প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

আগুনের সঙ্গে লড়াই 

‘পদ্মশ্রী’ বিপিন গণোত্রা: আগুনে বড় ভয় ছিল দাদার। নিজে তো দূরে থাকতেনই, আমাদেরও সবসময় সাবধান করতেন। দাদার মতো নির্বিবাদী লোক খুব বেশি দেখিনি। খেরু প্লেসে মোটর পার্টসের একটা দোকান ছিল। দোকান, আর বাড়ি... এই ছিল দাদার রুটিন। সেটা ছিল কালীপুজোর রাত। মোটর পার্টসের যাবতীয় পুরানো সরঞ্জাম বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন দাদা। পরিষ্কার করছিলেন কেরোসিন তেল দিয়ে। সেই সময় বাইরে থেকে একটা বাজি এসে পড়েছিল দাদার সামনে। মুহূর্তের মধ্যে ঝলসে গিয়েছিল গোটা শরীরটা। তখন আমি উলুবেড়িয়ায় একটি কাজে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে জানতে পারি। খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন বাবা। ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া সত্ত্বেও হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারেননি। আমি এসে দাদাকে বড়তলায় একটি নার্সিংহোমে ভরতি করাই। দিল্লি থেকে দামি ওষুধ আনানোর ব্যবস্থাও করি। কিন্তু পারিনি। চোখের সামনে এক মাস ধরে দাদা নরেন্দ্র গণোত্রাকে যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখেছিলাম। মরতে দেখেছিলাম। ওই একটা ঘটনা আমার জীবনটাকে আমূল বদলে দিয়েছিল। একটা মাত্র শব্দ... আগুন।
আগুনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে কবে যে জীবনটাকে বদলে ফেলেছি, বুঝতে পারিনি। মাত্র ৪২ বছর বয়স ছিল দাদার। আজও ঘটনাটা মনে পড়লে চোখের জল আটকাতে পারি না। ভুলতেও পারি না। সেদিনই মনে মনে শপথ নিয়েছিলাম, যতদূর সাধ্য লড়ে যাব। কাউকে এভাবে মরতে দেব না। আজ থেকে ৩৫ বছর আগে...।
আমি সাধারণ মানুষ। চালচুলো নেই। বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম সারানোর সামান্য একটা কাজ করি। আর সেই কাজ করতে করতেই দিনভর টিভিতে খবর দেখি। আগুন লাগার খবর দেখলেই সবার আগে ফোন করি দমকলের কন্ট্রোল রুমে। যদি জানতে পারি শহরে হয়েছে, তাহলে বেরিয়ে পড়ি। ট্যাক্সি-বাস ধরে পৌঁছে যাই ঘটনাস্থলে। নেমে পড়ি দমকল কর্মীদের সঙ্গে আগুন নেভাতে। আজ পর্যন্ত এই কাজে কখনও নিজের কথা ভাবিনি। আগামীদিনেও ভাবব না। আসলে কী জানেন, ঝুঁকি নেওয়া এখন আমার নেশা হয়ে গিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা হোক বা বাড়ি ভেঙে পড়া, নিজেকে ধরে রাখতে পারি না। ঝাঁপিয়ে পড়ি। আমি হয়তো দমকল কর্মীদের মতো প্রশিক্ষিত নই, কিন্তু দীর্ঘ তিন দশকের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, খাতায়-কলমে না হলেও অনেকের থেকে আমি এই বিপর্যয় মোকাবিলা করতে বেশি দক্ষ। বারবার ঝাঁপিয়ে পড়াই আমাকে এভাবে তৈরি করে দিয়েছে।
