প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

 স্মৃতির রেলপথে

 ওই রেললাইন দিয়ে আরও একবার ট্রেন ছুটবে। শিয়ালদহ থেকে ছেড়ে পৌঁছে যাবে খুলনা। ওই রেলরুটে আরও একবার মিলবে দুই বাংলা। যা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল স্বাধীনতার আগে। সেই স্মৃতির পথেই আজ ফিরে দেখা।


সুখরঞ্জন সেনগুপ্ত: বাড়ি ঘর দোর পেরিয়ে জনবসতি একটু হালকা হতেই নজরে আসত অজগর সাপের মতো শুয়ে থাকা লম্বা লাইনটা। রোদ পড়ে চকচক করত... দেখতাম সেই দূর থেকেই। আর তার গা ঘেঁষে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা একটুকরো স্টেশন। সে স্টেশন তখন আজকালের মতো ছিল না। স্টেশন মাস্টারের ঘরটুকুই ছিল যার একমাত্র বনেদিয়ানা। আর ছিল মানুষ। ঘড়ির কাঁটা ট্রেনের সময়ের হাত ধরতে গেলেই সেই নির্জন, নিঃঝুম জায়গাটা হঠাৎ করে যেন গমগমিয়ে উঠত। মনে হত, এত লোক ছিল কোথায়! কেউ যাবে যশোর, কেউ বনগাঁ। বেশিরভাগই কলকাতা। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বড় শহর। সবচেয়ে আধুনিক। হাজার হাজার পেটের দু’মুঠো ভাতের জোগানদার। কেউ বেঁচে থাকার তাগিদে, কেউ বেড়াতে, আবার কেউ মেয়ের জন্য সম্বন্ধ দেখতে। পরিচয় সবার একটাই ছিল… বাঙালি। এই বাংলার মানুষ। যার মাঝখান দিয়ে ছিল না কোনও জাতপাতের বিভাজন, না কাঁটাতারের। খুলনা থেকে শিয়ালদহ। এই দীর্ঘ পথ জুড়েছিল একটি মাত্র রেললাইন।
শিয়ালদহ থেকে বারাসত হয়ে বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে খুলনা পর্যন্ত পাতা রেলের পাত আজকের দুই বাংলার নানা ওঠা-পড়ার সাক্ষী। বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, দেশভাগ, এই সমস্ত তোলপাড় করা ঘটনার দগদগে ক্ষত লেপটে আছে এই রেললাইনের প্রতিটি খাঁজে। অবিভক্ত বাংলায় এই ট্রেনের ভরসায় থাকতে হত পুরো খুলনা জেলা, যশোর জেলার তিন চতুর্থাংশ, ও ফরিদপুর জেলার এক তৃতীয়াংশ মানুষকে। খুলনা পর্যন্ত সেই ট্রেনে গিয়ে স্টিমারে করে পার হতে হত নদী। এই গোটা যাত্রাপথেই ঘটেছে অসংখ্য ঘটনা! যার কিছু জানা... আর অনেকটাই অজানা। সেই সব ঘটনার নীরব দর্শক শুধুমাত্র এই রেললাইন।
কাঁটাতার দিয়ে দু’বাংলা ভাগ হয়নি তখনও। তাই উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার লোকালের মতোই ছিল দুই বাংলার সংযোগকারী এই ট্রেন। সবচেয়ে নামডাক ছিল বরিশাল এক্সপ্রেসের। দুপুরের আগে এই ট্রেনটি ছাড়ত শিয়ালদহ থেকে। খুলনা পৌঁছে যেত সন্ধ্যায়। এই ট্রেনটির সঙ্গেই সময়ের গাঁটছড়া বাঁধা থাকত একটি স্টিমারের। বরিশাল এক্সপ্রেস না আসা পর্যন্ত তার ছুটি নেই। যাত্রা নেই। স্টেশনে গাড়ি থামলে তার যাত্রীদের নিয়ে ওই স্টিমারই পার হত নদী। আর একটি ছিল বরিশাল মেল। এটা শিয়ালদহ থেকে ছাড়ত রাতে, যতদূর মনে পড়ে সাড়ে আটটা-নটা নাগাদ। একেবারে কাকভোরে পৌঁছে যেত খুলনা। তার সঙ্গেও সময় বাঁধা