প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

 স্মৃতির রেলপথে

 ওই রেললাইন দিয়ে আরও একবার ট্রেন ছুটবে। শিয়ালদহ থেকে ছেড়ে পৌঁছে যাবে খুলনা। ওই রেলরুটে আরও একবার মিলবে দুই বাংলা। যা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল স্বাধীনতার আগে। সেই স্মৃতির পথেই আজ ফিরে দেখা।


সুখরঞ্জন সেনগুপ্ত: বাড়ি ঘর দোর পেরিয়ে জনবসতি একটু হালকা হতেই নজরে আসত অজগর সাপের মতো শুয়ে থাকা লম্বা লাইনটা। রোদ পড়ে চকচক করত... দেখতাম সেই দূর থেকেই। আর তার গা ঘেঁষে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা একটুকরো স্টেশন। সে স্টেশন তখন আজকালের মতো ছিল না। স্টেশন মাস্টারের ঘরটুকুই ছিল যার একমাত্র বনেদিয়ানা। আর ছিল মানুষ। ঘড়ির কাঁটা ট্রেনের সময়ের হাত ধরতে গেলেই সেই নির্জন, নিঃঝুম জায়গাটা হঠাৎ করে যেন গমগমিয়ে উঠত। মনে হত, এত লোক ছিল কোথায়! কেউ যাবে যশোর, কেউ বনগাঁ। বেশিরভাগই কলকাতা। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বড় শহর। সবচেয়ে আধুনিক। হাজার হাজার পেটের দু’মুঠো ভাতের জোগানদার। কেউ বেঁচে থাকার তাগিদে, কেউ বেড়াতে, আবার কেউ মেয়ের জন্য সম্বন্ধ দেখতে। পরিচয় সবার একটাই ছিল… বাঙালি। এই বাংলার মানুষ। যার মাঝখান দিয়ে ছিল না কোনও জাতপাতের বিভাজন, না কাঁটাতারের। খুলনা থেকে শিয়ালদহ। এই দীর্ঘ পথ জুড়েছিল একটি মাত্র রেললাইন।
শিয়ালদহ থেকে বারাসত হয়ে বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে খুলনা পর্যন্ত পাতা রেলের পাত আজকের দুই বাংলার নানা ওঠা-পড়ার সাক্ষী। বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, দেশভাগ, এই সমস্ত তোলপাড় করা ঘটনার দগদগে ক্ষত লেপটে আছে এই রেললাইনের প্রতিটি খাঁজে। অবিভক্ত বাংলায় এই ট্রেনের ভরসায় থাকতে হত পুরো খুলনা জেলা, যশোর জেলার তিন চতুর্থাংশ, ও ফরিদপুর জেলার এক তৃতীয়াংশ মানুষকে। খুলনা পর্যন্ত সেই ট্রেনে গিয়ে স্টিমারে করে পার হতে হত নদী। এই গোটা যাত্রাপথেই ঘটেছে অসংখ্য ঘটনা! যার কিছু জানা... আর অনেকটাই অজানা। সেই সব ঘটনার নীরব দর্শক শুধুমাত্র এই রেললাইন।
কাঁটাতার দিয়ে দু’বাংলা ভাগ হয়নি তখনও। তাই উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার লোকালের মতোই ছিল দুই বাংলার সংযোগকারী এই ট্রেন। সবচেয়ে নামডাক ছিল বরিশাল এক্সপ্রেসের। দুপুরের আগে এই ট্রেনটি ছাড়ত শিয়ালদহ থেকে। খুলনা পৌঁছে যেত সন্ধ্যায়। এই ট্রেনটির সঙ্গেই সময়ের গাঁটছড়া বাঁধা থাকত একটি স্টিমারের। বরিশাল এক্সপ্রেস না আসা পর্যন্ত তার ছুটি নেই। যাত্রা নেই। স্টেশনে গাড়ি থামলে তার যাত্রীদের নিয়ে ওই স্টিমারই পার হত নদী। আর একটি ছিল বরিশাল মেল। এটা শিয়ালদহ থেকে ছাড়ত রাতে, যতদূর মনে পড়ে সাড়ে আটটা-নটা নাগাদ। একেবারে কাকভোরে পৌঁছে যেত খুলনা। তার সঙ্গেও