একটা ঘটনার কথা মনে পড়ছে। যতদূর সম্ভব নয়ের দশকের কথা। একদিন ভোরে হাওড়া ব্রিজের উপরে একটি বিখ্যাত পেট্রলিয়াম সংস্থার ট্যাঙ্কার উলটে গিয়ে লিক হয়ে যায়। গ্যাস বেরতে থাকে সেই ট্যাঙ্কার থেকে। খবর পেয়ে ওই সংস্থার কর্তারা ছুটে আসেন। চলে আসে দমকল আর পুলিশের বিশাল বাহিনীও। হাওড়া ব্রিজের একটা অংশ খালি করে দেওয়া হয়। আশঙ্কা তখন একটাই, বিরাট বিস্ফোরণ না হয়। কোম্পানির কর্তারা বলেই দিয়েছিলেন, কোনওভাবেই ট্যাঙ্কারটাকে খুব বেশি নড়াচড়া করা যাবে না। সঙ্গে সঙ্গে খবর যায় মেট্রো রেলে... ক্রেন নিয়ে আসার জন্য। আমিও খবরটা শুনেই পৌঁছে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখলাম, সবাই রীতিমতো চিন্তায়। দমকল কর্মীদের সঙ্গে বেশ কয়েকটা জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সামলে আমারও মুখটা চেনা হয়ে গিয়েছিল। ট্যাঙ্কারে কোথায় ফুটো হয়েছে, আমিও দমকল কর্মীদের সঙ্গে গিয়ে দেখতে থাকলাম। হঠাৎই একটা বুদ্ধি খেলে গেল। ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে মাটি জোগাড় করলাম। যা দেখে অনেক দমকল কর্মীই জিজ্ঞাসা করলেন, কী করছি আমি? এমনকী, অনেকেই বললেন, এমন কিছু না করতে, যাতে ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ হয়। বললাম, আমার উপর একটু ভরসা রাখুন। এরপর আমি গিয়ে সেই মাটি ট্যাঙ্কারের ক্ষতে ভালো করে সেঁটে দিলাম। সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস লিক হওয়া বন্ধ হয়ে গেল। ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছিলাম। আর তাতে সফলও হয়েছিলাম। যা দেখে ওই পেট্রলিয়াম সংস্থার কর্তারাও বাহবা দেন। দমকলের কর্তারাও আমার পিঠ চাপড়ে দিয়েছিলেন।
দিনের পর দিন এই কাজ করে গিয়েছি। আর সত্যি বলছি, এর থেকে বেশি কিছুই চাইনি। সেবা করে যাওয়াই আমার জীবনের প্রথম ও অন্তিম কর্তব্য। কয়েক দশক হয়ে গেল, মধ্য কলকাতার এই দেবেন্দ্র মল্লিক স্ট্রিটের বাড়িতে থাকি। এখানকার অলি-গলির মানুষ আমাকে এক নামে চেনেন। এর থেকে বড় সম্মানের আর কী রয়েছে, বলতে পারেন! তবে এই কাজে নেমে অনেক বিচিত্র অভিজ্ঞতার মুখেও পড়েছি। যা দেখে নিজেকে মানুষ ভেবে ঘৃণা হয়েছে। এমনই একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি। স্টিফেন কোর্টের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। তবে এই প্রসঙ্গ বলার আগে বলি, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার আগে স্ট্র্যান্ড রোডে একটি বিশাল গুদাম ঘরে ভয়াবহ আগুন লেগে তা ভেঙে পড়ে। দমকল কর্মীদের সঙ্গে সেই আগুন নেভাতে গিয়ে আমি গুদামঘরের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে চাপা পড়েছিলাম। প্রায় দু’ঘণ্টা... জ্ঞান ছিল না আমার। মাথায় বড় আঘাত লেগেছিল। খোঁজাখুঁজি করতে করতে দমকল কর্মীরাই আমাকে শেষে উদ্ধার করেন। কিছুদিন উঠতে পর্যন্ত পারিনি। এবার আসি স্টিফেন কোর্ট অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়। আমি আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগাতেই দমকল কর্তারা আমায় বললেন, ‘বিপিন, বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে এসেছিস। এখানে কাজ করার দরকার নেই। নইলে তোকে আবার উদ্ধার করতে হবে।’ আমি নাছোড়বান্দা। অন্য বিল্ডিং থেকে ল্যাডার দিয়ে চারতলায় উঠে গেলাম। দেখলাম, ওই আবাসনের পাঁচতলার একটা ঘরের জানালা থেকে দু’জন নিজেকে বাঁচাতে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। চিৎকার শুরু করলাম। বারবার বললাম, ‘একটু অপেক্ষা করুন। ল্যাডার আসছে, আপনাদের নামিয়ে নেব।’ কত করে বললাম... সাবধান করলাম... কিন্তু আগুনের ভয়ে তাঁরা শুনলেন না। ঝাঁপ দিলেন সেই জানালা থেকে। তাও শেষ রক্ষা হল না। চোখের সামনে দু’জনকে ওইভাবে মরতে দেখে ভেঙে পড়েছিলাম। ওই চারতলাতেই কেমন যেন স্থবিরের মতো দাঁড়িয়ে দেখছিলাম... নীচে পড়ে রয়েছে দু’জন। নিথর। দমকল কর্মীদের চেঁচামেচিতে সম্বিত ফিরেছিল। কোনওমতে নীচে নেমে এসেছিলাম। দমকলের কর্তারাই বলেছিলেন, আমি যেন নীচেই দাঁড়িয়ে থাকি। কিন্তু তাঁরা বুঝেছিলেন, দাঁড়িয়ে থাকার লোক আমি নই। কোনও বারণ থামাতে পারেনি আমায়। স্টিফেন কোর্টের পাশের বাঁশের ভারা বেয়ে উঠে গিয়েছিলাম... আরও একবার। চারতলায় ঢুকে দমকল কর্মীদের সঙ্গে কাজ করতে করতে আচমকাই নজরে এল, লিফটের পাশে সিঁড়ির কোণে বস্তার মতো কী সব পড়ে রয়েছে। অন্ধকার এবং ধোঁয়ায় খুব ভালো করে দেখা যাচ্ছিল না। একটা টর্চ জোগাড় করে আলো ফেলতেই দেখলাম, ১২টা নিথর দেহ ওই সিঁড়ির উপর পড়ে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে ডাকলাম আমার দমকলের বন্ধুদের। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা কলকাতা পুলিশ ও দমকল কর্তাদের কাছেও খবর গেল। আমাকে বলা হয়েছিল, ধীরে ধীরে সেই দেহগুলি নামিয়ে আনার জন্য। আমিও অন্য দমকল কর্মীদের সঙ্গে সেগুলি নামিয়ে আনি। ইতিমধ্যেই এমন একটা ঘটনা ঘটল, যাতে ধনী সমাজের মানুষের প্রতি আমার শ্রদ্ধা এক হেঁচকায় মাটিতে নামিয়ে আনল।
