বিশেষ নিবন্ধ
 

এতদিনের চেনা এই সব হারিয়ে যাবে!
মোশারফ হোসেন

দিনচারেক আগে একটি জেলাশহরে গিয়েছিলাম। দুপরে দুই অনুজ সাংবাদিকের সঙ্গে এক টেবিলে খেতে বসেছিলাম। টুকটাক কথাবার্তা চলছিল। একজন বলল, দাদা, পরিস্থিতি যা দেখছি ক’দিন বাদে হয়তো তোমার সঙ্গে এক টেবিলে বসে খাওয়াদাওয়াও করতে পারব না। চারদিকে যেভাবে বিষ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, এরপর হয়তো ফতোয়া জারি হবে, ওদের সঙ্গে দহরম মহরম চলবে না। কড়া নজর রাখা হবে। আমি ম্লান হাসলাম। তাই নাকি! দেখবি তোর আশঙ্কা অমূলকই রয়ে যাবে। আমাদের বাংলায় এরকম কিছু হওয়া সম্ভব নয়। ও বলল, কী জানি! না হলেই তো ভালো।
আসলে, খানিক আগেই আমাদের চোখ ছিল টিভির পর্দায়। পর্দায় ভেসে উঠছিল বাদুড়িয়া বসিরহাটের হিংসার নানা খণ্ডচিত্র। আগুন তখনও নেভেনি। গুটিকয় লুম্পেন, মারকুটের তাণ্ডবে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত, বিভ্রান্ত, দিশাহারা। হিংসার উন্মত্ত রূপ দেখে প্রাণভয়ে অস্থির। ক্ষয়ক্ষতির শিকারও। এরই পাশাপাশি একশ্রেণির রাজনৈতিক নেতানেত্রীর দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো হয়ে উঠছে। সবই ভেসে উঠছিল টিভির পর্দায়।
বিকেলে কলকাতায় ফিরছিলাম। এক পশলা ভারী বৃষ্টি হয়ে ফের ঝকঝকে রোদ্দুর উঠেছে। সেই রোদ্দুরে পথের দুপাশের মাঠঘাট, গাছপালা আরও সবুজ লাগছে। গাড়ির খোলা জানালা দিয়ে দামাল হাওয়া ঢুকে চোখে মুখে ধাক্কা মারছে। হাওয়ায় নানারকম গন্ধ ভেসে আসছে। কখনও ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ, কখনওবা ভাপা ধানের অদ্ভুত মন কেমন করা সুবাস। সম্ভবত আশপাশের কোনো রাইসমিলে ধান সেদ্ধ করার কাজ চলছে। দূর থেকে একটা মন্দিরের চূড়া চোখে পড়ছিল। সেটা পেরিয়ে আসার কিছুক্ষণ পরই সবুজ মাঠের প্রান্তে ছোট্ট একটা ইদগাহ। ক’দিন আগেই ইদ ছিল। ইদগাহের দেওয়ালে রংয়ের নতুন প্রলেপ। পড়ন্ত বিকেলের রোদ্দুর সেই দেওয়ালে প্রতিফলিত হয়ে তাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
মানুষের মন কখনও শূন্য থাকে না। একলা মনে অনেক ভাবনা আসে। ইদগাহর দৃশ্য অন্তর্হিত হওয়ার পরপরই কেন জানি না অনুজ সাংবাদিকের কথাগুলো মনে পড়ে গেল। বাতাসে বিষ ছড়ানো হচ্ছে। আমাদের আবাল্যের চেনা বাংলা আর বোধহয় খুব বেশিদিন এরকম থাকবে না। নিজেকে প্রশ্ন করলাম, সত্যিই কি তাই? এও কি সম্ভব! মনের পর্দায় একের পর এক টুকরো ছবি ভেসে উঠতে লাগল। দিনকয়েক আগে এক দাশগুপ্ত পরিবারের কালীপুজোর গল্প শুনছিলাম। বর্ধিষ্ণু পরিবারটি একসময় ওপার বাংলা ছেড়ে এসে এপারে শহরতলিতে বাসা বেঁধেছিল। বাড়িতে জমজমাট কালীপুজো হয়। বড়সড় মণ্ডপ। পরিবার পরিজন, অতিথি অভ্যাগতরা রাতভর মণ্ডপে