বিশেষ নিবন্ধ
 

বুদ্ধদেবের চোখে জল
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

ছবিগুলো দেখতে দেখতে চোখ ঝাপসা হয়ে এল। কী অসহায় অবস্থায় পড়ে ভিটে-মাটি ছেড়ে মানুষগুলো অনিশ্চয়তার ঘোর অন্ধকারের উদ্দেশে পা বাড়িয়েছে তাই দেখছি। কোলে-কাঁখের অবোধ শিশুদের প্রায় সবাই ন্যাংটো। বয়স্ক নারী-পুরুষদের হাতে-মাথায় ঘর ছাড়ার আগে যা কিছু জুটেছে সেটুকুই সম্বল। কারও হাতে বালতি, কারও হাতে মাদুর, কারওবা মাথায় পোঁটলা। রাখাইন ছেড়ে নাফ নদী পেরিয়ে তারা চলে আসছে বাংলাদেশের জমিতে। প্রাণ মুঠোয় করে। একটু আশ্রয়ের খোঁজে। চোখে-মুখে তাদের এক আকাশ আতঙ্ক।
মাত্র দু’সপ্তাহ। তার মধ্যেই দেড় লাখ মানুষ ভিড় জমিয়েছে বাংলাদেশে। রাষ্ট্রসংঘের হিসেবে ইতিমধ্যেই তিন লাখ ঘরছাড়া। অগুন্তি নৌকো ডুবছে সমুদ্রে। নাফ নদীতে। ভেসে উঠছে শিশুদের লাশ। যারা ভাগ্যবান, বাংলাদেশের মাটিতে খোলা আকাশের নীচে এক পেট খিদে ও একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে তারা অপেক্ষায়। সামান্য তফাতে বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী বিজিবি-র সশস্ত্র উপস্থিতি। তাদের দুরবস্থা দেখে মন ভিজে গেলেও আদেশ পালনে তারা বাধ্য। চোখ ঝাপসা তাদেরও। ইদ হাতছানিও দিয়েছিল। অথচ অত্যাচারিত জর্জরিত এই মানুষগুলোর ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার উপায় তাদের অজানা।
উদ্বাস্তু এই মানুষেরা আজ নামগোত্রহীন। তাদের পরিচয় একটাই। তারা রোহিঙ্গা।
বাংলাদেশের খবরের কাগজগুলো খুললেই ইদানীং এই অসহায়তা মনকে গ্রাস করছে।
এইসব ছবির পাশে আরও ছবি নজরে পড়ছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি। মায়ানমারের এই মুহূর্তের সর্বময় কর্ত্রী চুলে-ফুল-গোঁজা অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠক করছেন। এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী মোদির সরকারি মায়ানমার সফর। সম্পর্ক ক্রমশ উষ্ণ হওয়ার তৃপ্তি দু’জনের চোখেমুখে। মাত্র কয়েকদিন আগে এগারোটি চুক্তি সই করে মোদির মন ফুরফুরে। মায়ানমারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দিনে দিনে গঁদের আঠার মতো সেঁটে বসেছে। সামরিক শাসনের সময় সম্পর্কে যে-উষ্ণতার শুরু, আজকের গণতান্ত্রিক আবহে তা আরও দৃঢ় করতেই চীন থেকে দেশে ফেরার আগে মোদি গিয়েছিলেন মায়ানমারের রাজধানী নেপিটোয়।
ছবির পাশেই ছাপা হয়েছে খবর। দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও চুক্তি সইয়ের পর দুই নেতা-নেত্রীর যুগ্ম সাংবাদিক সম্মেলন। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া রোহিঙ্গাদের যে-অংশ অস্ত্র হাতে তুলে মায়ানমারের পুলিশ চৌকিতে আক্রমণ চালিয়েছিল, তিনি তাদের সেই হিংস্রতার নিন্দা করলেন। মায়ানমারের সুস্থিতি ও অখণ্ডতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বললেন। অথচ, কী আশ্চর্য, দলে দলে রোহিঙ্গা বিতাড়ন নিয়ে রা পর্যন্ত কাড়লেন না! আমি অবাক হয়ে দেখলাম, সনাতন ভারতের মানবিক চরিত্রকে নেপিটোয় নরেন্দ্র মোদি কীভাবে অস্তে পাঠালেন!
