ঠুং ঠুং ছন্দে ভাসতে ভাসতে চলা। রিকশর সিটে যাত্রীই সম্রাট। ব্যাকড্রপে ক্ল্যারিওনেট বেজে ওঠে, আর সামনে শিউচরণের আঙুলের ঘুঙুরে বেহুলার নৃত্যধ্বনি। রিকশযাত্রী এবং রিকশবাহকের মধ্যে এক অপরূপ রসায়ন তৈরি হয়। যেমন যাত্রা, তেমন ঘণ্টির তাল। এ সবই হয় বাবু বা বিবির মরজির উপর। হঠাৎ ঠং ঠং করে পেতলের গঙ্গাজল ভরা ছোট্ট ঘড়া পড়ে গেল রাস্তায়। যাত্রী নিমতলার ঘাট থেকে ওঠা দাস-ঠাকমা। হাতের মোচড়ে গাড্ডা বাঁচাতে গিয়েই বেমক্কা ঝাঁকুনি। আর ঠাকমার হাতের ঘটি মাটিতে। শিউচরণ রিকশ নামিয়ে কান মুলছে। দাঁত বের করা হাসি গিলে ফেলছে ঠাকুমার শাপ-শাপান্ত। আবার এই ঠাকমাই পুজোর সময় একটা লুঙ্গি আর গেঞ্জি শিউচরণের হাতে তুলে দেয়..., আর বউমার জন্য আলতা-সিঁদুর-মিষ্টি। কলকাতার থই থই বর্ষাতেও যে শিউচরণরাই ভরসা! শিউচরণের বুক সমান জল। পাদানি ডুবু ডুবু, জলের উপর ছলাত্ ছলাত্ ভেসে যাওয়ায় রিকশ সওয়ারিই জানেন সে বর্ষাযাত্রার স্বস্তি।
যে যানের জন্মলগ্নেই আছে ভালোবাসার গান সে তো রোমান্টিকতার লয়ে বহমান হবেই। জোনাথন স্কুবেই, আমেরিকান মিশনারি। ছিলেন জাপানের ইয়োকোহামাতে। তাঁর স্ত্রী ছিলেন অসুস্থ, চলতে ফিরতে পারেন না। কিন্তু তাঁকে বাইরে বেড়াতে নিয়ে যাবেন জোনাথন। এই সুন্দর জগতের রূপ-রস-রং-গন্ধের মাঝেই রাখতে চান প্রেয়সীকে। বন্ধ ঘর থেকে বাইরে..., জীবনের স্রোতের কাছে। ১৮৬৯ সাল। কাঠ কেটে, কাঠ জুড়ে বানালেন প্রথম হাতেটানা রিকশ। স্ত্রীকে বসিয়ে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। মানুষে টানা যান। জাপানী ভাষায় জিনরিকিশা (jinrikisha)। জাপানে জিন(jin) মানে মানুষ, রিকি (riki) মানে পাওয়ার বা ফোর্স আর শা (sha) মানে গাড়ি। মানুষের শক্তিদ্বারা চালিত গাড়ি। আবিষ্কর্তা নিয়ে নানা মত থাকলেও রিকশর জন্মবর্ষ (১৮৬৯) ও স্থান নিয়ে কোন বিরোধ নেই। সেই জাপান থেকে রিকশ গড়াতে গড়াতে ভারতে এসে পৌঁছাতে লেগে গেল এগারোটা বছর। ১৮৮০ সালে সিমলায় রেভারেন্ড জে ফোরডাইস (Rev. J. Fordyce) প্রথম আনলেন হাতেটানা রিকশ। আর কলকাতার রাস্তা তাকে বুক পেতে গ্রহণ করল ১৯১৪ সালে।
জাপানে যখন (১৮৬৯) হাতেটানা রিকশর জন্ম হচ্ছে, তার দশ বছরের মাথায় সাঁতরাগাছির এক কর্মকার আবিষ্কার করে ফেলেছেন তিনচাকার এক গাড়ি। যা ঘোড়া বা মানুষকে টানতে হয় না। যে চড়ে সে নিজেই প্যাডেলে চাপ দিয়ে চালাতে পারে। ১৮৭৯ সালে জুলাই মাসে ‘সুলভ সমাচার’ (১৫ অগ্রহায়ণ, ১২৭৭) পত্রিকায় এ খবর বেরল—“কলিকাতায় অনেকে দেখিয়া থাকিবেন তিন চাকার একরকম গাড়ি আছে, তাহা ঘোড়ায় টানে