বিশেষ নিবন্ধ
 

এতদিনের চেনা এই সব হারিয়ে যাবে!
মোশারফ হোসেন

দিনচারেক আগে একটি জেলাশহরে গিয়েছিলাম। দুপরে দুই অনুজ সাংবাদিকের সঙ্গে এক টেবিলে খেতে বসেছিলাম। টুকটাক কথাবার্তা চলছিল। একজন বলল, দাদা, পরিস্থিতি যা দেখছি ক’দিন বাদে হয়তো তোমার সঙ্গে এক টেবিলে বসে খাওয়াদাওয়াও করতে পারব না। চারদিকে যেভাবে বিষ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, এরপর হয়তো ফতোয়া জারি হবে, ওদের সঙ্গে দহরম মহরম চলবে না। কড়া নজর রাখা হবে। আমি ম্লান হাসলাম। তাই নাকি! দেখবি তোর আশঙ্কা অমূলকই রয়ে যাবে। আমাদের বাংলায় এরকম কিছু হওয়া সম্ভব নয়। ও বলল, কী জানি! না হলেই তো ভালো।
আসলে, খানিক আগেই আমাদের চোখ ছিল টিভির পর্দায়। পর্দায় ভেসে উঠছিল বাদুড়িয়া বসিরহাটের হিংসার নানা খণ্ডচিত্র। আগুন তখনও নেভেনি। গুটিকয় লুম্পেন, মারকুটের তাণ্ডবে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত, বিভ্রান্ত, দিশাহারা। হিংসার উন্মত্ত রূপ দেখে প্রাণভয়ে অস্থির। ক্ষয়ক্ষতির শিকারও। এরই পাশাপাশি একশ্রেণির রাজনৈতিক নেতানেত্রীর দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো হয়ে উঠছে। সবই ভেসে উঠছিল টিভির পর্দায়।
বিকেলে কলকাতায় ফিরছিলাম। এক পশলা ভারী বৃষ্টি হয়ে ফের ঝকঝকে রোদ্দুর উঠেছে। সেই রোদ্দুরে পথের দুপাশের মাঠঘাট, গাছপালা আরও সবুজ লাগছে। গাড়ির খোলা জানালা দিয়ে দামাল হাওয়া ঢুকে চোখে মুখে ধাক্কা মারছে। হাওয়ায় নানারকম গন্ধ ভেসে আসছে। কখনও ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ, কখনওবা ভাপা ধানের অদ্ভুত মন কেমন করা সুবাস। সম্ভবত আশপাশের কোনো রাইসমিলে ধান সেদ্ধ করার কাজ চলছে। দূর থেকে একটা মন্দিরের চূড়া চোখে পড়ছিল। সেটা পেরিয়ে আসার কিছুক্ষণ পরই সবুজ মাঠের প্রান্তে ছোট্ট একটা ইদগাহ। ক’দিন আগেই ইদ ছিল। ইদগাহের দেওয়ালে রংয়ের নতুন প্রলেপ। পড়ন্ত বিকেলের রোদ্দুর সেই দেওয়ালে প্রতিফলিত হয়ে তাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
মানুষের মন কখনও শূন্য থাকে না। একলা মনে অনেক ভাবনা আসে। ইদগাহর দৃশ্য অন্তর্হিত হওয়ার পরপরই কেন জানি না অনুজ সাংবাদিকের কথাগুলো মনে পড়ে গেল। বাতাসে বিষ ছড়ানো হচ্ছে। আমাদের আবাল্যের চেনা বাংলা আর বোধহয় খুব বেশিদিন এরকম থাকবে না। নিজেকে প্রশ্ন করলাম, সত্যিই কি তাই? এও কি সম্ভব! মনের পর্দায় একের পর এক টুকরো ছবি ভেসে উঠতে লাগল। দিনকয়েক আগে এক দাশগুপ্ত পরিবারের কালীপুজোর গল্প শুনছিলাম। বর্ধিষ্ণু পরিবারটি একসময় ওপার বাংলা ছেড়ে এসে এপারে শহরতলিতে বাসা বেঁধেছিল। বাড়িতে জমজমাট কালীপুজো হয়। বড়সড় মণ্ডপ। পরিবার পরিজন, অতিথি অভ্যাগতরা রাতভর মণ্ডপে