এমনটাই যে হতে চলেছে তার আঁচ দিনকয়েক আগেই অবশ্য পাওয়া গিয়েছিল। দেশত্যাগে বাধ্য হয়ে রোহিঙ্গাদের যে-অংশ ভারতে আশ্রয়ের খোঁজে চলে এসেছে, তাদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। সরকারি ভাষ্যটা চমকপ্রদ! রোহিঙ্গারা নাকি সন্ত্রাসবাদী। সিমি, হুজি তো আছেই, লস্কর ও জৈশ এ মহম্মদেরাও নাকি রোহিঙ্গাদের মধ্যে জাল বিছিয়ে তাদের সন্ত্রাসবাদী করে তুলছে! দশ হাজার রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু হয়ে বাস করছে জম্মুতে। বাকি তিরিশ হাজার ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ ও হায়দরাবাদে। এদের বিদায় না-করা পর্যন্ত সরকারের ঘুম হচ্ছে না। এরা সবাই অবৈধ, অবাঞ্ছিত এবং অনুপ্রবেশকারী!
আমার মনে ‘অতিথিপরায়ণ’ ভারতের সোনালি ইতিহাস সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে গেল। সেই কোন কাল থেকে শুনে আসছি ‘অতিথি দেব ভব’। তিব্বতের বৌদ্ধদের জন্য আমরা সেই কবে দুয়ার হাট করে খুলে দিয়েছিলাম। দলাই লামা ও তাঁর অনুগামীরা আজও আমাদের অতিথি। শ্রীলঙ্কার তামিলদের জন্য তামিলনাড়ু কোল পেতে দিয়েছিল। দেশভাগের পর দুই প্রান্তের মানুষেরা এই দেশটাকেই তাদের আশ্রয় বলে চলে এসেছে। একাত্তরে এক কোটি বাঙালিকে আমরা আশ্রয় দিয়েছিলাম। স্বাধীন বাংলাদেশে তাঁরা মাথা উঁচু করে যাতে ফিরে যেতে পারেন, সে ব্যবস্থা ভারত করেছিল। আফগানিস্তান খালি করে যারা প্রাণের ভয়ে চলে এসেছে, তাদের কাউকেই আমরা দূর দূর করে তাড়িয়ে দিইনি। শক হুন দল পাঠান মোগল এ-দেহে যেভাবে লীন হয়েছে, সেটাই তো সনাতন ভারতীয় চরিত্র? যে-অনুভব ‘দিবে আর নিবে মেলাবে মিলিবে’-র বাণী ছড়িয়ে দিয়েছে! তাহলে কেন ও কোন তাগিদে আজ হতভাগ্য রোহিঙ্গাদের জন্য দরজা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত?
স্রেফ এই কারণে যে, তারা মুসলমান?
এছাড়া আর কোনও গ্রহণযোগ্য কারণ আছে বলে মনে হচ্ছে না। তারা মুসলমান। তারা হতদরিদ্র। এই দেশ ও সমাজে তাদের কোনও অবদান থাকার কথা নয়। তারা সন্ত্রাসবাদী ও মৌলবাদীদের জন্য নরম মাটি। অতএব তারা অবাঞ্ছিত। তাদের বিদেয় করাটাই তাই একমাত্র জাতীয় কর্তব্য!
কূটনীতির কূটকচালির ছবিটাও মনে ভেসে উঠল। চীন এই দেশটাকে চোখে হারায়। তাদের সামরিক শাসকেরা মানবাধিকার ধুলোয় মিশিয়ে দিলেও চীনের কাছে তারা চোখের মণি হয়েই থেকেছে।
মায়ানমারের সাহায্যে চীন দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের পায়ের তলার জমি শক্ত করে চলেছে। ভারত মহাসাগরে তাদের উপস্থিতি বাড়িয়ে গেছে। যে-দেশের সঙ্গে ভারতের চোদ্দোশো কিলোমিটারের সীমান্ত, তাকে উপেক্ষা করা ভারতের পক্ষেও সম্ভব নয়। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অভয়াশ্রম যখন ছিল এই মায়ানমার। একদিকে শেখ হাসিনার বাংলাদেশ অন্য দিকে মায়ানমারের সামরিক শাসকদের সাহায্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের শায়েস্তা করার পর ভারত চাইছে পূর্ব সীমান্তের এই প্রতিবেশীর স্বার্থও নিশ্চিত করতে।
রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে মোদির মুখ থেকে প্রকাশ্যে একটা শব্দও তাই উচ্চারিত হয়নি।