না, যিনি চড়েন তাঁহাকে দুই পা দিয়া চাপ দিতে হয়, আর গাড়িখানি ঘোড়ার গাড়ি অপেক্ষাও দৌড়িয়া চলিয়া যায়। সম্প্রতি সাঁতরাগাছিতে একজন কর্ম্মকার বুদ্ধি খাটাইয়া একখানি সেই রকম গাড়ি প্রস্তুত করিয়াছেন”। তাঁর নাম প্রসন্নকুমার ঘোষ। নামটাও ছাপানো হয়েছিল ঐ পত্রিকারই পরের সংখ্যায়। প্রসন্নকুমার ঘোষই প্রথম, যিনি সাইকেল জাতীয় যান আবিষ্কার করেছিলেন ভারতবর্ষে। কিন্তু আত্মবিস্মৃত জাত বাঙালি তা ভুলে গিয়েছে। আমরা ভুলেছি এমন কত বাঙালির নাম, যাঁরা গ্রামীণ পরিবেশে নিভু নিভু আলোর নীচে টালির ঘরে আবিষ্কার করেছিলেন এমন কিছু, যা ওই গর্বোদ্ধতো সাদা জাতটা সে সময়ে কল্পনাও করতে পারেনি। হাতেটানা রিকশ থেকে প্যাডেল রিকশর বিবর্তনে সাঁতরাগাছির প্রসন্নকুমার ঘোষের নাম স্মরণ করতেই হবে। তিনচাকার সাইকেল জাতীয় যান তৈরির প্রবক্তা প্রসন্নকুমার ঘোষ হলেও কলকাতাবাসী প্রথম যে বাঙালিকে শহরের রাস্তায় তিনচাকার যানে চেপে ঘুরতে দেখেছে, তিনি দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনিই প্রথম তিনচাকার ‘পা-গাড়ি’ চেপে জোড়াসাঁকো থেকে পার্ক ষ্ট্রিটে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে আসতেন।
কখনও মিহি, কখনও তীক্ষ্ণ, আবার কখনও তীব্র। নানা বিচিত্র শব্দের ক্যাকোফোনিতে সরগরম ছিল টালা থেকে টালিগঞ্জের অলিগলি। মফস্‌সলের ব্যস্ত রাস্তাগুলি। রিকশবাহক দ্রুত হয়ে গেল রিকশচালক। সিটে বসেই প্যাডেলে চাপ। হুড়মুড়িয়ে বাড়ির দোড়গোড়ায়। শিউচরণের ছোট ছেলে রিকশ নিয়েছে ব্যাংক লোনে। খুব ছোটাচ্ছে স্কুলের ট্রিপ (ওদের কথায় ‘টিপ’)। রিকশকাকুর রিকশয় ফিরছে আবাসনের মম-টুকাইরা। ঝপাং করে রিকশয় বসেই সিগারেট ধরালেন ব্যাংকবাবু। টিউলিপ মিস স্টেট করা চুল সামলে নামলেন স্কুলের সামনে। জামা উড়িয়ে হাতের ঘড়িতে চোখ রেখে দ্রুত যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে এদিক-সেদিক শিউচরণের পরের প্রজন্ম। রিকশয় যাঁরা চড়েন, তাঁরা রিকশতেই যাবেন। বোনাফায়েড প্যাসেঞ্জার। পান চিবোতে চিবোতে বা এদিক-সেদিক দার্শনিক দৃষ্টি ছুঁইয়ে তিনি চলেছেন। একাকী, বা নিকটজন সঙ্গে। পাড়া দর্শন করতে করতে চলা। চেনা লোকের সঙ্গে মুহূর্তের কুশল বিনিময় রিকশয় বসেই। অথবা অচেনা জায়গায় চারপাশ দেখতে দেখতে চলা। আনাচে কানাচে কয়েকটা রিকশ দাঁড়ালেই রিকশ স্ট্যান্ড। পাশেই মঙ্গল-চণ্ডী, শনি, পিরবাবার আবির্ভাব। বোনাফায়েড রিকশ আরোহীদের সহযোগিতা। তারপর ইউনিয়ন, দল, উপদল... এ এক আশ্চর্য উত্থানপর্ব রিকশ চালকদের। সাইকেল রিকশর শুরু