থাকত একটা স্টিমারের। বিকালের দিকে পৌঁছে যেত বরিশাল। এছাড়াও ছিল বেশ কিছু প্যাসেঞ্জার ট্রেন। এক্সপ্রেসে ৬ ঘণ্টার মধ্যে কলকাতা থেকে খুলনা যাওয়া যেত। কয়লার ইঞ্জিন। তখন যা সময় লাগত, এখন হয়তো তার অর্ধেক লাগবে। আমার মতো যাঁরা ওপার বাংলা থেকে এসেছিলেন, তাঁদের কাছে এই ট্রেন রুটটাই ছিল প্রধান পথ। বহুবার এই ট্রেনে যাতায়াত করেছি..., নানারকম অভিজ্ঞতাও হয়েছে। বারবার...। এই ট্রেনযাত্রার সূত্রে খুলনা স্টেশনে দাঁড়িয়ে দেখেছি ফজলুল হক ও শ্যমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো ঐতিহাসিক মানুষদের। একসঙ্গে দেখেছি, আলাদা আলাদাভাবেও দেখা হয়েছে দু’জনের সঙ্গে।
গ্রামবাংলা থেকে কলকাতা আসার একমাত্র বাহন ছিল এই রুটের ট্রেন। তাই প্রায় প্রতিদিন ভিড়টাও হত বেশ। তবে বরিশাল এক্সপ্রেসের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি। কারণ, এতে সময় সবচেয়ে কম লাগত। এখনকার মতো আগে থেকে সিট কিন্তু রিজার্ভ করা যেত না! তবে টিকিট বুকিং করা যেত। ইন্টার ক্লাস ও সেকেন্ড ক্লাসের টিকিট বুক করে অনেকেই যাতায়াত করতেন। তবে থার্ড ক্লাসে টিকিট বুকিং করার সুযোগ থাকত না। সেই বুকিংহীন ক্লাসেই যাতায়াত করতেন গ্রাম বাংলার গরিব মানুষ। যতদিন চলেছে এই ট্রেনটি, কখনই একেবারে খালি যেতে দেখিনি।
সময়টা ১৯৩৯ সালের শেষভাগ। শোনা গিয়েছিল নাকি যুদ্ধ বেঁধেছে। অক্ষশক্তি-মিত্রশক্তির রাজনীতি সাধারণ মানুষের জানা ছিল না। ছিল বলতে শুধু আতঙ্ক। পাহাড়প্রমাণ। বুকের মাঝে ভর করে যখন মানুষ আকাশপানে তাকিয়ে থাকত, আর প্রার্থনা করত, ঈশ্বর যেন মাথার উপর থেকে বোমা না পড়ে। কারণ এই যুদ্ধে যে রয়েছে ব্রিটিশ সরকারও! আর এই ভারত তাদেরই কলোনি। আতঙ্কের বোঝা তখন সবচেয়ে বেশি এই মহানগরে। মাঝে মাঝেই গোটা শহর ব্ল্যাক আউট। বন্ধ হয়ে যেত সব আলো। বোমারু বিমান যে নিশানা করবে শহরকেই! আধুনিকতায় মোড়া জনবসতির আলো দেখা যাবে রাতের আকাশ থেকেও। গ্রামবাংলার মানুষ এসব দেখেনি। অর্ধেক লোক তো ব্ল্যাক আউটের মানেই জানত না। জানা ছিল শুধু ভয়ের আবহটা। তখন এই রেললাইন দেখেছিল... সয়েছিল ভিড়ের চাপ। ফেরার ভিড়। বাঁচার ভিড়। কলকাতায় কাজ করতে আসা মানুষ তখন দলে দলে শহর ছাড়ছেন। ফিরছেন নিজের গ্রামে। কোনওমতে যদি যশোরটা পেরনো যায়...! একবার যদি পৌঁছাতে পারি খুলনা... ভীতসন্ত্রস্ত এই বাক্যগুলো তখন তিরের মতো বিঁধেছে রেলের কম্পার্টমেন্টের গায়ে। আর সেও নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দিয়েছে বাড়িতে। এই খুলনার ট্রেনটি। যুদ্ধ যখন শেষ হল তখন আবার সে ফিরিয়ে নিয়ে এল সকলকে কাজে। শুরু হল উলটো গতি। কেউ কলকাতায় প্রশাসনিক কোনও পদে কাজ করেন। কেউ বা অন্য কোনও ব্যাবসায় জুড়ে আছেন। ডাক পড়তে শুরু করল সবার। বেশিরভাগেরই বাড়ি ছিল এখনকার বাংলাদেশে। তাই তখনও আশা-ভরসা হয়ে রইল খুলনা-শিয়ালদহ রেললাইনটা।
