প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

দোল যাত্রার উৎস সন্ধানে

গৌতম বিশ্বাস: বাংলায় আমরা বলি দোলযাত্রা। আর বাংলার গণ্ডি পেরলে তা-ই হোলি। এই হোলি মানে রঙের উৎসব। হোলি মানে শ্রীকৃষ্ণ ও রাধা। হোলি মানে ভালোবাসা, একাত্মতা। কিন্তু কীভাবে হল এই উৎসবের সূচনা? বসন্তের স্নিগ্ধতায় আবির গায়ে মাখার অপার্থিব আনন্দের গৌরচন্দ্রিকা ঠিক কোথায় হয়েছিল, সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা, পৌরাণিক উপাখ্যান থেকেই আমাদের কৌতূহল নিরসন করতে হয়। কখনও এ প্রসঙ্গে আসে হিরণ্যকশিপুর কাহিনি, কখনও বা শ্রীকৃষ্ণের অসুর বধের উপাখ্যান...।
স্কন্দপুরাণে ফাল্গুন মাহাত্ম্য গ্রন্থাংশে হোলিকা ও প্রহ্লাদের কথা রয়েছে। দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপু অপরাজেয় হওয়ার বর পেয়েছিলেন ব্রহ্মার কাছ থেকে। কোনও মানুষ বা জন্তু তাঁকে মারতে পারবে না। হিরণ্যকশিপু বধে অক্ষম দেবদেবীরাও। তাহলে তাঁকে আর মারবে কে? অহংকারে দিগবিদিগ জ্ঞানশূন্য হয়ে গেলেন তিনি। ঘোষণা করে দিলেন, কোনও দেবতা নয়, পুজো তাঁকেই করতে হবে। কিন্তু হিরণ্যকশিপুরের পুত্র প্রহ্লাদ ছিলেন শ্রীবিষ্ণুর মহা ভক্ত। বাবার আদেশ অমান্য করেই তিনি দিনরাত নারায়ণ বন্দনা করে গেলেন। ক্ষিপ্ত হলেন দৈত্যরাজ। নানাভাবে ছেলেকে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করলেন, কিন্তু কিছুতেই সফল না হয়ে ছেলেকে আগুনে পুড়িয়ে মারার জন্য বোন হোলিকাকে দায়িত্ব দিলেন তিনি। হোলিকাও ছিল দাদার মতো প্রচণ্ড নিষ্ঠুর। কারণ আগুনে তার কোনও ক্ষতি হত না। এমনই বর পেয়েছিল সে। হোলিকা কিশোর প্রহ্লাদকে ভুলিয়ে ভালিয়ে জ্বলন্ত চিতায় বসাল। ভগবান সর্বদাই ভক্তকে রক্ষা, আর দুষ্টদের দমন করেন। তাই প্রহ্লাদের কোনও ক্ষতি হল না বরং অন্যায় কাজ করার জন্য হোলিকা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। ওই আগুন হল অশুভের বিরুদ্ধে শুভের জয়ের প্রতীক। হিরণ্যকশিপু ও হোলিকার মৃত্যুতে বিষ্ণু ভক্তরা আনন্দ উৎসব শুরু করলেন। বলা হয়, হোলিকা দহনের এই উৎসব থেকেই হোলির সূচনা।
আবার জানা যায়, বসন্ত পূর্ণিমার দিন শ্রীকৃষ্ণ কেশি নামে এক অসুরকে বধ করেন। (কোথাও কোথাও অরিষ্টাসুর) অত্যাচারী এই অসুরকে বধ করার পর তার রক্ত ছিটিয়ে সকলে আনন্দে মাতোয়ারা হয়। এ থেকেই নাকি হোলির সূত্রপাত। যদিও রাধা-কৃষ্ণের লীলাকে ঘিরে কাহিনিই বেশি প্রচলিত। শ্রীকৃষ্ণ একদিন বৃন্দাবনে রাধা এবং তার সখীদের সঙ্গে খেলা করছিলেন। সে সময় হঠাৎ রাধা এক বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি হয়ে লজ্জিত হন। শ্রীকৃষ্ণ রাধার লজ্জা ঢাকতে এবং বিষয়টি তার সখীদের কাছ থেকে গোপন রাখতে রাধা ও তাঁর সখীদের সঙ্গে আবির খেলা শুরু করে দেন। আবির দিয়ে রাঙিয়ে দেন সবাইকে। এ আবির খেলার স্মরণে হিন্দু সম্প্রদায় এই হোলি উৎসব পালন করে থাকে বলে প্রচলিত আছে। এছাড়া বলা হয়ে থাকে, কৃষ্ণ নিজের কৃষ্ণ রঙ ঢাকতে বিভিন্ন ধরনের রং মাখিয়ে রাধার সামনে হাজির হন। সেই থেকে এই উৎসবের শুরু।
