বিশেষ নিবন্ধ
 

এতদিনের চেনা এই সব হারিয়ে যাবে!
মোশারফ হোসেন

দিনচারেক আগে একটি জেলাশহরে গিয়েছিলাম। দুপরে দুই অনুজ সাংবাদিকের সঙ্গে এক টেবিলে খেতে বসেছিলাম। টুকটাক কথাবার্তা চলছিল। একজন বলল, দাদা, পরিস্থিতি যা দেখছি ক’দিন বাদে হয়তো তোমার সঙ্গে এক টেবিলে বসে খাওয়াদাওয়াও করতে পারব না। চারদিকে যেভাবে বিষ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, এরপর হয়তো ফতোয়া জারি হবে, ওদের সঙ্গে দহরম মহরম চলবে না। কড়া নজর রাখা হবে। আমি ম্লান হাসলাম। তাই নাকি! দেখবি তোর আশঙ্কা অমূলকই রয়ে যাবে। আমাদের বাংলায় এরকম কিছু হওয়া সম্ভব নয়। ও বলল, কী জানি! না হলেই তো ভালো।
আসলে, খানিক আগেই আমাদের চোখ ছিল টিভির পর্দায়। পর্দায় ভেসে উঠছিল বাদুড়িয়া বসিরহাটের হিংসার নানা খণ্ডচিত্র। আগুন তখনও নেভেনি। গুটিকয় লুম্পেন, মারকুটের তাণ্ডবে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত, বিভ্রান্ত, দিশাহারা। হিংসার উন্মত্ত রূপ দেখে প্রাণভয়ে অস্থির। ক্ষয়ক্ষতির শিকারও। এরই পাশাপাশি একশ্রেণির রাজনৈতিক নেতানেত্রীর দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো হয়ে উঠছে। সবই ভেসে উঠছিল টিভির পর্দায়।
বিকেলে কলকাতায় ফিরছিলাম। এক পশলা ভারী বৃষ্টি হয়ে ফের ঝকঝকে রোদ্দুর উঠেছে। সেই রোদ্দুরে পথের দুপাশের মাঠঘাট, গাছপালা আরও সবুজ লাগছে। গাড়ির খোলা জানালা দিয়ে দামাল হাওয়া ঢুকে চোখে মুখে ধাক্কা মারছে। হাওয়ায় নানারকম গন্ধ ভেসে আসছে। কখনও ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ, কখনওবা ভাপা ধানের অদ্ভুত মন কেমন করা সুবাস। সম্ভবত আশপাশের কোনো রাইসমিলে ধান সেদ্ধ করার কাজ চলছে। দূর থেকে একটা মন্দিরের চূড়া চোখে পড়ছিল। সেটা পেরিয়ে আসার কিছুক্ষণ পরই সবুজ মাঠের প্রান্তে ছোট্ট একটা ইদগাহ। ক’দিন আগেই ইদ ছিল। ইদগাহের দেওয়ালে রংয়ের নতুন প্রলেপ। পড়ন্ত বিকেলের রোদ্দুর সেই দেওয়ালে প্রতিফলিত হয়ে তাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
মানুষের মন কখনও শূন্য থাকে না। একলা মনে অনেক ভাবনা আসে। ইদগাহর দৃশ্য অন্তর্হিত হওয়ার পরপরই কেন জানি না অনুজ সাংবাদিকের কথাগুলো মনে পড়ে গেল। বাতাসে বিষ ছড়ানো হচ্ছে। আমাদের আবাল্যের চেনা বাংলা আর বোধহয় খুব বেশিদিন এরকম থাকবে না। নিজেকে প্রশ্ন করলাম, সত্যিই কি তাই? এও কি সম্ভব! মনের পর্দায় একের পর এক টুকরো ছবি ভেসে উঠতে লাগল। দিনকয়েক আগে এক দাশগুপ্ত পরিবারের কালীপুজোর গল্প শুনছিলাম। বর্ধিষ্ণু পরিবারটি একসময় ওপার বাংলা ছেড়ে এসে এপারে শহরতলিতে বাসা বেঁধেছিল। বাড়িতে জমজমাট কালীপুজো হয়। বড়সড় মণ্ডপ। পরিবার পরিজন, অতিথি অভ্যাগতরা রাতভর মণ্ডপে হাজির। একটি