হাজির। একটি লোক বাঁশি বাজিয়ে শোনাচ্ছিলেন। মাইক্রোফোনে তা ছড়িয়ে পড়ছিল গোটা মণ্ডপে। সকাল হয়ে আসছে। কারও কারও ক্লান্ত চোখের পাতা অবশ হয়ে বুজে আসার উপক্রম। হঠাৎ প্রায় সবাইকে একধাক্কায় সচকিত করে তুললেন বাঁশিওয়ালা। এবার বাঁশিতে বেজে উঠেছে –আমার সাধ না মিটিল, আশা না পুরিল, সকলই ফুরায়ে যায় মা….। বাঁশি যেন কথা বলছে। যেন কাঁদছে। তার সুরের মূর্ছনায় আছড়ে পড়ছে অদ্ভুত আকুতি। হাহুতাশ। সকলই ফুরায়ে যায় মা! একসময় বাঁশিওয়ালা থামলেন। কিন্তু তাঁর সুরের রেশ যেন থামতে চায় না। অনেকের চোখই ততক্ষণে ঝাপসা হয়ে উঠেছে। ভিজতে চলেছে গাল। এমন মরমি বাঁশির সুর তোলা লোকটা থাকে কোথায়? ওর নাম কী? শোনা গেল, লোকটির নাম নুর মহম্মদ। পয়সার জন্য নয়, মনের তাগিদেই লোকটি বাঁশিতে এমন সব সুর তোলেন। শোনা ওই ঘটনাটির কথা স্মরণে আসতে মনে মনে বললাম, তাহলে কি দাশগুপ্তদের কালীপুজোয় নুর মহম্মদদের বাঁশির সুর আর শোনা যাবে না!
স্মৃতি একাকিত্ব পছন্দ করে না। এক স্মৃতি টেনে আনে আর এককে। কোনও কারণবশত তাল কেটে না যাওয়া পর্যন্ত স্মৃতির মালা দীর্ঘতর হতেই থাকে। সেদিন আমারও তাই হল। পরিমলদার মুখটা ভেসে উঠল। বনগাঁর পরিমল মণ্ডল। নমশূদ্র। তিরিশ বত্রিশ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের বহু মহকুমা বা ব্লক শহরে হোটেল নামক বস্তুটির অস্তিত্ব ছিল না। খবর সংগ্রহের কাজে গিয়ে রাত কাটাতে হলে কোনও না কোনও পরিবারের ঠিকানাই ছিল ভরসা। এমনি করেই একদিন পরিমলদার বাড়িই হয়ে উঠেছিল আমার বনগাঁর ঠিকানা। ওই মহকুমা শহরে পৌঁছালে ওই বাড়িরই অতিথি হব- এটাই হয়ে উঠেছিল দস্তুর। পরিবারের কর্তা-গিন্নি আর ছেলেমেয়েদের সঙ্গে গভীর রাত পর্যন্ত গল্পগুজব, গান শোনা, হাসিঠাট্টা, অভিমান অনুযোগ সবই স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছিল। আমার বউভাতে পরিমলদার উপহার দেওয়া দু’খণ্ডের সারদা পুঁথি আজও আমার বুকশেল্ফে কোরান, হাদিস, বিষাদ সিন্ধুর গায়ে গা লাগিয়ে বিরাজ করছে। বইটির কোনও অংশই আমার না-পড়া নেই। এখনও প্রয়োজনে পাতা ওল্টাই। সম্প্রতি পরিমলদার এক বন্ধু ‘যথার্থ গীতা’ উপহার দিয়ে গেলেন। আমার গীতাসংগ্রহ আরও সমৃদ্ধ হল। বনগাঁর এক শিক্ষকমশাই সুকুমার দেবনাথ হয়ে উঠেছিলেন নির্ভরযোগ্য বন্ধু। দেবনাথ পরিবারটি দেশভাগের সময় খুলনা থেকে এসেছিল। তাহলে কি আগামীদিনে পরিমলদা, সুকুমারবাবুরা আর আমার আপনজন থাকবেন না! মনে পড়ে গেল একবার কালনায় অপরিচিত এক রায়বাড়িতে একরাতের আশ্রয় জুটেছিল। বাড়ির মহিলারা প্রায় মধ্যরাতে নতুন করে উনুন জ্বেলে আমার জন্য রান্না করেছিলেন। ওদেরই একটি মাটির ঘরে বিডিএস পাঠরত তরুণটির তক্তেপোষের বিছানায় তাঁর সঙ্গে নিশ্চিন্ত নিদ্রায় দেহের ক্লান্তি দূর করেছিলাম। মনে পড়ল ‘সাপের গ্রাম’ দেখতে গিয়ে কাটোয়ার বলগোনায় এক সাঁই পরিবারে ভাতের সঙ্গে রুইমাছের টক প্রথমবার খেয়ে আপ্লুত হয়েছিলাম।
