বিশেষ নিবন্ধ
 

২১ জুলাই: গণতন্ত্র ফেরানোর মস্ত সুযোগ
হারাধন চৌধুরী

১৩ আগস্ট সাত পুরসভায় নির্বাচন। ভোট নেওয়া হবে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর, নদীয়ার কুপার্স ক্যাম্প, বীরভূমের নলহাটি, পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া ও পাঁশকুড়া পুরসভায় এবং পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর কর্পোরেশনে। চাঁপদানি ও ঝাড়গ্রামের মোট দুটি পুর ওয়ার্ডে উপনির্বাচনও হবে। সব মিলিয়ে দেড়শোটি পুর ওয়ার্ডের ভোট। রাজ্য নির্বাচন কমিশন ভোটের ঘোষণা করেছে ১৩ জুলাই। বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সোমবার। মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া শুরু হবে ২৪ জুলাই। অর্থাৎ এই গুরুত্বপূর্ণ পুরভোটের মূল লড়াই শুরুই হয়ে গিয়েছে।
এর মধ্যেই চলে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস দলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি ২১ জুলাই বা ‘শহিদ দিবস’ পালন। আমরা জানি, ১৯৯৩ সালের ওই দিনে রাজ্য যুব কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহাকরণ অভিযানের ডাক দেন। তিনি ওই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলায় গণতন্ত্র ফেরানোর দাবিতে—বারবার ভোটের নামে প্রহসন ঠেকাতে ভোটারদের সচিত্র পরিচয়পত্র দেখিয়েই ভোটগ্রহণ বাধ্যতামূলক করার আওয়াজ তোলেন মমতা। যুব কংগ্রেসের নামে ওই জনসমাবেশের ডাক দেওয়া হলেও তাতে কংগ্রেসের সর্বস্তরের দরদি কর্মী সমর্থক নেতা যোগ দেন। তা দেখে জ্যোতি বসুর পার্টি ও প্রশাসন দিশেহারা হয়ে পড়ে। ভয়ডরহীন নরনারীর বিক্ষোভ সামাল দিতে পুলিশ বেপরোয়া হয়ে উঠতেই বেধে যায় নিরস্ত্র জনতা ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সম্মুখ-লড়াই। সেদিন পুলিশের নির্মম আক্রমণে ১৩ জন কংগ্রেসি নিহত হন। কমবেশি জখম হন অগণিত সাধারণ মানুষ। সেদিন পুলিশের গুলিতে অত্যাচারে যাঁদের রক্ত ঝরেছে, যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন তাঁদের মর্যাদা দিতেই পরের বছর থেকে ২১ জুলাই ‘শহিদ তর্পণ’ আরম্ভ করেন মমতা ও তাঁর অনুগামীরা।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ২০১১ সালে রাজ্যপাটে যে ‘পরিবর্তন’ হয়েছে তাতে ২১ জুলাইয়ের ভূমিকা অপরিমেয়। একুশে তৃণমূলকে নীরবেই ডিভিডেন্ড দিয়ে চলেছে। ২০১১-র আগে এবং পরেও, আজ পর্যন্ত। এই প্রসঙ্গে একাধিকবার লোকসভা ও বিধানসভার ভোট, পঞ্চায়েত ও পুরভোটের কথা উল্লেখ করা চলে। মমতার দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রিত্বলাভেও একুশের নীরব অবদান অনস্বীকার্য।
আগামী ১৩ আগস্ট পুরভোটেও একুশের শহিদদের দোয়া আশীর্বাদ নিশ্চয় চাইবে তৃণমূল। এটা খুবই স্বাভাবিক। তবে, ‘একুশে জুলাই’ সংঘটনের উদ্দেশ্যটা ভুলে যাওয়া উচিত হবে না—বাংলায় গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। আত্মবিস্মৃত ইতিহাসবিস্মৃত জাতি আমরা। তাই এই ভয়টা থেকেই যায়। ঘা শুকিয়ে যাওয়ার পর ব্যথা যন্ত্রণার কথা আমাদের ক্বচিৎ স্মরণে আসে। ঠিক তেমনি তৃণমূল শাসকদলরূপে আত্মপ্রকাশ করার পর থেকে এই ভয়টাই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। তৃণমূল রাজ্যে যখন বিরোধী দল ছিল তখন তার কাছে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের যে মূল্য ছিল, তার সবটা যে আর অবশিষ্ট নেই, গত সাত বছরে তার অনেক প্রমাণই তারা রেখেছে। এর সবচেয়ে বেশি প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে গত পঞ্চায়েত ভোটে এবং তার পরে একাধিকবার অনুষ্ঠিত পুরভোটে।