লোক বাঁশি বাজিয়ে শোনাচ্ছিলেন। মাইক্রোফোনে তা ছড়িয়ে পড়ছিল গোটা মণ্ডপে। সকাল হয়ে আসছে। কারও কারও ক্লান্ত চোখের পাতা অবশ হয়ে বুজে আসার উপক্রম। হঠাৎ প্রায় সবাইকে একধাক্কায় সচকিত করে তুললেন বাঁশিওয়ালা। এবার বাঁশিতে বেজে উঠেছে –আমার সাধ না মিটিল, আশা না পুরিল, সকলই ফুরায়ে যায় মা….। বাঁশি যেন কথা বলছে। যেন কাঁদছে। তার সুরের মূর্ছনায় আছড়ে পড়ছে অদ্ভুত আকুতি। হাহুতাশ। সকলই ফুরায়ে যায় মা! একসময় বাঁশিওয়ালা থামলেন। কিন্তু তাঁর সুরের রেশ যেন থামতে চায় না। অনেকের চোখই ততক্ষণে ঝাপসা হয়ে উঠেছে। ভিজতে চলেছে গাল। এমন মরমি বাঁশির সুর তোলা লোকটা থাকে কোথায়? ওর নাম কী? শোনা গেল, লোকটির নাম নুর মহম্মদ। পয়সার জন্য নয়, মনের তাগিদেই লোকটি বাঁশিতে এমন সব সুর তোলেন। শোনা ওই ঘটনাটির কথা স্মরণে আসতে মনে মনে বললাম, তাহলে কি দাশগুপ্তদের কালীপুজোয় নুর মহম্মদদের বাঁশির সুর আর শোনা যাবে না!
স্মৃতি একাকিত্ব পছন্দ করে না। এক স্মৃতি টেনে আনে আর এককে। কোনও কারণবশত তাল কেটে না যাওয়া পর্যন্ত স্মৃতির মালা দীর্ঘতর হতেই থাকে। সেদিন আমারও তাই হল। পরিমলদার মুখটা ভেসে উঠল। বনগাঁর পরিমল মণ্ডল। নমশূদ্র। তিরিশ বত্রিশ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের বহু মহকুমা বা ব্লক শহরে হোটেল নামক বস্তুটির অস্তিত্ব ছিল না। খবর সংগ্রহের কাজে গিয়ে রাত কাটাতে হলে কোনও না কোনও পরিবারের ঠিকানাই ছিল ভরসা। এমনি করেই একদিন পরিমলদার বাড়িই হয়ে উঠেছিল আমার বনগাঁর ঠিকানা। ওই মহকুমা শহরে পৌঁছালে ওই বাড়িরই অতিথি হব- এটাই হয়ে উঠেছিল দস্তুর। পরিবারের কর্তা-গিন্নি আর ছেলেমেয়েদের সঙ্গে গভীর রাত পর্যন্ত গল্পগুজব, গান শোনা, হাসিঠাট্টা, অভিমান অনুযোগ সবই স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছিল। আমার বউভাতে পরিমলদার উপহার দেওয়া দু’খণ্ডের সারদা পুঁথি আজও আমার বুকশেল্ফে কোরান, হাদিস, বিষাদ সিন্ধুর গায়ে গা লাগিয়ে বিরাজ করছে। বইটির কোনও অংশই আমার না-পড়া নেই। এখনও প্রয়োজনে পাতা ওল্টাই। সম্প্রতি পরিমলদার এক বন্ধু ‘যথার্থ গীতা’ উপহার দিয়ে গেলেন। আমার গীতাসংগ্রহ আরও সমৃদ্ধ হল। বনগাঁর এক শিক্ষকমশাই সুকুমার দেবনাথ হয়ে উঠেছিলেন নির্ভরযোগ্য বন্ধু। দেবনাথ পরিবারটি দেশভাগের সময় খুলনা থেকে এসেছিল। তাহলে কি আগামীদিনে পরিমলদা, সুকুমারবাবুরা আর আমার আপনজন থাকবেন না! মনে পড়ে গেল একবার কালনায় অপরিচিত এক রায়বাড়িতে একরাতের আশ্রয় জুটেছিল। বাড়ির মহিলারা প্রায় মধ্যরাতে নতুন করে উনুন জ্বেলে আমার জন্য রান্না করেছিলেন। ওদেরই একটি মাটির ঘরে বিডিএস পাঠরত তরুণটির তক্তেপোষের বিছানায় তাঁর সঙ্গে নিশ্চিন্ত নিদ্রায় দেহের ক্লান্তি দূর করেছিলাম। মনে পড়ল ‘সাপের গ্রাম’ দেখতে গিয়ে কাটোয়ার বলগোনায় এক সাঁই পরিবারে ভাতের সঙ্গে রুইমাছের টক প্রথমবার খেয়ে আপ্লুত হয়েছিলাম।
