প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

দোল যাত্রার উৎস সন্ধানে

গৌতম বিশ্বাস: বাংলায় আমরা বলি দোলযাত্রা। আর বাংলার গণ্ডি পেরলে তা-ই হোলি। এই হোলি মানে রঙের উৎসব। হোলি মানে শ্রীকৃষ্ণ ও রাধা। হোলি মানে ভালোবাসা, একাত্মতা। কিন্তু কীভাবে হল এই উৎসবের সূচনা? বসন্তের স্নিগ্ধতায় আবির গায়ে মাখার অপার্থিব আনন্দের গৌরচন্দ্রিকা ঠিক কোথায় হয়েছিল, সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা, পৌরাণিক উপাখ্যান থেকেই আমাদের কৌতূহল নিরসন করতে হয়। কখনও এ প্রসঙ্গে আসে হিরণ্যকশিপুর কাহিনি, কখনও বা শ্রীকৃষ্ণের অসুর বধের উপাখ্যান...।
স্কন্দপুরাণে ফাল্গুন মাহাত্ম্য গ্রন্থাংশে হোলিকা ও প্রহ্লাদের কথা রয়েছে। দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপু অপরাজেয় হওয়ার বর পেয়েছিলেন ব্রহ্মার কাছ থেকে। কোনও মানুষ বা জন্তু তাঁকে মারতে পারবে না। হিরণ্যকশিপু বধে অক্ষম দেবদেবীরাও। তাহলে তাঁকে আর মারবে কে? অহংকারে দিগবিদিগ জ্ঞানশূন্য হয়ে গেলেন তিনি। ঘোষণা করে দিলেন, কোনও দেবতা নয়, পুজো তাঁকেই করতে হবে। কিন্তু হিরণ্যকশিপুরের পুত্র প্রহ্লাদ ছিলেন শ্রীবিষ্ণুর মহা ভক্ত। বাবার আদেশ অমান্য করেই তিনি দিনরাত নারায়ণ বন্দনা করে গেলেন। ক্ষিপ্ত হলেন দৈত্যরাজ। নানাভাবে ছেলেকে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করলেন, কিন্তু কিছুতেই সফল না হয়ে ছেলেকে আগুনে পুড়িয়ে মারার জন্য বোন হোলিকাকে দায়িত্ব দিলেন তিনি। হোলিকাও ছিল দাদার মতো প্রচণ্ড নিষ্ঠুর। কারণ আগুনে তার কোনও ক্ষতি হত না। এমনই বর পেয়েছিল সে। হোলিকা কিশোর প্রহ্লাদকে ভুলিয়ে ভালিয়ে জ্বলন্ত চিতায় বসাল। ভগবান সর্বদাই ভক্তকে রক্ষা, আর দুষ্টদের দমন করেন। তাই প্রহ্লাদের কোনও ক্ষতি হল না বরং অন্যায় কাজ করার জন্য হোলিকা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। ওই আগুন হল অশুভের বিরুদ্ধে শুভের জয়ের প্রতীক। হিরণ্যকশিপু ও হোলিকার মৃত্যুতে বিষ্ণু ভক্তরা আনন্দ উৎসব শুরু করলেন। বলা হয়, হোলিকা দহনের এই উৎসব থেকেই হোলির সূচনা।
আবার জানা যায়, বসন্ত পূর্ণিমার দিন শ্রীকৃষ্ণ কেশি নামে এক অসুরকে বধ করেন। (কোথাও কোথাও অরিষ্টাসুর) অত্যাচারী এই অসুরকে বধ করার পর তার রক্ত ছিটিয়ে সকলে আনন্দে মাতোয়ারা হয়। এ থেকেই নাকি হোলির সূত্রপাত। যদিও রাধা-কৃষ্ণের লীলাকে ঘিরে কাহিনিই বেশি প্রচলিত। শ্রীকৃষ্ণ একদিন বৃন্দাবনে রাধা এবং তার সখীদের সঙ্গে খেলা করছিলেন। সে সময় হঠাৎ রাধা এক বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি হয়ে লজ্জিত হন। শ্রীকৃষ্ণ রাধার লজ্জা ঢাকতে এবং বিষয়টি তার সখীদের কাছ থেকে গোপন রাখতে রাধা ও তাঁর সখীদের সঙ্গে আবির খেলা শুরু করে দেন। আবির দিয়ে রাঙিয়ে দেন সবাইকে। এ আবির খেলার স্মরণে হিন্দু সম্প্রদায় এই হোলি উৎসব পালন করে থাকে বলে প্রচলিত আছে। এছাড়া বলা হয়ে থাকে, কৃষ্ণ নিজের কৃষ্ণ রঙ ঢাকতে বিভিন্ন ধরনের রং মাখিয়ে রাধার সামনে হাজির হন। সেই থেকে এই উৎসবের শুরু।