এর মাঝেই অবশ্য একটা অন্য চোরাস্রোত বয়ে গিয়েছিল এই রেললাইনের বুক দিয়ে। ডামাডোলটা চলছিল ১৯৪২ সালের পর থেকেই। পরের বছর, মানে ১৯৪৩ সাল কলকাতার ইতিহাসে একটা ক্ষত হিসাবে চিহ্নিত হয়ে গেল। কারণ, ওই সময়টা দুর্ভিক্ষ দেখেছিল মানুষ। দেখল ট্রেনটাও। হাহাকার। না খেতে পেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া। মরিয়া হয়ে ছুটে আসা সেই কলকাতাতেই। আর কিছু না হোক, ভিক্ষা করে কিছু তো খাবার জুটবে! মরতে তো এখানেও হবে...! তাই, ওই ট্রেন। কলকাতার ৬০-৭০ মাইল ব্যসার্ধের মধ্যে যেন লোকের মেলা লেগে গিয়েছিল। খুলনা, যশোর বরিশালের মানুষরা পালে পালে ট্রেনে চলে এসেছিলেন কলকাতায়। কী ভিড় তখন ট্রেনে! অনেকেই জীবনে হয়তো প্রথমবারের জন্য রেলগাড়ি দেখছে। এত বড় শহর দেখছে। কলকাতায় এসে পড়েছে, তো থাকার জায়গা নেই। শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে ভিড় করে বসে থাকতেন অসংখ্য মানুষ। সেখানেই যা ভিক্ষা জোটার জুটত। একবেলা খেয়ে না খেয়ে কেটে যেত দিন। কেউ বেঁচেছে। কেউ শিকার হয়েছে দুর্ভিক্ষের দৈত্যের। কলকাতাতেও মৃত্যু হয়েছিল অনেকেরই।
সময় বয়ে গেল নিজের মতো। আস্তে আস্তে খাবার মিলতে শুরু করল। এক একটা দিন এক একটা বছরের মতো যাঁরা কাটিয়ে ফেলতে পেরেছেন, তখন তাঁরাই আবার ফিরলেন। নিজের বাড়ির টানে। অপেক্ষা করছিল সে। ফিরিয়ে নিয়ে যাবে বলে। সেই রেললাইন...। তখন সেও কি আর জানত, আরও কঠিন সময় আসতে চলেছে তার বাংলার বুকে?
১৯৪৫ সালে যুদ্ধ থামার পর থেকেই দেশভাগের একটা আঁচ এসেছিল দু’দেশের মানুষের মধ্যে। কিন্তু হঠাৎই হানা দিল দাঙ্গার আতঙ্ক। ৪০-এর দশক থেকে শুরু করে একবারে স্বধীনতার উত্তাপ কেটে যাওয়া পর্যন্ত, বাংলা টালমাটাল হয়েছে বারবার। ঘন ঘন চড়াই উতড়াই বারবার ধাক্কা দিয়েছে বাঙালিকে। আর সেই চড়াই উতড়াইয়ের সঙ্গে জুড়েছে ট্রেনের একটানা শব্দ। কিন্তু বাংলার মানুষ কোনওদিনই ভাবেনি, ধর্ম নিয়ে এমন মারাত্মক একটা লড়াই শুরু হতে পারে! সবচেয়ে চেনাও যে তখন অচেনা! কিছু স্বার্থান্বেষীর জন্য। কিছু সুবিধাবাদীর জন্য। যারা মাথার উপর বসে ছড়ি ঘোরাবে। আর পিষবে সাধারণ মানুষ। যাই হোক, সেবারেও কোল পেতে দিয়েছিল এই ট্রেনই। এমন চেহারা বাঙালি সত্যিই এর আগে দেখেনি। অনেক বিখ্যাত লোকের বাড়িতেও হামলা হয়েছে, মৃত্যু এসেছে হঠাৎ। বাংলার দু’প্রান্তের মানুষই চেয়েছিল নিরাপদে থাকতে। সুরক্ষিত স্থান খুঁজে নিতে তাই সেদিনও ছাতার মতো এসে দাঁড়িয়েছিল এই দু’বাংলার সংযোগরক্ষাকারী ট্রেন। দলে দলে মানুষ ওপার বাংলা থেকে এপারে আসছিলেন। এপার বাংলা থেকেও নিরাপদে থাকতে ওপারে যাচ্ছিলেন অনেকে। অবলম্বন? এই ট্রেন। তাকেও কিন্তু এই সময় দেখতে হয়েছে বহু রক্ত। যার স্মৃতি এখনও লেগে রয়েছে ওই রেললাইনের আশপাশে।