পড়াশোনা ও জীবিকার প্রয়োজনে ক্রমে কলকাতা মহানগরীর স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে উঠলেও এখনও নিয়মিত গ্রামের বাড়িতে যাই। হেঁটে যাওয়ার পথের পাশে প্রশস্ত, সুদৃশ্য কালীমণ্ডপ। এই সেদিনও দেখলাম ফলআহরিণী কালীপুজো মিটে গেলেও মন্দিরে দেবীপ্রতিমা বিরাজ করছেন। শ্যামামায়ের উজ্জ্বল দু’টি চোখে চোখ পড়তেই মর্মস্থল পর্যন্ত তীব্র স্পন্দন অনুভূত হল। আরও এগলে দুর্গাদালান। এখন গা এলিয়ে পড়ে থাকলেও কয়েকমাস বাদেই মাতৃমন্ত্রে জেগে উঠবে। প্রতিবারই কুশল বিনিময় করতে করতে এগিয়ে যাই। সাত-আট মিনিটের পথ পনেরো মিনিটেও শেষ হয় না। এই পথেই বহু দূর থেকে আসা পুণ্যার্থীরা দল বেঁধে খোল করতাল, কাঁসর বাজাতে বাজাতে আর এক গাঁয়ের শীতলা মন্দিরের দিকে এগিয়ে যান। মাঝের গ্রামটিতে পথের বাঁ দিকে দুধসাদা মসজিদের মাইক থেকে দিনে পাঁচবার আজানের ধ্বনি গোটা গ্রামের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়ে। ভোরের আজানের বাণীতে রোজই স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়- আস সালাতো খইরুল মিন আল নাওম। নিদ্রা অপেক্ষা নামাজ উত্তম। সেই আওয়াজে ধর্মপ্রাণ মুসলিম বিছানা ছেড়ে নামাজ পড়ার প্রস্তুতি নেন, হিন্দু চাষি তোড়জোড় করেন মাঠে যাওয়ার। আজানের ধ্বনি উভয়ের কাছেই অ্যালার্ম ক্লক। ঘুম ভাঙানিয়া বন্ধু। স্কুলে পড়ার সময় গ্রামে প্রায়ই রামযাত্রা, কেষ্টযাত্রা, মা মনসার পালা, কাওয়ালি প্রভৃতি অনুষ্ঠানে বন্ধুরা দল বেঁধে হাজির হতাম। আসরে হিন্দু নারীপুরুষের তুলনায় মুসলিম নারীপুরুষের উপস্থিতি খুব কম হত না। আজকাল টিভির দৌলতে ওই আসরগুলোর সংখ্যা কমেছে কিন্তু গ্রাম বাংলায় সম্প্রীতি কমেনি। মনে পড়ে, নীলরাত্রির শোভাযাত্রায় শামিল হয়ে গাজনতলায় পৌঁছে যাওয়া আমাদের বাৎসরিক রুটিনে পরিণত হয়েছিল। নানারকম মজা, হইহল্লোড়ে রাতটা কাটিয়ে দেওয়া আর পরদিন মেলায় ঘুরে ফিরে সদ্যভাজা পাঁপড়, জিলিপি আথবা গায়ে চিনি লেগে থাকা জিবেগজা, চিনির মঠে কামড় দিয়ে পেট ভরানোর ছবি। এসব আর এরকম থাকবে না! বাংলার নিজস্ব এই চিরকালীন সংস্কৃতি ভাগাভাগি হয়ে যাবে!
এখনও এক অশীতিপর মুসলিম শিক্ষকমশাইয়ের বাড়ির সামনে দিয়ে বাজারে যাওয়ার পথে সদ্য অবসর নেওয়া কোনো হিন্দু শিক্ষক সমীহপূর্ণ হাঁক পেড়ে যান, স্যার আপনার জন্য কিছু এনে দিতে হবে নাকি। অথবা ভিন্নধর্মী যুবককে দেখতে পেয়ে নির্দ্বিধায় বৃদ্ধ বলতে পারেন, আমার জন্য কয়েকটা জিনিস এনো তো! মহাষ্টমী অথবা পৌষ সংক্রান্তিতে কয়েকটি হিন্দুবাড়ি থেকে লুচি, ছোলার ডাল, মিষ্টি অথবা পিঠে