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে হোলির রীতি ও বিশ্বাস বিভিন্ন। হিন্দিভাষী রাজ্যগুলিতে ‘হোলাকা’ কথাটিই হোলি বা হুলি উচ্চারণে বলা হয়ে থাকে। দোলপূর্ণিমার দিন বা তার আগের দিন সন্ধ্যায় খড়-বিচালি-কাঠ এক জায়গায় জড়ো করে তাতে আগুন লাগানোর উৎসব হচ্ছে হোলি। এর আর একটা নাম বহ্ন্যুৎসব। এর সঙ্গেই জুড়েছে আবির মাখা বা পিচকিরি দিয়ে রং খেলা। আগে হোলিকে হোরি নামেও ডাকা হত। বাংলাতেও রং উৎসবের আগের দিন সন্ধ্যায় শুকনো গাছের ডাল, কাঠ ইত্যাদি দিয়ে উঁচু ঘর (বুড়ির ঘর) বানিয়ে আগুনে পোড়ানো হয়। যদিও একে বাংলায় চাঁচর উৎসব বলে। এই চাঁচরেরও অন্যরকম ব্যাখ্যা আছে। দোল আমাদের ঋতুচক্রের শেষ উৎসব। বসন্তের আগমনে বৃক্ষের সমস্ত পুরানো পাতা ঝরে নতুন কচি পল্লবে সেজে ওঠে। গাছের শুকনো পাতা, তার ডালপালা একত্রিত করে জ্বালিয়ে দেওয়ার মধ্যে এক সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে। পুরনো জঞ্জাল, রুক্ষতা, শুষ্কতা সরিয়ে নতুনের আহ্বান হচ্ছে এই হোলি। অঞ্চলভেদে হোলি বা দোল উৎসবের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা কিংবা এর সঙ্গে লোককথার ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। পুরাকালে বিবাহিত নারীরা তাদের পরিবারের মঙ্গল কামনায় রাকা পূর্ণিমায় রঙের উৎসব পালন করতেন। দোল হিন্দু সভ্যতার অন্যতম প্রাচীন উৎসব। নারদ পুরাণ, ভবিষ্য পুরাণ ও ‘জৈমিনি মীমাংসা’য় রং উৎসবের বিবরণ পাওয়া যায়। ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের এক শিলালিপিতে রাজা হর্ষবর্ধন কর্তৃক ‘হোলিকোৎসব’ পালনের উল্লেখ পাওয়া যায়। হর্ষবর্ধনের নাটক ‘রত্নাবলী’-তেও হোলিকোৎসবের উল্লেখ রয়েছে। মধ্যযুগের বিখ্যাত চিত্রশিল্পগুলোর অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল রাধা-কৃষ্ণের রং উৎসব।
দোলযাত্রার দিন সকালে তাই ভক্তরা রাধা-কৃষ্ণ এবং শ্রীচৈতন্যের চরণে নানা রঙের আবির দিয়ে আত্মতৃপ্ত হন। তারপর ভক্তরা আবির নিয়ে পরস্পর রং খেলেন। ফাল্গুনী পূর্ণিমাকে দোলপূর্ণিমা বলা হয়। আবার এই পূর্ণিমা তিথিতেই শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্ম বলে একে গৌরপূর্ণিমা নামেও অভিহিত করা হয়। দোলযাত্রা উৎসবের একটি ধর্মনিরপেক্ষ দিকও রয়েছে। এই দিন সকাল থেকেই নারীপুরুষ নির্বিশেষে আবির ও বিভিন্ন প্রকার রং নিয়ে খেলায় মেতে উঠে সকলকে রাঙিয়ে তোলে।