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে হোলির রীতি ও বিশ্বাস বিভিন্ন। হিন্দিভাষী রাজ্যগুলিতে ‘হোলাকা’ কথাটিই হোলি বা হুলি উচ্চারণে বলা হয়ে থাকে। দোলপূর্ণিমার দিন বা তার আগের দিন সন্ধ্যায় খড়-বিচালি-কাঠ এক জায়গায় জড়ো করে তাতে আগুন লাগানোর উৎসব হচ্ছে হোলি। এর আর একটা নাম বহ্ন্যুৎসব। এর সঙ্গেই জুড়েছে আবির মাখা বা পিচকিরি দিয়ে রং খেলা। আগে হোলিকে হোরি নামেও ডাকা হত। বাংলাতেও রং উৎসবের আগের দিন সন্ধ্যায় শুকনো গাছের ডাল, কাঠ ইত্যাদি দিয়ে উঁচু ঘর (বুড়ির ঘর) বানিয়ে আগুনে পোড়ানো হয়। যদিও একে বাংলায় চাঁচর উৎসব বলে। এই চাঁচরেরও অন্যরকম ব্যাখ্যা আছে। দোল আমাদের ঋতুচক্রের শেষ উৎসব। বসন্তের আগমনে বৃক্ষের সমস্ত পুরানো পাতা ঝরে নতুন কচি পল্লবে সেজে ওঠে। গাছের শুকনো পাতা, তার ডালপালা একত্রিত করে জ্বালিয়ে দেওয়ার মধ্যে এক সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে। পুরনো জঞ্জাল, রুক্ষতা, শুষ্কতা সরিয়ে নতুনের আহ্বান হচ্ছে এই হোলি। অঞ্চলভেদে হোলি বা দোল উৎসবের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা কিংবা এর সঙ্গে লোককথার ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। পুরাকালে বিবাহিত নারীরা তাদের পরিবারের মঙ্গল কামনায় রাকা পূর্ণিমায় রঙের উৎসব পালন করতেন। দোল হিন্দু সভ্যতার অন্যতম প্রাচীন উৎসব। নারদ পুরাণ, ভবিষ্য পুরাণ ও ‘জৈমিনি মীমাংসা’য় রং উৎসবের বিবরণ পাওয়া যায়। ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের এক শিলালিপিতে রাজা হর্ষবর্ধন কর্তৃক ‘হোলিকোৎসব’ পালনের উল্লেখ পাওয়া যায়। হর্ষবর্ধনের নাটক ‘রত্নাবলী’-তেও হোলিকোৎসবের উল্লেখ রয়েছে। মধ্যযুগের বিখ্যাত চিত্রশিল্পগুলোর অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল রাধা-কৃষ্ণের রং উৎসব।
দোলযাত্রার দিন সকালে তাই ভক্তরা রাধা-কৃষ্ণ এবং শ্রীচৈতন্যের চরণে নানা রঙের আবির দিয়ে আত্মতৃপ্ত হন। তারপর ভক্তরা আবির নিয়ে পরস্পর রং খেলেন। ফাল্গুনী পূর্ণিমাকে দোলপূর্ণিমা বলা হয়। আবার এই পূর্ণিমা তিথিতেই শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্ম বলে একে গৌরপূর্ণিমা নামেও অভিহিত করা হয়। দোলযাত্রা উৎসবের একটি ধর্মনিরপেক্ষ দিকও রয়েছে। এই দিন সকাল থেকেই নারীপুরুষ নির্বিশেষে আবির ও বিভিন্ন প্রকার রং নিয়ে খেলায় মেতে উঠে সকলকে রাঙিয়ে তোলে।