সময় বাঁধা থাকত একটা স্টিমারের। বিকালের দিকে পৌঁছে যেত বরিশাল। এছাড়াও ছিল বেশ কিছু প্যাসেঞ্জার ট্রেন। এক্সপ্রেসে ৬ ঘণ্টার মধ্যে কলকাতা থেকে খুলনা যাওয়া যেত। কয়লার ইঞ্জিন। তখন যা সময় লাগত, এখন হয়তো তার অর্ধেক লাগবে। আমার মতো যাঁরা ওপার বাংলা থেকে এসেছিলেন, তাঁদের কাছে এই ট্রেন রুটটাই ছিল প্রধান পথ। বহুবার এই ট্রেনে যাতায়াত করেছি..., নানারকম অভিজ্ঞতাও হয়েছে। বারবার...। এই ট্রেনযাত্রার সূত্রে খুলনা স্টেশনে দাঁড়িয়ে দেখেছি ফজলুল হক ও শ্যমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো ঐতিহাসিক মানুষদের। একসঙ্গে দেখেছি, আলাদা আলাদাভাবেও দেখা হয়েছে দু’জনের সঙ্গে।
গ্রামবাংলা থেকে কলকাতা আসার একমাত্র বাহন ছিল এই রুটের ট্রেন। তাই প্রায় প্রতিদিন ভিড়টাও হত বেশ। তবে বরিশাল এক্সপ্রেসের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি। কারণ, এতে সময় সবচেয়ে কম লাগত। এখনকার মতো আগে থেকে সিট কিন্তু রিজার্ভ করা যেত না! তবে টিকিট বুকিং করা যেত। ইন্টার ক্লাস ও সেকেন্ড ক্লাসের টিকিট বুক করে অনেকেই যাতায়াত করতেন। তবে থার্ড ক্লাসে টিকিট বুকিং করার সুযোগ থাকত না। সেই বুকিংহীন ক্লাসেই যাতায়াত করতেন গ্রাম বাংলার গরিব মানুষ। যতদিন চলেছে এই ট্রেনটি, কখনই একেবারে খালি যেতে দেখিনি।
সময়টা ১৯৩৯ সালের শেষভাগ। শোনা গিয়েছিল নাকি যুদ্ধ বেঁধেছে। অক্ষশক্তি-মিত্রশক্তির রাজনীতি সাধারণ মানুষের জানা ছিল না। ছিল বলতে শুধু আতঙ্ক। পাহাড়প্রমাণ। বুকের মাঝে ভর করে যখন মানুষ আকাশপানে তাকিয়ে থাকত, আর প্রার্থনা করত, ঈশ্বর যেন মাথার উপর থেকে বোমা না পড়ে। কারণ এই যুদ্ধে যে রয়েছে ব্রিটিশ সরকারও! আর এই ভারত তাদেরই কলোনি। আতঙ্কের বোঝা তখন সবচেয়ে বেশি এই মহানগরে। মাঝে মাঝেই গোটা শহর ব্ল্যাক আউট। বন্ধ হয়ে যেত সব আলো। বোমারু বিমান যে নিশানা করবে শহরকেই! আধুনিকতায় মোড়া জনবসতির আলো দেখা যাবে রাতের আকাশ থেকেও। গ্রামবাংলার মানুষ এসব দেখেনি। অর্ধেক লোক তো ব্ল্যাক আউটের মানেই জানত না। জানা ছিল শুধু ভয়ের আবহটা। তখন এই রেললাইন দেখেছিল... সয়েছিল ভিড়ের চাপ। ফেরার ভিড়। বাঁচার ভিড়। কলকাতায় কাজ করতে আসা মানুষ তখন দলে দলে শহর ছাড়ছেন। ফিরছেন নিজের গ্রামে। কোনওমতে যদি যশোরটা পেরনো যায়...! একবার যদি পৌঁছাতে পারি খুলনা... ভীতসন্ত্রস্ত এই বাক্যগুলো তখন তিরের মতো বিঁধেছে রেলের কম্পার্টমেন্টের গায়ে। আর সেও নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দিয়েছে বাড়িতে। এই খুলনার ট্রেনটি। যুদ্ধ যখন শেষ হল তখন আবার সে ফিরিয়ে নিয়ে এল সকলকে কাজে। শুরু হল উলটো গতি। কেউ কলকাতায় প্রশাসনিক কোনও পদে কাজ করেন। কেউ বা অন্য কোনও ব্যাবসায় জুড়ে আছেন। ডাক পড়তে শুরু করল সবার। বেশিরভাগেরই বাড়ি ছিল এখনকার বাংলাদেশে। তাই তখনও আশা-ভরসা হয়ে রইল খুলনা-শিয়ালদহ রেললাইনটা।