এক সময় ঠিক হয়ে গেল, দেশভাগই হবে। স্বাধীনতা ও দেশভাগ একসঙ্গে আসবে। সেই দেশভাগের পর থেকেই দু’বাংলার মধ্যে যাতায়তাটা যেন লাফিয়ে লাফিয়ে কয়েকগুণ বেড়ে গেল। মনে রাখতে হবে, শিয়ালদহ থেকে খুলনা পর্যন্ত পাতা রেললাইনটা তো শুধু একটা রেললাইন নয়, এটা একটা পথও বলা যায়। দেশভাগের পর থেকে অসংখ্য মানুষ এই পথে চিরতরে নিজের বাপ ঠাকুরদার ভিটে ছেড়ে কলকাতার এসেছেন। একটা কথা ভাবতে আশ্চর্য লাগে, কীভাবে একটা ট্রেন কয়েক ঘণ্টার যাত্রায় একটা গোটা পরিবারকে তাঁর যাবতীয় মূলগত পরিচয় থেকে উপড়ে এনে উদ্বাস্তু করে ফেলে দিয়েছিল এই বিশাল বড় শহরে। যতদিন এই ট্রেন চলেছে, ততদিন এই ট্রেনে করে কলকাতার থেকে মানুষ ফিরেছে ওপারে। আবার উদ্বাস্তু হয়ে মানুষ এসে পড়েছে এই কলকাতা শহরে। বলছিলাম না, এটা শুধু ট্রেন পথ নয়, এটা আসলে একটা নির্দেশ, পথ নির্দেশ। যশোর রোড দিয়ে এদেশে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের পাশাপশি একটা বড় সংখ্যার মানুষ এসেছিলেন এই রেললাইন ধরে। হেঁটে। তাঁদের জন্য ট্রেনযাত্রাটা কোনও সুখকর অভিজ্ঞতা ছিল না। তাঁদের এই যাত্রাপথের সঙ্গে সেই মুহূর্ত থেকে জড়িয়ে গিয়েছিল এক ইতিহাসের প্রসঙ্গ, ভিটে হারিয়ে যাওয়ার কাহন। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে যে অসংখ্য কলকাতার তরুণ ওপার বাংলায় গিয়েছিলেন, তাঁরাও তো একটা সময় পর্যন্ত এই ট্রেনেই যাতায়াত করতেন। রোজ।
পৃথিবীর নানা প্রান্তে অন্তর্দেশীয় রেল পরিষেবা আছে। এক এক জায়গার ইতিহাস, এক এক রকমের। কিন্তু বাঙালির বিভাজন ও সংযোগের যে ইতিহাস কলকাতা-খুলনা রেললাইন এতদিন ধরে বয়ে বেড়িয়েছে, তা আর কোথাও পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ। একটা জাতি আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গেল..., শুধু পড়ে রইল স্মৃতি। পূর্ব পাকিস্তান বা এখনকার বাংলাদেশের মানুষের কাছে সে স্মৃতি একরকম, ভারতের মানুষের কাছে অন্যরকম। তবু এই আবেগ তো অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না! আজ, এত বছর পর সেই লাইন খুলে যাচ্ছে। আবার। একসময় যে অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি কাঁটাতার পেরিয়ে আসা মানুষ কোনওমতে নিজের আস্তানা খাড়া করেছিলেন, সেই বারাসত থেকে বনগাঁর পথ দিয়ে এবারেও ছুটে যাবে ট্রেন। বাড়ির পাশ দিয়ে ছুটে চলা শব্দে নিশ্চয়ই যশোর কিংবা খুলনায় বাপ-ঠাকুরদার কলজে নিংড়ে তৈরি করা ভিটে ছেড়ে আসার পরিবারের কোনও সদস্যের মনে পড়ে যাবে অনেক কিছু। সে স্মৃতিতে হয়তো অনেক যন্ত্রণা থাকবে, তবু কোথাও লুকিয়ে থাকবে তৃপ্তিও। কারণ, আর বাফারে গিয়ে ধাক্কা খাবে না অতীত। এবারে ইচ্ছা হলেই এক ট্রেনে চলে যাওয়া যাবে পদ্মাপারে। ঢুঁ মেরে আসা যাবে ছেড়ে আসা অতীতে।
 গ্রাফিক্স: সোমনাথ পাল
 সহযোগিতায়:
স্বাগত মুখোপাধ্যায়
 ছবি: কুমার বসু
16th  April, 2017
সাত বাড়ি আর এক বারোয়ারি 

