বিশেষ নিবন্ধ
 

মহরম ও বিসর্জন একইদিনে কি একান্তই অসম্ভব?
মোশারফ হোসেন

এখন শহরের একটু বাইরে গেলেই পথের পাশে, মাঠের মাঝে, নদীর চরে আরও কত জায়গায় ইতিউতি চোখে পড়ছে সবুজের মাঝে রাশি রাশি সাদা কাশফুলের মেলা। বৃষ্টি পুরোপুরি বিদায় না নিলেও গত ক’দিন আকাশের বুকেও রং-বেরঙের খেলা। পুজো আসছে। আর সাত দিন বাদেই মহালয়া। বাংলার গ্রাম শহরে, শহরতলি মফস্‌সলে ভোরের বাতাসে কাঁপন ধরিয়ে রেডিও টিভিতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণের জলদগম্ভীর কণ্ঠস্বরে বাঙালির ঘুম ভাঙবে। হাজার মন খারাপের মধ্যেও একটা ভালো লাগার অনুভূতি আমাদের মজ্জায় মজ্জায় চারিয়ে যাবে। পুজো এসে গেল। দুর্গাপুজো মূলত বাঙালি হিন্দুর ধর্মীয় উৎসব। কিন্তু ওই আনন্দযজ্ঞে অন্যরাও কাছে এসে অথবা দূরে থেকেও কোনও না কোনওভাবে শামিল হয়ে যান। প্রতিবেশী বাংলাদেশে ইদানীং একটা কথা খুব চালু হয়েছে—ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। এ বাংলায় ওরকম আপ্তবাক্য সোচ্চারে উচ্চারিত না হলেও ব্যাপারটি কার্যত একইরকম। ধর্মীয় বিশ্বাস, প্রচলিত রীতি, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির কারণে পুজোর মূল পর্বটির সঙ্গে অ-হিন্দুর প্রত্যক্ষ যুক্ত হওয়া নেহাতই ব্যতিক্রমী হলেও বাকি পর্বগুলিতে শামিল হতে কারও কোথাও নেই মানা। প্রতিমা দর্শন থেকে শুরু করে পুজোকে কেন্দ্র করে নানাবিধ শৈল্পিক কর্মকাণ্ডের রস আস্বাদন—সবকিছুই আকাঙ্ক্ষিত হয়ে দাঁড়ায়। কোনও কোনও পারিবারিক পুজোর আয়োজন বা অন্য কোনও অপরিহার্য বিষয়ের সঙ্গে বংশানুক্রমে ভিনধর্মের কিছু মানুষের প্রত্যক্ষ যোগ স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তাই, একটি বিশেষ ধর্মের উৎসবটি দুই বাংলায় বহুকাল ধরেই সর্বজনীন হয়ে উঠেছে। যত দিন যাচ্ছে সর্বজনীনতা আরও বিস্তৃত হচ্ছে। সত্যিই শারদোৎসব ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালির জাতীয় উৎসব। এই উৎসবের জন্য সিংহভাগ বাঙালি অপেক্ষা করে থাকে। দিন গো঩নে। মুসলমানের ইদ ও হিন্দুর দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে যে বিপুল অঙ্কের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড চলে তাতে উপকৃতদের মধ্যে ধর্মীয় ভেদাভেদ থাকে না। ইদের বৃহত্তর অর্থ আনন্দ। আবার, দশভুজাও আনন্দময়ী। আনন্দময়ী সবার জন্যই আনন্দ আনেন। শারদোৎসব মানে বাংলার হিন্দুর আনন্দ, মুসলিমের আনন্দ, শিখের আনন্দ, জৈনের আনন্দ, বৌদ্ধের আনন্দ, খ্রিস্টানেরও আনন্দ।