এর মাঝেই অবশ্য একটা অন্য চোরাস্রোত বয়ে গিয়েছিল এই রেললাইনের বুক দিয়ে। ডামাডোলটা চলছিল ১৯৪২ সালের পর থেকেই। পরের বছর, মানে ১৯৪৩ সাল কলকাতার ইতিহাসে একটা ক্ষত হিসাবে চিহ্নিত হয়ে গেল। কারণ, ওই সময়টা দুর্ভিক্ষ দেখেছিল মানুষ। দেখল ট্রেনটাও। হাহাকার। না খেতে পেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া। মরিয়া হয়ে ছুটে আসা সেই কলকাতাতেই। আর কিছু না হোক, ভিক্ষা করে কিছু তো খাবার জুটবে! মরতে তো এখানেও হবে...! তাই, ওই ট্রেন। কলকাতার ৬০-৭০ মাইল ব্যসার্ধের মধ্যে যেন লোকের মেলা লেগে গিয়েছিল। খুলনা, যশোর বরিশালের মানুষরা পালে পালে ট্রেনে চলে এসেছিলেন কলকাতায়। কী ভিড় তখন ট্রেনে! অনেকেই জীবনে হয়তো প্রথমবারের জন্য রেলগাড়ি দেখছে। এত বড় শহর দেখছে। কলকাতায় এসে পড়েছে, তো থাকার জায়গা নেই। শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে ভিড় করে বসে থাকতেন অসংখ্য মানুষ। সেখানেই যা ভিক্ষা জোটার জুটত। একবেলা খেয়ে না খেয়ে কেটে যেত দিন। কেউ বেঁচেছে। কেউ শিকার হয়েছে দুর্ভিক্ষের দৈত্যের। কলকাতাতেও মৃত্যু হয়েছিল অনেকেরই।
সময় বয়ে গেল নিজের মতো। আস্তে আস্তে খাবার মিলতে শুরু করল। এক একটা দিন এক একটা বছরের মতো যাঁরা কাটিয়ে ফেলতে পেরেছেন, তখন তাঁরাই আবার ফিরলেন। নিজের বাড়ির টানে। অপেক্ষা করছিল সে। ফিরিয়ে নিয়ে যাবে বলে। সেই রেললাইন...। তখন সেও কি আর জানত, আরও কঠিন সময় আসতে চলেছে তার বাংলার বুকে?
১৯৪৫ সালে যুদ্ধ থামার পর থেকেই দেশভাগের একটা আঁচ এসেছিল দু’দেশের মানুষের মধ্যে। কিন্তু হঠাৎই হানা দিল দাঙ্গার আতঙ্ক। ৪০-এর দশক থেকে শুরু করে একবারে স্বধীনতার উত্তাপ কেটে যাওয়া পর্যন্ত, বাংলা টালমাটাল হয়েছে বারবার। ঘন ঘন চড়াই উতড়াই বারবার ধাক্কা দিয়েছে বাঙালিকে। আর সেই চড়াই উতড়াইয়ের সঙ্গে জুড়েছে ট্রেনের একটানা শব্দ। কিন্তু বাংলার মানুষ কোনওদিনই ভাবেনি, ধর্ম নিয়ে এমন মারাত্মক একটা লড়াই শুরু হতে পারে! সবচেয়ে চেনাও যে তখন অচেনা! কিছু স্বার্থান্বেষীর জন্য। কিছু সুবিধাবাদীর জন্য। যারা মাথার উপর বসে ছড়ি ঘোরাবে। আর পিষবে সাধারণ মানুষ। যাই হোক, সেবারেও কোল পেতে দিয়েছিল এই ট্রেনই। এমন চেহারা বাঙালি সত্যিই এর আগে দেখেনি। অনেক বিখ্যাত লোকের বাড়িতেও হামলা হয়েছে, মৃত্যু এসেছে হঠাৎ। বাংলার দু’প্রান্তের মানুষই চেয়েছিল নিরাপদে থাকতে। সুরক্ষিত স্থান খুঁজে নিতে তাই সেদিনও ছাতার মতো এসে দাঁড়িয়েছিল এই দু’বাংলার সংযোগরক্ষাকারী ট্রেন। দলে দলে মানুষ ওপার বাংলা থেকে এপারে আসছিলেন। এপার বাংলা থেকেও নিরাপদে থাকতে ওপারে যাচ্ছিলেন অনেকে। অবলম্বন? এই ট্রেন। তাকেও কিন্তু এই সময় দেখতে হয়েছে বহু রক্ত। যার স্মৃতি এখনও লেগে রয়েছে ওই রেললাইনের আশপাশে।
