বিশেষ নিবন্ধ
 

জিএসটি: নয়া ব্যবস্থায় ধৈর্যের অভাবই প্রকট
নিমাই দে

কয়েকদিন আগে একটি সংবাদপত্রে জিএসটি সংক্রান্ত লেখায় এক ব্যবসায়ীর ইন্টারভিউ পড়ছিলাম। ওই ব্যক্তি লোহা উৎপাদন সংক্রান্ত ব্যাবসা করেন। নতুন করে প্ল্যাস্টিকের পণ্য রিসাইক্লিং এবং ট্রেডিং ব্যাবসায় নেমেছেন। তিনি কী বলছেন, শোনা যাক। তাঁর কথায়, আমাকে আর এক্সাইজ রিটার্ন, ভ্যাট রিটার্ন বা সার্ভিস ট্যাক্স আলাদা করে প্রতি মাসে জমা দিতে হয় না। এখন শুধু জিএসটি’র খাতাপত্র রাখলেই হল। আগে অন্য রাজ্য থেকে মালপত্র কেনার জন্য আমাকে দিতে হত ২ শতাংশ সিএসটি, ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ২ শতাংশ এন্ট্রি ট্যাক্স। বিভিন্ন রাজ্যে আবার এন্ট্রি ট্যাক্সের হারও আলাদা, যা ১ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত। এর ফলে জিনিসের খরচও বেড়ে যেত। কিন্তু এখন একটাই কর। তাই আমার খরচও অনেক কমে যাচ্ছে।
অত্যন্ত সহজ এবং সরল স্বীকারোক্তি।
বলা বাহুল্য, একটাই কর বলতে তিনি বুঝিয়েছেন জিএসটিকে’ই।
এত সোজাসাপটা কথা অবশ্য সবাই বলছেন না। কারণ কেন্দ্রের এই নয়া সংস্কারমূলক পদক্ষেপের গায়ে রাজনীতির সিলমোহর পড়ে গিয়েছে। কোনও নয়া পদক্ষেপের ভালো-মন্দ দুটো দিকই থাকবে, এটাই স্বাভাবিক এবং প্রত্যাশিতও। কিন্তু জিএসটি এখন হয়ে উঠেছে রাজনীতির লড়াই। ফলে এই সংস্কার আর্থিক দিক থেকে সমাজকে কতটা উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে বা ব্যবসায়ীদের কতখানি সুবিধা দেবে, এসব বিষয় ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে রাজনীতির কচকচানি।। মনে পড়ে যাচ্ছে সেই নোট বাতিলের সময়কার কথা। এটিএমে টাকার জন্য দীর্ঘ লাইন, নোট বদলের জন্য লম্বা লাইন। এসব দেখে তখনও গেল গেল রব উঠেছিল। মনে হয়েছিল, সমাজের সুস্থির পরিবেশটাই বোধহয় ধ্বংস হয়ে গেল। নিজের টাকা তুলব, তাতেও লাইন, তাতেও নিয়ন্ত্রণ? এমন প্রশ্ন অনেকেই করেছিলেন।
না, এখন আর এটিএমে লাইন নেই। ক’দিন আগেও যে অটোওয়ালা দশ টাকার নোট দেখলে মুখ ঝামটা দিতেন, এখন এক টাকার কয়েন দেখলে বরং তাঁর চোখেমুখে বিরক্তি ফুটে ওঠে। অর্থাৎ সময় বা পরিস্থিতি কখনও এক জায়গায় থেমে থাকে না। কোনও জিনিসের ভালোমন্দ বিচার করার আগে তার জন্য ন্যূনতম যে সময়টুকু দেওয়া প্রয়োজন, তাই বোধহয় দিতে আমরা ভুলে যাচ্ছি।
জিএসটিও এখন সেই জাঁতাকলেই পিষ্ট হচ্ছে। যাঁর করের হার বাড়ল, তিনি আন্দোলন করছেন। যিনি এতদিন পরেও নিজেকে জিএসটির জন্য তৈরি করে উঠতে পারেননি, তিনি গেল গেল রব তুলছেন। যিনি বুঝতে পারছেন, আর ফাঁকি দেওয়ার উপায় নেই, তিনি চিৎকার করে বলার চেষ্টা করছেন, দেশের সামনে সমূহ বিপদ।
বড় বড় শিল্প সংস্থার কথা ছেড়েই দেওয়া যাক। দেশের মেরুদণ্ড যে ছোট এবং মাঝারি সংস্থা, তার কথায় আসা যাক। কারণ, সমস্যাটা এদের নিয়েই বেশি মাথাচাড়া দিয়েছে। আর এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন লাখ লাখ সাধারণ মানুষ। এই জাতীয় সংস্থাকে বলা হয় এসএমই বা স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস। সারা দেশে মোট শিল্পোৎপাদনের অর্ধেকই আসে এই বিভাগ থেকে। রপ্তানির ক্ষেত্রেও এই বিভাগের অংশীদারিত্ব প্রায় ৪০ শতাংশ। বোঝাই যায়, ভারতের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে এই এসএমইর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত, নয়া কর ব্যবস্থায় এর অধীনে আগের তুলনায় আরও অনেক বেশি সংস্থা চলে আসবে। কেন? কারণটা হল, এতদিন যাদের টার্নওভার দেড় কোটি বা তার নীচে, তাদের এক্সাইজ ডিউটি বা