প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

আগুনের সঙ্গে লড়াই 

‘পদ্মশ্রী’ বিপিন গণোত্রা: আগুনে বড় ভয় ছিল দাদার। নিজে তো দূরে থাকতেনই, আমাদেরও সবসময় সাবধান করতেন। দাদার মতো নির্বিবাদী লোক খুব বেশি দেখিনি। খেরু প্লেসে মোটর পার্টসের একটা দোকান ছিল। দোকান, আর বাড়ি... এই ছিল দাদার রুটিন। সেটা ছিল কালীপুজোর রাত। মোটর পার্টসের যাবতীয় পুরানো সরঞ্জাম বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন দাদা। পরিষ্কার করছিলেন কেরোসিন তেল দিয়ে। সেই সময় বাইরে থেকে একটা বাজি এসে পড়েছিল দাদার সামনে। মুহূর্তের মধ্যে ঝলসে গিয়েছিল গোটা শরীরটা। তখন আমি উলুবেড়িয়ায় একটি কাজে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে জানতে পারি। খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন বাবা। ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া সত্ত্বেও হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারেননি। আমি এসে দাদাকে বড়তলায় একটি নার্সিংহোমে ভরতি করাই। দিল্লি থেকে দামি ওষুধ আনানোর ব্যবস্থাও করি। কিন্তু পারিনি। চোখের সামনে এক মাস ধরে দাদা নরেন্দ্র গণোত্রাকে যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখেছিলাম। মরতে দেখেছিলাম। ওই একটা ঘটনা আমার জীবনটাকে আমূল বদলে দিয়েছিল। একটা মাত্র শব্দ... আগুন।
আগুনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে কবে যে জীবনটাকে বদলে ফেলেছি, বুঝতে পারিনি। মাত্র ৪২ বছর বয়স ছিল দাদার। আজও ঘটনাটা মনে পড়লে চোখের জল আটকাতে পারি না। ভুলতেও পারি না। সেদিনই মনে মনে শপথ নিয়েছিলাম, যতদূর সাধ্য লড়ে যাব। কাউকে এভাবে মরতে দেব না। আজ থেকে ৩৫ বছর আগে...।
আমি সাধারণ মানুষ। চালচুলো নেই। বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম সারানোর সামান্য একটা কাজ করি। আর সেই কাজ করতে করতেই দিনভর টিভিতে খবর দেখি। আগুন লাগার খবর দেখলেই সবার আগে ফোন করি দমকলের কন্ট্রোল রুমে। যদি জানতে পারি শহরে হয়েছে, তাহলে বেরিয়ে পড়ি। ট্যাক্সি-বাস ধরে পৌঁছে যাই ঘটনাস্থলে। নেমে পড়ি দমকল কর্মীদের সঙ্গে আগুন নেভাতে। আজ পর্যন্ত এই কাজে কখনও নিজের কথা ভাবিনি। আগামীদিনেও ভাবব না। আসলে কী জানেন, ঝুঁকি নেওয়া এখন আমার নেশা হয়ে গিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা হোক বা বাড়ি ভেঙে পড়া, নিজেকে ধরে রাখতে পারি না। ঝাঁপিয়ে পড়ি। আমি হয়তো দমকল কর্মীদের মতো প্রশিক্ষিত নই, কিন্তু দীর্ঘ তিন দশকের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, খাতায়-কলমে না হলেও অনেকের থেকে আমি এই বিপর্যয় মোকাবিলা করতে বেশি দক্ষ। বারবার ঝাঁপিয়ে পড়াই আমাকে এভাবে তৈরি করে দিয়েছে।
একটা ঘটনার কথা মনে পড়ছে। যতদূর সম্ভব নয়ের দশকের কথা। একদিন ভোরে হাওড়া ব্রিজের উপরে একটি বিখ্যাত পেট্রলিয়াম সংস্থার ট্যাঙ্কার উলটে গিয়ে লিক হয়ে যায়। গ্যাস বেরতে থাকে সেই ট্যাঙ্কার থেকে। খবর পেয়ে ওই সংস্থার কর্তারা ছুটে আসেন। চলে আসে দমকল আর পুলিশের বিশাল বাহিনীও। হাওড়া ব্রিজের একটা অংশ খালি করে দেওয়া হয়। আশঙ্কা তখন একটাই, বিরাট বিস্ফোরণ না হয়। কোম্পানির কর্তারা বলেই দিয়েছিলেন, কোনওভাবেই ট্যাঙ্কারটাকে