প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

 স্মৃতির রেলপথে

 ওই রেললাইন দিয়ে আরও একবার ট্রেন ছুটবে। শিয়ালদহ থেকে ছেড়ে পৌঁছে যাবে খুলনা। ওই রেলরুটে আরও একবার মিলবে দুই বাংলা। যা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল স্বাধীনতার আগে। সেই স্মৃতির পথেই আজ ফিরে দেখা।


সুখরঞ্জন সেনগুপ্ত: বাড়ি ঘর দোর পেরিয়ে জনবসতি একটু হালকা হতেই নজরে আসত অজগর সাপের মতো শুয়ে থাকা লম্বা লাইনটা। রোদ পড়ে চকচক করত... দেখতাম সেই দূর থেকেই। আর তার গা ঘেঁষে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা একটুকরো স্টেশন। সে স্টেশন তখন আজকালের মতো ছিল না। স্টেশন মাস্টারের ঘরটুকুই ছিল যার একমাত্র বনেদিয়ানা। আর ছিল মানুষ। ঘড়ির কাঁটা ট্রেনের সময়ের হাত ধরতে গেলেই সেই নির্জন, নিঃঝুম জায়গাটা হঠাৎ করে যেন গমগমিয়ে উঠত। মনে হত, এত লোক ছিল কোথায়! কেউ যাবে যশোর, কেউ বনগাঁ। বেশিরভাগই কলকাতা। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বড় শহর। সবচেয়ে আধুনিক। হাজার হাজার পেটের দু’মুঠো ভাতের জোগানদার। কেউ বেঁচে থাকার তাগিদে, কেউ বেড়াতে, আবার কেউ মেয়ের জন্য সম্বন্ধ দেখতে। পরিচয় সবার একটাই ছিল… বাঙালি। এই বাংলার মানুষ। যার মাঝখান দিয়ে ছিল না কোনও জাতপাতের বিভাজন, না কাঁটাতারের। খুলনা থেকে শিয়ালদহ। এই দীর্ঘ পথ জুড়েছিল একটি মাত্র রেললাইন।
শিয়ালদহ থেকে বারাসত হয়ে বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে খুলনা পর্যন্ত পাতা রেলের পাত আজকের দুই বাংলার নানা ওঠা-পড়ার সাক্ষী। বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, দেশভাগ, এই সমস্ত তোলপাড় করা ঘটনার দগদগে ক্ষত লেপটে আছে এই রেললাইনের প্রতিটি খাঁজে। অবিভক্ত বাংলায় এই ট্রেনের ভরসায় থাকতে হত পুরো খুলনা জেলা, যশোর জেলার তিন চতুর্থাংশ, ও ফরিদপুর জেলার এক তৃতীয়াংশ মানুষকে। খুলনা পর্যন্ত সেই ট্রেনে গিয়ে স্টিমারে করে পার হতে হত নদী। এই গোটা যাত্রাপথেই ঘটেছে অসংখ্য ঘটনা! যার কিছু জানা... আর অনেকটাই অজানা। সেই সব ঘটনার নীরব দর্শক শুধুমাত্র এই রেললাইন।
কাঁটাতার দিয়ে দু’বাংলা ভাগ হয়নি তখনও। তাই উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার লোকালের মতোই ছিল দুই বাংলার সংযোগকারী এই ট্রেন। সবচেয়ে নামডাক ছিল বরিশাল এক্সপ্রেসের। দুপুরের আগে এই ট্রেনটি ছাড়ত শিয়ালদহ থেকে। খুলনা পৌঁছে যেত সন্ধ্যায়। এই ট্রেনটির সঙ্গেই সময়ের গাঁটছড়া বাঁধা থাকত একটি স্টিমারের। বরিশাল এক্সপ্রেস না আসা পর্যন্ত তার ছুটি নেই। যাত্রা নেই। স্টেশনে গাড়ি থামলে তার যাত্রীদের নিয়ে ওই স্টিমারই পার হত নদী। আর একটি ছিল বরিশাল মেল। এটা শিয়ালদহ থেকে ছাড়ত রাতে, যতদূর মনে পড়ে সাড়ে আটটা-নটা নাগাদ। একেবারে কাকভোরে পৌঁছে যেত খুলনা। তার সঙ্গেও সময় বাঁধা