কিন্তু এই বিপুল আনন্দযজ্ঞের মাঝেও গত কয়েক বছর সামান্য হলেও বেসুরো হাওয়ার অনুভূতি এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে প্রতিমা নিরঞ্জনকে উপলক্ষ করে বাঙালির একাংশের মধ্যে ক্ষোভের একটা চোরাস্রোত ক্রমশ দানা বাঁধছে। উপলক্ষ রাজ্যের প্রধান দুই ধর্মের দুটি প্রধান উৎসব পিঠোপিঠি পড়ে যাওয়া। এবছর মহরম অনুষ্ঠিত হবে আগামী পয়লা অক্টোবর। দুর্গাপুজোর একাদশীর দিন। পুজো আচ্চা হয় তিথি নক্ষত্র ধরে। পূর্ণিমা, অমাবস্যাসহ চাঁদের গতিবিধি এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শবেবরাত, ইদ, মহরমও তাই। চাঁদের অবস্থান কেন্দ্রিক। বদলে দেওয়ার উপায় নেই। মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব অনুষ্ঠানগুলি প্রধানত এক দিনের। তুলনায় সেগুলির সংখ্যাও কম। তাই ওই বিশেষ দিনগুলি নিয়ে আবেগের শেষ থাকে না। বাংলায় দুর্গাপুজো হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্য। মহরমও এদেশে, এই তল্লাটে গত প্রায় একহাজার বছর ধরে একটি পরিচিত অনুষ্ঠান। প্রায় চৌদ্দোশো বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যে ইউফ্রেটিস নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে এক নির্মম গণহত্যাকাণ্ডের স্মরণে গোটা পৃথিবীতেই মুসলিমরা এই দিনটিকে পালন করে থাকেন। কারবালায় সেই দিনটিতে যুদ্ধের আবহেই ওই মর্মন্তুদ ঘটনাটি ঘটেছিল। তাই মুসলিমদের বড় অংশ আরবি মহরম মাসের প্রথম ন’দিন বিশেষ কৃচ্ছ্বসাধনের ব্রত পালন করেন। এরপর দশম অর্থাৎ মহরমের দিন কারবালার নিহতদের স্মরণে, তাঁদের আত্মার কল্যাণ কামনায় দানধ্যান ও বিশেষ প্রার্থনায় মগ্ন থাকলেও ওই সম্প্রদায়েরই অনেকে ওইদিন যুদ্ধযাত্রার অনুকরণে শোভাযাত্রা বের করেন। কেউ কেউ ওই শোভাযাত্রার মধ্যেই প্রকাশ্যে আত্মপীড়নের মাধ্যমে আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটান। নিজেকে রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত করেন। বাংলার গ্রামাঞ্চলের বহু এলাকায় চড়কপুজো উপলক্ষে অনেকটা একইধরনের আত্মপীড়নের দৃশ্য দেখা যায়। মহরমের শোভাযাত্রা বের হয় একাধিক। একাধিক এলাকায়। সেগুলি দীর্ঘ পথ পরিক্রমা করে। ফলে সময় লাগে অনেকটাই। শোভাযাত্রার ফলে বহু সময়ই রাজপথ আংশিক বা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়।
অন্যদিকে, প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষেত্রেও কমবেশি একই ঘটনা ঘটে। পারিবারিক বা ছোটখাটো সর্বজনীন পুজোর প্রতিমা বিসর্জনে বড়সড় শোভাযাত্রা হয় না বললেই চলে। কিন্তু নামীদামি পুজো আয়োজকরা প্রতিমা বিসর্জনের পর্বটিকেও যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করতে চান। প্রচুর মানুষ, আলো, বাদ্য-বাজনা, প্রতিমা বহনকারী গাড়ির সারি এই শোভাযাত্রাগুলির অঙ্গ। সব মিলিয়ে দৃষ্টিনন্দন। মনোমুগ্ধকরও। তবে, এদের জন্যও রাজপথে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। অবশ্য, সাধারণত সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় এবং শোভাযাত্রাগুলি সন্ধ্যার পর বেরনোয় ততটা অসুবিধা হয় না। সর্বোপরি, বিষয়টি সম্পর্কে নগরবাসীর সিংহভাগের ইতিবাচক মানসিক প্রস্তুতি থাকে। মানসিক সমর্থনও। বিজয়াদশমীর পুজোপর্ব সম্পন্ন হওয়ার পর ওইদিনই প্রতিমা বিসর্জন হতে পারলেও তা পরবর্তী দু’-তিনদিন পর্যন্ত গড়ায়। একাদশী, দ্বাদশী, এমনকী তারপরও।