পুলির উপহার আসাটাই স্বাভাবিক ঘটনা। একইরকমভাবে ইদের দিনে এদিক থেকে শিমুই লাচ্চা পায়েসের থালা নিশ্চিতভাবে পৌঁছে যায় ওদিকে। ইদের কেনাকাটায় পরিজনদের তালিকায় দু’একটি হিন্দু নাম মোটেই অপরিচিত ছবি নয়। অথবা শহরে চাকরি করা কোনও যুবককে সাদামাটা প্রবীণ হিন্দু পড়শী অক্লেশে আবদার করতে পারেন- চাচা, এবার শীতে আমায় একটা ভালো গরম জামা দিও, জামাইবাড়ি বেড়াতে যাব। এটাই তো আমাদের চেনা বাংলা। এ আর থাকবে না! ভাবতে পারছি না।
খবরের কাগজে পড়লাম মুর্শিদাবাদে কিরীটেশ্বরী মন্দিরের জন্য মুসলিমরা জমি লিখে দিচ্ছেন। ক’মাস আগে বর্ধমানেও এরকম একটা খবর চোখে পড়েছিল। মাঝে মালদহের একটি গ্রামে এক হিন্দু শবদেহের সৎকারে মুসলিম প্রতিবেশীদের কাঁধ দেওয়ার খবরও বেশ গুরুত্ব পেয়েছিল। অনেকগুলো বছর আগের একটি দৃশ্য মনে পড়ে গেল। মহানগরীর বাসিন্দা এক ভদ্রলোকের মা প্রয়াত হয়েছেন। মাঘের কনকনে শীতের রাত। আত্মীয় পরিজনরা আসতে পারেননি। মায়ের মরদেহ একটি ম্যাটাডোরে চাপিয়ে ভদ্রলোক কেওড়াতলার দিকে যাত্রা করলেন। গাড়ির চালক ছাড়া সঙ্গী আর মাত্র দুজন। এক সদ্য তরুণ, অন্যজন কিশোর। ম্যাটাডোরে মড়ার খাট আগলে বসে থাকা ছেলেদুটি ধর্মীয় পরিচয়ে মুসলিম। মনে পড়ল, সদ্য চাকরিতে ঢুকেছি শুনে বাগবাজারের বাসিন্দা মাতৃপ্রতিম এক ভদ্রমহিলা কালীঘাটে পুজো দিয়েছিলেন। কী দিয়ে শোধ করা যায় এমনসব মহৎ ঋণ? কলকাতায় আমার পাড়ায় ধুমধাম করে দুর্গাপুজো হয়। কোনও কোনও বছর প্রতিমার দাম মেটানো হয় ব্যক্তিগত উদ্যোগে। ওই তালিকায় বিধান ঘোষ অথবা ঝরনা দাসের নামের পাশাপাশি আকরাম মল্লিকের নামও দেখেছি।
বাদুড়িয়া-বসিরহাটের হিংসার ছবি মনকে আরও স্মৃতিমেদুর, একইসঙ্গে আরও ভারাক্রান্ত করে তুলছিল। কিছু মানুষের বদমতলবে বলি হয়ে যাবে আমাদের চেনা পশ্চিমবঙ্গ! রাজ্যের ঊনচল্লিশ হাজার গ্রাম! যেখানে ছেচল্লিশের দাঙ্গা আঁচড় কাটতে পারেনি, চৌষট্টিতে শান্তি বিঘ্নিত হয়নি, বিরানব্বইয়েও বিষবাষ্প প্রবেশাধিকার পায়নি- সেই গ্রামবাংলা এবার কি সত্যিই বদলে যাবে!
গহন আঁধারেও আলোর রেখা নিয়ে হাজির হল দুটি ছবি। সেই বাদুড়িয়া-বসিরহাটেরই। হিংসার আগুনে দুর্গত হওয়া মানুষের মুখে অন্ন জোগাতে উভয়ধর্মের মানুষ হাতে হাত মিলিয়েছেন। ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হওয়া ঘোষবাড়ির ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান সুসম্পন্ন করতে ফরিদ-ইয়াসিনরা এগিয়ে এসেছেন। সদ্যপরিণীতা দীপান্বিতা বউমাকে আশীর্বাদ করছেন জিয়াদচাচা। না। আমরা এই বাংলাকে মরতে দেব না।
11th  July, 2017
 স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার সঙ্গে গুটিকয় নেতার নয়, সমস্ত পাহাড়বাসীর আত্মার সম্পর্ক প্রয়োজন