উৎপাদন শুল্ক দিতে হত না। কিন্তু আগেই বলেছি, এখন না থাকছে এক্সাইজ, না থাকছে সেলস ট্যাক্স, না থাকছে এন্ট্রি ট্যাক্স বা ওই জাতীয় কোনও করই। এখন নিয়ম একটাই। যে-কোনও সংস্থার টার্নওভার ২০ লাখ টাকার উপরে হলে তবেই তাকে জিএসটির জন্য রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে। কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এই পরিমাণটা করা হয়েছে ১০ লাখ। বোঝাই যায়, নতুন করে অনেকেই এই নয়া ব্যবস্থায় চলে আসাটাকে খুব ভালো চোখে দেখছেন না। তাদের অন্তর্নিহিত মনোভাব হল, বেশ তো ছিলাম। যুক্তি হিসাবে তারা খরচ বৃদ্ধি এবং আখেরে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধিকেই শিখণ্ডি খাড়া করছেন। কারণ মূল্যবৃদ্ধির ইস্যুতে আম আদমিকে পাশে পাওয়া খুব সহজ।
অথচ আগের তুলনায় এই জমানায় কাজকর্ম করা যে কতখানি সহজ ও সরল হয়ে গেল, সে বিষয়টিতে এরা কেউই সেভাবে আলোকপাত করতে আগ্রহী নয়। যেমন, জিএসটি’র জমানায় রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত পুরো কাজটাই হচ্ছে অনলাইনে। ফলে রেজিস্ট্রেশন করা, সার্টিফিকেট হাতে পাওয়া ইত্যাদি কাজ আগে যেভাবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে যেত, উপরি না দিলে কাজ হত না, এখন এসবের বালাই থাকল না। শুধু রেজিস্ট্রেশনই নয়, পরবর্তী পর্যায়ে যাবতীয় কাজও হবে অনলাইনেই। একথা ঠিক, আপাতভাবে যা সহজ, গ্রামীণ বা অনুন্নত এলাকার অনেকের কাছে সেই সুবিধাটা উপলব্ধ নাও হতে পারে। এইভাবে ইলেকট্রনিক ক্লিয়ারিং ব্যবস্থার সঙ্গে সবাই কতখানি সড়গড় হতে পারবেন, সেটাও একটা সংশয়ের জায়গা নিঃসন্দেহে। কিন্তু অর্থনীতিবিদরাই বলছেন, সবুরে মেওয়া ফলে। ভবিষ্যতে এই ছোট বা মাঝারি সংস্থাগুলিই প্রতিযোগিতার বাজারে বড় বড় সংস্থার সঙ্গে সমান তালে লড়াইয়ে সক্ষম হবে। নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও আরও স্বাস্থ্যকর হবে। এমনকী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলি চীন, ফিলিপিন্স, বাংলাদেশের মতো সস্তার সামগ্রীর দেশের সঙ্গেও প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে পারবে।
আরও একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। এখন যে কোনও ব্যাবসার পরিধি এবং বিস্তৃতি যদি বিভিন্ন রাজ্যজুড়ে হয়, তাহলে তাকে ভ্যাটের জন্য রেজিস্ট্রেশন করাতে হত। তারপরেও বিভিন্ন রাজ্যের জন্য ছিল বিভিন্ন করবিধি। এর ফলে ব্যাবসা করার ক্ষেত্রে যেমন একজন উদ্যোগপতিকে পদে পদে সমস্যার সম্মুখীন হতে হত, তেমনি বাড়ছিল খরচের বহরও। কিন্তু জিএসটি’র ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে একটিই কর থাকায় ব্যাবসা করাটা তুলনামূলক অনেক সহজ হয়ে গেল। এমনটাই দাবি করছেন নয়া কর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা। কারণ হিসাবে তাঁরা একটি তথ্যও তুলে ধরেছেন। একটি সংস্থার সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যে কোনও সংস্থার লজিস্টিক খরচ নয়া ব্যবস্থায় এক ধাক্কায় অন্তত ২০ শতাংশ কমে যাবে। কারণ, এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে প্রবেশের সময় তাকে যেমন এন্ট্রি ট্যাক্স দিতে হবে না, তেমনি তাকে অন্য রাজ্যের নিজস্ব কর ব্যবস্থার মধ্যে পড়েও বাড়তি কর গুনতে হবে না। এছাড়াও অনেক সময়ই কোনটি পণ্য এবং কোনটি পরিষেবা এবং দুটি জিনিসের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রেট নিয়েও বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়। কিন্তু জিএসটি’র ক্ষেত্রে সেই একইভাবে এই সমস্যার নিরসন ঘটছে। কারণ, নামেই বোঝা যায়, নয়া এই ব্যবস্থায় পণ্য এবং পরিষেবার মধ্যে কোনওরকম পার্থক্যই রাখা হয়নি। তাই তার নাম দেওয়া হয়েছে গুডস অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স বা পণ্য ও পরিষেবা কর।