বহু ক্ষেত্রেই চেষ্টা হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝুঁকি এড়ানোর। বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় যেসব জায়গায় হাসিল সম্ভব হয়নি তেমন অনেক স্থানেই চেষ্টা হয়েছে গায়ের জোর দেখানোর। এমনকী অনেক সময়ই সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অগোচরে পুলিশ প্রশাসনেরও একাংশকে জো হুজুরের মতো ব্যবহার করার চেষ্টা হয়েছে। তার পরেও তো রাজ্যে কংগ্রেস, সিপিএমসহ কয়েকটি বাম দল, এমনকী বিজেপি প্রভৃতির প্রতীকেও কয়েকজন এমএলএ হয়েছেন। কিছু পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ এবং পুরসভায় বোর্ড গঠনের রায় বিরোধীরা পেয়েছে। রাজ্যবাসী অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে দেখেছে, মানুষের ওই রায়টুকুও মেনে নেওয়ার মতো সহনশীল নয় তৃণমূল—বিধানসভাসহ রাজ্যের সর্বত্র যখন তাদের গরিষ্ঠতা নিরঙ্কুশ, তখনও নয়। বিধানসভায় শাসক পক্ষের শক্তিবৃদ্ধি করতে কংগ্রেস, সিপিএম, ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি, নির্দল—যেখানে যাকে যেভাবে ভজানো গিয়েছে তাঁকেই ঘাসফুল পতাকাবাহী করে নেওয়া হয়েছে। এমনকী গত মে মাসে অনুষ্ঠিত সাত পুরসভার ভোটের পরেও এই ট্র্যাডিশনেরে ব্যতিক্রম ঘটানোর চেষ্টা হল না। দল ভাঙানোর খেলার সবচেয়ে নিকৃষ্ট নজির রাখা হল পূজালিতে ও ডোমকলে।
মে মাসে অবশ্য তৃণমূলের উলটো ভূমিকা ছিল পাহাড়ে। সেখানকার চারটি পুরসভায় প্রত্যেকে যাতে নিজের ভোট নিজে দিতে পারেন তার জন্য চেষ্টার কসুর করেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন এবং পার্টি। ওই ভোটে পাহাড়ের রাজনৈতিক সংগঠনগুলির সঙ্গে সমানে পাল্লা দিয়েছে সর্বভারতীয় দলগুলিও। গণতন্ত্রের এমন অনুশীলন দার্জিলিং দেখল টানা চার দশক বাদে। আর সেটা ক্লান্তিহীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐকান্তিক চেষ্টা নিষ্ঠা ও ভয়হীন উপস্থিতি ছাড়া কল্পনা করাও কঠিন।
সাফল্যলাভ কঠিন সবসময়। কিন্তু, তা ধরে রাখা যে আরও কঠিন! পাহাড়ে তো সেটাই দেখা যাচ্ছে। মে মাসের ভোটে তৃণমূল মিরিক পুরসভা দখল করেছে। বাকি তিনটিতেও খাতা খুলেছে ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক। কিন্তু, তৃণমূলের এই ঐতিহাসিক জয়ের হাসিটাই এবার মুছে দিতে উদ্যত হয়েছে বিমল গুরুংয়ের সাঙ্গপাঙ্গরা। দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পংয়ের তৃণমূল পুর কাউন্সিলারদের উপর আগেই প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে গোর্খাল্যান্ডওয়ালাদের সুরে সুর মেলানোর জন্য। বাকি ছিল মিরিক। এবার ওই চাপ বহুগুণ হয়ে উঠেছে মিরিক তৃণমূল পুরবোর্ডের উপর। গোর্খাল্যান্ডওয়ালারা এবার গায়ের জোরে মিরিক পুরসভার দখল চায়।
কংগ্রেস, কমিউনিস্ট, বিজেপিসহ সকলেই জানে ও মানে যে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উপর জুলুমবাজি ঘোরতর অন্যায়। তবু লক্ষ করার বিষয় হল, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল কিন্তু এই ব্যাপারে গুরুংদের নিন্দায় সরব হয়নি। তারা বরং এতেই তৃপ্তির হাসিই হাসছে। তারা হয়তো মনে মনে বলছে, দেখ কেমন লাগে! পরের ঘর ভাঙানোর জ্বালাটা এবার অন্তত অনুভব কর। ব্যাপারটা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনকই বটে। তবু তৃণমূলের সেই নৈতিক শক্তি কোথায় যে অন্তত এই প্রশ্নে বিরোধীদের সহানুভূতি দাবি করে! তৃণমূল