বিশেষ নিবন্ধ
 

আমাদের ‘মন কি বাত’ আপনি কবে শুনবেন মোদিজি?
মেরুনীল দাশগুপ্ত

গুজরাতের রাজ্যসভা ভোটনাটকের পরিণতি নিয়ে দেশজনতা কতটা উদ্বিগ্ন ছিলেন জানি না। তবে বাজারদর নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ যে চড়চড় করে বাড়ছে তাতে সন্দেহ নেই। উদ্বেগ স্বাভাবিক। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র থেকে জামাকাপড় মায় ওষুধপত্রের দাম যে-হারে দিন প্রতিদিন বাড়ছে তাতে আম জনতার ঘর পরিবারে উদ্বেগ স্বাভাবিক। এবং আগামীতে জনতার এই উদ্বেগ আতঙ্কের পর্যায়ে গিয়ে ঠেকলেও আমরা আশ্চর্য হব না। কেননা, আর কিছু দিনের মধ্যেই দেশ জুড়ে উৎসবের মরশুম শুরু হয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশে উৎসবের আগ দিয়ে কোনও না কোনও অছিলায় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি একটা রেওয়াজ। বলতে কী, আমরা তাতে অভ্যস্তও। কিন্তু, এবারের ব্যাপারটা খানিক আলাদা।
এবার দাম বাড়াটা শুরু হয়ে গেছে উৎসবের মরশুম চালু হওয়ার বেশ খানিকটা আগে থেকেই। সারা দেশে এক কর ব্যবস্থা চালু করতে দিল্লীশ্বর জিএসটি চালু করলেন। আর সেই ইস্তক জিএসটি-র অছিলায় গমকে গমকে সবকিছুর দাম হল ঊর্ধ্বমুখী! শুধু দামই যে ঊর্ধ্বমুখী হল তাই নয় বাজারে জীবনদায়ী ওষুধপত্র থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক কিছুর আকালও দেখা দিল! সেই আকালের ব্যাপ্তি ও গভীরতা দিন যত গিয়েছে তত বেড়েছে—ভুক্তভোগী মাত্রেই তা স্বীকার করবেন। এক্ষেত্রেও অভিযোগের তির জিএসটি-র দিকে। ঠিক জিএসটি-র দিকে নয়, সুনির্দিষ্ট করে বললে জিএসটি প্রণেতা ও প্রতিষ্ঠাতাদের দিকে! দেশের প্রস্তুতকারক ও ব্যবসায়ী মহলকে জিএসটি-র সঙ্গে সড়গড় হওয়ার সুযোগ না দিয়েই দেশ জুড়ে পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) চালুর কুফলই ফলছে দেশের বাজারে, জোগানে অভাব ঘটছে, দাম বাড়ছে। অন্তত, মোটামুটি ‘নিরপেক্ষ’ তথ্যভিজ্ঞদের তেমনটাই অভিমত। আর দেশের মানুষের ভয়, উৎসবের মুখে চিরাচরিত বর্ধিত দামের বাজারে এই জিএসটি বাড়তি হয়ে দেখা দেবে না তো!
বিশেষ করে এই বাংলায় পুজোর মুখে নিত্যদিনের বাজারের যা হাল দাঁড়াচ্ছে তাতে বঙ্গবাসীর ইতিমধ্যেই নাভিশ্বাস উঠতে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় কর্মীরা হয়তো তাঁদের নয়া পে-স্কেলের সুবাদে একটু শ্বাস ফেলতে পারবেন। কিন্তু, রাজ্যের কর্মচারীবৃন্দ? তাঁদের কী হবে? পুরানো বেতন কারও কারও ক্ষেত্রে কিছু অ্যাডভান্স এক্সগ্রাসিয়া—তা দিয়ে কি জিএসটি প্রকোপিত আগুনে বাজারের হলকা ঠেকাতে পারবেন তাঁরা? নিত্যদিনের বাজারে জিনিসপত্রের দামে তো ফের আগুনে হলকা। ধকধক করে বাড়ছে সেই হলকার তেজ। কয়েকদিন আগেও যেসব সবজির গড় দাম ছিল কেজি প্রতি ৩০-৪০ টাকা সেই সবজি এখন ৫০-৬০-৭০-৮০ টাকা! টমেটোর মতো নিরীহ ফসলে হাত ছোঁয়ালে বিষ ছোবলের যন্ত্রণা জাগছে! আর এই তালিকায় নতুন সংযোজন পিয়াজ। কয়েকদিনের মধ্যে দর দ্বিগুণ তিনগুণ ছাপিয়ে গেছে ৪০-৬০! মাছ মাংসের তো কথাই নেই। কাগজে মিডিয়ায় এখন ইলিশের ঢল। অথচ, বাজারে গেলে আটশো বারোশো দু-হাজার! মাংস শোনা যাচ্ছে, পুজোর সময় ছ’শোর গণ্ডি পেরবে। মিষ্টির দোকানে দই-সন্দেশ রসগোল্লা—দু-পাঁচ-দশ বেড়ে গেছে এর মধ্যেই! নতুন কাটের জামাকাপড় শখশৌখিনতার জিনিসপত্তর—দাম শুনে অনেকের চোখও বিস্ফারিত হচ্ছে আর তারপরই মুখ বেয়ে ঝরে পড়ছে হতশ্বাস অসহায়তা। উপায় নেই, গোলামহোসেন উপায় নেই। ওই ক’টা টাকায় এসব কেনাকাটা করলে খাবটা কী মাসভর? পুজো তো এবার মাস শেষে!
এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ কী? না না, চিন্তা করবেন না—কারণ রেডি আছে—অনেক কারণ। প্রথম জিএসটি, দ্বিতীয় অতি বৃষ্টি, তৃতীয় অনাবৃষ্টি এবং আরও কত। এই ধরুন না পেঁয়াজের কথা, বলা হচ্ছে—কর্ণাটক অন্ধ্র এবার শুখা গেছে আর গুজরাত মহারাষ্ট্র বানভাসি—তাই পেঁয়াজের দাম লাগাম ছাড়িয়েছে! ওই রাজ্যগুলো থেকে পেঁয়াজ আসে যে। আরও অন্য রাজ্য থেকেও আসে—কিন্তু, দেশের চাহিদা নাকি তারা সামলাতে পারছে না! নাসিকও না! আমাদের রাজ্যের ক্ষেত্রেও বৃষ্টি নাকি সবজির দাম বাড়িয়ে চলেছে! তুলোর দামও নাকি আগুন আর তার তাপ লেগেছে পোশাক শিল্পে—চড়েছে দাম! জিএসটি সেই দামকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে—এই যা। যতদূর মনে পড়ছে, গত বছরই এমন সময় বাজারে শুনেছিলাম বৃষ্টি নেই, তাই ফসলের দাম চড়ে যাচ্ছে! লে হালুয়া? তাহলে আইডিয়াল পরিস্থিতি কোনটা যাতে দাম বাড়বে না, মানুষও রোজগার অনুযায়ী দুমুঠো খেয়েপরে শান্তিতে বাঁচবে? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের রাজ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে টাস্কফোর্সকে নিয়োগ করেছেন। আশা করা যায়, তাঁর রাজত্বের আগের বছরগুলোর মতো এবারও বাংলার মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর সক্রিয়তার গুণে মূল্যবৃদ্ধির আঁচ থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পাবেন। কিন্তু, বাদবাকি দেশ—তার কী হবে? আর কোনও রাজ্যে তো মমতা নেই। সঞ্চয়ে সুদের হার তলানিতে নিয়ে গিয়ে, রান্নার গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দেশময় গরিব মধ্যবিত্ত পেষাইয়ের যে কলটি চালু হয়েছে তাকেই বা থামাবেন কে?
মূল প্রশ্নটা এখানেই। দেশের মানুষের ন্যূনতম ভরণপোষণের ব্যবস্থা বহাল রাখতে কেন্দ্র কি সত্যিই আন্তরিক? সত্যিই কি—গরিব মধ্যবিত্তের কথা ভেবেই নোটবন্দি জিএসটি স্বচ্ছ ভারত—এইসব! তাই যদি, তবে দেশে কেন এখনও পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ রাখার ব্যবস্থা নেই? কে না জানে, আজকের এই দূষণজর্জর উষ্ণায়িত পৃথিবীতে ঋতু আর নিয়ম মেনে চক্রবৎ পরিবর্তিত হয় না? কে না জানে ঝঞ্ঝাবিক্ষোভ অতিবৃষ্টি অনাবৃষ্টি বানবন্যা ধসভূকম্প এখন আমাদের নিত্য সহচর? কে না জানে, তার জেরে ফসল ফলনে যেকোনও বছর বিভ্রাট হতে পারে এবং হয়েই থাকে? শুধু কি তাই? জনসংখ্যার তোড়? তাকে সামাল দিতে অতিদ্রুত ফলনশীল ফসল ফলানোর ঝোঁক বাড়ছে বাড়ুক। কিন্তু, ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা ভেবে ফসল সংরক্ষণের কি যথেষ্ট ব্যবস্থা হয়েছে? হয়ে থাকলে কথায় কথায় এমন অনটন দেখা দেয় কী করে? ফড়ে দালালরা বাজার চড়িয়ে গরিব মধ্যবিত্তের পকেট কেটে মুনাফাবাজি করে যায় কীভাবে? উন্নত সেচের ব্যবস্থাই যদি থাকে তবে কেন খরা হলে ফসলের এমন দুর্গতি হয়? সাধারণের জমায় সুদ কমাতে যাঁরা এমন তৎপর তাঁরা ঋণখেলাপিদের শত শত কোটি টাকা মকুব করে দিচ্ছেন কীভাবে? মধ্যবিত্ত সংহার ছাড়া কি স্বচ্ছ ভারত গড়া যায় না? স্বচ্ছ ভারতে কি মধ্যবিত্তের ঠাঁই হবে না? এমন আরও কত প্রশ্ন আমাদের মতো মূঢ়মতি আম পাবলিকের মনে, রাস্তাঘাটের আলোচনায়—কিন্তু শুনছেটা কে? শোনার দরকারটাই বা কী? পাবলিক মানে তো কটা সংখ্যা। ভোটের গিন্তিতে লাগে, মাঠময়দানের সভা ভরাতে লাগে। আর কোথায় লাগে?
