বিশেষ নিবন্ধ
 

২১ জুলাই: গণতন্ত্র ফেরানোর মস্ত সুযোগ
হারাধন চৌধুরী

১৩ আগস্ট সাত পুরসভায় নির্বাচন। ভোট নেওয়া হবে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর, নদীয়ার কুপার্স ক্যাম্প, বীরভূমের নলহাটি, পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া ও পাঁশকুড়া পুরসভায় এবং পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর কর্পোরেশনে। চাঁপদানি ও ঝাড়গ্রামের মোট দুটি পুর ওয়ার্ডে উপনির্বাচনও হবে। সব মিলিয়ে দেড়শোটি পুর ওয়ার্ডের ভোট। রাজ্য নির্বাচন কমিশন ভোটের ঘোষণা করেছে ১৩ জুলাই। বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সোমবার। মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া শুরু হবে ২৪ জুলাই। অর্থাৎ এই গুরুত্বপূর্ণ পুরভোটের মূল লড়াই শুরুই হয়ে গিয়েছে।
এর মধ্যেই চলে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস দলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি ২১ জুলাই বা ‘শহিদ দিবস’ পালন। আমরা জানি, ১৯৯৩ সালের ওই দিনে রাজ্য যুব কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহাকরণ অভিযানের ডাক দেন। তিনি ওই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলায় গণতন্ত্র ফেরানোর দাবিতে—বারবার ভোটের নামে প্রহসন ঠেকাতে ভোটারদের সচিত্র পরিচয়পত্র দেখিয়েই ভোটগ্রহণ বাধ্যতামূলক করার আওয়াজ তোলেন মমতা। যুব কংগ্রেসের নামে ওই জনসমাবেশের ডাক দেওয়া হলেও তাতে কংগ্রেসের সর্বস্তরের দরদি কর্মী সমর্থক নেতা যোগ দেন। তা দেখে জ্যোতি বসুর পার্টি ও প্রশাসন দিশেহারা হয়ে পড়ে। ভয়ডরহীন নরনারীর বিক্ষোভ সামাল দিতে পুলিশ বেপরোয়া হয়ে উঠতেই বেধে যায় নিরস্ত্র জনতা ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সম্মুখ-লড়াই। সেদিন পুলিশের নির্মম আক্রমণে ১৩ জন কংগ্রেসি নিহত হন। কমবেশি জখম হন অগণিত সাধারণ মানুষ। সেদিন পুলিশের গুলিতে অত্যাচারে যাঁদের রক্ত ঝরেছে, যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন তাঁদের মর্যাদা দিতেই পরের বছর থেকে ২১ জুলাই ‘শহিদ তর্পণ’ আরম্ভ করেন মমতা ও তাঁর অনুগামীরা।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ২০১১ সালে রাজ্যপাটে যে ‘পরিবর্তন’ হয়েছে তাতে ২১ জুলাইয়ের ভূমিকা অপরিমেয়। একুশে তৃণমূলকে নীরবেই ডিভিডেন্ড দিয়ে চলেছে। ২০১১-র আগে এবং পরেও, আজ পর্যন্ত। এই প্রসঙ্গে একাধিকবার লোকসভা ও বিধানসভার ভোট, পঞ্চায়েত ও পুরভোটের কথা উল্লেখ করা চলে। মমতার দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রিত্বলাভেও একুশের নীরব অবদান অনস্বীকার্য।
আগামী ১৩ আগস্ট পুরভোটেও একুশের শহিদদের দোয়া আশীর্বাদ নিশ্চয় চাইবে তৃণমূল। এটা খুবই স্বাভাবিক। তবে, ‘একুশে জুলাই’ সংঘটনের উদ্দেশ্যটা ভুলে যাওয়া উচিত হবে না—বাংলায় গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। আত্মবিস্মৃত ইতিহাসবিস্মৃত জাতি আমরা। তাই এই ভয়টা থেকেই যায়। ঘা শুকিয়ে যাওয়ার পর ব্যথা যন্ত্রণার কথা আমাদের ক্বচিৎ স্মরণে আসে। ঠিক তেমনি তৃণমূল শাসকদলরূপে আত্মপ্রকাশ করার পর থেকে এই ভয়টাই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। তৃণমূল রাজ্যে যখন বিরোধী দল ছিল তখন তার কাছে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের যে মূল্য ছিল, তার সবটা যে আর অবশিষ্ট নেই, গত সাত বছরে তার অনেক প্রমাণই তারা রেখেছে। এর সবচেয়ে বেশি প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে গত পঞ্চায়েত ভোটে এবং তার পরে একাধিকবার অনুষ্ঠিত পুরভোটে।