থাকত একটা স্টিমারের। বিকালের দিকে পৌঁছে যেত বরিশাল। এছাড়াও ছিল বেশ কিছু প্যাসেঞ্জার ট্রেন। এক্সপ্রেসে ৬ ঘণ্টার মধ্যে কলকাতা থেকে খুলনা যাওয়া যেত। কয়লার ইঞ্জিন। তখন যা সময় লাগত, এখন হয়তো তার অর্ধেক লাগবে। আমার মতো যাঁরা ওপার বাংলা থেকে এসেছিলেন, তাঁদের কাছে এই ট্রেন রুটটাই ছিল প্রধান পথ। বহুবার এই ট্রেনে যাতায়াত করেছি..., নানারকম অভিজ্ঞতাও হয়েছে। বারবার...। এই ট্রেনযাত্রার সূত্রে খুলনা স্টেশনে দাঁড়িয়ে দেখেছি ফজলুল হক ও শ্যমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো ঐতিহাসিক মানুষদের। একসঙ্গে দেখেছি, আলাদা আলাদাভাবেও দেখা হয়েছে দু’জনের সঙ্গে।
গ্রামবাংলা থেকে কলকাতা আসার একমাত্র বাহন ছিল এই রুটের ট্রেন। তাই প্রায় প্রতিদিন ভিড়টাও হত বেশ। তবে বরিশাল এক্সপ্রেসের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি। কারণ, এতে সময় সবচেয়ে কম লাগত। এখনকার মতো আগে থেকে সিট কিন্তু রিজার্ভ করা যেত না! তবে টিকিট বুকিং করা যেত। ইন্টার ক্লাস ও সেকেন্ড ক্লাসের টিকিট বুক করে অনেকেই যাতায়াত করতেন। তবে থার্ড ক্লাসে টিকিট বুকিং করার সুযোগ থাকত না। সেই বুকিংহীন ক্লাসেই যাতায়াত করতেন গ্রাম বাংলার গরিব মানুষ। যতদিন চলেছে এই ট্রেনটি, কখনই একেবারে খালি যেতে দেখিনি।
সময়টা ১৯৩৯ সালের শেষভাগ। শোনা গিয়েছিল নাকি যুদ্ধ বেঁধেছে। অক্ষশক্তি-মিত্রশক্তির রাজনীতি সাধারণ মানুষের জানা ছিল না। ছিল বলতে শুধু আতঙ্ক। পাহাড়প্রমাণ। বুকের মাঝে ভর করে যখন মানুষ আকাশপানে তাকিয়ে থাকত, আর প্রার্থনা করত, ঈশ্বর যেন মাথার উপর থেকে বোমা না পড়ে। কারণ এই যুদ্ধে যে রয়েছে ব্রিটিশ সরকারও! আর এই ভারত তাদেরই কলোনি। আতঙ্কের বোঝা তখন সবচেয়ে বেশি এই মহানগরে। মাঝে মাঝেই গোটা শহর ব্ল্যাক আউট। বন্ধ হয়ে যেত সব আলো। বোমারু বিমান যে নিশানা করবে শহরকেই! আধুনিকতায় মোড়া জনবসতির আলো দেখা যাবে রাতের আকাশ থেকেও। গ্রামবাংলার মানুষ এসব দেখেনি। অর্ধেক লোক তো ব্ল্যাক আউটের মানেই জানত না। জানা ছিল শুধু ভয়ের আবহটা। তখন এই রেললাইন দেখেছিল... সয়েছিল ভিড়ের চাপ। ফেরার ভিড়। বাঁচার ভিড়। কলকাতায় কাজ করতে আসা মানুষ তখন দলে দলে শহর ছাড়ছেন। ফিরছেন নিজের গ্রামে। কোনওমতে যদি যশোরটা পেরনো যায়...! একবার যদি পৌঁছাতে পারি খুলনা... ভীতসন্ত্রস্ত এই বাক্যগুলো তখন তিরের মতো বিঁধেছে রেলের কম্পার্টমেন্টের গায়ে। আর সেও নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দিয়েছে বাড়িতে। এই খুলনার ট্রেনটি। যুদ্ধ যখন শেষ হল তখন আবার সে ফিরিয়ে নিয়ে এল সকলকে কাজে। শুরু হল উলটো গতি। কেউ কলকাতায় প্রশাসনিক কোনও পদে কাজ করেন। কেউ বা অন্য কোনও ব্যাবসায় জুড়ে আছেন। ডাক পড়তে শুরু করল সবার। বেশিরভাগেরই বাড়ি ছিল এখনকার বাংলাদেশে। তাই তখনও আশা-ভরসা হয়ে রইল খুলনা-শিয়ালদহ রেললাইনটা।