হোলি তুমি কোথা হইতে আসিতেছ? উত্তর খুঁজতে হলে সন্ধান করতে হবে নানান লোককথা এবং লোকচারের গহনে। তবে বহু প্রাচীনকাল থেকেই যে এর সূত্রপাত তা বিভিন্ন গ্রন্থাবলি থেকে জানা যায়। সপ্তম শতাব্দীতে রচিত দণ্ডিন-এর সংস্কৃত নাটক দশকুমারচরিত ও শ্রীহর্ষের রত্নাবলী-তে হোলির কথা আছে। মুঘল মিনিয়েচারেও এ নিয়ে নানান কাহিনি চিত্রিত হয়েছে। ১৬৮৭ সালে অক্সফোর্ড লিখেছেন Houly, ১৬৯৮ সালে Hoolee, ১৭৯৮-Huli, ১৮০৯-Hoh-leey, ইত্যাদি। দোলের নাম অবশ্য বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম: বাংলা, ওড়িশা ও অসমে দোলযাত্রা, বিহারে ফাগুন, মহারাষ্ট্রে শিম্গা, গোয়া ও কোঙ্কণ উপকূলে শিগমো। আবার কোঙ্কণ উপকূলে এই উৎসব উক্কুলি নামে পরিচিত। মালয়ালম ভাষায় এর নাম মঞ্জলকুলি, যার অর্থ হল হলুদ-স্নান। কর্ণাটক ও তেলেঙ্গানার মানুষের বিশ্বাস, পবিত্র অগ্নিতে যাঁকে দাহ করা হয় তিনি হোলিকা নন, তিনি হলেন কামদেব, আর তাই ওঁরা বলেন কাম-দহন। তামিলনাড়ুতে দোল উৎসবের নাম পানগুনি-উত্থিরম্।
গুজরাতে হোলি চলে দু’দিন ধরে। হোলিকার আগুনে নারকেল এবং ভুট্টা আহুতি দেওয়া হয়। এই সময় রবিশস্য পেকে ওঠে, ফলে খাওয়া-দাওয়া, নাচ, গানের ধুমধাম অনেক বেশি। কমবয়সি ছেলেমেয়েরা ননি-ভাণ্ডের দখল নিয়ে ‘লড়াই’ চালায়। তবে আসল হোলি অবশ্যই কৃষ্ণ-কানহাইয়ার জন্মস্থান মথুরা ও বৃন্দাবনে। বারসানার ‘লাঠ-মার হোলি’ নিয়েই সবচেয়ে মাতামাতি। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য। মেয়েরা হোলির দিন পুরুষদের লাঠিপেটা করে, ছেলেরা দৃশ্যত সেই আদরের মার খেয়ে গান গেয়ে ওঠে, সে গান মেয়েদের রাগিয়ে দেওয়ার গান, মেয়েরা কপট রাগে পুরুষদের আরও বেশি করে মারতে থাকে।
আবার বারাণসীতে কাদামাটি গায়ে মেখে কুস্তি না হলে চলে না। আরও নিচে বিহারে ফাগুর প্রচলন মূলত ভোজপুরি উৎসব হিসাবে, সেখানে রঙের বদলে কাদার ব্যবহারই বেশি। তারপর মশলাসহ ভাঙের শরবত খেয়ে ঢোলক বাজিয়ে নাচগান।
আর এমন এক দোলের দিনেই তো আগমন শ্রীচৈতন্যদেবের। শচীমাতা জন্ম দিলেন নিমাইয়ের। নামকরণ করেছিলেন অদ্বৈত-আচার্যের স্ত্রী সীতা দেবী। বহু সন্তানের অকালমৃত্যুর অভিশাপ কাটিয়ে তাঁর জন্ম। তাই এই নাম। পাড়ার মেয়েরা ফরসা ছেলেটিকে ডাকতেন গোরা বলে। তাই তাঁর নাম গৌরাঙ্গও। পরে দীক্ষা হওয়ার পর শ্রীচৈতন্য। আর শ্রীচৈতন্য মানেই পুরীধাম। সেখানেই একমাত্র তাঁর দোল উৎসবের সঙ্গে যোগাযোগের চিত্র মেলে। হরিভক্তি বিলাসে বলা আছে, ফাল্গুন পূর্ণিমায় দোলযাত্রার বিধান শুধু জগন্নাথ ধাম সম্পর্কেই প্রযোজ্য। পুরীতে দোলের উৎসব ফাল্গুন মাসে প্রবর্তনের যে রেওয়াজ শুরু হয়, সেখান থেকেই বাংলায় চলে আসে এই সমারোহ। রথের সময় অনেক তীর্থযাত্রীরা ‘সেথো’দের