তিনের দশকে। অলিতে গলিতে জালের মতো বিস্তার ঘটল ছয়ের দশকের শেষ দিকে। রিকশ ও প্যাসেঞ্জারের এক অদৃশ্য বোঝাপড়া থাকে। পালবাবু বাজারের ব্যাগ নিয়ে বেরলেই ছোটকা তার রিকশ নিয়ে এগিয়ে আসে। শ্যামাবৌদিকে ব্যালকনিতে দেখলেই নবা তার প্যাডেলে চাপ দেয়। পাড়ার মোড়ের রিকশ চালকরাই পাড়ার পঞ্জিকা। সব গড় গড় করে বলে দেবে। তবে এই নব্য রিকশ চালকরা শিউচরণদের মতো বাধ্য নন। তেজালো চতুর ভঙ্গি তাঁদের চলনে। মাঝে মাঝেই তর্কাতর্কি-ঝামেলা রিকশর বিচিত্র হর্নের মতো বৃদ্ধি পায়। তবুও সেই রাতে বুক খামচে ফুটপাথে বসে পড়া চৌধুরিবাবুকে তুলে বাড়ি পৌঁছেই ক্ষান্ত হননি মোড়ের মাথার রিকশ চালকরা, সারারাত বসে ওই নবা, ছোটকা, ঘোতন...। রিকশ নিয়েই। গতি আরও গতি। আরও মহার্ঘ্য হচ্ছিল সময়। সময় ও অর্থের হিসাব-নিকাশে তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছিল রোজনামচা। দৌড়। ধীরলয়ে চলা জীবনে হঠাত্ দৌড়দৌড়ির উত্পাত!
অটো এসে গেল দুরদারিয়ে। তার নির্দিষ্ট রুট আছে। গাড়ির প্রজাতিতে পড়ে। যদিও ছোট প্যাসেঞ্জার-যান। তবে রিকশপর্বে সে পড়ে না...। তাই তার চরিত্র আলাদা। পাড়ায় পাড়ায় তখনও সাইকেল রিকশ। আর বাগবাজার, শোভাবাজার, বড়বাজার চত্বর জুড়ে শিউচরণেরা বাবার হাতে লাগানো গাছটির মতো ঠায় এখনও বসে আছে। ওই ঘোষ-বোস-দত্ত-মিত্র-দাস ইত্যাদি ইত্যাদিদের পুরানো বাড়ির কড়িবরগা যতদিন আছে, ততদিন শিউচরণরা আছে। প্রবল বর্ষায় এই শিউচরণদের কাঁধে ভর করেই ভেসে চলা ডুবে যাওয়া পথে। বাড়ির দোড়গোড়া থেকেই। তবুও ওদের নাকের পাশ দিয়ে সাঁ করে ইদানীং বেরিয়ে যাচ্ছে ‘টোটো’। একসঙ্গে চারজন মুখোমুখি। পাড়ার লোক, সম্পর্ক ভালো নয়, মুখোমুখি হাঁটু’র সাথে হাঁটু মিলিয়ে চলল টোটো। এক সম্প্রীতির বাতাবরণ, চারপাশ খোলা, মাথায় ঢাকা, গদি আঁটা সিটে ফুরফুরে ঘুরে বেড়ানো। ই-রিকশ। আর একটু গতি। আর একটু লাভ। কম মেহনত। সামনে বসে চালক স্কুটারের এই নবতম সংস্করণে কবজির মোচড়ে নিয়ে যাবে আপনাকে অলিগলির পথে। ব্যাটারিতে চার্জ দাও, আর চলো। ব্যাটারি চার্জ দিয়ে গাড়ি চালানোর প্রথম প্রবক্তা স্কটল্যান্ডের এক বৈজ্ঞানিক রবার্ট ডেভিডসন। ১৮৩৭ সালে তিনি ই-কার তৈরি করলেন। খুব একটা বাণিজ্যিক সাফল্য পেল না সে গাড়ি। তারপর ইংল্যান্ডের থমাস পার্কারের (১৮৮৪) হাত ঘুরে সফল হলেন জার্মান আবিষ্কর্তা অ্যান্ড্রিজ ফ্লকেন (১৮৮৮)। ১৮৯০ সালে ইলেকট্রিক চার্জ দেওয়া গাড়ি তৈরি হল সফলভাবে ইউরোপ ও আমেরিকায়। এই সাফল্যই টুক করে ‘টুক-টুক’-এর জন্ম দিল। স্বাভাবিক ভাবেই জনসংখ্যার