এর মাঝেই অবশ্য একটা অন্য চোরাস্রোত বয়ে গিয়েছিল এই রেললাইনের বুক দিয়ে। ডামাডোলটা চলছিল ১৯৪২ সালের পর থেকেই। পরের বছর, মানে ১৯৪৩ সাল কলকাতার ইতিহাসে একটা ক্ষত হিসাবে চিহ্নিত হয়ে গেল। কারণ, ওই সময়টা দুর্ভিক্ষ দেখেছিল মানুষ। দেখল ট্রেনটাও। হাহাকার। না খেতে পেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া। মরিয়া হয়ে ছুটে আসা সেই কলকাতাতেই। আর কিছু না হোক, ভিক্ষা করে কিছু তো খাবার জুটবে! মরতে তো এখানেও হবে...! তাই, ওই ট্রেন। কলকাতার ৬০-৭০ মাইল ব্যসার্ধের মধ্যে যেন লোকের মেলা লেগে গিয়েছিল। খুলনা, যশোর বরিশালের মানুষরা পালে পালে ট্রেনে চলে এসেছিলেন কলকাতায়। কী ভিড় তখন ট্রেনে! অনেকেই জীবনে হয়তো প্রথমবারের জন্য রেলগাড়ি দেখছে। এত বড় শহর দেখছে। কলকাতায় এসে পড়েছে, তো থাকার জায়গা নেই। শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে ভিড় করে বসে থাকতেন অসংখ্য মানুষ। সেখানেই যা ভিক্ষা জোটার জুটত। একবেলা খেয়ে না খেয়ে কেটে যেত দিন। কেউ বেঁচেছে। কেউ শিকার হয়েছে দুর্ভিক্ষের দৈত্যের। কলকাতাতেও মৃত্যু হয়েছিল অনেকেরই।
সময় বয়ে গেল নিজের মতো। আস্তে আস্তে খাবার মিলতে শুরু করল। এক একটা দিন এক একটা বছরের মতো যাঁরা কাটিয়ে ফেলতে পেরেছেন, তখন তাঁরাই আবার ফিরলেন। নিজের বাড়ির টানে। অপেক্ষা করছিল সে। ফিরিয়ে নিয়ে যাবে বলে। সেই রেললাইন...। তখন সেও কি আর জানত, আরও কঠিন সময় আসতে চলেছে তার বাংলার বুকে?
১৯৪৫ সালে যুদ্ধ থামার পর থেকেই দেশভাগের একটা আঁচ এসেছিল দু’দেশের মানুষের মধ্যে। কিন্তু হঠাৎই হানা দিল দাঙ্গার আতঙ্ক। ৪০-এর দশক থেকে শুরু করে একবারে স্বধীনতার উত্তাপ কেটে যাওয়া পর্যন্ত, বাংলা টালমাটাল হয়েছে বারবার। ঘন ঘন চড়াই উতড়াই বারবার ধাক্কা দিয়েছে বাঙালিকে। আর সেই চড়াই উতড়াইয়ের সঙ্গে জুড়েছে ট্রেনের একটানা শব্দ। কিন্তু বাংলার মানুষ কোনওদিনই ভাবেনি, ধর্ম নিয়ে এমন মারাত্মক একটা লড়াই শুরু হতে পারে! সবচেয়ে চেনাও যে তখন অচেনা! কিছু স্বার্থান্বেষীর জন্য। কিছু সুবিধাবাদীর জন্য। যারা মাথার উপর বসে ছড়ি ঘোরাবে। আর পিষবে সাধারণ মানুষ। যাই হোক, সেবারেও কোল পেতে দিয়েছিল এই ট্রেনই। এমন চেহারা বাঙালি সত্যিই এর আগে দেখেনি। অনেক বিখ্যাত লোকের বাড়িতেও হামলা হয়েছে, মৃত্যু এসেছে হঠাৎ। বাংলার দু’প্রান্তের মানুষই চেয়েছিল নিরাপদে থাকতে। সুরক্ষিত স্থান খুঁজে নিতে তাই সেদিনও ছাতার মতো এসে দাঁড়িয়েছিল এই দু’বাংলার সংযোগরক্ষাকারী ট্রেন। দলে দলে মানুষ ওপার বাংলা থেকে এপারে আসছিলেন। এপার বাংলা থেকেও নিরাপদে থাকতে ওপারে যাচ্ছিলেন অনেকে। অবলম্বন? এই ট্রেন। তাকেও কিন্তু এই সময় দেখতে হয়েছে বহু রক্ত। যার স্মৃতি এখনও লেগে রয়েছে ওই রেললাইনের আশপাশে।