বহু ক্ষেত্রেই চেষ্টা হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝুঁকি এড়ানোর। বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় যেসব জায়গায় হাসিল সম্ভব হয়নি তেমন অনেক স্থানেই চেষ্টা হয়েছে গায়ের জোর দেখানোর। এমনকী অনেক সময়ই সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অগোচরে পুলিশ প্রশাসনেরও একাংশকে জো হুজুরের মতো ব্যবহার করার চেষ্টা হয়েছে। তার পরেও তো রাজ্যে কংগ্রেস, সিপিএমসহ কয়েকটি বাম দল, এমনকী বিজেপি প্রভৃতির প্রতীকেও কয়েকজন এমএলএ হয়েছেন। কিছু পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ এবং পুরসভায় বোর্ড গঠনের রায় বিরোধীরা পেয়েছে। রাজ্যবাসী অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে দেখেছে, মানুষের ওই রায়টুকুও মেনে নেওয়ার মতো সহনশীল নয় তৃণমূল—বিধানসভাসহ রাজ্যের সর্বত্র যখন তাদের গরিষ্ঠতা নিরঙ্কুশ, তখনও নয়। বিধানসভায় শাসক পক্ষের শক্তিবৃদ্ধি করতে কংগ্রেস, সিপিএম, ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি, নির্দল—যেখানে যাকে যেভাবে ভজানো গিয়েছে তাঁকেই ঘাসফুল পতাকাবাহী করে নেওয়া হয়েছে। এমনকী গত মে মাসে অনুষ্ঠিত সাত পুরসভার ভোটের পরেও এই ট্র্যাডিশনেরে ব্যতিক্রম ঘটানোর চেষ্টা হল না। দল ভাঙানোর খেলার সবচেয়ে নিকৃষ্ট নজির রাখা হল পূজালিতে ও ডোমকলে।
মে মাসে অবশ্য তৃণমূলের উলটো ভূমিকা ছিল পাহাড়ে। সেখানকার চারটি পুরসভায় প্রত্যেকে যাতে নিজের ভোট নিজে দিতে পারেন তার জন্য চেষ্টার কসুর করেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন এবং পার্টি। ওই ভোটে পাহাড়ের রাজনৈতিক সংগঠনগুলির সঙ্গে সমানে পাল্লা দিয়েছে সর্বভারতীয় দলগুলিও। গণতন্ত্রের এমন অনুশীলন দার্জিলিং দেখল টানা চার দশক বাদে। আর সেটা ক্লান্তিহীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐকান্তিক চেষ্টা নিষ্ঠা ও ভয়হীন উপস্থিতি ছাড়া কল্পনা করাও কঠিন।
সাফল্যলাভ কঠিন সবসময়। কিন্তু, তা ধরে রাখা যে আরও কঠিন! পাহাড়ে তো সেটাই দেখা যাচ্ছে। মে মাসের ভোটে তৃণমূল মিরিক পুরসভা দখল করেছে। বাকি তিনটিতেও খাতা খুলেছে ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক। কিন্তু, তৃণমূলের এই ঐতিহাসিক জয়ের হাসিটাই এবার মুছে দিতে উদ্যত হয়েছে বিমল গুরুংয়ের সাঙ্গপাঙ্গরা। দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পংয়ের তৃণমূল পুর কাউন্সিলারদের উপর আগেই প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে গোর্খাল্যান্ডওয়ালাদের সুরে সুর মেলানোর জন্য। বাকি ছিল মিরিক। এবার ওই চাপ বহুগুণ হয়ে উঠেছে মিরিক তৃণমূল পুরবোর্ডের উপর। গোর্খাল্যান্ডওয়ালারা এবার গায়ের জোরে মিরিক পুরসভার দখল চায়।
কংগ্রেস, কমিউনিস্ট, বিজেপিসহ সকলেই জানে ও মানে যে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উপর জুলুমবাজি ঘোরতর অন্যায়। তবু লক্ষ করার বিষয় হল, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল কিন্তু এই ব্যাপারে গুরুংদের নিন্দায় সরব হয়নি। তারা বরং এতেই তৃপ্তির হাসিই হাসছে। তারা হয়তো মনে মনে বলছে, দেখ কেমন লাগে! পরের ঘর ভাঙানোর জ্বালাটা এবার অন্তত অনুভব কর। ব্যাপারটা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনকই বটে। তবু তৃণমূলের সেই নৈতিক শক্তি কোথায় যে অন্তত এই প্রশ্নে বিরোধীদের সহানুভূতি দাবি করে! তৃণমূল তো অনেকাংশেই ষাট-সত্তরের দশকের কংগ্রেস এবং তৎপরবর্তী সিপিএমের দেখানো পথের পথিক হয়ে বসেছে! একুশে জুলাইয়ের দাবি তৃণমূল বিস্মৃত হয়েছে যেন তারই অজান্তে, স্রেফ আরও ক্ষমতা, আরও বৈভবের আত্মঘাতী মোহে। দল ভাঙানোর খিলাড়িরা বুঝতে চান না যে, একজন নির্বাচিত প্রতিনিধিকে দলে টেনে নেওয়ার অর্থ তাঁর সমর্থকদেরও কাছে পাওয়া নয়। এর ফল বাস্তবে উলটোই হয়। যাঁকে ফুসলানো হল তাঁর সম্পর্কে তো বটেই, যে দল তাঁকে ফুসলে নিল তার সম্পর্কেও জনমানসে একটা ভয়ানক অশ্রদ্ধার ভাব তৈরি হয়। দলত্যাগী জনপ্রতিনিধিকে ‘বেইমান’ আর তিনি যে দলে গেলেন সেই দলটাকে ‘সর্বগ্রাসী’ বলেই ভাবেন গণতন্ত্রপ্রিয় নাগরিকরা।