রাজনীতি, কূটনীতি ও রাষ্ট্রনীতি এমনই নিষ্ঠুর। মায়ানমারে ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থ প্রচুর। মোদির ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি মাঠে মারা যাবে মায়ানমার মুখ ফেরালে। যে-রাখাইন প্রদেশ থেকে রোহিঙ্গারা উৎখাত হচ্ছে, সেখানেই বন্দর ও রাস্তা তৈরির কাজ করছে ভারত। মানবিকতার চোখে ভারতকে তাই ঠুলি পরে থাকতে হচ্ছে! তত্ত্ব কথা ও বাস্তবের রাজনীতির ফারাক এটাই।
কিন্তু সব দেশই তো ভারত নয়! কেন চুপ মুসলমান দুনিয়া? কেন আজ মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়া মুখে কুলুপ এঁটেছে? কেন অন্যান্য মুসলিম দেশ উত্তাল হয়ে উঠছে না? লাখ লাখ রোহিঙ্গার চাপ বাংলাদেশের পক্ষে নেওয়া কতটা সম্ভব সে কথা কেন কেউ বুঝতে চাইছে না? কেন সেভাবে সক্রিয় নয় রাষ্ট্রসংঘ?
অসহায়তার জলছবি হয়ে ওঠা রোহিঙ্গাদের দুর্দশার ছবি ও কাহিনি পড়তে পড়তে বারবার ভেসে উঠছে অং সান সু চির মুখটা। মানবাধিকার রক্ষার নিরলস আন্দোলন তাঁকে গৃহবন্দি করে রেখেছিল। এই আন্দোলন ও আপসহীন চরিত্রই তাঁকে নোবেল পুরস্কার এনে দিয়েছে। সামরিক শাসকেরাও তাঁর অধীনে গণতান্ত্রিক আবহকে মেনে নিয়েছে। আজকের সরকার চলছে তাঁরই নির্দেশে। অথচ কী আশ্চর্য, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের দাবি, ভোটাধিকারের দাবি, তাদের বেঁচে থাকার ন্যূনতম চাহিদা, তাদের বিরুদ্ধে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধদের ঘৃণ্য অত্যাচার বন্ধে তিনিও মুখে কুলুপ এঁটে বসে রয়েছেন! শুধু তাই নয়, চরম আশ্চর্য এটাই, সেনা প্রশাসকদের সঙ্গে এত বছরের লড়াইয়ের পর ক্ষমতায় এসে সু চিও সেই সেনাবাহিনীর তাঁবেদার হয়ে দেশ শাসন করছেন! লজ্জার এই ডিগবাজি আর যেই হোন সু চির কাছ থেকে আশা করিনি।
কোনও নোবেল বিজয়ীর অমানবিক আচরণের জন্য অন্য নোবেল বিজয়ীরা ক্ষুব্ধ হচ্ছেন, সাম্প্রতিককালে আমি অন্তত দেখিনি। মালালা ইউসাফজাই ও কৈলাশ সত্যার্থীরা কতটা ক্ষুব্ধ ও বিষণ্ণ তা সু চিকে লেখা তাঁদের চিঠি পড়লেই বোঝা যায়।
কিন্তু তাতে কী? সু চি প্রমাণ করে দিলেন সেই চিরকালীন প্রবাদটিকে। লঙ্কায় যে যায় সেই হয় রাবণ!
রোহিঙ্গাদের কাছে আজকের সু চি এমনই!
শিরে সংক্রান্তি নিয়ে অসহায় রোহিঙ্গারা এই সেদিন দিল্লির যন্তরমন্তরে জড়ো হয়েছিল। তারা কাঁদছিল ও বলছিল, আমাদের যমুনার জলে চুবিয়ে মারো। তবু আমাদের ফেরত পাঠিও না। চোখের সামনে মা-বোনেদের ধর্ষণ, হত্যা, ঘর জ্বালানো, উৎখাত হওয়ার চেয়ে যমুনায় ডুবে মরা ভালো।
রোহিঙ্গাদের অত্যাচারিত জীবনের ছবি দেখছি, তাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভাবছি, মানবিকতার ধ্বজাধারীদের চরিত্র বিশ্লেষণ করছি, হিন্দুত্ববাদী হতে চলা ভারতে ‘অতিথি দেব ভব’কে ধুলোয় মাখামাখি হতে দেখছি, বিশ্বের অভিভাবকদের চোখ ওলটানো রূপ প্রত্যক্ষ করছি ও ভাবছি, সেই কবে গৌতম বুদ্ধ পৃথিবীকে শান্তির বাণী শুনিয়েছিলেন! অথচ মায়ানমারের বৌদ্ধরা তাঁকে লজ্জা ছাড়া আর কিছু দিতে পারল না! ধ্যানস্থ বুদ্ধদেবের দু’চোখে আমি অবিরাম অশ্রুধারা দেখছি!
10th  September, 2017
পদ্মাবতীর মুণ্ডচ্ছেদ ফতোয়া: অন্ধকারের শক্তিসাধনা আর কতদিন
মেরুনীল দাশগুপ্ত