এবছর ওই একাদশীর দিনই মহরম। বিষয়টি রাজ্য প্রশাসনের কাছে রীতিমতো মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহু পারিবারিক ও বারোয়ারি পুজোর উদ্যোক্তা বিজয়াদশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনে অনাগ্রহী। আবার, মহরমের দিনবদলও অসম্ভব। রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু-নাগরিকের আবেগকে গুরুত্ব দিতেই হবে। আবার, মোট রাজ্যবাসীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মুসলিমের আবেগও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিশেষত, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সমস্ত ধর্মাবলম্বী নাগরিকেরই কাছের মানুষ। তিনি সবারই উন্নয়ন চান। সবাইকে সম্মান ও মর্যাদা দিতে সাধ্যের অতীত চেষ্টা করেন। পুজোয় যান, ইদের অনুষ্ঠানে যান। যান অন্যান্য ধর্মের নানা অনুষ্ঠানেও। বাংলার সব ধর্মের মানুষই যাতে নিজের নিজের উৎসব আরও ভালোভাবে পালন করতে পারেন সেজন্য তিনি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছেন। তাই সরকারি ছুটির দিনের সংখ্যা বেড়েছে। রাজ্যের উন্নয়নে গত পাঁচ ছ বছর ধরে নজিরবিহীন বিপুল কর্মযজ্ঞ চালানো ছাড়াও ধর্মীয় বিষয়ে সংকীর্ণহীনতা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয়তম নেত্রীতে পরিণত করেছে।
সেই মুখ্যমন্ত্রী তথা জননেত্রী চান এবারও দুর্গাপুজোর বিসর্জনপর্ব সুসম্পন্ন হোক, নির্বিঘ্ন হোক মহরমও। তাই তাঁর সরকার একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। দশমীর সন্ধ্যার পর থেকে গোটা রাত ও একাদশী অর্থাৎ মহরমের দিনটিতে প্রতিমা বিসর্জনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বলা হয়েছে, ওই সময়সীমার আগে ও পরে বিসর্জনে কোনও বাধা থাকবে না।
সরকারের এই উদ্যোগ ভালো, এ সম্পর্কে কোনও সন্দেহ নেই। বিশেষত দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করলে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপটিকে বাস্তবসম্মত বলেই ধরে নেওয়া যায়। তবুও বিষয়টি আরও খানিকটা বিচার বিশ্লেষণের দাবি রাখে না কি?
মহরমের দিন প্রতিমা বিসর্জনের ব্যাপার না থাকলে হয়তো বাইরে অশান্তির সম্ভাবনা এড়ানো সম্ভব হবে, কিন্তু ওই নিষেধাজ্ঞা রাজ্যের কয়েক কোটি মানুষের মনে ক্ষোভের আগুন জ্বলার পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। প্রশাসনের জারি করা নিষেধাজ্ঞার জের বাস্তবে শেষে মুসলিমদের বিরুদ্ধেই অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কোটি কোটি মনে এই ভাবনাটাই