নয়া ব্যবস্থায় একটি কথা বারবার শোনা যায়, তা হল, ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট। বিষয়টি কী? ধরা যাক কোনও এক ব্যবসায়ী খাতা তৈরির ব্যাবসা করেন। তিনি কাগজ কেনার জন্য ১০০ টাকা ট্যাক্স দিলেন। আঠা কেনার জন্য ৫০ টাকা ট্যাক্স দিলেন। অথএব মোট কর দিলেন ১৫০ টাকা। খাতাটি বিক্রির সময় তিনি ২০০ টাকা ট্যাক্স দিলেন। তাঁর আসলে ট্যাক্স দেওয়ার কথা (২০০-১৫০) টাকা, অর্থাৎ ৫০ টাকা। তিনি ওই ১৫০ টাকা ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট পেয়ে যাবেন। অনেকেই বলছেন, এর ফলে নাকি ব্যবসায়ীদের মূলধন নিয়ে সংকট দেখা দিতে পারে। কারণ, এই ব্যবস্থায় কর দপ্তরের কাছে থাকবে ইলেকট্রনিক ক্রেডিট লেজার। অর্থাৎ প্রাথমিক কাজটা হবে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায়। সেই সময় টাকার সংকটটা ব্যবসায়ীরা মেটাবেন কী করে, এ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
এমন সমস্যা যে নেই, তা নয়। কিন্তু একথা অনস্বীকার্য, জিএসটি হল বিশ্বের কর ব্যরবস্থায় একটি অভূতপূর্ব পরিবর্তন। যা সারা দেশকে এক নিয়মনীতির আওতায় এনে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরাই বলছেন, এমন একটি সাহসী এবং অন্যদিকে কারও কারও মতে বিপজ্জনক সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি বাস্তবায়িত করতে কম করে দু থেকে তিন বছর লাগবেই। সরকারও এখনও পর্যন্ত নানা বিষয় নিয়ে সঠিক এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। পুরানো স্টকের মালপত্র একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর আর বিক্রি করা যাবে না বলে যে ফরমান সম্প্রতি কেন্দ্রের তরফে জারি করা হয়েছে, তাতে ইতিমধ্যেই অনেকের মধ্যে দুশ্চিন্তা শুরু হয়ে গিয়েছে। আরও বলা হয়েছে, পণ্যের উপর এমআরপি অর্থাৎ সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য আগামীদিনে লেখা যাবে না। এমনকী জিএসটি’ও লেখা যাবে না। লেখা থাকবে শুধুমাত্র পণ্যের দামটুকুই। বিক্রেতা জিএসটি’র রেট ধরে হিসাব করে বিক্রয়মূল্য ঠিক করবেন। এখানেই প্রশ্ন উঠেছে, কোন জিনিসের জিএসটি কত, তা কি তাহলে একজন ক্রেতাকে মুখস্থ করে রাখতে হবে? নাহলে তো বিক্রেতা যে দর নির্ধারণ করে দেবেন, সেটাই তাকে মেনে নিতে হবে। এ নিয়ে অনাবশ্যক জটিলতা তৈরি হবে। দোকানদার এবং ক্রেতার মধ্যে সম্পর্কেরও অবনতি ঘটার সম্ভাবনা রয়ে যাচ্ছে।
জিএসটি মানেই দাম বাড়বে, এমন ধারণাও অনেকের মধ্যে তৈরি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনই বলছেন, এটা একেবারেই সঠিক নয়। ভোগ্যপণ্যের মধ্যে অর্ধেকেরই দাম কমে যাবে। আবার টেলিকম, ব্যাংকিং, ফিনান্সিয়াল সার্ভিস, অনলাইন শপিং, ইনসিওরেন্স, রেস্তরাঁয় খাওয়া, বিমানে ভ্রমণ প্রভৃতি পরিষেবায় খরচ বাড়বে। ছোট গাড়ির দাম কমবে। কিন্তু বড় গাড়ির ক্ষেত্রে ঘটবে ঠিক উলটোটাই।
অর্থাৎ গোটা ব্যবস্থার মধ্যেই ভালো এবং খারাপ, দুরকম দিকই রয়েছে। কিন্তু এতবড় একটা সংস্কার পদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাওয়ানোর জন্য যে মানসিকতার প্রয়োজন, অভাব ঘটছে বোধহয় তারই।
14th  July, 2017
 স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার সঙ্গে গুটিকয় নেতার নয়, সমস্ত পাহাড়বাসীর আত্মার সম্পর্ক প্রয়োজন