সঙ্গে পুরী যেতেন। বিষয়টা তাঁদেরও জ্ঞাতব্য। আর শ্রীচৈতন্যদেব সেখানে অধিবাসী হওয়ায় পুরীর বৈষ্ণব সংস্কৃতি লোকবাহিত হয়ে বাংলাতেও চলে আসে। তাই চৈতন্যদেবের জীবনীতে কোথাও নবদ্বীপে দোল উৎসবের উল্লেখ নেই। শুধু নয়নানন্দ ঠাকুরের লেখা... যা শ্রীচৈতন্যের দোল খেলা নিয়ে..., যেখানে আমরা দেখি ‘বিরক্ত’ সন্ন্যাসী শ্রীচৈতন্য। নেই আবির কুঙ্কুমের ছড়াছড়ি। নেই ‘হোলি হ্যায়’। শুধুই বাজছে খোল আর করতাল। অথচ দোল খেলা চলছে। এখানে রাধা এবং কৃষ্ণকে আলাদাভাবে ভাবা যায় না। রাধিকার ভাব শ্রীচৈতন্যের মধ্যেও।
এক গ্রাম্য হোলির চিত্রপট
অনুচ্চ টিলার উপর একটানা বেজে চলেছে ডিডাম ডাম, ডিডাম ডাম, ডিম ডিম মিঠে মাদলের মনকাড়া আওয়াজ। চারদিকে আকাশমণি, ইউক্যালিপটাস, শাল, মহুয়া, পলাশ এবং সেগুনের দল মাথা উঁচু করে আকাশের পানে। জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে চরাচর। জ্যোৎস্নালোকে উঁকি দিচ্ছে রক্তরাগেভরা পলাশের ফাগ।
বসন্তের চাদরে মুড়ে চাঁদের আলোর রং নিয়ে নাচ-গানের আড্ডা জমে উঠেছে। কোথাও হচ্ছে আদিবাসীদের ক্যাংড়া ক্যানাস্তা বাজিয়ে গান, কোথাও হচ্ছে মাদলের মাতাল করা শব্দে কোমর দুলিয়ে নাচ। সেই গানের সুরে নাচের তালে দুলছে আধো-অন্ধকারে হাজার হাজার ছায়া ছায়া শরীর। সবাই যেন মহুয়ার রসে মাতাল। আজ যে হোলি। মহুয়ার রস আর পলাশের রং লেগেছে ওদের মনে।
কখন যে রাতের অন্ধকার ফিকে হয়ে যায়, তা টের পাওয়া যায় না। এরই নাম হোলি। যেখানে মানুষের মনপ্রাণ, আত্মা, শরীর, একাত্ম হয়ে আনন্দের শরিক হয়। পুরুলিয়া জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের ছোট একটি টিলায় প্রতি দোল পূর্ণিমার আগের রাতে চাঁচর উৎসব বসে। মেলা না হয়েও মেলায় রূপান্তরিত।
তিন দিনের উৎসব। প্রথম দিন চাঁচর, দ্বিতীয় দিন দোল এবং তৃতীয় দিন হোলি। এই উৎসব মানুষের গভীরে লুকিয়ে থাকা সৃষ্টির সম্ভাবনাকে প্রকৃতির কোলে বিকশিত করার প্রচেষ্টা। তাই আর পাঁচটা উৎসবের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। স্বতন্ত্র। খাওয়া-দাওয়ার প্রয়োজনও থাকে না। তবে পাওয়া যায় কম দামে বিশুদ্ধ মহুয়ার রস আর সস্তার মুরগির মাংস। তাতেই এই গরিব নিরন্ন মানুষগুলো দিন কয়েকের জন্য শিল্পী হয়ে ওঠেন। তাঁদের সৃষ্টিকর্মকে মেলে ধরার চেষ্টা করে। সেই সৃষ্টিকে কেউ যদি সম্মান জানিয়ে ঘরে নিয়ে যেতে চায় তো সহজেই নিয়ে যেতে পারে। তখনই ঘটে শিল্পীসত্তার পরিপূর্ণ বিকাশ। মানুষ আসে প্রাণের টানে। উৎসব ছিল মূলত আদিবাসী আর উপজাতি সম্প্রদায়ের। সেটাই বর্তমানে হয়ে উঠেছে সর্বজনীন।
 অঙ্কন ও গ্রাফিক্স: সোমনাথ পাল
 সহযোগিতায়: উজ্জ্বল দাস
 ছবি: তাপস কঁাড়ার
12th  March, 2017
আতশবাজির ইতিকথা
বারিদবরণ ঘোষ