জানি, আমার মতো পাবলিকের এইসব আহাম্মক জিজ্ঞাসার অনেক ভারী ভারী তথ্যভরা উত্তর মজুদ আছে দিল্লির সরকারি ঘরে। ফিগার ফিগার এবং ফিগার। সংখ্যা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে রাজ্যের দিলীপ ঘোষ তা দিয়ে আমার মতো এক বাতুলের জিজ্ঞাসাগুলোকে হেলায় ভাসিয়ে বঙ্গোপসাগর থেকে অতলান্তিকে পাঠিয়ে দিতে পারেন। প্রমাণ করে দিতে পারেন—কেন্দ্রের বর্তমান সরকার মোদিজির নেতৃত্বে দেশ জুড়ে আর্থিক ও তৎসংলগ্ন বিবিধ বিষয়ে যে সংস্কারের বান ডাকিয়েছেন তাতে দেশের মানুষ থেকে গোবৎস—সর্বস্তরে সকলের সুদিন সমাসন্ন। বাড়িকে প্রাসাদতুল্য করে তুলতে হলে যে ভাঙচুরটুকু অনিবার্য এখন দেশে সেটাই চলছে। তার জন্য সাময়িক ভোগান্তি ভুগতে হচ্ছে মানুষকে। সুদিন স্বচ্ছ ভারতের মূল্য হিসেবে সে আর এমন কী? দেশের মানুষ সেটা বোঝেন বলেই একটু একটু করে গোটা দেশটাই গেরুয়া করে দিচ্ছেন। মাঝে গুজরাত রাজ্যসভা ভোটে একটু বেসুরো গাইল—তাতেই বা কী?
ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এখন সর্বশক্তিমান, যা চায় তাই পারে।
কিন্তু, আমাদের স্থির বিশ্বাস—দেশের গরিব মধ্যবিত্তের মন থেকে ওই প্রশ্নগুলো মুছে দিতে পারবেন না। কারণ, ওগুলো মনের কথা, ‘মন কি বাত’। মনের কথা সবসময় মুখে বলা যায় না, বলা বিপজ্জনকও। বিশেষত, আজকের এই রাজনীতি-ধর্ম-বর্ণ বিভাজিত সময়ে তো মনের কথা বলতে যাওয়া প্রাণঘাতীও বটে! নারকী হিংস্রতার আক্রমণে নিহত সাহিত্যিক সমাজকর্মী ব্লগারদের লাশগুলো সেই সত্যটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় না কি? কিন্তু এটাও সত্যি, আমাদের দেশনায়ক দেশহিতব্রতী সহৃদয়জন যদি আন্তরিক হন তবে আম পাবলিকের ‘মন কি বাতে’র আভাস মুখ দেখেই আন্দাজ করে নিতে পারেন। কারণ, ফেস ইজ দি ইন্ডেক্স অফ মাইন্ড, মুখই মনের আয়না—বলেন সুধীজন। সুতরাং, চাইলে জনতার মনের কথা পড়ে ফেলাই যায়। ব্যাপারটা খুব কঠিন নয় বোধহয়।
এখন কথা হল, আমাদের সরকার বাহাদুর কবে পড়বেন? প্রধানমন্ত্রীজির ‘মন কি বাত’ আমরা তো মন দিয়ে শুনি। রেডিওয় কান পেতে শোনে গোটা দেশ। দেশের কোণে কোণে মে সেই বাত নিয়ে চর্চাও চলে। স্বচ্ছ ভারত নিয়ে তাঁর স্বপ্নসাধনা, দেশের পড়-আনপড় জনমণ্ডলীর উন্নয়ন-উন্নতি নিয়ে তাঁর ভাবনা-কল্পনা, দুর্নীতিদলন কালো-ধান্দা কালো-টাকা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ এবং সেই উদ্বেগ নাশে নোট-বাতিল, জিএসটি ইত্যাদি ব্যাপারে তাঁর সুগভীর দর্শন, দেশবাসীর জীবনযাত্রার সার্বিক মানোন্নয়নে তাঁর নিরন্তর চিন্তাতত্ত্ব—সব আমরা শুরু থেকে শুনে আসছি, শুনে চলেছি। আমাদের অনেকে সেসব শুনে অনুপ্রাণিত বোধ করেন—এমন খবরও আছে। কিন্তু, সেসব শোনার পর আমাদের বিনীত প্রশ্ন একটাই, শেষ প্রশ্ন—দেশের আম পাবলিকের ‘মন কি বাত’ আপনি কবে শুনবেন মোদিজি?
10th  August, 2017
গুম-নিখোঁজ ও পরমানন্দ মন্ত্রণালয়
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলাদেশে ‘লিট ফেস্ট’ শুরু ও শেষ হল। সেই কারণে কি না জানি না, অরুন্ধতী রায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস’ হুট করে সংবাদপত্রে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এল। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় সাহিত্যিক ও সাংবাদিক, আমার অতি ঘনিষ্ঠ ও প্রিয় আনিসুল হক এই উপন্যাসের বাংলা নাম দিয়েছেন ‘পরমানন্দ মন্ত্রণালয়’।
বিশদ