 বিশ্বনাথ চক্রবর্তী : মাসাধিককাল অতিক্রম করলেও এখন পাহাড় স্তব্ধ। দোকানপাট, বাজারহাট থেকে চা শিল্প সমস্তই প্রায় বন্ধ। পানীয় জল থেকে খাবার, জীবনদায়ী ওষুধসহ প্রায় সব কিছুরই হাহাকার। তবুও আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবিতে অনড়। তাঁরা শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন গোর্খাল্যান্ডের দাবি নিয়ে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিংসা ছেড়ে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও তাঁরা সাড়া দেননি, বরং বন্‌ধ চালিয়ে যাওয়ারই সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। এই অবস্থায় আলোচনার পথ খুলবে কে?
বিশদ

পাশ-ফেল: বিতর্ক জিইয়ে রেখেই আট বছর পরে বোধোদয় কেন্দ্রের

নিমাই দে : দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য দরকার সঠিক গুণমানের শিক্ষার। এই বাস্তব সত্যটা বুঝতে কেন্দ্রের নয় নয় করে আট বছর লেগে গেল! কারণ উপরের কথাটা কোনও নীতিবাক্য নয়। কোনও মনীষীর বাণীও নয়। কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর সম্প্রতি গুয়াহাটিতে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে গুণমানসমৃদ্ধ শিক্ষার এমনই প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে তাঁর উপলব্ধির কথা প্রকাশ করেছেন।
বিশদ