খুব বেশি নড়াচড়া করা যাবে না। সঙ্গে সঙ্গে খবর যায় মেট্রো রেলে... ক্রেন নিয়ে আসার জন্য। আমিও খবরটা শুনেই পৌঁছে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখলাম, সবাই রীতিমতো চিন্তায়। দমকল কর্মীদের সঙ্গে বেশ কয়েকটা জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সামলে আমারও মুখটা চেনা হয়ে গিয়েছিল। ট্যাঙ্কারে কোথায় ফুটো হয়েছে, আমিও দমকল কর্মীদের সঙ্গে গিয়ে দেখতে থাকলাম। হঠাৎই একটা বুদ্ধি খেলে গেল। ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে মাটি জোগাড় করলাম। যা দেখে অনেক দমকল কর্মীই জিজ্ঞাসা করলেন, কী করছি আমি? এমনকী, অনেকেই বললেন, এমন কিছু না করতে, যাতে ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ হয়। বললাম, আমার উপর একটু ভরসা রাখুন। এরপর আমি গিয়ে সেই মাটি ট্যাঙ্কারের ক্ষতে ভালো করে সেঁটে দিলাম। সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস লিক হওয়া বন্ধ হয়ে গেল। ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছিলাম। আর তাতে সফলও হয়েছিলাম। যা দেখে ওই পেট্রলিয়াম সংস্থার কর্তারাও বাহবা দেন। দমকলের কর্তারাও আমার পিঠ চাপড়ে দিয়েছিলেন।
দিনের পর দিন এই কাজ করে গিয়েছি। আর সত্যি বলছি, এর থেকে বেশি কিছুই চাইনি। সেবা করে যাওয়াই আমার জীবনের প্রথম ও অন্তিম কর্তব্য। কয়েক দশক হয়ে গেল, মধ্য কলকাতার এই দেবেন্দ্র মল্লিক স্ট্রিটের বাড়িতে থাকি। এখানকার অলি-গলির মানুষ আমাকে এক নামে চেনেন। এর থেকে বড় সম্মানের আর কী রয়েছে, বলতে পারেন! তবে এই কাজে নেমে অনেক বিচিত্র অভিজ্ঞতার মুখেও পড়েছি। যা দেখে নিজেকে মানুষ ভেবে ঘৃণা হয়েছে। এমনই একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি। স্টিফেন কোর্টের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। তবে এই প্রসঙ্গ বলার আগে বলি, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার আগে স্ট্র্যান্ড রোডে একটি বিশাল গুদাম ঘরে ভয়াবহ আগুন লেগে তা ভেঙে পড়ে। দমকল কর্মীদের সঙ্গে সেই আগুন নেভাতে গিয়ে আমি গুদামঘরের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে চাপা পড়েছিলাম। প্রায় দু’ঘণ্টা... জ্ঞান ছিল না আমার। মাথায় বড় আঘাত লেগেছিল। খোঁজাখুঁজি করতে করতে দমকল কর্মীরাই আমাকে শেষে উদ্ধার করেন। কিছুদিন উঠতে পর্যন্ত পারিনি। এবার আসি স্টিফেন কোর্ট অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়। আমি আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগাতেই দমকল কর্তারা আমায় বললেন, ‘বিপিন, বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে এসেছিস। এখানে কাজ করার দরকার নেই। নইলে তোকে আবার উদ্ধার করতে হবে।’ আমি নাছোড়বান্দা। অন্য বিল্ডিং থেকে ল্যাডার দিয়ে চারতলায় উঠে গেলাম। দেখলাম, ওই আবাসনের পাঁচতলার একটা ঘরের জানালা থেকে দু’জন নিজেকে বাঁচাতে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। চিৎকার শুরু করলাম। বারবার বললাম, ‘একটু অপেক্ষা করুন। ল্যাডার আসছে, আপনাদের নামিয়ে নেব।’ কত করে বললাম... সাবধান করলাম... কিন্তু আগুনের ভয়ে তাঁরা শুনলেন না। ঝাঁপ দিলেন সেই জানালা থেকে। তাও শেষ রক্ষা হল না। চোখের সামনে দু’জনকে ওইভাবে মরতে দেখে ভেঙে পড়েছিলাম। ওই চারতলাতেই কেমন যেন স্থবিরের মতো দাঁড়িয়ে দেখছিলাম... নীচে পড়ে রয়েছে দু’জন। নিথর। দমকল কর্মীদের চেঁচামেচিতে সম্বিত ফিরেছিল। কোনওমতে নীচে নেমে এসেছিলাম। দমকলের কর্তারাই বলেছিলেন, আমি যেন নীচেই দাঁড়িয়ে থাকি। কিন্তু তাঁরা বুঝেছিলেন, দাঁড়িয়ে থাকার লোক আমি নই। কোনও বারণ থামাতে পারেনি আমায়। স্টিফেন কোর্টের পাশের বাঁশের ভারা বেয়ে উঠে গিয়েছিলাম... আরও একবার। চারতলায় ঢুকে দমকল কর্মীদের সঙ্গে কাজ করতে করতে আচমকাই নজরে এল, লিফটের পাশে সিঁড়ির কোণে বস্তার মতো কী সব পড়ে রয়েছে। অন্ধকার এবং ধোঁয়ায় খুব ভালো করে দেখা যাচ্ছিল না। একটা টর্চ জোগাড় করে আলো ফেলতেই দেখলাম, ১২টা নিথর দেহ ওই সিঁড়ির উপর পড়ে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে ডাকলাম আমার দমকলের বন্ধুদের। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা কলকাতা পুলিশ ও দমকল কর্তাদের কাছেও খবর গেল। আমাকে বলা হয়েছিল, ধীরে ধীরে সেই দেহগুলি নামিয়ে আনার জন্য। আমিও অন্য দমকল কর্মীদের সঙ্গে সেগুলি নামিয়ে আনি। ইতিমধ্যেই এমন একটা ঘটনা ঘটল, যাতে ধনী সমাজের মানুষের প্রতি আমার শ্রদ্ধা এক হেঁচকায় মাটিতে নামিয়ে আনল।
দেখলাম একজন চল্লিশ ছুঁইছুঁই ব্যক্তি দমকল কর্তাদের কাছে এসে কাকুতি-মিনতি করতে শুরু করেছেন... ‘পাঁচতলায় আমার ঘরে ঠাকুর রয়েছে। ওটা আমার বাবা-মায়ের শেষ স্মৃতি। আমাকে যেতে দিন... নামিয়ে আনব।’ তখন দাউ দাউ করে জ্বলছে গোটা পাঁচতলা। যেতে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ভদ্রলোক প্রায় কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছিলেন। যা দেখে এক দমকল কর্তা আমায় বললেন, ‘বিপিন, তুমি ওঁকে সাবধানে নিয়ে যাও। পুরো দায়িত্ব তোমার উপর। ওঁর যেন গায়ে আগুনের আঁচ না লাগে।’ সেই শুনে আমি তাঁকে উপরে নিয়ে গেলাম। ওই ঘরে ঢুকতেই দেখি দু’জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধার পুড়ে তাল হয়ে যাওয়া দেহ পড়ে রয়েছে। ঠাকুরের সিংহাসনও প্রায় জ্বলে গিয়েছে। কিন্তু ভদ্রলোক ওই দিকেই গেলেনই না। তিনি আলমারি খুলে সিন্দুক বের করলেন। এবং সেটা খুলতেই দেখা গেল, প্রায় ১৫০’র উপরে সোনার বিস্কুট। প্রায় ৫০ কেজি ওজন সিন্দুকটার। আমি কিছু বলতে যাব, তার আগেই ওই ব্যক্তি বললেন, ‘সব নিয়েছি। এবার চলুন। বেশিক্ষণ থাকলে পুড়ে যাব বাব-মায়ের মতো।’ বলেই দ্রুত তিনি বেরিয়ে গেলেন। স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। মিথ্যা কথা বলে যে তিনি উপরে এসেছিলেন, তা বুঝতে বাকি ছিল না। বাবা-মায়ের থেকে ভদ্রলোকের কাছে সোনার বিস্কুট বেশি দামি! পরে ওই দুই বৃদ্ধ-বৃদ্ধার দেহ নীচে নামিয়ে এনেও ‘সুপুত্রে’র দেখা পেলাম না।
আগুনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে কখন যে জীবনের এতগুলো বছর কাটিয়ে দিয়েছি, খেয়ালই করিনি। আগে দিদিরা বলতেন। এখন তাও বলেন না। বুঝে গিয়েছেন, এই আগুনের সঙ্গে লড়াই করতে করতেই হয়তো কোনওদিন মৃত্যু টেনে নেবে আমাকে। কিন্তু তাও শেষ দিন পর্যন্ত আমি মানুষের জন্য কাজ করে যাব। আসলে কী জানেন তো, জীবনে অনেক কষ্ট পেয়েছি। ভালোবাসা, অভিমান দেখেছি। আবার দুঃখের সময় নিজের মানুষের পাশে না থাকার কষ্টও কাঁধে নিয়ে বয়েছি। এখন শুধু ভাবি, এমন কষ্ট যেন কাউকে না পেতে হয়। যেখানেই শুনি, চেষ্টা করি ঝাঁপিয়ে পড়ার। শুধু টাকা নিয়ে বেঁচে থাকা যায় না। প্রয়োজন ভলোবাসার। পাশে থাকার।
