প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

খাঁসাহেব 

সমৃদ্ধ দত্ত: মার্চ মাসের সকাল সাড়ে ১০টা এমনিতে দিল্লিতে বেশ আরামদায়ক ওয়েদার। সেদিন ৫ মার্চ আবার বেশ ঠান্ডা হাওয়াও ছিল। ইন্ডিয়ান হ্যাবিট্যাট সেন্টারে আয়ান আলি বাঙ্গাশ আসনে বসেই গুরুগম্ভীর আবহটি কাটিয়ে বেশ হালকা মুড নিয়ে এলেন। একটু আগে ঘোষিকা সিরিয়াস ভঙ্গিতে শ্রোতৃমণ্ডলীকে বলেছেন, সরোদ বাদনের মাঝখানে করতালি না দেওয়াই শ্রেয়। একেবারে সমাপ্ত হলে তখন আপনারা শিল্পীকে অভিনন্দিত করতে পারেন। ফলে সকলেই বেশ তটস্থ হয়ে গেলেন যে, ভুল করেও যেন আবার হাততালি বেরিয়ে না যায়। আয়ান আলি বাঙ্গাশ দেখলেন, ঠান্ডা হাওয়াটা বেশ বাড়ছে। তাঁর পশমিনা শালটি দিয়ে হাঁটু ঢেকে পাশে রাখা ওয়্যারলেস মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বললেন, ‘প্রথমে রাগ আনন্দ ভৈরব। তবে এটা ২০১৭। যখন ভালো লাগবে, আপনারা তখনই করতালি দিতে পারেন। নচেৎ দেখা গেল যখন ভালো লেগেছিল, তখন চুপ করে বসে রইলেন। আর সমাপ্তিটা ভালো না লেগেও নিয়ম রক্ষায় হাততালি দিতে হচ্ছে। কী দরকার বাবা! হিসাব তৎক্ষণাৎ চুকিয়ে দেওয়া ভালো।’ ৭০-৭৫ জনের বেশি শ্রোতা ছিলেন না। সকলেই হেসে উঠলেন। সবথেকে বেশি হাসলেন একেবারে পিছনের সারির চেয়ারে বসে থাকা এক ধবধবে সাদা কুর্তা-পাজামা পরা সৌম্যদর্শন ব্যক্তি। সাদা চুল। তাঁর সমস্যা হল, সারাক্ষণ যমজ নাতিকে সামলাতে হচ্ছে। দু’জনেই এদিক ওদিক দৌড় লাগাচ্ছে। আর তিনি হাত বাড়িয়ে আবার টেনে বসাচ্ছেন। আয়ান আলি বাঙ্গাশ সরোদ হাতে নিয়ে চোখ বুজে কয়েক সেকেন্ড পর ওই ব্যক্তির দিকে একবার তাকালেন শুধু। সেই ব্যক্তি, আর আয়ান আলি বাঙ্গাশের মধ্যে একটা পলকের চোখের ইশারা হল। কিছুটা দূর থেকে বোঝা গেল, হয়তো সম্মতি আর আশীর্বাদ নিলেন আয়ান আলি। সাদা কুর্তা-পাজামার মানুষটি এই বয়সেও অসম্ভব হ্যান্ডসাম। এ এক মহা সমস্যা। তিনি একটু দূরেই বসে আছেন। আবার সামনে আয়ান আলির বাজনা চলছে। কোনদিকে মন দেবে শ্রোতা? বারংবার তো ওই মানুষটির দিকেই চোখ চলে যাচ্ছে! কারণ, এরকম লিভিং লেজেন্ডের সঙ্গে একই গ্যালারিতে বসে, তাঁরই শিষ্য তথা পুত্রের সরোদবাদন শুনতে পারা তো এক লাইফটাইম অভিজ্ঞতা! অতএব স্থির করলাম, কান থাকবে আয়ান আলি বাঙ্গাশের সরোদের আনন্দ ভৈরবীতে। আর মাঝেমধ্যে চোখ যাবে উস্তাদ আমজাদ আলি খানের দিকে। অন্য কেউ সরোদ বাজাচ্ছেন। সেটা শুনে তাঁর অভিব্যক্তি কী হয়, সেটা দেখতে হবে তো! আর যিনি বাজাচ্ছেন, তিনি যদি উস্তাদের নিজেরই পুত্র হন, তাহলে তো আগ্রহটা বাড়বেই। এবং সেই সিদ্ধান্তটি যে সঠিক ছিল, তার প্রমাণ মিলল। বিলম্বিত গৎ থেকে শুরু করে আনন্দ ভৈরবীর সমাপ্তি এবং তারপর দ্বিতীয় রাগ মিঞা কি তোড়ির সময়ও আমজাদ আলি খানের দিকে তীক্ষ্ণভাবে লক্ষ্য করে দেখা গেল, প্রতিটি মুহূর্তে তিনি যতই নাতিদের নিয়ে ব্যস্ত থাকুন, তাঁর ডান হাতের বুড়ো আঙুলটি লাগাতার নির্দিষ্ট তালে কর গুণে চলেছে এক দুই তিন চার...। আর বাঁ হাত প্রতিটি শমে এসে ঠেকা দিচ্ছে কখনও নাতির কাঁধে, কখনও চেয়ারের হাতলে। আয়ান আলি বাঙ্গাশের গুরু দিল্লির এক অনুষ্ঠানস্থলে বসেও শিষ্যের শুদ্ধতা পরখ করে চলেছেন। ২ ঘণ্টা পর মানুষ যখন করতালিতে মুগ্ধতা প্রকট করছে, তখন আয়ান আলি উঠে দাঁড়িয়ে বাবার দিকেই তাকাচ্ছিলেন বারংবার। যেন জানতে চান ঠিকঠাক হয়েছে তো? আমজাদ আলি খান চোখ বুজে। আকাশের দিকে মুখ। হয়তো ঈশ্বরকে আর একটি সাঙ্গীতিক পরম্পরায় শুদ্ধতার পরীক্ষা পাশ হওয়ার উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ দিচ্ছিলেন।