বিস্ফোরণের কারণেই সস্তা ও ইকনমিক ক্লাসের যানবাহনের প্রয়োজনে চীন বের করলো টুক-টুক। চীন থেকেই বাংলাদেশ, নেপাল, মায়ানমার, ইন্দোনেশিয়া হয়ে ভারতে এল ২০০৮ সালে..., কোনও কোনও শহরে। ভারতে কিন্তু টোটোর ভাবনা এসেছে নয়ের দশকেই। মহারাষ্ট্রের নিম্বলকার এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ই-রিকশ প্রথম সফলভাবে তৈরি হয়। তারপর দেশের, বিশেষ করে দিল্লি আর বম্বের রাস্তায় সাঁ সাঁ করে চলতে শুরু করলো ধোঁয়াহীন টোটো। ঘুরতে ঘুরতেই প্যাঁচে পড়ে গেল আদরের ‘টুক-টুক’। দিল্লি হাইকোর্ট ৩১ জুলাই, ২০১৪ তারিখে এক আদেশে টোটো চালানো বন্ধ করে দিল। পাড়ায় পাড়ায় রিকশ চালকেরা আরও জোরে জোরে হর্ন বাজিয়ে সোল্লাসে রিকশ চালাতে শুরু করল। এতদিন একটু মনমরা ছিল। পাড়ার শান্তাবৌদি, মান্তাকাকিমারা ছেলেমেয়ের হাত ধরে টোটোতে চেপে, ‘তাড়া আছে রে’ বলে চলে যাচ্ছিলেন। টোটো বন্ধ হওয়ায় ‘আবার আসিছে ফিরে’। কিন্তু মোটর ভেহিকেলস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল’১৫ আনল কেন্দ্রীয় সরকার এবং টোটো তথা ই-রিকশ আইনের স্বীকৃতি পেল ২০১৫ থেকে। পাড়ার মোড়ে টোটোওয়ালারা লাড্ডু খাওয়াল। ঘোতন-ছোটকারা নিজেদের রিকশয় গ্যাঁট হয়ে বসে রইল। লাড্ডু খেল না।
রোদ চলে গেলেও, তাপ রেখে গিয়েছে গলিতে। এক হাতে হাতল, অন্য হাতে নাতনি... ঘোষ গিন্নি রিকশয় উঠলেন। কতদিন শিউচরণের হাত ধরেই উঠেছেন। পিড়িং করে পাশে জিনস আর টপে কলেজ পড়ুয়া নাতনি বসে পড়ল। ঠুং ঠুং নিমতলা ঘাট। পাশ দিয়ে প্যাঁক প্যাঁক বেরিয়ে গেল সাইকেল রিকশয় শিউচরণের ছোট ছেলে। পাল কত্তা-গিন্নিকে ডাক্তারখানায় নিয়ে যাচ্ছেন। সাঁ সাঁ করে নিঃশব্দে ওভারটেক করলো টোটো। সওয়ারি চারজন। কলেজ পড়ুয়া অনুভব, উলটোদিকে কোচিংয়ে চলল তৃণা, রিটায়ার্ড মাস্টার মশাইয়ের উলটোদিকে মাংস বিক্রি করে মকবুল। সবাই চলেছে। তার নিজের গতিতে। সবাইকে নিয়েই কলকাতা চলেছে। অলিগলি পাকস্থলির ভেতরে ভেতরে এক সর্বংসহা দেশ চলেছে। এ এক যাত্রাপথ। ফেলে রেখে যাবে অলসবেলার স্মৃতি, হাতেটানা রিকশর ঠুং ঠুং রোমান্টিক সুর। অথবা সাইকেল রিকশর ক্যাকোফোনি কোনওদিন হয়তো অতীত হয়ে যাবে। এভাবেই সময় এগিয়ে চলে। চলছে।
কৃতজ্ঞতা: মহেন্দ্রনাথ দত্ত, ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর,
কালীপ্রসন্ন সিংহ, যোগীন্দ্রকুমার চট্টোপাধ্যায়, বিনয় ঘোষ, সিদ্ধার্থ ঘোষ।
ছবি: চন্দ্রভানু বিজলি, দীপ্যমান সরকার, পিটিআই
গ্রাফিক্স: সোমনাথ পাল
সহযোগিতায়: স্বাগত মুখোপাধ্যায়
30th  April, 2017
খাতা দেখা 