আকাশের গায়ে বারুদের গন্ধটা কালীপুজোর মরশুমে খুব চেনা। তা সে কাঠকয়লার সঙ্গে সোরা মেশানো হলদে আলো হোক কিংবা বুড়িমার চকোলেট। আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহকারীদের হাত ধরে আতশবাজির সৃষ্টি। যা আজও আনন্দ দিয়ে চলেছে মানবমননকে। বিশদ

15th  October, 2017
বিজয়া স ম্মি ল নী 

‘মা’কে তাড়ানোর কোনও তাড়া যে তখন ছিল না! ছিল না মোবাইলে মজে শারদ মাধুর্যকেই উপেক্ষা করার বাতিক। রক্তের সম্পর্কের থেকে খুব কম যেতেন না পাড়ার দাদারা। সে যেন একটাই পরিবার। আর সেই পরিবারের সবে মিলে বিজয়া সম্মিলনী। কখনও মঞ্চে হাজির শ্যামলদা, কখনও বা মানবেন্দ্র। তাঁরাও যে কাছেরই মানুষ! নিছক ‘সাংসকিতিক সন্ধা’ নয়, বিসর্জনের বিষণ্ণতাকে সাক্ষী করে শারদ বাতাস যেন তখন বলত, শুভ বিজয়া। 
বিশদ

08th  October, 2017
সাত বাড়ি আর এক বারোয়ারি 

প্রফুল্ল রায়: তখনও দেশভাগ হয়নি। অখণ্ড বঙ্গের পূর্ব বাংলায় ঢাকা ডিস্ট্রিক্টের একটা বিশাল গ্রামে ছিল আমাদের আদি বাড়ি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম আমরা সেখানে কাটিয়েছি। পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ এবং শত জলধারায় বহমান আরও নদ-নদী, খাল-বিল, শস্যক্ষেত্র। অজস্র পাখপাখালি, আম জাম হিজল আর সুপারি বনের সারি, সব মিলিয়ে পূর্ববাংলা ছিল এক আশ্চর্য স্বপ্নের দেশ।
বিশদ

