বিশেষ নিবন্ধ
 

স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে: কিছু প্রশ্ন
শুভা দত্ত

‘ভারত ছাড়ো’ নিয়ে রাজনীতির দড়ি টানাটানি মন্দ হল না। ভোট ময়দানে যেমন, প্রায় তেমনিই ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের ৭৫ বছর পূর্তির উৎসব ‘সফল’ করতে বিজেপি কংগ্রেস এবার নেমে পড়েছিল, যাকে বলে একেবারে কোমর বেঁধে। মনে হচ্ছিল, ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের দখল নিতে পারলেই কেল্লা ফতে—দেশ দখল হয়ে গেল! আর তাই যেন ’৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে কংগ্রেস-বিজেপি কার ভূমিকা কত, কে কত জীবন দান করেছে, আন্দোলনের প্রাণপুরুষ মহাত্মা গান্ধীর ওপর কার কতটা দখল, কার দিকে কতটা ঢলে তিনি—এসব নিয়ে তরজার অন্ত ছিল না দুই দলে। খেলার মাঠে দু’দলের কায়দা কসরত মাঠে বা টিভিতে দেখে যেমন দর্শককুল কখনও হাততালিতে ফেটে পড়েন, আবার কখনও আলোচনা সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন, হাসি-ঠাট্টা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেন, লক্ষ করলাম, ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের বর্ষপূর্তি নিয়ে কংগ্রেস-বিজেপি-র রাজনৈতিক কাজিয়া সম্পর্কেও তাদের মনোভাবনা যেন অনেকটা সেইরকম! আমার এক বন্ধু তো হালকা চালে বলেই বসলেন, দেশে এখন একটাই সমস্যা—‘ভারত ছাড়ো’র স্বত্ব কার—কংগ্রেস না বিজেপির! সেই কোন ছোটবেলা থেকে একসূত্রে পড়ে এলাম—মহাত্মা গান্ধী, জাতীয় কংগ্রেস, ভারত ছাড়ো আন্দোলন। এবার তো সেই ইতিহাসটাও পালটে ফেলতে হবে মনে হচ্ছে? হতেই পারে। আশ্চর্য কী? যে দেশে রামায়ণের মতো মহাকাব্য সংশোধনের কথা ওঠে, ময়ূরকে ব্রহ্মচারী বলে ঘোষণা করেন বিচারপতি, মানুষকে প্রাণ দিয়ে গো-মাংস খাওয়ার দাম চোকাতে হয়, বিশ্বখ্যাত তাজমহল ‘শিব মন্দির’ বলে দাবি ওঠে এবং এ জাতীয় বকচ্ছপ কাণ্ডের কোনও শেষ থাকে না—সে দেশে ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের ইতিহাস বদল—সে আর এমন কী? এই না হলে ক্ষমতার মহিমা!
বন্ধুটির কথার প্রতিধ্বনি আমি আরও অনেকের মুখেই শুনেছি। ‘ভারত ছাড়ো’ সত্যি বলতে কী, আন্দোলনের ৭৫ বছর পূর্তির উৎসব নিয়ে কারও কোনও বক্তব্য নেই। থাকার কথাও নয়। ক’জনই বা খেয়াল রেখেছিলেন এবার ‘ভারত ছাড়ো’র ৭৫ আর আমাদের স্বাধীনতার ৭০। কিন্তু, হঠাৎ করেই ‘ভারত ছাড়ো’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর দল এবার যেভাবে নেমে পড়লেন এবং এই মহা-আন্দোলনের ব্যাপার নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে কার্যত রাজনৈতিক ছায়াযুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন তাতে আমাদের মতো আসমুদ্রহিমাচল দেশের মানুষ একটু অবাকই হয়েছেন বইকি। আমাদের স্বাধীনতা পাওয়ার সময়কার কোনও আন্দোলন বা সেই আন্দোলনের কোনও শহিদস্মৃতি স্মরণ নিয়ে উৎসব অনুষ্ঠান আর বিষয়টাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে পরবর্তী ভোটযুদ্ধ জয়ের রাস্তা তৈরির চেষ্টার তফাতটা আজকের দিনে কে না বোঝে বলুন?
‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন যে জাতীয় কংগ্রেসের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত তা নিয়ে কোথাও কি কোনও বিতর্ক আছে? আজ জাতীয় কংগ্রেসের চেহারা যেমনই হোক ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে ওই দলটার ভূমিকা নিয়ে কি সংশয় আছে? সুতরাং, ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন নিয়ে কংগ্রেস, বিশেষত আন্দোলনের যখন ৭৫ বছর পূর্তি হচ্ছে, জমজমাট অনুষ্ঠান করবে এটা প্রত্যাশিতই। অন্যদিকে দেশের সরকারও রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মতো একটি মহান আন্দোলনের ৭৫ বর্ষপূর্তি পালন করবে এটাও স্বাভাবিক এবং প্রত্যাশিত। কিন্তু, কার্যক্ষেত্রে কী দেখা গেল? দেখা গেল দুটোই ঘটল কিন্তু তারমধ্যে আন্দোলনের মাহাত্ম্য-কীর্তনের চেয়ে বড় হয়ে উঠল রাজনীতির হইচই। এটা দেশের মানুষের কাছে প্রত্যাশিত ছিল না—তাই তো আমরা অবাক হলাম, অবাক হল দেশ!
শুধু ভারত ছাড়ো কেন? রামনবমী রাখিবন্ধন পুজোপাঠ স্বাধীনতা দিবস প্রজাতন্ত্র—সবকিছুতেই এখন এত বেশি বেশি রাজনৈতিক দখলদারি শুরু হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে উৎসবের মেজাজ ধরে রাখাই মুশকিল হচ্ছে। রাজনীতি ছাড়া যেন কিছু হতেই পারে না! ‘ভারত ছাড়ো’র ৭৫ বছর পূর্তির আগে রাখিবন্ধন বলুন কি তার আগে এ রাজ্যে রামনবমী পালনে সংঘ পরিবারের সশস্ত্র মিছিল
দেখে তেমন কথাই কি মনে হয়নি? দেশের ক্ষমতায় বিজেপি অতএব লাল তেরঙ্গার পাশাপাশি গেরুয়া বাহিনীর প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়বে সংগত কারণেই। কিন্তু, তাই বলে সবকিছু নিয়ে সকলকে মেতে পড়তে হবে? সাধারণ মানুষের জন্য তাঁদের নিশ্চিন্ত উপভোগের জন্য কিচ্ছু থাকবে না? এই তো আসছে আমাদের স্বাধীনতা দিবস। প্রভাতফেরি থেকে রক্তদান, শহিদস্মৃতি তর্পণ থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মাইকে দেশাত্মবোধ জাগানো গান বাজানো—সব হবে। কিন্তু, কটা অনুষ্ঠান সত্যিই আয়োজিত হবে সাধারণ মানুষের উদ্‌঩যোগে?
কেন্দ্রের শাসকদল বহুদিন যাবৎই দেশের মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবোধ দেশভক্তি জাগাতে বাড়তি উদ্যোগ নিয়েছে। তার প্রভাব প্রতিপত্তির ফলে দেশে কোথায় কী হয়েছে, হচ্ছে তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্প্রতি দেখলাম, কলেজে কলেজে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ‘দেশাত্মবোধ’ জাগাতে ইউজিসি নতুন এক নিদান দিয়েছে! ‘নয়া ভারত মন্থন’ নামের অনুষ্ঠান, সেনা ও পুলিশ শহিদদের বাড়ি বাড়ি ‘শিক্ষামূলক ভ্রমণ’ প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন সফল করতে শপথ গ্রহণ—এমন সব আয়োজন করতে হবে কলেজে কলেজে! সব ঠিক আছে। কেবল বুঝলাম না, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন সফল করার সঙ্গে দেশাত্মবোধ জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করার সম্পর্কটা কোথায়! এক ঠোঁটকাটা নিন্দুক বলেছেন, বুঝলেন না? সম্পর্কটা পোলিটিক্যাল, গেরুয়াকরণের পোলিটিক্স।
আমরা অবশ্য তা বলতে চাইছি না। কারণ, স্বচ্ছ ভারতের রূপকার, করব্যবস্থা সমেত অনেক কিছুর আগাপাশতলা সংস্কারক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদিজি দেশ জোড়া মান্যতা দাবি করতেই পারেন। কলেজ ছাত্ররা তো দেশের বাইরে নয় বরং তারা দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিক। প্রধানমন্ত্রীর মত ও পথে তাদের শামিল করতে আগাম প্রয়াস নিতেই পারেন গেরুয়া শিবির। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) মতো জাতীয় পর্যায়ের উচ্চশিক্ষা নিয়ন্ত্রক একটি সংস্থা সেই উদ্যোগ কেন নিল সেটা অনেকেই কিন্তু বুঝে উঠতে পারছেন না। এমন আরও অনেক জায়গাতেই ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে, তার ব্যাপ্তি ও গভীরতা বাড়ছে—মানুষের মনে সেসব নিয়ে জিজ্ঞাসাও বাড়ছে। যেমন ধরুন, কিছুদিন আগের নোটবন্দি। নোট বাতিলে চরম ভোগান্তির শিকার হলেন মানুষ, কিন্তু কী লাভ হল দেশের অর্থনীতির, কতটা নিয়ন্ত্রিত হল কালো কারবারিরা—আমরা কিছুই জানি না! সেই নোট যন্ত্রণার ক্ষত শুকোতে না শুকোতেই জিএসটি—আর এক প্রস্থ হয়রানি মানুষের ঘাড়ে এসে গেল। সে যন্ত্রণা দিন কে দিন বাড়ছে ভুক্তভোগী মাত্রেই জানেন। কিন্তু, এই জিএসটিতেই দেশ রাজ্যের কার কত লাভ হবে ঈশ্বর জানেন। সবটাই এখনও ধোঁয়াশা, সবটাই এখনও বিশ্বাসে মেলায় মার্কা ব্যাপার। বাম আমলে এ রাজ্যের মানুষ দেখেছেন কীভাবে সরকারি বেসরকারি দপ্তর শিক্ষা সমাজ সংস্কৃতি সমেত সবকিছুকে কুক্ষিগত করেছে সিপিএম। সকলকে পার্টির শেখানো বুলি আওড়ানো তোতা বানাতে চেয়েছে। ইউজিসি-র ওই আগস্ট ফরমানে এবার ফের তাঁরা যদি সিঁদুরে মেঘ দেখতে পান—তাহলে খুব কি অন্যায় হবে?
যাইহোক, আর একদিন বাদেই দেশের ৭০তম স্বাধীনতা দিবস। আমরা বিগত সত্তর বছরে প্রকৃতই কতটা স্বাধীন হয়েছি, আমাদের দেশের গরিব মানুষজন আধুনিক পৃথিবীর স্বাদ দূরে থাক, জীবন কাটানোর ন্যূনতম সুযোগ সুবিধা ঠিক কতটা পেয়েছেন, প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জের মহিলারা কতটা মানুষের প্রাপ্য অধিকার অর্জন করেছেন, দেশের হাজার হাজার লাখ লাখ কোটি কোটি শিক্ষিত বেকারের ভবিষ্যতের জন্য সরকার প্রকৃতই কী করেছেন, দেশের পথেঘাটে ঘরে-বাইরে সাধারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন আজ কতটা সমর্থ, দেশের সীমান্ত জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় আমাদের বলবৃদ্ধি ঠিক কতটা হল—এসবের হিসেব খোঁজার দিন আজ। শুধু কি তাই? সমাজ সংসারের প্রতি, বাবা-মা আত্মীয়পরিজনের প্রতি গাছপালা প্রকৃতি পরিবেশ ব্যাপারে আমরা আমাদের দায়বদ্ধতা পালনে কতটা পারদর্শী হয়েছি সে আত্মসমীক্ষার দিনও তো আজ। বিশেষ করে চারদিকে দূষণ যে হারে বাড়ছে আর গাছপালা কাটা চলছে তাতে ভয় আমাদের দ্রুত বাড়ছে। গাছপালা নদী নালা পুকুর ডোবা হারিয়ে গেলে পৃথিবী তথা মানুষের ভবিষ্যৎটাই যে বিরাট প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়বে—একথা আজ কে না জানে। সবুজের জন্য তাই তো এত হাহাকার, তাকে বাঁচাতে এত আন্দোলন। তা সত্ত্বেও আমরা কি ওই মহাবিপদ নিয়ে ভাবিত, সবুজ রক্ষায় সচেতন? আমরা কি রাজনীতি আর বানিয়া লোভের ক্ষুদ্রস্বার্থ ছাড়িয়ে উঠে গাছপালা জলাজঙ্গল রক্ষায় পুরোপুরি নামতে পেরেছি? মাতামাতির রাজনীতি ছেড়ে এসব আমরা আর কবে ভাবব? জানি না। তাই, স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই প্রশ্নগুলোই শুধু আপনাদের দরবারে রেখে গেলাম। একটু ভাবুন।
13th  August, 2017
গুম-নিখোঁজ ও পরমানন্দ মন্ত্রণালয়
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলাদেশে ‘লিট ফেস্ট’ শুরু ও শেষ হল। সেই কারণে কি না জানি না, অরুন্ধতী রায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস’ হুট করে সংবাদপত্রে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এল। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় সাহিত্যিক ও সাংবাদিক, আমার অতি ঘনিষ্ঠ ও প্রিয় আনিসুল হক এই উপন্যাসের বাংলা নাম দিয়েছেন ‘পরমানন্দ মন্ত্রণালয়’।
বিশদ

