প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

অগ্নীশ্বরের সন্ধানে 

সুপ্রিয় নায়েক: ডাক্তারির ফাইনাল পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে ছেলেটি। মেডিকেল কলেজের কমন রুমে সে নিয়ে জোর আলোচনা। অথচ ছেলেটিরই দেখা নেই। পাশ করার খবর পেয়েই সে চলে গিয়েছে গ্রামের বাড়িতে। জাম্প কাটে দেখা গেল, এক বৃদ্ধ লোক পাড়ার অন্য এক মুরুব্বি স্থানীয় ব্যক্তিকে জানাচ্ছেন, পরীক্ষায় প্রথম হয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছে অগ্নীশ্বর...। কারণ সে যখন ঘরে বসে পুকুরের টাটকা মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খাচ্ছিল, তখন তার বোন নিরম্বু উপবাস সহযোগে বিধবাব্রত পালনে ব্যস্ত ছিল। বোনের এমন দুর্দশা সে সহ্য করতে পারেনি। সে ছেলে ধনুকভাঙা পণ করেছে, বিধবা বোনের বিয়ে দিয়েই ছাড়বে! সিনেমা শুরু হওয়ার পর ইতিমধ্যে মিনিট পাঁচেক কেটে গিয়েছে। তখনও অগ্নীশ্বরের দেখা নেই! অথচ টুকরো-টুকরো দৃশ্যে সে ছেলের ব্যক্তিত্বের তীব্র আঁচ অনুধাবন করতে দর্শকদের বিন্দুমাত্র সমস্যা হয় না। বড়দাদা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়, অর্থাৎ বনফুলের গল্প নিয়ে ১৯৭৫ সালে এই ছবিটি নির্মাণ করেছিলেন অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়।
বড় অদ্ভূত ব্যাপার হল, ছবিটি দেখার সময় মনে হয় এ বুঝি ব্যাকরণ মেনে কোনও এক নীতিবাগীশ চিকিৎসকের জীবনকাহিনি লিখেছেন লেখক। আর সাধারণ চিকিৎসক থেকে লার্জার দ্যান লাইফ হয়ে ওঠাকেই বায়োস্কোপের আকারে আমরা দেখছি। তার থেকেও বড় কথা, এই গল্প ‘চিকিৎসক হওয়ার গাইডলাইনে’র থেকেও আরও বেশি করে মানুষ হয়ে ওঠার কথা বলে। হ্যাঁ ঈশ্বর নয়, মানুষ। দর্শক বিশ্বাস করে সেই ছবিতে। আকুল হয়ে বিশ্বাস করতে চায়, প্রতি পদে খুঁজতে চায় একজন অগ্নীশ্বরকে। খুঁজতে হয়... কারণ এই পোড়া বাংলা এখনও বদলায়নি। আজও গ্রামেগঞ্জে সুলভ হয়নি স্বাস্থ্যব্যবস্থা। চাইলেই হাতের কাছে চিকিৎসক মেলে না সেখানে। মেলে না হাসপাতাল। শুধুই কি আর গ্রামে থামা যায়? এই মহানগরীতেই বা রাতবিরেতে ক’জন ডাক্তার কাতর আরজি সত্ত্বেও রোগীর স্বার্থে ঘুম ফেলে বাড়ি চলে আসেন? দুধের শিশুর কান্না সত্ত্বেও তাঁদের অনেকেরই বার্তা যায়, ‘কোনও একটা হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে চলে যান।’ গরিব মানুষ হলে আর বেসরকারিতে সাহস নেই! অগত্যা...। আর জরুরি বিভাগের প্রমাণ তো বয়ে বেড়াচ্ছেই কলকাতার সরকারি হাসপাতালগুলি। নাম বলা বারণ এমন এক সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার বলছিলেন, প্রতিদিন এই রাজধানীর এক একটি সরকারি মেডিকেল কলেজের ইমার্জেন্সিতে প্রায় পাঁচশো মানুষ আসেন। এই হিসাব থেকেই পরিষ্কার, কলকাতার প্রত্যেকটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি আর বর্হিবিভাগ মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে কমবেশি দেড় লক্ষ মানুষের ভিড় হয়। বন্যার মতো ধেয়ে আসা এই রোগীর স্রোত সামাল দেওয়া গুটিকতক চিকিৎসকের ক্ষমতার বাইরে, তা বলাই বাহুল্য! তবে চলছে, চেষ্টা চলছে এই পরিস্থিতি বদলানোর। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে শিশুসাথি, স্বাস্থ্যসাথি, নায্য মূল্যের ওষুধের দোকানের মতো প্রকল্প। সমস্ত সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন বিনামূল্যে। এর সঙ্গে নতুন আরও পাঁচটি মেডিকেল কলেজ খোলার কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে, সরকারি এবং বেসরকারি মিলিয়ে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ আরও বেড়ে যাবে। তবে এক মাঘে শীত যেমন যায় না, তেমনই চোখের পলকে হাসপাতালের সিঁড়ি, লিফট থেকে গুটকার দাগও উঠে যাবে, রোগী পায়ে ক্ষত নিয়ে ভরতি হলেই প্রতিদিন নিয়ম করে তার ড্রেসিং হবে—এমন ভাবাটাই বুঝি ভুল! আর ভুল বলেই বোধহয় অসহায় দরিদ্র সাধারণ মানুষ চিকিৎসকের মাঝে অগ্নীশ্বরকে খোঁজে। যে মানুষটা হাজার নিয়মের বেড়ি ছিঁড়ে বেনিয়ম করে হাসপাতালের খাবার রোগিণীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। কারণ সেই রোগিণী নিজের জন্য বরাদ্দ খাবার দিয়ে দিচ্ছিল অভুক্ত সন্তানদের। কিন্তু চিকিৎসকের ধর্মই যে রোগীকে সুস্থ করা! তাই নাছোড়বান্দা চিকিৎসক রোগীকে সুস্থ না করে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেন না। আসলে তিনি তো সেই রোগিণীর মধ্যে নিজের মা’কে খুঁজে পেয়েছিলেন। একইসঙ্গে ছবির দর্শকরা অগ্নীশ্বরের চোখে দিয়ে বাংলার প্রত্যেক মায়ের প্রকৃত রূপ স্মরণ করে। রোগী আর চিকিৎসকের মধ্যেকার সম্পর্কটা শুধু পরিষেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং মানবিকতার পথ বেয়ে রচিত হয় এক অনন্য সোপান। যার উত্তরণ মানুষকে মানুষ হতে শেখায়। দৃঢ় হয় ডাক্তার-রোগীর পারষ্পরিক বিশ্বাসের বাঁধন। এভাবেই বাঁধা ছক ভেঙে এক চিকিৎসক কখন যেন নিজেই হয়ে ওঠেন প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাস্তব চিত্র যে বড়ই রুক্ষ। লক্ষ মানুষের ভিড়ে সরকারি হাসপাতালের মুষ্টিমেয় চিকিৎসকের সামান্য ‘দয়া’ পাওয়াও যে একপ্রকার দিবাস্বপ্ন। এছাড়া দীর্ঘ মানুষের লাইনে দাঁড়ানোর যন্ত্রণা, আপৎকালীন পরিস্থিতিতেও অপারেশন বা সাধারণ চিকিৎসার জন্য কয়েক মাস পরে ‘ডেট’ পাওয়ার মতো পরিস্থিতির কথাও অস্বীকার করার উপায় নেই। এরপর সন্তানের রোগযন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে একজন বাবা কর্পোরেট হাসপাতালের দরজায় কড়া নাড়বেন, গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে রেফার হওয়া সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে নিয়ে দিশাহারা স্বামী মাথা গলাবেন ঝাঁ-চকচকে হাসপাতালে—তাতে আর আশ্চর্য কী! তবে মানুষের এই আত্মসমপর্ণও তো কোনও এক চিকিৎসকের নিশ্চিন্ত আশ্রয়ের সন্ধানেই! আসলে নিজের মা, নিজের সন্তান, নিজের স্ত্রী, নিজের স্বামীর চেয়ে আর কোনও কিছু কি বেশি দামি হতে পারে? পারে না। সে জন্যই তো সাধ্যের বাইরে গিয়েও তাদের জন্য সেরাটুকু বেছে নিতে হয় আমাদের। কারণ আমরা বিশ্বাস করি ওই চকচকে হাসপাতালে থাকেন ‘এক সে বড় কর এক ডাক্তারবাবুরা’। তাঁরাই বাঁচিয়ে তুলবেন রোগীকে, আমার আপনজনকে। তাই তো কোন হাসপাতালে কোন উন্নত যন্ত্রপাতি আছে, আমরা ভাবি না। আমরা বুঝতেও চাই না, কোন রোবটিক সার্জারিতে রোগীর দেহের অসুখে আক্রান্ত অঙ্গ বাদ পড়ে যাবে চোখের নিমেষে, কোনও দাগ না রেখে! আমরা শুধু জানতে চাই কোন চিকিৎসক ওই রোবটটাকে নিয়ন্ত্রণ করবেন! অর্থাৎ সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠামো স্থির হয় চিকিৎসকের উপর নির্ভর করে। বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অঞ্জনলাল দত্ত তাঁর এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠানের চাইতেও বড় হয়ে দাঁড়ায় চিকিৎসক।’ সম্ভবত সেটা সত্যি বলেই কলকাতার বাইপাসের ধারে এক হাসপাতাল কবিগুরুর নামাঙ্কিত হওয়া সত্ত্বেও, আমরা সেই প্রতিষ্ঠানকে বেঙ্গালুরুর এক বিখ্যাত চিকিৎসকের নামে ডেকে থাকি! আর সেই একই কারণে বেসরকারি হাসপাতালগুলি তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকের ছবি দিয়ে হোর্ডিং লাগায় বড় রাস্তায়, স্টেশনের ধারে। বিজ্ঞাপনে চিকিৎসক আশ্বাস দেন, বুকে ‘মাত্র’ তিন ইঞ্চি ‘কেটে’ সুস্থ করবেন রোগীকে! নজরে আসে নামী এক ‘বাইপাস সার্জেনের’ ‘হাসপাতাল বদলের’ আনন্দ সংবাদ। মুক্ত বাজার অর্থনীতির জোয়ারে কখন যে সেবাব্রতী চিকিৎসকরা প্যাকেজে মোড়া পণ্য হয়ে যান, তা বোধ করি তাঁরা নিজেরাও বুঝতে পারেন না। শুধু রোগীর ঘাড়ে পাহাড় প্রমাণ বোঝা হয়ে দাঁড়ায় এই সব ‘নন প্রফিট’ অর্গানাইজেশনের চিকিৎসার বিল। কারণ বাজার অর্থনীতি শুধু লাভ-ক্ষতিই বোঝে। মানুষের আবেগ নির্ধারণের ক্ষমতা রাখে না। তাই হয়তো বিল না মেটাতে পারায় সঞ্জয় রায়দের মতো ধুঁকতে থাকা রোগীকে চিকিৎসা না করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাসপাতালের ঠান্ডা ঘরে আটকে রাখা যায়। কে জানে, সেদিনও হয়তো সঞ্জয়ের স্ত্রী অন্যায় এবং বিন্দুবৎ আশা রেখেছিল—একজন চিকিৎসক অন্তত এগিয়ে আসবেন। মর্গের মতো শীতল ঘরে পড়ে থাকা স্বামীর ক্ষীণ হয়ে পড়া নাড়ি ধরে পরীক্ষা করবেন। যাবতীয় বিভেদ আর ব্যক্তিগত বাদানুবাদ ভুলে স্কট সাহেবের একরত্তি সন্তানকে বাঁচানোর জন্য যেমনটি করেছিলেন অগ্নীশ্বর। ডাক্তারের সেই লড়াই দেখে ভেঙে গিয়েছিল ইংরেজ সাহেবের অহং। সঞ্জয়ের মতো প্রতিনিয়ত এমন অনেকের বেলাতেই হয়তো কেউ কেউ ভাবেন, ছবির মতো বাস্তবেও মনুষ্যত্বের কাছে গুঁড়িয়ে যাবে অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত। এমনটা হয়নি। কারণ আর্তের শুশ্রূষা আর চিকিৎসকের মাঝে ছিল কর্পোরেট টাইয়ের টানাটানির হিসাব! আবার সেই হিসাবি অর্থনীতি বলে, হাসপাতাল তো ঠিক কাজই করেছে। ভুল বোধহয় আমার আপনার মতো সাধারণ মানুষ। কর্পোরেট হাসপাতালে কড়ি না ফেলে তেল চাওয়া যে বড় অন্যায়! পরিষেবার পাশাপাশি কিছুটা ব্যাবসাও। কারণ, তাদের যে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হবে! যেমন পরিষেবা, তেমন দাম। কোনও কোনও ক্ষেত্রে একটু যে বেশি হয়ে যায় না তা নয় ঠিকই, কিন্তু ওই যে হাসপাতালের কর্তাব্যক্তিরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে বলেন, ‘শুধরে নেব’! ওখানেই আমাদের শান্তি। আর যাই হোক, ডাক্তার তো! আমাদের কাছে ভগবানের কাছাকাছি কোনও একটা আসনে তাঁদের জায়গা। মৃত্যুমুখ থেকে প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনতে পারেন তাঁরা। কলকাতার এক বিখ্যাত চিকিৎসকই তো পেশেন্ট পার্টির নানা ‘আহাম্মকপনা’ নিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আপনি কেন মশাই পাঁচতারা হাসপাতালে গিয়ে নাম লেখাবেন, যদি সস্তায় চান? আপনি যদি তাজে রুম বুক করে, শিয়ালদার মা তারা লজের চেয়ে বেশি খরচ হয়ে যাচ্ছে বলে মরাকান্না জুড়ে দেন, তাহলে আমাদের কেন, স্বয়ং ঈশ্বরের কিছু করার থাকবে না। দেখবেন আপনার কান্না দেখে ডাক্তার তার প্রাপ্য ছেড়েও দিতে পারে, কিন্তু প্রাইভেট হাসপাতাল? নৈব নৈব চ।’
সত্যিই তো! চিকিৎসকরা তো এখন শুধু কর্পোরেট ব্যানারের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা কর্মী মাত্র। প্রতিষ্ঠান যেমন অঙ্গুলিহেলন করবে, তেমনভাবেই তাঁদের নড়তে হবে। তাই চিকিৎসকের মুখাপেক্ষী না হওয়াই ভালো। বরং যাঁর যেমন সামর্থ্য তাঁর সেখানে গেলেই তো ল্যাটা চুকে যায়! খামোখা কর্পোরেট হাসপাতালকে গাল পাড়া কেন? ভাবের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলেই তো সত্যিটাও নগ্ন হয়ে যায়—সারা রাজ্যে দু’হাজারেরও বেশি নার্সিংহোম আর বেসরকারি হাসপাতাল চলছে রমরমিয়ে। এই বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকলে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি খুব স্বস্তিদায়ক হত না বোধহয়! কলকাতার কয়েকটি কর্পোরেট হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের তরফেই জানা যায়, নয় নয় করেও কলকাতার তাঁদের হাসপাতালগুলির ইমার্জেন্সিতে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী ভিড় করেন। কলকাতায় এমন প্রথম সারির বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে কমপক্ষে কুড়িটি। সহজেই অনুমেয়, বেসরকারি না থাকলে হঠাৎ বিপদে পড়া রোগীদের ঠাঁই হত সেই সরকারি হাসপাতালেই। এর থেকেই বুঝতে সমস্যা হয় না যে, রাজ্যের ছোট বড় বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো না থাকলে রোগীর ঢেউ আর শুধু বন্যার আকারে আসত না। সুনামি হয়ে আছড়ে পড়ত সরকারি হাসপাতালেই! আর একটা হিসাব দেখা যাক। কলকাতার পাঁচটি সরকারি মেডিকেল কলেজ আর হাসপাতালের প্রতিটিতে সাধারণভাবে গড়ে শয্যা রয়েছে দেড় হাজারের কিছু কম বা বেশি। সেখানে কলকাতার প্রথম সারির কর্পোরেট হাসপাতালগুলিতে শয্যা সংখ্যা গড়ে চারশোর কাছাকাছি। এমনিতেই বেডের অভাবে সরকারি হাসপাতালের মেঝেয় ‘শয্যা’ নিতে হয় রোগীকে। বেসরকারি হাসপাতাল না থাকলে আজ কিন্তু সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমিতে থাকা গাছের ডালেই স্যালাইনের বোতল ঝোলাতে হত! তাছাড়া সবসময়ই যে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র আমার বাড়ির পাশেই থাকবে, এমন তো নয়! তাই রাতদুপুরে বুকে ব্যথা উঠলে রোগীকে নিয়ে কাছের বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রেরই শরণাপন্ন হতে হয়। সে হাসপাতালের পরিষেবা তাজ হোটেলের মতো দামি হলেও। কারণ, তখন স্বজনের রোগযন্ত্রণার উপশমটাই বড় হয়ে দাঁড়ায়। ছলছল চোখে ঝাপসা হয়ে যায় সামর্থ্যের ভাবনা।
সত্য সততই কঠিন। তবু এই সত্যের মুখোমুখি হয়েও কেন জানি না মানুষের অবাধ্য আবেগ আঙুল তোলে, বোবা চিৎকার করতে চায়—সামান্য বিল না মেটানোর অক্ষমতায় একজন চিকিৎসা প্রার্থীর মৃত্যু হলে তা আর সাধারণ মৃত্যু থাকে না, বরং একটা সংগঠিত নারকীয় অপরাধের ফলাফল হয়ে দাঁড়ায়। কারণ হাসপাতাল শব্দে আজও আমাদের চোখের সামনে ভাসে রেডক্রসের চিহ্ন, হিপোক্রেটাসের শপথ নেওয়া চিকিৎসকের ব্যস্ত যাতায়াত। এই ছবি ভাসে বলেই তো আমাদের ক্ষয়ে যাওয়া মূল্যবোধ-সর্বস্ব সমাজে এখনও শিক্ষকদের, চিকিৎসকদের দেখে সামান্য হলেও মাথা ঝুঁকিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ। এই সম্মান প্রদর্শনের কারণ, আজও আমরা বিশ্বাস করি তাঁরা ‘সেবা’ নামক মহান ব্রত পালনে নিযুক্ত। ‘থ্যাংকলেস জব’ করেন বলেই তো তাদের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে না। আর তাই তো যখন কর্পোরেট হাসপাতালের পিচ্ছিল টাইলস বসানো করিডর দিয়ে চিকিৎসক অভ্যস্ত পায়ে হেঁটে যান, রোগীর আত্মীয়রা হোঁচট খেতে খেতে তাঁর পাশে দৌড়ান—যদি একবার ডাক্তারবাবু অনুগ্রহ করে বলেন... ‘রোগী ভালো হয়ে যাবে’। অথচ তাঁকে দু’দণ্ড দাঁড়ানোর অনুরোধ করতে সাহস হয় না। তাঁকে প্রশ্ন করা যায় না, কেন পাঁচ দিন ভরতি থাকার পরেও রোগীর রোগ সম্পর্কে কিছু জানা গেল না? রোগীর চিকিৎসা নিয়ে এত ধোঁয়াশা কেন? কেন একদিনেই চার-চারটে দামি টেস্ট করাতে হল? মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, পায়ের চিকিৎসা করতে গিয়ে চোখের পরীক্ষা! কীভাবে পাঁচ টাকার গজ হাসপাতালের বিলে পঞ্চাশ টাকা হয়ে গেল? কারণ আমরা মনে করি, গলায় স্টেথো ঝোলানো মানুষটা শাড়ির দোকানদার নয় যে, তাঁর সঙ্গে চিকিৎসার দাম নিয়ে দর কষাকষি করা যায়। তিনি যা ভালো বুঝেছেন তাই করেছেন। আর তখনই ক্ষোভ সংঘবদ্ধ হয়, প্রশ্ন ওঠে—যখন কাঞ্চনমূল্যে সঞ্জয়দের সেবা হতে পারে, তখন কি তাঁরা ভালো বুঝেই চুপ করে বসেছিলেন? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, আর যদি বাজার অর্থনীতিই সেবা নিয়ন্ত্রণের শেষ কথা হয়, তবে বেসরকারি হাসপাতালগুলি শুরুর দিন থেকেই প্রবঞ্চনা করে আসছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে। অর্থনীতির হিসাবই বলে, পূর্ণ পরিষেবা পাওয়ার পরেই তার মূল্য চোকানো উচিত। সেক্ষেত্রে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পরেই হাসপাতালের বিল মেটানোর প্রসঙ্গ আসে। চিকিৎসা নামে পণ্যটি কিনতে গিয়ে রোগীর কোনওরকম অঙ্গহানি ঘটলে বা রোগীর মৃত্যু হলে কি সম্পূর্ণ পরিষেবা পাওয়া হয়? ঠান্ডা ঘরে থাকা, উন্নত শয্যায় শোওয়া আর ঝকঝকে টয়লেট ব্যবহার করার জন্য কেউ কি হাসপাতালে ভরতি হন? নাকি সুস্থ হওয়ার উদ্দেশ্যে যান? এমন কোনও মানুষ আছেন কি, যিনি মৃত্যুর আগে কর্পোরেট হাসপাতালের ঠান্ডা ঘরে দু’দিন কাটিয়ে আসতে চান? অতএব কর্পোরেট হাসপাতাল যদি পরিষেবার পূর্ণ মূল্য দাবি করে, তবে চিকিৎসায় পূর্ণ সুস্থ হওয়ার দাবিও রোগী করতে পারেন। মুশকিল হল, অর্বাচীনের মতো এই তক্ক পাড়ার রকেই চলে। আসলে চিকিৎসা শাস্ত্রটিই একটি অসম্পূর্ণ বিজ্ঞান। এখানে দুই আর দুইয়ে চার নাও হতে পারে। কারণ, আমরা সবাই ডাক্তার নই। কম্পিউটারের কোন যন্ত্রাংশটা খারাপ হয়েছে, তার জন্য যেমন বিশেষজ্ঞের উপরই নির্ভর করতে হয়, ঠিক তেমনটাই শরীরের ক্ষেত্রেও। অতএব, চিকিৎসক যখন বলেন, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করাতে গিয়ে পায়ে গ্যাংগ্রিন শুরু হয়েছে, পা কেটে বাদ দিতে হবে, তখনও আমরা কেউ প্রশ্ন তুলি না—কেন ডাক্তারবাবু, কেন? হার্টের রোগের সঙ্গে পায়ের কোথায় সম্পর্ক? কারণ সেই একটাই—এসব সম্পর্কের কথা জানতেই জনগণের করের টাকায় ডাক্তারবাবু পাঁচ বছর ধরে এমবিবিএস পাশ করেছেন। উনি শারীরবিদ্যার সবটুকু জানেন। সেই জ্ঞানেই তো চিকিৎসকরা বলেন, গ্রুপ আর ক্রসম্যাচিং করা সামান্য ব্লাড ট্রান্সফিউশন থেকেও রোগীর প্রাণহানি পর্যন্ত হতে পারে। হ্যাঁ ঠিক তাই। কারণ অন্যের শরীরের রক্ত রোগীর দেহে প্রবেশ করালেই হয় না, রোগীর দেহ সেই রক্ত নিজের শরীরে গ্রহণ করবে কি করবে না, তা একান্তই রোগীর শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দিতে হবে, তা বাতলেও দিতে পারেন একমাত্র চিকিৎসকরাই।
সুতরাং পুনর্মূষিকঃ ভব। চিকিৎসক ছাড়া গুগুল দেখে ডাক্তারি ফলানোর বিকল্প ব্যবস্থা এখনই নেওয়া যাচ্ছে না। তবে কি এমনই চলবে? আগামীদিনেও হাসপাতালে রোগীর আত্মীয়রা ভাঙচুর চালাবেন? আবারও বিল না মেটানোর অক্ষমতায় অসংখ্য তরতাজা সঞ্জয়কে বিদায় নিতে হবে চিরদিনের জন্য? সাংবাদিকরা টেলিভিশনের পরদায় আদালত বসিয়ে চিকিৎসকদের বিচার চালাবেন? সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-এর বেড পাওয়ার জন্য নেতাদের চিঠির প্রত্যাশা করতে হবে? অসংখ্য প্রশ্ন রয়েছে। উত্তর দেবেন এমন অগ্নীশ্বর রয়েছেন কেউ? সেই অগ্নীশ্বর... যিনি ভিড় ঠেলে এগিয়ে এসে রোগীর পাশে বসবেন, তার মাথায় হাত বুলিয়ে আশ্বাস দেবেন ‘আমি আছি তো’। আর মুহূর্তের মধ্যে বিক্ষোভে ফুটতে থাকা জনগণ মুষ্টিবদ্ধ হাত নামিয়ে দেখবে সুধা আসছে। তার হাতে শিউলি ফুল—ডাক্তারের জন্য। আছেন কেউ এমন? আমাদের মধ্যে একজন অগ্নীশ্বরের আজ যে বড় দরকার!