এক সময় ঠিক হয়ে গেল, দেশভাগই হবে। স্বাধীনতা ও দেশভাগ একসঙ্গে আসবে। সেই দেশভাগের পর থেকেই দু’বাংলার মধ্যে যাতায়তাটা যেন লাফিয়ে লাফিয়ে কয়েকগুণ বেড়ে গেল। মনে রাখতে হবে, শিয়ালদহ থেকে খুলনা পর্যন্ত পাতা রেললাইনটা তো শুধু একটা রেললাইন নয়, এটা একটা পথও বলা যায়। দেশভাগের পর থেকে অসংখ্য মানুষ এই পথে চিরতরে নিজের বাপ ঠাকুরদার ভিটে ছেড়ে কলকাতার এসেছেন। একটা কথা ভাবতে আশ্চর্য লাগে, কীভাবে একটা ট্রেন কয়েক ঘণ্টার যাত্রায় একটা গোটা পরিবারকে তাঁর যাবতীয় মূলগত পরিচয় থেকে উপড়ে এনে উদ্বাস্তু করে ফেলে দিয়েছিল এই বিশাল বড় শহরে। যতদিন এই ট্রেন চলেছে, ততদিন এই ট্রেনে করে কলকাতার থেকে মানুষ ফিরেছে ওপারে। আবার উদ্বাস্তু হয়ে মানুষ এসে পড়েছে এই কলকাতা শহরে। বলছিলাম না, এটা শুধু ট্রেন পথ নয়, এটা আসলে একটা নির্দেশ, পথ নির্দেশ। যশোর রোড দিয়ে এদেশে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের পাশাপশি একটা বড় সংখ্যার মানুষ এসেছিলেন এই রেললাইন ধরে। হেঁটে। তাঁদের জন্য ট্রেনযাত্রাটা কোনও সুখকর অভিজ্ঞতা ছিল না। তাঁদের এই যাত্রাপথের সঙ্গে সেই মুহূর্ত থেকে জড়িয়ে গিয়েছিল এক ইতিহাসের প্রসঙ্গ, ভিটে হারিয়ে যাওয়ার কাহন। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে যে অসংখ্য কলকাতার তরুণ ওপার বাংলায় গিয়েছিলেন, তাঁরাও তো একটা সময় পর্যন্ত এই ট্রেনেই যাতায়াত করতেন। রোজ।
পৃথিবীর নানা প্রান্তে অন্তর্দেশীয় রেল পরিষেবা আছে। এক এক জায়গার ইতিহাস, এক এক রকমের। কিন্তু বাঙালির বিভাজন ও সংযোগের যে ইতিহাস কলকাতা-খুলনা রেললাইন এতদিন ধরে বয়ে বেড়িয়েছে, তা আর কোথাও পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ। একটা জাতি আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গেল..., শুধু পড়ে রইল স্মৃতি। পূর্ব পাকিস্তান বা এখনকার বাংলাদেশের মানুষের কাছে সে স্মৃতি একরকম, ভারতের মানুষের কাছে অন্যরকম। তবু এই আবেগ তো অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না! আজ, এত বছর পর সেই লাইন খুলে যাচ্ছে। আবার। একসময় যে অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি কাঁটাতার পেরিয়ে আসা মানুষ কোনওমতে নিজের আস্তানা খাড়া করেছিলেন, সেই বারাসত থেকে বনগাঁর পথ দিয়ে এবারেও ছুটে যাবে ট্রেন। বাড়ির পাশ দিয়ে ছুটে চলা শব্দে নিশ্চয়ই যশোর কিংবা খুলনায় বাপ-ঠাকুরদার কলজে নিংড়ে তৈরি করা ভিটে ছেড়ে আসার পরিবারের কোনও সদস্যের মনে পড়ে যাবে অনেক কিছু। সে স্মৃতিতে হয়তো অনেক যন্ত্রণা থাকবে, তবু কোথাও লুকিয়ে থাকবে তৃপ্তিও। কারণ, আর বাফারে গিয়ে ধাক্কা খাবে না অতীত। এবারে ইচ্ছা হলেই এক ট্রেনে চলে যাওয়া যাবে পদ্মাপারে। ঢুঁ মেরে আসা যাবে ছেড়ে আসা অতীতে।
 গ্রাফিক্স: সোমনাথ পাল
 সহযোগিতায়:
স্বাগত মুখোপাধ্যায়
 ছবি: কুমার বসু
16th  April, 2017
খাতা দেখা 