প্রফুল্ল রায়: তখনও দেশভাগ হয়নি। অখণ্ড বঙ্গের পূর্ব বাংলায় ঢাকা ডিস্ট্রিক্টের একটা বিশাল গ্রামে ছিল আমাদের আদি বাড়ি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম আমরা সেখানে কাটিয়েছি। পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ এবং শত জলধারায় বহমান আরও নদ-নদী, খাল-বিল, শস্যক্ষেত্র। অজস্র পাখপাখালি, আম জাম হিজল আর সুপারি বনের সারি, সব মিলিয়ে পূর্ববাংলা ছিল এক আশ্চর্য স্বপ্নের দেশ।
বিশদ

24th  September, 2017
অকাল বোধন 

নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি: ‘অকাল’ শব্দটির মধ্যে একটা অদ্ভুত এবং প্রায় বিপরীত ব্যঞ্জনা আছে। যেমন একটি কৈশোরগন্ধি যুবক ছেলেকে যদি বলি ‘অকালপক্ব’, তাহলে অবধারিতভাবে কথাটির মানে দাঁড়াবে যে, ছেলেটির যা বয়স এবং তদনুযায়ী যা তার বিদ্যাবুদ্ধি হওয়া উচিত কিংবা বয়স অনুযায়ী তার যা কথাবার্তার ধরন তৈরি হওয়া উচিত, তার চাইতে বেশি বয়সের বহু-অভিজ্ঞ মানুষের মতো সে কথা বলছে, বা তেমন ভাবসাব দেখাচ্ছে।
বিশদ

24th  September, 2017
বিশ্বকর্মা
সন্দীপন বিশ্বাস

তিনি দেবশিল্পী। দেবকুলের সকল কর্মের সাধক। রাবণের স্বর্ণলঙ্কা, শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকাপুরী, কিংবা হস্তিনাপুর—তঁার শিল্পছেঁায়ায় সব স্থাপত্যই পৌরাণিক উপাখ্যানে অমরত্ব লাভ করেছে। কখনও তিনি তৈরি করছেন হরধনু, কখনও বজ্র। যার সাহায্যে দুষ্টের দমন করেছেন দেবগণ।
বিশদ

17th  September, 2017
শিকাগো বিজয় ১২৫
তাপস বসু

১২৫ বছর আগে এক তরুণ সন্ন্যাসী সীমিত ক্ষমতা নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন সাগরপারে। শিকাগোর এক ধর্ম সম্মেলনে যদি পেশ করা যায় বৈদিক দর্শনের বিস্তারকে। শত বাধা পেরিয়ে মঞ্চে দঁাড়িয়ে আমেরিকার মানুষকে এক লহমায় করে ফেলেছিলেন ‘ভ্রাতা ও ভগিনী’। আজ ফিরে দেখা সেই স্বামী বিবেকানন্দকে। যঁার শিক্ষা আজও সমাজের ভিত্তিপ্রস্তর।
বিশদ

10th  September, 2017
 সেইসব শিক্ষক
কল্যাণ বসু

যখন আমরা ভাবি সব জেনে গিয়েছি, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকে আমাদের শেখা বন্ধ হয়ে যায়... বলেছিলেন সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ। যাঁর জন্মদিন পালিত হয় শিক্ষক দিবস হিসাবে। স্বনামধন্য বহু ব্যক্তির শিক্ষকরাও যে ছিলেন এমনই! কেউ প্রচারের আলোয় এসেছেন, কেউ আসেননি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। সবারই এমন মহান শিক্ষকদের সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল।
বিশদ