প্রায় ৫০ বছর আগে ইহজগৎ ছেড়ে চলে যাওয়া বড়ে গুলাম আলি খানের শ্রদ্ধার্ঘ্যের প্রতিবেদনে হঠাৎ এই হালফিলের গল্প কেন? কারণ ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীতের ইতিহাসে ঘরানার মাহাত্ম্য অত্যন্ত চর্চিত বিষয়। একটি অভিমত হল, একই সংগীত প্রবণতা তিনটি প্রজন্মই চর্চা করলে তাকে ঘরানা আখ্যা দেওয়া যেতে পারে। সেই প্রজন্মগুলি গুরু, শিষ্য, তাঁর শিষ্য কিংবা পিতা-পুত্র-পৌত্র-প্রপৌত্র হতে পারে। উপরের দৃশ্যটি থেকেই স্পষ্ট যে, আয়ান আলি বাঙ্গাশ কতটা ঈশ্বরের আশীর্বাদপুষ্ট। উস্তাদ আমজাদ আলি খানের থেকে শিক্ষা এবং বাদনশৈলী পেয়েছেন শুধু নয়, আসরে বসেও অদৃশ্য এক পৃষ্ঠপোষণা, আর আশীর্বাদ পেয়ে চলেছেন। উস্তাদ বড়ে গুলাম আলি খাঁ সাহেবের ভাগ্যে এটা ঘটেনি। প্রধানত কাকা কালে খানের কাছে চার বছর মাত্র রেওয়াজ করার সুযোগ পেলেও কোনও এক অজ্ঞাত কারণে বাবা আলি বখশ ছেলের গায়কীকে সেভাবে গুরুত্ব দেননি। তবু বাবার প্রশংসা পেতে মরিয়া গুলাম আলি এক সন্ধ্যায় তাঁকে গান শোনালেন। প্রায় কয়েক ঘণ্টা ধরে। কোনও মন্তব্যই করেননি আলি বখশ। গুলাম আলি বিস্মিত। ব্যথিত। ভালো বা মন্দ কিছু একটা তো বলবেন আব্বা! রাতে নৈশাহারের সময়ও পাশাপাশি খাওয়া। কিন্তু আলি বখশ পুত্রের গান নিয়ে উচ্চবাচ্যই করেননি। আর থাকতে না পেরে শেষমেষ মরিয়া হয়ে পুত্র জানতে চাইলেন, ‘আব্বা আমার গান নিয়ে কিছু বললেন না...।’ আলি বখশ গম্ভীর মুখে উঠে যেতে যেতে বললেন, ‘কী বলব! যার গলায় সুরই নেই, তার তো সংগীতের কিছুই নেই!’ এ যেন বজ্রপাত! সুরই নেই! বাবার কাছে ওই ধাক্কা খাওয়ার পর গুলাম আলির সংগীতে উত্তরণের জেদ অটল হল বটে, কিন্তু পারিবারিক দু্র্যোগ প্রবল হয়ে উঠেছিল। সৎ মায়ের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় গুলাম আলি খান নিজের মাকে নিয়ে আলাদা হয়ে যান। আয়ের জন্য‌ সা঩রেঙ্গী ধরলেন। কিন্তু আব্বার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে গানের রেওয়াজ এমন শুরু করলেন যে পাড়া প্রতিবেশী কমপ্লেন করতে লাগল, এ কি পাগল হয়ে গিয়েছে নাকি! পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গুলাম আলি খান প্রতি রাত্রে সকলে ঘুমিয়ে পড়লে জনবসতি থেকে দূরে কোথাও গিয়ে রেওয়াজ করতেন। সারারাত ধরে। হাতে স্বরমণ্ডল। কোথায়? শ্মশানে!
১৯৪৪ সালে মুম্বইয়ের বিক্রমাদিত্য সংগীত পরিষদের আসরের উদ্যোক্তাদের টেনশন তুঙ্গে। কারণ একজন অজানা নতুন শিল্পী প্রথমে গাইবেন। কিন্তু তারপর যাঁরা মঞ্চে একে একে আসবেন, সেই অতিথিদের তালিকার এক একটি নামই একটি করে সংগীত সাম্রাজ্য। অডিয়েন্সে বসে আছেন ‘আফতাব এ মৌসিকি’ উস্তাদ ফৈয়জ খান, উস্তাদ আলাউদ্দিন খান, সরোদিয়া উস্তাদ হাফিজ হালি খান, এবং জয়পুর ঘরানার পথিকৃৎ উস্তাদ আল্লাদিয়া খান। ওই রাতের আসর হিন্দুস্থানী ক্লাসিক্যাল ইতিহাসের একটি মাহেন্দ্রক্ষণ ছিল। কারণ ওটাই ছিল উস্তাদ আল্লাদিয়া খানের শেষ পারফরম্যান্স। আর ওটাই ছিল মুম্বইয়ের সংগীত রসিকদের প্রথম বড়ে গুলাম আলি খান শোনা। সেই যে নতুন শিল্পী! উদ্যোক্তাদের সবথেকে চিন্তা ছিল উস্তাদ হাফিজ আলি খানকে নিয়ে। কারণ উস্তাদ আমজাদ আলি খানের পিতা নিজে যে সেরা সরোদিয়া ছিলেন তাই নয়, তার সঙ্গেই প্রখর শুদ্ধতাবাদী। সংগীতচর্চাকে পুজো হিসাবেই দেখতেন। সামান্য বিচ্যুতি হলেই ক্ষোভ প্রকাশ করতেন। ঠিক এই কারণেই উদ্যোক্তারা ছিলেন ভয়ানক উদ্বিগ্ন... নতুন এক শিল্পীর গান শুনে হাফিজ আলি খাঁসাহেব আবার কী বলেন কে জানে! হাফিজ আলি ঠিক কেমন ধরনের