আসতে পারে—ওই ওদের জন্যই আমাদের প্রতিমা বিসর্জন আটকে গেল। অসন্তোষের সেই আগুন আপাত অদৃশ্য থাকলেও পরবর্তীকালে তুচ্ছ কোনও উপলক্ষকে কেন্দ্র করে বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে ফেললে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সেরকম ঘটনা ঘটলে সরকারের পক্ষে তো বটেই, তা সামগ্রিকভাবে সমগ্র রাজ্যবাসীর পক্ষেই অমঙ্গলের বিষয় হবে। নদীর গতি রুদ্ধ হলে সাময়িকভাবে সে বাগে আসে বটে, কিন্তু পরবর্তীকালে সামান্য সুযোগ পেলেই ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। গণ আবেগও তাই। প্রশাসনের কর্তাকর্ত্রীদের নিশ্চয় অজানা নেই, ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ দলের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যেই হাওয়া গরম করার চেষ্টা চলছে। ক’মাস বাদেই পঞ্চায়েত ভোট, তাই সক্রিয়তা আরও বেশি।
আচ্ছা, মহরম আর প্রতিমা বিসর্জন একইদিনে হওয়া কি একান্তই অসম্ভব? একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী গাইডলাইন তৈরি করুক প্রশাসন। বাংলার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের উপর ভরসা রাখুক। একের আবেগকে সম্মান দিতে গিয়ে অন্যের আবেগ আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া ঠিক নয়। মহরমের শোভাযাত্রা ও প্রতিমা বিসর্জন দুই-ই হোক। সময় বেঁধে। দশমীর সন্ধ্যা থেকে একাদশীর ভোর পর্যন্ত বিসর্জন চলুক। তারপর সকাল থেকে গোটা দিনটি বাদ দিয়ে রাত আটটার পর ফের বিসর্জন। মাঝের বারো-চৌদ্দো ঘণ্টা নির্বিঘ্নে মহরমের শোভাযাত্রা রাজপথ পরিক্রমা করুক। বিসর্জন এবং মহরম শোভাযাত্রা—দুইয়ের জন্যই প্রশাসন নির্দিষ্ট রুট বেঁধে দিক। এমনিতেই এই মুহূর্তে রাজ্য-রাজনীতির মতোই সামাজিক জীবনেও বর্তমান শাসকদলের প্রভাব প্রশ্নাতীত। শতকরা নব্বইভাগ সর্বজনীন দুর্গাপুজো উদ্যোক্তাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শাসকদলের সঙ্গে জড়িত। দু-চারটে বাদে কলকাতা ও শহরতলির নামী পুজোগুলি তৃণমূলের কোনও না কোনও নেতামন্ত্রীর পুজো বলে পরিচিত। তাই, মহরমের দিন সন্ধ্যার পর প্রতিমা বিসর্জন পর্ব মেটাতে চাইলে পথে বিষয়টি নির্বিঘ্ন রাখতে অনুগামী অনুচরসহ তাঁরা নিশ্চয়ই সক্রিয় থাকবেন। দলীয় সভা সমাবেশ উপলক্ষে এই নেতাদের অনেকেরই বিপুল সাংগঠনিক শক্তির পরিচয় মেলে। এক্ষেত্রেও নিশ্চয় তাঁরা সেই সুনাম অব্যাহত রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করবেন। এতে আখেরে তাঁদেরই রাজনৈতিক লাভ হবে। আর, বাংলার সাধারণ হিন্দু-মুসলিম শান্তির পুজারি। গুটিকতক বদমায়েশ নিজেদের বিবিধ স্বার্থে গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করে। ওইসব বদমায়েশকে দমন করতে প্রশাসন কঠোর মনোভাব নিক। আগে থেকেই সতর্ক নজর রাখুক। বেচাল দেখলেই কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। একাদশী তথা মহরমের দিন প্রচুর নিরাপত্তাকর্মীকে পথে নামানো হোক। সব মিলিয়ে রাজ্যে প্রায় পৌনে এক লক্ষ পুলিশকর্মী রয়েছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন হাজার হাজার সিভিক ভলান্টিয়ার, সিভিল ডিফেন্স কর্মী, গ্রিন পুলিশ, এনভিএফ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মী প্রভৃতি। এই বিশাল বাহিনীর বড় অংশকে ওইদিন বিশেষভাবে পরিকল্পনামাফিক কাজে লাগানো হোক। তাছাড়া, এই তো কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে নানা পেশার আরও বিপুল সংখ্যক মানুষকে স্বাস্থ্যসাথি প্রকল্পের আওতায় আনলেন, সরকারি কর্মীদের জন্য আর এক দফা মহার্ঘ্যভাতা ঘোষণা করলেন। ওই উপকৃতদের প্রতিও আহ্বান যাক। তাঁরাও ওইদিন পথে নামুন। বাংলার প্রধান দুই ধর্মের দুটি উৎসব অনুষ্ঠানকে সুষ্ঠু, সুন্দর, নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সক্রিয় থাকুন। ভদ্রবেশী দুষ্কৃতীরা যাতে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে গুজব ছড়াতে না পারে সেজন্য ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখাও যেতে পারে। দার্জিলিংয়ে মাসাধিককাল ধরে এব্যবস্থা চালু রয়েছে। কাশ্মীরেও প্রায়ই ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বৃহত্তর স্বার্থে ওই ব্যবস্থা নেওয়া যেতেই পারে।
শীতের শান্ত নদীতে নৌকা চালাতে দক্ষতা তেমন লাগে না। বৈঠা চালানোটুকু জানলেই যথেষ্ট। কিন্তু ভরা বর্ষার টইটম্বুর আর প্রবল স্রোতসম্পন্ন নদীতেই মাঝির আসল কেরামতি বোঝা যায়। প্রশাসনের ওপর তলায় বিচরণরত তথাকথিত বাঘা বাঘা আমলা অফিসারদেরও দক্ষতার পরীক্ষা হবে ওই ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে। তাই, নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে নিশ্চিন্তে হাত গুটিয়ে বসে না থেকে পরিস্থিতির মোকাবিলায় নিজেদের তৈরি করুন। প্রমাণ করুন, বাংলা নামের রাজ্যটা দেশের অন্য বহু রাজ্যের চেয়ে আলাদা। এখানকার মানুষও তাই। তাঁরা দাঙ্গা-হাঙ্গামা চান না। তাঁরা সম্প্রীতির পুজারি। এখানে সত্যপীর আর সত্যনারায়ণ পাশাপাশি অবস্থান করেন, একই দরগা, মাজারে হিন্দু মুসলিম ভিড় জমায়, মানত করে, সিন্নি দেয়। হিন্দু মরদেহের শ্মশানযাত্রায় প্রয়োজনে মুসলিমও কাঁধ দেয়। মসজিদ অথবা ইদগার জন্য হিন্দু জমি ছেড়ে দেয়, মন্দিরের জন্য মুসলিমও জমি ছাড়ে। পরস্পরের ধর্মীয় উৎসবের শামিল হতে তারা দ্বিধা করে না। তাই প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও সজাগ দৃষ্টিসহ একইদিনে মহরম ও প্রতিমা বিসর্জন অব্যাহত রেখে বাংলা নতুন নজির সৃষ্টি করুক।
কাজটা কি সত্যিই অসম্ভব?
12th  September, 2017
পাহাড়জুড়ে রাজ্যের শান্তি প্রক্রিয়া এবং
উন্নয়নের মাঝেও কেন এই রাজনীতি?
নিমাই দে