 বিশ্বনাথ চক্রবর্তী : মাসাধিককাল অতিক্রম করলেও এখন পাহাড় স্তব্ধ। দোকানপাট, বাজারহাট থেকে চা শিল্প সমস্তই প্রায় বন্ধ। পানীয় জল থেকে খাবার, জীবনদায়ী ওষুধসহ প্রায় সব কিছুরই হাহাকার। তবুও আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবিতে অনড়। তাঁরা শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন গোর্খাল্যান্ডের দাবি নিয়ে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিংসা ছেড়ে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও তাঁরা সাড়া দেননি, বরং বন্‌ধ চালিয়ে যাওয়ারই সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। এই অবস্থায় আলোচনার পথ খুলবে কে?
বিশদ

পাশ-ফেল: বিতর্ক জিইয়ে রেখেই আট বছর পরে বোধোদয় কেন্দ্রের

নিমাই দে : দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য দরকার সঠিক গুণমানের শিক্ষার। এই বাস্তব সত্যটা বুঝতে কেন্দ্রের নয় নয় করে আট বছর লেগে গেল! কারণ উপরের কথাটা কোনও নীতিবাক্য নয়। কোনও মনীষীর বাণীও নয়। কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর সম্প্রতি গুয়াহাটিতে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে গুণমানসমৃদ্ধ শিক্ষার এমনই প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে তাঁর উপলব্ধির কথা প্রকাশ করেছেন।
বিশদ