কেন্দ্রীয় নীতিতে পাট শিল্প ধুঁকছে, মরছে চাষি-শ্রমিক, ভরসা মমতা
নির্মাল্য মুখোপাধ্যায়

 প্রণব মুখোপাধ্যায় আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেউই কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটে নেই। তাই ২০১৩ সাল থেকে অনাথ হয়ে গিয়েছে রাজ্যের পাট চাষ আর শিল্প। ওই বছর থেকেই পুরোদমে পাট শিল্পের ওপর শুরু হয়েছে বিভিন্ন নিয়ম-নীতির আরোপ যা অনেকটা পুলিশি নজরদারির মতো বলা চলে। মমতা আর প্রণববাবু রাজ্যের পাট শিল্পের ৩ কোটি চাষি ও শ্রমিককে সবসময় আগলে রাখতেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় তাঁরা না থাকায় পাট শিল্পে আজ বাজছে বেদনার সুর।
বিশদ

27th  July, 2017
রবীন্দ্রনাথ থেকে অমর্ত্য: রবার যেটা সেটা রবেই
মেরুনীল দাশগুপ্ত

রবীন্দ্র-অমর্ত্য নিয়ে সংঘচালকদের প্রসঙ্গ উঠতেই কেন যে তিনি ওই অনুবাদ প্রসঙ্গ তুললেন—বলা বিপজ্জনক! কেবল কবির কথায় বলা চলে—রইলো বলে রাখলে কারে, হুকুম তোমার ফলবে কবে?/ তোমার টানাটানি টিকবে না ভাই, রবার যেটা সেটাই রবে। বলতে কী, যেভাবে করার চেষ্টা হচ্ছে, সেভাবে কিছুই হবে না। বড়জোর ওই—গ্রাউন ভালোবাসে ফিগুরিসকে! তাতে স্বচ্ছ ভারতের মুখে ছায়াকালিমাই শুধু বাড়বে। আমরা নিশ্চিত, রবীন্দ্রনাথ থেকে অমর্ত্য, রামায়ণ থেকে রাজনীতি—শেষ পর্যন্ত রবার যেটা সেটা রবেই। জাভড়েকর সেটা খানিক বুঝেছেন বলেই হয়তো সামলে নিয়েছেন। পহেলাজরা বুঝবেন কবে!
বিশদ

27th  July, 2017
দার্জিলিং জেলাকে পৃথক একটি রাজ্য করার দাবি সম্পূর্ণ অবাস্তব
শমিত কর

বিগত প্রায় তিন দশক ধরে পৃথক রাজ্য হিসাবে দার্জিলিংকে গড়ার দাবিতে পাহাড়বাসী রণং দেহি ভূমিকা নিচ্ছে। উত্তরে কাশ্মীর পরিস্থিতির মতো আমাদের রাজ্যের এই পাহাড়ি অঞ্চলের অবস্থা এক মারাত্মক আকার নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীরে যে জঙ্গি নাশকতা ধারাবাহিকভাবে চলেছে তার পিছনে পাকিস্তানের মদত কোনও নতুন কথা নয়।
বিশদ

25th  July, 2017
আপনিই সর্বশক্তিমান, তবু দেশজুড়ে এত অস্থিরতা কেন মোদিসাহেব?
হিমাংশু সিংহ

ক্ষমতায় থাকলে বুদ্ধিমান চতুর শাসকেরও বুদ্ধিবৃত্তি লোপ পায়। দম্ভে, অহংকারে মাটিতে পা পড়ে না। বিরোধিতা দেখলেই নেমে আসে দমন, পীড়ন। পুলিশ লেলিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো থেকে মিথ্যা অভিযোগে জেলে বন্দি করে রাখা... আরও কত কী! আজকের পশ্চিমবঙ্গে গত বেশ কিছুদিন ধরেই কেন্দ্রের মোদি সরকারের বদান্যতায় যা দস্তুর।
বিশদ