রাজ্যে এক সময় ৬০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল। এখন তা কমে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৮ কোম্পানিতে। অথচ বিজেপি শাসিত অন্য কয়েকটি রাজ্যের দিকে তাকালে চিত্রটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। ছত্তিশগড়ে ২৫২ কোম্পানি, ঝাড়খণ্ডে ১৪৪ কোম্পানি, দিল্লি ৪০ কোম্পানি ইত্যাদি। তারপরেও গত ১৫ অক্টোবর সাতসকালে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে ফ্যাক্সবার্তায় জানিয়ে দেওয়া হল, পাহাড়ে থাকা মাত্র ১৫ কোম্পানির মধ্যে ১০ কোম্পনিই প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
বিশদ

নিজেদের মহানুভবতা সম্পর্কে উদাস বলেই
এদেশে কৃষকরা এত উপেক্ষার শিকার
রঞ্জন সেন

মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, ‘‘কৃষকরা বিশ্বের পিতা, কিন্তু তাঁদের মহানুভবতা এই যে তাঁরা তা নিজেরাই জানেন না। তাঁরা নিজেরাই জানেন না তাঁদের কতটা মূল্য। তাঁরা তার ধারও ধারেন না।’’ কিন্তু স্বাধীনতার প্রায় ৭০ বছর পরেও দেশও কি তাদের মূল্য বুঝল?
বিশদ

২০১৭ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার প্রাপক থেলারের কাছ থেকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের শিক্ষা নিক মোদি সরকার
দেবনারায়ণ সরকার

 যুক্তিবাদী অর্থনীতি থেকে জীবনমুখী অর্থনীতিতে উত্তরণের অন্যতম মুখ্য পথপ্রদর্শক হলেন ২০১৭ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ রিচার্ড থেলার। থেলার তাঁর বিখ্যাত ‘‘Misbehaving: The making of behavioural economics’’ (‘অশোভন আচরণ: আচরণগত অর্থনীতির উদ্ভাবন’) গ্রন্থে বলেছিলেন, ‘অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে গেলে দুটি উপাদান আবশ্যকীয়: বারবার অভ্যাস বা চর্চা করা এবং অবিলম্বে তাদের প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করা’ বিশদ

19th  October, 2017
খিদে কি শুধুই পরিসংখ্যান?
শুভময় মৈত্র

 খবর এসে গিয়েছে যে খিদের সূচকে ভারত নাকি বিশ্বের মধ্যে বেশ খারাপ জায়গায়। আমাদের স্থান কাঁটায় কাঁটায় একশো, গত বছর যেটা ৯৭ ছিল। আশেপাশের দেশগুলোর মধ্যে ভারতের থেকে খিদে যাদের বেশি পাচ্ছে তারা হল পাকিস্তান (১০৬) আর আফগানিস্তান (১০৭)। ভারতের আগে আছে নেপাল (৭২), মায়নামার (৭৭), শ্রীলঙ্কা (৮৪) এবং বাংলাদেশ (৮৮)। যুদ্ধবিদ্ধস্ত ইরাক ৭৮-এ আর পরমাণু বোমা নিয়ে পেশিসঞ্চালনে পটুত্ব দেখানো উত্তর কোরিয়া ৯৩।
বিশদ

19th  October, 2017
একনায়ক কি জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন?
হিমাংশু সিংহ

 পুজোয় কয়েকদিন বারাণসীতে ছিলাম। পুরীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যুগ যুগ ধরে বাঙালির দ্বিতীয় হোমটাউন বলে কথা। তার ওপর দেশের ইতিহাসে হালফিল সবচেয়ে ক্ষমতাশালী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংসদীয় কেন্দ্র।
বিশদ

17th  October, 2017
কলকাতার ভূকম্প প্রবণতা কি আদৌ বিপজ্জনক?
গৌতম পাল

 ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা। ভূস্তরের অভ্যন্তরে লিথোস্ফেরিক যে কোনও দুটি প্লেটের অভিসারী বিচলনই ভূমিকম্পের মুখ্য কারণ। ভূমিকম্প পুরোপুরিই একটি অনিশ্চিত ঘটনা। কারণ, ভূমিকম্পের উৎসস্থল, বিস্তৃতি এবং তীব্রতা বা বিপর্যয়ের মাত্রা প্রভৃতি সম্পর্কে পূর্বাভাস দেওয়া কখনওই সম্ভব নয়।
বিশদ