এখন আত্মসমীক্ষা করে দেখলে হয় না কি—দার্জিলিং পরিস্থিতি কয়েক দশক আগে কেন অগ্নিগর্ভ হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল? কেন বাংলার বাকি অংশে গণতন্ত্রের নামে ‘শুধু আমি সাদা তুমি কালো’ মার্কা এক আত্মপ্রবঞ্চনাদায়ী কালচারের জন্ম হয়েছে? দার্জিলিং হাতের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে সেখানে মূলধারার রাজনীতির অনুশীলন দীর্ঘকাল স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে। সার্বিক উন্নয়নকে সামনে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই পাহাড়ে মূলধারার রাজনীতির অনুশীলন ফেরানোর আপ্রাণ চেষ্টা নিয়েছেন। তাঁর এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের সাফল্যের উপরেই দার্জিলিংয়ের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।
একথা অনুমান করা যায় যে, মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অন্য দলগুলির সহযোগিতা সহানুভূতি পেলে মমতার লড়াইটা সহজ সার্থক ও সুন্দর হতে পারে। কিন্তু, যে-নেত্রী পাহাড়ে মূলধারার রাজনীতি ফেরানোর জন্য মরিয়া, তিনি কেন সমতলে সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতি রক্ষায় যত্নবান নন!
সামনে একুশে জুলাই। ভুল শুধরে নেওয়ার জন্য এটাকেই একটা বড় সুযোগ হিসাবে বেছে নেওয়া যায় না কি? একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে নেত্রী বিশ্বাসযোগ্যভাবে রাজ্যের সর্বত্র বহুদলীয় গণতন্ত্রকে ফের শক্তিশালী করার বার্তা দিতে পারেন। তাহলে গঠনমূলক কর্মসূচিগুলিতে বিরোধীদের সমর্থন নীতিগতভাবে দাবি করার অধিকারী হবেন তিনি। রাজ্যে বিরোধী রাজনীতির পরিসর ফিরে আসার পরেও কংগ্রেস, কমিউনিস্ট, বিজেপি প্রভৃতি দল অন্যায় বিরোধিতা জারি রাখলে রাজ্যবাসী তারও হিসাব রাখবে।
একুশে জুলাইয়ের সমাবেশের অব্যবহিত পরেই অনুষ্ঠিত হবে সাত পুরসভার ভোট। রাজ্যে গণতন্ত্র ফেরানোর প্রশ্নে তৃণমূল ও তার প্রশাসন কতটা আন্তরিক ১৩ আগস্ট‌ই হতে পারে তার প্রথম পরীক্ষা। এই ভোটপর্বটিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। ওইদিন যে রেকর্ড সৃষ্টি হবে সেটাই কিন্তু বাজবে রাজ্যজুড়ে পরবর্তী পঞ্চায়েত ভোটে। এই অনুমান অসংগত নয় যে, গত সাত বছরে বিভিন্ন দফায় নানা কৌশলে বাংলায় কংগ্রেস, কমিউনিস্ট প্রভৃতিকে অপ্রাসঙ্গিক করে ফেলার কারণেই বিজেপি ও তাদের দোসরদের অভাবনীয় উত্থান ঘটেছে। এখন সেই ম্যাও সামলানো দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এবার সম্মানের সঙ্গে ঘুরে দাঁড়ানোর মঞ্চ হয়ে উঠুক একুশে জুলাই। এ স্বার্থ শুধু তৃণমূলের নয়—সব দলের, সার্বিকভাবে সারা বাংলার ও গণতন্ত্রের।
18th  July, 2017
গুম-নিখোঁজ ও পরমানন্দ মন্ত্রণালয়
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলাদেশে ‘লিট ফেস্ট’ শুরু ও শেষ হল। সেই কারণে কি না জানি না, অরুন্ধতী রায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস’ হুট করে সংবাদপত্রে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এল। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় সাহিত্যিক ও সাংবাদিক, আমার অতি ঘনিষ্ঠ ও প্রিয় আনিসুল হক এই উপন্যাসের বাংলা নাম দিয়েছেন ‘পরমানন্দ মন্ত্রণালয়’।
বিশদ