হোলি তুমি কোথা হইতে আসিতেছ? উত্তর খুঁজতে হলে সন্ধান করতে হবে নানান লোককথা এবং লোকচারের গহনে। তবে বহু প্রাচীনকাল থেকেই যে এর সূত্রপাত তা বিভিন্ন গ্রন্থাবলি থেকে জানা যায়। সপ্তম শতাব্দীতে রচিত দণ্ডিন-এর সংস্কৃত নাটক দশকুমারচরিত ও শ্রীহর্ষের রত্নাবলী-তে হোলির কথা আছে। মুঘল মিনিয়েচারেও এ নিয়ে নানান কাহিনি চিত্রিত হয়েছে। ১৬৮৭ সালে অক্সফোর্ড লিখেছেন Houly, ১৬৯৮ সালে Hoolee, ১৭৯৮-Huli, ১৮০৯-Hoh-leey, ইত্যাদি। দোলের নাম অবশ্য বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম: বাংলা, ওড়িশা ও অসমে দোলযাত্রা, বিহারে ফাগুন, মহারাষ্ট্রে শিম্গা, গোয়া ও কোঙ্কণ উপকূলে শিগমো। আবার কোঙ্কণ উপকূলে এই উৎসব উক্কুলি নামে পরিচিত। মালয়ালম ভাষায় এর নাম মঞ্জলকুলি, যার অর্থ হল হলুদ-স্নান। কর্ণাটক ও তেলেঙ্গানার মানুষের বিশ্বাস, পবিত্র অগ্নিতে যাঁকে দাহ করা হয় তিনি হোলিকা নন, তিনি হলেন কামদেব, আর তাই ওঁরা বলেন কাম-দহন। তামিলনাড়ুতে দোল উৎসবের নাম পানগুনি-উত্থিরম্।
গুজরাতে হোলি চলে দু’দিন ধরে। হোলিকার আগুনে নারকেল এবং ভুট্টা আহুতি দেওয়া হয়। এই সময় রবিশস্য পেকে ওঠে, ফলে খাওয়া-দাওয়া, নাচ, গানের ধুমধাম অনেক বেশি। কমবয়সি ছেলেমেয়েরা ননি-ভাণ্ডের দখল নিয়ে ‘লড়াই’ চালায়। তবে আসল হোলি অবশ্যই কৃষ্ণ-কানহাইয়ার জন্মস্থান মথুরা ও বৃন্দাবনে। বারসানার ‘লাঠ-মার হোলি’ নিয়েই সবচেয়ে মাতামাতি। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য। মেয়েরা হোলির দিন পুরুষদের লাঠিপেটা করে, ছেলেরা দৃশ্যত সেই আদরের মার খেয়ে গান গেয়ে ওঠে, সে গান মেয়েদের রাগিয়ে দেওয়ার গান, মেয়েরা কপট রাগে পুরুষদের আরও বেশি করে মারতে থাকে।
আবার বারাণসীতে কাদামাটি গায়ে মেখে কুস্তি না হলে চলে না। আরও নিচে বিহারে ফাগুর প্রচলন মূলত ভোজপুরি উৎসব হিসাবে, সেখানে রঙের বদলে কাদার ব্যবহারই বেশি। তারপর মশলাসহ ভাঙের শরবত খেয়ে ঢোলক বাজিয়ে নাচগান।
আর এমন এক দোলের দিনেই তো আগমন শ্রীচৈতন্যদেবের। শচীমাতা জন্ম দিলেন নিমাইয়ের। নামকরণ করেছিলেন অদ্বৈত-আচার্যের স্ত্রী সীতা দেবী। বহু সন্তানের অকালমৃত্যুর অভিশাপ কাটিয়ে তাঁর জন্ম। তাই এই নাম। পাড়ার মেয়েরা ফরসা ছেলেটিকে ডাকতেন গোরা বলে। তাই তাঁর নাম গৌরাঙ্গও। পরে দীক্ষা হওয়ার পর শ্রীচৈতন্য। আর শ্রীচৈতন্য মানেই পুরীধাম। সেখানেই একমাত্র তাঁর দোল উৎসবের সঙ্গে যোগাযোগের চিত্র মেলে। হরিভক্তি বিলাসে বলা আছে, ফাল্গুন পূর্ণিমায় দোলযাত্রার বিধান শুধু জগন্নাথ ধাম সম্পর্কেই প্রযোজ্য। পুরীতে দোলের উৎসব ফাল্গুন মাসে প্রবর্তনের যে রেওয়াজ শুরু হয়, সেখান থেকেই বাংলায় চলে আসে এই সমারোহ। রথের সময় অনেক তীর্থযাত্রীরা ‘সেথো’দের সঙ্গে পুরী