বসন্ত কড়া নাড়লেই বুঝতে হবে মা-উমা খুব দূরে নেই। অর্থাৎ মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক। ভাবা যায়, একটা রাজ্যে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ লক্ষের বেশি? আর এই দুই পরীক্ষা শেষ হতেই রাজ্যের আনাচে কানাচে হাজার হাজার স্কুল টিচারের গৃহকোণে শুরু হয়ে যায় কুটির শিল্প—খাতা দেখা।
বিশদ

28th  May, 2017
র‌্যানসামওয়্যার এবং বিটকয়েন 

দেবজ্যোতি রায়: ‘এত দ্রুতগতিতে প্রযুক্তির উন্নতি ঘটছে যে এই আগ্রাসন গোটা মানবজাতিকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। বংশপরম্পরাকে রক্ষা করতে গেলে যুক্তি ও কারণ দিয়ে এতে লাগাম দিতে হবে।’ প্রযুক্তির রকেটসম অগ্রগতি নিয়ে সম্প্রতি এক সেমিনারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন পৃথিবীখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিনস। এর জন্য বিভিন্ন দেশের সরকারকে এগিয়ে আসার আরজিও জানিয়েছিলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রফেসর তথা পদার্থবিদ।
বিশদ

21st  May, 2017
আবাসন আইন 

১ মে দেশজুড়ে চালু হয়েছে আবাসন সংক্রান্ত আইন ‘দি রিয়েল এস্টেট (রেগুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) অ্যাক্ট। চলতি কথায় ‘রেরা’। কেন্দ্রীয় আইনটির উপর ভিত্তি করে রাজ্যগুলির নিজস্ব বিধি রা রুল তৈরি করার কথা। কী পরিস্থিতি রয়েছে এই আইন নিয়ে? আইনটির সুবিধাগুলিই বা কী কী? দেখে নেওয়া যাক আইনের খুঁটিনাটিগুলি। 
বিশদ