25th  July, 2017
বইই প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মুক্তির জগৎ

পঙ্কজ সাহা : রাষ্ট্রপতি ভবন বলতে মনের মধ্যে যে ধারণা ছিল সেটা একেবারে বদলে গেল দিল্লির রাইসিনা হিলসে রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছানোর পরে। কলকাতা থেকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলে যাওয়ার পরে ব্রিটিশ আমলে যে বিরাট প্যালেসটি দিল্লির রাইসিনা হিলসে নির্মিত হয়েছিল ভাইসরয় প্যালেস হিসেবে এবং ভারতের স্বাধীনতার পরে যেটি রাষ্ট্রপতি ভবন হিসেবে চিহ্নিত হয়, সেই বিরাট প্যালেসটির ছবিই মনের মধ্যে মুদ্রিত ছিল রাষ্ট্রপতি ভবন হিসেবে।
বিশদ

24th  July, 2017
রূপা-কাহিনি, সিনেমার মতো

সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায় : কথায় বলে, লঙ্কায় যে যায় সে-ই হয় রাবণ। এই কথাটাই একটু ঘুরিয়ে হয়তো বলা যায়, দেশের সব রাজ্যেই শাসক দলের চরিত্র সম্ভবত এক ও অভিন্ন। না হলে কর্ণাটকের ‘ডিআইজি প্রিজন’ ডি রূপার হাল এমন হত না। সুদর্শনা ও নির্ভয়া তরুণী রূপাকে কারা বিভাগের দায়িত্ব থেকে রাজ্যের কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া সরিয়ে দিয়েছেন।
বিশদ

23rd  July, 2017
শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে ২০১৯ যুদ্ধের রণদামামা বাজিয়ে দিলেন মমতা

শুভা দত্ত : কৌতূহল ছিল সকলেরই। বিপুল কৌতূহল। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে কী বলবেন তিনি, কী বার্তা দেবেন—তা নিয়ে আসমুদ্র হিমাচল বাংলায় আগ্রহের অন্ত ছিল না। তাঁর পূর্ববর্তী বক্তাদের কারও কারও কথাতেও রাজ্যবাসী মানুষজনের সেই আগ্রহ কৌতূহলের আভাস মিলেছিল। 
বিশদ

23rd  July, 2017



একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভারতে বসতে চলেছে অনুর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের আসর। আর একে কেন্দ্র করে ফুটবলকে প্রতিটি পড়ুয়ার কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। ‘মিশন ইলেভেন মিলিয়ন’ নামে একটি প্রতিযোগিতা চালু করেছে তারা। তাতে প্রায় এক কোটির মতো স্কুল পড়ুয়া ...

বিএনএ, বারাসত: এই প্রথমবার বাংলাদেশ এবং ভারত সরকারের যৌথ উদ্যোগে সপ্তাহের সাতদিনই টানা ২৪ ঘণ্টা পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তে ‘ননস্টপ’ আমদানি-রপ্তানি পরিষেবা চালু হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারের শুল্ক দপ্তরকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ১ আগস্ট এই নতুন পরিষেবা শুরু হবে। ...

শিলং, ২৭ জুলাই (পিটিআই): হাতি সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে শীঘ্রই মউ স্বাক্ষর হতে পারে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে। বৃহস্পতিবার দু’দেশের আধিকারিকরা শিলংয়ে একটি বৈঠকে বসেন। সেখানেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এদিন পশ্চিমবঙ্গ, অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরার বন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বাংলাদেশের ১১ ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: টানা তিনদিন নি঩খোঁজ থাকার পর চম্পাহাটিতে নির্মীয়মাণ একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতর থেকে এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতের নাম পঞ্চানন নস্কর (৫৩)। বৃহস্পতিবার মৃতের ছেলে প্রশান্ত নস্কর অভিযোগ করেছেন, তাঁর বাবাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কোনও চুক্তিবদ্ধ কাজে যুক্ত হবার যোগ আছে। ব্যাবসা শুরু করা যেতে পারে। বিবাহের যোগাযোগ ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