যেতেন। বিষয়টা তাঁদেরও জ্ঞাতব্য। আর শ্রীচৈতন্যদেব সেখানে অধিবাসী হওয়ায় পুরীর বৈষ্ণব সংস্কৃতি লোকবাহিত হয়ে বাংলাতেও চলে আসে। তাই চৈতন্যদেবের জীবনীতে কোথাও নবদ্বীপে দোল উৎসবের উল্লেখ নেই। শুধু নয়নানন্দ ঠাকুরের লেখা... যা শ্রীচৈতন্যের দোল খেলা নিয়ে..., যেখানে আমরা দেখি ‘বিরক্ত’ সন্ন্যাসী শ্রীচৈতন্য। নেই আবির কুঙ্কুমের ছড়াছড়ি। নেই ‘হোলি হ্যায়’। শুধুই বাজছে খোল আর করতাল। অথচ দোল খেলা চলছে। এখানে রাধা এবং কৃষ্ণকে আলাদাভাবে ভাবা যায় না। রাধিকার ভাব শ্রীচৈতন্যের মধ্যেও।
এক গ্রাম্য হোলির চিত্রপট
অনুচ্চ টিলার উপর একটানা বেজে চলেছে ডিডাম ডাম, ডিডাম ডাম, ডিম ডিম মিঠে মাদলের মনকাড়া আওয়াজ। চারদিকে আকাশমণি, ইউক্যালিপটাস, শাল, মহুয়া, পলাশ এবং সেগুনের দল মাথা উঁচু করে আকাশের পানে। জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে চরাচর। জ্যোৎস্নালোকে উঁকি দিচ্ছে রক্তরাগেভরা পলাশের ফাগ।
বসন্তের চাদরে মুড়ে চাঁদের আলোর রং নিয়ে নাচ-গানের আড্ডা জমে উঠেছে। কোথাও হচ্ছে আদিবাসীদের ক্যাংড়া ক্যানাস্তা বাজিয়ে গান, কোথাও হচ্ছে মাদলের মাতাল করা শব্দে কোমর দুলিয়ে নাচ। সেই গানের সুরে নাচের তালে দুলছে আধো-অন্ধকারে হাজার হাজার ছায়া ছায়া শরীর। সবাই যেন মহুয়ার রসে মাতাল। আজ যে হোলি। মহুয়ার রস আর পলাশের রং লেগেছে ওদের মনে।
কখন যে রাতের অন্ধকার ফিকে হয়ে যায়, তা টের পাওয়া যায় না। এরই নাম হোলি। যেখানে মানুষের মনপ্রাণ, আত্মা, শরীর, একাত্ম হয়ে আনন্দের শরিক হয়। পুরুলিয়া জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের ছোট একটি টিলায় প্রতি দোল পূর্ণিমার আগের রাতে চাঁচর উৎসব বসে। মেলা না হয়েও মেলায় রূপান্তরিত।
তিন দিনের উৎসব। প্রথম দিন চাঁচর, দ্বিতীয় দিন দোল এবং তৃতীয় দিন হোলি। এই উৎসব মানুষের গভীরে লুকিয়ে থাকা সৃষ্টির সম্ভাবনাকে প্রকৃতির কোলে বিকশিত করার প্রচেষ্টা। তাই আর পাঁচটা উৎসবের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। স্বতন্ত্র। খাওয়া-দাওয়ার প্রয়োজনও থাকে না। তবে পাওয়া যায় কম দামে বিশুদ্ধ মহুয়ার রস আর সস্তার মুরগির মাংস। তাতেই এই গরিব নিরন্ন মানুষগুলো দিন কয়েকের জন্য শিল্পী হয়ে ওঠেন। তাঁদের সৃষ্টিকর্মকে মেলে ধরার চেষ্টা করে। সেই সৃষ্টিকে কেউ যদি সম্মান জানিয়ে ঘরে নিয়ে যেতে চায় তো সহজেই নিয়ে যেতে পারে। তখনই ঘটে শিল্পীসত্তার পরিপূর্ণ বিকাশ। মানুষ আসে প্রাণের টানে। উৎসব ছিল মূলত আদিবাসী আর উপজাতি সম্প্রদায়ের। সেটাই বর্তমানে হয়ে উঠেছে সর্বজনীন।
 অঙ্কন ও গ্রাফিক্স: সোমনাথ পাল
 সহযোগিতায়: উজ্জ্বল দাস
 ছবি: তাপস কঁাড়ার
12th  March, 2017
ছাত্র রাজনীতির বিবর্তন
ডঃ পার্থ চট্টোপাধ্যায়