14th  May, 2017
বাহুবলীর নেপথ্যে

যাবতীয় রেকর্ড ভেঙে সদর্পে ছুটে চলেছে বাহুবলীর বিজয়রথ। প্রথম দিনের কালেকশনই ছিল প্রায় ১২২ কোটি। লাইট, ক্যামেরা, সাউন্ড, অ্যাকশন এবং ভিস্যুয়াল এফেক্ট। ছবির অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে কিন্তু রয়েছে আরও অনেক কিছু। বিশদ

07th  May, 2017
খাঁসাহেব 

সমৃদ্ধ দত্ত: মার্চ মাসের সকাল সাড়ে ১০টা এমনিতে দিল্লিতে বেশ আরামদায়ক ওয়েদার। সেদিন ৫ মার্চ আবার বেশ ঠান্ডা হাওয়াও ছিল। ইন্ডিয়ান হ্যাবিট্যাট সেন্টারে আয়ান আলি বাঙ্গাশ আসনে বসেই গুরুগম্ভীর আবহটি কাটিয়ে বেশ হালকা মুড নিয়ে এলেন। একটু আগে ঘোষিকা সিরিয়াস ভঙ্গিতে শ্রোতৃমণ্ডলীকে বলেছেন, সরোদ বাদনের মাঝখানে করতালি না দেওয়াই শ্রেয়। 
বিশদ

23rd  April, 2017
 স্মৃতির রেলপথে

 ওই রেললাইন দিয়ে আরও একবার ট্রেন ছুটবে। শিয়ালদহ থেকে ছেড়ে পৌঁছে যাবে খুলনা। ওই রেলরুটে আরও একবার মিলবে দুই বাংলা। যা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল স্বাধীনতার আগে। সেই স্মৃতির পথেই আজ ফিরে দেখা।
বিশদ

16th  April, 2017
 অপেক্ষায়

 উদ্দালক ভট্টাচার্য: এ যে ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি। এ প্রজন্মের ক’জন আর দেখেছে এই ট্রেনকে? জন্ম থেকে হয় বাপ-ঠাকুরদার মুখে শোনা, কিংবা চোখে দেখা ওই রেললাইনটা। স্মৃতির আঁচ উসকে হঠাৎ এল খবর, আবার জুড়তে চলেছে ভারত-বাংলাদেশ। ওই রেললাইনের মাধ্যমেই। আবার শিয়ালদহ থেকে রেল ছুটবে... পৌঁছে যাবে খুলনা পর্যন্ত। অনেকের মতো ওই ব্যক্তির পরিবারও একদিন দেশভাগের আবহে ছিন্নমূল হয়ে উঠে এসেছিল এপারে।
বিশদ

16th  April, 2017
মিথভঙ্গ? 

পদবি কি তার ধার ও ভার দুই-ই হারাচ্ছে? মোদি জমানায় আজ এই চরম প্রশ্নের মুখে কংগ্রেস। আর স্পষ্ট করে বলতে গেলে গান্ধী ও নেহরু পরিবার। সৌজন্যে রাহুল গান্ধী। কেন এখনও আসরে নেই প্রিয়াঙ্কা? তিনিও নিছক রূপকথা নন তো? 
বিশদ

09th  April, 2017
আগুনের সঙ্গে লড়াই 

‘পদ্মশ্রী’ বিপিন গণোত্রা: আগুনে বড় ভয় ছিল দাদার। নিজে তো দূরে থাকতেনই, আমাদেরও সবসময় সাবধান করতেন। দাদার মতো নির্বিবাদী লোক খুব বেশি দেখিনি। খেরু প্লেসে মোটর পার্টসের একটা দোকান ছিল। দোকান, আর বাড়ি... এই ছিল দাদার রুটিন।
বিশদ