সত্যের জন্য ইতিহাস পড়ো, আনন্দের জন্য আইভ্যানহো পড়ো। একটি প্রবন্ধে এমনই পরামর্শ দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। অনেক বছর আগে, এক শতাব্দীরও বেশি আগে। ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস ও ইতিহাসের তফাৎ বোঝাতেই ছিল তাঁর এই পরামর্শ। তাতে উদাহরণ হিসেবে তিনি বিশ্ববিশ্রুত ঔপন্যাসিক স্যার ওয়াল্টার স্কটের ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস ‘আইভ্যানহো’র উল্লেখ করেছিলেন।
বিশদ

মুডিজের মুড—ভারতের ক্রেডিট রেটিংয়ের উত্তরণ
অতনু বিশ্বাস

২০১৫-র একদম শেষের হলিউড ম্যুভি ‘দ্য বিগ শর্ট’। অভিনয়ে রায়ান গোসলিং, ব্র্যাড পিট, ক্রিশ্চিয়ান বালে, স্টিভ ক্যারেল। অ্যাডাপ্টেড স্ক্রিন প্লে-র জন্যে অস্কারও পেয়েছিল ম্যুভিটি। নিউ ইয়র্ক টাইমস এই ম্যুভিটিকে বলেছে বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকটের সব চাইতে জোরদার ফিল্মি ব্যাখ্যা। তিনটি সহগামী গল্পকে এক সুতোয় বেঁধে ২০০৭-০৯-এর গৃহঋণ আর বন্ধক নিয়ে মার্কিন অর্থনীতিতে ধ্বস আর তার কার্য-কারণের বিশ্লেষণই এই ছবিটির প্রতিপাদ্য। আর সেই সঙ্গে মুডিজ, এস অ্যান্ড পি বা ফিচ-এর মতো ক্রেডিট রেটিং সংস্থাগুলি সম্পর্কে আমাদেরও হয়ে যায় এক সহজ পাঠ।
বিশদ

লুক ইস্ট থেকে অ্যাক্ট ইস্ট: কী পেলাম
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসে ওই বছরই ১২ নভেম্বর আসিয়ান-ভারত যৌথ সম্মেলনের বক্তৃতায় নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেছিলেন দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক বিকাশ, শিল্পায়ন এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যেমন নতুন জোয়ার এসেছে তেমনি ভারতের বিদেশনীতিতে ‘লুক ইস্ট’ পলিসি ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ পলিসিতে রূপান্তরিত হয়েছে।
বিশদ