এক সময় ঠিক হয়ে গেল, দেশভাগই হবে। স্বাধীনতা ও দেশভাগ একসঙ্গে আসবে। সেই দেশভাগের পর থেকেই দু’বাংলার মধ্যে যাতায়তাটা যেন লাফিয়ে লাফিয়ে কয়েকগুণ বেড়ে গেল। মনে রাখতে হবে, শিয়ালদহ থেকে খুলনা পর্যন্ত পাতা রেললাইনটা তো শুধু একটা রেললাইন নয়, এটা একটা পথও বলা যায়। দেশভাগের পর থেকে অসংখ্য মানুষ এই পথে চিরতরে নিজের বাপ ঠাকুরদার ভিটে ছেড়ে কলকাতার এসেছেন। একটা কথা ভাবতে আশ্চর্য লাগে, কীভাবে একটা ট্রেন কয়েক ঘণ্টার যাত্রায় একটা গোটা পরিবারকে তাঁর যাবতীয় মূলগত পরিচয় থেকে উপড়ে এনে উদ্বাস্তু করে ফেলে দিয়েছিল এই বিশাল বড় শহরে। যতদিন এই ট্রেন চলেছে, ততদিন এই ট্রেনে করে কলকাতার থেকে মানুষ ফিরেছে ওপারে। আবার উদ্বাস্তু হয়ে মানুষ এসে পড়েছে এই কলকাতা শহরে। বলছিলাম না, এটা শুধু ট্রেন পথ নয়, এটা আসলে একটা নির্দেশ, পথ নির্দেশ। যশোর রোড দিয়ে এদেশে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের পাশাপশি একটা বড় সংখ্যার মানুষ এসেছিলেন এই রেললাইন ধরে। হেঁটে। তাঁদের জন্য ট্রেনযাত্রাটা কোনও সুখকর অভিজ্ঞতা ছিল না। তাঁদের এই যাত্রাপথের সঙ্গে সেই মুহূর্ত থেকে জড়িয়ে গিয়েছিল এক ইতিহাসের প্রসঙ্গ, ভিটে হারিয়ে যাওয়ার কাহন। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে যে অসংখ্য কলকাতার তরুণ ওপার বাংলায় গিয়েছিলেন, তাঁরাও তো একটা সময় পর্যন্ত এই ট্রেনেই যাতায়াত করতেন। রোজ।
পৃথিবীর নানা প্রান্তে অন্তর্দেশীয় রেল পরিষেবা আছে। এক এক জায়গার ইতিহাস, এক এক রকমের। কিন্তু বাঙালির বিভাজন ও সংযোগের যে ইতিহাস কলকাতা-খুলনা রেললাইন এতদিন ধরে বয়ে বেড়িয়েছে, তা আর কোথাও পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ। একটা জাতি আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গেল..., শুধু পড়ে রইল স্মৃতি। পূর্ব পাকিস্তান বা এখনকার বাংলাদেশের মানুষের কাছে সে স্মৃতি একরকম, ভারতের মানুষের কাছে অন্যরকম। তবু এই আবেগ তো অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না! আজ, এত বছর পর সেই লাইন খুলে যাচ্ছে। আবার। একসময় যে অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি কাঁটাতার পেরিয়ে আসা মানুষ কোনওমতে নিজের আস্তানা খাড়া করেছিলেন, সেই বারাসত থেকে বনগাঁর পথ দিয়ে এবারেও ছুটে যাবে ট্রেন। বাড়ির পাশ দিয়ে ছুটে চলা শব্দে নিশ্চয়ই যশোর কিংবা খুলনায় বাপ-ঠাকুরদার কলজে নিংড়ে তৈরি করা ভিটে ছেড়ে আসার পরিবারের কোনও সদস্যের মনে পড়ে যাবে অনেক কিছু। সে স্মৃতিতে হয়তো অনেক যন্ত্রণা থাকবে, তবু কোথাও লুকিয়ে থাকবে তৃপ্তিও। কারণ, আর বাফারে গিয়ে ধাক্কা খাবে না অতীত। এবারে ইচ্ছা হলেই এক ট্রেনে চলে যাওয়া যাবে পদ্মাপারে। ঢুঁ মেরে আসা যাবে ছেড়ে আসা অতীতে।
 গ্রাফিক্স: সোমনাথ পাল
 সহযোগিতায়:
স্বাগত মুখোপাধ্যায়
 ছবি: কুমার বসু
16th  April, 2017
 অমরনাথের পথে-প্রান্তরে