লন্ডন, এডিনবরা এবং মমতা
শুভা দত্ত

দুর্গাপুজোর দিন যত এগিয়ে আসে, আনন্দটা তার সঙ্গে সমানুপাতিক হারে বাড়ে। এ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির চিরন্তন সত্য। আর মা দুর্গাকে ঘিরে সেই উৎসবের রামধনু রং ফিকে হতে শুরু করে নবমীর সন্ধ্যা থেকেই। আজ বাদে কাল দশমী। মায়ের ফিরে যাওয়ার পালা।
বিশদ

চীনের প্রেসিডেন্ট বনাম ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ
প্রশান্ত দাস

জিনপিং দেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের বললেন—আমাদের সমাজতন্ত্র দেশকে তরতর করে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। এগিয়ে চলেছে আমাদের অর্থনীতি। কিন্তু গত পাঁচ বছরে আপনারা ক’টি অবিশ্বাস্য অস্ত্র দিতে পেরেছেন সেনাদের? ভারতের ডিআরডিও কী করে পৃথিবীতে দু’নম্বর রিসার্চ সেন্টার হল? কী নেই আপনাদের? যা যা চাই, তালিকা পাঠান। যতদিন না আমরা ডিআরডিও-কে ছাপিয়ে যেতে পারছি, ততদিন আমরা নিজেদের এশিয়ার মধ্যে এক নং বলতে পারব না।
বিশদ

18th  November, 2017
রাজ্যের লাইব্রেরিগুলিকে বাঁচাতেই হবে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

মনে পড়ছে গত ডিসেম্বরের কথা। বীরভূম জেলার সরকারি বইমেলার আয়োজন হয়েছিল সিউড়িতে, ইরিগেশন কলোনির মাঠে। আমি উদ্বোধক, মঞ্চে জেলার মন্ত্রীরা, সঙ্গত কারণেই উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থাগারমন্ত্রীও। মঞ্চে বসেই সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয়, আলাপচারিতা।
বিশদ