21st  November, 2017
বাংলার রসগোল্লা—মেড ইন চায়না
হারাধন চৌধুরী

আলী সাহেব বাঙালিকে শুনিয়েছিলেন তাঁর ঝান্ডুদার গল্প। পাঠক জানেন, ঝান্ডুদা মস্ত ব্যবসায়ী। যাচ্ছিলেন লন্ডন। বিলেতবাসী এক বন্ধুকন্যার জন্য সঙ্গে এনেছিলেন বাংলার টিনজাত কিছু রসগোল্লা। পথে ইতালির ভেনিস বন্দরে নামতে হয়। এরপর সেখানকার কাস্টমস অফিসে চেকিংয়ের সময় সেই কয়েক পাউন্ড রসগোল্লার জন্য যে আক্কেলগুড়ুম হবে তা তাঁর কল্পনায় ছিল না।
বিশদ

21st  November, 2017
গুম-নিখোঁজ ও পরমানন্দ মন্ত্রণালয়
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলাদেশে ‘লিট ফেস্ট’ শুরু ও শেষ হল। সেই কারণে কি না জানি না, অরুন্ধতী রায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস’ হুট করে সংবাদপত্রে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এল। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় সাহিত্যিক ও সাংবাদিক, আমার অতি ঘনিষ্ঠ ও প্রিয় আনিসুল হক এই উপন্যাসের বাংলা নাম দিয়েছেন ‘পরমানন্দ মন্ত্রণালয়’।
বিশদ

19th  November, 2017
লন্ডন, এডিনবরা এবং মমতা
শুভা দত্ত

দুর্গাপুজোর দিন যত এগিয়ে আসে, আনন্দটা তার সঙ্গে সমানুপাতিক হারে বাড়ে। এ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির চিরন্তন সত্য। আর মা দুর্গাকে ঘিরে সেই উৎসবের রামধনু রং ফিকে হতে শুরু করে নবমীর সন্ধ্যা থেকেই। আজ বাদে কাল দশমী। মায়ের ফিরে যাওয়ার পালা।
বিশদ

19th  November, 2017
চীনের প্রেসিডেন্ট বনাম ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ
প্রশান্ত দাস

জিনপিং দেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের বললেন—আমাদের সমাজতন্ত্র দেশকে তরতর করে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। এগিয়ে চলেছে আমাদের অর্থনীতি। কিন্তু গত পাঁচ বছরে আপনারা ক’টি অবিশ্বাস্য অস্ত্র দিতে পেরেছেন সেনাদের? ভারতের ডিআরডিও কী করে পৃথিবীতে দু’নম্বর রিসার্চ সেন্টার হল? কী নেই আপনাদের? যা যা চাই, তালিকা পাঠান। যতদিন না আমরা ডিআরডিও-কে ছাপিয়ে যেতে পারছি, ততদিন আমরা নিজেদের এশিয়ার মধ্যে এক নং বলতে পারব না।
বিশদ

18th  November, 2017
রাজ্যের লাইব্রেরিগুলিকে বাঁচাতেই হবে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

মনে পড়ছে গত ডিসেম্বরের কথা। বীরভূম জেলার সরকারি বইমেলার আয়োজন হয়েছিল সিউড়িতে, ইরিগেশন কলোনির মাঠে। আমি উদ্বোধক, মঞ্চে জেলার মন্ত্রীরা, সঙ্গত কারণেই উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থাগারমন্ত্রীও। মঞ্চে বসেই সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয়, আলাপচারিতা।
বিশদ

18th  November, 2017
মোদির আমলে শিশুদের খিদের যন্ত্রণা তীব্র, কারণ শিশু ও মহিলা উন্নয়নে গুরুত্ব কম
দেবনারায়ণ সরকার