 দুর্গম অতিক্রম করে, জঙ্গি হামলা-মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে এগিয়ে চলা একবার দর্শনের আশায়। বালতাল হোক বা পহেলগাঁও, যাত্রাপথ যাই হোক না কেন, প্রকৃতি সেখানেই অপার সৌন্দর্য উজাড় করে রেখেছে। বিন্দু বিন্দু জল জমে আকার নিয়েছে শিবলিঙ্গের। আর তাকে ঘিরেই সম্প্রীতির এক অদ্ভূত মিলন উৎসব। সে যে অমরনাথ। বিশদ

খবর শেষ

 আকাশবাণী... খবর পড়ছি...। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমল থেকে শুরু হওয়ার পর বঙ্গজীবনের অঙ্গ হিসাবে জড়িয়ে যাওয়া সেই অভ্যাস হাতছাড়া হয়েছে বহুযুগ আগেই। টিভি, ইন্টারনেট, ফেসবুকের জমানায় যা আজ প্রায় গতজন্মের স্মৃতি বলে মনে হয়। কিন্তু একটা সময় এই তো ছিল বাইরের জানালায় চোখ রাখার জন্য মানুষের একমাত্র দূরবীন! সেই ইভা নাগ, নীলিমা সান্যাল, দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্রেকডাউন, ভুল খবর...। সে এখন নস্টালজিয়া। আজ দিল্লির বেতার খবর যে সত্যিই শেষ!
বিশদ

16th  July, 2017
 বৃষ্টিভেজা

 গ্রীষ্মকালীন এই বঙ্গে বর্ষার আগমন যেন ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার মতো। আকাশকে মুখ ভার করে ঝরে পড়তে দেখলেই মন আনচান করে খিচুড়ি, ইলিশ মাছের জন্য। ঘণ্টাখানেকের বর্ষণে তিলোত্তমা এক হাঁটু জল উপহার দিলেও তা ঠেলে বাড়ি ফেরাই আলাদা আনন্দ। আর গুনগুন করে ওঠা বিশ্বকবির সৃষ্টি। মনে পড়ে যাওয়া অপু-দুর্গার বৃষ্টি ভেজা। কিংবা স্কুলের সেই রেনি ডে। এ ঋতু তাই যে আলাদা আলাদা অনুভূতির এক সম্পৃক্ত দ্রবণ। বিশদ

09th  July, 2017
চিকিৎসা রঙ্গ 

কল্যাণ বসু: ‘পাসকরা ডাক্তার নই, কিন্তু তাতে কি? বাড়ি বসিয়া বই পড়িয়া কি আর ডাক্তারী শেখা যায় না? আজ সাত আট বছর তো ডাক্তারী করিতেছি, অভিজ্ঞতা বলিয়া একটা জিনিসও তো আছে! পাসকরা ডাক্তারের হাতে কি আর রোগী মরে না?’ এইটুকু পড়ে কী মালুম হচ্ছে?
বিশদ

02nd  July, 2017
 বাঙালির রথযাত্রা

হারাধন চৌধুরী: বাঙালি এক আমুদে জাতি। আনন্দের জন্য পরব খুঁজে নিতে বাঙালির জুড়ি মেলা ভার। বাঙালির কাছে দেবতারা কঠিন কঠোর কিছু নন। দেবতারাই হলেন সবচেয়ে আপন বা অতি প্রিয় কেউ, যাঁকে আঁকড়ে ধরে থাকতে না পারলে বাঙালির সব আনন্দ, সব সুখানুভূতি যেন মাটি হয়ে যায়। অতএব একজন না একজন দেবতাকে সামনে রেখেই পার্বণ সাজিয়ে নেয় তারা। সেই থেকেই ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’ কথাটি এসেছে। ‘তেরো’ কথাটি ‘বহু’ অর্থেই প্রযোজ্য হয়। সংস্কৃতি সম্পর্কে এমন যাদের উপলব্ধি, রথযাত্রার মতো একটি পার্বণ বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে তাদের মাতিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। রথযাত্রার মধ্যে মাটি বা ভূমির টানই খুঁজে পায় বাঙালি। বিশদ