হাজির। একটি লোক বাঁশি বাজিয়ে শোনাচ্ছিলেন। মাইক্রোফোনে তা ছড়িয়ে পড়ছিল গোটা মণ্ডপে। সকাল হয়ে আসছে। কারও কারও ক্লান্ত চোখের পাতা অবশ হয়ে বুজে আসার উপক্রম। হঠাৎ প্রায় সবাইকে একধাক্কায় সচকিত করে তুললেন বাঁশিওয়ালা। এবার বাঁশিতে বেজে উঠেছে –আমার সাধ না মিটিল, আশা না পুরিল, সকলই ফুরায়ে যায় মা….। বাঁশি যেন কথা বলছে। যেন কাঁদছে। তার সুরের মূর্ছনায় আছড়ে পড়ছে অদ্ভুত আকুতি। হাহুতাশ। সকলই ফুরায়ে যায় মা! একসময় বাঁশিওয়ালা থামলেন। কিন্তু তাঁর সুরের রেশ যেন থামতে চায় না। অনেকের চোখই ততক্ষণে ঝাপসা হয়ে উঠেছে। ভিজতে চলেছে গাল। এমন মরমি বাঁশির সুর তোলা লোকটা থাকে কোথায়? ওর নাম কী? শোনা গেল, লোকটির নাম নুর মহম্মদ। পয়সার জন্য নয়, মনের তাগিদেই লোকটি বাঁশিতে এমন সব সুর তোলেন। শোনা ওই ঘটনাটির কথা স্মরণে আসতে মনে মনে বললাম, তাহলে কি দাশগুপ্তদের কালীপুজোয় নুর মহম্মদদের বাঁশির সুর আর শোনা যাবে না!
স্মৃতি একাকিত্ব পছন্দ করে না। এক স্মৃতি টেনে আনে আর এককে। কোনও কারণবশত তাল কেটে না যাওয়া পর্যন্ত স্মৃতির মালা দীর্ঘতর হতেই থাকে। সেদিন আমারও তাই হল। পরিমলদার মুখটা ভেসে উঠল। বনগাঁর পরিমল মণ্ডল। নমশূদ্র। তিরিশ বত্রিশ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের বহু মহকুমা বা ব্লক শহরে হোটেল নামক বস্তুটির অস্তিত্ব ছিল না। খবর সংগ্রহের কাজে গিয়ে রাত কাটাতে হলে কোনও না কোনও পরিবারের ঠিকানাই ছিল ভরসা। এমনি করেই একদিন পরিমলদার বাড়িই হয়ে উঠেছিল আমার বনগাঁর ঠিকানা। ওই মহকুমা শহরে পৌঁছালে ওই বাড়িরই অতিথি হব- এটাই হয়ে উঠেছিল দস্তুর। পরিবারের কর্তা-গিন্নি আর ছেলেমেয়েদের সঙ্গে গভীর রাত পর্যন্ত গল্পগুজব, গান শোনা, হাসিঠাট্টা, অভিমান অনুযোগ সবই স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছিল। আমার বউভাতে পরিমলদার উপহার দেওয়া দু’খণ্ডের সারদা পুঁথি আজও আমার বুকশেল্ফে কোরান, হাদিস, বিষাদ সিন্ধুর গায়ে গা লাগিয়ে বিরাজ করছে। বইটির কোনও অংশই আমার না-পড়া নেই। এখনও প্রয়োজনে পাতা ওল্টাই। সম্প্রতি পরিমলদার এক বন্ধু ‘যথার্থ গীতা’ উপহার দিয়ে গেলেন। আমার গীতাসংগ্রহ আরও সমৃদ্ধ হল। বনগাঁর এক শিক্ষকমশাই সুকুমার দেবনাথ হয়ে উঠেছিলেন নির্ভরযোগ্য বন্ধু। দেবনাথ পরিবারটি দেশভাগের সময় খুলনা থেকে এসেছিল। তাহলে কি আগামীদিনে পরিমলদা, সুকুমারবাবুরা আর আমার আপনজন থাকবেন না! মনে পড়ে গেল একবার কালনায় অপরিচিত এক রায়বাড়িতে একরাতের আশ্রয় জুটেছিল। বাড়ির মহিলারা প্রায় মধ্যরাতে নতুন করে উনুন জ্বেলে আমার জন্য রান্না করেছিলেন। ওদেরই একটি মাটির ঘরে বিডিএস পাঠরত তরুণটির তক্তেপোষের বিছানায় তাঁর সঙ্গে নিশ্চিন্ত নিদ্রায় দেহের ক্লান্তি দূর করেছিলাম। মনে পড়ল ‘সাপের গ্রাম’ দেখতে গিয়ে কাটোয়ার বলগোনায় এক সাঁই পরিবারে ভাতের সঙ্গে রুইমাছের টক প্রথমবার খেয়ে আপ্লুত হয়েছিলাম।
