বিশেষ নিবন্ধ
 

রাজ্যপাল পদে দলীয় নেতা পাঠানো বন্ধ হোক
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

বাদুড়িয়া কাণ্ডে প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে রাজভবন এবং নবান্নের মধ্যে সংঘাত যে স্তরে পৌঁছেছিল, রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী সুর নরম করে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে খুশি প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে আপাতত মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালের বিতর্কের মধুরেণ সমাপয়েৎ হল বলা চলে। এই বিতর্ক পর্বে রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিরূপ প্রশ্ন উঠেছে। আজকের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যপাল পদের প্রয়োজন-অপ্রয়োজনের বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা যায়।
ভারতীয় সংবিধানে কেন্দ্রের মতো রাজ্যস্তরেও সংসদীয় ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, যা প্রকৃতপক্ষে ব্রিটেনের সংসদীয় ব্যবস্থার অনুকরণ মাত্র। সংসদীয় ব্যবস্থায় সংবিধান প্রধানের নামে রাজ্য শাসনের কথা বলা হলেও রাজ্যস্তরে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রীপরিষদই চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী। তাই বলে রাজ্যপালের কি মুখ্যমন্ত্রীকে কোনও পরামর্শ দেওয়ার অধিকার নেই? তিনি কি পারেন না রাজ্য সরকারের থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে? তিনি কি প্রয়োজনে রাজ্যের অভিভাবক হিসাবে সরকারকে সাবধানী হওয়ার জন্য পরামর্শ দিতে পারেন না?
গত কয়েক দিন এই প্রশ্নগুলিই সংবাদমাধ্যমে ঘুরেফিরে এসেছে বারবার। বহু ক্ষেত্রেই উপযুক্ত সংবিধান অনুধাবনের অভাবে কেউ কেউ বিভ্রান্তিও ছড়িয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে রাজ্যপাল সাংবিধানিক প্রধান হিসাবে যে-কোনও বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিপরিষদকে পরামর্শ দিতে পারেন। তবে, সেই পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বের মন্ত্রিপরিষদ নেবে কি না সেই বিষয়ে চূড়ান্ত ক্ষমতা মন্ত্রিপরিষদের হাতেই রয়েছে। অর্থাৎ, বাদুড়িয়া কাণ্ডে রাজ্যপাল যদি কোনও পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়ে থাকেন, তবে সেই পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ নেবে কি না তা একান্ত তাদের বিষয়।
সংবিধান অনুসারে কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসাবে রাজ্যপালকে রাজ্যের বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পাক্ষিক রিপোর্ট পাঠাতে হয়। ওই রিপোর্টে তৈরি করার সময় মুখ্যমন্ত্রী বা তাঁর মন্ত্রিপরিষদের যে-কোনও সদস্যের সঙ্গে তিনি কথা বলতে পারেন বা তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।
রাজ্যের অভিভাবক হিসাবে সমাজের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে রাজ্যপালের যে সম্পর্ক থাকে, সেই সূত্রে কোনও বিষয় এলে তা সরকারের কানে পৌঁছে দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনে সাবধান করার ভূমিকা তাঁর রয়েছে। তবে এক্ষেত্রেও সাবধান বাণী মন্ত্রিপরিষদ গ্রহণ অথবা বর্জন করতে পারে। রাজ্যপালের পরামর্শ গ্রহণ করা মন্ত্রিপরিষদের কাছে বাধ্যতামূলক নয়।