03rd  September, 2017
দুশো বছরের বাংলা কাগজ

 দিগদর্শন, বাঙ্গাল গেজেট ও সমাচার দর্পণের লেখনিতে ভর করে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার দ্বিশতবর্ষ পূর্ণ হচ্ছে। বাংলা খবরের কাগজ কখনও হয়ে উঠেছে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শক্তিকে নাস্তানাবুদ করার হাতিয়ার, কখনও অন্তর্জলি যাত্রার মতো সামাজিক রোগের মারণ ওষুধ, আবার কখনও পরিবর্তনের ঝড়। গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য, দাদাঠাকুরদের সাহসী কলমের সে ভার বহন করে এসেছেন সন্তোষকুমার ঘোষ, গৌরকিশোর ঘোষ এবং বরুণ সেনগুপ্তরা। ২০০ বছর পরও তাই বাংলা সংবাদপত্র একইরকম নবীন।
বিশদ

27th  August, 2017
ছাত্র রাজনীতির বিবর্তন
ডঃ পার্থ চট্টোপাধ্যায়

 ছাত্র রাজনীতির যাবতীয় ঐতিহ্য কি এখন তোলাবাজির অন্ধকারে? এ প্রশ্ন আজ সব মহলে। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ গঠনের লক্ষ্যে যে সংসদ দিশা দেখায়, তা আজ ফিকে। জেভিয়ার্স মডেলে রাজ্য ছাত্র রাজনীতি সংস্কার করছে। তা কি সঠিক পদক্ষেপ? মত পক্ষে আছে, বিপক্ষেও।
বিশদ

20th  August, 2017
নির্বাচনের অবাধ সুযোগ প্রয়োজন

তরুণকান্তি নস্কর: রাজ্য সরকার সম্প্রতি নোটিস দিয়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়ন কেমন করে গঠিত হবে, তা জানিয়েছে। কী সেই আইন, যার বিরুদ্ধে এত বিতর্ক? প্রথমেই উল্লেখ করা দরকার, বর্তমান বছরের শুরুতে বিধানসভায় যে উচ্চশিক্ষা আইন পাশ হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় এই নোটিস জারি হয়েছে। বিশদ

20th  August, 2017
 ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলা দরকার

 সমীর পুততুণ্ড: ২০১১ সালে এরাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকে শিক্ষায়তনে নতুন ধরনের গোলমালের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রথমে নতুন সরকারের সমর্থক এবং বিরোধী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে, পরবর্তী পর্যায়ে শাসক দল অনুগামীদের মধ্যেই গোলোযোগ শুরু হয়।
বিশদ

20th  August, 2017
 আলোচনা কিন্তু প্রয়োজন ছিল

 শুভঙ্কর সরকার: ‘দ্বার বন্ধ করে ভ্রমটারে রুখি/ সত্য বলে আমি তবে কোন পথে ঢুকি’... কলেজে ছাত্রছাত্রীদের রাজনৈতিক লড়াই রুখতে ছাত্র সংসদের অবসান ঘটানোর যে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তাতে আমার এই কথাটাই মনে পড়ল।
বিশদ

20th  August, 2017
বন্দেমাতরম 
রজত চক্রবর্তী

জাতীয় পতাকাটা আজও হাতে ধরে হেঁটে চলেছেন মাতঙ্গিনী হাজরা। উচ্চশির। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, প্রফুল্লনলিনী ব্রহ্ম, কল্পনা দত্ত... নারীশক্তির এক অদম্য জাগরণ দেখেছিল পরাধীন ভারত। মায়েরা, বোনেরা পথে নেমে-না নেমে অংশ নিয়েছিলেন বিপ্লবে। তবু এমনই দুই সংগ্রামী শান্তি ঘোষ, সুনীতি চৌধুরির জন্মশতবর্ষ চলে গেল নীরবে...।
বিশদ

13th  August, 2017
একনজরে
 বাংলা নিউজ এজেন্সি: মহাপঞ্চমীতে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও আরামবাগে বহু পুজোর উদ্বোধন হয়ে গেল। এদিন বিকাল থেকেই জেলার মণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের ঢল নামতে শুরু করে। তবে, এদিনও কয়েকটি পুজোর প্যান্ডেলে শিল্পীদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারতে দেখা যায়। ...

 বিএনএ, বারাকপুর: দলের এক সময়ের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মুকুল রায় সোমবার সাংবাদিক সম্মেলন করে কার্যত তৃণমূল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন। স্বাভাবিকভাবে তাঁর পুত্র বীজপুরের তৃণমূল বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে দলের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ...