 ছাত্র রাজনীতির যাবতীয় ঐতিহ্য কি এখন তোলাবাজির অন্ধকারে? এ প্রশ্ন আজ সব মহলে। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ গঠনের লক্ষ্যে যে সংসদ দিশা দেখায়, তা আজ ফিকে। জেভিয়ার্স মডেলে রাজ্য ছাত্র রাজনীতি সংস্কার করছে। তা কি সঠিক পদক্ষেপ? মত পক্ষে আছে, বিপক্ষেও।
বিশদ

20th  August, 2017
নির্বাচনের অবাধ সুযোগ প্রয়োজন

তরুণকান্তি নস্কর: রাজ্য সরকার সম্প্রতি নোটিস দিয়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়ন কেমন করে গঠিত হবে, তা জানিয়েছে। কী সেই আইন, যার বিরুদ্ধে এত বিতর্ক? প্রথমেই উল্লেখ করা দরকার, বর্তমান বছরের শুরুতে বিধানসভায় যে উচ্চশিক্ষা আইন পাশ হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় এই নোটিস জারি হয়েছে। বিশদ

20th  August, 2017
 ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলা দরকার

 সমীর পুততুণ্ড: ২০১১ সালে এরাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকে শিক্ষায়তনে নতুন ধরনের গোলমালের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রথমে নতুন সরকারের সমর্থক এবং বিরোধী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে, পরবর্তী পর্যায়ে শাসক দল অনুগামীদের মধ্যেই গোলোযোগ শুরু হয়।
বিশদ

20th  August, 2017
 আলোচনা কিন্তু প্রয়োজন ছিল

 শুভঙ্কর সরকার: ‘দ্বার বন্ধ করে ভ্রমটারে রুখি/ সত্য বলে আমি তবে কোন পথে ঢুকি’... কলেজে ছাত্রছাত্রীদের রাজনৈতিক লড়াই রুখতে ছাত্র সংসদের অবসান ঘটানোর যে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তাতে আমার এই কথাটাই মনে পড়ল।
বিশদ