বসন্ত কড়া নাড়লেই বুঝতে হবে মা-উমা খুব দূরে নেই। অর্থাৎ মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক। ভাবা যায়, একটা রাজ্যে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ লক্ষের বেশি? আর এই দুই পরীক্ষা শেষ হতেই রাজ্যের আনাচে কানাচে হাজার হাজার স্কুল টিচারের গৃহকোণে শুরু হয়ে যায় কুটির শিল্প—খাতা দেখা।
বিশদ

28th  May, 2017
র‌্যানসামওয়্যার এবং বিটকয়েন 

দেবজ্যোতি রায়: ‘এত দ্রুতগতিতে প্রযুক্তির উন্নতি ঘটছে যে এই আগ্রাসন গোটা মানবজাতিকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। বংশপরম্পরাকে রক্ষা করতে গেলে যুক্তি ও কারণ দিয়ে এতে লাগাম দিতে হবে।’ প্রযুক্তির রকেটসম অগ্রগতি নিয়ে সম্প্রতি এক সেমিনারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন পৃথিবীখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিনস। এর জন্য বিভিন্ন দেশের সরকারকে এগিয়ে আসার আরজিও জানিয়েছিলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রফেসর তথা পদার্থবিদ।
বিশদ

21st  May, 2017
আবাসন আইন 

১ মে দেশজুড়ে চালু হয়েছে আবাসন সংক্রান্ত আইন ‘দি রিয়েল এস্টেট (রেগুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) অ্যাক্ট। চলতি কথায় ‘রেরা’। কেন্দ্রীয় আইনটির উপর ভিত্তি করে রাজ্যগুলির নিজস্ব বিধি রা রুল তৈরি করার কথা। কী পরিস্থিতি রয়েছে এই আইন নিয়ে? আইনটির সুবিধাগুলিই বা কী কী? দেখে নেওয়া যাক আইনের খুঁটিনাটিগুলি। 
বিশদ