পড়াশোনা ও জীবিকার প্রয়োজনে ক্রমে কলকাতা মহানগরীর স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে উঠলেও এখনও নিয়মিত গ্রামের বাড়িতে যাই। হেঁটে যাওয়ার পথের পাশে প্রশস্ত, সুদৃশ্য কালীমণ্ডপ। এই সেদিনও দেখলাম ফলআহরিণী কালীপুজো মিটে গেলেও মন্দিরে দেবীপ্রতিমা বিরাজ করছেন। শ্যামামায়ের উজ্জ্বল দু’টি চোখে চোখ পড়তেই মর্মস্থল পর্যন্ত তীব্র স্পন্দন অনুভূত হল। আরও এগলে দুর্গাদালান। এখন গা এলিয়ে পড়ে থাকলেও কয়েকমাস বাদেই মাতৃমন্ত্রে জেগে উঠবে। প্রতিবারই কুশল বিনিময় করতে করতে এগিয়ে যাই। সাত-আট মিনিটের পথ পনেরো মিনিটেও শেষ হয় না। এই পথেই বহু দূর থেকে আসা পুণ্যার্থীরা দল বেঁধে খোল করতাল, কাঁসর বাজাতে বাজাতে আর এক গাঁয়ের শীতলা মন্দিরের দিকে এগিয়ে যান। মাঝের গ্রামটিতে পথের বাঁ দিকে দুধসাদা মসজিদের মাইক থেকে দিনে পাঁচবার আজানের ধ্বনি গোটা গ্রামের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়ে। ভোরের আজানের বাণীতে রোজই স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়- আস সালাতো খইরুল মিন আল নাওম। নিদ্রা অপেক্ষা নামাজ উত্তম। সেই আওয়াজে ধর্মপ্রাণ মুসলিম বিছানা ছেড়ে নামাজ পড়ার প্রস্তুতি নেন, হিন্দু চাষি তোড়জোড় করেন মাঠে যাওয়ার। আজানের ধ্বনি উভয়ের কাছেই অ্যালার্ম ক্লক। ঘুম ভাঙানিয়া বন্ধু। স্কুলে পড়ার সময় গ্রামে প্রায়ই রামযাত্রা, কেষ্টযাত্রা, মা মনসার পালা, কাওয়ালি প্রভৃতি অনুষ্ঠানে বন্ধুরা দল বেঁধে হাজির হতাম। আসরে হিন্দু নারীপুরুষের তুলনায় মুসলিম নারীপুরুষের উপস্থিতি খুব কম হত না। আজকাল টিভির দৌলতে ওই আসরগুলোর সংখ্যা কমেছে কিন্তু গ্রাম বাংলায় সম্প্রীতি কমেনি। মনে পড়ে, নীলরাত্রির শোভাযাত্রায় শামিল হয়ে গাজনতলায় পৌঁছে যাওয়া আমাদের বাৎসরিক রুটিনে পরিণত হয়েছিল। নানারকম মজা, হইহল্লোড়ে রাতটা কাটিয়ে দেওয়া আর পরদিন মেলায় ঘুরে ফিরে সদ্যভাজা পাঁপড়, জিলিপি আথবা গায়ে চিনি লেগে থাকা জিবেগজা, চিনির মঠে কামড় দিয়ে পেট ভরানোর ছবি। এসব আর এরকম থাকবে না! বাংলার নিজস্ব এই চিরকালীন সংস্কৃতি ভাগাভাগি হয়ে যাবে!