অভিজিৎ সরকার  শিলিগুড়ি, ২৫ সেপ্টেম্বর: রবিবার লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরই রাতে টিম হোটেলে কেক কেটে সেলিব্রেশন করেছেন ইস্ট বেঙ্গল ফুটবলাররা। মঙ্গলবার সকালে ক্লাব তাঁবুতে ...

বিএনএ, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা দার্জিলিং: সোমবার দার্জিলিংয়ের লালকুঠিতে জিটিএ’র প্রশাসক পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসাবে কাজে যোগ দিলেন মোর্চা নেতা বিনয় তামাং। সোমবার আধিকারিকদের নিয়ে প্রথম বৈঠকেই ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

গুপ্ত শত্রুতা বৃদ্ধি। কর্মে উন্নতি। ব্যবসায় অতিরিক্ত সতর্কতার প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষায় সাফল্য। শরীর-স্বাস্থ্য ভালো যাবে।প্রতিকার: বট ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮২০: মনীষী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্ম
১৯২৩: অভিনেতা দেব আনন্দের জন্ম
১৯৩২: ভারতের চতুর্দশ প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের জন্ম
১৯৭৭: নৃত্যশিল্পী উদয়শংকরের মৃত্যু
১৯৮৯: সঙ্গীতশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.০১ টাকা ৬৫.৬৯ টাকা
পাউন্ড ৮৬.২৫ টাকা ৮৯.১৭ টাকা
ইউরো ৭৬.০১ টাকা ৭৮.৬৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,২৫৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৭০৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,১৩৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৯ আশ্বিন, ২৬ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী, নক্ষত্র-অনুরাধা দং ৩/৫১ দিবা ঘ ৭/৩, সূ উ ৫/৩০/২, অ ৫/২৬/১২, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/১৭ মধ্যে পুনঃ ৭/৫ গতে ১১/৪ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/৪৯ গতে ৮/৩৯ মধ্যে পুনঃ ৯/২৭ গতে ১১/৫২ মধ্যে পুনঃ ১/২৯ গতে ৩/৬ মধ্যে পুনঃ ৪/৪১ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৬/৫৯ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৮ গতে ২/২৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৫৯ গতে ৮/২৮ মধ্যে।
৯ আশ্বিন, ২৬ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী, অনুরাধানক্ষত্র ৭/৯/৪, সূ উ ৫/২৮/৩৬, অ ৫/২৭/১৩, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৬/৩০, ৭/৪/২৫-১১/৩/৫৭, রাত্রি ৭/৫১/৩০-৮/৩৯/৩৫, ৯/২৭/৪১-১১/৫১/৫৭, ১/২৮/৮-৩/৪/১৯, ৪/৪০/৩০-৫/২৮/৫৬, বারবেলা ৬/৫৭/২৬-৮/২৮/১৫, কালবেলা ১২/৫৭/৪৪-২/২৭/৩৪, কালরাত্রি ৬/৫৭/২৩-৮/২৭/৩৪।
 ৫ মহরম

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ভিড়ের জেরে আজও বাড়ানো হল রাতের শেষ মেট্রোর সময় 
ষষ্ঠীর রাতে কলকাতা শহরে জনজোয়ারের জেরে এদিনও রাতের ...বিশদ

09:42:56 PM

সল্টলেকের ইসি ব্লকের কাছে অটো উলটে চালক-সহ জখম ৪

02:37:00 PM

বড়সড় রেল দুর্ঘটনায় হাত থেকে রক্ষা, একই লাইনে চলে এল ৩টি ট্রেন
বড়সড় রেল দুর্ঘটনায় হাত থেকে রক্ষা। এলাহাবাদের কাছে ...বিশদ

01:44:46 PM

গাজিয়াবাদে ব্যবসায়ীকে খুন, মৃতের নাম রাজেন্দ্র আগরওয়াল (৭৫)

01:24:00 PM

আজ দিল্লি আদালতে দুপুর ২টো নাগাদ হানিপ্রীতের আগাম জামিনের শুনানি

01:19:00 PM

দার্জিলিংয়ে খুলল অধিকাংশ দোকানপাট

01:08:00 PM

ঝাড়গ্রামে ২টি বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি
সোমবার রাতে ঝাড়গ্রাম শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বামদা এলাকায় চুরির ...বিশদ

01:01:00 PM