24th  September, 2017
অকাল বোধন 

নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি: ‘অকাল’ শব্দটির মধ্যে একটা অদ্ভুত এবং প্রায় বিপরীত ব্যঞ্জনা আছে। যেমন একটি কৈশোরগন্ধি যুবক ছেলেকে যদি বলি ‘অকালপক্ব’, তাহলে অবধারিতভাবে কথাটির মানে দাঁড়াবে যে, ছেলেটির যা বয়স এবং তদনুযায়ী যা তার বিদ্যাবুদ্ধি হওয়া উচিত কিংবা বয়স অনুযায়ী তার যা কথাবার্তার ধরন তৈরি হওয়া উচিত, তার চাইতে বেশি বয়সের বহু-অভিজ্ঞ মানুষের মতো সে কথা বলছে, বা তেমন ভাবসাব দেখাচ্ছে।
বিশদ

24th  September, 2017
বিশ্বকর্মা
সন্দীপন বিশ্বাস

তিনি দেবশিল্পী। দেবকুলের সকল কর্মের সাধক। রাবণের স্বর্ণলঙ্কা, শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকাপুরী, কিংবা হস্তিনাপুর—তঁার শিল্পছেঁায়ায় সব স্থাপত্যই পৌরাণিক উপাখ্যানে অমরত্ব লাভ করেছে। কখনও তিনি তৈরি করছেন হরধনু, কখনও বজ্র। যার সাহায্যে দুষ্টের দমন করেছেন দেবগণ।
বিশদ

17th  September, 2017
শিকাগো বিজয় ১২৫
তাপস বসু

১২৫ বছর আগে এক তরুণ সন্ন্যাসী সীমিত ক্ষমতা নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন সাগরপারে। শিকাগোর এক ধর্ম সম্মেলনে যদি পেশ করা যায় বৈদিক দর্শনের বিস্তারকে। শত বাধা পেরিয়ে মঞ্চে দঁাড়িয়ে আমেরিকার মানুষকে এক লহমায় করে ফেলেছিলেন ‘ভ্রাতা ও ভগিনী’। আজ ফিরে দেখা সেই স্বামী বিবেকানন্দকে। যঁার শিক্ষা আজও সমাজের ভিত্তিপ্রস্তর।
বিশদ

10th  September, 2017
 সেইসব শিক্ষক
কল্যাণ বসু

যখন আমরা ভাবি সব জেনে গিয়েছি, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকে আমাদের শেখা বন্ধ হয়ে যায়... বলেছিলেন সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ। যাঁর জন্মদিন পালিত হয় শিক্ষক দিবস হিসাবে। স্বনামধন্য বহু ব্যক্তির শিক্ষকরাও যে ছিলেন এমনই! কেউ প্রচারের আলোয় এসেছেন, কেউ আসেননি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। সবারই এমন মহান শিক্ষকদের সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল।
বিশদ

03rd  September, 2017
দুশো বছরের বাংলা কাগজ

 দিগদর্শন, বাঙ্গাল গেজেট ও সমাচার দর্পণের লেখনিতে ভর করে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার দ্বিশতবর্ষ পূর্ণ হচ্ছে। বাংলা খবরের কাগজ কখনও হয়ে উঠেছে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শক্তিকে নাস্তানাবুদ করার হাতিয়ার, কখনও অন্তর্জলি যাত্রার মতো সামাজিক রোগের মারণ ওষুধ, আবার কখনও পরিবর্তনের ঝড়। গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য, দাদাঠাকুরদের সাহসী কলমের সে ভার বহন করে এসেছেন সন্তোষকুমার ঘোষ, গৌরকিশোর ঘোষ এবং বরুণ সেনগুপ্তরা। ২০০ বছর পরও তাই বাংলা সংবাদপত্র একইরকম নবীন।
বিশদ