এখনও এক অশীতিপর মুসলিম শিক্ষকমশাইয়ের বাড়ির সামনে দিয়ে বাজারে যাওয়ার পথে সদ্য অবসর নেওয়া কোনো হিন্দু শিক্ষক সমীহপূর্ণ হাঁক পেড়ে যান, স্যার আপনার জন্য কিছু এনে দিতে হবে নাকি। অথবা ভিন্নধর্মী যুবককে দেখতে পেয়ে নির্দ্বিধায় বৃদ্ধ বলতে পারেন, আমার জন্য কয়েকটা জিনিস এনো তো! মহাষ্টমী অথবা পৌষ সংক্রান্তিতে কয়েকটি হিন্দুবাড়ি থেকে লুচি, ছোলার ডাল, মিষ্টি অথবা পিঠে পুলির উপহার আসাটাই স্বাভাবিক ঘটনা। একইরকমভাবে ইদের দিনে এদিক থেকে শিমুই লাচ্চা পায়েসের থালা নিশ্চিতভাবে পৌঁছে যায় ওদিকে। ইদের কেনাকাটায় পরিজনদের তালিকায় দু’একটি হিন্দু নাম মোটেই অপরিচিত ছবি নয়। অথবা শহরে চাকরি করা কোনও যুবককে সাদামাটা প্রবীণ হিন্দু পড়শী অক্লেশে আবদার করতে পারেন- চাচা, এবার শীতে আমায় একটা ভালো গরম জামা দিও, জামাইবাড়ি বেড়াতে যাব। এটাই তো আমাদের চেনা বাংলা। এ আর থাকবে না! ভাবতে পারছি না।
খবরের কাগজে পড়লাম মুর্শিদাবাদে কিরীটেশ্বরী মন্দিরের জন্য মুসলিমরা জমি লিখে দিচ্ছেন। ক’মাস আগে বর্ধমানেও এরকম একটা খবর চোখে পড়েছিল। মাঝে মালদহের একটি গ্রামে এক হিন্দু শবদেহের সৎকারে মুসলিম প্রতিবেশীদের কাঁধ দেওয়ার খবরও বেশ গুরুত্ব পেয়েছিল। অনেকগুলো বছর আগের একটি দৃশ্য মনে পড়ে গেল। মহানগরীর বাসিন্দা এক ভদ্রলোকের মা প্রয়াত হয়েছেন। মাঘের কনকনে শীতের রাত। আত্মীয় পরিজনরা আসতে পারেননি। মায়ের মরদেহ একটি ম্যাটাডোরে চাপিয়ে ভদ্রলোক কেওড়াতলার দিকে যাত্রা করলেন। গাড়ির চালক ছাড়া সঙ্গী আর মাত্র দুজন। এক সদ্য তরুণ, অন্যজন কিশোর। ম্যাটাডোরে মড়ার খাট আগলে বসে থাকা ছেলেদুটি ধর্মীয় পরিচয়ে মুসলিম। মনে পড়ল, সদ্য চাকরিতে ঢুকেছি শুনে বাগবাজারের বাসিন্দা মাতৃপ্রতিম এক ভদ্রমহিলা কালীঘাটে পুজো দিয়েছিলেন। কী দিয়ে শোধ করা যায় এমনসব মহৎ ঋণ? কলকাতায় আমার পাড়ায় ধুমধাম করে দুর্গাপুজো হয়। কোনও কোনও বছর প্রতিমার দাম মেটানো হয় ব্যক্তিগত উদ্যোগে। ওই তালিকায় বিধান ঘোষ অথবা ঝরনা দাসের নামের পাশাপাশি আকরাম মল্লিকের নামও দেখেছি।
বাদুড়িয়া-বসিরহাটের হিংসার ছবি মনকে আরও স্মৃতিমেদুর, একইসঙ্গে আরও ভারাক্রান্ত করে তুলছিল। কিছু মানুষের বদমতলবে বলি হয়ে যাবে আমাদের চেনা পশ্চিমবঙ্গ! রাজ্যের ঊনচল্লিশ হাজার গ্রাম! যেখানে ছেচল্লিশের দাঙ্গা আঁচড় কাটতে পারেনি, চৌষট্টিতে শান্তি বিঘ্নিত হয়নি, বিরানব্বইয়েও বিষবাষ্প প্রবেশাধিকার পায়নি- সেই গ্রামবাংলা এবার কি সত্যিই বদলে যাবে!
গহন আঁধারেও আলোর রেখা নিয়ে হাজির হল দুটি ছবি। সেই বাদুড়িয়া-বসিরহাটেরই। হিংসার আগুনে দুর্গত হওয়া মানুষের মুখে অন্ন জোগাতে উভয়ধর্মের মানুষ হাতে হাত মিলিয়েছেন। ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হওয়া ঘোষবাড়ির ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান সুসম্পন্ন করতে ফরিদ-ইয়াসিনরা এগিয়ে এসেছেন। সদ্যপরিণীতা দীপান্বিতা বউমাকে আশীর্বাদ করছেন জিয়াদচাচা। না। আমরা এই বাংলাকে মরতে দেব না।
11th  July, 2017
মারের জবাব মার! এ কোন রাজনীতির কথা বলে গেলেন অমিত শাহ
শুভা দত্ত