তো অনেকাংশেই ষাট-সত্তরের দশকের কংগ্রেস এবং তৎপরবর্তী সিপিএমের দেখানো পথের পথিক হয়ে বসেছে! একুশে জুলাইয়ের দাবি তৃণমূল বিস্মৃত হয়েছে যেন তারই অজান্তে, স্রেফ আরও ক্ষমতা, আরও বৈভবের আত্মঘাতী মোহে। দল ভাঙানোর খিলাড়িরা বুঝতে চান না যে, একজন নির্বাচিত প্রতিনিধিকে দলে টেনে নেওয়ার অর্থ তাঁর সমর্থকদেরও কাছে পাওয়া নয়। এর ফল বাস্তবে উলটোই হয়। যাঁকে ফুসলানো হল তাঁর সম্পর্কে তো বটেই, যে দল তাঁকে ফুসলে নিল তার সম্পর্কেও জনমানসে একটা ভয়ানক অশ্রদ্ধার ভাব তৈরি হয়। দলত্যাগী জনপ্রতিনিধিকে ‘বেইমান’ আর তিনি যে দলে গেলেন সেই দলটাকে ‘সর্বগ্রাসী’ বলেই ভাবেন গণতন্ত্রপ্রিয় নাগরিকরা।
এখন আত্মসমীক্ষা করে দেখলে হয় না কি—দার্জিলিং পরিস্থিতি কয়েক দশক আগে কেন অগ্নিগর্ভ হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল? কেন বাংলার বাকি অংশে গণতন্ত্রের নামে ‘শুধু আমি সাদা তুমি কালো’ মার্কা এক আত্মপ্রবঞ্চনাদায়ী কালচারের জন্ম হয়েছে? দার্জিলিং হাতের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে সেখানে মূলধারার রাজনীতির অনুশীলন দীর্ঘকাল স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে। সার্বিক উন্নয়নকে সামনে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই পাহাড়ে মূলধারার রাজনীতির অনুশীলন ফেরানোর আপ্রাণ চেষ্টা নিয়েছেন। তাঁর এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের সাফল্যের উপরেই দার্জিলিংয়ের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।
একথা অনুমান করা যায় যে, মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অন্য দলগুলির সহযোগিতা সহানুভূতি পেলে মমতার লড়াইটা সহজ সার্থক ও সুন্দর হতে পারে। কিন্তু, যে-নেত্রী পাহাড়ে মূলধারার রাজনীতি ফেরানোর জন্য মরিয়া, তিনি কেন সমতলে সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতি রক্ষায় যত্নবান নন!
সামনে একুশে জুলাই। ভুল শুধরে নেওয়ার জন্য এটাকেই একটা বড় সুযোগ হিসাবে বেছে নেওয়া যায় না কি? একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে নেত্রী বিশ্বাসযোগ্যভাবে রাজ্যের সর্বত্র বহুদলীয় গণতন্ত্রকে ফের শক্তিশালী করার বার্তা দিতে পারেন। তাহলে গঠনমূলক কর্মসূচিগুলিতে বিরোধীদের সমর্থন নীতিগতভাবে দাবি করার অধিকারী হবেন তিনি। রাজ্যে বিরোধী রাজনীতির পরিসর ফিরে আসার পরেও কংগ্রেস, কমিউনিস্ট, বিজেপি প্রভৃতি দল অন্যায় বিরোধিতা জারি রাখলে রাজ্যবাসী তারও হিসাব রাখবে।
একুশে জুলাইয়ের সমাবেশের অব্যবহিত পরেই অনুষ্ঠিত হবে সাত পুরসভার ভোট। রাজ্যে গণতন্ত্র ফেরানোর প্রশ্নে তৃণমূল ও তার প্রশাসন কতটা আন্তরিক ১৩ আগস্ট‌ই হতে পারে তার প্রথম পরীক্ষা। এই ভোটপর্বটিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। ওইদিন যে রেকর্ড সৃষ্টি হবে সেটাই কিন্তু বাজবে রাজ্যজুড়ে পরবর্তী পঞ্চায়েত ভোটে। এই অনুমান অসংগত নয় যে, গত সাত বছরে বিভিন্ন দফায় নানা কৌশলে বাংলায় কংগ্রেস, কমিউনিস্ট প্রভৃতিকে অপ্রাসঙ্গিক করে ফেলার কারণেই বিজেপি ও তাদের দোসরদের অভাবনীয় উত্থান ঘটেছে। এখন সেই ম্যাও সামলানো দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এবার সম্মানের সঙ্গে ঘুরে দাঁড়ানোর মঞ্চ হয়ে উঠুক একুশে জুলাই। এ স্বার্থ শুধু তৃণমূলের নয়—সব দলের, সার্বিকভাবে সারা বাংলার ও গণতন্ত্রের।
18th  July, 2017
মানুষই এবার দাঙ্গা রুখেছে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