লন্ডন, এডিনবরা এবং মমতা
শুভা দত্ত

দুর্গাপুজোর দিন যত এগিয়ে আসে, আনন্দটা তার সঙ্গে সমানুপাতিক হারে বাড়ে। এ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির চিরন্তন সত্য। আর মা দুর্গাকে ঘিরে সেই উৎসবের রামধনু রং ফিকে হতে শুরু করে নবমীর সন্ধ্যা থেকেই। আজ বাদে কাল দশমী। মায়ের ফিরে যাওয়ার পালা।
বিশদ

চীনের প্রেসিডেন্ট বনাম ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ
প্রশান্ত দাস

জিনপিং দেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের বললেন—আমাদের সমাজতন্ত্র দেশকে তরতর করে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। এগিয়ে চলেছে আমাদের অর্থনীতি। কিন্তু গত পাঁচ বছরে আপনারা ক’টি অবিশ্বাস্য অস্ত্র দিতে পেরেছেন সেনাদের? ভারতের ডিআরডিও কী করে পৃথিবীতে দু’নম্বর রিসার্চ সেন্টার হল? কী নেই আপনাদের? যা যা চাই, তালিকা পাঠান। যতদিন না আমরা ডিআরডিও-কে ছাপিয়ে যেতে পারছি, ততদিন আমরা নিজেদের এশিয়ার মধ্যে এক নং বলতে পারব না।
বিশদ

18th  November, 2017
রাজ্যের লাইব্রেরিগুলিকে বাঁচাতেই হবে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

মনে পড়ছে গত ডিসেম্বরের কথা। বীরভূম জেলার সরকারি বইমেলার আয়োজন হয়েছিল সিউড়িতে, ইরিগেশন কলোনির মাঠে। আমি উদ্বোধক, মঞ্চে জেলার মন্ত্রীরা, সঙ্গত কারণেই উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থাগারমন্ত্রীও। মঞ্চে বসেই সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয়, আলাপচারিতা।
বিশদ

18th  November, 2017
মোদির আমলে শিশুদের খিদের যন্ত্রণা তীব্র, কারণ শিশু ও মহিলা উন্নয়নে গুরুত্ব কম
দেবনারায়ণ সরকার