 অগ্নীশ্বরের উত্তম কুমারের ছবি:
সুকুমার রায়ের সৌজন্যে
 গ্রাফিক্স: সোমনাথ পাল
 সহযোগিতায়: উজ্জ্বল দাস  
26th  March, 2017
ছাত্র রাজনীতির বিবর্তন
ডঃ পার্থ চট্টোপাধ্যায়

 ছাত্র রাজনীতির যাবতীয় ঐতিহ্য কি এখন তোলাবাজির অন্ধকারে? এ প্রশ্ন আজ সব মহলে। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ গঠনের লক্ষ্যে যে সংসদ দিশা দেখায়, তা আজ ফিকে। জেভিয়ার্স মডেলে রাজ্য ছাত্র রাজনীতি সংস্কার করছে। তা কি সঠিক পদক্ষেপ? মত পক্ষে আছে, বিপক্ষেও।
বিশদ

20th  August, 2017
নির্বাচনের অবাধ সুযোগ প্রয়োজন

তরুণকান্তি নস্কর: রাজ্য সরকার সম্প্রতি নোটিস দিয়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়ন কেমন করে গঠিত হবে, তা জানিয়েছে। কী সেই আইন, যার বিরুদ্ধে এত বিতর্ক? প্রথমেই উল্লেখ করা দরকার, বর্তমান বছরের শুরুতে বিধানসভায় যে উচ্চশিক্ষা আইন পাশ হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় এই নোটিস জারি হয়েছে। বিশদ

20th  August, 2017
 ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলা দরকার

 সমীর পুততুণ্ড: ২০১১ সালে এরাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকে শিক্ষায়তনে নতুন ধরনের গোলমালের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রথমে নতুন সরকারের সমর্থক এবং বিরোধী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে, পরবর্তী পর্যায়ে শাসক দল অনুগামীদের মধ্যেই গোলোযোগ শুরু হয়।
বিশদ

20th  August, 2017
 আলোচনা কিন্তু প্রয়োজন ছিল

 শুভঙ্কর সরকার: ‘দ্বার বন্ধ করে ভ্রমটারে রুখি/ সত্য বলে আমি তবে কোন পথে ঢুকি’... কলেজে ছাত্রছাত্রীদের রাজনৈতিক লড়াই রুখতে ছাত্র সংসদের অবসান ঘটানোর যে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তাতে আমার এই কথাটাই মনে পড়ল।
বিশদ

20th  August, 2017
বন্দেমাতরম 
রজত চক্রবর্তী

জাতীয় পতাকাটা আজও হাতে ধরে হেঁটে চলেছেন মাতঙ্গিনী হাজরা। উচ্চশির। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, প্রফুল্লনলিনী ব্রহ্ম, কল্পনা দত্ত... নারীশক্তির এক অদম্য জাগরণ দেখেছিল পরাধীন ভারত। মায়েরা, বোনেরা পথে নেমে-না নেমে অংশ নিয়েছিলেন বিপ্লবে। তবু এমনই দুই সংগ্রামী শান্তি ঘোষ, সুনীতি চৌধুরির জন্মশতবর্ষ চলে গেল নীরবে...।
বিশদ

13th  August, 2017
 কৃপণ সমাচার!

 কৃপণ কত প্রকার ও কী কী? এমন রচনা ছেলেবেলায় লিখতে না হলেও এ ব্যাপারে জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার ঝুলি প্রায় সবারই পূর্ণ। কেউ কেউ আবার কৃপণ শব্দটির বদলে হিসাবি বা মিতব্যয়ী ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করেন। যদিও তাতে কৃপণদের নিয়ে সমাচারে কোনও দিন, কোনও যুগেই ঘাটতি হয় না।
বিশদ

06th  August, 2017
আলিপুর জেলের অন্তরালে

 আলিপুর সেন্ট্রাল জেল। কানাইলাল দত্ত, সত্যেন বসু, দীনেশ গুপ্ত... একের পর এক বিপ্লবীকে ফাঁসির দড়ি বরণ করতে হয়েছে এখানে। শত অত্যাচার সত্ত্বেও যেখানে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছেন লৌহকপাটের আড়ালে থাকা বিপ্লবীরা। ভয় না ধরিয়ে সঙ্গীর মৃত্যু সাহস জুগিয়েছে তঁাদের। সেলুলার জেল হেরিটেজের মর্যাদা পেলেও আলিপুর পায়নি। সেখানে আজও কুঠুরির কোণায় কোণায় শোনা যাবে বিপ্লবের বজ্রনির্ঘোষ।
বিশদ