19th  November, 2017
লন্ডন, এডিনবরা এবং মমতা
শুভা দত্ত

দুর্গাপুজোর দিন যত এগিয়ে আসে, আনন্দটা তার সঙ্গে সমানুপাতিক হারে বাড়ে। এ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির চিরন্তন সত্য। আর মা দুর্গাকে ঘিরে সেই উৎসবের রামধনু রং ফিকে হতে শুরু করে নবমীর সন্ধ্যা থেকেই। আজ বাদে কাল দশমী। মায়ের ফিরে যাওয়ার পালা।
বিশদ

19th  November, 2017
চীনের প্রেসিডেন্ট বনাম ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ
প্রশান্ত দাস

জিনপিং দেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের বললেন—আমাদের সমাজতন্ত্র দেশকে তরতর করে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। এগিয়ে চলেছে আমাদের অর্থনীতি। কিন্তু গত পাঁচ বছরে আপনারা ক’টি অবিশ্বাস্য অস্ত্র দিতে পেরেছেন সেনাদের? ভারতের ডিআরডিও কী করে পৃথিবীতে দু’নম্বর রিসার্চ সেন্টার হল? কী নেই আপনাদের? যা যা চাই, তালিকা পাঠান। যতদিন না আমরা ডিআরডিও-কে ছাপিয়ে যেতে পারছি, ততদিন আমরা নিজেদের এশিয়ার মধ্যে এক নং বলতে পারব না।
বিশদ