কেন্দ্রীয় সরকারের গত ৩ বছরের বাজেটের তথ্য সার্বিকভাবে বিচার করলে দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাজেটে মোট ব্যয় যেখানে ২১ শতাংশের বেশি বেড়েছে (টাকার অঙ্কে অতিরিক্ত প্রায় ৩ লক্ষ ৫১ হাজার কোটি টাকা), সেখানে মহিলা ও শিশু উন্নয়নে ব্যয় কপর্দকও বাড়েনি, বরং প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। একইভাবে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন ব্যয় বাজেটের মোট ব্যয়ের ১ শতাংশের অনেক নীচে নেমেছে। মোদ্দা কথা হল, যে দেশের কেন্দ্রীয় বাজেটে মহিলা ও শিশু উন্নয়নের ব্যয় বাজেটে মোট ব্যয়ের ১ শতাংশেরও কম এবং এই ব্যয় মোদির জমানায় যেহেতু আরও কমছে, সেই দেশে রোজ রাতে খালি পেটে শুতে যাওয়া শিশুদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধিটাই স্বাভাবিক। তাই ভারতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অপুষ্টিও।
বিশদ

17th  November, 2017
ডেঙ্গু: রাজনীতি ছেড়ে হাত মিলিয়ে কাজের সময়
অনিরুদ্ধ কর

অবিলম্বে একটা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা নিয়মাবলী প্রকাশ করতে হবে সরকারের তরফে। সরকারি নির্দেশ মানতে বাধ্য সকল সরকারি বেসরকারি ও প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্র। অতীতের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে বার্ড ফ্লু বা সোয়াইন ফ্লু-র সময় সরকারের তরফে এমন নিয়মাবলী প্রকাশ করা হয়েছিল। চিকিৎসাব্যবস্থায় কী কী থাকতে হবে এবং কোথায় থাকবে তাও বলে দেওয়া হয়েছিল। ফ্লু-র ওষুধ একমাত্র সরকার দিত। খোলাবাজারে মিলত না সেই ওষুধ। কারণ সেক্ষেত্রে ওষুধ নিয়ে কালোবাজারি এবং চড়া দামে ওষুধ বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যেত। এছাড়া একটি রাজ্যস্তরের কমিটি ছিল পর্যালোচনার জন্য।
বিশদ

17th  November, 2017
প্যারিস, পরিবেশ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 পরিবেশ মানে হল যেখানে সেখানে থুতু না ফেলা। মন্তব্যটি আমারই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর। এবং কী ভয়ঙ্কর সাবলীল স্বীকারোক্তি। যে দেশে ৩০ কোটি মানুষ এখনও দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করেন, যেখানে সাক্ষরতা বলতে বোঝানো হয় নিজের নাম সই করতে পারা, সেখানে সচেতনতার প্রাথমিক পাঠটা এমন একটা মন্তব্য দিয়ে শুরু করলে মন্দ কী!
বিশদ

16th  November, 2017
সার্ধশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি টেম্‌স থেকে গঙ্গা: ভগিনী নিবেদিতার দার্শনিক যাত্রা
জয়ন্ত কুশারী

 আয়ারল্যান্ডের স্বল্প জনবসতি শহর ডুং গানন। স্যামুয়েল রিচমন্ড নোবেল নামে এক ধর্মযাজক ও তাঁর ভক্তিমতী স্ত্রী মেরি ইসাবেল হ্যামিলটন বাস করেন এই শহরে। এঁরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে করজোড়ে প্রার্থনা করেন সুখপ্রসবে প্রথম সন্তানটি হলে তাঁরা ঈশ্বরের চরণেই সদ্যোজাতকে সমর্পণ করবেন।
বিশদ

16th  November, 2017
নোট বাতিল: উত্তরপ্রদেশের ভোট, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং চে গুয়েভারা
শুভময় মৈত্র