27th  August, 2017
ছাত্র রাজনীতির বিবর্তন
ডঃ পার্থ চট্টোপাধ্যায়

 ছাত্র রাজনীতির যাবতীয় ঐতিহ্য কি এখন তোলাবাজির অন্ধকারে? এ প্রশ্ন আজ সব মহলে। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ গঠনের লক্ষ্যে যে সংসদ দিশা দেখায়, তা আজ ফিকে। জেভিয়ার্স মডেলে রাজ্য ছাত্র রাজনীতি সংস্কার করছে। তা কি সঠিক পদক্ষেপ? মত পক্ষে আছে, বিপক্ষেও।
বিশদ

20th  August, 2017
নির্বাচনের অবাধ সুযোগ প্রয়োজন

তরুণকান্তি নস্কর: রাজ্য সরকার সম্প্রতি নোটিস দিয়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়ন কেমন করে গঠিত হবে, তা জানিয়েছে। কী সেই আইন, যার বিরুদ্ধে এত বিতর্ক? প্রথমেই উল্লেখ করা দরকার, বর্তমান বছরের শুরুতে বিধানসভায় যে উচ্চশিক্ষা আইন পাশ হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় এই নোটিস জারি হয়েছে। বিশদ

20th  August, 2017
 ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলা দরকার

 সমীর পুততুণ্ড: ২০১১ সালে এরাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকে শিক্ষায়তনে নতুন ধরনের গোলমালের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রথমে নতুন সরকারের সমর্থক এবং বিরোধী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে, পরবর্তী পর্যায়ে শাসক দল অনুগামীদের মধ্যেই গোলোযোগ শুরু হয়।
বিশদ

20th  August, 2017
একনজরে
রাতুল ঘোষ: দীপাবলীর আনন্দ অনেকটাই মাটি করে দিয়েছে নিম্নচাপের প্রভাবে গত দু’দিন ধরে ঘন মেঘের চাদর ফুঁড়ে নেমে আসা অকাল বর্ষণ। আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, এই ...

 ইসলামাবাদ, ২০ অক্টোবর (পিটিআই): দুর্নীতি সংক্রান্ত তৃতীয় মামলাতেও ধাক্কা খেলেন পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। বিদেশে এবং অন্যান্য সংস্থায় বিনিয়োগ নিয়ে নওয়াজকে অভিযুক্ত করেছে আদালত। এই মামলায় নওয়াজ দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর কারাদণ্ড হতে পারে। ...

বিএনএ, আরামবাগ: শুক্রবার গোঘাটের ভিকদাস এলাকায় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে সিলিং ফ্যান মাথায় পড়ে গিয়ে এক কর্মী জখম হয়েছেন। সুনীল বাগ নামে ওই কর্মীকে আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে ভরতি করা হয়। ...

সমৃদ্ধ দত্ত,নয়াদিল্লি, ২০ অক্টোবর: নোট বাতিল ও জিএসটি। এই দুটি ইস্যুই আগামী নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিজেপি ও সরকার। গুজরাত থেকে ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

নিকটবন্ধু দ্বারা বিশ্বাসঘাতকতা। গুরুজনদের স্বাস্থ্যহানি। মামলা-মোকদ্দমায় পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে থাকবে। দাম্পত্যজীবনে ভুল বোঝাবুঝিতে সমস্যা বৃদ্ধি।প্রতিকার: ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮০৫: ত্রাফালগারের যুদ্ধে ভাইস অ্যাডমিরাল লর্ড নেলসনের নেতৃত্বে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর কাছে পরাজিত হয় নেপোলিয়ানের বাহিনী
১৮৩৩: ডিনামাইট ও নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তক সুইডিশ আলফ্রেড নোবেলের জন্ম
১৮৫৪: ক্রিমিয়ার যুদ্ধে পাঠানো হয় ফ্লোরেন্স নাইটেঙ্গলের নেতৃত্বে ৩৮ জন নার্সের একটি দল
১৯৩১: অভিনেতা শাম্মি কাপুরের জন্ম
১৯৪০: আর্নেস্ট হেমিংওয়ের প্রথম উপন্যাস ফর হুম দ্য বেল টোলস-এর প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়
১৯৪৩: সিঙ্গাপুরে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
১৯৬৭: ভিয়েতনামের যুদ্ধের প্রতিবাদে আমেরিকার ওয়াশিংটনে এক লক্ষ মানুষের বিক্ষোভ হয়
২০১২: পরিচালক ও প্রযোজক যশ চোপড়ার মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.২০ টাকা ৬৫.৮৮ টাকা
পাউন্ড ৮৩.৭৮ টাকা ৮৬.৬৩ টাকা
ইউরো ৭৫.৬০ টাকা ৭৮.২৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,১৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৫৯০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,০২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
20th  October, 2017