পড়াশোনা ও জীবিকার প্রয়োজনে ক্রমে কলকাতা মহানগরীর স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে উঠলেও এখনও নিয়মিত গ্রামের বাড়িতে যাই। হেঁটে যাওয়ার পথের পাশে প্রশস্ত, সুদৃশ্য কালীমণ্ডপ। এই সেদিনও দেখলাম ফলআহরিণী কালীপুজো মিটে গেলেও মন্দিরে দেবীপ্রতিমা বিরাজ করছেন। শ্যামামায়ের উজ্জ্বল দু’টি চোখে চোখ পড়তেই মর্মস্থল পর্যন্ত তীব্র স্পন্দন অনুভূত হল। আরও এগলে দুর্গাদালান। এখন গা এলিয়ে পড়ে থাকলেও কয়েকমাস বাদেই মাতৃমন্ত্রে জেগে উঠবে। প্রতিবারই কুশল বিনিময় করতে করতে এগিয়ে যাই। সাত-আট মিনিটের পথ পনেরো মিনিটেও শেষ হয় না। এই পথেই বহু দূর থেকে আসা পুণ্যার্থীরা দল বেঁধে খোল করতাল, কাঁসর বাজাতে বাজাতে আর এক গাঁয়ের শীতলা মন্দিরের দিকে এগিয়ে যান। মাঝের গ্রামটিতে পথের বাঁ দিকে দুধসাদা মসজিদের মাইক থেকে দিনে পাঁচবার আজানের ধ্বনি গোটা গ্রামের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়ে। ভোরের আজানের বাণীতে রোজই স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়- আস সালাতো খইরুল মিন আল নাওম। নিদ্রা অপেক্ষা নামাজ উত্তম। সেই আওয়াজে ধর্মপ্রাণ মুসলিম বিছানা ছেড়ে নামাজ পড়ার প্রস্তুতি নেন, হিন্দু চাষি তোড়জোড় করেন মাঠে যাওয়ার। আজানের ধ্বনি উভয়ের কাছেই অ্যালার্ম ক্লক। ঘুম ভাঙানিয়া বন্ধু। স্কুলে পড়ার সময় গ্রামে প্রায়ই রামযাত্রা, কেষ্টযাত্রা, মা মনসার পালা, কাওয়ালি প্রভৃতি অনুষ্ঠানে বন্ধুরা দল বেঁধে হাজির হতাম। আসরে হিন্দু নারীপুরুষের তুলনায় মুসলিম নারীপুরুষের উপস্থিতি খুব কম হত না। আজকাল টিভির দৌলতে ওই আসরগুলোর সংখ্যা কমেছে কিন্তু গ্রাম বাংলায় সম্প্রীতি কমেনি। মনে পড়ে, নীলরাত্রির শোভাযাত্রায় শামিল হয়ে গাজনতলায় পৌঁছে যাওয়া আমাদের বাৎসরিক রুটিনে পরিণত হয়েছিল। নানারকম মজা, হইহল্লোড়ে রাতটা কাটিয়ে দেওয়া আর পরদিন মেলায় ঘুরে ফিরে সদ্যভাজা পাঁপড়, জিলিপি আথবা গায়ে চিনি লেগে থাকা জিবেগজা, চিনির মঠে কামড় দিয়ে পেট ভরানোর ছবি। এসব আর এরকম থাকবে না! বাংলার নিজস্ব এই চিরকালীন সংস্কৃতি ভাগাভাগি হয়ে যাবে!