25th  June, 2017
দেশভাগের ৭০

সমৃদ্ধ দত্ত: ৭০ বছর আগে কয়েকজন দেশি-বিদেশি প্রতিনিধি ঠিক করে ফেলেছিল ভারতকে ভাগ হতেই হবে। ৭০ বছর আগে এমনই একটা জুন মাসে অবিভক্ত বঙ্গ বিধানসভার শেষ অধিবেশনে বাংলা আর বাঙালির নতুন পথ চলার সূচনা। চিরবিচ্ছেদের বেদনা নিয়ে। সেই ২০ জুন।
লর্ড মাউন্টব্যাটেন নিজের ইমেজ সম্পর্কে এতটাই সচেতন ছিলেন যে, ১৯৪৭ সালের ২২ মার্চ ভারতের ভাইসরয় পদে এসেই সরকারি এবং প্রেস ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি নির্দেশ জারি করে দেন।
বিশদ

18th  June, 2017
রাষ্ট্রপতি ভবনে 

প্রবালকুমার বসু: রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁরই অতিথি হয়ে কাটিয়ে আসা দু’সপ্তাহ। রাজধানীর যানজট, দূষণের বাইরে হঠাৎ এসে পড়া যেন এক অন্য জগতে। মুঘল গার্ডেনসে ফুলের মাঝে কেটে যাওয়া সময়, কিংবা প্রতিটা পাথরে নতুন করে খুঁজে পাওয়া ইতিহাস।
বিশদ

11th  June, 2017
ভূস্বর্গ ভয়ংকর

আজাদ কাশ্মীর। এই অবস্থানেই অনড় ছিলেন মহারাজা হরি সিং। পাকিস্তানের একের পর এক ষড়যন্ত্রে নেহরুর সাহায্য নিতে তিনি বাধ্য হয়েছিলেন। কাশ্মীর জুড়েছিল ভারতের মানচিত্রে। কিন্তু পিছন থেকে ছুরি মারে আমেরিকা, ব্রিটেন। এবং পাকিস্তান। যে ইন্ধন বজায় রেখেছে ইসলামাবাদ। ফল? অশান্ত ভূস্বর্গ...।
বিশদ

04th  June, 2017
খাতা দেখা 

বসন্ত কড়া নাড়লেই বুঝতে হবে মা-উমা খুব দূরে নেই। অর্থাৎ মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক। ভাবা যায়, একটা রাজ্যে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ লক্ষের বেশি? আর এই দুই পরীক্ষা শেষ হতেই রাজ্যের আনাচে কানাচে হাজার হাজার স্কুল টিচারের গৃহকোণে শুরু হয়ে যায় কুটির শিল্প—খাতা দেখা।
বিশদ

28th  May, 2017
র‌্যানসামওয়্যার এবং বিটকয়েন 

দেবজ্যোতি রায়: ‘এত দ্রুতগতিতে প্রযুক্তির উন্নতি ঘটছে যে এই আগ্রাসন গোটা মানবজাতিকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। বংশপরম্পরাকে রক্ষা করতে গেলে যুক্তি ও কারণ দিয়ে এতে লাগাম দিতে হবে।’ প্রযুক্তির রকেটসম অগ্রগতি নিয়ে সম্প্রতি এক সেমিনারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন পৃথিবীখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিনস। এর জন্য বিভিন্ন দেশের সরকারকে এগিয়ে আসার আরজিও জানিয়েছিলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রফেসর তথা পদার্থবিদ।
বিশদ

21st  May, 2017
আবাসন আইন 

১ মে দেশজুড়ে চালু হয়েছে আবাসন সংক্রান্ত আইন ‘দি রিয়েল এস্টেট (রেগুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) অ্যাক্ট। চলতি কথায় ‘রেরা’। কেন্দ্রীয় আইনটির উপর ভিত্তি করে রাজ্যগুলির নিজস্ব বিধি রা রুল তৈরি করার কথা। কী পরিস্থিতি রয়েছে এই আইন নিয়ে? আইনটির সুবিধাগুলিই বা কী কী? দেখে নেওয়া যাক আইনের খুঁটিনাটিগুলি। 
বিশদ

14th  May, 2017



একনজরে
 সংবাদদাতা, ঘাটাল: দুই দেশের খেলা দেখার জন্য ভিড় উপচে পড়ল দাসপুর-১ ব্লকের কলোড়াতে। শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুর ফুটি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে কলোড়া স্কুল ফুটবল মাঠে ভারতের জাতীয় ...