দেখলাম একজন চল্লিশ ছুঁইছুঁই ব্যক্তি দমকল কর্তাদের কাছে এসে কাকুতি-মিনতি করতে শুরু করেছেন... ‘পাঁচতলায় আমার ঘরে ঠাকুর রয়েছে। ওটা আমার বাবা-মায়ের শেষ স্মৃতি। আমাকে যেতে দিন... নামিয়ে আনব।’ তখন দাউ দাউ করে জ্বলছে গোটা পাঁচতলা। যেতে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ভদ্রলোক প্রায় কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছিলেন। যা দেখে এক দমকল কর্তা আমায় বললেন, ‘বিপিন, তুমি ওঁকে সাবধানে নিয়ে যাও। পুরো দায়িত্ব তোমার উপর। ওঁর যেন গায়ে আগুনের আঁচ না লাগে।’ সেই শুনে আমি তাঁকে উপরে নিয়ে গেলাম। ওই ঘরে ঢুকতেই দেখি দু’জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধার পুড়ে তাল হয়ে যাওয়া দেহ পড়ে রয়েছে। ঠাকুরের সিংহাসনও প্রায় জ্বলে গিয়েছে। কিন্তু ভদ্রলোক ওই দিকেই গেলেনই না। তিনি আলমারি খুলে সিন্দুক বের করলেন। এবং সেটা খুলতেই দেখা গেল, প্রায় ১৫০’র উপরে সোনার বিস্কুট। প্রায় ৫০ কেজি ওজন সিন্দুকটার। আমি কিছু বলতে যাব, তার আগেই ওই ব্যক্তি বললেন, ‘সব নিয়েছি। এবার চলুন। বেশিক্ষণ থাকলে পুড়ে যাব বাব-মায়ের মতো।’ বলেই দ্রুত তিনি বেরিয়ে গেলেন। স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। মিথ্যা কথা বলে যে তিনি উপরে এসেছিলেন, তা বুঝতে বাকি ছিল না। বাবা-মায়ের থেকে ভদ্রলোকের কাছে সোনার বিস্কুট বেশি দামি! পরে ওই দুই বৃদ্ধ-বৃদ্ধার দেহ নীচে নামিয়ে এনেও ‘সুপুত্রে’র দেখা পেলাম না।
আগুনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে কখন যে জীবনের এতগুলো বছর কাটিয়ে দিয়েছি, খেয়ালই করিনি। আগে দিদিরা বলতেন। এখন তাও বলেন না। বুঝে গিয়েছেন, এই আগুনের সঙ্গে লড়াই করতে করতেই হয়তো কোনওদিন মৃত্যু টেনে নেবে আমাকে। কিন্তু তাও শেষ দিন পর্যন্ত আমি মানুষের জন্য কাজ করে যাব। আসলে কী জানেন তো, জীবনে অনেক কষ্ট পেয়েছি। ভালোবাসা, অভিমান দেখেছি। আবার দুঃখের সময় নিজের মানুষের পাশে না থাকার কষ্টও কাঁধে নিয়ে বয়েছি। এখন শুধু ভাবি, এমন কষ্ট যেন কাউকে না পেতে হয়। যেখানেই শুনি, চেষ্টা করি ঝাঁপিয়ে পড়ার। শুধু টাকা নিয়ে বেঁচে থাকা যায় না। প্রয়োজন ভলোবাসার। পাশে থাকার।
এই ভালোবাসার কথাই যখন উঠল, তখন আর একটা অভিজ্ঞতা বলি। দেড় দশক আগে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে টেলিফোন এক্সচেঞ্জে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। সেই সময় বিএসএনএলের বড় বড় কর্তা দিল্লি থেকে এসেছেন। দমকল কর্মীদের সঙ্গে সাধারণ পোশাক পরে আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ি। ওই এক্সচেঞ্জ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি বের করে নিয়ে আসি। যা দেখে দিল্লির ওই কর্তারা আমায় ডেকে বলেন, ‘আপনি কি দমকল দপ্তরের কর্মী?’ আমি বলি, না। শুনেই তাঁরা জিজ্ঞাসা করেন, ‘তাহলে এভাবে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই কেন? কোথা থেকে এই প্রশিক্ষণ পেলেন?’ আমি কিছু বলার আগে দমকলের কর্তারা তাঁদের ডেকে আমার সম্পর্কে বলেন। শুনে তাঁরা খুব খুশি হন। এর কয়েক সপ্তাহ পরে আমাকে দক্ষিণ কলকাতার একটি সভাগৃহে বিএসএনএলের তরফে সম্মানিত করেন। চাকরিও অফার করা হয়। কিন্তু আমি চাকরি নিইনি। কারণ, ওটা আমার কাজ নয়। আমার কাজ এভাবে লড়াই করা। তবে এর থেকে সম্মানের যে জিনিসটি পেয়েছিলাম, তা ছিল দমকল দপ্তরের তৎকালীন ডেপুটি অধিকর্তা দেবপ্রিয় বিশ্বাসের নিজের ইউনিফর্মটি। আমার কাজ দেখে ওই কর্তা তাঁর নিজের ইউনিফর্মটি দিয়েছিলেন। যা আমি সযত্নে আজও রেখে দিয়েছি। এমনকী, আগুন নেভাতে গিয়ে আমি অনেক সময় সেটা পরেও যাই। আবার আমি যে হেলমেটটা পরি, তারও একটি ইতিহাস রয়েছে। বছর দশেক আগে ওরিয়েন্টাল রো’তে আগুন লেগেছিল। যেখানে কাজ করতে গিয়ে আমার মাথায় সামান্য আঘাত লাগে। একজন মহিলা সাংবাদিক দেখেছিলেন সেটা। এরপর ক’দিন পরেই এমজি রোডের লুধিয়ানা মার্কেটে আগুন লাগে। সেখানেও আমি যাই। ঘটনাটা কভার করতে ওই মহিলা সাংবাদিকও আসেন। ওই ঘটনায় আমার চুল সামান্য পুড়ে গিয়েছিল। যা দেখে ওই সাংবাদিক তৎকালীন দমকল অধিকর্তাকে বলেছিলেন, একজন সাধারণ মানুষ প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আপনাদের পাশে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেন। তাঁর নিরাপত্তার জন্য কী করেছেন? একটা তো হেলমেট তো দিতে পারেন! যা শুনে দমকল অধিকর্তা পরদিনই আমাকে দমকল দপ্তরের সদর দপ্তরে ডেকে পাঠান এবং আমাকে একটা হেলমেট দেন। বলেন, ‘এবার থেকে এটা পরেই আপনি কাজ করবেন। না পরে এলে কিন্তু কাজ করতে দেওয়া হবে না।’ তারপর থেকে যখনই কোনও ঘটনায় গিয়েছি, ওই হেলমেটটা আমার মাথায় ছিল।
তবে জীবনের সব অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, মরতে বা আগুনকে আমার ভয় লাগে না। ভয় লাগে মানুষের ভালোবাসা ও স্বীকৃতিকে। ভালোবাসা হচ্ছে শেয়ার মার্কেটের মতো। এখন ভালোবাসার চূড়ায় আছি। কিন্তু যখন সেই চূড়া থেকে মাটিতে ফেলবে, সেখান থেকে ওঠার ক্ষমতা থাকবে না। তাই আমার শুধু একটাই নীতি, চুপিসাড়ে কাজ করে যাও। আগুনের হাত থেকে মানুষকে বাঁচানোই আসল লক্ষ্য। আর সেটাই করে যাব।
 গ্রাফিক্স: সোমনাথ পাল
 সহযোগিতায়: স্বাগত মুখোপাধ্যায়  
02nd  April, 2017
খাতা দেখা 