18th  November, 2017
রাজ্যের লাইব্রেরিগুলিকে বাঁচাতেই হবে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

মনে পড়ছে গত ডিসেম্বরের কথা। বীরভূম জেলার সরকারি বইমেলার আয়োজন হয়েছিল সিউড়িতে, ইরিগেশন কলোনির মাঠে। আমি উদ্বোধক, মঞ্চে জেলার মন্ত্রীরা, সঙ্গত কারণেই উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থাগারমন্ত্রীও। মঞ্চে বসেই সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয়, আলাপচারিতা।
বিশদ

18th  November, 2017
মোদির আমলে শিশুদের খিদের যন্ত্রণা তীব্র, কারণ শিশু ও মহিলা উন্নয়নে গুরুত্ব কম
দেবনারায়ণ সরকার

কেন্দ্রীয় সরকারের গত ৩ বছরের বাজেটের তথ্য সার্বিকভাবে বিচার করলে দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাজেটে মোট ব্যয় যেখানে ২১ শতাংশের বেশি বেড়েছে (টাকার অঙ্কে অতিরিক্ত প্রায় ৩ লক্ষ ৫১ হাজার কোটি টাকা), সেখানে মহিলা ও শিশু উন্নয়নে ব্যয় কপর্দকও বাড়েনি, বরং প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। একইভাবে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন ব্যয় বাজেটের মোট ব্যয়ের ১ শতাংশের অনেক নীচে নেমেছে। মোদ্দা কথা হল, যে দেশের কেন্দ্রীয় বাজেটে মহিলা ও শিশু উন্নয়নের ব্যয় বাজেটে মোট ব্যয়ের ১ শতাংশেরও কম এবং এই ব্যয় মোদির জমানায় যেহেতু আরও কমছে, সেই দেশে রোজ রাতে খালি পেটে শুতে যাওয়া শিশুদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধিটাই স্বাভাবিক। তাই ভারতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অপুষ্টিও।
বিশদ

17th  November, 2017
ডেঙ্গু: রাজনীতি ছেড়ে হাত মিলিয়ে কাজের সময়
অনিরুদ্ধ কর

অবিলম্বে একটা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা নিয়মাবলী প্রকাশ করতে হবে সরকারের তরফে। সরকারি নির্দেশ মানতে বাধ্য সকল সরকারি বেসরকারি ও প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্র। অতীতের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে বার্ড ফ্লু বা সোয়াইন ফ্লু-র সময় সরকারের তরফে এমন নিয়মাবলী প্রকাশ করা হয়েছিল। চিকিৎসাব্যবস্থায় কী কী থাকতে হবে এবং কোথায় থাকবে তাও বলে দেওয়া হয়েছিল। ফ্লু-র ওষুধ একমাত্র সরকার দিত। খোলাবাজারে মিলত না সেই ওষুধ। কারণ সেক্ষেত্রে ওষুধ নিয়ে কালোবাজারি এবং চড়া দামে ওষুধ বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যেত। এছাড়া একটি রাজ্যস্তরের কমিটি ছিল পর্যালোচনার জন্য।
বিশদ

17th  November, 2017
প্যারিস, পরিবেশ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 পরিবেশ মানে হল যেখানে সেখানে থুতু না ফেলা। মন্তব্যটি আমারই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর। এবং কী ভয়ঙ্কর সাবলীল স্বীকারোক্তি। যে দেশে ৩০ কোটি মানুষ এখনও দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করেন, যেখানে সাক্ষরতা বলতে বোঝানো হয় নিজের নাম সই করতে পারা, সেখানে সচেতনতার প্রাথমিক পাঠটা এমন একটা মন্তব্য দিয়ে শুরু করলে মন্দ কী!
বিশদ

16th  November, 2017
সার্ধশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি টেম্‌স থেকে গঙ্গা: ভগিনী নিবেদিতার দার্শনিক যাত্রা
জয়ন্ত কুশারী

 আয়ারল্যান্ডের স্বল্প জনবসতি শহর ডুং গানন। স্যামুয়েল রিচমন্ড নোবেল নামে এক ধর্মযাজক ও তাঁর ভক্তিমতী স্ত্রী মেরি ইসাবেল হ্যামিলটন বাস করেন এই শহরে। এঁরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে করজোড়ে প্রার্থনা করেন সুখপ্রসবে প্রথম সন্তানটি হলে তাঁরা ঈশ্বরের চরণেই সদ্যোজাতকে সমর্পণ করবেন।
বিশদ