 একটা পা ভাঙলে দুটো পা ভেঙে দিন। একটা হাত ভাঙলে দুটো হাত। কয়েকদিন আগে পুরুলিয়ার জয়পুরে এক জনসভায় এমনই নিদান দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি’র সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বলা বাহুল্য, ওই জনসভা ছিল আসলে বিজেপি’র স্থানীয় নেতা কর্মী সমর্থকদের সমাবেশ।
বিশদ

17th  September, 2017
কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থার হাল-হকিকত
শমিত কর

সম্প্রতি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর জানিয়েছেন, ২০১৬-এর ১ জানুয়ারি থেকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনক্রম পুনর্বিন্যাসের জন্য যে সুপারিশ বকেয়া রয়েছে তা শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।
বিশদ

17th  September, 2017
আমেরিকায় অনিদ্রা রোগ ও চিকিৎসা 

আলোলিকা মুখোপাধ্যায়: অনিদ্রার উপসর্গকে তখনই রোগ বলা যায়, যখন রাতের ঘুমের জন্যে পর্যাপ্ত সময় থাকা সত্ত্বেও কারওর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। প্রতি রাতে ঘুম আসতে দেরি হয়। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে বাকি রাত প্রায় জেগেই কেটে যায়। রাতের পর রাত গভীর ঘুমের পরিবর্তে একরকম তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব থাকে, যার ফলে শরীর ও মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায় না। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিশদ

16th  September, 2017
টানাপোড়েনের পুজো 

অনিতা অগ্নিহোত্রী: নিম্নমধ্যবিত্তের পুজোর দিনগুলোতে একটুখানি মনখারাপ মিশে থাকত কি আলো আর বাজনার পাশাপাশি বয়ে চলা তিরতিরে একটা খোলা জলের স্রোতের মতন? নাকি, আমরা ছোটবেলাতেও একটু বেশি বেশি ভাবতাম? অসচ্ছলতার উল্লেখ বাবা-মা যথাসাধ্য আমাদের কান এড়িয়েই করতেন, তবু স্প্লিনটারের টুকরো টাকরা তো গায়ে এসে পড়বেই, যদি কেউ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ দেখতে চায়!
বিশদ

16th  September, 2017
ভুল স্বীকারের বিকল্প রাজনীতি
সমৃদ্ধ দত্ত

 আমাদের সবথেকে বেশি সমস্যা হয় প্রকাশ্যে দুটি কথা বলতে। ১) ‘‘আমার ভুল হয়েছে, হ্যাঁ, ওটা আমারই ভুল কিংবা আমি ভুল করেছি।’’ আর ২) ‘‘আমার ঠিক জানা নেই।’’ তাই আমরা প্রথমেই এককথায় ভুল স্বীকারের তুলনায় বরং অনেক বেশিক্ষণ ধরে চেষ্টা করি যা বলেছি বা করেছি সেটা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মরিয়া হয়ে জাস্টিফাই করে যেতে যে ঠিকই বলেছি বা ঠিকই করেছি। আবার একইভাবে কোনও প্রশ্নের জবাবে চট করে প্রথমেই জানি না বলতেও বাধো বাধো ঠেকে।
বিশদ