বসন্ত কড়া নাড়লেই বুঝতে হবে মা-উমা খুব দূরে নেই। অর্থাৎ মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক। ভাবা যায়, একটা রাজ্যে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ লক্ষের বেশি? আর এই দুই পরীক্ষা শেষ হতেই রাজ্যের আনাচে কানাচে হাজার হাজার স্কুল টিচারের গৃহকোণে শুরু হয়ে যায় কুটির শিল্প—খাতা দেখা।
বিশদ

28th  May, 2017
র‌্যানসামওয়্যার এবং বিটকয়েন 

দেবজ্যোতি রায়: ‘এত দ্রুতগতিতে প্রযুক্তির উন্নতি ঘটছে যে এই আগ্রাসন গোটা মানবজাতিকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। বংশপরম্পরাকে রক্ষা করতে গেলে যুক্তি ও কারণ দিয়ে এতে লাগাম দিতে হবে।’ প্রযুক্তির রকেটসম অগ্রগতি নিয়ে সম্প্রতি এক সেমিনারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন পৃথিবীখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিনস। এর জন্য বিভিন্ন দেশের সরকারকে এগিয়ে আসার আরজিও জানিয়েছিলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রফেসর তথা পদার্থবিদ।
বিশদ

21st  May, 2017
আবাসন আইন 

১ মে দেশজুড়ে চালু হয়েছে আবাসন সংক্রান্ত আইন ‘দি রিয়েল এস্টেট (রেগুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) অ্যাক্ট। চলতি কথায় ‘রেরা’। কেন্দ্রীয় আইনটির উপর ভিত্তি করে রাজ্যগুলির নিজস্ব বিধি রা রুল তৈরি করার কথা। কী পরিস্থিতি রয়েছে এই আইন নিয়ে? আইনটির সুবিধাগুলিই বা কী কী? দেখে নেওয়া যাক আইনের খুঁটিনাটিগুলি। 
বিশদ

14th  May, 2017
বাহুবলীর নেপথ্যে

যাবতীয় রেকর্ড ভেঙে সদর্পে ছুটে চলেছে বাহুবলীর বিজয়রথ। প্রথম দিনের কালেকশনই ছিল প্রায় ১২২ কোটি। লাইট, ক্যামেরা, সাউন্ড, অ্যাকশন এবং ভিস্যুয়াল এফেক্ট। ছবির অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে কিন্তু রয়েছে আরও অনেক কিছু। বিশদ

07th  May, 2017
রিকশ থেকে টোটো

বাজারের থলে হাতে নিয়ে খেঁাজ পড়ে তার। সন্তান হঠাৎ জ্বরে পড়লেও ডাক্তারখানা যেতে যে সেই ভরসা। বাহক থেকে চালক হওয়ার দীর্ঘ সফরে রিকশ চিরকাল সঙ্গী মধ্য ও নিম্নবিত্তের। কালের বিবর্তনে তার আগে ‘ই’ স্বরবর্ণ জুড়েছে। তবু এই টোটোর আমলে সুর কাটেনি রিকশ রোমান্টিকতার
বিশদ

30th  April, 2017
খাঁসাহেব 

সমৃদ্ধ দত্ত: মার্চ মাসের সকাল সাড়ে ১০টা এমনিতে দিল্লিতে বেশ আরামদায়ক ওয়েদার। সেদিন ৫ মার্চ আবার বেশ ঠান্ডা হাওয়াও ছিল। ইন্ডিয়ান হ্যাবিট্যাট সেন্টারে আয়ান আলি বাঙ্গাশ আসনে বসেই গুরুগম্ভীর আবহটি কাটিয়ে বেশ হালকা মুড নিয়ে এলেন। একটু আগে ঘোষিকা সিরিয়াস ভঙ্গিতে শ্রোতৃমণ্ডলীকে বলেছেন, সরোদ বাদনের মাঝখানে করতালি না দেওয়াই শ্রেয়। 
বিশদ

23rd  April, 2017
 স্মৃতির রেলপথে

 ওই রেললাইন দিয়ে আরও একবার ট্রেন ছুটবে। শিয়ালদহ থেকে ছেড়ে পৌঁছে যাবে খুলনা। ওই রেলরুটে আরও একবার মিলবে দুই বাংলা। যা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল স্বাধীনতার আগে। সেই স্মৃতির পথেই আজ ফিরে দেখা।
বিশদ

16th  April, 2017
 অপেক্ষায়

 উদ্দালক ভট্টাচার্য: এ যে ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি। এ প্রজন্মের ক’জন আর দেখেছে এই ট্রেনকে? জন্ম থেকে হয় বাপ-ঠাকুরদার মুখে শোনা, কিংবা চোখে দেখা ওই রেললাইনটা। স্মৃতির আঁচ উসকে হঠাৎ এল খবর, আবার জুড়তে চলেছে ভারত-বাংলাদেশ। ওই রেললাইনের মাধ্যমেই। আবার শিয়ালদহ থেকে রেল ছুটবে... পৌঁছে যাবে খুলনা পর্যন্ত। অনেকের মতো ওই ব্যক্তির পরিবারও একদিন দেশভাগের আবহে ছিন্নমূল হয়ে উঠে এসেছিল এপারে।
বিশদ

16th  April, 2017
মিথভঙ্গ? 