এই ভালোবাসার কথাই যখন উঠল, তখন আর একটা অভিজ্ঞতা বলি। দেড় দশক আগে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে টেলিফোন এক্সচেঞ্জে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। সেই সময় বিএসএনএলের বড় বড় কর্তা দিল্লি থেকে এসেছেন। দমকল কর্মীদের সঙ্গে সাধারণ পোশাক পরে আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ি। ওই এক্সচেঞ্জ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি বের করে নিয়ে আসি। যা দেখে দিল্লির ওই কর্তারা আমায় ডেকে বলেন, ‘আপনি কি দমকল দপ্তরের কর্মী?’ আমি বলি, না। শুনেই তাঁরা জিজ্ঞাসা করেন, ‘তাহলে এভাবে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই কেন? কোথা থেকে এই প্রশিক্ষণ পেলেন?’ আমি কিছু বলার আগে দমকলের কর্তারা তাঁদের ডেকে আমার সম্পর্কে বলেন। শুনে তাঁরা খুব খুশি হন। এর কয়েক সপ্তাহ পরে আমাকে দক্ষিণ কলকাতার একটি সভাগৃহে বিএসএনএলের তরফে সম্মানিত করেন। চাকরিও অফার করা হয়। কিন্তু আমি চাকরি নিইনি। কারণ, ওটা আমার কাজ নয়। আমার কাজ এভাবে লড়াই করা। তবে এর থেকে সম্মানের যে জিনিসটি পেয়েছিলাম, তা ছিল দমকল দপ্তরের তৎকালীন ডেপুটি অধিকর্তা দেবপ্রিয় বিশ্বাসের নিজের ইউনিফর্মটি। আমার কাজ দেখে ওই কর্তা তাঁর নিজের ইউনিফর্মটি দিয়েছিলেন। যা আমি সযত্নে আজও রেখে দিয়েছি। এমনকী, আগুন নেভাতে গিয়ে আমি অনেক সময় সেটা পরেও যাই। আবার আমি যে হেলমেটটা পরি, তারও একটি ইতিহাস রয়েছে। বছর দশেক আগে ওরিয়েন্টাল রো’তে আগুন লেগেছিল। যেখানে কাজ করতে গিয়ে আমার মাথায় সামান্য আঘাত লাগে। একজন মহিলা সাংবাদিক দেখেছিলেন সেটা। এরপর ক’দিন পরেই এমজি রোডের লুধিয়ানা মার্কেটে আগুন লাগে। সেখানেও আমি যাই। ঘটনাটা কভার করতে ওই মহিলা সাংবাদিকও আসেন। ওই ঘটনায় আমার চুল সামান্য পুড়ে গিয়েছিল। যা দেখে ওই সাংবাদিক তৎকালীন দমকল অধিকর্তাকে বলেছিলেন, একজন সাধারণ মানুষ প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আপনাদের পাশে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেন। তাঁর নিরাপত্তার জন্য কী করেছেন? একটা তো হেলমেট তো দিতে পারেন! যা শুনে দমকল অধিকর্তা পরদিনই আমাকে দমকল দপ্তরের সদর দপ্তরে ডেকে পাঠান এবং আমাকে একটা হেলমেট দেন। বলেন, ‘এবার থেকে এটা পরেই আপনি কাজ করবেন। না পরে এলে কিন্তু কাজ করতে দেওয়া হবে না।’ তারপর থেকে যখনই কোনও ঘটনায় গিয়েছি, ওই হেলমেটটা আমার মাথায় ছিল।
তবে জীবনের সব অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, মরতে বা আগুনকে আমার ভয় লাগে না। ভয় লাগে মানুষের ভালোবাসা ও স্বীকৃতিকে। ভালোবাসা হচ্ছে শেয়ার মার্কেটের মতো। এখন ভালোবাসার চূড়ায় আছি। কিন্তু যখন সেই চূড়া থেকে মাটিতে ফেলবে, সেখান থেকে ওঠার ক্ষমতা থাকবে না। তাই আমার শুধু একটাই নীতি, চুপিসাড়ে কাজ করে যাও। আগুনের হাত থেকে মানুষকে বাঁচানোই আসল লক্ষ্য। আর সেটাই করে যাব।
 গ্রাফিক্স: সোমনাথ পাল
 সহযোগিতায়: স্বাগত মুখোপাধ্যায়  
02nd  April, 2017
 অমরনাথের পথে-প্রান্তরে