20th  August, 2017
বন্দেমাতরম 
রজত চক্রবর্তী

জাতীয় পতাকাটা আজও হাতে ধরে হেঁটে চলেছেন মাতঙ্গিনী হাজরা। উচ্চশির। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, প্রফুল্লনলিনী ব্রহ্ম, কল্পনা দত্ত... নারীশক্তির এক অদম্য জাগরণ দেখেছিল পরাধীন ভারত। মায়েরা, বোনেরা পথে নেমে-না নেমে অংশ নিয়েছিলেন বিপ্লবে। তবু এমনই দুই সংগ্রামী শান্তি ঘোষ, সুনীতি চৌধুরির জন্মশতবর্ষ চলে গেল নীরবে...।
বিশদ

13th  August, 2017
 কৃপণ সমাচার!

 কৃপণ কত প্রকার ও কী কী? এমন রচনা ছেলেবেলায় লিখতে না হলেও এ ব্যাপারে জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার ঝুলি প্রায় সবারই পূর্ণ। কেউ কেউ আবার কৃপণ শব্দটির বদলে হিসাবি বা মিতব্যয়ী ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করেন। যদিও তাতে কৃপণদের নিয়ে সমাচারে কোনও দিন, কোনও যুগেই ঘাটতি হয় না।
বিশদ

06th  August, 2017
আলিপুর জেলের অন্তরালে

 আলিপুর সেন্ট্রাল জেল। কানাইলাল দত্ত, সত্যেন বসু, দীনেশ গুপ্ত... একের পর এক বিপ্লবীকে ফাঁসির দড়ি বরণ করতে হয়েছে এখানে। শত অত্যাচার সত্ত্বেও যেখানে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছেন লৌহকপাটের আড়ালে থাকা বিপ্লবীরা। ভয় না ধরিয়ে সঙ্গীর মৃত্যু সাহস জুগিয়েছে তঁাদের। সেলুলার জেল হেরিটেজের মর্যাদা পেলেও আলিপুর পায়নি। সেখানে আজও কুঠুরির কোণায় কোণায় শোনা যাবে বিপ্লবের বজ্রনির্ঘোষ।
বিশদ

30th  July, 2017
 অমরনাথের পথে-প্রান্তরে

 দুর্গম অতিক্রম করে, জঙ্গি হামলা-মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে এগিয়ে চলা একবার দর্শনের আশায়। বালতাল হোক বা পহেলগাঁও, যাত্রাপথ যাই হোক না কেন, প্রকৃতি সেখানেই অপার সৌন্দর্য উজাড় করে রেখেছে। বিন্দু বিন্দু জল জমে আকার নিয়েছে শিবলিঙ্গের। আর তাকে ঘিরেই সম্প্রীতির এক অদ্ভূত মিলন উৎসব। সে যে অমরনাথ। বিশদ

23rd  July, 2017
খবর শেষ

 আকাশবাণী... খবর পড়ছি...। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমল থেকে শুরু হওয়ার পর বঙ্গজীবনের অঙ্গ হিসাবে জড়িয়ে যাওয়া সেই অভ্যাস হাতছাড়া হয়েছে বহুযুগ আগেই। টিভি, ইন্টারনেট, ফেসবুকের জমানায় যা আজ প্রায় গতজন্মের স্মৃতি বলে মনে হয়। কিন্তু একটা সময় এই তো ছিল বাইরের জানালায় চোখ রাখার জন্য মানুষের একমাত্র দূরবীন! সেই ইভা নাগ, নীলিমা সান্যাল, দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্রেকডাউন, ভুল খবর...। সে এখন নস্টালজিয়া। আজ দিল্লির বেতার খবর যে সত্যিই শেষ!
বিশদ