কেন্দ্রীয় নীতিতে পাট শিল্প ধুঁকছে, মরছে চাষি-শ্রমিক, ভরসা মমতা
নির্মাল্য মুখোপাধ্যায়

 প্রণব মুখোপাধ্যায় আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেউই কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটে নেই। তাই ২০১৩ সাল থেকে অনাথ হয়ে গিয়েছে রাজ্যের পাট চাষ আর শিল্প। ওই বছর থেকেই পুরোদমে পাট শিল্পের ওপর শুরু হয়েছে বিভিন্ন নিয়ম-নীতির আরোপ যা অনেকটা পুলিশি নজরদারির মতো বলা চলে। মমতা আর প্রণববাবু রাজ্যের পাট শিল্পের ৩ কোটি চাষি ও শ্রমিককে সবসময় আগলে রাখতেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় তাঁরা না থাকায় পাট শিল্পে আজ বাজছে বেদনার সুর।
বিশদ

27th  July, 2017
রবীন্দ্রনাথ থেকে অমর্ত্য: রবার যেটা সেটা রবেই
মেরুনীল দাশগুপ্ত

রবীন্দ্র-অমর্ত্য নিয়ে সংঘচালকদের প্রসঙ্গ উঠতেই কেন যে তিনি ওই অনুবাদ প্রসঙ্গ তুললেন—বলা বিপজ্জনক! কেবল কবির কথায় বলা চলে—রইলো বলে রাখলে কারে, হুকুম তোমার ফলবে কবে?/ তোমার টানাটানি টিকবে না ভাই, রবার যেটা সেটাই রবে। বলতে কী, যেভাবে করার চেষ্টা হচ্ছে, সেভাবে কিছুই হবে না। বড়জোর ওই—গ্রাউন ভালোবাসে ফিগুরিসকে! তাতে স্বচ্ছ ভারতের মুখে ছায়াকালিমাই শুধু বাড়বে। আমরা নিশ্চিত, রবীন্দ্রনাথ থেকে অমর্ত্য, রামায়ণ থেকে রাজনীতি—শেষ পর্যন্ত রবার যেটা সেটা রবেই। জাভড়েকর সেটা খানিক বুঝেছেন বলেই হয়তো সামলে নিয়েছেন। পহেলাজরা বুঝবেন কবে!
বিশদ

27th  July, 2017
দার্জিলিং জেলাকে পৃথক একটি রাজ্য করার দাবি সম্পূর্ণ অবাস্তব
শমিত কর

বিগত প্রায় তিন দশক ধরে পৃথক রাজ্য হিসাবে দার্জিলিংকে গড়ার দাবিতে পাহাড়বাসী রণং দেহি ভূমিকা নিচ্ছে। উত্তরে কাশ্মীর পরিস্থিতির মতো আমাদের রাজ্যের এই পাহাড়ি অঞ্চলের অবস্থা এক মারাত্মক আকার নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীরে যে জঙ্গি নাশকতা ধারাবাহিকভাবে চলেছে তার পিছনে পাকিস্তানের মদত কোনও নতুন কথা নয়।
বিশদ

25th  July, 2017
আপনিই সর্বশক্তিমান, তবু দেশজুড়ে এত অস্থিরতা কেন মোদিসাহেব?
হিমাংশু সিংহ

ক্ষমতায় থাকলে বুদ্ধিমান চতুর শাসকেরও বুদ্ধিবৃত্তি লোপ পায়। দম্ভে, অহংকারে মাটিতে পা পড়ে না। বিরোধিতা দেখলেই নেমে আসে দমন, পীড়ন। পুলিশ লেলিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো থেকে মিথ্যা অভিযোগে জেলে বন্দি করে রাখা... আরও কত কী! আজকের পশ্চিমবঙ্গে গত বেশ কিছুদিন ধরেই কেন্দ্রের মোদি সরকারের বদান্যতায় যা দস্তুর।
বিশদ