15th  October, 2017
১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গের দহন
কখনও বিস্মৃত হবার নয়
শমিত কর

 মহারাষ্ট্রের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রবাদপ্রতিম নেতা গোপালকৃষ্ণ গোখলে বাংলা সম্পর্কে যে সুবিখ্যাত উক্তি করেছিলেন তা ভারতবাসীর চিরকাল মনে থাকবে। তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলা আজ যে-কথা চিন্তা করে তা ভারত আগামীদিনে করে।’ নতুন চিন্তা-চেতনা-মতবাদ উদ্রেকে বাংলা ও বাঙালিদের যেন কোনও জুড়ি নেই।
বিশদ

14th  October, 2017
ধনী সন্ন্যাসী, দরিদ্র সন্ন্যাসী
অতনু বিশ্বাস

 হঠাৎ করে সম্পদ, বিলাস, স্ত্রী, সন্তান, বন্ধু ত্যাগ করে সন্ন্যাসী হয়েছেন কোন বিশ্বাসে ভর করে? কথোপকথনের মাঝে সন্ন্যাসী জানান যে তাঁর পিতা তাঁর জাগতিক ত্যাগের অনুষ্ঠানের সময় বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিলেন। যখনই সন্ন্যাসী হন কোন জৈন, তাঁর প্রস্থান করার ইচ্ছা বোধ করি মহাবীরের বিদায়ের জাঁকজমকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
বিশদ

14th  October, 2017
বঙ্গ রাজনীতির আশা নিরাশা
সমৃদ্ধ দত্ত

মমতা কিন্তু একাই দিনের পর দিন ভোটে, ইস্যুতে, পারসেপশনে হারিয়ে চলেছেন একসঙ্গে আপনাদের তিনটি ন্যাশনাল লেভেলের দলকে। তিনি একা। বিরুদ্ধে তিনটি ন্যাশনাল টিম। তাও জিতছেন। সেটা কি হালকাভাবে নেওয়া যায়? তাই ব্যঙ্গ বা শ্লেষ অনেক হয়েছে। এবার সিরিয়াস পলিটিক্স করুন। সর্বাগ্রে স্টার্ট করুন একটা সহজ পন্থা দিয়ে। মমতার কুশলী রাজনীতিটাকে সমীহ করুন। অবজ্ঞা নয়। অবজ্ঞার মধ্যে একটা অন্ধত্ব আছে। সেটা হল প্রতিপক্ষের শক্তি বুঝেও উপেক্ষা করা। যা আবহমানকালের যুদ্ধকৌশলের লড়াইতে অচল!
বিশদ

13th  October, 2017
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে মৎস্যজীবীদের এক ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গিয়েছে। ফলে ১৬ জন মৎস্যজীবীসহ ট্রলারটি বিপদে পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, চারদিন আগে এফবি সত্যনারায়ণ নামে ওই ট্রলারটি মাছ ধরতে গিয়েছিল। ...

 বিএনএ, কোচবিহার: বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিনহাটার ভেটাগুড়িতে এক বিজেপি কর্মীকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সীমান্ত চৌধুরি নামে জখম ওই কর্মীকে কোচবিহার এমজেএন হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। ...

নয়াদিল্লি, ১৯ অক্টোবর: আটারি-ওয়াঘা সীমান্তে দীপাবলীর শুভেচ্ছা বিনিময় করল ভারত ও পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং পাক রেঞ্জার্সরা শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি একে অপরের ...