এখনও এক অশীতিপর মুসলিম শিক্ষকমশাইয়ের বাড়ির সামনে দিয়ে বাজারে যাওয়ার পথে সদ্য অবসর নেওয়া কোনো হিন্দু শিক্ষক সমীহপূর্ণ হাঁক পেড়ে যান, স্যার আপনার জন্য কিছু এনে দিতে হবে নাকি। অথবা ভিন্নধর্মী যুবককে দেখতে পেয়ে নির্দ্বিধায় বৃদ্ধ বলতে পারেন, আমার জন্য কয়েকটা জিনিস এনো তো! মহাষ্টমী অথবা পৌষ সংক্রান্তিতে কয়েকটি হিন্দুবাড়ি থেকে লুচি, ছোলার ডাল, মিষ্টি অথবা পিঠে পুলির উপহার আসাটাই স্বাভাবিক ঘটনা। একইরকমভাবে ইদের দিনে এদিক থেকে শিমুই লাচ্চা পায়েসের থালা নিশ্চিতভাবে পৌঁছে যায় ওদিকে। ইদের কেনাকাটায় পরিজনদের তালিকায় দু’একটি হিন্দু নাম মোটেই অপরিচিত ছবি নয়। অথবা শহরে চাকরি করা কোনও যুবককে সাদামাটা প্রবীণ হিন্দু পড়শী অক্লেশে আবদার করতে পারেন- চাচা, এবার শীতে আমায় একটা ভালো গরম জামা দিও, জামাইবাড়ি বেড়াতে যাব। এটাই তো আমাদের চেনা বাংলা। এ আর থাকবে না! ভাবতে পারছি না।
খবরের কাগজে পড়লাম মুর্শিদাবাদে কিরীটেশ্বরী মন্দিরের জন্য মুসলিমরা জমি লিখে দিচ্ছেন। ক’মাস আগে বর্ধমানেও এরকম একটা খবর চোখে পড়েছিল। মাঝে মালদহের একটি গ্রামে এক হিন্দু শবদেহের সৎকারে মুসলিম প্রতিবেশীদের কাঁধ দেওয়ার খবরও বেশ গুরুত্ব পেয়েছিল। অনেকগুলো বছর আগের একটি দৃশ্য মনে পড়ে গেল। মহানগরীর বাসিন্দা এক ভদ্রলোকের মা প্রয়াত হয়েছেন। মাঘের কনকনে শীতের রাত। আত্মীয় পরিজনরা আসতে পারেননি। মায়ের মরদেহ একটি ম্যাটাডোরে চাপিয়ে ভদ্রলোক কেওড়াতলার দিকে যাত্রা করলেন। গাড়ির চালক ছাড়া সঙ্গী আর মাত্র দুজন। এক সদ্য তরুণ, অন্যজন কিশোর। ম্যাটাডোরে মড়ার খাট আগলে বসে থাকা ছেলেদুটি ধর্মীয় পরিচয়ে মুসলিম। মনে পড়ল, সদ্য চাকরিতে ঢুকেছি শুনে বাগবাজারের বাসিন্দা মাতৃপ্রতিম এক ভদ্রমহিলা কালীঘাটে পুজো দিয়েছিলেন। কী দিয়ে শোধ করা যায় এমনসব মহৎ ঋণ? কলকাতায় আমার পাড়ায় ধুমধাম করে দুর্গাপুজো হয়। কোনও কোনও বছর প্রতিমার দাম মেটানো হয় ব্যক্তিগত উদ্যোগে। ওই তালিকায় বিধান ঘোষ অথবা ঝরনা দাসের নামের পাশাপাশি আকরাম মল্লিকের নামও দেখেছি।
বাদুড়িয়া-বসিরহাটের হিংসার ছবি মনকে আরও স্মৃতিমেদুর, একইসঙ্গে আরও ভারাক্রান্ত করে তুলছিল। কিছু মানুষের বদমতলবে বলি হয়ে যাবে আমাদের চেনা পশ্চিমবঙ্গ! রাজ্যের ঊনচল্লিশ হাজার গ্রাম! যেখানে ছেচল্লিশের দাঙ্গা আঁচড় কাটতে পারেনি, চৌষট্টিতে শান্তি বিঘ্নিত হয়নি, বিরানব্বইয়েও বিষবাষ্প প্রবেশাধিকার পায়নি- সেই গ্রামবাংলা এবার কি সত্যিই বদলে যাবে!
গহন আঁধারেও আলোর রেখা নিয়ে হাজির হল দুটি ছবি। সেই বাদুড়িয়া-বসিরহাটেরই। হিংসার আগুনে দুর্গত হওয়া মানুষের মুখে অন্ন জোগাতে উভয়ধর্মের মানুষ হাতে হাত মিলিয়েছেন। ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হওয়া ঘোষবাড়ির ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান সুসম্পন্ন করতে ফরিদ-ইয়াসিনরা এগিয়ে এসেছেন। সদ্যপরিণীতা দীপান্বিতা বউমাকে আশীর্বাদ করছেন জিয়াদচাচা। না। আমরা এই বাংলাকে মরতে দেব না।
11th  July, 2017
নিরপেক্ষতাই হল আইনসভার প্রাণ, কিন্তু তা রক্ষিত হচ্ছে কই?
বরুণ গান্ধী