চলতি বিতর্কে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় রাজ্যপালকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন ‘রাজ্যপাল বিজেপির তোতা পাখি’। সুব্রতবাবুর বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। আর এই কারণেই রাজ্যের সাংবিধানিক পদ নিয়ে স্বাধীনতার পর থেকে বারবার বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল ছিলেন সরোজিনী নাইডু। তিনি দুঃখ করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে একটি চিঠিতে অভিযোগ করেছিলেন, রাজ্যপালের অবস্থা অনেকটা ‘সোনার খাঁচায় আবদ্ধ পাখির মতো’। তাঁর আরও অভিমত ছিল, কেন্দ্রকে একটি করে পাক্ষিক রিপোর্ট পাঠানো ছাড়া রাজ্যপালের কোনও কাজই নেই। রাজ্যপালের এইরকম পরিস্থিতি ১৯৬৭ সালের পর দ্রুত পরিবর্তন হতে দেখা যায়। ১৯৬৭ সালের নির্বাচনে কয়েকটি রাজ্যে অকংগ্রেসি সরকার প্রতিষ্ঠা হয়। তখন রাজ্যপালের ভূমিকায় কেন্দ্রের শাসক দলের রাজনৈতিক প্রভাব বারবার লক্ষ করা গিয়েছে। বিভিন্ন সময় রাজ্যপালের পদটিকে ব্যবহার করা হয়েছে রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির জন্য।
সংবিধান অনুসারে রাজ্যপালের মূলত দুটি ভূমিকা—
(ক) রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান এবং (খ) কেন্দ্রের প্রতিনিধি। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসাবে রাজ্যপালের ভূমিকা সংবিধানে যেমন নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে তেমনি উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি স্ববিবেচনায় কাজ করতে পারেন। সংবিধানে বিধিবদ্ধ ক্ষমতার মধ্যে ১৬৩ ধারায় স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতাকেও (Discretionary Power) সংবিধানে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সাংবিধানিক প্রধান হিসাবে স্ববিবেচনায় কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পান তিনি। বিধানসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কোনও রাজনৈতিক দল বা জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হলে রাজ্যপাল সেক্ষেত্রে স্ববিবেচনায় ঠিক করেন কোন দল বা জোটকে মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য তিনি ডাকবেন। আবার রাজ্যের বিধানসভায় কোনও বিল পাশ হওয়ার পর তিনি স্ববিবেচনা প্রয়োগ করতে পারেন। এক্ষেত্রে তিনি তিন ধরনের অবস্থান গ্রহণ করতে পারেন।
(ক) বিধানসভায় পাশ হওয়া বিল তৎক্ষণাৎ সই করতে পারেন। (খ) বিধানসভায় পাশ হওয়া বিল সই না করে ফেলে রাখতে পারেন। কারণ, সংবিধানে বলা হয়নি বিল পাশ হওয়ার পর কতদিনের মধ্যে রাজ্যপালকে সম্মতি জ্ঞাপন করতে হবে। (গ) সংবিধানের ২০১ ধারা অনুসারে রাজ্যপাল আইনসভায় গৃহীত বিলটিকে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য সংরক্ষণ করতে পারেন। এক্ষেত্রে তিনি রাজ্যের মন্ত্রিসভার পরামর্শ গ্রহণ না-করে স্ববিবেচনা অনুসারে কাজ করতে পারেন।
এছাড়া কেন্দ্রকে যে রিপোর্ট তিনি পাঠান সেই রিপোর্টও স্ববিবেচনায় পাঠিয়ে থাকেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কেন্দ্রের সাংবিধানিক প্রধান হিসাবে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ৪২তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে যেভাবে বেঁধে দেওয়া হয়েছে, রাজ্যপালের নিয়মতান্ত্রিক ক্ষমতাটিকে কিন্তু সেভাবে বাঁধা হয়নি। ৪২তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে স্পষ্ট বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করতে পারেন। কিন্তু দ্বিতীয়বার একই সিদ্ধান্ত এলে তিনি তা মেনে নিতে বাধ্য। সংবিধানে ক্ষেত্রবিশেষ রাজ্যপালদের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা দিলেও রাষ্ট্রপতিকে কিন্তু সামান্যতম স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। কিন্তু, কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয় ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষমতা নির্বাচিত মন্ত্রিপরিষদের হাতে ন্যস্ত। প্রকৃতপক্ষে যে পদ্ধতিতে রাজ্যপাল পদে নিয়োগ হচ্ছে তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রীর সম্পর্কের বিতর্ক। অভিজ্ঞতার নিরিখে বলা যায়, সমস্ত ক্ষেত্রে রাজ্যপালের নিয়োগ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফল।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সংবিধান সভায় আমাদের তৎকালীন জাতীয় নেতৃবর্গ রাজ্যপাল নিয়োগের প্রশ্নে কিন্তু বিভক্ত ছিলেন। সংবিধান সভায় রাজ্যপাল নিয়োগের প্রশ্নে চার ধরনের প্রস্তাব এসেছিল—(ক) মার্কিন ব্যবস্থার অনুকরণে রাজ্যপালকে প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত করা। (খ) রাজ্যের বিধানমণ্ডলী বা বিধানসভার দ্বারা রাজ্যপালকে নির্বাচিত করা। (গ) সংবিধান সভায় কেউ কেউ আবার বলেছিলেন বিধানসভা কর্তৃক নির্বাচিত চারজনের তালিকার মধ্যে থেকে রাষ্ট্রপতি একজনকে রাজ্যপাল হিসাবে মনোনীত করুন। (ঘ) মন্ত্রিসভার পরামর্শ অনুসারেই রাষ্ট্রপতি কর্তৃক রাজ্যপাল মনোনীত হবেন।
বলা বাহুল্য, সংবিধান সভার শেষ প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছিল। এতে চিরস্থায়ীভাবে ভারতীয় সংসদীয় ব্যবস্থায় রাজ্যপালের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে বিতর্কও থেকে যায়।
ক্রমবর্ধমানভাবে রাজ্যপালের ভূমিকা যখন রাজনৈতিক প্রাধান্য পাচ্ছিল সেই সময়ে রাজ্যপাল পদে নিয়োগ নিয়ে নতুন ভাবনা উঠে আসতে দেখা গিয়েছে। ১৯৯১-এর ডিসেম্বরে আন্তঃরাজ্য পরিষদের বৈঠকে রাজ্যপাল নিয়োগের প্রশ্নে যেসব উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব গৃহীত হয় তার মধ্যে ছিল—(ক) মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে রাজ্যপাল নিয়োগ করতে হবে। (খ) কেন্দ্র এবং রাজ্যে পৃথক দলের সরকার থাকলে সংশ্লিষ্ট দুটি দলের সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যক্তিকে রাজ্যপাল পদে আনতে হবে।
১৯৯৪ সালে এস আর বোম্মাই মামলার পর কেন্দ্রের শাসকদল রাজ্যপালকে দিয়ে মন্ত্রিসভা ভাঙার বিষয়ে সংযত হতে বাধ্য হয়েছে। সংবিধানের ৩৫৬ নং ধারা জারি করে মন্ত্রিপরিষদ ভাঙার ঘটনাও এখন কদাচিৎ ঘটে। এই অবস্থায় দলীয় নেতাদের রাজভবনে পাঠানোর উদ্যোগ বন্ধ হলেই রাজ্যপাল এবং রাজ্য মন্ত্রিসভার দ্বন্দ্ব আরও কমে আসার সম্ভাবনা থাকবে। রাজ্যপাল নিয়োগের জন্য বিধানসভায় পাঁচজনের একটি তালিকা প্রস্তুত করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো যেতে পারে। রাষ্ট্রপতি ওই তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের জন্য রাজ্যপাল নিয়োগ করতে পারেন। সংসদীয় গণতন্ত্রকে সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য রাজ্যপালের নিয়োগের পদ্ধতিতে পরিবর্তন জরুরি। বন্ধ হোক দলীয় নেতাকে রাজভবনে পাঠানোর দীর্ঘদিনের প্রথা। সংবিধান রচয়িতাদের ভাবনা অনুসারে রাজ্যপাল পদে অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিই কাম্য।
 লেখক রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক
11th  July, 2017
 স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার সঙ্গে গুটিকয় নেতার নয়, সমস্ত পাহাড়বাসীর আত্মার সম্পর্ক প্রয়োজন