দিন পঞ্জিকা

৪ কার্তিক, ২১ অক্টোবর, শনিবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৩/১, নক্ষত্র-স্বাতী, সূ উ ৫/৩৯/১৭, অ ৫/৩/২৯, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/২৫ মধ্যে পুনঃ ৭/১০ গতে ৯/২৭ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৪ গতে ২/৪৬ মধ্যে পুনঃ ৩/৩২ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ঘ ১২/৩৮ গতে ২/১৮ মধ্যে, বারবেলা ঘ ৭/৫ মধ্যে পুনঃ ১২/৪৭ গতে ২/১২ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৭ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ঘ ৬/৩৮ মধ্যে পুনঃ ৪/৬ গতে উদয়াবধি।
৪ কার্তিক, ২১ অক্টোবর, শনিবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ১/৩০/৪৬, স্বাতীনক্ষত্র, সূ উ ৫/৩৯/৪, অ ৫/৩/১৫, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/২৪/৪১ মধ্যে ও ৭/১০/১৭-৯/২৭/৮ মধ্যে ও ১১/৪৩/৫৮-২/৪৬/২৫ মধ্যে ও ৩/৩২/১-৫/৩/১৫ মধ্যে। রাত্রি ঘ ১২/৩৬/৪৫-২/১৭/৩১ মধ্যে, বারবেলা ১২/৪৬/৪১-২/১২/১২, কালবেলা ৭/৪/৩৫ মধ্যে, ৩/৩৭/৪৩-৫/৩/১৫, কালরাত্রি ৬/৩৭/৪৪ মধ্যে, ৪/৩/৩-৫/৩৭/৩২ মধ্যে।
৩০ মহরম 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
উচ্চরক্তচাপের সমস্যা, হাসপাতালে উপ-রাষ্ট্রপতি 
উচ্চরক্তচাপ ও সুগারের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভরতি হলেন ...বিশদ

20-10-2017 - 08:59:00 PM

প্রায় ৭০০টি ট্রেনের গতি বাড়তে চলেছে 

নভেম্বরে ভারতীয় রেল প্রায় ৭০০টি-র মতো দুরপাল্লার ট্রেনের গতি বাড়াতে ...বিশদ

20-10-2017 - 07:47:47 PM

নির্বাসন না তুললে অন্য দেশের হয়ে খেলার ইঙ্গিত দিলেন নির্বাসিত শ্রীসন্থ

20-10-2017 - 06:55:00 PM

 প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের দাদা পীযূষ মুখোপাধ্যায় প্রয়াত

20-10-2017 - 06:05:00 PM

প্রবল বৃষ্টি, সেচ দপ্তরে চালু কন্ট্রোল রুম

প্রবল বৃষ্টিতে নজর রাখতে সেচ দপ্তরে চালু কন্ট্রোল রুম। মনিটরিং ...বিশদ

20-10-2017 - 04:28:40 PM

কানপুরে প্ল্যাস্টিকের গোডাউনে আগুন, ঘটনাস্থলে দমকলের ৬টি ইঞ্জিন

20-10-2017 - 04:08:00 PM

দুপুরের পর থেকে আলিপুরদুয়ারে শুরু বৃষ্টি

20-10-2017 - 03:52:00 PM