18th  November, 2017
মোদির আমলে শিশুদের খিদের যন্ত্রণা তীব্র, কারণ শিশু ও মহিলা উন্নয়নে গুরুত্ব কম
দেবনারায়ণ সরকার

কেন্দ্রীয় সরকারের গত ৩ বছরের বাজেটের তথ্য সার্বিকভাবে বিচার করলে দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাজেটে মোট ব্যয় যেখানে ২১ শতাংশের বেশি বেড়েছে (টাকার অঙ্কে অতিরিক্ত প্রায় ৩ লক্ষ ৫১ হাজার কোটি টাকা), সেখানে মহিলা ও শিশু উন্নয়নে ব্যয় কপর্দকও বাড়েনি, বরং প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। একইভাবে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন ব্যয় বাজেটের মোট ব্যয়ের ১ শতাংশের অনেক নীচে নেমেছে। মোদ্দা কথা হল, যে দেশের কেন্দ্রীয় বাজেটে মহিলা ও শিশু উন্নয়নের ব্যয় বাজেটে মোট ব্যয়ের ১ শতাংশেরও কম এবং এই ব্যয় মোদির জমানায় যেহেতু আরও কমছে, সেই দেশে রোজ রাতে খালি পেটে শুতে যাওয়া শিশুদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধিটাই স্বাভাবিক। তাই ভারতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অপুষ্টিও।
বিশদ

17th  November, 2017
ডেঙ্গু: রাজনীতি ছেড়ে হাত মিলিয়ে কাজের সময়
অনিরুদ্ধ কর

অবিলম্বে একটা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা নিয়মাবলী প্রকাশ করতে হবে সরকারের তরফে। সরকারি নির্দেশ মানতে বাধ্য সকল সরকারি বেসরকারি ও প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্র। অতীতের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে বার্ড ফ্লু বা সোয়াইন ফ্লু-র সময় সরকারের তরফে এমন নিয়মাবলী প্রকাশ করা হয়েছিল। চিকিৎসাব্যবস্থায় কী কী থাকতে হবে এবং কোথায় থাকবে তাও বলে দেওয়া হয়েছিল। ফ্লু-র ওষুধ একমাত্র সরকার দিত। খোলাবাজারে মিলত না সেই ওষুধ। কারণ সেক্ষেত্রে ওষুধ নিয়ে কালোবাজারি এবং চড়া দামে ওষুধ বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যেত। এছাড়া একটি রাজ্যস্তরের কমিটি ছিল পর্যালোচনার জন্য।
বিশদ

17th  November, 2017
প্যারিস, পরিবেশ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 পরিবেশ মানে হল যেখানে সেখানে থুতু না ফেলা। মন্তব্যটি আমারই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর। এবং কী ভয়ঙ্কর সাবলীল স্বীকারোক্তি। যে দেশে ৩০ কোটি মানুষ এখনও দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করেন, যেখানে সাক্ষরতা বলতে বোঝানো হয় নিজের নাম সই করতে পারা, সেখানে সচেতনতার প্রাথমিক পাঠটা এমন একটা মন্তব্য দিয়ে শুরু করলে মন্দ কী!
বিশদ

16th  November, 2017
সার্ধশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি টেম্‌স থেকে গঙ্গা: ভগিনী নিবেদিতার দার্শনিক যাত্রা
জয়ন্ত কুশারী

 আয়ারল্যান্ডের স্বল্প জনবসতি শহর ডুং গানন। স্যামুয়েল রিচমন্ড নোবেল নামে এক ধর্মযাজক ও তাঁর ভক্তিমতী স্ত্রী মেরি ইসাবেল হ্যামিলটন বাস করেন এই শহরে। এঁরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে করজোড়ে প্রার্থনা করেন সুখপ্রসবে প্রথম সন্তানটি হলে তাঁরা ঈশ্বরের চরণেই সদ্যোজাতকে সমর্পণ করবেন।
বিশদ