15th  September, 2017
কালী-বেদান্তী

স্বামী আত্মবোধানন্দ : স্বামী অভেদানন্দের অপর নাম ‘কালী-বেদান্তী’। আশৈশব তাঁর বেদান্ত-দর্শনের প্রতি আগ্রহ। বেদান্ত মতকে তিনি গভীর নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে সাধনার দ্বারা রপ্ত করে আয়ত্ত করেছিলেন। জাগতিক স্থূল চিন্তা-ভাবনাকে ছেড়ে তিনি সূক্ষ্ম বৈদান্তিক বিবেক-বিচারে ডুবে থাকতেন সারাক্ষণ।
বিশদ

14th  September, 2017
মহরম ও বিসর্জন একইদিনে কি একান্তই অসম্ভব?
মোশারফ হোসেন

 একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী গাইডলাইন তৈরি করুক প্রশাসন। বাংলার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের উপর ভরসা রাখুক। একের আবেগকে সম্মান দিতে গিয়ে অন্যের আবেগ আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া ঠিক নয়। মহরমের শোভাযাত্রা ও প্রতিমা বিসর্জন দুই-ই হোক। সময় বেঁধে। দশমীর সন্ধ্যা থেকে একাদশীর ভোর পর্যন্ত বিসর্জন চলুক। তারপর সকাল থেকে গোটা দিনটি বাদ দিয়ে রাত আটটার পর ফের বিসর্জন। মাঝের বারো-চৌদ্দো ঘণ্টা নির্বিঘ্নে মহরমের শোভাযাত্রা রাজপথ পরিক্রমা করুক। বিসর্জন এবং মহরম শোভাযাত্রা—দুইয়ের জন্যই প্রশাসন নির্দিষ্ট রুট বেঁধে দিক।
বিশদ

12th  September, 2017
ডোকলাম শিক্ষা: নতুন রণকৌশল জরুরি
গৌরীশংকর নাগ

 ডোকলাম বিতর্কের দ্বিমাসাধিক সময়ে যখন ভারতের প্রতিবেশীরা আগ্রহ নিয়ে তাকিয়েছিল ভারতের পদক্ষেপের দিকে, তখন বলাই বাহুল্য দুর্বল ও ক্ষুদ্র প্রতিবেশীর কাছ থেকে ভারত যে সমর্থন পেয়েছে সেই দায় নিউ দিল্লি ঝেড়ে ফেলতে পারবে না। ঠিক যেমন ভারতকে তার ভুল নেপালনীতির জন্য এখন মাশুল গুনতে হচ্ছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিউ দিল্লি যেভাবে নতুন করে ঘুঁটি সাজাতে চাইছে (মোদির ‘প্রতিবেশী দেশকে সর্বাধিক গুরুত্ব দাও’-এর নীতি প্রসঙ্গত লক্ষণীয়) তাতেই চীনের গাত্রদাহ বেড়ে যাবার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিশদ

12th  September, 2017
একনজরে
সুকান্ত বেরা: মহালয়া মানেই দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন শুরু। বড় পার্বন ঘিরে বাঙালি এখন উৎসবমুখর। ক্রিকেটের নন্দনকাননে ভারত-অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ওয়ান ডে ম্যাচ ঘিরে আগ্রহ কম শহরবাসীর। বাইশগজে ...

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার সকালে বিষ্ণুপুরের হুলামারা ও বিড়াইয়ে পৃথক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল দু’জনের। প্রথম ঘটনায় লরির ধাক্কায় এক সাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম জান আলি চৌধুরি(৫৪)। তাঁর বাড়ি হুলামারা গ্রামেই। ...