 দুর্গম অতিক্রম করে, জঙ্গি হামলা-মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে এগিয়ে চলা একবার দর্শনের আশায়। বালতাল হোক বা পহেলগাঁও, যাত্রাপথ যাই হোক না কেন, প্রকৃতি সেখানেই অপার সৌন্দর্য উজাড় করে রেখেছে। বিন্দু বিন্দু জল জমে আকার নিয়েছে শিবলিঙ্গের। আর তাকে ঘিরেই সম্প্রীতির এক অদ্ভূত মিলন উৎসব। সে যে অমরনাথ। বিশদ

খবর শেষ

 আকাশবাণী... খবর পড়ছি...। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমল থেকে শুরু হওয়ার পর বঙ্গজীবনের অঙ্গ হিসাবে জড়িয়ে যাওয়া সেই অভ্যাস হাতছাড়া হয়েছে বহুযুগ আগেই। টিভি, ইন্টারনেট, ফেসবুকের জমানায় যা আজ প্রায় গতজন্মের স্মৃতি বলে মনে হয়। কিন্তু একটা সময় এই তো ছিল বাইরের জানালায় চোখ রাখার জন্য মানুষের একমাত্র দূরবীন! সেই ইভা নাগ, নীলিমা সান্যাল, দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্রেকডাউন, ভুল খবর...। সে এখন নস্টালজিয়া। আজ দিল্লির বেতার খবর যে সত্যিই শেষ!
বিশদ

16th  July, 2017
 বৃষ্টিভেজা

 গ্রীষ্মকালীন এই বঙ্গে বর্ষার আগমন যেন ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার মতো। আকাশকে মুখ ভার করে ঝরে পড়তে দেখলেই মন আনচান করে খিচুড়ি, ইলিশ মাছের জন্য। ঘণ্টাখানেকের বর্ষণে তিলোত্তমা এক হাঁটু জল উপহার দিলেও তা ঠেলে বাড়ি ফেরাই আলাদা আনন্দ। আর গুনগুন করে ওঠা বিশ্বকবির সৃষ্টি। মনে পড়ে যাওয়া অপু-দুর্গার বৃষ্টি ভেজা। কিংবা স্কুলের সেই রেনি ডে। এ ঋতু তাই যে আলাদা আলাদা অনুভূতির এক সম্পৃক্ত দ্রবণ। বিশদ

09th  July, 2017
চিকিৎসা রঙ্গ 

কল্যাণ বসু: ‘পাসকরা ডাক্তার নই, কিন্তু তাতে কি? বাড়ি বসিয়া বই পড়িয়া কি আর ডাক্তারী শেখা যায় না? আজ সাত আট বছর তো ডাক্তারী করিতেছি, অভিজ্ঞতা বলিয়া একটা জিনিসও তো আছে! পাসকরা ডাক্তারের হাতে কি আর রোগী মরে না?’ এইটুকু পড়ে কী মালুম হচ্ছে?
বিশদ

02nd  July, 2017
 বাঙালির রথযাত্রা

হারাধন চৌধুরী: বাঙালি এক আমুদে জাতি। আনন্দের জন্য পরব খুঁজে নিতে বাঙালির জুড়ি মেলা ভার। বাঙালির কাছে দেবতারা কঠিন কঠোর কিছু নন। দেবতারাই হলেন সবচেয়ে আপন বা অতি প্রিয় কেউ, যাঁকে আঁকড়ে ধরে থাকতে না পারলে বাঙালির সব আনন্দ, সব সুখানুভূতি যেন মাটি হয়ে যায়। অতএব একজন না একজন দেবতাকে সামনে রেখেই পার্বণ সাজিয়ে নেয় তারা। সেই থেকেই ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’ কথাটি এসেছে। ‘তেরো’ কথাটি ‘বহু’ অর্থেই প্রযোজ্য হয়। সংস্কৃতি সম্পর্কে এমন যাদের উপলব্ধি, রথযাত্রার মতো একটি পার্বণ বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে তাদের মাতিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। রথযাত্রার মধ্যে মাটি বা ভূমির টানই খুঁজে পায় বাঙালি। বিশদ