25th  July, 2017
বইই প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মুক্তির জগৎ

পঙ্কজ সাহা : রাষ্ট্রপতি ভবন বলতে মনের মধ্যে যে ধারণা ছিল সেটা একেবারে বদলে গেল দিল্লির রাইসিনা হিলসে রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছানোর পরে। কলকাতা থেকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলে যাওয়ার পরে ব্রিটিশ আমলে যে বিরাট প্যালেসটি দিল্লির রাইসিনা হিলসে নির্মিত হয়েছিল ভাইসরয় প্যালেস হিসেবে এবং ভারতের স্বাধীনতার পরে যেটি রাষ্ট্রপতি ভবন হিসেবে চিহ্নিত হয়, সেই বিরাট প্যালেসটির ছবিই মনের মধ্যে মুদ্রিত ছিল রাষ্ট্রপতি ভবন হিসেবে।
বিশদ

24th  July, 2017
রূপা-কাহিনি, সিনেমার মতো

সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায় : কথায় বলে, লঙ্কায় যে যায় সে-ই হয় রাবণ। এই কথাটাই একটু ঘুরিয়ে হয়তো বলা যায়, দেশের সব রাজ্যেই শাসক দলের চরিত্র সম্ভবত এক ও অভিন্ন। না হলে কর্ণাটকের ‘ডিআইজি প্রিজন’ ডি রূপার হাল এমন হত না। সুদর্শনা ও নির্ভয়া তরুণী রূপাকে কারা বিভাগের দায়িত্ব থেকে রাজ্যের কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া সরিয়ে দিয়েছেন।
বিশদ

23rd  July, 2017
শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে ২০১৯ যুদ্ধের রণদামামা বাজিয়ে দিলেন মমতা

শুভা দত্ত : কৌতূহল ছিল সকলেরই। বিপুল কৌতূহল। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে কী বলবেন তিনি, কী বার্তা দেবেন—তা নিয়ে আসমুদ্র হিমাচল বাংলায় আগ্রহের অন্ত ছিল না। তাঁর পূর্ববর্তী বক্তাদের কারও কারও কথাতেও রাজ্যবাসী মানুষজনের সেই আগ্রহ কৌতূহলের আভাস মিলেছিল। 
বিশদ

23rd  July, 2017



একনজরে
বিএনএ, কৃষ্ণনগর: বৃষ্টি কমলেও জলাধারের জলে ভাগীরথীর জলস্তর বাড়ায় নদীয়ার নদীপাড় সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আতঙ্কে ভুগছেন বাসিন্দারা। প্রতি ঘণ্টায় জল বাড়ছে। ভাগীরথীর জলস্তর বিপদসীমার খানিকটা নীচে রয়েছে। ...

শিলং, ২৭ জুলাই (পিটিআই): হাতি সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে শীঘ্রই মউ স্বাক্ষর হতে পারে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে। বৃহস্পতিবার দু’দেশের আধিকারিকরা শিলংয়ে একটি বৈঠকে বসেন। সেখানেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এদিন পশ্চিমবঙ্গ, অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরার বন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বাংলাদেশের ১১ ...

জেরুজালেম, ২৭ জুলাই: প্রবল সমালোচনার চাপে আল-আকসা মসজিদ থেকে মেটাল ডিটেক্টর সরিয়ে নেওয়ার একদিন পর এবার বাকি নিরাপত্তাও সরিয়ে নিয়েছে ইজরায়েল। তুমুল বিক্ষোভ আর প্রতিরোধের মুখে অবশেষে বৃহস্পতিবার আল-আকসার প্রবেশপথ থেকে নিরাপত্তা বেষ্টনী ও গেটগুলি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রবেশ পথে ...