 ওদের আমি চিনতাম। অমিত আর ফারুক। একই স্কুলে একই ক্লাসে পড়ত। সেকসনও এক। ফলে সারাক্ষণ স্কুলের বেঞ্চে কাছাকাছি, পাশাপাশি। দু’জনে খুব ভাবসাব, বন্ধুত্ব। ফারুক ইদে নেমন্তন্ন করেছিল অমিতকে। অমিত গিয়েওছিল। ফারুকদের বাড়িতে গিয়ে হয় এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।
বিশদ

দলিত, কৃষক ক্ষোভ এত বাড়ছে কেন?
সমৃদ্ধ দত্ত

 একটা বাড়ি করার পর খুব স্বাভাবিকভাবেই মনে ইচ্ছা থাকে সেই বাড়ির গেটের পাশে অথবা বোগেনভিলিয়া ঢাকা আর্চ প্যাটার্নের বারান্দার উপরের দেওয়ালে লেখা হবে একটা নাম। নিজের বাড়ির নাম।
বিশদ

 সব বিরোধ মেটাতেই চান নরেন্দ্র মোদি, তবে মোটেই চীনের আগ্রাসন মেনে নয়
গৌরীশঙ্কর নাগ

 অমরনাথের সাম্প্রতিক হামলার যে বিভীষিকা, তার আগে থেকেই ভুটানের ডোকলা মালভূমি ও ভারতের সিকিম সীমান্তে চীনা-ড্রাগনের শ্যেনদৃষ্টিকে কেন্দ্র করে ভারত-চীন সামরিক দামামা নতুন করে দক্ষিণ এশিয়ার আবহাওয়াকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিশদ

20th  July, 2017
সেচ ও জলপথ দপ্তরের কাজে বামেদের কার্যত দশ গোল দিয়েছে মমতার সরকার
দেবনারায়ণ সরকার

উচ্চতর সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন বলতে বোঝায় ব্যারেজ, চেক ড্যাম পদ্ধতি থেকে শুরু করে নদীপাড় ও নদীবাঁধ নির্মাণ ইত্যাদি পদ্ধতিতে অতিরিক্ত সেচের জমি চাষের আওতায় আনা। পশ্চিমবঙ্গে সেচ ও জলপথ দপ্তরের অধীনেই রাজ্যে উচ্চতর সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের সামগ্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়ে থাকে।
বিশদ

20th  July, 2017
মোদির দৃঢ় সংকল্পের অঙ্গীকার জিএসটি
অনিল বালুনি

  ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সেদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণে আমরা পেয়েছিলাম এক অপরিমেয় উদ্যম। মধ্যরাতের সেই ঐতিহাসিক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছিলেন, জিএসটি চালু করা ছাড়া অন্য কোনও পথ ছিল না।
বিশদ

18th  July, 2017
জিএসটি যন্ত্রণা শুরু হয়ে গেছে: অসহায় মানুষ, নির্বিকার কেন্দ্র
শুভা দত্ত