30th  July, 2017
 অমরনাথের পথে-প্রান্তরে

 দুর্গম অতিক্রম করে, জঙ্গি হামলা-মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে এগিয়ে চলা একবার দর্শনের আশায়। বালতাল হোক বা পহেলগাঁও, যাত্রাপথ যাই হোক না কেন, প্রকৃতি সেখানেই অপার সৌন্দর্য উজাড় করে রেখেছে। বিন্দু বিন্দু জল জমে আকার নিয়েছে শিবলিঙ্গের। আর তাকে ঘিরেই সম্প্রীতির এক অদ্ভূত মিলন উৎসব। সে যে অমরনাথ। বিশদ

23rd  July, 2017
খবর শেষ

 আকাশবাণী... খবর পড়ছি...। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমল থেকে শুরু হওয়ার পর বঙ্গজীবনের অঙ্গ হিসাবে জড়িয়ে যাওয়া সেই অভ্যাস হাতছাড়া হয়েছে বহুযুগ আগেই। টিভি, ইন্টারনেট, ফেসবুকের জমানায় যা আজ প্রায় গতজন্মের স্মৃতি বলে মনে হয়। কিন্তু একটা সময় এই তো ছিল বাইরের জানালায় চোখ রাখার জন্য মানুষের একমাত্র দূরবীন! সেই ইভা নাগ, নীলিমা সান্যাল, দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্রেকডাউন, ভুল খবর...। সে এখন নস্টালজিয়া। আজ দিল্লির বেতার খবর যে সত্যিই শেষ!
বিশদ

16th  July, 2017
 বৃষ্টিভেজা

 গ্রীষ্মকালীন এই বঙ্গে বর্ষার আগমন যেন ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার মতো। আকাশকে মুখ ভার করে ঝরে পড়তে দেখলেই মন আনচান করে খিচুড়ি, ইলিশ মাছের জন্য। ঘণ্টাখানেকের বর্ষণে তিলোত্তমা এক হাঁটু জল উপহার দিলেও তা ঠেলে বাড়ি ফেরাই আলাদা আনন্দ। আর গুনগুন করে ওঠা বিশ্বকবির সৃষ্টি। মনে পড়ে যাওয়া অপু-দুর্গার বৃষ্টি ভেজা। কিংবা স্কুলের সেই রেনি ডে। এ ঋতু তাই যে আলাদা আলাদা অনুভূতির এক সম্পৃক্ত দ্রবণ। বিশদ

09th  July, 2017
চিকিৎসা রঙ্গ 

কল্যাণ বসু: ‘পাসকরা ডাক্তার নই, কিন্তু তাতে কি? বাড়ি বসিয়া বই পড়িয়া কি আর ডাক্তারী শেখা যায় না? আজ সাত আট বছর তো ডাক্তারী করিতেছি, অভিজ্ঞতা বলিয়া একটা জিনিসও তো আছে! পাসকরা ডাক্তারের হাতে কি আর রোগী মরে না?’ এইটুকু পড়ে কী মালুম হচ্ছে?
বিশদ

02nd  July, 2017



একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রকল্পটি চালু হয়েছিল ২০০৯ সালে। কিন্তু তার আট বছর পরও নাকি রাজ্যের শিক্ষকদের একটা বড় অংশ রাষ্ট্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা অভিযান (আরএমএসএ) নামে ওই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ব্যাপারে সেভাবে ওয়াকিবহাল নন। এমনটাই ধারণা শিক্ষা দপ্তরের। তাই এবার এই প্রকল্পের ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মিষ্টির উপর পাঁচ শতাংশ হারে জিএসটি চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর প্রতিবাদে আজ সোমবার রাজ্যজুড়ে মিষ্টির দোকানগুলিতে ধর্মঘট ডাকল পশ্চিমবঙ্গ মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সমিতি। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ, সোমবার বাতিল করা হচ্ছে আপ কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস। পূর্ব রেল জানিয়েছে, বাংলাদেশ রেলের ডাউন লাইনের লিংক ট্রেনটি বাতিল থাকায় আপ লাইনের ট্রেনটিও বাতিল করা হয়েছে। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তরবঙ্গের মালদহ, বালুরঘাট, রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ, ইটাহার, কুশমুন্ডি, বাউল, পতিরাম, গঙ্গারামপুর সহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভারত সেবাশ্রম সংঘ সম্প্রতি বন্যাদুর্গতদের ত্রাণের কাজ শুরু করেছে। রোজই সংঘের পক্ষ থেকে দুর্গতদের রান্না করা খাবার বিলি করা হচ্ছে। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের ক্ষেত্রে ভাবনা-চিন্তা করে বিষয় নির্বাচন করলে ভালো হবে। প্রেম-প্রণয়ে বাধাবিঘ্ন থাকবে। কারও সঙ্গে মতবিরোধ ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৭৮- ভিনু মানকড়ের মৃত্যু
১৯৮৬- উসেইন বোল্টের জন্ম
১৯৯৫- সুব্রহ্মণ্যম চন্দ্রশেখরের মৃত্যু
২০০৬- ওস্তাদ বিসমিল্লা খানের মৃত্যু
১৯৭২- বন সংরক্ষণ আইন চালু


ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৩৫ টাকা ৬৫.০৩ টাকা
পাউন্ড ৮১.২৫ টাকা ৮৪.২১ টাকা
ইউরো ৭৩.৯৬ টাকা ৭৬.৫৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
19th  August, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) 29465
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) 27955
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) 28375
রূপার বাট (প্রতি কেজি) 39100
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) 39200
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
20th  August, 2017

দিন পঞ্জিকা

৪ ভাদ্র, ২১ আগস্ট, সোমবার, অমাবস্যা রাত্রি ১২/০, অশ্লেষানক্ষত্র দিবা ৩/৫১, সূ উ ৫/১৯/১৪, অ ৬/০/২৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/০ পুনঃ ১০/২৩-১২/৫৬ রাত্রি ৬/৪৫-৯/১ পুনঃ ১১/১৭-২/১৮, বারবেলা ৬/৫৪-৮/২৯ পুনঃ ২/৫১-৪/২৬, কালরাত্রি ১০/১৫-১১/৪০। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ (ভারতে অদৃশ্য)
৪ ভাদ্র, ২১ আগস্ট, সোমবার, অমাবস্যা রাত্রি ১২/৮/৯, অশ্লেষানক্ষত্র অপরাহ্ণ ৪/৫৪/৪০, সূ উ ৫/১৬/৪৮, অ ৬/২/২৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৮/৫৩, ১০/২৩/২-১২/৫৬/১০ রাত্রি ৬/৪৭/২২-৯/২/২০, ১১/১৭/১৭-২/১৭/১২, বারবেলা ২/৫১/০-৪/২৬/৪২, কালবেলা ৬/৫২/৩০-৮/২৮/১২, কালরাত্রি ১০/১৫/১৮-১১/৩৯/৩৬। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ (ভারতে অদৃশ্য)
২৮ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বন্যায় ৭ লক্ষ হেষ্টর চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্থ: কৃষিমন্ত্রী

 বন্যায়য় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে ৭ লক্ষ হেক্টর চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যার মধ্যেো ৪ লক্ষ জমি উত্তরের। কৃষিতে প্রাথমিক হিসেবে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। যার মধ্যে উত্তরে ৫৩৪ কোটি ৫১ লক্ষ টাকাো জানালেন কৃষি মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু।

05:24:00 PM

 তামিলনাড়ুর উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ পনিরসেলভামের

 এআএিডিএমকে-র দুই শিবিরের সংযুক্তিকরণের পর তামিলনাড়ুর উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন পনিরসেলভাম

04:49:00 PM

বন্যার জন্য কেন্দ্রে কাছে উপযুক্ত প্যাকেজ চাইব: মমতা

কেন্দ্রের কাছে উপযুক্ত প্যাকেজের দাবি করতে চলেছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান গোটা রাজ্যে এবছর বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। কেবলমাত্র উত্তরবঙ্গেই মৃত্যু হয়েছে ৪৫ জনের। আর গোটা রাজ্যে ১৫২জনের। রাজ্যে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সংখ্যা দেড় কোটি ছাড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ত্রাণ নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। তাই যতটা প্রয়োজন ততটাই ত্রাণ মিলবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, অনেক সড়ক থেকেই জল নামতে শুরু করেছে, তাই যে সমস্ত সড়ক থেকে জল নেমে যাবে, সেখান দিয়েই ধীরে ধীরে ট্রাক পাঠানো হবে। কারণ অনেক ট্রাক পচনশীল দ্রব্য নিয়ে আটকে রয়েছে। পাশাপাশি এই বন্যার নামে যে সমস্ত অসাধু ব্যবসায়ী দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করতে চেষ্টা করছেন তাদের বিরুদ্ধেও নজরদারি চালানো হবে বলে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, জল নামলেই  বন্যা সংক্রান্ত রোগব্যাধির প্রতিষেধক এবং পানীয় জলের পথগুলিকে পরিশ্রুত করার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

04:47:00 PM

সিলেবাস কমিটির প্রস্তাবে সিলমোহর রাজ্য সরকারের, সব ক্লাসে পড়তে হবে কন্যাশ্রী স্বীকৃতি, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে কন্যাশ্রী

04:12:00 PM

বন্যায় দেড় কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: মুখ্যমন্ত্রী

04:10:07 PM

রাজ্যে যথেষ্ট পরিমানে ত্রান সামগ্রী মজুত রয়েছে: মুখ্যমন্ত্রী

04:10:06 PM