14th  May, 2017
বাহুবলীর নেপথ্যে

যাবতীয় রেকর্ড ভেঙে সদর্পে ছুটে চলেছে বাহুবলীর বিজয়রথ। প্রথম দিনের কালেকশনই ছিল প্রায় ১২২ কোটি। লাইট, ক্যামেরা, সাউন্ড, অ্যাকশন এবং ভিস্যুয়াল এফেক্ট। ছবির অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে কিন্তু রয়েছে আরও অনেক কিছু। বিশদ

07th  May, 2017
রিকশ থেকে টোটো

বাজারের থলে হাতে নিয়ে খেঁাজ পড়ে তার। সন্তান হঠাৎ জ্বরে পড়লেও ডাক্তারখানা যেতে যে সেই ভরসা। বাহক থেকে চালক হওয়ার দীর্ঘ সফরে রিকশ চিরকাল সঙ্গী মধ্য ও নিম্নবিত্তের। কালের বিবর্তনে তার আগে ‘ই’ স্বরবর্ণ জুড়েছে। তবু এই টোটোর আমলে সুর কাটেনি রিকশ রোমান্টিকতার
বিশদ

30th  April, 2017
খাঁসাহেব 

সমৃদ্ধ দত্ত: মার্চ মাসের সকাল সাড়ে ১০টা এমনিতে দিল্লিতে বেশ আরামদায়ক ওয়েদার। সেদিন ৫ মার্চ আবার বেশ ঠান্ডা হাওয়াও ছিল। ইন্ডিয়ান হ্যাবিট্যাট সেন্টারে আয়ান আলি বাঙ্গাশ আসনে বসেই গুরুগম্ভীর আবহটি কাটিয়ে বেশ হালকা মুড নিয়ে এলেন। একটু আগে ঘোষিকা সিরিয়াস ভঙ্গিতে শ্রোতৃমণ্ডলীকে বলেছেন, সরোদ বাদনের মাঝখানে করতালি না দেওয়াই শ্রেয়। 
বিশদ

23rd  April, 2017
 অপেক্ষায়

 উদ্দালক ভট্টাচার্য: এ যে ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি। এ প্রজন্মের ক’জন আর দেখেছে এই ট্রেনকে? জন্ম থেকে হয় বাপ-ঠাকুরদার মুখে শোনা, কিংবা চোখে দেখা ওই রেললাইনটা। স্মৃতির আঁচ উসকে হঠাৎ এল খবর, আবার জুড়তে চলেছে ভারত-বাংলাদেশ। ওই রেললাইনের মাধ্যমেই। আবার শিয়ালদহ থেকে রেল ছুটবে... পৌঁছে যাবে খুলনা পর্যন্ত। অনেকের মতো ওই ব্যক্তির পরিবারও একদিন দেশভাগের আবহে ছিন্নমূল হয়ে উঠে এসেছিল এপারে।
বিশদ

16th  April, 2017
মিথভঙ্গ? 

পদবি কি তার ধার ও ভার দুই-ই হারাচ্ছে? মোদি জমানায় আজ এই চরম প্রশ্নের মুখে কংগ্রেস। আর স্পষ্ট করে বলতে গেলে গান্ধী ও নেহরু পরিবার। সৌজন্যে রাহুল গান্ধী। কেন এখনও আসরে নেই প্রিয়াঙ্কা? তিনিও নিছক রূপকথা নন তো? 
বিশদ