 বিশ্বনাথ চক্রবর্তী : মাসাধিককাল অতিক্রম করলেও এখন পাহাড় স্তব্ধ। দোকানপাট, বাজারহাট থেকে চা শিল্প সমস্তই প্রায় বন্ধ। পানীয় জল থেকে খাবার, জীবনদায়ী ওষুধসহ প্রায় সব কিছুরই হাহাকার। তবুও আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবিতে অনড়। তাঁরা শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন গোর্খাল্যান্ডের দাবি নিয়ে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিংসা ছেড়ে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও তাঁরা সাড়া দেননি, বরং বন্‌ধ চালিয়ে যাওয়ারই সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। এই অবস্থায় আলোচনার পথ খুলবে কে?
বিশদ

পাশ-ফেল: বিতর্ক জিইয়ে রেখেই আট বছর পরে বোধোদয় কেন্দ্রের

নিমাই দে : দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য দরকার সঠিক গুণমানের শিক্ষার। এই বাস্তব সত্যটা বুঝতে কেন্দ্রের নয় নয় করে আট বছর লেগে গেল! কারণ উপরের কথাটা কোনও নীতিবাক্য নয়। কোনও মনীষীর বাণীও নয়। কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর সম্প্রতি গুয়াহাটিতে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে গুণমানসমৃদ্ধ শিক্ষার এমনই প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে তাঁর উপলব্ধির কথা প্রকাশ করেছেন।
বিশদ

কেন্দ্রীয় নীতিতে পাট শিল্প ধুঁকছে, মরছে চাষি-শ্রমিক, ভরসা মমতা
নির্মাল্য মুখোপাধ্যায়

 প্রণব মুখোপাধ্যায় আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেউই কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটে নেই। তাই ২০১৩ সাল থেকে অনাথ হয়ে গিয়েছে রাজ্যের পাট চাষ আর শিল্প। ওই বছর থেকেই পুরোদমে পাট শিল্পের ওপর শুরু হয়েছে বিভিন্ন নিয়ম-নীতির আরোপ যা অনেকটা পুলিশি নজরদারির মতো বলা চলে। মমতা আর প্রণববাবু রাজ্যের পাট শিল্পের ৩ কোটি চাষি ও শ্রমিককে সবসময় আগলে রাখতেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় তাঁরা না থাকায় পাট শিল্পে আজ বাজছে বেদনার সুর।
বিশদ

27th  July, 2017
রবীন্দ্রনাথ থেকে অমর্ত্য: রবার যেটা সেটা রবেই
মেরুনীল দাশগুপ্ত

রবীন্দ্র-অমর্ত্য নিয়ে সংঘচালকদের প্রসঙ্গ উঠতেই কেন যে তিনি ওই অনুবাদ প্রসঙ্গ তুললেন—বলা বিপজ্জনক! কেবল কবির কথায় বলা চলে—রইলো বলে রাখলে কারে, হুকুম তোমার ফলবে কবে?/ তোমার টানাটানি টিকবে না ভাই, রবার যেটা সেটাই রবে। বলতে কী, যেভাবে করার চেষ্টা হচ্ছে, সেভাবে কিছুই হবে না। বড়জোর ওই—গ্রাউন ভালোবাসে ফিগুরিসকে! তাতে স্বচ্ছ ভারতের মুখে ছায়াকালিমাই শুধু বাড়বে। আমরা নিশ্চিত, রবীন্দ্রনাথ থেকে অমর্ত্য, রামায়ণ থেকে রাজনীতি—শেষ পর্যন্ত রবার যেটা সেটা রবেই। জাভড়েকর সেটা খানিক বুঝেছেন বলেই হয়তো সামলে নিয়েছেন। পহেলাজরা বুঝবেন কবে!
বিশদ

27th  July, 2017
দার্জিলিং জেলাকে পৃথক একটি রাজ্য করার দাবি সম্পূর্ণ অবাস্তব
শমিত কর

বিগত প্রায় তিন দশক ধরে পৃথক রাজ্য হিসাবে দার্জিলিংকে গড়ার দাবিতে পাহাড়বাসী রণং দেহি ভূমিকা নিচ্ছে। উত্তরে কাশ্মীর পরিস্থিতির মতো আমাদের রাজ্যের এই পাহাড়ি অঞ্চলের অবস্থা এক মারাত্মক আকার নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীরে যে জঙ্গি নাশকতা ধারাবাহিকভাবে চলেছে তার পিছনে পাকিস্তানের মদত কোনও নতুন কথা নয়।
বিশদ

25th  July, 2017
আপনিই সর্বশক্তিমান, তবু দেশজুড়ে এত অস্থিরতা কেন মোদিসাহেব?
হিমাংশু সিংহ