16th  November, 2017
নোট বাতিল: উত্তরপ্রদেশের ভোট, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং চে গুয়েভারা
শুভময় মৈত্র

নোট বাতিলের কারণ এবং ফল সংক্রান্ত আলোচনা দেখে, শুনে এবং পড়ে জনগণ এই বিষয়ে যথেষ্ট অবহিত, হয়তো বা কিছুটা ক্লান্তও বটে। বিজেপি সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন, এর কী কী ভুল ভ্রান্তি আছে, দেশের কী ক্ষতি হল, সাধারণ মানুষ ঠিক কতটা ভুগলেন এই নিয়ে আমরা যতটা আলোচনা করেছি সেই পরিমাণটা সময় এবং সম্পদের হিসেবে পাঁচশো আর হাজার টাকার মোট বাতিল নোটের মূল্যের থেকে বেশিও হয়ে যেতে পারে।
বিশদ

14th  November, 2017
বুকে লাল গোলাপের সেই মানুষটির কথা আজ খুব মনে পড়ছে
মোশারফ হোসেন

স্বপনদা বলত, পচার চাই। বুঝলে ভায়া, পচারটাই আসল। বাঁকুড়া মানুষ স্বপনদা র-ফলা উচ্চারণ করতে পারত না। তার মুখে ‘প্রচার’ শব্দটা ‘পচার’ হয়েই বেরত। আগ্রার ভঁপু চক্কোত্তিও একই কথা বলেছিলেন। ভঁপুবাবুর সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। এরকমই এক নভেম্বরে। উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোটের খবর করতে গিয়ে।
বিশদ

14th  November, 2017
ফাইলের ভয় দেখিয়ে মুকুল কি রাজ্য রাজনীতিতে জায়গা করতে পারবেন?
শুভা দত্ত

ভয় দেখাচ্ছেন মুকুল রায়, ফাইলের ভয়। মারাত্মক তথ্য ঠাসা গোপন সব ফাইল নাকি সদ্য গেরুয়াধারী মুকুল রায়ের হাতে! সেসব ফাইলের তথ্য প্রকাশ পেলেই নাকি ধরাশায়ী হবে তৃণমূল! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্ব চলে যাবে! আর সেই সুযোগে ড্যাং ড্যাং করে মুকুল রায়ের বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের দখল নেবে। মমতা ভুলে বাংলার জনতাও মোদিজি অমিতজির বন্দনায় আত্মহারা হবে।
বিশদ

12th  November, 2017
ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও জনকল্যাণমুখী ও সংগঠিত করা প্রয়োজন
বরুণ গান্ধী

 এবারে আমার আলোচনার বিষয়বস্তু হল, আমাদের দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে। খুব বেশিদিন নয়, মাত্র মাসদুয়েক আগের কথা। গোরখপুরের বি আর ডি হাসপাতালে ৬০ জন ছোট ছেলে-মেয়ে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেল। এর থেকে দুঃখের ঘটনা আর কিছু হয় না। খবরে প্রকাশ, প্রতিদিন এই হাসপাতালে গড়ে ২০০/২৫০ জন এনসেফ্যালাইটিস রোগে আক্রান্ত রোগী ভরতি হচ্ছিলেন। রোগীর এহেন ভিড়ে এখানকার চিকিৎসার পরিকাঠামো একরকম ভেঙে পড়ে। বিশদ

12th  November, 2017
একনজরে
বিএনএ, কোচবিহার: পঞ্চায়েত নির্বাচনকে পাখির চোখ করে আজ, রবিবার থেকে আদাজল খেয়ে ময়দানে নামছে কোচবিহার জেলা বিজেপি। নভেম্বরের মধ্যেই তৃণমূল স্তরে সংগঠনের বুথস্তরের কমিটি তৈরির কাজ শেষ করে ভিতকে আরও মজবুত করার ব্যাপারে রাজ্য থেকে জেলাতে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভারতীয় ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা চেতেশ্বর পূজারা বলেছেন, কাউন্টি ক্রিকেট খেলার সুবিধা পাচ্ছেন তিনি। তিনি এই প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘এই মরশুমে আমি আটটি কাউন্টি ম্যাচ খেলেছি। ফলে ইডেনের উইকেটে ব্যাট করতে খুব বেশি সমস্যা হয়নি। ...