নোট বাতিলের কারণ এবং ফল সংক্রান্ত আলোচনা দেখে, শুনে এবং পড়ে জনগণ এই বিষয়ে যথেষ্ট অবহিত, হয়তো বা কিছুটা ক্লান্তও বটে। বিজেপি সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন, এর কী কী ভুল ভ্রান্তি আছে, দেশের কী ক্ষতি হল, সাধারণ মানুষ ঠিক কতটা ভুগলেন এই নিয়ে আমরা যতটা আলোচনা করেছি সেই পরিমাণটা সময় এবং সম্পদের হিসেবে পাঁচশো আর হাজার টাকার মোট বাতিল নোটের মূল্যের থেকে বেশিও হয়ে যেতে পারে।
বিশদ

14th  November, 2017
বুকে লাল গোলাপের সেই মানুষটির কথা আজ খুব মনে পড়ছে
মোশারফ হোসেন

স্বপনদা বলত, পচার চাই। বুঝলে ভায়া, পচারটাই আসল। বাঁকুড়া মানুষ স্বপনদা র-ফলা উচ্চারণ করতে পারত না। তার মুখে ‘প্রচার’ শব্দটা ‘পচার’ হয়েই বেরত। আগ্রার ভঁপু চক্কোত্তিও একই কথা বলেছিলেন। ভঁপুবাবুর সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। এরকমই এক নভেম্বরে। উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোটের খবর করতে গিয়ে।
বিশদ

14th  November, 2017
ফাইলের ভয় দেখিয়ে মুকুল কি রাজ্য রাজনীতিতে জায়গা করতে পারবেন?
শুভা দত্ত

ভয় দেখাচ্ছেন মুকুল রায়, ফাইলের ভয়। মারাত্মক তথ্য ঠাসা গোপন সব ফাইল নাকি সদ্য গেরুয়াধারী মুকুল রায়ের হাতে! সেসব ফাইলের তথ্য প্রকাশ পেলেই নাকি ধরাশায়ী হবে তৃণমূল! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্ব চলে যাবে! আর সেই সুযোগে ড্যাং ড্যাং করে মুকুল রায়ের বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের দখল নেবে। মমতা ভুলে বাংলার জনতাও মোদিজি অমিতজির বন্দনায় আত্মহারা হবে।
বিশদ

12th  November, 2017
ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও জনকল্যাণমুখী ও সংগঠিত করা প্রয়োজন
বরুণ গান্ধী

 এবারে আমার আলোচনার বিষয়বস্তু হল, আমাদের দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে। খুব বেশিদিন নয়, মাত্র মাসদুয়েক আগের কথা। গোরখপুরের বি আর ডি হাসপাতালে ৬০ জন ছোট ছেলে-মেয়ে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেল। এর থেকে দুঃখের ঘটনা আর কিছু হয় না। খবরে প্রকাশ, প্রতিদিন এই হাসপাতালে গড়ে ২০০/২৫০ জন এনসেফ্যালাইটিস রোগে আক্রান্ত রোগী ভরতি হচ্ছিলেন। রোগীর এহেন ভিড়ে এখানকার চিকিৎসার পরিকাঠামো একরকম ভেঙে পড়ে। বিশদ

12th  November, 2017
একনজরে
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মাড়গ্রাম থানার কালিদহ গ্রামে শনিবার অগ্নিদগ্ধ হয়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম আফরোজা বিবি(২১)। শুক্রবার রাতে শ্বশুরবাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হন আফরোজা। তাঁকে রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলা হাসপাতালে ভরতি করেন পরিবারের সদস্যরা। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভারতীয় ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা চেতেশ্বর পূজারা বলেছেন, কাউন্টি ক্রিকেট খেলার সুবিধা পাচ্ছেন তিনি। তিনি এই প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘এই মরশুমে আমি আটটি কাউন্টি ম্যাচ খেলেছি। ফলে ইডেনের উইকেটে ব্যাট করতে খুব বেশি সমস্যা হয়নি। ...

বিএনএ, কোচবিহার: পঞ্চায়েত নির্বাচনকে পাখির চোখ করে আজ, রবিবার থেকে আদাজল খেয়ে ময়দানে নামছে কোচবিহার জেলা বিজেপি। নভেম্বরের মধ্যেই তৃণমূল স্তরে সংগঠনের বুথস্তরের কমিটি তৈরির কাজ শেষ করে ভিতকে আরও মজবুত করার ব্যাপারে রাজ্য থেকে জেলাতে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। ...