 ১৯৭৫ সালের ঘটনা। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পঞ্চম লোকসভার স্পিকার ড. জি এস ধীলনকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন। অতঃপর ড. ধীলনকে কেন্দ্রের জাহাজ মন্ত্রী করা হল। এটি নজিরই সৃষ্টি করলেন ইন্দিরা গান্ধী। আর এই নজিরটি আ‌ইনসভার পরবর্তী উচ্চ পদাধিকারীদেরও রাজনৈতিক উচ্চাশাপূরণের কথা ভাববার অবকাশ এনে দিয়েছিল।
বিশদ

পদ্মাবতীর মুণ্ডচ্ছেদ ফতোয়া: অন্ধকারের শক্তিসাধনা আর কতদিন
মেরুনীল দাশগুপ্ত

সত্যের জন্য ইতিহাস পড়ো, আনন্দের জন্য আইভ্যানহো পড়ো। একটি প্রবন্ধে এমনই পরামর্শ দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। অনেক বছর আগে, এক শতাব্দীরও বেশি আগে। ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস ও ইতিহাসের তফাৎ বোঝাতেই ছিল তাঁর এই পরামর্শ। তাতে উদাহরণ হিসেবে তিনি বিশ্ববিশ্রুত ঔপন্যাসিক স্যার ওয়াল্টার স্কটের ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস ‘আইভ্যানহো’র উল্লেখ করেছিলেন।
বিশদ

23rd  November, 2017
মুডিজের মুড—ভারতের ক্রেডিট রেটিংয়ের উত্তরণ
অতনু বিশ্বাস

২০১৫-র একদম শেষের হলিউড ম্যুভি ‘দ্য বিগ শর্ট’। অভিনয়ে রায়ান গোসলিং, ব্র্যাড পিট, ক্রিশ্চিয়ান বালে, স্টিভ ক্যারেল। অ্যাডাপ্টেড স্ক্রিন প্লে-র জন্যে অস্কারও পেয়েছিল ম্যুভিটি। নিউ ইয়র্ক টাইমস এই ম্যুভিটিকে বলেছে বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকটের সব চাইতে জোরদার ফিল্মি ব্যাখ্যা। তিনটি সহগামী গল্পকে এক সুতোয় বেঁধে ২০০৭-০৯-এর গৃহঋণ আর বন্ধক নিয়ে মার্কিন অর্থনীতিতে ধ্বস আর তার কার্য-কারণের বিশ্লেষণই এই ছবিটির প্রতিপাদ্য। আর সেই সঙ্গে মুডিজ, এস অ্যান্ড পি বা ফিচ-এর মতো ক্রেডিট রেটিং সংস্থাগুলি সম্পর্কে আমাদেরও হয়ে যায় এক সহজ পাঠ।
বিশদ