16th  November, 2017
নোট বাতিল: উত্তরপ্রদেশের ভোট, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং চে গুয়েভারা
শুভময় মৈত্র

নোট বাতিলের কারণ এবং ফল সংক্রান্ত আলোচনা দেখে, শুনে এবং পড়ে জনগণ এই বিষয়ে যথেষ্ট অবহিত, হয়তো বা কিছুটা ক্লান্তও বটে। বিজেপি সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন, এর কী কী ভুল ভ্রান্তি আছে, দেশের কী ক্ষতি হল, সাধারণ মানুষ ঠিক কতটা ভুগলেন এই নিয়ে আমরা যতটা আলোচনা করেছি সেই পরিমাণটা সময় এবং সম্পদের হিসেবে পাঁচশো আর হাজার টাকার মোট বাতিল নোটের মূল্যের থেকে বেশিও হয়ে যেতে পারে।
বিশদ

14th  November, 2017
বুকে লাল গোলাপের সেই মানুষটির কথা আজ খুব মনে পড়ছে
মোশারফ হোসেন

স্বপনদা বলত, পচার চাই। বুঝলে ভায়া, পচারটাই আসল। বাঁকুড়া মানুষ স্বপনদা র-ফলা উচ্চারণ করতে পারত না। তার মুখে ‘প্রচার’ শব্দটা ‘পচার’ হয়েই বেরত। আগ্রার ভঁপু চক্কোত্তিও একই কথা বলেছিলেন। ভঁপুবাবুর সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। এরকমই এক নভেম্বরে। উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোটের খবর করতে গিয়ে।
বিশদ

14th  November, 2017
ফাইলের ভয় দেখিয়ে মুকুল কি রাজ্য রাজনীতিতে জায়গা করতে পারবেন?
শুভা দত্ত

ভয় দেখাচ্ছেন মুকুল রায়, ফাইলের ভয়। মারাত্মক তথ্য ঠাসা গোপন সব ফাইল নাকি সদ্য গেরুয়াধারী মুকুল রায়ের হাতে! সেসব ফাইলের তথ্য প্রকাশ পেলেই নাকি ধরাশায়ী হবে তৃণমূল! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্ব চলে যাবে! আর সেই সুযোগে ড্যাং ড্যাং করে মুকুল রায়ের বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের দখল নেবে। মমতা ভুলে বাংলার জনতাও মোদিজি অমিতজির বন্দনায় আত্মহারা হবে।
বিশদ

12th  November, 2017
ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও জনকল্যাণমুখী ও সংগঠিত করা প্রয়োজন
বরুণ গান্ধী

 এবারে আমার আলোচনার বিষয়বস্তু হল, আমাদের দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে। খুব বেশিদিন নয়, মাত্র মাসদুয়েক আগের কথা। গোরখপুরের বি আর ডি হাসপাতালে ৬০ জন ছোট ছেলে-মেয়ে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেল। এর থেকে দুঃখের ঘটনা আর কিছু হয় না। খবরে প্রকাশ, প্রতিদিন এই হাসপাতালে গড়ে ২০০/২৫০ জন এনসেফ্যালাইটিস রোগে আক্রান্ত রোগী ভরতি হচ্ছিলেন। রোগীর এহেন ভিড়ে এখানকার চিকিৎসার পরিকাঠামো একরকম ভেঙে পড়ে। বিশদ

12th  November, 2017
একনজরে
বিএনএ, শিলিগুড়ি: শনিবার গভীর রাতে ভক্তিনগর থানার সেভক রোডের একটি গুদামে দুষ্কৃতী হামলায় এক নিরাপত্তা রক্ষী খুন হন। পুলিস জানিয়েছে, নিহত নিরাপত্তারক্ষীর নাম রঘুনাথ রায়(৬২)। অভিযুক্তের খোঁজে পুলিস তল্লাশি শুরু করেছে।  ...