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: মার্কিন কনসাল জেনারেল (কলকাতা) ক্রেগ হল হল বৃহষ্পতিবার উত্তরকন্যায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বৈঠক হয়। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কোনও চুক্তিবদ্ধ কাজে যুক্ত হবার যোগ আছে। ব্যাবসা শুরু করা যেতে পারে। বিবাহের যোগাযোগ ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

 ১৮৪৪- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জন ডালটনের মৃত্যু
১৯৬০- শিবসেনা প্রধান উদ্ধব থ্যাকারের জন্ম
১৯৯২- অভিনেতা আমজাদ খানের মৃত্যু
২০১৫- প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের মৃত্যু

27th  July, 2017


ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৪০ টাকা ৬৫.০৮ টাকা
পাউন্ড ৮৩.০৫ টাকা ৮৫.৯১ টাকা
ইউরো ৭৪.১৮ টাকা ৭৬.৭৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,০১০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৫২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৭,৯৪০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১২ শ্রাবণ, ২৮ জুলাই, শুক্রবার, পঞ্চমী দিবা ৬/৩৯, হস্তানক্ষত্র অহোরাত্র, সূ উ ৫/১০/৪০, অ ৬/১৬/৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৫ পুনঃ ৭/৪৭-১০/২৪ পুনঃ ১/১-২/৪৬ পুনঃ ৪/৩১-অস্তাবধি, বারবেলা ৮/২৬-১১/৪৩, কালরাত্রি ৮/৫৯-১০/২১।
১১ শ্রাবণ, ২৮ জুলাই, শুক্রবার, পঞ্চমী ৯/৩৬/১৬, উত্তরফাল্গুনীনক্ষত্র ৮/২৩/৫৯, সূ উ ৫/৭/৮, অ ৬/১৮/২০, অমৃতযোগ ৬/৫২/৩৮, ৭/৪৫/২২-১০/২৩/৩৭, ১/১/৫১-২/৪৭/২১, ৪/৩২/৫০-৬/১৮/২০, রাত্রি ৭/৪৪/৫০-৯/১১/২১, ২/৫৭/২২-৩/৪০/৩৮, বারবেলা ৮/২৪/৫৬-১০/৩/৫০, কালবেলা ১০/৩/৫০-১১/৪২/৪৪, কালরাত্রি ৯/০/৩২-১০/২১/৩৮।
 ৪ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
গল টেস্ট: শ্রীলঙ্কা ২৮৯/৮ (মধ্যাহ্নভোজের বিরতি) 

12:14:11 PM

প্রবীণ সিপিএম নেতা তথা প্রাক্তন এমপি মানিক সান্যাল প্রয়াত 

12:11:00 PM

গুজরাতে ইস্তফা আরও ২ কংগ্রেস বিধায়কের 

11:50:00 AM

সল্টলেকে ফের এটিএম কার্ডের পিন জেনে প্রতারণা, ধৃত ১ 
ফের ব্যাংক কর্তা পরিচয় দিয়ে ফোন করে এটিএম কার্ডের পিন জেনে লক্ষাধিক টাকা গায়েব। ঘটনায় আসানসোল থেকে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি নয়াপট্টির বাসিন্দা এক ব্যক্তিকে ফোন করে ব্যাংক কর্তা পরিচয় দিয়ে এটিএম কার্ডের তথ্য চাওয়া হয়। ওই ব্যক্তি তথ্য জানানোর পর ১ লক্ষ ৯৮৬ টাকা গায়েব হয়ে যায় অ্যাকাউন্ট থেকে। ঘটনার কথা জানিয়ে সল্টলেকের ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রতারিতর কন্যা। তদন্তে নেমে আসানসোল থেকে পিনাকি গাঁতাইত নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, ব্যাংকের পাসবুক, আধার কার্ড ও এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এদিন তাকে আদালতে তোলা হবে। 

11:46:07 AM

আসানসোলে বাসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ, জখম ১৫ 

11:10:00 AM

হাওড়ায় সিগনাল বিভ্রাট, দেরিতে চলছে ট্রেন 

11:04:54 AM