23rd  November, 2017
লুক ইস্ট থেকে অ্যাক্ট ইস্ট: কী পেলাম
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসে ওই বছরই ১২ নভেম্বর আসিয়ান-ভারত যৌথ সম্মেলনের বক্তৃতায় নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেছিলেন দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক বিকাশ, শিল্পায়ন এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যেমন নতুন জোয়ার এসেছে তেমনি ভারতের বিদেশনীতিতে ‘লুক ইস্ট’ পলিসি ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ পলিসিতে রূপান্তরিত হয়েছে।
বিশদ

21st  November, 2017
বাংলার রসগোল্লা—মেড ইন চায়না
হারাধন চৌধুরী

আলী সাহেব বাঙালিকে শুনিয়েছিলেন তাঁর ঝান্ডুদার গল্প। পাঠক জানেন, ঝান্ডুদা মস্ত ব্যবসায়ী। যাচ্ছিলেন লন্ডন। বিলেতবাসী এক বন্ধুকন্যার জন্য সঙ্গে এনেছিলেন বাংলার টিনজাত কিছু রসগোল্লা। পথে ইতালির ভেনিস বন্দরে নামতে হয়। এরপর সেখানকার কাস্টমস অফিসে চেকিংয়ের সময় সেই কয়েক পাউন্ড রসগোল্লার জন্য যে আক্কেলগুড়ুম হবে তা তাঁর কল্পনায় ছিল না।
বিশদ

21st  November, 2017
গুম-নিখোঁজ ও পরমানন্দ মন্ত্রণালয়
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলাদেশে ‘লিট ফেস্ট’ শুরু ও শেষ হল। সেই কারণে কি না জানি না, অরুন্ধতী রায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস’ হুট করে সংবাদপত্রে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এল। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় সাহিত্যিক ও সাংবাদিক, আমার অতি ঘনিষ্ঠ ও প্রিয় আনিসুল হক এই উপন্যাসের বাংলা নাম দিয়েছেন ‘পরমানন্দ মন্ত্রণালয়’।
বিশদ

19th  November, 2017
লন্ডন, এডিনবরা এবং মমতা
শুভা দত্ত

দুর্গাপুজোর দিন যত এগিয়ে আসে, আনন্দটা তার সঙ্গে সমানুপাতিক হারে বাড়ে। এ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির চিরন্তন সত্য। আর মা দুর্গাকে ঘিরে সেই উৎসবের রামধনু রং ফিকে হতে শুরু করে নবমীর সন্ধ্যা থেকেই। আজ বাদে কাল দশমী। মায়ের ফিরে যাওয়ার পালা।
বিশদ

19th  November, 2017
চীনের প্রেসিডেন্ট বনাম ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ
প্রশান্ত দাস

জিনপিং দেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের বললেন—আমাদের সমাজতন্ত্র দেশকে তরতর করে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। এগিয়ে চলেছে আমাদের অর্থনীতি। কিন্তু গত পাঁচ বছরে আপনারা ক’টি অবিশ্বাস্য অস্ত্র দিতে পেরেছেন সেনাদের? ভারতের ডিআরডিও কী করে পৃথিবীতে দু’নম্বর রিসার্চ সেন্টার হল? কী নেই আপনাদের? যা যা চাই, তালিকা পাঠান। যতদিন না আমরা ডিআরডিও-কে ছাপিয়ে যেতে পারছি, ততদিন আমরা নিজেদের এশিয়ার মধ্যে এক নং বলতে পারব না।
বিশদ

18th  November, 2017
রাজ্যের লাইব্রেরিগুলিকে বাঁচাতেই হবে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

মনে পড়ছে গত ডিসেম্বরের কথা। বীরভূম জেলার সরকারি বইমেলার আয়োজন হয়েছিল সিউড়িতে, ইরিগেশন কলোনির মাঠে। আমি উদ্বোধক, মঞ্চে জেলার মন্ত্রীরা, সঙ্গত কারণেই উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থাগারমন্ত্রীও। মঞ্চে বসেই সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয়, আলাপচারিতা।
বিশদ

18th  November, 2017
মোদির আমলে শিশুদের খিদের যন্ত্রণা তীব্র, কারণ শিশু ও মহিলা উন্নয়নে গুরুত্ব কম
দেবনারায়ণ সরকার