ক্ষমতায় থাকলে বুদ্ধিমান চতুর শাসকেরও বুদ্ধিবৃত্তি লোপ পায়। দম্ভে, অহংকারে মাটিতে পা পড়ে না। বিরোধিতা দেখলেই নেমে আসে দমন, পীড়ন। পুলিশ লেলিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো থেকে মিথ্যা অভিযোগে জেলে বন্দি করে রাখা... আরও কত কী! আজকের পশ্চিমবঙ্গে গত বেশ কিছুদিন ধরেই কেন্দ্রের মোদি সরকারের বদান্যতায় যা দস্তুর।
বিশদ

25th  July, 2017
বইই প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মুক্তির জগৎ

পঙ্কজ সাহা : রাষ্ট্রপতি ভবন বলতে মনের মধ্যে যে ধারণা ছিল সেটা একেবারে বদলে গেল দিল্লির রাইসিনা হিলসে রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছানোর পরে। কলকাতা থেকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলে যাওয়ার পরে ব্রিটিশ আমলে যে বিরাট প্যালেসটি দিল্লির রাইসিনা হিলসে নির্মিত হয়েছিল ভাইসরয় প্যালেস হিসেবে এবং ভারতের স্বাধীনতার পরে যেটি রাষ্ট্রপতি ভবন হিসেবে চিহ্নিত হয়, সেই বিরাট প্যালেসটির ছবিই মনের মধ্যে মুদ্রিত ছিল রাষ্ট্রপতি ভবন হিসেবে।
বিশদ

24th  July, 2017
রূপা-কাহিনি, সিনেমার মতো

সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায় : কথায় বলে, লঙ্কায় যে যায় সে-ই হয় রাবণ। এই কথাটাই একটু ঘুরিয়ে হয়তো বলা যায়, দেশের সব রাজ্যেই শাসক দলের চরিত্র সম্ভবত এক ও অভিন্ন। না হলে কর্ণাটকের ‘ডিআইজি প্রিজন’ ডি রূপার হাল এমন হত না। সুদর্শনা ও নির্ভয়া তরুণী রূপাকে কারা বিভাগের দায়িত্ব থেকে রাজ্যের কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া সরিয়ে দিয়েছেন।
বিশদ

23rd  July, 2017
শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে ২০১৯ যুদ্ধের রণদামামা বাজিয়ে দিলেন মমতা

শুভা দত্ত : কৌতূহল ছিল সকলেরই। বিপুল কৌতূহল। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে কী বলবেন তিনি, কী বার্তা দেবেন—তা নিয়ে আসমুদ্র হিমাচল বাংলায় আগ্রহের অন্ত ছিল না। তাঁর পূর্ববর্তী বক্তাদের কারও কারও কথাতেও রাজ্যবাসী মানুষজনের সেই আগ্রহ কৌতূহলের আভাস মিলেছিল। 
বিশদ

23rd  July, 2017



একনজরে
জেরুজালেম, ২৭ জুলাই: প্রবল সমালোচনার চাপে আল-আকসা মসজিদ থেকে মেটাল ডিটেক্টর সরিয়ে নেওয়ার একদিন পর এবার বাকি নিরাপত্তাও সরিয়ে নিয়েছে ইজরায়েল। তুমুল বিক্ষোভ আর প্রতিরোধের মুখে অবশেষে বৃহস্পতিবার আল-আকসার প্রবেশপথ থেকে নিরাপত্তা বেষ্টনী ও গেটগুলি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রবেশ পথে ...

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: মার্কিন কনসাল জেনারেল (কলকাতা) ক্রেগ হল হল বৃহষ্পতিবার উত্তরকন্যায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বৈঠক হয়। ...

শিলং, ২৭ জুলাই (পিটিআই): হাতি সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে শীঘ্রই মউ স্বাক্ষর হতে পারে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে। বৃহস্পতিবার দু’দেশের আধিকারিকরা শিলংয়ে একটি বৈঠকে বসেন। সেখানেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এদিন পশ্চিমবঙ্গ, অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরার বন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বাংলাদেশের ১১ ...