25th  June, 2017
দেশভাগের ৭০

সমৃদ্ধ দত্ত: ৭০ বছর আগে কয়েকজন দেশি-বিদেশি প্রতিনিধি ঠিক করে ফেলেছিল ভারতকে ভাগ হতেই হবে। ৭০ বছর আগে এমনই একটা জুন মাসে অবিভক্ত বঙ্গ বিধানসভার শেষ অধিবেশনে বাংলা আর বাঙালির নতুন পথ চলার সূচনা। চিরবিচ্ছেদের বেদনা নিয়ে। সেই ২০ জুন।
লর্ড মাউন্টব্যাটেন নিজের ইমেজ সম্পর্কে এতটাই সচেতন ছিলেন যে, ১৯৪৭ সালের ২২ মার্চ ভারতের ভাইসরয় পদে এসেই সরকারি এবং প্রেস ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি নির্দেশ জারি করে দেন।
বিশদ

18th  June, 2017
রাষ্ট্রপতি ভবনে 

প্রবালকুমার বসু: রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁরই অতিথি হয়ে কাটিয়ে আসা দু’সপ্তাহ। রাজধানীর যানজট, দূষণের বাইরে হঠাৎ এসে পড়া যেন এক অন্য জগতে। মুঘল গার্ডেনসে ফুলের মাঝে কেটে যাওয়া সময়, কিংবা প্রতিটা পাথরে নতুন করে খুঁজে পাওয়া ইতিহাস।
বিশদ

11th  June, 2017
ভূস্বর্গ ভয়ংকর

আজাদ কাশ্মীর। এই অবস্থানেই অনড় ছিলেন মহারাজা হরি সিং। পাকিস্তানের একের পর এক ষড়যন্ত্রে নেহরুর সাহায্য নিতে তিনি বাধ্য হয়েছিলেন। কাশ্মীর জুড়েছিল ভারতের মানচিত্রে। কিন্তু পিছন থেকে ছুরি মারে আমেরিকা, ব্রিটেন। এবং পাকিস্তান। যে ইন্ধন বজায় রেখেছে ইসলামাবাদ। ফল? অশান্ত ভূস্বর্গ...।
বিশদ

04th  June, 2017
খাতা দেখা 

বসন্ত কড়া নাড়লেই বুঝতে হবে মা-উমা খুব দূরে নেই। অর্থাৎ মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক। ভাবা যায়, একটা রাজ্যে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ লক্ষের বেশি? আর এই দুই পরীক্ষা শেষ হতেই রাজ্যের আনাচে কানাচে হাজার হাজার স্কুল টিচারের গৃহকোণে শুরু হয়ে যায় কুটির শিল্প—খাতা দেখা।
বিশদ

28th  May, 2017
র‌্যানসামওয়্যার এবং বিটকয়েন 

দেবজ্যোতি রায়: ‘এত দ্রুতগতিতে প্রযুক্তির উন্নতি ঘটছে যে এই আগ্রাসন গোটা মানবজাতিকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। বংশপরম্পরাকে রক্ষা করতে গেলে যুক্তি ও কারণ দিয়ে এতে লাগাম দিতে হবে।’ প্রযুক্তির রকেটসম অগ্রগতি নিয়ে সম্প্রতি এক সেমিনারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন পৃথিবীখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিনস। এর জন্য বিভিন্ন দেশের সরকারকে এগিয়ে আসার আরজিও জানিয়েছিলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রফেসর তথা পদার্থবিদ।
বিশদ

21st  May, 2017
আবাসন আইন 

১ মে দেশজুড়ে চালু হয়েছে আবাসন সংক্রান্ত আইন ‘দি রিয়েল এস্টেট (রেগুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) অ্যাক্ট। চলতি কথায় ‘রেরা’। কেন্দ্রীয় আইনটির উপর ভিত্তি করে রাজ্যগুলির নিজস্ব বিধি রা রুল তৈরি করার কথা। কী পরিস্থিতি রয়েছে এই আইন নিয়ে? আইনটির সুবিধাগুলিই বা কী কী? দেখে নেওয়া যাক আইনের খুঁটিনাটিগুলি। 
বিশদ

14th  May, 2017



একনজরে
দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই: জাতীয় গড়ের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার বেশি। সম্প্রতি লোকসভায় কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী বন্দারু দত্তাত্রেয়’র পেশ করা রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিপোর্টে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী এও উল্লেখ করেছেন যে, ২০১২-১৩ আর্থিক বছরের তুলনায় ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে ...