মানুষ ছিলেন, তার প্রমাণ স্বাধীনতার কয়েক বছর পর পাওয়া যাবে। কুমারপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ম্যহফিল গ্রন্থে তার উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রপতি ডঃ রাজেন্দ্রপ্রসাদ একবার বিশিষ্ট শিল্পীদের রাষ্ট্রপতি ভবনে ডেকেছিলেন সম্মান প্রদর্শনের জন্য। রাষ্ট্রপতিকে আলাদা করে হাফিজ আলি খান কিছু বলতে চেয়েছিলেন। রাজেন্দ্রপ্রসাদ ভাবলেন নিশ্চয়ই কোনও ব্যক্তিগত সমস্যার কথা বলবেন উস্তাদজি। তিনি নিজেই পৃথক একটি ব্যালকনিতে গিয়ে হাফিজ আলি খানকে বললেন, ‘খাঁসাহেব বলুন, আমি আপনার জন্য কী করতে পারি? কী চান আপনি। আমি অবশ্যই চেষ্টা করব পূরণ করতে। আপনি আমাদের হিন্দুস্থানের গৌরব।’ অনেক ইতস্তত করে হাফিজ আলি খান বলেছিলেন, ‘হুজৌর, একটাই সমস্যা। দরবারি কানাড়ায় আজকাল যেখানে সেখানে অনেকে ইচ্ছামতো গান্ধার লাগাচ্ছে। একটা আইন করে ফরমান জারি করা যায় না, যাতে এসব অসভ্যতা আইনমাফিকই বন্ধ হয়ে যায়! এই অনাচার কি সঠিক, আপনিই বলুন?’ আরজি শুনে ডঃ রাজেন্দ্রপ্রসাদ স্তব্ধ।
সে যাই হোক। সেই ১৯৪৪-এর মুম্বইয়ে সেদিন পাতিয়ালা ঘরানার বড়ে গুলাম আলি খান প্রথমেই ধরলেন মারওয়া! ধন্য ধন্য পড়ে গেল কিছুক্ষণের মধ্যে। এরকম মারওয়া বহুদিন পর। প্রত্যাশা বেড়ে গেল। এরপর নিশ্চয়ই শুদ্ধ স্বরের রাগ হবে। কিন্তু সকলকে অবাক করে খাঁসাহেব ধরলেন প্রায় পাশাপাশি রাগ পুরিয়া। ব্যস। উদ্যোক্তারা ভাবলেন সর্বনাশ। এই হাফিজ হালি খান উঠে দাঁড়ালেন বলে! এ তো রীতি বিরোধী। কিন্তু মিনিট দশেকের মধ্যে গোটা আসরকে মাতিয়ে দিয়ে মারওয়ার রেশ থেকে বের করে বড়ে গুলাম আলি খান পুরিয়ায় ঢুকিয়ে দিলেন। ওরকম একটি দশাসই চেহারা থেকে যে এরকম কোমল অনুভূতি সম্পন্ন স্বরপ্রক্ষেপণ হতে পারে, তা কেউ ভাবেননি। খাঁসাহেব মুম্বই জয় করে নিলেন। আর সর্বাগ্রে এগিয়ে গিয়ে তাঁর বাপ পরদাদার খবর নেওয়া শুরু করলেন অভিভূত হাফিজ আলি খান।
১৯৪৮। একটি খ্যাতনামা রেকর্ড কোম্পানির প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ জি এন যোশি ঠিক করলেন, বড়ে গুলাম আলি খান যখন মুম্বইতেই আছেন তখন কিছু রেকর্ডিং করে ফেলা যাক! রেকর্ডিংয়ের দিন স্থির হয়ে গেল। কিন্তু সকালেই আচমকা খাঁসাহেবের ফোন, আমার গলা ভালো নেই। আজ হবে না। সকলের মাথায় হাত। সব ব্যবস্থা যে হয়ে গিয়েছে! এখন উপায়। জি এন যোশি কিছুক্ষণ ভেবে একটা উপায় বের করলেন। নিজেই গেলেন খাঁসাহেবের কাছে। বললেন, ‘খাঁসাহেব, আপনি স্টুডিওতে আসুন। আমরা কোনও গান রেকর্ডিং করব না। শুধু একটু আড্ডা হবে গানবাজনা নিয়ে। চিন্তা নেই।’ অনিচ্ছা সহকারে বড়ে গুলাম আলি রাজি হয়ে গেলেন। এদিকে উনি স্টুডিওতে আসার আগে অফিসের পিওন সখারামের হাতে ১০০ টাকা দিয়ে যোশিজি বললেন, ‘একটা স্কচের বোতল নিয়ে এসো। আমি যখনই ইশারা করব, তখনই গ্লাস আর বোতল নিয়ে ঢুকবে। তার আগে যেন খাঁসাহেব দেখতে না পায়।’ আর মিউজিসিয়ানদের বলা হল, অ্যান্টিরুমে সব রেডি করে বসে থাকতে। যথাসময়ে খাঁসাহেব এলেন। মুখে বিরক্তি। বললেন, ‘আমার আজ ভালো লাগছে না। কেন জোর করলে?’ রেকর্ডিং রুমেই কাঠের একটা প্ল্যাটফর্মে ফরাস পাতা। পাশে দু’টি তানপুরা অবিন্যস্তভাবে রাখা। যেন পড়ে রয়েছে। খাঁসাহেব হাঁটু মুড়ে বসলেন। কথাবার্তা শুরু হল সাধারণভাবে। যোশিজি নিজেও একজন ভালো শিল্পী ছিলেন। তিনি গল্প করার ফাঁকেই তানপুরায় সুর লাগালেন এমনভাবে, যেন আনমনে সুর ভাঁজছেন। এভাবেই জানতে চাইলেন, ‘আচ্ছা খাঁসাহেব এই গোয়ালিয়র ঘারানার অনুসারীরা ললিতে তীব্র ধৈবত লাগায় কেন? কোমল ধৈবত তো কত মিষ্টি!’ একদিকে তানপুরা সুর ধরছে। আর তার মধ্যে এরকম প্রশ্ন! খাঁসাহেব আর কতক্ষণ সংযম দেখাবেন? অতএব নড়েচড়ে বসে তিনি বলতে শুরু করলেন, কেন কোমল ধৈবতই লাগানো উচিত। এবং শুধু কথা তো তাঁর কাজ নয়। একটি করে বিশ্লেষণ করছেন আর গেয়েও উঠছেন উপমা হিসাবে। যোশিজী বুঝলেন, তাঁর স্ট্র্যাটেজি কাজে দিয়েছে। তিনি সখারামকে ইশারা করলেন ঢুকতে। এবং যেই সখারাম স্কচের বোতল আর গ্লাস রেখে বেরিয়ে যাচ্ছে, তখন খাঁসাহেবকে ব্যস্ত করার জন্য আবার প্রশ্ন, ‘রাগ আদানায় কিছু কিছু গায়ক একই সঙ্গে তীব্র আর কোমল নিষাদ লাগান? এটা কেন করা হয়? আপনার মতে কী করা উচিত?’ উত্তেজিত হয়ে খাঁসাহেব অন্য তানপুরা তুলে নিলেন এবং বোঝানোর সঙ্গেই গান শুরু করে দিলেন। ব্যাস! আর কী চাই। প্ল্যান সাকসেসফুলি এগচ্ছে। জি এন যোশি একটু পরই বললেন, ‘খাঁসাহেব আজ আপনার গলা তো দারুণ আছে? আপনি অযথা কেন দুশ্চিন্তা করছিলেন!’ বড়ে গুলাম আলি খান ওসব কথায় আর নেই। তিনি ততক্ষণে বলতে শুরু করেছেন, কোমল নিষাদের কোথায় কোথায় সামান্য হলেও খামতি আছে। সর্বত্র ব্যবহার করা ঠিক নয়। যোশিজি আড়ালে মিউজিসিয়ানদের রেডি হতে বললেন। শুরু হল রেকর্ডিং। যোশিজি শুধু মাঝে মধ্যে গ্লাস পূরণ করে দিচ্ছিলেন। একটা সময় পর হুঁশ হল। খাঁসাহের ভুরু কুঁচকে জানতে চাইলেন, ‘যোশিজি আপনি ক’টা গান রেকর্ড করলেন এভাবে কথা বলতে বলতে?’ যোশিজি হাসতে হাসতে বললেন, ‘আর মাত্র দু’টি হলেই এক ডজন হয়ে যাবে।’ বাইরে ততক্ষণে প্রবল বৃষ্টি নেমেছে।
বৃষ্টির কথাই যখন এসে পড়ল, তখন আর একটি গল্প না বললেই নয়। মালাবার হিলসের ফ্ল্যাটের ঠিক সামনেই সমুদ্র। খাঁসাহেব মুম্বইয়ে এই ফ্ল্যাটেই ভাড়া থাকতেন। অল ইন্ডিয়া রেডিওর মুম্বইয়ের দুই আধিকারিক আর রেকর্ডিং অ্যাসিস্ট্যান্ট গেলেন সেখানে খাঁসাহেবকে আমন্ত্রণ জানাতে। প্রবল বেগে বৃষ্টি তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে মেঘগর্জন। বাড়িতে থাকলে কলকাতা হোক আর মুম্বই অথবা লাহোর, বড়ে গুলাম আলি খানকে কেউ কখনই চুপচাপ বসে থাকতে দেখেনি। তিনি হয় খাচ্ছেন, অথবা রেওয়াজ করছেন। তাই তাঁর নামই ছিল রঙ্গিলা গাওয়াইয়া, রসিলা খাওয়াইয়া। প্রতিটি কনফারেন্সের আগে একটি গোটা মুরগি, ১২টি লুধিয়ানার ঘি মাখানো রুটি, এক কেজি মিঠাই মাস্ট। নিজে যে দুর্দান্ত রান্না করতেন, তার সাক্ষী অনেকেই। তো সেদিন দেখা গেল এক অলৌকিক দৃশ্য। রাগ মল্লার গাইছেন খাঁসাহেব। ঠিক তখনই গমক তান দিচ্ছেন, যখন মেঘগর্জন হচ্ছে। অত্যাশ্চর্য এক পালটা অথবা ফিরৎ কণ্ঠ থেকে বেরচ্ছে... যখন বিদ্যুৎ চমক হচ্ছে। আর যখন প্রবল বেগে বর্ষা শুরু হল, তখন তান। ঝোড়ো বৃষ্টির সঙ্গে কখনও তার সপ্তক, কখনও মন্দ্র সপ্তকে উঠছে কণ্ঠ। অল ইন্ডিয়া রেডিওর কর্তাদের চিরকালীন আপশোস যে, ওই দৃশ্যটির লাইভ রেকর্ডিং করা গেল না... প্রকৃত মেঘ, বৃষ্টি আর বিদ্যুতের সঙ্গে খাঁসাহেবের মল্লার যুগলবন্দি।
১৯৫৯ সালে ভারতে প্রথম উচ্চাঙ্গ সংগীতের এলপি রেকর্ড প্রকাশ পেল। উস্তাদ আলি আকবর খানের সরোদ। তার আগে পর্যন্ত ৭৮ আরপিএমের রেকর্ডে খুব বেশি হলে ৩ মিনিট ২০ সেকেন্ডের গান ধরানো যেত। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি রাগের অর্ধাংশ সম্পন্ন করাই বিরাট কঠিন ছিল উচ্চাঙ্গ সংগীত শিল্পীদের কাছে। তাই সেভাবে খুব তৃপ্তিদায়ক অভিজ্ঞতা হত না। অতএব এই লং প্লেয়িং রেকর্ড এসে যাওয়া অবশ্যই সুখবর। এইচএমভি সংস্থার প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ যখনই দেখলেন আলি আকবর খানের রেকর্ড ৩০০-র বেশি বিক্রি হয়েছে এবং চাহিদা আরও বাড়ছে, তখন তাঁর প্রধান কাজই হল বড়ে গুলাম আলি খানকে দিয়ে রেকর্ড করানো। কারণ এই সুযোগে অক্ষয় হয়ে থাকবে ওই অমর কণ্ঠসম্পদ। সেইমতো খাঁসাহেবকে বলা হল, আপনি ১৭ থেকে ১৯ মিনিট করে গানের সুযোগ পাবেন এক একটি সাইডে। খাঁসাহেব বেজায় খুশি। কিন্তু এরপরই বজ্রপাত। বড়ে গুলাম আলি খান বললেন, আমাকে ১ লক্ষ টাকা দিতে হবে। কোম্পানির মাথায় হাত। এত টাকা? নিয়মই তো নেই! সাধারণত রয়্যালটি বাবদ টাকা দেওয়ার কথা। খাঁসাহেব অনড়। অতএব ওই প্রস্তাব কিছুতেই আর বাস্তবায়িত হয় না। এভাবে ছ’মাসের টানাপোড়েনে ১ লক্ষ টাকা থেকে নেমে এলেন ৪৫ হাজারে। তাও রাজি নয় রেকর্ড সংস্থা। এদিকে কৌশল করে কয়েকমাস পর পর নজাকৎ আলি, পণ্ডিত ভীমসেন যোশি, উস্তাদ আমির খান, বিসমিল্লা খান সকলের রেকর্ড আসছে, আর সংস্থার পক্ষ থেকে সেই রেকর্ড দিয়ে আসা হচ্ছে বড়ে গুলাম আলি খানকে। চার মাস পর তাঁর দাবি ২৫ হাজার টাকা। এভাবে ১ বছর কেটে গেল। হল না রেকর্ড। ১৯৬২। শরীর ভাঙছে খাঁসাহেবের। মুম্বইয়ের শিবাজি মন্দির কনফারেন্স। খাঁসাহেব ধরলেন রাগ ভূপ। আলাপের পর বন্দিশ। কিন্তু তাঁর স্বভাবসিদ্ধ রাগবিস্তারের পরিবর্তে অনেক দ্রুত চলে গেলেন সরগমে। পারছেন না গলা স্থির রাখতে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সেদিনের অনুষ্ঠান টেনে নিয়ে যাওয়ার সিংহভাগ কৃতিত্ব পুত্র মুনাব্বরের। এরপর রেকর্ড সংস্থাকে নিজেই ডেকে পাঠালেন খাঁসাহেব। বললেন, ‘আমি রেকর্ড করব। আপনারা যা ইচ্ছা হয় দেবেন। শর্ত একটাই। সকালের রাগ আর সন্ধ্যার রাগ গাইব। সকালের রাগ সকালেই রেকর্ড করতে হবে। আর সন্ধ্যায় রেকর্ড হবে সন্ধ্যার রাগ।’ রেকর্ড কোম্পানি তাতেই রাজি। দিন স্থির হল। সেই সন্ধ্যায় গুলাম আলি খান রেকর্ড করলেন দরবারি কানাড়া। এবং নিজের শপথ ভুলে গিয়ে রাতে নিজেই বললেন, ‘আমি এবার মালকোষ গাইব।’ রেকর্ড সংস্থার কর্মীরা দারুণ খুশি। মেঘ না চাইতেই জল। সেই গানের পর তাঁকে মনে করিয়ে দেওয়া হল, আপনি কিন্তু কথা দিয়েছেন সকালের রাগ গাইবেন। খাঁসাহেব বললেন, ‘মনে রাখবেন আমি হর রোজ হরি ওম তৎসৎ গাই! তাই মুখ দিয়ে বেরনো জবানের খেলাপ করি না।’ অতএব সেদিন স্টুডিওতে রয়ে গেলেন। পরদিন সকালে প্রথমে গুণকেলি। তারপর কৌশি ধ্বনি। কত টাকা পেলেন? ৫ হাজার টাকা!
অসুস্থ অবস্থায় খাঁসাহেব চলে গেলেন। হায়দরাবাদের বাশেরবাগ প্যালেসের মেহমানখানায়।
কুমারপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় লিখেছেন, যে রাতে তাঁর মৃত্যু হয় সে ছিল এক স্তব্ধতার পরিবেশবাহী। শুধু দূর থেকে কুকুরের চিৎকার আসছে। বিছানার পাশে ঘড়ঘড় করে টেবিলফ্যান চলছে। পাশে পুত্র মুনাব্বর আলি খান। অসাড় খাঁসাহেব মাঝরাতে চোখ খুললেন। পুত্রকে বললেন, ‘ওই শোনো, এই যে টেবিলফ্যানের আওয়াজকে ষড়জ ধরা হলে, কুকুরের ডাকে তোড়ির রেখাব গান্ধার পাওয়া যাচ্ছে। তাই না?’ ওটাই ছিল মৃত্যুর আগের শেষ কথা!
কিরানা ঘরানার পণ্ডিত ছন্নুলাল মিশ্রের রামচরিত মানস উত্তর ভারতের কাছে সকাল-সন্ধ্যার এক ধর্মসংগীত। বেনারসের এই প্রাতঃস্মরণীয় গায়ককে অল ইন্ডিয়া রেডিওর লখনউ সেন্টারের সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, বিশুদ্ধ ভজনের সংজ্ঞা কী? কতটা নিবেদিত প্রাণ হতে হয়? পণ্ডিত ছন্নুলাল মিশ্র বলেছিলেন, ‘কোনও ফরমুলা নেই। একটা রেফারেন্স আছে। বড়ে গুলাম আলি খানের হরি ওম তৎসৎ!’
 গ্রাফিক্স: সোমনাথ পাল
 সহযোগিতায়: উজ্জ্বল দাস 
23rd  April, 2017
ছাত্র রাজনীতির বিবর্তন
ডঃ পার্থ চট্টোপাধ্যায়