বার্সেলোনা, ১৯ অক্টোবর: গ্রুপের প্রথম তিনটি ম্যাচ জিতে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নক-আউট পর্ব প্রায় নিশ্চিত করে ফেলল বার্সেলোনা। বুধবার প্রবল বৃষ্টির মধ্যে ঘরের মাঠ ন্যু ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

পরীক্ষার ফলাফল ভালো হবে। কোনও চুক্তিবদ্ধ কাজে যুক্ত হবার যোগ আছে। প্রেম-প্রণয়ে বাধাবিঘ্ন থাকবে। বুঝে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৭১: কবি ও গীতিকার অতুলপ্রসাদ সেনের জন্ম
১৯৭৮: ক্রিকেটার বীরেন্দ্র সেওয়াগের জন্ম

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.১৫ টাকা ৬৫.৮৩ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৩৬ টাকা ৮৭.২২ টাকা
ইউরো ৭৫.২২ টাকা ৭৭.৮৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
19th  October, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,১৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৫৯০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,০২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ কার্তিক, ২০ অক্টোবর, শুক্রবার, প্রতিপদ রাত্রি ঘ ১/৩৭, নক্ষত্র-চিত্রা, সূ উ ৫/৩৮/৫০, অ ৫/৪/১৬, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/২৫ মধ্যে পুনঃ ৭/১০ গতে ৯/২৭ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৪ গতে ২/৪৬ মধ্যে পুনঃ ৩/৩২ গতে অস্তাবধি, রাত্রি ঘ ৫/৫৪ গতে ৯/১৬ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৭ গতে ৩/৮ মধ্যে পুনঃ ৩/৫৯ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৮/৩০ গতে ১১/২১ মধ্যে। কালরাত্রি ৮/১৩ গতে ৯/৪৭ মধ্যে।

শ্রীশ্রী বলিদৈত্যরাজপূজা
২ কার্তিক, ২০ অক্টোবর, শুক্রবার, প্রতিপদ রাত্রি ১২/২১/৫, চিত্রানক্ষত্র, সূ উ ৫/৩৮/৩৩, অ ৫/৪/৬, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/২২/১৫ মধ্যে, ৭/৯/৫৭-৯/২৭/৪, ১১/৪৪/১১-২/৪৭/০, ৩/৩২/৪২-৫/৪/৬, রাত্রি ৫/৫৪/২৪-৯/১৪/৩৫, ১১/৪৬/২৮-৩/৭/৩৯, ৩/৫৭/৫৭-৫/৩৯/৪, বারবেলা ৮/২৯/৫৬-৯/৫৫/৩৮, কালবেলা ৯/৫৫/৩৮-১১/২১/২০, কালরাত্রি ৮/১২/৪৩-৯/৪৭/১।

শ্রীশ্রী বলিদৈত্যরাজপূজা
২৯ মহরম

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
প্রায় ৭০০টি ট্রেনের গতি বাড়তে চলেছে 

নভেম্বরে ভারতীয় রেল প্রায় ৭০০টি-র মতো দুরপাল্লার ট্রেনের গতি বাড়াতে ...বিশদ

07:42:17 PM

নির্বাসন না তুললে অন্য দেশের হয়ে খেলার ইঙ্গিত দিলেন নির্বাসিত শ্রীসন্হ

06:55:09 PM

 প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের দাদা পিযুষ মুখোপাধ্যায় প্রয়াত

06:05:47 PM

প্রবল বৃষ্টি, সেচ দপ্তরে চালু কন্ট্রোল রুম

প্রবল বৃষ্টিতে নজর রাখতে সেচ দপ্তরে চালু কন্ট্রোল রুম। মনিটরিং ...বিশদ

04:28:40 PM

কানপুরে প্ল্যাস্টিকের গোডাউনে আগুন, ঘটনাস্থলে দমকলের ৬টি ইঞ্জিন

04:08:00 PM

দুপুরের পর থেকে আলিপুরদুয়ারে শুরু বৃষ্টি

03:52:00 PM

মুর্শিদাবাদে জুয়া খেলার অপরাধে যুবককে গুলি করার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে
বহরমপুরের হাতিনগর এলাকায় জুয়া খেলার অভিযোগে এক যুবককে ...বিশদ

03:41:17 PM