02nd  April, 2017
অগ্নীশ্বরের সন্ধানে 

সুপ্রিয় নায়েক: ডাক্তারির ফাইনাল পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে ছেলেটি। মেডিকেল কলেজের কমন রুমে সে নিয়ে জোর আলোচনা। অথচ ছেলেটিরই দেখা নেই। পাশ করার খবর পেয়েই সে চলে গিয়েছে গ্রামের বাড়িতে।
বিশদ

26th  March, 2017



একনজরে
 বিএনএ, মেদিনীপুর: রেশনের মালপত্র পাচারের চেষ্টার অভিযোগে গোয়ালতোড়ের নলবনা গ্রামে এক ডিলারের বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাল গ্রামবাসীরা। শনিবার রাতে ওই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযুক্ত রেশন ডিলার সমীর দত্তের বাড়ি ভাঙচুর করার পাশাপাশি তাঁকে মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ। ...

ওয়াশিংটন, ২৮ মে: প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রতি নিজেদের সমর্থন জানাল শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি-সেভেন এর ছ’টি রাষ্ট্র। তবে এই চুক্তিতে আমেরিকা অবস্থান পরিষ্কার করেননি ...

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি, ২৮ মে: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসকে ‘অল আউট’ আক্রমণ করুন। এ ব্যাপারে কোনওরকম চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজন নেই। কেন্দ্রের বিজেপি ...

প্যারিস, ২৮ মে: ফরাসি ওপেনের শুরুতেই ইন্দ্রপতন! রোলাঁ গারোঁর প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে গেলেন মেয়েদের শীর্ষ বাছাই জার্মানির অ্যাঞ্জেলিক কেরবার। ফরাসি ওপেনের ইতিহাসে যা রেকর্ড। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে শুভ। যোগাযোগ রক্ষা করে চললে কর্মলাভের সম্ভাবনা। ব্যাবসা শুরু করলে ভালোই হবে। উচ্চতর ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৮৩- স্বাধীনতা সংগ্রামী বিনায়ক দামোদর সাভারকারের জন্ম
১৯২৩- রাজনীতিক ও তেলুগু দেশম পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এনটি রামা রাওয়ের জন্ম
২০১০- পশ্চিমবঙ্গে জ্ঞানশ্বেরী এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪১জনের মৃত্যু

28th  May, 2017



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৭৪ টাকা ৬৫.৪২ টাকা
পাউন্ড ৮১.৭৫ টাকা ৮৪.৭২ টাকা
ইউরো ৭১.০৭ টাকা ৭৩.৬০ টাকা
27th  May, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,৩৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৮৪০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,২৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৫০০ টাকা
28th  May, 2017

দিন পঞ্জিকা

১৫ জ্যৈষ্ঠ, ২৯ মে, সোমবার, চতুর্থী দিবা ১১/৭, পুনর্বসুনক্ষত্র দিবা ১/২৫, সূ উ ৪/৫৫/৫৯, অ ৬/১১/৪৭, অমৃতযোগ দিবা ২/২৮-১০/১৪ রাত্রি ৯/৪-১১/৫৫ পুনঃ ১/২১-২/৪৭, বারবেলা ৬/৩৬-৮/১৫ পুনঃ ২/৫২-৪/৩২, কালরাত্রি ১০/১৩-১১/৩৪।
১৪ জ্যৈষ্ঠ, ২৯ মে, সোমবার, চতুর্থী অপরাহ্ণ ৪/১৫/৪৭, পুনর্বসুনক্ষত্র সন্ধ্যা ৬/৩৬/১০, সূ উ ৪/৫৪/৫০, অ ৬/১২/১৫, অমৃতযোগ দিবা ৮/২৭/২৯-১০/১৩/৪৮ রাত্রি ৯/৩/৩৬-১১/৫৪/৫৮, ১/২০/৩৮-২/৪৬/১৯, বারবেলা ২/৫২/৫৪-৪/৩২/৩৪, কালবেলা ৬/৩৪/৩১-৮/১৪/১১, কালরাত্রি ১০/১৩/১৩-১১/৩৩/৩৩।
২ রমজান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে গাড়ির ধাক্কা, মৃত ৩ 
উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে গাড়ির ধাক্কায় তিনজনের মৃত্যু হল। জখম হয়েছেন একজন। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে ইসলামপুরের রামগঞ্জে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর। 