ইসলামাবাদ, ২২ জুলাই (পিটিআই): পানামা পেপার ফাঁস কেলেঙ্কারিতে শেষ পর্যন্ত গদি খোয়াতে হতে পারে নওয়াজ শরিফকে। এমন আশঙ্কায় শরিফের উত্তরসূরি হিসাবে বেছে নেওয়া হল তাঁর ভাইকেই। শাহবাজ শরিফ এখন পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এবং নওয়াজের ছোট ভাই। তবে শাহবাজ শরিফ পাক ...

বিএনএ, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ পুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন স্থানে গত ৯ জুলাই আদিবাসী নাবালিকাদের ধর্ষণ এবং ঘটনার প্রতিবাদে ১৪ জুলাই শহরে আদিবাসীদের তাণ্ডবের পর শনিবার রায়গঞ্জে এসে বৈঠক করলেন আদিবাসী উন্নয়নমন্ত্রী জেমস কুজুর। এদিন কর্ণজোড়ায় সার্কিট হাউসে এই বৈঠক হয়েছে। ...

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই: জাতীয় গড়ের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার বেশি। সম্প্রতি লোকসভায় কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী বন্দারু দত্তাত্রেয়’র পেশ করা রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিপোর্টে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী এও উল্লেখ করেছেন যে, ২০১২-১৩ আর্থিক বছরের তুলনায় ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যাবসা সূত্রে উপার্জন বৃদ্ধি। বিদ্যায় মানসিক চঞ্চলতা বাধার কারণ হতে পারে। গুরুজনদের শরীর স্বাস্থ্য নিয়ে ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

 ১৮৫৬- স্বাধীনতা সংগ্রামী বাল গঙ্গাধর তিলকের জন্ম
 ১৮৯৫ – চিত্রশিল্পী মুকুল দের জন্ম
 ২০০৪- অভিনেতা মেহমুদের মৃত্যু
 ২০১২- আই এন এ’ যোদ্ধা লক্ষ্মী সায়গলের মৃত্যু



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৫৫ টাকা ৬৬.২৩ টাকা
পাউন্ড ৮১.৯৮ টাকা ৮৪.৯৬ টাকা
ইউরো ৭৩.৫৬ টাকা ৭৬.১৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
22nd  July, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,০৭০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৫৮০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৭,৯৯৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

 ৭ শ্রাবণ, ২৩ জুলাই, রবিবার, অমাবস্যা দিবা ৩/১৬, পুনর্বসুনক্ষত্র দিবা ৯/৫৩, সূ উ ৫/৭/৫৭, অ ৬/১৮/৫, অমৃতযোগ প্রাতঃ ৬/১-৯/৩১ রাত্রি ৭/৪৫-৯/১১, বারবেলা ১০/৪-১/২২, কালরাত্রি ১/৪-২/২৬।
৬ শ্রাবণ, ২৩ জুলাই, রবিবার, অমাবস্যা ৩/৫২/৫৯, পুনর্বসুনক্ষত্র ১১/৫/৩৬, সূ উ ৫/৪/৫০, অ ৬/২০/৬, অমৃতযোগ দিবা ৫/৫৭/৫১-৯/২৯/৫৫, বারবেলা ১০/৩/৩-১১/৪২/২৮, কালবেলা ১১/৪২/২৮-১/২১/৫২, কালরাত্রি ১/৩/৪-২/২৩/৩৯।
 ২৮ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ভারতের জয়ের জন্য ৬ ওভারে ৩১ রান প্রয়োজন 

09:47:31 PM

ভারত ১৪৫/৩ (৩৫ ওভার) 

09:08:03 PM

ভারত ১২০/২ (৩০ ওভার) 

08:45:54 PM

ভারত ৬৯/২ (২০ ওভারে)

08:10:29 PM

ভারত ৪৩/২ (১২ ওভারে)

07:41:49 PM

ভারত ৩১/১ (৮ ওভারে)

07:26:26 PM