কেন্দ্রীয় সরকারের গত ৩ বছরের বাজেটের তথ্য সার্বিকভাবে বিচার করলে দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাজেটে মোট ব্যয় যেখানে ২১ শতাংশের বেশি বেড়েছে (টাকার অঙ্কে অতিরিক্ত প্রায় ৩ লক্ষ ৫১ হাজার কোটি টাকা), সেখানে মহিলা ও শিশু উন্নয়নে ব্যয় কপর্দকও বাড়েনি, বরং প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। একইভাবে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন ব্যয় বাজেটের মোট ব্যয়ের ১ শতাংশের অনেক নীচে নেমেছে। মোদ্দা কথা হল, যে দেশের কেন্দ্রীয় বাজেটে মহিলা ও শিশু উন্নয়নের ব্যয় বাজেটে মোট ব্যয়ের ১ শতাংশেরও কম এবং এই ব্যয় মোদির জমানায় যেহেতু আরও কমছে, সেই দেশে রোজ রাতে খালি পেটে শুতে যাওয়া শিশুদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধিটাই স্বাভাবিক। তাই ভারতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অপুষ্টিও।
বিশদ

17th  November, 2017
ডেঙ্গু: রাজনীতি ছেড়ে হাত মিলিয়ে কাজের সময়
অনিরুদ্ধ কর

অবিলম্বে একটা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা নিয়মাবলী প্রকাশ করতে হবে সরকারের তরফে। সরকারি নির্দেশ মানতে বাধ্য সকল সরকারি বেসরকারি ও প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্র। অতীতের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে বার্ড ফ্লু বা সোয়াইন ফ্লু-র সময় সরকারের তরফে এমন নিয়মাবলী প্রকাশ করা হয়েছিল। চিকিৎসাব্যবস্থায় কী কী থাকতে হবে এবং কোথায় থাকবে তাও বলে দেওয়া হয়েছিল। ফ্লু-র ওষুধ একমাত্র সরকার দিত। খোলাবাজারে মিলত না সেই ওষুধ। কারণ সেক্ষেত্রে ওষুধ নিয়ে কালোবাজারি এবং চড়া দামে ওষুধ বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যেত। এছাড়া একটি রাজ্যস্তরের কমিটি ছিল পর্যালোচনার জন্য।
বিশদ

17th  November, 2017
প্যারিস, পরিবেশ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 পরিবেশ মানে হল যেখানে সেখানে থুতু না ফেলা। মন্তব্যটি আমারই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর। এবং কী ভয়ঙ্কর সাবলীল স্বীকারোক্তি। যে দেশে ৩০ কোটি মানুষ এখনও দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করেন, যেখানে সাক্ষরতা বলতে বোঝানো হয় নিজের নাম সই করতে পারা, সেখানে সচেতনতার প্রাথমিক পাঠটা এমন একটা মন্তব্য দিয়ে শুরু করলে মন্দ কী!
বিশদ

16th  November, 2017
একনজরে
বিএনএ, মালদহ ও রায়গঞ্জ: বৃহস্পতিবার রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব অনিল ভর্মা গৌড়বঙ্গের তিন জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবা খতিয়ে দেখলেন। এদিন রায়গঞ্জে মেডিক্যাল কলেজের কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখার পর হাসপাতালও ঘুরে দেখেন। পরে কর্ণজোড়ায় দুই দিনাজপুরের স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন। ...

নাগপুর, ২৩ নভেম্বর: দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় না পেয়ে বিসিসিআইয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তিনি বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লেবার ওয়েলফেয়ার ফান্ডে অনুদান কমবেশি করতে আর আইন পরিবর্তনের দরকার নেই। এই তহবিল পরিচালনার দায়িত্ব থাকা লেবার ওয়েলফেয়ার বোর্ডই সরাসরি সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। বৃহস্পতিবার বিরোধীশূন্য বিধানসভায় এ সংক্রান্ত সংশোধনী পাশ হয়ে গেল। ...