সুকান্ত বেরা: সকালটা যদি হয় মহম্মদ সামির, তাহলে বিকেলের নায়ক অবশ্যই শিখর ধাওয়ান। তবুও রবিবাসরীয় ইডেনে ভারতীয় ক্রিকেটারদের সাফল্যের পাশাপাশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল দিলরুবান ...

বিএনএ, চুঁচুড়া: রবিবার শেষদিনে কার্তিক ঠাকুর দেখার জন্য সকাল থেকেই বাঁশবেড়িয়ার মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় জমালেন দর্শনার্থীরা। বেলা যত গড়িয়েছে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের ...

সংবাদদাতা, কান্দি: কান্দি মহকুমা এলাকায় অযত্নে শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে সবুজমালা প্রকল্পের বহু মূল্যবান গাছ। বছরখানেক আগে কান্দি মহকুমা এলাকার বিভিন্ন রাস্তার দু’পাশে ওই গাছগুলি লাগানো হয়েছিল। কিন্তু বছর পেরনোর আগেই অর্ধেক গাছ শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে যত্নের অভাবে। গাছের চারদিকের ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রেম-প্রণয়ে নতুনত্ব থাকবে। নতুন বন্ধু লাভ, ভ্রমণ ও মানসিক প্রফুল্লতা বজায় থাকবে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৫০- মহীশূরের শাসক টিপু সুলতানের জন্ম।
১৯১০- রুশ সাহিত্যিক লিও তলস্তয়ের মৃত্যু।
১৯১৭- কলকাতায় প্রতিষ্ঠা হল বোস রিসার্চ ইনস্টিটিউট।
১৯৫৫- নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের পক্ষে টেস্টে প্রথম দ্বিশতরান করলেন উমরিগড় (২২৩)।  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.০০ টাকা ৬৫.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৩২ টাকা ৮৭.১৯ টাকা
ইউরো ৭৫.২০ টাকা ৭৭.৮৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
18th  November, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,১৯৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৬৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
19th  November, 2017

দিন পঞ্জিকা

৪ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৯/৩৬, নক্ষত্র-জ্যেষ্ঠা রাত্রি ১২/৪৮, সূ উ ৫/৫৬/২৫, অ ৪/৪৮/৪, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৭/২৩ মধ্যে পুনঃ ৮/৫০ গতে ১১/০ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/২৬ গতে ১০/৬ মধ্যে পুনঃ ২/২৭ গতে ৩/১৯ মধ্যে, বারবেলা ঘ ৭/১৮ গতে ৮/৪০ মধ্যে পুনঃ ২/৫ গতে ৩/২৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৪ গতে ১১/২২ মধ্যে।
৩ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৭/৪২/২৮, জ্যেষ্ঠানক্ষত্র ১১/৫৫/৩৬, সূ উ ৫/৫৬/৫৮, অ ৪/৪৬/৫৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/২৩/৩৮, ৮/৫০/১৮-১১/০/১৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৪/৫৮-১০/৫৫/১৮, ২/২৫/৩৭-৩/১৮/১৮, বারবেলা ২/৪/২৮-৩/২৬/৪৩, কালবেলা ৭/১৮/১৩-৮/৩৯/২৮, কালরাত্রি ৯/৪৩/১৩-১১/২১/৫৮। 
৩০ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বারুইপুর স্টেশনে অবরোধ উঠল, শিয়ালদহ বিভাগের প্রতিটি শাখায় ৮টা ৩৪ মিনিট থেকে ফের শুরু ট্রেন চলাচল

09:07:41 PM

রেল অবরোধ ঘিরে ধুন্ধুমার বারুইপুর স্টেশন

 বেআইনি উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে রেল অবরোধকে কেন্দ্র করে ...বিশদ

08:40:29 PM

লুধিয়ানায় প্লাস্টিক কারখানায় আগুন, মৃত ৩
লুধিয়ানায় একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ...বিশদ

08:13:00 PM

ফের দালাল চক্রের অভিযোগ এসএসকেএম হাসপাতালে

 ফের দালাল চক্রের অভিযোগ উঠল এসএসকেএম হাসপাতালে। টাকা নিতে গিয়ে ...বিশদ

07:10:02 PM

 বিহারের গোপালগঞ্জে হাইটেনশন লাইনের বিদ্যুৎস্পৃশ্য হয়ে মৃত ৫, গুরুতর আহত ৩

06:22:00 PM