হারারে, ১৮ নভেম্বর: জিম্বাবোয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবেকে গৃহবন্দি করে রাখার ঘটনাটিকে সামরিক অভ্যুত্থান হিসেবেই দেখছে আফ্রিকান ইউনিয়ন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মুগাবে উৎখাতের এই অভ্যুত্থানের নেপথ্যে ...

 প্রসেনজিৎ কোলে, কলকাতা: একদিকে বিদ্যুৎ চুরি, অন্যদিকে ঝড়-বৃষ্টিতে তার ছিঁড়ে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার মতো ঘটনা এড়াতে এবার কোচবিহার এবং নবদ্বীপ শহরের গোটা বিদ্যুৎ বণ্টনের পরিকাঠামো ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের বিষয় নির্বাচন সঠিক হওয়া দরকার। কর্মপ্রার্থীরা কোন শুভ সংবাদ পেতে পারেন। কারও সঙ্গে সম্পর্কহানি ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৩৮: সমাজ সংস্কারক কেশবচন্দ্র সেনের জন্ম
১৮৭৭: কবি করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯১৭: ভারতের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জন্ম
১৯২২: সঙ্গীতকার সলিল চৌধুরির জন্ম
১৯২৮: কুস্তিগীর ও অভিনেতা দারা সিংয়ের জন্ম
১৯৫১: অভিনেত্রী জিনাত আমনের জন্ম

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.০০ টাকা ৬৫.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৩২ টাকা ৮৭.১৯ টাকা
ইউরো ৭৫.২০ টাকা ৭৭.৮৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
18th  November, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,১৯৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৬৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ অগ্রহায়ণ, ১৯ নভেম্বর, রবিবার, প্রতিপদ রাত্রি ৭/১৫, নক্ষত্র-অনুরাধা রাত্রি ৯/৫৭, সূ উ ৫/৫৫/৪৩, অ ৪/৪৮/১৭, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৪০ গতে ৮/৫০ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৪ গতে ২/৩৮ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/২৩ গতে ৯/১১ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৯ গতে ১/৩৪ মধ্যে পুনঃ ২/২৭ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ১০/০ গতে ১২/৪০ মধ্যে, কালরাত্রি ১২/৫৯ গতে ২/৩৯ মধ্যে।
ইতু পূজা।
 
২ অগ্রহায়ণ, ১৯ নভেম্বর, রবিবার, প্রতিপদ রাত্রি ৫/৪৫/৪১, অনুরাধানক্ষত্র ৯/২৭/৫২, সূ উ ৫/৫৬/১২, অ ৪/৪৭/১৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৯/৩৬-৮/৪৯/৩৮, ১১/৪৩/০-২/৩৬/২১, রাত্রি ৭/২৫/৬-৯/১০/১৬, ১১/৪৮/৩-১/৩৩/১৪, ২/২৫/৫০-৫/৫৬/৫৮, বারবেলা ১০/০/২২-১১/২১/৪৫, কালবেলা ১১/২১/৪৫-১২/৪৩/৯, কালরাত্রি ৯/৪৩/১৩-১১/২১/৫৮।
ইতু পূজা।

২৯ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
পাটনার শাস্ত্রীনগরে একটি বাড়িতে ঢুকে গুলি চালাল এক দুষ্কৃতী, মৃত ১

10:29:00 AM

লুধিয়ানার একটি পুলিশ স্টেশনের গ্যারেজে আগুন, পুড়ে ছাই ১০টি বাইক

10:26:00 AM

শহরে ট্রাফিকের হাল
আজ, রবিবার সকালে শহরের রাস্তাঘাটে যান চলাচল মোটের ...বিশদ

10:16:00 AM

উত্তরপ্রদেশে কুয়াশার জেরে দেরিতে চলছে একাধিক ট্রেন, সমস্যায় যাত্রীরা

10:02:00 AM

হিমাচলের লাহোলে তুষারপাত

09:52:00 AM