 ১৮৪৪- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জন ডালটনের মৃত্যু
১৯৬০- শিবসেনা প্রধান উদ্ধব থ্যাকারের জন্ম
১৯৯২- অভিনেতা আমজাদ খানের মৃত্যু
২০১৫- প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের মৃত্যু

27th  July, 2017


ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৪০ টাকা ৬৫.০৮ টাকা
পাউন্ড ৮৩.০৫ টাকা ৮৫.৯১ টাকা
ইউরো ৭৪.১৮ টাকা ৭৬.৭৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,০১০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৫২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৭,৯৪০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১২ শ্রাবণ, ২৮ জুলাই, শুক্রবার, পঞ্চমী দিবা ৬/৩৯, হস্তানক্ষত্র অহোরাত্র, সূ উ ৫/১০/৪০, অ ৬/১৬/৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৫ পুনঃ ৭/৪৭-১০/২৪ পুনঃ ১/১-২/৪৬ পুনঃ ৪/৩১-অস্তাবধি, বারবেলা ৮/২৬-১১/৪৩, কালরাত্রি ৮/৫৯-১০/২১।
১১ শ্রাবণ, ২৮ জুলাই, শুক্রবার, পঞ্চমী ৯/৩৬/১৬, উত্তরফাল্গুনীনক্ষত্র ৮/২৩/৫৯, সূ উ ৫/৭/৮, অ ৬/১৮/২০, অমৃতযোগ ৬/৫২/৩৮, ৭/৪৫/২২-১০/২৩/৩৭, ১/১/৫১-২/৪৭/২১, ৪/৩২/৫০-৬/১৮/২০, রাত্রি ৭/৪৪/৫০-৯/১১/২১, ২/৫৭/২২-৩/৪০/৩৮, বারবেলা ৮/২৪/৫৬-১০/৩/৫০, কালবেলা ১০/৩/৫০-১১/৪২/৪৪, কালরাত্রি ৯/০/৩২-১০/২১/৩৮।
 ৪ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
গল টেস্ট: শ্রীলঙ্কা ২৮৯/৮ (মধ্যাহ্নভোজের বিরতি) 

12:14:11 PM

প্রবীণ সিপিএম নেতা তথা প্রাক্তন এমপি মানিক সান্যাল প্রয়াত 

12:11:00 PM

গুজরাতে ইস্তফা আরও ২ কংগ্রেস বিধায়কের 

11:50:00 AM

সল্টলেকে ফের এটিএম কার্ডের পিন জেনে প্রতারণা, ধৃত ১ 
ফের ব্যাংক কর্তা পরিচয় দিয়ে ফোন করে এটিএম কার্ডের পিন জেনে লক্ষাধিক টাকা গায়েব। ঘটনায় আসানসোল থেকে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি নয়াপট্টির বাসিন্দা এক ব্যক্তিকে ফোন করে ব্যাংক কর্তা পরিচয় দিয়ে এটিএম কার্ডের তথ্য চাওয়া হয়। ওই ব্যক্তি তথ্য জানানোর পর ১ লক্ষ ৯৮৬ টাকা গায়েব হয়ে যায় অ্যাকাউন্ট থেকে। ঘটনার কথা জানিয়ে সল্টলেকের ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রতারিতর কন্যা। তদন্তে নেমে আসানসোল থেকে পিনাকি গাঁতাইত নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, ব্যাংকের পাসবুক, আধার কার্ড ও এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এদিন তাকে আদালতে তোলা হবে। 

11:46:07 AM

আসানসোলে বাসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ, জখম ১৫ 

11:10:00 AM

হাওড়ায় সিগনাল বিভ্রাট, দেরিতে চলছে ট্রেন 

11:04:54 AM