 এসব করে বাংলা ভাগ করা যাবে, গোর্খাল্যান্ড মিলবে? অত সোজা! আর এসবে ক্ষতি হচ্ছে কার? বিমল গুরুং বা তাঁর সঙ্গীদের নয় নিশ্চয়ই। ক্ষতি হচ্ছে সেই সরল সাদাসিধে খেটে খাওয়া পাহাড়ি মানুষজনের। আন্দোলনের ঠেলায় তাঁদের রুটিরুজি বন্ধ হবার জোগাড় হয়েছে। চা বাগানগুলোর দশা এমনিই রুগ্‌ণ। আন্দোলনের ঝাপটে সেসব বাগানের উৎপাদন আরও কমে গেছে। রাজ্যে দার্জিলিং চায়ের জোগান কমেছে, দামও বাড়ছে। তাতেও চাপ পড়ছে চা-প্রিয় সাধারণ বাঙালির ওপরই। শুধু কি তাই? দার্জিলিং পর্যটনেরও তো দফারফা। বাংলার পর্যটন শিল্পের অন্যতম স্পটটাকে এভাবে পঙ্গু করে দেওয়া কি ন্যায়সংগত হচ্ছে? পাহাড়বাসী মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা এর মধ্যেই কতকিছুই না করেছেন। সেসবও তো নাকি নষ্ট করতে লেগেছে গুরুং বাহিনী। এমন ধ্বংসাত্মক বিচ্ছিন্নতাবাদ চলছে দার্জিলিং পাহাড়ে আর কেন্দ্রীয় শাসকদলের কে একজন বলছেন—দার্জিলিং বাংলার কাশ্মীর হবে! বোঝাই যাচ্ছে কার কী উদ্দেশ্য।
বিশদ

16th  July, 2017
রিঙ্কু, রিঙ্কুর মা এবং বাবুবিবি বৃত্তান্ত
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

 রাজধানীর আশপাশে চলে আসা সব বাংলাদেশিই যে বাঙালি তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু সব বাঙালিই বাংলাদেশি নন। পশ্চিবঙ্গের সীমান্তবর্তী নদীয়া, দুই চব্বিশ পরগনা, মালদহ ও মুর্শিদাবাদ এবং ঝাড়খণ্ড থেকে প্রতিদিন কিছু না কিছু দরিদ্র কিশোরী ও যুবতী আড়কাঠির হাত ধরে দিল্লি আসছে। এদের কেউ কেউ পরিচারিকা হয়ে ভালোমন্দ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে, কারও কারও জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।
বিশদ

16th  July, 2017
তখনও আমি ‘হিন্দু’ হইনি, দাদু সানদ্দি কিংবা বন্ধু আনিসুরও ‘মুসলমান’ নয়
শংকরদেব গোস্বামী

 আমার শৈশব কেটেছে আমার দাদু সানদ্দি মিঞার কোলে পিঠে। ভাবছেন, আমি গোঁসাই, তো আমার দাদু মিঞা হন কেমন করে? তখনও (১৯৪২-৪৭) হত। দাদুর পরিচয় জানতে চাইলে এখনকার ছেলে হলে হয়তো বলতাম—হাউস কিপার বা বেবি-সিটার বা ওইরকম কিছু। বিশদ

15th  July, 2017
জিএসটি: নয়া ব্যবস্থায় ধৈর্যের অভাবই প্রকট
নিমাই দে

 কয়েকদিন আগে একটি সংবাদপত্রে জিএসটি সংক্রান্ত লেখায় এক ব্যবসায়ীর ইন্টারভিউ পড়ছিলাম। ওই ব্যক্তি লোহা উৎপাদন সংক্রান্ত ব্যাবসা করেন। নতুন করে প্ল্যাস্টিকের পণ্য রিসাইক্লিং এবং ট্রেডিং ব্যাবসায় নেমেছেন। তিনি কী বলছেন, শোনা যাক। তাঁর কথায়, আমাকে আর এক্সাইজ রিটার্ন, ভ্যাট রিটার্ন বা সার্ভিস ট্যাক্স আলাদা করে প্রতি মাসে জমা দিতে হয় না।
বিশদ

14th  July, 2017



একনজরে
বিএনএ, মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদ নতুন করে গঠনের পর বুধবার প্রথম রিভিউ মিটিং হল। সেই মিটিংয়ে জেলা পরিষদের সমস্ত নির্বাচিত সদস্যকে ডাকা হলেও বিরোধী দলের দুই সদস্যকে ডাকা হয়নি বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার বৈঠকের কথা জানার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নামে যাদবপুর থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার তাঁর কুশপুতুল পোড়াল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাতদিন অনুশীলন করার পর বৃহস্পতিবার চলতি মরশুমের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ খেলল মোহন বাগান। এদিন সকালে ঘরের মাঠে কোল ইন্ডিয়াকে তারা হারাল ৫-০ ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী ১ থেকে ৪ আগস্ট কলকাতায় শুরু হতে চলেছে ১৭ তম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব। বৃহস্পতিবার নন্দনে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে শুভ। যোগাযোগ রক্ষা করে চললে কর্মলাভের সম্ভাবনা। ব্যাবসা শুরু করলে ভালোই হবে। উচ্চতর ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