ইসলামাবাদ, ২২ জুলাই (পিটিআই): পানামা পেপার ফাঁস কেলেঙ্কারিতে শেষ পর্যন্ত গদি খোয়াতে হতে পারে নওয়াজ শরিফকে। এমন আশঙ্কায় শরিফের উত্তরসূরি হিসাবে বেছে নেওয়া হল তাঁর ভাইকেই। শাহবাজ শরিফ এখন পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এবং নওয়াজের ছোট ভাই। তবে শাহবাজ শরিফ পাক ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২১ জুলাই শহিদ দিবসের সমাবেশে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মন্তব্য নিয়ে ওঠা বিতর্কের ঝড় রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে এবার জাতীয় স্তরে উঠে এল। নরেন্দ্র মোদির ব্যর্থতা তথা বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির অপশাসন নিয়ে শুক্রবার ধর্মতলার ঐতিহাসিক সমাবেশমঞ্চ থেকে ...

 সংবাদদাতা, ঘাটাল: দুই দেশের খেলা দেখার জন্য ভিড় উপচে পড়ল দাসপুর-১ ব্লকের কলোড়াতে। শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুর ফুটি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে কলোড়া স্কুল ফুটবল মাঠে ভারতের জাতীয় ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যাবসা সূত্রে উপার্জন বৃদ্ধি। বিদ্যায় মানসিক চঞ্চলতা বাধার কারণ হতে পারে। গুরুজনদের শরীর স্বাস্থ্য নিয়ে ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

 ১৮৫৬- স্বাধীনতা সংগ্রামী বাল গঙ্গাধর তিলকের জন্ম
 ১৮৯৫ – চিত্রশিল্পী মুকুল দের জন্ম
 ২০০৪- অভিনেতা মেহমুদের মৃত্যু
 ২০১২- আই এন এ’ যোদ্ধা লক্ষ্মী সায়গলের মৃত্যু



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৫৫ টাকা ৬৬.২৩ টাকা
পাউন্ড ৮১.৯৮ টাকা ৮৪.৯৬ টাকা
ইউরো ৭৩.৫৬ টাকা ৭৬.১৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
22nd  July, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,০৭০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৫৮০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৭,৯৯৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

 ৭ শ্রাবণ, ২৩ জুলাই, রবিবার, অমাবস্যা দিবা ৩/১৬, পুনর্বসুনক্ষত্র দিবা ৯/৫৩, সূ উ ৫/৭/৫৭, অ ৬/১৮/৫, অমৃতযোগ প্রাতঃ ৬/১-৯/৩১ রাত্রি ৭/৪৫-৯/১১, বারবেলা ১০/৪-১/২২, কালরাত্রি ১/৪-২/২৬।
৬ শ্রাবণ, ২৩ জুলাই, রবিবার, অমাবস্যা ৩/৫২/৫৯, পুনর্বসুনক্ষত্র ১১/৫/৩৬, সূ উ ৫/৪/৫০, অ ৬/২০/৬, অমৃতযোগ দিবা ৫/৫৭/৫১-৯/২৯/৫৫, বারবেলা ১০/৩/৩-১১/৪২/২৮, কালবেলা ১১/৪২/২৮-১/২১/৫২, কালরাত্রি ১/৩/৪-২/২৩/৩৯।
 ২৮ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ভারতের জয়ের জন্য ৬ ওভারে ৩১ রান প্রয়োজন 

09:47:31 PM

ভারত ১৪৫/৩ (৩৫ ওভার) 

09:08:03 PM

ভারত ১২০/২ (৩০ ওভার) 

08:45:54 PM

ভারত ৬৯/২ (২০ ওভারে)

08:10:29 PM

ভারত ৪৩/২ (১২ ওভারে)

07:41:49 PM

ভারত ৩১/১ (৮ ওভারে)

07:26:26 PM