16th  July, 2017
 বৃষ্টিভেজা

 গ্রীষ্মকালীন এই বঙ্গে বর্ষার আগমন যেন ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার মতো। আকাশকে মুখ ভার করে ঝরে পড়তে দেখলেই মন আনচান করে খিচুড়ি, ইলিশ মাছের জন্য। ঘণ্টাখানেকের বর্ষণে তিলোত্তমা এক হাঁটু জল উপহার দিলেও তা ঠেলে বাড়ি ফেরাই আলাদা আনন্দ। আর গুনগুন করে ওঠা বিশ্বকবির সৃষ্টি। মনে পড়ে যাওয়া অপু-দুর্গার বৃষ্টি ভেজা। কিংবা স্কুলের সেই রেনি ডে। এ ঋতু তাই যে আলাদা আলাদা অনুভূতির এক সম্পৃক্ত দ্রবণ। বিশদ

09th  July, 2017
চিকিৎসা রঙ্গ 

কল্যাণ বসু: ‘পাসকরা ডাক্তার নই, কিন্তু তাতে কি? বাড়ি বসিয়া বই পড়িয়া কি আর ডাক্তারী শেখা যায় না? আজ সাত আট বছর তো ডাক্তারী করিতেছি, অভিজ্ঞতা বলিয়া একটা জিনিসও তো আছে! পাসকরা ডাক্তারের হাতে কি আর রোগী মরে না?’ এইটুকু পড়ে কী মালুম হচ্ছে?
বিশদ

02nd  July, 2017



একনজরে
 নয়াদিল্লি, ২০ আগস্ট (পিটিআই): ৭৩তম জন্মদিনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে স্মরণ করল গোটা দেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ট্যুইটারে লিখলেন, ‘ জন্মদিনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে ...

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: দাঁতন বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির দুই নিখোঁজ ছাত্রীর খোঁজ মিলল মুম্বইয়ে। তাদের খোঁজে রবিবারই পুলিশের একটি দল মুম্বই ঩গিয়েছে। দাঁতন থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ দুই ছাত্রীর মোবাইলের সূত্র ধরে তাদের খোঁজ পাওয়া যায়। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইতিমধ্যেই দক্ষিণ দমদম পুরসভা এলাকায় ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। অবশেষে নড়েচড়ে বসল দক্ষিণ দমদম পুরসভা। পুরসভার যে সমস্ত ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি, সেখানে গাপ্পি মাছ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মিষ্টির উপর পাঁচ শতাংশ হারে জিএসটি চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর প্রতিবাদে আজ সোমবার রাজ্যজুড়ে মিষ্টির দোকানগুলিতে ধর্মঘট ডাকল পশ্চিমবঙ্গ মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সমিতি। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের ক্ষেত্রে ভাবনা-চিন্তা করে বিষয় নির্বাচন করলে ভালো হবে। প্রেম-প্রণয়ে বাধাবিঘ্ন থাকবে। কারও সঙ্গে মতবিরোধ ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৭৮- ভিনু মানকড়ের মৃত্যু
১৯৮৬- উসেইন বোল্টের জন্ম
১৯৯৫- সুব্রহ্মণ্যম চন্দ্রশেখরের মৃত্যু
২০০৬- ওস্তাদ বিসমিল্লা খানের মৃত্যু
১৯৭২- বন সংরক্ষণ আইন চালু


ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৩৫ টাকা ৬৫.০৩ টাকা
পাউন্ড ৮১.২৫ টাকা ৮৪.২১ টাকা
ইউরো ৭৩.৯৬ টাকা ৭৬.৫৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
19th  August, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) 29465
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) 27955
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) 28375
রূপার বাট (প্রতি কেজি) 39100
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) 39200
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
20th  August, 2017