কেন্দ্রীয় সরকারের গত ৩ বছরের বাজেটের তথ্য সার্বিকভাবে বিচার করলে দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাজেটে মোট ব্যয় যেখানে ২১ শতাংশের বেশি বেড়েছে (টাকার অঙ্কে অতিরিক্ত প্রায় ৩ লক্ষ ৫১ হাজার কোটি টাকা), সেখানে মহিলা ও শিশু উন্নয়নে ব্যয় কপর্দকও বাড়েনি, বরং প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। একইভাবে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন ব্যয় বাজেটের মোট ব্যয়ের ১ শতাংশের অনেক নীচে নেমেছে। মোদ্দা কথা হল, যে দেশের কেন্দ্রীয় বাজেটে মহিলা ও শিশু উন্নয়নের ব্যয় বাজেটে মোট ব্যয়ের ১ শতাংশেরও কম এবং এই ব্যয় মোদির জমানায় যেহেতু আরও কমছে, সেই দেশে রোজ রাতে খালি পেটে শুতে যাওয়া শিশুদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধিটাই স্বাভাবিক। তাই ভারতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অপুষ্টিও।
বিশদ

17th  November, 2017
ডেঙ্গু: রাজনীতি ছেড়ে হাত মিলিয়ে কাজের সময়
অনিরুদ্ধ কর

অবিলম্বে একটা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা নিয়মাবলী প্রকাশ করতে হবে সরকারের তরফে। সরকারি নির্দেশ মানতে বাধ্য সকল সরকারি বেসরকারি ও প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্র। অতীতের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে বার্ড ফ্লু বা সোয়াইন ফ্লু-র সময় সরকারের তরফে এমন নিয়মাবলী প্রকাশ করা হয়েছিল। চিকিৎসাব্যবস্থায় কী কী থাকতে হবে এবং কোথায় থাকবে তাও বলে দেওয়া হয়েছিল। ফ্লু-র ওষুধ একমাত্র সরকার দিত। খোলাবাজারে মিলত না সেই ওষুধ। কারণ সেক্ষেত্রে ওষুধ নিয়ে কালোবাজারি এবং চড়া দামে ওষুধ বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যেত। এছাড়া একটি রাজ্যস্তরের কমিটি ছিল পর্যালোচনার জন্য।
বিশদ

17th  November, 2017
প্যারিস, পরিবেশ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 পরিবেশ মানে হল যেখানে সেখানে থুতু না ফেলা। মন্তব্যটি আমারই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর। এবং কী ভয়ঙ্কর সাবলীল স্বীকারোক্তি। যে দেশে ৩০ কোটি মানুষ এখনও দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করেন, যেখানে সাক্ষরতা বলতে বোঝানো হয় নিজের নাম সই করতে পারা, সেখানে সচেতনতার প্রাথমিক পাঠটা এমন একটা মন্তব্য দিয়ে শুরু করলে মন্দ কী!
বিশদ

16th  November, 2017
সার্ধশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি টেম্‌স থেকে গঙ্গা: ভগিনী নিবেদিতার দার্শনিক যাত্রা
জয়ন্ত কুশারী

 আয়ারল্যান্ডের স্বল্প জনবসতি শহর ডুং গানন। স্যামুয়েল রিচমন্ড নোবেল নামে এক ধর্মযাজক ও তাঁর ভক্তিমতী স্ত্রী মেরি ইসাবেল হ্যামিলটন বাস করেন এই শহরে। এঁরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে করজোড়ে প্রার্থনা করেন সুখপ্রসবে প্রথম সন্তানটি হলে তাঁরা ঈশ্বরের চরণেই সদ্যোজাতকে সমর্পণ করবেন।
বিশদ

16th  November, 2017
একনজরে
 সংবাদদাতা, কান্দি: কান্দি মহকুমা এলাকায় পাঁচটি কো-এড কলেজ রয়েছে। কিন্তু এলাকায় নেই কোনও গার্লস কলেজ। অথচ বহুবছর ধরে কান্দিতে একটি গার্লস কলেজের দাবি করে আসছেন এলাকার ছাত্রীরা। কলেজ ছাত্রীদের দাবি, এই মহকুমা এলাকার বহু ছাত্রী বহরমপুর গার্লস কলেজে পড়াশুনা করে। ...