09th  April, 2017
আগুনের সঙ্গে লড়াই 

‘পদ্মশ্রী’ বিপিন গণোত্রা: আগুনে বড় ভয় ছিল দাদার। নিজে তো দূরে থাকতেনই, আমাদেরও সবসময় সাবধান করতেন। দাদার মতো নির্বিবাদী লোক খুব বেশি দেখিনি। খেরু প্লেসে মোটর পার্টসের একটা দোকান ছিল। দোকান, আর বাড়ি... এই ছিল দাদার রুটিন।
বিশদ

02nd  April, 2017
অগ্নীশ্বরের সন্ধানে 

সুপ্রিয় নায়েক: ডাক্তারির ফাইনাল পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে ছেলেটি। মেডিকেল কলেজের কমন রুমে সে নিয়ে জোর আলোচনা। অথচ ছেলেটিরই দেখা নেই। পাশ করার খবর পেয়েই সে চলে গিয়েছে গ্রামের বাড়িতে।
বিশদ

26th  March, 2017



একনজরে
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়িতে এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৭৫ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা অন্য বছরগুলির তুলনায় অনেকটাই বেশি বলে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের উত্তরবঙ্গ আঞ্চলিক কার্যলয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ...

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ময়ূরেশ্বরের বড়তুড়িগ্রামে তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় নয়া মোড়। শুধুমাত্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই নয়, খুনের পিছনে কাজ করেছে পুরানো আক্রোশও। ধৃতদের জেরা করে এমনটাই পুলিশ জানতে পেরেছে। উল্লেখ্য, শনিবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে আসগর আলি নামে ...

 মুম্বই, ২৯ মে (পিটিআই): শেয়ার বাজারের ঊর্ধ্বগতি চলছেই। এদিন মুম্বই শেয়ার বাজারের সূচক সেনসেক্স ৩১ হাজার ১০৯ পয়েন্টে শেষ হয়েছে। গত তিন দিন ধরেই সেনসেক্স ঊর্ধ্বমুখী। তিনদিনে ৮০০ পয়েন্টেরও বেশি উঠেছে সূচক। ...

নয়াদিল্লি, ২৯ মে (পিটিআই): সাংবাদিক রাজদেও রঞ্জন হত্যা মামলায় আরজেডি নেতা সাহাবুদ্দিনকে হেপাজতে নিল সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানানো হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাহাবুদ্দিনকে এজেন্সির ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যাবসাসূত্রে উপার্জন বৃদ্ধি। বিদ্যায় মানসিক চঞ্চলতা বাধার কারণ হতে পারে। গুরুজনদের শরীর স্বাস্থ্য ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৪৪: ইংরেজ লেখক আলেক্সজান্ডার পোপের মৃত্যু
১৭৭৮: ফ্রান্সের লেখক এবং দার্শনিক ভলতেয়ারের মৃত্যু
১৯১২: বিমান আবিষ্কারক উইলবার রাইটের মৃত্যু
১৯১৯: জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নাইট’ উপাধি ত্যাগ
১৯৪৫: অভিনেতা ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫০: অভিনেতা পরেশ রাওয়ালের জন্ম
২০১৩: চিত্র পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের মৃত্যু




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৭০ টাকা ৬৫.৩৮ টাকা
পাউন্ড ৮১.৩৮ টাকা ৮৪.১৮ টাকা
ইউরো ৭০.৮৭ টাকা ৭৩.২৩ টাকা
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,৩৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৮৪০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,২৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৩০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৪০০ টাকা