দিন পঞ্জিকা

৪ ভাদ্র, ২১ আগস্ট, সোমবার, অমাবস্যা রাত্রি ১২/০, অশ্লেষানক্ষত্র দিবা ৩/৫১, সূ উ ৫/১৯/১৪, অ ৬/০/২৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/০ পুনঃ ১০/২৩-১২/৫৬ রাত্রি ৬/৪৫-৯/১ পুনঃ ১১/১৭-২/১৮, বারবেলা ৬/৫৪-৮/২৯ পুনঃ ২/৫১-৪/২৬, কালরাত্রি ১০/১৫-১১/৪০। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ (ভারতে অদৃশ্য)
৪ ভাদ্র, ২১ আগস্ট, সোমবার, অমাবস্যা রাত্রি ১২/৮/৯, অশ্লেষানক্ষত্র অপরাহ্ণ ৪/৫৪/৪০, সূ উ ৫/১৬/৪৮, অ ৬/২/২৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৮/৫৩, ১০/২৩/২-১২/৫৬/১০ রাত্রি ৬/৪৭/২২-৯/২/২০, ১১/১৭/১৭-২/১৭/১২, বারবেলা ২/৫১/০-৪/২৬/৪২, কালবেলা ৬/৫২/৩০-৮/২৮/১২, কালরাত্রি ১০/১৫/১৮-১১/৩৯/৩৬। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ (ভারতে অদৃশ্য)
২৮ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বন্যায় ৭ লক্ষ হেষ্টর চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্থ: কৃষিমন্ত্রী

 বন্যায়য় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে ৭ লক্ষ হেক্টর চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যার মধ্যেো ৪ লক্ষ জমি উত্তরের। কৃষিতে প্রাথমিক হিসেবে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। যার মধ্যে উত্তরে ৫৩৪ কোটি ৫১ লক্ষ টাকাো জানালেন কৃষি মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু।

05:24:00 PM

 তামিলনাড়ুর উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ পনিরসেলভামের

 এআএিডিএমকে-র দুই শিবিরের সংযুক্তিকরণের পর তামিলনাড়ুর উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন পনিরসেলভাম

04:49:00 PM

বন্যার জন্য কেন্দ্রে কাছে উপযুক্ত প্যাকেজ চাইব: মমতা

কেন্দ্রের কাছে উপযুক্ত প্যাকেজের দাবি করতে চলেছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান গোটা রাজ্যে এবছর বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। কেবলমাত্র উত্তরবঙ্গেই মৃত্যু হয়েছে ৪৫ জনের। আর গোটা রাজ্যে ১৫২জনের। রাজ্যে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সংখ্যা দেড় কোটি ছাড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ত্রাণ নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। তাই যতটা প্রয়োজন ততটাই ত্রাণ মিলবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, অনেক সড়ক থেকেই জল নামতে শুরু করেছে, তাই যে সমস্ত সড়ক থেকে জল নেমে যাবে, সেখান দিয়েই ধীরে ধীরে ট্রাক পাঠানো হবে। কারণ অনেক ট্রাক পচনশীল দ্রব্য নিয়ে আটকে রয়েছে। পাশাপাশি এই বন্যার নামে যে সমস্ত অসাধু ব্যবসায়ী দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করতে চেষ্টা করছেন তাদের বিরুদ্ধেও নজরদারি চালানো হবে বলে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, জল নামলেই  বন্যা সংক্রান্ত রোগব্যাধির প্রতিষেধক এবং পানীয় জলের পথগুলিকে পরিশ্রুত করার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

04:47:00 PM

সিলেবাস কমিটির প্রস্তাবে সিলমোহর রাজ্য সরকারের, সব ক্লাসে পড়তে হবে কন্যাশ্রী স্বীকৃতি, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে কন্যাশ্রী

04:12:00 PM

বন্যায় দেড় কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: মুখ্যমন্ত্রী

04:10:07 PM

রাজ্যে যথেষ্ট পরিমানে ত্রান সামগ্রী মজুত রয়েছে: মুখ্যমন্ত্রী

04:10:06 PM