 ছাত্র রাজনীতির যাবতীয় ঐতিহ্য কি এখন তোলাবাজির অন্ধকারে? এ প্রশ্ন আজ সব মহলে। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ গঠনের লক্ষ্যে যে সংসদ দিশা দেখায়, তা আজ ফিকে। জেভিয়ার্স মডেলে রাজ্য ছাত্র রাজনীতি সংস্কার করছে। তা কি সঠিক পদক্ষেপ? মত পক্ষে আছে, বিপক্ষেও।
বিশদ

20th  August, 2017
নির্বাচনের অবাধ সুযোগ প্রয়োজন

তরুণকান্তি নস্কর: রাজ্য সরকার সম্প্রতি নোটিস দিয়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়ন কেমন করে গঠিত হবে, তা জানিয়েছে। কী সেই আইন, যার বিরুদ্ধে এত বিতর্ক? প্রথমেই উল্লেখ করা দরকার, বর্তমান বছরের শুরুতে বিধানসভায় যে উচ্চশিক্ষা আইন পাশ হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় এই নোটিস জারি হয়েছে। বিশদ

20th  August, 2017
 ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলা দরকার

 সমীর পুততুণ্ড: ২০১১ সালে এরাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকে শিক্ষায়তনে নতুন ধরনের গোলমালের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রথমে নতুন সরকারের সমর্থক এবং বিরোধী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে, পরবর্তী পর্যায়ে শাসক দল অনুগামীদের মধ্যেই গোলোযোগ শুরু হয়।
বিশদ

20th  August, 2017
 আলোচনা কিন্তু প্রয়োজন ছিল

 শুভঙ্কর সরকার: ‘দ্বার বন্ধ করে ভ্রমটারে রুখি/ সত্য বলে আমি তবে কোন পথে ঢুকি’... কলেজে ছাত্রছাত্রীদের রাজনৈতিক লড়াই রুখতে ছাত্র সংসদের অবসান ঘটানোর যে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তাতে আমার এই কথাটাই মনে পড়ল।
বিশদ

20th  August, 2017
বন্দেমাতরম 
রজত চক্রবর্তী

জাতীয় পতাকাটা আজও হাতে ধরে হেঁটে চলেছেন মাতঙ্গিনী হাজরা। উচ্চশির। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, প্রফুল্লনলিনী ব্রহ্ম, কল্পনা দত্ত... নারীশক্তির এক অদম্য জাগরণ দেখেছিল পরাধীন ভারত। মায়েরা, বোনেরা পথে নেমে-না নেমে অংশ নিয়েছিলেন বিপ্লবে। তবু এমনই দুই সংগ্রামী শান্তি ঘোষ, সুনীতি চৌধুরির জন্মশতবর্ষ চলে গেল নীরবে...।
বিশদ

13th  August, 2017
 কৃপণ সমাচার!