 বিএনএ, চুঁচুড়া: গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যে সমস্ত কর্মী দলের পরিবর্তে নিজের স্বার্থরক্ষার জন্য গোষ্ঠী তৈরি করছেন, বহুবার তাঁদের সতর্ক করা হয়েছে। নিজেদের দ্রুত শুধরে নিতে না পারলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, প্রয়োজনে বরখাস্ত করা হবে। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের বিষয় নির্বাচন সঠিক হওয়া দরকার। কর্মপ্রার্থীরা কোন শুভ সংবাদ পেতে পারেন। কারও সঙ্গে সম্পর্কহানি ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৩৮: সমাজ সংস্কারক কেশবচন্দ্র সেনের জন্ম
১৮৭৭: কবি করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯১৭: ভারতের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জন্ম
১৯২২: সঙ্গীতকার সলিল চৌধুরির জন্ম
১৯২৮: কুস্তিগীর ও অভিনেতা দারা সিংয়ের জন্ম
১৯৫১: অভিনেত্রী জিনাত আমনের জন্ম

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.০০ টাকা ৬৫.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৩২ টাকা ৮৭.১৯ টাকা
ইউরো ৭৫.২০ টাকা ৭৭.৮৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
18th  November, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,১৯৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৬৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ অগ্রহায়ণ, ১৯ নভেম্বর, রবিবার, প্রতিপদ রাত্রি ৭/১৫, নক্ষত্র-অনুরাধা রাত্রি ৯/৫৭, সূ উ ৫/৫৫/৪৩, অ ৪/৪৮/১৭, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৪০ গতে ৮/৫০ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৪ গতে ২/৩৮ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/২৩ গতে ৯/১১ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৯ গতে ১/৩৪ মধ্যে পুনঃ ২/২৭ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ১০/০ গতে ১২/৪০ মধ্যে, কালরাত্রি ১২/৫৯ গতে ২/৩৯ মধ্যে।
ইতু পূজা।
 
২ অগ্রহায়ণ, ১৯ নভেম্বর, রবিবার, প্রতিপদ রাত্রি ৫/৪৫/৪১, অনুরাধানক্ষত্র ৯/২৭/৫২, সূ উ ৫/৫৬/১২, অ ৪/৪৭/১৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৯/৩৬-৮/৪৯/৩৮, ১১/৪৩/০-২/৩৬/২১, রাত্রি ৭/২৫/৬-৯/১০/১৬, ১১/৪৮/৩-১/৩৩/১৪, ২/২৫/৫০-৫/৫৬/৫৮, বারবেলা ১০/০/২২-১১/২১/৪৫, কালবেলা ১১/২১/৪৫-১২/৪৩/৯, কালরাত্রি ৯/৪৩/১৩-১১/২১/৫৮।
ইতু পূজা।

২৯ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আই এস এল: নর্থইস্ট ইউনাইটেড :০ জামশেদপুর এফ সি :০
আজ গুয়াহাটির ইন্দিরা গান্ধী অ্যাথেলেটিক স্টেডিয়ামে আই এস এল-এ মুখোমুখি ...বিশদ

18-11-2017 - 10:04:08 PM

আই এস এল: নর্থইস্ট ইউনাইটেড :০ জামশেদপুর এফ সি :০ (প্রথমার্ধ)

18-11-2017 - 08:54:58 PM

 মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৭ হলেন মনুষী ছিল্লর

18-11-2017 - 08:23:20 PM

আই এস এল: নর্থইস্ট ইউনাইটেড:০ জামশেদপুর এফ সি:০
আজ গুয়াহাটির ইন্দিরা গান্ধী অ্যাথেলেটিক স্টেডিয়ামে আই এস এল-এ মুখোমুখি ...বিশদ

18-11-2017 - 08:11:51 PM

ট্রেনের সময়সূচি বদল
ডাউন ট্রেন দেরিতে আসার জন্য

১২৩৩১ আপ হাওড়া-জাট ...বিশদ

18-11-2017 - 07:16:00 PM