01:32:00 AM

রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে রোগী উধাও, উত্তেজনা 
এক রোগীর বেপাত্তা হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে। হাসপাতালের অ্যাসিসট্যান্ট সুপারকে হেনস্তার অভিযোগে আটক করা হয়েছে তিনজনকে। 

28-05-2017 - 09:24:00 PM

আমেরিকার মিসিসিপিতে বন্দুকবাজের হামলায় মৃত কমপক্ষে ৮, অভিযুক্ত ধৃত 

28-05-2017 - 08:57:00 PM

ম্যাঞ্চেস্টারে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্রিটেনে ধৃত ২৫ বছরের এক যুবক 

28-05-2017 - 08:55:00 PM

শ্রীলঙ্কায় বন্যা: ত্রাণসামগ্রী নিয়ে কলম্বো পৌঁছাল ভারতীয় নৌসেনা জাহাজ আইএনএস শার্দূল

28-05-2017 - 03:21:58 PM

পার্কস্ট্রিটে কর্পোরেশন ব্যাংকে আগুন, ঘটনাস্থলে ৪টি দমকলের ইঞ্জিন
রবিবার দুপুরে পার্কস্ট্রিটে কর্পোরেশন ব্যাংকে আগুন। ঘটনাস্থলে ৪টি দমকলের ইঞ্জিন। এখনও আগুন জ্বলছে ব্যাংকে ভিতরে। এলাকায় ব্যাপক ধোঁয়া। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে আগুন জ্বলছে। দমকল ও পুলিশ কর্মীরা ব্যাংকের শাটার খোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে কলকাতা পুলিশের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিমের আধিকারিকরা। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে দমকলের পক্ষ থেকে। দমকল কর্মীদের অনুমান কর্পোরেশন ব্যাংকের সার্ভার রুম থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে।

28-05-2017 - 03:20:24 PM






বিশেষ নিবন্ধ
 লালবাজার অভিযান: মমতার চালে বিজেপি মাত!
শুভা দত্ত: সিপিএমের নবান্ন অভিযানের ধাঁচে লালবাজার অভিযান করে রাজ্যবাসীকে চমকে দিতে চেয়েছিল রাজ্য বিজেপি। ...
 হুট বলতে ফুট কাটার অসুখ
 সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: আমার এক বন্ধু প্রায়ই ভারী অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলে। যেমন, জ্বর-জ্বালা, বুক ধড়ফড়ানি, ...
নদী তুমি কার
বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়: ১৯৪৭ সালে দ্বিখণ্ডিত স্বাধীনতা কেবলমাত্র মানুষকে ভাগ করেনি, প্রাকৃতিক সম্পদেও ভাঙনের সাতকাহন সূচিত ...
চীন, পাকিস্তান বেজিংয়ে ফাঁকা মাঠ পেয়ে গেল ভারতের কূটনৈতিক ভুলের কারণে
কুমারেশ চক্রবর্তী: মাত্র কিছু দিন আগে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা আইসিসি’র এক ভোটে ৯-১ ভোটে ...
ভুলে যাওয়ার রাজনীতি
 সমৃদ্ধ দত্ত: আমাদের প্রিয় গুণ হল ভুলে যাওয়া। রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা সেটা জানেন। তাই তাঁদের খুব ...