সংবাদদাতা, বর্ধমান: রাজ কলেজের টাকা নয়ছয় এবং লেনদেন সংক্রান্ত হিসেবের তদন্ত করতে বিবিএ, বিসিএ বিভাগে ঢুকতে অসুবিধা হচ্ছে তদন্তকারী দলের। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

গুপ্ত শত্রুতা বৃদ্ধি। কর্মে উন্নতি। ব্যবসায় অতিরিক্ত সতর্কতার প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষায় সাফল্য। শরীর-স্বাস্থ্য ভালো যাবে। প্রতিকার: ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৫৯: চার্লস ডারউইনের লেখা ‘অন দ্য অরিজিন অব স্পিসিস’ প্রকাশিত হল।
১৮৮৮: মার্কিন সাহিত্যিক ডেল কার্নেগির জন্ম
১৯৫৫: ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার ‌ইয়ান বথামের জন্ম
১৯৬১: লেখিকা এবং সমাজকর্মী অরুন্ধতী রায়ের জন্ম।

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.০০ টাকা ৬৫.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৯৬ টাকা ৮৭.৮৫ টাকা
ইউরো ৭৫.৩৬ টাকা ৭৮.০০ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,৯৬০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৪২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,৮৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,৭০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,৮০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৮ অগ্রহায়ণ, ২৪ নভেম্বর, শুক্রবার, ষষ্ঠী অহোরাত্র, নক্ষত্র-উত্তরষা‌ঢ়া দিবা ১০/৩, সূ উ ৫/৫৯/৫, অ ৪/৪৭/২৭, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৪১ মধ্যে পুনঃ ৭/২৪ গতে ৯/৩৫ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৪ গতে ২/৩৮ মধ্যে পুনঃ ৩/২১ গতে অস্তাবধি, রাত্রি ঘ ৫/৪০ গতে ৯/১১ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৯ গতে ৩/২০ মধ্যে পুনঃ ৪/১৪ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৮/৪১ গতে ১১/২৩ মধ্যে। কালরাত্রি ৮/৫ গতে ৯/৪৪ মধ্যে।
৭ অগ্রহায়ণ, ২৪ নভেম্বর, শুক্রবার, ষষ্ঠী রাত্রি ৩/৩৭/৪১, উত্তরষা‌ঢ়ানক্ষত্র ৭/৩১/৩৪, সূ উ ৬/০/১৩, অ ৪/৪৫/৪৯, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৪৩/১৫ মধ্যে, ৭/২৬/১৭-৯/৩৫/২৫, ১১/৪৫/৩২-২/৩৭/৪২, ৩/২০/৪৫-৪/৪৫/৪৯, রাত্রি ৫/৩৮/৪৭-৯/১০/৩৭, ১১/৪৯/৩০-৩/২১/২০, ৪/১৪/১৮-৬/০/৪৫, বারবেলা ৮/৪১/৩৭-১০/২/১৯, কালবেলা ১০/২/১৯-১১/২৩/১, কালরাত্রি ৮/৪/২৫-৯/৪৩/৪৩।
 ৪ রবিঃ আউঃ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
  আইএসএলে আজ চেন্নাইয়ান এফসি ৩ : ০ গোলে হারাল নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে

23-11-2017 - 10:01:16 PM

  আইএসএল: চেন্নাইয়ান এফসি:৩ নর্থইস্ট ইউনাইটেড: ০ (৮৪ মিনিট)

23-11-2017 - 09:50:28 PM

 আইএসএল: চেন্নাইয়ান এফসি:২ নর্থইস্ট ইউনাইটেড: ০ ( ৩৫ মিনিট)

23-11-2017 - 08:42:04 PM

সৌরভের বাড়িতে মশার আঁতুড়ঘর, আজ নোটিস দেবে পুরসভা

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতেই সন্ধান মিলল ডেঙ্গু বাহক মশার আঁতুড়ঘরের। আগামীকাল ...বিশদ

23-11-2017 - 07:09:00 PM

ভদ্রেশ্বর পুরপ্রধান খুন: এবার নাম জড়াল নির্দল কাউন্সিলার রাজু সাউয়ের 

ভদ্রেশ্বরে পুরপ্রধান মনোজ উপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় এবার নাম জড়াল নির্দল ...বিশদ

23-11-2017 - 05:42:00 PM