 কৃপণ কত প্রকার ও কী কী? এমন রচনা ছেলেবেলায় লিখতে না হলেও এ ব্যাপারে জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার ঝুলি প্রায় সবারই পূর্ণ। কেউ কেউ আবার কৃপণ শব্দটির বদলে হিসাবি বা মিতব্যয়ী ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করেন। যদিও তাতে কৃপণদের নিয়ে সমাচারে কোনও দিন, কোনও যুগেই ঘাটতি হয় না।
বিশদ

06th  August, 2017
আলিপুর জেলের অন্তরালে

 আলিপুর সেন্ট্রাল জেল। কানাইলাল দত্ত, সত্যেন বসু, দীনেশ গুপ্ত... একের পর এক বিপ্লবীকে ফাঁসির দড়ি বরণ করতে হয়েছে এখানে। শত অত্যাচার সত্ত্বেও যেখানে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছেন লৌহকপাটের আড়ালে থাকা বিপ্লবীরা। ভয় না ধরিয়ে সঙ্গীর মৃত্যু সাহস জুগিয়েছে তঁাদের। সেলুলার জেল হেরিটেজের মর্যাদা পেলেও আলিপুর পায়নি। সেখানে আজও কুঠুরির কোণায় কোণায় শোনা যাবে বিপ্লবের বজ্রনির্ঘোষ।
বিশদ

30th  July, 2017
 অমরনাথের পথে-প্রান্তরে

 দুর্গম অতিক্রম করে, জঙ্গি হামলা-মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে এগিয়ে চলা একবার দর্শনের আশায়। বালতাল হোক বা পহেলগাঁও, যাত্রাপথ যাই হোক না কেন, প্রকৃতি সেখানেই অপার সৌন্দর্য উজাড় করে রেখেছে। বিন্দু বিন্দু জল জমে আকার নিয়েছে শিবলিঙ্গের। আর তাকে ঘিরেই সম্প্রীতির এক অদ্ভূত মিলন উৎসব। সে যে অমরনাথ। বিশদ

23rd  July, 2017
খবর শেষ

 আকাশবাণী... খবর পড়ছি...। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমল থেকে শুরু হওয়ার পর বঙ্গজীবনের অঙ্গ হিসাবে জড়িয়ে যাওয়া সেই অভ্যাস হাতছাড়া হয়েছে বহুযুগ আগেই। টিভি, ইন্টারনেট, ফেসবুকের জমানায় যা আজ প্রায় গতজন্মের স্মৃতি বলে মনে হয়। কিন্তু একটা সময় এই তো ছিল বাইরের জানালায় চোখ রাখার জন্য মানুষের একমাত্র দূরবীন! সেই ইভা নাগ, নীলিমা সান্যাল, দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্রেকডাউন, ভুল খবর...। সে এখন নস্টালজিয়া। আজ দিল্লির বেতার খবর যে সত্যিই শেষ!
বিশদ

16th  July, 2017
 বৃষ্টিভেজা

 গ্রীষ্মকালীন এই বঙ্গে বর্ষার আগমন যেন ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার মতো। আকাশকে মুখ ভার করে ঝরে পড়তে দেখলেই মন আনচান করে খিচুড়ি, ইলিশ মাছের জন্য। ঘণ্টাখানেকের বর্ষণে তিলোত্তমা এক হাঁটু জল উপহার দিলেও তা ঠেলে বাড়ি ফেরাই আলাদা আনন্দ। আর গুনগুন করে ওঠা বিশ্বকবির সৃষ্টি। মনে পড়ে যাওয়া অপু-দুর্গার বৃষ্টি ভেজা। কিংবা স্কুলের সেই রেনি ডে। এ ঋতু তাই যে আলাদা আলাদা অনুভূতির এক সম্পৃক্ত দ্রবণ। বিশদ

09th  July, 2017
চিকিৎসা রঙ্গ 

কল্যাণ বসু: ‘পাসকরা ডাক্তার নই, কিন্তু তাতে কি? বাড়ি বসিয়া বই পড়িয়া কি আর ডাক্তারী শেখা যায় না? আজ সাত আট বছর তো ডাক্তারী করিতেছি, অভিজ্ঞতা বলিয়া একটা জিনিসও তো আছে! পাসকরা ডাক্তারের হাতে কি আর রোগী মরে না?’ এইটুকু পড়ে কী মালুম হচ্ছে?
বিশদ

02nd  July, 2017



একনজরে
বার্মিংহ্যাম, ২০ আগস্ট: তিন দিনেই প্রথম দিন-রাতের টেস্ট জিতে নিল ইংল্যান্ড। এজবাস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চুরমার করে ইনিংস ও ২০৯ রানের বিশাল জয় পেয়েছে জো রুটের দল। প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৫১৪ রানের বিশাল স্কোর খাড়া করেছিল ইংল্যান্ড। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ, সোমবার বাতিল করা হচ্ছে আপ কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস। পূর্ব রেল জানিয়েছে, বাংলাদেশ রেলের ডাউন লাইনের লিংক ট্রেনটি বাতিল থাকায় আপ লাইনের ট্রেনটিও বাতিল করা হয়েছে। ...