দিন পঞ্জিকা

 ১৬ জ্যৈষ্ঠ, ৩০ মে, মঙ্গলবার, পঞ্চমী দিবা ৮/৪৭, পুষ্যানক্ষত্র দিবা ১১/৫৭, সূ উ ৪/৫৫/৪৯, অ ৬/১২/১৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৪ পুনঃ ৯/২১-১২/০ পুনঃ ৩/৩১-৪/২৫, বারবেলা ৬/৩৬-৮/১৫ পুনঃ ১/১৩-২/৫৩, কালরাত্রি ৭/৩২-৮/৫৩।
১৫ জ্যৈষ্ঠ, ৩০ মে, মঙ্গলবার, পঞ্চমী ২/১৯/৫, পুষ্যানক্ষত্র অপরাহ্ণ ৫/২৮/৪৩, সূ উ ৪/৫৪/৪৫, অ ৬/১২/৩৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৪/১৯, ৯/২০/৪২-১২/০/১৬, ৩/৩৩/২-৪/২৬/১৩ রাত্রি ৬/৫৫/২৫, ১১/৫৫/৫-২/৩/৩১, বারবেলা ৬/৩৪/২৯-৮/১৪/১৩, কালবেলা ১/১৩/২৪-২/৫৩/৮, কালরাত্রি ৭/৩২/৫২-৮/৫৩/৮।
৩ রমজান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
পদার্থবিদ্যা নিয়ে গবেষণার ইচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম অর্চিষ্মান পাণিগ্রাহীর 
চিকিৎসক বা ইঞ্জিনিয়ার নয়। গবেষক হতে চায় এবছর উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম স্থান অধিকারি হুগলি কলেজিয়েট স্কুলের অর্চিষ্মান পাণিগ্রাহী। পদার্থবিদ্যা নিয়ে গবেষণা করার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর। ২০১৫ সালে মাধ্যমিকে দ্বিতীয় হয়েছিল অর্চিষ্মান। উচ্চ মাধ্যমিকে তার থেকেও ভালো ফল করায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি সে। 

11:04:50 AM

চিকিৎসক হতে চায় উচ্চ মাধ্যমিকে তৃতীয় বাঁকুড়া জেলা স্কুলের সুরজিৎ লোহার 

10:54:51 AM

উচ্চ মাধ্যমিকে তৃতীয় (৯৭.৮%) শুভম সিংহ ও সুরজিৎ লোহার (বাঁকুড়া জেলা স্কুল) 

10:49:32 AM

উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম অর্চিষ্মাণ পানিগ্রাহি ( হুগলি কলেজিয়েট স্কুল) 

10:45:00 AM

উচ্চ মাধ্যমিকে দ্বিতীয় (৯৮.৪%) ময়াঙ্ক চট্টোপাধ্যায় (মাহেশ শ্রীরামকৃষ্ণ বিদ্যাভবন), উপমন্যু চক্রবর্তী (নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন) 

10:39:06 AM

সাফল্যের নিরিখে শীর্ষে পূর্ব মেদিনীপুর 

10:15:00 AM






বিশেষ নিবন্ধ
এবারই প্রথম নয়, ’৯৯-এ কারগিল যুদ্ধেও পাক সেনারা নৃশংসতার নজির রেখেছিল
সীমান্তরক্ষায় অনেকদিন কাটানো পোড়খাওয়া এক ক্যাপ্টেন একদিন দার্শনিকের ঢঙে বললেন, আমরা এটুকুই বুঝি—যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন মানে ...
 লালবাজার অভিযান: মমতার চালে বিজেপি মাত!
শুভা দত্ত: সিপিএমের নবান্ন অভিযানের ধাঁচে লালবাজার অভিযান করে রাজ্যবাসীকে চমকে দিতে চেয়েছিল রাজ্য বিজেপি। ...
 হুট বলতে ফুট কাটার অসুখ
 সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: আমার এক বন্ধু প্রায়ই ভারী অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলে। যেমন, জ্বর-জ্বালা, বুক ধড়ফড়ানি, ...
নদী তুমি কার
বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়: ১৯৪৭ সালে দ্বিখণ্ডিত স্বাধীনতা কেবলমাত্র মানুষকে ভাগ করেনি, প্রাকৃতিক সম্পদেও ভাঙনের সাতকাহন সূচিত ...
চীন, পাকিস্তান বেজিংয়ে ফাঁকা মাঠ পেয়ে গেল ভারতের কূটনৈতিক ভুলের কারণে
কুমারেশ চক্রবর্তী: মাত্র কিছু দিন আগে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা আইসিসি’র এক ভোটে ৯-১ ভোটে ...