পদবি কি তার ধার ও ভার দুই-ই হারাচ্ছে? মোদি জমানায় আজ এই চরম প্রশ্নের মুখে কংগ্রেস। আর স্পষ্ট করে বলতে গেলে গান্ধী ও নেহরু পরিবার। সৌজন্যে রাহুল গান্ধী। কেন এখনও আসরে নেই প্রিয়াঙ্কা? তিনিও নিছক রূপকথা নন তো? 
বিশদ

09th  April, 2017
অগ্নীশ্বরের সন্ধানে 

সুপ্রিয় নায়েক: ডাক্তারির ফাইনাল পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে ছেলেটি। মেডিকেল কলেজের কমন রুমে সে নিয়ে জোর আলোচনা। অথচ ছেলেটিরই দেখা নেই। পাশ করার খবর পেয়েই সে চলে গিয়েছে গ্রামের বাড়িতে।
বিশদ

26th  March, 2017



একনজরে
নয়াদিল্লি, ২৯ মে (পিটিআই): সাংবাদিক রাজদেও রঞ্জন হত্যা মামলায় আরজেডি নেতা সাহাবুদ্দিনকে হেপাজতে নিল সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানানো হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাহাবুদ্দিনকে এজেন্সির ...

সিওল, ২৯ মে: তিন সপ্তাহের মধ্যে ফের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া। জাপানের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলে আছড়ে পড়েছে। স্কাড মিসাইলটি ৪৫০ কিলোমিটার আকাশপথ ...

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ময়ূরেশ্বরের বড়তুড়িগ্রামে তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় নয়া মোড়। শুধুমাত্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই নয়, খুনের পিছনে কাজ করেছে পুরানো আক্রোশও। ধৃতদের জেরা করে এমনটাই পুলিশ জানতে পেরেছে। উল্লেখ্য, শনিবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে আসগর আলি নামে ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফরেনসিক রিপোর্ট তৈরির শ্লথতা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে বিস্তর। আর সেকারণেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত ফরেনসিক রিপোর্ট তৈরির জন্য এক বছর আগে পুলিশকে দেওয়া হয়েছিল চারটি গাড়ি। এই গাড়িগুলি ফরেনসিক রিপোর্ট তৈরির উপযোগী যাবতীয় পরিকাঠামোয় সজ্জিত। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যাবসাসূত্রে উপার্জন বৃদ্ধি। বিদ্যায় মানসিক চঞ্চলতা বাধার কারণ হতে পারে। গুরুজনদের শরীর স্বাস্থ্য ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৪৪: ইংরেজ লেখক আলেক্সজান্ডার পোপের মৃত্যু
১৭৭৮: ফ্রান্সের লেখক এবং দার্শনিক ভলতেয়ারের মৃত্যু
১৯১২: বিমান আবিষ্কারক উইলবার রাইটের মৃত্যু
১৯১৯: জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নাইট’ উপাধি ত্যাগ
১৯৪৫: অভিনেতা ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫০: অভিনেতা পরেশ রাওয়ালের জন্ম
২০১৩: চিত্র পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের মৃত্যু




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৭০ টাকা ৬৫.৩৮ টাকা
পাউন্ড ৮১.৩৮ টাকা ৮৪.১৮ টাকা
ইউরো ৭০.৮৭ টাকা ৭৩.২৩ টাকা
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,৩৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৮৪০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,২৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৩০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৪০০ টাকা