 নয়াদিল্লি, ২০ আগস্ট (পিটিআই): ৭৩তম জন্মদিনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে স্মরণ করল গোটা দেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ট্যুইটারে লিখলেন, ‘ জন্মদিনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রকল্পটি চালু হয়েছিল ২০০৯ সালে। কিন্তু তার আট বছর পরও নাকি রাজ্যের শিক্ষকদের একটা বড় অংশ রাষ্ট্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা অভিযান (আরএমএসএ) নামে ওই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ব্যাপারে সেভাবে ওয়াকিবহাল নন। এমনটাই ধারণা শিক্ষা দপ্তরের। তাই এবার এই প্রকল্পের ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের ক্ষেত্রে ভাবনা-চিন্তা করে বিষয় নির্বাচন করলে ভালো হবে। প্রেম-প্রণয়ে বাধাবিঘ্ন থাকবে। কারও সঙ্গে মতবিরোধ ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৭৮- ভিনু মানকড়ের মৃত্যু
১৯৮৬- উসেইন বোল্টের জন্ম
১৯৯৫- সুব্রহ্মণ্যম চন্দ্রশেখরের মৃত্যু
২০০৬- ওস্তাদ বিসমিল্লা খানের মৃত্যু
১৯৭২- বন সংরক্ষণ আইন চালু


ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৩৫ টাকা ৬৫.০৩ টাকা
পাউন্ড ৮১.২৫ টাকা ৮৪.২১ টাকা
ইউরো ৭৩.৯৬ টাকা ৭৬.৫৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
19th  August, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) 29465
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) 27955
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) 28375
রূপার বাট (প্রতি কেজি) 39100
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) 39200
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
20th  August, 2017

দিন পঞ্জিকা

৪ ভাদ্র, ২১ আগস্ট, সোমবার, অমাবস্যা রাত্রি ১২/০, অশ্লেষানক্ষত্র দিবা ৩/৫১, সূ উ ৫/১৯/১৪, অ ৬/০/২৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/০ পুনঃ ১০/২৩-১২/৫৬ রাত্রি ৬/৪৫-৯/১ পুনঃ ১১/১৭-২/১৮, বারবেলা ৬/৫৪-৮/২৯ পুনঃ ২/৫১-৪/২৬, কালরাত্রি ১০/১৫-১১/৪০। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ (ভারতে অদৃশ্য)
৪ ভাদ্র, ২১ আগস্ট, সোমবার, অমাবস্যা রাত্রি ১২/৮/৯, অশ্লেষানক্ষত্র অপরাহ্ণ ৪/৫৪/৪০, সূ উ ৫/১৬/৪৮, অ ৬/২/২৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৮/৫৩, ১০/২৩/২-১২/৫৬/১০ রাত্রি ৬/৪৭/২২-৯/২/২০, ১১/১৭/১৭-২/১৭/১২, বারবেলা ২/৫১/০-৪/২৬/৪২, কালবেলা ৬/৫২/৩০-৮/২৮/১২, কালরাত্রি ১০/১৫/১৮-১১/৩৯/৩৬। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ (ভারতে অদৃশ্য)
২৮ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বন্যায় ৭ লক্ষ হেষ্টর চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্থ: কৃষিমন্ত্রী

 বন্যায়য় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে ৭ লক্ষ হেক্টর চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যার মধ্যেো ৪ লক্ষ জমি উত্তরের। কৃষিতে প্রাথমিক হিসেবে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। যার মধ্যে উত্তরে ৫৩৪ কোটি ৫১ লক্ষ টাকাো জানালেন কৃষি মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু।

05:24:00 PM

 তামিলনাড়ুর উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ পনিরসেলভামের

 এআএিডিএমকে-র দুই শিবিরের সংযুক্তিকরণের পর তামিলনাড়ুর উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন পনিরসেলভাম

04:49:00 PM

বন্যার জন্য কেন্দ্রে কাছে উপযুক্ত প্যাকেজ চাইব: মমতা

কেন্দ্রের কাছে উপযুক্ত প্যাকেজের দাবি করতে চলেছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান গোটা রাজ্যে এবছর বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। কেবলমাত্র উত্তরবঙ্গেই মৃত্যু হয়েছে ৪৫ জনের। আর গোটা রাজ্যে ১৫২জনের। রাজ্যে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সংখ্যা দেড় কোটি ছাড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ত্রাণ নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। তাই যতটা প্রয়োজন ততটাই ত্রাণ মিলবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, অনেক সড়ক থেকেই জল নামতে শুরু করেছে, তাই যে সমস্ত সড়ক থেকে জল নেমে যাবে, সেখান দিয়েই ধীরে ধীরে ট্রাক পাঠানো হবে। কারণ অনেক ট্রাক পচনশীল দ্রব্য নিয়ে আটকে রয়েছে। পাশাপাশি এই বন্যার নামে যে সমস্ত অসাধু ব্যবসায়ী দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করতে চেষ্টা করছেন তাদের বিরুদ্ধেও নজরদারি চালানো হবে বলে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, জল নামলেই  বন্যা সংক্রান্ত রোগব্যাধির প্রতিষেধক এবং পানীয় জলের পথগুলিকে পরিশ্রুত করার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

04:47:00 PM

সিলেবাস কমিটির প্রস্তাবে সিলমোহর রাজ্য সরকারের, সব ক্লাসে পড়তে হবে কন্যাশ্রী স্বীকৃতি, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে কন্যাশ্রী

04:12:00 PM

বন্যায় দেড় কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: মুখ্যমন্ত্রী

04:10:07 PM

রাজ্যে যথেষ্ট পরিমানে ত্রান সামগ্রী মজুত রয়েছে: মুখ্যমন্ত্রী

04:10:06 PM