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: অবৈধভাবে আত্রেয়ী নদী থেকে বালি তোলা বন্ধ করতে মঙ্গলবার অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি) কৌশিক নাগ অভিযানে নামেন। এদিন সকালে বালুরঘাট থানার পুলিশকে নিয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক কৌশিকবাবু আত্রেয়ী ঘাটে হানা দেন। ...

ওয়াশিংটন, ১৯ সেপ্টেম্বর: উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক বিকল্পের কথাও ভাবা শুরু করেছে পেন্টাগন। এর অর্থ আরও একটি যুদ্ধ। এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন আমেরিকার প্রতিরক্ষাসচিব জেমস ম্যাটিস। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমনই ইঙ্গিত দেন। যদিও কী ধরনের বিকল্পের কথা ভাবা হচ্ছে, আমেরিকা ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর বিদ্যায় সফলতা আসবে। সরকারি ক্ষেত্রে কর্মলাভের সম্ভাবনা। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। প্রেম-প্রণয়ে মানসিক অস্থিরতা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

 ১৯১৯- অভিনেতা জহর রায়ের জন্ম
১৯২১- সাহিত্যিক বিমল করের জন্ম
১৯২৪- গায়িকা সুচিত্রা মিত্রের জন্ম
১৯৬৫- মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামসের জন্ম

19th  September, 2017
ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.২৫ টাকা ৬৪.৯৩ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৭০ টাকা ৮৮.৬৩ টাকা
ইউরো ৭৫.২৭ টাকা ৭৭.৯২ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
19th  September, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,২০০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৬৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২ আশ্বিন, ১৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, চতুর্দ্দশী, পূর্ব ফল্গুনী দং ৪৩/৫২ রাত্রি ঘ ১১/১, সূ উ ৫/২৭/৫৭, অ ৫/৩৩/১১, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/১৫ মধ্যে পুনঃ ৭/৪ গতে ১১/৭ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/৫৭ গতে ৮/৪৫ মধ্যে পুনঃ ৯/৩২ গতে ১১/৫৪ মধ্যে পুনঃ ১/৩০ গতে ৩/৫ মধ্যে পুনঃ ৪/৪০ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৬/৫৮ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ১/১ গতে ২/৩১ মধ্যে। কালরাত্রি ৭/৩ গতে ৮/৩২ মধ্যে।
২ আশ্বিন, ১৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, চতুর্দ্দশী, পূর্বফল্গুনীনক্ষত্র ১১/৩৮/৪৭, সূ উ ৫/২৬/২৮, অ ৫/৩৪/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৫/০ মধ্যে, ৭/৩/৩২- ১১/৬/১২, রাত্রি ৭/৫৬/৫২-৮/৪৪/২০, ৯/৩১/৪৮-১১/৫৪/১২, ১/২৯/৮-৩/৪/৪, ৪/৩৯/০-৫/২৬/২৮, বারবেলা ৬/৫৭/২৮-৮/২৮/২৮, কালবেলা ১/১/২৮-২/৩২/২৮, কালরাত্রি ৭/৩/২৮-৮/৩২/২৮। 
২৭ জেলহজ্জ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
জম্মু ও কাশ্মীরের বানিহালে এসএসবি-র ক্যাম্পে জঙ্গি হামলা, এক জওয়ানের মৃত্যু 

09:32:00 PM

দুর্গাপুরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে টিকা দেওয়ার পর ২ শিশুর মৃত্যু

08:28:00 PM

এগরাতে মদের দোকানে ভাঙচুর, আগুন

08:27:00 PM

পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা এলাকার শিলাবতী নদীতে ভাসান দিতে এসে তলিয়ে গেল ২ ছাত্র

07:19:00 PM

ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে ধর্মঘটে সুন্দরবনের বোট মালিকরা
বিভিন্ন দাবি দাওয়ার ভিত্তিতে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ...বিশদ

07:10:00 PM

খারাপ আবহাওয়ার জন্য মুম্বই বিমানবন্দর থেকে একাধিক উড়ান বাতিল
বুধবার খারাপ আবহাওয়ার জন্য মুম্বই বিমানবন্দর থেকে ৬৩টি ...বিশদ

06:23:00 PM

মহারাষ্ট্রে ব্যাপক বৃষ্টি, জলমগ্ন একাধিক এলাকা

06:20:00 PM