দিন পঞ্জিকা

 ১৬ জ্যৈষ্ঠ, ৩০ মে, মঙ্গলবার, পঞ্চমী দিবা ৮/৪৭, পুষ্যানক্ষত্র দিবা ১১/৫৭, সূ উ ৪/৫৫/৪৯, অ ৬/১২/১৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৪ পুনঃ ৯/২১-১২/০ পুনঃ ৩/৩১-৪/২৫, বারবেলা ৬/৩৬-৮/১৫ পুনঃ ১/১৩-২/৫৩, কালরাত্রি ৭/৩২-৮/৫৩।
১৫ জ্যৈষ্ঠ, ৩০ মে, মঙ্গলবার, পঞ্চমী ২/১৯/৫, পুষ্যানক্ষত্র অপরাহ্ণ ৫/২৮/৪৩, সূ উ ৪/৫৪/৪৫, অ ৬/১২/৩৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৪/১৯, ৯/২০/৪২-১২/০/১৬, ৩/৩৩/২-৪/২৬/১৩ রাত্রি ৬/৫৫/২৫, ১১/৫৫/৫-২/৩/৩১, বারবেলা ৬/৩৪/২৯-৮/১৪/১৩, কালবেলা ১/১৩/২৪-২/৫৩/৮, কালরাত্রি ৭/৩২/৫২-৮/৫৩/৮।
৩ রমজান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
চিকিৎসক হতে চায় উচ্চ মাধ্যমিকে অষ্টম স্থানে থাকা পূর্ব মেদিনীপুরের বৈদুর্য্য নায়ক 

11:05:00 AM

পদার্থবিদ্যা নিয়ে গবেষণার ইচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম অর্চিষ্মান পাণিগ্রাহীর 
চিকিৎসক বা ইঞ্জিনিয়ার নয়। গবেষক হতে চায় এবছর উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম স্থান অধিকারি হুগলি কলেজিয়েট স্কুলের অর্চিষ্মান পাণিগ্রাহী। পদার্থবিদ্যা নিয়ে গবেষণা করার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর। ২০১৫ সালে মাধ্যমিকে দ্বিতীয় হয়েছিল অর্চিষ্মান। উচ্চ মাধ্যমিকে তার থেকেও ভালো ফল করায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি সে। 

11:04:50 AM

চিকিৎসক হতে চায় উচ্চ মাধ্যমিকে তৃতীয় বাঁকুড়া জেলা স্কুলের সুরজিৎ লোহার 

10:54:51 AM

উচ্চ মাধ্যমিকে তৃতীয় (৯৭.৮%) শুভম সিংহ ও সুরজিৎ লোহার (বাঁকুড়া জেলা স্কুল) 

10:49:32 AM

উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম অর্চিষ্মাণ পানিগ্রাহি ( হুগলি কলেজিয়েট স্কুল) 

10:45:00 AM

উচ্চ মাধ্যমিকে দ্বিতীয় (৯৮.৪%) ময়াঙ্ক চট্টোপাধ্যায় (মাহেশ শ্রীরামকৃষ্ণ বিদ্যাভবন), উপমন্যু চক্রবর্তী (নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন) 

10:39:06 AM






বিশেষ নিবন্ধ
এবারই প্রথম নয়, ’৯৯-এ কারগিল যুদ্ধেও পাক সেনারা নৃশংসতার নজির রেখেছিল
সীমান্তরক্ষায় অনেকদিন কাটানো পোড়খাওয়া এক ক্যাপ্টেন একদিন দার্শনিকের ঢঙে বললেন, আমরা এটুকুই বুঝি—যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন মানে ...
 লালবাজার অভিযান: মমতার চালে বিজেপি মাত!
শুভা দত্ত: সিপিএমের নবান্ন অভিযানের ধাঁচে লালবাজার অভিযান করে রাজ্যবাসীকে চমকে দিতে চেয়েছিল রাজ্য বিজেপি। ...
 হুট বলতে ফুট কাটার অসুখ
 সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: আমার এক বন্ধু প্রায়ই ভারী অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলে। যেমন, জ্বর-জ্বালা, বুক ধড়ফড়ানি, ...
নদী তুমি কার
বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়: ১৯৪৭ সালে দ্বিখণ্ডিত স্বাধীনতা কেবলমাত্র মানুষকে ভাগ করেনি, প্রাকৃতিক সম্পদেও ভাঙনের সাতকাহন সূচিত ...
চীন, পাকিস্তান বেজিংয়ে ফাঁকা মাঠ পেয়ে গেল ভারতের কূটনৈতিক ভুলের কারণে
কুমারেশ চক্রবর্তী: মাত্র কিছু দিন আগে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা আইসিসি’র এক ভোটে ৯-১ ভোটে ...