বিএনএ, কৃষ্ণনগর: বৃষ্টি কমলেও জলাধারের জলে ভাগীরথীর জলস্তর বাড়ায় নদীয়ার নদীপাড় সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আতঙ্কে ভুগছেন বাসিন্দারা। প্রতি ঘণ্টায় জল বাড়ছে। ভাগীরথীর জলস্তর বিপদসীমার খানিকটা নীচে রয়েছে। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কোনও চুক্তিবদ্ধ কাজে যুক্ত হবার যোগ আছে। ব্যাবসা শুরু করা যেতে পারে। বিবাহের যোগাযোগ ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

 ১৮৪৪- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জন ডালটনের মৃত্যু
১৯৬০- শিবসেনা প্রধান উদ্ধব থ্যাকারের জন্ম
১৯৯২- অভিনেতা আমজাদ খানের মৃত্যু
২০১৫- প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের মৃত্যু

27th  July, 2017


ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৪০ টাকা ৬৫.০৮ টাকা
পাউন্ড ৮৩.০৫ টাকা ৮৫.৯১ টাকা
ইউরো ৭৪.১৮ টাকা ৭৬.৭৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,০১০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৫২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৭,৯৪০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১২ শ্রাবণ, ২৮ জুলাই, শুক্রবার, পঞ্চমী দিবা ৬/৩৯, হস্তানক্ষত্র অহোরাত্র, সূ উ ৫/১০/৪০, অ ৬/১৬/৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৫ পুনঃ ৭/৪৭-১০/২৪ পুনঃ ১/১-২/৪৬ পুনঃ ৪/৩১-অস্তাবধি, বারবেলা ৮/২৬-১১/৪৩, কালরাত্রি ৮/৫৯-১০/২১।
১১ শ্রাবণ, ২৮ জুলাই, শুক্রবার, পঞ্চমী ৯/৩৬/১৬, উত্তরফাল্গুনীনক্ষত্র ৮/২৩/৫৯, সূ উ ৫/৭/৮, অ ৬/১৮/২০, অমৃতযোগ ৬/৫২/৩৮, ৭/৪৫/২২-১০/২৩/৩৭, ১/১/৫১-২/৪৭/২১, ৪/৩২/৫০-৬/১৮/২০, রাত্রি ৭/৪৪/৫০-৯/১১/২১, ২/৫৭/২২-৩/৪০/৩৮, বারবেলা ৮/২৪/৫৬-১০/৩/৫০, কালবেলা ১০/৩/৫০-১১/৪২/৪৪, কালরাত্রি ৯/০/৩২-১০/২১/৩৮।
 ৪ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
গল টেস্ট: শ্রীলঙ্কা ২৮৯/৮ (মধ্যাহ্নভোজের বিরতি) 

12:14:11 PM

প্রবীণ সিপিএম নেতা তথা প্রাক্তন এমপি মানিক সান্যাল প্রয়াত 

12:11:00 PM

গুজরাতে ইস্তফা আরও ২ কংগ্রেস বিধায়কের 

11:50:00 AM

সল্টলেকে ফের এটিএম কার্ডের পিন জেনে প্রতারণা, ধৃত ১ 
ফের ব্যাংক কর্তা পরিচয় দিয়ে ফোন করে এটিএম কার্ডের পিন জেনে লক্ষাধিক টাকা গায়েব। ঘটনায় আসানসোল থেকে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি নয়াপট্টির বাসিন্দা এক ব্যক্তিকে ফোন করে ব্যাংক কর্তা পরিচয় দিয়ে এটিএম কার্ডের তথ্য চাওয়া হয়। ওই ব্যক্তি তথ্য জানানোর পর ১ লক্ষ ৯৮৬ টাকা গায়েব হয়ে যায় অ্যাকাউন্ট থেকে। ঘটনার কথা জানিয়ে সল্টলেকের ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রতারিতর কন্যা। তদন্তে নেমে আসানসোল থেকে পিনাকি গাঁতাইত নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, ব্যাংকের পাসবুক, আধার কার্ড ও এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এদিন তাকে আদালতে তোলা হবে। 

11:46:07 AM

আসানসোলে বাসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ, জখম ১৫ 

11:10:00 AM

হাওড়ায় সিগনাল বিভ্রাট, দেরিতে চলছে ট্রেন 

11:04:54 AM