 হারারে, ২২ নভেম্বর: অবশেষে ক্ষমতা হারালেন জিম্বাবোয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে। ৩৭ বছর ধরে দেশ শাসন করেছেন। তার নাম যেন হয়ে উঠেছিল জিম্বাবোয়ের প্রতিশব্দ। একসময় শ্বেতাঙ্গ ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খুন হয়ে যাওয়া ধর্ষিতার হাতের মুঠোয় ছিল রক্তমাখা কয়েকটি চুল। সেই তথ্য পুলিসের খাতায় নথিবদ্ধ থাকলেও, চুল ও রক্তের ফরেন্সিক পরীক্ষা হয়নি। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বিএনএ, বারাসত: সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রতারণার ঘটনায় সোনারপুর থানার হরিনাভি ও উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর থানা এলাকা থেকে মোট দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। মোটা অঙ্কের প্রতারণার ঘটনাটি ঘটেছে দত্তপুকুরে। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

পঠনপাঠনে আগ্রহ বাড়লেও মন চঞ্চল থাকবে। কোনও হিতৈষী দ্বারা উপকৃত হবার সম্ভাবনা। ব্যবসায় যুক্ত হলে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৮৩: লেখক প্যারীচাঁদ মিত্রের মৃত্যু
১৮৯৭: লেখক নীরদচন্দ্র চৌধুরির জন্ম
১৯৩৭: বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৯৮ টাকা ৬৫.৬৬ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৪৫ টাকা ৮৭.৩৩ টাকা
ইউরো ৭৪.৭০ টাকা ৭৭.৩১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,৯১০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৩৭৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,৮০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৭ অগ্রহায়ণ, ২৩ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার, পঞ্চমী শেষ রাত্রি ঘ ৫/৩৫, নক্ষত্র-পূর্বাষাঢ়া দিবা ঘ ৬/৫৯, সূ উ ৫/৫৮/২৫, অ ৪/৪৭/৩৫, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৭/২৪ মধ্যে পুনঃ ১/১১ গতে ২/৩৮ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৫/৪০ গতে ৯/১১ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৯ গতে ৩/২০ মধ্যে পুনঃ ৪/১৪ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/৫ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/২৩ গতে ১/১ মধ্যে।
৬ অগ্রহায়ণ, ২৩ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার, পঞ্চমী রাত্রি ঘ ১/৫৮/১১, উত্তরষাঢ়ানক্ষত্র অহোরাত্র, সূ উ ৫/৫৯/২৩, অ ৪/৪৬/৫, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪৩/৪৫, ৭/২৬/৪৬-৯/৩৫/৩৮, ১১/৪৪/৪৯-২/৩৬/৫১, ৩/১৯/৫২-৪/৪৬/৫, রাত্রি ১২/৪২/৪৯-২/২৮/৪৭, বারবেলা ৩/২৫/১৫-৪/৪৬/৫, কালবেলা ২/৪/২৫-৩/২৫/১৫, কালরাত্রি ১১/২২/৪৪-১/১/৫৪।
৩ রবিঃআউঃ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ডেঙ্গু নিয়ে বিধানসভায় গোলমাল, বাম-কংয়ের বিক্ষোভ, বিরোধীদের মুলতুবি প্রস্তাব আনতে না দেওয়ায় উত্তপ্ত সভা

12:15:00 PM

কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ায় অন্ডালে এক গৃহবধূকে খুন করার চেষ্টার অভিযোগ শ্বশুর বাড়ির লোকজনদের বিরুদ্ধে

12:09:00 PM

প্রায় ঘণ্টাখানেক পর জিটি রোড থেকে উঠল অবরোধ

11:59:45 AM

নদীয়ার দিগনগর থেকে গ্রেপ্তার ভেজাল ঘি তৈরির এক পান্ডা

11:51:00 AM

বিট্রিশ সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র ‘পদ্মাবতী’-কে, ইংল্যান্ডে ১ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি

11:33:26 AM