• ১৯৩০ – গীতিকার আনন্দ বক্সির জন্ম
• ১৯৩৪ – ক্রিকেটার চাঁদু বোরদের জন্ম
• ১৯৯৩- কলকাতার রাজপথে আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৫০ টাকা ৬৫.১৮ টাকা
পাউন্ড ৮২.৩৯ টাকা ৮৫.২২ টাকা
ইউরো ৭২.৮৭ টাকা ৭৫.৪৫ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৮,৬৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,২১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৭,৬২৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৫ শ্রাবণ, ২১ জুলাই, শুক্রবার, ত্রয়োদশী রাত্রি ৯/৫০, মৃগশিরানক্ষত্র দিবা ২/৫৩, সূ উ ৫/৭/৭, অ ৬/১৮/৪৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫২ পুনঃ ৭/৪৫-১০/২৪ পুনঃ ১/২-২/৪৮ পুনঃ ৪/৩৩-অস্তাবধি, বারবেলা ৮/২৫-১১/৪৩, কালরাত্রি ৯/১-১০/২২।
৪ শ্রাবণ, ২১ জুলাই, শুক্রবার, ত্রয়োদশী রাত্রি ৮/২৯/৫০, মৃগশিরানক্ষত্র ২/৯/৫০, সূ উ ৫/৪/১৪, অ ৬/২০/২১, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫০/২৩, ৭/৪৩/২৭-১০/২২/৪১, ১/১৫৪-২/৪৮/৩, ৪/৩৪/১২-৬/২০/২১ রাত্রি ৭/৪৬/১২-৯/১২/৩, ২/৫৫/২৭-৩/৩৮/২৩ , বারবেলা ৮/২৩/১৬-১০/২/৪৭, কালবেলা ১০/২/৪৭-১১/৪২/১৮, কালরাত্রি ৯/১/১৯-১০/২১/৪৮।
২৬ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
 আমি কংগ্রেস ছাড়লেও বিজেপি দলে যোগ দেব না: শঙ্কর সিং বাঘেলা

03:42:46 PM

 হাওড়ায় বন্ধ লঞ্চ চলাচল

 প্রবল ভিড়ের চাপ সামলাতে না পেরে হাওড়ায় বন্ধ লঞ্চ চলাচল

03:20:08 PM

পুরুলিয়ায় ৪ বছরের শিশুকে আছাড় মেরে খুনের অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে 
পুরুলিয়ার আদ্রায় চার বছরের শিশুকে আছাড় মেরে খুনের অভিযোগ উঠল বাবার বিরুদ্ধে। এদিন সকালে ঘটনাটি ঘটে আদ্রার বহর গ্রামে। মৃত সঞ্জয় শেখের বাবা পলাতক। 

03:12:35 PM

  কোচবিহারের দিনহাটায় রাস্তা সারাইয়ের দাবিতে পথ অবরোধ
কোচবিহারের দিনহাটা বত্রিগাছ রাস্তা সংস্কারের দাবিতে দিনহাটা ঝুড়ি পাড়া এলাকায় রাস্তা কেটে এবং নেতাজি ব্রিজে গাছ ফেলে সকাল থেকে পথ অবরোধ করে রেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

03:12:00 PM

  ঘাটালে ধর্মতলাগামী তৃণমূল কর্মী সমর্থক বোঝাই বাস আটকে দুর্ভোগ
ঘাটালে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ওপর আড়াআড়ি ভাবে আটকে যায়। বাসটিতে তৃণমূলের ধর্মতলায় শহিদ স্মরণে অনুষ্ঠানে যোগদান করার জন্য যাত্রীরা ছিলেন। ঘাটাল-রানিচক রাস্তার ওপর বাসটি আড়াআড়ি ভাবে আটক থাকার ফলে এদিন সকাল থেকে ওই রুটে গাড়ি চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে বহু মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। বেলা ১টার সময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

03:09:00 PM

বক্তব্য শেষ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

02:49:53 PM